কোরআনের আলোকে সংবিধান তৈরি করা সম্ভব, তবে কোরআন নিজেই সংবিধান নয়: আইনমন্ত্রী
পবিত্র কোরআনের মূল্যবোধ ও নির্দেশনার আলোকে একটি দেশের সংবিধান প্রণয়ন করা সম্ভব হলেও কোরআনকে সরাসরি রাষ্ট্রের সংবিধান হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, রাষ্ট্রের সংবিধান সমাজ ও সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন ও সংশোধন করা যায়, কিন্তু ধর্মীয় গ্রন্থের মূল বাণী পরিবর্তনের সুযোগ নেই।
শুক্রবার রাজধানীর লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলে প্রয়াত ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের লেখা ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বইটি প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)।
আইনমন্ত্রী জানান, ছাত্রজীবনে প্রচলিত ‘কোরআন আমাদের সংবিধান’ স্লোগান নিয়েও তাঁর ভিন্নমত ছিল। তাঁর বক্তব্যের মূল যুক্তি হলো—কোরআনের আলোকে সংবিধান তৈরি করা যেতে পারে, কিন্তু কোরআনকে সরাসরি সংবিধান বলা যথাযথ নয়। কারণ একটি রাষ্ট্রের সংবিধান পরিবর্তনশীল বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংশোধিত হতে পারে, অন্যদিকে কোরআনের কোনো আয়াত পরিবর্তন করা যায় না।
অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের রাষ্ট্র ও সমাজবিষয়ক চিন্তাধারা নিয়েও বিস্তারিত কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, আবদুর রাজ্জাক ওপর থেকে কোনো ইসলামী শাসনব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়াকে সঠিক পন্থা হিসেবে দেখতেন না। বরং সমাজের ভেতর থেকে ইসলামী মূল্যবোধ বিকশিত করে সেই মূল্যবোধের ভিত্তিতে রাষ্ট্র গঠন ও পরিচালনাকে তিনি ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যথাযথ পথ হিসেবে বিবেচনা করতেন। আইনমন্ত্রীর মতে, প্রকাশিত বইটিতেও আবদুর রাজ্জাকের এই রাজনৈতিক ও সামাজিক দর্শনের প্রতিফলন রয়েছে।
আইনমন্ত্রী বইটিকে শুধু সাহিত্য বা প্রচলিত গবেষণাধর্মী রচনা হিসেবে দেখছেন না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বইটি আবদুর রাজ্জাকের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, সমাজকে দেখার অভিজ্ঞতা, চিন্তাচেতনা ও জীবনদর্শনের প্রতিফলন। আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক মতপার্থক্য ছিল বলেও অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন তিনি। তবে পেশাগত জীবনে তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং বিভিন্ন সময়ে রাজ্জাকের কাছ থেকে পাওয়া পরামর্শের কথাও তুলে ধরেন।
আলোচনায় বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গও উঠে আসে। আইনমন্ত্রী বলেন, একটি সমাজকে সামনে এগিয়ে যেতে হলে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হয়। তাঁর মতে, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান নতুন প্রজন্মের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে নিয়ে এসেছে। আবদুর রাজ্জাকের বইয়েও পরিবর্তন ও রাজনৈতিক চিন্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকার প্রশ্নটিও আলোচনায় আসে। আইনমন্ত্রী বলেন, ২০১৬ সালে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুরোধে আবদুর রাজ্জাক ১৯৭১ সালে দলটির ভূমিকা নিয়ে জাতির সামনে উপস্থাপনের জন্য একটি খসড়া বিবৃতি তৈরি করেছিলেন। তাঁর মতে, সে সময় ওই বিবৃতিটি দলীয়ভাবে গৃহীত ও স্বাক্ষরিত হলে জামায়াতকে ঘিরে অনেক প্রশ্নের সমাধান হতে পারত। এটি আইনমন্ত্রীর নিজস্ব মূল্যায়ন; বিষয়টি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘদিনের বিতর্কের অংশ।
প্রসঙ্গত, আবদুর রাজ্জাক দীর্ঘদিন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন। তাঁর মরণোত্তর প্রকাশিত স্মৃতিকথায় ১৯৭১ সালে জামায়াতের অবস্থান নিয়ে দলের অভ্যন্তরে ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নে বিভিন্ন সময়ের আলোচনা ও মতপার্থক্যের বিবরণ রয়েছে। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ও নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার জন্য বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
আইনমন্ত্রী বর্তমান সংসদীয় প্রক্রিয়ার একটি ঘটনাও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল-সংক্রান্ত আইনে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী তৎকালীন রাজনৈতিক শক্তিগুলোর প্রসঙ্গে জামায়াতের নাম থাকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। সংশোধিত আইন সংসদে তোলা হলে জামায়াতের কোনো সংসদ সদস্য এর বিরুদ্ধে ‘না’ ভোট দেননি। এই ঘটনাকে তিনি ১৯৭১ সালের ভূমিকার বিষয়ে দলটির একটি পরোক্ষ স্বীকৃতি হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। এটি আইনমন্ত্রীর ব্যাখ্যা; সংবাদ প্রতিবেদনে এটিকে তাঁর দাবি হিসেবেই উপস্থাপন করা হয়েছে।
গণতন্ত্রে ভিন্নমত ও সমালোচনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন আইনমন্ত্রী। কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের সব বক্তব্যের সঙ্গে একমত হওয়া যেমন জরুরি নয়, তেমনি কোনো সমালোচনা পছন্দ না হওয়ার কারণে তা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করাও ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, গণতান্ত্রিক সমাজে মতপার্থক্য ও সমালোচনা গ্রহণ করার মানসিকতা থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, তিনি আশা করেছিলেন জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ত বা দলটির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আইনজীবীদের কেউ কেউ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন এবং প্রয়োজনে বইয়ে তুলে ধরা বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করবেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, একটি গণতান্ত্রিক পরিসরে দ্বিমত প্রকাশের সুযোগ থাকা যেমন দরকার, তেমনি সমালোচনাকে আলোচনার বাইরে রাখাও উচিত নয়।
অনুষ্ঠানে আবদুর রাজ্জাকের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়। আইনমন্ত্রী বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করলেও নিজের কাজ, চিন্তা ও দর্শনের কারণে আবদুর রাজ্জাক স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন। দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানবাধিকার প্রশ্নে তাঁর ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন তিনি।
বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, অধ্যাপক আলী রীয়াজ, দ্য ডেইলি স্টারের কনসালটিং এডিটর কামাল আহমেদ এবং সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জন ড্যানিলোভিচসহ দেশি-বিদেশি শিক্ষক, গবেষক, আইনজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শেষ দিকে আইনমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাকের শেষ জীবনের একটি ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার কথাও স্মরণ করেন। তিনি জানান, আবদুর রাজ্জাক বাংলাদেশে সমাহিত হওয়ার ইচ্ছার কথা তাঁকে জানিয়েছিলেন। সেই ইচ্ছা শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি প্রয়াত এই আইনজীবী ও রাজনীতিকের জন্য দোয়া করেন। একই সঙ্গে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের তাঁর প্রকাশিত বইটি পড়ার আহ্বান জানান।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আইন-আদালত
View moreপবিত্র কোরআনের মূল্যবোধ ও নির্দেশনার আলোকে একটি দেশের সংবিধান প্রণয়ন করা সম্ভব হলেও কোরআনকে সরাসরি রাষ্ট্রের সংবিধান হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, রাষ্ট্রের সংবিধান সমাজ ও সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন ও সংশোধন করা যায়, কিন্তু ধর্মীয় গ্রন্থের মূল বাণী পরিবর্তনের সুযোগ নেই। শুক্রবার রাজধানীর লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলে প্রয়াত ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের লেখা ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বইটি প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)। আইনমন্ত্রী জানান, ছাত্রজীবনে প্রচলিত ‘কোরআন আমাদের সংবিধান’ স্লোগান নিয়েও তাঁর ভিন্নমত ছিল। তাঁর বক্তব্যের মূল যুক্তি হলো—কোরআনের আলোকে সংবিধান তৈরি করা যেতে পারে, কিন্তু কোরআনকে সরাসরি সংবিধান বলা যথাযথ নয়। কারণ একটি রাষ্ট্রের সংবিধান পরিবর্তনশীল বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংশোধিত হতে পারে, অন্যদিকে কোরআনের কোনো আয়াত পরিবর্তন করা যায় না। অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের রাষ্ট্র ও সমাজবিষয়ক চিন্তাধারা নিয়েও বিস্তারিত কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, আবদুর রাজ্জাক ওপর থেকে কোনো ইসলামী শাসনব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়াকে সঠিক পন্থা হিসেবে দেখতেন না। বরং সমাজের ভেতর থেকে ইসলামী মূল্যবোধ বিকশিত করে সেই মূল্যবোধের ভিত্তিতে রাষ্ট্র গঠন ও পরিচালনাকে তিনি ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যথাযথ পথ হিসেবে বিবেচনা করতেন। আইনমন্ত্রীর মতে, প্রকাশিত বইটিতেও আবদুর রাজ্জাকের এই রাজনৈতিক ও সামাজিক দর্শনের প্রতিফলন রয়েছে। আইনমন্ত্রী বইটিকে শুধু সাহিত্য বা প্রচলিত গবেষণাধর্মী রচনা হিসেবে দেখছেন না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বইটি আবদুর রাজ্জাকের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, সমাজকে দেখার অভিজ্ঞতা, চিন্তাচেতনা ও জীবনদর্শনের প্রতিফলন। আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক মতপার্থক্য ছিল বলেও অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন তিনি। তবে পেশাগত জীবনে তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং বিভিন্ন সময়ে রাজ্জাকের কাছ থেকে পাওয়া পরামর্শের কথাও তুলে ধরেন। আলোচনায় বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গও উঠে আসে। আইনমন্ত্রী বলেন, একটি সমাজকে সামনে এগিয়ে যেতে হলে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হয়। তাঁর মতে, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান নতুন প্রজন্মের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে নিয়ে এসেছে। আবদুর রাজ্জাকের বইয়েও পরিবর্তন ও রাজনৈতিক চিন্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকার প্রশ্নটিও আলোচনায় আসে। আইনমন্ত্রী বলেন, ২০১৬ সালে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুরোধে আবদুর রাজ্জাক ১৯৭১ সালে দলটির ভূমিকা নিয়ে জাতির সামনে উপস্থাপনের জন্য একটি খসড়া বিবৃতি তৈরি করেছিলেন। তাঁর মতে, সে সময় ওই বিবৃতিটি দলীয়ভাবে গৃহীত ও স্বাক্ষরিত হলে জামায়াতকে ঘিরে অনেক প্রশ্নের সমাধান হতে পারত। এটি আইনমন্ত্রীর নিজস্ব মূল্যায়ন; বিষয়টি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘদিনের বিতর্কের অংশ। প্রসঙ্গত, আবদুর রাজ্জাক দীর্ঘদিন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন। তাঁর মরণোত্তর প্রকাশিত স্মৃতিকথায় ১৯৭১ সালে জামায়াতের অবস্থান নিয়ে দলের অভ্যন্তরে ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নে বিভিন্ন সময়ের আলোচনা ও মতপার্থক্যের বিবরণ রয়েছে। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ও নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার জন্য বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। আইনমন্ত্রী বর্তমান সংসদীয় প্রক্রিয়ার একটি ঘটনাও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল-সংক্রান্ত আইনে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী তৎকালীন রাজনৈতিক শক্তিগুলোর প্রসঙ্গে জামায়াতের নাম থাকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। সংশোধিত আইন সংসদে তোলা হলে জামায়াতের কোনো সংসদ সদস্য এর বিরুদ্ধে ‘না’ ভোট দেননি। এই ঘটনাকে তিনি ১৯৭১ সালের ভূমিকার বিষয়ে দলটির একটি পরোক্ষ স্বীকৃতি হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। এটি আইনমন্ত্রীর ব্যাখ্যা; সংবাদ প্রতিবেদনে এটিকে তাঁর দাবি হিসেবেই উপস্থাপন করা হয়েছে। গণতন্ত্রে ভিন্নমত ও সমালোচনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন আইনমন্ত্রী। কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের সব বক্তব্যের সঙ্গে একমত হওয়া যেমন জরুরি নয়, তেমনি কোনো সমালোচনা পছন্দ না হওয়ার কারণে তা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করাও ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, গণতান্ত্রিক সমাজে মতপার্থক্য ও সমালোচনা গ্রহণ করার মানসিকতা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। আইনমন্ত্রী আরও বলেন, তিনি আশা করেছিলেন জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ত বা দলটির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আইনজীবীদের কেউ কেউ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন এবং প্রয়োজনে বইয়ে তুলে ধরা বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করবেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, একটি গণতান্ত্রিক পরিসরে দ্বিমত প্রকাশের সুযোগ থাকা যেমন দরকার, তেমনি সমালোচনাকে আলোচনার বাইরে রাখাও উচিত নয়। অনুষ্ঠানে আবদুর রাজ্জাকের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়। আইনমন্ত্রী বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করলেও নিজের কাজ, চিন্তা ও দর্শনের কারণে আবদুর রাজ্জাক স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন। দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানবাধিকার প্রশ্নে তাঁর ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন তিনি। বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, অধ্যাপক আলী রীয়াজ, দ্য ডেইলি স্টারের কনসালটিং এডিটর কামাল আহমেদ এবং সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জন ড্যানিলোভিচসহ দেশি-বিদেশি শিক্ষক, গবেষক, আইনজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শেষ দিকে আইনমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাকের শেষ জীবনের একটি ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার কথাও স্মরণ করেন। তিনি জানান, আবদুর রাজ্জাক বাংলাদেশে সমাহিত হওয়ার ইচ্ছার কথা তাঁকে জানিয়েছিলেন। সেই ইচ্ছা শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি প্রয়াত এই আইনজীবী ও রাজনীতিকের জন্য দোয়া করেন। একই সঙ্গে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের তাঁর প্রকাশিত বইটি পড়ার আহ্বান জানান।
পল্লবীতে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা: ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় দম্পতির মৃত্যুদণ্ড, রায়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ
সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠার অধ্যাদেশ বাতিল