বিলাসবহুল গাড়ি নয়, ফুলে সাজানো সাইকেলেই বাবার হাত ধরে বিয়ের মঞ্চে কনে
মেক্সিকোর পুয়েবলা অঙ্গরাজ্যের সান হোসে মিয়াহুয়াতলান শহরে এক বাবার ভালোবাসার অনন্য প্রকাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখো মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে। বিলাসবহুল গাড়ি বা লিমুজিনের পরিবর্তে ফুল ও বেলুনে সাজানো নিজের সাইকেলেই মেয়ে ক্রিস্টিনা ভেনেসা কাচো সিলভাকে বিয়ের অনুষ্ঠানে পৌঁছে দেন বাবা হুয়ান কার্লোস কাচো। ঘটনাটির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তা ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সাদা বিয়ের পোশাক পরে হাতে ফুলের তোড়া নিয়ে সাইকেলের পেছনের ক্যারিয়ারে বসেছিলেন কনে। সামনে বসে সাইকেল চালাচ্ছিলেন তার বাবা। বিশেষ দিনের জন্য তিনি নিজের কালো সাইকেলটি সাদা ফুল ও বেলুন দিয়ে এমনভাবে সাজিয়েছিলেন, যেন সেটি ছোট্ট একটি বিয়ের রথে পরিণত হয়েছে।
বাবা-মেয়ের এই ব্যতিক্রমী যাত্রা শহরের বাসিন্দাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পথচারীরা দাঁড়িয়ে তাদের শুভেচ্ছা জানান, আর অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা সেই মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই ছবিগুলো মেক্সিকোজুড়ে ভাইরাল হয়ে যায়।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, হুয়ান কার্লোস কাচোর ব্যক্তিগত গাড়ি ছিল না। তাই তিনি ভাড়া করা গাড়ির পরিবর্তে নিজের সাইকেলটিকেই সাজিয়ে মেয়েকে বিয়ের অনুষ্ঠানে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে তার আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
স্থানীয় সিভিল রেজিস্ট্রিতে ক্রিস্টিনা ভেনেসা কাচো সিলভা ও মিগুয়েলের বিয়ে সম্পন্ন হয়। উপস্থিত অতিথিরা বাবার এই উদ্যোগকে করতালির মাধ্যমে স্বাগত জানান। অনেকেই মন্তব্য করেন, এই ঘটনা প্রমাণ করেছে—একজন বাবার ভালোবাসার কাছে বিলাসিতা নয়, আন্তরিকতাই সবচেয়ে বড় উপহার।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreআর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই সম্প্রতি একটি জরুরি ডিক্রিতে সই করেছেন যার মাধ্যমে দেশের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো বা কটূক্তি করা বিদেশিদের কঠোর শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই নতুন ব্যবস্থার আওতায় এমন ব্যক্তিদের আর্জেন্টিনায় প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা এবং প্রয়োজনে দেশ থেকে সরাসরি বহিষ্কার করা হবে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বৈরী ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির সরকার এই কড়া অবস্থান গ্রহণ করেছে। প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক অফিসিয়াল বিবৃতিতে অত্যন্ত কঠোর বার্তা দিয়ে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে যারা এই দেশের ওপর আক্রমণ চালাবে তাদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। সরকারের পক্ষ থেকে আরও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে যে দেশের নিরাপত্তা, সাধারণ নাগরিক এবং জাতীয় প্রতীকগুলোর সুরক্ষা সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে কোনোভাবেই কোনো আপস করা হবে না। জরুরি প্রয়োজনীয়তা ও তাগিদ ডিক্রি বা ডিএনইউ অনুযায়ী যে সকল বিদেশি নাগরিকের মধ্যে আর্জেন্টিনার জাতীয়তাকে লক্ষ্য করে ঘৃণা, বৈষম্য বা সহিংসতা ছড়ানোর প্রমাণ মিলবে তাদের জন্য দেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। এমনকি এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় কেবল মৌখিক আক্রমণ নয় বরং দেশের জাতীয় দেশপ্রেমিক প্রতীকগুলোকে অবমাননা বা অপমান করার মতো কর্মকাণ্ডেও জড়িত ব্যক্তিরা পড়বে। যদিও সরকারের এই অফিশিয়াল নথিতে সুনির্দিষ্ট কোনো একক ঘটনার নাম উল্লেখ করা হয়নি তবুও সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা সাম্প্রতিক ফিফা বিশ্বকাপ চলাকালীন আর্জেন্টিনাকে ঘিরে অনলাইনে তৈরি হওয়া তীব্র সমালোচনার জবাবেই এই পদক্ষেপ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে সম্পন্ন হওয়া ওই টুর্নামেন্টে বেশ কিছু বিতর্কিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল যার রেশ এখনো কাটেনি। বিশ্বকাপ চলাকালীন ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ সম্পর্কিত একটি বিতর্কিত ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় ফিফা ইতিমধ্যে আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক শৃঙ্খলাভঙ্গের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ব্রিটিশদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত কিন্তু আর্জেন্টিনার দাবি করা ওই অঞ্চল নিয়ে মাঠের বাইরের এই বিতর্ক সরকারের নীতিনির্ধারক মহলে দারুণ প্রভাব ফেলেছে। ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে কেবল ব্যানার প্রদর্শন নয় বরং সমর্থকদের বর্ণবাদী ও বৈষম্যমূলক স্লোগান এবং মাঠে অশোভন অঙ্গভঙ্গি করার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি ম্যাচ শুরু হতে দেরি হওয়া, স্টেডিয়ামের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যর্থ হওয়া এবং গ্যালারি থেকে দর্শকদের মাঠের ভেতর বিভিন্ন বস্তু ছোড়ার ঘটনাগুলো নিয়েও বর্তমানে গভীর তদন্ত চলছে। টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ শেষ হওয়ার পর স্পেনের বিপক্ষে মাঠে লিয়ান্দ্রো পারেদেস, নাহুয়েল মোলিনা এবং আর্জেন্টিনা দলের কর্মকর্তা রবের্তো আয়ালার মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সম্ভাব্য শারীরিক লাঞ্ছনার মতো গুরুতর অভিযোগের মুখোমুখি হতে হয়েছে। মাঠে ঘটা এসব অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে ক্রীড়াঙ্গনের শৃঙ্খলা রক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি প্রশাসন আরও কঠোর হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছে। এছাড়াও অভিযুক্তদের তালিকায় তরুণ খেলোয়াড়দের মধ্যেও নাম রয়েছে যেখানে মোলিনা এবং থিয়াগো আলমাদার পাশাপাশি প্রতিপক্ষ দল স্পেনের তরুণ তারকা গাভির বিরুদ্ধেও অসদাচরণের অভিযোগের তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মাঠের ভেতরের এসব বিশৃঙ্খলা এবং বাইরের তীব্র অনলাইন সমালোচনার পটভূমিতেই মূলত প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের এই বহুল আলোচিত ও কঠোর জরুরি ডিক্রি জারি করার মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ইরানের পরামর্শে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে ফি আরোপের পরিকল্পনা হুথিদের
ইইউ সীমান্তে অভিবাসীদের ঢল, জরুরি অবস্থা ঘোষণা, সেনা মোতায়েনের দাবি
নতুন পাসপোর্ট বিধির ফাঁদে ১০ লাখের বেশি ব্রিটিশ, বিদেশে আটকে পড়ছে ব্রিটিশ পরিবারের শিশুরা
মেক্সিকোর পুয়েবলা অঙ্গরাজ্যের সান হোসে মিয়াহুয়াতলান শহরে এক বাবার ভালোবাসার অনন্য প্রকাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখো মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে। বিলাসবহুল গাড়ি বা লিমুজিনের পরিবর্তে ফুল ও বেলুনে সাজানো নিজের সাইকেলেই মেয়ে ক্রিস্টিনা ভেনেসা কাচো সিলভাকে বিয়ের অনুষ্ঠানে পৌঁছে দেন বাবা হুয়ান কার্লোস কাচো। ঘটনাটির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তা ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সাদা বিয়ের পোশাক পরে হাতে ফুলের তোড়া নিয়ে সাইকেলের পেছনের ক্যারিয়ারে বসেছিলেন কনে। সামনে বসে সাইকেল চালাচ্ছিলেন তার বাবা। বিশেষ দিনের জন্য তিনি নিজের কালো সাইকেলটি সাদা ফুল ও বেলুন দিয়ে এমনভাবে সাজিয়েছিলেন, যেন সেটি ছোট্ট একটি বিয়ের রথে পরিণত হয়েছে। বাবা-মেয়ের এই ব্যতিক্রমী যাত্রা শহরের বাসিন্দাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পথচারীরা দাঁড়িয়ে তাদের শুভেচ্ছা জানান, আর অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা সেই মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই ছবিগুলো মেক্সিকোজুড়ে ভাইরাল হয়ে যায়। প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, হুয়ান কার্লোস কাচোর ব্যক্তিগত গাড়ি ছিল না। তাই তিনি ভাড়া করা গাড়ির পরিবর্তে নিজের সাইকেলটিকেই সাজিয়ে মেয়েকে বিয়ের অনুষ্ঠানে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে তার আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। স্থানীয় সিভিল রেজিস্ট্রিতে ক্রিস্টিনা ভেনেসা কাচো সিলভা ও মিগুয়েলের বিয়ে সম্পন্ন হয়। উপস্থিত অতিথিরা বাবার এই উদ্যোগকে করতালির মাধ্যমে স্বাগত জানান। অনেকেই মন্তব্য করেন, এই ঘটনা প্রমাণ করেছে—একজন বাবার ভালোবাসার কাছে বিলাসিতা নয়, আন্তরিকতাই সবচেয়ে বড় উপহার।
ভিয়েতনামে প্রথম সফল লিঙ্গ প্রতিস্থাপন, নতুন জীবন পেলেন ৪৩ বছর বয়সী ব্যক্তি
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ড্রোনের কারণে কোরিয়া সীমান্তে জরুরি সতর্কতা ও বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ
কানাডার মিউজিক ফেস্টিভ্যাল থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ২৮ বছর বয়সী নারী প্যারামেডিক
বিশ্বখ্যাত কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস সংগীতাঙ্গনের মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা 'গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস' বয়কটের এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গ্র্যামির আয়োজক প্রতিষ্ঠান 'রেকর্ডিং একাডেমি' ২০২৭ সালের আসরের জন্য 'বেস্ট এশিয়ান পপ মিউজিক পারফরম্যান্স' নামে একটি নতুন ক্যাটাগরি চালুর ঘোষণা দেওয়ার পরই মূলত এই প্রতিবাদের পথ বেছে নেয় জনপ্রিয় এই ব্যান্ডটি। বুধবার বিটিএসের সাত সদস্য— জিন, সুগা, জে-হোপ, আরএম, জিমিন, ভি এবং জংকুক— নিজ নিজ ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে এক বার্তায় জানান, তারা চলতি যোগ্যতার মেয়াদে গ্র্যামির কোনো ক্যাটাগরিতেই নিজেদের কাজ জমা দেবেন না। কোরিয়ান ভাষায় দেওয়া সেই বার্তায় বিটিএস সদস্যেরা স্পষ্ট করেন যে, অঞ্চল বা ভাষার ভিত্তিতে সংগীতকে বিভক্ত না করে, সুরকে যেন স্বাধীনভাবে শোনা ও ভালোবাসা হয়। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তাদের অগণিত ভক্ত বা 'আর্মি' এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে তারা এই সিদ্ধান্ত নেন। চলতি বছরের মার্চে মুক্তি পাওয়া তাদের ব্যাপক জনপ্রিয় অ্যালবাম 'আরিরাং'-এর জন্য বিটিএস একাধিক গ্র্যামি মনোনয়ন পেতে পারে বলে জোর গুঞ্জন ছিল। তবে ব্যান্ডটির এই ঐতিহাসিক বয়কটের সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে তাদের কোটি কোটি ভক্তকে হতাশ করার পাশাপাশি বড় এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে 'ডাইনামাইট' গানের মাধ্যমে প্রথম কে-পপ গোষ্ঠী হিসেবে গ্র্যামি মনোনয়ন পেয়ে ইতিহাস গড়েছিল বিটিএস। পরবর্তীতে 'বাটার', কোল্ডপ্লে-র সঙ্গে যৌথ গান 'মাই ইউনিভার্স', 'ইয়েট টু কাম'সহ মোট পাঁচটি বিভাগে তারা মনোনয়ন পায় এবং তিনবার গ্র্যামির জমকালো মঞ্চে সরাসরি পারফর্ম করেছে। অন্যদিকে, রেকর্ডিং একাডেমির প্রধান নির্বাহী হার্ভি মেসন জুনিয়র এশীয় পপসহ নতুন ক্যাটাগরিগুলোকে বিশ্ব সংগীতের বিস্তৃতির প্রতিফলন হিসেবে দাবি করলেও, বিটিএসের এই অবস্থান সংগীতকে ভৌগোলিক সীমারেখায় আটকে রাখার নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিল।
বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের শঙ্কা, সামরিক প্রশিক্ষণে ঝুঁকছেন ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
১৭ বছরের ধারাবাহিক পতনের পর ১২ কোটির নিচে জাপানের জনসংখ্যা, রেকর্ড বাড়ছে বিদেশি নাগরিক