যুক্তরাজ্যে মসজিদে হা মলা-বিদ্বেষের জবাব সম্প্রীতিতে, শতাধিক মসজিদে আমন্ত্রণ সব ধর্মের মানুষকে
উত্তর লন্ডনের একটি মসজিদে গাজার শিশুদের মতো সেখানকার শিশুদেরও মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে একবার চিৎকার করেছিলেন এক নারী। অন্য একটি ঘটনায়, মসজিদ ভবনের গ্যাসের পাইপ কেটে এমনভাবে রাখা হয়েছিল যাতে ভেতরে গ্যাস জমে বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
গত তিন বছরে লন্ডন ইসলামিক কালচারাল সোসাইটিকে এমন অসংখ্য বিদ্বেষমূলক ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে ভয়ে নিজেদের গুটিয়ে না নিয়ে বরং সাধারণ মানুষের জন্য নিজেদের দরজা আরও প্রসারিত করেছে মসজিদটি। শুধু এই একটি মসজিদই নয়, ইসলাম ও ব্রিটিশ মুসলমানদের সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করতে চলতি সপ্তাহে লন্ডন, বার্মিংহাম, ম্যানচেস্টার, শেফিল্ড ও গ্লাসগোসহ যুক্তরাজ্যের শতাধিক মসজিদ সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
‘ভিজিট মাই মস্ক’ নামের এই বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে সাধারণ মানুষকে চা, ঐতিহ্যবাহী খাবার, আলোচনা চক্র, আন্তঃধর্মীয় কার্যক্রম এবং শিল্প প্রদর্শনীর মাধ্যমে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেনের আয়োজনে ১১তম বছরে পদার্পণ করা এই কর্মসূচিটি বর্তমানে দেশটিতে ক্রমবর্ধমান ইসলামভীতির প্রেক্ষাপটে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সংস্থাটির মহাসচিব ড. ওয়াজিদ আখতার জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে বহু মানুষ ব্রিটিশ মুসলিমদের সম্পর্কে নানা তথ্য অ্যালগরিদমের ওপর নির্ভর করে পাচ্ছে। এছাড়া বিদেশি অর্থায়নে পুষ্ট কিছু ধনকুবের বিষাক্ত প্রচারণার মাধ্যমে অনলাইন ও রাজপথে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতি ঘৃণাকে উসকে দিচ্ছে।
ইস্ট লন্ডন মসজিদের মরিয়ম সেন্টারের প্রধান সুফিয়া আলম মনে করেন, ঘৃণার চেয়ে বন্ধুত্ব ও সংহতি যে অনেক বেশি শক্তিশালী, তা প্রমাণ করতেই তাদের এই অংশগ্রহণ। মানুষ যখন মসজিদে এসে মুসলিম পরিবার ও স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে কথা বলবে, তখন স্বাভাবিকভাবেই অনেক স্টেরিওটাইপ ও ভয় দূর হয়ে যাবে।
যুক্তরাজ্যে মুসলিমদের উপাসনালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়ে যখন গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই এই সম্প্রীতির উদ্যোগটি সামনে এলো। সরকারের অংশীদার হিসেবে কাজ করা ব্রিটিশ মুসলিম ট্রাস্টের তথ্যমতে, দেশটিতে প্রতি পাঁচ দিনে অন্তত একটি মসজিদে হামলার ঘটনা ঘটে।
এর মধ্যে ভয়ভীতি প্রদর্শন, সহিংসতা, সম্পত্তি ধ্বংস, হয়রানি এবং অনলাইনে গালাগালির মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত। ফিঞ্চবেরি পার্ক মসজিদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ কোজবার বলেন, ক্রমবর্ধমান মুসলিমবিদ্বেষের সবচেয়ে ভালো জবাব হলো উন্মুক্ততা, সংলাপ এবং পারস্পরিক সংহতি বজায় রাখা।
উত্তর লন্ডনের মসজিদটি পরিচালনা করছেন বিবি খান, যিনি যুক্তরাজ্যের কোনো মসজিদের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট। শনিবার বিকেলে সব ধর্মের মানুষের জন্য মসজিদটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে সেখানে এক অভূতপূর্ব সম্প্রীতির দৃশ্য দেখা যায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুসওয়েল হিল ইউনাইটেড সিনাগগের ডেপুটি এবং ব্রিটিশ ইহুদিদের একটি নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি বিষয়ক বিভাগের ভাইস-চেয়ার জুডিথ প্রিন্সলি।
গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যে মুসলিম ও ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও, বিবি খান ও প্রিন্সলির মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতির এক দারুণ উদাহরণ তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া খবর ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবি খান জানান, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে, বিশেষ করে ইহুদিদের সাথে পারস্পরিক বোঝাপড়া থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। মতানৈক্য থাকলেও কঠিন সময়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreযুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে বসবাসরত একজন কেয়ার ওয়ার্কার অ্যাগনেস পিটার্স। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তাকে তার গায়ের রঙের কারণে চরম বর্ণবাদী আচরণের শিকার হতে হয়। রাস্তায় নিজের পেশাগত ইউনিফর্ম পরা অবস্থাতেই তাকে উদ্দেশ্য করে বর্ণবাদী গালিগালাজ করা হয় এবং একটি ধীরগতির গাড়ি থেকে তার গায়ে বিভিন্ন জিনিস ছুঁড়ে মেরে তাকে ‘নিজের দেশে ফিরে যেতে’ বলা হয়। আশেপাশের অনেকেই সেই দৃশ্য দেখছিলেন এবং ভিডিও করছিলেন, কিন্তু মাত্র একজন পথচারী ছাড়া কেউই এর প্রতিবাদ করেননি। গত বছর ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি যুক্তরাজ্যের বর্তমান সমাজে বর্ণবাদ ও অভিবাসীবিরোধী ঘৃণার এক ভয়ংকর চিত্র তুলে ধরে। ব্রেক্সিটের পর থেকে দেশটিতে অনিয়মিত অভিবাসীদের পাশাপাশি অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপরও বৈষম্যের মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অক্সফাম ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ ১৫২টি মানবাধিকার সংগঠন সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে স্বাভাবিক হয়ে ওঠা এই বর্ণবাদী সহিংসতার বিরুদ্ধে সরকারকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একসময় যেসব বর্ণবাদী সহিংসতা এবং ভীতি প্রদর্শনকে চরম পর্যায় বলে মনে করা হতো, তা এখন যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন স্থানে সাপ্তাহিক সাধারণ ঘটনাতে পরিণত হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে বাড়তে থাকা বৈষম্য, জনসেবা খাতে অপর্যাপ্ত বিনিয়োগ এবং রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমের নেতিবাচক প্রচারণাই ইসলামভীতি ও অভিবাসীবিরোধী এই ঘৃণাকে স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত করেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কট্টর ডানপন্থি কর্মীরা এই বিদ্বেষকে আরও চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের ভাষায় ‘কট্টর বর্ণবাদী’ ড্যানিয়েল থমাস সম্প্রতি ইংলিশ চ্যানেলে উদ্ধারকর্মীদের উপস্থিতিতেই একটি ভাসমান রেসকিউ বোট কেটে ফুটো করে দেওয়ার ভিডিও ধারণ করেন। তার নেতৃত্বাধীন সংগঠন ‘প্যাট্রিয়ট প্ল্যাটফর্ম’ ডোভার ও পোর্টসমাউথ বন্দরে অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভের নামে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। অক্সফোর্ডশায়ারের পিডিংটন গ্রামেও এই কট্টরপন্থিরা সরকার-নির্ধারিত আশ্রয়প্রার্থীদের বাসস্থানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুমকি দিচ্ছে। ‘স্ট্যান্ড আপ টু রেসিজম’-এর ম্যানচেস্টার সংগঠক নাহেলা আশরাফ অভিযোগ করে বলেন, ইংল্যান্ডের বিভিন্ন শহরে অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভের নামে মুখোশধারী ব্যক্তিরা কৃষ্ণাঙ্গ ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলা চালাচ্ছে। দুঃখজনকভাবে, এই বিদ্বেষমূলক বক্তব্যগুলো এখন রাজনীতির মাঠেও বৈধতা পাচ্ছে। রিফর্ম ইউকে দলের কট্টর ডানপন্থি এমপি সারাহ পোচিন এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন যে, অভিবাসী ও শরণার্থীরা আদিবাসী শ্বেতাঙ্গ নারীদের জন্য হুমকিস্বরূপ। দলটির স্বঘোষিত ‘শ্যাডো হোম সেক্রেটারি’ জিয়া ইউসুফ সোমালিয়ায় জন্মগ্রহণকারী লেবার পার্টির এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে মন্তব্য করে বর্ণবাদের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন, যাকে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যমন্ত্রী জোনাথন রেনল্ডস 'সরাসরি বর্ণবাদ' বলে আখ্যা দিয়েছেন। এর আগে কনজারভেটিভ দলের সাবেক নেতা রবার্ট জেনরিক এবং নিক টিমোথিও বিভিন্ন সময়ে মুসলিম এবং অ-শ্বেতাঙ্গদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচিত হয়েছেন। ইউনিভার্সিটি অব নর্দাম্পটনের অধ্যাপক পল জ্যাকসন এবং বাথ ইউনিভার্সিটির গবেষক অরেলিয়েন মনডন মনে করেন, মূলধারার রাজনীতি ও গণমাধ্যম যখন ডানপন্থি কট্টর চিন্তাধারাকে প্রশ্রয় দেয়, তখন চরমপন্থিরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তবে এত নেতিবাচকতার মাঝেও আশার আলো দেখছেন সমাজকর্মীরা। ম্যানচেস্টারের সংগঠক নাহেলা আশরাফ জানান, কট্টর ডানপন্থিদের অর্থায়ন ও প্রচারণার জোর থাকলেও সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশ এখনও অভিবাসী ও শরণার্থীদের প্রতি সহানুভূতিশীল। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শিশুদের নিজ উদ্যোগে শরণার্থীদের জন্য বই উপহার দেওয়ার মতো ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, সমাজে এখনও ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বার্তা টিকে আছে এবং ঘৃণা ছড়িয়ে বর্ণবাদীরা শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারবে না।
যুক্তরাজ্যে মসজিদে হা মলা-বিদ্বেষের জবাব সম্প্রীতিতে, শতাধিক মসজিদে আমন্ত্রণ সব ধর্মের মানুষকে
আমরা আত্মসমর্পণ করব না, শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়ব’—জাতিসংঘে পেজেশকিয়ান
আরব আমিরাতে নিখোঁজ ভারতীয় যুবককে হত্যার অভিযোগ, গাড়িতে মিলল ৯ টুকরা মরদেহ
গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিসে বিমান হামলায় হামাসের অর্থ বিভাগের প্রধান মুহাম্মদ আবু আলওয়ান নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। বুধবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। তাদের দাবি, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও শিন বেতের যৌথ অভিযানে তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, আবু আলওয়ান হামাসের অর্থ বিভাগের নেতৃত্বে ছিলেন এবং সংগঠনটির অর্থের উৎস ও আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, হামাসের নেতৃত্ব, কর্মী এবং অর্থের উৎসের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে হামলার বিষয়ে ফিলিস্তিনি চিকিৎসাকর্মীদের দেওয়া তথ্যেও দুজন নিহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, পশ্চিম খান ইউনিসে একটি গাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় মুহাম্মদ আবু আলওয়ান ও ওসামা আবু খাতের নিহত হন। হামলায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী তাদের বিবৃতিতে হামাসকে পুনরায় শক্তিশালী হতে না দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে হামাসের কমান্ডার ও সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করা এবং সংগঠনটির অর্থের উৎস ও অবকাঠামোর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে, হামাস তাৎক্ষণিকভাবে আবু আলওয়ানের নিহত হওয়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি বলে রয়টার্স জানিয়েছে। ফলে ইসরায়েলের দেওয়া তার পরিচয় ও হামাসের অর্থ বিভাগের প্রধান হিসেবে তার ভূমিকার দাবির স্বাধীন যাচাই এখনো প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর গাজায় অন্তত ১ হাজার ৪০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। একই সময়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য ইসরায়েল ও হামাস একে অপরকে দায়ী করে আসছে। খান ইউনিসে হামাসের অর্থ বিভাগের প্রধানকে লক্ষ্য করে এই হামলা এমন এক সময়ে হলো, যখন গাজায় হামাসের সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি সংগঠনটির অর্থের উৎস নিয়েও ইসরায়েলি অভিযান জোরদার রয়েছে। আবু আলওয়ানের মৃত্যু হামাসের আর্থিক কাঠামোয় কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণে রিলস স্ক্রল করতে দেখা গেল সিরিয়ার প্রেসিডেন্টকে
ঘরজামাই দত্তক নিচ্ছে জাপানের ধনী পরিবার, আবেদন করতে পারবেন বাংলাদেশিরাও!
গর্ভবতী অবস্থায় আ টক, ইসরায়েলি কারাগারেই কন্যাসন্তানের জন্ম ফিলিস্তিনি নারীর
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে নতুন করে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী পথে এগিয়ে নিতে চায় ভারত। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থার মাধ্যমে সব দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে নয়াদিল্লি। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ অবস্থানের কথা জানান। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের জবাবে তিনি ভারতের অবস্থান তুলে ধরেন। জয়সওয়াল বলেন, ভারতের লক্ষ্য বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ইতিবাচক ও গঠনমূলক দিকে এগিয়ে নেওয়া। অমীমাংসিত বা আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে—এমন দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো নিয়েও বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যে কথা বলতে নয়াদিল্লি প্রস্তুত। এ বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামকে ভারতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগের প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। ইউএনবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর নিয়োগে ভারতের আনুষ্ঠানিক সম্মতি বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে। এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও আলোচনা চলছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে সফরের সম্ভাব্য সময় নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে আলোচনা হচ্ছে। তবে সফরের সময়সূচি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি। বর্তমানে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ঘিরেও দুই দেশের সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা রয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের কোনো বৈঠক হবে কি না—এমন প্রশ্নে জয়সওয়াল জানান, এ বিষয়ে তাঁর কাছে তখন নিশ্চিত কোনো তথ্য ছিল না; নতুন কিছু হলে জানানো হবে। দুই দেশের প্রতিরক্ষা যোগাযোগও আলোচনায় এসেছে। ভারতের যোধপুরে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় ‘তরঙ্গ শক্তি’ বহুজাতিক বিমান মহড়ায় বাংলাদেশ অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এই অংশগ্রহণকে সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যায় কি না—এমন প্রশ্নেও জয়সওয়াল ভারতের ‘ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী’ সম্পর্কের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নতুনভাবে সাজানোর কথা বলা হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ১৩ সেপ্টেম্বর বলেছিলেন, ঢাকা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ‘রিসেট’ করে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে একটি কার্যকর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় এবং মতপার্থক্যগুলো কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে। সাম্প্রতিক বক্তব্য ও কূটনৈতিক যোগাযোগে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় সংলাপের মাধ্যমে মোকাবিলা এবং সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ দুই পক্ষের বক্তব্যে দেখা যাচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি।
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আজ জাতিসংঘে বড় বৈঠকে তারেক রহমানসহ বিশ্ব নেতারা
নিউইয়র্কে তারেক রহমান–এরদোয়ান বৈঠক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে আলোচনা