যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটাতে ভয়াবহ ঝড় ও উপড়ে পড়া গাছে বিদ্যুৎহীন হাজারো মানুষ
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ওপর দিয়ে রাতারাতি একটি তীব্র কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রঝড় বয়ে গেছে। এই আকস্মিক ঝড়ে ঘণ্টায় ৮০ মাইলেরও বেশি বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যায়, যার ফলে অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়েছে এবং হাজার হাজার ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। স্থানীয় সময় আজ বুধবার খুব ভোরে সেন্ট পলের ক্যাথেড্রাল হিল এলাকায় ঝড়ের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি ছিল, যেখানে রাস্তার পাশে পার্ক করে রাখা বেশ কয়েকটি গাড়ির ওপর বিশাল গাছের ডাল ভেঙে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ঝড়ের প্রথম ধাপটি মূলত গত মঙ্গলবার গভীর রাতে ডাকোটা এবং নেব্রাস্কা অঞ্চলে তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে এটি একটি শক্তিশালী ঝড়ের লাইনে রূপান্তরিত হয়ে বুধবার ভোররাত ৩টার দিকে টুইন সিটিস বা মিনিয়াপলিস ও সেন্ট পল এলাকায় আঘাত হানে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম মিনেসোটার মারিয়েটা শহরের কাছে একটি আবহাওয়া স্টেশনে রাত ১টার পরপরই সর্বোচ্চ ৮৩ মাইল বেগে ঝড়ের গতি রেকর্ড করা হয়। এছাড়া ম্যাডিসন এলাকায় ৭৮ মাইল এবং গ্লেনউডে ৭৪ মাইল বেগে তীব্র বাতাস বয়ে যায়।
উদ্বেগজনক পরিস্থিতির কারণে গ্র্যান্ট কাউন্টির হফম্যান শহরের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সাধারণ বাসিন্দাদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া শহরের পার্কগুলোতে প্রবেশ না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝড়ের কারণে পার্কের বহু গাছ উপড়ে গেছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি জনসাধারণের জন্য মোটেও নিরাপদ নয়। ঝড়ের প্রভাবে বুধবার ভোর ৫টা পর্যন্ত মিনেসোটার বিভিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্রায় ৭০ হাজারেরও বেশি গ্রাহক সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন বলে রিপোর্ট করেছে।
বিদ্যুৎ বিপর্যয় সামাল দিতে স্থানীয় পাওয়ার ইউটিলিটি কোম্পানি এক্সেল এনার্জি জানিয়েছে, লাইন মেরামতের জন্য তাদের প্রায় ২৭৫টি জরুরি কর্মী দল বর্তমানে মাঠে কাজ করছে এবং দুপুরের পর আরও অতিরিক্ত দল তাদের সাথে যোগ দেবে। তারা সর্বসাধারণকে মাটিতে পড়ে থাকা বা ঝুলে থাকা বিদ্যুতের তার থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং যেকোনো তারকে সচল ও বিপজ্জনক মনে করার আহ্বান জানিয়েছে। একটি কোল্ড ফ্রন্টের সাথে অঞ্চলের অত্যন্ত উত্তপ্ত ও আর্দ্র বাতাসের সংঘর্ষের ফলেই মূলত এই তীব্র বজ্রঝড়ের সৃষ্টি হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ইসরায়েলি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কগনাইটের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নজরদারির উন্নত প্রযুক্তি কেনার সরাসরি চুক্তির পরিকল্পনা স্থগিত করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি)। প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারের এই চুক্তি নিয়ে নাগরিক অধিকার সংগঠন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আপত্তির পর গত ২৭ অক্টোবর সিদ্ধান্তটি জানানো হয়। মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসনও চুক্তিটি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, প্রযুক্তি কেনার পরিকল্পনা পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি। নতুন করে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বান করা হবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কগনাইটের তৈরি 'ফ্যালকোনেট' নামের একটি উন্নত মোবাইল নজরদারি ব্যবস্থা কেনার পরিকল্পনা করেছিল এনওয়াইপিডি। তিন বছর মেয়াদি প্রস্তাবিত চুক্তিটির সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭ লাখ ৫০ হাজার ৫০০ ডলার। নিউইয়র্ক সিটির সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তির আলোচনা চলছিল। গত ৭ অক্টোবর প্রকাশিত নোটিশে সরাসরি দরপত্র ছাড়াই কোম্পানিটির কাছ থেকে প্রযুক্তি কেনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। ফ্যালকোনেট মূলত একটি মোবাইল ফোন শনাক্তকরণ ও অবস্থান নির্ণয়ের প্রযুক্তি। এটি কৃত্রিম সেলফোন টাওয়ারের মতো কাজ করতে পারে। প্রযুক্তিটি নির্দিষ্ট এলাকায় থাকা মোবাইল ফোনকে নিজের সঙ্গে সংযুক্ত করে সেগুলোর শনাক্তকারী তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম। এর মাধ্যমে তদন্তকারীরা কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তির মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করতে পারেন। যন্ত্রটি পুলিশের গাড়ি, ড্রোন কিংবা ব্যাকপ্যাকে বহন করেও ব্যবহার করা সম্ভব। তবে এতে তদন্তের সঙ্গে সম্পর্কহীন সাধারণ মানুষের ফোনের তথ্যও সংগ্রহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন নাগরিক অধিকারকর্মীরা। চুক্তিটি সামনে আসার পর নিউইয়র্কের বেশ কয়েকজন সিটি কাউন্সিল সদস্য ও নাগরিক অধিকার সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, এমন প্রযুক্তি সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নাগরিক স্বাধীনতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সিটি কাউন্সিল সদস্য টিফানি কাবান এই নজরদারি প্রযুক্তি কেনার বিরোধিতা করেন। আরেক কাউন্সিল সদস্য জুলি ওয়ান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আদালতের অনুমতি ছাড়া সাধারণ মানুষের ওপর নজরদারি চালানো হলে পুলিশের প্রতি কমিউনিটির আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর নিউইয়র্কে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর পুলিশের নজরদারির ইতিহাসের কথাও তুলে ধরেন। এদিকে চুক্তিটি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। নির্বাচনী প্রচারণার সময় পুলিশি নজরদারি প্রযুক্তি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়ে সমালোচনামূলক অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর প্রশাসনের অধীন পুলিশ বিভাগ ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি কেনার পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন ওঠে। নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ জানিয়েছে, বিতর্কের পর মেয়র মামদানি ও পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশের মধ্যে বৈঠক হয়। এরপর চুক্তির পদ্ধতি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত সামনে আসে। তবে মেয়র নিজে সরাসরি চুক্তি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন, এমন তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি। এনওয়াইপিডির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত চুক্তিটি সরাসরি একজন সরবরাহকারীর কাছ থেকে কেনাকাটার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করেনি। তাই নতুন করে উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় কগনাইটও অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ পাবে। অর্থাৎ ইসরায়েলি কোম্পানিটিকে চূড়ান্তভাবে বাদ দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে পুলিশ বিভাগের দাবি, মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্তকরণ প্রযুক্তি তারা আগে থেকেই ব্যবহার করে আসছে। নিখোঁজ ব্যক্তি, অপহরণের শিকার মানুষ এবং অপরাধের সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করতে এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। বেশির ভাগ তদন্তে আদালতের ওয়ারেন্ট প্রয়োজন হলেও নির্দিষ্ট জরুরি পরিস্থিতিতে কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, প্রস্তাবিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে তদন্তের সঙ্গে সম্পর্কহীন ব্যক্তিদের ফোনালাপ শোনা বা টেক্সট মেসেজ সংগ্রহের পরিকল্পনা ছিল না। তবে নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার ও তদারকিতে আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। সংবাদসূত্র: নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ, দ্য জেরুজালেম পোস্ট।
চাঁদে মানুষের স্থায়ী বসতি গড়তে স্পেসএক্স-ব্লু অরিজিনসহ ৮ কোম্পানির সঙ্গে নাসার ১০ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি
ক্যালিফোর্নিয়ায় শিখ স্বেচ্ছাসেবককে অপহরণ ও হত্যার মামলায় মেক্সিকোয় গ্রেপ্তার এক
স্ত্রীর বিষ প্রয়োগের পরিকল্পনায় চ্যাটজিপিটির সহায়তা, ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করলেন স্বামী
ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করতে চান মিশিগান থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট সিনেটর আবদুল এল-সাইয়েদ। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইসরায়েলকে দেওয়া প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের সহায়তা বন্ধের পরিকল্পনার কথা জানান। নির্বাচনে জয়ের পর বৃহস্পতিবার এল-সাইয়েদ বলেন, এ বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করতে তিনি আগ্রহী। ট্রাম্প তাঁর পরিকল্পনার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, ইসরায়েলের আর ওই সহায়তার প্রয়োজন নেই। একই বক্তব্যে তিনি এল-সাইয়েদকে কটাক্ষ করেন। নির্বাচনী প্রচারেও ট্রাম্প তাঁকে আক্রমণ করেছিলেন। তা সত্ত্বেও সহায়তা বন্ধের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন এল-সাইয়েদ। এল-সাইয়েদের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ দিয়ে এমন কোনো বিদেশি সামরিক বাহিনীকে সহায়তা দেওয়া উচিত নয়, যার কর্মকাণ্ডের তিনি সমালোচনা করেন। ইসরায়েলের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি বন্ধের পক্ষেও মত দিয়েছেন তিনি। মিশিগানের নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে এল-সাইয়েদ যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম হয়েছেন। আগামী বছর তিনি দায়িত্ব নেবেন। তিনি বলেছেন, ইসরায়েল রাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের সমালোচনাকে ইহুদি ধর্ম ও ইহুদি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়। সহায়তা বন্ধের ঘোষণা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, সে বিষয়ে আরব নিউজের প্রতিবেদনে কোনো বিস্তারিত পরিকল্পনা উল্লেখ করা হয়নি। ট্রাম্পের ঘোষণার পর এল-সাইয়েদের বক্তব্য দুই রাজনীতিকের একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে অবস্থানের মিল তুলে ধরেছে। সংবাদসূত্র: আরব নিউজ।
ডেট্রয়েটে লেবাননের কনসাল জেনারেলকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ
মৃত্যুর ২ বছর পর এমআইটি থেকে পিএইচডি পেলেন বুয়েটের শাশ্বত সৌম্য
এইচএসসিতে ৩.৪১ জিপিএ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও চাকরিতে সাফল্য! পেলে গ্রীন কার্ড
ইরাক যুদ্ধের শুরুর দিকে দগ্ধ তিন শিশুকে চিকিৎসা দিতে মার্কিন সামরিক চিকিৎসকদের অস্বীকৃতির ঘটনায় কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন এক মার্কিন সেনা। ২০০৩ সালের ১৩ জুন ইরাকের বালাদ শহরের কাছে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ঘটে এই ঘটনা। শিশুদের অসহায় অবস্থা দেখে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে চেয়েছিলেন সার্জেন্ট ডেভিড জে. বোরেল। কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর সহযোদ্ধার বুকে মাথা রেখে তাঁর কান্নার একটি ছবি বিশ্বজুড়ে আলোচিত হয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তৎকালীন প্রতিবেদন অনুযায়ী, বালাদের কাছে বিহিশমেহ গ্রামের বাসিন্দা ফালাহ মুতলাকের তিন সন্তান রাস্তায় পড়ে থাকা বিস্ফোরক গুঁড়াভর্তি একটি ব্যাগ খুঁজে পায়। তাতে আগুন ধরালে তিন শিশু মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়। আহত শিশুরা ছিল ১১ বছর বয়সী আহলাম, ১০ বছর বয়সী বুদুর এবং ১০ বছর বয়সী হায়দার। হায়দারের হাত, পা ও মুখের একটি অংশ পুড়ে যায়। অন্য দুই শিশুর শরীরেও গুরুতর পোড়া ক্ষত তৈরি হয়। সন্তানদের চিকিৎসার জন্য প্রথমে বালাদের একটি হাসপাতালে যান তাদের বাবা। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে অপারগতা জানালে তিনি শিশুদের নিয়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির প্রবেশপথে পৌঁছান। সেখানে দায়িত্ব পালন করছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা সার্জেন্ট ডেভিড বোরেল। শিশুদের অবস্থা দেখে তিনি দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সামরিক চিকিৎসকদের খবর দেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর দুজন চিকিৎসক সেখানে পৌঁছান। তবে তাঁরা শিশুদের চিকিৎসা দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে বোরেল অভিযোগ করেন। মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিশুদের আঘাত নির্ধারিত জরুরি চিকিৎসার আওতায় পড়েনি। তৎকালীন সামরিক নীতি অনুযায়ী, জীবন, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কিংবা দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে, এমন রোগীদের অগ্রাধিকার দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হতো। মার্কিন থার্ড কোর সাপোর্ট কমান্ডের মুখপাত্র মেজর ডেভিড অ্যাসেটা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, চিকিৎসকেরা নির্ধারিত নীতির বাইরে কোনো কাজ করেননি। তবে এই ব্যাখ্যা মেনে নিতে পারেননি বোরেল। তাঁর অভিযোগ ছিল, চিকিৎসকেরা শিশুদের কষ্ট লাঘবের জন্য সামান্য চিকিৎসাসহায়তাও দেননি। শেষ পর্যন্ত নিজের প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম থেকে শিশুদের বাবাকে ব্যান্ডেজ ও ক্ষত পরিষ্কারের স্যালাইন দেন বোরেল। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, পরদিন সন্তানদের চিকিৎসার জন্য বাগদাদে নিয়ে যান তাদের বাবা। ঘটনার কয়েক দিন পরও শিশুদের শরীরে পোড়া ক্ষত ছিল। বিশেষ করে হায়দার ডান পায়ে ভর দিয়ে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারছিল না। শিশুদের এই দুর্দশা বোরেলকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। একপর্যায়ে তাঁর মানসিক অবস্থা বুঝতে পেরে সহযোদ্ধা ব্রায়ান প্যাচোলস্কি তাঁকে একপাশে নিয়ে সান্ত্বনা দেন। সেই মুহূর্তে কান্নায় ভেঙে পড়েন বোরেল। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের আলোকচিত্রী ভিক্টর আর. কাইভানো তাঁদের সেই আবেগঘন মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করেন। ঘটনাটি শুধু সংবাদমাধ্যমেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বোরেল তাঁর স্ত্রী ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কাছে ঘটনার বিবরণ পাঠান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসেও বিষয়টি আলোচিত হয়। ২০০৩ সালের ১৭ জুন ওহাইওর কংগ্রেস সদস্য মার্সি ক্যাপটুর বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, গুরুতর আহত বেসামরিক শিশুদের চিকিৎসা না দেওয়াই কি মার্কিন সামরিক বাহিনীর নীতি? পরবর্তী সময়ে ২০১১ সালে দ্য টলেডো ব্লেডকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও বোরেল জানান, সেদিনের ঘটনা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। ইরাক যুদ্ধের ইতিহাসে আহত শিশুদের অসহায়ত্ব এবং এক মার্কিন সেনার আবেগঘন প্রতিক্রিয়ার সাক্ষী হয়ে রয়েছে ছবিটি। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, দ্য টলেডো ব্লেড, মার্কিন কংগ্রেশনাল রেকর্ড।
আমেরিকায় নতুন! জেনে নিন ক্রেডিট স্কোর গড়ার সাতটি কার্যকর উপায়
উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে নিউইয়র্কে, গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত বাংলাদেশি মেহেদী শামীম