সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

পিজা ডেলিভারি থেকে ৩ রেস্টুরেন্টের মালিক! ভারতীয় যুবকের ১১ বছরের যাত্রা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১২:২৭
অস্ট্রেলিয়ায় ক্যারিয়ার গড়তে শুরুতে পিজা ডেলিভারির কাজ বেছে নেন এক ভারতীয় তরুণ। ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ায় ক্যারিয়ার গড়তে শুরুতে পিজা ডেলিভারির কাজ বেছে নেন এক ভারতীয় তরুণ। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে পড়াশোনা শেষ করে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি দিয়েছিলেন এক ভারতীয় তরুণ। নিজের পড়াশোনার ক্ষেত্রে চাকরি না পেয়ে শুরু করেছিলেন পিজা শপে ফুলটাইম কাজ, পাশাপাশি পিজা ডেলিভারি। প্রায় তিন বছর পর ব্যবসায়িক অংশীদার ও সঞ্চিত অর্থ নিয়ে একটি পিজা ফ্র্যাঞ্চাইজিতে বিনিয়োগ করেন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে আরও দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি যুক্ত করে বর্তমানে তিনটি রেস্টুরেন্টের মালিক হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার শ্যালক ও উদ্যোক্তা ভিনিথ কে।

 

১১ বছর আগে উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়া ওই ব্যক্তির এই যাত্রার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তুলে ধরেন ভিনিথ। তার পোস্ট অনুযায়ী, বর্তমানে ওই ব্যক্তির অস্ট্রেলিয়ায় একটি বাড়ি ও বিএমডব্লিউ গাড়ি রয়েছে। পাশাপাশি ভারতের হায়দরাবাদে একটি বাড়ি তৈরি করেছেন এবং তার বাবা-মাকেও অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে গেছেন।

 

ভিনিথের বর্ণনা অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা শেষ করার পর নিজের পড়াশোনার ক্ষেত্রের চাকরি না পাওয়ায় তিনি পিজা শপে ফুলটাইম চাকরি নেন। সেখানে পিজা তৈরি ও অর্ডার সরবরাহের কাজ করতেন। প্রায় তিন বছর কাজ করার পর একজন ব্যবসায়িক অংশীদারের সঙ্গে মিলে এবং কিছু অর্থ বিনিয়োগ করে প্রথম পিজা ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানায় যুক্ত হন।

 

প্রথম ব্যবসা চালুর পর ধীরে ধীরে সেটি সম্প্রসারিত হয়। পরে আরও দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি যুক্ত হওয়ায় তার ব্যবসার পরিধি তিনটি রেস্টুরেন্টে পৌঁছায় বলে ভিনিথ জানিয়েছেন। তবে কোন ব্র্যান্ডের ফ্র্যাঞ্চাইজি, কত অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছিল বা ওই ব্যক্তির পড়াশোনার বিষয় কী ছিল, এসব বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

 

ব্যক্তিগত জীবনেও এ সময়ে বড় পরিবর্তন আসে। ভিনিথের পোস্ট অনুযায়ী, কোভিড-১৯ মহামারির সময় ওই ব্যক্তি ভারতে ফিরে বিয়ে করেন। পরে স্ত্রীকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে গিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যান। ২০২৬ সালে এসে তাদের পরিবারে দুই সন্তানও রয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

ভিনিথ আরও জানান, ওই ব্যক্তি অস্ট্রেলিয়ায় নিজের বাড়ি করেছেন, বিএমডব্লিউ কিনেছেন এবং হায়দরাবাদে পরিবারের জন্য একটি বাড়ি তৈরি করেছেন। পরে বাবা-মাকেও অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যান তিনি। চলতি সপ্তাহে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব পেয়েছেন বলেও ভিনিথের পোস্টে জানানো হয়।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিনিথের পোস্ট প্রকাশের পর ঘটনাটি বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে আলোচিত হয়। পোস্টটিতে মূলত একজন শিক্ষার্থী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়া, নিজের ক্ষেত্রে চাকরি না পাওয়া, পিজা ডেলিভারির কাজ শুরু করা এবং পরে ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবসায় প্রবেশের ধারাবাহিকতা তুলে ধরা হয়েছে।

 

তবে ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি। তার ব্যবসার আয়, সম্পদের মূল্য, ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর অবস্থান কিংবা নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্যও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ফলে বাড়ি, গাড়ি, তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং নাগরিকত্বসহ এসব তথ্য ভিনিথ কে-এর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ও তা নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা গেছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
এবার মার্কিন হামলা হলে নতুন অস্ত্রের শক্তি দেখাবে ইরান, চমকে যেতে পারে বিশ্ব
এবার মার্কিন হামলা হলে নতুন অস্ত্রের শক্তি দেখাবে ইরান, চমকে যেতে পারে বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে ইরানের অত্যাধুনিক সামরিক সক্ষমতা ও নতুন অস্ত্র দেখে বিশ্ব চমকে যাবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সোমবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বির বরাতে এই তথ্য জানানো হয়।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোহেব্বি স্পষ্ট জানান, মার্কিন বাহিনীর যেকোনো হামলার জবাবে ইরানের প্রতিরক্ষা ও পাল্টা আক্রমণের কৌশলে এবার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হবে। এই কৌশলগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি সম্পূর্ণ নতুন ধরনের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করবে তেহরান, যা আগের লক্ষ্যবস্তুগুলোর চেয়ে ভিন্ন এবং নতুন স্থানে আঘাত হানবে।   সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিক ও অপমানজনক পরাজয়ের মুখে পড়েছে বলে দাবি করেছেন আইআরজিসির এই মুখপাত্র। তিনি জানান, এই পরাজয় মেনে নেওয়ার মতো সাহস ওয়াশিংটনের নেই। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকা এবং মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ অভিযানের জবাবে ইরানের জলপথ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাকে তিনি মার্কিন ব্যর্থতার সুস্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন।   এছাড়াও পারস্য উপসাগরীয় এলাকা ও উত্তর ইরাকে অবস্থিত মার্কিন গোয়েন্দা ঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের সফল আঘাতের কথা উল্লেখ করে মোহেব্বি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি এখন ইরানের পূর্ণ নাগালের মধ্যে রয়েছে। তবে আইআরজিসির এসব সামরিক দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।   সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতার জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কাতার। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে জানিয়েছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছেন মধ্যস্থতাকারীরা। উভয় পক্ষের মধ্যকার মতপার্থক্য কমিয়ে এনে একটি গঠনমূলক সমঝোতার পথ খুঁজতে ইতোমধ্যে একাধিক প্রস্তাব আদান-প্রদান করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৩:৪৯
অস্ট্রেলিয়ায় ক্যারিয়ার গড়তে শুরুতে পিজা ডেলিভারির কাজ বেছে নেন এক ভারতীয় তরুণ। ছবি: সংগৃহীত

পিজা ডেলিভারি থেকে ৩ রেস্টুরেন্টের মালিক! ভারতীয় যুবকের ১১ বছরের যাত্রা

গুজরাট স্টেট জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সিভিল জজ হয়েছেন দীপু কংওয়ার। ছবি: সংগৃহীত

ঘরের কাজ বাদ দিয়ে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে বলতেন শ্বশুর, গৃহবধূ আজ সিভিল জজ

তুরস্কের এজিয়ান উপকূলে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে উদ্ধার হওয়া ২ হাজার বছরের পুরোনো রোমান মোজাইক। ছবি: সংগৃহীত

তুরস্কে মিলল বিরল রোমান মোজাইক, লেখা ২ হাজার বছর আগের পোষা প্রাণীর নাম

গুজরাটের প্রত্যন্ত কৃষক পরিবার থেকে উঠে এসে বড় হীরা ব্যবসায়ী হয়েছেন সাভজি ধোলাকিয়া। ছবি: সংগৃহীত
১৩ বছরেই স্কুল ছাড়েন, কর্মীদের ১,২৬০ গাড়ি ও ৪০০ ফ্ল্যাট উপহার দিয়ে আলোচনায় ভারতীয় ব্যবসায়ী

গুজরাটের প্রত্যন্ত কৃষক পরিবার থেকে উঠে এসে মাত্র ১৩ বছর বয়সে স্কুল ছাড়তে হয়েছিল ভারতের হীরা ব্যবসায়ী সাভজি ধোলাকিয়াকে। কিশোর বয়সেই তিনি চাচার হীরা ব্যবসায় কাজ শুরু করেন। পরে ভাইদের সঙ্গে গড়ে তোলেন হীরা রপ্তানি প্রতিষ্ঠান হরি কৃষ্ণ এক্সপোর্টস। তবে ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি কর্মীদের জন্য বড় অঙ্কের পুরস্কারের ব্যবস্থা করে আন্তর্জাতিকভাবেও আলোচনায় আসেন তিনি।    ধোলাকিয়ার জন্ম গুজরাটের আমরেলি জেলার দুধালা গ্রামের একটি কৃষক পরিবারে। ১৩ বছর বয়সে স্কুল ছেড়ে তিনি সুরাটে চাচার হীরা ব্যবসায় যোগ দেন। কয়েক বছর কাজ শেখার পর ভাই হিম্মত ও তুলসীর সঙ্গে ১৯৮৪ সালে নিজেদের হীরা ব্যবসা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে ছোট ভাই ঘনশ্যামও ব্যবসায় যুক্ত হন এবং মুম্বাইয়ে অফিস স্থাপনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপসহ বিভিন্ন বাজারে রপ্তানি শুরু হয়।    ধোলাকিয়ার ব্যবসায়িক দর্শনের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো কর্মীদের সঙ্গে সাফল্য ভাগ করে নেওয়ার নীতি। ২০১৪ সালে হরি কৃষ্ণ এক্সপোর্টসের প্রায় ১ হাজার ২০০ কর্মীকে গাড়ি, ফ্ল্যাট কেনার অর্থ এবং স্বর্ণ ও হীরার গয়না দেওয়া হয়। ওই কর্মসূচিতে প্রায় ৫০ কোটি রুপির সুবিধা দেওয়ার কথা জানিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে ৪৯১ জন কর্মী গাড়ি এবং প্রায় ২০০ জন বাড়ি কেনার জন্য অর্থ পেয়েছিলেন।    এর পরের বছরগুলোতেও এমন পুরস্কারের ধারা অব্যাহত থাকে। ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি ১ হাজার ২৬০টি গাড়ি এবং ৪০০টি ফ্ল্যাট দেওয়ার ঘোষণা দেয়। একই সময়ে কর্মীদের গয়না দেওয়ার কথাও জানানো হয়। ওই পুরস্কার সবার জন্য ছিল না। কর্মীদের বিভিন্ন কর্মদক্ষতা ও নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে নির্বাচিত করা হতো।    কর্মীদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটির পদ্ধতি ছিল কিছুটা ভিন্ন। সে সময়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে কর্মীদের বিভিন্ন পারফরম্যান্স প্যারামিটার মূল্যায়ন করা হতো। কাজের মানের পাশাপাশি সহকর্মীদের সঙ্গে আচরণ, দায়িত্বশীলতা এবং পারিবারিক দায়িত্ব পালনের মতো বিষয়ও মূল্যায়নের অংশ ছিল বলে হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।    ধোলাকিয়া বারবার বলেছেন, প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের পেছনে কর্মীদের অবদান রয়েছে এবং তাদের সেই সাফল্যের অংশীদার করা উচিত। ২০১৪ সালের এক প্রতিবেদনে তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছিল, কর্মীদের উৎসাহিত করতেই তিনি এই ধরনের লয়্যালটি প্রোগ্রাম চালু করেছিলেন। তার কাছে বিষয়টি শুধু দান বা কর্মীদের ব্যবস্থাপনার কৌশল নয়, বরং মানবিকতার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।    তার ব্যবসার পরিধিও সময়ের সঙ্গে বড় হয়েছে। হরি কৃষ্ণ এক্সপোর্টস হীরা কাটা, পালিশ ও রপ্তানির পাশাপাশি হীরা ও জুয়েলারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক বাজারে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, সংযুক্ত আরব আমিরাত, হংকং ও চীনের মতো বাজারে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।    ধোলাকিয়ার কর্মী পুরস্কারের গল্প আলোচনায় এলেও এর মূল বিষয় শুধু গাড়ি বা ফ্ল্যাট দেওয়ার ঘটনা নয়। বরং কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদি অবদানকে ব্যবসার সাফল্যের অংশ হিসেবে দেখার একটি করপোরেট সংস্কৃতি এখানে সামনে আসে। অবশ্য এই ধরনের বড় পুরস্কার দেওয়ার মডেল সব প্রতিষ্ঠানের জন্য বাস্তবসম্মত নয়। তবে কর্মীদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া, সাফল্যের সঙ্গে তাদের যুক্ত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরি করার ধারণাটি ব্যবসা পরিচালনায় আলাদা একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে আলোচিত হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৯:৫১
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশনে এরদোগানের ১৬তম ভাষণ, গুরুত্ব পাচ্ছে গাজা ও ফিলিস্তিন

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশনে এরদোগানের ১৬তম ভাষণ, গুরুত্ব পাচ্ছে গাজা ও ফিলিস্তিন

ইরানে বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ফরাসি ভাষা শিক্ষাকেন্দ্র বন্ধ, বাড়ছে কূটনৈতিক উত্তেজনা

ইরানে বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ফরাসি ভাষা শিক্ষাকেন্দ্র বন্ধ, বাড়ছে কূটনৈতিক উত্তেজনা

নেপালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চলছে

নেপালে বন্যার এক মাস পরও নিখোঁজ ৬ হাজার, মৃ তের সংখ্যা ছাড়াল ১,৪৫০

এআই মানবসভ্যতা ধ্বংস করবে না, ‘ডুমসডে’ তত্ত্ব উড়িয়ে দিলেন এনভিডিয়া সিইও
এআই মানবসভ্যতা ধ্বংস করবে না, ‘ডুমসডে’ তত্ত্ব উড়িয়ে দিলেন এনভিডিয়া সিইও

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দ্রুত বিকাশ মানবসভ্যতার জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে—সিলিকন ভ্যালিতে চলমান এমন উদ্বেগ ও জল্পনাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেনসেন হুয়াং।   সম্প্রতি সিবিএস নিউজের সাংবাদিক জো লিং কেন্টের সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এআই সংক্রান্ত সব ‘ডুমসডে ন্যারেটিভ’ বা বিশ্ব ধ্বংসের তত্ত্বকে ভিত্তিহীন বলে আখ্যায়িত করেছেন। হুয়াং জোর দিয়ে বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এআইয়ের কারণে পৃথিবীর ধ্বংস হওয়ার কোনো আশঙ্কাই নেই এবং এর সম্ভাবনা একেবারে শূন্য শতাংশ। তিনি আরও যোগ করেন, বিজ্ঞানভিত্তিক প্রমাণ ছাড়া অকারণে মানুষকে ভয় দেখানো সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ।   সম্প্রতি প্রযুক্তি জগতে এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয় অ্যানথ্রপিক-এর সাবেক গবেষক জ্যাকব কক্সনের একটি ভাইরাল এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টের পর। ওই পোস্টে তিনি দাবি করেছিলেন, শীর্ষস্থানীয় এআই ডেভেলপাররা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এবং দায়িত্বহীনভাবে সুপারইন্টেলিজেন্স তৈরির দিকে এগোচ্ছে, যা মানুষের জীবন নিয়ে জুয়া খেলার শামিল।   তাঁর এমন আশঙ্কার পর অ্যানথ্রপিক সিইও দারিও আমোদেউ এবং ওপেনএআই সিইও স্যাম অল্টম্যানসহ বেশ কয়েকজন প্রযুক্তি নেতা এআইয়ের উন্নয়ন কিছুটা ধীর করার আহ্বান জানান। তবে জেনসেন হুয়াং এই ধরনের নেতিবাচক ভবিষ্যদ্বাণীকে ‘বিজ্ঞানসম্মত নয়’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। উল্লেখ্য, বর্তমান এআই বিপ্লবে এনভিডিয়া অন্যতম প্রধান অংশীদার, যারা ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকসহ প্রায় সব বড় কোম্পানিকে তাদের মডেল প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় চিপ সরবরাহ করে থাকে।   এআই নিয়ন্ত্রণে নতুন কোনো নীতিমালার বা ‘গার্ডরেইল’-এর প্রয়োজন আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে হুয়াং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতের সাথে সুর মিলিয়ে জানান যে, বর্তমান মার্কিন আইনই যথেষ্ট। সাইবার নিরাপত্তা, পণ্যের দায়বদ্ধতা এবং অননুমোদিত প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনগুলো যথাযথভাবে প্রয়োগ করলেই এআই খাতকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।   এনভিডিয়া সিইওর মতে, বিশ্ব ধ্বংসের মতো কাল্পনিক গল্পের দোহাই দিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করে তাদের বর্তমান আইনি কাঠামোর দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি দেওয়া উচিত নয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৭:২১
ইমরান খানের বোন আলিমা খানকে ঘিরে পাকিস্তানে রাজনৈতিক উত্তেজনা

ইমরান খানের বোনকে গ্রে প্তার, ২৭ সেপ্টেম্বরের আন্দোলনের আগে পাকিস্তানে উত্তেজনা

যুদ্ধের ধাক্কায় ইরানে পেট্রল সংকট, স্টেশনে দীর্ঘ যানবাহনের সারি

পেট্রল সংকটে বিপর্যস্ত ইরান, দাম দ্বিগুণের পথে: ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

স্কুলগুলোতে হিজাব ও বোরকা নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে ইতালি সরকার। ছবি: সংগৃহীত

ইতালির স্কুলে নিষিদ্ধ হচ্ছে হিজাব-বোরকা, বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যাও সীমিত করার পরিকল্পনা

0 Comments