- প্রচ্ছদ
- Topic
অ্যাপল
বাজারে আসার মাত্র তিন দিনের মাথায় নতুন ভাঁজযোগ্য আইফোন ডুওর ভেতরের পর্দায় ফাটল ও উজ্জ্বল রেখা দেখা দেওয়ার অভিযোগ স্বীকার করেছে অ্যাপল। ১ হাজার ৯৯৯ ডলার থেকে শুরু হওয়া এই ফোনের কিছু ক্রেতা জানিয়েছেন, ব্যবহারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পর্দার মাঝখানে, বিশেষ করে ভাঁজের সংযোগস্থলের কাছে সমস্যা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ত্রুটিপূর্ণ ফোন বদলে দেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি। তবে ঠিক কী কারণে পর্দায় ফাটল ধরছে, তা এখনো স্পষ্ট করেনি অ্যাপল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট ও সিএনবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৩ অক্টোবর শুক্রবার ফোনটি বিক্রি শুরু হওয়ার পর থেকেই কিছু ক্রেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অ্যাপলের একজন প্রতিনিধি সিএনবিসিকে জানান, অল্পসংখ্যক আইফোন ডুওর ভেতরের পর্দায় সমস্যা দেখা গেছে। যাঁদের ফোনে এ ধরনের ত্রুটি দেখা দেবে, তাঁদের অ্যাপলকেয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফোন বদলে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, অধিকাংশ ফোনেই এ সমস্যা দেখা যায়নি। অস্ট্রেলিয়ার এক ক্রেতা রেডিটে লিখেছেন, ফোন কেনার প্রায় ছয় ঘণ্টা পর এবং ২০ বারেরও কম ভাঁজ খোলা ও বন্ধ করার পর তাঁর যন্ত্রের পর্দায় ফাটল দেখা দেয়। বন্ধুকে ফোনটি দেখানোর সময় ভাঁজের কাছে পর্দার নিচে কিছু আটকে থাকার মতো অনুভূতি হয়েছিল বলে জানান তিনি। এরপর ফোনটি খুলতে গেলে ফাটলের শব্দ শুনতে পান। পরে অ্যাপল স্টোরে গিয়ে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ফোনের পরিবর্তে নতুন ফোন পেয়েছেন বলে জানান। টেক্সাসের ডালাসের আরেক ক্রেতাও একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, ফোনটি প্রাথমিকভাবে চালু ও ব্যবহারের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় প্রায় চারবার ভাঁজ করার পর সংযোগস্থল অস্বাভাবিক শক্ত হয়ে যায়। জোর প্রয়োগ করে ভাঁজ খুলতে গেলে বিকট শব্দ হয়। পরে স্থানীয় অ্যাপল স্টোরে নিয়ে গেলে তাঁর ফোনটিও বদলে দেওয়া হয় বলে রেডিটে লিখেছেন তিনি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এসব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সমস্যাটি কতসংখ্যক ফোনে ঘটেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ভাঁজযোগ্য ফোনের ক্ষেত্রে পর্দার স্থায়িত্ব দীর্ঘদিন ধরেই বড় চ্যালেঞ্জ। আইফোন ডুওর দাম প্রায় দুই হাজার ডলার হওয়ায় নতুন এই সমস্যাটি ক্রেতাদের আস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন শিল্পনকশা বিশেষজ্ঞরা। আরকেএস ডিজাইনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী রবি সাওয়ানি নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, এত দামের একটি ফোন কেনার সময় ক্রেতারা নিশ্চিন্তে ব্যবহার করার প্রত্যাশা করেন। প্রতিবার ফোন খোলার সময় পর্দা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে পণ্যের প্রতি তাঁদের আস্থা কমতে পারে। তবে সমস্যার জন্য সরাসরি ভাঁজের কবজাকেই দায়ী করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য এখনো নেই। সাওয়ানির মতে, পর্দার বিভিন্ন স্তর, এর ভেতরের কাঠামো, কবজার নড়াচড়া এবং যন্ত্রাংশ সংযোজনের সূক্ষ্ম পার্থক্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন। বিভিন্ন উৎপাদন পর্যায়ের ত্রুটিপূর্ণ ও স্বাভাবিক ফোন তুলনা করে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পরীক্ষা চালালে সমস্যার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। নির্দিষ্ট উৎপাদন পর্যায়ের ফোনে সমস্যা বেশি হলে তা সংযোজনের অসংগতির ইঙ্গিত দিতে পারে, আর বিভিন্ন পর্যায়ের ফোনে একই সমস্যা দেখা গেলে নকশাগত ত্রুটির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখতে হবে। ফোনটির ভেতরের পর্দা ও মেরামতের খরচ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ওয়ারেন্টির বাইরে আইফোন ডুওর ভেতরের পর্দা মেরামত করতে অ্যাপলের নির্ধারিত খরচ ৯৯৯ ডলার, যা ফোনটির প্রাথমিক দামের প্রায় অর্ধেক। তবে বর্তমানে যে সমস্যার কথা অ্যাপল স্বীকার করেছে, তাতে ক্ষতিগ্রস্ত ফোন বদলে দেওয়ার জন্য গ্রাহকদের এই অর্থ দিতে হবে কি না, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি আলাদা করে কিছু জানায়নি। তাই ফোনে সমস্যা দেখা দিলে ক্রেতাদের অ্যাপলকেয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। নতুন ফোনটির উদ্বোধনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অ্যাপল স্টোরের সামনে ক্রেতাদের দীর্ঘ সারি দেখা গিয়েছিল। নিউইয়র্কের ফিফথ অ্যাভিনিউয়ের একটি দোকানের বাইরে এক ক্রেতা প্রায় ১৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উদ্বোধনের পর কিছু দোকানে মজুত দ্রুত শেষ হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ফোনের পর্দা নিয়ে অভিযোগ অ্যাপলের নতুন পণ্যের বাজারজাতকরণে বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তবে দ্রুত ফোন বদলে দেওয়া ও সমস্যার কারণ সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, সিএনবিসি।
অ্যাপলের নতুন ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোন আইফোন ডুয়ো স্থায়িত্ব পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। জনপ্রিয় প্রযুক্তিবিষয়ক ইউটিউব চ্যানেল জেরিরিগএভরিথিংয়ের পরীক্ষায় ফোনটির ভাঁজ করার যন্ত্রাংশে ধুলা ঢুকে সমস্যা তৈরি করে। পরে ফোনটি বাঁকানোর পরীক্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় ভেতরের নমনীয় পর্দা। প্রথমে পর্দায় সবুজ রেখা দেখা দেয়, এরপর সেটি পুরোপুরি কাজ করা বন্ধ করে দেয়। তবে পরীক্ষাটি ছিল স্বাভাবিক ব্যবহারের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন পরিস্থিতিতে পরিচালিত একটি পরীক্ষা। ইউটিউবার জ্যাক নেলসন, যিনি জেরিরিগএভরিথিং নামে পরিচিত, তাঁর পরীক্ষায় ফোনটির বাইরের অংশ, পর্দা, ধুলা প্রতিরোধক্ষমতা এবং কাঠামোগত দৃঢ়তা যাচাই করেন। শুরুতে বাইরের পর্দা তুলনামূলক ভালো অবস্থায় ছিল। তবে ভেতরের নমনীয় পর্দা নখের আঁচড়েও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি দেখায়। পরে ধুলা ও ময়লা দিয়ে পরীক্ষা চালানোর সময় ফোনটির ভাঁজ করার যন্ত্রাংশে সমস্যা দেখা দেয়। অ্যাপল ফোনটিতে আইপি৬৮ মানের ধুলা ও পানি প্রতিরোধক্ষমতার কথা উল্লেখ করলেও পরীক্ষায় ধুলার কণা ভাঁজ করার কবজায় প্রবেশ করেছে বলে দেখা যায়। এর ফলে ফোনটি পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছিল না। ফোনের দুই অংশ বন্ধ রাখার জন্য থাকা চুম্বকও ভেতরে জমে থাকা ধুলার কারণে সেটিকে ঠিকভাবে বন্ধ করতে পারেনি বলে নেলসন জানান। এরপর ফোনটির কাঠামো কতটা চাপ সহ্য করতে পারে, তা দেখতে বাঁকানোর পরীক্ষা করা হয়। শুরুতে ফোনের ফ্রেম অক্ষত থাকলেও ভেতরের পর্দায় স্থায়ী সবুজ রেখা দেখা দেয়। দ্বিতীয়বার চাপ প্রয়োগের পর আরও রেখা তৈরি হয়। একপর্যায়ে পর্দাটি স্পর্শে সাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেয়। নেলসনের মতে, ফোনটির ভাঁজ করার যন্ত্রাংশে অতিরিক্ত নড়াচড়া পর্দাটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তবে ধুলার কারণে কবজায় সমস্যা তৈরি হয়েছিল, নাকি যন্ত্রাংশটির দৃঢ়তা যথেষ্ট ছিল না, তা নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যায়নি। পরীক্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত ভেতরের পর্দা বদলাতে প্রায় এক হাজার ডলার খরচ হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন নেলসন। তবে এই পরিমাণকে অ্যাপলের নিশ্চিত মেরামত মূল্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়; এটি পরীক্ষাসংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা খরচ। প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরীক্ষা ফোনটির স্বাভাবিক দৈনন্দিন ব্যবহারকে তুলে ধরে না। বরং অতিরিক্ত ধুলা ও অস্বাভাবিক চাপের মধ্যে এর সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করেছে। তাই পরীক্ষার ফল দিয়ে সব আইফোন ডুয়োর স্থায়িত্ব সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তবে ভাঁজযোগ্য ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে কবজা ও নমনীয় পর্দার যত্ন নেওয়ার গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে।
অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোন আইফোন ডু বাজারে আসার পরপরই এর পর্দায় ফাটল দেখা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন ক্রেতা। প্রায় ২ হাজার ডলার দামের এই ফোনের নকশা, মসৃণ ভাঁজ করার ব্যবস্থা এবং পর্দার ভাঁজের দাগ কম দৃশ্যমান হওয়ায় প্রযুক্তি পর্যালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে। তবে বিক্রির প্রথম দিনেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি ফোন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ছবি ও ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। এতে ফোনটির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও এখন পর্যন্ত এসব বিচ্ছিন্ন অভিযোগ থেকে সব ফোনে একই ধরনের সমস্যা রয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য পাওয়া যায়নি। গত শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর থেকে আইফোন ডু বিক্রি শুরু হয়েছে। এর আগে প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট এনগ্যাজেট ফোনটিকে ১০-এর মধ্যে ৮ দশমিক ৮ নম্বর দেয়। দ্য ভার্জ ও ওয়্যার্ড দেয় ৭ নম্বর করে। পর্যালোচকেরা ফোনটির টাইটানিয়াম কাঠামো, মসৃণ হিঞ্জ বা ভাঁজ করার সংযোগব্যবস্থা এবং ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চির ভেতরের পর্দার প্রশংসা করেছেন। তবে এর ওজন, ক্যামেরার সীমাবদ্ধতা এবং বিভিন্ন অ্যাপের অসমর্থিত বিন্যাস নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। দ্য ভার্জের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেডিটে এক ব্যবহারকারী ফোনটি হাতে পাওয়ার প্রায় ছয় ঘণ্টার মধ্যে পর্দা ফেটে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। বন্ধুকে ফোনটি দেখানোর সময় ভেতরের হিঞ্জের কাছে পর্দার নিচে কিছু একটা অনুভব করেন তিনি। এরপর ফোনটি আরও খুলতে গেলে ফাটার শব্দ শোনেন এবং পর্দায় হিঞ্জ বরাবর ফাটল দেখতে পান বলে জানান। তাঁর দাবি, পর্দার ওপরিভাগে বা বাইরের হিঞ্জে কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন ছিল না। পরে অ্যাপল স্টোরে গেলে তাঁকে নতুন একটি ফোন দেওয়া হয়। আরেক ব্যবহারকারীও ফাটা পর্দার ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেছেন, কয়েকটি ফোনে একই জায়গায় ক্ষতি দেখা যাচ্ছে। অন্য একটি পোস্টে একই ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত ফোনের ছবি দিয়ে বলা হয়েছে, একাধিক আইফোন ডুতে নির্দিষ্ট স্থানে ফাটল দেখা গেছে। তবে এসব ছবি ও ব্যবহারকারীর বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। অ্যাপল এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেছে কি না, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে সমস্যাটির কারণ, ব্যাপ্তি এবং এটি উৎপাদনগত ত্রুটির সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফোনটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো ভাঁজ খুললে পাওয়া বড় পর্দা। এতে রয়েছে ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চির ম্যাট বা আলো প্রতিফলন কমানো পর্দা, আর ভাঁজ করা অবস্থায় বাইরের পর্দার মাপ ৫ দশমিক ৪ ইঞ্চি। অ্যাপলের দাবি, বিশেষ ন্যানোটেক্সচার প্রযুক্তির কারণে আলো প্রতিফলন কমে এবং পর্দার মাঝের ভাঁজের দাগ তুলনামূলক কম চোখে পড়ে। তবে পর্যালোচকেরা জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট কোণ থেকে তাকালে দাগটি এখনো দেখা যায় এবং আঙুল বুলিয়েও অনুভব করা যায়। ফোনটির ওজন ২৫৪ গ্রাম এবং ভাঁজ করা অবস্থায় পুরুত্ব ১১ দশমিক ৩ মিলিমিটার, যা অনেকের কাছে ভারী ও মোটা মনে হয়েছে। সফটওয়্যার ও ক্যামেরা নিয়েও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অ্যাপলের নিজস্ব অ্যাপগুলো দুই পর্দার সঙ্গে তুলনামূলক ভালোভাবে মানিয়ে নিলেও অনেক তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ এখনো বড় পর্দার জন্য পুরোপুরি উপযোগী নয়। ফলে কিছু অ্যাপে দুই পাশে কালো অংশ দেখা যায় এবং বড় পর্দার পুরো সুবিধা পাওয়া যায় না। একসঙ্গে দুটি অ্যাপ চালানো গেলেও পর্দাকে নিজের মতো করে ভাগ করা বা তৃতীয় একটি ভাসমান অ্যাপ খোলার সুযোগ সীমিত। ক্যামেরার ক্ষেত্রেও ফোনটির মূল ও আলট্রাওয়াইড ক্যামেরা প্রশংসা পেলেও আইফোন ১৮ প্রো সিরিজের তুলনায় কিছু ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকার কথা বলেছেন পর্যালোচকেরা। ব্যাটারির কর্মক্ষমতা নিয়ে অবশ্য তুলনামূলক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এসেছে। টমস গাইডের পরীক্ষায় বড় পর্দা ব্যবহার করে একটানা ফাইভ-জি ইন্টারনেট চালানোর সময় ফোনটি ১৩ ঘণ্টা ২০ মিনিট চলেছে। পরীক্ষায় স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮-এর চেয়ে বেশি সময় টিকলেও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের তুলনায় পিছিয়ে ছিল। ফলে ফোনটির নকশা ও বড় পর্দা অনেকের কাছে আকর্ষণীয় হলেও প্রায় ২ হাজার ডলার খরচ করার আগে স্থায়িত্ব, ক্যামেরা ও অ্যাপের সামঞ্জস্য বিবেচনা করার প্রয়োজন রয়েছে। আপাতত কয়েকটি ফোনে ফাটলের অভিযোগ পাওয়া গেলেও আইফোন ডুর সামগ্রিক স্থায়িত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য আরও তথ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। সূত্র: দ্য ভার্জ, ওয়্যার্ড ও অ্যাপলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।
অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডিং আইফোন ‘আইফোন ডুয়ো’ কিনতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অ্যাপল স্টোরের সামনে ভিড় করেছেন প্রযুক্তিপ্রেমীরা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রসহ ৭০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলে নতুন এই আইফোনের বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রায় ২ হাজার ডলার দামের ফোনটি কিনতে কোথাও রাতভর অপেক্ষা করেছেন ক্রেতারা, আবার কোথাও আগাম অর্ডার দেওয়া ফোন সংগ্রহ করতে দোকানের সামনে লাইন দেখা গেছে। তবে ব্যাপক আগ্রহের বিপরীতে সরবরাহ সীমিত থাকায় অনেক ক্রেতাকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিঙ্গাপুর, চীনের সাংহাই, যুক্তরাজ্যের লন্ডন, জার্মানির বার্লিন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে আইফোন ডুয়ো ঘিরে ক্রেতাদের আগ্রহ দেখা গেছে। শুক্রবার সকালে বেশ কয়েকটি অ্যাপল স্টোরের সামনে ক্রেতারা লাইনে দাঁড়ান। কেউ আগে থেকেই ফোনটির প্রি-অর্ডার করেছিলেন, আবার কেউ সরাসরি দোকানে গিয়ে কেনার চেষ্টা করেন। তবে আগের কয়েকটি আইফোন বাজারে আসার সময় যে ধরনের দীর্ঘ লাইন ও ব্যাপক ভিড় দেখা যেত, এবার সব জায়গায় তেমন পরিস্থিতি ছিল না। সীমিত সরবরাহ এবং অনলাইনে আগাম অর্ডারের ব্যবস্থাও এর একটি কারণ। গত ৯ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে আইফোন ডুয়ো উন্মোচন করে অ্যাপল। এটি প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে প্রথম ফোল্ডিং আইফোন। বইয়ের মতো খুলে ব্যবহার করা যায় ফোনটি। বন্ধ অবস্থায় এতে রয়েছে ৫ দশমিক ৪ ইঞ্চির একটি ডিসপ্লে। আর খুললে পাওয়া যায় ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চির বড় স্ক্রিন। অ্যাপলের দাবি, এখন পর্যন্ত তৈরি আইফোনগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় ডিসপ্লের মডেল। বড় স্ক্রিনে ভিডিও দেখা, গেম খেলা, বই পড়া এবং একই সঙ্গে একাধিক অ্যাপ ব্যবহারের সুবিধা রাখা হয়েছে। নতুন আইফোনটির সবচেয়ে আলোচিত বৈশিষ্ট্য এর ফোল্ডিং ডিজাইন। বিশেষ প্রযুক্তির হিঞ্জ ব্যবহার করায় ফোনটি সহজে খোলা ও বন্ধ করা যায়। অ্যাপলের দাবি, সম্পূর্ণ খোলা অবস্থায় এটি এখন পর্যন্ত তাদের তৈরি সবচেয়ে পাতলা আইফোন। ফোনটির স্ক্রিনে বিশেষ ন্যানো-টেক্সচার প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে আলো প্রতিফলন এবং ভাঁজের দাগ কম চোখে পড়ে। তবে নতুন প্রযুক্তির এই ডিজাইন দীর্ঘমেয়াদে কতটা টেকসই হবে, তা বাস্তব ব্যবহারের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হবে। আইফোন ডুয়োতে রয়েছে অ্যাপলের নতুন এ২০ প্রো চিপ এবং আইওএস ২৭-এর বিশেষভাবে তৈরি সফটওয়্যার সুবিধা। ফোল্ডিং স্ক্রিনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অ্যাপ ব্যবহারের অভিজ্ঞতাও পরিবর্তন করা হয়েছে। এতে স্প্লিট ভিউ সুবিধার মাধ্যমে একই সঙ্গে দুটি অ্যাপ ব্যবহার করা যায়। পাশাপাশি ফোনটি কোন অবস্থায় খোলা বা বন্ধ রয়েছে, সেই অনুযায়ী স্ক্রিনের কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হয়। অ্যাপলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন সুবিধাও নতুন ফোনে যুক্ত করা হয়েছে। ক্যামেরার ক্ষেত্রেও নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে অ্যাপল। ফোনটিতে রয়েছে ৪৮ মেগাপিক্সেলের ডুয়াল ফিউশন ক্যামেরা সিস্টেম, যার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ছবি ও ভিডিও ধারণ করা যায়। ফোল্ডিং ডিজাইনের কারণে ফোনটি আংশিক খুলে রেখেও ছবি তোলা কিংবা ভিডিও কল করার সুবিধা রয়েছে। তবে প্রাথমিক প্রযুক্তি পর্যালোচনায় ক্যামেরার কিছু সীমাবদ্ধতার কথা উঠে এসেছে। পাশাপাশি সব অ্যাপ এখনো নতুন বড় ডিসপ্লের জন্য পুরোপুরি উপযোগী নয় বলেও জানিয়েছেন কয়েকজন পর্যালোচক। যুক্তরাষ্ট্রে আইফোন ডুয়োর প্রাথমিক দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৯৯৯ ডলার। ফোনটি ২৫৬ জিবি, ৫১২ জিবি, ১ টেরাবাইট এবং ২ টেরাবাইট স্টোরেজ সংস্করণে পাওয়া যাচ্ছে। স্টার হোয়াইট ও নাইট স্কাই, এই দুটি রঙে বাজারে আনা হয়েছে নতুন মডেলটি। গত ১৬ অক্টোবর ফোনটির প্রি-অর্ডার শুরু হয়। অ্যাপলের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক চাহিদা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হওয়ায় কিছু ক্রেতার সম্ভাব্য ডেলিভারির সময় আগামী বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত পিছিয়ে গেছে। বিক্রির প্রথম দিন লন্ডনের একটি অ্যাপল স্টোরের সামনে বৃষ্টির মধ্যেও অপেক্ষা করতে দেখা যায় ক্রেতাদের। পল ফ্রান্সিস নামের একজন ক্রেতা রয়টার্সকে জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে তিনি লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। নতুন ধরনের অ্যাপল ফোন ব্যবহারের আগ্রহ থেকেই এত দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছেন তিনি। অন্যদিকে সাংহাইয়ের কয়েকজন ক্রেতা জানান, ফোল্ডিং ফোনের বাজারে অ্যাপলের প্রবেশ তাঁদের আগ্রহী করেছে। বড় স্ক্রিন ও ফোনটির ডিজাইন তাঁদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের বিষয়। তবে উচ্চমূল্যের কারণে আইফোন ডুয়ো সবার নাগালের মধ্যে থাকবে না বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা। সাধারণ আইফোনের তুলনায় প্রায় ২ হাজার ডলারের এই ফোন কিনতে ক্রেতাদের উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করতে হবে। এর পাশাপাশি ফোল্ডিং প্রযুক্তির দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব, সফটওয়্যারের কার্যকারিতা এবং মেরামতের খরচও ক্রেতাদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। প্রাথমিক পর্যালোচনায় ফোনটির ডিজাইন ও হিঞ্জ প্রযুক্তির প্রশংসা করা হলেও কিছু ব্যবহারিক সীমাবদ্ধতার কথাও উঠে এসেছে। ফোল্ডিং স্মার্টফোনের বাজারে অবশ্য অ্যাপল প্রথম প্রতিষ্ঠান নয়। স্যামসাং ও হুয়াওয়ের মতো কোম্পানি কয়েক বছর ধরেই এ ধরনের ফোন বিক্রি করছে। তবে অ্যাপলের বাজারে প্রবেশের ফলে এই প্রযুক্তির প্রতি সাধারণ ক্রেতাদের আগ্রহ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন শিল্পসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে অ্যাপলের নিজস্ব সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারের সমন্বয় ফোল্ডিং ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতায় নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি করতে পারে। তবে বাজারে দীর্ঘমেয়াদি সফলতা নির্ভর করবে ফোনটির ব্যবহারিক সুবিধা, দাম ও সরবরাহের ওপর। নতুন আইফোনের বিক্রি শুরু হওয়ার আগে অ্যাপল জানিয়েছিল, সরাসরি দোকানে এসে কিনতে আগ্রহী ক্রেতাদের জন্য সীমিতসংখ্যক আইফোন ডুয়ো রাখা হবে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যসহ কিছু বাজারে এই সুবিধা রয়েছে। অন্যদিকে চীন, ভারত, জাপান এবং কয়েকটি দেশে প্রথম দিনে মূলত আগে থেকে অর্ডার দেওয়া গ্রাহকদের ফোন সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে বিভিন্ন দেশে অ্যাপল স্টোরে ভিড়ের ধরনও আলাদা ছিল। আইফোন ডুয়োর বাজারে আসা অ্যাপলের স্মার্টফোন ব্যবসায় নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করেছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ডিজাইনের আইফোন তৈরির পর প্রতিষ্ঠানটি এবার ফোল্ডিং প্রযুক্তিতে প্রবেশ করল। প্রথম দিনের বিক্রি ঘিরে ক্রেতাদের আগ্রহ স্পষ্ট হলেও ফোনটি কতটা জনপ্রিয় হবে, তা নির্ভর করবে আগামী মাসগুলোর বিক্রি এবং ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতার ওপর। আপাতত প্রায় ২ হাজার ডলারের নতুন এই আইফোনকে ঘিরে প্রযুক্তিবিশ্বে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
নতুন আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স কিনেছেন এমন কিছু গ্রাহকের জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছে অ্যাপল। যুক্তরাষ্ট্রের এটিঅ্যান্ডটি নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত অল্পসংখ্যক আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে সেলুলার সংযোগ হারানোর সমস্যা দেখা দিয়েছে। অ্যাপল জানিয়েছে, সমস্যার কারণে আক্রান্ত ফোনে মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং ফোন কল করা, বার্তা পাঠানো কিংবা মোবাইল ডেটা ব্যবহার করা সম্ভব নাও হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে সমস্যাগ্রস্ত ফোন বদলানোর প্রয়োজন হতে পারে। অ্যাপলের তথ্য অনুযায়ী, সমস্যাটি আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ব্যবহারকারীদের একটি ছোট অংশকে প্রভাবিত করছে। অর্থাৎ নতুন এই মডেলের সব ফোনে এমন সমস্যা হচ্ছে না। এটিঅ্যান্ডটি নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকা নির্দিষ্ট কিছু ডিভাইসেই মূলত সমস্যাটি দেখা গেছে। আক্রান্ত ফোনে কখনো পুরোপুরি, আবার কখনো বিরতিতে নেটওয়ার্ক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক ক্ষেত্রে ফোনের স্ক্রিনে ‘এসওএস’ দেখাতে পারে। অ্যাপল ইতোমধ্যে সমস্যাটি ঠেকাতে সফটওয়্যার আপডেট দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আইফোন ১৮ প্রো এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ব্যবহারকারীদের জন্য আইওএস ২৭.০.১ প্রকাশ করেছে এবং নতুন আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ব্যবহারকারীদের এই আপডেট ইনস্টল করার পরামর্শ দিয়েছে। অ্যাপলের নিজস্ব আপডেট নোটে আইওএস ২৭.০.১-এর বিভিন্ন ত্রুটি সংশোধনের কথা বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি এটিঅ্যান্ডটি নেটওয়ার্কের জন্য ক্যারিয়ার সেটিংস আপডেটও দেওয়া হয়েছে। অ্যাপল জানিয়েছে, এই আপডেট আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডাউনলোড হবে। লক্ষ্য হলো নতুন করে যাতে একই সমস্যায় আরও ব্যবহারকারী আক্রান্ত না হন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সফটওয়্যার আপডেট সব আক্রান্ত ফোনের সমস্যা সমাধান করবে—এমনটা অ্যাপল বলেনি। যেসব আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ইতোমধ্যে এই সমস্যার কারণে সেলুলার সেবা হারিয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে হার্ডওয়্যার বদলানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে অ্যাপল নিশ্চিত করেছে। এটিঅ্যান্ডটিও বিষয়টি স্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, অ্যাপলের সঙ্গে কাজ করে সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ব্যবহারকারীদের সর্বশেষ সফটওয়্যার আপডেট ইনস্টল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাই আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ব্যবহারকারীদের জন্য প্রথম পদক্ষেপ হলো ফোনে সর্বশেষ সফটওয়্যার আপডেট ইনস্টল করা। স্বাভাবিকভাবে ফোনে নেটওয়ার্ক কাজ করলে আপডেট করে নেওয়াই অ্যাপলের পরামর্শ। আর যদি ফোনে এটিঅ্যান্ডটি নেটওয়ার্ক সংযোগের সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে প্রথমে মোবাইল সেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। প্রয়োজন হলে এরপর অ্যাপল সাপোর্টের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। নতুন আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের বাজারমূল্যও কম নয়। এটিঅ্যান্ডটির বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, ২৫৬ গিগাবাইট সংস্করণের খুচরা মূল্য ১ হাজার ২৯৯ ডলার থেকে শুরু। ৫১২ গিগাবাইট সংস্করণের দাম ১ হাজার ৪৯৯ ডলার, ১ টেরাবাইট সংস্করণের দাম ১ হাজার ৮৯৯ ডলার এবং ২ টেরাবাইট সংস্করণের দাম ২ হাজার ৪৯৯ ডলার। আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে ৬.৯ ইঞ্চির ডিসপ্লে, ৪৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা ব্যবস্থা এবং এ২০ প্রো চিপ রয়েছে। অ্যাপলের নতুন প্রিমিয়াম আইফোন সিরিজের অংশ হিসেবে এটি বাজারে এসেছে। তবে নতুন ডিভাইসটির এই সংযোগ সমস্যা বিশেষ করে এটিঅ্যান্ডটি গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অ্যাপলের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, সমস্যা নির্দিষ্ট সংখ্যক ফোনে সীমাবদ্ধ। তাই শুধু আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ব্যবহার করছেন বলেই ফোন বদলাতে হবে—এমন কোনো নির্দেশনা নেই। বরং ডিভাইসে সমস্যা দেখা দিয়েছে কি না এবং সেটি এটিঅ্যান্ডটি নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। সমস্যাগ্রস্ত ফোনের ক্ষেত্রে অ্যাপল বা এটিঅ্যান্ডটির মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
নতুন আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্সের বাইরের রং নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন ক্রেতা। তাঁদের দাবি, ফোনের পেছনের ক্যামেরা লেন্সের চারপাশে রং ফিকে হয়ে যাচ্ছে। ফোন ফেরত দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন কেউ কেউ। ১৮ সেপ্টেম্বর বাজারে আসা আইফোন ১৮ প্রোর যুক্তরাষ্ট্রে শুরুর দাম ১ হাজার ১৯৯ ডলার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বারগান্ডি রঙের একটি প্রো ম্যাক্সের ছবি দিয়ে এক ক্রেতা জানান, তিনটি ক্যামেরা লেন্সের চারপাশের অংশ মূল রঙের তুলনায় হালকা ও গোলাপি দেখাচ্ছে। সেখানে ময়লা বা আঁচড় নেই এবং পরিষ্কার করার পরও রঙের পার্থক্য দূর হয়নি বলে তাঁর দাবি। আরও কয়েকজন ব্যবহারকারী একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। কালো রঙের মডেল নিয়েও অভিযোগ এসেছে। তবে ফোনের রং স্থায়ীভাবে বদলে যাচ্ছে, নাকি ক্যামেরার আশপাশের উপরিভাগে অন্য কোনো কারণে রঙের পার্থক্য দেখা দিচ্ছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। কতটি ফোনে এমন হয়েছে বা নির্দিষ্ট কোনো উৎপাদন ব্যাচে সমস্যা রয়েছে কি না, সে তথ্যও পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে অ্যাপল এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি। এর আগে আইফোন ১৭ প্রোর কমলা রঙের কিছু ফোন গোলাপি হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় রং বসানোর পর অ্যালুমিনিয়ামের উপরিভাগ সিল করার প্রক্রিয়া নিয়ে সম্ভাব্য প্রশ্ন তুলেছিল প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম অ্যাপলইনসাইডার। কিন্তু নতুন আইফোনের অভিযোগের পেছনেও একই কারণ রয়েছে, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অ্যাপলের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আইফোন ১৮ প্রোর ক্যামেরার আশপাশের বিশেষ উপরিভাগে অন্য জিনিসের উপাদান লেগে কখনো দাগের মতো দেখাতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে তা পরিষ্কার করা যায়। তবে ছবিসহ অভিযোগ করা ক্রেতা জানিয়েছেন, তাঁর ফোনে পরিষ্কার করার পরও পার্থক্য রয়ে গেছে। ফোনটি পরীক্ষা ছাড়া তাঁর অভিযোগের কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি অ্যাপল থেকে কেনা পণ্য হাতে পাওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে নির্ধারিত শর্তে ফেরত বা বদলের সুযোগ রয়েছে। অন্য বিক্রেতার কাছ থেকে কিনলে সেই প্রতিষ্ঠানের নিয়ম প্রযোজ্য হবে। রং পরিবর্তন ওয়ারেন্টির আওতায় পড়বে কি না, তা নির্ভর করবে অ্যাপলের পরীক্ষায় উৎপাদনগত ত্রুটি পাওয়া যায় কি না তার ওপর।
প্যাটেন্ট লঙ্ঘনের মামলায় অ্যাপলকে ৫.৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি জুরি। আইফোন ও অ্যাপল ওয়াচে ব্যবহৃত কম্পন প্রযুক্তি নিয়ে স্যান ডিয়েগোভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ট্যাকশন টেকনোলজির করা মামলায় এই রায় দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের মামলায় এটিকে সবচেয়ে বড় ক্ষতিপূরণের রায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অ্যাপল জানিয়েছে, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে। মামলাটির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অ্যাপলের ‘ট্যাপটিক ইঞ্জিন’। এই প্রযুক্তি আইফোন ও অ্যাপল ওয়াচে ব্যবহারকারীর বিভিন্ন কাজের প্রতিক্রিয়া হিসেবে কম্পন তৈরি করে। ট্যাকশন টেকনোলজির দাবি, অ্যাপলের এই প্রযুক্তি তাদের দুটি প্যাটেন্টে সুরক্ষিত প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। শুক্রবার দেওয়া রায়ে জুরি ট্যাকশনের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেয় এবং অ্যাপলকে ৫.৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। ট্যাকশন টেকনোলজি ২০২১ সালে অ্যাপলের বিরুদ্ধে মামলাটি করে। প্রতিষ্ঠানটি হেডফোন ও গেমিং হেডসেটের মতো পণ্যে কম্পনভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে। তাদের অভিযোগ ছিল, অ্যাপলের বিভিন্ন ডিভাইসে ব্যবহৃত ট্যাপটিক ইঞ্জিন তাদের প্যাটেন্ট করা প্রযুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। মামলাটি নিয়ে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর বিষয়টি জুরি বিচারে গড়ায়। এর আগে ২০২৩ সালে স্যান ডিয়েগোর একটি ফেডারেল আদালত রায় দিয়েছিল যে অ্যাপল ট্যাকশনের প্যাটেন্ট লঙ্ঘন করেনি। পরে ফেডারেল সার্কিটের আপিল আদালত সেই মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করে। এরপর সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল জুরির সামনে মামলাটির বিচার হয়। সেই বিচারে জুরি অ্যাপলের ট্যাপটিক ইঞ্জিন ট্যাকশনের দুটি প্যাটেন্ট লঙ্ঘন করেছে বলে সিদ্ধান্ত দেয়। অ্যাপল অবশ্য জুরির সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নয়। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য, তাদের ট্যাপটিক ইঞ্জিন ট্যাকশন টেকনোলজির প্রযুক্তি থেকে মৌলিকভাবে আলাদা। অ্যাপল আরও জানিয়েছে, তারা ট্যাকশনের প্রযুক্তি ব্যবহার করেনি এবং রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে। ফলে জুরির দেওয়া ৫.৭ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণই শেষ পর্যন্ত অ্যাপলকে পরিশোধ করতে হবে কি না, তা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। মামলাটির রায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্যাটেন্ট বিরোধে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও সামনে এনেছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্যাটেন্ট সংক্রান্ত মামলায় এমন বড় অঙ্কের রায় তুলনামূলকভাবে বিরল। মামলার অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান বারফোর্ড ক্যাপিটাল জানিয়েছে, তাদের চুক্তি অনুযায়ী এই রায় থেকে প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার অধিকার থাকতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করেছে, এ ধরনের বড় ক্ষতিপূরণের অঙ্ক পরবর্তী আদালতীয় প্রক্রিয়ায় অপরিবর্তিত থাকে না। অ্যাপলের বিরুদ্ধে এটি সাম্প্রতিক সময়ের আরেকটি বড় প্যাটেন্ট-সংক্রান্ত রায়। ২০২৫ সালের একটি পৃথক প্যাটেন্ট মামলায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৬৩৪ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নতুন রায়ের অঙ্ক সেই মামলার তুলনায় অনেক বেশি। তবে নতুন মামলাটির ক্ষেত্রে আপিলসহ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এখনো বাকি রয়েছে। ট্যাকশন টেকনোলজির প্যাটেন্ট নিয়ে অ্যাপলের সঙ্গে বিরোধের মূল বিষয় ছিল ব্যবহারকারীর স্পর্শ বা অন্য কার্যক্রমের প্রতিক্রিয়ায় ডিভাইসে কম্পন তৈরির প্রযুক্তি। আইফোন ও অ্যাপল ওয়াচের বিভিন্ন কার্যক্রমে এই ধরনের কম্পন ব্যবহার করা হয়। জুরির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অ্যাপলের ট্যাপটিক ইঞ্জিন ট্যাকশনের দুটি প্যাটেন্টের অধিকার লঙ্ঘন করেছে। অন্যদিকে অ্যাপল শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ফলে ৫.৭ বিলিয়ন ডলারের এই রায় আপাতত অ্যাপলের বিরুদ্ধে জুরির সিদ্ধান্ত হিসেবে কার্যকর রয়েছে, কিন্তু মামলাটির আইনি প্রক্রিয়া এখানেই শেষ হচ্ছে না। অ্যাপলের আপিল এবং পরবর্তী আদালতীয় সিদ্ধান্তের পর ক্ষতিপূরণের চূড়ান্ত অঙ্ক ও রায়ের পরিণতি নির্ধারিত হবে। সূত্র: বিবিসি
যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট কিছু আইফোনের ক্রেতাদের জন্য অ্যাপলের সঙ্গে ২৫ কোটি ডলারের মামলার মীমাংসা থেকে অর্থ পাওয়ার আবেদন শুরু হয়েছে। সিরির কিছু ঘোষিত সুবিধা সময়মতো না দেওয়ার অভিযোগে করা মামলাটির মীমাংসা অনুযায়ী, যোগ্য ক্রেতারা প্রতি ফোনের জন্য সর্বোচ্চ ৯৫ ডলার পেতে পারেন। ক্লেইম জমা দেওয়ার শেষ দিন ২১ ডিসেম্বর ২০২৬। মীমাংসার আনুষ্ঠানিক নোটিশ অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৪ থেকে ২৯ মার্চ ২০২৫-এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আইফোন ১৫ প্রো, আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স অথবা আইফোন ১৬ সিরিজের যেকোনো মডেল কিনেছেন, এমন যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দারা যোগ্য হতে পারেন। ফোনটি পুনরায় বিক্রির উদ্দেশ্যে কেনা হলে এই সুযোগ প্রযোজ্য নয়। তবে নির্দিষ্ট মডেলের ফোন কেনাই ক্লেইম পাওয়ার একমাত্র শর্ত নয়। আবেদনপত্রে ক্রেতাকে নিশ্চিত করতে হবে যে ফোন কেনার সময় তিনি সিরির নির্দিষ্ট অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স সুবিধা পাওয়ার প্রত্যাশা করেছিলেন, কিন্তু তা পাননি। ফোন কেনা ও মালিকানা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যও দিতে হবে। বৈধ ক্লেইমের জন্য প্রাথমিক হিসাবে প্রতি যোগ্য ফোনে ২৫ ডলার ধরা হয়েছে। মোট কতগুলো ক্লেইম জমা পড়ে এবং আদালত অনুমোদিত খরচের পর কত অর্থ থাকে, তার ভিত্তিতে এই অঙ্ক বাড়তে বা কমতে পারে। তবে প্রতি ফোনে সর্বোচ্চ অর্থের সীমা ৯৫ ডলার। সব ক্লেইম যাচাই না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত অঙ্ক জানা যাবে না। মামলায় ক্রেতাদের অভিযোগ, অ্যাপল নির্দিষ্ট কিছু সিরি ও অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স সুবিধা নিয়ে যে প্রত্যাশা তৈরি করেছিল, সেগুলো সময়মতো দেয়নি। অ্যাপল অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মীমাংসায় সম্মত হওয়ার অর্থ প্রতিষ্ঠানটির অনিয়ম স্বীকার করা নয়; আদালতও কোনো পক্ষের অভিযোগের পক্ষে চূড়ান্ত রায় দেননি। যোগ্য ক্রেতাকে অর্থ পেতে ২১ ডিসেম্বরের মধ্যে মীমাংসা প্রশাসকের নির্ধারিত ক্লেইম ফর্ম জমা দিতে হবে। আদালতে মীমাংসার চূড়ান্ত অনুমোদন নিয়ে শুনানি নির্ধারিত আছে ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৭। অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর অর্থ দেওয়া হবে।
অ্যাপলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সিরি সুবিধা নিয়ে দায়ের করা একটি শ্রেণি-আদালত মামলার নিষ্পত্তিতে ২৫ কোটি ডলার দিতে সম্মত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট কিছু আইফোনের মূল ক্রেতারা প্রতি ডিভাইস ২৫ ডলার করে পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। বৈধ দাবির সংখ্যা কম হলে এই অর্থ সর্বোচ্চ ৯৫ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। মামলাটির সূত্রপাত ২০২৫ সালে। ‘ল্যান্ডশেফট বনাম অ্যাপল’ মামলায় অভিযোগ করা হয়, আইফোন ১৫ প্রো ও আইফোন ১৬ সিরিজের প্রচারের সময় অ্যাপল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সিরির যেসব উন্নত সুবিধার কথা জানিয়েছিল, সেগুলো নির্ধারিত সময়ে ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছায়নি। বিশেষ করে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য বুঝতে পারা, পর্দায় কী দেখা যাচ্ছে তা শনাক্ত করা এবং বিভিন্ন অ্যাপের সঙ্গে আরও গভীরভাবে কাজ করার মতো সুবিধা নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। অভিযোগকারীদের দাবি ছিল, এসব সুবিধাকে নতুন আইফোনের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে প্রচার করা হলেও সেগুলো তখন পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল না। অ্যাপল অবশ্য মামলার অভিযোগ ও কোনো অন্যায় করার বিষয় অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, মামলা নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে অর্থ দিতে সম্মত হলেও এটি কোনো ধরনের দায় বা অন্যায় স্বীকারোক্তি নয়। চলতি বছরের মে মাসে অ্যাপল ২৫ কোটি ডলারের নিষ্পত্তি তহবিলে অর্থ দিতে সম্মত হয়। জুলাইয়ে আদালত প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়ার পর ২১ সেপ্টেম্বর থেকে যোগ্য গ্রাহকদের দাবি জমা দেওয়ার সুযোগ চালু হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের শুনানি ২০২৭ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি হওয়ার কথা রয়েছে। যেসব আইফোন ব্যবহারকারী এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন, তাদের অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা হতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সংশ্লিষ্ট আইফোন কিনতে হবে। যোগ্য মডেলগুলোর মধ্যে রয়েছে আইফোন ১৫ প্রো, আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স, আইফোন ১৬, আইফোন ১৬ই, আইফোন ১৬ প্লাস, আইফোন ১৬ প্রো এবং আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স। ডিভাইসটি ২০২৪ সালের ১০ জুন থেকে ২০২৫ সালের ২৯ মার্চের মধ্যে কিনতে হবে এবং আবেদনকারীকে ওই ডিভাইসের মূল ক্রেতা হতে হবে। অর্থাৎ শুধু এসব মডেলের আইফোন থাকলেই অর্থ পাওয়ার যোগ্যতা তৈরি হবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ডিভাইসটি কেনা এবং মামলার শর্ত পূরণ করা প্রয়োজন। পুনরায় বিক্রির জন্য কেনা ডিভাইস এই নিষ্পত্তির আওতায় পড়বে না। প্রতিটি যোগ্য ডিভাইসের জন্য প্রাথমিকভাবে ২৫ ডলার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে মোট কতজন বৈধ দাবি করেন, তার ওপর চূড়ান্ত অর্থের পরিমাণ নির্ভর করবে। দাবির সংখ্যা প্রত্যাশার চেয়ে কম হলে প্রতি ডিভাইসে সর্বোচ্চ ৯৫ ডলার পর্যন্ত পাওয়া যেতে পারে। আবার দাবির সংখ্যা বেশি হলে অর্থের পরিমাণ কমেও যেতে পারে। আইনজীবীদের ফি, প্রশাসনিক ব্যয়সহ নিষ্পত্তি তহবিল থেকে অন্যান্য অনুমোদিত খরচও বাদ যাবে। দাবি জমা দিতে হলে নির্ধারিত নিষ্পত্তি ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। সেখানে যোগাযোগের তথ্য এবং যোগ্য আইফোনের সিরিয়াল নম্বরসহ ডিভাইস কেনার তথ্য দিতে হতে পারে। যাদের কাছে সিরিয়াল নম্বর নেই, তাদের জন্য অ্যাপল অ্যাকাউন্টের ই-মেইল ও সংশ্লিষ্ট ফোন নম্বর ব্যবহার করে তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে। দাবি জমা দেওয়ার শেষ সময় ২০২৬ সালের ২১ ডিসেম্বর। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বৈধ দাবি জমা না দিলে এই নিষ্পত্তি থেকে অর্থ পাওয়ার সুযোগ থাকবে না। তবে অর্থ পাওয়ার বিষয়টি এখনই নিশ্চিত নয়। কারণ নিষ্পত্তিটি আদালতের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। চূড়ান্ত শুনানি ২০২৭ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি হওয়ার কথা রয়েছে এবং এরপর প্রক্রিয়া শেষ হলে অর্থ বিতরণ শুরু হবে। সূত্র: ম্যাকরিউমার্স, অ্যাপল স্মার্টফোন এআই সেটেলমেন্ট ওয়েবসাইট, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
ভারতের নয়ডায় আইফোন ১৮ প্রো কিনতে অ্যাপল স্টোরের সামনে ভোর থেকেই অপেক্ষা করছিলেন দিল্লির এক ব্যক্তি। ১৮ সেপ্টেম্বর ভারতে নতুন আইফোন বিক্রি শুরুর দিন তিনি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে টেককে জানান, স্ত্রীর জন্য ফোনটি কিনতে তিনি সোনা বিক্রি করেছেন। তার স্ত্রীর পছন্দ ছিল নতুন বারগান্ডি রঙের আইফোন ১৮ প্রো। নয়ডার ডিএলএফ মল অব ইন্ডিয়ায় অ্যাপল স্টোর খোলার আগেই ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। সকাল ৮টায় দোকান খোলার কথা থাকলেও নতুন আইফোন হাতে পেতে অনেকেই তার আগেই সেখানে জড়ো হন। সেই অপেক্ষমাণ ক্রেতাদের মধ্যেই ছিলেন দিল্লির ওই ব্যক্তি। ইন্ডিয়া টুডে টেকের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জানান, ফোনটি তিনি নিজের জন্য নয়, স্ত্রীকে উপহার দেওয়ার জন্য কিনছেন। তার স্ত্রীর পছন্দ হয়েছে আইফোন ১৮ প্রোর নতুন বারগান্ডি রঙ। তিনি আরও জানান, তার স্ত্রী আগে আইফোন ব্যবহার করতেন না। তাই নতুন ফোনটি উপহার দিয়ে তাকে আইফোন ব্যবহারের সুযোগ করে দিতে চেয়েছেন। কেন এত দামি ফোন কেনার সিদ্ধান্ত নিলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে ওই ব্যক্তি বলেন, “আজ টাকা আছে, আগে ছিল না।” তার বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে হাতে অর্থ থাকায় পছন্দের জিনিস কেনার সুযোগটি কাজে লাগাতে চেয়েছেন তিনি। তবে ফোনটি কেনার অর্থ জোগাড় করতে তাকে সোনা বিক্রি করতে হয়েছে। ইন্ডিয়া টুডে টেকের প্রতিবেদনে ওই ব্যক্তি নিজেই বিষয়টি জানিয়েছেন। তার এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ এটিকে স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা ও উপহার দেওয়ার ইচ্ছার প্রকাশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এত দামি স্মার্টফোন কেনার জন্য সোনা বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এদিকে ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ভারতে আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের বিক্রি শুরু হয়েছে। নতুন আইফোন ঘিরে দেশটির বিভিন্ন অ্যাপল স্টোরে ক্রেতাদের দীর্ঘ অপেক্ষা ও ভিড়ের খবরও সামনে এসেছে। নয়ডার ওই ব্যক্তির সোনা বিক্রি করে স্ত্রীর জন্য আইফোন কেনার ঘটনা নতুন মডেল ঘিরে মানুষের আগ্রহের মধ্যেই আলাদা করে আলোচনায় এসেছে।
ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষায় অ্যাপলের চালু করা অ্যাপ ট্র্যাকিং নীতিই এবার বড় আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। যুক্তরাজ্যের অ্যাপ নির্মাতাদের পক্ষ থেকে অ্যাপলের বিরুদ্ধে প্রায় ২০০ কোটি পাউন্ড বা ২৭০ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করা হয়েছে। অভিযোগ, অ্যাপলের অ্যাপ ট্র্যাকিং ট্রান্সপারেন্সি ব্যবস্থা তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ নির্মাতাদের ওপর কঠোর নিয়ম চাপিয়ে দিয়েছে, অথচ নিজেদের বিজ্ঞাপনসেবার ক্ষেত্রে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করেছে। মামলাটি ৩ সেপ্টেম্বর লন্ডনের কম্পিটিশন আপিল ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা হয়। যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তা অ্যান পোপের নেতৃত্বে অ্যাটিটি কালেক্টিভ অ্যাকশন লিমিটেড এই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। আইনজীবী প্রতিষ্ঠান হাউসফেল্ড মামলাটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। অ্যাপল ২০২১ সালে অ্যাপ ট্র্যাকিং ট্রান্সপারেন্সি বা এটিটি ব্যবস্থা চালু করে। এর মাধ্যমে কোনো অ্যাপ ব্যবহারকারীর কার্যক্রম অন্য প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে অনুসরণ করে বিজ্ঞাপন বা অন্যান্য উদ্দেশ্যে তথ্য ব্যবহার করতে চাইলে ব্যবহারকারীর অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। আইফোন বা আইপ্যাডে কোনো নতুন অ্যাপ খোলার সময় অনেক ব্যবহারকারী যে অনুমতির বার্তা দেখতে পান, এটিই সেই ব্যবস্থা। সেখানে ব্যবহারকারীকে জানতে চাওয়া হয়, অ্যাপটি অন্য প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে তাঁর কার্যক্রম অনুসরণ করতে পারবে কি না। ব্যবহারকারী অনুমতি না দিলে সংশ্লিষ্ট অ্যাপের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপনের কাজে প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য ব্যবহারের সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। মামলাকারী অ্যাপ নির্মাতাদের অভিযোগ, এই নীতি চালুর ফলে বিজ্ঞাপননির্ভর ব্যবসা করা তৃতীয় পক্ষের অ্যাপগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে। তাঁদের দাবি, নতুন নিয়ম কার্যকর করার আগে ব্যবসার ধরন পরিবর্তন ও সম্ভাব্য ক্ষতি মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়নি। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অ্যাপল তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ নির্মাতাদের ওপর যে ধরনের অনুমতির শর্ত আরোপ করেছে, নিজেদের সেবার ক্ষেত্রে একই মাত্রার বিধিনিষেধ প্রয়োগ করেনি। এর ফলে অ্যাপলের নিজস্ব বিজ্ঞাপন ব্যবসা প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পেয়েছে বলে দাবি করেছেন মামলাকারীরা। মামলার নেতৃত্ব দেওয়া অ্যান পোপ বলেন, অ্যাপলের নীতির কারণে প্রতিষ্ঠানটির ওপর নির্ভরশীল ব্রিটিশ ব্যবসাগুলো উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে। তাঁর মতে, এই আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে ব্রিটিশ ব্যবসাগুলোর অধিকার রক্ষা এবং অ্যাপলের প্রয়োগ করা নিয়ম সবার জন্য সমান কি না, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়টিও মামলার অন্যতম লক্ষ্য। অ্যাপল অবশ্য অভিযোগ মেনে নেয়নি। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য, অ্যাপ ট্র্যাকিং ট্রান্সপারেন্সির মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যবহারকারীদের নিজেদের তথ্যের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ দেওয়া। অ্যাপলের দাবি, অন্য প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে তাঁদের কার্যক্রম অনুসরণ করার অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত ব্যবহারকারীর হাতেই থাকা উচিত। অ্যাপল আরও বলেছে, এটিটি ব্যবস্থার ক্ষেত্রে তারা অন্যান্য অ্যাপ নির্মাতাদের মতো একই নিয়মের অধীন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ব্যবহারকারীরা এই গোপনীয়তা ব্যবস্থাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন এবং গোপনীয়তা রক্ষায় কাজ করা বিভিন্ন পক্ষও এর প্রশংসা করেছে। যুক্তরাজ্যের এই মামলা অ্যাপলের অ্যাপ ট্র্যাকিং নীতিকে ঘিরে ইউরোপে চলমান নিয়ন্ত্রক নজরদারিরও অংশ। ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, রোমানিয়া ও পোল্যান্ডে একই নীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে তদন্ত বা নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপ হয়েছে। ফ্রান্সে ২০২৫ সালে অ্যাপলকে ১৫ কোটি ইউরো জরিমানা করা হয় এবং ইতালিতেও প্রায় ১০ কোটি ইউরোর জরিমানার মুখে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। তবে বর্তমান মামলায় ২৭০ কোটি ডলারের অঙ্কটি আদালতের দেওয়া জরিমানা নয়। এটি মামলাকারীদের দাবি করা সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণের পরিমাণ। মামলা কীভাবে এগোবে এবং শেষ পর্যন্ত অ্যাপলকে কোনো অর্থ পরিশোধ করতে হবে কি না, তা আদালতের পরবর্তী প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। অ্যাপলের জন্য মামলাটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। একদিকে প্রতিষ্ঠানটি আইফোন ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর নীতিকে নিজেদের পণ্য ও গোপনীয়তা কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরে আসছে। অন্যদিকে অ্যাপ নির্মাতারা বলছেন, একই নীতি তাদের বিজ্ঞাপনভিত্তিক ব্যবসার ওপর অসম প্রভাব ফেলছে। মামলাটি এখন প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোবে। ফলে ক্ষতিপূরণের দাবি, অ্যাপলের নীতির প্রকৃত প্রভাব এবং তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ নির্মাতাদের সঙ্গে অ্যাপলের নিজস্ব সেবার ক্ষেত্রে নিয়মের পার্থক্য নিয়ে আদালতে আরও বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্র: এএফপি, রয়টার্স
অ্যাপলের নতুন ফোল্ডেবল আইফোন ডুও বাজারে আসার আগেই বামহাতি ব্যবহারকারীদের সমালোচনার মুখে পড়েছে। ১ হাজার ৯৯৯ ডলারের এই ফোনে এক পাশে গুরুত্বপূর্ণ কন্ট্রোল, সাইড বাটন ও টাচ আইডি রাখায় বাম হাতে এক হাতে ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য এটি অস্বস্তিকর হতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে। অ্যাপল গত বুধবার প্রথমবারের মতো ফোল্ডেবল আইফোন ডুও উন্মোচন করে। ফোনটিতে রয়েছে ৭.৬ ইঞ্চির ভেতরের ডিসপ্লে এবং ৫.৪ ইঞ্চির বাইরের ডিসপ্লে। ভাঁজ করা অবস্থায় এটি তুলনামূলকভাবে ছোট ও পকেটে বহনযোগ্য। অ্যাপল জানিয়েছে, ব্যবহারকারীর জন্য প্রয়োজনীয় কন্ট্রোলগুলো ফোনের পাশে রাখা হয়েছে, যাতে সহজে পৌঁছানো যায়। তবে বামহাতি ব্যবহারকারীদের প্রশ্ন, সহজে পৌঁছানোটা আসলে কার জন্য? প্রচলিত আইফোনে স্ক্রিনের বিভিন্ন নেভিগেশন কন্ট্রোল তুলনামূলকভাবে দুই হাতেই ব্যবহার করা যায়। কিন্তু ডুওতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কন্ট্রোল এক পাশে স্থিরভাবে রাখা হয়েছে। এমনকি ফেস আইডির পরিবর্তে ব্যবহৃত টাচ আইডিও সাইড বাটনের সঙ্গে যুক্ত। ফলে যারা বাঁ হাতেই এক হাতে ফোন ব্যবহার করেন, তাদের জন্য ডিভাইসটি ব্যবহারে বাড়তি সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন ফোরামে কয়েকজন ব্যবহারকারী বলেছেন, শুধু সফটওয়্যারে একটি ‘লেফট হ্যান্ডেড মোড’ যোগ করলেই সমস্যার পুরো সমাধান নাও হতে পারে। কারণ টাচ আইডি, বাইরের ডিসপ্লে ও ক্যামেরাসহ ফোনের কিছু হার্ডওয়্যার বিন্যাসও এর সঙ্গে যুক্ত। কিছু ব্যবহারকারী এমনকি বামহাতিদের জন্য আলাদা করে আয়না-নকশার একটি সংস্করণ তৈরির কথাও বলেছেন। তবে এখন পর্যন্ত অ্যাপল বামহাতি ব্যবহারকারীদের জন্য আলাদা কোনো মোড বা বিশেষ হার্ডওয়্যার সংস্করণের ঘোষণা দেয়নি। অ্যাপল অবশ্য ডুওতে বিভিন্ন Accessibility সুবিধার কথা তুলে ধরেছে। দৃষ্টিশক্তি, চলাফেরা, শ্রবণ, কথা বলা এবং কগনিটিভ চাহিদার ব্যবহারকারীদের জন্য AssistiveTouch, Switch Control, Voice Control ও Eye Tracking-এর মতো ফিচার রয়েছে। তবে বামহাতি ব্যবহারকারীদের নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে এখনো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের প্রাথমিক মূল্যায়নে ডুওর ডিজাইন ও পাতলা গঠন প্রশংসা পেয়েছে। ভাঁজ খুললে ফোনটি খুব পাতলা এবং বন্ধ অবস্থায় আকারে অনেকটা পাসপোর্টের মতো বলে বর্ণনা করেছেন নিউইয়র্ক টাইমসের প্রযুক্তি লেখক ব্রায়ান এক্স. চেন। তবে সাধারণ ক্রেতারা এখনো হাতে নিয়ে ব্যবহার করার সুযোগ পাননি। ফোল্ডেবল ফোনের বাজার এখনো তুলনামূলক ছোট। IDC-এর তথ্য উদ্ধৃত করে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে মোট মোবাইল বিক্রির ২ শতাংশেরও কম ফোল্ডেবল ফোন। তবে এই বাজারে অ্যাপলের প্রবেশ নতুন করে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বের প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ বামহাতি। অবশ্য কোন হাতে কেউ স্মার্টফোন ব্যবহার করবেন, তা সবসময় তার স্বাভাবিক হাত ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে না। তাই ডুওর নকশা নিয়ে আপত্তি থাকলেও কেউ কেউ বলছেন, ব্যবহারকারীরা সময়ের সঙ্গে এতে অভ্যস্ত হয়ে যেতে পারেন। আইফোন ডুও আগামী ২৩ অক্টোবর বাজারে আসার কথা রয়েছে। প্রি-অর্ডার শুরু হবে ১৬ অক্টোবর। ফোনটি হাতে পাওয়ার পরই বামহাতি ব্যবহারকারীদের জন্য এর নকশা কতটা বাস্তব সমস্যা তৈরি করে, সেটি আরও পরিষ্কার হবে।
অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন ‘আইফোন ডুও’র ডিসপ্লে সরবরাহে স্যামসাংয়ের সঙ্গে তিন বছরের বিশেষ চুক্তি হয়েছে বলে জানা গেছে। চুক্তির আওতায় প্রতিটি ডিসপ্লে প্যানেলের জন্য অ্যাপলকে প্রায় ২৫০ ডলার দিতে হতে পারে। ফলে ফোনটির সবচেয়ে ব্যয়বহুল উপাদানগুলোর একটি হতে যাচ্ছে এই ভাঁজযোগ্য ডিসপ্লে। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ম্যাকরিউমার্স শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, স্যামসাং ডিসপ্লে আইফোন ডুও এবং ভবিষ্যতের কয়েকটি ভাঁজযোগ্য আইফোনের জন্য ডিসপ্লে প্যানেল সরবরাহ করবে। চীনা প্রযুক্তি তথ্যদাতা ইনস্ট্যান্ট ডিজিটালের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে অ্যাপল বা স্যামসাং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতি প্যানেলের ২৫০ ডলারের দাম নিশ্চিত করেনি। অ্যাপল ৯ সেপ্টেম্বর আইফোন ডুও উন্মোচন করে। এটি কোম্পানির প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন। খোলা অবস্থায় ফোনটিতে ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চির অভ্যন্তরীণ ডিসপ্লে থাকে, আর ভাঁজ করা অবস্থায় বাইরের ডিসপ্লের আকার ৫ দশমিক ৪ ইঞ্চি। অ্যাপলের দাবি, খোলা অবস্থায় এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে পাতলা আইফোন। আইফোন ডুওর ভাঁজযোগ্য পর্দায় স্যামসাংয়ের নতুন এম১৬ ওএলইডি উপাদান প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে বলে ম্যাকরিউমার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এই প্রযুক্তিতে আগের প্রজন্মের ওএলইডি পর্দার তুলনায় উজ্জ্বলতা, রঙের মান, স্থায়িত্ব এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের দক্ষতায় উন্নতি হওয়ার কথা বলা হচ্ছে। আইফোন ডুওর অভ্যন্তরীণ পর্দার কাঠামোও বেশ জটিল। অ্যাপলের তথ্য অনুযায়ী, ভাঁজযোগ্য ডিসপ্লেটিতে মোট ১০টি অতি পাতলা স্তর রয়েছে। পর্দার বাইরের অংশে বিশেষ ন্যানো-টেক্সচারযুক্ত আবরণ ব্যবহার করা হয়েছে, যা আলো প্রতিফলন কমানোর পাশাপাশি ভাঁজের দাগ বা রেখা কম দৃশ্যমান করতে সহায়তা করে। ডিসপ্লের স্তরগুলোকে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে ফোন ভাঁজ ও খোলার সময় সেগুলো পরস্পরের ওপর সামান্য সরে যেতে পারে। অ্যাপলের ভাষ্য অনুযায়ী, এতে ভাঁজের জায়গায় চাপ কম পড়ে এবং পর্দার স্থায়িত্ব বাড়ে। আইফোন ডুওর দুই ডিসপ্লেতেই প্রোমোশন প্রযুক্তি, অলওয়েজ-অন ডিসপ্লে এবং সর্বোচ্চ ৩ হাজার নিট পর্যন্ত উজ্জ্বলতার সুবিধা রয়েছে। খোলা অবস্থায় বড় পর্দাটি একসঙ্গে একাধিক কাজ, ভিডিও দেখা, গেম খেলা ও অন্যান্য কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। স্যামসাংয়ের সঙ্গে অ্যাপলের ডিসপ্লে সরবরাহ চুক্তির বিষয়টি অবশ্য পুরোপুরি নতুন নয়। চলতি বছরের এপ্রিলেই ম্যাকরিউমার্স জানিয়েছিল, ভাঁজযোগ্য আইফোনের জন্য আগামী তিন বছর স্যামসাং থেকেই ওএলইডি প্যানেল নেওয়ার বিষয়ে অ্যাপলের চুক্তি হয়েছে। সে সময়ও স্যামসাংকে একমাত্র সরবরাহকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। প্রতি প্যানেলের সম্ভাব্য ২৫০ ডলারের খরচ আইফোন ডুওর উচ্চ মূল্যের একটি কারণও ব্যাখ্যা করতে পারে। ফোনটির প্রাথমিক দাম ১ হাজার ৯৯৯ ডলার। এটি অ্যাপলের সবচেয়ে দামি আইফোনগুলোর একটি এবং ভাঁজযোগ্য ফোনের বাজারে কোম্পানিটির প্রথম বড় প্রবেশ। অ্যাপলের এই পদক্ষেপ স্যামসাংয়ের জন্যও কিছুটা ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি করেছে। একদিকে স্যামসাং ভাঁজযোগ্য ফোনের বাজারে অ্যাপলের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী, অন্যদিকে অ্যাপলের নতুন ফোনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সরবরাহ করছে স্যামসাং ডিসপ্লে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাপলের বাজারে প্রবেশের পর স্যামসাং নিজেদের ভাঁজযোগ্য ফোনের অবস্থান আরও জোরালো করতে প্রচারণা বাড়িয়েছে। তবে ২৫০ ডলার মূল্যের তথ্যটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়। ম্যাকরিউমার্সও জানিয়েছে, এই তথ্য চীনা তথ্যদাতা ইনস্ট্যান্ট ডিজিটালের কাছ থেকে এসেছে। তাই চূড়ান্ত সরবরাহমূল্য চুক্তির প্রকৃত শর্তের সঙ্গে ভিন্ন হতে পারে। আইফোন ডুওর প্রি-অর্ডার শুরু হবে ১৬ অক্টোবর এবং বাজারে বিক্রি শুরু হওয়ার কথা ২৩ অক্টোবর। অ্যাপলের এই নতুন ফোন ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোনের বাজারে প্রতিযোগিতা আরও বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: ম্যাকরিউমার্স, অ্যাপল
অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জন টার্নাস দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বড় প্রেজেন্টেশনেই প্রতিষ্ঠানের কিংবদন্তি সাবেক সিইও স্টিভ জবসের উপস্থাপনার বেশ কিছু কৌশল অনুসরণ করেছেন। ৯ সেপ্টেম্বরের পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠানে টার্নাস নতুন ভাঁজযোগ্য আইফোনসহ একাধিক পণ্য উপস্থাপন করেন। ফোর্বসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, টার্নাসের প্রথম বক্তব্যে জবসের উপস্থাপনার ধরন স্পষ্টভাবে দেখা যায়। বিশেষ করে পণ্য সম্পর্কে সরাসরি তথ্য দেওয়ার পরিবর্তে আগে বিদ্যমান প্রযুক্তির সমস্যাগুলো তুলে ধরে পরে সমাধান হিসেবে নতুন পণ্য উপস্থাপন করেন তিনি। এই কৌশলটি জবস ২০০৭ সালে প্রথম আইফোন উন্মোচনের সময়ও ব্যবহার করেছিলেন। নতুন ভাঁজযোগ্য আইফোন ডুও উপস্থাপনের সময় টার্নাস বলেন, বর্তমান ভাঁজযোগ্য ফোনগুলো অনেকটা এমন মনে হয় যেন দুটি ফোনকে অস্বস্তিকরভাবে একসঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর তিনি আইফোন ডুওর এমন একটি নকশা তুলে ধরেন, যেখানে দুই পর্দার মাঝের ভাঁজ প্রায় অদৃশ্য। জবসের আরেকটি পরিচিত কৌশলও টার্নাসের উপস্থাপনায় দেখা যায়। জবস প্রায়ই এমন প্রশ্ন করতেন, যার উত্তর দর্শকদের মনে স্বাভাবিকভাবেই আসতে পারে। এরপর সেই প্রশ্নের উত্তর নিজেই দিয়ে পণ্যের সমাধান তুলে ধরতেন। টার্নাসও নতুন আইফোনকে একটি ‘বুদ্ধিমান ব্যক্তিগত কেন্দ্র’ হিসেবে ব্যাখ্যা করতে একই ধরনের প্রশ্নভিত্তিক উপস্থাপনা ব্যবহার করেন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানের শেষদিকে টার্নাস জবসের সবচেয়ে পরিচিত উপস্থাপনা-ধারার একটি বাক্যও ব্যবহার করেন। আইফোন ১৮, এয়ারপডস ও অ্যাপল ওয়াচের নতুন সংস্করণগুলোর পরিচয় দেওয়ার পর তিনি বলেন, ‘কিন্তু আসলে আরও একটি বিষয় আছে।’ জবসের সময়ের বিখ্যাত ‘ওয়ান মোর থিং’ মুহূর্তের সঙ্গে এই উপস্থাপনা কৌশলের সরাসরি মিল রয়েছে। এই অনুষ্ঠানে টার্নাসের সামনে শুধু নতুন পণ্য উপস্থাপনের দায়িত্বই ছিল না। টিম কুকের উত্তরসূরি হিসেবে অ্যাপলের নেতৃত্বে নিজের প্রথম বড় প্রকাশ্য উপস্থিতিও ছিল এটি। টার্নাস ১ সেপ্টেম্বর অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ৯ সেপ্টেম্বরের অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো বড় পণ্য উন্মোচনের নেতৃত্ব দেন। অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন ডুও। ফোনটি খোলা অবস্থায় ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চি ভেতরের পর্দা এবং বন্ধ অবস্থায় ৫ দশমিক ৪ ইঞ্চি বাইরের পর্দা নিয়ে এসেছে। এতে নতুন এ২০ প্রো চিপ, উন্নত তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং দুই পর্দায় একসঙ্গে কাজ করার সুবিধা রয়েছে। আইফোন ডুও ছাড়াও অনুষ্ঠানে আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্স, অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১২, অ্যাপল ওয়াচ আল্ট্রা ৪ এবং নতুন এয়ারপডসসহ একাধিক পণ্য উন্মোচন করা হয়। অ্যাপল জানিয়েছে, ডুওর প্রি-অর্ডার শুরু হবে ১৬ অক্টোবর এবং বিক্রি শুরু হবে ২৩ অক্টোবর। ফোর্বসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, স্টিভ জবস ও টিম কুকের উত্তরাধিকার বহন করে অ্যাপলের মতো বিশাল প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেওয়া টার্নাসের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সেই প্রেক্ষাপটে জবসের পরিচিত উপস্থাপনা-কৌশল, বাক্য এবং গল্প বলার ধরন ব্যবহার করে টার্নাস নিজের নেতৃত্বের প্রথম বড় বার্তাটি দিয়েছেন। সূত্র: ফোর্বস
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার কুপারটিনোয় অ্যাপল পার্কে আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) নতুন পণ্য ও প্রযুক্তি উন্মোচন অনুষ্ঠান আয়োজন করছে অ্যাপল। ‘সারপ্রাইজ অ্যান্ড শাইন’ নামের এই অনুষ্ঠান বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হওয়ার কথা। অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে পারে আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স। গুঞ্জন রয়েছে, নতুন মডেল দুটিতে ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তির এ২০ প্রো চিপ ব্যবহার করা হতে পারে। এতে ফোনের কর্মক্ষমতা, তাপ নিয়ন্ত্রণ ও ব্যাটারি ব্যবস্থাপনায় উন্নতি আসতে পারে। ক্যামেরাতেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। বিশেষ করে আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে পরিবর্তনশীল অ্যাপারচার ক্যামেরা যুক্ত হতে পারে। ফলে বিভিন্ন আলোতে আরও ভালো ছবি তোলা সম্ভব হবে। এবারের অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় চমক হতে পারে অ্যাপলের প্রথম ভাঁজ করা আইফোন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে সম্ভাব্য নাম হিসেবে ‘আইফোন আলট্রা’র কথা বলা হচ্ছে। গুঞ্জন অনুযায়ী, বইয়ের মতো ভাঁজ করা যাবে ফোনটি। খোলা অবস্থায় এতে প্রায় ৭ দশমিক ৮ ইঞ্চির পর্দা এবং বাইরে প্রায় ৫ দশমিক ৩ ইঞ্চির পর্দা থাকতে পারে। ফোনটিতে ১২ গিগাবাইট মেমোরি, দুটি ৪৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা এবং ফেস আইডির পরিবর্তে টাচ আইডি ব্যবহারের সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে। তবে দাম হতে পারে বেশ চড়া, প্রায় ২ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত। আইফোনের পাশাপাশি অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১২, অ্যাপল ওয়াচ আলট্রা ৪ এবং এয়ারপডস ৫ উন্মোচনের সম্ভাবনাও রয়েছে। নতুন ঘড়িতে স্বাস্থ্যসেবা ও সেন্সর প্রযুক্তিতে উন্নতি এবং এয়ারপডসে হৃৎস্পন্দন পরিমাপের সুবিধা আসতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। এদিকে, নতুন আইফোনের দামও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিভিন্ন পূর্বাভাস অনুযায়ী, আইফোন ১৮ প্রোর দাম ১ হাজার ১৯৯ ডলার থেকে শুরু হতে পারে। অ্যাপলের আমন্ত্রিত অতিথিরা সরাসরি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। আর বিশ্বজুড়ে দর্শকরা অ্যাপলের ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেল এবং অ্যাপল টিভি অ্যাপের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সরাসরি দেখতে পারবেন।
নতুন সিইও জন টার্নাসের নেতৃত্বে প্রথম বড় প্রোডাক্ট ইভেন্টে যাচ্ছে অ্যাপল। আগামী ৯ সেপ্টেম্বরের বিশেষ অনুষ্ঠানে কোম্পানিটি নতুন আইফোনসহ একাধিক পণ্য উন্মোচন করতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে আলোচনায় রয়েছে অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন। অ্যাপল আনুষ্ঠানিকভাবে ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় প্যাসিফিক টাইমে ‘সারপ্রাইজ এন্ড সাইন ’ নামে বিশেষ ইভেন্টের ঘোষণা দিয়েছে। তবে ইভেন্টে ফোল্ডেবল আইফোন উন্মোচন করা হবে কি না, সে বিষয়ে কোম্পানি এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণে দাবি করা হচ্ছে, দীর্ঘদিনের গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে এবারই প্রথম ফোল্ডেবল আইফোনের ঘোষণা আসতে পারে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সম্ভাব্য এই ডিভাইসটির দাম প্রায় ২ হাজার ডলার হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। গুঞ্জন অনুযায়ী, নতুন আইফোনটির নকশা হবে প্রচলিত আইফোনের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। বইয়ের মতো ভাঁজ করা যাবে এমন এই ডিভাইস খুললে বড় আকারের ডিসপ্লে পাওয়া যেতে পারে। ফোনটির সম্ভাব্য নাম ‘আইফোন আল্ট্রা’ হতে পারে বলেও প্রযুক্তি মহলে আলোচনা রয়েছে। তবে নাম, দাম ও অন্যান্য স্পেসিফিকেশন এখনো অ্যাপল নিশ্চিত করেনি। ৯ সেপ্টেম্বরের ইভেন্টটি অ্যাপলের জন্য আরও একটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। গত ১ সেপ্টেম্বর টিম কুকের কাছ থেকে সিইওর দায়িত্ব নিয়েছেন জন টার্নাস। এর আগে তিনি অ্যাপলের হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের নেতৃত্বে ছিলেন। ফলে নতুন সিইও হিসেবে এটি হতে যাচ্ছে তার প্রথম বড় আইফোন উন্মোচন। অ্যাপল বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সিরির উন্নয়ন এবং নতুন ধরনের হার্ডওয়্যার পণ্য নিয়ে বাজারের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে। সেই সময়ে ফোল্ডেবল আইফোন সত্যিই উন্মোচন হলে সেটি কোম্পানির স্মার্টফোন ব্যবসায় বড় ধরনের নকশাগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেবে। বিশেষ করে ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে স্যামসাংসহ একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে। অ্যাপল এতদিন এই বাজারে প্রবেশ করেনি। ফলে নতুন ফোল্ডেবল আইফোন এলে প্রিমিয়াম স্মার্টফোনের বাজারে প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে। তবে ৯ সেপ্টেম্বরের অনুষ্ঠান না হওয়া পর্যন্ত ফোল্ডেবল আইফোনের ঘোষণা, নাম, দাম কিংবা নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। এখন প্রযুক্তিপ্রেমীদের নজর অ্যাপলের সেই বিশেষ ইভেন্টের দিকে, যেখানে নতুন সিইও জন টার্নাসের নেতৃত্বে কোম্পানির পরবর্তী বড় চমক প্রকাশের অপেক্ষা।
অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন বাজারে আসার আগেই এর সম্ভাব্য দাম নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। সিটিগ্রুপের বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই ডিভাইসের দাম ২ হাজার ডলারের বেশি হতে পারে। বিভিন্ন শিল্প বিশ্লেষণেও ডিভাইসটির সম্ভাব্য দাম ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ ডলারের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অ্যাপল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ফোল্ডেবল আইফোনের নাম বা দাম ঘোষণা করেনি। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ডিভাইসটির সম্ভাব্য নাম ‘আইফোন আলট্রা’ বলা হচ্ছে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অ্যাপলের অনুষ্ঠানে ডিভাইসটি উন্মোচনের সম্ভাবনা রয়েছে। গুজব ও বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বইয়ের মতো ভাঁজ করা এই আইফোনে প্রায় ৫ দশমিক ৫ ইঞ্চির বাইরের ডিসপ্লে এবং খুললে প্রায় ৭ দশমিক ৮ ইঞ্চির ভেতরের ওএলইডি ডিসপ্লে থাকতে পারে। ভাঁজ খোলা অবস্থায় এর পুরুত্ব প্রায় ৪ দশমিক ৫ মিলিমিটার হতে পারে, যা এটিকে অ্যাপলের সবচেয়ে পাতলা আইফোনে পরিণত করতে পারে। ডিভাইসটিতে ফেস আইডির পরিবর্তে টাচ আইডি ব্যবহারের সম্ভাবনার কথাও বলা হচ্ছে। পাশাপাশি পেছনে দুটি ক্যামেরা থাকতে পারে এবং প্রো মডেলের মতো টেলিফটো ক্যামেরা নাও থাকতে পারে। বড় ডিসপ্লে কাজে লাগিয়ে আইপ্যাডের মতো একাধিক অ্যাপ পাশাপাশি ব্যবহারের সুবিধা দেওয়ারও গুঞ্জন রয়েছে। দামের বিষয়ে বিভিন্ন বিশ্লেষণে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ট্রেন্ডফোর্সের সাম্প্রতিক অনুমান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ফোল্ডেবল আইফোনের শুরুর দাম ২ হাজার ৯৯ থেকে ২ হাজার ২৯৯ ডলারের মধ্যে হতে পারে। উচ্চ স্টোরেজের সংস্করণের দাম ৩ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। অ্যাপলের এই ফোল্ডেবল আইফোন নিয়ে বাজারে প্রত্যাশা থাকলেও এটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হয়নি। ফলে নাম, দাম, ফিচার ও বাজারে আসার সময় সম্পর্কে চূড়ান্ত তথ্য অ্যাপলের ঘোষণার পরই নিশ্চিত হবে।
অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের দায়িত্বে থাকছেন টিম কুক। মঙ্গলবার জন টার্নাস অ্যাপলের নতুন সিইও হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর কুক প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী চেয়ারম্যান হয়েছেন। অ্যাপলের পূর্বঘোষিত উত্তরাধিকার পরিকল্পনা অনুযায়ী, সিইও পদ ছাড়ার পর কুক বিশ্বজুড়ে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগ ও নীতিগত বিষয়ে কাজ করবেন। ফলে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে অ্যাপলের সম্পর্ক বজায় রাখতে তাঁর অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্পের সঙ্গে কুকের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। ২০১৯ সালে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ভুল করে তাঁকে ‘টিম অ্যাপল’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। এরপর থেকে কুক নানা সময় সরাসরি ট্রাম্পের সঙ্গে নীতিগত আলোচনা করেছেন এবং অ্যাপলের পক্ষ থেকে বড় বিনিয়োগের ঘোষণাও দিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত রাখতে অ্যাপল বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। কুক ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অভিষেক অনুষ্ঠানে ১০ লাখ ডলার অনুদান দেন। অ্যাপলও হোয়াইট হাউসে নতুন বলরুম নির্মাণে অর্থ দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে কুক ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাপলের উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেন। তখন ট্রাম্প এই ঘোষণাকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম বড় বিনিয়োগ উদ্যোগ হিসেবে প্রশংসা করেছিলেন। তবে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধও হয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে ট্রাম্প প্রকাশ্যে জানান, তিনি কুককে ভারতে আইফোনসহ অ্যাপলের পণ্য উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে আপত্তির কথা বলেছেন। ট্রাম্প চেয়েছিলেন অ্যাপল যুক্তরাষ্ট্রে আরও বেশি উৎপাদন করুক। এদিকে নতুন সিইও জন টার্নাসের রাজনৈতিক যোগাযোগ কুকের মতো শক্তিশালী নয়। ফেডারেল নির্বাচনী অর্থায়নের তথ্য অনুযায়ী, টার্নাসের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক অনুদানগুলোর একটি ছিল ২০২১ সালে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমারের প্রচারে দেওয়া ৫ হাজার ৮০০ ডলার। হোয়াইট হাউসের সঙ্গে কুকের যোগাযোগও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অব্যাহত রয়েছে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় অভিষেক থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাঁকে দেখা গেছে। ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে কুক সমালোচনার মুখেও পড়েছেন। তবে তিনি নিজেকে রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ দাবি করেন। কুকের ভাষায়, তিনি রাজনীতি নয়, নীতিগত বিষয় নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ফলে সিইও পদ ছাড়লেও অ্যাপলের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায় কুকের ভূমিকা শেষ হচ্ছে না। বরং নতুন দায়িত্বে তাঁর রাজনৈতিক ও নীতিগত অভিজ্ঞতা অ্যাপলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে কাজ করতে পারে।
অ্যাপলের বছরের সবচেয়ে বড় পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে জোর প্রস্তুতি। আগামী সেপ্টেম্বরে নতুন প্রজন্মের আইফোন উন্মোচনের আগে এবার যুক্তরাষ্ট্রের রিটেইল স্টোরের কর্মীদের জন্য বিশেষ লটারি চালু করেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি, যাতে নির্বাচিত কর্মীরা সরাসরি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ পান। ব্লুমবার্গের দেখা একটি অভ্যন্তরীণ স্মারক অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপল স্টোরে কর্মরত কর্মীরা ‘ইভেন্ট সাপোর্ট এক্সপেরিয়েন্স প্রোগ্রাম’-এ অংশ নিতে আবেদন করতে পারবেন। লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত কর্মীরা অনুষ্ঠানে অতিথিদের স্বাগত জানানো, সারিবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ, নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় সহায়তা, দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং নিরাপত্তা দলের সঙ্গে সমন্বয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিষ্ঠানটি কর্মীদের জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের প্রথমার্ধেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। যদিও নির্দিষ্ট তারিখ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। তবে অতীতের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী, অ্যাপল সাধারণত সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তাদের নতুন আইফোন উন্মোচন করে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এবারের অনুষ্ঠান অ্যাপলের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পণ্য উন্মোচন হতে পারে। নতুন আইফোনের পাশাপাশি আরও কয়েকটি ডিভাইস এবং সফটওয়্যার আপডেটও ঘোষণা করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এখনো নতুন পণ্যের বৈশিষ্ট্য বা মূল্য সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। অ্যাপলের পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠান বিশ্বের অন্যতম আলোচিত প্রযুক্তি ইভেন্ট হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের গণমাধ্যম, প্রযুক্তি বিশ্লেষক এবং অ্যাপলপ্রেমীদের নজর থাকে এই আয়োজনের দিকে। এ বছরও সেই আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নতুন আইফোন এবং সম্ভাব্য নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন।
অ্যাপলের ডিজিটাল পেমেন্ট সেবায় সাময়িক প্রযুক্তিগত বিভ্রাটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন অঞ্চলের বহু ব্যবহারকারী লেনদেন সমস্যায় পড়েছেন। বিশেষ করে অ্যাপল পে, অ্যাপল ক্যাশ ও ওয়ালেট-সংক্রান্ত সেবায় অর্থ পাঠানো, গ্রহণ এবং ব্যাংক থেকে অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বিঘ্নের অভিযোগ উঠে আসে। বিভিন্ন ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সেবা পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্মে জানান, লেনদেনের সময় "Unable to Connect to Wallet Services"সহ বিভিন্ন ত্রুটি বার্তা দেখা যাচ্ছিল। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ কেটে নেওয়া হলেও তা অ্যাপল ক্যাশে যোগ হয়নি বা প্রাপকের কাছে পৌঁছেনি। অ্যাপলের সিস্টেম স্ট্যাটাস পেজেও সাময়িকভাবে স্বীকার করা হয় যে, কিছু ব্যবহারকারী অ্যাপল ক্যাশ সেবায় সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। তবে প্রতিষ্ঠানটি বিভ্রাটের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম নিউজউইক জানায়, বিভ্রাট চলাকালে অনেক ব্যবহারকারী দোকানে কেনাকাটা, ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে অর্থ পাঠানো এবং ব্যাংক থেকে অর্থ স্থানান্তরের মতো কাজে সমস্যার সম্মুখীন হন। একই সময়ে ডাউনডিটেক্টরসহ বিভিন্ন সেবা পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্মেও অভিযোগের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। অনলাইন আলোচনায় অনেক ব্যবহারকারী জানান, তারা অ্যাপলের গ্রাহকসেবার সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিষয়টি একটি বড় ধরনের প্রযুক্তিগত সমস্যা বলে জানানো হয় এবং প্রকৌশলীরা সমাধানে কাজ করছেন বলে আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে কখন পুরোপুরি সেবা স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি। এরপর ধীরে ধীরে সেবা স্বাভাবিক হতে শুরু করে। বর্তমানে অ্যাপলের সর্বশেষ সিস্টেম স্ট্যাটাস অনুযায়ী অ্যাপল পে এবং সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ সেবা সচল রয়েছে।
ইলেকট্রনিক পণ্যের ক্রমাগত দাম বৃদ্ধির এই সময়ে গ্রাহকদের স্বস্তি দিতে নতুন একটি দীর্ঘমেয়াদী 'লিজ' বা ভাড়ার কর্মসূচি চালু করেছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। এর ফলে গ্রাহকদের এখন আর এককালীন বড় অঙ্কের টাকা খরচ করে আইফোন বা ম্যাক কিনতে হবে না; বরং নির্দিষ্ট মেয়াদে সাশ্রয়ী ভাড়ায় এসব ডিভাইস ব্যবহার করার সুযোগ পাবেন তারা। জনপ্রিয় পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম 'ক্লার্না'-এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে মঙ্গলবার 'অ্যাপল আপগ্রেড' নামের এই নতুন সেবাটির ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠানটি। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপল স্টোর, অনলাইন এবং অ্যাপল স্টোর অ্যাপের মাধ্যমে এই যুগান্তকারী সুবিধা উপভোগ করা যাবে। এই কর্মসূচির আওতায় গ্রাহকরা আইফোন ও অ্যাপল ওয়াচ ১২ থেকে ২৪ মাসের জন্য লিজ নিতে পারবেন। অন্যদিকে, ম্যাক এবং আইপ্যাডের ক্ষেত্রে এই মেয়াদ হবে ২৪ থেকে ৩৬ মাস। লিজের জন্য নির্ধারিত পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে সদ্য আসা আইফোন ১৭ সিরিজ, আইফোন এয়ার, অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১১, অ্যাপল ওয়াচ আলট্রা ৩, ম্যাকবুক এয়ার, ম্যাকবুক প্রো, আইম্যাক, ম্যাক স্টুডিওসহ আইপ্যাডের প্রিমিয়াম মডেলগুলো। তবে তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামের আইফোন ১৬, ম্যাকবুক নিও, বেজ আইপ্যাড এবং অ্যাপল ওয়াচ এসই-কে এই কর্মসূচির বাইরে রাখা হয়েছে। নতুন এই পরিকল্পনাটি অ্যাপলের পুরোনো 'আইফোন আপগ্রেড প্রোগ্রাম'-এর স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছে। অ্যাপলের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, আইফোন লিজ নেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন মাসিক কিস্তির পরিমাণ শুরু হবে মাত্র ১৭ দশমিক ৯৯ ডলার থেকে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডেটা কর্পোরেশনের বিশ্লেষক ফ্রান্সিসকো জেরোনিমোর মতে, এই উদ্যোগের ফলে গ্রাহকরা অ্যাপল পণ্যকে বড় কোনো ক্রয়ের বদলে একটি সাবস্ক্রিপশন বা নিয়মিত সেবার অংশ হিসেবে দেখার সুযোগ পাবেন। গত বছরের এক জরিপে দেখা গেছে, সাধারণ ব্যবহারকারীরা এখন প্রায় ২২ মাস পর্যন্ত একই ফোন ব্যবহার করছেন, যা ক্রেতাদের প্রতি বছর নতুন ফোন কেনার প্রবণতাকে অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। এদিকে, বিশ্লেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, ডাটা সেন্টারের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে মেমোরি চিপের যে সংকট তৈরি হয়েছে, তাতে আগামী প্রজন্মের আইফোনের দাম দেড় হাজার ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে। তাছাড়া আগামী সেপ্টেম্বরে বাজারে অ্যাপলের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন আসার গুঞ্জন রয়েছে। পণ্যের দাম অতিরিক্ত বাড়লে ক্রেতারা যেন ডিভাইস বদলানোর চক্র থেকে পিছিয়ে না আসেন, সেই দিকটি বিবেচনা করেই ঠিক মোক্ষম সময়ে এই লিজ কর্মসূচিটি হাতে নিয়েছে অ্যাপল।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।