মালয়েশিয়ায় পুলিশের তাড়া খেয়ে ময়লার ড্রামে লুকালেন বাংলাদেশি শ্রমিক, আটক বাংলাদেশিসহ ২৭০
মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে এক বিশাল অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশিসহ ২৭০ জন শ্রমিককে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম অনলাইন নিউ স্ট্রেইটস টাইমস-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার বিকেলে সেলাঙ্গরের পোর্ট ক্লাংয়ের তেলোক গং শিল্প এলাকার একটি আসবাবপত্র তৈরির কারখানায় এই ‘অপস মেগা’ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ইমিগ্রেশন পুলিশ কারখানায় প্রবেশ করতেই শ্রমিকদের মাঝে হুড়োহুড়ি লেগে যায় এবং তারা দিগ্বিদিক দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন।
গ্রেফতার এড়াতে অভিবাসী শ্রমিকরা কারখানার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ ও অদ্ভুত জায়গায় আত্মগোপন করেন। এর মধ্যে ২০ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি তরুণ শ্রমিক কারখানার ভেতরে থাকা প্লাস্টিকের ময়লাভর্তি একটি বড় রোল-অন বা রোল-অফ (রোরো) কনটেইনারের ভেতরে ময়লার আড়ালে লুকিয়ে ছিলেন। তল্লাশির একপর্যায়ে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তাকে সেখান থেকে হাতেনাতে আটক করেন। আটকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওই তরুণ কথা না বলে হাতজোড় করে বারবার ইংরেজিতে ক্ষমা চাইতে থাকেন। পরবর্তীতে তাঁর এক সহকর্মী মালয় ভাষায় অনুবাদ করে জানান যে, ইমিগ্রেশন পুলিশ দেখে ভয়েই তিনি ময়লার ড্রামে লুকিয়েছিলেন।
একই কারখানায় অন্য দুই বাংলাদেশি শ্রমিককে কাঠ কাটার মেশিনের পেছনে এবং আসবাবপত্রের বড় বড় বাক্সের আড়ালে ধুলোবালির মধ্যে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় আটক করা হয়। আটকের সময় তাঁদের শরীর ও চুল কারখানার কাঠের গুঁড়ো ও ময়লায় ধূসর হয়ে গিয়েছিল। এর আগে সকাল ৮টার দিকে মেরু এলাকার একটি প্লাস্টিক কারখানায় অভিযানের প্রথম ধাপ শুরু হয়, যেখানে প্রায় দুই থেকে তিন সপ্তাহ ধরে গোপন নজরদারি বা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করেছিল ইমিগ্রেশন বিভাগ।
সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন বিভাগের উপ-পরিচালক মোহদ খুসাইরি কামারুদ্দিন জানান, মেরুর প্লাস্টিক কারখানায় ৬৬ জন শ্রমিকের নথিপত্র পরীক্ষা করে ১৮ জনকে আটক করা হয়, যাদের মধ্যে ১৭ জন বাংলাদেশি ও ১ জন করে নেপাল ও মিয়ানমারের নাগরিক রয়েছেন। অন্যদিকে, তেলোক গংয়ের আসবাবপত্র কারখানায় ৫২০ জন শ্রমিকের মধ্যে ২৫২ জনকে আটক করা হয়। এই ২৫২ জনের মধ্যে ১৭৫ জন বাংলাদেশি, ৩৯ জন পাকিস্তানি, ৩৩ জন নেপালি, ৪ জন মিয়ানমারের এবং ১ জন শ্রীলঙ্কার নাগরিক রয়েছেন।
ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, আটককৃত সকল শ্রমিকের বয়স ১৮ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে এবং তারা সবাই পুরুষ. প্রাথমিক তদন্ত ও নথিপত্র যাচাই শেষে দেখা গেছে, আটককৃতদের সিংহভাগই মালয়েশিয়ায় ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন এবং অনেকে ওয়ার্ক পারমিট বা পাসের শর্ত লঙ্ঘন করে নির্ধারিত খাতের বাইরে কাজ করছিলেন। কয়েকজন শ্রমিক নিজেদের বৈধ দাবি করলেও অভিযানের সময় মূল কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন।
মোট ৫০ জন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ দল এই ঝটিকা অভিযানটি পরিচালনা করে. মোহদ খুসাইরি কামারুদ্দিন স্পষ্ট করে বলেন, এই ক্র্যাকডাউন বা চিরুনি অভিযান শুধু কারখানাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বিভিন্ন আবাসিক এলাকা এবং ম্যাসেজ পার্লারের মতো জায়গাগুলোতেও তা চালানো হবে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে ১৯৫৯/৬৩ সালের ইমিগ্রেশন আইনের আওতায় মামলা দায়ের করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সূত্র: নিউ স্ট্রেইটস টাইমস
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreযুদ্ধক্ষেত্রে পড়ে থাকা নিহত সৈনিক ও বেসামরিক মানুষের মরদেহ উদ্ধার করে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজে জীবনের দুই দশকেরও বেশি সময় কাটিয়েছিলেন ইউক্রেনীয় স্বেচ্ছাসেবক ওলেক্সি ইউকভ। ৪০ বছর বয়সে সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। তার মৃত্যুতে ইউক্রেনজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। ইউকভ ছিলেন স্বেচ্ছাসেবী অনুসন্ধান দল ‘প্লাত্সদার্ম’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান। তার নেতৃত্বে দলটি যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান, মরদেহ উদ্ধার এবং পরিচয় শনাক্ত করার কাজ করত। ইউক্রেনীয়দের পাশাপাশি রুশ সেনাদের মরদেহও উদ্ধার করেছে তার দল। ৫ আগস্ট দোনেৎস্ক অঞ্চলের লিমান এলাকায় একটি মরদেহ উদ্ধারের অভিযানে ইউকভ নিহত হন। উদ্ধারকাজের সময় মাইন বিস্ফোরণে তিনি প্রাণ হারান বলে তার সহকর্মী ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ইউকভের এই কাজ শুরু হয়েছিল যুদ্ধের বর্তমান অধ্যায় শুরুর বহু আগে। কৈশোরে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নিহত সেনাদের দেহাবশেষ খুঁজে বের করার কাজে যুক্ত হন। পরে পূর্ব ইউক্রেনের সংঘাত শুরু হলে তিনি আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে নিহতদের উদ্ধারের কাজে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। ২০১৪ সালে দোনবাস অঞ্চলে সংঘাত শুরুর পর তার অনুসন্ধান কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়। ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করার পর তার দল সম্মুখসারির আরও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কাজ করতে থাকে। মাইন, অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ, গোলাবর্ষণ ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি সত্ত্বেও তারা নিখোঁজ ও নিহতদের সন্ধান চালিয়ে যায়। মৃতদের জাতীয়তা নিয়ে ইউকভের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল আলাদা। ইউক্রেনীয় সৈনিক ও বেসামরিক মানুষের পাশাপাশি রুশ সেনাদের মরদেহও তিনি উদ্ধার করেছেন। তার বিশ্বাস ছিল, যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত একজন মানুষ মৃত্যুর পর আর শত্রু নয়; তিনি কারও বাবা, সন্তান, স্বামী, ভাই কিংবা পরিবারের সদস্য। এই কাজের জন্য ইউকভ ‘আত্মার সংগ্রাহক’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন। তার কাছে মরদেহ উদ্ধার মানে শুধু একজন নিহত মানুষকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরিয়ে নেওয়া নয়, বরং তার পরিচয় ও মর্যাদা ফিরিয়ে দিয়ে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজ করতে গিয়ে ইউকভ নিজেও একাধিকবার আহত হন। ২০২২ সালে একটি মাইন বিস্ফোরণে তিনি গুরুতর আহত হয়ে একটি চোখ হারান। এরপরও তিনি কাজ থেকে সরে দাঁড়াননি। সুস্থ হওয়ার পর আবার যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরে গিয়ে মরদেহ উদ্ধারের কাজ চালিয়ে যান। তার শেষ অভিযানও ছিল একই ধরনের একটি উদ্ধারকাজ। দোনেৎস্ক অঞ্চলের লিমান এলাকায় মরদেহ উদ্ধারের সময় মাইন বিস্ফোরণে তার মৃত্যু হয়। কয়েকদিন পর কিয়েভে তার শেষ বিদায়ের আয়োজন করা হয়। ৮ আগস্ট কিয়েভের সেন্ট ভলোদিমির ক্যাথেড্রালে ইউকভের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। পরে তার মরদেহ মেইদান স্কয়ারের দিকে নেওয়া হলে বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে জড়ো হন। অনেকে হাঁটু গেড়ে বসে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। তার পরিবার, সহকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা ইউকভের কাজের কথা স্মরণ করে বলেন, তিনি বহু পরিবারের জন্য দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়েছেন। কোনো স্বজন যুদ্ধক্ষেত্রে নিখোঁজ হলে পরিবারগুলো মাসের পর মাস অপেক্ষা করত। ইউকভের দল সেই মরদেহ খুঁজে বের করে পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা করত এবং পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করত। মরদেহ শনাক্ত করতে উদ্ধার করা ব্যক্তিগত সামগ্রী, পরিচয়পত্র ও অন্যান্য সূত্র ব্যবহার করা হতো। প্রয়োজন হলে ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমেও পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হতো। যুদ্ধক্ষেত্রের ঝুঁকির কারণে এই কাজ অনেক সময় অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠত। ইউকভের স্ত্রী ইভহেনিয়া কালুহিনা জানিয়েছেন, তার স্বামীর শুরু করা কাজ থেমে থাকবে না। সহকর্মীরাও জানিয়েছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে নিহতদের খুঁজে বের করে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব তারা চালিয়ে যাবেন। ইউকভের মৃত্যু ইউক্রেন যুদ্ধের একটি কম আলোচিত মানবিক বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত অনেক মানুষের মরদেহ গোলাবর্ষণ, মাইন ও অবিস্ফোরিত অস্ত্রের কারণে দীর্ঘ সময় উদ্ধার করা সম্ভব হয় না। পরিবারের সদস্যরা তখন প্রিয়জন জীবিত নাকি মৃত, সে বিষয়েও নিশ্চিত হতে পারেন না। দুই দশকের বেশি সময় ধরে ইউকভ সেই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি যে মানুষগুলোর মরদেহ উদ্ধার করেছেন, তাদের মধ্যে ইউক্রেনীয় ও রুশ উভয় পক্ষের মানুষই ছিলেন। তার জীবন ও মৃত্যু যুদ্ধের বিভাজনের মধ্যেও মানবিকতার একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন তার সহকর্মীরা। যুদ্ধ মানুষকে শত্রু ও মিত্রে ভাগ করলেও মৃত্যুর পর একজন মানুষের মর্যাদা রক্ষা করা এবং তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এই বিশ্বাসই শেষ পর্যন্ত ইউকভের জীবনের প্রধান দায়িত্ব হয়ে উঠেছিল।
৩ সেকেন্ডে একটি পণ্য , ৭ দিনেই চীনা ইনফ্লুয়েন্সারের আয় ১৩৭ কোটি টাকা!
ইসরাইলি তরুণদের মধ্যে বাড়ছে ক্যানসারের ঝুঁকি
ধরপাকড় ও সহিংসতার মুখে দেশ ছাড়লেন ১ লাখ ৭৮ হাজার অভিবাসী
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে। শুক্রবার মক্কায় তিন দেশের নেতারা ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে সই করেন। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। চুক্তিটি তিন দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করার পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চুক্তিটির উদ্দেশ্য হলো তিন দেশের সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্ষমতা শক্তিশালী করা। শুক্রবার সৌদি আরবের সরকারি সংবাদ সংস্থা ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে চুক্তিটির ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে তিন দেশ নিজেদের সম্মিলিত নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার এবং অঞ্চল ও এর বাইরের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি জানায়। চুক্তি সইয়ের এক দিন আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ শক্তিশালী সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে সঙ্গে নিয়ে সৌদি আরবে পৌঁছান এবং মক্কায় ওমরাহ পালন করেন। শুক্রবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানও সৌদি আরবে গিয়ে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরব বারবার হামলার মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর সৌদি আরবের দিকে ইরান এবং ইয়েমেনে ইরানের মিত্র হুথিদের পাশাপাশি ইরাকের শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এসব সংঘাত সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ও উন্নয়ন পরিকল্পনার ওপর প্রভাব ফেলেছে। চুক্তিটি প্রায় এক বছর ধরে চলা আলোচনার পর সম্পন্ন হয়েছে। মক্কায় চুক্তি সই হওয়ায় এর প্রতীকী গুরুত্বও বেড়েছে। পাকিস্তান কয়েক দশক ধরে সৌদি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছে। তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যেও যুদ্ধজাহাজ ও প্রশিক্ষণ বিমান নিয়ে সহযোগিতা রয়েছে। ২০২৩ সালে সৌদি আরব তুরস্কের তৈরি ড্রোন কেনার বিষয়ে একটি চুক্তিতে সম্মত হয়। তুরস্ক এটিকে দেশটির সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা রপ্তানি চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছিল। নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সামরিক সম্পর্কের পাশাপাশি তিন দেশের সম্মিলিত নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন কাঠামো তৈরি হলো। তবে সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রবিষয়ক মন্ত্রী রায়েদ ক্রিমলি জানিয়েছেন, এই চুক্তি কোনো দেশের জন্য হুমকি নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কোনো সামরিক জোট বা সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় জোট গঠনের উদ্দেশ্যে করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, চুক্তিটি পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা বা অস্ত্র প্রতিযোগিতার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; বরং টেকসই ও স্বনির্ভর সক্ষমতা গড়ে তোলাই এর লক্ষ্য। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানও বলেছেন, চুক্তিটি সম্মিলিত প্রতিরোধের ভিত্তিতে সই হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান রেখে সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সংঘাত ও সংকট সমাধানের ক্ষেত্রে তুরস্ক তার অবস্থান অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চুক্তিটিকে একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, এটি তিন দেশের স্বার্থ রক্ষা করবে এবং তাদের অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বাড়াবে। তবে ইরানের এক আইনপ্রণেতা ইব্রাহিম রেজাই চুক্তিটি নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে একটি কাগজের চুক্তি সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না। তার মতে, নিরাপত্তার জন্য অন্য দেশের ওপর নির্ভর না করে সৌদি আরবকে নিজেদের নীতি সংস্কার করতে হবে। চুক্তির বিষয়ে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, এটি শুধু প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ না থেকে ভবিষ্যতে অন্য খাতেও সহযোগিতা বাড়াতে পারে। তিন দেশের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক তৈরি হলে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের অর্থনৈতিক সম্পর্কও আরও জোরদার হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। চুক্তিটি এমন এক সময়ে হলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সৌদি আরবসহ পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করেছে। তিন দেশের পক্ষ থেকে এটিকে সম্মিলিত নিরাপত্তা, প্রতিরোধ সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদারের উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স
হরমুজ প্রণালিতে আমিরাতের জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ইরানকে দায়ী করে সৌদির কড়া বার্তা
গড়ে প্রতিদিন ছয়টিরও বেশি ইসরায়েলি হামলার ঘটনা, চলতি বছর বাস্তুচ্যুত ২,৩০০ ফিলিস্তিনি
৩০ বছর পর এভারেস্ট থেকে বাড়ি ফিরছে ‘গ্রিন বুটস’, পরিচয় মিলেছে ভারতীয় পর্বতারোহীর
ত্বক দ্রুত তামাটে বা ট্যান করতে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির মাত্রা বোঝাতে ব্যবহৃত ইউভি সূচককেই উল্টো কাজে লাগাচ্ছেন ইসরায়েলের একদল তরুণ। যে সূচক মূলত মানুষকে ক্ষতিকর সূর্যরশ্মি থেকে সতর্ক করার জন্য তৈরি, সেটিতে মাত্রা ৯, ১০ কিংবা ১১-এর ওপরে উঠলেই কেউ কেউ রোদে বেরিয়ে পড়ছেন। চিকিৎসকেরা বলছেন, এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের ক্ষতি ও স্কিন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। শনিবার টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এই প্রবণতার কথা উঠে এসেছে। পশ্চিম গ্যালিলির শাভেই জিয়ন সৈকতে ১৬ বছর বয়সী অ্যাবিগেইল উলফ জানান, ইউভি সূচক ১০ বা ১১ দেখলে তিনি ভালোভাবে ট্যান হওয়ার জন্য প্রায় ৪০ মিনিট রোদে থাকেন। ইউভি সূচক তৈরি হয়েছিল সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করার জন্য। সূচকে ১১ বা তার বেশি মাত্রা অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি নির্দেশ করে। অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নতুন প্রবণতায় এই সতর্কতাকেই দ্রুত ট্যান হওয়ার উপযুক্ত সময় বেছে নেওয়ার উপায় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ক্লালিট হেলথ সার্ভিসেসের সিনিয়র শিশু চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এফরাত বার-ইলান জানিয়েছেন, গত দুই বছরে তরুণ ও কিশোরদের মধ্যে উদ্বেগজনকভাবে এই প্রবণতা বাড়তে দেখেছেন তিনি। অনেকেই ইউভি রশ্মির ক্ষতির কথা জানেন, কিন্তু ভবিষ্যতে এর স্বাস্থ্যঝুঁকি কতটা গুরুতর হতে পারে, সেটিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির দুটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ইউভিএ ও ইউভিবি। ইউভিএ রশ্মি ত্বকের রঞ্জক পদার্থে প্রভাব ফেলে ত্বককে তামাটে করতে পারে। অন্যদিকে ইউভিবি ত্বকের ওপরের স্তরে ক্ষতি ও সানবার্ন ঘটাতে পারে এবং কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত সূর্যালোকের সংস্পর্শে থাকলে ত্বকের অকাল বার্ধক্য, বলিরেখা, পিগমেন্টেশন এবং স্কিন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। স্কিন ক্যানসারের মধ্যে বেসাল সেল ও স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায় এবং দ্রুত শনাক্ত হলে চিকিৎসায় ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে মেলানোমা বেশি বিপজ্জনক। এটি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে ছড়িয়ে পড়লে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ মেলানোমার হার থাকা ৩০টি দেশের তালিকায় ইসরায়েলের অবস্থান ২৩তম। তবে ওই দেশগুলোর মধ্যে মেলানোমায় মৃত্যুহার ইসরায়েলে সবচেয়ে কম। ইসরায়েল ক্যানসার অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রায় ৯১ শতাংশ স্কিন ক্যানসার অত্যন্ত প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত হয়। সানস্ক্রিন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু দাবিও নাকচ করেছেন ডা. বার-ইলান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত সানস্ক্রিন নির্দেশনা মেনে ব্যবহারে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়, এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বিপরীতে অতিরিক্ত ইউভি রশ্মির কারণে ত্বকের অকাল বার্ধক্য ও ক্যানসারের ঝুঁকির বিষয়টি সুপ্রতিষ্ঠিত। চিকিৎসকদের উদ্বেগের বড় কারণ হলো, দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি তাৎক্ষণিকভাবে দেখা যায় না। তরুণ বয়সে বারবার অতিরিক্ত রোদে থাকার প্রভাব বহু বছর পর গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। ফলে দ্রুত ট্যান হওয়ার জন্য ইউভি সূচকের উচ্চমাত্রাকে ‘সুযোগ’ হিসেবে না দেখে স্বাস্থ্যঝুঁকির সতর্কসংকেত হিসেবেই নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
সেনজেন চুক্তি স্থগিতের জেরে ইতালিকে পাল্টা ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি স্পেনের
ডিম্বাণু দান করেছিলেন টাকার জন্য, ১১ বছর পর তার বাড়িতেই অতিথি সেই ফরাসি কিশোরী