সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র আন্দোলনকে মেহবুবা মুফতির সমর্থন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ১২:৫১
জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি | ছবি: সংগৃহীত
জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি | ছবি: সংগৃহীত

চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দিল্লির জন্তরমন্তরে টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। আন্দোলনরত এই তরুণদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) তিনি স্বয়ং আন্দোলনস্থলে হাজির হয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। তার মতে, এই আন্দোলন কেবল কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লড়াই নয়, বরং দেশের সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষা করারও এক গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রাম।

 

সেখানে উপস্থিত আন্দোলনকারী যুবকদের সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন এই কাশ্মীরি নেত্রী। প্রতিকূল আবহাওয়া ও কঠিন পরিস্থিতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে তরুণদের এই লড়াই অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক বলে মন্তব্য করেন তিনি। মুফতি আশা প্রকাশ করেন যে, প্রশ্নফাঁস ও দুর্নীতির মতো অন্যায়ের বিরুদ্ধে এই অনমনীয় আন্দোলন ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা রাখবে।

 

উল্লেখ্য, নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের জোরালো দাবি জানিয়ে গত মাস থেকে সিজেপির নেতৃত্বে জন্তরমন্তরে এই প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন চাকরিপ্রার্থীরা।

 

সূত্র: দ্য হিন্দু


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
ফুড পয়জনিং ভেবে কয়েক মাসের অবহেলা, পরে ধরা পড়ল তৃতীয় স্টেজের ক্যানসার
ফুড পয়জনিং ভেবে কয়েক মাসের অবহেলা, পরে ধরা পড়ল তৃতীয় স্টেজের ক্যানসার

যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ লন্ডনের বাসিন্দা কারা মিলারের পেটের সমস্যাকে চিকিৎসকরা প্রথমে সাধারণ 'ফুড পয়জনিং' বা খাদ্যে বিষক্রিয়া বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু নিজের উপসর্গের বিষয়ে সন্দেহ থাকায় তিনি আরও পরীক্ষার জন্য জোর দেন এবং শেষ পর্যন্ত তার তৃতীয় ধাপের কলোরেক্টাল বা অন্ত্রের ক্যানসার ধরা পড়ে।   ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে টিভিতে ক্যানসারের লক্ষণ বিষয়ক একটি অনুষ্ঠান দেখে তিনি প্রথম চিকিৎসকের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সে সময় টেলিফোনে পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসক তাকে জানান যে এটি কেবল পাইলসের সমস্যা। পারিবারিক একটি শোকের কারণে তখন তিনি বিষয়টি নিয়ে আর এগোতে পারেননি এবং নিজের করপোরেট চাকরি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।   ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে কোভিড-১৯ থেকে সেরে ওঠার পর কারা হঠাৎ খুব অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন। সাধারণ চিকিৎসক এবং একজন বেসরকারি গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল বিশেষজ্ঞ উভয়েই তার এই অবস্থাকে ফুড পয়জনিং বলে ধারণা করেন। এমনকি চিকিৎসকরা তাকে এ-ও বলেছিলেন যে ক্যানসার হওয়ার জন্য তার বয়স নিতান্তই কম। তবে কারা দমে না গিয়ে রক্ত পরীক্ষা এবং এফআইটি (FIT) টেস্টের জন্য চিকিৎসকদের বাধ্য করেন।   টেস্টের ফল পজিটিভ আসার পর ২০২২ সালের মার্চ মাসে তার কোলোনোস্কোপি করা হয় এবং তখনই মলদ্বারে একটি টিউমারের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। এক্স-রে, এমআরআই এবং সিটি স্ক্যানের পর ৫ এপ্রিল চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হয় যে, ক্যানসারটি ইতোমধ্যেই তার লিম্ফ নোডে ছড়িয়ে পড়েছে এবং এটি তৃতীয় ধাপের কলোরেক্টাল ক্যানসার।   ছয় সেন্টিমিটার লম্বা টিউমারটি তার মলদ্বারের প্রায় অর্ধেক অংশ আটকে রেখেছিল। টিউমারটি ছোট করার জন্য তাকে প্রথমে পাঁচ সপ্তাহের কেমোরেডিওথেরাপি দেওয়া হয়। কিন্তু সার্জারির জন্য চারপাশের কোষগুলো সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত না হওয়ায় তাকে আরও ১২ সপ্তাহের কেমোথেরাপি নিতে হয়। এরপর দীর্ঘ ছয় ঘণ্টার সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসকরা টিউমারটি অপসারণ করতে সক্ষম হন।   এ সময় তার শরীরে একটি অস্থায়ী ইলিওস্টোমি ব্যাগ পরানো হয়। বড়দিন হাসপাতালে কাটানোর পর তাকে আরও ১২ সপ্তাহের কেমোথেরাপি নিতে হয়েছিল। টানা নয় মাস পর ২০২৩ সালের আগস্টে রিভার্সাল সার্জারির মাধ্যমে তার ইলিওস্টোমি ব্যাগটি খুলে ফেলা হয়।   বর্তমানে কারা মিলার ক্যানসারমুক্ত জীবনের তৃতীয় বছরে পদার্পণ করেছেন। রোগমুক্তির পর নিজের আগের করপোরেট পেশা ছেড়ে তিনি ক্যানসার পুনর্বাসন বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এখন তিনি একটি দাতব্য সংস্থার হয়ে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যা ও ক্যানসারের শিকার ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের এই কঠিন যাত্রার কথা শেয়ার করতে শুরু করেছেন কারা।   তবে সবাইকে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করে তিনি জানিয়েছেন, নিজের শরীরের যেকোনো অস্বাভাবিক উপসর্গের ক্ষেত্রে রোগীদেরকেই সবার আগে সচেতন হতে হবে এবং সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকদের কাছে দাবি জানাতে হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৮:২৩
কানাডায় আট বছর বসবাসের পর অ্যাসাইলাম আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় ভারত ফিরে গেছে কুমার পরিবার। ছবি: সংগৃহীত

অ্যাসাইলাম বাতিল: ৮ বছর পর কানাডা ছাড়তে হলো এক ভারতীয় পরিবারকে!

বাংলাদেশে এসে গরুর মাংস ও ইলিশ মাছকে নিজের পছন্দের খাবার বলে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েছেন অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী। ছবি: সংগৃহীত

‘আমার টাকা, আমার পেট, আমার সিদ্ধান্ত’, গরুর মাংস খাওয়া নিয়ে বিশ্বজিতের জবাব

ইংল্যান্ডের সারেতে দীর্ঘ ৬ বছর ভ্যাপিংয়ে আসক্তির পর গুরুতর শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসের সমস্যায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফ্রেডি জানম্যান। ছবি: সংগৃহীত

হাসপাতালে শুয়েও লুকিয়ে ভ্যাপ, ৬ বছরের আসক্তির পর স্ট্র দিয়ে শ্বাসের মতো অবস্থা

ছেলে পরিচয়ে কেটেছে শৈশব—স্বাধীনতার জন্য নিলোফার আয়ুবির এক অসম লড়াই
মেয়েকে বন্দি জীবন থেকে বাঁচাতে ১০ বছর ছেলে করে রাখলেন আফগান বাবা

আফগান নারী অধিকারকর্মী ও উদ্যোক্তা নিলোফার আয়ুবি শৈশবের প্রায় এক দশক ছেলে সেজে কাটিয়েছেন। তালেবান শাসনের সময় মেয়েদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে বাইরে চলাফেরা, পড়াশোনা ও খেলাধুলার মতো সাধারণ সুযোগ পেতেই তাকে ছেলের পোশাক পরিয়েছিলেন তার বাবা।  ১৯৯৬ সালে আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় কুন্দুজে জন্ম নিলোফারের শৈশব কেটেছে তালেবানের প্রথম দফার শাসনামলে। চার বছর বয়সে একদিন বাইরে খেলতে গিয়ে মাথায় ওড়না না থাকায় এক ব্যক্তি তাকে চড় মারেন এবং তিনি মেয়ে কি না, তা পরীক্ষা করার চেষ্টা করেন বলে নিলোফার জানিয়েছেন। বাড়ি ফিরে কান্নার পর তার বাবা চুল কেটে দেন এবং মাকে ছেলের মতো পোশাক পরাতে বলেন।  এরপর প্রায় ১০ বছর নিলোফার প্রকাশ্যে ছেলে হিসেবেই জীবন কাটান। বাবার সঙ্গে বাইরে যাওয়া, বাজারে যাওয়া, সাইকেল চালানো এবং জুডো-কারাতের মতো খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। তিনি পরে বলেছেন, ছেলের পরিচয়ে বেড়ে ওঠার ফলে এমন অনেক স্বাধীনতা পেয়েছিলেন, যা সেই সময়ে আফগান মেয়েদের জন্য প্রায় অসম্ভব ছিল।  আফগানিস্তানে এই প্রথাকে বলা হয় ‘বাচা পোশ’, যার অর্থ মোটামুটি ‘ছেলের মতো পোশাক পরানো’। কিছু পরিবার মেয়েশিশুকে ছেলের মতো বড় করে তোলে, যাতে সে স্কুলে যেতে, কাজ করতে, পরিবারের প্রয়োজনে বাইরে যেতে কিংবা খেলাধুলা করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, ছেলে সন্তানের প্রতি সামাজিক পছন্দ, পরিবারের অর্থনৈতিক প্রয়োজন এবং মেয়েদের চলাফেরার ওপর কঠোর বিধিনিষেধের কারণে কিছু পরিবার এই প্রথা অনুসরণ করে।  তবে বাচা পোশ সাধারণত সাময়িক। বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানোর পর অনেক মেয়েকেই আবার মেয়ের পরিচয়ে ফিরতে হয়। নিলোফারের ক্ষেত্রেও সেই পরিবর্তন ছিল কঠিন। শৈশবের দীর্ঘ সময় ছেলের মতো স্বাধীনভাবে চলার পর হঠাৎ করে মেয়েদের ওপর আরোপিত সামাজিক বিধিনিষেধের মুখোমুখি হতে হয় তাকে।  নিলোফার পরে সাংবাদিকতা, ব্যবসা ও নারী অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। আফগানিস্তানে তিনি নারীদের কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি নারী রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিয়ে কাজ করেন এবং উইমেন’স পলিটিক্যাল পার্টিসিপেশন নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করেন।  ২০২১ সালের আগস্টে তালেবান আবার আফগানিস্তানের ক্ষমতা নেওয়ার পর নিরাপত্তার কারণে নিলোফার পরিবারসহ দেশ ছাড়েন। পরে তিনি পোল্যান্ডে বসবাস শুরু করেন এবং সেখান থেকেও আফগান নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। নিলোফারের শৈশবের এই অভিজ্ঞতা আবারও আলোচনায় এনেছে বাচা পোশ প্রথাকে। যে সমাজে মেয়েদের জন্য স্বাভাবিক চলাফেরার সুযোগও সীমিত, সেখানে একজন মেয়েকে ছেলে হিসেবে পরিচয় দিতে বাধ্য হওয়ার গল্পটি আফগানিস্তানের গভীর লিঙ্গবৈষম্যের বাস্তবতাই তুলে ধরে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ৭:৫৮
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ঠেকাতে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ঠেকাতে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য

যুক্তরাষ্ট্র-কানাডায় কস্টকোর ১৪ নতুন শোরুম, জেনে নিন কোথায় কোথায় খুলছে

যুক্তরাষ্ট্র-কানাডায় কস্টকোর ১৪ নতুন শোরুম, জেনে নিন কোথায় কোথায় খুলছে

কানাডার পাল্টা শুল্কে বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র, হুমকিতে আমেরিকান ব্যবসা ও চাকরি

আজ থেকে কানাডার পাল্টা ট্যারিফ, আমেরিকানদের ব্যবসা ও চাকরিতে কতটা প্রভাব?

যুদ্ধের ময়দানে এবার মানুষ নয়, রোবট! হিউম্যানয়েড সেনা তৈরিতে চীনের তোড়জোড়
যুদ্ধের ময়দানে এবার মানুষ নয়, রোবট! হিউম্যানয়েড সেনা তৈরিতে চীনের তোড়জোড়

সম্প্রতি চীনে আয়োজিত ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবট গেমসে রোবটদের নাচানাচি ও স্প্রিন্টের মতো নৈপুণ্য বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছিল। তবে এই বিনোদনের আড়ালে লুকিয়ে আছে অন্য এক সামরিক লক্ষ্য। চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে গবেষণাগার থেকে সরাসরি সামরিক প্রশিক্ষণ মাঠে নিয়ে আসার তাগিদ দিচ্ছে।   শতাধিক চীনা সামরিক ক্রয় নোটিশ, গবেষণা ও সরকারি নথির ভিত্তিতে রয়টার্স জানিয়েছে, চীনের প্রতিরক্ষা খাত হিউম্যানয়েড রোবটের সামরিক ব্যবহার নিয়ে ব্যাপক কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে যুদ্ধক্ষেত্রে এদের মোতায়েনের পরিকল্পনা সাজাচ্ছে। গত কয়েক বছরে, বিশেষ করে ২০২৫ এবং ২০২৬ সালে এই গবেষণায় অভাবনীয় গতি এসেছে।   বর্তমানে চীনা সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলো যুদ্ধক্ষেত্রের নানা চাহিদার বিপরীতে রোবটগুলোর কার্যকারিতা পরীক্ষা করছে। ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব ডিফেন্স টেকনোলজি (এনইউডিটি)-এর গবেষকদের একটি ধারণাপত্রে বলা হয়েছে, আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে শহুরে যুদ্ধে অংশ নিতে পারবে এসব অত্যাধুনিক রোবট। পদাতিক বাহিনীর পাশাপাশি কাজ করে শত্রুর দখলে থাকা বহুতল ভবনে তল্লাশি চালানো ও ঝুঁকিপূর্ণ মিশনে এগুলো ব্যবহৃত হতে পারে।   শুধু তাই নয়, চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান নোরিনকোর তৈরি 'ফুসি' (Fuxi)-এর মতো হিউম্যানয়েড রোবটগুলো যেকোনো আবহাওয়ায় নজরদারি, টহল এবং বিপজ্জনক মিশনে অংশ নিতে সক্ষম বলে দাবি করা হচ্ছে। মানুষের প্রাণহানি কমানোর লক্ষ্যেই মূলত রিমোট কন্ট্রোল ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির এই রোবটগুলোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।   বর্তমানের বৈশ্বিক হিউম্যানয়েড রোবট চালানের প্রায় ৯৫ শতাংশই চীনের দখলে, যা তাদের এই সামরিক রূপান্তরকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। মার্কিন সেনাবাহিনীও সামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য রোবট তৈরি নিয়ে কাজ করছে, তবে এক্ষেত্রে তারা চীনের চেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে ড্রোনের মতো স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের সাফল্য বিশ্বজুড়েই রোবট সেনার কদর বাড়িয়েছে।   তবে যুদ্ধক্ষেত্রে রোবটের ব্যবহার নিয়ে নৈতিক ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিশেষ করে সাধারণ নাগরিক ও যোদ্ধাদের মধ্যে পার্থক্য করা কিংবা আত্মসমর্পণের সংকেত বোঝার ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের সীমাবদ্ধতা নিয়ে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক রেডক্রস। এসব বাধা পেরিয়ে উৎপাদন ব্যয় কমানো সম্ভব হলে খুব শিগগিরই রণাঙ্গনে চীনা রোবট সেনার আধিপত্য দেখা যেতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৬:৫
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে দেশে ফিরতে পারেন শেখ হাসিনা

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে দেশে ফিরতে পারেন শেখ হাসিনা

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর কৌশলগত সক্ষমতা বাড়ানোর জোর তাগিদ দিয়েছেন আমিরাতের কর্মকর্তা আনোয়ার গারগাশ। ছবি: সংগৃহীত

‘হরমুজ এড়াতে বিকল্প পথ!’ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় নতুন কৌশলে উপসাগরীয় দেশগুলো

মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতা প্রতিযোগিতায় জোড়া সাফল্য পেয়েছেন বাংলাদেশের তরুণ আব্দুল্লাহ আলিম। ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন প্রতিযোগিতায় আব্দুল্লাহ আলিমের জোড়া সাফল্য

0 Comments