সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

আইসিই কর্মকর্তাদের মুখ ঢাকার বিধিনিষেধ নিয়ে নিউ জার্সির বিরুদ্ধে ডিওজের মামলা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১০:৪৩
নিউ জার্সিতে আইসিই কর্মকর্তাদের মুখ ঢাকার বিধিনিষেধ নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ডিওজে
নিউ জার্সিতে আইসিই কর্মকর্তাদের মুখ ঢাকার বিধিনিষেধ নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ডিওজে

নিউ জার্সিতে দায়িত্ব পালনের সময় ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের মুখ ঢাকার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা রাজ্য আইনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস (ডিওজে)। মামলাটি ফেডারেল ও রাজ্য সরকারের ক্ষমতার সীমা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন সামনে এনেছে।


নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিল গত ২৫ মার্চ ২০২৬ একটি আইনে স্বাক্ষর করেন। এতে দায়িত্ব পালনের সময় আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের মুখ ঢাকার ওপর নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। রাজ্য সরকারের মতে, এর উদ্দেশ্য হলো কর্মকর্তাদের পরিচয় স্পষ্ট রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দায়িত্ব পালনে জবাবদিহি বাড়ানো।


রাজ্য কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সময় কর্মকর্তাদের পরিচয় পরিষ্কারভাবে জানা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অভিবাসনসংক্রান্ত কার্যক্রমের সময় এই বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে নিউ জার্সি।


তবে ২৯ এপ্রিল ডিওজে নিউ জার্সির বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা করে। বিচার বিভাগের দাবি, রাজ্য সরকার ফেডারেল কর্মকর্তারা কীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন, তা নির্ধারণ করতে পারে না।


ডিওজের মতে, মুখ ঢাকার সুযোগ সীমিত করার মতো বিধিনিষেধ ফেডারেল কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে এসব নিয়ম তাদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি করতে পারে বলে জানিয়েছে বিচার বিভাগ।


মামলাটি নিউ জার্সিতে ফেডারেল অভিবাসন কার্যক্রম নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের চলমান মতবিরোধের অংশ। এর আগে রাজ্যের আরেকটি নির্বাহী আদেশ নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে নিউ জার্সির আইনি বিরোধ হয়েছিল।


ওই আদেশে নির্দিষ্ট কিছু রাজ্য সম্পত্তিতে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের প্রবেশ এবং সেখানে ফেডারেল সিভিল ইমিগ্রেশন কার্যক্রম পরিচালনার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল।


তবে ওই মামলায় নিউ জার্সি আদালতের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পেয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নিউ জার্সির ফেডারেল জেলা আদালত রাজ্যের ওই নির্বাহী আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে করা মামলাটি খারিজ করে দেয়। পরে গভর্নর ও রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল এই সিদ্ধান্তকে নিজেদের অবস্থানের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন।


নতুন মামলাটি অবশ্য ভিন্ন একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে—একটি রাজ্য কতটা পর্যন্ত ফেডারেল কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। বিশেষ করে কর্মকর্তাদের মুখ ঢাকার মতো বিষয়ে রাজ্য সরকারের বিধিনিষেধ কতটা কার্যকর হতে পারে, সেটিই এখন আদালতের বিবেচনার বিষয়।


ফেডারেল ও রাজ্য সরকারের এই বিরোধ নিউ জার্সির অভিবাসী কমিউনিটির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, অভিবাসন কার্যক্রমের সময় কর্মকর্তাদের পরিচয়, নিরাপত্তা ও জবাবদিহি নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন অবস্থান ভবিষ্যতে কীভাবে কার্যকর হবে, তা আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ, সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা রাজ্যগুলোর তালিকায় ফ্লোরিডা
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ, সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা রাজ্যগুলোর তালিকায় ফ্লোরিডা

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য ফ্লোরিডা এখন অন্যতম নিকৃষ্ট একটি অঙ্গরাজ্য। সম্প্রতি আর্থিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ওয়ালেটহাব (WalletHub)-এর পরিচালিত নতুন একটি গবেষণায় এই হতাশার চিত্র উঠে এসেছে। কর্মসংস্থানের বাজার এবং অর্থনৈতিক প্রাণশক্তির ৩৪টি ভিন্ন ভিন্ন সূচকের ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে তুলনা করে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, চাকরির বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ফ্লোরিডার অবস্থান তালিকার ৪৭ নম্বরে, অর্থাৎ এটি চাকরি খোঁজার জন্য চতুর্থ নিকৃষ্ট অঙ্গরাজ্য।   ওয়ালেটহাবের দেওয়া তথ্যমতে, অন্যান্য সূচকের পাশাপাশি শুধুমাত্র 'কর্মসংস্থান বৃদ্ধি' বা এমপ্লয়মেন্ট গ্রোথের দিক থেকে ফ্লোরিডার অবস্থা সবচেয়ে করুণ এবং ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে এর অবস্থান একেবারে তলানিতে। ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপো জানান, চাকরির জন্য সেরা অঙ্গরাজ্যগুলো দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা প্রদান করে, যা ভবিষ্যতের যেকোনো অর্থনৈতিক উত্থান-পতন সামলাতে সাহায্য করে।   এসব অঙ্গরাজ্যে চাকরি পাওয়া এবং তা টিকিয়ে রাখা তুলনামূলক সহজ হওয়ার পাশাপাশি নিয়োগকর্তারাও আকর্ষণীয় বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকেন। এই সমীক্ষায় কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার থেকে শুরু করে মানুষের বার্ষিক গড় আয় এবং কর্মস্থলে পৌঁছানোর গড় যাতায়াত সময় পর্যন্ত বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।   জীবনবৃত্তান্ত আপডেট করা, রেফারেন্সের সাথে যোগাযোগ করা এবং ইন্টারভিউ দেওয়া—চাকরি খোঁজার পুরো প্রক্রিয়াটি এমনিতেই বেশ কঠিন। তবে এই কঠিন প্রক্রিয়ার মধ্যেও কিছু অঙ্গরাজ্য চাকরিপ্রার্থীদের জন্য দারুণ সম্ভাবনাময়। সমীক্ষা অনুযায়ী, চাকরির বাজারের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ তিনটি অঙ্গরাজ্য হলো নেব্রাস্কা, নর্থ ডাকোটা এবং মিনেসোটা।   এর মধ্যে নেব্রাস্কা প্রথম স্থানে রয়েছে কারণ সেখানে বেকারত্বের হার দেশের মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন, প্রতি বছর সেখানে চাকরির সুযোগ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে এবং একবার চাকরি পেলে তা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৪:২৬
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির বাজারে ধস, কিনতে লাগবে ৮১ হাজার ডলারের বেশি অগ্রিম

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির বাজারে ধস, কিনতে লাগবে ৮১ হাজার ডলারের বেশি অগ্রিম

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আল-ফালাহ সুপার মার্কেট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

আটলান্টার বাংলাদেশি কমিউনিটির জনপ্রিয় সুপার মার্কেট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রে ইলহান ওমরকে নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের বিভক্তি, প্রতিবাদী চিঠিতে সই করেননি ৪০ জন

যুক্তরাষ্ট্রে ইলহান ওমরকে নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের বিভক্তি, প্রতিবাদী চিঠিতে সই করেননি ৪০ জন

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় করোনা মহামারীর সময় শিশুদের খাবার সরবরাহের তহবিল জালিয়াতির মামলায় সালিম সাঈদের ৪০ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছেন প্রসিকিউটররা। ছবি: সংগৃহীত
২৫ কোটি ডলারের ত্রাণ জালিয়াতি, সালিম সাঈদের ৪০ বছরের কারাদণ্ড চাইছে মার্কিন সরকার

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে করোনা মহামারির সময় শিশুদের খাবার সরবরাহের জন্য বরাদ্দ করা প্রায় ২৫ কোটি ডলারের তহবিল জালিয়াতির মামলায় সালিম সাঈদের বিরুদ্ধে ৪০ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছে ফেডারেল প্রসিকিউটররা। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে তাঁর সাজা ঘোষণার কথা রয়েছে। মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে মহামারিকালীন সরকারি তহবিল জালিয়াতির অন্যতম আলোচিত বিচারিক কার্যক্রম।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স ৯-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সালিম সাঈদকে এই জালিয়াতি চক্রের অন্যতম প্রধান সংগঠক হিসেবে বিবেচনা করছেন প্রসিকিউটররা। আদালতে দাখিল করা সাজাসংক্রান্ত আবেদনে তাঁকে পুরো জালিয়াতি কার্যক্রমের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের যুক্তি, অপরাধের ব্যাপকতা এবং সরকারি অর্থের অপব্যবহারের গুরুত্ব বিবেচনায় তাঁর দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড হওয়া প্রয়োজন।   সালিম সাঈদ মিনিয়াপোলিসের সাফারি রেস্টুরেন্টের সাবেক সহমালিক। ২০২০ সালের এপ্রিলে তাঁর রেস্টুরেন্টটি ফিডিং আওয়ার ফিউচার কর্মসূচির আওতায় শিশুদের খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে যুক্ত হয়। করোনা মহামারির সময় শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার এই কর্মসূচির মাধ্যমে অর্থায়ন করেছিল।   মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাঈদ ও তাঁর সহযোগীরা প্রকৃতপক্ষে যত খাবার সরবরাহ করা হয়েছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি খাবার বিতরণের দাবি করে সরকারি অর্থ নেন। এ জন্য ভুয়া হাজিরা তালিকা, শিশুদের নাম ও বয়সসংবলিত নথি এবং অতিরঞ্জিত খাবার বিতরণের হিসাব ব্যবহার করা হয়েছিল বলে আদালতে প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, সাফারি রেস্টুরেন্টের মাধ্যমে সাঈদ প্রতিদিন হাজার হাজার শিশুকে খাবার দেওয়ার দাবি করেছিলেন। কিন্তু তদন্তকারীদের নজরদারিতে রেস্টুরেন্টটিতে বাস্তবে উপস্থিত মানুষের সংখ্যা ছিল দাবির তুলনায় অনেক কম। এভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে পাওয়া অর্থ ব্যক্তিগত সম্পদ ও বিলাসবহুল জীবনযাপনে ব্যয় করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।   ২০২৫ সালের ১৯ মার্চ ছয় সপ্তাহের বিচার শেষে ফেডারেল জুরি সাঈদকে ২১টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। এসব অভিযোগের মধ্যে ছিল ওয়্যার ফ্রড, অর্থাৎ ইলেকট্রনিক যোগাযোগের মাধ্যমে জালিয়াতি, জালিয়াতির ষড়যন্ত্র, সরকারি কর্মসূচিসংশ্লিষ্ট ঘুষ এবং মানি লন্ডারিং।   এই মামলায় ফিডিং আওয়ার ফিউচারের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক অ্যাইমি বকও দোষী সাব্যস্ত হন। ২০২৬ সালের মে মাসে তাঁকে ৫০০ মাস, অর্থাৎ ৪১ বছর ৮ মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত। তাঁর বিরুদ্ধে প্রসিকিউটররা ৫০ বছরের সাজা চেয়েছিলেন।   ফিডিং আওয়ার ফিউচার মামলায় করোনা মহামারির সময় শিশুদের পুষ্টি কর্মসূচির অর্থ কীভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছিল, তা তদন্তে উঠে আসে। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির আওতায় মিনেসোটাজুড়ে ২৫০টির বেশি খাবার বিতরণকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছিল। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থের ভুয়া দাবি জমা দেওয়া হয়।   সালিম সাঈদের সাজা ঘোষণার শুনানিতে সভাপতিত্ব করার কথা বিচারক ন্যান্সি ব্রাসেলের। তবে প্রসিকিউটরদের ৪০ বছরের কারাদণ্ডের আবেদনই চূড়ান্ত সাজা নয়। আদালত শুনানি ও প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করে সাজা নির্ধারণ করবেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৩:৩৫
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর বরফঢাকা পাহাড়ে নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী, মিলল শুধু ধসে পড়া তাঁবু

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর বরফঢাকা পাহাড়ে নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী, মিলল শুধু ধসে পড়া তাঁবু

নিউইয়র্কের কুইন্স প্যালেসে প্রবাসীদের দক্ষতা ও সহায়তার লক্ষ্যে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে পালন করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে আজ প্রবাসীদের জন্য বিশেষ আয়োজন, চাকরি প্রস্তুতি থেকে অভিবাসন ও আইনি সচেতনতা সব একত্রে

ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে মাঠে নেমেছে ক্যারিবীয় কমিউনিটির একটি সংগঠন।

নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভোটের লড়াইয়ে নামছে নিউইয়র্কের অভিবাসী কমিউনিটি

স্ট্রিমিং সার্ভিসের সাবস্ক্রিপশন ফি বেড়ে যাওয়ায় খরচ কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছেন মার্কিন গ্রাহকরা। ছবি: সংগৃহীত
দাম বাড়ায় স্ট্রিমিং থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন মার্কিনরা, খরচ কমাতে বাতিল হচ্ছে একের পর এক সাবস্ক্রিপশন

যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইন স্ট্রিমিং সেবার সাবস্ক্রিপশন ফি বাড়তে থাকায় খরচ কমানোর দিকে ঝুঁকছেন অনেক গ্রাহক। নেটফ্লিক্স, ডিজনি প্লাসসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত অর্থ খরচের চাপ সামলাতে কেউ সাবস্ক্রিপশন বাতিল করছেন, কেউ কম দামের বিজ্ঞাপনযুক্ত প্যাকেজ বেছে নিচ্ছেন, আবার কেউ বিনা মূল্যের স্ট্রিমিং সেবায় চলে যাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জরিপেও বিনোদন খাতে বাড়তি ব্যয় নিয়ে গ্রাহকদের অসন্তোষের চিত্র উঠে এসেছে।   নিউ জার্সিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এনজে ডটকমের ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্ট্রিমিং সেবার বাড়তি খরচের কারণে গ্রাহকদের সাবস্ক্রিপশন ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা তুলে ধরা হয়েছে।   রিভিউজ ডটঅর্গের ২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, গত ১২ মাসে স্ট্রিমিং সেবার দাম বাড়ার কারণে ৫২ শতাংশ উত্তরদাতা কোনো একটি সেবার সাবস্ক্রিপশন বাতিল করেছেন অথবা কম খরচের প্যাকেজে পরিবর্তন করেছেন। একই জরিপে ৪৩ শতাংশ জানিয়েছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে অন্তত একটি স্ট্রিমিং সেবার সাবস্ক্রিপশন বাতিল করার সম্ভাবনা রয়েছে।   এক হাজার মার্কিন নাগরিকের ওপর পরিচালিত ওই জরিপে আরও দেখা যায়, একজন মার্কিন গ্রাহক গড়ে প্রায় তিনটি পেইড স্ট্রিমিং সেবা ব্যবহার করেন। ফলে একাধিক প্ল্যাটফর্মের মাসিক বিল একসঙ্গে যোগ হয়ে অনেক পরিবারের বিনোদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।   সাবস্ক্রিপশন বাতিল করলেও অনেক গ্রাহক স্থায়ীভাবে কোনো প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে যাচ্ছেন না। জরিপে ৫৫ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, আগে বাতিল করা কোনো স্ট্রিমিং সেবায় পরে আবার সাবস্ক্রাইব করেছেন। অন্যদিকে, ৪৮ শতাংশ বলেছেন, নির্দিষ্ট কোনো অনুষ্ঠান বা খেলা দেখার জন্য সাবস্ক্রিপশন নিয়ে পরে তা বাতিল করেছেন।   খরচ কমানোর আরেকটি উপায় হিসেবে বিজ্ঞাপনযুক্ত প্যাকেজ জনপ্রিয় হচ্ছে। জরিপে ৩৮ শতাংশ উত্তরদাতা গত এক বছরে বিজ্ঞাপনবিহীন পেইড প্যাকেজ থেকে কম দামের বিজ্ঞাপনযুক্ত প্যাকেজে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি ৫৫ শতাংশ বলেছেন, বাড়তি সাবস্ক্রিপশনের খরচ বহন করা কঠিন হওয়ায় তাঁরা বিনা মূল্যের বিজ্ঞাপননির্ভর স্ট্রিমিং সেবা ব্যবহার করেন।   ইউটিউবের বিনা মূল্যের ভিডিও, টিউবি, দ্য রোকু চ্যানেল ও প্লুটো টিভির মতো প্ল্যাটফর্মগুলো এ ক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রচলিত টিভি চ্যানেল দেখার জন্যও কেউ কেউ ওভার দ্য এয়ার অ্যান্টেনা ব্যবহার করছেন।   স্ট্রিমিং সেবার দাম নিয়ে অসন্তোষ নতুন নয়। ইউগভের ২০২৫ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, গত ছয় মাসে ৪৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক তাঁদের স্ট্রিমিং সাবস্ক্রিপশনে পরিবর্তন এনেছেন। যাঁরা অন্তত একটি সাবস্ক্রিপশন বাতিল করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে ৬৬ শতাংশ দামকে বাতিলের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।   গ্রাহকদের এই প্রবণতা স্ট্রিমিং কোম্পানিগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে দর্শকেরা পছন্দের সিনেমা, সিরিজ ও খেলাধুলা দেখতে চান, অন্যদিকে একাধিক সেবার মাসিক খরচ তাঁদের বাজেটের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে কোন প্ল্যাটফর্মে কতটা সময় কাটাচ্ছেন এবং কোন সাবস্ক্রিপশন থেকে বাস্তবে কতটা সুবিধা পাচ্ছেন, তা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন অনেকে।   বিশ্লেষকদের মতে, গ্রাহকদের ধরে রাখতে স্ট্রিমিং কোম্পানিগুলোকে মূল্য নির্ধারণ, প্যাকেজের সুবিধা এবং কনটেন্টের মানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। অন্যথায়, গ্রাহকেরা প্রয়োজন অনুযায়ী এক প্ল্যাটফর্ম থেকে অন্য প্ল্যাটফর্মে চলে যাওয়ার প্রবণতা আরও বাড়াতে পারেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১২:৪৫
পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় শিশুদের ওপর নির্যাতন ও অবহেলার অভিযোগে এরিকা লিন সেয়ার ও ক্লিফোর্ড গেইল সেয়ার দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ভার্জিনিয়ায় ৩ শিশুকে হন্টেড বাড়িতে আটকে বছরের পর বছর নির্যাতন, দম্পতির বিরুদ্ধে গুরুতর মামলা

হ্যালোইন উৎসবে শিশুদের জন্য নানা আয়োজন

হ্যালোইন উৎসবে শিশুদের জন্য নানা আয়োজন, নিউইয়র্কে পরিবার নিয়ে আনন্দের সুযোগ

মূল্যস্ফীতি ও আবাসন ব্যয়ের চাপে যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের কম বয়সী প্রায় ৪৯ শতাংশ তরুণ-তরুণী বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকছেন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের কম বয়সীদের প্রায় অর্ধেকই থাকছেন বাবা-মায়ের সঙ্গে, বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়

0 Comments