যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর লিবিয়ায় মার্কিন দূতাবাস পুনরায় চালুর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। উত্তর আফ্রিকার এই দেশটিতে প্রায় ১৪ বছর পর নিজেদের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক উপস্থিতি ফেরাতে ৪১ মিলিয়ন (৪ কোটি ১০ লাখ) মার্কিন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব করে কংগ্রেসকে অবহিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) হাতে আসা একটি নথিপত্র অনুযায়ী, সোমবার আইনপ্রণেতাদের জানানো হয়েছে যে এই অর্থ লিবিয়ায় পর্যায়ক্রমে দূতাবাস কার্যক্রম শুরুর ক্ষেত্রে বিভিন্ন নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট কাজে ব্যয় করা হবে। পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থের সুরক্ষায় এই উদ্যোগটি অপরিহার্য।
কারণ, লিবিয়ার দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিয়ে সম্প্রতি সেখানে রাশিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো নিজেদের প্রভাব বিস্তার করছে, যা উত্তর আফ্রিকায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের লক্ষ্য অর্জনের পথে একটি বড় হুমকি। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে লিবিয়ার কৌশলগত অবস্থান, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি বাজার এবং অভিবাসন প্রবাহের কারণে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দ্বন্দ্বে লিপ্ত থাকা লিবিয়ার পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিনিধিরা সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং আফ্রিকা বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মাসাদ বোলোসসহ ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের জুলাই মাসে দেশটিতে ব্যাপক সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে ত্রিপোলিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
এরপর থেকে লিবিয়ায় নিযুক্ত মার্কিন কূটনীতিকরা প্রতিবেশী তিউনিসিয়া এবং ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ মাল্টা থেকে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। নতুন এই তহবিল মূলত ত্রিপোলির বর্তমান একটি ছোট স্যাটেলাইট কার্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে বাড়াতে ব্যবহৃত হবে, যা বর্তমানে মার্কিন কর্মকর্তাদের সংক্ষিপ্ত সফরের জন্য ব্যবহৃত হয়। এর মাধ্যমেই সেখানে একটি স্থায়ী দূতাবাস স্থাপনের প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি করা হবে।
লিবিয়ায় এই নতুন উদ্যোগটি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বজুড়ে নিজেদের বন্ধ থাকা কূটনৈতিক সম্পর্কগুলো নতুন করে সাজানোর চেষ্টা করছে। গত জানুয়ারিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর পতনের পর ভেনিজুয়েলার কারাকাসে মার্কিন দূতাবাস পুনরায় চালু করেছে বর্তমান প্রশাসন। এছাড়া, নতুন সিরীয় সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের লক্ষ্যে দামেস্কেও বন্ধ হয়ে যাওয়া দূতাবাস খোলার জোর চেষ্টা চলছে। তবে এসব কূটনৈতিক তৎপরতার মাঝেই বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনাগুলোতে ইরান-সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে নতুন করে সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ ও অসহনীয় গরম থেকে মানুষকে দ্রুত স্বস্তি দিতে জাপানে ব্যতিক্রমী এক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে। মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে পুরো শরীর ঠান্ডা করার ক্ষমতা সম্পন্ন একটি ‘ব্যক্তিগত কুলিং বুথ’ বা মানব ফ্রিজ বাজারে নিয়ে আসা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এয়ারকন্ডিশনার বা সাধারণ বৈদ্যুতিক ফ্যানের তুলনায় এই যন্ত্রটি অনেক বেশি কার্যকরভাবে শরীর ঠান্ডা করতে পারে বলে এর প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান দাবি করেছে। দো হিয়েমন নামের এই অভিনব ধাতব বুথটি দেখতে অনেকটা রেফ্রিজারেটরের মতো, যার উচ্চতা প্রায় ২ দশমিক ১ মিটার বা ৭ ফুট। যন্ত্রটির ভেতরে ঢোকার পর তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ঠান্ডা রাখা হয়। একই সঙ্গে মাথার পেছনের অংশ, ঘাড়, কাঁধ ও পিঠে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঠান্ডা বাতাসের তীব্র ঝাপটা দেওয়া হয়, যা দ্রুত শারীরিক তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে। বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তীব্র তাপপ্রবাহের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপজুড়ে রেকর্ড ভাঙা গরমের পাশাপাশি এই সপ্তাহে জাপানও বছরের প্রথম ‘তীব্র গরমের’ দিনগুলোর মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে রেকর্ড করা হয়েছে। এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি তাৎক্ষণিক স্বস্তির জন্য এই ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি বেশ ব্যয়বহুল মনে হতে পারে, কারণ যন্ত্রটির বাজারমূল্য প্রায় ৬ হাজার ৯০০ ব্রিটিশ পাউন্ড বা ১৫ লাখ জাপানি ইয়েন। তবে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের দাবি অনুযায়ী, এটি চালাতে ঘণ্টায় অত্যন্ত সামান্য খরচ হয়, যা সাধারণ একটি টোস্টার চালানোর খরচের তিন ভাগের এক ভাগ মাত্র। বিশেষ করে যেসব শিল্প কারখানা বা গুদামে শ্রমিকরা নিয়মিত প্রচণ্ড গরমে কাজ করেন, সেখানে এটি অত্যন্ত উপযোগী হতে পারে। এছাড়া জনবহুল বিভিন্ন পাবলিক প্লেসে, যেখানে মানুষ অতিরিক্ত গরমে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে, সেখানে ভেন্ডিং মেশিনের মতো এটি স্থাপন করা গেলে তা জীবন রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। তীব্র দাবদাহ থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষ বিভিন্ন অভিনব উপায় খুঁজলেও এই প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনটি গরমের দিনে বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
ভারতের ব্যবসায়ী বিজয় মালিয়া বেঙ্গালুরুর কিংফিশার টাওয়ারসের চূড়ায় হোয়াইট হাউসের আদলে একটি বিলাসবহুল প্রাসাদ নির্মাণ করেছিলেন। তবে আর্থিক ও আইনি জটিলতার কারণে সেই প্রাসাদে তার আর কখনো বসবাস করা হয়নি। প্রায় ৪০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই দুইতলা প্রাসাদের আয়তন প্রায় ৪০ হাজার বর্গফুট। এটি দুটি টাওয়ারকে সংযুক্ত করা একটি বিশাল প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্মিত। প্রাসাদটির সাদা বাহ্যিক নকশার কারণে এটি ‘আকাশের হোয়াইট হাউস’ নামে পরিচিতি পায়। প্রাসাদটির নকশায় ব্যক্তিগত লিফট, ল্যান্ডস্কেপড বাগান, জিম, স্পা, সেলুন, ওয়াইন সেলার, ইনডোর হিটেড সুইমিং পুল, শহরের দিকে মুখ করা ইনফিনিটি সুইমিং পুল এবং ছাদে একটি হেলিপ্যাড রাখা হয়েছিল। ২০১৬ সালে কিংফিশার এয়ারলাইনসের পতনকে ঘিরে আর্থিক ও আইনি কার্যক্রমের মধ্যে বিজয় মালিয়া ভারত ছেড়ে যুক্তরাজ্যে চলে যান। সে সময় প্রাসাদটির নির্মাণকাজও শেষ হয়নি। পরবর্তী সময়ে প্রাসাদটি দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত ও জনশূন্য অবস্থায় রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বহু অর্থ ব্যয় করে নির্মিত এই বিলাসবহুল আবাসে বিজয় মালিয়ার বসবাসের সুযোগ আর হয়নি।
কানাডার এডমন্টনে নিজ বাড়িতে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ২৩ বছর বয়সী এক ভারতীয় তরুণী। নিহত ওই তরুণীর নাম দমনপ্রীত কৌর, যিনি ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের লুধিয়ানা জেলার সামরালা এলাকার বাসিন্দা। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত তরুণীর ২২ বছর বয়সী প্রেমিক রিতিশ কুমারকে ‘সেকেন্ড-ডিগ্রি মার্ডার’-এর অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে কানাডার পুলিশ। এডমন্টন পুলিশ সার্ভিসের (ইপিএস) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ জুলাই (২০২৬) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৪ মিনিটে সিলভারবেরি এলাকার একটি বাড়ি থেকে সন্দেহজনকভাবে আহত ও অচেতন অবস্থায় দমনপ্রীতকে উদ্ধার করা হয়। এরপর মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ জুলাই তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে হেফাজতে নেয়। গত ১৪ জুলাই এডমন্টন মেডিকেল এক্সামিনার অফিসের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে এই মৃত্যুকে সুস্পষ্ট ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ প্রথমে গোপন রাখা হলেও, গত ২৩ জুলাই পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে যে, শ্বাসরোধ করার কারণেই দমনপ্রীতের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এটি একটি ‘ইন্টিমেট পার্টনার হোমিসাইড’ বা সঙ্গীর দ্বারা সংঘটিত হত্যাকাণ্ড এবং তারা আপাতত এই ঘটনায় অন্য কোনো সন্দেহভাজনকে খুঁজছে না। মর্মান্তিক এই ঘটনায় গত ২২ জুলাই প্রেমিক রিতিশ কুমারকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে হত্যার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এদিকে, নিহত তরুণীর মরদেহ নিজ দেশ ভারতে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে নিতে একটি ‘গোফান্ডমি’ (GoFundMe) ক্যাম্পেইন শুরু করেছেন তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা। আন্তর্জাতিক পরিবহন, আইনি নথিপত্র এবং শেষকৃত্যের বিপুল খরচ মেটাতে সাধারণ মানুষের কাছে অনুদানের আবেদন জানানো হয়েছে সেখানে। ইতোমধ্যে ২০ হাজার ডলারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রায় ১৯ হাজার ডলার সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে।