ফুটবল

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর হত্যার হুমকি, পদত্যাগ করলেন দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর দেশে ফেরার পথে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রাখা হচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া জাতীয় ফুটবল দলকে। প্রধান কোচ হং মিয়ুং-বোকে হত্যার হুমকি দেওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে লক্ষ্য করে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর ইনচন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন হং।   ৫৭ বছর বয়সী হং মিয়ুং-বোর অধীনে এবারের বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে উঠতে পারেনি দক্ষিণ কোরিয়া। শুরুতে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও জয় তুলে নিয়ে আশা জাগিয়েছিল দলটি। তবে পরে গ্রুপ 'এ'-তে দক্ষিণ আফ্রিকা ও মেক্সিকোর কাছে টানা দুই ম্যাচে হেরে যায়।   বিশ্বকাপের সম্প্রসারিত আসরে সেরা আটটি তৃতীয় হওয়া দলের একটি হিসেবে শেষ ৩২-এ ওঠার সম্ভাবনা ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার। কিন্তু শনিবার ডিআর কঙ্গো ৩-১ গোলে উজবেকিস্তানকে হারানোর পর সেই সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায়। ব্যর্থতার দায় নিয়ে কোচ হং মিয়ুং-বো পদত্যাগ করেছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ুং তাকে "অযোগ্য" বলে মন্তব্য করেছেন।   দলটি মঙ্গলবার দেশে ফিরলে ইনচন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৬০ জন দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ ও বিমানবন্দর পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছে ইনচন মেট্রোপলিটন পুলিশ এজেন্সি। পাশাপাশি ইনচন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করপোরেশন বিশেষ নিরাপত্তাকর্মীসহ আরও ২৫ জন অতিরিক্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেবে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়।   বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হং মিয়ুং-বোকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এ ছাড়া একটি জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেল তার মুখ অপরাধীদের মতো ঝাপসা করে সম্প্রচার করায় ঘটনাটি আরও আলোচনায় আসে।   পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দল দেশে ফেরার সময় সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বস্তু নিক্ষেপসহ যেকোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের পারফরম্যান্স নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ুং জাতীয় দলের পুরো কার্যক্রম পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।   তিনি বলেন, "একসময় আমি একটি পেশাদার ফুটবল ক্লাবের সম্মানসূচক চেয়ারম্যান ছিলাম এবং হৃদয়ে এখনও রেড ডেভিলসের একজন সমর্থক। তাই এই অপ্রত্যাশিত ফল বিস্ময়ের পাশাপাশি গভীর হতাশাও তৈরি করেছে।" তিনি আরও বলেন, "আবারও প্রমাণ হলো, সঠিক ব্যক্তি নির্বাচনই সবকিছু নির্ধারণ করে। যোগ্যতার বদলে আনুগত্য ও গোষ্ঠীপ্রীতিকে গুরুত্ব দিয়ে অযোগ্য কাউকে নেতৃত্বে বসানো হলে ফল কী হবে, তা আগুনের মতোই স্পষ্ট।"   দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে প্রেসিডেন্ট বলেন, "এই অযৌক্তিক পরিস্থিতিতে জনগণকে যে হতাশার মুখে পড়তে হয়েছে, তার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, সে জন্য দ্রুত ক্রীড়া প্রশাসনে সংস্কার আনা হবে।" এটি ছিল দক্ষিণ কোরিয়া জাতীয় দলের দায়িত্বে হং মিয়ুং-বোর দ্বিতীয় মেয়াদ। এর আগে ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপেও তার অধীনেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল দলটি।   দক্ষিণ কোরিয়া টানা ১১টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে। ২০০২ সালে নিজেদের মাটিতে যৌথ আয়োজক হিসেবে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছিল দেশটি।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ভিনিসিয়ুস–কাসেমিরোদের উচ্ছ্বাস। রয়টার্স
শেষ মুহূর্তের গোলে জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় ব্রাজিল

সব শঙ্কা, স্নায়ুচাপ আর নাটকীয়তার অবসান ঘটল শেষ মুহূর্তের এক দুর্দান্ত আক্রমণে। নির্ধারিত সময়ের খেলা যখন ১-১ সমতায় শেষ হয়ে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর অপেক্ষায়, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির জয়সূচক গোলে জাপানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করল ব্রাজিল।   হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ছিল জাপানের দখলে। ২৯ মিনিটে ব্রাজিলের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে কাইশু সানো দুর্দান্ত এক দূরপাল্লার শটে জাপানকে এগিয়ে দেন। গোলের পর কোচ হাজিমে মোরিয়াসু দলকে আরও রক্ষণাত্মক করে তোলেন। ৫-৪-১ ছকে গড়ে ওঠা জাপানের শক্ত রক্ষণে প্রথমার্ধজুড়ে ছন্দ খুঁজে পায়নি ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রসহ ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে কার্যকরভাবে আটকে রাখে ব্লু সামুরাইরা।   বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে ব্রাজিল। ৫৬ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মাগালাইয়েসের নিখুঁত ক্রস থেকে কাসেমিরো দুর্দান্ত এক হেডে গোল করে সমতায় ফেরান পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।   গোলের পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে সেলেসাওরা। ৫৮ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দারুণ প্রচেষ্টা গোলরক্ষক জিওন সুজুকির স্পর্শে পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এরপরও একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও জাপানের রক্ষণ ভাঙতে পারছিল না ব্রাজিল।   ম্যাচের শেষভাগে একের পর এক পরিবর্তন এনে আক্রমণে নতুন গতি যোগ করেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ৬৫ মিনিটে মাতেউস কুনিয়ার পরিবর্তে মাঠে নামেন গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। এনদ্রিক ও রায়ানের গতিময় ফুটবলে ক্রমেই চাপে পড়ে জাপানের রক্ষণভাগ।   ৮৫ মিনিটে রায়ানের ফ্রি-কিক এবং পরে ব্রুনো গিমারাইসের প্রচেষ্টা লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে অতিরিক্ত সময়ই যেন অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। এরই মধ্যে ৮৯ মিনিটে ইনজুরির কারণে মাঠ ছাড়েন কাসেমিরো। তার জায়গায় নামেন ফাবিনিও।   তবে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষার অবসান ঘটে যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে। মাঝমাঠ থেকে ব্রুনো গিমারাইসের নিখুঁত পাস ধরে জাপানি ডিফেন্ডারদের ফাঁক গলে বক্সে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় কোনাকুনি শটে বল জালে পাঠান মার্তিনেল্লি। জাপানের গোলরক্ষক সুজুকির কিছুই করার ছিল না।   শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত আর সমতায় ফিরতে পারেনি জাপান। ২-১ গোলের নাটকীয় জয় নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল। নেইমারকে পুরো ম্যাচ বেঞ্চে রেখেই গুরুত্বপূর্ণ এই জয় তুলে নেয় কার্লো আনচেলত্তির দল।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে সান্ত্বনার জয় নিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করল তুরস্ক

আগের দুই ম্যাচে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল তুরস্কের। অন্যদিকে প্রথম দুই ম্যাচে টানা জয় তুলে নিয়ে রাউন্ড অব ৩২ নিশ্চিত করেছিল স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। ফলে শেষ গ্রুপ ম্যাচটি ছিল তুরস্কের জন্য সম্মান রক্ষার লড়াই, আর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গ্রুপপর্ব অপরাজিত থেকে শেষ করার সুযোগ।   তবে নাটকীয় এক ম্যাচে শেষ হাসি হেসেছে তুরস্ক। যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তের গোলে স্বাগতিকদের ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে সান্ত্বনার জয় নিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করেছে তারা।   লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি দেখতে উপস্থিত ছিলেন হলিউড তারকা ব্র্যাড পিট, এডওয়ার্ড নর্টন ও ওয়েন উইলসন। উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হওয়া ম্যাচে শুরুতেই এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র।   ম্যাচের মাত্র ২ মিনিট ১৩ সেকেন্ডে কর্নার থেকে পাওয়া বল নিচু শটে জালে পাঠিয়ে গোল করেন সেল্টিকের ডিফেন্ডার অস্টন ট্রাস্টি। এটি বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম গোল। এর আগে ২০১৪ বিশ্বকাপে ঘানার বিপক্ষে ৩০ সেকেন্ডে গোল করেছিলেন ক্লিন্ট ডেম্পসি।   তবে দ্রুতই ম্যাচে ফিরে আসে তুরস্ক। বারিস আলপার ইলমাজের চমৎকার ব্যাকহিল পাস থেকে কাছ থেকে বল জালে জড়িয়ে চলতি বিশ্বকাপে দলের প্রথম গোল করেন আরদা গুলের।   এরপর বাঁ দিক থেকে গড়ে ওঠা আক্রমণে অরকুন ককচুর শট বারিস আলপার ইলমাজের গায়ে লেগে জালে ঢুকে গেলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তুরস্ক। এই গোলের আক্রমণ তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আরদা গুলের।   বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলও পায় তারা। ২০ গজ দূর থেকে সেবাস্টিয়ান বারহাল্টারের দুর্দান্ত শটে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা।   এরপর জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র। বদলি হিসেবে মাঠে নামা ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচ একাধিকবার গোলের সুযোগ তৈরি করেন। এর মধ্যে একটি শক্তিশালী শট অসাধারণ দক্ষতায় রক্ষা করেন তুরস্কের গোলরক্ষক উগুরচান চাকির।   অন্যদিকে তুরস্কও পাল্টা আক্রমণে সুযোগ সৃষ্টি করতে থাকে। কেনান ইলদিজের বাঁকানো শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। বারিস আলপার ইলমাজও একটি নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করেন। তবে যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে কান উজুনের ছোঁয়া থেকে আসা বল জালে পাঠিয়ে তুরস্ককে ৩-২ ব্যবধানের নাটকীয় জয় এনে দেন কান আয়হান।   এই জয়েও অবশ্য টুর্নামেন্টে তুরস্কের ভাগ্য বদলায়নি। দুই হার ও এক জয় নিয়ে তারা গ্রুপের তলানিতে থেকেই বিশ্বকাপ শেষ করেছে। অন্যদিকে প্রথম দুই ম্যাচে জয় পাওয়ায় গ্রুপসেরা হিসেবেই নকআউট পর্বে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ২ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারায় রাউন্ড অব ৩২-এ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মুখোমুখি হবে স্বাগতিকরা।  

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
বিশ্বকাপে নিজেদের দল না থাকায় চীনের অনেক মানুষ জাপান দলের সমর্থক হয়ে উঠেছে। ছবিটি জাপানের ম্যাচ চলাকালে সাংহাইয়ের এক বারে তোলা। ছবি : এএফপি
চীনাদের হৃদয়ে জাপান: ফুটবল যেখানে হার মানায় রাজনীতিকে

সাংহাইয়ের একটি স্পোর্টস বারে তখন উচ্ছ্বাসের বিস্ফোরণ। বিশাল পর্দায় জাপানের আক্রমণ। মুহূর্তের মধ্যেই আয়াসে উয়েদার হেডে বল জড়িয়ে গেল জালে। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে জাপানের চতুর্থ গোল। সঙ্গে সঙ্গে নীল জার্সি পরা সমর্থকদের চিৎকারে কেঁপে ওঠে পুরো বার।   দৃশ্যটি হয়তো খুব স্বাভাবিক। বিশ্বকাপ কিংবা আন্তর্জাতিক ফুটবলের বড় আসরে এমন উন্মাদনা প্রায় সব দেশেই দেখা যায়। তবে এখানে একটি ব্যতিক্রম ছিল। যারা জাপানের গোল উদযাপন করছিলেন, তারা জাপানি নন; তারা চীনা।   ইতিহাস, রাজনীতি ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে চীন ও জাপানের সম্পর্ক কখনোই খুব সহজ ছিল না। দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের স্মৃতি, ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সাম্প্রতিক নানা উত্তেজনা প্রায়ই সংবাদ শিরোনাম হয়। কিন্তু ফুটবল কখনো কখনো এমন একটি ক্ষেত্র তৈরি করে, যেখানে সীমান্ত, জাতীয়তা কিংবা রাজনৈতিক অবস্থান গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে।   সাংহাইয়ের সেই সমর্থকগোষ্ঠীর অন্যতম সংগঠক ফ্যান বলেন, তাদের জাপান-প্রেমের উৎস রাজনীতি নয়, শৈশবের স্মৃতি। তার ভাষায়, “আমাদের প্রজন্মের অনেকেই জাপানি অ্যানিমে দেখে বড় হয়েছি। বিশেষ করে ‘ক্যাপ্টেন সুবাসা’। ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার শুরুটা সেখান থেকেই।”   তবে শুধু অ্যানিমেই নয়, জাপানকে সমর্থনের পেছনে রয়েছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। ফ্যানের মতে, জাপান এখন এশিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে সফল প্রতীক। বিশ্বকাপের মঞ্চে যখন কোনো এশীয় দল ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে সমানতালে লড়াই করে, তখন অনেক চীনা সমর্থকও নিজেদের স্বপ্ন ও প্রতিনিধিত্ব খুঁজে পান সেই দলে।   এই অনুভূতির পেছনে বাস্তবতারও ভূমিকা রয়েছে। চীনের ফুটবল এখনো কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের দেখা পায়নি। দেশটি মাত্র একবার, ২০০২ সালে, বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলেছিল। সেই আসরে তিনটি ম্যাচেই পরাজিত হয়েছিল এবং একটি গোলও করতে পারেনি। অন্যদিকে জাপান নিয়মিত বিশ্বকাপ খেলছে, ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে খেলোয়াড় পাঠাচ্ছে এবং বিশ্বের সেরা দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।   জাপান নিয়ে বই লেখা চীনা লেখক ফু জিনইউর মতে, দেশটির সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, শক্তিশালী যুব উন্নয়ন কাঠামো এবং সুসংগঠিত ফুটবল সংস্কৃতি। তার ভাষায়, জাপান এখন এমন একটি দল, যারা ইউরোপীয় মানের প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলতে সক্ষম।   তবে চীনে জাপানকে সমর্থন করা সব সময় সহজ নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাপানের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করার কারণে অনেক ভক্তকে সমালোচনা, বিদ্রূপ এবং অপমানের মুখোমুখি হতে হয়। কেউ কেউ তাদের ‘দেশদ্রোহী’ বলেও আখ্যা দেন।   পূর্ব চীনের ৩০ বছর বয়সী আকি ইয়াং জাপান জাতীয় দলকে ঘিরে একটি জনপ্রিয় ফ্যান পেজ পরিচালনা করেন। অনুসারী বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কটূক্তিও বেড়েছে। তবু তিনি থামেননি। কারণ তার বিশ্বাস, ফুটবল মানুষের মধ্যে বিভাজনের দেয়াল ভাঙতে পারে।   একই বিশ্বাস পোষণ করেন ফ্যানও। তিনি বলেন, “আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন হলো দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের একটি সেতু তৈরি করা।” কথাগুলো হয়তো আদর্শবাদী মনে হতে পারে। কিন্তু ফুটবলের ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, এই খেলা এমন অনেক কিছু করতে পারে, যা রাজনীতি পারে না।   এটি অপরিচিত মানুষকে বন্ধু বানায়, প্রতিপক্ষ দেশের পতাকাকেও সম্মান করতে শেখায় এবং কখনো কখনো পুরোনো বৈরিতার মধ্যেও একসঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার সুযোগ তৈরি করে।   সাংহাইয়ের সেই উচ্ছ্বসিত বিকেল তাই শুধু একটি ফুটবল ম্যাচের গল্প নয়। এটি এমন এক মানবিক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি, যেখানে মানুষ কখনো কখনো জাতীয়তার চেয়ে আনন্দ, প্রতিদ্বন্দ্বিতার চেয়ে ভালোবাসা এবং রাজনীতির চেয়ে খেলাকে বড় করে দেখে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
অস্টিন ফ্রাঙ্কলিন (বাঁয়ে) ও কেভিন আকোতো। ছবি: ফক্স
বিশ্বকাপের সব ম্যাচ দেখেই ৫০ হাজার ডলার পাচ্ছেন দুই ফুটবল ভক্ত

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে প্রতিদিন ছয়টি করে ম্যাচ চলছে। টানা এতগুলো ম্যাচ দেখা অনেকের কাছেই ক্লান্তিকর মনে হতে পারে। কিন্তু কেভিন আকোতো ও অস্টিন ফ্রাঙ্কলিনের জন্য সেটিই এখন পূর্ণকালীন চাকরি। বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচ দেখার বিনিময়ে তারা পাচ্ছেন ৫০ হাজার ডলার করে।   মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম ফক্স ওয়ানের ‘চিফ ওয়ার্ল্ড কাপ ওয়াচারস’ (প্রধান বিশ্বকাপ দর্শক) হিসেবে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন এই দুই ফুটবলপ্রেমী। নিজেদের এই ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা কথা বলেছেন বিবিসির সঙ্গে।   নিউইয়র্কের বিখ্যাত টাইমস স্কয়ারে তাদের জন্য তৈরি করা হয়েছে কাচে ঘেরা একটি বিশেষ কিউবিক্যাল। পথচারীরা বাইরে থেকে তাদের দেখতে পারেন, আর ভেতরে বসেই তারা দেখছেন বিশ্বকাপের ম্যাচ।   কাচঘেরা ওই ঘরে রয়েছে রিক্লাইনার চেয়ার, বাদামি চামড়ার সোফা, বড় পর্দার দুটি টেলিভিশন এবং একটি ফুসবল টেবিল। পাশাপাশি ফুটবলপ্রেমীদের পছন্দের নানা মার্চেন্ডাইজ ও বিভিন্ন ধরনের খাবারও রাখা হয়েছে।   কেভিন বলেন, “বিশ বছর বয়সী একজন তরুণ যেমন স্বপ্নের ঘরের কথা কল্পনা করে, এটি ঠিক তেমনই। একজন ফুটবল ভক্ত হিসেবে আপনি যা যা চাইবেন, প্রায় সবই এখানে আছে।”   ফ্লোরিডায় বাবুর্চি হিসেবে কাজ করতেন কেভিন। অন্যদিকে অস্টিন ফিলাডেলফিয়ার একজন কনটেন্ট নির্মাতা ও ইনফ্লুয়েন্সার। হাজারো আবেদনকারীর মধ্যে থেকে নির্বাচিত হয়ে তারা এই দায়িত্ব পেয়েছেন। তাদের কাজ শুধু ম্যাচ দেখা নয়, বিশ্বকাপ ঘিরে ভক্তদের জন্য বিভিন্ন ধরনের কনটেন্টও তৈরি করা।   বিশ্বকাপের পুরো আসরজুড়ে কাজ চালিয়ে যেতে হওয়ায় শারীরিক ও মানসিকভাবে নিজেদের প্রস্তুত রাখার চেষ্টা করছেন তারা। কেভিন বলেন, “আমি কিছুটা ক্লান্ত হয়ে পড়েছি, অস্টিনও ক্লান্ত। তাই এই জীবনযাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।” অস্টিনের মতে, অভিজ্ঞতাটি অনেকটা সামার ক্যাম্পের মতো। একেকটি দিন যেন অন্য দিনের সঙ্গে মিশে যায়।   তিনি বলেন, “এটা একটা বিশাল ম্যারাথন। কাজটা শুনতে সহজ—সোফায় বসে ফুটবল দেখা। কিন্তু বাস্তবে এটি বেশ ক্লান্তিকর।”তবে তাদের জন্য একটি স্বস্তির বিষয়ও আছে। শিফট শেষ হওয়ার পর টাইমস স্কয়ারের কাচঘেরা ঘরে থাকতে হয় না। তারা নিজেদের আবাসস্থলে ফিরে গিয়ে বিশ্রাম নিতে পারেন।   এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ইতোমধ্যে বেশ কিছু স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন কেভিন ও অস্টিন। একদিন আর্জেন্টাইন বারবিকিউ উপভোগ করার সময়ই তারা দেখেছেন লিওনেল মেসির একটি ঐতিহাসিক গোল, যা তাকে বিশ্বকাপের রেকর্ড বইয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। তাদের কাজের আরেকটি আকর্ষণ হলো, যেসব দেশের ম্যাচ চলছে, সেসব দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন করা হয় তাদের জন্য।   ম্যাচের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের সঙ্গেও সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন তারা। টাইমস স্কয়ারে জড়ো হওয়া হাজারো ব্রাজিলিয়ান সমর্থকের সঙ্গে কথা বলেছেন। নরওয়ের ভক্তদের বিখ্যাত ‘ভাইকিং রোয়িং’ উদযাপনও কাছ থেকে দেখেছেন। অস্টিন বলেন, বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা ফুটবল সমর্থকদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, তাদের সংস্কৃতি ও অভিজ্ঞতার গল্প শোনাই এই কাজের সবচেয়ে আনন্দের অংশ।   তার ভাষায়, “অনেক সময় আমি ভুলেই যাই যে আমি টাইমস স্কয়ারে বসে আছি এবং মানুষ আমাকে দেখছে। ম্যাচে এতটাই ডুবে থাকি যে হঠাৎ চারপাশে তাকিয়ে অবাক হয়ে যাই।” বিশ্বকাপের সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন নিয়ে দুইজনের মত কিছুটা আলাদা। কেভিনের পছন্দ স্পেন। যদিও ব্যক্তিগতভাবে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ঘানাকেও সমর্থন করছেন। অস্টিন নরওয়ের সমর্থক। তার মতে, আর্লিং হলান্ডের নেতৃত্বে দলটি শিরোপা জয়ের সামর্থ্য রাখে।   তিনি বলেন, “স্পেন বা ফ্রান্সের নাম বলা সহজ। কিন্তু আমার বিশ্বাস, ভাগ্য সহায় হলে নরওয়েও বিশ্বকাপ জিততে পারে।” এই ব্যতিক্রমী চাকরি নিয়ে দর্শকদের প্রতিক্রিয়াও ভিন্ন ভিন্ন।নরওয়ের সমর্থক ইমুন্ড লিল্যান্ড ও তার মেয়ে ক্যামিলের মতে, কোনো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ছাড়া ১০৪টি ম্যাচ টানা দেখা কিছুটা বাড়াবাড়ি। অন্যদিকে ১৮ বছর বয়সী ম্যাথিউ মেন্ডেজ মনে করেন, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে বসে বিশ্বকাপ উপভোগ করাই সবচেয়ে ভালো উপায়।   তবে ২০ বছর বয়সী মিগুয়েল সানচেজের চোখে এটি স্বপ্নের চাকরি। তার মন্তব্য, “বিশ্বকাপ দেখার জন্য টাকা পাওয়া? এটা তো মাঠে গিয়ে খেলা দেখার চেয়েও ভালো। সত্যিই অবিশ্বাস্য!”

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
গ্যালারিতে শাকিরার গালে চুমু, কে এই তরুণ?

ডালাসের স্টেডিয়ামে ফুটবল ম্যাচ চলাকালে গ্যালারিতে বসে খেলা উপভোগ করছিলেন বিশ্বখ্যাত কলম্বিয়ান পপ তারকা Shakira। তবে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি দর্শকদের দৃষ্টি কাড়ে গ্যালারির একটি মুহূর্ত, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।   সম্প্রচার ক্যামেরা যখন শাকিরার দিকে ঘুরে যায়, তখন তার পাশে বসা এক তরুণকে দেখা যায় গালে স্নেহের চুমু দিতে। কয়েক সেকেন্ডের সেই দৃশ্য দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই ওই তরুণের পরিচয় নিয়ে নানা জল্পনা শুরু করেন। কেউ কেউ ধারণা করেন, তিনি হয়তো শাকিরার নতুন কোনো ঘনিষ্ঠ সঙ্গী বা বিশেষ ব্যক্তি।   তবে পরে জানা যায়, রহস্যময় সেই তরুণ আসলে অন্য কেউ নন, শাকিরার বড় ছেলে Milan Piqué Mebarak। ফুটবল ম্যাচ দেখতে শাকিরা তার দুই ছেলে মিলান ও Sasha Piqué Mebarakকে সঙ্গে নিয়ে স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন। ক্যামেরায় ধরা পড়া মুহূর্তটি ছিল মা ও ছেলের স্বাভাবিক পারিবারিক ভালোবাসার প্রকাশ।   শাকিরার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে যারা খুব বেশি অবগত নন, তাদের অনেকেই প্রথমে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের মন্তব্য ও আলোচনা শুরু হয়। কিন্তু ছেলেদের পরিচয় স্পষ্ট হওয়ার পর দ্রুতই সেই জল্পনার অবসান ঘটে।   ম্যাচ চলাকালে শুধু এই একটি মুহূর্তই নয়, আরও কয়েকবার ক্যামেরার ফোকাসে আসেন শাকিরা। এক পর্যায়ে তাকে দুই ছেলের সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখা যায়। দর্শকদের উদ্দেশে উড়ন্ত চুম্বন ছুড়ে দিতেও দেখা গেছে জনপ্রিয় এই সংগীতশিল্পীকে। স্টেডিয়ামে তার উপস্থিতি এবং পরিবারের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো দর্শকদের মধ্যে আলাদা আগ্রহের জন্ম দেয়।   উল্লেখ্য, শাকিরা ও সাবেক স্প্যানিশ ফুটবলার Gerard Piquéর দুই ছেলে মিলান ও সাশা দীর্ঘদিন ধরেই গণমাধ্যম ও ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ও পারিবারিক আয়োজনে তাদের মায়ের সঙ্গে দেখা যায়। ফলে সাম্প্রতিক এই ভাইরাল মুহূর্তটিও শেষ পর্যন্ত একটি সাধারণ পারিবারিক দৃশ্য হিসেবেই সামনে এসেছে।   মাঠের উত্তেজনাপূর্ণ ফুটবল লড়াই শেষ হওয়ার পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল শাকিরা ও তার দুই ছেলের উপস্থিতি। বিশেষ করে মা-ছেলের স্নেহময় মুহূর্তটি ভক্তদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। অনেকেই এটিকে একজন মায়ের সঙ্গে সন্তানের স্বাভাবিক ও সুন্দর সম্পর্কের প্রতিচ্ছবি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২২, ২০২৬ ১৪:০
সূত্র: রয়টার্স
পেনাল্টি মিসের পর জোড়া গোল মেসির, অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা

শুরুটা হয়েছিল হতাশায়- পেনাল্টি মিস করে ভেঙে পড়েছিলেন লিওনেল মেসি। কিন্তু সেই হতাশা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ালেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। জোড়া গোল করে ইতিহাস গড়লেন এবং দলকে নিয়ে গেলেন শেষ ৩২-এ। অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।   ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই আক্রমণে নামে আর্জেন্টিনা। বক্সে ঢোকা মাত্র শ্লাগার ও পশের চ্যালেঞ্জের মুখে ডি-বক্সের ভেতরে পড়ে যান লাউতারো মার্টিনেজ। রেফারি প্রথমে পেনাল্টি না দিলেও ভিএআর পরীক্ষার পর অষ্টম মিনিটে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। গোল করলেই বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার সুযোগ ছিল মেসির। কিন্তু তিনি শটটি পোস্টের ডান দিক দিয়ে বাইরে মেরে দেন। গোলরক্ষক সঠিক দিক অনুমান করেছিলেন, তবে সেভ করতে হয়নি তাকে।   ২১ মিনিটে মেসি কাট-ইন করে ডি-বক্সে ঢুকলেও আলাবা পেছন থেকে বলে ছুঁয়ে দেন এবং বল শ্লাগারের গায়ে লেগে বিপদমুক্ত হয়। ৩৩ মিনিটে ফের্নান্দেসের উদ্দেশ্যে দেওয়া পাস শ্লাগার আটকে দিতে গিয়ে সরাসরি মেসির পায়ে ঠেলে দেন। মেসি সঙ্গে সঙ্গে শট নিলেও আলাবা সঠিক জায়গায় দাঁড়িয়ে নিশ্চিত গোল ব্লক করেন।   ৩৮ মিনিটে আসে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। বাম দিক থেকে আক্রমণের সূত্রপাত করে পেনাল্টি বক্সের প্রান্ত থেকে নিখুঁত শটে পোস্টের নিচের বাম কোণ দিয়ে বল জালে জড়ান মেসি। বিশ্বকাপে রেকর্ড ১৭তম গোলে মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে দলকে এগিয়ে দিলেন তিনি। এক গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।   দ্বিতীয়ার্ধে ৬৩ মিনিটে ফের্নান্দেসের জোরালো শট অস্ট্রিয়ার ডিফেন্ডার ব্লক করে দেন। ৭৪ মিনিটে মেসির চমৎকার কর্নার কিকে বল পেয়ে গঞ্জালেস দুর্দান্ত হেড করলেও বলটি পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। ৮৭ মিনিটে গঞ্জালেসের আরেকটি শটও ব্লক হয়ে যায়।   ইনজুরি টাইমের পঞ্চম মিনিটে বাম দিক থেকে আলভারেস দ্রুত গতিতে এগিয়ে গেলে বিধ্বংসী কাউন্টার-অ্যাটাকে ওঠে আর্জেন্টিনা। আলভারেসের শট শ্লাগার ঠেকিয়ে দিলেও বল চলে যায় মেসির পায়ে। গোললাইনে বেশ কয়েকজন অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডার দাঁড়িয়ে থাকলেও দমে যাননি মেসি। প্রথম প্রচেষ্টাটি সাইওয়াল্ডের গায়ে লেগে ফিরে এলেও দ্বিতীয় শটে গোললাইনে দাঁড়িয়ে থাকা দানসোকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান তিনি।   জে গ্রুপে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা। অস্ট্রিয়াকেও হারিয়ে দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে জর্ডানের বিপক্ষে শেষ গ্রুপ ম্যাচের আগেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল আলবিসেলেস্তেরা।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২২, ২০২৬ ১৪:০
মরক্কো জাতীয় দলের তারকা ফুটবলার নুসাইর মাজরাউই l ছবি: সংগৃহীত
মসজিদের ইমাম হতে মরক্কো দল থেকে অবসর নেবেন তারকা ফুটবলার, হবেন কোরানের হাফেজ!

ফুটবল মাঠে তার পরিচয় একজন সফল ডিফেন্ডার হিসেবে। তবে খেলার জগতের বাইরেও জীবনের জন্য এক ভিন্ন স্বপ্ন লালন করছেন মরক্কো জাতীয় দলের তারকা ফুটবলার নুসাইর মাজরাউই। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার পর তিনি কোরআনের হাফেজ হতে চান এবং ভবিষ্যতে মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালনের ইচ্ছা পোষণ করেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যে মাজরাউইকে বলতে শোনা যায়, জীবন খুবই সংক্ষিপ্ত। তাই ফুটবল থেকে অবসরের পর তিনি ধর্মীয় শিক্ষায় নিজেকে আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে চান। তার লক্ষ্য কোরআন সম্পূর্ণ মুখস্থ করা এবং ইসলামের জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে মানুষের সেবায় নিয়োজিত হওয়া।   ২৮ বছর বয়সী এই মরক্কান ফুটবলার দীর্ঘদিন ধরেই ধর্মীয় অনুশীলনের প্রতি আগ্রহী হিসেবে পরিচিত। মাঠের ব্যস্ত সূচির মধ্যেও তিনি নিয়মিত ধর্মীয় চর্চা ও ব্যক্তিগত বিশ্বাসকে গুরুত্ব দেন বলে বিভিন্ন সময়ে উল্লেখ করেছেন। ফলে তার সাম্প্রতিক এই মন্তব্য অনেক সমর্থকের কাছে বিস্ময়কর না হলেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   বর্তমানে ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে খেলা মাজরাউই এখনও জাতীয় দল ও ক্লাব ফুটবলে সক্রিয় রয়েছেন। তবে ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে তার ভাবনা যে শুধুমাত্র খেলাধুলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, সেটিই স্পষ্ট হয়েছে তার এই বক্তব্যে। তিনি মনে করেন, একজন ক্রীড়াবিদের পেশাগত জীবন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হলেও ধর্মীয় শিক্ষা ও সমাজসেবার সুযোগ আজীবন থাকে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এই ইচ্ছার প্রতি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেক সমর্থক। অনেকে এটিকে একজন পেশাদার ক্রীড়াবিদের ব্যক্তিগত মূল্যবোধ ও বিশ্বাসের প্রতি অঙ্গীকারের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, বিশ্বের বড় বড় ক্রীড়া তারকারা অবসরের পর যে ভিন্নধর্মী পথ বেছে নেন, মাজরাউইয়ের পরিকল্পনাও তারই একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ।   তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মাজরাউই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দেননি। তিনি কেবল ভবিষ্যতে ফুটবল ছাড়ার পর কী করতে চান, সে বিষয়ে নিজের ব্যক্তিগত লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরেছেন। ফলে আপাতত তার সমর্থকদের অপেক্ষা করতে হবে, মাঠের খেলোয়াড় মাজরাউই কবে বাস্তবে ধর্মীয় শিক্ষার সেই নতুন অধ্যায়ে পা রাখেন তা দেখার জন্য।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
সমালোচনার জবাবে যা বললেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে বিশ্বকাপে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে না পারায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন পর্তুগালের তারকা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তবে ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি দলকে ঘুরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।   পর্তুগালের প্রথম ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। ম্যাচের শুরুতে জোয়াও নেভেসের গোলে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। তবে বিরতির আগেই ইয়োয়ানে উইসার গোলে সমতায় ফেরে ডিআর কঙ্গো। দ্বিতীয়ার্ধে কোচ রবার্তো মার্টিনেজ একাধিক পরিবর্তন আনলেও রোনালদো পুরো ৯০ মিনিটই মাঠে থাকেন।   ম্যাচে রোনালদোর পারফরম্যান্স ছিল নিষ্প্রভ। তিনি মাত্র ২৫টি টাচ করতে সক্ষম হন। তিনটি শট নিলেও একটিও লক্ষ্যে ছিল না। ফলে তার শুরুর একাদশে থাকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সমর্থকদের একটি অংশ।   তবু এই ম্যাচের মাধ্যমে তিনি ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন। আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির সঙ্গে টানা ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ফুটবলার হিসেবে তিনি অনন্য কীর্তি গড়েছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৩, যা পর্তুগালের সর্বোচ্চ।   ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রোনালদো বলেন, শুরুটা প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। তবে তিনি দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, “আমরা যেভাবে শুরু করতে চেয়েছিলাম, সেভাবে হয়নি। কিন্তু এটা এখনো শেষ হয়নি। মাথা উঁচু রেখে পরের ম্যাচে মনোযোগ দিতে হবে।”   রোনালদোর এই বার্তাকে সমর্থকরা দলকে মানসিকভাবে চাঙা রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে কোচ রবার্তো মার্টিনেজ রোনালদোর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার জবাবে বলেন, এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের শীর্ষ গোলদাতাকে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া যুক্তিসংগত নয়, কারণ গোলের প্রয়োজন হলে অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ডই সবচেয়ে কার্যকর বিকল্প।   পর্তুগাল এখন গ্রুপ পর্বে পরবর্তী ম্যাচে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে। এরপর কলম্বিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে দলটি।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
প্রথমার্ধের দুই গোলে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে উঠল যুক্তরাষ্ট্র

টানা দ্বিতীয় জয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পুরুষ জাতীয় ফুটবল দল (ইউএসএমএনটি)। 'গ্রুপ ডি'-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রথমার্ধের জোড়া গোলের সুবাদে অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ ব্যবধানে পরাজিত করে পরবর্তী রাউন্ডের টিকিট কেটেছে তারা।   ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় যুক্তরাষ্ট্র। খেলার মাত্র ১১ মিনিটের মাথায় দুর্ভাগ্যজনকভাবে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার (সকারুজ) ক্যামেরন বার্গেস। এই আত্মঘাতী গোলের সুবাদে শুরুতেই লিড পেয়ে যায় আমেরিকা। এরপর প্রথমার্ধের শেষ দিকে, ৪৩ মিনিটের মাথায় অ্যালেক্স ফ্রিম্যানের দুর্দান্ত গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে দলটি।   পুরো ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজ অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন। এই নিয়ে চলতি টুর্নামেন্টে নিজের দ্বিতীয় 'ক্লিন শিট' বা জাল অক্ষত রাখার রেকর্ড গড়লেন ফ্রিজ। তার এই দৃঢ়তায় ভর করেই গ্রুপ টেবিল থেকে আরও তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্র।   নকআউট পর্বের টিকিট ইতোমধ্যে নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তুরস্কের বিপক্ষে বেশ নির্ভার হয়েই মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছে দলটি। আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সেই ম্যাচে স্কোয়াড নিয়ে বেশ কিছু বিকল্প পরখ করে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পচেত্তিনো।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ভিসা জটিলতা শেষে স্বস্তি, বিশ্বকাপে ছেলেকে দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে কেপ ভার্দের গোলরক্ষকের মা

কেপ ভার্দে জাতীয় ফুটবল দলের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার (Vozinha) মা শেষ পর্যন্ত তার ছেলের বিশ্বকাপ ম্যাচ সরাসরি মাঠে বসে দেখতে পারবেন। ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আগেই তার যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল, তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিসের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সমাধান হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।   বুধবার এক বিবৃতিতে জেফ্রিস জানান, ভোজিনিয়ার মায়ের ভিসা দ্রুত ইস্যু করা হবে এবং সব ধরনের ফি মওকুফ করা হয়েছে। ফলে তিনি আগামী রোববার মায়ামিতে উরুগুয়ের বিপক্ষে কেপ ভার্দের ম্যাচে উপস্থিত থাকতে পারবেন।   তিনি আরও বলেন, “সব ফি সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী মওকুফ করা হয়েছে। এখন মা ও ছেলের পুনর্মিলনের জন্য প্রয়োজনীয় ভ্রমণ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।” যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, প্রেয়া শহরের ভিসা টিম ভোজিনিয়ার পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে।   এর আগে ভোজিনিয়া জানান, তার মা ভিসা সংক্রান্ত খরচ ও বন্ডের কারণে আগের ম্যাচে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তিনি বলেন, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। কেপ ভার্দে এমন ৫০টি দেশের মধ্যে একটি, যাদের নাগরিকদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী ভিসা বন্ড হিসেবে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জমা দিতে হয়। অভিবাসন আইন লঙ্ঘন বা ভিসার মেয়াদ শেষে অবস্থান না ছাড়ার উচ্চ ঝুঁকির কারণে এই নিয়ম চালু রয়েছে।   তবে পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের পরিবারের সদস্যদের জন্য ভিসা বন্ড মওকুফের সুযোগ রয়েছে। এর আওতায় খেলোয়াড়, কোচ এবং প্রয়োজনীয় সাপোর্ট স্টাফদের পাশাপাশি ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রাও অন্তর্ভুক্ত থাকেন।   পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ভোজিনিয়ার মায়ের ক্ষেত্রে ভিসা আবেদন বা সক্রিয় প্রক্রিয়ার কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি এখনো পাসপোর্ট সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় রয়েছেন।   ভোজিনিয়া সম্প্রতি বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে সাতটি সেভ করেন এবং দলের ঐতিহাসিক ড্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষকের খেলোয়াড়ি জীবন মূলত পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব ঘিরে।   ম্যাচ শেষে তার পারফরম্যান্স এবং দলের সাফল্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বেড়েছে বলে জানা গেছে। আগামী রোববার মায়ামিতে উরুগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে কেপ ভার্দে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি : এআই
প্রিয় দল হারলে মন ভালো করবেন যে ৭ উপায়ে

ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, কোটি কোটি মানুষের কাছে এটি আবেগ, ভালোবাসা ও পরিচয়ের অংশ। তাই প্রিয় দল হারলে মন খারাপ হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। অনেক সমর্থক ম্যাচের পর হতাশ হয়ে পড়েন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এড়িয়ে চলেন বা দীর্ঘ সময় ধরে পরাজয়ের কষ্ট বয়ে বেড়ান। ১. কষ্ট পাওয়াটা স্বাভাবিক, সেটি মেনে নিন প্রিয় দল হারার পর মন খারাপ হওয়া কোনো দুর্বলতা নয়। নিজের অনুভূতিকে অস্বীকার না করে কিছুটা সময় দিন। আবেগকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করলে হতাশা দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সহজ হয়।   ২. মনে রাখুন, ফুটবল একটি খেলা জয়-পরাজয় খেলাধুলারই অংশ। বিশ্বের সেরা দলগুলোও নিয়মিত হার-জিতের মধ্য দিয়েই এগিয়ে যায়। একটি ম্যাচের ফলাফল আপনার ব্যক্তিগত জীবন বা সাফল্যের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়—এ কথা মনে রাখুন।   ৩. কিছু সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকুন পরাজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল, ব্যঙ্গ বা প্রতিপক্ষ সমর্থকদের মন্তব্য চোখে পড়তে পারে। এসব বিষয় মন আরও খারাপ করতে পারে। তাই কিছু সময়ের জন্য ফোন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে বিরতি নেওয়া ভালো।   ৪. বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান মন খারাপের সময় প্রিয় মানুষদের সঙ্গ অনেক স্বস্তি দেয়। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিন, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। এতে হতাশা কমে এবং মন অন্যদিকে ব্যস্ত থাকে।   ৫. ম্যাচের ইতিবাচক দিকগুলো ভাবুন হার মানেই সবকিছু খারাপ ছিল না। ম্যাচে দলের ভালো কিছু মুহূর্ত, খেলোয়াড়দের চেষ্টা বা লড়াইয়ের মানসিকতা মনে করার চেষ্টা করুন। এতে হতাশার পরিবর্তে আশাবাদ তৈরি হয়।   ৬. নিজের পছন্দের কাজে মন দিন সিনেমা দেখা, বই পড়া, গান শোনা, হাঁটতে যাওয়া বা অন্য কোনো শখের কাজে সময় কাটান। নতুন কাজে মনোযোগ দিলে পরাজয়ের কষ্ট ধীরে ধীরে কমে আসে।   ৭. সামনে নতুন ম্যাচের অপেক্ষা করুন একজন প্রকৃত সমর্থক শুধু জয়ের সময় নয়, কঠিন সময়েও দলের পাশে থাকেন। একটি হার মানেই মৌসুম শেষ নয়। সামনে নতুন ম্যাচ, নতুন চ্যালেঞ্জ ও নতুন সম্ভাবনা অপেক্ষা করছে।   ফুটবলের আসল আনন্দ কোথায়? ফুটবলের সৌন্দর্য শুধু ট্রফি জেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখা, উত্তেজনা ভাগাভাগি করা, গোলের আনন্দে উল্লাস করা কিংবা কঠিন সময়ে দলকে সমর্থন করাও এই খেলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   প্রিয় দল হয়তো আজ হেরেছে, কিন্তু সমর্থকের ভালোবাসা হারেনি। আর সেই নিঃস্বার্থ সমর্থনই ফুটবলকে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলায় পরিণত করেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের গাড়ি পার্কিংয়ে লাখ টাকা আয় করছেন স্টেডিয়ামের পাশের বাড়ির মালিকেরা

চলতি ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ফক্সবোরো এলাকার 'বস্টন স্টেডিয়াম' (জিলেট স্টেডিয়াম)-এর আশেপাশের বাসিন্দাদের ভাগ্য খুলে গেছে। স্টেডিয়ামে পার্কিংয়ের জায়গা সীমিত থাকায় ফুটবলপ্রেমী দর্শকদের গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা দিয়ে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন স্থানীয় বাড়ির মালিকেরা। তারা নিজেদের বাড়ির সামনের উঠান ও লনগুলোকে একেকটি বাণিজ্যিক পার্কিং জোনে রূপান্তর করেছেন। বুধবার (১৭ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস বস্টনের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, ফক্সবোরোর মূল স্টেডিয়ামটিতে গাড়ি পার্কিংয়ের ধারণক্ষমতা মাত্র ৫ হাজার। আর সেখানে আগে থেকে বুকিং দিয়ে পার্কিং করতে দর্শকদের গুনতে হচ্ছে চড়া মূল্য—প্রায় ১৭৫ ডলার। কিন্তু স্টেডিয়ামের ঠিক পাশেই ওয়ালপোল এলাকার উইলো স্ট্রিটের বাড়িগুলোতে মাত্র ১০০ ডলারে গাড়ি পার্কিংয়ের সুযোগ পাচ্ছেন দর্শকরা। পাশাপাশি সেখানকার খুদে উদ্যোক্তারা দর্শকদের সতেজ লেবুর শরবত দিয়ে স্বাগত জানাচ্ছে।   রাইয়ান ওয়াটসন নামের এক স্থানীয় বাড়ির মালিক বলেন, "আমরা এখানে বহু বছর ধরে বাস করছি, কিন্তু কখনো এভাবে আয়ের কথা ভাবিনি। স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ পার্কিং থেকে কোটি কোটি টাকা কামাচ্ছে, আমরাও ভাবলাম এই সুযোগে একটু আয় করে নিই।" তিনি আরও জানান, এই বাড়তি আয়ের টাকা তিনি তার সন্তানদের কলেজের পড়াশোনার খরচের জন্য জমিয়ে রাখছেন।   তবে চাইলেই যে কেউ এই ব্যবসা শুরু করতে পারছেন না। স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে প্রায় ৭০০ ডলার দিয়ে একটি বিশেষ পারমিট বা অনুমতিপত্র নিতে হচ্ছে বাড়ির মালিকদের, যার আওতায় সর্বোচ্চ ২৬টি গাড়ি পার্কিংয়ের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।   ওয়াশিংটন স্ট্রিটের বাসিন্দা এরিকা বার্ডন জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত 'ইরাক বনাম নরওয়ে'র বিশ্বকাপ ম্যাচ চলাকালীন তার বাড়ির ২৬টি স্পটের সবকটিই বুকড হয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন, "বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচেই আমরা এই সুবিধা দেব। এর থেকে ভালো লাভ হলে ভবিষ্যতে বড় কোনো কনসার্ট বা ফুটবল ম্যাচের সময়েও পার্কিংয়ের ব্যবসা করার পরিকল্পনা আছে।" এই আয়ের টাকা দিয়ে সন্তানদের কলেজের টিউশন ফি দেওয়ার পাশাপাশি একটি পারিবারিক ভ্রমণেরও স্বপ্ন দেখছেন তিনি।   অন্যদিকে জন রুহানা নামের আরেক বাসিন্দা জানান, গাড়ি পার্কিংয়ের এই বাড়তি আয় দিয়ে তিনি তার বাড়ির মোটা অঙ্কের প্রোপার্টি ট্যাক্স বা সম্পত্তি কর পরিশোধ করবেন, যা বছরে প্রায় ১০ হাজার ডলার।

তাবাস্সুম জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
সেনেগাল জাতীয় ফুটবল দলের ফরোয়ার্ড ইলিমান এনদিয়ায়ে | ছবি: সংগৃহীত
অভিবাসন ও ফিফার নতুন নিয়মে ফুটবল বিশ্বকাপ এখন এক অন্যরকম ডায়াসপোরা টুর্নামেন্ট

বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রায় এক শতাব্দীর ইতিহাসে অভিবাসন এবং ঔপনিবেশিক সম্পর্ক খেলোয়াড়দের জাতীয় পরিচয় নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে লিভারপুলে জন্ম নেওয়া জর্জ মুরহাউস ইংল্যান্ডের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন, যা ছিল বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো ইংলিশ খেলোয়াড়ের ভিন্ন দেশের হয়ে খেলার প্রথম ঘটনা। সেই আসরে মার্কিন দলে স্কটল্যান্ডে জন্ম নেওয়া আরও পাঁচজন ফুটবলার ছিলেন, যারা তৎকালীন নিয়ম অনুযায়ী অভিবাসনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেন। বর্তমান ফুটবল বিশ্বকাপেও এই চিত্র আরও ব্যাপকভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে, যেখানে বহু খেলোয়াড়ের পারিবারিক শিকড় এক দেশে হলেও জন্ম ও বেড়ে ওঠা অন্য দেশে।   এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী মোট ১,২৪৮ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে ২৯২ জনই নিজেদের প্রতিনিধিত্ব করা দেশের বাইরে জন্মগ্রহণ করেছেন। অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দলের মধ্যে মাত্র আটটি দল ছাড়া বাকি সব দলের স্কোয়াডেই অন্তত একজন বিদেশে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড় রয়েছেন। এই তালিকায় সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে কুরাসাও, যাদের স্কোয়াডের একজন ছাড়া বাকি সব খেলোয়াড়ই নেদারল্যান্ডসে জন্মগ্রহণ করেছেন। অন্যদিকে মরক্কো ও কাতারের মতো দলগুলো প্রকৃত অর্থেই বহুজাতিক রূপ ধারণ করেছে, যেখানে ব্রাজিলের বিপক্ষে মরক্কোর ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে থাকা ১১ জন খেলোয়াড়ের সবাই দেশের বাইরে জন্মেছিলেন।   বিশ্ব ফুটবলে খেলোয়াড় সরবরাহের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তরিত হয়েছে ফ্রান্স। চলতি বিশ্বকাপে মোট ৯৮ জন ফরাসি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় অংশ নিচ্ছেন, যাদের মধ্যে ৭৬ জনই ফ্রান্সের বাইরে অন্য দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এই তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে আছে আলজেরিয়া, যাদের দলে সর্বোচ্চ ১৩ জন ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া ফুটবলার রয়েছেন। এর পরেই রয়েছে হাইতি, সেনেগাল, আইভরি কোস্ট এবং কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র। সেনেগাল দলের ১০ জন খেলোয়াড় ফ্রান্সে জন্মগ্রহণ করলেও পারিবারিক শিকড়ের টানে তারা নিজেদের পূর্বপুরুষের দেশের হয়ে মাঠে নামছেন।   ফিফার জাতীয় দলে খেলার যোগ্যতা নির্ধারণের নিয়মে বেশ কিছু ঐতিহাসিক পরিবর্তন এই প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করেছে। নাগরিকত্বের পাশাপাশি দ্বৈত নাগরিকত্বধারী খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে বাবা-মা বা দাদা-দাদির জন্মসূত্র অথবা সংশ্লিষ্ট দেশে ন্যূনতম পাঁচ বছর বসবাসের শর্ত প্রযোজ্য হয়। ২০০৪ সালের আগে বয়সভিত্তিক দলে খেললে অন্য দেশে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। তবে আলজেরিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের আপত্তির মুখে ফিফা নিয়ম পরিবর্তন করে শর্তসাপেক্ষে ২১ বছর বয়সের আগে একবার জাতীয়তা পরিবর্তনের সুযোগ দেয়। পরবর্তীতে ২০০৯ এবং ২০২০ সালে এই নিয়ম আরও শিথিল করা হয়, যার ফলে দিয়েগো কস্তা বা ডেকলান রাইসের মতো তারকারা প্রীতি ম্যাচ খেলার পরও অন্য দেশের জাতীয় দলকে বেছে নিতে পেরেছেন।   খেলোয়াড়দের এই জটিল আন্তর্জাতিক স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় স্পেনে জন্ম নেওয়া মুনির আল হাদ্দাদির মামলাটি ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করে। ২০১৪ সালে স্পেনের হয়ে মাত্র ১৩ মিনিট খেলার কারণে মরক্কোর হয়ে তার খেলার আবেদন প্রথমে বাতিল হলেও ২০২০ সালের নতুন নিয়মে তিনি খেলার অনুমতি পান। নতুন নিয়মে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ২১ বছরের আগে সর্বোচ্চ তিনটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেললেও তিন বছর অপেক্ষা করে একবার জাতীয়তা পরিবর্তন করা যাবে। তবে শুধুমাত্র খেলার উদ্দেশ্যে নাগরিকত্ব কেনা যাবে না, খেলোয়াড়কে দেশের সঙ্গে প্রকৃত সম্পর্ক প্রমাণ করতে হবে।   বর্তমান সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন ফুটবল ফেডারেশন প্রবাসী বা দ্বৈত নাগরিকত্বধারী প্রতিভাদের খুঁজে বের করার জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষ স্কাউট নিয়োগ করছে। তারা ট্রান্সফার মার্কেটের মতো ডাটাবেস ব্যবহার, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, লিংকডইন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খেলোয়াড়দের পারিবারিক ইতিহাস অনুসন্ধান করছে। এমনকি জনপ্রিয় ভিডিও গেম ‘ফুটবল ম্যানেজার’-এর ডেটা ব্যবহার করে চিলির ফুটবল ফেডারেশন ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া বেন ব্রেরেটন দিয়াজের মায়ের চিলিয়ান নাগরিকত্বের তথ্য খুঁজে বের করে। জন্মভূমি ও পূর্বপুরুষের দেশের মধ্যকার এই টানাপোড়েনই আধুনিক বিশ্বকাপকে রূপ দিয়েছে এক অনন্য বহুজাতিক মঞ্চে।

তাবাস্সুম জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন কেপ ভার্দে গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। ছবি: এএফপি
অভিষেকেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে রুখে দিল কেপ ভার্দে

ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ইতিহাস গড়েছে কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে টুর্নামেন্টে স্মরণীয় সূচনা করেছে আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্রটি। ম্যাচ শেষে স্পেনের খেলোয়াড়দের মুখে হতাশা আর কেপ ভার্দের ফুটবলারদের চোখে আনন্দাশ্রু ফুটে ওঠে।   বিশ্বকাপ ইতিহাসের জনসংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ কেপ ভার্দে শক্তিশালী স্পেনের বিপক্ষে দুর্দান্ত রক্ষণাত্মক নৈপুণ্য দেখায়। দলটির এই সাফল্যের প্রধান নায়ক গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। ৪০ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যাচজুড়ে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে স্পেনের একের পর এক আক্রমণ ব্যর্থ করে দেন।   ম্যাচে বলের দখল ও আক্রমণে স্পষ্ট আধিপত্য ছিল স্পেনের। তবে প্রথমার্ধে কেপ ভার্দের রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হয় ইউরোপের দলটি। আধঘণ্টা পার হওয়ার পরও স্পেনের শট অন টার্গেট ছিল মাত্র একটি।   প্রথমার্ধের শেষদিকে স্পেন চাপ বাড়ায়। ফেরান তোরেস গোলের একটি দারুণ সুযোগ পেলেও তার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে মিকেল ওইয়ারসাবালের হেড অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ভোজিনিয়া।   বিরতির আগে তোরেস ও আয়মেরিক লাপোর্তের আরও দুটি সম্ভাবনাময় আক্রমণ ব্যর্থ করে দেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক। তার দৃঢ়তায় গোলশূন্য সমতায় প্রথমার্ধ শেষ হয়।   দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র দেখা যায়। একের পর এক আক্রমণ চালিয়েও গোলের দেখা পায়নি স্পেন। ম্যাচের ৭১তম মিনিটে মিকেল মেরিনোর পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালকে।   এই ম্যাচ দিয়েই বিশ্বকাপে অভিষেক হয় ইয়ামালের। ১৮ বছর ৩৪২ দিন বয়সে বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবার মাঠে নামেন তিনি। অন্যদিকে ৪০ বছর ২২ দিন বয়সে বিশ্বকাপ অভিষেক হয় ভোজিনিয়ার। দুজনের বয়সের পার্থক্য ২১ বছর ৪৫ দিন, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে একই ম্যাচে মুখোমুখি হওয়া দুই প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের মধ্যে সর্বোচ্চ বয়সের ব্যবধান হিসেবে রেকর্ড গড়েছে।   তবে ইয়ামালকে নামিয়েও কাঙ্ক্ষিত গোল পায়নি স্পেন। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে কোনো দলই গোল করতে না পারায় গোলশূন্য ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল।   ফলে বিশ্বকাপ অভিষেকে শক্তিশালী স্পেনকে রুখে দিয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ফল অর্জন করে কেপ ভার্দে। আর সেই ঐতিহাসিক অর্জনের কেন্দ্রে ছিলেন গোলরক্ষক ভোজিনিয়া, যার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স কেপ ভার্দেকে এনে দেয় মূল্যবান এক পয়েন্ট।

বায়জিদ হাসান জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো | ছবি: সংগৃহীত
কানাডার ম্যাচ রেখে প্রেমিকার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচ দেখায় সমালোচনায় জাস্টিন ট্রুডো

কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো নিজ দেশের প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপ ম্যাচে গ্যালারিতে উপস্থিত না থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচ দেখতে যাওয়ায় নিজ দেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। মূলত সেখানে প্রেমিকা ও জনপ্রিয় পপ তারকা কেটি পেরির লাইভ পারফরম্যান্স উপভোগ করতে এবং তাঁর প্রতি সমর্থন জানাতেই ট্রুডো যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচে হাজির হন। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর এমন আচরণে কানাডিয়ান নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।   গত রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স অ্যাকাউন্টে ট্রুডো লেখেন, কখনো কখনো সাপোর্টিভ বয়ফ্রেন্ড বা সহায়ক প্রেমিকের দায়িত্বও তো পালন করতে হয়। তবে আপনারা সবাই ভালো করেই জানেন যে, বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের জন্য আমি আসলে কোন দলকে সমর্থন করছি। নিজের লেখার শেষ অংশে তিনি কানাডার জাতীয় পতাকার একটি ইমোজিও যুক্ত করে দেন।   একই দিনে টরন্টো এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রায় একই সময়ে দুটি উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ট্রুডো টরন্টোতে অনুষ্ঠিত কানাডা বনাম বসনিয়ার ম্যাচটি বর্জন করে লস অ্যাঞ্জেলেসে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ের ম্যাচটি উপভোগ করেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের সেই ভেন্যুতে কেটি পেরি মঞ্চে পারফর্ম করার পর দৌড়ে এসে ট্রুডোকে চুমু খেয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।   পরবর্তীতে স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে দুজনকে একসাথে বিয়ার খেতে, আলিঙ্গন করতে এবং প্রেমে মগ্ন অবস্থায় দেখা যায়। তাদের এই অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে কানাডিয়ানদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। দেশের ফুটবলপ্রেমী অনেক নাগরিক ট্রুডোর এই সিদ্ধান্তকে দেশের মুখে চড় মারার শামিল বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং অনেকে তাঁকে 'প্রতারক' বলে আখ্যা দিয়েছেন।   টরন্টোর সেই উদ্বোধনী ম্যাচে কানাডা ফুটবল দল বসনিয়া-হার্জেগোভিনার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়ে। অন্যদিকে লস অ্যাঞ্জেলেসের ম্যাচে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র দল প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুভসূচনা করে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেটি পেরি তাঁর ২০২৪ সালের অ্যালবাম থেকে তুলনামূলক কম পরিচিত 'ওয়ান্ডার' গানটি পরিবেশন করেন।   সাবেক প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো ও কেটি পেরির প্রেমের সম্পর্কটি গত বছরের জুলাই মাস থেকে ব্যাপক আলোচনায় আসে। পরবর্তীতে ডিসেম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার মাধ্যমে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন। উল্লেখ্য, ট্রুডোর আগের স্ত্রী সোফি গ্রেগোয়ারের সঙ্গে দীর্ঘ ১৮ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটে ২০২৩ সালে, যেখানে তাঁদের তিন সন্তান রয়েছে।

তাবাস্সুম জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০
আশরাফ হাকিমি ও নোরা ফাতেহি | ছবি: সংগৃহীত
ফুটবল তারকা আশরাফ হাকিমির প্রেমে মজেছেন নোরা ফাতেহি, নেটপাড়ায় জোর গুঞ্জন

বলিউডের জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী নোরা ফাতেহি ও মরক্কো জাতীয় ফুটবল দলের তারকা ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমির মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক নতুন জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। নোরা ফাতেহি এখন শুধু বলিউডের জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী নন, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজের অবস্থান বেশ শক্ত করেছেন। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে মুক্তি পাওয়া ‘সির সির’ গানে তার নজরকাড়া উপস্থিতি বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে ক্যারিয়ারের এই বড় সাফল্যের পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও এখন বিনোদন জগতে চলছে জোর গুঞ্জন। বিশেষ করে বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন উঠেছে-নোরা কি সত্যিই মরক্কোর ফুটবল তারকা আশরাফ হাকিমির সঙ্গে নতুন করে কোনো প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন?   এই আলোচিত প্রেমের গুঞ্জনের মূল সূত্রপাত হয়েছিল গত ২০২৫ সালে। সে সময় নোরা ফাতেহি মরক্কোতে অনুষ্ঠিত আফ্রিকান কাপ অব নেশনস টুর্নামেন্টের একটি হাইভোল্টেজ ম্যাচে গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন বিনোদনমাধ্যমে খবর ছড়ায় যে, তিনি নাকি কোনো এক ‘রহস্যময় ফুটবলারের’ খেলা দেখার জন্যই মাঠে ছুটে গিয়েছিলেন। ওয়ানডে বা টেস্টের মতো ফুটবলেও তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সমর্থকদের এমন তুমুল আগ্রহ সবসময়ই দেখা যায়।   তখন প্রাথমিকভাবে ওই ফুটবলারের সুনির্দিষ্ট পরিচয় প্রকাশ করা না হলেও পরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সেই ব্যক্তি আর কেউ নন, প্যারিস সেন্ট-জার্মেই (পিএসজি) ও মরক্কো জাতীয় দলের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমি। পরবর্তীতে এই গুঞ্জনে নতুন মাত্রা যোগ করে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আকস্মিক ঘটনা। ভক্তরা হঠাৎ লক্ষ করেন, হাকিমি নোরার একটি ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম পোস্টে সরাসরি ‘লাইক’ দিয়েছেন। এর পর থেকেই নেটপাড়ায় তাদের সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা-কল্পনা আরও বহুগুণ বেড়ে যায়।   তবে সত্যিই কি তারা প্রেম করছেন—এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে দেখা যায়, এখন পর্যন্ত নোরা ফাতেহি কিংবা আশরাফ হাকিমি-দুজনের কেউই এই সম্পর্কের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। এমনকি তাদের একসাথে কোনো ছবি, যৌথ উপস্থিতি বা আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্যও এখন পর্যন্ত সামনে আসেনি, যা তাদের এই প্রেমের সম্পর্ককে নিশ্চিত করতে পারে। ফলে বর্তমানে পুরো বিষয়টি শুধুই গুঞ্জন ও প্রাথমিক জল্পনার পর্যায়ে রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।   বিনোদনজগতে এই ধরনের গুঞ্জন অবশ্য একদম নতুন কিছু নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সাধারণ ‘লাইক’ বা কোনো অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকাকে কেন্দ্র করে প্রায়ই তারকাদের সম্পর্কের মুখরোচক খবর ছড়িয়ে পড়ে। তাই নির্ভরযোগ্য ও চাক্ষুষ প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের দাবি নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। এর আগে নোরা অতীতে নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা গুজবের মুখোমুখি হয়েছেন। বিশেষ করে টি সিরিজের কর্ণধার ভূষণ কুমারের সঙ্গে তার নাম জড়ালে তিনি পরোক্ষভাবে তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন। এক টিকটক ভিডিওতে সেই গুঞ্জন নিয়ে আলোচনা হলে নোরা ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে মন্তব্য করেছিলেন, ‘ওয়াও’। তার সেই পুরোনো প্রতিক্রিয়া থেকে অনেকের ধারণা, ভিত্তিহীন ব্যক্তিগত গুজব তিনি মোটেও গুরুত্ব দিতে চান না।   অন্য দিকে মরক্কোর তারকা ফুটবলার আশরাফ হাকিমি বিগত ২০২০ সালে অভিনেত্রী হিবা আবুককে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করেছিলেন। তাদের সংসারে দুটি সন্তানও রয়েছে। তবে ২০২৩ সালে এক জটিল পরিস্থিতিতে তাদের বৈবাহিক বিচ্ছেদ ঘটে। বিচ্ছেদের সময় সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়েছিল। পরে অবশ্য দুজনই সন্তানদের যৌথভাবে লালন-পালনের আইনি সিদ্ধান্ত নেন। বিচ্ছেদের পর হাকিমির সঙ্গে ডাচ-মরোক্কান সুপারমডেল ইমান হাম্মামের সম্পর্কের গুঞ্জনও শোনা গিয়েছিল। তারা একসঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা দিলেও কেউই সেই সম্পর্কের সত্যতা স্বীকার করেননি। তবে সব মিলিয়ে নোরা ও হাকিমিকে নিয়ে ভক্তদের কৌতূহল যে শিগগিরই কমছে না, সেটি বলাই বাহুল্য।

তাবাস্সুম জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০
মরক্কো ফুটবল দল | ছবি: সংগৃহীত
ব্রাজিলের সাথে খেলার আগেই মরক্কো দলে বড় ধাক্কা, চোটের কারণে ২ খেলোয়াড় বাদ

বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী ব্রাজিলের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে মরক্কো ফুটবল দল। ওয়ানডে বা টেস্টের মতো ফুটবলেও ইনজুরি বা চোট দল গঠনে বড় প্রভাব ফেলে। আর সেই ইনজুরির কারণেই এবার মরক্কোর মূল দল থেকে ছিটকে গেছেন দুই গুরুত্বপূর্ণ তারকা খেলোয়াড়। যার ফলে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই দলে দুটি বড় পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামতে হচ্ছে মরক্কোকে।   জানা গেছে, সম্প্রতি নরওয়ের বিরুদ্ধে খেলা একটি প্রীতি ম্যাচে হাঁটুর মারাত্মক ইনজুরিতে পড়েন রিয়াল বেটিসের তারকা ফরোয়ার্ড আবদে এজালজুলি। তিনি চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ার পর তার পরিবর্তে জরুরি ভিত্তিতে মরক্কো দলে ডাক পেয়েছেন এ্যাঙ্গার্সের তরুণ ফুটবলার আমিনে সাবাই।   অন্যদিকে, উরুর অস্ত্রোপচারের কারণে গত মার্চ মাসের পর থেকে আর কোনো ধরনের প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ বা মাঠে নামতে পারেননি মার্সেইর অভিজ্ঞ সেন্টার-ব্যাক নায়েফ অগার্ড। দলের এই নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডারকে নিয়ে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে কোনো ধরনের বাড়তি ঝুঁকি নিতে চায়নি মরক্কোর টিম ম্যানেজমেন্ট। যে কারণে মূল টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগেই অগার্ডের পরিবর্তে দলে ডেকে নেওয়া হয়েছে মারওয়ানে সাদানেকে।   দলের এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন বা খেলোয়াড়দের চোটের বিষয়ে অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি মরক্কোর টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে দলের অভিজ্ঞ অধিনায়ক ও পিএসজি তারকা আশরাফ হাকিমি ইনজুরি আক্রান্ত দুই সতীর্থের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন।   পিএসজি তারকা হাকিমি তার ব্যক্তিগত পোস্টে লিখেছেন, ফুটবল খেলাটা অনেক সময় সত্যিই ভীষণ নিষ্ঠুর হতে পারে। প্রথম দিন থেকে তোমরা এই দলটিকে যা দিয়েছো, তার জন্য তোমাদের দুজনকে অনেক ধন্যবাদ। মাঠে আমরা সবাই তোমাদের জন্য লড়াই করব এবং জয় ছিনিয়ে আনার চেষ্টা করব। আমরা তোমাদের দুজনকে অনেক ভালোবাসি।   উল্লেখ্য, আগামী রোববার (১৪ জুন) ভোররাত চারটায় গ্রুপ-সি’র প্রথম হাইভোল্টেজ ম্যাচে নিউ জার্সিতে মুখোমুখি হবে মরক্কো ও ব্রাজিল। ২৪ বছরের ট্রফি খরা কাটিয়ে হেক্সা তথা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের মিশনে নামা পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিরুদ্ধে মরক্কো এই নতুন দল নিয়ে কেমন প্রতিরোধ গড়ে তোলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

তাবাস্সুম জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
বিশ্বকাপ ২০২৬: টিভি ও স্মার্টফোনে যেভাবে সরাসরি দেখবেন সব ম্যাচ

ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উন্মাদনার শেষ নেই, তবে বাংলাদেশের সমর্থকদের মাঝে এই আসরকে ঘিরে অন্যরকম এক আবেগ কাজ করে। কিছুদিন আগেও যেখানে দেশের দর্শকদের মনে শঙ্কা জেগেছিল যে প্রিয় দলের খেলাগুলো হয়তো সরাসরি দেখার সুযোগ মিলবে না, সেই শঙ্কার মেঘ এখন পুরোপুরি কেটে গেছে। এবারের ফুটবল বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ দেশের ক্রীড়াপ্রেমীরা ঘরে বসেই অত্যন্ত সহজে উপভোগ করতে পারবেন। বরাবরের মতো এবারও টেলিভিশনের পর্দার পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে খেলা দেখার দারুণ সুযোগ থাকছে।   দেশের মূল ধারার টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর মধ্যে রাষ্ট্রীয় স্যাটেলাইট চ্যানেল বিটিভি (BTV)-এর পাশাপাশি বেসরকারি ক্রীড়াভিত্তিক চ্যানেল টি-স্পোর্টস এবং সময় টেলিভিশন প্রতিটি ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করছে। ফলে টিভির সামনে বসে যারা খেলা দেখতে অভ্যস্ত, তারা খুব সহজেই চোখ রাখতে পারেন এই চ্যানেলগুলোতে। কেবল টেলিভিশন স্ক্রিনেই নয়, ব্যস্ততার কারণে যারা টিভির সামনে বসার সময় পাবেন না, তাদের জন্য রয়েছে অনলাইন ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে লাইভ স্ট্রিমিং দেখার চমৎকার ব্যবস্থা।   ডিজিটাল বা স্মার্ট ডিভাইসে খেলা দেখতে আগ্রহীদের জন্য মোবাইল অপারেটরদের নিজস্ব কিছু অ্যাপে সাবস্ক্রিপশন ফি দিয়ে ম্যাচগুলো সরাসরি উপভোগ করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রবি ব্যবহারকারীরা 'মাই রবি' (My Robi) অ্যাপে, বাংলালিংক ব্যবহারকারীরা 'টফি' (Toffee) অ্যাপে এবং গ্রামীণফোন গ্রাহকেরা 'বায়োস্কোপ' (Bioscope) অ্যাপের মাধ্যমে যেকোনো স্থান থেকে খেলা দেখতে পারবেন। এছাড়া লিওনেল মেসি কিংবা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোদের মতো বিশ্বসেরা তারকাদের এই মহাদৈত্যাকার দ্বৈরথ উপভোগ করার জন্য 'স্পোর্টসজিফাই' (Sportszify) এবং 'স্পোর্টজেডএক্স' (Sportzfy) এর মতো থার্ড-পার্টি স্পোর্টস অ্যাপগুলোও দারুণ বিকল্প হিসেবে কাজ করছে। ফলে কর্মক্ষেত্রে কিংবা ভ্রমণের সময়ও এখন হাতের মুঠোয় মিলবে বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ।

বায়জিদ হাসান জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী মঞ্চে শাকিরা-লিসাসহ বিশ্বতারকাদের ঝলক

উত্তর আমেরিকায় ফুটবলে প্রথম লাথি পড়ার আগেই সারা বিশ্বের কোটি কোটি ভক্তের চোখ নিবদ্ধ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিকে। গতকাল বৃহস্পতিবার, ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা উঠেছে ফুটবলের এই বিশ্ব আসরের। যারা একইসাথে ফুটবল এবং পপ কালচার ভালোবাসেন, তাদের কাছে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটির মতোই কাঙ্ক্ষিত এই আয়োজনের পারফরম্যান্সগুলো। এবারের বিশ্বকাপ বেশ কয়েকটি কারণে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে। ফিফার ইতিহাসে এবারই প্রথম তিনটি আয়োজক দেশ—মেক্সিকো, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রে আলাদাভাবে উদ্বোধনী উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এই তিন দেশে ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি ও সংগীতের মেলবন্ধন ঘটাতে একমঞ্চে জড়ো হচ্ছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের খ্যাতনামা সব তারকারা।   উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হিসেবে নিঃসন্দেহে সবার নজর থাকছে পপ সম্রাজ্ঞী শাকিরার দিকে। ফিফা বিশ্বকাপে তার এই প্রত্যাবর্তন বিশ্বজুড়ে অগণিত ভক্তের মনে নস্টালজিয়া তৈরি করেছে। মেক্সিকো সিটির অনুষ্ঠানে নাইজেরিয়ান আফ্রোবিটস তারকা বার্না বয়কে সঙ্গে নিয়ে বিশ্বকাপের অফিশিয়াল থিম সং "দাই দাই" পরিবেশন করবেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, শাকিরার এই পারফরম্যান্স এবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অন্যতম সেরা ও আইকনিক একটি মুহূর্ত হতে যাচ্ছে।   অন্যদিকে, বাংলাদেশি কে-পপ ভক্তদের জন্য দারুণ এক চমক নিয়ে আসছেন বিখ্যাত গ্রুপ ব্ল্যাকপিংক-এর তারকা লিসা। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিতব্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে যাচ্ছেন তিনি, যা ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে তার ভক্তদের মাঝে বিপুল উন্মাদনার সৃষ্টি করেছে। লিসার পাশাপাশি একই মঞ্চে পারফর্ম করার কথা রয়েছে জনপ্রিয় মার্কিন পপ তারকা কেটি পেরিরও।   কানাডার টরন্টোতে অনুষ্ঠিতব্য উদ্বোধনী আয়োজনটিও বাংলাদেশিদের জন্য বাড়তি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। জানা গেছে, কানাডার লাইনআপে জনপ্রিয় তারকা নোরা ফাতেহির পাশাপাশি পারফর্ম করবেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রডিউসার ও ডিজে সঞ্জয়। এমন একটি বিশাল বৈশ্বিক মঞ্চে দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত কাউকে পারফর্ম করতে দেখাটা নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। এবারের উদ্বোধনী উৎসবকে সবচেয়ে বেশি স্পেশাল করে তুলেছে এর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য। কেউ ল্যাটিন পপ, আফ্রোবিটস, ওয়েস্টার্ন পপ কিংবা কে-পপ—যে ঘরানার গান শুনেই বড় হোক না কেন, এই তারকাবহুল লাইনআপে সবার জন্যই পরিচিত কোনো না কোনো সুর থাকছে। বিশ্বকাপের এই রোমাঞ্চ প্রমাণ করে যে, এই টুর্নামেন্ট মানে কেবল গোল আর ম্যাচের হিসাব-নিকাশ নয়; বরং এটি সীমানা পেরিয়ে আইকনিক পারফরম্যান্স ও বিশ্ববাসীর একতাবদ্ধ হওয়ার এক অভাবনীয় উদযাপন।

বায়জিদ হাসান জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০
ফাইল ছবি
একনজরে দেখে নিন ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সময়সূচি

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। ১১ জুন থেকে পর্দা উঠতে যাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও মর্যাদাপূর্ণ ফুটবল আসর ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই আয়োজন যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হবে উত্তর আমেরিকার তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে। প্রায় ৪০ দিনের এই প্রতিযোগিতা শেষে ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে শিরোপা নির্ধারণী ফাইনাল।   প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকো সিটির ঐতিহ্যবাহী এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে। স্বাগতিক মেক্সিকো উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার। অন্যদিকে, ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে, যা টুর্নামেন্ট চলাকালে নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়াম নামে পরিচিত থাকবে।   টুর্নামেন্টের ধাপভিত্তিক সময়সূচি অনুযায়ী গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে ফাইনাল পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্বগুলো নিম্নরূপ: গ্রুপ পর্ব: ১১ জুন থেকে ২৭ জুন রাউন্ড অব ৩২: ২৮ জুন থেকে ৩ জুলাই রাউন্ড অব ১৬: ৪ জুলাই থেকে ৭ জুলাই কোয়ার্টার ফাইনাল: ৯ জুলাই থেকে ১১ জুলাই সেমিফাইনাল: ১৪ জুলাই ও ১৫ জুলাই ফাইনাল: ১৯ জুলাই ২০২৬   বিশ্বকাপ গ্রুপ পর্বের সময়সূচি (বাংলাদেশ সময়) একনজরে গ্রুপ পর্বের সকল ম্যাচের তারিখ, ভেন্যু এবং সময় তারিখ গ্রুপ ম্যাচ ভেন্যু সময় জুন ১১ গ্রুপ ‘এ’ মেক্সিকো–দক্ষিণ আফ্রিকা মেক্সিকো সিটি রাত ১টা জুন ১২ গ্রুপ ‘এ’ দক্ষিণ কোরিয়া–চেক প্রজাতন্ত্র গুয়াদালহারা সকাল ৮টা জুন ১২ গ্রুপ ‘বি’ কানাডা–বসনিয়া টরন্টো রাত ১টা জুন ১৩ গ্রুপ ‘ডি’ যুক্তরাষ্ট্র–প্যারাগুয়ে লস অ্যাঞ্জেলেস সকাল ৭টা জুন ১৩ গ্রুপ ‘বি’ কাতার–সুইজারল্যান্ড সান ফ্রান্সিসকো রাত ১টা জুন ১৪ গ্রুপ ‘সি’ ব্রাজিল–মরক্কো নিউইয়র্ক–নিউজার্সি ভোর ৪টা জুন ১৪ গ্রুপ ‘সি’ হাইতি–স্কটল্যান্ড বোস্টন সকাল ৭টা জুন ১৪ গ্রুপ ‘ডি’ অস্ট্রেলিয়া–তুরস্ক ভ্যাঙ্কুভার সকাল ১০টা জুন ১৪ গ্রুপ ‘ই’ জার্মানি–কুরাসাও হিউস্টন রাত ১১টা জুন ১৪ গ্রুপ ‘এফ’ নেদারল্যান্ডস–জাপান ডালাস রাত ২টা জুন ১৫ গ্রুপ ‘ই’ আইভরিকোস্ট–ইকুয়েডর ফিলাডেলফিয়া ভোর ৫টা জুন ১৫ গ্রুপ ‘এফ’ সুইডেন–তিউনিসিয়া মন্তেরেই সকাল ৮টা জুন ১৫ গ্রুপ ‘এইচ’ স্পেন–কেপ ভার্দে আটলান্টা রাত ১০টা জুন ১৫ গ্রুপ ‘জি’ বেলজিয়াম–মিসর সিয়াটল রাত ১টা জুন ১৬ গ্রুপ ‘এইচ’ সৌদি আরব–উরুগুয়ে মায়ামি ভোর ৪টা জুন ১৬ গ্রুপ ‘জি’ ইরান–নিউজিল্যান্ড লস অ্যাঞ্জেলেস সকাল ৭টা জুন ১৬ গ্রুপ ‘আই’ ফ্রান্স–সেনেগাল নিউইয়র্ক–নিউজার্সি রাত ১টা জুন ১৭ গ্রুপ ‘আই’ ইরাক–নরওয়ে বোস্টন ভোর ৪টা জুন ১৭ গ্রুপ ‘জে’ আর্জেন্টিনা–আলজেরিয়া কানসাস সিটি সকাল ৭টা জুন ১৭ গ্রুপ ‘জে’ অস্ট্রিয়া–জর্ডান সান ফ্রান্সিসকো সকাল ১০টা জুন ১৭ গ্রুপ ‘কে’ পর্তুগাল–কঙ্গো হিউস্টন রাত ১১টা জুন ১৭ গ্রুপ ‘এল’ ইংল্যান্ড–ক্রোয়েশিয়া ডালাস রাত ২টা জুন ১৮ গ্রুপ ‘এল’ ঘানা–পানামা টরন্টো ভোর ৫টা জুন ১৮ গ্রুপ ‘কে’ উজবেকিস্তান–কলম্বিয়া মেক্সিকো সিটি সকাল ৮টা জুন ১৮ গ্রুপ ‘এ’ চেকপ্রজাতন্ত্র–দক্ষিণ আফ্রিকা আটলান্টা রাত ১০টা জুন ১৮ গ্রুপ ‘বি’ সুইজারল্যান্ড–বসনিয়া লস অ্যাঞ্জেলেস রাত ১টা জুন ১৯ গ্রুপ ‘বি’ কানাডা–কাতার ভ্যাঙ্কুভার ভোর ৪টা জুন ১৯ গ্রুপ ‘এ’ মেক্সিকো–দক্ষিণ কোরিয়া গুয়াদালহারা সকাল ৭টা জুন ১৯ গ্রুপ ‘ডি’ যুক্তরাষ্ট্র–অস্ট্রেলিয়া সিয়াটল রাত ১টা জুন ২০ গ্রুপ ‘সি’ স্কটল্যান্ড–মরক্কো বোস্টন ভোর ৪টা জুন ২০ গ্রুপ ‘সি’ ব্রাজিল–হাইতি ফিলাডেলফিয়া সকাল ৭টা জুন ২০ গ্রুপ ‘ডি’ তুরস্ক–প্যারাগুয়ে সান ফ্রান্সিসকো সকাল ১০টা জুন ২০ গ্রুপ ‘এফ’ নেদারল্যান্ডস–সুইডেন হিউস্টন রাত ১১টা জুন ২০ গ্রুপ ‘ই’ জার্মানি–আইভরিকোস্ট টরন্টো রাত ২টা জুন ২১ গ্রুপ ‘ই’ ইকুয়েডর–কুরাসাও কানসাস সিটি ভোর ৬টা জুন ২১ গ্রুপ ‘এফ’ তিউনিসিয়া–জাপান মন্তেরেই সকাল ১০টা জুন ২১ গ্রুপ ‘এইচ’ স্পেন–সৌদি আরব আটলান্টা রাত ১০টা জুন ২১ গ্রুপ ‘জি’ বেলজিয়াম–ইরান লস অ্যাঞ্জেলেস রাত ১টা জুন ২২ গ্রুপ ‘এইচ’ উরুগুয়ে–কেপ ভার্দে মায়ামি ভোর ৪টা জুন ২২ গ্রুপ ‘জি’ নিউজিল্যান্ড–মিসর ভ্যাঙ্কুভার সকাল ৭টা জুন ২২ গ্রুপ ‘জে’ আর্জেন্টিনা–অস্ট্রিয়া ডালাস রাত ১১টা জুন ২২ গ্রুপ ‘আই’ ফ্রান্স–ইরাক ফিলাডেলফিয়া রাত ৩টা জুন ২৩ গ্রুপ ‘আই’ নরওয়ে–সেনেগাল নিউইয়র্ক–নিউজার্সি সকাল ৬টা জুন ২৩ গ্রুপ ‘জে’ জর্ডান–আলজেরিয়া সান ফ্রান্সিসকো সকাল ৯টা জুন ২৩ গ্রুপ ‘কে’ পর্তুগাল–উজবেকিস্তান হিউস্টন রাত ১১টা জুন ২৩ গ্রুপ ‘এল’ ইংল্যান্ড–ঘানা বোস্টন রাত ২টা জুন ২৪ গ্রুপ ‘এল’ পানামা–ক্রোয়েশিয়া টরন্টো ভোর ৫টা জুন ২৪ গ্রুপ ‘কে’ কলম্বিয়া–কঙ্গো গুয়াদালাহারা সকাল ৮টা জুন ২৪ গ্রুপ ‘বি’ কানাডা–সুইজারল্যান্ড ভ্যাঙ্কুভার রাত ১টা জুন ২৪ গ্রুপ ‘বি’ বসনিয়া–কাতার সিয়াটল রাত ১টা জুন ২৫ গ্রুপ ‘সি’ স্কটল্যান্ড–ব্রাজিল মায়ামি ভোর ৪টা জুন ২৫ গ্রুপ ‘সি’ মরক্কো–হাইতি আটলান্টা ভোর ৪টা জুন ২৫ গ্রুপ ‘এ’ মেক্সিকো–চেক প্রজাতন্ত্র মেক্সিকো সিটি সকাল ৭টা জুন ২৫ গ্রুপ ‘এ’ দক্ষিণ কোরিয়া–দক্ষিণ আফ্রিকা মন্তেরেই সকাল ৭টা জুন ২৫ গ্রুপ ‘ই’ ইকুয়েডর–জার্মানি নিউইয়র্ক–নিউজার্সি রাত ২টা জুন ২৫ গ্রুপ ‘ই’ কুরাসাও–আইভরিকোস্ট ফিলাডেলফিয়া রাত ২টা জুন ২৬ গ্রুপ ‘এফ’ জাপান–সুইডেন ডালাস ভোর ৫টা জুন ২৬ গ্রুপ ‘এফ’ তিউনিসিয়া–নেদারল্যান্ডস কানসাস সিটি ভোর ৫টা জুন ২৬ গ্রুপ ‘ডি’ যুক্তরাষ্ট্র–তুরস্ক লস অ্যাঞ্জেলেস সকাল ৮টা জুন ২৬ গ্রুপ ‘ডি’ প্যারাগুয়ে–অস্ট্রেলিয়া সান ফ্রান্সিসকো সকাল ৮টা জুন ২৬ গ্রুপ ‘আই’ নরওয়ে–ফ্রান্স বোস্টন রাত ১টা জুন ২৬ গ্রুপ ‘আই’ সেনেগাল–ইরাক টরন্টো রাত ১টা জুন ২৭ গ্রুপ ‘এইচ’ উরুগুয়ে–স্পেন গুয়াদালাহারা সকাল ৬টা জুন ২৭ গ্রুপ ‘এইচ’ কেপ ভার্দে–সৌদি আরব হিউস্টন সকাল ৬টা জুন ২৭ গ্রুপ ‘জি’ নিউজিল্যান্ড–বেলজিয়াম ভ্যাঙ্কুভার সকাল ৯টা জুন ২৭ গ্রুপ ‘জি’ মিসর–ইরান সিয়াটল সকাল ৯টা জুন ২৭ গ্রুপ ‘এল’ পানামা–ইংল্যান্ড নিউইয়র্ক–নিউজার্সি রাত ৩টা জুন ২৭ গ্রুপ ‘এল’ ক্রোয়েশিয়া–ঘানা ফিলাডেলফিয়া রাত ৩টা জুন ২৮ গ্রুপ ‘কে’ কলম্বিয়া–পর্তুগাল মায়ামি ভোর ৫:৩০ মি. জুন ২৮ গ্রুপ ‘কে’ গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো–উজবেকিস্তান আটলান্টা ভোর ৫:৩০ মি. জুন ২৮ গ্রুপ ‘জে’ জর্ডান–আর্জেন্টিনা ডালাস সকাল ৮টা জুন ২৮ গ্রুপ ‘জে’ আলজেরিয়া–অস্ট্রিয়া কানসাস সিটি সকাল ৮টা   বিশ্বকাপ নকআউট পর্বের সময়সূচি (বাংলাদেশ সময়) একনজরে শেষ ৩২, শেষ ১৬, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল ম্যাচ তারিখ ম্যাচ নং পর্ব / মুখোমুখি দল ভেন্যু সময় ■ দ্বিতীয় রাউন্ড (শেষ ৩২) ২৮ জুন ম্যাচ ৭৩ এ২ – বি২ লস অ্যাঞ্জেলেস রাত ১টা ২৯ জুন ম্যাচ ৭৬ সি১ – এফ২ হিউস্টন রাত ১১টা ২৯ জুন ম্যাচ ৭৪ ই১ – এ/বি/সি/ডি/এফ-৩ বোস্টন রাত ২:৩০ মি. ৩০ জুন ম্যাচ ৭৫ এফ১ – সি২ মন্তেরেই সকাল ৭টা ৩০ জুন ম্যাচ ৭৮ ই২ – আই২ ডালাস রাত ১১টা ৩০ জুন ম্যাচ ৭৭ আই১ – সি/ডি/এফ/জি/এইচ-৩ নিউইয়র্ক–নিউজার্সি রাত ৩টা ১ জুলাই ম্যাচ ৭৯ এ১ – সি/ই/এফ/এইচ/আই-৩ মেক্সিকো সিটি সকাল ৭টা ১ জুলাই ম্যাচ ৮০ এল১ – ই/এইচ/আই/জে/কে-৩ আটলান্টা রাত ১০টা ১ জুলাই ম্যাচ ৮২ জি১ – এ/ই/এইচ/আই/জে-৩ সিয়াটল রাত ২টা ২ জুলাই ম্যাচ ৮১ ডি১ – বি/ই/এফ/আই/জে-৩ সান ফ্রান্সিসকো সকাল ৬টা ২ জুলাই ম্যাচ ৮৪ এইচ১ – জে২ লস অ্যাঞ্জেলেস রাত ১টা ৩ জুলাই ম্যাচ ৮৩ কে২ – এল২ টরন্টো ভোর ৫টা ৩ জুলাই ম্যাচ ৮৫ বি১ – ই/এফ/জি/আই/জে-৩ ভ্যাঙ্কুভার সকাল ৯টা ৩ জুলাই ম্যাচ ৮৮ ডি২ – জি২ ডালাস রাত ১২টা ৪ জুলাই ম্যাচ ৮৬ জে১ – এইচ২ ডালাস ভোর ৪টা ৪ জুলাই ম্যাচ ৮৭ কে১ – ডি/ই/আই/জে/এল-৩ কানসাস সকাল ৭:৩০ মি. ■ তৃতীয় রাউন্ড (শেষ ১৬) ৪ জুলাই ম্যাচ ৯০ জয়ী ম্যাচ ৭৩ – জয়ী ম্যাচ ৭৫ হিউস্টন রাত ১১টা ৪ জুলাই ম্যাচ ৮৯ জয়ী ম্যাচ ৭৪ – জয়ী ম্যাচ ৭৭ ফিলাডেলফিয়া রাত ৩টা ৫ জুলাই ম্যাচ ৯১ জয়ী ম্যাচ ৭৬ – জয়ী ম্যাচ ৭৮ নিউইয়র্ক/নিউজার্সি রাত ২টা ৬ জুলাই ম্যাচ ৯২ জয়ী ম্যাচ ৭৯ – জয়ী ম্যাচ ৮০ মেক্সিকো সিটি সকাল hexagon ৬টা ৬ জুলাই ম্যাচ ৯৩ জয়ী ম্যাচ ৮৩ – জয়ী ম্যাচ ৮৪ ডালাস রাত ১টা ৭ জুলাই ম্যাচ ৯৪ জয়ী ম্যাচ ৮১ – জয়ী ম্যাচ ৮২ সিয়াটল সকাল ৬টা ৭ জুলাই ম্যাচ ৯৫ জয়ী ম্যাচ ৮৬ – জয়ী ম্যাচ ৮৮ আটলান্টা রাত ১০টা ৭ জুলাই ম্যাচ ৯৬ জয়ী ম্যাচ ৮৫ – জয়ী ম্যাচ ৮৭ ভ্যাঙ্কুভার রাত ২টা ■ কোয়ার্টার ফাইনাল ৯ জুলাই ম্যাচ ৯৭ জয়ী ম্যাচ ৮৯ – জয়ী ম্যাচ ৯০ বোস্টন রাত ২টা ১০ জুলাই ম্যাচ ৯৮ জয়ী ম্যাচ ৯৩ – জয়ী ম্যাচ ৯৪ লস অ্যাঞ্জেলেস রাত ১১টা ১১ জুলাই ম্যাচ ৯৯ জয়ী ম্যাচ ৯১ – জয়ী ম্যাচ ৯২ মায়ামি রাত ৩টা ১২ জুলাই ম্যাচ ১০০ জয়ী ম্যাচ ৯৫ – জয়ী ম্যাচ ৯৬ কানসাস সকাল ৭টা ■ সেমিফাইনাল ১৪ জুলাই ম্যাচ ১০১ জয়ী ম্যাচ ৯৭ – জয়ী ম্যাচ ৯৮ ডালাস রাত ১টা ১৫ জুলাই ম্যাচ ১০২ জয়ী ম্যাচ আটলান্টা রাত ১টা ■ ফাইনাল এবং ৩য় স্থান ১৮ জুলাই ম্যাচ ১০৩ তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ মায়ামি রাত ৩টা ১৯ জুলাই ম্যাচ ১০৪ গ্র্যান্ড ফাইনাল (Final) নিউইয়র্ক–নিউজার্সি রাত ১টা   এবারের বিশ্বকাপে মোট ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে, যাদের ১২টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রুপে রয়েছে ৪টি করে দল। প্রায় ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এই আসরে। বিশ্বকাপে নতুন চারটি দেশের অভিষেক ঘটছে বলেও জানানো হয়েছে। এগুলো হলো কেপ ভার্দে, কুরাসাও, জর্ডান এবং উজবেকিস্তান। ফুটবল বিশ্বে এই দলগুলো কেমন পারফরম্যান্স করে, তা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে সমর্থকদের মধ্যে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
আমেরিকা

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

নীলুফা নিশাত জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০