বিশ্বের গাড়ি নির্মাতাদের উচ্চ মুনাফার শেষ ভরসা এখন যুক্তরাষ্ট্র
বিশ্বের বড় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে মুনাফা অর্জনের অন্যতম প্রধান বাজার হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। চীন ও ইউরোপে বিক্রি কমে যাওয়া এবং সস্তা চীনা গাড়ির সঙ্গে প্রতিযোগিতা বাড়ায় টয়োটা, হুন্ডাই, ফক্সওয়াগেন, হোন্ডা ও নিসানের মতো আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো এখন মার্কিন বাজারে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের মধ্যে দামি পিকআপ ট্রাক ও বড় এসইউভির ব্যাপক চাহিদা কোম্পানিগুলোর জন্য বেশি লাভের সুযোগ তৈরি করেছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন গাড়ির গড় দাম এখন প্রায় ৫০ হাজার ডলার। কেলি ব্লু বুকের তথ্য বলছে, গত সেপ্টেম্বরে নতুন গাড়ির গড় বিক্রয়মূল্য ছিল ৫০ হাজার ৫৬২ ডলার, যা রেকর্ড সর্বোচ্চ দামের কাছাকাছি। একই সঙ্গে নতুন গাড়ি কেনা প্রায় পাঁচজন ক্রেতার একজনকে মাসে এক হাজার ডলারের বেশি গাড়ির কিস্তি পরিশোধ করতে হচ্ছে। উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর আর্থিক চাপ বাড়লেও বড় পিকআপ ট্রাক, এসইউভি ও বিলাসবহুল গাড়ি বিক্রি থেকে নির্মাতারা তুলনামূলক বেশি মুনাফা করতে পারছে।
অন্যদিকে চীনের বাজারে স্থানীয় গাড়ি নির্মাতাদের উত্থান আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো তুলনামূলক কম দামে উন্নত প্রযুক্তির ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ি তৈরি করছে। এসব গাড়ির কারণে চীনের পাশাপাশি ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠিত গাড়ি নির্মাতাদের বিক্রি ও মুনাফায় চাপ তৈরি হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা গাড়ির ওপর উচ্চ আমদানি শুল্ক এবং প্রযুক্তিসংক্রান্ত বিধিনিষেধ থাকায় মার্কিন বাজারে তাদের প্রবেশ অনেকটাই সীমিত। এর ফলে আন্তর্জাতিক গাড়ি কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ দেখছে।
মার্কিন বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে জাপানের টয়োটা টেক্সাসের সান আন্তোনিও কারখানা সম্প্রসারণে ৩৬০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মেক্সিকো থেকে টাকোমা পিকআপ ট্রাকের কিছু উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে আনা হবে। কোম্পানির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে কারখানাটির উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হবে এবং প্রায় ২ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। অন্যদিকে জার্মান বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা অডি জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রথম মার্কিন কারখানা স্থাপনে প্রায় ৪০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ নতুন চাকরি তৈরি হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্ডাই এবং জাপানের নিসানও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। হুন্ডাইয়ের প্রধান নির্বাহী হোসে মুনোজ জানিয়েছেন, তাঁর কোম্পানির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি অগ্রাধিকারই যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক। প্রতিষ্ঠানটি আগামী কয়েক বছরে উত্তর আমেরিকার বাজারে বেশ কিছু নতুন মডেলের গাড়ি আনার পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে অফ-রোড গাড়ি, মাঝারি আকারের পিকআপ ট্রাক এবং বিলাসবহুল মডেল রয়েছে। অন্যদিকে নিসান নতুন করে এক্সটেরা এসইউভি বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কোম্পানিটি যুক্তরাষ্ট্রে বাজারের অংশীদারত্ব প্রায় ৭ শতাংশে উন্নীত করতে চায়।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নতুন করে প্রবেশের পরিকল্পনা করছে জার্মান গাড়ি নির্মাতা ফক্সওয়াগেনও। প্রায় ৪০ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে নিজস্ব পিকআপ ট্রাক তৈরি ও বিক্রির সম্ভাবনা বিবেচনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এ বিষয়ে মার্কিন নির্মাতা ফোর্ডের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের আলোচনা চলছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পিকআপ ট্রাকের বাজারে আগে থেকেই শক্ত অবস্থানে রয়েছে ফোর্ড, জেনারেল মোটরস এবং র্যাম। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বাজারে নতুন নির্মাতাদের জন্য জায়গা তৈরি করা সহজ হবে না।
আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর প্রতিযোগিতা বাড়ায় মার্কিন গাড়ি নির্মাতারাও নতুন কৌশল নিচ্ছে। জেনারেল মোটরস জনপ্রিয় এসইউভিগুলোর হাইব্রিড সংস্করণ আনার পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে ফোর্ড তুলনামূলক কম দামের নতুন গাড়ি ও ইলেকট্রিক মডেলের মাধ্যমে বিক্রি বাড়াতে চাইছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান অটোফোরকাস্ট সলিউশনের হিসাবে, নতুন কারখানাগুলোর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বছরে অতিরিক্ত ১০ লাখের বেশি গাড়ি তৈরির সক্ষমতা যুক্ত হতে পারে।
তবে বিপুল বিনিয়োগের পাশাপাশি মার্কিন গাড়ির বাজারে নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি হচ্ছে। গাড়ির উচ্চমূল্য, ঋণের কিস্তি এবং বীমাসহ রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের কারণে অনেক ক্রেতাই পুরোনো গাড়ি দীর্ঘদিন ব্যবহার করছেন। ফলে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লেও একই হারে গাড়ির চাহিদা বাড়বে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কর্মসংস্থান ও গাড়ির মডেল বাড়াতে পারে। তবে ক্রেতাদের জন্য দাম কমবে কি না, সেটি নির্ভর করবে ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতা, উৎপাদন খরচ ও বাজার পরিস্থিতির ওপর।
সূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আন্তর্জাতিক
View moreযুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সশস্ত্র পন্থায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। রোববার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভের জেরে গত কয়েক মাসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে যাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, এই তিনজন তাদেরই সর্বশেষ সংযোজন। ইরানের বিচার বিভাগের দেওয়া তথ্যমতে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই তিন ব্যক্তি হলেন—হাসান দিওবান্দ, হামিদ কাজেমি এবং রেজা জাঙ্গানেহ। তাদের বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র, গ্রেনেড ও পেট্রোল বোমা (মলোটভ ককটেল) ব্যবহার করে সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের মতো গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এমনকি তারা কারাজ শহরের একটি বিদ্যুৎ সাবস্টেশনেও হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছিলেন, যার ফলে বেশ কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। বিচার বিভাগ আরও জানায়, সরকারি সম্পত্তিতে হামলা এবং সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর গত ১১ জানুয়ারি হাসান দিওবান্দকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তার নেতৃত্বে নাশকতায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে আরও দশজনকে আটক করে পুলিশ। বিচার শেষে আদালত ওই তিন প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট সেই রায় বহাল রাখার পরই তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হলো। অন্যদিকে, এই ঘটনায় জড়িত বাকি আসামিদের পাঁচ থেকে দশ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বের গাড়ি নির্মাতাদের উচ্চ মুনাফার শেষ ভরসা এখন যুক্তরাষ্ট্র
ফিনল্যান্ডে নিখোঁজের ২৪ দিন পর বাংলাদেশি নাফিসের মরদেহ উদ্ধার
যুক্তরাজ্যে কিশোরীদের যৌন নির্যাতনের দায়ে বাংলাদেশি সাবেক শিক্ষকের ২৫ বছরের কারাদণ্ড
ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় নতুন সরকার গঠনের সুযোগ পাচ্ছেন বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকট। দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ শনিবার (৭ নভেম্বর) জানিয়েছেন, তিনি মধ্যপন্থী ইয়াশার পার্টির নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন। রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেল ৫টায় প্রেসিডেন্টের বাসভবনে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় থাকার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ইসরায়েলের ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেটে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। তবে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পায়নি। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনায় মোট ৬৭ জন সংসদ সদস্য আইজেনকটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার সুপারিশ করেছেন। অন্যদিকে ৪৬ জন নেতানিয়াহুকে সমর্থন করেছেন এবং সাত সদস্য কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দেননি। এই পরিস্থিতিতে নতুন সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট হারজগ। ইসরায়েলের আইন অনুযায়ী, দায়িত্ব পাওয়ার পর আইজেনকট সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজন হলে প্রেসিডেন্ট আরও ১৪ দিন সময় বাড়াতে পারবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে অন্য কোনো নেতাকে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। শেষ পর্যন্ত কোনো জোট সরকার গঠন করতে না পারলে দেশটিকে আবারও নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে। ফলে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ দিলেও তাঁর ক্ষমতায় আসা এখনো নিশ্চিত নয়। সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আইজেনকটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠা করা। আল জাজিরার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তাঁকে অতি-অর্থোডক্স ইহুদি ধর্মীয় দলগুলোর সমর্থন পেতে হতে পারে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের আরব জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর সমর্থনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে বিরোধী জোটের কয়েকটি ডানপন্থী দল আরব রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নির্ভর করে সরকার গঠনের বিরোধী। অন্যদিকে ধর্মীয় দলগুলো সামরিক বাহিনীতে অতি-অর্থোডক্স তরুণদের বাধ্যতামূলক নিয়োগ থেকে অব্যাহতির বিষয়ে ছাড় চাইতে পারে। এসব মতবিরোধের কারণে সংখ্যাগরিষ্ঠ জোট গঠন কঠিন হয়ে উঠেছে। গাদি আইজেনকট ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান। মরক্কো থেকে আসা একটি ইহুদি পরিবারে তাঁর জন্ম। দীর্ঘ সামরিক কর্মজীবনের পর রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গঠিত নেতানিয়াহুর জাতীয় ঐক্য সরকারেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরে সরকারের যুদ্ধ পরিচালনা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে মতবিরোধের কারণে সরে দাঁড়ান। গাজায় সামরিক অভিযানে তাঁর ছেলে গাল আইজেনকট ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে নিহত হন। পরবর্তী সময়ে তাঁর দুই ভাতিজাও গাজায় যুদ্ধ করতে গিয়ে নিহত হন। এসব ব্যক্তিগত ক্ষতি ইসরায়েলি জনগণের একটি অংশের কাছে তাঁর রাজনৈতিক পরিচিতিকে প্রভাবিত করেছে বলে বিশ্লেষকদের মত। তবে নেতানিয়াহুর বিরোধী নেতা হিসেবে পরিচিত হলেও ফিলিস্তিন প্রশ্নে আইজেনকটের অবস্থান নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর তথাকথিত ‘দাহিয়া ডকট্রিন’-এর অন্যতম প্রবক্তা। এই সামরিক কৌশলে হামলার জবাবে ব্যাপক মাত্রায় শক্তি প্রয়োগের ধারণা রয়েছে, যার বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমালোচনা হয়েছে। সেনাপ্রধান থাকাকালে গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। ফলে নেতানিয়াহুর পরিবর্তে আইজেনকট ক্ষমতায় এলেই ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। এদিকে নতুন সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। গাজায় যুদ্ধ এবং ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের অবস্থান নিয়ে বিতর্ক বেড়েছে। আল জাজিরাকে কার্নেগি এনডাউমেন্টের জ্যেষ্ঠ গবেষক অ্যারন ডেভিড মিলার জানিয়েছেন, ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন জনমত ইতোমধ্যে গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছে। তাঁর মতে, আইজেনকট প্রধানমন্ত্রী হলে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও জনমতের কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। অন্যদিকে নেতানিয়াহু এখনো ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করছেন এবং জাতীয় ঐক্য সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহের জোট আলোচনা নির্ধারণ করবে ইসরায়েলে নেতৃত্ব পরিবর্তন হচ্ছে, নাকি রাজনৈতিক অচলাবস্থা আরও দীর্ঘায়িত হবে। সূত্র: আল জাজিরা
বিয়ের দাওয়াতে দেশে এসে পার্কিং নিয়ে বিরোধে প্রতিবেশীর গুলিতে নিহত প্রবাসী
৩৭ বছর বয়সেই গুগলের বছরে ৪ লাখ ডলারের চাকরি ছাড়লেন নারী, জানালেন খরচ কমানোর কৌশল
নবম শ্রেণিতে ৯৭ শতাংশ নম্বর পাওয়ায় ছেলেকে ৩ কোটি টাকার গাড়ি উপহার বাবার
বিশ্বের শীর্ষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার (Nvidia) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেনসেন হুয়াংয়ের বিরুদ্ধে এক চীনা নারী গুপ্তচরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মার্কিন প্রশাসনের একাধিক সূত্র ও প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও গোয়েন্দা মহলে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে। ঘটনাটি মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে—এমন আশঙ্কায় বিষয়টির আনুষ্ঠানিক তদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির কংগ্রেস। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি একটি উচ্চপর্যায়ের গোপন মেমো অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেগাস্পিডের নির্বাহী অ্যালিস হুয়াংয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন জেনসেন। মেগাস্পিড মূলত এনভিডিয়ার একটি গ্রাহক প্রতিষ্ঠান। গত মে মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরের ঠিক আগেই যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের হাতে ওই গোপন মেমোটি পৌঁছায়। জেনসেন হুয়াং আধুনিক এআই প্রযুক্তির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত চিপ তৈরির নেতৃত্বে রয়েছেন। ফলে তিনি কোনো চীনা গোয়েন্দা এজেন্টের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মার্কিন স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করেছেন কি না, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত ২৯ অক্টোবর নিউইয়র্ক টাইমস প্রথম জেনসেন ও অ্যালিসের 'ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক' এবং অ্যালিসের চীনের সঙ্গে গোয়েন্দা-যোগাযোগ নিয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষের উদ্বেগের কথা প্রকাশ করে। এরপর ৩১ অক্টোবর ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায় যে যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর ও তাইওয়ানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অ্যালিসকে চীনা গুপ্তচর বলে সন্দেহ করছে। সর্বশেষ ৬ নভেম্বর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস ও নিউইয়র্ক টাইমস সরাসরি দাবি করে, অ্যালিস হুয়াং একজন চীনা গুপ্তচর এবং জেনসেনের ওপর নজরদারি করার জন্যই চীনের শীর্ষ গোয়েন্দারা তাকে নিয়োগ দিয়েছিলেন। তার মূল লক্ষ্য ছিল চীনে চিপ রপ্তানির অনুমতি পেতে মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য জেনসেনকে প্রভাবিত করা। এই ঘটনার জেরে আগামী জানুয়ারি থেকে সিনেটের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিতে যাওয়া ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনস পূর্ণাঙ্গ কংগ্রেসীয় তদন্তের ঘোষণা দিয়েছেন। প্রতিনিধি পরিষদের চীন, পররাষ্ট্র ও গোয়েন্দাবিষয়ক কমিটির রিপাবলিকান প্রধানেরা জেনসেন হুয়াংকে আগামী ১১ নভেম্বরের মধ্যে হাজির হয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এনভিডিয়া ও জেনসেন হুয়াং দৃঢ়ভাবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, অ্যালিসের সঙ্গে জেনসেনের যোগাযোগ সম্পূর্ণ পেশাদার ও ব্যবসায়িক ছিল এবং কোনো সংবেদনশীল তথ্য আদান-প্রদান করা হয়নি। চীন সরকারও একে 'বানোয়াট রাজনৈতিক অপপ্রচার' বলে আখ্যা দিয়েছে। তবে রপ্তানি বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও এনভিডিয়ার চিপ কীভাবে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পৌঁছাচ্ছে, তা নিয়ে মার্কিন প্রশাসন ও গোয়েন্দাদের উদ্বেগ চরমে পৌঁছেছে।
মদিনা থেকে জেদ্দা ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৭ বাংলাদেশির, একই পরিবারের ৪ জন নি হত
মধ্যরাতে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জাপান, আহত অন্তত ২৪ জন