আন্তর্জাতিক

বতসোয়ানায় পর্যটকবাহী নৌকার পিছু ধাওয়া, আতঙ্ক ছড়াল বিশাল জলহস্তী

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৭, ২০২৬ ৫:১৩
বতসোয়ানার নদীতে পর্যটকবাহী নৌকার দিকে ধেয়ে আসছে একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ জলহস্তী; অল্পের জন্য রক্ষা পান পর্যটকেরা। ছবি:সংগৃহীত
বতসোয়ানার নদীতে পর্যটকবাহী নৌকার দিকে ধেয়ে আসছে একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ জলহস্তী; অল্পের জন্য রক্ষা পান পর্যটকেরা। ছবি:সংগৃহীত

আফ্রিকার দেশ বতসোয়ানায় একটি পর্যটকবাহী নৌকার পিছু ধাওয়া করে ভয়াবহ আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ জলহস্তী। ঘটনাটি ক্যামেরায় ধারণ হওয়া ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নৌকার অভিজ্ঞ গাইড প্রথমেই একা থাকা জলহস্তীটিকে দেখতে পান। প্রাণীটির জন্য নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে তিনি নৌকার গতি কমিয়ে দেন। তবে কিছুক্ষণ তার আচরণ পর্যবেক্ষণের পর গাইড যাত্রীদের সতর্ক করে বলেন, “এখনই গতি বাড়াতে হবে, এর আগেই সে আমাদের ধাওয়া করার সিদ্ধান্ত নেয়।”

 

গাইডের আশঙ্কাই সত্যি হয়। মুহূর্তের মধ্যেই বিশাল আকৃতির জলহস্তী পানির ওপর উঠে দ্রুতগতিতে নৌকার পিছু নেয়। এক পর্যায়ে সেটি নৌকার একেবারে কয়েক ফুট পেছন পর্যন্ত চলে আসে, যা নৌকায় থাকা সবার মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

 

নৌকায় থাকা এক পর্যটক পরে বলেন, “এটি আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। কয়েকটি মুহূর্তের জন্য নৌকায় থাকা প্রত্যেকেই সত্যিই ভয় পেয়ে গিয়েছিল।”

 

সৌভাগ্যবশত, গাইডের দ্রুত সিদ্ধান্ত ও নৌকার গতি বাড়ানোর কারণে জলহস্তীটি নৌকায় পৌঁছাতে পারেনি। ফলে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

 

জলহস্তীকে অনেক সময় শান্ত প্রাণী মনে হলেও বাস্তবে এটি আফ্রিকার সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ও বিপজ্জনক বন্যপ্রাণীদের একটি। বিশেষ করে নিজেদের এলাকা বা পানিতে হুমকি অনুভব করলে তারা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে আক্রমণ করতে পারে। তাই নদীভিত্তিক সাফারিতে অভিজ্ঞ গাইডের নির্দেশনা মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
থাইল্যান্ডে দাদা-দাদিকে হত্যার পর স্কুলে কিশোর বন্দুকধারীর তাণ্ডব, শিক্ষক-ছাত্রসহ প্রাণ গেল ৭ জনের
থাইল্যান্ডে দাদা-দাদিকে হত্যার পর স্কুলে কিশোর বন্দুকধারীর তাণ্ডব, শিক্ষক-ছাত্রসহ প্রাণ গেল ৭ জনের

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে একটি হাইস্কুলে ১৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই মর্মান্তিক ঘটনায় আরও এক ডজনেরও বেশি মানুষ মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন শিক্ষার্থী ও তিনজন শিক্ষক ছাড়াও রয়েছেন অভিযুক্ত বন্দুকধারীর দাদা-দাদি। হামলা চালিয়ে তাণ্ডব চালানোর পর ঘাতক কিশোর নিজেও আত্মহত্যা করেছে।   পুলিশ জানায়, হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে ননথাবুরি প্রদেশের ব্যাং ক্রুয়াই জেলার ‘দেবসিরিন স্কুল’-এ (The Debsirin School)। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর এই হামলাকে সম্পূর্ণ 'পূর্বপরিকল্পিত' বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, অভিযুক্ত কিশোর মানসিকভাবে অত্যন্ত চাপ ও উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। স্কুলে এসে হামলা চালানোর আগেই সে বাড়িতে থাকা তার দাদা-দাদিকে গুলি করে হত্যা করে, যাদের সঙ্গে সে বসবাস করত।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘাতক কিশোরটি তার দাদার নামে নিবন্ধিত একটি আইনি অস্ত্র ব্যবহার করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। এর আগে একটি উৎসব শেষে সে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ওই বন্দুকটির একটি ছবিও পোস্ট করেছিল। থাই প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত হওয়ার সময়ও কিশোরটির কাছে ৩০ রাউন্ডের বেশি তাজা গুলি অবশিষ্ট ছিল। সে যদি নিজে আত্মহত্যা না করত, তবে আরও বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারত। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর পুলিশ বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৩:১৮
সামরিক ঘাঁটিতে আবাসন পরিকল্পনা ঘিরে ব্রিটিশ শহরে খুঁজে খুঁজে আশ্রয়প্রার্থীদের বাড়িতে হা মলা

সামরিক ঘাঁটিতে আবাসন পরিকল্পনা ঘিরে ব্রিটিশ শহরে খুঁজে খুঁজে আশ্রয়প্রার্থীদের বাড়িতে হা মলা

তুরস্কের রাষ্ট্রপতি রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ। ছবি:সংগৃহীত

ইরান উত্তেজনার মাঝে সৌদি, পাকিস্তান, তুরস্কের ন্যাটো-স্টাইল সামরিক চুক্তি

রয়্যাল সৌদি নৌবাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালিম আল-শেহরি।ছবি:সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশসহ ১৩ দেশের প্রতিরক্ষা জোটে প্রধান কমান্ডার নিয়োগ

শুভেন্দু ও মসজিদ থেকে মাইক খুলার দৃশ্য। ছবি:সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গে একের পর এক মসজিদ থেকে খুলে ফেলা হচ্ছে মাইক, শুভেন্দু বলছেন- ‘আদালতের নির্দেশ’

পশ্চিমবঙ্গে মসজিদে আজানের জন্য ব্যবহৃত লাউডস্পিকার অপসারণকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মসজিদ পরিচালনা কমিটির অভিযোগ, স্থানীয় থানার পুলিশ তাদের মৌখিকভাবে লাউডস্পিকার খুলে ফেলতে চাপ দিচ্ছে। তবে রাজ্য সরকার বলছে, এটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকে লক্ষ্য করে নেওয়া পদক্ষেপ নয়; আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী শব্দদূষণবিষয়ক বিধি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে ও দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমতায় আসার পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে আদালতের নির্দেশনা অনুসারে সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শব্দদূষণবিষয়ক বিধি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেয় পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার। বিধি অনুযায়ী, দিনে সর্বোচ্চ ৫৫ ডেসিবেল এবং রাতে সর্বোচ্চ ৪৫ ডেসিবেল পর্যন্ত শব্দের অনুমতি রয়েছে।   সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সীমা কার্যকর করতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কয়েকজন ইমামের দাবি, মসজিদ পরিচালনা কমিটিগুলোকে প্রচলিত লাউডস্পিকারের পরিবর্তে সাউন্ড বক্স ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   এ বিতর্কের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, তার সরকার কেবল আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন করছে। তিনি জানান, মসজিদ ও মন্দির—উভয় ক্ষেত্রেই শব্দ নিজ নিজ প্রাঙ্গণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে এবং বাইরে ছড়িয়ে পড়তে দেওয়া যাবে না। এ বিষয়ে পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।   মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রশাসনের অভিযানে এখন পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ২৯৯টি লাউডস্পিকার অপসারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ২০৩টি মসজিদ থেকে এবং ১ হাজার ৯৬টি মন্দির থেকে সরানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পুলিশকে কঠোর আচরণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং অধিকাংশ মসজিদ পরিচালনা কমিটি প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করেছে।   অন্যদিকে, বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতারা অভিযোগ করেছেন, বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ মৌখিকভাবে চাপ সৃষ্টি করছে। তাদের দাবি, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের নামে ধর্মীয় স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন একটি গোষ্ঠী বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে উত্থাপনের পরিকল্পনা করেছে। একই সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী তিন সংসদ সদস্য—ইউসুফ পাঠান, খলিলুর রহমান ও আবু তাহের খান—কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। সেখানে ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার পাশাপাশি শব্দদূষণবিষয়ক বিধি বাস্তবায়নে সংবেদনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।   বিদ্রোহী বিধায়ক আখরুজ্জামান বলেন, ভারতের সংবিধান সব ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার নিশ্চিত করেছে। তার ভাষায়, হিন্দুরা যেমন মন্দিরে পূজা করার স্বাধীনতা ভোগ করবে, তেমনি মুসলমানরাও মসজিদে আজান ও নামাজ আদায়ের অধিকার রাখেন।   পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রী ও জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী অভিযোগ করেন, বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ মসজিদে গিয়ে লাউডস্পিকার খুলে ফেলতে চাপ দিচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সমস্যার সমাধান না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি নেওয়া হতে পারে।   ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী এ বিষয়ে হাইকোর্টে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছেন, এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশ জারি করা হয়েছিল কি না। তার দাবি, যেসব প্রতিষ্ঠান শব্দসীমা লঙ্ঘন করছে, তাদের আগে আনুষ্ঠানিক নোটিশ দিয়ে বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি শব্দদূষণবিষয়ক বিধি বাস্তবায়নে একটি মানসম্মত কার্যপদ্ধতি প্রণয়ন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্তেরও দাবি জানান।   এদিকে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য বিরোধীদের সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে সবাই প্রতিবাদের অধিকার রাখে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বৈত মানদণ্ড পরিহার করা উচিত। তার ভাষায়, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এমন রাজনীতি গ্রহণ করবে না, যেখানে শুধু একটি পক্ষের মতামতই গ্রহণযোগ্য বলে ধরে নেওয়া হয়।   বিতর্কের মধ্যেও রাজ্য সরকার তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী দল, মুসলিম সংগঠন ও কয়েকজন জনপ্রতিনিধি প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ৭, ২০২৬ ৭:২৯
প্যারিসে অবস্থিত ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবনএলিসি প্রাসাদ । ছবি:সংগৃহীত

টক্সিক’ কর্মপরিবেশের অভিযোগ, ফ্রান্সের ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একের পর এক আত্নহত্যা

দাবানল। ছবি:সংগৃহীত

ইতালির সব বড় শহরে সর্বোচ্চ হিট অ্যালার্ট, তাপমাত্রা ছুঁয়েছে ৪২ ডিগ্রি

বতসোয়ানার নদীতে পর্যটকবাহী নৌকার দিকে ধেয়ে আসছে একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ জলহস্তী; অল্পের জন্য রক্ষা পান পর্যটকেরা। ছবি:সংগৃহীত

বতসোয়ানায় পর্যটকবাহী নৌকার পিছু ধাওয়া, আতঙ্ক ছড়াল বিশাল জলহস্তী

ব্যাংককের উপকণ্ঠে স্কুলে ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর গুলিবর্ষণের ঘটনায় আতঙ্কিত ও শোকস্তব্ধ সহপাঠী ও অভিভাবকেরা। ছবি: সংগৃহীত
থাইল্যান্ডের স্কুলে ১৪ বছরের শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলা, শিক্ষকসহ নিহত অন্তত ৬

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে একটি স্কুলে ১৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর গুলিবর্ষণে অন্তত আটজন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে হামলাকারীর দাদা-দাদিও রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, স্কুলে হামলার আগে ওই কিশোর নিজ বাড়িতে দাদা-দাদিকে হত্যা করে একই অস্ত্র নিয়ে স্কুলে প্রবেশ করে নির্বিচারে গুলি চালায়। পরে সে নিজেকেও গুলি করে; হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।    শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে ননথাবুরি প্রদেশের ব্যাং ক্রুয়াই জেলার ডেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে অনেকে গুলির শব্দকে আতশবাজির আওয়াজ মনে করেছিলেন। পরে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা প্রাণ বাঁচাতে শ্রেণিকক্ষে আশ্রয় নেন এবং কেউ কেউ জানালা দিয়ে বেরিয়ে আসেন।    থাই পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারী তার দাদার নামে নিবন্ধিত একটি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে অন্তত ২৬ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত গুলিও উদ্ধার করা হয়েছে। হামলার উদ্দেশ্য এখনও নিশ্চিত নয় এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।   প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ই রয়েছেন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে নিহত ও আহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সরকারি সূত্রে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হলে চূড়ান্ত হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করা হবে।    ঘটনার পর থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং আহতদের দ্রুত চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে স্কুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।    এটি ২০২৬ সালে থাইল্যান্ডে দ্বিতীয় স্কুলে গুলির ঘটনা। ২০২২ সালের ভয়াবহ ডে-কেয়ার সেন্টার হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী কয়েকটি হামলার পর দেশটিতে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোর করা হলেও, বেসামরিক মানুষের হাতে বিপুল সংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্র থাকায় এ ধরনের ঘটনা পুরোপুরি ঠেকানো যায়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৭, ২০২৬ ৪:৪৮
প্রস্তাবিত নতুন আইনের আওতায় ঐতিহ্যবাহী ইসলামিক নিকাহসহ বিভিন্ন ধর্মীয় বিবাহকে সহজে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে ইসলামিক নিকাহ কি পূর্ণ আইনি স্বীকৃতি পাচ্ছে!

চালের ব্যবহার কমে যাওয়াসহ নানা কারণে জাপানের খাদ্যে স্বনির্ভরতার হার কমে ৩৭ শতাংশে নেমেছে। ছবি: সংগৃহীত

২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রার নিচে জাপানের খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা, হার কমে ৩৭ শতাংশ

বিদেশি কর্মীদের জন্য যুক্তরাজ্যের নতুন কর্মসংস্থান নীতিমালা নিয়ে আলোচনার মধ্যে আলোচনায় অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে কাজ করতে চান? বিদেশিদের জন্য সরকারি চাকরির নতুন প্ল্যাটফর্ম চালু

0 Comments