- প্রচ্ছদ
- Topic
বাংলাদেশি প্রবাসী
কানাডার মিসিসাগায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে দুই পা হারিয়েছেন নিউইয়র্কের অ্যামহার্স্টের বাংলাদেশি প্রবাসী মাসুদ বিশ্বাস। একই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত তাঁর ১২ বছর বয়সী ছেলে মারিফের দুই পা বাঁচাতে চিকিৎসকেরা একের পর এক অস্ত্রোপচার করছেন। বর্তমানে বাবা ও ছেলে দুজনই বাফেলো এলাকায় চিকিৎসাধীন। গত ১১ আগস্ট বিকেলে টরন্টো বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়িতে ফিরছিলেন মাসুদ ও তাঁর ছেলে। হাইওয়ে ৪০৩-এর মিসিসাগা এলাকায় তাঁদের গাড়ির সঙ্গে আরেকটি গাড়ির সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পর মাসুদ ও অপর গাড়ির চালক নিজেদের গাড়ি হাইওয়ের ডান পাশের শোল্ডারে থামিয়ে ক্ষয়ক্ষতি দেখছিলেন এবং ইন্স্যুরেন্সের তথ্য বিনিময়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এর মধ্যেই একটি তৃতীয় গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শোল্ডারে থাকা গাড়িটিতে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার পর ওই গাড়িটি ছিটকে এসে মাসুদ ও মারিফকে আঘাত করে। এতে বাবা-ছেলে দুজনই গাড়ির নিচে আটকে গুরুতর আহত হন। পরে উদ্ধার করে তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। মাসুদের দুই পা হাঁটুর ওপর থেকে কেটে বাদ দিতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি বাফেলোর ইসিএমসি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দুর্ঘটনার পর তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক ছিল বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। অন্যদিকে, অ্যামহার্স্ট মিডল স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র মারিফের দুই পা বাঁচাতে চিকিৎসকেরা একাধিক অস্ত্রোপচার করেছেন। তাকে বাফেলোর গোলিসানো চিলড্রেনস হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা তাঁর পা রক্ষা করে স্বাভাবিকভাবে হাঁটার সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। দুর্ঘটনার পর মাসুদের পরিবার আর্থিকভাবে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে মাসুদ এখন কাজ করতে পারছেন না। একই সঙ্গে তাঁর নিজের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা, ছেলের একাধিক অস্ত্রোপচার এবং ভবিষ্যৎ পুনর্বাসনের জন্য বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁদের পাশের বাড়ির প্রতিবেশী ম্যাট হিগিন্স ও তাঁর পরিবার। তাঁরা মাসুদ ও মারিফের চিকিৎসা এবং পরিবারের জীবনযাত্রার খরচে সহায়তার জন্য একটি GoFundMe ক্যাম্পেইন চালু করেছেন। ক্যাম্পেইনে চিকিৎসা ব্যয়, পরিবারের দৈনন্দিন খরচ এবং ভবিষ্যতে বাড়িতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। GoFundMe-এর তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পথ দীর্ঘ হতে পারে এবং মারিফের আরও অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। দুর্ঘটনার পর নিউইয়র্কের অ্যামহার্স্ট কমিউনিটিতেও পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ শুরু হয়েছে। প্রতিবেশী ও পরিচিতরা এই কঠিন সময়ে মাসুদ ও তাঁর ছেলের চিকিৎসা এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ সামলাতে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। গো ফান্ড লিংক: https://gofund.me/57fbf9c15
নিউইয়র্ক সিটিতে আবাসিক ভবনের ট্র্যাশ ব্যবস্থাপনায় নতুন নিয়ম আজ, মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর থেকে পুরোপুরি কার্যকর হয়েছে। ১ থেকে ৯টি আবাসিক ইউনিটের ভবনে সাধারণ ট্র্যাশ বাইরে রাখার ক্ষেত্রে এখন থেকে অফিসিয়াল NYC বিন ব্যবহার করতে হবে। নিয়ম না মানলে নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব স্যানিটেশন বা ডিএসএনই সামন্স জারি করে জরিমানা করতে পারবে। নতুন নিয়মটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ নিউইয়র্কের বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য। যেসব বাংলাদেশি পরিবার এক বা দুই পরিবারের বাড়ির মালিক কিংবা ৯টি পর্যন্ত আবাসিক ইউনিট রয়েছে এমন ভবনের মালিক বা ম্যানেজার, তাদের ট্র্যাশ নির্ধারিত বিনে রাখতে হবে। ভবনের বাসিন্দাদের উৎপাদিত সব ট্র্যাশ রাখার জন্য পর্যাপ্ত বিনের ব্যবস্থা করার দায়িত্বও মালিক বা বিল্ডিং ম্যানেজারের। ডিএসএনই জানিয়েছে, ১ জুন ২০২৬ থেকেই ১ থেকে ৯টি আবাসিক ইউনিটের ভবনের জন্য অফিসিয়াল NYC বিন ব্যবহারের নিয়ম কার্যকর ছিল। তবে নিয়মটি বাস্তবায়নের আগে বাসিন্দা ও সম্পত্তির মালিকদের প্রস্তুতির সুযোগ দিতে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সতর্কতামূলক সময় দেওয়া হয়। সেই সময় শেষ হওয়ার পর ৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে পূর্ণাঙ্গ এনফোর্সমেন্ট। জরিমানার পরিমাণ অপরাধের সংখ্যার ওপর নির্ভর করবে। প্রথমবার নিয়ম ভাঙলে ৫০ ডলার, দ্বিতীয়বার ১০০ ডলার এবং তৃতীয় ও পরবর্তী অপরাধে ২০০ ডলার জরিমানা হতে পারে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ২০০ ডলারের জরিমানা প্রযোজ্য হবে তৃতীয় ও পরবর্তী লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে। শুধু নির্দিষ্ট বিন ব্যবহার করলেই হবে না, ট্র্যাশের বিনেরও কিছু শর্ত রয়েছে। ট্র্যাশ রাখার জন্য সর্বোচ্চ ৫৫ গ্যালনের বিন ব্যবহার করতে হবে এবং বিনের ঢাকনা নিরাপদভাবে বন্ধ থাকতে হবে। বিন উপচে ট্র্যাশ বাইরে পড়ে থাকলেও জরিমানার ঝুঁকি রয়েছে। বর্তমানে অফিসিয়াল NYC বিন বিভিন্ন আকারে পাওয়া যাচ্ছে। ৪৫ গ্যালনের বিন একাধিক আবাসিক ইউনিটের ভবনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। ছোট একক পরিবারের বাড়ির জন্য ৩৫ গ্যালনের বিন এবং জায়গা কম থাকা বা কম ট্র্যাশ উৎপাদনকারী বাড়ির জন্য ২৫ গ্যালনের বিনও রয়েছে। তবে রিসাইক্লিং ও কম্পোস্টের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। রিসাইক্লিংয়ের জন্য অফিসিয়াল NYC বিন কেনা বাধ্যতামূলক নয়। রিসাইক্লিং উপযুক্ত যেকোনো কনটেইনারে অথবা স্বচ্ছ প্লাস্টিক ব্যাগে রাখা যায়। কম্পোস্টও ঢাকনাযুক্ত ও সঠিকভাবে চিহ্নিত উপযুক্ত বিনে রাখা যাবে। নিউইয়র্ক সিটি বলছে, এই নিয়মের মূল উদ্দেশ্য হলো রাস্তায় পড়ে থাকা কালো ট্র্যাশ ব্যাগ কমানো, জনসাধারণের জায়গা পরিষ্কার রাখা এবং ইঁদুরসহ বিভিন্ন পোকামাকড়ের সমস্যা কমানো। নতুন NYC বিন গুলো ইঁদুর প্রতিরোধী এবং স্যানিটেশন বিভাগের নতুন যান্ত্রিক ট্র্যাশ সংগ্রহ ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। শুধু ১ থেকে ৯টি আবাসিক ইউনিটের ভবন নয়, বড় ভবনগুলোর ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে কন্টেইনারাইজেশন ব্যবস্থা চালু করছে নিউইয়র্ক সিটি। ৩১ বা তার বেশি আবাসিক ইউনিটের ভবনগুলোতে নির্দিষ্ট এলাকায় এম্পায়ার বিন ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ১০ থেকে ৩০ ইউনিটের ভবনগুলোর ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে নতুন ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নিউইয়র্ক সিটির সব আবাসিক ট্র্যাশকে ধীরে ধীরে কন্টেইনারাইজেশন ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে আবাসিক ভবনের মালিক, ম্যানেজার ও ভাড়াটিয়াদের জন্য নতুন ট্র্যাশ ব্যবস্থাপনা নিয়ম সম্পর্কে এখন থেকেই সচেতন থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য অভিবাসী ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য যে স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছিল, তা বাতিল হয়ে গেছে। নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতের রায়ের পর গত ২১ আগস্ট থেকে ওই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ২৮ আগস্ট হালনাগাদ করা ওয়েবসাইটে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গত জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের যুক্তি ছিল, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী দেশটিতে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারেন। সেই কারণে আবেদনকারীদের আর্থিক সক্ষমতা ও সরকারি সুবিধার ওপর সম্ভাব্য নির্ভরতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে নীতিটি চালু করা হয়েছিল। তবে নীতিটি আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়। ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্কসহ অভিবাসন অধিকার সংগঠন ও ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন আবেদনকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বিরুদ্ধে মামলা করেন। ২১ আগস্ট নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল বিচারক জেনেট ভার্গাস ওই নীতি বাতিল করে দেন। আদালতের মতে, শুধু আবেদনকারীর জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসা ইস্যু বন্ধ করে দেওয়া পররাষ্ট্র মন্ত্রীর আইনগত ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। আদালত আরও বলেন, মার্কিন অভিবাসন আইনে ভিসা আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত যোগ্যতা বিবেচনা করার যে কাঠামো রয়েছে, দেশভিত্তিক এই নিষেধাজ্ঞা তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফলে ২১ আগস্ট থেকে বাংলাদেশসহ ওই ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য আগের স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই। তবে এর অর্থ এই নয় যে এসব দেশের সব আবেদনকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে অভিবাসী ভিসা পেয়ে যাবেন। প্রত্যেক আবেদনকারীকে অন্যান্য ভিসা-সংক্রান্ত যোগ্যতা ও আইনগত শর্ত পূরণ করতে হবে এবং তাদের আবেদন স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় আলাদাভাবে যাচাই করা হবে। স্থগিতাদেশের সময়ও আবেদনকারীরা আবেদন জমা দিতে ও সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে পারতেন। মূলত চূড়ান্ত পর্যায়ে অভিবাসী ভিসা ইস্যু করার ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ওই নীতির আওতায় আগে ইস্যু করা কোনো বৈধ অভিবাসী ভিসা বাতিল করা হয়নি। বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারভিত্তিক অভিবাসন, কর্মসংস্থানভিত্তিক স্থায়ী বসবাস এবং অন্যান্য অভিবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বাংলাদেশি আবেদনকারীদের একটি অংশ এই স্থগিতাদেশের কারণে ভিসা ইস্যুর পর্যায়ে আটকে ছিলেন। আদালতের রায়ের ফলে এখন তাদের আবেদন ব্যক্তিগত যোগ্যতার ভিত্তিতে বিবেচনার সুযোগ আবার তৈরি হয়েছে। তবে অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন এখানেই শেষ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, অভিবাসীদের সরকারি সহায়তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ঠেকাতে তারা ভিসা যাচাই প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করছে। আগস্টে বিভাগটি কিছু অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরতার ঝুঁকি মূল্যায়নের জন্য বিশেষ বন্ডের ব্যবস্থাও চালু করেছে। এ ছাড়া ২৬ আগস্ট অভিবাসী ভিসা সাক্ষাৎকার নিয়ে বিশ্বব্যাপী নতুন করে সাময়িক স্থবিরতার খবরও সামনে আসে। মার্কিন প্রশাসন এর কারণ হিসেবে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের নতুন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির কথা জানিয়েছে। ফলে ৭৫ দেশের ওপর আগের দেশভিত্তিক স্থগিতাদেশ বাতিল হলেও অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়ায় নতুন কিছু প্রশাসনিক পরিবর্তন নিয়ে আবেদনকারীদের সতর্ক থাকতে হচ্ছে। বাংলাদেশসহ যে ৭৫ দেশের ওপর জানুয়ারির স্থগিতাদেশ প্রযোজ্য ছিল, সেগুলোর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটান; মধ্যপ্রাচ্যের ইরান, ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেন; আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশ এবং লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের একাধিক দেশ ছিল। সম্পূর্ণ তালিকাটি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত নথিতে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের রায়টি অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও নতুন নীতিমালা, যাচাই প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে আবেদনকারীদের নিজ নিজ মামলার সর্বশেষ অবস্থা নিয়মিত যাচাই করা প্রয়োজন। শুধু স্থগিতাদেশ উঠে যাওয়াকে ভিসা অনুমোদনের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, রয়টার্স।
নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সে পুরোনো একটি ম্যাট্রেস নির্ধারিত নিয়ম না মেনে ফেলে যাওয়ার অভিযোগে বড় ধরনের আইনি ও আর্থিক ঝামেলায় পড়েছেন এক বাংলাদেশি ইয়েলো ক্যাবচালক। সংশ্লিষ্ট চালকের দাবি, কুইন্সের হলিস এলাকায় একটি রেলওয়ে ওভারপাসের নিচে ম্যাট্রেসটি রেখে আসার পর তাকে মোট ৮ হাজার ডলারের জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার ইয়েলো ক্যাবটি বাসা থেকে টো করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি কুইন্সের ২০২ স্ট্রিট ও ৯৯ অ্যাভিনিউ এলাকার একটি রেলওয়ে ওভারপাসের নিচে ঘটে। বাসার পুরোনো একটি ম্যাট্রেস নিজের ইয়েলো ক্যাবে করে রাতে ওই এলাকায় নিয়ে যান ওই চালক। পরে রাস্তার পাশে দেয়ালের কাছে ম্যাট্রেসটি রেখে তিনি সেখান থেকে চলে যান। চালকের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতের সময় হওয়ায় বিষয়টি কারও নজরে পড়বে না বলে তিনি মনে করেছিলেন। কিন্তু ওই এলাকায় থাকা নজরদারি ক্যামেরায় ম্যাট্রেস ফেলে যাওয়ার ঘটনাটি ধরা পড়ে বলে তাকে জানানো হয়েছে। পরে ব্যবহৃত ইয়েলো ক্যাবটি শনাক্ত করে ক্যাবের মেডেলিয়ন সংক্রান্ত তথ্যের মাধ্যমে চালক ও গাড়ির মালিকের পরিচয় বের করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জানিয়েছেন। এরপর তার নামে ৪ হাজার ডলার এবং ক্যাবের নামে আরও ৪ হাজার ডলার জরিমানা বা সামনস দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। শুধু জরিমানাই নয়, চালকের বক্তব্য অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষ তার ইয়েলো ক্যাবটি বাসা থেকে টো করে নিয়ে যায়। বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গাড়িটি ফেরত দেওয়া হবে না বলেও তাকে জানানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে তিনি একজন আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করছেন। জরিমানার পরিমাণ কমানো বা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অন্য কোনো সমাধান করা যায় কি না, সে বিষয়েও কাজ চলছে বলে জানা গেছে। নিউইয়র্ক সিটিতে যেকোনো ধরনের বর্জ্য নির্ধারিত নিয়ম মেনে ফেলা বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে ম্যাট্রেস ও বক্স স্প্রিংয়ের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম রয়েছে। সাধারণভাবে এগুলো সরাসরি রাস্তার পাশে ফেলে যাওয়ার পরিবর্তে নির্ধারিত ট্র্যাশ সংগ্রহের নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। ম্যাট্রেস ও বক্স স্প্রিং স্বচ্ছ প্লাস্টিক ব্যাগে পুরোপুরি ঢেকে ভালোভাবে সিল করে নির্ধারিত সংগ্রহের দিনে বাইরে রাখতে হয়। অন্যদিকে, কোনো পাবলিক স্পেস, রাস্তার পাশে, ব্রিজের নিচে বা অন্য কোনো অননুমোদিত স্থানে বর্জ্য ফেলে চলে যাওয়া অবৈধ ডাম্পিং হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। গাড়ি ব্যবহার করে এ ধরনের বর্জ্য ফেলার ঘটনা আরও গুরুতর আইনি ও আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই ঘটনা নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। বাসা পরিবর্তন, নতুন আসবাব কেনা কিংবা পুরোনো জিনিসপত্র ফেলার সময় অনেকেই সিটির নির্দিষ্ট নিয়ম সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নাও থাকতে পারেন। কিন্তু কয়েক মিনিটের ঝামেলা এড়াতে রাস্তার পাশে বা নির্জন কোনো স্থানে ম্যাট্রেস, সোফা কিংবা বড় আকারের বর্জ্য ফেলে আসা বড় ধরনের জরিমানা ও আইনি জটিলতার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে নিজের গাড়ি, ট্যাক্সি বা ইয়েলো ক্যাব ব্যবহার করে বর্জ্য অন্য কোথাও নিয়ে গিয়ে ফেলে আসার আগে সিটির নিয়ম জেনে নেওয়া জরুরি। ছোট একটি ভুল সিদ্ধান্তের কারণে কয়েক হাজার ডলারের জরিমানা, গাড়ি টো করা এবং দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে পারেন গাড়ির মালিক বা চালক।
মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে এক বিশাল অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশিসহ ২৭০ জন শ্রমিককে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম অনলাইন নিউ স্ট্রেইটস টাইমস-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার বিকেলে সেলাঙ্গরের পোর্ট ক্লাংয়ের তেলোক গং শিল্প এলাকার একটি আসবাবপত্র তৈরির কারখানায় এই ‘অপস মেগা’ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ইমিগ্রেশন পুলিশ কারখানায় প্রবেশ করতেই শ্রমিকদের মাঝে হুড়োহুড়ি লেগে যায় এবং তারা দিগ্বিদিক দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। গ্রেফতার এড়াতে অভিবাসী শ্রমিকরা কারখানার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ ও অদ্ভুত জায়গায় আত্মগোপন করেন। এর মধ্যে ২০ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি তরুণ শ্রমিক কারখানার ভেতরে থাকা প্লাস্টিকের ময়লাভর্তি একটি বড় রোল-অন বা রোল-অফ (রোরো) কনটেইনারের ভেতরে ময়লার আড়ালে লুকিয়ে ছিলেন। তল্লাশির একপর্যায়ে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তাকে সেখান থেকে হাতেনাতে আটক করেন। আটকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওই তরুণ কথা না বলে হাতজোড় করে বারবার ইংরেজিতে ক্ষমা চাইতে থাকেন। পরবর্তীতে তাঁর এক সহকর্মী মালয় ভাষায় অনুবাদ করে জানান যে, ইমিগ্রেশন পুলিশ দেখে ভয়েই তিনি ময়লার ড্রামে লুকিয়েছিলেন। একই কারখানায় অন্য দুই বাংলাদেশি শ্রমিককে কাঠ কাটার মেশিনের পেছনে এবং আসবাবপত্রের বড় বড় বাক্সের আড়ালে ধুলোবালির মধ্যে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় আটক করা হয়। আটকের সময় তাঁদের শরীর ও চুল কারখানার কাঠের গুঁড়ো ও ময়লায় ধূসর হয়ে গিয়েছিল। এর আগে সকাল ৮টার দিকে মেরু এলাকার একটি প্লাস্টিক কারখানায় অভিযানের প্রথম ধাপ শুরু হয়, যেখানে প্রায় দুই থেকে তিন সপ্তাহ ধরে গোপন নজরদারি বা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করেছিল ইমিগ্রেশন বিভাগ। সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন বিভাগের উপ-পরিচালক মোহদ খুসাইরি কামারুদ্দিন জানান, মেরুর প্লাস্টিক কারখানায় ৬৬ জন শ্রমিকের নথিপত্র পরীক্ষা করে ১৮ জনকে আটক করা হয়, যাদের মধ্যে ১৭ জন বাংলাদেশি ও ১ জন করে নেপাল ও মিয়ানমারের নাগরিক রয়েছেন। অন্যদিকে, তেলোক গংয়ের আসবাবপত্র কারখানায় ৫২০ জন শ্রমিকের মধ্যে ২৫২ জনকে আটক করা হয়। এই ২৫২ জনের মধ্যে ১৭৫ জন বাংলাদেশি, ৩৯ জন পাকিস্তানি, ৩৩ জন নেপালি, ৪ জন মিয়ানমারের এবং ১ জন শ্রীলঙ্কার নাগরিক রয়েছেন। ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, আটককৃত সকল শ্রমিকের বয়স ১৮ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে এবং তারা সবাই পুরুষ. প্রাথমিক তদন্ত ও নথিপত্র যাচাই শেষে দেখা গেছে, আটককৃতদের সিংহভাগই মালয়েশিয়ায় ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন এবং অনেকে ওয়ার্ক পারমিট বা পাসের শর্ত লঙ্ঘন করে নির্ধারিত খাতের বাইরে কাজ করছিলেন। কয়েকজন শ্রমিক নিজেদের বৈধ দাবি করলেও অভিযানের সময় মূল কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। মোট ৫০ জন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ দল এই ঝটিকা অভিযানটি পরিচালনা করে. মোহদ খুসাইরি কামারুদ্দিন স্পষ্ট করে বলেন, এই ক্র্যাকডাউন বা চিরুনি অভিযান শুধু কারখানাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বিভিন্ন আবাসিক এলাকা এবং ম্যাসেজ পার্লারের মতো জায়গাগুলোতেও তা চালানো হবে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে ১৯৫৯/৬৩ সালের ইমিগ্রেশন আইনের আওতায় মামলা দায়ের করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সূত্র: নিউ স্ট্রেইটস টাইমস
জর্ডানে অবস্থানরত নথিপত্রবিহীন বাংলাদেশি প্রবাসীরা বৈধ হওয়ার সুযোগ পাবেন অথবা জরিমানা ছাড়াই দেশে ফিরতে পারবেন। সম্প্রতি দেশটির সরকার প্রবাসী কর্মীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে। বুধবার এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় জর্ডানের বাংলাদেশ দূতাবাস। বিজ্ঞপ্তিটি দূতাবাসের ফেসবুক পেজেও প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জর্ডান সরকার দেশটিতে অবস্থানরত প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে। এই ঘোষণার আওতায় অবৈধভাবে অবস্থানরত শ্রমিকরা চাইলে জরিমানা ছাড়াই নিজ দেশে ফেরত যেতে পারবেন। পাশাপাশি শর্তসাপেক্ষে তারা জর্ডানেই থেকে কাজ করার সুযোগও পাবেন। এতে আরও বলা হয়, সাধারণ ক্ষমার আওতায় শ্রমিকরা কর্মস্থল পরিবর্তনের সুযোগ পাবেন। গৃহকর্মীরা চাইলে নতুন নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করতে পারবেন। একই সঙ্গে যারা ভ্রমণ ভিসায় জর্ডানে গেছেন, তারা ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন। বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসীদের এ সুবিধা গ্রহণে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে জর্ডানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। জর্ডান সরকারের এই সিদ্ধান্তে দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের বৈধকরণ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য গর্বের এক অর্জন এনে দিয়েছেন আফরিন মাহমুদ অনুশকা। চলতি বছরের গ্র্যাজুয়েটিং ব্যাচে “স্যালুটেটোরিয়ান” বা শ্রেণির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করেছেন তিনি। তার এই সাফল্যে পরিবার, বন্ধু ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি ছড়িয়ে পড়েছে। টেক্সাসের হাটো মেমোরিয়াল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে আফরিন বিশেষ সম্মানপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের একজন হিসেবে মঞ্চে বক্তব্য দেন। কয়েক হাজার দর্শকের সামনে তার স্যালুটেটোরিয়ান বক্তৃতা ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ। আফরিন মাহমুদ তিন ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয়। তার বাবা ডা. আরিফ মাহমুদ বাংলাদেশ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে মরগান স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করছেন। মা শেহেরিন জামানও সন্তানদের শিক্ষা ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে পরিবারের ঘনিষ্ঠরা জানান। পরিবারটির শিক্ষাগত সাফল্যের ধারাবাহিকতাও নজর কেড়েছে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির। আফরিনের বড় বোন জারিন মাহমুদ ও সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলি থেকে অত্যন্ত কৃতিত্বের সঙ্গে কলেজ জীবন সম্পন্ন করেছেন। তিনিও ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনা করে চিকিৎসা পেশায় যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এছাড়া পরিবারের ছোট ভাইও বর্তমানে পড়াশোনায় মনোযোগী। পরিবারের সদস্যরা জানান, ছোটবেলা থেকেই আফরিন ছিলেন অত্যন্ত মনোযোগী, পরিশ্রমী ও শৃঙ্খলাবদ্ধ। দীর্ঘদিনের অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস এবং বিনয়ী মনোভাব তাকে এই অর্জনের পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে। তারা বলেন, “একসময় যে মেয়ে হাত ধরে হাঁটত, আজ সে নিজ যোগ্যতায় সবার সামনে সম্মানের সঙ্গে দাঁড়িয়েছে।” শুধু পড়াশোনায় নয়, সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন আফরিন। তিনি এইচওএসএ (HOSA), লিও ক্লাবসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে কমিউনিটি সেবায় শত শত ঘণ্টা কাজ করেছেন। স্থানীয় বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগেও তার অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। ভবিষ্যতে চিকিৎসক হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আফরিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট অস্টিনে বায়োকেমিস্ট্রি ও প্রি-মেড নিয়ে পড়াশোনা শুরু করতে যাচ্ছেন। পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের আশা, তিনি ভবিষ্যতে চিকিৎসা ও মানবসেবার মাধ্যমে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন। প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই আফরিনের এই অর্জনকে নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে অভিনন্দন ও শুভকামনায় ভাসাচ্ছেন শুভানুধ্যায়ীরা।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সরকারি অনুদানের মাধ্যমে বাসা-বাড়িতে এয়ার কন্ডিশনিং (এসি) স্থাপনের সুযোগ দিচ্ছে বাংলাদেশি-আমেরিকান ব্যবসায়ী ও মূলধারার রাজনীতিক তোফায়েল চৌধুরী-এর মালিকানাধীন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘গ্রি মেকানিক্যাল ইয়ংকার্স’। ইয়ংকার্সে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি গত কয়েক বছরে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং মূলধারার মার্কিন সমাজে সেবা ও কার্যক্রমের মাধ্যমে সুনাম অর্জন করেছে। তোফায়েল চৌধুরী জানান, সরকারি অনুদানে বাসা-বাড়িতে এসি স্থাপনের এই সুবিধা শিগগিরই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি এ বছরের শেষে এই কর্মসূচি বন্ধ হওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। তাই আগ্রহীদের দ্রুত বুকিং নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।” তিনি আরও জানান, বর্তমানে নিউইয়র্ক সিটি থেকে প্রতি পরিবারকে ৮ থেকে ১০ হাজার ডলারের রিবেট দেওয়া হচ্ছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও একই সুবিধা প্রযোজ্য। তার ভাষায়, এটি একটি সময়সীমাবদ্ধ সুযোগ, যা “আগে আসলে আগে পাবেন” ভিত্তিতে প্রদান করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি বাসা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব হিটিং ও কুলিং সিস্টেম স্থাপন করে থাকে বলে জানান তিনি। এতে পুরোনো বয়লার সিস্টেম থেকে মুক্তি পাওয়া এবং বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর সুযোগ রয়েছে। তোফায়েল চৌধুরী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য নিউইয়র্ক সিটির গ্রিন সিটি পরিকল্পনায় অবদান রাখা। পাশাপাশি বাংলাদেশি কমিউনিটিকে এই সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা।” তিনি আরও জানান, এই প্রকল্পের আওতায় ১০ বছরের গ্যারান্টি ও ওয়্যারেন্টি এবং বিক্রয়োত্তর সেবাও প্রদান করা হচ্ছে। তার দাবি অনুযায়ী, গ্রাহকের সিদ্ধান্তের পর সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন ও অর্থায়নের প্রক্রিয়াও প্রতিষ্ঠানটি সমন্বয় করে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে তিনি দ্রুত যোগাযোগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সুযোগটি সীমিত সময়ের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।
গ্রিসের করিদালোজ কারাগারে কামরান দেলোয়ার হোসেন খান নামের এক বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের খুঁজে না পাওয়ায় এবং প্রবাসে থাকা এক স্বজনের অনুরোধে তার মরদেহ গ্রিসেই দাফনের উদ্যোগ নিয়েছে এথেন্সে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৪ মার্চ কারাগারে তার মৃত্যু হয়। তার কাছে বাংলাদেশি পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র বা কোনো বৈধ নথি না থাকায় শুরুতে তাকে বাংলাদেশি হিসেবে শনাক্ত করা কঠিন ছিল। তবে গ্রিক নথিতে তাকে বাংলাদেশি হিসেবে উল্লেখ থাকায় মানবিক বিবেচনায় দূতাবাস তার মরদেহের দায়িত্ব গ্রহণ করে। অনুসন্ধানে জানা যায়, কামরানের পৈতৃক বাড়ি শরীয়তপুর জেলায়। তবে সেখানে তার বর্তমান পরিবারের কোনো সদস্যকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে বিদেশে অবস্থানরত তার এক ভাই দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং জানান, বাংলাদেশে তাদের আর কোনো স্বজন নেই। তিনি মরদেহ দেশে না পাঠিয়ে গ্রিসেই দাফনের জন্য অনাপত্তি জানান। সাধারণত বৈধ কাগজপত্রহীন বা পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সরকারি বাধ্যবাধকতা না থাকলেও মানবিক কারণে গ্রিক কর্তৃপক্ষের সহায়তায় মুসলিম ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দূতাবাস জানায়, এথেন্স থেকে দূরবর্তী থেসালোনিকি অঞ্চলের কুমুটিনী এলাকার একটি মুসলিম কবরস্থানে আগামী ৭ মে দাফন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি চলছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সরকারের বরাদ্দকৃত বাজেটে সাধারণত বৈধ কর্মীদের মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য আর্থিক সহায়তা থাকে। প্রবাসে দাফনের জন্য নির্দিষ্ট বরাদ্দ না থাকলেও পরিবারের অনুরোধে দূতাবাস নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এই উদ্যোগ নিয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি দূতাবাস তদারকি করছে।
নথিহীন অভিবাসীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা কর্মসূচি চালু করেছে স্পেন সরকার। নতুন এই উদ্যোগের আওতায় দেশটিতে বসবাসরত প্রায় পাঁচ লাখ অনিবন্ধিত অভিবাসী বৈধতার জন্য আবেদন করতে পারবেন, যাদের মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার বাংলাদেশিও রয়েছেন। আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সরকারের অনুমোদিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে যোগ্য আবেদনকারীরা এক বছরের জন্য বসবাস ও কাজের অনুমতি পাবেন। নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পরবর্তীতে তারা স্থায়ী বা নবায়নযোগ্য অনুমতির জন্যও আবেদন করতে পারবেন। স্পেনের অভিবাসনমন্ত্রী এলমা সেইজ জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার থেকে অনলাইনে আবেদন শুরু হয়েছে এবং আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সশরীরে আবেদন গ্রহণ করা হবে। আবেদন প্রক্রিয়া চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত। কর্মসূচির আওতায় আবেদন করতে হলে অভিবাসীদের অবশ্যই চলতি বছরের ১ জানুয়ারির আগে স্পেনে প্রবেশ করতে হবে এবং অন্তত পাঁচ মাস দেশটিতে বসবাসের প্রমাণ দিতে হবে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা যাবে না। স্পেন সরকার এই উদ্যোগকে অর্থনৈতিক ও মানবিক—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে। প্রধানমন্ত্রী সানচেজ বলেন, অভিবাসীদের কর্মসংস্থান অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, এবং নতুন কর্মশক্তি ছাড়া সমৃদ্ধি থমকে যেতে পারে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে স্পেনে প্রায় ৭৫ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ অনিবন্ধিত। নতুন এই সুযোগ তাদের জন্য বৈধতা পাওয়ার বড় একটি পথ খুলে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপে শ্রমবাজারের চাহিদা ও জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে স্পেনের এই সিদ্ধান্ত অভিবাসন নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।
স্পেনে বসবাসরত প্রায় ৫ লাখ অনিবন্ধিত অভিবাসীকে বৈধ করার লক্ষ্যে একটি বিশেষ নিয়মিতকরণ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল ২০২৬) স্পেনের মন্ত্রিপরিষদ এ সংক্রান্ত একটি রাজকীয় ডিক্রি অনুমোদন দিয়েছে। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ফলে দেশটিতে অবস্থানরত প্রায় ১৫ হাজার বাংলাদেশি অভিবাসী বৈধ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদুর রহমান আজ বুধবার দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তে অনিবন্ধিত প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা দূর হবে। তিনি আবেদনকারীদের সঠিক নথিপত্র, বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সংগ্রহের পরামর্শ দিয়েছেন। দূতাবাস থেকে সব ধরণের প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন। আল জাজিরার তথ্যমতে, ১৬ এপ্রিল থেকে অনলাইনে এবং ২০ এপ্রিল থেকে সশরীরে এই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত। তবে আবেদনকারীদের অবশ্যই ১ জানুয়ারি ২০২৬-এর আগে স্পেনে পৌঁছাতে হবে এবং অন্তত ৫ মাস দেশটিতে বসবাসের প্রমাণ থাকতে হবে। সফল আবেদনকারীরা এক বছরের জন্য রেসিডেন্সি ও কাজের অনুমতি পাবেন। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই উদ্যোগকে স্পেনের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির জন্য একটি ‘প্রয়োজনীয়’ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসন ও অপরাধ দমনে জোরদার অভিযানের অংশ হিসেবে ‘খারাপের চেয়ে খারাপ’ বা ‘ওর্স্ট অব দ্য ওর্স্ট’ তালিকা প্রকাশ করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র বিভাগ। এই তালিকায় বিভিন্ন দেশের অপরাধীদের পাশাপাশি অন্তত ১০ জন বাংলাদেশির নাম উঠে আসায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) সূত্রে জানা গেছে, তালিকাভুক্ত এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে রয়েছে যৌন নির্যাতন, অস্ত্র বহন, চুরি, জালিয়াতি ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধের অভিযোগ। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অনেকের বিরুদ্ধে বহিষ্কার (ডিপোর্টেশন) প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এমন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। এই অভিযানের লক্ষ্য হচ্ছে গুরুতর অপরাধে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করা এবং দেশ থেকে বহিষ্কার করা। অন্যদিকে, এই তালিকা প্রকাশের পর প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, কিছু ব্যক্তির অপরাধের কারণে পুরো কমিউনিটির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কমিউনিটি নেতারা সবাইকে আইন মেনে চলা এবং নিজেদের অবস্থান বৈধ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতির কঠোরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন অভিযান আরও বাড়তে পারে। ফলে প্রবাসীদের জন্য সতর্ক থাকা এবং আইনগত বিষয়গুলো সঠিকভাবে মেনে চলা এখন সময়ের দাবি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।