সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

গাজার অসহায় শিশুদের পাশে দাঁড়াতে লিডস শহরের শিশুদের মানবিক উদ্যোগ

Unknown প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ১৩:১৭
লিডসে আয়োজিত চ্যারিটি ওয়াকে অংশ নেয় শিশু-কিশোররা । ছবি: সংগৃহীত
লিডসে আয়োজিত চ্যারিটি ওয়াকে অংশ নেয় শিশু-কিশোররা । ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত নারী ও শিশুদের সহায়তায় তহবিল সংগ্রহ করেছে যুক্তরাজ্যের নর্থ ইংল্যান্ডের লিডস শহরের একদল শিশু-কিশোর। ‘ফরগটেন উইমেন চ্যারিটি’র উদ্যোগে আয়োজিত একটি প্রতীকী পদযাত্রায় (চ্যারিটি ওয়াক) অংশ নিয়ে তারা এই অর্থ সংগ্রহ করে।

 

গত শনিবার লিডসের মিনউড পার্কে অনুষ্ঠিত এই চ্যারিটি ওয়াকে কয়েক ডজন শিশু-কিশোর অংশ নেয়। গাজায় চলমান মানবিক সংকটে বিপর্যস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সংহতি জানাতে এবং তাদের সহায়তায় অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়।

 

পদযাত্রার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি পাকিস্তানি, আফ্রিকান এবং স্থানীয় শ্বেতাঙ্গ কমিউনিটির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা শিশুদের উৎসাহিত করেন এবং মানবিক এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

 

আয়োজক সংস্থা ‘ফরগটেন উইমেন চ্যারিটি’র এক মুখপাত্র জানান, ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ার অঞ্চলের মধ্যে লিডসের শিশুরাই সবচেয়ে বেশি তহবিল সংগ্রহ করেছে। তাদের সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ সাত হাজার পাউন্ডেরও বেশি। এই অর্থ দ্রুত গাজার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় পাঠানো হবে।

 

পদযাত্রা শেষে অংশগ্রহণকারী শিশুদের সোনালি রঙের সম্মাননা মেডেল প্রদান করা হয়। মেডেল পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শিশুরা। একই সঙ্গে সন্তানদের এমন মানবিক উদ্যোগে অংশ নিতে দেখে আনন্দ প্রকাশ করেন অভিভাবকরাও।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন অভিভাবক বলেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে শিশুরা শুধু তহবিল সংগ্রহই করেনি, বরং বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের নিপীড়িত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা ও সংহতির মূল্যবোধও শিখেছে। তারা উপলব্ধি করতে পেরেছে যে, ছোট ছোট উদ্যোগও বড় পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা হতে পারে।

 

গাজায় চলমান সংঘাত ও মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে শিশুদের এই উদ্যোগ স্থানীয় কমিউনিটিতে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
বর্তমানে শিক্ষায় ও কর্মজীবনে নতুন প্রজন্মের অগ্রগতি
ব্রিটেনে বিচ্ছিন্ন ছিল বাংলাদেশি কমিউনিটি! বর্তমানে শিক্ষায় ও কর্মজীবনে নতুন প্রজন্মের অগ্রগতি

১৯৪৫ সাল থেকে ব্রিটেনে বাংলাদেশিদের বসতি গড়ে উঠলেও তাদের বড় একটি অংশ এখনও পূর্ব লন্ডনকেন্দ্রিক। তবে শুধু আবাসিক ঘনত্ব দেখে ব্রিটিশ বাংলাদেশি সমাজকে পিছিয়ে থাকা বা একই জায়গায় আটকে থাকা জনগোষ্ঠী হিসেবে দেখলে বাস্তব চিত্রটি পুরোপুরি ধরা পড়ে না। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের শিক্ষা ও কর্মজীবনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   দ্য ইকোনমিস্টের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের কয়েক দশকের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৮০-এর দশকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত ফল, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা এবং কর্মসংস্থানের হার নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ ছিল। অনেক পরিবার তখন দারিদ্র্য, আবাসন সংকট ও বর্ণবাদী হামলার আশঙ্কার মধ্যে বসবাস করত।   সময় গড়ানোর সঙ্গে সেই চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হয়েছে। ২০২১ সালে জিসিএসই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৬৭ শতাংশ ১৯ বছর বয়সের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। একই বয়সে সাদা ব্রিটিশ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৩৮ শতাংশ। গত এক দশকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং ও প্রযুক্তি বিষয়ে পড়াশোনা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একই সময়ে মেডিসিন ও ডেন্টিস্ট্রিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বেড়েছে।   শিক্ষার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রেও পরিবর্তনের চিত্র পাওয়া যায়। ২০২১ সালের আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সী বাংলাদেশি নারীদের ৬৮ শতাংশ কর্মরত ছিলেন। একই বয়সী সাদা ব্রিটিশ নারীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৭৯ শতাংশ। আবার ওই বয়সী ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের ১৪ শতাংশ পেশাদার বা ম্যানেজার পর্যায়ের চাকরিতে ছিলেন, যা সাদা ব্রিটিশদের একই বয়সী জনগোষ্ঠীর হারের কাছাকাছি।   তবে অগ্রগতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক বৈষম্য এখনও বড় বাস্তবতা। দ্য ইকোনমিস্টের হিসাবে, আবাসন ব্যয় বাদ দেওয়ার পরও ব্রিটেনের প্রতি দুই বাংলাদেশি পরিবারের একটি জাতীয় আয়ের নিচের ২০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশি পরিবারের মধ্যম সম্পদের পরিমাণও এক লাখ পাউন্ডের নিচে, যেখানে সব জাতিগোষ্ঠী মিলিয়ে গড় সম্পদের পরিমাণ প্রায় তিন লাখ পাউন্ড। অর্থাৎ শিক্ষাগত অগ্রগতি দ্রুত হলেও সম্পদ ও আয় বৃদ্ধিতে সেই অগ্রগতির পুরো প্রতিফলন এখনও দেখা যায়নি।   ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের সামগ্রিক পরিসংখ্যানের ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেকই ব্রিটেনের বাইরে জন্মগ্রহণ করেছেন। ফলে নতুন করে আসা অভিবাসী এবং ব্রিটেনে জন্ম নেওয়া পরবর্তী প্রজন্মকে একই পরিসংখ্যানে ধরলে দুই প্রজন্মের আর্থসামাজিক অবস্থানের পার্থক্য অনেক সময় স্পষ্ট হয় না। গবেষণা ও সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, ব্রিটেনে জন্ম নেওয়া নতুন প্রজন্মের শিক্ষা ও পেশাগত অবস্থানে পরিবর্তন তুলনামূলকভাবে দ্রুত ঘটছে।   ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের ইতিহাসও দীর্ঘ। উনিশ শতক থেকেই সিলেট ও ব্রিটেনের মধ্যে যাতায়াতের ইতিহাস রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ও পরবর্তী সময়ে সিলেটি নাবিকদের মাধ্যমে ব্রিটেনে বাংলাদেশি উপস্থিতি বাড়তে থাকে। পরবর্তী দশকগুলোতে বিশেষ করে সিলেট থেকে আসা অভিবাসীরা পূর্ব লন্ডনে বসতি গড়ে তোলেন। সময়ের সঙ্গে এই সম্প্রদায় ব্যবসা, শিক্ষা, পেশাজীবন ও ব্রিটিশ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে।   ফলে পূর্ব লন্ডনে বাংলাদেশিদের ঘনবসতি এখনও দৃশ্যমান হলেও সেটিকে পুরো সম্প্রদায়ের অগ্রগতির একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। শিক্ষা, পেশা ও কর্মসংস্থানে নতুন প্রজন্মের পরিবর্তন দেখাচ্ছে, কয়েক দশক আগে যে বাংলাদেশি পরিবারগুলো অর্থনৈতিক ও সামাজিক নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে ছিল, তাদের পরবর্তী প্রজন্মের অবস্থান ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ২:৩৯
ট্রাম্পের ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি ফি বাড়লো আরও এক বছর

ট্রাম্পের ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি ফি বাড়লো আরও এক বছর, প্রভাব পড়বে বাংলাদেশিদের ওপর

ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্কের বিলে সই করলেন ট্রাম্প

ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্কের বিলে সই করলেন ট্রাম্প

নিউইয়র্ক পুলিশের ট্রাফিক এজেন্ট বাংলাদেশি তরুণ আবদুল্লাহ

পরিশ্রমে স্বপ্নজয়, নিউইয়র্ক পুলিশের ট্রাফিক এজেন্ট বাংলাদেশি তরুণ আবদুল্লাহ

পলিটিকো ও এমএস নাউ নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প
মিথ্যা প্রচারের অভিযোগে হোয়াইট হাউসে সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাউ নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউস থেকে সিএনএন, পলিটিকো এবং এমএস নাউকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর দেওয়া ঘোষণায় তিনি জানান, সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে এসব সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদনকে সমালোচনা করে ট্রাম্প এই পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনটি সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে তাঁর প্রশাসন সম্পর্কে মিথ্যা ও কাল্পনিক তথ্য প্রচারের অভিযোগ করেন। তবে অভিযোগের পক্ষে তিনি নির্দিষ্ট কোনো উদাহরণ দেননি। এই সিদ্ধান্তের ফলে হোয়াইট হাউস কভার করা এসব সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।   হোয়াইট হাউসের সংবাদ সংগ্রহে নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যমকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। দেশটির সংবিধানের প্রথম সংশোধনী সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সুরক্ষা দেয়। ফলে কোনো নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যমকে প্রেসিডেন্টের সরকারি কর্মকাণ্ড কভার করা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত আইনগতভাবে কতটা কার্যকর করা যাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।   হোয়াইট হাউসের সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের মধ্যে বিরোধ অবশ্য নতুন নয়। তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসের সংবাদ সম্মেলন, প্রেস পুল এবং সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের একাধিকবার মতবিরোধ হয়েছে। সমালোচনামূলক প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে কোনো সংবাদমাধ্যমকে সরকারি সংবাদ কাভারেজ থেকে বাদ দেওয়া যায় কি না, নতুন ঘোষণার পর সেই প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে।   সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাউয়ের মতো সংবাদমাধ্যমগুলো হোয়াইট হাউসসহ যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড নিয়মিতভাবে কাভার করে। এসব সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত হলে সরকারি কার্যক্রম সম্পর্কে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশের সুযোগও প্রভাবিত হতে পারে। একই সঙ্গে অন্য সংবাদমাধ্যমগুলোর জন্য হোয়াইট হাউসের সংবাদ সংগ্রহের নিয়ম কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   ট্রাম্পের ঘোষণার পর বিষয়টি আদালতে গড়ালে হোয়াইট হাউসের সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার এবং সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সুরক্ষা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিতর্ক তৈরি হতে পারে। তবে ঘোষণাটি বাস্তবে কীভাবে কার্যকর করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো এর বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেবে কি না, তা পরবর্তী developments-এর ওপর নির্ভর করবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ০:১৫
কেপ কডে পাওয়া দুই মাথার বিরল ডায়মন্ডব্যাক টেরাপিন কচ্ছরছানা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের কেপ কডে বিরল দুই মাথাওয়ালা কচ্ছপের সন্ধান, চলছে নিবিড় পর্যবেক্ষণ

ভুয়া পরিচয়ে ৩০ বছর মার্কিন সামরিক কারখানায় কাজ করার অভিযোগে গ্রেপ্তার মেক্সিকান নারী। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন নাগরিক পরিচয় জাল করে ৩০ বছর সামরিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি, গ্রেপ্তার মেক্সিকান নারী

নিউইয়র্কের মেকানিকভিলে চার শিশু নিহতের ঘটনায় তদন্ত চলছে। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে মা ও নানির হাতে চার শিশু খুন, ৪০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে বাবার মামলা

মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন স্মার্ট চশমা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গোপনীয়তার অভিযোগ উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত
মেটার এআই চশমায় গোপনে যৌনতা, নগ্নতা ও বাথরুমের দৃশ্য ধারণের অভিযোগ, ক্যালিফোর্নিয়ায় মামলা

মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন স্মার্ট চশমা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে গোপনীয়তা-সংক্রান্ত আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ৭০ জনের বেশি ব্যবহারকারী, ক্রেতা ও চশমার ক্যামেরায় ধারণ হওয়া ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে করা একটি প্রস্তাবিত গণমামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, এসব চশমায় ধারণ করা কিছু ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল ছবি-ভিডিও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা ঠিকাদারি কর্মীদের কাছে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়ায় দায়ের করা সংশোধিত মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, মেটার স্মার্ট চশমার মাধ্যমে পোশাক পরিবর্তন, গোসল, শৌচাগার ব্যবহার, ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত এবং পাসওয়ার্ড প্রবেশের মতো দৃশ্য ধারণ হয়েছে। মামলাকারীদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, চশমাটি তখন ভিডিও ধারণ করছে, তা তারা জানতেন না। এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মেটা অভিযোগগুলো অস্বীকার করে আইনি লড়াই চালানোর কথা জানিয়েছে।   মামলার নথি অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ার এক মামলাকারী, যাকে পিএল১৮ নামে উল্লেখ করা হয়েছে, দাবি করেছেন তিনি স্মার্ট চশমা একটি বাথরুমের কাউন্টারে রেখে যাওয়ার পর তাঁর পরিবারের সদস্যদের গোসল ও বাথরুম ব্যবহারের ছবি পরবর্তী সময়ে নিজের গ্যালারিতে দেখতে পান। তাঁর দাবি, পরিবারের কেউ এসব ছবি ধারণ করার উদ্দেশ্যে চশমাটি ব্যবহার করেননি।   মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ব্যবহারকারীরা ‘হে মেটা’ বলে এআই সহকারী সক্রিয় করলে চশমার ক্যামেরা ও অডিও ব্যবস্থা চালু হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে চশমা অনিচ্ছাকৃতভাবেও সক্রিয় হয়েছে বলে মামলাকারীরা দাবি করেছেন। এরপর ধারণ করা তথ্য মেটার সার্ভারে পাঠানো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল উন্নত করার কাজে ব্যবহারের জন্য মানব কর্মীদের কাছে পর্যালোচনার জন্য পৌঁছেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   মামলায় কেনিয়ার ঠিকাদারি কর্মীদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণ ও তথ্য শ্রেণিবিন্যাসের কাজে যুক্ত কিছু কর্মী এসব চশমায় ধারণ করা ছবি ও ভিডিও পর্যালোচনা করেছেন। সুইডেনের সংবাদপত্র সুয়েনস্কা ডাগব্লাডেট ও গ্যোটেবর্গস-পোস্টেনের ফেব্রুয়ারির এক অনুসন্ধানেও কেনিয়ায় মেটার এক ঠিকাদারের কর্মীদের ব্যক্তিগত ফুটেজ পর্যালোচনার বিষয়টি উঠে এসেছিল।   মামলাকারীদের আইনজীবী টিনা উলফসন বলেছেন, যারা চশমাটি কিনেছেন তারা এটিকে সাধারণ প্রযুক্তিপণ্য হিসেবেই ব্যবহার করেছেন এবং এআই সুবিধা চালু করলে ধারণ করা ভিডিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণের কাজে যেতে পারে, এমন বিষয় সম্পর্কে তারা যথেষ্ট অবগত ছিলেন না। তাঁর মতে, মামলাটি শুধু চশমা ব্যবহারকারীদের নয়, এমন ব্যক্তিদের গোপনীয়তার বিষয়ও সামনে আনছে যারা নিজেরা চশমা ব্যবহার না করেও এর ক্যামেরায় ধারণ হয়েছেন।   মেটা অবশ্য বলেছে, এআই ব্যবহারের সময় কিছু তথ্য পণ্য ও ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত করার জন্য পর্যালোচনা করা হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং পরিচয় শনাক্ত করতে পারে এমন তথ্য ফিল্টার করার চেষ্টা করা হয়। মেটার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যবহারকারী নিজে মেটার সঙ্গে কোনো ছবি বা ভিডিও শেয়ার না করলে সেই গণমাধ্যম সাধারণত ব্যবহারকারীর ডিভাইসেই থাকে।   মামলাটির নথিতে মেটার স্মার্ট চশমার গোপনীয়তা-সংক্রান্ত প্রচারণার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাকারীদের অভিযোগ, চশমাগুলোকে ব্যবহারকারীর তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও গোপনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বাজারজাত করা হলেও এআই ব্যবহারের সময় ধারণ করা তথ্য মানব কর্মীদের মাধ্যমে পর্যালোচনার বিষয়টি ক্রেতাদের কাছে যথেষ্ট স্পষ্ট ছিল না।   এই আইনি বিরোধের পাশাপাশি মেটার স্মার্ট চশমার সম্ভাব্য মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। মেটার প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু বসওয়ার্থ ‘নেমট্যাগ’ নামে একটি সম্ভাব্য সুবিধার কথা বলেছেন, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা পরিচিত ব্যক্তিদের নাম মনে রাখার ক্ষেত্রে সহায়তা পেতে পারেন। তবে গোপনীয়তা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো এমন প্রযুক্তির সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।   এ নিয়ে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যেও মেটার বিরুদ্ধে আরেকটি প্রস্তাবিত গণমামলা হয়েছে। সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ্যে থাকা মানুষের ছবি ব্যবহার করে মেটা এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে মুখ শনাক্তকরণ সুবিধায় ব্যবহার করা হতে পারে। মেটা বলেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য কীভাবে তাদের এআই পণ্য উন্নয়নে ব্যবহৃত হয় সে বিষয়ে তারা স্বচ্ছ থাকার চেষ্টা করে এবং ‘নেমট্যাগ’ সুবিধাটি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   মামলাগুলো এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন মেটা নতুন প্রজন্মের পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২৩ সেপ্টেম্বর মেনলো পার্কে প্রতিষ্ঠানটির ডেভেলপার সম্মেলনে নতুন পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি উন্মোচনের কথা রয়েছে। একই সময়ে রয়টার্স জানিয়েছে, মেটা ক্যামেরাবিহীন নতুন স্মার্ট চশমা তৈরির পরিকল্পনা করছে, যা গোপনীয়তা নিয়ে চলমান উদ্বেগের প্রতিক্রিয়া হিসেবেও দেখা হচ্ছে।   সূত্র: লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস, নিউইয়র্ক পোস্ট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ২২:৪০
৯৮ বছর বয়সে হাইস্কুলের সনদ হাতে পল লিটল। ছবি: সংগৃহীত

পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি, তবু ১৫০ শিক্ষার্থীর স্বপ্নপূরণে পাশে ছিলেন পল

নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্ক, যেখানে বৃহস্পতিবার রাতে একাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে এক ঘণ্টায় চার ছিনতাই, খোয়া গেল ৬ জনের মোবাইল

নিউইয়র্কের স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে নতুন মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টারের উদ্বোধন করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কের স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে নতুন মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টারের উদ্বোধন

0 Comments