- প্রচ্ছদ
- Topic
ফুটবল
দীর্ঘ প্রায় এক দশকের সম্পর্কের পর বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন পর্তুগিজ ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও মডেল জর্জিনা রদ্রিগেজ। মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট পর্তুগালের উপকূলীয় শহর কাসকাইসে ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে ব্যক্তিগত আয়োজনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবরটি প্রকাশ করেন রোনালদো। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া ছবিতে দুজনের হাতের বিয়ের আংটি দেখা যায়। ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন শুধু, ‘C❤️G’। পোস্টটি প্রকাশের পর দ্রুতই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিয়ের অনুষ্ঠানটি আগে থেকেই অনেকটা গোপন রাখা হয়েছিল। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী লিসবনের কাছের কাসকাইসে ছোট পরিসরে সিভিল সেরিমনির মাধ্যমে বিয়ে করেন রোনালদো ও জর্জিনা। অনুষ্ঠানে তাদের পাঁচ সন্তান এবং পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। রোনালদো ও জর্জিনার সম্পর্কের শুরু ২০১৬ সালে। মাদ্রিদের একটি গুচি স্টোরে প্রথম পরিচয় হয় তাদের। সেখানে সেলস অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করতেন জর্জিনা। অন্যদিকে রোনালদো তখন রিয়াল মাদ্রিদের অন্যতম বড় তারকা। পরের বছর তাদের সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসে। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ফিফার দ্য বেস্ট অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে একসঙ্গে উপস্থিত হন তারা। এরপর থেকে রোনালদোর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের নিয়মিত সঙ্গী হয়ে ওঠেন জর্জিনা। একই বছর তাদের পরিবারও বড় হয়। ২০১৭ সালের জুনে সারোগেসির মাধ্যমে রোনালদোর যমজ সন্তান এভা মারিয়া ও মাতেওর জন্ম হয়। ওই বছরের নভেম্বরে রোনালদো ও জর্জিনার প্রথম সন্তান আলানা মার্টিনার জন্ম হয়। ২০২২ সালে আরও একবার যমজ সন্তানের অপেক্ষায় ছিলেন এই দম্পতি। তবে সন্তান জন্মের সময় তাদের ছেলে অ্যাঞ্জেল মারা যায়। বেঁচে যায় যমজ কন্যা বেলা এসমেরাল্ডা। সে সময় সন্তান হারানোর খবর নিজেরাই প্রকাশ করেছিলেন রোনালদো ও জর্জিনা। বর্তমানে পাঁচ সন্তানকে ঘিরে তাদের পরিবার। রোনালদোর বড় ছেলে ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়র, যমজ এভা ও মাতেও, এবং রোনালদো ও জর্জিনার দুই মেয়ে আলানা ও বেলা তাদের সঙ্গে রয়েছে। বিয়ের ঠিক এক বছর আগে, ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট নিজেদের বাগদানের খবর প্রকাশ করেছিলেন রোনালদো ও জর্জিনা। জর্জিনা তখন ইনস্টাগ্রামে বাগদানের আংটির ছবি দিয়ে স্প্যানিশ ভাষায় লিখেছিলেন, ‘হ্যাঁ, আমি রাজি। এই জীবনেও এবং আমার সব জীবনেই।’ ঠিক এক বছর পর ১১ আগস্টই বিয়ে করলেন তারা। ফুটবল ক্যারিয়ারে রোনালদো বিশ্বের সবচেয়ে সফল খেলোয়াড়দের একজন। পাঁচবার ব্যালন ডি’অর জেতা এই পর্তুগিজ তারকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্টাসের মতো ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোতে খেলেছেন। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের আল নাসরের হয়ে খেলছেন। পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়েও দীর্ঘদিন ধরে রেকর্ড গড়ে চলেছেন রোনালদো। আন্তর্জাতিক পুরুষ ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও তার দখলে। দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, একসঙ্গে পরিবার গড়ে তোলা এবং বাগদানের এক বছর পর এবার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বামী-স্ত্রী হলেন রোনালদো ও জর্জিনা। বড় কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণার বদলে একটি ছবি, দুটি বিয়ের আংটি আর ‘C❤️G’ দিয়েই জীবনের নতুন অধ্যায়ের খবরটি ভক্তদের জানিয়েছেন রোনালদো।
ফরাসি ক্লাব মেৎজ ও নেদারল্যান্ডসের ফরচুনা সিতার্দের মধ্যকার একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচে দুই দলের খেলোয়াড়দের হাতাহাতি ও সংঘাত সামাল দিতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন নারী রেফারি মাথিলদে দেমোঁসে। খেলোয়াড়দের ধাক্কাধাক্কিতে মাটিতে পড়ে গিয়ে তিনি মাথায় তীব্র আঘাত পান। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, আঘাতের মাত্রা এতটাই গুরুতর ছিল যে তিনি মস্তিষ্কে আঘাতজনিত সমস্যা বা 'কনকাশনে' আক্রান্ত হয়েছেন। গত শনিবার (২৫ জুলাই) ফ্রান্সের পূর্বাঞ্চলীয় ফরবাখ শহরের শ্লসবের্গ স্টেডিয়ামে নতুন প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মুখোমুখি হয়েছিল ফরাসি ক্লাব মেৎজ ও ডাচ ক্লাব ফরচুনা সিতার্দ। খেলার মাঠে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে দায়িত্ব পালন করছিলেন ২৬ বছর বয়সী সহকারী রেফারি মাথিলদে দেমোঁসে। ম্যাচের ৪০তম মিনিটে এক অপ্রীতিকর ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। জার্সি টানাটানিকে কেন্দ্র করে উভয় দলের দুজন খেলোয়াড় বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। নিমেষের মধ্যেই সেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং দুই দলের আরও বেশ কয়েকজন ফুটবলার একে অপরের সাথে ধাক্কাধাক্কিতে লিপ্ত হন। মাঠে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হলে তা সামাল দিতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এগিয়ে যান মাথিলদে দেমোঁসে। তবে খেলোয়াড়দের প্রবল ঠেলাঠেলির মাঝে পড়ে ভারসাম্য হারিয়ে তিনি শক্ত মাটিতে সজোরে আছড়ে পড়েন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা যায়, মাঠের যে স্থানটিতে খেলোয়াড়দের ধাক্কাধাক্কি ও রেফারির পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে, ঠিক তার পাশেই বড় অক্ষরে লেখা ছিল "রেফারিকে সম্মান করুন"। ঘটনার পর কয়েক মিনিট দেমোঁসে মাঠেই নিথর হয়ে পড়েছিলেন এবং নিজের হাত চেপে ধরে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন। তাৎক্ষণিকভাবে মূল রেফারি, অন্য সহকারী রেফারি, ক্লাবের চিকিৎসাকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীরা দৌড়ে মাঠে প্রবেশ করেন এবং তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। সামান্য সুস্থ বোধ করলে খেলা পুনরায় শুরু হয় এবং ২৬ বছর বয়সী এই রেফারি সাময়িকভাবে লাইনে ফিরে নিজের দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন। তবে প্রথমার্ধের বিরতির সময় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তিনি মাঠ ছেড়ে যান। পরে তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে অন্য একজন কর্মকর্তা সহকারী রেফারির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার 'কনকাশন' ধরা পড়ে। ম্যাচটিতে ৩-১ ব্যবধানে হেরে যাওয়া ডাচ ক্লাব ফরচুনা সিতার্দ তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ম্যাচ প্রতিবেদনে অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনাটিকে 'ব্যতিক্রমী এক মুহূর্ত' হিসেবে উল্লেখ করলেও কোনো বাড়তি মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকে। অন্যদিকে ফরাসি ক্লাব মেৎজ তাদের প্রতিবেদনে পুরো বিষয়টিই এড়িয়ে গেছে। মাঠে খেলোয়াড়দের এমন অপেশাদার আচরণ ও ম্যাচ অফিশিয়ালের আহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে সমালোচনা চলছে।
ফুটবল মাঠে লিওনেল মেসির কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে নিউইয়র্কে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আর্জেন্টাইন তারকার খেলার প্রশংসা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, প্রতিপক্ষের কড়া নজরদারির মধ্যেও মেসি যেভাবে মাঠে জায়গা তৈরি করেন, সেটি তার নজরে পড়েছে। ট্রাম্প বলেন, “আমি মেসিকে দেখছিলাম। তাকে খুব ভালোভাবে পাহারা দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই দেখি সে ডান পাশে অবস্থান নিয়েছে। আপনারা কি বুঝতে পারছেন আমি কী বলছি? আমি বিষয়টি লক্ষ্য করেছি, কিন্তু কেউ এ নিয়ে কথা বলেনি।” মেসির খেলার ধরন নিয়ে ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে। অনুষ্ঠানে তিনি আর্জেন্টাইন অধিনায়কের দক্ষতা ও মাঠের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার প্রশংসা করেন। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, মেসির অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো প্রতিপক্ষের চাপের মধ্যেও খেলার জায়গা তৈরি করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাঠের বিভিন্ন অংশে অবস্থান পরিবর্তন করা। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এই কৌশলই তাকে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এদিকে, একই অনুষ্ঠানে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজনের সাফল্যে ট্রাম্পের সহযোগিতার প্রশংসা করেন। ট্রাম্পও ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে আবারও এককভাবে বিশ্বকাপ আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেন। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই ম্যাচ।
ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল শেষে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের পানির বোতলে লাগানো পেনাল্টি ‘চিট শিট’ ঘিরে কৌতূহল প্রকাশ করতে দেখা যায় লিওনেল মেসিসহ আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়কে। ছবিতে দেখা যায়, পিকফোর্ডের পানির বোতলে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য পেনাল্টি শুটারদের নামের পাশে তাদের শট নেওয়ার সম্ভাব্য দিক ও গোলরক্ষকের করণীয় সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত নোট লেখা ছিল। অর্থাৎ ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ালে কীভাবে প্রতিপক্ষের শট মোকাবিলা করা হবে, সেই প্রস্তুতি আগেই নিয়ে রেখেছিল ইংল্যান্ড। তবে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা কাজে লাগানোর সুযোগই পায়নি ইংলিশরা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটেই ২-১ গোলের জয়ে ফাইনালে উঠে যায় আর্জেন্টিনা। ফলে টাইব্রেকারের প্রয়োজন হয়নি এবং পিকফোর্ডের বোতলে থাকা নোটও মাঠে ব্যবহার করার সুযোগ আসেনি। ম্যাচ শেষে ভাইরাল হওয়া ছবিতে মেসি ও তার সতীর্থদের বোতলটি হাতে নিয়ে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে দেখা যায়। ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই এটিকে বড় ম্যাচের আগে আধুনিক ফুটবলে কৌশলগত প্রস্তুতির একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এমন প্রস্তুতি নতুন নয়। বড় টুর্নামেন্টে সম্ভাব্য টাইব্রেকারের কথা মাথায় রেখে গোলরক্ষকদের জন্য প্রতিপক্ষের পেনাল্টি নেওয়ার ধরণ, পছন্দের দিক ও পূর্ববর্তী রেকর্ড বিশ্লেষণ করে বিশেষ নোট বা ‘চিট শিট’ তৈরি করে কোচিং স্টাফ ও বিশ্লেষক দল। অতীতেও বিশ্বকাপ ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে বিভিন্ন দলের গোলরক্ষকদের বোতলে এ ধরনের তথ্যসংবলিত নোট দেখা গেছে। যদিও পিকফোর্ডের প্রস্তুতি মাঠে পরীক্ষার সুযোগ পায়নি, তবু তার পানির বোতলে থাকা সেই ‘চিট শিট’ ম্যাচ-পরবর্তী আলোচনার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
দক্ষিণ আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্র আর্জেন্টিনা—ফুটবল, ট্যাঙ্গো নৃত্য আর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির জন্য বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত। তবে অনেকের অজানা, লাতিন আমেরিকায় মুসলিম উপস্থিতির দিক থেকেও দেশটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। দীর্ঘ অভিবাসনের ইতিহাস, ধর্মীয় পরিচয় টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম এবং ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনার মুসলিম সমাজ আজ একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘দ্য অ্যাসোসিয়েশন অব রিলিজিয়াস ডেটা আর্কাইভস’-এর তথ্য অনুযায়ী, আর্জেন্টিনায় প্রায় পাঁচ লাখ মুসলমান বসবাস করেন, যা মোট জনসংখ্যার এক শতাংশের বেশি। তবে বিভিন্ন বেসরকারি জরিপে এ সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে লাতিন আমেরিকায় মুসলিম সংখ্যালঘুদের অন্যতম বড় আবাসস্থল হিসেবে আর্জেন্টিনার পরিচিতি ক্রমেই সুদৃঢ় হয়েছে। ইতিহাসবিদদের মতে, এই অঞ্চলে ইসলামের আগমন ঘটে পঞ্চদশ শতাব্দীতে। স্প্যানিশ অভিযাত্রীদের সঙ্গে আসা ‘মুরিশ-মরিস্কো’ মুসলিমরা ধর্মীয় নিপীড়ন থেকে বাঁচতে নতুন জীবনের আশায় এখানে বসতি স্থাপন করেন। এরপর ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগ এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুতে সিরিয়া ও লেবানন থেকে বিপুলসংখ্যক আরব অভিবাসী আর্জেন্টিনায় আসেন। তাদের হাত ধরেই মুসলিম সমাজ আরও সংগঠিত ও বিস্তৃত হয়ে ওঠে। দেশটিতে ইসলামের প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশ মূলত শুরু হয় বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে। ১৯৮৩ সালে রাজধানী বুয়েনস আইরেসে প্রতিষ্ঠিত ‘আত-তাওহিদ’ মসজিদকে আর্জেন্টিনার প্রথম মসজিদ হিসেবে ধরা হয়। এর দুই বছর পর ১৯৮৫ সালে নির্মিত ‘আল-আহমদ’ মসজিদ ইসলামিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত প্রথম দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা হিসেবে পরিচিতি পায়। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে সৌদি আরবের অর্থায়নে গড়ে ওঠে ‘কিং ফাহাদ ইসলামিক কালচারাল সেন্টার’, যা দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম ইসলামিক কমপ্লেক্সগুলোর একটি। এখানে মসজিদ ছাড়াও রয়েছে গ্রন্থাগার, শিক্ষা কার্যক্রম এবং উন্মুক্ত পার্ক—যা মুসলিম সমাজের পাশাপাশি স্থানীয়দের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনার মুসলিম সম্প্রদায়। নতুন প্রজন্মের বড় একটি অংশ স্প্যানিশ ভাষাভাষী হওয়ায় আরবি ভাষা ও ঐতিহ্যগত ইসলামি শিক্ষার সঙ্গে তাদের সংযোগ কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি স্প্যানিশ ভাষায় মানসম্মত ইসলামি সাহিত্য ও গবেষণার অভাব এবং গণমাধ্যমে ইসলাম সম্পর্কে ইতিবাচক উপস্থাপনার ঘাটতি ধর্মীয় পরিচয় ধরে রাখার ক্ষেত্রে নতুন করে ভাবনার জন্ম দিয়েছে। তারপরও দীর্ঘ শতকের অভিজ্ঞতা, শক্ত প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি এবং ধর্মীয় ঐতিহ্য আর্জেন্টিনার মুসলিম সমাজকে এখনো দৃঢ়ভাবে টিকিয়ে রেখেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সময়োপযোগী শিক্ষা, গবেষণা এবং দাওয়াহ কার্যক্রম জোরদার করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যেও ইসলামের মূল্যবোধ আরও সুসংহতভাবে বিকশিত হবে এবং আর্জেন্টিনার বহুসাংস্কৃতিক সমাজে মুসলমানদের ইতিবাচক ভূমিকা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে এক ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়েছে মিশরের জাতীয় ফুটবল দল। নকআউট পর্বের শেষ বত্রিশের এই অবিস্মরণীয় জয়কে ফিলিস্তিনের নিপীড়িত ও সম্মানিত মানুষের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছেন মিশরের হেড কোচ হোসাম হাসান। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের আর্লিংটনের ডালাস স্টেডিয়ামে এক উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে পেনাল্টি শুটআউটে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ১৬ পর্বে জায়গা করে নেয় মিশর। এটি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মিশরের প্রথম কোনো জয়ের রেকর্ড। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর ম্যাচটি ভাগ্যনির্ধারণী টাইব্রেকারে গড়ায়। এর আগে খেলার ১৩তম মিনিটে ইমাম আশুরের চমৎকার হেডারে এগিয়ে যায় মিশর। তবে ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে মোহামেদ হানির একটি আত্মঘাতী গোলের কারণে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া। পরবর্তীতে টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি সাউটার এবং লুকাস হ্যারিংটন পেনাল্টি মিস করলে মিশরের হোসাম আবদেলমাগুইদ ঠান্ডা মাথায় লক্ষ্যভেদ করে দলের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন। শেষ ১৬-এর লড়াইয়ে মিশর এখন আর্জেন্টিনা অথবা কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে। ম্যাচ শেষে আয়োজিত এক আবেগঘন সংবাদ সম্মেলনে মিশরের কোচ হোসাম হাসান বলেন, ঈশ্বর যেন ফিলিস্তিনের মানুষকে চূড়ান্ত বিজয় দান করেন এবং তাদের শহীদদের ওপর রহমত বর্ষণ করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই অসাধারণ জয়টি তিনি একই সাথে মিশরের সাধারণ মানুষ এবং ফিলিস্তিনের সদয় ও সম্মানিত জনগণের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করছেন। ম্যাচ জয়ের পর মাঠের ভেতরেই কোচ হোসাম হাসান মিশরের পতাকার পাশাপাশি ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকাও ওড়ান এবং পুরো মিশরীয় দল একসঙ্গে মাঠে সেজদা দিয়ে এই জয় উদযাপন করে। মিশরের এই জয়কে কেন্দ্র করে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকাজুড়ে এক অভূতপূর্ব ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে ধ্বংস হয়ে যাওয়া বিভিন্ন ভবনের মাঝে এবং শরণার্থী শিবিরের অস্থায়ী তাঁবুর সামনে বড় পর্দায় ম্যাচটি দেখছিলেন হাজার হাজার ফিলিস্তিনি। মিশরের ঐতিহাসিক জয়ের পর তারা গভীর রাত পর্যন্ত বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে ওঠেন। গাজার অনেক শিশু ও কিশোর তাদের গালে মিশরের জাতীয় পতাকা এঁকে আনন্দ প্রকাশ করে। গাজার বাসিন্দারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, দীর্ঘদিনের অবরুদ্ধ দশা ও কষ্টের মাঝে মিশরের এই জয় তাদের মুখে কিছুটা সময়ের জন্য হলেও খুশির ঝিলিক এনে দিয়েছে। এদিকে এই ঐতিহাসিক ম্যাচটি শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে মিশরের ফুটবল দলের সদস্যরা হোটেল চত্বরে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। মিশরীয় জাতীয় দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, শুক্রবার ডালাসের একটি হোটেলে এক ভক্তের সঙ্গে ছবি তোলার সময় সেখানকার একজন পুলিশ কর্মকর্তা তাদের ডিরেক্টর ইব্রাহিম হাসান এবং তারকা খেলোয়াড় ত্রেজেগেকে ধাক্কা দেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। পরবর্তীতে ডালাস পুলিশ বিভাগ বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক স্পষ্টীকরণ দেয় এবং জানায় যে ঘটনাস্থলেই সমস্যার সমাধান করা হয়েছে।
কাতার বিশ্বকাপের পর থেকেই ফুটবল বিশ্বে এক ধরনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে, বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা আর্জেন্টিনাকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে থাকে। অনেক ফুটবল বোদ্ধা ও সমালোচক আর্জেন্টিনাকে উপহাস করে ‘কমিটির দল’ বলেও আখ্যা দিয়ে থাকেন। চলমান বিশ্বকাপে অধিনায়ক লিওনেল মেসির একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে এই পুরোনো বিতর্কটি নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনা দলের কোচ লিওনেল স্কালোনির দিকে এই বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হয়। বিশ্বকাপে তাঁর দল বিশেষ কোনো সুবিধা পাচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নে বেশ ক্ষুব্ধ হন এই মাস্টারমাইন্ড। তবে নিজের ক্ষোভ সামলে নিয়ে এই সমালোচনার বেশ সোজাসাপ্টা ও কড়া জবাব দিয়েছেন তিনি। কোচ স্কালোনি এই বিতর্কের সহজ সমাধান দিয়ে বলেন, এই ধরনের ভিত্তিহীন আলোচনা থেকে দূরে থাকার একমাত্র উপায় হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম না পড়া। তিনি সবাইকে সোশ্যাল মিডিয়া দেখা বন্ধ করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, মানুষ যদি এসব না দেখে, তবে অবান্তর বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনাও তৈরি হবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক দিক নিয়ে নিজের চরম বিরক্তি প্রকাশ করে আর্জেন্টিনা কোচ বলেন, আজকাল যে কেউ কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই ইন্টারনেটে যা খুশি পোস্ট করে দিতে পারে। দুর্ভাগ্যবশত মানুষ কোনো একটি ছোট বিষয়কে বিশাল আকার দিয়ে চারদিকে ছড়িয়ে দেয় এবং তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। তাই এসব বিষয়কে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দেওয়ার কোনো কারণ তিনি দেখছেন না। স্কালোনি দৃঢ়তার সঙ্গে মনে করিয়ে দেন যে, আলবিসেলেস্তেদের বর্তমান সাফল্য কারও দয়া বা কোনো কমিটির বিশেষ সুবিধার ফল নয়। এই গৌরব পুরো দলের কঠোর পরিশ্রমের ফসল। তিনি স্পষ্ট জানান, লিওনেল মেসি থেকে শুরু করে দলের কিটম্যান মারিও দে স্তেফানো পর্যন্ত প্রত্যেকের অক্লান্ত পরিশ্রম ও অবদান রয়েছে এই অর্জনের পেছনে। তাই তারা মাঠের বাইরের কোনো নেতিবাচক গুঞ্জনে মোটেও কান দিচ্ছেন না।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর দেশে ফেরার পথে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রাখা হচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া জাতীয় ফুটবল দলকে। প্রধান কোচ হং মিয়ুং-বোকে হত্যার হুমকি দেওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে লক্ষ্য করে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর ইনচন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন হং। ৫৭ বছর বয়সী হং মিয়ুং-বোর অধীনে এবারের বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে উঠতে পারেনি দক্ষিণ কোরিয়া। শুরুতে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও জয় তুলে নিয়ে আশা জাগিয়েছিল দলটি। তবে পরে গ্রুপ 'এ'-তে দক্ষিণ আফ্রিকা ও মেক্সিকোর কাছে টানা দুই ম্যাচে হেরে যায়। বিশ্বকাপের সম্প্রসারিত আসরে সেরা আটটি তৃতীয় হওয়া দলের একটি হিসেবে শেষ ৩২-এ ওঠার সম্ভাবনা ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার। কিন্তু শনিবার ডিআর কঙ্গো ৩-১ গোলে উজবেকিস্তানকে হারানোর পর সেই সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায়। ব্যর্থতার দায় নিয়ে কোচ হং মিয়ুং-বো পদত্যাগ করেছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ুং তাকে "অযোগ্য" বলে মন্তব্য করেছেন। দলটি মঙ্গলবার দেশে ফিরলে ইনচন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৬০ জন দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ ও বিমানবন্দর পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছে ইনচন মেট্রোপলিটন পুলিশ এজেন্সি। পাশাপাশি ইনচন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করপোরেশন বিশেষ নিরাপত্তাকর্মীসহ আরও ২৫ জন অতিরিক্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেবে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হং মিয়ুং-বোকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এ ছাড়া একটি জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেল তার মুখ অপরাধীদের মতো ঝাপসা করে সম্প্রচার করায় ঘটনাটি আরও আলোচনায় আসে। পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দল দেশে ফেরার সময় সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বস্তু নিক্ষেপসহ যেকোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের পারফরম্যান্স নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ুং জাতীয় দলের পুরো কার্যক্রম পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, "একসময় আমি একটি পেশাদার ফুটবল ক্লাবের সম্মানসূচক চেয়ারম্যান ছিলাম এবং হৃদয়ে এখনও রেড ডেভিলসের একজন সমর্থক। তাই এই অপ্রত্যাশিত ফল বিস্ময়ের পাশাপাশি গভীর হতাশাও তৈরি করেছে।" তিনি আরও বলেন, "আবারও প্রমাণ হলো, সঠিক ব্যক্তি নির্বাচনই সবকিছু নির্ধারণ করে। যোগ্যতার বদলে আনুগত্য ও গোষ্ঠীপ্রীতিকে গুরুত্ব দিয়ে অযোগ্য কাউকে নেতৃত্বে বসানো হলে ফল কী হবে, তা আগুনের মতোই স্পষ্ট।" দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে প্রেসিডেন্ট বলেন, "এই অযৌক্তিক পরিস্থিতিতে জনগণকে যে হতাশার মুখে পড়তে হয়েছে, তার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, সে জন্য দ্রুত ক্রীড়া প্রশাসনে সংস্কার আনা হবে।" এটি ছিল দক্ষিণ কোরিয়া জাতীয় দলের দায়িত্বে হং মিয়ুং-বোর দ্বিতীয় মেয়াদ। এর আগে ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপেও তার অধীনেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল দলটি। দক্ষিণ কোরিয়া টানা ১১টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে। ২০০২ সালে নিজেদের মাটিতে যৌথ আয়োজক হিসেবে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছিল দেশটি।
সব শঙ্কা, স্নায়ুচাপ আর নাটকীয়তার অবসান ঘটল শেষ মুহূর্তের এক দুর্দান্ত আক্রমণে। নির্ধারিত সময়ের খেলা যখন ১-১ সমতায় শেষ হয়ে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর অপেক্ষায়, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির জয়সূচক গোলে জাপানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করল ব্রাজিল। হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ছিল জাপানের দখলে। ২৯ মিনিটে ব্রাজিলের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে কাইশু সানো দুর্দান্ত এক দূরপাল্লার শটে জাপানকে এগিয়ে দেন। গোলের পর কোচ হাজিমে মোরিয়াসু দলকে আরও রক্ষণাত্মক করে তোলেন। ৫-৪-১ ছকে গড়ে ওঠা জাপানের শক্ত রক্ষণে প্রথমার্ধজুড়ে ছন্দ খুঁজে পায়নি ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রসহ ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে কার্যকরভাবে আটকে রাখে ব্লু সামুরাইরা। বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে ব্রাজিল। ৫৬ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মাগালাইয়েসের নিখুঁত ক্রস থেকে কাসেমিরো দুর্দান্ত এক হেডে গোল করে সমতায় ফেরান পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। গোলের পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে সেলেসাওরা। ৫৮ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দারুণ প্রচেষ্টা গোলরক্ষক জিওন সুজুকির স্পর্শে পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এরপরও একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও জাপানের রক্ষণ ভাঙতে পারছিল না ব্রাজিল। ম্যাচের শেষভাগে একের পর এক পরিবর্তন এনে আক্রমণে নতুন গতি যোগ করেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ৬৫ মিনিটে মাতেউস কুনিয়ার পরিবর্তে মাঠে নামেন গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। এনদ্রিক ও রায়ানের গতিময় ফুটবলে ক্রমেই চাপে পড়ে জাপানের রক্ষণভাগ। ৮৫ মিনিটে রায়ানের ফ্রি-কিক এবং পরে ব্রুনো গিমারাইসের প্রচেষ্টা লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে অতিরিক্ত সময়ই যেন অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। এরই মধ্যে ৮৯ মিনিটে ইনজুরির কারণে মাঠ ছাড়েন কাসেমিরো। তার জায়গায় নামেন ফাবিনিও। তবে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষার অবসান ঘটে যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে। মাঝমাঠ থেকে ব্রুনো গিমারাইসের নিখুঁত পাস ধরে জাপানি ডিফেন্ডারদের ফাঁক গলে বক্সে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় কোনাকুনি শটে বল জালে পাঠান মার্তিনেল্লি। জাপানের গোলরক্ষক সুজুকির কিছুই করার ছিল না। শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত আর সমতায় ফিরতে পারেনি জাপান। ২-১ গোলের নাটকীয় জয় নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল। নেইমারকে পুরো ম্যাচ বেঞ্চে রেখেই গুরুত্বপূর্ণ এই জয় তুলে নেয় কার্লো আনচেলত্তির দল।
আগের দুই ম্যাচে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল তুরস্কের। অন্যদিকে প্রথম দুই ম্যাচে টানা জয় তুলে নিয়ে রাউন্ড অব ৩২ নিশ্চিত করেছিল স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। ফলে শেষ গ্রুপ ম্যাচটি ছিল তুরস্কের জন্য সম্মান রক্ষার লড়াই, আর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গ্রুপপর্ব অপরাজিত থেকে শেষ করার সুযোগ। তবে নাটকীয় এক ম্যাচে শেষ হাসি হেসেছে তুরস্ক। যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তের গোলে স্বাগতিকদের ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে সান্ত্বনার জয় নিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করেছে তারা। লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি দেখতে উপস্থিত ছিলেন হলিউড তারকা ব্র্যাড পিট, এডওয়ার্ড নর্টন ও ওয়েন উইলসন। উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হওয়া ম্যাচে শুরুতেই এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচের মাত্র ২ মিনিট ১৩ সেকেন্ডে কর্নার থেকে পাওয়া বল নিচু শটে জালে পাঠিয়ে গোল করেন সেল্টিকের ডিফেন্ডার অস্টন ট্রাস্টি। এটি বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম গোল। এর আগে ২০১৪ বিশ্বকাপে ঘানার বিপক্ষে ৩০ সেকেন্ডে গোল করেছিলেন ক্লিন্ট ডেম্পসি। তবে দ্রুতই ম্যাচে ফিরে আসে তুরস্ক। বারিস আলপার ইলমাজের চমৎকার ব্যাকহিল পাস থেকে কাছ থেকে বল জালে জড়িয়ে চলতি বিশ্বকাপে দলের প্রথম গোল করেন আরদা গুলের। এরপর বাঁ দিক থেকে গড়ে ওঠা আক্রমণে অরকুন ককচুর শট বারিস আলপার ইলমাজের গায়ে লেগে জালে ঢুকে গেলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তুরস্ক। এই গোলের আক্রমণ তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আরদা গুলের। বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলও পায় তারা। ২০ গজ দূর থেকে সেবাস্টিয়ান বারহাল্টারের দুর্দান্ত শটে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা। এরপর জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র। বদলি হিসেবে মাঠে নামা ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচ একাধিকবার গোলের সুযোগ তৈরি করেন। এর মধ্যে একটি শক্তিশালী শট অসাধারণ দক্ষতায় রক্ষা করেন তুরস্কের গোলরক্ষক উগুরচান চাকির। অন্যদিকে তুরস্কও পাল্টা আক্রমণে সুযোগ সৃষ্টি করতে থাকে। কেনান ইলদিজের বাঁকানো শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। বারিস আলপার ইলমাজও একটি নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করেন। তবে যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে কান উজুনের ছোঁয়া থেকে আসা বল জালে পাঠিয়ে তুরস্ককে ৩-২ ব্যবধানের নাটকীয় জয় এনে দেন কান আয়হান। এই জয়েও অবশ্য টুর্নামেন্টে তুরস্কের ভাগ্য বদলায়নি। দুই হার ও এক জয় নিয়ে তারা গ্রুপের তলানিতে থেকেই বিশ্বকাপ শেষ করেছে। অন্যদিকে প্রথম দুই ম্যাচে জয় পাওয়ায় গ্রুপসেরা হিসেবেই নকআউট পর্বে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ২ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারায় রাউন্ড অব ৩২-এ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মুখোমুখি হবে স্বাগতিকরা।
সাংহাইয়ের একটি স্পোর্টস বারে তখন উচ্ছ্বাসের বিস্ফোরণ। বিশাল পর্দায় জাপানের আক্রমণ। মুহূর্তের মধ্যেই আয়াসে উয়েদার হেডে বল জড়িয়ে গেল জালে। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে জাপানের চতুর্থ গোল। সঙ্গে সঙ্গে নীল জার্সি পরা সমর্থকদের চিৎকারে কেঁপে ওঠে পুরো বার। দৃশ্যটি হয়তো খুব স্বাভাবিক। বিশ্বকাপ কিংবা আন্তর্জাতিক ফুটবলের বড় আসরে এমন উন্মাদনা প্রায় সব দেশেই দেখা যায়। তবে এখানে একটি ব্যতিক্রম ছিল। যারা জাপানের গোল উদযাপন করছিলেন, তারা জাপানি নন; তারা চীনা। ইতিহাস, রাজনীতি ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে চীন ও জাপানের সম্পর্ক কখনোই খুব সহজ ছিল না। দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের স্মৃতি, ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সাম্প্রতিক নানা উত্তেজনা প্রায়ই সংবাদ শিরোনাম হয়। কিন্তু ফুটবল কখনো কখনো এমন একটি ক্ষেত্র তৈরি করে, যেখানে সীমান্ত, জাতীয়তা কিংবা রাজনৈতিক অবস্থান গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে। সাংহাইয়ের সেই সমর্থকগোষ্ঠীর অন্যতম সংগঠক ফ্যান বলেন, তাদের জাপান-প্রেমের উৎস রাজনীতি নয়, শৈশবের স্মৃতি। তার ভাষায়, “আমাদের প্রজন্মের অনেকেই জাপানি অ্যানিমে দেখে বড় হয়েছি। বিশেষ করে ‘ক্যাপ্টেন সুবাসা’। ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার শুরুটা সেখান থেকেই।” তবে শুধু অ্যানিমেই নয়, জাপানকে সমর্থনের পেছনে রয়েছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। ফ্যানের মতে, জাপান এখন এশিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে সফল প্রতীক। বিশ্বকাপের মঞ্চে যখন কোনো এশীয় দল ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে সমানতালে লড়াই করে, তখন অনেক চীনা সমর্থকও নিজেদের স্বপ্ন ও প্রতিনিধিত্ব খুঁজে পান সেই দলে। এই অনুভূতির পেছনে বাস্তবতারও ভূমিকা রয়েছে। চীনের ফুটবল এখনো কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের দেখা পায়নি। দেশটি মাত্র একবার, ২০০২ সালে, বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলেছিল। সেই আসরে তিনটি ম্যাচেই পরাজিত হয়েছিল এবং একটি গোলও করতে পারেনি। অন্যদিকে জাপান নিয়মিত বিশ্বকাপ খেলছে, ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে খেলোয়াড় পাঠাচ্ছে এবং বিশ্বের সেরা দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। জাপান নিয়ে বই লেখা চীনা লেখক ফু জিনইউর মতে, দেশটির সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, শক্তিশালী যুব উন্নয়ন কাঠামো এবং সুসংগঠিত ফুটবল সংস্কৃতি। তার ভাষায়, জাপান এখন এমন একটি দল, যারা ইউরোপীয় মানের প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলতে সক্ষম। তবে চীনে জাপানকে সমর্থন করা সব সময় সহজ নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাপানের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করার কারণে অনেক ভক্তকে সমালোচনা, বিদ্রূপ এবং অপমানের মুখোমুখি হতে হয়। কেউ কেউ তাদের ‘দেশদ্রোহী’ বলেও আখ্যা দেন। পূর্ব চীনের ৩০ বছর বয়সী আকি ইয়াং জাপান জাতীয় দলকে ঘিরে একটি জনপ্রিয় ফ্যান পেজ পরিচালনা করেন। অনুসারী বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কটূক্তিও বেড়েছে। তবু তিনি থামেননি। কারণ তার বিশ্বাস, ফুটবল মানুষের মধ্যে বিভাজনের দেয়াল ভাঙতে পারে। একই বিশ্বাস পোষণ করেন ফ্যানও। তিনি বলেন, “আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন হলো দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের একটি সেতু তৈরি করা।” কথাগুলো হয়তো আদর্শবাদী মনে হতে পারে। কিন্তু ফুটবলের ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, এই খেলা এমন অনেক কিছু করতে পারে, যা রাজনীতি পারে না। এটি অপরিচিত মানুষকে বন্ধু বানায়, প্রতিপক্ষ দেশের পতাকাকেও সম্মান করতে শেখায় এবং কখনো কখনো পুরোনো বৈরিতার মধ্যেও একসঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার সুযোগ তৈরি করে। সাংহাইয়ের সেই উচ্ছ্বসিত বিকেল তাই শুধু একটি ফুটবল ম্যাচের গল্প নয়। এটি এমন এক মানবিক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি, যেখানে মানুষ কখনো কখনো জাতীয়তার চেয়ে আনন্দ, প্রতিদ্বন্দ্বিতার চেয়ে ভালোবাসা এবং রাজনীতির চেয়ে খেলাকে বড় করে দেখে।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে প্রতিদিন ছয়টি করে ম্যাচ চলছে। টানা এতগুলো ম্যাচ দেখা অনেকের কাছেই ক্লান্তিকর মনে হতে পারে। কিন্তু কেভিন আকোতো ও অস্টিন ফ্রাঙ্কলিনের জন্য সেটিই এখন পূর্ণকালীন চাকরি। বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচ দেখার বিনিময়ে তারা পাচ্ছেন ৫০ হাজার ডলার করে। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম ফক্স ওয়ানের ‘চিফ ওয়ার্ল্ড কাপ ওয়াচারস’ (প্রধান বিশ্বকাপ দর্শক) হিসেবে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন এই দুই ফুটবলপ্রেমী। নিজেদের এই ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা কথা বলেছেন বিবিসির সঙ্গে। নিউইয়র্কের বিখ্যাত টাইমস স্কয়ারে তাদের জন্য তৈরি করা হয়েছে কাচে ঘেরা একটি বিশেষ কিউবিক্যাল। পথচারীরা বাইরে থেকে তাদের দেখতে পারেন, আর ভেতরে বসেই তারা দেখছেন বিশ্বকাপের ম্যাচ। কাচঘেরা ওই ঘরে রয়েছে রিক্লাইনার চেয়ার, বাদামি চামড়ার সোফা, বড় পর্দার দুটি টেলিভিশন এবং একটি ফুসবল টেবিল। পাশাপাশি ফুটবলপ্রেমীদের পছন্দের নানা মার্চেন্ডাইজ ও বিভিন্ন ধরনের খাবারও রাখা হয়েছে। কেভিন বলেন, “বিশ বছর বয়সী একজন তরুণ যেমন স্বপ্নের ঘরের কথা কল্পনা করে, এটি ঠিক তেমনই। একজন ফুটবল ভক্ত হিসেবে আপনি যা যা চাইবেন, প্রায় সবই এখানে আছে।” ফ্লোরিডায় বাবুর্চি হিসেবে কাজ করতেন কেভিন। অন্যদিকে অস্টিন ফিলাডেলফিয়ার একজন কনটেন্ট নির্মাতা ও ইনফ্লুয়েন্সার। হাজারো আবেদনকারীর মধ্যে থেকে নির্বাচিত হয়ে তারা এই দায়িত্ব পেয়েছেন। তাদের কাজ শুধু ম্যাচ দেখা নয়, বিশ্বকাপ ঘিরে ভক্তদের জন্য বিভিন্ন ধরনের কনটেন্টও তৈরি করা। বিশ্বকাপের পুরো আসরজুড়ে কাজ চালিয়ে যেতে হওয়ায় শারীরিক ও মানসিকভাবে নিজেদের প্রস্তুত রাখার চেষ্টা করছেন তারা। কেভিন বলেন, “আমি কিছুটা ক্লান্ত হয়ে পড়েছি, অস্টিনও ক্লান্ত। তাই এই জীবনযাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।” অস্টিনের মতে, অভিজ্ঞতাটি অনেকটা সামার ক্যাম্পের মতো। একেকটি দিন যেন অন্য দিনের সঙ্গে মিশে যায়। তিনি বলেন, “এটা একটা বিশাল ম্যারাথন। কাজটা শুনতে সহজ—সোফায় বসে ফুটবল দেখা। কিন্তু বাস্তবে এটি বেশ ক্লান্তিকর।”তবে তাদের জন্য একটি স্বস্তির বিষয়ও আছে। শিফট শেষ হওয়ার পর টাইমস স্কয়ারের কাচঘেরা ঘরে থাকতে হয় না। তারা নিজেদের আবাসস্থলে ফিরে গিয়ে বিশ্রাম নিতে পারেন। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ইতোমধ্যে বেশ কিছু স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন কেভিন ও অস্টিন। একদিন আর্জেন্টাইন বারবিকিউ উপভোগ করার সময়ই তারা দেখেছেন লিওনেল মেসির একটি ঐতিহাসিক গোল, যা তাকে বিশ্বকাপের রেকর্ড বইয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। তাদের কাজের আরেকটি আকর্ষণ হলো, যেসব দেশের ম্যাচ চলছে, সেসব দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন করা হয় তাদের জন্য। ম্যাচের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের সঙ্গেও সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন তারা। টাইমস স্কয়ারে জড়ো হওয়া হাজারো ব্রাজিলিয়ান সমর্থকের সঙ্গে কথা বলেছেন। নরওয়ের ভক্তদের বিখ্যাত ‘ভাইকিং রোয়িং’ উদযাপনও কাছ থেকে দেখেছেন। অস্টিন বলেন, বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা ফুটবল সমর্থকদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, তাদের সংস্কৃতি ও অভিজ্ঞতার গল্প শোনাই এই কাজের সবচেয়ে আনন্দের অংশ। তার ভাষায়, “অনেক সময় আমি ভুলেই যাই যে আমি টাইমস স্কয়ারে বসে আছি এবং মানুষ আমাকে দেখছে। ম্যাচে এতটাই ডুবে থাকি যে হঠাৎ চারপাশে তাকিয়ে অবাক হয়ে যাই।” বিশ্বকাপের সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন নিয়ে দুইজনের মত কিছুটা আলাদা। কেভিনের পছন্দ স্পেন। যদিও ব্যক্তিগতভাবে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ঘানাকেও সমর্থন করছেন। অস্টিন নরওয়ের সমর্থক। তার মতে, আর্লিং হলান্ডের নেতৃত্বে দলটি শিরোপা জয়ের সামর্থ্য রাখে। তিনি বলেন, “স্পেন বা ফ্রান্সের নাম বলা সহজ। কিন্তু আমার বিশ্বাস, ভাগ্য সহায় হলে নরওয়েও বিশ্বকাপ জিততে পারে।” এই ব্যতিক্রমী চাকরি নিয়ে দর্শকদের প্রতিক্রিয়াও ভিন্ন ভিন্ন।নরওয়ের সমর্থক ইমুন্ড লিল্যান্ড ও তার মেয়ে ক্যামিলের মতে, কোনো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ছাড়া ১০৪টি ম্যাচ টানা দেখা কিছুটা বাড়াবাড়ি। অন্যদিকে ১৮ বছর বয়সী ম্যাথিউ মেন্ডেজ মনে করেন, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে বসে বিশ্বকাপ উপভোগ করাই সবচেয়ে ভালো উপায়। তবে ২০ বছর বয়সী মিগুয়েল সানচেজের চোখে এটি স্বপ্নের চাকরি। তার মন্তব্য, “বিশ্বকাপ দেখার জন্য টাকা পাওয়া? এটা তো মাঠে গিয়ে খেলা দেখার চেয়েও ভালো। সত্যিই অবিশ্বাস্য!”
ডালাসের স্টেডিয়ামে ফুটবল ম্যাচ চলাকালে গ্যালারিতে বসে খেলা উপভোগ করছিলেন বিশ্বখ্যাত কলম্বিয়ান পপ তারকা Shakira। তবে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি দর্শকদের দৃষ্টি কাড়ে গ্যালারির একটি মুহূর্ত, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সম্প্রচার ক্যামেরা যখন শাকিরার দিকে ঘুরে যায়, তখন তার পাশে বসা এক তরুণকে দেখা যায় গালে স্নেহের চুমু দিতে। কয়েক সেকেন্ডের সেই দৃশ্য দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই ওই তরুণের পরিচয় নিয়ে নানা জল্পনা শুরু করেন। কেউ কেউ ধারণা করেন, তিনি হয়তো শাকিরার নতুন কোনো ঘনিষ্ঠ সঙ্গী বা বিশেষ ব্যক্তি। তবে পরে জানা যায়, রহস্যময় সেই তরুণ আসলে অন্য কেউ নন, শাকিরার বড় ছেলে Milan Piqué Mebarak। ফুটবল ম্যাচ দেখতে শাকিরা তার দুই ছেলে মিলান ও Sasha Piqué Mebarakকে সঙ্গে নিয়ে স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন। ক্যামেরায় ধরা পড়া মুহূর্তটি ছিল মা ও ছেলের স্বাভাবিক পারিবারিক ভালোবাসার প্রকাশ। শাকিরার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে যারা খুব বেশি অবগত নন, তাদের অনেকেই প্রথমে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের মন্তব্য ও আলোচনা শুরু হয়। কিন্তু ছেলেদের পরিচয় স্পষ্ট হওয়ার পর দ্রুতই সেই জল্পনার অবসান ঘটে। ম্যাচ চলাকালে শুধু এই একটি মুহূর্তই নয়, আরও কয়েকবার ক্যামেরার ফোকাসে আসেন শাকিরা। এক পর্যায়ে তাকে দুই ছেলের সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখা যায়। দর্শকদের উদ্দেশে উড়ন্ত চুম্বন ছুড়ে দিতেও দেখা গেছে জনপ্রিয় এই সংগীতশিল্পীকে। স্টেডিয়ামে তার উপস্থিতি এবং পরিবারের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো দর্শকদের মধ্যে আলাদা আগ্রহের জন্ম দেয়। উল্লেখ্য, শাকিরা ও সাবেক স্প্যানিশ ফুটবলার Gerard Piquéর দুই ছেলে মিলান ও সাশা দীর্ঘদিন ধরেই গণমাধ্যম ও ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ও পারিবারিক আয়োজনে তাদের মায়ের সঙ্গে দেখা যায়। ফলে সাম্প্রতিক এই ভাইরাল মুহূর্তটিও শেষ পর্যন্ত একটি সাধারণ পারিবারিক দৃশ্য হিসেবেই সামনে এসেছে। মাঠের উত্তেজনাপূর্ণ ফুটবল লড়াই শেষ হওয়ার পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল শাকিরা ও তার দুই ছেলের উপস্থিতি। বিশেষ করে মা-ছেলের স্নেহময় মুহূর্তটি ভক্তদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। অনেকেই এটিকে একজন মায়ের সঙ্গে সন্তানের স্বাভাবিক ও সুন্দর সম্পর্কের প্রতিচ্ছবি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
শুরুটা হয়েছিল হতাশায়- পেনাল্টি মিস করে ভেঙে পড়েছিলেন লিওনেল মেসি। কিন্তু সেই হতাশা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ালেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। জোড়া গোল করে ইতিহাস গড়লেন এবং দলকে নিয়ে গেলেন শেষ ৩২-এ। অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই আক্রমণে নামে আর্জেন্টিনা। বক্সে ঢোকা মাত্র শ্লাগার ও পশের চ্যালেঞ্জের মুখে ডি-বক্সের ভেতরে পড়ে যান লাউতারো মার্টিনেজ। রেফারি প্রথমে পেনাল্টি না দিলেও ভিএআর পরীক্ষার পর অষ্টম মিনিটে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। গোল করলেই বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার সুযোগ ছিল মেসির। কিন্তু তিনি শটটি পোস্টের ডান দিক দিয়ে বাইরে মেরে দেন। গোলরক্ষক সঠিক দিক অনুমান করেছিলেন, তবে সেভ করতে হয়নি তাকে। ২১ মিনিটে মেসি কাট-ইন করে ডি-বক্সে ঢুকলেও আলাবা পেছন থেকে বলে ছুঁয়ে দেন এবং বল শ্লাগারের গায়ে লেগে বিপদমুক্ত হয়। ৩৩ মিনিটে ফের্নান্দেসের উদ্দেশ্যে দেওয়া পাস শ্লাগার আটকে দিতে গিয়ে সরাসরি মেসির পায়ে ঠেলে দেন। মেসি সঙ্গে সঙ্গে শট নিলেও আলাবা সঠিক জায়গায় দাঁড়িয়ে নিশ্চিত গোল ব্লক করেন। ৩৮ মিনিটে আসে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। বাম দিক থেকে আক্রমণের সূত্রপাত করে পেনাল্টি বক্সের প্রান্ত থেকে নিখুঁত শটে পোস্টের নিচের বাম কোণ দিয়ে বল জালে জড়ান মেসি। বিশ্বকাপে রেকর্ড ১৭তম গোলে মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে দলকে এগিয়ে দিলেন তিনি। এক গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধে ৬৩ মিনিটে ফের্নান্দেসের জোরালো শট অস্ট্রিয়ার ডিফেন্ডার ব্লক করে দেন। ৭৪ মিনিটে মেসির চমৎকার কর্নার কিকে বল পেয়ে গঞ্জালেস দুর্দান্ত হেড করলেও বলটি পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। ৮৭ মিনিটে গঞ্জালেসের আরেকটি শটও ব্লক হয়ে যায়। ইনজুরি টাইমের পঞ্চম মিনিটে বাম দিক থেকে আলভারেস দ্রুত গতিতে এগিয়ে গেলে বিধ্বংসী কাউন্টার-অ্যাটাকে ওঠে আর্জেন্টিনা। আলভারেসের শট শ্লাগার ঠেকিয়ে দিলেও বল চলে যায় মেসির পায়ে। গোললাইনে বেশ কয়েকজন অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডার দাঁড়িয়ে থাকলেও দমে যাননি মেসি। প্রথম প্রচেষ্টাটি সাইওয়াল্ডের গায়ে লেগে ফিরে এলেও দ্বিতীয় শটে গোললাইনে দাঁড়িয়ে থাকা দানসোকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান তিনি। জে গ্রুপে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা। অস্ট্রিয়াকেও হারিয়ে দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে জর্ডানের বিপক্ষে শেষ গ্রুপ ম্যাচের আগেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল আলবিসেলেস্তেরা।
ফুটবল মাঠে তার পরিচয় একজন সফল ডিফেন্ডার হিসেবে। তবে খেলার জগতের বাইরেও জীবনের জন্য এক ভিন্ন স্বপ্ন লালন করছেন মরক্কো জাতীয় দলের তারকা ফুটবলার নুসাইর মাজরাউই। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার পর তিনি কোরআনের হাফেজ হতে চান এবং ভবিষ্যতে মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালনের ইচ্ছা পোষণ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যে মাজরাউইকে বলতে শোনা যায়, জীবন খুবই সংক্ষিপ্ত। তাই ফুটবল থেকে অবসরের পর তিনি ধর্মীয় শিক্ষায় নিজেকে আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে চান। তার লক্ষ্য কোরআন সম্পূর্ণ মুখস্থ করা এবং ইসলামের জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে মানুষের সেবায় নিয়োজিত হওয়া। ২৮ বছর বয়সী এই মরক্কান ফুটবলার দীর্ঘদিন ধরেই ধর্মীয় অনুশীলনের প্রতি আগ্রহী হিসেবে পরিচিত। মাঠের ব্যস্ত সূচির মধ্যেও তিনি নিয়মিত ধর্মীয় চর্চা ও ব্যক্তিগত বিশ্বাসকে গুরুত্ব দেন বলে বিভিন্ন সময়ে উল্লেখ করেছেন। ফলে তার সাম্প্রতিক এই মন্তব্য অনেক সমর্থকের কাছে বিস্ময়কর না হলেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বর্তমানে ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে খেলা মাজরাউই এখনও জাতীয় দল ও ক্লাব ফুটবলে সক্রিয় রয়েছেন। তবে ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে তার ভাবনা যে শুধুমাত্র খেলাধুলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, সেটিই স্পষ্ট হয়েছে তার এই বক্তব্যে। তিনি মনে করেন, একজন ক্রীড়াবিদের পেশাগত জীবন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হলেও ধর্মীয় শিক্ষা ও সমাজসেবার সুযোগ আজীবন থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এই ইচ্ছার প্রতি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেক সমর্থক। অনেকে এটিকে একজন পেশাদার ক্রীড়াবিদের ব্যক্তিগত মূল্যবোধ ও বিশ্বাসের প্রতি অঙ্গীকারের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, বিশ্বের বড় বড় ক্রীড়া তারকারা অবসরের পর যে ভিন্নধর্মী পথ বেছে নেন, মাজরাউইয়ের পরিকল্পনাও তারই একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মাজরাউই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দেননি। তিনি কেবল ভবিষ্যতে ফুটবল ছাড়ার পর কী করতে চান, সে বিষয়ে নিজের ব্যক্তিগত লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরেছেন। ফলে আপাতত তার সমর্থকদের অপেক্ষা করতে হবে, মাঠের খেলোয়াড় মাজরাউই কবে বাস্তবে ধর্মীয় শিক্ষার সেই নতুন অধ্যায়ে পা রাখেন তা দেখার জন্য।
ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে বিশ্বকাপে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে না পারায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন পর্তুগালের তারকা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তবে ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি দলকে ঘুরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। পর্তুগালের প্রথম ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। ম্যাচের শুরুতে জোয়াও নেভেসের গোলে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। তবে বিরতির আগেই ইয়োয়ানে উইসার গোলে সমতায় ফেরে ডিআর কঙ্গো। দ্বিতীয়ার্ধে কোচ রবার্তো মার্টিনেজ একাধিক পরিবর্তন আনলেও রোনালদো পুরো ৯০ মিনিটই মাঠে থাকেন। ম্যাচে রোনালদোর পারফরম্যান্স ছিল নিষ্প্রভ। তিনি মাত্র ২৫টি টাচ করতে সক্ষম হন। তিনটি শট নিলেও একটিও লক্ষ্যে ছিল না। ফলে তার শুরুর একাদশে থাকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সমর্থকদের একটি অংশ। তবু এই ম্যাচের মাধ্যমে তিনি ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন। আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির সঙ্গে টানা ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ফুটবলার হিসেবে তিনি অনন্য কীর্তি গড়েছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৩, যা পর্তুগালের সর্বোচ্চ। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রোনালদো বলেন, শুরুটা প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। তবে তিনি দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, “আমরা যেভাবে শুরু করতে চেয়েছিলাম, সেভাবে হয়নি। কিন্তু এটা এখনো শেষ হয়নি। মাথা উঁচু রেখে পরের ম্যাচে মনোযোগ দিতে হবে।” রোনালদোর এই বার্তাকে সমর্থকরা দলকে মানসিকভাবে চাঙা রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে কোচ রবার্তো মার্টিনেজ রোনালদোর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার জবাবে বলেন, এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের শীর্ষ গোলদাতাকে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া যুক্তিসংগত নয়, কারণ গোলের প্রয়োজন হলে অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ডই সবচেয়ে কার্যকর বিকল্প। পর্তুগাল এখন গ্রুপ পর্বে পরবর্তী ম্যাচে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে। এরপর কলম্বিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে দলটি।
টানা দ্বিতীয় জয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পুরুষ জাতীয় ফুটবল দল (ইউএসএমএনটি)। 'গ্রুপ ডি'-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রথমার্ধের জোড়া গোলের সুবাদে অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ ব্যবধানে পরাজিত করে পরবর্তী রাউন্ডের টিকিট কেটেছে তারা। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় যুক্তরাষ্ট্র। খেলার মাত্র ১১ মিনিটের মাথায় দুর্ভাগ্যজনকভাবে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার (সকারুজ) ক্যামেরন বার্গেস। এই আত্মঘাতী গোলের সুবাদে শুরুতেই লিড পেয়ে যায় আমেরিকা। এরপর প্রথমার্ধের শেষ দিকে, ৪৩ মিনিটের মাথায় অ্যালেক্স ফ্রিম্যানের দুর্দান্ত গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে দলটি। পুরো ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজ অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন। এই নিয়ে চলতি টুর্নামেন্টে নিজের দ্বিতীয় 'ক্লিন শিট' বা জাল অক্ষত রাখার রেকর্ড গড়লেন ফ্রিজ। তার এই দৃঢ়তায় ভর করেই গ্রুপ টেবিল থেকে আরও তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্র। নকআউট পর্বের টিকিট ইতোমধ্যে নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তুরস্কের বিপক্ষে বেশ নির্ভার হয়েই মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছে দলটি। আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সেই ম্যাচে স্কোয়াড নিয়ে বেশ কিছু বিকল্প পরখ করে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পচেত্তিনো।
কেপ ভার্দে জাতীয় ফুটবল দলের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার (Vozinha) মা শেষ পর্যন্ত তার ছেলের বিশ্বকাপ ম্যাচ সরাসরি মাঠে বসে দেখতে পারবেন। ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আগেই তার যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল, তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিসের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সমাধান হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বুধবার এক বিবৃতিতে জেফ্রিস জানান, ভোজিনিয়ার মায়ের ভিসা দ্রুত ইস্যু করা হবে এবং সব ধরনের ফি মওকুফ করা হয়েছে। ফলে তিনি আগামী রোববার মায়ামিতে উরুগুয়ের বিপক্ষে কেপ ভার্দের ম্যাচে উপস্থিত থাকতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, “সব ফি সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী মওকুফ করা হয়েছে। এখন মা ও ছেলের পুনর্মিলনের জন্য প্রয়োজনীয় ভ্রমণ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।” যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, প্রেয়া শহরের ভিসা টিম ভোজিনিয়ার পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে। এর আগে ভোজিনিয়া জানান, তার মা ভিসা সংক্রান্ত খরচ ও বন্ডের কারণে আগের ম্যাচে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তিনি বলেন, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। কেপ ভার্দে এমন ৫০টি দেশের মধ্যে একটি, যাদের নাগরিকদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী ভিসা বন্ড হিসেবে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জমা দিতে হয়। অভিবাসন আইন লঙ্ঘন বা ভিসার মেয়াদ শেষে অবস্থান না ছাড়ার উচ্চ ঝুঁকির কারণে এই নিয়ম চালু রয়েছে। তবে পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের পরিবারের সদস্যদের জন্য ভিসা বন্ড মওকুফের সুযোগ রয়েছে। এর আওতায় খেলোয়াড়, কোচ এবং প্রয়োজনীয় সাপোর্ট স্টাফদের পাশাপাশি ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রাও অন্তর্ভুক্ত থাকেন। পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ভোজিনিয়ার মায়ের ক্ষেত্রে ভিসা আবেদন বা সক্রিয় প্রক্রিয়ার কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি এখনো পাসপোর্ট সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। ভোজিনিয়া সম্প্রতি বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে সাতটি সেভ করেন এবং দলের ঐতিহাসিক ড্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষকের খেলোয়াড়ি জীবন মূলত পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব ঘিরে। ম্যাচ শেষে তার পারফরম্যান্স এবং দলের সাফল্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বেড়েছে বলে জানা গেছে। আগামী রোববার মায়ামিতে উরুগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে কেপ ভার্দে।
ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, কোটি কোটি মানুষের কাছে এটি আবেগ, ভালোবাসা ও পরিচয়ের অংশ। তাই প্রিয় দল হারলে মন খারাপ হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। অনেক সমর্থক ম্যাচের পর হতাশ হয়ে পড়েন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এড়িয়ে চলেন বা দীর্ঘ সময় ধরে পরাজয়ের কষ্ট বয়ে বেড়ান। ১. কষ্ট পাওয়াটা স্বাভাবিক, সেটি মেনে নিন প্রিয় দল হারার পর মন খারাপ হওয়া কোনো দুর্বলতা নয়। নিজের অনুভূতিকে অস্বীকার না করে কিছুটা সময় দিন। আবেগকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করলে হতাশা দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সহজ হয়। ২. মনে রাখুন, ফুটবল একটি খেলা জয়-পরাজয় খেলাধুলারই অংশ। বিশ্বের সেরা দলগুলোও নিয়মিত হার-জিতের মধ্য দিয়েই এগিয়ে যায়। একটি ম্যাচের ফলাফল আপনার ব্যক্তিগত জীবন বা সাফল্যের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়—এ কথা মনে রাখুন। ৩. কিছু সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকুন পরাজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল, ব্যঙ্গ বা প্রতিপক্ষ সমর্থকদের মন্তব্য চোখে পড়তে পারে। এসব বিষয় মন আরও খারাপ করতে পারে। তাই কিছু সময়ের জন্য ফোন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে বিরতি নেওয়া ভালো। ৪. বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান মন খারাপের সময় প্রিয় মানুষদের সঙ্গ অনেক স্বস্তি দেয়। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিন, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। এতে হতাশা কমে এবং মন অন্যদিকে ব্যস্ত থাকে। ৫. ম্যাচের ইতিবাচক দিকগুলো ভাবুন হার মানেই সবকিছু খারাপ ছিল না। ম্যাচে দলের ভালো কিছু মুহূর্ত, খেলোয়াড়দের চেষ্টা বা লড়াইয়ের মানসিকতা মনে করার চেষ্টা করুন। এতে হতাশার পরিবর্তে আশাবাদ তৈরি হয়। ৬. নিজের পছন্দের কাজে মন দিন সিনেমা দেখা, বই পড়া, গান শোনা, হাঁটতে যাওয়া বা অন্য কোনো শখের কাজে সময় কাটান। নতুন কাজে মনোযোগ দিলে পরাজয়ের কষ্ট ধীরে ধীরে কমে আসে। ৭. সামনে নতুন ম্যাচের অপেক্ষা করুন একজন প্রকৃত সমর্থক শুধু জয়ের সময় নয়, কঠিন সময়েও দলের পাশে থাকেন। একটি হার মানেই মৌসুম শেষ নয়। সামনে নতুন ম্যাচ, নতুন চ্যালেঞ্জ ও নতুন সম্ভাবনা অপেক্ষা করছে। ফুটবলের আসল আনন্দ কোথায়? ফুটবলের সৌন্দর্য শুধু ট্রফি জেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখা, উত্তেজনা ভাগাভাগি করা, গোলের আনন্দে উল্লাস করা কিংবা কঠিন সময়ে দলকে সমর্থন করাও এই খেলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রিয় দল হয়তো আজ হেরেছে, কিন্তু সমর্থকের ভালোবাসা হারেনি। আর সেই নিঃস্বার্থ সমর্থনই ফুটবলকে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলায় পরিণত করেছে।
চলতি ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ফক্সবোরো এলাকার 'বস্টন স্টেডিয়াম' (জিলেট স্টেডিয়াম)-এর আশেপাশের বাসিন্দাদের ভাগ্য খুলে গেছে। স্টেডিয়ামে পার্কিংয়ের জায়গা সীমিত থাকায় ফুটবলপ্রেমী দর্শকদের গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা দিয়ে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন স্থানীয় বাড়ির মালিকেরা। তারা নিজেদের বাড়ির সামনের উঠান ও লনগুলোকে একেকটি বাণিজ্যিক পার্কিং জোনে রূপান্তর করেছেন। বুধবার (১৭ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস বস্টনের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ফক্সবোরোর মূল স্টেডিয়ামটিতে গাড়ি পার্কিংয়ের ধারণক্ষমতা মাত্র ৫ হাজার। আর সেখানে আগে থেকে বুকিং দিয়ে পার্কিং করতে দর্শকদের গুনতে হচ্ছে চড়া মূল্য—প্রায় ১৭৫ ডলার। কিন্তু স্টেডিয়ামের ঠিক পাশেই ওয়ালপোল এলাকার উইলো স্ট্রিটের বাড়িগুলোতে মাত্র ১০০ ডলারে গাড়ি পার্কিংয়ের সুযোগ পাচ্ছেন দর্শকরা। পাশাপাশি সেখানকার খুদে উদ্যোক্তারা দর্শকদের সতেজ লেবুর শরবত দিয়ে স্বাগত জানাচ্ছে। রাইয়ান ওয়াটসন নামের এক স্থানীয় বাড়ির মালিক বলেন, "আমরা এখানে বহু বছর ধরে বাস করছি, কিন্তু কখনো এভাবে আয়ের কথা ভাবিনি। স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ পার্কিং থেকে কোটি কোটি টাকা কামাচ্ছে, আমরাও ভাবলাম এই সুযোগে একটু আয় করে নিই।" তিনি আরও জানান, এই বাড়তি আয়ের টাকা তিনি তার সন্তানদের কলেজের পড়াশোনার খরচের জন্য জমিয়ে রাখছেন। তবে চাইলেই যে কেউ এই ব্যবসা শুরু করতে পারছেন না। স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে প্রায় ৭০০ ডলার দিয়ে একটি বিশেষ পারমিট বা অনুমতিপত্র নিতে হচ্ছে বাড়ির মালিকদের, যার আওতায় সর্বোচ্চ ২৬টি গাড়ি পার্কিংয়ের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। ওয়াশিংটন স্ট্রিটের বাসিন্দা এরিকা বার্ডন জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত 'ইরাক বনাম নরওয়ে'র বিশ্বকাপ ম্যাচ চলাকালীন তার বাড়ির ২৬টি স্পটের সবকটিই বুকড হয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন, "বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচেই আমরা এই সুবিধা দেব। এর থেকে ভালো লাভ হলে ভবিষ্যতে বড় কোনো কনসার্ট বা ফুটবল ম্যাচের সময়েও পার্কিংয়ের ব্যবসা করার পরিকল্পনা আছে।" এই আয়ের টাকা দিয়ে সন্তানদের কলেজের টিউশন ফি দেওয়ার পাশাপাশি একটি পারিবারিক ভ্রমণেরও স্বপ্ন দেখছেন তিনি। অন্যদিকে জন রুহানা নামের আরেক বাসিন্দা জানান, গাড়ি পার্কিংয়ের এই বাড়তি আয় দিয়ে তিনি তার বাড়ির মোটা অঙ্কের প্রোপার্টি ট্যাক্স বা সম্পত্তি কর পরিশোধ করবেন, যা বছরে প্রায় ১০ হাজার ডলার।
বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রায় এক শতাব্দীর ইতিহাসে অভিবাসন এবং ঔপনিবেশিক সম্পর্ক খেলোয়াড়দের জাতীয় পরিচয় নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে লিভারপুলে জন্ম নেওয়া জর্জ মুরহাউস ইংল্যান্ডের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন, যা ছিল বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো ইংলিশ খেলোয়াড়ের ভিন্ন দেশের হয়ে খেলার প্রথম ঘটনা। সেই আসরে মার্কিন দলে স্কটল্যান্ডে জন্ম নেওয়া আরও পাঁচজন ফুটবলার ছিলেন, যারা তৎকালীন নিয়ম অনুযায়ী অভিবাসনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেন। বর্তমান ফুটবল বিশ্বকাপেও এই চিত্র আরও ব্যাপকভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে, যেখানে বহু খেলোয়াড়ের পারিবারিক শিকড় এক দেশে হলেও জন্ম ও বেড়ে ওঠা অন্য দেশে। এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী মোট ১,২৪৮ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে ২৯২ জনই নিজেদের প্রতিনিধিত্ব করা দেশের বাইরে জন্মগ্রহণ করেছেন। অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দলের মধ্যে মাত্র আটটি দল ছাড়া বাকি সব দলের স্কোয়াডেই অন্তত একজন বিদেশে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড় রয়েছেন। এই তালিকায় সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে কুরাসাও, যাদের স্কোয়াডের একজন ছাড়া বাকি সব খেলোয়াড়ই নেদারল্যান্ডসে জন্মগ্রহণ করেছেন। অন্যদিকে মরক্কো ও কাতারের মতো দলগুলো প্রকৃত অর্থেই বহুজাতিক রূপ ধারণ করেছে, যেখানে ব্রাজিলের বিপক্ষে মরক্কোর ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে থাকা ১১ জন খেলোয়াড়ের সবাই দেশের বাইরে জন্মেছিলেন। বিশ্ব ফুটবলে খেলোয়াড় সরবরাহের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তরিত হয়েছে ফ্রান্স। চলতি বিশ্বকাপে মোট ৯৮ জন ফরাসি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় অংশ নিচ্ছেন, যাদের মধ্যে ৭৬ জনই ফ্রান্সের বাইরে অন্য দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এই তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে আছে আলজেরিয়া, যাদের দলে সর্বোচ্চ ১৩ জন ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া ফুটবলার রয়েছেন। এর পরেই রয়েছে হাইতি, সেনেগাল, আইভরি কোস্ট এবং কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র। সেনেগাল দলের ১০ জন খেলোয়াড় ফ্রান্সে জন্মগ্রহণ করলেও পারিবারিক শিকড়ের টানে তারা নিজেদের পূর্বপুরুষের দেশের হয়ে মাঠে নামছেন। ফিফার জাতীয় দলে খেলার যোগ্যতা নির্ধারণের নিয়মে বেশ কিছু ঐতিহাসিক পরিবর্তন এই প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করেছে। নাগরিকত্বের পাশাপাশি দ্বৈত নাগরিকত্বধারী খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে বাবা-মা বা দাদা-দাদির জন্মসূত্র অথবা সংশ্লিষ্ট দেশে ন্যূনতম পাঁচ বছর বসবাসের শর্ত প্রযোজ্য হয়। ২০০৪ সালের আগে বয়সভিত্তিক দলে খেললে অন্য দেশে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। তবে আলজেরিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের আপত্তির মুখে ফিফা নিয়ম পরিবর্তন করে শর্তসাপেক্ষে ২১ বছর বয়সের আগে একবার জাতীয়তা পরিবর্তনের সুযোগ দেয়। পরবর্তীতে ২০০৯ এবং ২০২০ সালে এই নিয়ম আরও শিথিল করা হয়, যার ফলে দিয়েগো কস্তা বা ডেকলান রাইসের মতো তারকারা প্রীতি ম্যাচ খেলার পরও অন্য দেশের জাতীয় দলকে বেছে নিতে পেরেছেন। খেলোয়াড়দের এই জটিল আন্তর্জাতিক স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় স্পেনে জন্ম নেওয়া মুনির আল হাদ্দাদির মামলাটি ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করে। ২০১৪ সালে স্পেনের হয়ে মাত্র ১৩ মিনিট খেলার কারণে মরক্কোর হয়ে তার খেলার আবেদন প্রথমে বাতিল হলেও ২০২০ সালের নতুন নিয়মে তিনি খেলার অনুমতি পান। নতুন নিয়মে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ২১ বছরের আগে সর্বোচ্চ তিনটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেললেও তিন বছর অপেক্ষা করে একবার জাতীয়তা পরিবর্তন করা যাবে। তবে শুধুমাত্র খেলার উদ্দেশ্যে নাগরিকত্ব কেনা যাবে না, খেলোয়াড়কে দেশের সঙ্গে প্রকৃত সম্পর্ক প্রমাণ করতে হবে। বর্তমান সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন ফুটবল ফেডারেশন প্রবাসী বা দ্বৈত নাগরিকত্বধারী প্রতিভাদের খুঁজে বের করার জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষ স্কাউট নিয়োগ করছে। তারা ট্রান্সফার মার্কেটের মতো ডাটাবেস ব্যবহার, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, লিংকডইন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খেলোয়াড়দের পারিবারিক ইতিহাস অনুসন্ধান করছে। এমনকি জনপ্রিয় ভিডিও গেম ‘ফুটবল ম্যানেজার’-এর ডেটা ব্যবহার করে চিলির ফুটবল ফেডারেশন ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া বেন ব্রেরেটন দিয়াজের মায়ের চিলিয়ান নাগরিকত্বের তথ্য খুঁজে বের করে। জন্মভূমি ও পূর্বপুরুষের দেশের মধ্যকার এই টানাপোড়েনই আধুনিক বিশ্বকাপকে রূপ দিয়েছে এক অনন্য বহুজাতিক মঞ্চে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।