খেলাধুলা

ট্রাম্পের ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা করলো যুক্তরাষ্ট্রের আদালত

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ০:২৬
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রতীকী দৃশ্য । গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রতীকী দৃশ্য । গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য নির্ধারিত এইচ-১বি ভিসায় অতিরিক্ত ১ লাখ ডলারের ফি আরোপের সিদ্ধান্ত অবৈধ বলে ঘোষণা করেছে দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। সোমবার ম্যাসাচুসেটসের বস্টনে দেওয়া এক রায়ে আদালত জানায়, ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া এই সিদ্ধান্ত আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তা বাতিল করতে হবে।

 

মার্কিন জেলা বিচারক লিও সোরোকিন তার রায়ে বলেন, কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া প্রশাসন এ ধরনের অস্বাভাবিক ও উচ্চ অঙ্কের ফি আরোপ করতে পারে না। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত কার্যত বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানের পথ কঠিন করে তুলছিল।

 

এই মামলাটি দায়ের করেছিল ২০টি ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলরা। মামলায় বলা হয়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন এইচ-১বি ভিসার আবেদন ফি বাড়িয়ে ১ লাখ ডলারে উন্নীত করে। আগে যেখানে আবেদন প্রক্রিয়ার খরচ তুলনামূলক সীমিত ছিল, সেখানে নতুন এই ফি প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, প্রকৌশল ও গবেষণা খাতের আন্তর্জাতিক কর্মীদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক বাধা তৈরি করে।

 

আদালতে অঙ্গরাজ্যগুলোর পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, এত উচ্চ ফি শুধু বিদেশি কর্মীদের নিরুৎসাহিতই করেনি, বরং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনেক প্রতিষ্ঠানকেও দক্ষ জনবল নিয়োগ থেকে পিছিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এই ব্যয় বহনে হিমশিম খাচ্ছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

 

এইচ-১বি ভিসা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মভিত্তিক ভিসা কর্মসূচি। প্রতিবছর হাজার হাজার বিদেশি প্রকৌশলী, সফটওয়্যার বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক, গবেষক ও প্রযুক্তিকর্মী এই ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ পান। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো, বিশেষ করে ভারত ও বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক দক্ষ পেশাজীবী এই ভিসার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত আছেন।

 

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। এর অংশ হিসেবে কর্মভিত্তিক ভিসা প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত শর্ত, ফি বৃদ্ধি এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগে সীমাবদ্ধতা আরোপের বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সমালোচকদের মতে, এসব পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, আদালতের এই রায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক দক্ষ কর্মী এবং প্রযুক্তি খাতের কোম্পানিগুলোর জন্য স্বস্তির বার্তা হিসেবে এসেছে। একই সঙ্গে এটি প্রশাসনিক ক্ষমতার সীমা ও আদালতের নজরদারির বিষয়টিকেও নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।

 

তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসন উচ্চ আদালতে আপিল করবে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

খেলাধুলা

View more
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইরানি সমর্থকদের ফুটবল বিশ্বকাপের টিকিট বরাদ্দ বাতিলের অভিযোগ, কাঠগড়ায় যুক্তরাষ্ট্র

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এর মধ্যেই আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন (এফএফআইআরআই)। ফেডারেশনের দাবি, দুই দেশের তিক্ত কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোতে ইরানি সমর্থকদের জন্য বরাদ্দকৃত টিকিট বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র।   মঙ্গলবার (৯ জুন) এক বিবৃতিতে এফএফআইআরআই জানায়, বিশ্বকাপ শুরুর তিন দিনেরও কম সময় আগে জাতীয় দলের তিনটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ইরানি সমর্থকদের স্টেডিয়ামে উপস্থিতি বাধাগ্রস্ত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   ইরানি ফুটবল সংস্থার মতে, ফিফার নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ম্যাচের মোট টিকিটের ৮ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ফেডারেশনগুলোর জন্য বরাদ্দ থাকে। সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনগুলো পরে এসব টিকিট তাদের সমর্থকদের মধ্যে দাপ্তরিকভাবে বণ্টন করে।   ফেডারেশন জানায়, নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম এবং মিসরের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর জন্য নির্ধারিত কোটা পাওয়ার পর তারা টিকিট বিক্রি কার্যক্রম শুরু করেছিল। যেহেতু ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, তাই অনেক সমর্থক এরই মধ্যে খেলা দেখার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছিলেন।   বিবৃতিতে বলা হয়, “আকস্মিকভাবে ইরানের জন্য বরাদ্দকৃত সেই টিকিটগুলো প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় দলের সমর্থকদের জন্য একটি টিকিটও সরবরাহ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।”   এফএফআইআরআই যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার চেতনা এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে সমতার নীতির পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে ফিফা ও টুর্নামেন্ট আয়োজকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংস্থাটি বলেছে, নিরপেক্ষতা ও ন্যায্যতার নীতি বজায় রেখে ইরানি সমর্থকদের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।   যদিও ইরানের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ তোলা হয়েছে, তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ফিফা কিংবা মার্কিন আয়োজক কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।   এর আগে তেহরান অভিযোগ করেছিল, ভিসা জটিলতার কারণে তাদের প্রতিনিধি দলের প্রায় ১৫ জন প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও অবনতির দিকে যায়। সেই প্রেক্ষাপটে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন বিশ্বকাপ আয়োজনেও প্রভাব ফেলছে বলে মনে করা হচ্ছে।   ক্রমবর্ধমান এই পরিস্থিতির কারণে ইরান তাদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন এনেছে। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের টুকসনে অনুশীলন ক্যাম্প করার কথা থাকলেও, পরে সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করে মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী শহর টিজুয়ানায় ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আসর শুরু করবে ইরান। এরপর ২১ জুন একই ভেন্যুতে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে তারা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ২৬ জুন সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে খেলবে ইরান।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ১:১২
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিরা কীভাবে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখবেন? ফ্রিতে দেখার উপায়ও আছে

ছবি: সংগৃহীত

২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে ওয়ানডেতে হারিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

ছবি: সংগৃহীত

আয়ারল্যান্ডের কাছে ১১ রানে হারলো বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল

বিশ্বকাপ সামনে রেখে বাংলাদেশিদের সমর্থন চাইল ঢাকাস্থ নরওয়ে দূতাবাস
বিশ্বকাপ সামনে রেখে বাংলাদেশিদের সমর্থন চাইল ঢাকাস্থ নরওয়ে দূতাবাস

আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমীদের কাছে সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত নরওয়ে দূতাবাস। মঙ্গলবার (৯ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় এই আহ্বান জানানো হয়।   দূতাবাসের ওই পোস্টে বলা হয়, দীর্ঘ ২৮ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ে। এমন প্রেক্ষাপটে তারা মনে করছে, ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক নানা মিলের কারণে বাংলাদেশের মানুষের জন্য নরওয়েকে সমর্থন করা হতে পারে একটি অর্থবহ সিদ্ধান্ত।   পোস্টে বাংলাদেশ ও নরওয়ের মধ্যকার সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রথম দিকেই স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে নরওয়ে অন্যতম। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় দুই দেশ দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে কাজ করে আসছে।   দূতাবাস আরও জানায়, শুধু কূটনৈতিক বা ঐতিহাসিক সম্পর্কই নয়, সামাজিক ও ভৌগোলিক দিক থেকেও দুই দেশের মধ্যে কিছু মিল রয়েছে। উভয় দেশই উপকূলীয় অঞ্চলসমৃদ্ধ এবং দুই দেশের মানুষের খাদ্যাভ্যাসে মাছের গুরুত্ব বিশেষভাবে লক্ষণীয়। আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকে তুলনামূলক ছোট হলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় স্বপ্ন দেখার মানসিকতাও দুই দেশের একটি অভিন্ন বৈশিষ্ট্য হিসেবে তুলে ধরা হয়।   ফুটবল প্রসঙ্গে পোস্টে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হলান্ডের কথা। বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার বিশ্বকাপে নরওয়ের জার্সিতে মাঠে নামবেন, যা দর্শকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করবে বলে মনে করছে দূতাবাস।   পোস্টের শেষাংশে বাংলাদেশিদের উদ্দেশে সরাসরি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া হয়, “তাহলে কী বলো বাংলাদেশ? সময় এখন একসঙ্গে বড় স্বপ্ন দেখার এবং ছোট দল হিসেবে বড় মঞ্চে লড়তে থাকা নরওয়েকে সমর্থন করার।”   নরওয়ে দূতাবাসের এই ব্যতিক্রমী আহ্বান ইতোমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে কূটনৈতিক যোগাযোগের এক ভিন্নধর্মী উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন, যেখানে খেলাধুলার মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: জুন ৮, ২০২৬ ১৯:৩১
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রতীকী দৃশ্য । গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ট্রাম্পের ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা করলো যুক্তরাষ্ট্রের আদালত

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে ফাউলের অভিনয় কিংবা জার্সি খুললে দেখতে হবে হলুদ কার্ড

ছবি: এএফপি

বিশ্বকাপের আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা জটিলতা নিয়ে ক্ষোভ ইরানের, মেক্সিকোতে পৌঁছেছে জাতীয় দল

কানসাস সিটিতে ভোররাতের গোলাগুলি ঘিরে উদ্বেগ । ছবি: সংগৃহীত
ইংল্যান্ড দলের বিশ্বকাপ বেস ক্যাম্পের কাছেই গোলাগুলি, আহত অন্তত ৯ জন

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের কানসাস সিটিতে ইংল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলের বিশ্বকাপ বেস ক্যাম্পের কাছাকাছি এলাকায় গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় আহত সবাইকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ।   কানসাস সিটি পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোর প্রায় ৪টার দিকে ট্রুস্ট অ্যাভিনিউ এলাকায় গুলির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। এলাকাটি ইংল্যান্ড দলের বেস ক্যাম্প সোয়োপ সকার ভিলেজ থেকে চার মাইলেরও কম দূরত্বে অবস্থিত।   পুলিশের এক বিবৃতিতে ক্যাপ্টেন জেক বেকিনা জানান, আহতদের সবাই প্রাপ্তবয়স্ক। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং কারও আঘাত প্রাণঘাতী নয়। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে এখনো আটক করা সম্ভব হয়নি। কী কারণে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে, সেটিও তদন্তাধীন রয়েছে।   পুলিশ জানায়, গুলির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তারা একটি বড় জনসমাগম ছত্রভঙ্গ হয়ে যেতে দেখে। সেখানে গুলিবিদ্ধ তিন নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে আরও ছয়জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। তারা ব্যক্তিগত যানবাহনে করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যান। সব মিলিয়ে আহতের সংখ্যা দাঁড়ায় নয়জনে।   ঘটনার সময় ইংল্যান্ড জাতীয় দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা কানসাস সিটিতে ছিলেন না। তারা বর্তমানে ফ্লোরিডায় অবস্থান করছেন এবং বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। ফলে দলের কেউ এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হননি।   শনিবার গোলাগুলির সময় ইংল্যান্ড নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছিল। ফ্লোরিডার টাম্পায় অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে ইংল্যান্ড ১-০ গোলে জয় পায়। আগামী সপ্তাহে কোস্টারিকার বিপক্ষে আরেকটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পর দলটি আবার কানসাস সিটিতে ফিরবে।   স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এ ঘটনায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনাস্থলের কাছাকাছি বসবাসকারী কেট ফাউলার কানসাস সিটি স্টারকে জানান, শনিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনি ও তার স্বামী তাদের বাড়ির সামনের জানালায় গুলির চিহ্ন দেখতে পান। পরে তারা জানতে পারেন, শুক্রবার রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যেও একই এলাকায় গুলির শব্দ শোনা গিয়েছিল।   কেট ফাউলারের ভাষ্য, তাদের এলাকায় সপ্তাহে অন্তত একবার গুলির শব্দ শোনা অস্বাভাবিক নয়। তিনি বলেন, আশপাশের কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় পরিস্থিতির কারণে এমন ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটে থাকে।   এরই মধ্যে শনিবার সন্ধ্যায় কানসাস সিটির অন্য একটি এলাকাতেও আরেকটি গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেএমবিসি নিউজ ৯-এর তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন।   বিশ্বকাপকে সামনে রেখে কানসাস সিটি বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক দলের বেস ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় অবস্থান এবং উন্নত প্রশিক্ষণ সুবিধার কারণে ইংল্যান্ড ছাড়াও আলজেরিয়া, আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডস তাদের প্রস্তুতি কেন্দ্র হিসেবে এই শহরকে বেছে নিয়েছে।   স্থানীয় পুলিশ বলছে, সাম্প্রতিক ঘটনার সঙ্গে কোনো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দল বা বিশ্বকাপ আয়োজনের সরাসরি সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবুও বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক প্রথম ইংল্যান্ড দলের বেস ক্যাম্পের কাছাকাছি এই গোলাগুলির ঘটনার খবর প্রকাশ করে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি কানসাস সিটি পুলিশ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬ ২১:৪
ব্রাজিলিয়ান ফুটবল খেলোয়াড় নেইমার জুনিয়র | ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের আগে বিদায়ের সময় জানালেন নেইমার জুনিয়র

ফরাসি ফুটবল তারকা কামাভিঙ্গা।  ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ দলে সুযোগ না পেয়ে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেন ফরাসি ফুটবল তারকা

ছবি: সংগৃহীত

৫১ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরার অপেক্ষায় কঙ্গো, নতুন অধ্যায় লিখতে প্রস্তুত ‘দ্য লেপার্ড’রা

0 Comments