সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
ধর্ম

ভারতের বাবরি মসজিদের আদলে একই নামে মসজিদ হচ্ছে ঢাকার কেরানীগঞ্জে

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৯:২৩
ভারতের বাবরি মসজিদ
ভারতের বাবরি মসজিদ

ভারতের অযোধ্যার ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদের আদলে এবং একই নামে বাংলাদেশের ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জে নির্মিত হচ্ছে একটি বড় মসজিদ।ধলেশ্বরী নদীর তীরবর্তী কলাতিয়া এলাকায় জামিয়াতুত তারবিয়া আল ইসলামিয়ার ক্যাম্পাসে নির্মাণাধীন মসজিদটি ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে।

 

তবে এটি একেবারে নতুন কোনো প্রকল্প নয়। মসজিদটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণকাজের উদ্বোধন হয়েছিল ২০২০ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি। তৎকালীন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী এর উদ্বোধন করেন। মাওলানা মামুনুল হক পরিচালিত জামিয়াতুত তারবিয়া আল ইসলামিয়ার ক্যাম্পাসে মসজিদটির নাম রাখা হয় ভারতের অযোধ্যার ঐতিহাসিক ‘বাবরি মসজিদ’-এর নামে।

 

সাম্প্রতিক সময়ে মসজিদটির নির্মাণকাজ দৃশ্যমান হওয়ায় বিষয়টি আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, কেরানীগঞ্জের কলাতিয়ায় ধলেশ্বরী নদীর তীরে মসজিদটির নির্মাণকাজ চলছিল। স্থাপত্যে অযোধ্যার পুরোনো বাবরি মসজিদের বৈশিষ্ট্য অনুসরণের চেষ্টা করা হচ্ছে। গম্বুজ, খিলান ও দেয়ালের অলংকরণে মোগল স্থাপত্যরীতির ছাপ রাখার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

মসজিদটি কতটুকু জমির ওপর নির্মিত হচ্ছে, তা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তথ্যের কিছু পার্থক্য রয়েছে। একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে প্রায় ছয় বিঘা জমির কথা বলা হলেও একই প্রতিবেদনে কিছু সূত্রে তিন বিঘার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে জমির সুনির্দিষ্ট আয়তন সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

 

প্রকল্পটির অর্থায়নের ক্ষেত্রেও সাধারণ মানুষের অনুদানের ওপর নির্ভর করার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কেউ অর্থ, কেউ নির্মাণসামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করছেন। তবে প্রকল্পের মোট ব্যয় বা এখন পর্যন্ত কত টাকা সংগ্রহ হয়েছে—এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য প্রকাশ্য হিসাব পাওয়া যায়নি।

 

মসজিদ নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, এই স্থাপনার মাধ্যমে বাবরি মসজিদের ইতিহাস ও স্মৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে চান তারা। ২০২৫ সালের এপ্রিলেও জামিয়াতুত তারবিয়া আল ইসলামিয়ার একটি অনুষ্ঠান ‘ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ কমপ্লেক্স ক্যাম্পাসে’ অনুষ্ঠিত হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

 

ভারতের উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় অবস্থিত বাবরি মসজিদ ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর করসেবকদের হাতে ধ্বংস হয়। দীর্ঘ আইনি বিরোধের পর ২০১৯ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিতর্কিত জমিটি রামমন্দির নির্মাণের জন্য দেওয়ার রায় দেয় এবং মুসলিম পক্ষকে মসজিদ নির্মাণের জন্য বিকল্প পাঁচ একর জমি দেওয়ার নির্দেশ দেয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অযোধ্যায় নির্মিত রামমন্দিরে প্রাণপ্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

 

কেরানীগঞ্জের নির্মাণাধীন মসজিদটি অযোধ্যার মূল বাবরি মসজিদের পুনর্নির্মাণ নয়; এটি সেই ঐতিহাসিক স্থাপনার নাম ও স্থাপত্যরীতি অনুসরণ করে বাংলাদেশে নেওয়া একটি পৃথক উদ্যোগ। প্রকল্পটির ভিত্তি স্থাপনের ছয় বছরের বেশি সময় পরও নির্মাণকাজ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
জৈবিক বাবার সঙ্গে নিষিদ্ধ সম্পর্কে জড়িয়ে দোষ স্বীকার, মাত্র এক বছরের সাজায় ক্ষুব্ধ পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

ধর্ম

View more
নিউইয়র্কের কুইন্সে জামাইকা মুসলিম সেন্টারের ভবন।
অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতিতে নিউইয়র্কের জামাইকা মুসলিম সেন্টারে বন্ধ জুমার নামাজ, ভোগান্তিতে মুসল্লিরা

নিউইয়র্কের কুইন্সে বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির অন্যতম পরিচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান জামাইকা মুসলিম সেন্টারের কার্যক্রম অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত জটিলতায় সাময়িকভাবে স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রসারণকাজ চলাকালে প্রয়োজনীয় স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় নগর কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপ নেয়। এর ফলে ৬ নভেম্বর শুক্রবারের জুমার নামাজে অংশ নিতে পারেননি মসজিদটির নিয়মিত মুসল্লিরা।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, জামাইকা মুসলিম সেন্টারের চলমান সম্প্রসারণ প্রকল্প পরিদর্শনের পর অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে আপত্তি তোলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ভবনের সম্প্রসারণকাজে স্বয়ংক্রিয় স্প্রিংকলার ব্যবস্থা না থাকাকে সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।   নিউইয়র্ক ফায়ার ডিপার্টমেন্টের বিশেষ পরিদর্শন ইউনিটের অগ্নিনিরাপত্তা পরিদর্শক থমাস ফোর্ড জানান, একাধিক অভিযোগ পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভবনে স্বয়ংক্রিয় স্প্রিংকলার ব্যবস্থা না থাকলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মুসল্লিদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।   তিনি আরও জানান, স্প্রিংকলার স্থাপনের কাজ শেষ হলে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। এরপর ফায়ার বিভাগ পুনরায় পরিদর্শন করবে। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাবিধি মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই প্রতিষ্ঠানটি আবার কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি পাবে।   জামাইকা মুসলিম সেন্টারের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার জানিয়েছেন, স্প্রিংকলার স্থাপনের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আশা করেছিল, পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। তবে শুক্রবারের জুমার নামাজের আগেই কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ আসে।   তিনি জানান, ভবনের সম্প্রসারণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছিল। এ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   শুক্রবার মুসল্লিরা মসজিদে নামাজ আদায় করতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করে দেলোয়ার জানান, প্রয়োজনীয় কাজ শেষ হলে দ্রুত স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করার আশা করছেন তাঁরা। এর মধ্যে নিয়মিত মুসল্লিদের কাছাকাছি অন্যান্য মসজিদে নামাজ আদায়ের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   জামাইকা মুসলিম সেন্টারের সম্প্রসারণ প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো নামাজ ও ধর্মীয় শিক্ষার জন্য আরও জায়গা তৈরি করা। পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে হিফজ বিভাগ দ্বিতীয় তলা থেকে তৃতীয় তলায় স্থানান্তর, প্রায় ১৮০ জন মুসল্লির জন্য অতিরিক্ত নামাজের জায়গা তৈরি, পুরোনো ও নতুন ভবনের মধ্যে সংযোগ উন্নত করা এবং একটি লিফট স্থাপন।   এ প্রকল্পের অর্থায়নে গত ২৪ অক্টোবর একটি তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রায় ১০ লাখ ডলারের অনুদান ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   নিউইয়র্কের বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির কাছে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়টি এখন প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পন্ন ও কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পরিদর্শনের ওপর নির্ভর করছে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৮, ২০২৬ ১২:১০
ড. ফেরদৌস সালেহীনের লেখা সূরা আল-ফাতিহার তাফসির ও জীবনের প্রতিফলনবিষয়ক নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন বা উপস্থাপনা। ছবি: সংগৃহীত

সূরা ফাতিহার সাত আয়াত যেভাবে বদলে দিল ড. ফেরদৌস সালেহীনের জীবনদৃষ্টি

জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ ও কার্যনির্বাহী কমিটি যৌথভাবে এই ফান্ডরেইজিং ডিনারের উদ্যোগ নেয়

জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের কমিউনিটির বড় সহায়তা, ৮ লাখ ডলারের অনুদান

বাইবেল ও কোরআন পাঠের মধ্য দিয়ে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হন ডেইজি

খ্রিস্টধর্ম প্রচারে সৌদি আরবে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ, সিস্টার ডেইজির জীবনে কী ঘটেছিল

হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব নবরাত্রি উদ্‌যাপনে গরবা নৃত্যে অংশ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন
নবরাত্রিতে গরবা নাচে মামদানি, মন্দিরে পুরোহিতের আশীর্বাদ নিয়ে আলোচনায় নিউইয়র্কের মেয়র

হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব নবরাত্রি উদ্‌যাপনে গরবা নৃত্যে অংশ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। ভারতীয় বংশোদ্ভূত সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর নাচের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। উৎসবের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি একটি মন্দিরে গিয়ে পুরোহিতের আশীর্বাদ নেওয়ার দৃশ্যও প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে ও মানিকন্ট্রোলের ২০ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নবরাত্রি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মামদানিকে ঐতিহ্যবাহী গুজরাটি গরবা নৃত্যে অংশ নিতে দেখা যায়। কালো পোশাকের সঙ্গে গলায় ওড়নার মতো কাপড় পরে তিনি অন্য অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে নাচে যোগ দেন। অনুষ্ঠানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।   শুধু নৃত্যে অংশ নেওয়াই নয়, উৎসব উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে শুভেচ্ছাবার্তাও দিয়েছেন মামদানি। ১৪ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি নবরাত্রির বিভিন্ন আঞ্চলিক রীতি ও ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করেন। দুর্গাপূজা, নবরাত্রি, দশেরা ও দশাইনের মতো উৎসবের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য প্রকাশ পায় বলে তাঁর বার্তায় উঠে আসে।   মামদানি তাঁর বার্তায় বলেন, নবরাত্রি উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ দেবী দুর্গার আরাধনা করেন, গরবা নাচে অংশ নেন, সিঁদুর খেলা পালন করেন এবং বড়দের কাছ থেকে টিকা গ্রহণ করেন। বিভিন্ন পরিবার ও অঞ্চলে উৎসব পালনের রীতিতে পার্থক্য থাকলেও এসব আয়োজন মানুষের জন্য আত্মপর্যালোচনা ও নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার উপলক্ষ হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি শুভেচ্ছাবার্তায় উল্লেখ করেন।   মামদানির অংশগ্রহণের ভিডিও প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে তাঁর নাচের প্রশংসা করেছেন। কেউ কেউ বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে তাঁর অংশগ্রহণকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিক্রিয়াগুলো সব ব্যবহারকারীর মতামতের প্রতিনিধিত্ব করে—এমন কোনো প্রমাণ নেই।   নবরাত্রি হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। সাধারণত দেবী দুর্গার আরাধনাকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে এই উৎসব পালিত হয়। ভারতের গুজরাটে গরবা ও ডান্ডিয়া নৃত্য নবরাত্রি উদ্‌যাপনের বিশেষ অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন শহরে বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের মানুষও প্রতিবছর নাচ, সংগীত, প্রার্থনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উৎসবটি উদ্‌যাপন করেন।   নিউইয়র্কে বিভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও জাতিগত পরিচয়ের মানুষের বসবাস। শহরটির সাংস্কৃতিক জীবনে দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি রয়েছে। নবরাত্রি ও দুর্গাপূজার মতো উৎসবকে কেন্দ্র করে আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলো প্রবাসী পরিবারগুলোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি অন্য সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগও তৈরি করে।   মামদানি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি নিউইয়র্ক সিটির ১১২তম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মেয়র হওয়ার আগে তিনি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভার সদস্য ছিলেন। তাঁর সাম্প্রতিক উৎসবে অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা মূলত সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি, ধর্মীয় বৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের যোগাযোগের বিষয়গুলোকে সামনে এনেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২০, ২০২৬ ১৭:১৪
মুহূর্তেই মাথায় ভেঙে পড়ল বিশাল ক্রুশ

লাইভে প্রার্থনা করছিলেন পুরোহিত, মুহূর্তেই মাথায় ভেঙে পড়ল বিশাল ক্রুশ!

দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আচারেই সীমাবদ্ধ নয়

দুর্গাপূজার আনন্দে মাতোয়ারা বাংলাদেশ, মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তদের ঢল, উৎসবের রঙে রঙিন দেশ

করোনাভাইরাস মহামারির সময় মক্কার পবিত্র কাবা শরিফ ঘিরে এক নারীর একা তাওয়াফ করার একটি ভিডিও

৬ বছর আগে মহামারির সময়ে একাই কাবা তাওয়াফ করেছিলেন এক পরম সৌভাগ্যবান নারী

১৯তম জাতীয় কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতার
জাতীয় কোরআন তিলাওয়াতের  প্রতিযোগিতায় যোগ দিলেন থাইল্যান্ডের রাজা ও রানি

থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় পাত্তানিতে ১৯তম জাতীয় কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়েছেন রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন ও রানি সুথিদা। গত ১০ অক্টোবর পাত্তানি কেন্দ্রীয় মসজিদে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন তাঁরা। ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পাশাপাশি সফরে ইমাম ও ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদেরও সম্মাননা দেওয়া হয়।    থাই সংবাদমাধ্যম মাতিচনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটে রাজা ও রানি কেন্দ্রীয় মসজিদে পৌঁছান। সেখানে থাইল্যান্ডের শায়খুল ইসলাম অরুণ বুনচম, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, ধর্মীয় নেতা ও সাধারণ মানুষ তাঁদের স্বাগত জানান।  অনুষ্ঠানের শুরুতে ২০২৫ সালের জাতীয় প্রতিযোগিতার বিজয়ী কোরআন তিলাওয়াত করেন। এরপর তিলাওয়াত করা আয়াতের অর্থ থাই ভাষায় উপস্থাপন করা হয়। প্রতিযোগিতা আয়োজনের উদ্দেশ্য তুলে ধরেন পাত্তানির ভারপ্রাপ্ত গভর্নর। পরে বিজয়ী, রানারআপ ও অন্যান্য পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়া হয়। বিচারক ও আয়োজনের সহযোগীদেরও স্মারক দেওয়া হয়।    সফরে ২০২৫ সালের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে প্রাদেশিক ইসলামি কমিটির সদস্য ও ইমামদের সম্মাননা এবং অর্থ পুরস্কার দেওয়া হয়। দক্ষিণাঞ্চলের বেসরকারি ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, প্রশাসক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্যও পুরস্কার বিতরণের আয়োজন ছিল।  মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম সিনার হারিয়ান জানিয়েছে, রাজকীয় চিকিৎসক দল স্থানীয় স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় ৭৮৭ জনকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা দেয়। তাঁদের মধ্যে ছয়জনকে রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় চিকিৎসা সহায়তার জন্য নির্বাচিত করা হয়।    রাজা ও রানি তাঁদের স্বাগত জানাতে আসা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলেন। উপস্থিত মানুষের জন্য হালাল খাবার বিতরণ করা হয়।   

প্রকাশ: অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ০:৪০
মসজিদ

ভারতে একের পর এক মসজিদ ভাঙা নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক, উঠছে নানা প্রশ্ন?

ভারতে মসজিদ ভাঙা ঘিরে পুলিশের তীব্র সংঘর্ষ

ভারতে মসজিদ ভাঙা ঘিরে উত্তেজনা, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের তীব্র সংঘর্ষ

ভারতের বাবরি মসজিদ

ভারতের বাবরি মসজিদের আদলে একই নামে মসজিদ হচ্ছে ঢাকার কেরানীগঞ্জে

0 Comments