আন্তর্জাতিক

ভিয়েতনামে প্রথম সফল লিঙ্গ প্রতিস্থাপন, নতুন জীবন পেলেন ৪৩ বছর বয়সী ব্যক্তি

সিদ্দিকুর রহমান প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ১০:২২
অস্ত্রোপচারে ব্যস্ত ভিয়েতনামের চিকিৎসক দল। দেশটির ইতিহাসে প্রথম সফল লিঙ্গ প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করে নতুন মাইলফলক গড়েছেন তারা। ছবি:সংগৃহীত
অস্ত্রোপচারে ব্যস্ত ভিয়েতনামের চিকিৎসক দল। দেশটির ইতিহাসে প্রথম সফল লিঙ্গ প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করে নতুন মাইলফলক গড়েছেন তারা। ছবি:সংগৃহীত

ভিয়েতনামের চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্থাপিত হয়েছে। দেশটির রাজধানী হ্যানয়ের ভিয়েত ডুক ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে ৪৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তির শরীরে মৃত মস্তিষ্ক-ঘোষিত (ব্রেন-ডেড) দাতার লিঙ্গ সফলভাবে প্রতিস্থাপন করেছেন চিকিৎসকেরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি ভিয়েতনামের ইতিহাসে প্রথম সফল লিঙ্গ প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচার। 

 

রোগী চার বছর আগে আংশিক লিঙ্গ অপসারণ (পার্শিয়াল পেনেকটমি) অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যান। অস্ত্রোপচারের পর তিনি স্বাভাবিকভাবে প্রস্রাব করতে পারলেও লিঙ্গের খুব সামান্য অংশ অবশিষ্ট ছিল, যা তার স্বাভাবিক জীবনযাপন, মানসিক স্বাস্থ্য এবং আত্মবিশ্বাসে গুরুতর প্রভাব ফেলেছিল।

 

অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসকেরা রোগীর শারীরিক অবস্থা, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সামঞ্জস্য, মানসিক প্রস্তুতি এবং নৈতিক বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে মূল্যায়ন করেন। সবদিক বিবেচনায় তাকে প্রতিস্থাপনের উপযুক্ত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা হয়।

 

অস্ত্রোপচারের নেতৃত্বদানকারী অ্যান্ড্রোলজি কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নুয়েন কোয়াং জানান, অত্যন্ত সূক্ষ্ম মাইক্রোসার্জারির মাধ্যমে মূত্রনালি, রক্তনালি, স্নায়ু এবং লিঙ্গের অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ গঠনগুলো পুনঃসংযুক্ত করা হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় উচ্চমাত্রার নিখুঁততা বজায় রাখতে হয়েছে, যাতে প্রতিস্থাপিত অঙ্গটি কার্যকর থাকে এবং ভবিষ্যতে স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

 

হাসপাতাল জানিয়েছে, অস্ত্রোপচারের পর রোগীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতিস্থাপিত অঙ্গ ভালোভাবে সেরে উঠছে এবং এখন পর্যন্ত অঙ্গ প্রত্যাখ্যান বা অন্য কোনো বড় ধরনের জটিলতার লক্ষণ দেখা যায়নি। রোগীকে নিয়মিত অঙ্গ-প্রত্যাখ্যান প্রতিরোধী ওষুধ দেওয়া হচ্ছে এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে সম্পূর্ণ অনুভূতি, যৌনক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি মূত্রত্যাগের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ফিরে আসতে আরও সময় লাগবে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।

 

ভিয়েত ডুক ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের পরিচালক ডা. দুয়ং ডুক হুং বলেন, এ ধরনের জটিল অস্ত্রোপচারের জন্য চিকিৎসক দল কয়েক মাস ধরে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করেছে এবং বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে পরিকল্পনা সম্পন্ন করেছে। 

 

আন্তর্জাতিক চিকিৎসা-সাহিত্যের তথ্য অনুযায়ী, এই অস্ত্রোপচারের আগে বিশ্বে মাত্র পাঁচটি সফল লিঙ্গ প্রতিস্থাপনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। ফলে ভিয়েতনামের এই সাফল্য বিশ্বব্যাপী বিরল ও গুরুত্বপূর্ণ পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচারগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে ফি ধার্য করার প্রক্রিয়া। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের পরামর্শে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে ফি আরোপের পরিকল্পনা হুথিদের

ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী লোহিত সাগরের দক্ষিণাঞ্চল দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর নতুন করে ফি আরোপের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণার ঠিক এক সপ্তাহ পর আঞ্চলিক সূত্রগুলোর মাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।   মূলত লোহিত সাগরের দক্ষিণাংশকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী অধিকাংশ জাহাজের ওপরই এই ফি আরোপের পরিকল্পনা খতিয়ে দেখছে হুথিরা। তবে এই নতুন ব্যবস্থা কবে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হতে পারে, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা প্রকাশ করা হয়নি। এই বিষয়ে হুথিদের নিজস্ব গণমাধ্যম কার্যালয়ের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।   তেহরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত দুটি আঞ্চলিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত জুলাই মাসে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে হুথি কর্মকর্তারা ইরান সফর করেছিলেন। মূলত ওই সফরেই ইরানি কর্মকর্তারা বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ফি আদায়ের বিষয়টি হুথিদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন।   সূত্রগুলোর ভাষ্যমতে, আন্তর্জাতিক এই ব্যস্ত নৌপথে ফি আরোপের বিষয়টিকে একটি স্বাভাবিক ও নিয়মিত প্রক্রিয়া হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এবং এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেওয়াটাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। তবে বিশেষ কূটনৈতিক সম্পর্কের অংশ হিসেবে চীনের জাহাজগুলোকে এই ফি প্রদান থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে এবং হুথিরাও এই ব্যবস্থার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে।   নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আরব কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তেহরান থেকে ফেরার সময় হুথি প্রতিনিধিদলের সঙ্গী হয়ে বেশ কয়েকজন ইরানি উপদেষ্টা ইয়েমেনে যান। বর্তমানে তারা বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নির্বিঘ্নে ফি আদায়ের জন্য একটি কার্যকর নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ বা অথরিটি গঠনের বিষয়ে হুথিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।   এদিকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মনোনীত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরাহ আল-জৌবা এই প্রসঙ্গে রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, হুথিরা যেকোনো মূল્યે লোহিত সাগরের ওপর নিজেদের একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আর যদি তারা লোহিত সাগরের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সফল হয়, তবে স্বাভাবিকভাবেই তারা এই রুট দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের চেষ্টা করবে।   অন্যদিকে পশ্চিমা দুই কূটনীতিকের মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক রুটে হুথিদের এই ধরনের একতরফা পদক্ষেপ উপসাগরীয় দেশগুলো এবং ইউরোপের তীব্র কূটনৈতিক বিরোধিতার মুখে পড়বে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে লোহিত সাগরে নিয়োজিত আন্তর্জাতিক নৌবাহিনী অতিরিক্ত নিরাপত্তার চাপের মধ্যে রয়েছে এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে পর্যাপ্ত সুরক্ষা দেওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি, এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি বদলানোর মতো শক্তিশালী রাজনৈতিক সদিচ্ছাও আন্তর্জাতিক মহলে এই মুহূর্তে খুব একটা দেখা যাচ্ছে না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ১০:৫৭
ইইউর দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে কয়েক হাজার অভিবাসীর একযোগে প্রবেশের চেষ্টা। ছবি: সংগৃহীত

ইইউ সীমান্তে অভিবাসীদের ঢল, জরুরি অবস্থা ঘোষণা, সেনা মোতায়েনের দাবি

নতুন পাসপোর্ট বিধির কারণে বিদেশে আটকে পড়ার ঝুঁকিতে ১০ লাখের বেশি ব্রিটিশ নাগরিক। ছবি: সংগৃহীত

নতুন পাসপোর্ট বিধির ফাঁদে ১০ লাখের বেশি ব্রিটিশ, বিদেশে আটকে পড়ছে ব্রিটিশ পরিবারের শিশুরা

বিলাসবহুল গাড়ির পরিবর্তে ফুল দিয়ে সাজানো সাইকেলে বাবার হাত ধরে বিয়ের মঞ্চে কনে। ছবি: সংগৃহীত

বিলাসবহুল গাড়ি নয়, ফুলে সাজানো সাইকেলেই বাবার হাত ধরে বিয়ের মঞ্চে কনে

অস্ত্রোপচারে ব্যস্ত ভিয়েতনামের চিকিৎসক দল। দেশটির ইতিহাসে প্রথম সফল লিঙ্গ প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করে নতুন মাইলফলক গড়েছেন তারা। ছবি:সংগৃহীত
ভিয়েতনামে প্রথম সফল লিঙ্গ প্রতিস্থাপন, নতুন জীবন পেলেন ৪৩ বছর বয়সী ব্যক্তি

ভিয়েতনামের চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্থাপিত হয়েছে। দেশটির রাজধানী হ্যানয়ের ভিয়েত ডুক ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে ৪৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তির শরীরে মৃত মস্তিষ্ক-ঘোষিত (ব্রেন-ডেড) দাতার লিঙ্গ সফলভাবে প্রতিস্থাপন করেছেন চিকিৎসকেরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি ভিয়েতনামের ইতিহাসে প্রথম সফল লিঙ্গ প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচার।    রোগী চার বছর আগে আংশিক লিঙ্গ অপসারণ (পার্শিয়াল পেনেকটমি) অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যান। অস্ত্রোপচারের পর তিনি স্বাভাবিকভাবে প্রস্রাব করতে পারলেও লিঙ্গের খুব সামান্য অংশ অবশিষ্ট ছিল, যা তার স্বাভাবিক জীবনযাপন, মানসিক স্বাস্থ্য এবং আত্মবিশ্বাসে গুরুতর প্রভাব ফেলেছিল।   অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসকেরা রোগীর শারীরিক অবস্থা, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সামঞ্জস্য, মানসিক প্রস্তুতি এবং নৈতিক বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে মূল্যায়ন করেন। সবদিক বিবেচনায় তাকে প্রতিস্থাপনের উপযুক্ত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা হয়।   অস্ত্রোপচারের নেতৃত্বদানকারী অ্যান্ড্রোলজি কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নুয়েন কোয়াং জানান, অত্যন্ত সূক্ষ্ম মাইক্রোসার্জারির মাধ্যমে মূত্রনালি, রক্তনালি, স্নায়ু এবং লিঙ্গের অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ গঠনগুলো পুনঃসংযুক্ত করা হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় উচ্চমাত্রার নিখুঁততা বজায় রাখতে হয়েছে, যাতে প্রতিস্থাপিত অঙ্গটি কার্যকর থাকে এবং ভবিষ্যতে স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।   হাসপাতাল জানিয়েছে, অস্ত্রোপচারের পর রোগীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতিস্থাপিত অঙ্গ ভালোভাবে সেরে উঠছে এবং এখন পর্যন্ত অঙ্গ প্রত্যাখ্যান বা অন্য কোনো বড় ধরনের জটিলতার লক্ষণ দেখা যায়নি। রোগীকে নিয়মিত অঙ্গ-প্রত্যাখ্যান প্রতিরোধী ওষুধ দেওয়া হচ্ছে এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে সম্পূর্ণ অনুভূতি, যৌনক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি মূত্রত্যাগের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ফিরে আসতে আরও সময় লাগবে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।   ভিয়েত ডুক ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের পরিচালক ডা. দুয়ং ডুক হুং বলেন, এ ধরনের জটিল অস্ত্রোপচারের জন্য চিকিৎসক দল কয়েক মাস ধরে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করেছে এবং বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে পরিকল্পনা সম্পন্ন করেছে।    আন্তর্জাতিক চিকিৎসা-সাহিত্যের তথ্য অনুযায়ী, এই অস্ত্রোপচারের আগে বিশ্বে মাত্র পাঁচটি সফল লিঙ্গ প্রতিস্থাপনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। ফলে ভিয়েতনামের এই সাফল্য বিশ্বব্যাপী বিরল ও গুরুত্বপূর্ণ পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচারগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সিদ্দিকুর রহমান প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ১০:২২
মার্কিন সামরিক ড্রোনের উপস্থিতির পর কোরিয়া সীমান্তে জরুরি সতর্কতা জারি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ড্রোনের কারণে কোরিয়া সীমান্তে জরুরি সতর্কতা ও বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ

কানাডার মিউজিক ফেস্টিভ্যাল থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ২৮ বছর বয়সী তরুণী

কানাডার মিউজিক ফেস্টিভ্যাল থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ২৮ বছর বয়সী নারী প্যারামেডিক

নতুন ‘এশিয়ান পপ’ ক্যাটাগরির প্রতিবাদে গ্র্যামি বর্জনের ঘোষণা বিটিএসের

নতুন ‘এশিয়ান পপ’ ক্যাটাগরির প্রতিবাদে গ্র্যামি বর্জনের ঘোষণা বিটিএসের

সামরিক প্রশিক্ষণে ঝুঁকছেন ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী
বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের শঙ্কা, সামরিক প্রশিক্ষণে ঝুঁকছেন ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

বিশ্বজুড়ে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আবহে নিজেদের সামরিক শক্তি জোরদারে বিকল্প পথে হাঁটছে যুক্তরাজ্য। দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেখানে গভীর রাত পর্যন্ত পার্টি বা পড়াশোনায় অভ্যস্ত, সেখানে একদল শিক্ষার্থী ভোরে উঠেই অংশ নিচ্ছেন ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর খণ্ডকালীন প্রশিক্ষণে।   ইউনিভার্সিটি অফিসার ট্রেনিং কর্পস (ইউওটিসি) নামের এই প্রকল্পের আওতায় প্রতি বছর প্রায় ১ হাজার ৪০০ তরুণ-তরুণী সামরিক প্রশিক্ষণে যুক্ত হচ্ছেন। যুক্তরাজ্যের ৫০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান এই কর্মসূচিতে স্নাতক পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি বছরে ৩৮ দিন সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। বিনিময়ে তারা বার্ষিক ১ হাজার ৬০০ পাউণ্ড সম্মানী, নতুন দক্ষতা এবং ভবিষ্যতে সামরিক বাহিনীতে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ পান। মূলত যুদ্ধ শুরু হলে দেশে যেন যোগ্য সেনা কর্মকর্তাদের একটি প্রস্তুত দল থাকে, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ পরিচালিত হচ্ছে।   প্রশিক্ষণরত শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গিতেও ব্যাপক পরিবর্তন আনছে এই কর্মসূচি। ২১ বছর বয়সী ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষার্থী এসমে বেকলি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার আগে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার ঘোর বিরোধী ছিলেন, কিন্তু এই প্রশিক্ষণ তাকে ভবিষ্যতের জন্য নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। অফিসার ক্যাডেটরা সপ্তাহে একদিন বিকেল এবং বছরে পাঁচটি সাপ্তাহিক ছুটি ও দুই সপ্তাহের বিশেষ অনুশীলনে অংশ নেন, যেখানে তাদের রাইফেল চালানো থেকে শুরু করে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাথমিক চিকিৎসা এবং টিকে থাকার কৌশল শেখানো হয়।   এই কর্মসূচিতে নারীদের অংশগ্রহণ প্রায় ৩০ শতাংশ, যা মূল সামরিক বাহিনীর (১২ শতাংশ) চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। এছাড়া কৃষ্ণাঙ্গ ও সংখ্যালঘু জাতিসত্তার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের হারও মূল বাহিনীর সমান। ১৯ বছর বয়সী আন্তর্জাতিক সম্পর্কের শিক্ষার্থী ডিলান ক্রোমার্টি এবং ২৪ বছর বয়সী কম্পিউটার বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ডিলান বেঙ্গির মতো তরুণরা এই প্রশিক্ষণ থেকে কেবল সামরিক জ্ঞানই নয়, বরং আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার দারুণ দক্ষতা অর্জন করছেন।   কর্মসূচিটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেললেও এর ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছু বিতর্ক রয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে প্রায় ৪০ শতাংশ ক্যাডেট নিয়মিত বা সংরক্ষিত বাহিনীতে যোগ দিলেও, এর পেছনে ব্যয় হওয়া বিপুল অর্থ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। তাছাড়া দীর্ঘদিনের নিয়ম অনুযায়ী, ক্যাডেটরা নিজেরা সংরক্ষিত বা নিয়মিত বাহিনীতে যোগ না দিলে তাদের জোরপূর্বক যুদ্ধে পাঠানো যায় না, ফলে জাতীয় নিরাপত্তায় এর সরাসরি অবদান পরিমাপ করা কঠিন। তবে সাবেক মন্ত্রী স্যার জুলিয়ান ব্রেজিয়ারের মতো বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের সক্ষমতা ধরে রাখতে এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মন্টি ওয়াকার বা অলিভিয়া হাচিনসনের মতো অনেকেই সামরিক পরিবারের সন্তান হয়েও শুরুতে অনাগ্রহী ছিলেন, কিন্তু এখন তারা কর্পোরেট জীবনের পাশাপাশি সামরিক রণকৌশল ও 'সফট স্কিল' শেখার এই দুর্দান্ত সুযোগটি দারুণভাবে উপভোগ করছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৭:৮
১৭ বছরের ধারাবাহিক পতনের পর ১২ কোটির নিচে জাপানের জনসংখ্যা, রেকর্ড বাড়ছে বিদেশি নাগরিক

১৭ বছরের ধারাবাহিক পতনের পর ১২ কোটির নিচে জাপানের জনসংখ্যা, রেকর্ড বাড়ছে বিদেশি নাগরিক

বিশ্বের এআই র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ দশে সিঙ্গাপুরের দুই স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্বের এআই র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ দশে সিঙ্গাপুরের দুই স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়

আইফোন কিনতে আর এককালীন খরচ নয়, ভাড়ায় ব্যবহারের সুযোগ আনছে অ্যাপল

আইফোন কিনতে আর এককালীন খরচ নয়, ভাড়ায় ব্যবহারের সুযোগ আনছে অ্যাপল

0 Comments