সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

ব্রিটেনের অভিবাসন নিয়মে বড় পরিবর্তনঃ স্পনসর লাইসেন্স ও শিক্ষার্থীদের অর্থের শর্তে নতুন নির্দেশনা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: নভেম্বর ২, ২০২৬ ২:২৫
ব্রিটেনের অভিবাসন নিয়মে বড় পরিবর্তন
ব্রিটেনের অভিবাসন নিয়মে বড় পরিবর্তন

স্পনসর লাইসেন্স পরিচালনা ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আর্থিক যোগ্যতার নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে ব্রিটিশ সরকার। নতুন নির্দেশনায় বিদেশি কর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের স্পনসরশিপ ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা ও জবাবদিহি জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনকারীদের জীবনযাত্রার খরচ বাবদ ব্যাংকে দেখাতে হবে আগের চেয়ে বেশি অর্থ। স্পনসরশিপের বেশ কিছু পরিবর্তন ইতোমধ্যে কার্যকর হলেও শিক্ষার্থীদের নতুন আর্থিক শর্ত কার্যকর হবে আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে।

 

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ইউকে ভিসাস অ্যান্ড ইমিগ্রেশন (ইউকেভিআই) প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, স্পনসর লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য স্পনসরশিপ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্যবহারে নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু হয়েছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে এই সিস্টেমের ব্যবহারকারীদের জন্য মাল্টি ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে শুধু পাসওয়ার্ড দিয়ে অ্যাকাউন্টে প্রবেশের পরিবর্তে অতিরিক্ত পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজন হচ্ছে।

 

নতুন নির্দেশনায় স্পনসরশিপ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের লেভেল টু ইউজার পদ ধাপে ধাপে বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্তও রয়েছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন করে এই পর্যায়ের ব্যবহারকারী নিয়োগ বন্ধ হয়েছে। আগামী ৮ মার্চ ২০২৭ সালের পর পদটি পুরোপুরি বিলুপ্ত হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থাপনায় নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে।

স্পনসর লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের অনুমোদিত ব্যবহারকারীদের তথ্য হালনাগাদ রাখতে এবং নিয়মিত অ্যাকাউন্ট ব্যবহার নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টসংক্রান্ত নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ না করলে প্রতিষ্ঠানের স্পনসর লাইসেন্স ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এসব নিয়ম মূলত যুক্তরাজ্যে বিদেশি কর্মী নিয়োগের অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ও তাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য প্রযোজ্য।

 

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে জীবনযাত্রার খরচ দেখানোর শর্তে। আগামী ৩০ নভেম্বর বা তার পরে স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন জমা দিলে লন্ডনে পড়াশোনার জন্য প্রতি মাসে ১ হাজার ৫৭০ পাউন্ড এবং লন্ডনের বাইরে পড়াশোনার জন্য প্রতি মাসে ১ হাজার ২০৩ পাউন্ড দেখাতে হবে। বর্তমানে এই অর্থের পরিমাণ যথাক্রমে ১ হাজার ৫২৯ পাউন্ড এবং ১ হাজার ১৭১ পাউন্ড।

নতুন নিয়মে লন্ডনে নয় মাস বা তার বেশি সময়ের কোর্সের জন্য জীবনযাত্রার খরচ বাবদ সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ১৩০ পাউন্ড দেখাতে হবে। লন্ডনের বাইরে একই সময়ের জন্য প্রয়োজন হবে ১০ হাজার ৮২৭ পাউন্ড। এর সঙ্গে প্রযোজ্য টিউশন ফি বাবদ প্রয়োজনীয় অর্থও থাকতে হবে। ফলে যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদনের আগে আর্থিক প্রস্তুতি নতুন করে হিসাব করতে হবে।

 

ব্রিটিশ সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণভাবে আবেদনকারীকে প্রয়োজনীয় অর্থ টানা ২৮ দিন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রাখতে হবে। ওই ২৮ দিনের সময়সীমার শেষ দিনটি ভিসা আবেদনের তারিখের সর্বোচ্চ ৩১ দিন আগের হতে পারবে। অর্থাৎ আবেদন জমা দেওয়ার ঠিক আগে ব্যাংকে টাকা জমা করলেই শর্ত পূরণ হবে না। তবে অনুমোদিত স্টুডেন্ট লোন বা সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক স্কলারশিপের ক্ষেত্রে অর্থের প্রমাণ দেওয়ার পদ্ধতি আলাদা হতে পারে।

আবেদনকারী নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে বাবা-মায়ের অ্যাকাউন্টের অর্থও ব্যবহার করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সম্মতিপত্র ও আর্থিক প্রমাণ দিতে হবে। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ ব্যাংকের দেওয়া তথ্য যাচাই করতে পারে। আর্থিক তথ্য যাচাই করা সম্ভব না হলে ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

 

তবে সব শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে ব্যাংকে অর্থ দেখানোর নিয়ম এক নয়। যেসব আবেদনকারী বৈধ ভিসা নিয়ে যুক্তরাজ্যে অন্তত ১২ মাস অবস্থান করেছেন এবং দেশটির ভেতর থেকে স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করছেন, তাঁদের সাধারণত নতুন করে আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হয় না। একইভাবে নির্দিষ্ট ধরনের সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক সহায়তা পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্যও আলাদা বিধান রয়েছে।

নতুন আর্থিক শর্ত ৩০ নভেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ায় এর আগে আবেদন জমা দেওয়া শিক্ষার্থীরা আগের নির্ধারিত অর্থের নিয়মের আওতায় থাকবেন। তবে আবেদন করার সময় কোর্সের মেয়াদ, টিউশন ফি, আগে পরিশোধ করা অর্থ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া কনফার্মেশন অব অ্যাকসেপ্ট্যান্স ফর স্টাডিজ বা সিএএসের তথ্য মিলিয়ে প্রয়োজনীয় অর্থ হিসাব করতে হবে।

 

এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর স্পনসরশিপ ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তন এসেছে। গত ৯ অক্টোবর হালনাগাদ করা স্টুডেন্ট স্পনসর নির্দেশনায় শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন, স্পনসরশিপের দায়িত্ব এবং নিয়ম মেনে কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়গুলো স্পষ্ট করা হয়েছে। বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করতে ইচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোকে নির্ধারিত স্পনসর লাইসেন্সের শর্ত পূরণ করতে হবে।

স্টুডেন্ট স্পনসরদের কার্যক্রম মূল্যায়নের ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন মূল্যায়ন কাঠামোয় শিক্ষার্থীদের কোর্স সম্পন্ন করার হারসহ বিভিন্ন সূচক বিবেচনা করা হচ্ছে। ২০২৭ সালের ১ জুন থেকে নির্দিষ্ট মূল্যায়নে কোর্স সম্পন্ন করার ন্যূনতম হার ৯০ শতাংশ করার বিধান কার্যকর হবে। এর আগের অন্তর্বর্তী সময়ে ৮৫ শতাংশের শর্ত বহাল রয়েছে।

 

ব্রিটিশ সরকারের এসব পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাজ্যে কর্মী নিয়োগ করতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠান এবং উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদনকারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, উভয় পক্ষকেই নতুন নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে স্টুডেন্ট ভিসায় যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সময়ের আগে ব্যাংকে প্রয়োজনীয় অর্থ প্রস্তুত রাখা এবং আবেদন জমা দেওয়ার তারিখ অনুযায়ী প্রযোজ্য নিয়ম নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
 


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
লন্ডনে পড়াশোনার কথা বলে ভারতে ফিরে আসার পর পুনেতে মুগ্ধা দেশমুখের মরদেহ উদ্ধার। ছবি: সংগৃহীত
লন্ডনে পড়তে গিয়ে গোপনে দেশে ফেরেন তরুণী, ভাড়া বাসায় মিলল মরদেহ

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে এমবিএ পড়তে গিয়ে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে ভারতে ফিরে এসেছিলেন ৩৪ বছর বয়সী এক নারী। অথচ নিয়মিত ফোন ও মেসেজে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে বুঝিয়েছিলেন, তিনি এখনো লন্ডনেই রয়েছেন। শেষ পর্যন্ত ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনে শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মুগ্ধা দেশমুখ নামের ওই নারীর মৃত্যুর কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুগ্ধা দেশমুখ মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের বাসিন্দা। উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে তিনি যুক্তরাজ্যে যান। সেখানে এমবিএ করার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু পরের মাস অর্থাৎ আগস্টেই তিনি ভারতে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের কাছে গোপন রেখেছিলেন তিনি।   ভারতে ফিরে মুগ্ধা পুনের গাহুঞ্জে এলাকায় একটি ভাড়া অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করছিলেন। অন্যদিকে তাঁর বাবা-মা জানতেন, মেয়ে যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করছেন। নিয়মিত ফোনালাপ ও মেসেজের কারণে মেয়ের অবস্থান নিয়ে তাঁদের সন্দেহ হওয়ার কোনো তথ্য প্রতিবেদনের সংক্ষিপ্ত বিবরণে পাওয়া যায়নি।   ঘটনাটি সামনে আসার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, কেন মুগ্ধা যুক্তরাজ্য থেকে ফিরে আসার বিষয়টি পরিবারের কাছে গোপন রেখেছিলেন। একই সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর কারণ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে দেশে ফেরার পেছনে ব্যক্তিগত, শিক্ষাগত কিংবা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ অক্টোবর মুগ্ধার সঙ্গে তাঁর মায়ের শেষবার ফোনে কথা হয়। সেদিন মুগ্ধা জানিয়েছিলেন, তিনি একটি চাকরির ইন্টারভিউয়ে যাচ্ছেন। পরদিন ২৪ অক্টোবর থেকে পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি। ফোন বন্ধ পাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন বাবা-মা।   এরপর পরিবার লন্ডনে থাকা মুগ্ধার এক বান্ধবীর সঙ্গে যোগাযোগ করে। ওই বান্ধবী জানান, ২২ অক্টোবর মুগ্ধার সঙ্গে তাঁর শেষবার মেসেজে কথা হয়েছিল। পরে তিনি লন্ডন পুলিশের সহায়তা চান। পুলিশের কাছ থেকে জানা যায়, মুগ্ধা আগস্টের শেষ দিকে যুক্তরাজ্য ছেড়ে চলে গেছেন।   মেয়ের প্রকৃত অবস্থান জানতে তাঁর বাবা অবিনাশ দেশমুখ ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদেন পরীক্ষা করেন। সেখানে ৮ থেকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে ভারতের বিভিন্ন অনলাইন সেবায় অর্থ পরিশোধের তথ্য পাওয়া যায়। খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সুইগি ও জোমাটোসহ কয়েকটি প্ল্যাটফর্মে লেনদেন হয়েছিল। এসব তথ্য থেকে পরিবার প্রথম বুঝতে পারে, মুগ্ধা সম্ভবত ভারতেই অবস্থান করছেন।   পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। অনলাইনে খাবার অর্ডারের তথ্য অনুসরণ করে পুনের গাহুঞ্জে এলাকার লোধা বেলমন্ডো আবাসিক কমপ্লেক্সে মুগ্ধার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে পুলিশ সেখানে গিয়ে তাঁর অ্যাপার্টমেন্টের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পায়। বিকল্প চাবির সাহায্যে দরজা খুলে ভেতরে তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়।   পিম্পরি চিনচওয়াড়ের শিরগাঁও থানার সিনিয়র পুলিশ ইন্সপেক্টর দেবেন্দ্র চাভান জানিয়েছেন, প্রাথমিক পরীক্ষায় মুগ্ধার শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তাঁর শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গের নমুনা সংরক্ষণ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।   তদন্তে আরও জানা গেছে, মুগ্ধা চলতি বছরের এপ্রিলের দিকে অ্যাপার্টমেন্টটি ভাড়া নিয়েছিলেন। তবে সেখানে বসবাস শুরু করেন আগস্ট বা সেপ্টেম্বরের দিকে। পুনেতে থাকার সময় তিনি অনলাইনে এমবিএ শিক্ষার্থীদের কিছু বিষয় পড়াতেন বলেও পুলিশ তথ্য পেয়েছে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুগ্ধা প্রতিবেশীদের সঙ্গে খুব একটা মেলামেশা করতেন না। তাঁর বাসায় অতিথিদের যাতায়াতও ছিল কম। মরদেহ উদ্ধারের প্রায় এক সপ্তাহ আগে তিনি গৃহকর্মীকে জানিয়েছিলেন, বাসা ছেড়ে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এ কারণে তাঁকে আর কাজে আসতে নিষেধ করেছিলেন।   পুলিশ এখন মুগ্ধার ফোনের কল রেকর্ড, ব্যাংক লেনদেন এবং অন্যান্য তথ্য পরীক্ষা করছে। কেন তিনি পরিবারকে না জানিয়ে যুক্তরাজ্য থেকে ভারতে ফিরেছিলেন, পুনেতে একা থাকার সিদ্ধান্ত কেন নিয়েছিলেন এবং মৃত্যুর আগে তাঁর সঙ্গে কারও যোগাযোগ হয়েছিল কি না, সেসব বিষয়ও তদন্ত করা হচ্ছে।   মুগ্ধার মৃত্যুকে ঘিরে এখনো কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার বিষয় নিশ্চিত করেনি পুলিশ। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত ফল এবং তদন্তের তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

প্রকাশ: নভেম্বর ২, ২০২৬ ৪:৫১
সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্বর্ণের দরপতনে গয়না ও কয়েন কেনার আগ্রহ বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

আমিরাতে স্বর্ণের দাম কমতেই কেনাকাটার হিড়িক, গয়না ও কয়েনে বাড়ছে আগ্রহ

২০২৭ সালের জন্য রেকর্ড ৬১৪.৫ বিলিয়ন ডলারের বাজেট প্রস্তাব করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বড় বিনিয়োগের রেকর্ড! দক্ষিণ কোরিয়ার ৬১৪ বিলিয়ন ডলারের বাজেট প্রস্তাব

দূষণ নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিনিষেধের প্রথম দিনে দিল্লিতে ১,৫৩৯টি যানবাহনকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। ছবি: সংগৃহীত

দিল্লিতে দূষণ রোধে গাড়ি প্রবেশে বিধিনিষেধ, একদিনেই ৬৮ লাখ রুপি জরিমানা

ব্রিটেনের অভিবাসন নিয়মে বড় পরিবর্তন
ব্রিটেনের অভিবাসন নিয়মে বড় পরিবর্তনঃ স্পনসর লাইসেন্স ও শিক্ষার্থীদের অর্থের শর্তে নতুন নির্দেশনা

স্পনসর লাইসেন্স পরিচালনা ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আর্থিক যোগ্যতার নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে ব্রিটিশ সরকার। নতুন নির্দেশনায় বিদেশি কর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের স্পনসরশিপ ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা ও জবাবদিহি জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনকারীদের জীবনযাত্রার খরচ বাবদ ব্যাংকে দেখাতে হবে আগের চেয়ে বেশি অর্থ। স্পনসরশিপের বেশ কিছু পরিবর্তন ইতোমধ্যে কার্যকর হলেও শিক্ষার্থীদের নতুন আর্থিক শর্ত কার্যকর হবে আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে।   ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ইউকে ভিসাস অ্যান্ড ইমিগ্রেশন (ইউকেভিআই) প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, স্পনসর লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য স্পনসরশিপ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্যবহারে নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু হয়েছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে এই সিস্টেমের ব্যবহারকারীদের জন্য মাল্টি ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে শুধু পাসওয়ার্ড দিয়ে অ্যাকাউন্টে প্রবেশের পরিবর্তে অতিরিক্ত পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজন হচ্ছে।   নতুন নির্দেশনায় স্পনসরশিপ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের লেভেল টু ইউজার পদ ধাপে ধাপে বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্তও রয়েছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন করে এই পর্যায়ের ব্যবহারকারী নিয়োগ বন্ধ হয়েছে। আগামী ৮ মার্চ ২০২৭ সালের পর পদটি পুরোপুরি বিলুপ্ত হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থাপনায় নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে। স্পনসর লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের অনুমোদিত ব্যবহারকারীদের তথ্য হালনাগাদ রাখতে এবং নিয়মিত অ্যাকাউন্ট ব্যবহার নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টসংক্রান্ত নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ না করলে প্রতিষ্ঠানের স্পনসর লাইসেন্স ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এসব নিয়ম মূলত যুক্তরাজ্যে বিদেশি কর্মী নিয়োগের অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ও তাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য প্রযোজ্য।   অন্যদিকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে জীবনযাত্রার খরচ দেখানোর শর্তে। আগামী ৩০ নভেম্বর বা তার পরে স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন জমা দিলে লন্ডনে পড়াশোনার জন্য প্রতি মাসে ১ হাজার ৫৭০ পাউন্ড এবং লন্ডনের বাইরে পড়াশোনার জন্য প্রতি মাসে ১ হাজার ২০৩ পাউন্ড দেখাতে হবে। বর্তমানে এই অর্থের পরিমাণ যথাক্রমে ১ হাজার ৫২৯ পাউন্ড এবং ১ হাজার ১৭১ পাউন্ড। নতুন নিয়মে লন্ডনে নয় মাস বা তার বেশি সময়ের কোর্সের জন্য জীবনযাত্রার খরচ বাবদ সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ১৩০ পাউন্ড দেখাতে হবে। লন্ডনের বাইরে একই সময়ের জন্য প্রয়োজন হবে ১০ হাজার ৮২৭ পাউন্ড। এর সঙ্গে প্রযোজ্য টিউশন ফি বাবদ প্রয়োজনীয় অর্থও থাকতে হবে। ফলে যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদনের আগে আর্থিক প্রস্তুতি নতুন করে হিসাব করতে হবে।   ব্রিটিশ সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণভাবে আবেদনকারীকে প্রয়োজনীয় অর্থ টানা ২৮ দিন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রাখতে হবে। ওই ২৮ দিনের সময়সীমার শেষ দিনটি ভিসা আবেদনের তারিখের সর্বোচ্চ ৩১ দিন আগের হতে পারবে। অর্থাৎ আবেদন জমা দেওয়ার ঠিক আগে ব্যাংকে টাকা জমা করলেই শর্ত পূরণ হবে না। তবে অনুমোদিত স্টুডেন্ট লোন বা সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক স্কলারশিপের ক্ষেত্রে অর্থের প্রমাণ দেওয়ার পদ্ধতি আলাদা হতে পারে। আবেদনকারী নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে বাবা-মায়ের অ্যাকাউন্টের অর্থও ব্যবহার করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সম্মতিপত্র ও আর্থিক প্রমাণ দিতে হবে। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ ব্যাংকের দেওয়া তথ্য যাচাই করতে পারে। আর্থিক তথ্য যাচাই করা সম্ভব না হলে ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।   তবে সব শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে ব্যাংকে অর্থ দেখানোর নিয়ম এক নয়। যেসব আবেদনকারী বৈধ ভিসা নিয়ে যুক্তরাজ্যে অন্তত ১২ মাস অবস্থান করেছেন এবং দেশটির ভেতর থেকে স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করছেন, তাঁদের সাধারণত নতুন করে আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হয় না। একইভাবে নির্দিষ্ট ধরনের সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক সহায়তা পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্যও আলাদা বিধান রয়েছে। নতুন আর্থিক শর্ত ৩০ নভেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ায় এর আগে আবেদন জমা দেওয়া শিক্ষার্থীরা আগের নির্ধারিত অর্থের নিয়মের আওতায় থাকবেন। তবে আবেদন করার সময় কোর্সের মেয়াদ, টিউশন ফি, আগে পরিশোধ করা অর্থ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া কনফার্মেশন অব অ্যাকসেপ্ট্যান্স ফর স্টাডিজ বা সিএএসের তথ্য মিলিয়ে প্রয়োজনীয় অর্থ হিসাব করতে হবে।   এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর স্পনসরশিপ ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তন এসেছে। গত ৯ অক্টোবর হালনাগাদ করা স্টুডেন্ট স্পনসর নির্দেশনায় শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন, স্পনসরশিপের দায়িত্ব এবং নিয়ম মেনে কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়গুলো স্পষ্ট করা হয়েছে। বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করতে ইচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোকে নির্ধারিত স্পনসর লাইসেন্সের শর্ত পূরণ করতে হবে। স্টুডেন্ট স্পনসরদের কার্যক্রম মূল্যায়নের ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন মূল্যায়ন কাঠামোয় শিক্ষার্থীদের কোর্স সম্পন্ন করার হারসহ বিভিন্ন সূচক বিবেচনা করা হচ্ছে। ২০২৭ সালের ১ জুন থেকে নির্দিষ্ট মূল্যায়নে কোর্স সম্পন্ন করার ন্যূনতম হার ৯০ শতাংশ করার বিধান কার্যকর হবে। এর আগের অন্তর্বর্তী সময়ে ৮৫ শতাংশের শর্ত বহাল রয়েছে।   ব্রিটিশ সরকারের এসব পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাজ্যে কর্মী নিয়োগ করতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠান এবং উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদনকারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, উভয় পক্ষকেই নতুন নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে স্টুডেন্ট ভিসায় যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সময়ের আগে ব্যাংকে প্রয়োজনীয় অর্থ প্রস্তুত রাখা এবং আবেদন জমা দেওয়ার তারিখ অনুযায়ী প্রযোজ্য নিয়ম নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।  

প্রকাশ: নভেম্বর ২, ২০২৬ ২:২৫
পুরস্কার নিতে যাওয়ার সময় স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনায় কেমব্রিজের বিজ্ঞানী ড. শাহবাজি নিহত

পুরস্কার নিতে যাওয়ার সময় স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনায় কেমব্রিজের বিজ্ঞানী ড. শাহবাজি নিহত

১৮৯২ সালের ১৯ ডিসেম্বর জাপানের ইয়ামাগুচি অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন রিওইচি মিতা

বৌদ্ধ পরিবারে জন্ম, ইসলাম গ্রহণ করে জাপানি ভাষায় কুরআন অনুবাদ কিরে ইতিহাস গড়েন উমর মিতা

অভিযুক্ত ব্যক্তি সিরাকুজা শহরের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা স্বীকৃতিবিষয়ক আঞ্চলিক কমিশনে বাংলা ভাষার দোভাষী হিসেবে কাজ করতেন

ইতালিতে আশ্রয়প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারে ভুল অনুবাদ করে অর্থ আত্মসাৎে বাংলাদেশি দোভাষী আটক

দৈনিক ১ ডলার ২০ সেন্টের শ্রমিক থেকে চীনের শীর্ষ ধনী নারী, ঝৌ ছুনফেইয়ের অবিশ্বাস্য উত্থান
দৈনিক ১ ডলার ২০ সেন্টের শ্রমিক থেকে চীনের শীর্ষ ধনী নারী, ঝৌ ছুনফেইয়ের অবিশ্বাস্য উত্থান

কিশোর বয়সে স্কুলের গণ্ডি পেরোনোর আগেই জীবিকার তাগিদে যোগ দিয়েছিলেন ঘড়ির কাচ তৈরির কারখানায়, যেখানে তাঁর দৈনিক মজুরি ছিল মাত্র ১ ডলার ২০ সেন্ট। সেই কঠিন সংগ্রাম পেরিয়ে ৫৬ বছর বয়সী ঝৌ ছুনফেই আজ চীনের শীর্ষ ধনী নারী। হুরুন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী, গত এক বছরে ১৫ শতাংশ সম্পদ বৃদ্ধির মাধ্যমে তিনি ২০১৫ সালের পর পুনরায় শীর্ষস্থানটি পুনরুদ্ধার করেছেন।   বর্তমানে তাঁর আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১২৭ বিলিয়ন ইউয়ান বা ১৪ দশমিক ২০ বিলিয়ন পাউন্ড (দ্বিতীয় স্থানে থাকা হানসোহ ফার্মাসিউটিক্যালের ঝং হুইজুয়ানের সম্পদ ১২৪ বিলিয়ন ইউয়ান)। ১৯৭০ সালে হুনান প্রদেশে জন্ম নেওয়া ঝৌ মাত্র ২৩ বছর বয়সে নিজের একটি কাচ প্রক্রিয়াজাতকরণ কর্মশালা প্রতিষ্ঠা করেন এবং পরবর্তীতে সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে 'লেন্স টেকনোলজি' গড়ে তোলেন। এই প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে অ্যাপল ও স্যামসাংসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর স্মার্টফোনে টাচস্ক্রিন গ্লাস সরবরাহ করে থাকে।   স্মার্টফোনের গণ্ডি পেরিয়ে লেন্স টেকনোলজি বর্তমানে বৈদ্যুতিক গাড়ি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং রোবোটিকস খাতেও নিজেদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছে। এআই ও রোবোটিকসের নতুন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে এবং প্রয়োজনীয় মূলধন সংগ্রহ করতে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে কোম্পানিটি হংকংয়ের শেয়ারবাজারে দ্বিতীয়বারের মতো তালিকাভুক্ত হয়।   ব্যবসায়িক এই অভূতপূর্ব সাফল্যের হাত ধরে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও ঝৌ ছুনফেইয়ের গুরুত্ব ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১৪ মে বেইজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাষ্ট্রীয় সফর উপলক্ষে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং আয়োজিত বিশেষ ভোজসভায় তাঁকে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক এবং টেসলার ইলন মাস্কের ঠিক মাঝখানে বসার সম্মান দেওয়া হয়।   হুরুনের পরিসংখ্যান বলছে, চীনের শীর্ষ ৫০ ধনী নারীর ৬৫ শতাংশই ঝৌয়ের মতো সম্পূর্ণ নিজেদের চেষ্টায় সম্পদ গড়েছেন। তবে সামগ্রিকভাবে চীনের ধনীদের তালিকায় ঝৌ ও তাঁর স্বামী বর্তমানে ৩৩তম অবস্থানে রয়েছেন, যে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন বাইটড্যান্সের প্রতিষ্ঠাতা ঝাং ইমিং।

প্রকাশ: নভেম্বর ১, ২০২৬ ১৩:৪১
শারীরিক সক্ষমতা ও নেতৃত্বের দক্ষতা বাড়াতে মন্ত্রী-আমলাদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইথিওপিয়া

শারীরিক সক্ষমতা ও নেতৃত্বের দক্ষতা বাড়াতে মন্ত্রী-আমলাদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইথিওপিয়া

ইউক্রেন যুদ্ধের ভ য়াবহ প্রভাব কৃষ্ণসাগরে, প্রাণ গেল ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি ডলফিনের

ইউক্রেন যুদ্ধের ভ য়াবহ প্রভাব কৃষ্ণসাগরে, প্রাণ গেল ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি ডলফিনের

পাইলটদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দিল আমিরাত

হাইজ্যাক হওয়া বিমানে যাত্রীদের রক্ষায় সাহসিকতা, পাইলটদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দিল আমিরাত

0 Comments