আমরা আত্মসমর্পণ করব না, শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়ব’—জাতিসংঘে পেজেশকিয়ান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইরান আত্মসমর্পণ করবে না—জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এমনই কঠোর বার্তা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তবে একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, যুদ্ধের অবসানে কূটনীতির পথ খোলা রাখতে চায় তেহরান।
বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, চাপ, নিষেধাজ্ঞা কিংবা হুমকি দিয়ে ইরানকে নত করা যাবে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষায় লড়াই করছে এবং আত্মসমর্পণের প্রশ্নই আসে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের দিনের বক্তব্যের জবাবও আসে পেজেশকিয়ানের ভাষণে। ট্রাম্প জাতিসংঘে ইরানকে নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর পেজেশকিয়ান বলেন, হুমকি ও চাপ ইরানের প্রতিরোধ আরও শক্ত করবে। তিনি ট্রাম্পের নীতিকে ‘বুলিং মেন্টালিটি’ বা চাপ প্রয়োগের মানসিকতা হিসেবে সমালোচনা করেন।
তবে যুদ্ধের পাশাপাশি আলোচনার পথও খোলা রাখার কথা বলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তার বক্তব্য, ইরান কূটনীতিতে বিশ্বাস করে এবং সংঘাতের অবসানে আলোচনা হতে পারে। তবে সেই আলোচনা হতে হবে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে, হুমকি বা চাপের মাধ্যমে নয়।
ভাষণে হরমুজ প্রণালির বিষয়টিও তুলে ধরেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, সবাই এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ থেকে সুবিধা নেবে, অথচ ইরান সেখানে নিজস্ব নৌপরিবহন ব্যবহারের সুযোগ পাবে না—এমন পরিস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয়। তার মতে, সেখানে শত্রুভাবাপন্ন নৌবহরের স্থায়ী উপস্থিতি এবং যুদ্ধের বিস্তার শান্তি প্রতিষ্ঠা করবে না।
এদিকে পেজেশকিয়ানের বক্তব্য শুরু হওয়ার সময় জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যায় বলে রয়টার্স জানিয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্টের ভাষণটি আসে ট্রাম্পের এক দিন পরের বক্তব্যের জবাবে, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছিলেন।
পেজেশকিয়ানের বক্তব্যে তাই একদিকে ছিল যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কঠোর অবস্থান, অন্যদিকে ছিল কূটনীতির মাধ্যমে সংঘাত শেষ করার বার্তা। অর্থাৎ তেহরান আত্মসমর্পণ করতে রাজি নয়, তবে আলোচনার দরজাও পুরোপুরি বন্ধ করছে না—জাতিসংঘে ইরানের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে এই দুই বার্তাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আন্তর্জাতিক
View moreমধ্য জাপানে রোববার (৮ নভেম্বর) ভোররাতে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় রাত ১টা ৪ মিনিটে পশ্চিম শিজুওকা প্রিফেকচারে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। বার্তা সংস্থা এপির প্রথম দিকের প্রতিবেদনে অন্তত ২২ জন আহত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। স্থানীয় সময় সকাল ৬টা পর্যন্ত অন্তত ২৪ জন আহত হওয়ার খবর দিয়েছে জাপানের তোকাই টেলিভিশন। জাপানের আবহাওয়া সংস্থার সংশোধিত প্রাথমিক হিসাবে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তি ভূপৃষ্ঠের ৪১ কিলোমিটার গভীরে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস এর মাত্রা ৫ দশমিক ৫ এবং গভীরতা ৩৮ দশমিক ১ কিলোমিটার বলে জানিয়েছে। জাপানের নিজস্ব কম্পন মাপার স্কেলে সবচেয়ে বেশি ঝাঁকুনি রেকর্ড করা হয়েছে আইচি প্রিফেকচারের চিতা শহরে। হামামাতসু, কিয়োতো, নারা, ইয়ামানাশি ও গিফুতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। আইচির তোয়োহাশি শহরে একটি গাড়ির শোরুমের কাচ ভেঙে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। একই শহরে একটি বাড়ির ব্লকের দেয়ালও ধসে পড়ে। তোয়োতা শহরের একটি বইয়ের দোকানে তাক থেকে বহু বই মেঝেতে পড়ে যায়। ভবন থেকে বের হওয়ার সময় সিঁড়িতে পড়ে আহত হয়েছেন কয়েকজন। শিজুওকায় নব্বইয়ের কোঠায় বয়সী এক নারী বিছানা থেকে পড়ে কাঁধে আঘাত পান। ভূমিকম্পের পর টোকিও ও ওসাকার মধ্যে চলাচলকারী তোকাইদো শিনকানসেন বুলেট ট্রেনের গতি কমানো হয়। রেলপথে নিরাপত্তা পরীক্ষা ও ধীরগতিতে ট্রেন চালানোর কারণে যাত্রায় দেরি হয়। রেল পরিচালনাকারী সংস্থা জেআর সেন্ট্রাল জানিয়েছে, নাগোয়া ও তোয়োহাশির মধ্যকার রুটসহ কয়েকটি স্থানীয় রেলপথে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। ভূমিকম্পের পর আইচি প্রশাসন দুর্যোগ মোকাবিলায় নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র চালু করে। জাপানের ফায়ার অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিতা শহরে জরুরি ফোনকল স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়েছিল। সংস্থাটি আইচি, শিজুওকা, গিফু ও নাগানো প্রশাসনের কাছে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য চেয়েছে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, এই ভূমিকম্প থেকে সুনামির আশঙ্কা নেই। তবে যেসব এলাকায় বেশি ঝাঁকুনি অনুভূত হয়েছে, সেখানে প্রায় এক সপ্তাহ আবারও শক্ত কম্পনের বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছে সংস্থাটি। বিশেষ করে পরবর্তী দুই থেকে তিন দিন সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টি হলে পাহাড়ি এলাকায় পাথর খসে পড়া ও ভূমিধসের ঝুঁকির দিকেও নজর রাখতে বলেছে কর্তৃপক্ষ। সংবাদসূত্র: জাপানের আবহাওয়া সংস্থা, জাপানের ফায়ার অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সিa
রাতের খাবারে কী সবজি রান্না করবে? প্রশ্ন করায় স্বামীকে হত্যা করলেন স্ত্রী
সিলেটের কুলাউড়া থেকে ক্যামডেনের প্রথম বাংলাদেশি মেয়র হিসেবে ইতিহাস গড়লেন নাদিয়া শাহ
নেতানিয়াহুকে বাদ দিয়ে আইজেনকটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিচ্ছেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট
কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লাভাটনিক স্কুল অব গভর্নমেন্টে ডিস্টিংগুইশড ফেলো হিসেবে যোগ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রতিষ্ঠানটির ওয়ার্ল্ড লিডার্স সার্কেলের সদস্য হয়েছেন। শুক্রবার, ৬ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রায় এক দশক কানাডার সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর এবার আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব, প্রশাসন ও নীতিনির্ধারণ বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ পাচ্ছেন ৫৪ বছর বয়সী ট্রুডো। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লাভাটনিক স্কুল অব গভর্নমেন্ট জানিয়েছে, ওয়ার্ল্ড লিডার্স সার্কেল মূলত বিশ্বের সাবেক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের নিয়ে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক। এই উদ্যোগের মাধ্যমে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে শিক্ষার্থী, গবেষক ও ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারকদের মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শাসনব্যবস্থা, সরকারি নীতি এবং নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অভিজ্ঞতা বিনিময় এই কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। ট্রুডোর নতুন দায়িত্বও মূলত এই কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে। এই নেটওয়ার্কে ট্রুডোর আগে যুক্ত হয়েছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন, যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক এবং জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার মতো আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বরা। তাঁরা নিজেদের শাসনামলের অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন সংকট মোকাবিলার কৌশল এবং সরকারি নীতিনির্ধারণের বাস্তব চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ পান। নতুন সদস্য হিসেবে ট্রুডোও এসব বিষয়ে শিক্ষার্থী ও অন্যান্য নেতার সঙ্গে কাজ করবেন। নিয়োগের ঘোষণায় ট্রুডো বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর এক দশকের দায়িত্ব পালনকালে বিশ্বে রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে গভীর পরিবর্তন এসেছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পরিবর্তন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতি বিভিন্ন দেশের সরকারের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর নেতৃত্ব, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। নতুন দায়িত্বে নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যৎ সরকারি ও নীতিনির্ধারণী নেতৃত্বের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন কানাডার সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। ব্লাভাটনিক স্কুল অব গভর্নমেন্টের ডিন অধ্যাপক নাইরি উডস ট্রুডোকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দীর্ঘ সময় সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীদের জন্য মূল্যবান হবে। তাঁর মতে, বাস্তবে সরকার পরিচালনার জটিলতা মোকাবিলা করেছেন এমন নেতাদের কাছ থেকে সরাসরি শেখার সুযোগ ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক নেতৃত্ব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি নভেম্বর মাসের শেষ দিকে ট্রুডোর অক্সফোর্ড সফরের কথা রয়েছে। জাস্টিন ট্রুডো ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কানাডার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এর আগে ২০১৩ সালে তিনি দেশটির লিবারেল পার্টির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। টানা প্রায় এক দশক ক্ষমতায় থাকার পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দলীয় নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ১৪ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়েন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন মার্ক কার্নি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন ট্রুডো। রাজনীতি ছাড়ার পর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি নতুন পেশাগত উদ্যোগেও যুক্ত হয়েছেন ট্রুডো। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁর সাবেক চিফ অব স্টাফ কেটি টেলফোর্ডের সঙ্গে একটি মিডিয়া প্রোডাকশন কোম্পানি চালুর ঘোষণা দেন তিনি। এবার অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণ ও নেতৃত্ববিষয়ক আলোচনায় আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ভূমিকা নিতে যাচ্ছেন কানাডার সাবেক এই সরকারপ্রধান। সংবাদসূত্র: অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লাভাটনিক স্কুল অব গভর্নমেন্ট
দুবাইয়ের জরুরি চিকিৎসাসেবায় সুপারকারের বিশ্বরেকর্ড, ঘণ্টায় গতি ৩৯৫ কিলোমিটার
মাছের ও প্রাণ আছে তারা কষ্ট পায়! ৫ কেজি জীবন্ত মাছ কিনে সমুদ্রে ছাড়লেন দম্পতি, বিতর্ক
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির তথ্য দিতে ২ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
ইসরায়েলের রাজনীতিতে ক্ষমতার পালাবদলের জোরালো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থান বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বিরোধী জোটের নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। শনিবার (৭ নভেম্বর) আইজেনকটকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। আগামীকাল রোববার বিকেল ৫টায় জেরুজালেমে প্রেসিডেন্টের বাসভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে সরকার গঠনের ম্যান্ডেট তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আধিপত্যের অবসানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির পেয়েছে ৪৮টি আসন। বাকি ১৯টি আসন পেয়েছে আরব নেতৃত্বাধীন দুটি রাজনৈতিক জোট। নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বিভিন্ন দলের সঙ্গে পরামর্শ বৈঠক করেন। সেখানে ৬৭ জন সংসদ সদস্য আইজেনকটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে সুপারিশ করেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর পক্ষে সুপারিশ করেন ৪৬ জন। সাতজন সংসদ সদস্য কোনো প্রার্থীর নাম সুপারিশ করেননি। এই সমর্থনের ভিত্তিতে আইজেনকটকে প্রথম সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। তবে সরকার গঠনের পথ আইজেনকটের জন্য সহজ হবে না। কারণ, তাঁর পক্ষে সুপারিশ করা ৬৭ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। কিন্তু এসব দলের সঙ্গে সরকার গঠনের বিষয়ে বিরোধী জোটের ভেতরেই মতপার্থক্য রয়েছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর জোটও এখনো পুরোপুরি রাজনৈতিক লড়াই থেকে ছিটকে যায়নি। নতুন সরকার গঠনের জন্য আইজেনকটকে অন্তত ৬১ জন সংসদ সদস্যের সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে। ইসরায়েলের আইন অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যান্ডেট পাওয়ার পর আইজেনকট সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে প্রেসিডেন্ট তাঁকে আরও ১৪ দিন সময় বাড়িয়ে দিতে পারবেন। এই সময়ের মধ্যে সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে অন্য কোনো সংসদ সদস্যকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে। ফলে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত নেতানিয়াহুর জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হলেও এখনই তাঁর ক্ষমতা ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত নয়। আগামী কয়েক সপ্তাহের রাজনৈতিক আলোচনা ও জোট গঠনের সমীকরণই নির্ধারণ করবে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার কারা গঠন করবেন।
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার রাতভর হা মলা, বিদ্যুৎ-পানি-হিটিং ব্যবস্থা বিপর্যস্ত
নির্বাচনের আগে ইরানে অভিযানের পরিকল্পনা নেতানিয়াহুর, যুক্তরাষ্ট্রের বাধায় ভেস্তে যাওয়ার দাবি