আন্তর্জাতিক

ইউরোপের মঞ্চে বাজিমাত, সেরা উদীয়মান তারকার পুরস্কার জিতলেন বাংলাদেশের মেহেদী

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ১৩:১৭
আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বীকৃতি; ইউরোপিয়ান ফিনটেক অ্যাওয়ার্ডসে ‘রাইজিং স্টার’ মেহেদী হাসান | ছবি: সৌজন্যে
আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বীকৃতি; ইউরোপিয়ান ফিনটেক অ্যাওয়ার্ডসে ‘রাইজিং স্টার’ মেহেদী হাসান | ছবি: সৌজন্যে

স্পেনের বার্সেলোনায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রযুক্তিবিদ মো. মেহেদী হাসান 'ইউরোপিয়ান ফিনটেক অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬'-এ সম্মানজনক ‘রাইজিং স্টার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার জিতেছেন। লন্ডনের ওয়ান মরগেট প্লেসে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। একই বছর তিনি প্রযুক্তি খাতে বিশেষ অবদানের জন্য ‘ডিরেক্টর অব দ্য ইয়ার’ বিভাগেও অন্যতম ফাইনালিস্ট হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন।

 

মেহেদী হাসানের মূল বাড়ি নওগাঁ জেলার ধামইরহাট থানার কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামে হলেও তিনি ঢাকার দক্ষিণখানে বেড়ে উঠেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে সফলভাবে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে সফটওয়্যার প্রকৌশলের প্রতি গভীর আগ্রহ থেকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে তার পেশাজীবন শুরু করেন। এরপর ব্যবসায়িক দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে তিনি স্পেনের একটি নামী বিজনেস স্কুল থেকে উচ্চতর এমবিএ ডিগ্রিও সম্পন্ন করেন।

 

বাংলাদেশে থাকাকালে মেহেদী হাসান বিশ্বব্যাংক ও গ্রামীণফোনে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে তিনি স্থায়ীভাবে স্পেনে পাড়ি জমান। ২০২২ সালে একটি লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিখ্যাত ফোর্বস টেকনোলজি কাউন্সিলে যোগদানের বিরল আমন্ত্রণ পান। বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে কাজ করার পাশাপাশি ছয়টি মহাদেশের ৬০টিরও বেশি দেশ ভ্রমণের এক দারুণ অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

 

২০২৪ সালের শেষ দিকে মেহেদী হাসান প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হিসেবে 'হাসটি লিমিটেড' নামক প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন। সেখানে তার দূরদর্শী নেতৃত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়েব অ্যাপ তৈরির কাজ শুরু হয়, যার চালিকাশক্তি ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি। এই বিশেষ প্রকল্পের ৬০ শতাংশের বেশি কোড এআই দিয়ে তৈরি করার ফলে সফটওয়্যারটি তৈরির সময় স্বাভাবিকের চেয়ে অর্ধেক কমে আসে। প্রযুক্তি খাতে মেধার এমন অনন্য ও যুগান্তকারী অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি এই বছর ইউরোপীয় আসরে সেরা উদীয়মান তারকা নির্বাচিত হন।

 

ইউরোপিয়ান ফিনটেক অ্যাওয়ার্ডস মূলত পুরো মহাদেশজুড়ে জমা পড়া শত শত আবেদন থেকে কঠোর যাচাই-বাছাই শেষে মোট ২৩টি বিশেষ বিভাগে কয়েকজনকে চূড়ান্ত প্রতিযোগী হিসেবে নির্বাচন করে। বিখ্যাত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘ফিনটেক ইন্টেল’ প্রতি বছর এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের আয়োজন ও পরিচালনা করে থাকে। এবারের আন্তর্জাতিক বিচারক প্যানেলে সুইজারল্যান্ড, সুইডেন, চেক প্রজাতন্ত্র এবং হাঙ্গেরিসহ ১০টিরও বেশি দেশের জাতীয় ফিনটেক সংস্থার শীর্ষস্থানীয় নেতারা যুক্ত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
অরুণাচল ইস্যুতে চীনের অবস্থান আরও জোরালো, ২৭ স্থানের নাম বদলে নড়েচড়ে বসেছে দিল্লি
অরুণাচল ইস্যুতে চীনের অবস্থান আরও জোরালো, ২৭ স্থানের নাম বদলে নড়েচড়ে বসেছে দিল্লি

অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে ভারত ও চীনের পুরোনো সীমান্ত বিরোধ নতুন করে উত্তেজনার জন্ম দিচ্ছে। সম্প্রতি অরুণাচলের ২৭টি স্থান ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের নতুন নামকরণ করে বেইজিংকে কড়া বার্তা দিয়েছে নয়াদিল্লি। তবে এই পদক্ষেপের পরপরই ওই অঞ্চলে চীনা গতিবিধি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস।   কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গের বক্তব্যে ২০২০ সালের গলওয়ান সংঘর্ষের স্মৃতিও উঠে এসেছে। কূটনৈতিক মহল মনে করছে, অরুণাচল নিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে এই নতুন উত্তেজনা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলতে পারে। বিশেষ করে আগামী মাসে ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সফরের আগে এই পরিস্থিতি নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।   নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই নামকরণের মূল উদ্দেশ্য অরুণাচলের ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক পরিচয়কে আরও স্পষ্ট করা। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অরুণাচল প্রদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই মানচিত্রে এই স্থানগুলোকে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে চিহ্নিত করা হয়েছে।   নতুন করে চিহ্নিত এই ২৭টি স্থানের মধ্যে রয়েছে ২১টি বসতিপূর্ণ এলাকা, চারটি গিরিপথ, একটি হ্রদ ও একটি স্মৃতিস্তম্ভ। এর মধ্যে লংজু, মাজা ও বিসার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো সুবনসিরি এলাকার উত্তরে অবস্থিত, যা দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের সীমান্ত বিরোধের অন্যতম স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে পরিচিত।   বিশেষ করে ১৯৫৯ সাল থেকে চীনের নিয়ন্ত্রণে থাকা লংজুকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে ভারতের এই নামকরণকে নিছক প্রশাসনিক পদক্ষেপের চেয়ে বিতর্কিত এলাকায় নিজেদের অধিকার জোরালো করার কৌশল হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।   এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই চীনা অনুপ্রবেশের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে কংগ্রেস। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর পর কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গেও অরুণাচল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, গলওয়ানের ঘটনার পর অরুণাচল নিয়ে আবারও অস্বস্তিকর খবর সামনে আসছে।   নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ভারতের টহল দেওয়ার অধিকার কমে যাচ্ছে কি না এবং বিশেষ করে শীতকালে স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকাগুলোতে টহলদারি কমার কারণ নিয়েও তিনি সরকারের কাছে স্পষ্ট জবাব চেয়েছেন।   ২০২০ সালের মে মাসে পূর্ব লাদাখে শুরু হওয়া চরম উত্তেজনা এবং জুন মাসে গলওয়ান উপত্যকায় ২০ জন ভারতীয় সেনার নিহতের মর্মান্তিক ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কে যে গভীর ক্ষত তৈরি করেছিল, তা আজও পুরোপুরি মেটেনি। সামরিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে একাধিক আলোচনার পরও সীমান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান যে এখনও অধরা, বর্তমান পরিস্থিতি তারই সুস্পষ্ট প্রমাণ দিচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৪:৮
অস্কারে যাচ্ছে গাজার যু দ্ধবিধ্বস্ত মানুষের জীবনসংগ্রাম নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘হু ইজ স্টিল অ্যালাইভ’

অস্কারে যাচ্ছে গাজার যু দ্ধবিধ্বস্ত মানুষের জীবনসংগ্রাম নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘হু ইজ স্টিল অ্যালাইভ’

দুই দশকে একাধিক স্বামীকে বিষ প্রয়োগে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত ইরানের কুখ্যাত ‘ব্ল্যাক উইডো’ কুলসুম আকবারি। ছবি: সংগৃহীত

বয়স্ক পুরুষদের বিয়ে করে হত্যা, সম্পদ হাতিয়ে নিতেন; দুই দশকে ১০-এর বেশি হত্যাকাণ্ডে একাধিক মৃত্যুদণ্ড

তিন মাস বয়সী কন্যাসন্তানকে হেয়ারড্রায়ারের তাপে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ায় মা কোর্টনি গার্টশোরকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন স্কটল্যান্ডের আদালত। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ সময় হেয়ারড্রায়ারের তাপের ফলে তিন মাসের মেয়ের মৃত্যু, দানব মায়ের ছয় বছরের জেল

১০ বছরের মেয়ে সারা শরিফকে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত উরফান শরিফের ওপর কারাগারে হামলার ঘটনায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
কারাগারে সারা শরিফের বাবার ওপর হামলা, দুই বন্দির বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

যুক্তরাজ্যে ১০ বছরের মেয়ে সারা শরিফকে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত উরফান শরিফের ওপর কারাগারে হামলার ঘটনায় দুই বন্দির বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। লন্ডনের হাই সিকিউরিটি বেলমার্শ কারাগারে উরফানের ঘাড় ও মুখে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের প্রায় দেড় বছর পর এই চার্জ আনা হলো।   ব্রিটিশ ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস জানিয়েছে, অভিযুক্ত দুই বন্দি হলেন ৪৭ বছর বয়সী স্টিভেন স্যানসম এবং ৩৯ বছর বয়সী অ্যাডাম ওয়াটসন। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি বেলমার্শ কারাগারে ঘটে যাওয়া ওই হামলার ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টাসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে। আগামী ২৬ আগস্ট তাদের ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে হাজির করার কথা রয়েছে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উরফান শরিফ নিজের সেলে থাকা অবস্থায় হামলার শিকার হন। হামলায় ধারালো করে নেওয়া টুনা মাছের ক্যানের ঢাকনা ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তার ঘাড় ও মুখে কেটে যায়। তবে আঘাত প্রাণঘাতী ছিল না এবং কারাগারের ভেতরেই তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।   ঘটনার পর উরফানকে বেলমার্শ থেকে কাউন্টি ডারহামের হাই সিকিউরিটি ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বিপজ্জনক অপরাধীদের অনেককে এই কারাগারে রাখা হয়।   উরফান শরিফ বর্তমানে নিজের ১০ বছর বয়সী মেয়ে সারা শরিফকে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে লন্ডনের ওল্ড বেইলি আদালতে উরফান এবং সারার সৎমা বেইনাশ বাতুলকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। উরফানকে অন্তত ৪০ বছর এবং বেইনাশকে অন্তত ৩৩ বছর কারাগারে কাটানোর নির্দেশ দেন বিচারক।   একই মামলায় সারার চাচা ফয়সাল মালিক হত্যার অভিযোগ থেকে খালাস পেলেও একটি শিশুর মৃত্যু ঘটানো বা মৃত্যু ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন। তাকে ১৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৮ আগস্ট ইংল্যান্ডের সারের ওকিংয়ে পারিবারিক বাড়িতে সারা মারা যায়। দীর্ঘ সময় ধরে শিশুটির ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়েছিল। তার শরীরে একাধিক আঘাত, হাড় ভাঙা, পোড়ার দাগ এবং কামড়ের চিহ্ন পাওয়া যায়। পোস্টমর্টেমে চিকিৎসকেরা জানান, একাধিক আঘাত ও অবহেলার জটিলতায় তার মৃত্যু হয়।   সারার মৃত্যুর পর উরফান, বেইনাশ এবং ফয়সাল পাকিস্তানে চলে যান। পাকিস্তানে পৌঁছে উরফান নিজেই ব্রিটিশ পুলিশকে ফোন করে মেয়েকে মারধরের কথা জানান। পরে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তারা যুক্তরাজ্যে ফিরে এলে গ্যাটউইক বিমানবন্দরে গ্রেফতার করা হয়।   মামলার রায় দেওয়ার সময় বিচারক সারা শরিফের ওপর দীর্ঘদিনের নির্যাতনকে সরাসরি ‘নির্যাতন ও যন্ত্রণার ধারাবাহিকতা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। আদালত জানায়, সারার মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন সহিংস ঘটনার ফল ছিল না, বরং দীর্ঘদিন ধরে চলা অবহেলা ও বারবার শারীরিক নির্যাতনের চূড়ান্ত পরিণতি ছিল।   এদিকে উরফানের ওপর কারাগারে হামলার ঘটনায় নতুন করে ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। অভিযুক্ত স্টিভেন স্যানসম ও অ্যাডাম ওয়াটসনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে এখনো প্রমাণিত হয়নি। আগামী ২৬ আগস্ট তাদের প্রথম কোর্ট হিয়ারিংয়ের পর মামলাটির পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নির্ধারিত হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১১:৫৫
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বক্তব্য রাখছেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধান আহমাদ ভাহিদি। ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধের সাফল্য প্রমাণ করেছে, ইসলাম বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে পারে: ইরানের শীর্ষ কমান্ডার

নরওয়ের স্বালবার্ডে ঘুমন্ত মেরু ভাল্লুককে জাহাজের হর্ন বাজিয়ে জাগানোর অপরাধে এক ব্যক্তিকে বিপুল অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ঘুমন্ত মেরু ভাল্লুককে জাগানোর জন্য শাস্তি! গুনতে হলো ৫ হাজার ডলারের বেশি জরিমানা

যুক্তরাজ্যকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ আখ্যা দিয়ে কটাক্ষ নেতানিয়াহুর

যুক্তরাজ্যকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ আখ্যা দিয়ে কটাক্ষ নেতানিয়াহুর

পানির প্রতিটি ফোঁটা পাকিস্তানের ‘রেড লাইন’, ভারতকে শাহবাজের কঠোর হুঁশিয়ারি
পানির প্রতিটি ফোঁটা পাকিস্তানের ‘রেড লাইন’, ভারতকে শাহবাজের কঠোর হুঁশিয়ারি

পাকিস্তান সর্বদা শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী হলেও এই আকাঙ্ক্ষাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখলে তার চরম ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার ওপর কোনো ধরনের আঘাত এলে ২০২৫ সালের মে মাসের চেয়েও ভয়ংকর সামরিক জবাব দেবে ইসলামাবাদ।   বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের ৭৯তম স্বাধীনতাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই কড়া বার্তা দেন। একই অনুষ্ঠানে তিনি ২০২৫ সালের ঐতিহাসিক ‘মারকা-ই-হক’ যুদ্ধের বিজয় ও শহীদ বীরদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘ইয়াদগার-ই-ফাতাহ’ বা বিজয় স্মৃতিস্তম্ভের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। সম্মান ও মর্যাদা বজায় রেখে শান্তি প্রতিষ্ঠাই পাকিস্তানের মূল লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।   ভারতের সঙ্গে চলমান পানিবিরোধ ইস্যুতেও এদিন অত্যন্ত কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, ‘মারকা-ই-হক’ যুদ্ধে পরাজয়ের পর ভারত সম্পূর্ণ একতরফাভাবে ঐতিহাসিক সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করেছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নয়াদিল্লি মূলত নিজেদেরকেই এ অঞ্চলে শান্তির পথের প্রধান বাধা হিসেবে প্রমাণ করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।   শাহবাজ শরিফ অত্যন্ত দৃঢ়কণ্ঠে ঘোষণা করেন, পাকিস্তানের পানির প্রতিটি ফোঁটাই তাদের জন্য একটি ‘রেড লাইন’। ভারত যদি নিজেদের এই অনড় ও বৈরী অবস্থান থেকে অবিলম্বে সরে না আসে, তবে পাকিস্তান এর সমুচিত ও যুগান্তকারী জবাব দিতে বাধ্য হবে বলে কড়া ভাষায় সতর্ক করে দেন তিনি।   রাজধানীতে আয়োজিত এই জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, সিনেট চেয়ারম্যান সৈয়দ ইউসুফ রাজা গিলানি, জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক এবং উপপ্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দারসহ দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নতুন উদ্বোধন করা স্মৃতিস্তম্ভটিকে পাকিস্তানের দৃঢ় সংকল্প এবং সশস্ত্র বাহিনীর অসামান্য পেশাদারিত্ব ও যুদ্ধ সক্ষমতার জীবন্ত প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করেন শাহবাজ শরিফ।   জাতীয় এই ভাষণে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন পাক প্রধানমন্ত্রী। কাশ্মীরিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবিতে পাকিস্তানের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও নৈতিক সমর্থন অবিচল থাকবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই সংগ্রাম চলবে বলে জানান।   পাশাপাশি ফিলিস্তিন সংকটের ন্যায়সংগত সমাধানের পক্ষেও নিজেদের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। পরিশেষে প্রতিবেশী আফগানিস্তানের নেতৃত্বের প্রতি কড়া বার্তা দিয়ে শাহবাজ শরিফ জোরালো আহ্বান জানান, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য আফগান মাটির ব্যবহার যেন অবিলম্বে এবং সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা হয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৮:৩৬
ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে না দিলে ২০ লাখ লোক নিয়ে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি

ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে না দিলে ২০ লাখ লোক নিয়ে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি আফ্রিদির

পুরনো মার্কিন সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড। ছবি:সংগৃহীত

ডিসঅ্যাবিলিটি সুবিধার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তিতে নতুন ১৪ রোগ যুক্ত করল সোশ্যাল সিকিউরিটি

মালয়েশিয়ায় ভুয়া পাসপোর্ট চক্রের কাছ থেকে জব্দ করা জাল নথিপত্র দেখাচ্ছেন অভিবাসন কর্মকর্তারা। ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় ভুয়া পাসপোর্ট চক্রে ২ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, জব্দ বিপুল নথি

0 Comments