সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

আইসিই এজেন্টের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ, ‘আক্রমণের’ আহ্বানে বিতর্কে ক্যালিফোর্নিয়ার অধ্যাপক

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ৮:৪৯
মাইক্রোফোন হাতে অভিবাসী অধিকার নিয়ে সরব অধ্যাপক মেলিনা আবদুল্লাহ
মাইক্রোফোন হাতে অভিবাসী অধিকার নিয়ে সরব অধ্যাপক মেলিনা আবদুল্লাহ

ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, লস অ্যাঞ্জেলেসের অধ্যাপক মেলিনা আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে এক আইসিই এজেন্টের পরিচয় ও সম্ভাব্য অবস্থান প্রকাশ করে তাকে লক্ষ্য করার আহ্বান জানানোর অভিযোগ উঠেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার অক্সনার্ডে রোববার এক সমাবেশে দেওয়া তাঁর বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।


প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, আবদুল্লাহ এক আইসিই এজেন্টের নাম উল্লেখ করে বলেন, ওই কর্মকর্তা অক্সনার্ডের একটি হোটেলে থাকতে পারেন। এরপর তাঁকে উদ্দেশ করে একাধিকবার অশালীন ভাষায় ‘ফাক হিম আপ’ মন্তব্য করেন। নিরাপত্তার কারণে এজেন্টটির সম্ভাব্য অবস্থানের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।


পরে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আবদুল্লাহ বলেন, তিনি ওই শব্দগুলো ‘অনেকভাবে’ বোঝাতে ব্যবহার করেছেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, আইসিই এজেন্টদের কর্মকাণ্ড গোপন রাখা উচিত নয়; বরং তাঁদের কার্যক্রম জনসমক্ষে তুলে ধরা দরকার। তবে নির্দিষ্ট একজন এজেন্টের পরিচয় ও সম্ভাব্য অবস্থান প্রকাশের পর এমন মন্তব্য করায় সমালোচকেরা এটিকে ওই কর্মকর্তার জন্য সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে দেখছেন।


ঘটনাটি ঘটে ‘লা ডিফেনসা দেল পুয়েবলো’ নামে একটি সম্মেলনে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিবাসী কমিউনিটির অধিকার এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট নীতির বিরুদ্ধে সংগঠিত হওয়ার লক্ষ্যেই এই আয়োজন করা হয়।


আবদুল্লাহ ক্যাল স্টেট এলএ-তে প্যান-আফ্রিকান স্টাডিজের অধ্যাপক এবং ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার লস অ্যাঞ্জেলেসের সহপ্রতিষ্ঠাতা। ভিডিও প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন।


যে আইসিই এজেন্টকে নিয়ে আবদুল্লাহ বক্তব্য দিয়েছেন, তিনি এর আগে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেসে দায়িত্বের বাইরে থাকা অবস্থায় একটি প্রাণঘাতী গুলির ঘটনায় জড়িত ছিলেন। ওই ঘটনায় কিথ পোর্টার জুনিয়র নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, পোর্টার একটি রাইফেল থেকে গুলি ছুড়ছিলেন এবং সংঘর্ষের একপর্যায়ে ওই এজেন্ট আত্মরক্ষায় গুলি চালান। এ ঘটনায় এজেন্টটির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনার তথ্য পাওয়া যায়নি।


তবে আবদুল্লাহর সাম্প্রতিক বক্তব্যের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে কি না, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি। একইভাবে তাঁর মন্তব্য আইনগতভাবে সহিংসতায় উসকানির পর্যায়ে পড়ে কি না, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও আদালতের বিবেচনার ওপর নির্ভর করবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউ ইয়র্ক সিটিতে গত ১৫ বছরে সন্তানদের প্রচলিত স্কুলের পরিবর্তে ঘরে বসেই হোমস্কুলিং করানোর প্রবণতা ২০০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউ ইয়র্কে হোমস্কুলিং বেড়েছে ২০০%, স্কুলব্যবস্থা নিয়ে হতাশ হয়ে মুখ ফিরাচ্ছে পরিবারগুলো

নিউ ইয়র্ক সিটিতে সন্তানদের হোমস্কুলিং করানোর প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। গত ১৫ বছরে নগরীতে হোমস্কুলিং করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০০ শতাংশের বেশি বেড়েছে বলে নিউ ইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউ ইয়র্কের বিভিন্ন শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে হোমস্কুলিংয়ের বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি। ক্রমবর্ধমান এই প্রবণতায় অনেক বাবা-মা সন্তানদের প্রচলিত স্কুলে পাঠানোর পরিবর্তে ঘরে বসেই পড়াশোনার ব্যবস্থা করছেন।   অভিভাবকদের এই সিদ্ধান্তের পেছনে বিভিন্ন কারণ কাজ করছে। সন্তান কী শিখবে, কীভাবে শিখবে এবং পড়াশোনার পরিবেশ কেমন হবে, সে বিষয়ে বাড়তি নিয়ন্ত্রণ রাখার সুযোগকে অনেকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। পাশাপাশি প্রচলিত স্কুলব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষও কিছু পরিবারের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।   নিউ ইয়র্কে হোমস্কুলিংয়ের এই বৃদ্ধি শুধু একটি শিক্ষাপদ্ধতির পরিবর্তন নয়, বরং সন্তানদের শিক্ষা ও বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিয়ে অভিভাবকদের অগ্রাধিকার বদলেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে।   তবে হোমস্কুলিংয়ের সঙ্গে বাড়তি দায়িত্বও রয়েছে। নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগ, বয়সভিত্তিক শেখার সুযোগ এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত মান নিশ্চিত করাও অভিভাবকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।   নিউbইয়র্কে হোমস্কুলিংয়ের সংখ্যা বাড়তে থাকায় আগামী দিনে নগরীর শিক্ষা ব্যবস্থায় এর প্রভাব কতটা পড়ে, সেটিও নজরে রাখার বিষয় হয়ে উঠেছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ৯:১৩
মাইক্রোফোন হাতে অভিবাসী অধিকার নিয়ে সরব অধ্যাপক মেলিনা আবদুল্লাহ

আইসিই এজেন্টের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ, ‘আক্রমণের’ আহ্বানে বিতর্কে ক্যালিফোর্নিয়ার অধ্যাপক

নিউইয়র্কের পাঁচ বরোতেই মিলছে বিনামূল্যে খাবার ও গ্রোসারি

নিউইয়র্কে টাকা ছাড়াই খাবার! ৮০০ জায়গায় মিলছে ফ্রি গ্রোসারি, জানুন ঠিকানা ও সময়

মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এআই—নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কায় পদত্যাগ এআই গবেষকের

‘এআই মানুষকে শেষ করে দিতে পারে’, আশঙ্কায় অ্যানথ্রপিক গবেষকের পদত্যাগ

৯/১১ হামলায় নিহতদের স্মরণে স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন এক দর্শনার্থী
‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’! বিদেশির চেয়ে দেশের উগ্রপন্থীদের বেশি ভয় মার্কিনদের

যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর চেয়ে দেশের অভ্যন্তরে থাকা উগ্রপন্থীদেরই বড় হুমকি মনে করছেন বেশি মানুষ। রয়টার্স/ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি কোনটি। এতে ৩৩ শতাংশ মানুষ ‘দেশীয় সন্ত্রাসবাদ’কে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। ২০ শতাংশ বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে হুমকি মনে করেন। আর ৪২ শতাংশের মতে, গণগুলির মতো নির্বিচার সহিংসতাই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। গত ২৮ থেকে ৩১ আগস্ট অনলাইনে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ১ হাজার ১৬৭ জনের মধ্যে এই জরিপ চালানো হয়। দেশীয় উগ্রপন্থার বিষয়ে মানুষের উদ্বেগ আরও স্পষ্ট হয়েছে আরেকটি প্রশ্নে। আদর্শ বা রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে সংঘটিত হামলার ক্ষেত্রে ৬১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক দেশের অভ্যন্তরের উগ্রপন্থীদের বেশি বড় হুমকি মনে করেন। বিপরীতে, ৩৪ শতাংশ বিদেশি উগ্রপন্থীদের বড় হুমকি হিসেবে দেখেছেন। জরিপে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে গত কয়েক বছরে বিভিন্ন ধরনের দেশীয় সন্ত্রাসী হামলা ও রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা মানুষের এই উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এর মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে হত্যাচেষ্টার ঘটনা, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ড এবং ২০১৬ সালে ফ্লোরিডার একটি সমকামী নাইটক্লাবে হামলায় ৪৯ জন নিহত হওয়ার ঘটনাও রয়েছে। এদিকে ৯/১১ হামলার প্রভাবও এখনো মার্কিনদের মধ্যে রয়ে গেছে। জরিপে ১০ জনের মধ্যে প্রায় ছয়জন জানিয়েছেন, তারা এখনো মাঝেমধ্যে ৯/১১-এর সন্ত্রাসী হামলার কথা ভাবেন। একই সংখ্যক মানুষ বলেছেন, ভবিষ্যতে একই ধরনের বড় কোনো হামলা হলে এর জবাবে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়াকে তারা সমর্থন করবেন। তবে ৯/১১-এর পর যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধে যাওয়াকে অনেকেই সমর্থন করেন না। জরিপে ৪৮ শতাংশ বলেছেন, আফগানিস্তান যুদ্ধের জন্য যে মূল্য দিতে হয়েছে তা সার্থক ছিল না। বিপরীতে মাত্র ২১ শতাংশ এটিকে সার্থক মনে করেন। ইরাক যুদ্ধের ক্ষেত্রেও ৫১ শতাংশ মানুষ অসন্তোষ জানিয়েছেন, আর সমর্থন করেছেন ২১ শতাংশ। ৯/১১ হামলার ২৫ বছর পরও মানুষের জীবনযাত্রায় এর স্থায়ী প্রভাব রয়েছে বলে মনে করেন বেশির ভাগ মার্কিন নাগরিক। গ্যালাপের আলাদা এক জরিপে ৬৪ শতাংশ মানুষ বলেছেন, ওই হামলার কারণে মানুষের জীবনযাপনের ধরন স্থায়ীভাবে বদলে গেছে। ১০ বছর পর এই মত পোষণ করেছিলেন ৫৮ শতাংশ এবং পঞ্চম বার্ষিকীতে ৫৩ শতাংশ মানুষ। তবে নিজেদের জীবনযাত্রা স্থায়ীভাবে বদলে ফেলেছেন—এমনটা বলেছেন মাত্র ২৮ শতাংশ মানুষ। নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও মার্কিনদের মধ্যে কঠোর অবস্থানের সমর্থন রয়েছে। রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে সন্ত্রাসী হামলা ঠেকাতে ৯/১১-এর পর ফেডারেল সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ কিছুটা কার্যকর হয়েছে। বিমানবন্দরে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টিও বেশির ভাগ মানুষ সমর্থন করেন। ডেমোক্র্যাটদের ৭১ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের ৭৫ শতাংশ মনে করেন, ৯/১১-এর পর বিমানবন্দরে বাড়ানো নিরাপত্তা ভ্রমণকারীদের জন্য তৈরি হওয়া অতিরিক্ত ঝামেলার তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়ে মানুষের সমর্থন কম। ট্রাম্প প্রশাসনের বিবেচনায় থাকা এই প্রস্তাবকে ২৩ শতাংশ মানুষ সমর্থন করেছেন, আর ৪৮ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন। এ ছাড়া ২০০১ সালের পর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরদারি ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিও জনপ্রিয় নয়। ৬৫ শতাংশ মানুষ বলেছেন, আদালতের অনুমতি ছাড়া মার্কিন নাগরিকদের ইলেকট্রনিক যোগাযোগ নজরদারি করার সুযোগ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে দেওয়া উচিত নয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ৬:৫৪
ওহাইওতে এক মাসব্যাপী বিশেষ অভিযানে ৭৯ নিখোঁজ ও ঝুঁকিতে থাকা শিশুকে উদ্ধার করেছে ইউএস মার্শালস

এক দশক অপহৃত ছিলেন, পালিয়ে বেঁচে ফেরা আমান্ডার সহায়তায় নিখোঁজ ৭৯ শিশু উদ্ধার

চাঁদের পাশাপাশি জলপথ হরমুজ প্রণালী নিয়েও আমেরিকার মালিকানার ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প

এবার চাঁদের মালিকানাও দাবি ট্রাম্পের, ‘চাঁদ আমাদের’ পোস্ট ঘিরে নতুন বিতর্ক

অবসর জীবনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ছোট শহরের তালিকায় এগিয়ে পেনসিলভানিয়া, শীর্ষে ক্যাম্প হিল

অবসরের জন্য সেরা ছোট শহরের তালিকায় ক্যালিফোর্নিয়া নেই, এগিয়ে পেনসিলভানিয়া

নিরাপত্তার জন্য বাড়তি দাম দিতেও প্রস্তুত মার্কিনরা, বাড়ছে গেটেড কমিউনিটির চাহিদা
নিরাপত্তার জন্য গেটেড কমিউনিটিতে বাড়ির বেশি দাম দিতেও রাজি অর্ধেক আমেরিকানরা

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা এখন অনেকের কাছে বড় বিবেচনার বিষয় হয়ে উঠছে। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক নিয়ন্ত্রিত প্রবেশপথ বা গেটেড কমিউনিটিতে বাড়ির জন্য বাজারদরের চেয়েও বেশি দাম দিতে রাজি। তাঁদের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাড়িটির জন্য অন্তত ৬ শতাংশ বেশি দাম দিতেও প্রস্তুত। ১ হাজার মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ককে নিয়ে আগস্ট ২০২৬-এ পরিচালিত জরিপটি করেছে গেট ও প্রবেশ-নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ট্রাই-স্টেট গেট। ফলে জরিপটির ফলাফলকে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব গবেষণা হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। জরিপে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মানুষের নিরাপত্তাবোধের সঙ্গে তাঁদের এলাকায় অপরাধ পরিস্থিতির সরাসরি মিল পাওয়া যাচ্ছে না। ৬৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, তাঁদের এলাকায় অপরাধের পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ হয়নি। তারপরও ৭২ শতাংশ জানিয়েছেন, নিজেদের বাড়িতে তাঁরা পুরোপুরি নিশ্চিন্ত বোধ করেন না। মাত্র ২৮ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তাঁরা নিজেদের এলাকায় খুব নিরাপদ ও সুরক্ষিত মনে করেন। বেশিরভাগ মানুষ নিজেদের অবস্থানকে বর্ণনা করেছেন - নিরাপদ, তবে সতর্ক থাকতে হয়। এই নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রভাব বাড়ি কেনার সিদ্ধান্তেও দেখা যাচ্ছে। জরিপে ৬৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে নিরাপত্তা ক্যামেরা বা ভিডিও ডোরবেল রয়েছে। ক্যামেরার মালিকদের এক-তৃতীয়াংশ দিনে একাধিকবার ক্যামেরার ফুটেজ দেখেন। সতর্কতা বা দৈনিক পর্যবেক্ষণ মিলিয়ে ৮০ শতাংশের বেশি ক্যামেরা ব্যবহারকারী নিয়মিত ফুটেজ পরীক্ষা করেন। তবে শারীরিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বেশিরভাগ মানুষ এখনো কোনো ঘটনার অপেক্ষায় থাকেন। ৫৬ শতাংশ বলেছেন, নিজেদের বাড়িতে চুরি, প্রতিবেশীর বাড়িতে চুরি বা এলাকায় ধারাবাহিক অপরাধের মতো ঘটনা না ঘটলে তাঁরা বড় ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাববেন না। অন্যদিকে, বাড়িতে চুরি বা চুরির চেষ্টার ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম। জরিপে মাত্র ৮ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, গত দুই বছরে তাদের বাড়িতে চুরি বা চুরির চেষ্টা হয়েছে। তবে ২৩ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তাঁদের দরজার সামনে থেকে প্যাকেজ চুরি হয়েছে।  গেটেড কমিউনিটিতে বাড়ির দাম যে ইতোমধ্যে বেশি, তারও ইঙ্গিত রয়েছে আগের গবেষণায়। আমেরিকান রিয়েল এস্টেট সোসাইটির গবেষণা অনুযায়ী, গেটেড কমিউনিটির বাড়িগুলো তুলনামূলকভাবে গড়ে প্রায় ৩০ হাজার ডলার বেশি দামে বিক্রি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতার পেছনে শুধু অপরাধের ভয় নয়, বরং নিজের বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকার অনুভূতিও গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ বাস্তবে অপরাধ না বাড়লেও মানুষ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে গেট, ক্যামেরা ও অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বেশি অর্থ খরচ করতে আগ্রহী হচ্ছেন।    

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ৫:২৯
পেনসিলভানিয়ার প্রতিনিধি ম্যাডেলিন ডিন ও ইলিনয়ের প্রতিনিধি ডেলিয়া রামিরেজ গত ৩ সেপ্টেম্বর ‘নো শক অ্যাক্ট’ বা ‘শক নিষেধ আইন’ নামে বিলটি উত্থাপন করেন

আইসিই এজেন্টদের হাতে আসছে ‘শক গ্লাভস’! নিষিদ্ধ করতে কংগ্রেসে নতুন বিল

ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের ৪৫ হাজার ডলারের উপহার নিয়ে প্রশ্ন

ডিএনএ তথ্য কারচুপির দায়ে সাবেক ফরেনসিক বিশ্লেষকের ১০ বছরের জেল

ডিএনএ তথ্য কারচুপির দায়ে সাবেক ফরেনসিক বিশ্লেষকের ১০ বছরের জেল

0 Comments