সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

কেশম দ্বীপে আরও দুটি মার্কিন নজরদারি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি ইরানের

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: নভেম্বর ৭, ২০২৬ ৬:৩৯
কেশম দ্বীপে আরও দুটি মার্কিন নজরদারি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি ইরানের
কেশম দ্বীপে আরও দুটি মার্কিন নজরদারি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার পারদ আরও একধাপ বাড়িয়ে দিল নতুন এক ঘটনা। এবার ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপের আকাশসীমায় আরও দুটি মার্কিন ‘এমকিউএম-১৭০’ (MQM-170) নজরদারি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির অভিজাত সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) তেহরানের মেহর নিউজ এজেন্সিসহ একাধিক ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

আইআরজিসির জনসংযোগ কার্যালয়ের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, নিজেদের আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান যে কতটা প্রস্তুত, এটি তারই সুস্পষ্ট প্রমাণ। আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্সের অত্যন্ত চৌকস দল তাদের অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বা বৈদ্যুতিক যুদ্ধ ব্যবস্থা ব্যবহার করে ড্রোন দুটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। এরপর কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই মার্কিন ড্রোনগুলোকে কোনো রকম গোলাগুলি ছাড়াই সফলভাবে মাটিতে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয় তারা।

 

সাম্প্রতিক সময়ে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি অঞ্চলে মার্কিন নজরদারি কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ইরান বেশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম ব্যবহার করে ড্রোন নামানোর এই সক্ষমতা মূলত ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিরই একটি বড় বার্তা।

 

সর্বশেষ এই ঘটনার মধ্য দিয়ে কেশম দ্বীপের আকাশে ভূপাতিত করা মার্কিন এমকিউএম-১৭০ মডেলের নজরদারি ড্রোনের সংখ্যা বেড়ে মোট ছয়টিতে দাঁড়াল। চলমান উত্তেজনার মাঝে এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

আন্তর্জাতিক

View more
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার রাতভর হা মলা
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার রাতভর হা মলা, বিদ্যুৎ-পানি-হিটিং ব্যবস্থা বিপর্যস্ত

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ এবং এর আশেপাশের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ স্থাপনাগুলোতে ভয়াবহ মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। শীতের তীব্রতা যখন শূন্য ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে, ঠিক সেসময়ে রাতের আঁধারে চালানো এই হামলায় শহরটির বিদ্যুৎ, পানি এবং হিটিং ব্যবস্থা চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।   কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো জানিয়েছেন, রুশ বাহিনীর ছোঁড়া ব্যালিস্টিক মিসাইলের আঘাতে দনিপ্রো নদীর ওপর অবস্থিত ব্যস্ততম 'নর্দার্ন ব্রিজ' বা উত্তর সেতুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই হামলায় সেতুটির রাস্তা এবং বিদ্যুৎ ও ট্রলিবাসের তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।   ইউক্রেনের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কিয়েভের বাইরের বিভিন্ন জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতেও আঘাত হেনেছে রুশ বাহিনী। এর ফলে রিভনে ও খেমেলনিতস্কি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে কিয়েভ এবং ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সিস্টেমগুলো মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, রাজধানী বর্তমানে বিদ্যুৎ, পানি এবং হিটিং সরবরাহের ক্ষেত্রে মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে।   এছাড়া আরও পাঁচটি অঞ্চলের সাবস্টেশন এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর তথ্যমতে, রাশিয়া মোট ৩৬টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুঁড়েছিল, যার মধ্যে মাত্র ৪টি প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। তবে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৭২টি ড্রোনের মধ্যে ১৪৯টি ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করেছে।   কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনজুড়ে চালানো রাতের এই হামলায় অন্তত দুজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে অনেক আবাসিক ভবন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য স্থাপনা। অন্যদিকে, মস্কোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে, তারা ইউক্রেনের সামরিক-শিল্প খাত এবং কিয়েভ ও এর আশেপাশের জ্বালানি ও পরিবহন অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই 'সুনির্দিষ্ট' হামলা চালিয়েছে।   দীর্ঘ সাড়ে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই আগ্রাসনে রাশিয়ার স্থল অভিযান মূলত থমকে যাওয়ায় তারা এখন ইউক্রেনের প্রধান শহরগুলোর অবকাঠামো ও সেতুগুলোতে আকাশপথে হামলা জোরদার করেছে।   আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে ইউক্রেন ও রাশিয়ার কর্মকর্তাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি অভিযোগ করে বলেন, রাশিয়ার এই হামলা মূলত শান্তি আলোচনার আগে তাদের কৌশলগত প্রস্তুতিরই অংশ।   সম্প্রতি অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের কংগ্রেস নিয়ন্ত্রণের খবরে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন বৃদ্ধির যে আশা তৈরি হয়েছে, জেলেনস্কি তারও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, রাশিয়ার ক্রমাগত হামলা বৃদ্ধির এই সংকটময় সময়ে ইউক্রেন মার্কিন কংগ্রেসের আরও জোরালো সমর্থন ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৭, ২০২৬ ১২:১৯
নির্বাচনের আগে ইরানে অভিযানের পরিকল্পনা  নেতানিয়াহুর

নির্বাচনের আগে ইরানে অভিযানের পরিকল্পনা নেতানিয়াহুর, যুক্তরাষ্ট্রের বাধায় ভেস্তে যাওয়ার দাবি

কানাডায় কপিল শর্মার ক্যাফেতে তৃতীয় দফায় হা মলা, চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার ২

কানাডায় কপিল শর্মার ক্যাফেতে তৃতীয় দফায় হা মলা, চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার ২

লিবিয়ায় নাইকির পোশাক নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ফতোয়া

লিবিয়ায় নাইকির পোশাক নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ফতোয়া, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করার ঘোষণা মুসলিম লেখিকার

দীপাবলির আগেই বিষাক্ত ধোঁয়াশায় দিল্লি
দীপাবলির আগেই বিষাক্ত ধোঁয়াশায় দিল্লি, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বড় শহরের তালিকায় শীর্ষে

উৎসবের আলো জ্বলার কথা, ঘরে ঘরে আনন্দের প্রস্তুতি। কিন্তু ভারতের রাজধানী দিল্লিতে দীপাবলির আগের দিনই আকাশ ঢেকে গেছে ঘন ধোঁয়াশায়। শহরের বাতাস এতটাই দূষিত হয়ে উঠেছে যে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়া নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ারের সরাসরি সূচকে শনিবার সকালে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বড় শহর হিসেবে উঠে এসেছে দিল্লির নাম। সামনে দীপাবলি, আর এই উৎসবকে কেন্দ্র করে আতশবাজি ও পটকা ফোটানোর আশঙ্কায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।   রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে আইকিউএয়ারের তালিকায় দিল্লির বায়ুমান সূচক ছিল ৫৮১। একই সময়ে প্রতিবেশী পাকিস্তানের লাহোরের সূচক ছিল ২৮৫। অর্থাৎ আইকিউএয়ারের ব্যবহৃত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বায়ুমান সূচকে দিল্লির দূষণের মাত্রা লাহোরের প্রায় দ্বিগুণ ছিল। তবে এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—আইকিউএয়ারের সূচক এবং ভারতের সরকারি বায়ুমান সূচকের হিসাবপদ্ধতি এক নয়। তাই দুটি প্রতিষ্ঠানের দেওয়া সংখ্যাকে সরাসরি তুলনা করা যায় না।   ভারতের কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের হিসাবে, শনিবার সকাল ১০টায় দিল্লির বায়ুমান সূচক ছিল ৩৬৩, যা ‘অত্যন্ত খারাপ’ পর্যায়ের মধ্যে পড়ে। দেশটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সরকারি তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, শুক্রবার দীপাবলির আগের বাতাসের মান গত আট বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ছিল। ফলে উৎসবের আগেই রাজধানীর প্রায় দুই কোটি বাসিন্দার স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দিল্লি ও আশপাশের এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অনলাইন শিক্ষার ব্যবস্থাও প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি কর্মজীবীদের ঘরে বসে কাজ করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। শুক্রবার দিল্লি ও জাতীয় রাজধানী অঞ্চলে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের ধাপে ধাপে নেওয়া জরুরি কর্মপরিকল্পনার তৃতীয় পর্যায় কার্যকর করা হয়েছে। দূষণ আরও বাড়লে পরিস্থিতি সামাল দিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ।   দিল্লিতে শীতের শুরুতেই বায়ুদূষণ বাড়া নতুন ঘটনা নয়। এ সময় ঠান্ডা ও ভারী বাতাসের কারণে দূষিত কণা সহজে ছড়িয়ে যেতে পারে না; বরং নিচু বায়ুমণ্ডলে আটকে থাকে। যানবাহনের ধোঁয়া, কলকারখানার নির্গমন, নির্মাণকাজের ধুলাবালি এবং আশপাশের কৃষিজমিতে ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানোর ধোঁয়া—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ঘনবসতিপূর্ণ দিল্লিতে বিপুলসংখ্যক যানবাহন ও নির্মাণকাজের কারণে দূষণের চাপও বেশি।   এবার সেই পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে দীপাবলির আতশবাজি। ৮ নভেম্বর, রোববার পালিত হবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান উৎসব দীপাবলি। আলোকসজ্জা ও আনন্দ-উদ্‌যাপনের পাশাপাশি এই উৎসবে অনেক জায়গায় ব্যাপকভাবে পটকা ও আতশবাজি ফোটানো হয়। এতে বাতাসে ধোঁয়া ও ক্ষতিকর সূক্ষ্ম কণার পরিমাণ আরও বেড়ে যেতে পারে। ফলে আগে থেকেই দূষণে বিপর্যস্ত দিল্লির বাতাস উৎসবের পর আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত বায়ুদূষণে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং হাঁপানি বা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত মানুষের ঝুঁকি বেশি। দূষিত বাতাসে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলে কাশি, শ্বাসকষ্ট ও শ্বাসনালির প্রদাহের মতো সমস্যা বাড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বাইরে বের হওয়ার আগে স্থানীয় বায়ুমান যাচাই, প্রয়োজন হলে ভালোভাবে মুখে আঁটসাঁট হয় এমন এন৯৫ বা এন৯৯ মাস্ক ব্যবহার এবং ভারী দূষণের সময় বাইরে কঠোর শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।   দীপাবলি আনন্দ, আলো ও উদ্‌যাপনের উৎসব। কিন্তু সেই উৎসবের সময়ই যদি লাখো মানুষকে বিষাক্ত বাতাসের মধ্যে দিন কাটাতে হয়, তাহলে বিষয়টি শুধু পরিবেশগত সংকট নয়, জনস্বাস্থ্যেরও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। দিল্লির বর্তমান পরিস্থিতি আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে—উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি নির্মল বাতাসে শ্বাস নেওয়ার অধিকারও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ: নভেম্বর ৭, ২০২৬ ১০:৪৯
কিউবার সঙ্গে সম্পর্কের জেরে চীনা প্রতিষ্ঠানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, প্রত্যাহারে বেইজিংয়ের আল্টিমেটাম

কিউবার সঙ্গে সম্পর্কের জেরে চীনা প্রতিষ্ঠানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, প্রত্যাহারে বেইজিংয়ের আল্টিমেটাম

ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলা, যুদ্ধের উত্তেজনায় অস্থির মধ্যপ্রাচ্য; আলোচনার চেষ্টা কাতারের

ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলা, যুদ্ধের উত্তেজনায় অস্থির মধ্যপ্রাচ্য; আলোচনার চেষ্টা কাতারের

ইয়েমেনে বেসামরিক এলাকায় বিমান হামলায় ২২ জন নিহত

ইয়েমেনে বেসামরিক এলাকায় বিমান হামলায় ২২ জন নিহত, সৌদিকে দায়ী করছে হুথিরা

ম্যান্ডেলার ১৮ বছরের কারাজীবনের স্মৃতিবিজড়িত কারাগার পরিদর্শন করলেন ড. ইউনূস
ম্যান্ডেলার ১৮ বছরের কারাজীবনের স্মৃতিবিজড়িত কারাগার পরিদর্শন করলেন ড. ইউনূস

দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের কিংবদন্তি নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলাকে দীর্ঘ ১৮ বছর বন্দি রাখা ঐতিহাসিক রবেন আইল্যান্ড কারাগার পরিদর্শন করেছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন উপকূলের কাছে অবস্থিত এই দ্বীপে যান বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা। দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে এই পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়। এ সময় তিনি বর্ণবাদবিরোধী সংগ্রামের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক স্থানটি ঘুরে দেখেন।    শুক্রবার ড. ইউনূসের ফেসবুক পেজে রবেন আইল্যান্ড পরিদর্শনের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করা হয়। পোস্টে জানানো হয়, তিনি এমন একটি ঐতিহাসিক কারাগার পরিদর্শন করেছেন, যেখানে নেলসন ম্যান্ডেলা ও তাঁর সহযোদ্ধা স্বাধীনতাসংগ্রামীরা দীর্ঘদিন বন্দি ছিলেন। রবেন আইল্যান্ড দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসে রাজনৈতিক নিপীড়ন, বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। একসময় ভয়াবহ নির্যাতন ও বন্দিজীবনের প্রতীক হিসেবে পরিচিত দ্বীপটি বর্তমানে স্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে।   ড. ইউনূস বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে রয়েছেন। কেপটাউনে অনুষ্ঠিত ওয়ান ইয়াং ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬-এ অংশ নিতে তিনি দেশটিতে যান। গত ৩ থেকে ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে বিশ্বের ১৯০টির বেশি দেশের দুই হাজারের বেশি তরুণ নেতা, সমাজকর্মী, উদ্যোক্তা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। জলবায়ু পরিবর্তন, শান্তি প্রতিষ্ঠা, সামাজিক সমতা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি এবং মানবাধিকারসহ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা মোকাবিলায় তরুণ নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয় সম্মেলনে। ড. ইউনূসও সম্মেলনের বক্তা হিসেবে অংশ নেন।   রবেন আইল্যান্ডের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নেলসন ম্যান্ডেলার দীর্ঘ কারাজীবনের ইতিহাস। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থা বা অ্যাপারথেইডের বিরুদ্ধে আন্দোলন করায় ১৯৬২ সালে গ্রেপ্তার হন তিনি। পরে ১৯৬৪ সালে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মোট ২৭ বছরের বন্দিজীবনের মধ্যে ১৮ বছর তিনি রবেন আইল্যান্ডে কাটান। সেখানে তাঁকে ছোট কারাকক্ষে রাখা হতো এবং অন্য রাজনৈতিক বন্দিদের সঙ্গে কঠোর শারীরিক পরিশ্রম করতে বাধ্য করা হতো। বিশেষ করে দ্বীপের চুনাপাথরের খনিতে বন্দিদের কাজ করতে হতো। কারাবন্দি অবস্থায় মায়ের মৃত্যু ও ছেলের শেষকৃত্যেও অংশ নিতে পারেননি ম্যান্ডেলা।   দীর্ঘ সংগ্রামের পর ১৯৯০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি কারাগার থেকে মুক্তি পান নেলসন ম্যান্ডেলা। পরে দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থার অবসান এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। ১৯৯৩ সালে এফ ডব্লিউ ডি ক্লার্কের সঙ্গে যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান ম্যান্ডেলা। পরের বছর দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম গণতান্ত্রিক জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট হন। ১৯৯৬ সালে রবেন আইল্যান্ডের কারাগার বন্ধ করা হয়। ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো দ্বীপটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।   নেলসন ম্যান্ডেলার সঙ্গে ড. ইউনূসের সম্পর্কের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়ও রয়েছে। ২০০৯ সালের ১০ জুলাই দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে ম্যান্ডেলার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন তিনি। নেলসন ম্যান্ডেলা ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, সেই সাক্ষাতে গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম এবং দারিদ্র্য দূরীকরণে সামাজিক ব্যবসার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন ড. ইউনূস। পরে সপ্তম নেলসন ম্যান্ডেলা বার্ষিক বক্তৃতাও দেন তিনি। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ম্যান্ডেলার কারাজীবনের স্মৃতিবিজড়িত রবেন আইল্যান্ডে তাঁর এবারের সফর দুই নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ীর ঐতিহাসিক যোগাযোগকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।   সংবাদসূত্র: ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রকাশিত ফেসবুক পোস্ট, নেলসন ম্যান্ডেলা ফাউন্ডেশন।

প্রকাশ: নভেম্বর ৭, ২০২৬ ৮:৯
দূষণে বিশ্বের শীর্ষে ভারতের দিল্লি

দূষণে বিশ্বের শীর্ষে ভারতের দিল্লি, দীপাবলির আগে বিপজ্জনক পরিস্থিতির আশংকা

ভারতে ৬০ দিনের ঘুম প্রতিযোগিতায় ৯ লাখ ৬০ হাজার রুপি জিতলেন মুম্বাইয়ের এক তরুণী

ভারতে ৬০ দিনের ঘুম প্রতিযোগিতায় ৯ লাখ ৬০ হাজার রুপি জিতলেন মুম্বাইয়ের এক তরুণী

কিয়েভে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

শান্তি আলোচনার আগেই কিয়েভে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, বিদ্যুৎ-পানি সংকটে লাখো মানুষ

0 Comments