মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন প্রতিযোগিতায় আব্দুল্লাহ আলিমের জোড়া সাফল্য
মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতা প্রতিযোগিতা ‘বোর্নিও আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতা প্রতিযোগিতা (বিআইআইসিসি) ২০২৬’-এর আন্তর্জাতিক পর্বে জোড়া সাফল্য অর্জন করেছেন বাংলাদেশের তরুণ উদ্ভাবক আব্দুল্লাহ আলিম।
নিজের উদ্ভাবনী প্রকল্প ‘বিন টু বেনিফিট’-এর জন্য তিনি প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন বিআইআইসিসি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পরিবেশ পুরস্কার।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ইন্টারনেট অব থিংসভিত্তিক প্রকল্প
আব্দুল্লাহ আলিমের উদ্ভাবিত ‘বিন টু বেনিফিট’ মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিভিন্ন ধরনের সেন্সর এবং ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) প্রযুক্তিনির্ভর একটি স্মার্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মডেল।
প্রকল্পটির মাধ্যমে স্মার্ট ডাস্টবিনে জমা হওয়া বর্জ্যের পরিমাণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা, মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ডাস্টবিনের অবস্থান ও তথ্য অনুসরণ করা এবং উৎস পর্যায়েই বর্জ্য পৃথকীকরণের ব্যবস্থা করার ধারণা তুলে ধরা হয়েছে।
এ ছাড়া সাধারণ মানুষকে সঠিকভাবে বর্জ্য ফেলতে উৎসাহিত করতে প্রকল্পটিতে ‘গ্রিন কয়েন’ পুরস্কার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অংশগ্রহণকারী নাগরিকদের পুরস্কৃত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব আচরণে উৎসাহিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ের সাফল্যের পর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
এর আগে বিআইআইসিসি ২০২৬-এর জাতীয় পর্যায়েও ‘বিন টু বেনিফিট’ প্রকল্পের জন্য স্বর্ণপদক অর্জন করেন আব্দুল্লাহ আলিম। জাতীয় পর্যায়ের এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় তিনি আন্তর্জাতিক পর্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বর্ণপদকের পাশাপাশি পরিবেশবিষয়ক পুরস্কার অর্জন তাঁর প্রকল্পের প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে সম্ভাব্য অবদানকেও স্বীকৃতি দিয়েছে।
তরুণ উদ্ভাবকের প্রতিক্রিয়া
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই অর্জন প্রসঙ্গে আব্দুল্লাহ আলিম বলেন, “এই অর্জন কেবল আমার একার নয়, এটি বাংলাদেশের প্রতিটি তরুণের স্বপ্ন, সাহস ও সম্ভাবনার প্রতিফলন।”
আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা তুলে ধরতে পেরে গর্বিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, সঠিক সুযোগ ও সহযোগিতা পেলে দেশের তরুণরা প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরতে পারবেন।
‘বিন টু বেনিফিট’ প্রকল্পে প্রযুক্তি, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নাগরিক অংশগ্রহণকে একসঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পাওয়া এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের তরুণদের উদ্ভাবনী সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার আরেকটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির বিকল্প পথ খুঁজছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের কর্মকর্তারা বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য কৌশলগতভাবে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল এসব দেশ এখন দক্ষিণ কোরিয়া, ইউক্রেন ও তুরস্কের মতো অন্যান্য দেশের সঙ্গেও সামরিক সহযোগিতা বাড়াচ্ছে। আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হিলি ফোরাম ২০২৬-এ সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এর অর্থ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া নয়। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ও আস্থাভিত্তিক অংশীদারত্ব সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং শক্তির উৎস হিসেবে থাকবে। নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারত্ব বজায় রাখা পরস্পরবিরোধী নয় বলেও তিনি জানান। গারগাশ বলেন, ইরান তাদের প্রতিবেশী দেশ এবং কোনো এক পর্যায়ে দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের পথ খুঁজে বের করতে হবে। ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগের কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর সম্পর্ক পুনর্গঠন করা এবং ভেঙে যাওয়া আস্থা পুনর্গঠন করা এক বিষয় নয়। তার মতে, সম্পর্ক পুনর্গঠন প্রয়োজনীয় হলেও আস্থা ফিরিয়ে আনা অনেক বেশি কঠিন হবে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হয়ে উঠেছে। ওয়াশিংটন ইরানের ওপর সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করছে। একই সময়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতি ও জনগণের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় মার্কিন চাপের প্রভাব যেন তাদের ওপর বড় ধরনের ক্ষতি না করে, সেটিও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সীমিত পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা ইরানের তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। এর একটি ছিল দেশটির প্রধান তেল টার্মিনাল খার্গ দ্বীপের কাছে। এর আগে ইরান দুটি মার্কিন নৌযানের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। ট্রাম্প প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছে, নতুন করে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা কম। এর পরিবর্তে নৌ অবরোধ ও একাধিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে ছাড় আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অর্থনৈতিক চাপ ইরানকে নতি স্বীকারে বাধ্য করবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারাও সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে অর্থনীতিতে চাপের কথা স্বীকার করেছেন। কিন্তু আলোচনায় আগ্রহ বাড়ানোর পরিবর্তে দেশটি হামলা ও কঠোর বক্তব্য আরও বাড়িয়েছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানির উপদেষ্টা মাজেদ আল-আনসারি বলেন, সংকটটি ধীরে ধীরে নতুন স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কাই এখন বড় হুমকি। তার মতে, পরিস্থিতিকে আর শুরু ও শেষের নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকা সাময়িক সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে না। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচি ইরানের ওপর কাঙ্ক্ষিত প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। কারণ ইরান দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলা করে আসছে এবং নতুন চাপ উল্টো দেশটির মানুষের মধ্যে ঐক্য বাড়াতে পারে। যুদ্ধ শেষ করার ক্ষেত্রেও বড় বাধা রয়েছে বলে মনে করেন আল-আনসারি। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কিংবা ইরান, কোনো পক্ষই যুদ্ধে নিজেদের ব্যর্থ হিসেবে দেখাতে চায় না। ফলে উভয় পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য ফল নির্ধারণ করে যুদ্ধ শেষ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, অঞ্চলে আন্তর্জাতিক বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত জোট গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা যথেষ্ট নয়। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতাই সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ বলে তিনি মন্তব্য করেন। যুদ্ধের প্রভাব শুধু উপসাগরীয় অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নেই। হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে খাদ্য, জ্বালানি ও সার পণ্যের দাম বেড়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও ওমান হরমুজ প্রণালির বাইরে থাকা বন্দর ব্যবহার করে তেল রপ্তানি এবং অন্যান্য পণ্য আমদানি চালিয়ে যেতে পারছে। অন্যদিকে কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনের মতো দেশগুলো বেশি সমস্যায় পড়েছে, কারণ তাদের এমন স্থলসীমান্ত নেই, যার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সহজে পণ্য পরিবহন করা যায়। কাতারের ক্ষেত্রে পরিস্থিতির প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়েছে। আল-আনসারি বলেন, একটি ড্রোন হামলার মাধ্যমে ইরান কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় ৭০ শতাংশ অচল করে দিতে সক্ষম হয়েছিল। কাতারের এই গ্যাস সরবরাহ বিশ্বের মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশের সমান। যুদ্ধ থেকে সামুদ্রিক শক্তির সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অবসরপ্রাপ্ত ভাইস অ্যাডমিরাল জন ডব্লিউ. মিলার। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড ও পঞ্চম নৌবহরের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী স্থল ও সমুদ্রে ইরানের উল্লেখযোগ্য লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে সাফল্য পেলেও ইরান থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এখনও হরমুজ প্রণালিতে পৌঁছাতে পারছে। মিলার বলেন, সামরিক সাফল্য থাকলেও এর সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। তিনি সোমালিয়ার জলদস্যুদের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ছোট নৌযান ব্যবহার করেও তারা বড় পণ্যবাহী জাহাজ দখল করে জিম্মি করতে এবং মুক্তিপণ দাবি করতে সক্ষম হয়েছিল। তার মতে, সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে এখন কী করা সম্ভব, তা নতুন করে বিবেচনা করতে হবে। হুমকি শুধু হরমুজ প্রণালিতেই সীমাবদ্ধ নয়, বাব আল-মান্দাব প্রণালিতেও রয়েছে। ওই এলাকাতেও হুথি বিদ্রোহীদের হামলা বাড়ছে। সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট
মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন প্রতিযোগিতায় আব্দুল্লাহ আলিমের জোড়া সাফল্য
ক্যান্সারে আক্রান্ত শিশুর ইচ্ছা ছিল বাড়ির পাশ দিয়ে কয়েকটি বাইক যাবে, এলেন ১৫ হাজার বাইকার
অস্ট্রেলিয়ায় আগুনে খাবার হারানো প্রাণীদের জন্য আকাশ থেকে ফেলা হলো ১৪.৫ টন খাবার
তুরস্কের ইস্তাম্বুলের ৪৫ বছর বয়সী দুই সন্তানের বাবা আলী চিফচি জন্মদিনে বাড়িতে ঢোকা এক চোরের সঙ্গে ধস্তাধস্তির সময় তৃতীয় তলার জানালা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। এতে তার মাথার খুলির প্রায় ৮৩ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘ চিকিৎসার মাধ্যমে বিশেষ প্রযুক্তিতে তার খুলির বড় অংশ পুনর্গঠন করেন। ঘটনার পর আলী মাসের পর মাস আইসিইউতে ছিলেন। পরবর্তী দুই বছরেও তাকে একাধিক জটিল অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকেরা তখন তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা মাত্র ১০ শতাংশ বলে জানিয়েছিলেন। দীর্ঘ চিকিৎসার পর তার মাথার খুলির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্গঠনে ব্যবহার করা হয় বিশেষভাবে তৈরি টাইটানিয়ামের অংশ। এগুলো তৈরি করা হয়েছিল তুরস্কের হেলথ সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটির গুলহানে ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ হাসপাতালের মেডিকেল ডিজাইন অ্যান্ড প্রোডাকশন সেন্টারে। চিকিৎসকেরা জানান, দুর্ঘটনার পর আলীর কথা বলা, স্মৃতি, ভারসাম্য ও হাঁটার মতো গুরুত্বপূর্ণ কিছু শারীরিক সক্ষমতায় গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছিল। খুলির পুনর্গঠনের পর এসব স্নায়বিক সমস্যার প্রায় ৯০ শতাংশের উন্নতি হয় বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। দুর্ঘটনাটি ঘটে আলীর জন্মদিনে। বাড়িতে ঢোকা চোরকে আটকাতে গিয়ে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে তারা তৃতীয় তলার জানালা দিয়ে নিচে পড়ে যান। আলী নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন, আর চোর তার ওপর পড়ে পরে পালিয়ে যায় বলে আলী জানিয়েছেন। দুই বছর চিকিৎসার পর আলীর মাথার আকৃতি অনেকটাই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে তিনি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে কাজও শুরু করেন। আলীর ঘটনা দেখিয়েছে, গুরুতর মাথার আঘাতের চিকিৎসায় আধুনিক মেডিকেল ডিজাইন ও টাইটানিয়াম ইমপ্লান্ট কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তার ক্ষেত্রে চিকিৎসা ও প্রযুক্তির সমন্বয় ক্ষতিগ্রস্ত খুলির বড় অংশ পুনর্গঠনে সহায়তা করেছে।
মেয়ের পছন্দের পাখি কিনতে ৫ মিনিটে ৫ কোটি টাকা খরচ করলেন দুবাইয়ের শেখ!
স্কুলের ওয়েবসাইটের ছবি থেকেই যৌন ডিপফেক, এরপরই চাঁদাবাজির ফাঁদ!
দুই দিন পর খুলল ইন্দোনেশিয়ার বিমানবন্দর, ফের অগ্ন্যুৎপাতের শঙ্কা
মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলে একটি ধর্মীয় উৎসব চলাকালে আতশবাজির বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন নিহত ও ৬৪ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর একটি দেয়ালও ধসে পড়ে। শনিবার রাতে মেক্সিকো স্টেটের তেমাসকালসিঙ্গো এলাকায় নুয়েস্ত্রা সেনোরা দে লা লুস গির্জার পাশে এ বিস্ফোরণ ঘটে। সেখানে পৃষ্ঠপোষক সন্তের সম্মানে আয়োজিত ধর্মীয় উৎসবের অংশ হিসেবে আতশবাজির প্রদর্শনী দেখতে শত শত মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে ধোঁয়া ও ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিস্ফোরণের পর বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের খুঁজছেন। আহতদের মধ্যে স্থানীয় দুই ধর্মযাজকও রয়েছেন বলে জানিয়েছেন এলাকার এক বিশপ। বিস্ফোরণের কারণ এখনো জানা যায়নি। ঘটনাটি তদন্তে মেক্সিকো স্টেটের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় তদন্ত শুরু করেছে। মেক্সিকোয় আতশবাজি বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন নয়। দেশটিতে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবে ব্যাপকভাবে আতশবাজি ব্যবহার করা হয়। প্রায় চার বছর আগে দেশটির হিদালগো রাজ্যের হুয়েহুতলা এলাকায় আতশবাজির একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণে ১৭ জন আহত হয়েছিলেন।
ক্লাসে ভুলেই ইউটিউব সার্চ হিস্ট্রি ফাঁস, চাকরি হারিয়ে শিক্ষক এখন নিষিদ্ধ
বিয়ের চার মাস না যেতেই ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হলো গাজার নবদম্পতির স্বপ্নের ঘর