ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে নরওয়ে
ফিলিস্তিনের অধিকৃত ভূখণ্ডে অবৈধ ইসরায়েলি বসতির সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে নরওয়ে সরকার। শুক্রবার (১৯ জুন) নরওয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, নরওয়ের জনগণ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনোভাবেই অবৈধ বসতি টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে অবদান রাখা উচিত নয়, কারণ ইসরায়েলের এই উপনিবেশিক নীতি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ও দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের সম্ভাবনাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে।
নরওয়ে সরকারের প্রস্তাবিত এই নতুন বিল অনুযায়ী, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড—গাজা এবং পূর্ব জেরুজালেমসহ পশ্চিম তীরে অবস্থিত ইসরায়েলি বসতিগুলোতে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব বসতিতে সম্পত্তির কেনাবেচা, নির্মাণ বা সংস্কার সংক্রান্ত কোনো ধরনের পরিষেবা দেওয়া এবং সেখানে প্রধান কার্যালয় বা উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে এমন কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণের ওপরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসব্যাপী এই খসড়া বিলটির ওপর প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও আলোচনা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে অসলো প্রশাসন।
নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ এইডে এক বিবৃতিতে বলেন, তারা এই অবৈধ বসতিগুলোর সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুরোপুরি নিষিদ্ধ করতে চান। কারণ এসব বসতি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের মূল ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। তবে প্রস্তাবিত এই বিলে স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ফিলিস্তিনের বৈধ সীমানায় ফিলিস্তিনিদের যেকোনো বৈধ বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং মানবিক সহায়তার সঙ্গে নরওয়ের সম্পর্ক ও বাণিজ্য আগের মতোই নির্বিঘ্নে অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য না হয়েও ২০২৪ সালে আয়ারল্যান্ড ও স্পেনের সঙ্গে একযোগে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল নরওয়ে। বর্তমানে আয়ারল্যান্ড ইইউভুক্ত ২৭টি দেশকে অবৈধ ইসরায়েলি বসতির সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার জন্য চাপ দিচ্ছে। ১৯৬৭ সাল থেকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করে রাখা ইসরায়েলের এসব বসতি আন্তর্জাতিক আইনে সম্পূর্ণ অবৈধ হিসেবে স্বীকৃত। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলার পরিমাণও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ ফিলিস্তিনিদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreরাশিয়ার ই-কমার্স জায়ান্ট 'ওয়াইল্ডবেরিজ'-এর গুদামসহ একাধিক বাণিজ্যিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইউক্রেনের ভয়াবহ ড্রোন হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সোমবার দিবাগত রাতভর চালানো এই হামলায় ওয়াইল্ডবেরিজ ছাড়াও রুশ খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান 'লেন্তা'-এর একটি গুদামে আগুন ধরে যায়। বিগত দুই সপ্তাহ ধরে ওয়াইল্ডবেরিজের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে প্রায় প্রতিদিনই ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে কিয়েভ। মস্কোর আঞ্চলিক গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ নিশ্চিত করেছেন যে, মস্কো অঞ্চলের চেখভ শহরে একটি গুদামে ড্রোনের আঘাতে ওই পাঁচজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আরও অন্তত দশজন আহত হয়েছেন। এছাড়া উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় লেনিনগ্রাদ এবং মস্কোর উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত তেভের অঞ্চলেও ওয়াইল্ডবেরিজের দুটি গুদামে ড্রোনের আঘাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, তবে সেখানে কেউ হতাহত হননি। অপরদিকে লেনিনগ্রাদে লেন্টা-এর একটি লজিস্টিক সেন্টারে হামলায় একজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত রাশিয়া ও ক্রিমিয়া অঞ্চল মিলিয়ে মোট ৩২০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন তারা প্রতিহত করেছে। গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় থেকে ইউক্রেন ওয়াইল্ডবেরিজের প্রায় দুই ডজন লজিস্টিক সেন্টারে হামলা চালিয়েছে। কিয়েভের অভিযোগ, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটি রুশ সামরিক বাহিনীকে ড্রোনের যন্ত্রাংশসহ অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহ করে আসছে। ফোর্বস রাশিয়ার তথ্যমতে, টানা এই হামলার কারণে প্রতিষ্ঠানটির গুদাম সক্ষমতার একটি বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং থার্ড-পার্টি বিক্রেতারা শত শত বিলিয়ন রুবলের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। ক্রমাগত হামলার মুখে পড়ে ওয়াইল্ডবেরিজ এখন কাজাখস্তানে ২ লাখ ৬০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের বিশাল গুদাম নির্মাণের পরিকল্পনা করছে, যা ২০২৭ সালের শুরুর দিকে সম্পন্ন হতে পারে। এদিকে, রাশিয়ার অভ্যন্তরে যখন ইউক্রেনের এই জোরালো আক্রমণ চলছে, তখন ইউক্রেনেও রুশ আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার ইউক্রেনের আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার রাতে উত্তরাঞ্চলীয় সুমি শহরে রাশিয়ার গাইডেড বোমা হামলায় দুই শিশু ও এক বৃদ্ধা মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন।
মানহীন হওয়ায় ভারতের সাড়ে ১১ হাজার টন চাল ফেরত পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ
বিদ্যুৎ সংকটে কিউবার পাশে চীন, উপহার দিল ৫,০০০ সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেম
ধনী হয়েও ইউরোপের দরিদ্রদের চেয়ে কম বাঁচেন অনেক মার্কিন নাগরিক
দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র নাউরু আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের দেশের নাম পরিবর্তন করেছে। দেশটির নতুন নাম রাখা হয়েছে রিপাবলিক অব নাওয়েরো। স্থানীয় জাতীয় ভাষার বানান ও উচ্চারণ অক্ষুণ্ন রাখতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডেভিড আদিয়াং। সরকার জানিয়েছে, এই পরিবর্তনের ফলে দেশটির আন্তর্জাতিক কোড এনআরইউ-এর পরিবর্তে এনআরও ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি, দেশটির নাগরিকরা নাউরুয়ান নয়, এখন থেকে দে-নাওয়েরো নামে পরিচিত হবেন। আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত উচ্চারণের পরিবর্তে স্থানীয় ভাষার সঠিক উচ্চারণ অনুযায়ী নতুন নাম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডেভিড আদিয়াং চলতি বছরের জানুয়ারিতে পার্লামেন্টে এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য দেশের ঐতিহ্য, ভাষা এবং জাতীয় পরিচয়কে যথাযথ সম্মান জানানো। পরে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবটি প্রয়োজনীয় দুই দফা ভোটে অনুমোদন পায়। সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অতীতে বিদেশিদের উচ্চারণের সুবিধার জন্য দেশটির স্থানীয় নাম সংক্ষিপ্ত করে নাউরু ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে নাওয়েরো নামটি কখনো হারিয়ে যায়নি। এটি জাতীয় প্রতীক এবং স্থানীয় জনগণের দৈনন্দিন ব্যবহারে দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। তাই এ পরিবর্তনের জন্য আলাদা গণভোটের প্রয়োজন নেই বলে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মাত্র ১২ হাজার জনসংখ্যার এই দেশটি বিশ্বের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্র। জার্মান উপনিবেশ এবং পরে অস্ট্রেলিয়ার প্রশাসনের অধীনে থাকার পর ১৯৬৮ সালে স্বাধীনতা লাভ করে নাউরু। সরকার জানিয়েছে, নতুন নাম গ্রহণের ফলে জাতীয় বিমান, নৌযান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নথিতে ধাপে ধাপে নাওয়েরো নাম ব্যবহার করা হবে। ইতোমধ্যে জাতিসংঘসহ কয়েকটি দেশ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নথিতে নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মালয়েশিয়ায় সহকর্মীদের সংঘর্ষে তিন বাংলাদেশি নিহত, গ্রেপ্তার একজন
শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়ার সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ
রোহিঙ্গা সংকটে ২৫.২৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের নতুন সহায়তা, বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত
তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে গোটা ইসরাইল। চলমান এই গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যার ফলে দেশটিতে তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গ্যালিলি সাগর সংলগ্ন এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। এছাড়া জর্ডান উপত্যকায় এই তীব্রতা আরও ভয়াবহ রূপ নিয়ে ৪৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, পার্বত্য ও অভ্যন্তরীণ এলাকাগুলোতে আবহাওয়া চরম শুষ্ক ও উত্তপ্ত থাকবে। অন্যদিকে, উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চলে আর্দ্রতা তুলনামূলক বেশি অনুভূত হবে। এর ফলে দেশজুড়ে তাপজনিত অস্বস্তি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। বিকাল থেকে বিশেষ করে পাহাড় ও অভ্যন্তরীণ অঞ্চলগুলোতে জোরালো বাতাস বইতে পারে। এর আগে শনিবারও দেশটিতে তাপমাত্রার তীব্র বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যায়। এদিন জর্ডান উপত্যকার গিলগাল, ক্যাপারনাউম এবং বেইত শিয়ানে সর্বোচ্চ ৪৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এমনকি জেরুজালেমের পুরোনো শহরে ৩৬.১ ডিগ্রি এবং এর পাদদেশের এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রিতে পৌঁছেছিল। তুলনামূলকভাবে উপকূলীয় সমভূমিতে চরম তাপপ্রবাহ সরাসরি আঘাত না হানলেও সেখানে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকবে এবং বাতাসে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত আর্দ্রতা বিরাজ করবে, যা মারাত্মক ভ্যাপসা গরম তৈরি করবে। তবে সোমবার থেকে পাহাড় ও অভ্যন্তরীণ এলাকায় তাপমাত্রা সামান্য কমার সম্ভাবনা থাকলেও আবহাওয়া স্বাভাবিকের চেয়ে উত্তপ্তই থাকবে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল থেকে আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে পরিষ্কার থাকতে পারে এবং তাপমাত্রা আরও কিছুটা হ্রাস পাবে। সবশেষে বুধবার সকালের মেঘ কেটে যাওয়ার পর পাহাড় ও অভ্যন্তরীণ এলাকায় তাপমাত্রা কমে আবহাওয়া পুরোপুরি স্বাভাবিক বা মৌসুমী অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গ্রিসে দাবানল নেভাতে গিয়ে আকাশে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ, নি হত ২
মুসলিমদের জালিমের পক্ষ নেওয়া উচিত নয়, প্রতিবেশী দেশগুলোকে ইরানের বার্তা