আন্তর্জাতিক

চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত পরমাণু নীতি থেকে এক পা-ও নড়বে না ইরান

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৯, ২০২৬ ১২:৫৫
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চলমান আন্তর্জাতিক আলোচনার মধ্যেই নিজেদের বর্তমান অবস্থান ও নীতি বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। একটি চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে উপনীত হওয়ার আগে পরমাণু কর্মসূচির বিদ্যমান অবস্থায় কোনো ধরনের পরিবর্তন আনা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে দেশটি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) পরমাণু কেন্দ্রগুলো পরিদর্শনের জন্য তেহরানের আমন্ত্রণ জানানোর যে খবর চাউর হয়েছে, তাও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে দেশটি।

 

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই তেহরান কর্তৃক আইএইএ-কে পরমাণু কেন্দ্রগুলো পরিদর্শনের জন্য আমন্ত্রণ জানানোর খবরটি সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি জানান, এই সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়া খবরগুলো মোটেও সত্য নয় এবং এটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক।

 

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান সমঝোতা স্মারকের বিষয়টি উল্লেখ করে ইসমাইল বাঘাই বলেন, চূড়ান্ত কোনো চুক্তি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ইরান তার পরমাণু কর্মসূচির বর্তমান স্থিতি (স্ট্যাটাস কো) কঠোরভাবে বজায় রাখবে। তবে পরমাণু নীতিতে নতুন কোনো পরিবর্তন না এলেও, বুশেহরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু কেন্দ্রগুলোতে পূর্বের নিয়ম ও আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী চলমান নিয়মিত পরিদর্শন কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই অব্যাহত থাকবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগল প্রধান সুন্দর পিচাইকে দেখে শিক্ষার্থীদের মঞ্চ বর্জন

যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাইয়ের বক্তব্য চলাকালীন ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ ও অনুষ্ঠান বর্জনের (ওয়াকআউট) ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সুন্দর পিচাই প্রধান বক্তা হিসেবে মঞ্চে ওঠার পরপরই এই ঘটনা ঘটে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, সুন্দর পিচাই বক্তব্য শুরু করার মুহূর্তেই সমাবর্তনস্থলে উপস্থিত ১০০ জনেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী তাদের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। এ সময় তারা "ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন" (ফিলিস্তিনের মুক্তি চাই) বলে উচ্চকণ্ঠে স্লোগান দিতে দিতে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। কট্টর বামপন্থী ছাত্র সংগঠন 'স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন' এবং 'নো টেক ফর অ্যাপার্থাইড'-এর যৌথ আহ্বানে এই প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়।   বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে ইসরায়েল সরকারের সাথে গুগলের ১.২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাউড কম্পিউটিং চুক্তি 'প্রজেক্ট নিম্বাস'-কে দায়ী করা হচ্ছে। আমাজনের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে গুগল ইসরায়েল সরকারকে ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, গুগলের এই প্রযুক্তি ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি এবং ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও গুগল বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, এটি কেবল সরকারি বেসামরিক কাজের জন্য একটি ক্লাউড সেবা।   উল্লেখ্য, সুন্দর পিচাই নিজে ১৯৯৫ সালে এই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই মেটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসে তাকে এমন নজিরবিহীন প্রতিবাদের মুখে পড়তে হলো। এর আগে ২০২৪ সালেও এই প্রজেক্ট নিম্বাসের বিরুদ্ধে গুগলের ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান ধর্মঘট করলে গুগল কয়েক ডজন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছিল।   চলতি বছর আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীদের এমন ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগেই অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগলের সাবেক সিইও এরিক শ্মিড বক্তব্য দিতে গেলে এআই প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে ধুয়ে দেয়। তবে স্ট্যানফোর্ডের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এই তুমুল হট্টগোল ও কক্ষ ত্যাগের মাঝেও সুন্দর পিচাই তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যান, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ভূ-রাজনীতির চেয়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষার্থীদের আশাবাদী থাকার পরামর্শই বেশি প্রাধান্য পায়।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
চীনের অত্যাধুনিক জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ, চরম উদ্বেগে ভারত

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে চীনের কাছ থেকে ২০টি অত্যাধুনিক জে-১০সিই (J-10CE) মাল্টিরোল ফাইটার জেট ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা। ২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই বিশাল প্রতিরক্ষা চুক্তি দক্ষিণ এশিয়ার আকাশসীমায় এক বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। তবে প্রতিবেশী দেশ ভারত এই মেগা চুক্তিকে কেবল একটি সাধারণ সামরিক কেনাকাটা হিসেবে দেখছে না; বরং নয়াদিল্লি একে ভারতের চারপাশে চীনের সামরিক বেষ্টনী বা ‘কৌশলগত ঘেরাও’-এর অংশ হিসেবে বিবেচনা করে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।   ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের আলোচনাকে প্রথম গতিশীল করে। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর গঠিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারও এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রতিরক্ষা নীতি সচল রেখেছে। মূলত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদী ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’-এর অংশ হিসেবেই এই মেগা চুক্তিটি করা হয়েছে। বিমান বাহিনীর বহরে থাকা পুরোনো এফ-৭ এবং সীমিত সংখ্যক মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানের বিকল্প হিসেবে আকাশসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করতে এই আধুনিক ফাইটার জেটগুলো অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল।   জানা গেছে, প্রায় ২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই চুক্তির অর্থ আগামী ১০ বছরের সহজ কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। এর ফলে জাতীয় রাজস্বের ওপর তাৎক্ষণিক কোনো বড় চাপ ছাড়াই সামরিক বাহিনীকে আধুনিক করার সুযোগ মিলছে ঢাকার। আগামী ২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে ফাইটার জেটগুলো বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এই প্যাকেজের আওতায় শুধু যুদ্ধবিমানই নয়, বরং লজিস্টিকস, পাইলট ও ক্রু ট্রেনিং, দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণ এবং উন্নত যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহ নিশ্চিত করবে বেইজিং, যা দুই দেশের সামরিক নির্ভরতাকে এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।   জে-১০সিই মূলত একটি ৪.৫ প্রজন্মের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘটিত সংক্ষিপ্ত আকাশযুদ্ধ ‘অপারেশন সিন্দুর’-এ পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর জে-১০সি ফাইটার জেটের দুর্দান্ত কার্যকারিতা প্রদর্শিত হওয়ার পরই মূলত এই বিমানের প্রতি বাংলাদেশের আগ্রহ বহুগুণ বেড়ে যায়। এই ফাইটার জেটটি অত্যন্ত শক্তিশালী অ্যাক্টিভ ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে রাডারে সজ্জিত এবং চীনের তৈরি দূরপাল্লার বিয়ন্ড-ভিজ্যুয়াল-রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল ‘পিএল-১৫’ ছুঁড়তে সক্ষম। উন্নত ডেটা লিংক এবং এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেমের মাধ্যমে এটি যেকোনো আধুনিক পশ্চিমা বা রুশ বিমানকে আকাশযুদ্ধে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে।   এদিকে, বাংলাদেশের এই সামরিক আধুনিকায়ন ভারতের প্রতিরক্ষা মহলে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। ভারতের সামরিক পরিকল্পনাবিদদের আশঙ্কা, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় বিমান ঘাঁটিগুলোতে এই আধুনিক চীনা ফাইটার জেট মোতায়েন করা হলে তা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করা সংকীর্ণ ‘শিলিগুড়ি করিডোর’ বা ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করবে। ভারতের চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান ইতিপূর্বেই চীন, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের মধ্যে সম্ভাব্য ‘স্বার্থের মিলন’ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন, যা ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা নীতিকে নতুন করে সাজাতে বাধ্য করছে।   ঐতিহাসিকভাবেই বাংলাদেশের সামরিক সরঞ্জামের ৭০ শতাংশেরও বেশি সরবরাহ করে চীন। তবে শেখ হাসিনা সরকারের বিদায়ের পর ট্রানজিট, তিস্তা চুক্তি ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মতো ইস্যুতে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছুটা শীতলতা এসেছে। এমন সময়ে চীনের সাথে এই মেগা চুক্তি বেইজিংয়ের প্রতি ঢাকার কৌশলগত ঝুঁকে পড়াকেই নির্দেশ করে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও ঢাকা বিষয়টিকে সম্পূর্ণ নিজস্ব সার্বভৌম সিদ্ধান্ত বলে আখ্যায়িত করেছে এবং ভারতের বিরুদ্ধে কোনো জোটে শামিল হওয়া এর উদ্দেশ্য নয় বলে স্পষ্ট করেছে। বাণিজ্য ও সীমান্ত সুরক্ষায় পারস্পরিক নির্ভরতার কারণে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা না থাকলেও, এই চুক্তির মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন একটি নতুন এবং অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক যুগে পদার্পণ করতে যাচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:২৪
ছবি: সংগৃহীত

ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মাতৃভূমি রক্ষায় শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াইয়ের ঘোষণা হিজবুল্লাহর

ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের ভেতরে আফগানিস্তানের আকস্মিক হামলা, চরমে দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা

ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত পরমাণু নীতি থেকে এক পা-ও নড়বে না ইরান

হিজবুল্লাহর হামলায় নিহত ইসরাইলি সেনা l ছবি: সংগৃহীত
হিজবুল্লাহর হামলায় নিহত ইসরাইলি ব্যাটালিয়ন কমান্ডার, প্রাণ হারালেন আরও ৩ সেনা

দক্ষিণ লেবাননের কাফর তিবনিত গ্রামে হিজবুল্লাহর পৃথক দুটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক ইসরাইলি ব্যাটালিয়ন প্রধানসহ অন্তত চার সেনা নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে লেবাননের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে ইসরাইলি বিমান বাহিনী ব্যাপক পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ৩৩ জন আহত হয়েছেন বলে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। এই নতুন সহিংসতা চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত শান্তি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)-কে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।   ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, মধ্যরাতের পর কাফর তিবনিত গ্রামে হিজবুল্লাহর একটি সন্দেহভাজন ড্রোন বা ট্যাংক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৪০১তম আর্মার্ড ব্রিগেডের ৫২তম ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ডোর গেদালিয়া বেন সিমহন এবং তার ট্যাংকের অন্য তিন ক্রু সদস্য নিহত হন। ৩২ বছর বয়সি বেন সিমহন গত এপ্রিল মাসে এই ব্যাটালিয়নের দায়িত্ব নিয়েছিলেন, যখন এর আগের কমান্ডার দক্ষিণ লেবাননে গুরুতর আহত হন। এই প্রাণঘাতী হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর একই গ্রামে হিজবুল্লাহর আরেকটি বিস্ফোরক ড্রোন ইসরাইলি কমান্ডো ব্রিগেডের ওপর আঘাত হানে। এতে এক রিজার্ভ অফিসার গুরুতর আহত হওয়াসহ মোট পাঁচ ইসরাইলি সেনা জখম হন।   এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর ইসরাইলি বিমান বাহিনী লেবাননের নাবাতিয়েহ ও বেকা উপত্যকাসহ অন্তত ৮০টি লক্ষ্যবস্তুতে তীব্র বোমাবর্ষণ শুরু করে। আইডিএফের দাবি, হিজবুল্লাহর পুনঃপুন যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে তারা এই হামলা চালিয়েছে এবং এতে হিজবুল্লাহর একাধিক কমান্ড সেন্টার ও রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ধ্বংসসহ বেশ কিছু প্রতিরোধ যোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যরাতের পর থেকে শুরু হওয়া এই ইসরাইলি বিমান হামলার কারণে বহু এলাকায় হতাহতদের উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত অনেক বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন।   কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চুক্তি অনুযায়ী লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কথা থাকলেও ইসরাইল এই চুক্তির অংশ ছিল না। ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের তাদের নিয়ন্ত্রিত বাফার জোন থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, যা ইরান ও হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে চুক্তি লঙ্ঘনের শামিল বলে গণ্য করা হচ্ছে। এই চরম উত্তেজনার জের ধরেই সুইজারল্যান্ডে নির্ধারিত মার্কিন-ইরান শান্তি আলোচনা আপাতত স্থগিত হয়ে গেছে।   এই চুক্তিটি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধও এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যার কারণে ইসরাইলি কট্টরপন্থী নেতারা এই চুক্তির তীব্র সমালোচনা করছেন। ইসরাইলের উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে, ইসরাইলি সেনাদের রক্তের বিনিময়ে কোনো মার্কিন চুক্তির তোয়াক্কা করা হবে না এবং পুরো লেবাননকে পুড়িয়ে ছারখার করে দেওয়া উচিত।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৯, ২০২৬ ১২:২০
ছবি: সংগৃহীত

‘ইতালি কখনো কারও কাছে ভিক্ষা বা মিনতি করে না’: ট্রাম্পকে কড়া বার্তা মেলোনির

দুই প্রবাসী বাংলাদেশির হাতে বিমানের টিকিট তুলে দেন হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম | ছবি: সংগৃহীত

মালদ্বীপে অসুস্থ দুই প্রবাসীকে দেশে ফেরার টিকিট দিল বাংলাদেশ হাইকমিশন

পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার | ছবি: সংগৃহীত

পানিকে রাজনৈতিক অস্ত্র বানানোর চেষ্টায় ভারতকে সতর্ক করল পাকিস্তান

ছবি: সংগৃহীত
গণভোটে হেরে গেল অভিবাসন কমানোর প্রস্তাব, স্বস্তিতে সুইজারল্যান্ড

সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা ১ কোটির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের একটি বিতর্কিত প্রস্তাব গণভোটে প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির ভোটাররা। ডানপন্থি রাজনৈতিক দল সুইস পিপলস পার্টি (এসভিপি-ইউডিসি) সমর্থিত এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট পড়েছে ৫৪ শতাংশেরও বেশি।   রোববার অনুষ্ঠিত এই গণভোটে প্রস্তাবটি বাতিল হওয়ার পর দেশটির প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দল, শ্রমিক ইউনিয়ন এবং ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সুইজারল্যান্ডের বিচার ও পুলিশমন্ত্রী বিট ইয়ান্স এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে নাগরিকেরা দেশের স্থিতিশীলতা, উন্মুক্ততা এবং নির্ভরযোগ্যতার পক্ষে তাদের রায় দিয়েছেন।   ইউডিসি প্রস্তাবিত এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল ২০৫০ সালের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের স্থায়ী জনসংখ্যা কোনোভাবেই যেন ১ কোটি পার না হয়। বর্তমানে দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ৯৫ লাখ, যার মধ্যে এক-চতুর্থাংশেরও বেশি বিদেশি নাগরিক। ইউডিসির দাবি ছিল, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ করা না হলে দেশের আবাসন সংকট, যানজট, অপরাধ বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ওপর চাপ আরও বাড়বে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব পাস হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের মানুষের অবাধ চলাচল সংক্রান্ত চুক্তি বাতিল করতে হতো, যা দেশটির অর্থনীতি ও কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করত।   ভোটের ফলাফলকে হতাশাজনক উল্লেখ করে ইউডিসির সভাপতি মার্সেল ডেটলিং বলেন, হেরে গেলেও ৪৫ শতাংশ মানুষের ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রমাণ করে যে দেশের একটি বড় অংশ বর্তমানের এই অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন নীতি পছন্দ করছে না। অন্যদিকে, সুইস ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন জানিয়েছে, এই প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে সুইস জনগণ আত্মগুটিয়ে নেওয়া এবং বিদেশিবিদ্বেষী রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।   এবারের গণভোটে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল রেকর্ড প্রায় ৫৯ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর গড় উপস্থিতির (৪৯%) চেয়ে অনেক বেশি। একই দিনে অনুষ্ঠিত অন্য আরেকটি গণভোটে সুইস ভোটাররা বেসামরিক সেবায় যোগদানের নিয়ম কঠোর করার সরকারি প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৯, ২০২৬ ১:৪৮
ছবি: সংগৃহীত

ইতিহাস গড়ছে লন্ডন ম্যারাথন: ২০২৭ সালে হবে দুই দিনব্যাপী, অংশ নেবেন ১ লাখ দৌড়বিদ

ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজা কালাস | ছবি: সংগৃহীত

পরমাণু চুক্তি হলেই কেবল ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলবে ইইউ

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় | ছবি: সংগৃহীত

এবার মমতার দলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন, ৮৭৬ কোটি রুপি হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা

0 Comments