আলহামদুলিল্লাহ, ইনশাআল্লাহ নাকি মাশাআল্লাহ? কোন সময়ে কোন ইসলামি শব্দ ব্যবহার করবেন
মুসলিমদের দৈনন্দিন কথাবার্তায় আরবি বিভিন্ন শব্দ ও বাক্যাংশের ব্যবহার খুবই সাধারণ। তবে আলহামদুলিল্লাহ, ইনশাআল্লাহ, মাশাআল্লাহ কিংবা জাযাকাল্লাহু খাইরান, শব্দগুলোর অর্থ ও ব্যবহারের জায়গা এক নয়। অনেক সময় না জেনে একটির জায়গায় আরেকটি ব্যবহার করায় কথার অর্থও বদলে যায়। তাই দৈনন্দিন কথোপকথনে কোন পরিস্থিতিতে কোন শব্দটি ব্যবহার করা স্বাভাবিক ও যথাযথ, তা জানা গুরুত্বপূর্ণ।
কেউ যদি প্রশ্ন করেন, “আপনি কেমন আছেন?” তখন বর্তমান অবস্থা বা আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে বলা যায়, “আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি।” আলহামদুলিল্লাহর অর্থ হলো, “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।” এটি কৃতজ্ঞতা, সন্তুষ্টি ও আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়। ইসলামি সূত্র ও প্রচলিত ব্যবহারে কারও বর্তমান অবস্থা বা দিনের খবর জানাতেও আলহামদুলিল্লাহ বলা হয়।
অন্যদিকে, ইনশাআল্লাহ মূলত ভবিষ্যতের কোনো কাজ বা ঘটনার ক্ষেত্রে বলা হয়। এর অর্থ, “আল্লাহ চাইলে” বা “আল্লাহর ইচ্ছায়।” যেমন, “আগামীকাল দেখা হবে, ইনশাআল্লাহ”, “আমি আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশ যাব, ইনশাআল্লাহ” অথবা “আগামীকাল কাজটি শেষ করব, ইনশাআল্লাহ।” ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বা প্রত্যাশার সঙ্গে শব্দটির ব্যবহার বেশি স্বাভাবিক।
এ কারণে কেউ যখন জিজ্ঞেস করেন, “আপনি কেমন আছেন?” তখন “ইনশাআল্লাহ, ভালো আছি” বলা অর্থের দিক থেকে স্বাভাবিক উত্তর নয়। কারণ প্রশ্নটি বর্তমান অবস্থা নিয়ে, আর ইনশাআল্লাহ সাধারণত ভবিষ্যৎ কোনো বিষয় বা প্রত্যাশার সঙ্গে ব্যবহৃত হয়। এমন ক্ষেত্রে “আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি” বলা বেশি যথাযথ।
মাশাআল্লাহ আবার অন্য ধরনের পরিস্থিতিতে ব্যবহৃত হয়। কারও ভালো কিছু দেখে প্রশংসা, আনন্দ বা বিস্ময় প্রকাশের ক্ষেত্রে মাশাআল্লাহ বলা হয়। এর অর্থ মোটামুটি “আল্লাহ যা চেয়েছেন” বা “আল্লাহর ইচ্ছায় এটি হয়েছে।” যেমন, কারও সন্তানকে সুন্দর ও ভালো দেখে বলা যায়, “মাশাআল্লাহ, আপনার ছেলে খুব ভালো করেছে।” কেউ নতুন বাড়ি কিনলে, কোনো সুন্দর দৃশ্য দেখলে বা কারও কোনো ভালো অর্জন দেখে প্রশংসা করতেও মাশাআল্লাহ বলা হয়।
আর কাউকে ধন্যবাদ জানানোর ক্ষেত্রে “জাযাকাল্লাহু খাইরান” একটি বহুল ব্যবহৃত ইসলামি অভিব্যক্তি। এর অর্থ, “আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন।” কেউ আপনার উপকার করলে, সাহায্য করলে বা ভালো কিছু করলে তাকে ধন্যবাদ হিসেবে এটি বলা যায়। হাদিসে এই বাক্য ব্যবহারের প্রশংসা করা হয়েছে।
তবে পুরুষ ও নারীর ক্ষেত্রে আরবি বাক্যটির রূপে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। একজন পুরুষকে বলা হয় “জাযাকাল্লাহু খাইরান”, একজন নারীকে “জাযাকিল্লাহু খাইরান” এবং একাধিক ব্যক্তিকে উদ্দেশ করে “জাযাকুমুল্লাহু খাইরান” বলা হয়। দৈনন্দিন কথাবার্তায় অনেকেই সংক্ষেপে “জাযাকাল্লাহু খাইর” বলেন, যদিও পূর্ণ রূপ “জাযাকাল্লাহু খাইরান”।
কেউ আপনার জন্য দোয়া করলে বা ভালো কোনো দোয়া শুনলে “আমিন” বলা হয়। এর অর্থ দোয়া কবুল হওয়ার আবেদন বা “হে আল্লাহ, কবুল করুন” অর্থে ব্যবহৃত হয়। আবার কেউ আপনাকে “জাযাকাল্লাহু খাইরান” বললে উত্তরে “ওয়া ইইয়্যাক” বা “ওয়া ইইয়্যাকুম” বলা হয়, যার অর্থ, “আপনাকেও।”
কারও সঙ্গে দেখা হলে মুসলিমদের প্রচলিত অভিবাদন হলো “আসসালামু আলাইকুম”, যার অর্থ “আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।” এর উত্তরে বলা হয় “ওয়া আলাইকুমুস সালাম”, অর্থাৎ “আপনার ওপরও শান্তি বর্ষিত হোক।”
এ ছাড়া কেউ ভালো কোনো খবর দিলে বা আল্লাহর কোনো নিয়ামতের কথা বললে আলহামদুলিল্লাহ বলা যায়। কোনো সুন্দর বা প্রশংসনীয় বিষয় দেখলে মাশাআল্লাহ বলা যায়। ভবিষ্যতে কোনো কাজ করার ইচ্ছা বা পরিকল্পনা প্রকাশ করলে ইনশাআল্লাহ বলা যায়। আর কেউ উপকার করলে জাযাকাল্লাহু খাইরান বলা যায়।
সহজভাবে মনে রাখার একটি উপায় হলো, বর্তমানের জন্য আলহামদুলিল্লাহ, ভবিষ্যতের পরিকল্পনার জন্য ইনশাআল্লাহ, ভালো কিছু দেখে প্রশংসার জন্য মাশাআল্লাহ এবং কারও উপকারের জন্য জাযাকাল্লাহু খাইরান।
তবে এসব শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কাউকে ভুল বলার জন্য লজ্জায় ফেলে দেওয়া উচিত নয়। অনেক মুসলিমই পারিবারিক বা সামাজিক ব্যবহারের মাধ্যমে শব্দগুলো শিখেছেন এবং সব সময় আরবি অর্থ বা ব্যাকরণ জানেন না। তাই ভুল ধরিয়ে দেওয়ার সময় সমালোচনার বদলে সুন্দরভাবে সঠিক ব্যবহারটি জানিয়ে দেওয়াই বেশি উপকারী।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
ধর্ম
View moreমুসলিমদের দৈনন্দিন কথাবার্তায় আরবি বিভিন্ন শব্দ ও বাক্যাংশের ব্যবহার খুবই সাধারণ। তবে আলহামদুলিল্লাহ, ইনশাআল্লাহ, মাশাআল্লাহ কিংবা জাযাকাল্লাহু খাইরান, শব্দগুলোর অর্থ ও ব্যবহারের জায়গা এক নয়। অনেক সময় না জেনে একটির জায়গায় আরেকটি ব্যবহার করায় কথার অর্থও বদলে যায়। তাই দৈনন্দিন কথোপকথনে কোন পরিস্থিতিতে কোন শব্দটি ব্যবহার করা স্বাভাবিক ও যথাযথ, তা জানা গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যদি প্রশ্ন করেন, “আপনি কেমন আছেন?” তখন বর্তমান অবস্থা বা আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে বলা যায়, “আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি।” আলহামদুলিল্লাহর অর্থ হলো, “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।” এটি কৃতজ্ঞতা, সন্তুষ্টি ও আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়। ইসলামি সূত্র ও প্রচলিত ব্যবহারে কারও বর্তমান অবস্থা বা দিনের খবর জানাতেও আলহামদুলিল্লাহ বলা হয়। অন্যদিকে, ইনশাআল্লাহ মূলত ভবিষ্যতের কোনো কাজ বা ঘটনার ক্ষেত্রে বলা হয়। এর অর্থ, “আল্লাহ চাইলে” বা “আল্লাহর ইচ্ছায়।” যেমন, “আগামীকাল দেখা হবে, ইনশাআল্লাহ”, “আমি আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশ যাব, ইনশাআল্লাহ” অথবা “আগামীকাল কাজটি শেষ করব, ইনশাআল্লাহ।” ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বা প্রত্যাশার সঙ্গে শব্দটির ব্যবহার বেশি স্বাভাবিক। এ কারণে কেউ যখন জিজ্ঞেস করেন, “আপনি কেমন আছেন?” তখন “ইনশাআল্লাহ, ভালো আছি” বলা অর্থের দিক থেকে স্বাভাবিক উত্তর নয়। কারণ প্রশ্নটি বর্তমান অবস্থা নিয়ে, আর ইনশাআল্লাহ সাধারণত ভবিষ্যৎ কোনো বিষয় বা প্রত্যাশার সঙ্গে ব্যবহৃত হয়। এমন ক্ষেত্রে “আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি” বলা বেশি যথাযথ। মাশাআল্লাহ আবার অন্য ধরনের পরিস্থিতিতে ব্যবহৃত হয়। কারও ভালো কিছু দেখে প্রশংসা, আনন্দ বা বিস্ময় প্রকাশের ক্ষেত্রে মাশাআল্লাহ বলা হয়। এর অর্থ মোটামুটি “আল্লাহ যা চেয়েছেন” বা “আল্লাহর ইচ্ছায় এটি হয়েছে।” যেমন, কারও সন্তানকে সুন্দর ও ভালো দেখে বলা যায়, “মাশাআল্লাহ, আপনার ছেলে খুব ভালো করেছে।” কেউ নতুন বাড়ি কিনলে, কোনো সুন্দর দৃশ্য দেখলে বা কারও কোনো ভালো অর্জন দেখে প্রশংসা করতেও মাশাআল্লাহ বলা হয়। আর কাউকে ধন্যবাদ জানানোর ক্ষেত্রে “জাযাকাল্লাহু খাইরান” একটি বহুল ব্যবহৃত ইসলামি অভিব্যক্তি। এর অর্থ, “আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন।” কেউ আপনার উপকার করলে, সাহায্য করলে বা ভালো কিছু করলে তাকে ধন্যবাদ হিসেবে এটি বলা যায়। হাদিসে এই বাক্য ব্যবহারের প্রশংসা করা হয়েছে। তবে পুরুষ ও নারীর ক্ষেত্রে আরবি বাক্যটির রূপে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। একজন পুরুষকে বলা হয় “জাযাকাল্লাহু খাইরান”, একজন নারীকে “জাযাকিল্লাহু খাইরান” এবং একাধিক ব্যক্তিকে উদ্দেশ করে “জাযাকুমুল্লাহু খাইরান” বলা হয়। দৈনন্দিন কথাবার্তায় অনেকেই সংক্ষেপে “জাযাকাল্লাহু খাইর” বলেন, যদিও পূর্ণ রূপ “জাযাকাল্লাহু খাইরান”। কেউ আপনার জন্য দোয়া করলে বা ভালো কোনো দোয়া শুনলে “আমিন” বলা হয়। এর অর্থ দোয়া কবুল হওয়ার আবেদন বা “হে আল্লাহ, কবুল করুন” অর্থে ব্যবহৃত হয়। আবার কেউ আপনাকে “জাযাকাল্লাহু খাইরান” বললে উত্তরে “ওয়া ইইয়্যাক” বা “ওয়া ইইয়্যাকুম” বলা হয়, যার অর্থ, “আপনাকেও।” কারও সঙ্গে দেখা হলে মুসলিমদের প্রচলিত অভিবাদন হলো “আসসালামু আলাইকুম”, যার অর্থ “আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।” এর উত্তরে বলা হয় “ওয়া আলাইকুমুস সালাম”, অর্থাৎ “আপনার ওপরও শান্তি বর্ষিত হোক।” এ ছাড়া কেউ ভালো কোনো খবর দিলে বা আল্লাহর কোনো নিয়ামতের কথা বললে আলহামদুলিল্লাহ বলা যায়। কোনো সুন্দর বা প্রশংসনীয় বিষয় দেখলে মাশাআল্লাহ বলা যায়। ভবিষ্যতে কোনো কাজ করার ইচ্ছা বা পরিকল্পনা প্রকাশ করলে ইনশাআল্লাহ বলা যায়। আর কেউ উপকার করলে জাযাকাল্লাহু খাইরান বলা যায়। সহজভাবে মনে রাখার একটি উপায় হলো, বর্তমানের জন্য আলহামদুলিল্লাহ, ভবিষ্যতের পরিকল্পনার জন্য ইনশাআল্লাহ, ভালো কিছু দেখে প্রশংসার জন্য মাশাআল্লাহ এবং কারও উপকারের জন্য জাযাকাল্লাহু খাইরান। তবে এসব শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কাউকে ভুল বলার জন্য লজ্জায় ফেলে দেওয়া উচিত নয়। অনেক মুসলিমই পারিবারিক বা সামাজিক ব্যবহারের মাধ্যমে শব্দগুলো শিখেছেন এবং সব সময় আরবি অর্থ বা ব্যাকরণ জানেন না। তাই ভুল ধরিয়ে দেওয়ার সময় সমালোচনার বদলে সুন্দরভাবে সঠিক ব্যবহারটি জানিয়ে দেওয়াই বেশি উপকারী।
আজ ১২ রবিউল আউয়াল: সারা দেশে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)
মহানবী (সা.)-এর জন্মদিনে ছুটি দেয় বহু মুসলিম দেশ, ব্যতিক্রম সৌদি আরবসহ কয়েকটি
তুরস্কে ছুটি কাটাতে এসে ইসলাম গ্রহণ করলেন জার্মান নারী
উত্তর আফ্রিকার গুরুত্বপূর্ণ দেশ মরক্কো শুধু ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই নয়, ইসলামি ইতিহাস ও সভ্যতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেও সুপরিচিত। আটলান্টিক মহাসাগর ও ভূমধ্যসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত দেশটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিভিন্ন সভ্যতার উত্থান-পতনের সাক্ষী হয়েছে। তবে সপ্তম শতাব্দীতে ইসলামের আগমন মরক্কোর ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, আরবি ভাষায় মরক্কোকে ‘আল-মাগরিব’ বলা হয়, যার অর্থ ‘দূরতম পশ্চিম’। ইসলাম আগমনের আগে এই অঞ্চল বারবার, ফোনেশীয়, রোমান, ভ্যান্ডাল ও বাইজেন্টাইনদের শাসনের অধীনে ছিল। বিশেষ করে বাইজেন্টাইন শাসনের শেষ দিকে স্থানীয় বারবার জনগোষ্ঠীর ওপর নিপীড়ন ও বৈষম্য বেড়ে যায়। খোলাফায়ে রাশেদার যুগের পর উমাইয়া খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতা হজরত মুয়াবিয়া (রা.) মুসলিম রাষ্ট্রকে প্রশাসনিকভাবে বিভিন্ন প্রদেশে ভাগ করেন। সে সময় উত্তর আফ্রিকার দায়িত্ব দেওয়া হয় মুসলিম সেনাপতি হজরত উকবা ইবনে নাফে (রা.)-কে এবং মিসরের শাসনভার ছিল হজরত আমর ইবনে আস (রা.)-এর হাতে। ঐতিহাসিক বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে, রোমান ও বাইজেন্টাইনদের নিপীড়নে অতিষ্ঠ হয়ে উত্তর আফ্রিকার বারবার জনগোষ্ঠী মুসলিম শাসকদের কাছে সহায়তা চায়। এরপর খলিফা মুয়াবিয়া (রা.) উকবা ইবনে নাফে (রা.)-এর নেতৃত্বে একটি সুসজ্জিত বাহিনী উত্তর আফ্রিকায় পাঠান। দীর্ঘ অভিযানের পর ৬৮৩ খ্রিস্টাব্দে উকবা ইবনে নাফে (রা.)-এর নেতৃত্বে মরক্কোতে মুসলিম বাহিনী প্রবেশ করে এবং সেখানে মুসলিম শাসনের সূচনা হয়। এরপর মরক্কো উমাইয়া খিলাফতের অধীনে ইফ্রিকিয়া প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত হয়। ইতিহাসবিদদের মতে, মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার পর স্থানীয় জনগণকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করার কোনো প্রমাণ নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক সূত্রে পাওয়া যায় না। বরং মুসলিম প্রশাসনের ন্যায়বিচার, সুশাসন, মানবিক আচরণ এবং ইসলামের সহজ-সরল জীবনব্যবস্থায় আকৃষ্ট হয়ে অনেক বারবার স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেন। এর ফলে মরক্কোতে ইসলাম দ্রুত বিস্তার লাভ করে এবং বারবার জনগোষ্ঠী মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়। পরবর্তী সময়ে উত্তর আফ্রিকা ও আন্দালুসে মুসলিম সভ্যতার বিকাশেও মরক্কোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। মরক্কো শুধু মুসলিম শাসনের জন্যই নয়, জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবেও ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। ৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে ফেস শহরে ফাতিমা আল-ফিহরি প্রতিষ্ঠা করেন আল-কারাউইন বিশ্ববিদ্যালয়, যাকে বিশ্বের প্রাচীনতম ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এছাড়া বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুসলিম পর্যটক ও ভ্রমণকারী ইবনে বতুতা-র জন্মও মরক্কোর তাঞ্জিয়ার শহরে। তাঁর বিখ্যাত ভ্রমণগ্রন্থ ‘আর-রিহলা’ মধ্যযুগীয় বিশ্বের ইতিহাস ও ভূগোল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের অন্যতম উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়। বর্তমানেও মরক্কো ইসলামি ঐতিহ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং ঐতিহাসিক স্থাপত্যের জন্য বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম দেশ হিসেবে পরিচিত।
মাত্র পাঁচ হাজার মুসলিম, তবু কেপ ভার্দেতে ধীরে ধীরে শক্ত হচ্ছে ইসলামের ভিত্তি
স্ত্রীকে ছেড়ে কতদিন প্রবাসে থাকা জায়েজ? যা বলছে ইসলামী শরিয়ত
সৌদি আরবে শুটিংয়ের সময় ইসলাম গ্রহণ করলেন হলিউড অভিনেতা
ওমানের পূর্ব উপকূলের কাছাকাছি একটি বাণিজ্যিক তেলবাহী ট্যাঙ্কারে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, হামলার পর জাহাজটি নিরাপদে তার গন্তব্যের দিকে যাত্রা অব্যাহত রেখেছে এবং এতে কোনো ক্রু সদস্য আহত হননি। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (UKMTO) জানায়, ওমান উপকূলের পোর্ট বো এলাকার কাছ থেকে প্রায় ছয় নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থানকালে ট্যাঙ্কারটিকে লক্ষ্য করে একটি অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এটি জাহাজটির সামনের অংশে আঘাত হানে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম সিকিউরিটি এজেন্সি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক সতর্কবার্তায় জানায়, হামলার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং জাহাজের সকল নাবিক নিরাপদ রয়েছেন। একই সঙ্গে তারা নিশ্চিত করে যে, হামলার কারণে সমুদ্রে কোনো তেল বা রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ে পরিবেশগত ক্ষতি হয়নি। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ট্যাঙ্কারটি তার নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা অব্যাহত রেখেছে বলে জানানো হয়েছে। তবে হামলার পেছনে কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পর আন্তর্জাতিক নৌ কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি ওই সমুদ্রপথ দিয়ে চলাচলকারী অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সন্দেহজনক কোনো তৎপরতা দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।
খুশির রঙে এলো ঈদুল আজহা, ত্যাগ ও মানবিকতার বার্তায় উদ্যাপিত হচ্ছে মুসলিমদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব
আরাফাতের খুতবায় মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের আহ্বান জানালেন ইমাম আল-হুদাইফি