মুসলিমদের নামাজের কষ্ট দেখে দরজা খুলে দিল জার্মানির গির্জা, প্রশংসিত ধর্মীয় সম্প্রীতি
করোনাভাইরাস মহামারির সময় সামাজিক দূরত্বের বিধিনিষেধে মসজিদে জায়গার সংকট দেখা দেওয়ায় ২০২০ সালের রমজানে মুসলিমদের জুমার নামাজ আদায়ের জন্য দরজা খুলে দিয়েছিল জার্মানির বার্লিনের একটি লুথেরান গির্জা। শহরের ক্রয়ৎসবার্গ এলাকায় অবস্থিত মার্থা লুথেরান চার্চের এ উদ্যোগ আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার এক উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে।
বার্লিনের নয়ক্যোলন এলাকায় অবস্থিত দার আসসালাম মসজিদে সাধারণত শত শত মুসল্লি নামাজ আদায় করতেন। কিন্তু করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নিয়ম কার্যকর থাকায় একসঙ্গে মাত্র ৫০ জনের মতো মুসল্লির নামাজ আদায়ের সুযোগ ছিল। ফলে রমজান মাসে বিশেষ করে জুমার নামাজের জন্য জায়গার সংকট তৈরি হয়।
এ পরিস্থিতিতে কাছাকাছি অবস্থিত মার্থা লুথেরান চার্চ মুসল্লিদের জন্য নিজেদের প্রার্থনাকক্ষ ব্যবহারের সুযোগ দেয়। গির্জার ভেতরে মুসল্লিরা আরবি ভাষায় জুমার নামাজ আদায় করেন। তাঁদের মাথার ওপর ছিল ভার্জিন মেরির ছবি সংবলিত রঙিন কাচের জানালা, যা দৃশ্যটিকে বিশেষ তাৎপর্য দেয়।
দার আসসালাম মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ তাহা সাবরি এ উদ্যোগকে কঠিন সময়ে সংহতি ও সহমর্মিতার নিদর্শন হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, সংকটের সময় একে অপরের পাশে দাঁড়ানোই মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
গির্জার যাজক মনিকা ম্যাথিয়াসও মুসলিমদের নামাজের আয়োজনে অংশ নেন। ভিন্ন ধর্মের মানুষের কাছ থেকে শেখা, তাঁদের বিশ্বাসকে বোঝা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
২০২০ সালের মে মাসে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে আসে ঘটনাটি। করোনার বিধিনিষেধের মধ্যে ধর্মীয় উপাসনালয়ের সীমিত সক্ষমতা যে মানুষের ধর্মীয় চর্চায় বাধা তৈরি করেছিল, এ উদ্যোগ তার একটি বাস্তব উদাহরণ। একই সঙ্গে এটি দেখিয়ে দেয়, সংকটের সময় ধর্মীয় পরিচয়ের সীমা পেরিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।
মসজিদে জায়গার অভাবে মুসল্লিদের নামাজ আদায় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও গির্জার এ সহযোগিতায় তাঁরা জুমার নামাজ আদায়ের সুযোগ পান। মহামারির কঠিন সময়ে বার্লিনের এই উদ্যোগ বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে সহাবস্থান, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার একটি স্মরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে ডানপন্থী নেতা ফ্লাভিও বলসোনারোর। দেশ ছাড়ার ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা এবং পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ অমান্য করে তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার খবরের মধ্যেই বলসোনারো ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভিসা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর অবস্থান এবং দেশ ছাড়ার সুনির্দিষ্ট পথ নিয়ে এখনো কিছু তথ্য অস্পষ্ট। মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ফ্লাভিও বলসোনারো ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভিসা দেওয়া হবে এবং তাঁদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। তবে তিনি বলসোনারো ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলেননি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন ও ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনে পরাজয়ের পর বলসোনারো যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ব্রাজিল ছেড়েছেন। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের খবরে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর কথাও বলা হয়েছে। তবে ব্রাজিল থেকে তিনি ঠিক কোন পথে দেশ ছেড়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। আর্জেন্টিনা হয়ে তাঁর যাওয়ার খবর এলেও দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বলসোনারোর প্রবেশের কোনো রেকর্ড তাদের কাছে নেই। ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেকজান্দ্রে দি মোরায়েস নির্বাচনের পর বলসোনারোকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর সাধারণ ও কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরে সেই সময়সীমা শেষ হলেও তিনি পাসপোর্ট জমা দেননি। পরে তাঁর ব্রাজিলীয় পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়। বলসোনারোর দেশত্যাগের খবর এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন অর্থপাচারসহ কয়েকটি অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। নির্বাচনে পরাজয়ের পর তাঁর সংসদীয় দায়মুক্তিও হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা চলমান আইনি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে। গত রোববারের নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভার কাছে হেরে যান ৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও। ফল ঘোষণার পর তিনি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন এবং ফল চ্যালেঞ্জ করার ইঙ্গিত দেন। তবে তাঁর দল নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছে। দেশ ছাড়ার খবর প্রকাশের আগের দিন এক ভিডিও বার্তায় বলসোনারো জানিয়েছিলেন, ব্রাজিল ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই। বরং তিনি দেশে থেকেই লুলা সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে সংগঠিত করতে চান বলে দাবি করেছিলেন। কিন্তু পরদিন তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার খবর প্রকাশিত হলে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ফ্লাভিও বলসোনারোর ভাই এদুয়ার্দো বলসোনারো যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বসবাস করেন। নির্বাচনে হারলে ফ্লাভিওর দেশ ছাড়ার পক্ষে তিনি আগেই বক্তব্য দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও বলসোনারো পরিবারের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ফ্লাভিওর বাবা জাইর বলসোনারো ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট। ২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে পরাজয়ের পর তিনিও যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। পরে ব্রাজিলে ফিরে অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের মামলায় দণ্ডিত হন তিনি। বাবার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ধরে রেখেই এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন ফ্লাভিও। নির্বাচনে পরাজয়, আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ এবং চলমান তদন্তের মধ্যে ফ্লাভিওর যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ঘটনা ব্রাজিলের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তের অগ্রগতি এবং যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর অবস্থান নিয়ে দুই দেশের কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন নজর রয়েছে।
"তুই আমার থেকে বেশি আয় করিস" মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়ায় স্ত্রীকে রাস্তায় মারধর
মুসলিমদের নামাজের কষ্ট দেখে দরজা খুলে দিল জার্মানির গির্জা, প্রশংসিত ধর্মীয় সম্প্রীতি
ছেলেকে নার্সারিতে পৌঁছে দিতে গিয়ে মায়ের কোলের নবজাতকের মাথায় অ্যাভোকাডো পড়ে শিশুর মৃত্যু
কানাডার আলবার্টা প্রদেশের ক্যালগারিতে ইমামের দায়িত্ব পালন করা আবদি হারসিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি পুরোনো ফৌজদারি মামলা। ২০০৬ সালে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে দুই নারী রোগীর সঙ্গে যৌন অসদাচরণের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ছয়টি ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছিল। ২০১৫ সালে প্রকাশিত মার্কিন ও কানাডীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়েছিল। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতে বিচার সম্পন্ন হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল নিউজ ও কানাডার সিবিসি নিউজের ২০১৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হারসি যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার উডবেরি এলাকায় একটি হাসপাতালে রেসপিরেটরি থেরাপিস্ট হিসেবে কাজ করার সময় এ অভিযোগ ওঠে। দুই নারী রোগীর অভিযোগ ছিল, চিকিৎসাসেবা নেওয়ার সময় তাঁদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন আচরণ করা হয়েছিল। হারসি অবশ্য অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছিলেন। মিনেসোটা জুডিশিয়াল ব্রাঞ্চের আদালতসংক্রান্ত নথির বরাত দিয়ে গ্লোবাল নিউজ জানিয়েছিল, ২০০৬ সালে তাঁর বিরুদ্ধে চতুর্থ ডিগ্রির যৌন অসদাচরণের দুটি, পঞ্চম ডিগ্রির যৌন অসদাচরণের দুটি এবং অপরাধমূলক নির্যাতনের দুটি অভিযোগ আনা হয়। ২০১৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, হারসি অভিযোগগুলোর জবাব দিতে মিনেসোটায় কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন বলে দাবি করেন। তবে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ কানাডায় ফেরত পাঠায়। তাঁর বক্তব্য ছিল, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে আদালতে নিজের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ না পাওয়ায় অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়নি। সিবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হারসি কানাডায় শরণার্থী সুরক্ষার মর্যাদা পেয়েছিলেন। পরে তাঁর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারাধীন অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসার পর কানাডার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁর ওই মর্যাদা পুনর্বিবেচনা করে। তবে তিনি আইনি চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে শরণার্থী সুরক্ষার মর্যাদা বজায় রাখতে সক্ষম হন। হারসি ক্যালগারির সোমালি মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে পরিচিত মুখ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আবু বকর ইসলামিক সেন্টারের ওয়েবসাইটেও তাঁকে ইমাম হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়েও আলোচনা তৈরি হয়েছিল। এ ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ফৌজদারি অভিযোগ থাকা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। হারসি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং তাঁর বক্তব্য ছিল, তিনি আদালতে নিজের নির্দোষিতা প্রমাণ করতে চান। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে মামলার অভিযোগ, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং অভিবাসনসংক্রান্ত জটিলতার কথা উঠে এলেও, বর্তমানে পরোয়ানাটির কার্যকর অবস্থা কিংবা মামলার সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে হালনাগাদ সরকারি তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি। তাই ঘটনাটিকে নতুন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি বা সাম্প্রতিক কোনো গ্রেপ্তারের ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ নেই। বরং ২০০৬ সালের অভিযোগ এবং ২০১৫ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর প্রেক্ষাপটে বিষয়টি দেখা প্রয়োজন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আবদি হারসিকে অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
অরুণাচলের ৫০ কিলোমিটার ভেতরে চীনা সেনা, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি কংগ্রেসের
ইসরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট পিছিয়ে, ক্ষমতার সমীকরণ বদলাতে পারে আরব দলগুলো
কানাডার এক্সপ্রেস এন্ট্রিতে ৩ নভেম্বর থেকে নতুন নিয়ম, যোগ্য চাকরিতে মিলবে সর্বোচ্চ ১০০ পয়েন্ট
ইতালির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের (চেম্বার অব ডেপুটিজ) কম্পিউটার সিস্টেমে সম্প্রতি এক সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিসহ বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতার ইমেইল অ্যাকাউন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইতালীয় বার্তা সংস্থা আনসা। তবে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর পালাজ্জো চিগি নিশ্চিত করেছে যে, মেলোনির আক্রান্ত ইমেইল অ্যাকাউন্টটি তাঁর সংসদীয় কাজের জন্য নির্ধারিত ছিল, সরকারি কোনো গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগে সেটি ব্যবহৃত হতো না। হামলায় নিম্নকক্ষের পুরো তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা আক্রান্ত হলেও কারিগরি বিশেষজ্ঞরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ সূত্র জানিয়েছে, এই ঘটনাকে কোনো গুরুতর জরুরি নিরাপত্তা সংকট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না, কারণ প্রাতিষ্ঠানিক সিস্টেমে এমন অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রায়শই ঘটে থাকে। ইতিমধ্যেই জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার (এসিএন) সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে কম্পিউটার সিস্টেমের কিছু কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখাও এই স্বাভাবিক নিরাপত্তা প্রক্রিয়ারই একটি অংশ। সাম্প্রতিক সময়ে ইতালির পাশাপাশি বিভিন্ন ইউরোপীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থায় এ ধরনের সাইবার হামলা এবং এর চাপ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
ইসরায়েলের নির্বাচনে আরব ভোটারদের ঢল, ক্ষমতা হারানোর শঙ্কায় নেতানিয়াহুর জরুরি বার্তা
শিক্ষক ও পরামর্শক হিসেবে সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা