- প্রচ্ছদ
- Topic
অভিবাসননীতি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ১৮ মাসে দেশটি থেকে প্রায় ৯ লাখ ৮০ হাজার অভিবাসীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সময়ের হিসাব বিশ্লেষণ করে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। তবে বছরে ১০ লাখ অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান বহিষ্কারের হার সেই লক্ষ্যের চেয়ে কম। একই সঙ্গে অভিবাসন কার্যক্রমের বিস্তারিত সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ বন্ধ থাকায় প্রশাসনের অভিযান কতটা এগিয়েছে, তা মূল্যায়ন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের মতো হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্প অনিবন্ধিত অভিবাসীদের ব্যাপক হারে বহিষ্কারের প্রতিশ্রুতি দেন। তাঁর প্রশাসন অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে অভিবাসন নীতির কট্টর সমর্থকদের একাংশের সমালোচনা, প্রশাসন আরও বেশি অনিবন্ধিত অভিবাসীকে দেশ থেকে সরিয়ে দিতে পারত। অন্যদিকে, বহিষ্কারের সংখ্যা ও অভিযানের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নিয়মিত বিস্তারিত পরিসংখ্যান প্রকাশ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নতুন হিসাব তৈরিতে বিভিন্ন নথি ও তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন মার্ক রোজেনব্লাম, যিনি এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের পরিসংখ্যানবিষয়ক দপ্তরের প্রধান ছিলেন। তিনি জুলাইয়ে ওই পদ ছাড়েন। তথ্য অধিকার আইনের আওতায় পাওয়া নথি এবং বাইরের গবেষকদের বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বহিষ্কারের সংখ্যা নিরূপণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ‘বহিষ্কার’ বলতে দুটি পৃথক প্রক্রিয়াকে একসঙ্গে গণনা করা হয়েছে। প্রথমটি হলো ‘রিমুভাল’, যার আইনি পরিণতি তুলনামূলক কঠোর। দ্বিতীয়টি ‘রিটার্ন’, যেখানে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো হয়, তবে প্রক্রিয়াটি আনুষ্ঠানিক বহিষ্কারের তুলনায় কম শাস্তিমূলক হতে পারে। এই দুই ধরনের প্রক্রিয়া মিলিয়েই ৯ লাখ ৮০ হাজারের হিসাব করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সময়ের মোট সংখ্যার মধ্যে প্রায় ৫ লাখ ৮০ হাজার ছিল আনুষ্ঠানিক রিমুভাল। প্রায় ৩ লাখ ক্ষেত্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের মাধ্যমে রিটার্ন এবং আরও প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক রিটার্ন হয়েছে। অর্থাৎ সব অভিবাসীকে একই আইনি প্রক্রিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়নি। আনুষ্ঠানিক রিমুভালের বার্ষিক গড় হিসাবেও ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের সংখ্যা আগের কয়েকটি প্রশাসনের রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদে বছরে গড়ে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার অভিবাসীকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রথম মেয়াদে এই গড় ছিল প্রায় ৩ লাখ ৯২ হাজার। ওবামার দ্বিতীয় মেয়াদে বার্ষিক গড় ছিল ৩ লাখ ৮০ হাজারের সামান্য কম। ওবামার শাসনামলে ২০১৩ অর্থবছরে ৪ লাখ ৩২ হাজার অভিবাসীকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল, যা এখনো এই ধরনের বহিষ্কারের সর্বোচ্চ বার্ষিক রেকর্ড। অন্যদিকে, দুই ধরনের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া একত্রে বিবেচনা করলে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন কার্যক্রমের গতি জো বাইডেনের প্রশাসন এবং ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের তুলনায় বেশি। তবু ঐতিহাসিক সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়নি। প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, মোট বহিষ্কারের প্রায় ৬৯ শতাংশ ছিল এমন অভিবাসী, যাঁদের প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে আটক করা হয়েছিল। অর্থাৎ সীমান্তে আটক ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোই এখনো সামগ্রিক সংখ্যার বড় অংশ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বসবাসরত অভিবাসীদের গ্রেপ্তার করে বহিষ্কারের হারও বেড়েছে। ২০২৫ সালে অভ্যন্তরীণ গ্রেপ্তার থেকে শুরু হওয়া বহিষ্কারের অংশ ছিল ২৮ শতাংশ; ২০২৬ সালের জুলাইয়ে তা বেড়ে ৩৯ শতাংশে পৌঁছায়। অভিবাসীদের অপরাধসংক্রান্ত তথ্যও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। মোট ৯ লাখ ৮০ হাজার বহিষ্কারের মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রেকর্ড ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত দুই বছর বসবাসের পর বহিষ্কৃত অভিবাসীদের মধ্যে ৭১ শতাংশের কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রেকর্ড ছিল না। এই তথ্য থেকে বোঝা যায়, বহিষ্কারের আওতায় আসা সবাই অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তি ছিলেন না। সামগ্রিকভাবে, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে অভিবাসী বহিষ্কারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হলেও বছরে ১০ লাখ মানুষকে বহিষ্কারের ঘোষিত লক্ষ্যের সঙ্গে বর্তমান গতি মেলেনি। সরকারি বিস্তারিত তথ্য নিয়মিত প্রকাশ না হওয়ায় স্বাধীনভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের গুরুত্বও বেড়েছে। অভিবাসন নীতির বাস্তব প্রভাব মূল্যায়নে বহিষ্কারের মোট সংখ্যা, আইনি প্রক্রিয়ার ধরন, সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ গ্রেপ্তারের অনুপাত এবং বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের অপরাধসংক্রান্ত তথ্য—সবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কানাডায় স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারী দক্ষ কর্মীদের বাছাইয়ে পয়েন্ট দেওয়ার নিয়ম বদলাচ্ছে দেশটির সরকার। আগামী ৩ নভেম্বর থেকে নির্ধারিত উচ্চ বেতনের পেশায় যোগ্য কানাডিয়ান কাজের অভিজ্ঞতা অথবা গ্রহণযোগ্য জব অফার থাকলে এক্সপ্রেস এন্ট্রিতে বাড়তি সুবিধা পাবেন প্রার্থীরা। শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী আকর্ষণ ও ধরে রাখতে ১৬ অক্টোবর এ ঘোষণা দিয়েছে কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব বিভাগ, আইআরসিসি। একই সঙ্গে এক্সপ্রেস এন্ট্রির নির্দিষ্ট কাজে ব্যবহৃত জব অফারের জন্য লেবার মার্কেট ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট বা এলএমআইএর শর্ত তুলে দেওয়া হচ্ছে। নতুন পয়েন্ট পাওয়া এবং ফেডারেল স্কিলড ওয়ার্কার ও ফেডারেল স্কিলড ট্রেডস প্রোগ্রামের জব অফারসংক্রান্ত যোগ্যতা পূরণের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে। তবে অফারটি প্রকৃত এবং সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের শর্ত অনুযায়ী কি না, তা যাচাই করবে আইআরসিসি। উচ্চ বেতনের পেশা নির্ধারণে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত বেতনকে ভিত্তি করা হবে না। সংশ্লিষ্ট পেশায় কানাডাজুড়ে মধ্যম মজুরি সামগ্রিক কর্মীবাহিনীর মধ্যম মজুরির অন্তত ১ দশমিক ৩ গুণ হতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষ কারিগরি কাজ, প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও শিক্ষার নির্ধারিত পেশাগুলো এর আওতায় রয়েছে। নতুন নিয়মে যোগ্য উচ্চ বেতনের পেশায় অন্তত ১২ মাসের কানাডিয়ান কাজের অভিজ্ঞতার জন্য বেতনের স্তর অনুযায়ী অতিরিক্ত ২০, ৪০ অথবা ৭০ পয়েন্ট পাওয়া যাবে। গ্রহণযোগ্য উচ্চ বেতনের জব অফারের ক্ষেত্রে পয়েন্ট হবে ৫০, ৭০ অথবা ১০০। নতুন লেবার মার্কেট ইন্টিগ্রেশন অংশে কাজের অভিজ্ঞতা ও জব অফারের হিসাব যোগ করা হবে না। যে হিসাবে বেশি পয়েন্ট পাওয়া যায়, সেটি প্রযোজ্য হবে। এক্সপ্রেস এন্ট্রি পুলে থাকা প্রার্থীদের স্কোর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনর্গণনা করা হবে। এতে সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ লাগতে পারে এবং ওই সময় আমন্ত্রণের রাউন্ড বন্ধ থাকবে। গ্রহণযোগ্য জব অফারের জন্য পয়েন্ট পেতে প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে প্রোফাইল হালনাগাদ করতে বলেছে আইআরসিসি। এই পরিবর্তনের আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সরকার ২০২৬ সালের ক্যাটাগরিভিত্তিক বাছাইয়ের অগ্রাধিকার ঘোষণা করে। গুরুত্বপূর্ণ খাতে কর্মীসংকট মোকাবিলার পাশাপাশি কানাডায় কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন চিকিৎসক, গবেষক ও সিনিয়র ম্যানেজার এবং নির্দিষ্ট পরিবহন পেশার কর্মীদের আকর্ষণের কথা জানানো হয়। কানাডিয়ান সশস্ত্র বাহিনীতে নিয়োগের জন্য নির্বাচিত দক্ষ বিদেশি সামরিক সদস্যদেরও পৃথক ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে। আইআরসিসির বর্তমান তালিকায় মোট ১০টি ক্যাটাগরি রয়েছে। এগুলো হলো ফ্রেঞ্চ ভাষায় দক্ষতা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সেবা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ স্টেম পেশা, দক্ষ কারিগরি পেশা, শিক্ষা, পরিবহন, কানাডিয়ান অভিজ্ঞতাসম্পন্ন চিকিৎসক, সিনিয়র ম্যানেজার ও গবেষক এবং দক্ষ সামরিক নিয়োগপ্রাপ্ত। তবে ক্যাটাগরিতে যোগ্য হলেই আমন্ত্রণ নিশ্চিত হয় না। প্রার্থীকে এক্সপ্রেস এন্ট্রির আওতাধীন তিনটি অভিবাসন প্রোগ্রামের অন্তত একটির যোগ্য হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট রাউন্ডে সিআরএস স্কোর অনুযায়ী প্রতিযোগিতা করতে হবে। অধিকাংশ পেশাভিত্তিক ক্যাটাগরিতে গত তিন বছরে তালিকাভুক্ত একই পেশায় অন্তত ১২ মাসের ফুলটাইম অথবা সমপরিমাণ পার্টটাইম অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। এই অভিজ্ঞতা একটানা হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। সাধারণ পেশাভিত্তিক ক্যাটাগরিতে কানাডা বা বিদেশের অভিজ্ঞতা গ্রহণযোগ্য হলেও চিকিৎসক, সিনিয়র ম্যানেজার ও গবেষকদের পৃথক ক্যাটাগরিতে কানাডার অভিজ্ঞতা লাগবে। ফ্রেঞ্চ ক্যাটাগরিতে ভাষার চারটি দক্ষতায় ন্যূনতম এনসিএলসি ৭ প্রয়োজন। সর্বশেষ প্রকাশিত ১৬ অক্টোবরের ফ্রেঞ্চ ভাষার রাউন্ডে পাঁচ হাজার প্রার্থীকে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সর্বনিম্ন সিআরএস স্কোর ছিল ৪৩৫। এই আমন্ত্রণ আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ, স্থায়ী বসবাসের চূড়ান্ত অনুমোদন নয়। আবেদন যাচাইয়ের পর সিদ্ধান্ত নেয় আইআরসিসি।
ফ্রান্সে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও সহিংসতার জন্য অভিবাসননীতিকে দায়ী করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, দেশটিতে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে সীমান্ত বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়ার কথা জানিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ‘প্যারিস শিগগিরই মুসলিমদের শহর হয়ে যাবে।’ সোমবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি ও বার্তা সংস্থা এএফপি। ট্রাম্প বলেন, ফ্রান্সে যা ঘটছে, তার পেছনে অভিবাসনই মূল কারণ, স্কুল বা অন্য কোনো বিষয় নয়। তাঁর ভাষ্য, তিনি অনেক আগেই ম্যাক্রোঁকে সতর্ক করেছিলেন যে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষকে অবাধে ফ্রান্সে প্রবেশ করতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভুল। এবারও তিনি ইউরোপের দেশগুলোকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্প আরও বলেন, ইউরোপ সীমান্ত বন্ধ না করলে এবং অপরাধীদের বের করে না দিলে মহাদেশটির ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে। ফ্রান্সে গত সপ্তাহান্তে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষা খাতে সংকট এবং সরকারের নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সরকারি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনায় দুই হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে এবং বহু নিরাপত্তাকর্মী আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্যারিসসহ কয়েকটি শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে বিক্ষোভের পেছনে অভিবাসনই প্রধান কারণ, ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পক্ষে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু বলেছেন, উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠী ও অপরাধীরা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে সরকার বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানোর অধিকার এবং সহিংসতায় জড়িতদের কর্মকাণ্ডের মধ্যে পার্থক্য করেছে। ফরাসি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক অস্থিরতার সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয়, শিক্ষা খাতের সমস্যা এবং সরকারের নীতির বিরুদ্ধে অসন্তোষের সম্পর্ক রয়েছে। ট্রাম্পের মন্তব্য ফ্রান্সের অভিবাসননীতি ও ইউরোপের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার পক্ষে কথা বলে আসছেন। তবে প্যারিসের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর মন্তব্যটি রাজনৈতিক বক্তব্য, শহরের জনসংখ্যাগত পরিবর্তন সম্পর্কে কোনো সরকারি পূর্বাভাস নয়। ফ্রান্সের চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির সরকার নিরাপত্তা জোরদার ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি, বার্তা সংস্থা এএফপি।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিইর (ICE) কর্মকর্তারা কোনো মার্কিন নাগরিককে অন্যায়ভাবে আ টক বা হেফাজতে রাখলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে অন্তত ৫ লাখ ডলার দেওয়ার প্রস্তাব উঠেছে কংগ্রেসে। নতুন একটি বিলে বলা হয়েছে, আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ৫ লাখ ডলারের পাশাপাশি হেফাজতে থাকার অতিরিক্ত দিনের জন্য আরও ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন। তবে এটি এখনো প্রস্তাবিত আইন; কার্যকর হয়নি। নিউ মেক্সিকোর ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি তেরেসা লেগার ফার্নান্দেজ গত ১৫ অক্টোবর ‘জাস্টিস ফর সিটিজেনস রংফুলি ডিটেইন্ড বাই আইসিই অ্যাক্ট’ নামের বিলটি উত্থাপন করেন। নিউ জার্সির ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি বনি ওয়াটসন কোলম্যান এতে সহ-উদ্যোক্তা হিসেবে রয়েছেন। বিলটি উত্থাপনের পর প্রতিনিধি পরিষদের বিচার বিভাগীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কংগ্রেসে প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত পাস হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি বা তার পর থেকে কোনো মার্কিন নাগরিককে অভিবাসন কর্মকর্তা কিংবা অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তা পরোয়ানা বা যথাযথ সন্দেহের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি কারণ ছাড়াই গ্রে প্তার বা হেফাজতে রাখলে তিনি ফেডারেল আদালতে মামলা করতে পারবেন। মামলায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে বিবাদী করা যাবে। বিলে বলা হয়েছে, আদালত অভিযোগকারীর পক্ষে রায় দিলে তাকে ৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এর সঙ্গে গ্রে প্তার বা হেফাজতে নেওয়ার প্রথম দিনের পর প্রতিটি অতিরিক্ত দিনের জন্য আরও ১ লাখ ডলার দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া মামলার যুক্তিসংগত আইনজীবী ফি ও অন্যান্য খরচও পরিশোধ করতে হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিতে বা আইনি অধিকার ঘোষণা করতে পারবেন। প্রস্তাবটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, অভিযুক্ত অভিবাসন কর্মকর্তারা যেন মামলায় দায় এড়াতে ‘অ্যাবসলিউট ইমিউনিটি’ বা ‘কোয়ালিফায়েড ইমিউনিটি’র মতো আইনি সুরক্ষার যুক্তি দেখাতে না পারেন, সে ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের মামলায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সার্বভৌম দায়মুক্তি তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। অভিযোগের কারণ তৈরি হওয়ার পর পাঁচ বছরের মধ্যে মামলা করার সুযোগ থাকবে। অন্য কোনো আইনের আওতায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার থাকলে নতুন আইনের ক্ষতিপূরণ তার অতিরিক্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। বিলে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন প্রয়োগ কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ করা অর্থের অব্যবহৃত অংশের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ স্থায়ীভাবে বাতিল করার প্রস্তাবও রয়েছে। ফলে এটি শুধু অন্যায়ভাবে আ টক হওয়া নাগরিকদের ক্ষতিপূরণের বিষয়েই সীমাবদ্ধ নয়; অভিবাসন আইন প্রয়োগের অর্থায়ন নিয়েও প্রভাব ফেলতে পারে। আইসিইর আ টক নিয়ে উদ্বেগ ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসনবিরোধী অভিযানের সময় মার্কিন নাগরিকদেরও অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে আ টক হওয়ার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একটি অনুসন্ধানে ৫০৬ জন মার্কিন নাগরিককে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে হেফাজতে নেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। এসব ঘটনায় জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে সন্দেহ করা, কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি এবং নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সামনে এসেছে। শিকাগোর প্যারালিগ্যাল ও মার্কিন নাগরিক ডায়ানে ফিগুয়েরোয়া অভিযোগ করেছেন, বর্ডার প্যাট্রোলের কর্মকর্তারা তাকে জোর করে গাড়ি থেকে বের করে আনেন। ঘটনার ভিডিও সরকারের বর্ণনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মিনিয়াপোলিসে চিকিৎসার অ্যাপয়েন্টমেন্টে যাওয়ার পথে গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে হেফাজতে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন আরেক মার্কিন নাগরিক আলিয়া রহমান। একই শহরে আ টক হওয়া ব্র্যান্ডন সিগুয়েঞ্জা বলেছেন, হেফাজতে থাকা অবস্থায় অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বিষয়ে তথ্য দিতে ফেডারেল কর্মকর্তারা তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। টেক্সাসের ব্রায়ান গার্সিয়া মোরালেস নিজেকে মার্কিন নাগরিক দাবি করার পরও আইসিই তাকে মেক্সিকোতে পাঠিয়ে দিয়েছিল। পরে জন্মের নথি দেখিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে। বিভাগের এক মুখপাত্র বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা দিলে মার্কিন নাগরিক হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রে প্তার করা হতে পারে। তার ভাষ্য, যুক্তিসংগত সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে সাময়িকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তিনি মার্কিন নাগরিক বলে নিশ্চিত হলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা বা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে থাকা ব্যক্তিদের প্রয়োজন অনুযায়ী হেফাজতে রাখা হয় বলেও দাবি করেছে বিভাগটি। ডিএইচএসের মুখপাত্র আরও বলেছেন, আইসিইর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ বা মতপ্রকাশের অধিকার রয়েছে। তবে কেউ যদি কার্যক্রমে বাধা দেন বা কর্মকর্তাদের ওপর হা মলা করেন, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। বিভাগটির দাবি, মার্কিন নাগরিকদের গ্রে প্তার ও বহিষ্কারের অভিযোগ মিথ্যা। অন্যদিকে, বিলটির উদ্যোক্তা লেগার ফার্নান্দেজ বলেছেন, আইসিই যেন নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করে দায়মুক্তি না পায়, সেটি নিশ্চিত করাই তার উদ্যোগের উদ্দেশ্য। তার মতে, অন্যায়ভাবে আ টক হওয়া নাগরিকদের ন্যায়বিচার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে কয়েকজন মার্কিন নাগরিকের মৃ ত্যুর ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মিনিয়াপোলিসে রেনে গুড ও অ্যালেক্স প্রেটি, টেক্সাসের সাউথ পাদ্রে আইল্যান্ডে ২৩ বছর বয়সী রুবেন রে মার্টিনেজ এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে ৪৩ বছর বয়সী কিথ পোর্টার জুনিয়র—এদের মৃ ত্যুর ঘটনায় ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তা বা আইসিই কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে আইসিইর ক্ষমতা সীমিত করার একাধিক প্রস্তাব আনা হলেও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেগুলোর পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। নতুন বিলটি বিচার বিভাগীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে দলীয় নিয়ন্ত্রণ বদলাতে পারে। তবে বর্তমান কংগ্রেসের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বিলটি আইনে পরিণত না হলে পরবর্তী কংগ্রেসে এটি নতুন করে উত্থাপন করতে হতে পারে।
ভয়াবহ নৌদুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার নাগরিক ডিকারলা আন্তোনেলা সুয়ারেজ ভার্গাস ও তাঁর ছোট মেয়ে আরানজা সোফিয়া কাস্তিয়ো সুয়ারেজ। সমুদ্রে প্রায় ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা ভেসে থাকার পর তাঁদের উদ্ধার করা হয়। কিন্তু সেই বিপর্যয় থেকে বেঁচে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে নতুন জীবন শুরু করলেও এখন আরেক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন মা। অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে আ ট ক হওয়ার পর এক বছরের বেশি সময় ধরে তিনি হেফাজতে রয়েছেন। অন্যদিকে, তাঁর মেয়ে রয়েছে এক আত্মীয়ের কাছে। ৩৪ বছর বয়সী ডিকারলা ও তাঁর মেয়ে ২০২৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর নিকারাগুয়ার কর্ন আইল্যান্ডসের কাছে একটি নৌডুবির ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন। কলম্বিয়ার সান আন্দ্রেস থেকে কর্ন আইল্যান্ডের দিকে যাচ্ছিল নৌযানটি। দ্বীপটির দক্ষিণ-পূর্বে প্রায় পাঁচ নটিক্যাল মাইল দূরে সেটি ডুবে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নিকারাগুয়ার নৌবাহিনী অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে। স্থানীয় জেলেদের নৌকাও উদ্ধারকাজে সহায়তা করে। সব মিলিয়ে ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তবে দুর্ঘটনায় ভেনেজুয়েলার দুই যাত্রীর মৃ ত্যু হয়। তাঁদের মধ্যে চার বছর বয়সী একটি শিশুও ছিল। ডিকারলার বোন কিসি সুয়ারেজের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় তাঁর বোন ও ভাগনি প্রায় ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা সমুদ্রে আটকে ছিলেন। তাঁদের ধারণা ছিল, হয়তো আর বেঁচে ফেরা হবে না। ওই ঘটনায় অন্য যাত্রীদের প্রাণহানিও ঘটে। পরিবারের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর আশায় তাঁরা ওই নৌযানে যাত্রা করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে মা-মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে টেক্সাসের ডালাসে বসবাস শুরু করেন। ডিকারলা বিভিন্ন জায়গায় কাজ করতেন, আর তাঁর মেয়ে আরানজা স্কুলে যেত। পরিবারের ভাষ্য, তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেদের হাজির করেছিলেন। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি কার্যক্রম চলতে থাকে। তবে ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পরিস্থিতি বদলে যায়। পরিবারের দাবি, সেদিন ডিকারলা নিয়মিত অভিবাসনসংক্রান্ত সাক্ষাৎ বা চেক-ইনের জন্য গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই তাঁকে আ ট ক করে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট—আইসিই। এরপর থেকে তিনি অভিবাসন হেফাজতে রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, ডিকারলা ২০২৪ সালের মে মাসে মেয়েকে নিয়ে এল পাসোর কাছে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে দেশটিতে প্রবেশ করেছিলেন। বিভাগের এক মুখপাত্রের দাবি, সে সময় তিনি কর্মকর্তাদের কাছে অবৈধ মাদক ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছিলেন। তবে বিভাগটির বিবৃতিতে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার কথা বলা হয়নি। পরিবারের দাবি, ডিকারলার কোনো অপরাধের রেকর্ড, ফৌজদারি অভিযোগ বা আগের গ্রেপ্তারের ঘটনা নেই। তবে তাঁর অভিবাসন মামলার বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলেছে। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি একজন অভিবাসন বিচারক তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের আদেশ দেন। এরপর তাঁর আইনজীবীরা ফেডারেল আদালতে আটকাদেশ চ্যালেঞ্জ করেন। ২০২৬ সালের ২৬ মার্চ টেক্সাসের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টে হেবিয়াস কর্পাস আবেদন দাখিল করা হয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ডিকারলাকে লারেডো প্রসেসিং সেন্টারে রাখা হয়েছে। মা-মেয়ের বিচ্ছিন্নতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে পরিবার। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মুখপাত্র বলেছেন, আইসিইর নীতি অনুযায়ী আরানজাকে একজন আত্মীয়ের কাছে রাখা হয়েছে। বিভাগের বক্তব্য, অভিভাবকদের জিজ্ঞাসা করা হয় তাঁরা সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বহিষ্কৃত হতে চান কি না। তা না হলে অভিভাবকের মনোনীত নিরাপদ ব্যক্তির কাছে শিশুকে রাখা হয়। বিভাগটির দাবি, এটি আগের প্রশাসনগুলোর অভিবাসন আইন প্রয়োগের পদ্ধতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। ডিকারলার বোন কিসি জানিয়েছেন, তাঁর বোন মেয়েকে ঘিরেই জীবন সাজিয়েছিলেন। তিনি মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যেতেন, স্কুল শেষে বাড়ি ফিরিয়ে আনতেন, দেখাশোনা করতেন এবং সংসার চালাতে বিভিন্ন কাজ করতেন। হোটেল ও খাবার পরিবেশনসহ ডালাস এলাকার বিভিন্ন কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি। পরিবারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু অ্যাক্সেল রোহাস ডিকারলার আইনি খরচ মেটাতে অনুদান সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁর মতে, ডিকারলার সঙ্গে যা ঘটছে, তা গভীরভাবে অন্যায্য। তিনি আশা করছেন, ডিকারলা ন্যায়সংগত আচরণ পাবেন এবং মা-মেয়ে আবার একসঙ্গে থাকতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের কঠোরতার মধ্যে মা-বাবাকে আ ট ক বা বহিষ্কারের কারণে সন্তানদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের এক বিশ্লেষণে অনুমান করা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার শিশু সম্ভবত তাদের কোনো অভিভাবকের আ ট ক হওয়ার অভিজ্ঞতার মুখে পড়েছে। ডিকারলা ও আরানজার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা আরও গভীর, কারণ তাঁরা ইতোমধ্যে প্রাণঘাতী নৌদুর্ঘটনা থেকে বেঁচে এসেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে মা কাজ করেছেন, মেয়ে স্কুলে পড়েছে এবং তাঁরা একসঙ্গে জীবন গড়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এখন বহিষ্কারের আদেশ ও দীর্ঘ আটকাবস্থার কারণে তাঁদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। পরিবারের আশঙ্কা, আইনি প্রক্রিয়ার পরিণতি তাঁদের আবারও আলাদা করে দিতে পারে।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে অভিবাসীদের আটক ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে স্থানীয় সরকারের বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নিউইয়র্কের বিভিন্ন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) ১৬ হাজার ৭০টি আটক অনুরোধে সাড়া দেয়নি। এসব অনুরোধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মোট ৫২ হাজার ৫০৩টি অপরাধের অভিযোগ বা দণ্ডের তথ্য রয়েছে বলে দাবি করেছে বিভাগটি। ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অপরাধের মধ্যে রয়েছে খুন, অপহরণ, যৌন অপরাধ, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, চুরি, ডাকাতি, হামলা এবং অস্ত্রসংক্রান্ত অপরাধ। তবে এসব পরিসংখ্যানে অভিযোগ ও দণ্ড—দুই ধরনের তথ্যই রয়েছে। ফলে তালিকাভুক্ত প্রতিটি অপরাধের ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। আইসিইর আটক অনুরোধ বা ‘ডিটেইনার’ হলো স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছে পাঠানো একটি আবেদন। এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে স্থানীয় হেফাজতে মুক্তির সময়ের পর সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত আটকে রাখার অনুরোধ জানানো হয়, যাতে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তারা ওই ব্যক্তির দায়িত্ব নিতে পারেন। তবে এ ধরনের অনুরোধের আইনি বাধ্যবাধকতা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার সীমা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে প্রত্যাখ্যাত আটক অনুরোধগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ১৩১টি খুন, ১৩২টি অপহরণ, ১ হাজার ১৭টি যৌন অপরাধ, ১ হাজার ৫৬১টি মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর ঘটনা, ১ হাজার ৬৩১টি চুরি এবং ১ হাজার ৭৭৬টি ডাকাতির অভিযোগ বা দণ্ডের তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া অস্ত্রসংক্রান্ত ২ হাজার ১৯৮টি অপরাধ, হামলার ৯ হাজার ৫০২টি ঘটনা এবং বিপজ্জনক মাদকসংক্রান্ত ৪ হাজার ৩২৪টি অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বিভাগটির দাবি, এসব অনুরোধে সাড়া না দেওয়ার ফলে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন বলেছেন, স্থানীয় পর্যায়ে সহযোগিতা না পেলেও ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপরাধে জড়িত সন্দেহভাজন অভিবাসীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাবে। তাঁর বক্তব্য, অভিবাসন আইন প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করে এমন নীতির কারণে জননিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলের দপ্তর অবশ্য এই অভিযোগের বিরোধিতা করেছে। গভর্নরের মুখপাত্র আলেক্সিয়া নিজনি বলেছেন, নিউইয়র্ক কখনোই সহিংস অপরাধীদের আশ্রয়স্থল ছিল না এবং হবে না। তাঁর ভাষ্য, অঙ্গরাজ্যের কারাগারে সাজা ভোগ করছেন এমন অমার্কিন নাগরিকদের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। গভর্নরের দপ্তর আরও জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় নিউইয়র্কের অঙ্গরাজ্য-পরিচালিত বিভিন্ন স্থাপনা থেকে আনুমানিক ২ হাজার ব্যক্তিকে ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। হোকুলের দপ্তরের দাবি, অঙ্গরাজ্য ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করেনি; বরং কোন পরিস্থিতিতে এবং কীভাবে সহযোগিতা করা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। গত আগস্টে হোকুল ‘লোকাল কপস, লোকাল ক্রাইমস অ্যাক্ট’ নামে একটি আইনে স্বাক্ষর করেন। আইনটি অভিবাসনসংক্রান্ত কিছু দেওয়ানি বিষয়ে অঙ্গরাজ্যজুড়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ফেডারেল কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। ট্রাম্প প্রশাসন নিউইয়র্কের এ ধরনের নীতিকে ‘স্যাংচুয়ারি স্টেট’ বা অভিবাসন প্রয়োগে সীমিত সহযোগিতার অঙ্গরাজ্য হিসেবে বর্ণনা করেছে। এই বিরোধের মধ্যে নিউইয়র্কে আইসিই কর্মকর্তাদের গুলিতে অস্কার বেলগাল নামের এক ব্যক্তির আহত হওয়ার ঘটনাও নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। ঘটনাটি ঘটে ব্রঙ্কসে। ফেডারেল কর্মকর্তাদের দাবি, বেলগাল গাড়ি থেকে নামার নির্দেশ মানেননি এবং সরকারি দুটি গাড়িতে ধাক্কা দেওয়ার পর কর্মকর্তাদের দিকে গাড়ি চালিয়ে এগিয়ে যান। এ সময় তার পাঁচ বছর বয়সী সন্তান গাড়ির পেছনের আসনে ছিল। বেলগালের ঘাড়ে গুলি লাগে এবং পরে তাকে ফেডারেল হেফাজতে নেওয়া হয়। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে মতবিরোধ রয়েছে। সব মিলিয়ে নিউইয়র্কে অভিবাসন আইন প্রয়োগ, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা এবং জননিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, অপরাধে অভিযুক্ত অভিবাসীদের হেফাজতে নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় সহযোগিতা জরুরি। অন্যদিকে নিউইয়র্কের কর্মকর্তারা বলছেন, অঙ্গরাজ্য আইন মেনেই ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করছে এবং তাদের নীতিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
ক্ষমতায় গেলে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে দেশটির বিরোধী লিবারেল ও ন্যাশনাল দলের জোট। মঙ্গলবার ঘোষিত প্রস্তাবে প্রথম দুই বছর বছরে নিট অভিবাসীর সংখ্যা ১ লাখে নামানোর লক্ষ্য রাখা হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেইলর একে অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে অভিবাসন কমানোর সবচেয়ে বড় পরিকল্পনা বলে দাবি করেছেন। নিট অভিবাসন বলতে নির্দিষ্ট সময়ে দেশে আসা ও দেশ ছেড়ে যাওয়া মানুষের সংখ্যার পার্থক্য বোঝায়। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত আগের ১২ মাসে অস্ট্রেলিয়ায় এ সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৯২ হাজার ১০০। বিরোধী জোটের পরিকল্পনায় প্রথম দুই বছর তা বছরে ১ লাখ এবং চতুর্থ বছরে ১ লাখ ৬০ হাজারে রাখার কথা বলা হয়েছে। জোটের প্রকাশিত নীতিপত্রে চার বছরে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা অস্থায়ী ভিসাধারীর সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার কমানোর লক্ষ্য রয়েছে। সংখ্যাটি চার বছরে দেওয়া নতুন ভিসা কমানোর হিসাব নয়। নীতিপত্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নতুন ভর্তি বছরে ২ লাখ ৪০ হাজারে সীমিত করা এবং টেম্পোরারি গ্র্যাজুয়েট ভিসা কর্মসূচি বন্ধের প্রস্তাবও আছে। তবে পিএইচডি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিষয়ে অধ্যয়নরত এবং আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীর জন্য পড়াশোনার পর থাকার বিকল্প ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। মানবিক ভিসার বার্ষিক সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে ১০ হাজার করার প্রস্তাব দিয়েছে বিরোধী জোট। একই সঙ্গে দক্ষ কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছে তারা। নীতিপত্র অনুযায়ী, এই পরিকল্পনায় পারিবারিক পুনর্মিলনের ভিসায় পরিবর্তন আনার প্রস্তাব নেই। টেইলরের দাবি, অভিবাসীর সংখ্যা কমলে আবাসন, স্কুল, সড়ক ও অন্যান্য সেবার ওপর চাপ কমবে। তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের জন্য তাঁর জোটকে আগে ক্ষমতায় আসতে হবে। ফলে অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে বা কাজ করতে আগ্রহীদের জন্য মঙ্গলবারের ঘোষণায় ভিসার নিয়ম এখনই বদলে যায়নি। সূত্র: বিরোধী জোটের নীতিপত্র, এএফপি ও রয়টার্স।
কানাডায় টানা কয়েক বছর অভিবাসনের হার কমানোর পর আবার নিয়ন্ত্রিতভাবে জনসংখ্যা বাড়ানোর পথে যেতে পারে দেশটির সরকার। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, অভিবাসন ব্যবস্থা এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফলে সরকারের সামনে নতুন প্রশ্ন হলো, কখন থেকে আবার পরিকল্পিতভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি শুরু করা হবে। এই আলোচনা এমন সময় সামনে এসেছে, যখন কানাডা ২০২৭ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত নতুন তিন বছরের ইমিগ্রেশন লেভেলস প্ল্যান প্রস্তুত করছে। পরিকল্পনাটি আগামী নভেম্বরে প্রকাশ করার কথা রয়েছে। এতে নতুন পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং বিদেশি কর্মীদের জন্য ভবিষ্যৎ টার্গেট নির্ধারণ করা হবে। গত কয়েক বছরে কানাডায় দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, হাউজিং সংকট, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সরকারি সেবার ওপর চাপ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার অভিবাসনের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রবেশের সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও টেম্পোরারি ফরেন ওয়ার্কারদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে কানাডা ৩ লাখ ৮০ হাজার নতুন পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ২০২৭ ও ২০২৮ সালেও এই সংখ্যা ৩ লাখ ৮০ হাজার করে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সময়ে ২০২৬ সালে নতুন টেম্পোরারি রেসিডেন্টের টার্গেট রাখা হয়েছে ৩ লাখ ৮৫ হাজার, যা ২০২৭ ও ২০২৮ সালে ৩ লাখ ৭০ হাজারে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের আরেকটি বড় লক্ষ্য হলো, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ কানাডার মোট জনসংখ্যার মধ্যে নন পার্মানেন্ট রেসিডেন্টের হার ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের পর নতুন পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট গ্রহণের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ১ শতাংশের নিচে রাখার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বক্তব্যে কার্নি ইঙ্গিত দিয়েছেন, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের বর্তমান ধাপ সফলভাবে এগোলে ভবিষ্যতে আবার জনসংখ্যা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ কানাডা স্থায়ীভাবে অভিবাসনের দরজা সংকুচিত রাখবে, এমন ধারণা এখনই নিশ্চিত নয়। বরং অর্থনীতি, শ্রমবাজার এবং অবকাঠামোর সক্ষমতা বিবেচনায় রেখে ধীরে ধীরে অভিবাসনের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাই আলোচনায় এসেছে। কানাডার বর্তমান ইমিগ্রেশন নীতিতে অর্থনৈতিক অভিবাসনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০২৬ সালের জন্য মোট ৩ লাখ ৮০ হাজার পার্মানেন্ট রেসিডেন্টের মধ্যে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৮০০ জনকে অর্থনৈতিক ক্যাটাগরিতে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এর পাশাপাশি ফ্যামিলি রিইউনিফিকেশন, শরণার্থী ও মানবিক বিবেচনার বিভিন্ন ক্যাটাগরিও চালু রয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে কানাডায় থাকা এবং কাজ করা কিছু টেম্পোরারি রেসিডেন্টকে পার্মানেন্ট রেসিডেন্সির পথে নেওয়ার উদ্যোগও রেখেছে। বর্তমান পরিকল্পনায় ২০২৬ ও ২০২৭ সালে সর্বোচ্চ ৩৩ হাজার টেম্পোরারি ওয়ার্কারকে পার্মানেন্ট রেসিডেন্সিতে নেওয়ার বিশেষ উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো কানাডায় ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত এবং অর্থনীতিতে অবদান রাখা কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও আগের তুলনায় লক্ষ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। ২০২৬ সালে নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর টার্গেট ১ লাখ ৫৫ হাজার এবং ২০২৭ ও ২০২৮ সালে বছরে ১ লাখ ৫০ হাজার নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে নতুন পরিকল্পনায় শিক্ষার্থী ও টেম্পোরারি ওয়ার্কারদের সংখ্যা কতটা বাড়বে বা বর্তমান সীমা বহাল থাকবে, সেটিই এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বাংলাদেশিসহ কানাডায় পড়াশোনা, চাকরি বা স্থায়ীভাবে বসবাস করতে আগ্রহীদের জন্য আগামী ইমিগ্রেশন লেভেলস প্ল্যান গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে কার্নির বক্তব্যকে এখনই অভিবাসন ব্যাপকভাবে বাড়ানোর ঘোষণা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তিনি মূলত ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রিতভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা বলেছেন। নতুন টার্গেট ও কোন ক্যাটাগরিতে কতজন নেওয়া হবে, তার স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে সরকারের ২০২৭ থেকে ২০২৯ সালের আনুষ্ঠানিক ইমিগ্রেশন পরিকল্পনা প্রকাশের পর।
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের একটি বড় অংশের জন্য মেডিকেড সুবিধা পাওয়ার নিয়ম আরও কঠোর হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৫ সালের কর ও ব্যয়সংক্রান্ত নতুন আইনের অধীনে ১ অক্টোবর থেকে এসব পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। নতুন নিয়মে শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থীসহ বৈধভাবে বসবাসকারী কিছু অভিবাসী আর কেন্দ্রীয় অর্থায়নে মেডিকেড পাওয়ার যোগ্য থাকছেন না। কাইজার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, শুধু অক্টোবরেই নয়টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে ২ লাখ ৮১ হাজারের বেশি অভিবাসীর মেডিকেড সুবিধা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। নতুন বিধিনিষেধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস করলেও সবার জন্য মেডিকেডের দরজা খোলা থাকছে না। ১ অক্টোবর থেকে কেন্দ্রীয় অর্থায়নে মেডিকেড ও চিলড্রেনস হেলথ ইন্স্যুরেন্স প্রোগ্রাম বা চিপের যোগ্যতা মূলত গ্রিন কার্ডধারী স্থায়ী বাসিন্দা, নির্দিষ্ট কিউবান ও হাইতিয়ান অভিবাসী, এবং ফ্রিলি অ্যাসোসিয়েটেড স্টেটসের আওতাভুক্ত কিছু বাসিন্দার মধ্যে সীমিত করা হয়েছে। যেসব অঙ্গরাজ্যে বৈধভাবে বসবাসকারী শিশু ও গর্ভবতী নারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা রয়েছে, সেখানে কিছু ব্যতিক্রমও থাকছে। এর ফলে শরণার্থী ও গ্রিন কার্ড না পাওয়া আশ্রয়প্রার্থীদের একটি অংশ বিশেষভাবে প্রভাবিত হতে পারেন। একইভাবে সাময়িক সুরক্ষা বা নির্দিষ্ট মানবিক কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে থাকা কিছু অভিবাসীও নতুন ফেডারেল নিয়মে মেডিকেডের যোগ্যতা হারাতে পারেন। কাইজার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন বলছে, আগের নিয়মে এসব শ্রেণির অনেক মানুষ বৈধভাবে বসবাসের ভিত্তিতে স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে যুক্ত হতে পারলেও নতুন আইনে তাদের যোগ্যতার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়েছে। তবে নতুন আইনে সব বৈধ অভিবাসীর মেডিকেড বন্ধ হচ্ছে না। গ্রিন কার্ডধারী স্থায়ী বাসিন্দারা নির্ধারিত অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করলে মেডিকেডের আওতায় থাকতে পারবেন। কিউবান ও হাইতিয়ানদের নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণি এবং মার্শাল আইল্যান্ডস, মাইক্রোনেশিয়া ও পালাউয়ের নাগরিকদের জন্যও বিশেষ বিধান রয়েছে। এ ছাড়া কিছু অঙ্গরাজ্য নিজেদের অর্থায়নে ফেডারেল নিয়মের বাইরে নির্দিষ্ট অভিবাসী জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার সুযোগ ধরে রাখতে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে অনিয়মিতভাবে বসবাসকারী অভিবাসীরা সাধারণত আগে থেকেই ফেডারেল অর্থায়নে পূর্ণ মেডিকেডের জন্য যোগ্য ছিলেন না। জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে সীমিত সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে কয়েকটি অঙ্গরাজ্য নিজস্ব অর্থ ব্যবহার করে অনিয়মিতভাবে বসবাসকারীসহ আরও বিস্তৃত অভিবাসী জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে থাকে। নতুন ফেডারেল আইনের প্রভাব তাই অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন হতে পারে। নতুন নিয়ম বাস্তবায়নের জন্য অঙ্গরাজ্যগুলোকে বিদ্যমান মেডিকেড গ্রহীতাদের অভিবাসন-সংক্রান্ত যোগ্যতা নতুন করে যাচাই করতে হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, সম্ভাব্যভাবে প্রভাবিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রথমে বিদ্যমান তথ্য ও স্বয়ংক্রিয় তথ্য যাচাই ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের অভিবাসন মর্যাদা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে। প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সেভ কর্মসূচি এবং সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের তথ্যভান্ডার ব্যবহার করে যাচাই করা হবে। তবে শুধু নতুন যোগ্যতার নিয়মই স্বাস্থ্যসেবা হারানোর কারণ হতে পারে না। প্রশাসনিক জটিলতার কারণেও কিছু মানুষ সুবিধা হারাতে পারেন বলে সতর্ক করেছে কাইজার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে না পারা, সরকারি নোটিশ বুঝতে সমস্যা হওয়া বা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দেওয়ার মতো কারণে যোগ্য ব্যক্তি হয়েও কেউ কেউ মেডিকেড থেকে বাদ পড়তে পারেন। অঙ্গরাজ্যগুলোর ওপরও নতুন যাচাই ও পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়া পরিচালনার বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। এই পরিবর্তন শুধু মেডিকেডেই সীমাবদ্ধ নয়। নতুন আইনের বিভিন্ন বিধানের কারণে বৈধ অভিবাসীদের জন্য সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইনের আওতায় ভর্তুকি এবং মেডিকেয়ার সুবিধাতেও ভবিষ্যতে পরিবর্তন আসবে। কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের হিসাব অনুযায়ী, আইনের সংশ্লিষ্ট বিধানের কারণে ২০৩৪ সালের মধ্যে গড়ে প্রায় ৮ লাখ মানুষ প্রতিবছর স্বাস্থ্যবিমা বাজারে ভর্তুকিযুক্ত বিমা গ্রহণ থেকে বাদ পড়তে পারেন। আর ২০২৫ সালের কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিধানগুলোর কারণে ২০৩৪ সালে প্রায় ১০ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা হারাতে পারেন। মেডিকেয়ারের ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতে কিছু বৈধ অভিবাসী প্রভাবিত হতে পারেন। নতুন আইনের সামগ্রিক পরিবর্তনের ফলে স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য তাদের বর্তমান অভিবাসন মর্যাদা, স্বাস্থ্যবিমার ধরন এবং অঙ্গরাজ্যের নিজস্ব স্বাস্থ্যসেবা নীতির বিষয়গুলো নতুন করে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে কারও মেডিকেড বন্ধ হবে কি না, তা তার অভিবাসন মর্যাদা, বয়স, আয়, পারিবারিক পরিস্থিতি এবং কোন অঙ্গরাজ্যে তিনি বসবাস করছেন, এসব বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে। কাইজার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নতুন বিধিনিষেধের প্রভাব শুধু স্বাস্থ্যবিমার কাগজপত্রে সীমাবদ্ধ থাকবে না। মেডিকেড হারানো ব্যক্তিদের চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবা নেওয়া বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এ কারণে অঙ্গরাজ্যগুলোকে প্রভাবিত ব্যক্তিদের আগাম নোটিশ দেওয়া এবং নতুন যোগ্যতা সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০২৫ সালের জুলাইয়ে যে ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’ আইনে স্বাক্ষর করেন, তার স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত বিধান থেকেই এই পরিবর্তনের সূত্রপাত। সরকারের ব্যয় কমানো এবং ফেডারেল স্বাস্থ্য কর্মসূচির যোগ্যতা কঠোর করার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে আইনটি আনা হলেও এর প্রভাব বৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের একটি অংশের ওপর সরাসরি পড়ছে। মেডিকেড ও চিপের নতুন যোগ্যতার নিয়ম ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে, আর স্বাস্থ্যবিমার অন্যান্য পরিবর্তন ধাপে ধাপে কার্যকর হবে। সূত্র: কাইজার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন, কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস
কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিয়ে মার্কিন কর্মীদের জায়গা নেওয়ার জন্য এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি ব্যবহার করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ‘অল ইন’ পডকাস্টে তিনি এ কথা বলেন এবং নতুন এইচ-১বি আবেদনে এক লাখ ডলার দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। ভ্যান্সের ভাষ্য, এইচ-১বি কর্মসূচির উদ্দেশ্য হওয়া উচিত এমন দক্ষ বিদেশি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে আনা, যাঁরা দেশটির অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারেন। কোনো প্রতিষ্ঠান যেন কম বেতনের কর্মী নিয়োগের পথ হিসেবে এই ভিসা ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানান তিনি। ভ্যান্স আরও বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান একদিকে মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করবে, অন্যদিকে তাঁদের বদলে বিদেশি কর্মী খুঁজবে, তা গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের নিয়োগ ঠেকানোর উপায়ও প্রশাসন খতিয়ে দেখছে বলে তিনি জানান। এইচ-১বি কর্মসূচির মাধ্যমে মার্কিন নিয়োগদাতারা প্রযুক্তিসহ বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন হয় এমন পেশায় বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিতে পারেন। কর্মসূচির অপব্যবহার ও মার্কিন কর্মীদের ওপর এর প্রভাব নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ভ্যান্সের মন্তব্য এল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দিষ্ট কিছু নতুন এইচ-১বি আবেদনের সঙ্গে এক লাখ ডলার দেওয়ার শর্ত ঘোষণা করেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউস সেই শর্তের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। তবে শর্তটি সব এইচ-১বি আবেদন বা বর্তমানে এই ভিসায় থাকা কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য নয়। এক লাখ ডলারের শর্তের বৈধতা নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। জুনে একটি ফেডারেল আদালত সরকারকে ওই অর্থ আদায় থেকে বিরত রাখার রায় দেন। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রশাসনের আপিল বিচারাধীন। ফলে হোয়াইট হাউস মেয়াদ বাড়ালেও অর্থ আদায়ের শর্তটি বর্তমানে কার্যকর করা যাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধে জড়িত নন এমন অনিবন্ধিত অভিবাসীদের আইনি হেফাজতে নেওয়া বন্ধ বা সীমিত করার বিষয়ে আইসিইকে নতুন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—এমন খবর অস্বীকার করেছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএস। সংস্থাটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অনিবন্ধিতভাবে অবস্থান করা কাউকেই আইনি ব্যবস্থার আওতার বাইরে রাখা হয়নি। সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আইসিইর কর্মকর্তাদের অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এমন অনিবন্ধিত অভিবাসীদের আপাতত আইনি হেফাজতে না নিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ধরনের নির্দেশনা আইসিইর অভ্যন্তরে মৌখিকভাবে দেওয়া হয়েছিল এবং এটি সাময়িকও হতে পারে। তবে ডিএইচএস এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। সংস্থাটির বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রে অনিবন্ধিতভাবে অবস্থান করা যেকোনো ব্যক্তি আইসিইর অভিবাসন আইন প্রয়োগের আওতায় থাকতে পারেন। ডিএইচএসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘কেউই তালিকার বাইরে নয়।’ এদিকে আইসিইর কৌশল পরিবর্তনের দাবি করা প্রতিবেদনে বলা হয়, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অপরাধমূলক রেকর্ড না থাকা অভিবাসীদের ক্ষেত্রে অভিযান থেকে বিরত থাকতে বলা হতে পারে। তবে এই নির্দেশনা লিখিত নাকি মৌখিক, কিংবা এটি সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য কি না—তা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। ডিএইচএসের অস্বীকার এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনের দাবির মধ্যে পার্থক্য থাকায় আইসিইর অভ্যন্তরে কোনো সাময়িক বা সীমিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে এমন কোনো নথি পাওয়া যায়নি, যা দেশজুড়ে আইসিইর অভিবাসন আইন প্রয়োগের নীতিতে আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন নিশ্চিত করে। ডিএইচএস আরও জানিয়েছে, অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সংস্থার নীতিতে এমন কোনো পরিবর্তন হয়নি, যার মাধ্যমে অপরাধে জড়িত নন এমন অনিবন্ধিত অভিবাসীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইনি হেফাজত থেকে অব্যাহতি পাবেন। অভিবাসন আইন প্রয়োগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশেষ করে অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা ও না থাকা অভিবাসীদের ক্ষেত্রে আইসিই কীভাবে অভিযান পরিচালনা করবে, তা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন ও দাবি সামনে এসেছে। তবে নতুন কোনো জাতীয় নীতিগত পরিবর্তন হয়েছে কি না, সে বিষয়ে ডিএইচএসের প্রকাশ্য অবস্থান হলো—আইন ভঙ্গ করে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা ব্যক্তিরা আইনি ব্যবস্থার আওতায় থাকতে পারেন।
ইতালির স্কুলগুলোতে বোরকা ও নিকাব পরা নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। একই সঙ্গে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা আইন করে সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের স্কুলে একীভূত হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুতর সমস্যা থাকলে তাদের অভিভাবকদের ইতালীয় ভাষা শেখানোও বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। রোববার রোমে নিজের দল ব্রাদার্স অব ইতালির যুব শাখার এক অনুষ্ঠানে মেলোনি এসব পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব শিগগিরই মন্ত্রিসভায় তোলা হবে। তবে এগুলো এখনো কার্যকর আইন নয়। সরকারের অনুমোদনের পর প্রস্তাবগুলোকে আইনে পরিণত করতে সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। মেলোনির ঘোষণায় বোরকা ও নিকাবের পাশাপাশি বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলাদা বিধানের কথা বলা হয়েছে। তবে প্রতি শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ সংখ্যা কত হবে, তা তিনি নির্দিষ্ট করে জানাননি। ইতালির শিক্ষা ব্যবস্থায় বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ইতোমধ্যে সীমিত রাখার একটি নীতি রয়েছে। ২০১০ সালের একটি নির্দেশনায় সাধারণভাবে কোনো স্কুল বা শ্রেণিতে বিদেশি শিক্ষার্থীর অনুপাত ৩০ শতাংশের মধ্যে রাখার কথা বলা হয়েছিল। তবে স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী এ নিয়মে ব্যতিক্রমের সুযোগ রয়েছে এবং বাস্তবে সব জায়গায় এটি একইভাবে কার্যকর হয়নি। ইতালির জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশটির স্কুলগুলোতে বর্তমানে প্রায় ১১ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থীর ইতালীয় নাগরিকত্ব নেই। ফলে মেলোনির নতুন প্রস্তাবের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৩০ শতাংশ সীমার কী পরিবর্তন আনা হবে, সেটিই এখন আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মেলোনি বলেন, ইতালিতে যারা ভবিষ্যৎ গড়তে চান, তাদের ইতালীয় ভাষা শেখা, দেশটির সংস্কৃতি বোঝা এবং আইন মেনে চলা প্রয়োজন। স্কুলে একীভূত হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুতর সমস্যায় থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ইতালীয় ভাষা শেখানোর বাধ্যবাধকতার প্রস্তাবও এই পরিকল্পনার অংশ। বোরকা ও নিকাবের বিষয়ে ইতালিতে বর্তমানে সরাসরি দেশব্যাপী নিষেধাজ্ঞা নেই। ১৯৭৫ সালের একটি আইনে এমন পোশাক বা হেলমেট ব্যবহারে বিধিনিষেধ রয়েছে, যার কারণে যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া একজন ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে ২০০৮ সালে ইতালির সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালত স্পষ্ট করেছিল, ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক কারণে পুরো মুখ ঢেকে রাখা পোশাক পরা যেতে পারে। পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে অবশ্য মুখ দেখাতে হবে। মেলোনির নতুন পরিকল্পনার আগে দেশটির ক্ষমতাসীন জোটের শরিক লিগ পার্টিও মুখ ঢেকে রাখা পোশাকের ওপর আরও কঠোর বিধিনিষেধের জন্য একটি বিল এনেছে। চলতি বছরের মার্চে সিনেটে জমা দেওয়া ওই প্রস্তাবে খেলাধুলা বা উপাসনালয়ের মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতি ছাড়া মুখ ঢেকে রাখা পোশাক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে। এদিকে মেলোনির ঘোষণার সঙ্গে ইতালির রাজনৈতিক পরিস্থিতিরও যোগ রয়েছে। আগামী বছর দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা। অভিবাসন ও অভিবাসীদের একীভূতকরণ ইতালির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। মেলোনির দল ব্রাদার্স অব ইতালির ডানদিকে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া নতুন রাজনৈতিক শক্তি ‘ফুতুরো নাজিওনালে’ও সাম্প্রতিক সময়ে বোরকা নিষিদ্ধের দাবি তুলেছে। মেলোনির প্রস্তাব নিয়ে ইতালিতে সমালোচনাও শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি কিছু সাংবিধানিক আইন বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা সীমিত করার বিধান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষা ও সমান অধিকারের প্রশ্ন উঠতে পারে। ইতালির সংবিধানের ৩৪ নম্বর অনুচ্ছেদে স্কুল সবার জন্য উন্মুক্ত থাকার কথা বলা হয়েছে। ইউরোপের কয়েকটি দেশে ইতোমধ্যে জনসমক্ষে পুরো মুখ ঢেকে রাখা পোশাকের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া ও সুইজারল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশে বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। তবে দেশভেদে এসব আইনের আওতা ও প্রয়োগের নিয়ম ভিন্ন। মেলোনির ঘোষিত পরিকল্পনার পর এখন মূল প্রশ্ন হলো, প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা ও বিদেশি শিক্ষার্থী সীমিত করার নিয়ম ঠিক কীভাবে আইনে রূপ পাবে। বিশেষ করে বর্তমান ৩০ শতাংশ সীমার পরিবর্তে নতুন কোনো নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভা ও পরে সংসদে গেলে এর বিস্তারিত বিধান প্রকাশ পাওয়ার কথা। সূত্র: রয়টার্স, আনসা, আল জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনপ্রত্যাশী ও অনিবন্ধিত অভিবাসীদের আটক করার ঘটনা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আইসিইর (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) সহযোগিতা বৃদ্ধি, মানুষ শনাক্ত ও নজরদারিতে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান জোরদারের ফলে এই অভিযান আরও বিস্তৃত হয়েছে। তবে গ্রীষ্মজুড়ে ব্যাপক অভিযান চললেও সে তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে অভিবাসীদের দেশত্যাগের সংখ্যা বাড়েনি। রয়টার্সের পর্যালোচনা করা মার্কিন সরকারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় পরিসরে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর লক্ষ্য বাস্তবায়নে আইনি ও বাস্তব নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আগস্টে আইসিইর আটক কার্যক্রমে প্রায় ৫১ হাজার মানুষকে হেফাজতে নেওয়া হয়। টানা তৃতীয় মাসের মতো এ সংখ্যা ছিল রেকর্ড। কিন্তু একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যা মে মাসের দৈনিক গড়ের কাছাকাছি। অথচ মে মাসে আইসিইর আটক কার্যক্রম আগস্টের তুলনায় প্রায় ১৯ হাজার কম ছিল। রয়টার্সের বিশ্লেষণ বলছে, আটক ও দেশত্যাগের সংখ্যার এই ব্যবধানের অন্যতম কারণ হলো আটক ব্যক্তিদের একটি বড় অংশের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার বাধ্যবাধকতা নেই। বর্তমান ও সাবেক পাঁচজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে এমন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, যাদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ বা দণ্ড নেই এবং যাদের ক্ষেত্রে এখনো দেশত্যাগের চূড়ান্ত আদেশও দেওয়া হয়নি। আটক ব্যক্তিদের অনেকেরই আশ্রয়ের আবেদন বা অন্য কোনো আইনি দাবি বিচারাধীন রয়েছে। ফলে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয় না। কিছু ক্ষেত্রে তারা নিজেদের আইনি অধিকার ত্যাগ করে স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে রাজি হলে দ্রুত দেশত্যাগ করতে পারেন। এ ছাড়া পর্যাপ্ত ফ্লাইটের অভাব এবং কিছু দেশ তাদের নাগরিকদের ফেরত নেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রাখায় ফেরত পাঠানোর কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এসব কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের বড় পরিসরে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গতি কমছে। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে আসা এই বিশ্লেষণ প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস। মুখপাত্র লরেন বিস এটিকে ‘ভুল বর্ণনা’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর দাবি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে ইতোমধ্যে ৩০ লাখ মানুষ যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে গেছেন।
নিউ জার্সিতে দায়িত্ব পালনের সময় ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের মুখ ঢাকার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা রাজ্য আইনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস (ডিওজে)। মামলাটি ফেডারেল ও রাজ্য সরকারের ক্ষমতার সীমা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন সামনে এনেছে। নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিল গত ২৫ মার্চ ২০২৬ একটি আইনে স্বাক্ষর করেন। এতে দায়িত্ব পালনের সময় আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের মুখ ঢাকার ওপর নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। রাজ্য সরকারের মতে, এর উদ্দেশ্য হলো কর্মকর্তাদের পরিচয় স্পষ্ট রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দায়িত্ব পালনে জবাবদিহি বাড়ানো। রাজ্য কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সময় কর্মকর্তাদের পরিচয় পরিষ্কারভাবে জানা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অভিবাসনসংক্রান্ত কার্যক্রমের সময় এই বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে নিউ জার্সি। তবে ২৯ এপ্রিল ডিওজে নিউ জার্সির বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা করে। বিচার বিভাগের দাবি, রাজ্য সরকার ফেডারেল কর্মকর্তারা কীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন, তা নির্ধারণ করতে পারে না। ডিওজের মতে, মুখ ঢাকার সুযোগ সীমিত করার মতো বিধিনিষেধ ফেডারেল কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে এসব নিয়ম তাদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি করতে পারে বলে জানিয়েছে বিচার বিভাগ। মামলাটি নিউ জার্সিতে ফেডারেল অভিবাসন কার্যক্রম নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের চলমান মতবিরোধের অংশ। এর আগে রাজ্যের আরেকটি নির্বাহী আদেশ নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে নিউ জার্সির আইনি বিরোধ হয়েছিল। ওই আদেশে নির্দিষ্ট কিছু রাজ্য সম্পত্তিতে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের প্রবেশ এবং সেখানে ফেডারেল সিভিল ইমিগ্রেশন কার্যক্রম পরিচালনার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল। তবে ওই মামলায় নিউ জার্সি আদালতের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পেয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নিউ জার্সির ফেডারেল জেলা আদালত রাজ্যের ওই নির্বাহী আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে করা মামলাটি খারিজ করে দেয়। পরে গভর্নর ও রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল এই সিদ্ধান্তকে নিজেদের অবস্থানের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন। নতুন মামলাটি অবশ্য ভিন্ন একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে—একটি রাজ্য কতটা পর্যন্ত ফেডারেল কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। বিশেষ করে কর্মকর্তাদের মুখ ঢাকার মতো বিষয়ে রাজ্য সরকারের বিধিনিষেধ কতটা কার্যকর হতে পারে, সেটিই এখন আদালতের বিবেচনার বিষয়। ফেডারেল ও রাজ্য সরকারের এই বিরোধ নিউ জার্সির অভিবাসী কমিউনিটির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, অভিবাসন কার্যক্রমের সময় কর্মকর্তাদের পরিচয়, নিরাপত্তা ও জবাবদিহি নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন অবস্থান ভবিষ্যতে কীভাবে কার্যকর হবে, তা আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিদেশি কর্মীদের নিয়ে নতুন একটি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করেছে রাশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বিদেশি শ্রমিকদের নির্দিষ্ট কাজের জন্য রাশিয়ায় আনা হবে এবং কাজের চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।. রাশিয়ার প্রথম উপস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও অভিবাসনবিষয়ক বিভাগের প্রধান আন্দ্রেই কিকোত বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে এ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। পুতিন প্রস্তাবিত ব্যবস্থাটিকে ‘সভ্য পদ্ধতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন বলে নিউজউইকের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় কোনো রুশ প্রতিষ্ঠান বিদেশি শ্রমিকের প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রীয় অভিবাসন পরিষেবার সঙ্গে যোগাযোগ করবে। এরপর বিশেষায়িত একটি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় শ্রমিক খুঁজে দেবে। কর্মীর সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁকে রাশিয়ায় নিয়ে আসা হবে এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হবে। কর্মীদের জন্য নির্ধারিত আবাসনের ব্যবস্থা করবে নিয়োগকর্তা। কর্মস্থলে যাতায়াতের ব্যবস্থাও থাকবে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে কর্মীকে আবার রাশিয়ার বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। কিকোত এই ব্যবস্থাকে ‘বাড়ি, কাজ, বাড়ি’ মডেল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পরিকল্পনাটি আগামী বছর থেকে ধাপে ধাপে চালু করার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে প্রস্তাবটি এখনো রুশ পার্লামেন্টে অনুমোদিত হয়নি। রাশিয়ায় বর্তমানে শ্রমিকের ঘাটতি তীব্র আকার ধারণ করেছে। দেশটির বেকারত্বের হার মে মাসে ঐতিহাসিকভাবে কমে ২ দশমিক ১ শতাংশে নেমেছিল। বর্তমানে তা প্রায় ২ দশমিক ৩ শতাংশ। অর্থনৈতিক উন্নয়নমন্ত্রী মাকসিম রেশেতনিকভ চলতি মাসের শুরুতে রাশিয়াকে ‘শ্রমিক ঘাটতির অর্থনীতি’ হিসেবে বর্ণনা করেন। এই সংকটের পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিপুলসংখ্যক রুশ নাগরিক সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট পুতিন জুনে জানিয়েছিলেন, ৭ লাখের বেশি রুশ সেনা যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন রয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে প্রায় ২ লাখ মানুষ সামরিক বাহিনীতে চুক্তিভিত্তিকভাবে যোগ দিয়েছেন। একই সময়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পের সম্প্রসারণও বেসামরিক খাত থেকে কর্মী টেনে নিচ্ছে। ফলে বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় কর্মী পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন। রাশিয়ার কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ দ্রুত কমে যাচ্ছে। ৩০ থেকে ৩৯ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা চলতি দশকের শেষ নাগাদ প্রায় ৬৩ লাখ কমে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী তাতিয়ানা গোলিকোভা জানিয়েছেন, ২০৩২ সালের মধ্যে অবসর নেওয়া প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ কর্মীর জায়গা পূরণ করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে বিদেশি শ্রমিক আনা রাশিয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাধান হতে পারে। তবে অভিবাসন নীতিতে মস্কোর সাম্প্রতিক অবস্থান তুলনামূলকভাবে কঠোর। পুতিনের একটি ডিক্রিতে রাশিয়ার জনসংখ্যা ও শ্রমবাজার বৃদ্ধির প্রধান উৎস হিসেবে দেশের নিজস্ব জনসংখ্যার স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশটির পার্লামেন্ট জানিয়েছে, ২০২৪ সাল থেকে অভিবাসন নিয়ে ২২টি পৃথক আইন পাস করা হয়েছে। কিকোত পুতিনকে জানিয়েছেন, গত ১৮ মাসে প্রায় ১ লাখ বিদেশিকে রাশিয়া থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৭৫ হাজারকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হয়েছে। নতুন প্রস্তাবের মাধ্যমে রাশিয়া একদিকে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিদেশি কর্মী নিতে চায়, অন্যদিকে তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসনে উৎসাহিত করতে চায় না। ফলে বিদেশি শ্রমিকদের নির্দিষ্ট চাকরি ও চুক্তির সঙ্গে যুক্ত রেখে কাজ শেষ হওয়ার পর দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও এ ব্যবস্থার কিছু মিল রয়েছে। দেশটিতে নির্দিষ্ট খাতের জন্য এইচ-২ ভিসায় বিদেশি অস্থায়ী কর্মীরা কাজ করতে পারেন। ২০২৬ অর্থবছরের জন্য মার্কিন সরকার অতিরিক্ত ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি অস্থায়ী কর্মী ভিসার অনুমতি দিয়েছে। এর কারণ হিসেবে কর্মী সংকটের কথা জানিয়েছে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তবে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান হারানো বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু বিদেশি কর্মীর জন্য তুলনামূলক বেশি সুযোগ রয়েছে। বাইডেন প্রশাসনের সময় চালু হওয়া নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ভিসায় থাকা কর্মীরা চাকরি হারানোর পর সাধারণত ৬০ দিন পর্যন্ত নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজার সুযোগ পেতেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রেও সম্প্রতি এ বিষয়ে পরিবর্তনের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। ১১ সেপ্টেম্বর মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বিভিন্ন ভিসা শ্রেণির কর্মীদের জন্য ৬০ দিনের এই সময়সীমা বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের চাকরির ভিত্তি শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে। তবে এইচ-২ ভিসার কর্মীদের জন্য ৬০ দিনের সুরক্ষা বহাল রাখার কথা প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের জন্য ইতিমধ্যে আরও কিছু কঠোর নিয়ম চালু হয়েছে। ২০২৭ সাল থেকে অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর করের বোঝা বাড়ানোর একটি আইন পুতিন জুলাইয়ে স্বাক্ষর করেছেন। রাশিয়ায় থাকা নির্ভরশীল প্রতিটি সন্তানের জন্য সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের মাসিক করের পরিমাণ আরও ৫০ শতাংশ বাড়ানোর বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া অভিবাসী শ্রমিকদের সন্তানদের রুশ স্কুলে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রেও গত বছর থেকে কঠোর নিয়ম চালু করা হয়েছে। রুশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এসব নিয়ম চালুর পর কর্মহীন অভিবাসীদের সংখ্যা কমেছে। তবে নতুন প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে রাশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের ধরন আরও নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। কর্মীদের নিজস্বভাবে চাকরি খোঁজা বা এক নিয়োগকর্তা থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সুযোগ সীমিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরতা বাড়লেও রাশিয়া একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসন কমিয়ে রাখতে চাইছে। প্রস্তাবিত ‘বাড়ি, কাজ, বাড়ি’ মডেল সেই দুই নীতির মধ্যে সমন্বয় করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: নিউজউইক
ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, লস অ্যাঞ্জেলেসের অধ্যাপক মেলিনা আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে এক আইসিই এজেন্টের পরিচয় ও সম্ভাব্য অবস্থান প্রকাশ করে তাকে লক্ষ্য করার আহ্বান জানানোর অভিযোগ উঠেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার অক্সনার্ডে রোববার এক সমাবেশে দেওয়া তাঁর বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, আবদুল্লাহ এক আইসিই এজেন্টের নাম উল্লেখ করে বলেন, ওই কর্মকর্তা অক্সনার্ডের একটি হোটেলে থাকতে পারেন। এরপর তাঁকে উদ্দেশ করে একাধিকবার অশালীন ভাষায় ‘ফাক হিম আপ’ মন্তব্য করেন। নিরাপত্তার কারণে এজেন্টটির সম্ভাব্য অবস্থানের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পরে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আবদুল্লাহ বলেন, তিনি ওই শব্দগুলো ‘অনেকভাবে’ বোঝাতে ব্যবহার করেছেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, আইসিই এজেন্টদের কর্মকাণ্ড গোপন রাখা উচিত নয়; বরং তাঁদের কার্যক্রম জনসমক্ষে তুলে ধরা দরকার। তবে নির্দিষ্ট একজন এজেন্টের পরিচয় ও সম্ভাব্য অবস্থান প্রকাশের পর এমন মন্তব্য করায় সমালোচকেরা এটিকে ওই কর্মকর্তার জন্য সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে দেখছেন। ঘটনাটি ঘটে ‘লা ডিফেনসা দেল পুয়েবলো’ নামে একটি সম্মেলনে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিবাসী কমিউনিটির অধিকার এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট নীতির বিরুদ্ধে সংগঠিত হওয়ার লক্ষ্যেই এই আয়োজন করা হয়। আবদুল্লাহ ক্যাল স্টেট এলএ-তে প্যান-আফ্রিকান স্টাডিজের অধ্যাপক এবং ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার লস অ্যাঞ্জেলেসের সহপ্রতিষ্ঠাতা। ভিডিও প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন। যে আইসিই এজেন্টকে নিয়ে আবদুল্লাহ বক্তব্য দিয়েছেন, তিনি এর আগে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেসে দায়িত্বের বাইরে থাকা অবস্থায় একটি প্রাণঘাতী গুলির ঘটনায় জড়িত ছিলেন। ওই ঘটনায় কিথ পোর্টার জুনিয়র নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, পোর্টার একটি রাইফেল থেকে গুলি ছুড়ছিলেন এবং সংঘর্ষের একপর্যায়ে ওই এজেন্ট আত্মরক্ষায় গুলি চালান। এ ঘটনায় এজেন্টটির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে আবদুল্লাহর সাম্প্রতিক বক্তব্যের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে কি না, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি। একইভাবে তাঁর মন্তব্য আইনগতভাবে সহিংসতায় উসকানির পর্যায়ে পড়ে কি না, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও আদালতের বিবেচনার ওপর নির্ভর করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিই এজেন্টদের বৈদ্যুতিক ‘শক গ্লাভস’ ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে কংগ্রেসে নতুন একটি বিল উত্থাপন করেছেন দুই ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা। তাদের আশঙ্কা, অভিবাসন আইন প্রয়োগের অভিযানে এ ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করলে গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পেনসিলভানিয়ার প্রতিনিধি ম্যাডেলিন ডিন ও ইলিনয়ের প্রতিনিধি ডেলিয়া রামিরেজ গত ৩ সেপ্টেম্বর ‘নো শক অ্যাক্ট’ বা ‘শক নিষেধ আইন’ নামে বিলটি উত্থাপন করেন। এতে অভিবাসন আইন প্রয়োগের সময় কেন্দ্রীয় সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের শক গ্লাভস ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ কার্যক্রমে যুক্ত অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ক্ষেত্রেও এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। শক গ্লাভস এমন এক ধরনের বিশেষ দস্তানা, যা কারও শরীরে সরাসরি স্পর্শ করিয়ে বৈদ্যুতিক শক দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে কেনটাকিভিত্তিক ‘কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিস এলএলসি’র তৈরি ‘সিটিজি-৫ জি.এল.ও.ভি.ই.’। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বা ডিএইচএস আইসিই কর্মকর্তাদের জন্য প্রায় ৬ হাজার শক গ্লাভস কিনতে প্রায় ১ কোটি ৬৭ লাখ ডলার খরচের পরিকল্পনা করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের দাবি, গ্লাভসটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও কারা কর্মকর্তাদের জন্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধকারী ব্যক্তিকে শান্ত করার একটি প্রযুক্তি। দেখতে সাধারণ দস্তানার মতো হলেও এটি সক্রিয় করার পর বৈদ্যুতিক শক দিতে পারে। তবে প্রতিষ্ঠানটি নিজেই সতর্ক করে জানিয়েছে, এই প্রযুক্তি ঝুঁকিমুক্ত নয়। সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবহার না করলে এতে আঘাত এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। আইসিই এখনো শক গ্লাভস কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করেনি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রেপ্তার, আটককেন্দ্রে অভিযান কিংবা কোনো ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষের সময় এগুলো ব্যবহার করা হতে পারে। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বলছে, প্রতিরোধকারী ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং পরিস্থিতি উত্তেজনামুক্ত করতে গ্লাভসটি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে শুধু মৌখিকভাবে নির্দেশ না মানার কারণে বা শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়। ডিএইচএসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের নিরাপদে গ্রেপ্তার এবং অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত অবৈধ অভিবাসীদের দেশ থেকে সরিয়ে দিতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দেওয়ার বিষয়টি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। সংস্থাটির দাবি, আইসিই যেসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে, সেগুলো আইন ও সংশ্লিষ্ট নীতিমালা মেনেই বাছাই করা হয়। কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরিস্থিতি শান্ত করার কৌশল এবং বলপ্রয়োগের বিষয়ে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। ডিএইচএস জানিয়েছে, শক গ্লাভসগুলো আইসিইর দুটি প্রধান কার্যক্রম—‘হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস’ বা স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা তদন্ত বিভাগ এবং ‘এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনস’ বা অভিবাসন আইন প্রয়োগ ও বহিষ্কার কার্যক্রমের কর্মকর্তাদের দেওয়া হতে পারে। শক গ্লাভসের নিরাপত্তা নিয়ে এরই মধ্যে কংগ্রেসে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত ৩১ আগস্ট রামিরেজসহ ৫০ জন প্রতিনিধি ডিএইচএস সচিব মার্কওয়েন মুলিনকে চিঠি দিয়ে এই যন্ত্রের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের চিঠিতে বলা হয়, গ্লাভসটি প্রায় ৩৮০ ভোল্টের বৈদ্যুতিক শক দিতে পারে। এমন যন্ত্রের ব্যবহার নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে বলেও তারা দাবি করেন। সিনেটেও এই পরিকল্পনার বিরোধিতা হয়েছে। নেভাদার সিনেটর ক্যাথরিন কর্টেজ মাস্টোসহ ১৬ জন সিনেটর গত ২৭ আগস্ট ট্রাম্প প্রশাসনকে শক গ্লাভস কেনার পরিকল্পনা বাতিল করার আহ্বান জানান। তারা গ্লাভসটি কোথায় ও কীভাবে ব্যবহার করা হবে, কর্মকর্তাদের কী ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং এর ব্যবহার কীভাবে নজরদারি করা হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন। কোনো প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই চুক্তি করার পরিকল্পনা নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও শক গ্লাভস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে কম প্রাণঘাতী প্রযুক্তির সমর্থকদের কেউ কেউ মনে করেন, এ ধরনের সরঞ্জাম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের বিকল্প হতে পারে। সাবেক মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা এবং আইসিই কর্মকর্তা ক্লেয়ার ট্রিকলার-ম্যাকনাল্টি বলেন, শক গ্লাভস ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি বড় কৌশলগত সমস্যা রয়েছে। তার মতে, গ্লাভস পরা অবস্থায় একজন কর্মকর্তা সহজে আগ্নেয়াস্ত্র বা অন্য কোনো কম প্রাণঘাতী সরঞ্জাম ব্যবহার করতে পারেন না। ফলে একাধিক হুমকির মুখে ওই কর্মকর্তা নিজেই আরও ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। তার মতে, নিয়ন্ত্রিত আটককেন্দ্রের মতো জায়গায় সীমিত ব্যবহারের কিছু যৌক্তিকতা থাকতে পারে। কিন্তু রাস্তায় গ্রেপ্তার, গাড়ি থামানো বা কোনো ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তারের সময় এটি ব্যবহার নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে। শক গ্লাভস নিয়ে বিতর্ক শুধু অভিবাসন আইন প্রয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। চলতি বছরের শুরুতে নেব্রাস্কার ওমাহা সরকারি বিদ্যালয়গুলো স্কুলের নিরাপত্তাকর্মীদের জন্য এই যন্ত্র নিষিদ্ধ করে। কর্মকর্তারা নিশ্চিত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, সেখানে দুই শিক্ষার্থীর ওপর শক গ্লাভস ব্যবহার করা হয়েছিল। ‘নো শক অ্যাক্ট’ বা ‘শক নিষেধ আইন’ এখন প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত বিলটির তালিকাভুক্ত সমর্থকদের মধ্যে কোনো রিপাবলিকান সদস্য ছিলেন না। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ফলে বিলটি আইনে পরিণত করতে হলে উভয় কক্ষের অনুমোদনের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরও প্রয়োজন হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক অভিবাসী বহিষ্কার নীতিকে ঘিরে আইসিই ও ডিএইচএসের কর্মকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক চলছেই। এর মধ্যেই আইসিই কর্মকর্তাদের হাতে শক গ্লাভস দেওয়ার পরিকল্পনা এবং তা বন্ধ করতে ডেমোক্র্যাটদের এই উদ্যোগ নতুন করে সেই বিতর্ক আরও জোরালো করেছে।
গ্রিন কার্ডের সাক্ষাৎকার দিতে গিয়েছিলেন মারিয়া রোচা-মার্টিনেজ। ভেবেছিলেন, বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পথটা হয়তো এবার আরও সহজ হবে। কিন্তু সেই সাক্ষাৎকারই শেষ পর্যন্ত তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন ঘটনায় পরিণত হয়। সাক্ষাৎকার শেষ হওয়ার আগেই তাকে আটক করে দেশ থেকে বহিষ্কার করে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। মারিয়ার ছেলে ডেভিড গার্সিয়া বর্তমানে ইউএস নেভাল একাডেমির প্রথম বর্ষের মিডশিপম্যান। চলতি গ্রীষ্মেই তিনি সামরিক দায়িত্ব শুরু করেছেন। মাকে হারানোর পরও তাকে যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই নিজের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ঘটনাটি সামনে আসার পর পরিবারটির দুর্দশা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির কারণে সামরিক পরিবারের সদস্যরাও কীভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান জোয়াকিন কাস্ত্রো জানান, বুধবার রাতে মারিয়াকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ডেভিড ও তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কাস্ত্রোর ভাষ্য, মারিয়া নিজের অভিবাসন পরিস্থিতি বৈধভাবে পরিবর্তনের চেষ্টা করছিলেন। তার দাবি, তিনি নিয়ম মেনেই গ্রিন কার্ডের প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছিলেন। তাই সাক্ষাৎকারে গিয়ে তাকে আটক ও বহিষ্কার করার ঘটনায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। তবে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) ভিন্ন দাবি করেছে। তাদের ভাষ্য, মারিয়াকে এর আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে তিনি বেআইনিভাবে আবার দেশটিতে প্রবেশ করেন। সরকারের দাবি, এমনভাবে পুনরায় প্রবেশ করা ফেডারেল আইনে গুরুতর অপরাধ। সরকারের এই বক্তব্য অবশ্য মেনে নেননি কাস্ত্রো। তার দাবি, মারিয়া যখন বৈধ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিজের অবস্থান ঠিক করার চেষ্টা করছিলেন, তখনই তাকে আইসিই আটক করে বহিষ্কার করেছে। এক বিবৃতিতে কাস্ত্রো বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে প্রশাসন অভিযান চালালেও এর প্রভাব নিরপরাধ পরিবারগুলোর ওপরও পড়ছে। তিনি জানান, মারিয়ার মামলার বিষয়ে আইসিইর কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে এবং তাকে তার স্বামী ও ছেলে ডেভিডের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্যও চেষ্টা চলছে। একদিকে দেশের সেবায় নতুন জীবন শুরু করা ছেলে, অন্যদিকে দেশ থেকে বহিষ্কৃত মা—মারিয়া ও ডেভিডের এই বিচ্ছিন্নতা যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন নীতির মানবিক দিকটি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আইনি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট, ফেডারেল আপিল আদালত এবং জেলা আদালতের সাম্প্রতিক তিনটি রায়। একদিকে দ্রুত বহিষ্কার কার্যক্রম পুনরায় চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে বিদেশ সফর শেষে ফেরা গ্রিন কার্ডধারীদের ক্ষেত্রে সীমান্ত কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। একই সময়ে অভিবাসন আদালত প্রাঙ্গণে গ্রেপ্তার ও দীর্ঘ সময় আটকে রাখার নীতির বিরুদ্ধে দেশব্যাপী নিষেধাজ্ঞাও জারি করেছে একটি ফেডারেল আদালত। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্ক, আইনি লড়াই এবং জনমতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ব্যাপক অভিবাসন অভিযান, দ্রুত বহিষ্কার নীতি এবং কঠোর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সাম্প্রতিক তিনটি রায় অভিবাসন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিটের ফেডারেল আপিল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনকে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের দ্রুত বহিষ্কার কার্যক্রম পুনরায় চালুর অনুমতি দিয়েছে। এর ফলে সীমান্তবর্তী এলাকা ছাড়াও দেশের অভ্যন্তরে অবস্থানরত অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বিচারকের সামনে পূর্ণাঙ্গ শুনানির সুযোগ ছাড়াই দ্রুত বহিষ্কার করা যাবে। মঙ্গলবার দেওয়া রায়ে তিন বিচারকের একটি বেঞ্চ নিম্ন আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশ বাতিল করে। এর মাধ্যমে প্রশাসনের সম্প্রসারিত ‘দ্রুত বহিষ্কার’ নীতি আবার কার্যকর করার পথ উন্মুক্ত হয়। দ্রুত বহিষ্কার পদ্ধতিতে কোনো অভিবাসীকে অভিবাসন আদালতে পূর্ণাঙ্গ শুনানির সুযোগ না দিয়েই দেশ থেকে ফেরত পাঠানো সম্ভব। আগে এই ব্যবস্থা সীমান্তে আটক বা সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হতো। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন এর আওতা বাড়িয়ে সারা দেশে বসবাসরত অনথিভুক্ত অভিবাসীদের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য করে। এরপর থেকে অভিবাসন সংক্রান্ত শুনানির জন্য আদালতে আসা অনেক ব্যক্তিকে আদালত প্রাঙ্গণ থেকেই আটক করে কয়েক দিনের মধ্যে বহিষ্কারের অভিযোগ ওঠে। রায়ের পর আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের (এসিএলইউ) ইমিগ্র্যান্টস রাইটস প্রজেক্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আনন্দ বালাকৃষ্ণন বলেন, এই নীতি এমন একটি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে যেখানে ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি রয়েছে এবং অভিবাসীরা ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। তবে আপিল আদালতের বিচারক জাস্টিন আর ওয়াকার রায়ে বলেন, বাদীপক্ষ প্রমাণ করতে পারেনি যে সম্প্রসারিত দ্রুত বহিষ্কার নীতি সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করছে। তার মতে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং কেন নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে তাদের জানানো হয় এবং জবাব দেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়। এর আগে নিম্ন আদালতের বিচারক জিয়া কব যুক্তি দিয়েছিলেন, প্রশাসন এমন কোনো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেনি যা নিশ্চিত করবে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ব্যক্তিরা ভুলবশত দ্রুত বহিষ্কারের শিকার হবেন না। তিনি এমন কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করেন, যেখানে দুই বছরের বেশি সময় ধরে দেশে অবস্থানকারী ব্যক্তিদেরও দ্রুত বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। আপিল আদালত স্বীকার করেছে যে কিছু ক্ষেত্রে ভুল হয়েছে। তবে আদালতের মতে, এসব ঘটনা পৃথক কর্মকর্তাদের আইন অনুসরণে ব্যর্থতার ফল, নীতিগত বা প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে নয়। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলায় দ্রুত বহিষ্কার ব্যবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। বিচার বিভাগ আদালতে বলেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিবাসনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় এই নীতি প্রশাসনকে আরও কার্যকরভাবে বহিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করবে। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে গ্রিন কার্ডধারীদের বহিষ্কারের ক্ষেত্রে ফেডারেল সীমান্ত কর্মকর্তাদের ক্ষমতা আরও বাড়িয়েছে। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশ সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় কোনো গ্রিন কার্ডধারীর বিরুদ্ধে ‘নৈতিক স্খলনমূলক অপরাধে’ (মোরাল টারপিটিউড) জড়িত থাকার যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ থাকলেই তাকে দেশে প্রবেশে বাধা দেওয়া সহজ হবে। মঙ্গলবার ৬-৩ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, সীমান্ত কর্মকর্তাদের আর স্পষ্ট ও শক্ত প্রমাণ দিয়ে দেখাতে হবে না যে কোনো গ্রিন কার্ডধারী প্রকৃতপক্ষে এমন অপরাধ করেছেন। কর্মকর্তাদের কাছে বিশ্বাস করার মতো যথেষ্ট কারণ থাকলেই তারা ওই ব্যক্তির যুক্তরাষ্ট্রে পুনঃপ্রবেশের অধিকার প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারবেন। বিচারপতি ক্লারেন্স থমাস সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে বলেন, বিদ্যমান অভিবাসন আইন সরকারকে অপরাধের বিষয়টি ‘স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ’ দিয়ে প্রতিষ্ঠা করার বাধ্যবাধকতা দেয় না। এই রায়কে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় আইনি সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশবন্দরগুলোতে গ্রিন কার্ডধারীদের স্থায়ী বাসিন্দা মর্যাদা বাতিল বা সীমিত করার ক্ষেত্রে সীমান্ত কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। মামলাটি করেছিলেন চীনা নাগরিক ও যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারী মুক চই লাউ। ২০১২ সালে চীন সফর শেষে নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফেরার সময় নিউ জার্সিতে ট্রেডমার্ক জালিয়াতি সংক্রান্ত অভিযোগের কারণে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরে তিনি শর্তসাপেক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলেও এক বছর পর ওই অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন এবং তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারের আদেশ জারি করা হয়। লাউ দাবি করেছিলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ‘নৈতিক স্খলনমূলক অপরাধ’ হিসেবে গণ্য হওয়ার কথা নয়। তবে সুপ্রিম কোর্ট তার যুক্তি গ্রহণ করেনি। ভিন্নমত পোষণকারী বিচারপতি কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন বলেন, সরকারকে প্রথমে প্রমাণ করতে হবে যে কোনো ব্যক্তি সত্যিই অপরাধ করেছেন, তারপরই তার গ্রিন কার্ডধারী মর্যাদা বাতিল করা যেতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে সরকারকে অত্যন্ত বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে অভিবাসীদের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে। তার সঙ্গে বিচারপতি সোনিয়া সোটোমেয়র ও এলেনা কেগানও একমত হন। অভিবাসন ইস্যুতে সরকারের পক্ষে দুটি গুরুত্বপূর্ণ রায় এলেও একই দিনে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের আরেকটি নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার জেলা আদালতের বিচারক পি. কেসি পিটস দেশব্যাপী একটি নিষেধাজ্ঞা জারি করে বলেন, অভিবাসন আদালতে হাজির হওয়া ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করার নীতি এবং ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আটক রাখার নীতি আইনবিরোধী। ৭১ পৃষ্ঠার রায়ে তিনি উল্লেখ করেন, প্রশাসন এসব নীতি গ্রহণের ক্ষেত্রে যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং প্রশাসনিক আইন লঙ্ঘন করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সময় থেকেই অভিবাসন আদালতের বাইরে আইসিই কর্মকর্তাদের অবস্থান এবং শুনানিতে অংশ নিতে আসা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের ঘটনা বাড়তে থাকে। সমালোচকদের মতে, এতে অভিবাসীরা আদালতে হাজির হতে ভয় পান এবং ন্যায়বিচার প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিচারক পিটস বলেন, আইসিই যাদের গ্রেপ্তার করছে তারা অন্য কোনো অপরাধে অভিযুক্ত নন। যে অভিবাসন মামলার শুনানির জন্য তারা আদালতে আসছেন, সেই মামলার কারণেই তাদের আটক করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় আটক রাখার নীতি পঞ্চম সংশোধনীর অধীনে ব্যক্তির সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করছে। এই রায়ের ফলে আপাতত দেশজুড়ে অভিবাসন আদালতে গ্রেপ্তার অভিযান এবং নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত আটক রাখার নীতি স্থগিত থাকবে। তিনটি রায় একসঙ্গে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের আদালতগুলো অভিবাসন প্রশ্নে একক অবস্থানে নেই। জাতীয় নিরাপত্তা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের ক্ষমতা কতদূর বিস্তৃত হতে পারে এবং সেই ক্ষমতার মুখে ব্যক্তির সাংবিধানিক অধিকার কতটা সুরক্ষিত থাকবে, তা নিয়ে বিভিন্ন আদালতে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যাচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট ও আপিল আদালতের সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের বহিষ্কার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে গ্রিন কার্ডধারী এবং অনথিভুক্ত অভিবাসীদের ক্ষেত্রে সরকারের প্রয়োগক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার রায় দেখিয়েছে, আদালত এমন পদক্ষেপে হস্তক্ষেপ করতে প্রস্তুত, যা অভিবাসীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ সীমিত করতে পারে। আনন্দ বালাকৃষ্ণন বলেছেন, দ্রুত বহিষ্কার নীতির সম্প্রসারণ এমন একটি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে যেখানে ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি রয়েছে এবং অনেক অভিবাসী পূর্ণাঙ্গ আইনি শুনানির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। তার মতে, বিচারিক পর্যালোচনার সুযোগ সীমিত হয়ে গেলে বৈধভাবে বসবাসরত অনেক মানুষও ভুলবশত বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। অন্যদিকে অভিবাসন অধিকারবিষয়ক সংগঠন অ্যালায়েন্স ফর জাস্টিস মনে করছে, সুপ্রিম কোর্টের ‘ব্ল্যাঞ্চ বনাম লাউ’ রায় সরকারের হাতে গ্রিন কার্ডধারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা আরও বিস্তৃত করেছে। সংগঠনটির মতে, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য নতুন ধরনের আইনি অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। সুপ্রিম কোর্টের ভিন্নমত দেওয়া বিচারপতি কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসনও রায়ের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, আদালতের সিদ্ধান্ত সরকারের হাতে একটি ‘বড় ধরনের খালি চেক’ তুলে দিয়েছে, যার ফলে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগেই তার স্থায়ী আবাসিক মর্যাদা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। অন্যদিকে অভিবাসন আদালত প্রাঙ্গণে গ্রেপ্তারবিরোধী মামলায় জয়ী অধিকারকর্মীরা বলছেন, আদালতের এই সিদ্ধান্ত অভিবাসীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা তৈরি করেছে। তাদের মতে, আদালতে উপস্থিত হওয়ার কারণে গ্রেপ্তারের আশঙ্কা থাকলে ন্যায়বিচার পাওয়ার পুরো প্রক্রিয়াই বাধাগ্রস্ত হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতের রায় সেই আশঙ্কা কমাতে সহায়তা করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) বহুল আলোচিত অভিবাসী আটক কেন্দ্র সম্প্রসারণ প্রকল্প থেকে সরে আসছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কেনা ১১টি শিল্প গুদামের মধ্যে ৭টিই বিক্রি অথবা অন্য ফেডারেল সংস্থার কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। অভিবাসন আটক ব্যবস্থাকে বড় পরিসরে পুনর্গঠনের লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে ইতোমধ্যে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য ছিল বিদ্যমান ব্যবস্থার বাইরে নতুন বড় পরিসরের আটক কেন্দ্র গড়ে তোলা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, তারা এখন স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত বিদ্যমান আটক কেন্দ্রগুলোকেই অগ্রাধিকার দেবে। সংস্থাটির ভাষ্য, আটক ব্যক্তিদের দ্রুত অপসারণই প্রধান লক্ষ্য, নতুন অবকাঠামো নির্মাণে অতিরিক্ত ব্যয় নয়। এক বিবৃতিতে ডিএইচএস বলেছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো উচিত। করদাতাদের অর্থ ব্যয় করে দীর্ঘ সময় তাদের আটক রাখার প্রয়োজন নেই। এই সিদ্ধান্তের ফলে আইসের ‘ডিটেনশন রি-ইঞ্জিনিয়ারিং ইনিশিয়েটিভ’ নামে পরিচিত ৩৮ বিলিয়ন ডলারের বৃহৎ পরিকল্পনা কার্যত স্থগিত হয়ে গেল। পরিকল্পনাটির লক্ষ্য ছিল ২০০টির বেশি আটক কেন্দ্রকে সংকুচিত করে ৩৪টি ফেডারেল নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্র গড়ে তোলা। ট্রাম্প প্রশাসন আগে জানিয়েছিল, অভিবাসী আটক সক্ষমতা বৃদ্ধি তার গণ-নির্বাসন নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে নতুন গুদামগুলোকে আটক কেন্দ্রে রূপান্তর করার প্রক্রিয়া প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে পড়ে। এ প্রকল্প স্থানীয় পর্যায়েও ব্যাপক বিরোধিতার মুখে পড়ে। মিশিগান, নিউ জার্সি, মেরিল্যান্ড, জর্জিয়া ও ইউটাহসহ একাধিক অঙ্গরাজ্যে স্থানীয় প্রশাসন এবং অধিকারকর্মীরা পরিবেশগত ও অবকাঠামোগত ঝুঁকির বিষয় তুলে ধরে মামলা করেন। এর ফলে কয়েকটি আদালত নির্মাণকাজ স্থগিতের নির্দেশ দেয়। সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয় মিশিগানের রোমুলাস শহরের একটি বড় গুদামকে ঘিরে। সেখানে প্রায় ৫০০ জনকে রাখার পরিকল্পনা ছিল। পরে মিশিগানের অ্যাটর্নি জেনারেল ডানা নেসেল এই সিদ্ধান্তকে জনচাপ ও আইনি লড়াইয়ের ফলাফল বলে মন্তব্য করেন। বর্তমানে ডিএইচএস জানিয়েছে, মিশিগান, নিউ জার্সি, পেনসিলভানিয়া, জর্জিয়া এবং ইউটাহর কয়েকটি সম্পত্তি বিক্রি অথবা প্রকল্প বাতিল করা হবে। তবে টেক্সাস, অ্যারিজোনা এবং মেরিল্যান্ডে কিছু প্রকল্প এখনও চলমান রয়েছে। অন্যদিকে, আইস এখন বেসরকারি আটক কেন্দ্র পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে নতুন সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংস্থাটির আগে থেকেই চুক্তি রয়েছে।
মালয়েশিয়া ২৮ জন বাংলাদেশিসহ মোট ১৭৫ জন অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) দেশটির জোহর রাজ্যের অভিবাসন বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তাদের জানানো হয়, জোহরের পেকান নেনাস অভিবাসন আটক কেন্দ্রে থাকা বিদেশি নাগরিকদের নিয়মিতভাবে নিজ দেশে পাঠানো হচ্ছে। যেসব অভিবাসী তাদের দণ্ড ভোগ শেষ করেছেন, তাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করাই এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য। চলতি বছরের এপ্রিল মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এই কেন্দ্র থেকে মোট ১৭৫ জনকে ফেরত পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার ১৩৬ জন, বাংলাদেশের ২৮ জন, ভারতের ৪ জন, থাইল্যান্ডের ২ জন, কম্বোডিয়ার ২ জন এবং ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা ও স্পেনের একজন করে নাগরিক। প্রত্যাবাসনের সময় তাদের বিভিন্ন পথ দিয়ে নিজ দেশে পাঠানো হয়, যার মধ্যে ছিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও নৌপথের যাত্রীঘাট। এই যাতায়াত ব্যয় বিভিন্ন উৎস থেকে বহন করা হয়েছে। কেউ নিজ খরচে, কেউ পরিবারের সহায়তায় এবং কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসের সহযোগিতায় দেশে ফিরেছেন। ফেরত পাঠানো সব অভিবাসীর নাম মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত তারা আর কোনোভাবেই মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে পারবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।