ধর্ম

মুখমণ্ডল কি পর্দার অন্তর্ভুক্ত? শায়খ আহমাদুল্লাহর ব্যাখ্যা

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ৮, ২০২৬ ২:৭
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

পরপুরুষ বা গায়েরে মাহরামের সামনে পর্দা করার ক্ষেত্রে নারীরা মুখমণ্ডল ও হাতের কব্জি খোলা রাখতে পারবেন কি না, এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তায় তিনি এই বিষয়ে আলেমদের মতভেদ এবং কোরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা তুলে ধরেন।

 

শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, পবিত্র কোরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন নারীদের বাহ্যিক সৌন্দর্য প্রকাশ করতে নিষেধ করেছেন। অনেক মুফাসসিরের মতে, পর্দার জন্য যে পোশাক পরা হয় তার বাইরের অংশটুকু প্রকাশ হওয়া স্বাভাবিক। তবে অধিকাংশ আলেমের মতে, মুখমণ্ডল পর্দার অন্তর্ভুক্ত। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, মানুষের সৌন্দর্যের মূল কেন্দ্র হলো তার মুখমণ্ডল। সেটি খোলা থাকলে সৌন্দর্য আবৃত করার ঐশী নির্দেশ পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিপালিত হয় না।

 

হজরত আয়েশা (রা.)-এর হজের সফরের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, আম্মাজান আয়েশা (রা.) কোনো গায়েরে মাহরাম পুরুষকে আসতে দেখলে মাথার কাপড় টেনে মুখ ঢাকার চেষ্টা করতেন। এটি প্রমাণ করে যে, মুখমণ্ডল পর্দারই অংশ। তিনি আরও বলেন, প্রাচীন আমলের আলেমদের কেউ কেউ মুখমণ্ডল খোলা রাখার কথা বললেও বর্তমানে হিজাব পরার যে ঢং—যেখানে মুখমণ্ডলকে আলাদা করে প্রদর্শন করা হয়—তা পর্দার প্রকৃত সীমানার মধ্যে পড়ে না।

 

শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, মুখমণ্ডল ঢেকে রাখাই অধিকতর নিরাপদ ও অগ্রগণ্য মত। তবে প্রাচীন আলেমদের ‘খোলা রাখা জায়েজ’ বলার অর্থ এই নয় যে সৌন্দর্য প্রদর্শন করা যাবে; বরং সেটি পর্দার বিশেষ পরিস্থিতির আলোকে বলা হয়েছিল। বর্তমান সময়ে হিজাবের মাধ্যমে সৌন্দর্য প্রদর্শনের যে প্রবণতা দেখা যায়, তা পর্দার মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

ধর্ম

View more
ছবি: সংগৃহীত
মাত্র পাঁচ হাজার মুসলিম, তবু কেপ ভার্দেতে ধীরে ধীরে শক্ত হচ্ছে ইসলামের ভিত্তি

আটলান্টিক মহাসাগরের মাঝখানে অবস্থিত ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত এই দেশটি মূলত পর্যটন, সমুদ্রবন্দর ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য পরিচিত। তবে এর আড়ালে রয়েছে আরেকটি কম আলোচিত ইতিহাস। সেটি হলো, শত শত বছরের দাসবাণিজ্য ও ঔপনিবেশিক শাসনের বাধা অতিক্রম করে কেপ ভার্দেতে ইসলামের ধীর কিন্তু ধারাবাহিক বিকাশ।   কেপ ভার্দের ২০২১ সালের জাতীয় আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ লাখ জনসংখ্যার এই দেশে মুসলিমের সংখ্যা আনুমানিক পাঁচ হাজার, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১ শতাংশ। সংখ্যায় তারা ছোট একটি সম্প্রদায় হলেও ব্যবসা-বাণিজ্য, সমাজসেবা, ধর্মীয় কার্যক্রম এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার মাধ্যমে দেশটির বহুসাংস্কৃতিক সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।   দেশটির মুসলিমদের অধিকাংশই পশ্চিম আফ্রিকার সেনেগাল, গিনি-বিসাউ ও মালি থেকে আসা অভিবাসী। রাজধানী প্রাইয়া, বন্দরনগরী মিনদেলো এবং পর্যটননির্ভর সাল ও বোয়া ভিস্তা দ্বীপে তাদের বসবাস বেশি। তারা মূলত খুচরা ব্যবসা, নির্মাণশিল্প, পরিবহন, হোটেল ও পর্যটনসেবা এবং হস্তশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। ধর্মীয়ভাবে অধিকাংশই সুন্নি মুসলিম এবং পশ্চিম আফ্রিকার তিজানিয়া ও মুরিদ সুফি ধারার সাংস্কৃতিক প্রভাব তাদের জীবনাচরণে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।   ইতিহাসবিদদের মতে, কেপ ভার্দেতে ইসলামের ইতিহাস প্রায় সাড়ে পাঁচ শতাব্দী পুরোনো। ১৪৬২ সালে পর্তুগিজরা দ্বীপপুঞ্জে উপনিবেশ স্থাপন করার পর কেপ ভার্দে দ্রুত আটলান্টিক দাসবাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়। সে সময় সেনেগাম্বিয়া ও আপার গিনি অঞ্চল থেকে আগত মুসলিম ব্যবসায়ী ও দাসদের মাধ্যমে দ্বীপটিতে ইসলামের প্রথম পরিচয় ঘটে।   ওলোফ, মান্দিঙ্কা ও ফুলানি জনগোষ্ঠীর বহু মুসলিম কৃষিকাজ ও গৃহস্থালি শ্রমে নিয়োজিত ছিলেন। তাদের অনেকেরই ইসলামি শিক্ষা ও ধর্মীয় জ্ঞান ছিল সমৃদ্ধ। কিন্তু পর্তুগিজ ঔপনিবেশিক শাসনামলে ক্যাথলিক ধর্মকে প্রাধান্য দিয়ে মুসলিমদের ওপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। অনেক মুসলিমকে জোরপূর্বক খ্রিস্টধর্ম গ্রহণে বাধ্য করা হয় এবং কোরআন তেলাওয়াত কিংবা প্রকাশ্যে ধর্মীয় আচার পালনের সুযোগ সীমিত করে দেওয়া হয়। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে দেশটিতে কোনো স্থায়ী ইসলামি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি।   তবে ইসলামের প্রভাব পুরোপুরি বিলীন হয়নি। স্থানীয় ক্রেওল ভাষা ও সংস্কৃতিতে পশ্চিম আফ্রিকার মুসলিম ঐতিহ্যের নানা উপাদান আজও টিকে রয়েছে। পাশাপাশি অভিবাসী মুসলিমদের মধ্যে ফরাসি ও ওলোফ ভাষার ব্যবহার দেশটির সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।   ১৯৭৫ সালের ৫ জুলাই পর্তুগালের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর কেপ ভার্দের সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়। এর ফলে মুসলিমরা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পান। পরবর্তী সময়ে পর্যটনশিল্পের বিকাশ, বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ার ফলে মুসলিম অভিবাসীর সংখ্যাও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়।   ১৯৯০ সালে রাজধানী প্রাইয়ায় দেশের প্রথম সরকারি স্বীকৃত মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি বর্তমানে মুসলিমদের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পরে ২০১৪ সালে অন্তত ৫০০ সদস্যবিশিষ্ট ধর্মীয় সংগঠনকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার আইন কার্যকর হলে মুসলিম সংগঠনগুলোও সরকারি স্বীকৃতি ও বিভিন্ন প্রশাসনিক সুবিধা পেতে শুরু করে।   বর্তমানে রাজধানী প্রাইয়া, মিনদেলো এবং সাল দ্বীপে কয়েকটি ছোট মসজিদ ও ইবাদতের স্থান রয়েছে। সেখানে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমার নামাজ, রমজানের তারাবি এবং ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। যদিও দেশটিতে বড় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক মাদরাসা নেই, তবুও মসজিদকেন্দ্রিক ছোট ছোট মক্তবে শিশু-কিশোরদের কোরআন শিক্ষা ও ইসলামের মৌলিক বিষয় শেখানো হয়। রাজধানীতে একটি আধুনিক কেন্দ্রীয় মসজিদ ও ইসলামি শিক্ষা কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ভূমি বরাদ্দসংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রকল্পটি এখনো বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।   কেপ ভার্দের মুসলিমদের প্রধান সংগঠন কম্যুনিদাদে ইসলামিকা দে কাবো ভের্দে। এ ছাড়া ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত অ্যাসোসিয়েশন ইসলামিকা দে দাওয়াহ দে কাবো ভের্দে নতুন মুসলিমদের সহায়তা, ইসলাম প্রচার, জাকাত বিতরণ এবং অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্থানীয়ভাবে ইসলাম গ্রহণকারী মুসলিমদের প্রতিষ্ঠিত আল ওয়াসিলাহ ফাউন্ডেশনও সমাজসেবা ও আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।   আফ্রিকার অন্যতম শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে পরিচিত কেপ ভার্দেতে মুসলিম ও খ্রিস্টানদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রয়েছে। ২০২২ সালে ধর্মীয় সহনশীলতা নিয়ে ইকোওয়াসের একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজনও দেশটির আন্তধর্মীয় সম্প্রীতির স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়। ঈদুল আজহায় অনেক মুসলিম পরিবার কোরবানির মাংস খ্রিস্টান প্রতিবেশীদের মধ্যেও বিতরণ করেন, যা পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সামাজিক সম্প্রীতির একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।   তবে চ্যালেঞ্জও রয়েছে। অধিকাংশ মুসলিম অভিবাসী হওয়ায় বৈধ আবাসিক কাগজপত্র ও বসবাসের অনুমতি অনেকের জন্য একটি বড় সমস্যা। পাশাপাশি ছোট মুসলিম জনগোষ্ঠীর কারণে অনেক এলাকায় হালাল খাদ্যের সহজ প্রাপ্যতা নেই। তবে ইতিবাচক বিষয় হলো, কেপ ভার্দেতে ধর্মীয় উগ্রবাদের উল্লেখযোগ্য কোনো নজির পাওয়া যায়নি। মুসলিমরা বরাবরই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সামাজিক সম্প্রীতিকে গুরুত্ব দিয়ে আসছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, সংখ্যায় ছোট হলেও কেপ ভার্দের মুসলিম সম্প্রদায় দেশটির বহুসাংস্কৃতিক সমাজে একটি ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দাসবাণিজ্যের অন্ধকার ইতিহাস এবং ঔপনিবেশিক দমন-পীড়নের দীর্ঘ অধ্যায় অতিক্রম করে ইসলাম আজ কেপ ভার্দের স্বীকৃত ধর্মীয় পরিচয়ের একটি অংশে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে আফ্রিকা ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংযোগ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এই সম্প্রদায়ের সম্ভাবনা ক্রমেই বাড়ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৯, ২০২৬ ২২:৩৬
ছবি: সংগৃহীত

স্ত্রীকে ছেড়ে কতদিন প্রবাসে থাকা জায়েজ? যা বলছে ইসলামী শরিয়ত

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে শুটিংয়ের সময় ইসলাম গ্রহণ করলেন হলিউড অভিনেতা

ছবি: সংগৃহীত

ওমান উপকূলে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ফাইল ছবি
খুশির রঙে এলো ঈদুল আজহা, ত্যাগ ও মানবিকতার বার্তায় উদ্‌যাপিত হচ্ছে মুসলিমদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব

সাম্য, ত্যাগ, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার বার্তা নিয়ে বছর ঘুরে আবার এসেছে পবিত্র ঈদুল আজহা। হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী জিলহজ মাসের ১০ তারিখে উদ্‌যাপিত মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসবটি বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সারা দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আনন্দ ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে।   ঈদুল ফিতরের মতো এ ঈদে চাঁদ দেখার অপেক্ষা থাকে না। নির্ধারিত তারিখ জানা থাকায় আগেভাগেই শুরু হয় প্রস্তুতি। পশু কেনা, কোরবানির আয়োজন এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদ্‌যাপনের জন্য গ্রামে ফেরা, সবকিছুই সম্পন্ন করেন মানুষ আগে থেকেই।   এবারের ঈদ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হাওরের ফসলহানি, হাম রোগে শিশু মৃত্যুর ঘটনা এবং দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতির চাপ সাধারণ মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করছে। আয়-ব্যয়ের টানাপোড়েনের মধ্যেও মানুষ উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে প্রস্তুত হয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে মিলনের আনন্দেই খুঁজে নেওয়া হচ্ছে স্বস্তির মুহূর্ত।   কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর কবিতায় লিখেছিলেন, "ঈদজ্জোহার চাঁদ হাসে ঐ এলো আবার দুস্‌রা ঈদ কোরবানি দে কোরবানি দে শোন্ খোদার ফর্মান তাকিদ।"   দেশজুড়ে ঈদের জামাতে অংশ নিতে ভোর থেকেই মুসল্লিদের ভিড় দেখা গেছে মসজিদ ও ঈদগাহগুলোতে। নতুন অথবা পরিষ্কার পোশাক পরে, সুগন্ধি মেখে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এক কাতারে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায় করছেন। নামাজ শেষে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বার্তা।   ঈদুল আজহার মূল অনুষঙ্গ কোরবানি। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে সামর্থ্যবান মুসলমানরা পশু কোরবানি করেন। ইসলামী বিধান অনুযায়ী আর্থিকভাবে সক্ষম ব্যক্তির ওপর কোরবানি ওয়াজিব। হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করল না, সে যেন আমার ঈদগাহের কাছে না আসে।”   বাংলাদেশে সাধারণত গরু, ছাগল ও মহিষ কোরবানি দেওয়া হয়। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে দুম্বা, ভেড়া ও উট কোরবানির প্রচলন রয়েছে। এ অঞ্চলে অতীতে ছাগল কোরবানির প্রচলন বেশি থাকায় ঈদুল আজহা ‘বকরিদ’ নামেও পরিচিত ছিল। দেশভাগের পর গরু কোরবানির হার ক্রমেই বৃদ্ধি পায়।   ইসলামে কোরবানির মাংস বণ্টনের ক্ষেত্রেও মানবিকতা ও সামাজিক ন্যায়ের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কোরবানিদাতা নিজের জন্য এক অংশ রেখে বাকি অংশ আত্মীয়স্বজন ও অসচ্ছল মানুষের মধ্যে বিতরণ করেন। এর মাধ্যমে সমাজে সাম্য ও পারস্পরিক সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ঈদুল আজহার সঙ্গে জড়িয়ে আছে হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-এর অনন্য আত্মত্যাগের ঘটনা। মহান আল্লাহর নির্দেশ পালনের উদ্দেশ্যে পুত্রকে কোরবানি করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন হজরত ইব্রাহিম (আ.)। পরে আল্লাহর ইচ্ছায় হজরত ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়। সেই ঘটনার স্মৃতিতেই মুসলমানরা প্রতি বছর কোরবানি করেন।   ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, কোরবানির প্রকৃত তাৎপর্য পশু জবাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন এবং মনের ভেতরের লোভ-লালসা ও কুপ্রবৃত্তিকে দমন করাই এর মূল উদ্দেশ্য। পবিত্র কোরআনের সুরা হজের ৩৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহর কাছে পশুর মাংস বা রক্ত পৌঁছায় না, পৌঁছে মানুষের তাকওয়া।   রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সকাল ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে।   বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে মোট পাঁচটি ঈদের জামাতের আয়োজন করা হয়েছে। প্রথম জামাত সকাল ৭টায় এবং পরবর্তী জামাতগুলো সকাল ৮টা, ৯টা, ১০টা ও বেলা পৌনে ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।   রাজধানীর বাইরে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ এবং দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ ময়দানেও বৃহৎ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মুসল্লিরা এসব জামাতে অংশ নিতে সমবেত হয়েছেন।   এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঈদের দিন রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও রাজশাহী বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। তুলনামূলকভাবে শুষ্ক থাকতে পারে খুলনা ও বরিশাল বিভাগ।   ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এক শুভেচ্ছাবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঈদুল আজহা ত্যাগ, তাকওয়া ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত বার্তা নিয়ে মুসলিম বিশ্বের দ্বারে এসেছে। তিনি আল্লাহর কাছে দেশ, জাতি ও সমগ্র মানবজাতির শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা কামনা করেন।   ঈদ উপলক্ষে টেলিভিশন ও রেডিওতে প্রচারিত হচ্ছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। সংবাদমাধ্যমগুলো প্রকাশ করেছে বিশেষ আয়োজন। একই সঙ্গে হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা ও শিশুসদনে বিশেষ খাবার পরিবেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: মে ২৭, ২০২৬ ২১:২৭
আরাফাতের ময়দান সৌদি আরবের জাবালে রহমত বা রহমতের পাহাড়ের কাছে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা পালনের সময় প্রার্থনায় মগ্ন হাজিরা। ছবি: এএফপি

আরাফাতের খুতবায় মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের আহ্বান জানালেন ইমাম আল-হুদাইফি

হজ পালনের আগে সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীর মসজিদুল হারামের কাবার দরজা স্পর্শ করতে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন মুসল্লিরা। ছবি: রয়টার্স

কাবা শরিফ কেন কালো কাপড়ে ঢাকা থাকে, ভেতরে কী আছে

আরাফার ময়দানে মোনাজাতের দৃশ্য

মক্কা ও মদিনার যে ১০ স্থানে দোয়া কবুল হয়

আরাফাতের ময়দানের পাশের জাবাল আল-রাহমাহ বা রহমতের পাহাড়ে হাজিরা। অতিরিক্ত গরমে একটু শীতল পরশ পেতে এ সময় অনেকে পানি ছিটানো পাখার নিচে অবস্থান নেন । ছবি: রয়টার্স
আরাফাতের ময়দানে সমবেত লাখো হাজি, ইবাদত ও দোয়ার মধ্য দিয়ে পালিত হজের সবচেয়ে পবিত্র দিন

পবিত্র হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্ব ‘ওকুফে আরাফাহ’ পালনে মঙ্গলবার (তারিখ উল্লেখিত নয়) সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লাখো মুসল্লি। মিনা থেকে যাত্রা করে তারা আরাফাতে পৌঁছে দিনভর ইবাদত, দোয়া, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকিরে মশগুল থাকেন।   সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ১৬ লাখের বেশি হজযাত্রী আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করছেন। জিলহজ মাসের নবম দিনে ফজরের পর থেকেই তাঁরা নির্ধারিত সীমার মধ্যে অবস্থান নিতে শুরু করেন।   গতকাল মিনায় অবস্থান শেষে হজযাত্রীরা সকালে আরাফাতের উদ্দেশে রওনা হন। পবিত্র এই প্রান্তরে পৌঁছে তাঁরা সূর্যাস্ত পর্যন্ত ইবাদত ও আত্মসমীক্ষায় সময় কাটান। হাজিদের কণ্ঠে বারবার উচ্চারিত হয় তালবিয়া, তাকবির ও দোয়া।   আরাফাতের ময়দানে অবস্থানকে হজের মূল স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী, এই দিনটিকেই হজের পরিপূর্ণতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ধরা হয়।   দুপুরের দিকে আরাফাতের মসজিদে নামিরা থেকে খুতবা প্রদান করা হবে বলে জানা গেছে। এরপর হাজিরা জোহর ও আসরের নামাজ একত্রে কসর আদায় করবেন, যা হজের বিশেষ একটি বিধান। হাদিস অনুযায়ী, আরাফাতের দিনে আল্লাহ সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বান্দাকে ক্ষমা করেন। এই বিশ্বাস থেকেই হাজিরা দিনটিকে ইবাদত ও প্রার্থনার মাধ্যমে অতিবাহিত করেন।   ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে বিদায় হজের সময় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আরাফাতের ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন। সেখানে ন্যায়বিচার, মানবসমতা ও পারস্পরিক অধিকার রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।   আরাফাতের ময়দানের অন্যতম স্থান ‘জাবাল আর-রাহমাহ’ বা রহমতের পাহাড়, যেখানে বহু হাজি দোয়ার জন্য সমবেত হন। বিশ্বাস করা হয়, এটি আদম ও হাওয়ার পুনর্মিলনের স্মৃতিবিজড়িত স্থান।   হজযাত্রীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষ ব্যাপক নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসা সহায়তা, পরিবহন ব্যবস্থা এবং জরুরি সেবা। এ বছর উচ্চ তাপমাত্রার কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হজযাত্রীদের পর্যাপ্ত পানি পান, ছাতা ব্যবহার এবং রোদ এড়িয়ে চলার নির্দেশনা দিয়েছে।   সূর্যাস্তের পর হাজিরা আরাফাত থেকে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে তাঁরা মাগরিব ও এশার নামাজ একত্রে আদায় করবেন এবং রাতটি ইবাদত ও বিশ্রামে কাটাবেন। ফজরের পর শয়তানকে প্রতীকীভাবে পাথর নিক্ষেপের জন্য সাতটি পাথর সংগ্রহ করবেন। পরবর্তী ধাপে ১০ জিলহজ মিনায় ফিরে কোরবানি, মাথা মুণ্ডন এবং ইহরাম পরিবর্তনের মাধ্যমে হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে।  

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: মে ২৫, ২০২৬ ১৮:০
ছবি: সংগৃহীত

জিলহজের প্রথম দশ দিনে যেসব আমলে রয়েছে বিশেষ ফজিলত

ছবি: সংগৃহীত

মুখমণ্ডল কি পর্দার অন্তর্ভুক্ত? শায়খ আহমাদুল্লাহর ব্যাখ্যা

ছবি: সংগৃহীত।

মক্কা-মদিনায় হাজীদের সহায়তা দেবে এআই, মিলবে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা ও তথ্য

0 Comments