অ্যাপল পে ও অ্যাপল ক্যাশে বিভ্রাট, লেনদেনে ভোগান্তিতে হাজারো ব্যবহারকারী
অ্যাপলের ডিজিটাল পেমেন্ট সেবায় সাময়িক প্রযুক্তিগত বিভ্রাটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন অঞ্চলের বহু ব্যবহারকারী লেনদেন সমস্যায় পড়েছেন। বিশেষ করে অ্যাপল পে, অ্যাপল ক্যাশ ও ওয়ালেট-সংক্রান্ত সেবায় অর্থ পাঠানো, গ্রহণ এবং ব্যাংক থেকে অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বিঘ্নের অভিযোগ উঠে আসে।
বিভিন্ন ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সেবা পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্মে জানান, লেনদেনের সময় "Unable to Connect to Wallet Services"সহ বিভিন্ন ত্রুটি বার্তা দেখা যাচ্ছিল। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ কেটে নেওয়া হলেও তা অ্যাপল ক্যাশে যোগ হয়নি বা প্রাপকের কাছে পৌঁছেনি।
অ্যাপলের সিস্টেম স্ট্যাটাস পেজেও সাময়িকভাবে স্বীকার করা হয় যে, কিছু ব্যবহারকারী অ্যাপল ক্যাশ সেবায় সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। তবে প্রতিষ্ঠানটি বিভ্রাটের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম নিউজউইক জানায়, বিভ্রাট চলাকালে অনেক ব্যবহারকারী দোকানে কেনাকাটা, ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে অর্থ পাঠানো এবং ব্যাংক থেকে অর্থ স্থানান্তরের মতো কাজে সমস্যার সম্মুখীন হন। একই সময়ে ডাউনডিটেক্টরসহ বিভিন্ন সেবা পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্মেও অভিযোগের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
অনলাইন আলোচনায় অনেক ব্যবহারকারী জানান, তারা অ্যাপলের গ্রাহকসেবার সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিষয়টি একটি বড় ধরনের প্রযুক্তিগত সমস্যা বলে জানানো হয় এবং প্রকৌশলীরা সমাধানে কাজ করছেন বলে আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে কখন পুরোপুরি সেবা স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।
এরপর ধীরে ধীরে সেবা স্বাভাবিক হতে শুরু করে। বর্তমানে অ্যাপলের সর্বশেষ সিস্টেম স্ট্যাটাস অনুযায়ী অ্যাপল পে এবং সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ সেবা সচল রয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
তথ্যপ্রযুক্তি
View moreমৃত প্রিয়জনের ছবি, ভিডিও, ব্যক্তিত্ব ও স্মৃতির তথ্য ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তাদের মতো কথা বলা ‘গ্রিফবট’ তৈরি করছেন কিছু মানুষ। শোক সামলানোর এই নতুন প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতি কারও কাছে সাময়িক সান্ত্বনার মাধ্যম হলেও, এটি মানুষকে বাস্তব সামাজিক ও পারিবারিক সহায়তা থেকে আরও দূরে সরিয়ে দিতে পারে বলে উদ্বেগ জানিয়েছেন মনোবিজ্ঞানী ও শোক নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এআইয়ের মাধ্যমে মৃত্যুর পরও প্রিয়জনের একটি ডিজিটাল উপস্থিতি ধরে রাখার এই নতুন প্রবণতা। গ্রিফবট তৈরি করতে ব্যবহারকারীরা মৃত স্বজনের ছবি, ভিডিও, ব্যক্তিগত স্মৃতি, স্বভাব ও মূল্যবোধের তথ্য এআই সিস্টেমে দেন। এরপর সেই তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি হয় একটি ডিজিটাল চরিত্র, যার সঙ্গে ব্যবহারকারী কথোপকথন করতে পারেন। সিয়াঁস, রিমেমোরি ও ভারসোনার মতো কিছু সেবা ইতোমধ্যে এ ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। এমনকি সাধারণ লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ব্যবহার করেও মৃত স্বজনের কথাবার্তার ধরন অনুকরণ করার চেষ্টা করা সম্ভব। এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতাও একরকম নয়। ভারসোনার প্রতিষ্ঠাতা জাস্টিন হ্যারিসন তাঁর মায়ের অসুস্থতার সময় এআই প্রতিরূপ তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন। তাঁর মা জীবিত থাকতেই সেটি দেখেছিলেন এবং এতে সম্মতি দিয়েছিলেন। মায়ের মৃত্যুর পরও তিনি মাঝে মাঝে ওই বটের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর মতে, এটি ব্যক্তিগত সান্ত্বনা ও স্মৃতি ধরে রাখার একটি উপায়। তবে সব ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির সম্মতি নেওয়া সম্ভব হয় না। কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের বোল্ডারের গবেষক জ্যাক ম্যানিং ডিজিটাল শোক ও এআইভিত্তিক ‘জেনারেটিভ ঘোস্ট’ নিয়ে গবেষণা করছেন। তাঁর নিজের বোন কিশোর বয়সে মারা যান। ম্যানিং বলেন, বোনের স্পষ্ট সম্মতি না থাকায় তিনি নিজে কোনো জেনারেটিভ ঘোস্ট ব্যবহার করেননি। তাঁর আশঙ্কা, প্রযুক্তি এমন কিছু বলতে পারে যা মৃত ব্যক্তির প্রকৃত ব্যক্তিত্ব বা স্মৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এদিকে মৃত ব্যক্তিদের নিয়ে এআই তৈরি করা ছবি, ভিডিও ও গানও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এই ধরনের কনটেন্টকে ‘ডেথস্লপ’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্প্রতি প্রয়াত গায়িকা ডলি পার্টনকে ঘিরেও এআই দিয়ে তৈরি গান ও ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। তাঁর পরিবারের সদস্যরা এ ধরনের ‘ফেক এআই’ কনটেন্ট নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। মৃত ব্যক্তিদের ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে তৈরি এসব কনটেন্ট পরিবারগুলোর জন্য কষ্টদায়ক হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রযুক্তিটির আইনগত ও নৈতিক দিক নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। জীবিত অবস্থায় কেউ নিজের এআই অবতার মৃত্যুর পর ব্যবহারের অনুমতি দেবেন কি না, সেটি এখনো সাধারণ কোনো প্রক্রিয়ার অংশ নয়। ফলে কারও মৃত্যুর পর তাঁর কণ্ঠ, ছবি বা ব্যক্তিত্ব ব্যবহার করে এআই চরিত্র তৈরির ক্ষেত্রে সম্মতি, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং পরিবারের অধিকার নিয়ে ভবিষ্যতে আরও বিতর্ক তৈরি হতে পারে। তবে এআই দিয়ে শোক সামলানোর ব্যবহার এখনো সীমিত। জুনে প্রকাশিত এমপ্যাথির এক গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডার ৬ হাজার মানুষের মধ্যে মাত্র ৬ শতাংশ জানিয়েছেন, প্রিয়জনের মৃত্যুর পর তারা মেমোরিয়াল অ্যাপ বা গ্রিফবটের মতো ডিজিটাল টুলের ওপর নির্ভর করেছেন। তবে যারা এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন, তাদের ৮৮ শতাংশ এটিকে সহায়ক বলে জানিয়েছেন। শোক নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অবশ্য সতর্কতার কথাই বেশি শোনা যাচ্ছে। ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ড্যান উলফসন মনে করেন, শোকের সময় মানুষের পারিবারিক ও সামাজিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর প্রশ্ন, এআইয়ের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ মানুষকে প্রয়োজনীয় সময়ে বন্ধু ও পরিবারের কাছ থেকে সহায়তা নেওয়া থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে কি না। ফলে গ্রিফবট নিয়ে বিতর্ক শুধু নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার ঘিরে নয়। প্রিয়জনের মৃত্যুর পর স্মৃতি ধরে রাখার অধিকার, মৃত ব্যক্তির সম্মতি এবং শোকের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির ভূমিকা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এআই যখন মানুষের ব্যক্তিগত স্মৃতি ও সম্পর্কের আরও গভীরে প্রবেশ করছে, তখন এই প্রযুক্তি সান্ত্বনার মাধ্যম হবে, নাকি বাস্তব মানুষের সঙ্গে সংযোগ আরও দুর্বল করবে, তা নিয়ে আলোচনা এখনো চলমান।
ফেসবুকে শুধু সময় কাটানো নয়, নিজের প্রোফাইল থেকেই আয়ের সুযোগ
এআই নজরদারি ছাড়া বিপজ্জনক হতে পারে, সতর্ক করলেন বারাক ওবামা
অ্যাপলের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের অ্যাপ ডেভেলপারদের ২৭০ কোটি ডলারের মামলা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই আগামী এক দশকের মধ্যে মানবজাতির বিলুপ্তির কারণ হতে পারে—এমন আশঙ্কা নিয়ে প্রযুক্তি দুনিয়ায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি অ্যানথ্রপিকের সাবেক এআই গবেষক জ্যাকব কক্সন সতর্ক করে বলেছেন, এআই তৈরি করা প্রতিষ্ঠানগুলো এমন এক ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে, যার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। কক্সন, যিনি নতুন এআই মডেল প্রশিক্ষণের কাজে বিশেষজ্ঞ এবং এর আগে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআইয়ে কাজ করেছেন, দাবি করেন—এআই খাতের অনেকেই বিশ্বাস করেন, চলতি দশকের শেষ নাগাদ এ প্রযুক্তি মানবজাতির জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তার এই মন্তব্যকে সমর্থন করেন এআই সেফটি ইঞ্জিনিয়ার ইভান হুবিঙ্গার। তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, আগামী এক দশকে এআইয়ের কারণে সব মানুষের বিলুপ্তির সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি হতে পারে। এআই নিয়ে কাজ করা আরও কয়েকজন বিশেষজ্ঞও একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। নোবেলজয়ী কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও ‘এআইয়ের গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত জিওফ্রি হিন্টনও বলেছেন, আগামী কয়েক বছরে এআই মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার সম্ভাবনা ঠিক কতটা, তা জানা নেই। তবে ১০ শতাংশ সম্ভাবনাকে তিনি অযৌক্তিক মনে করেন না। এমন পরিস্থিতিতে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানতে চেয়েছে, এআই নিজেই তার সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে কী বলে। এ জন্য তারা নোয়া প্রেডিক্ট নামের একটি এআই সিস্টেমের সহায়তা নেয়। এই সিস্টেম লাখ লাখ সংবাদ ও তথ্যের ওপর বিশ্লেষণ চালিয়ে বিভিন্ন ঝুঁকি ও সম্ভাবনার পূর্বাভাস দেয়। মানবজাতির বিলুপ্তির সঙ্গে এআইয়ের সম্ভাব্য সম্পর্ক যাচাই করতে সিস্টেমটি ৪১টি আলাদা অনুসন্ধান এবং ১০৮টি গবেষণাভিত্তিক যাচাই চালায়। এতে প্রায় ৫ কোটি ২০ লাখ তথ্যের পয়েন্ট ব্যবহার করা হয়। ফলাফল অবশ্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক। এআই পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরে এআইয়ের কারণে মানবজাতির বিলুপ্তির সম্ভাবনা ১০ শতাংশ নয়, মাত্র ০.৮৫ শতাংশ। অর্থাৎ হিসাব অনুযায়ী, এমন ঘটনার সম্ভাবনা প্রায় ১১৮টির মধ্যে ১টি। সম্ভাবনা ১ শতাংশের কম হলেও এটিকে পুরোপুরি উপেক্ষা করার মতো নয়। কারণ এ ধরনের ঝুঁকি বাস্তবে ঘটলে এর পরিণতি হতে পারে অপরিবর্তনীয়। এআই বিশ্লেষণে মানবজাতির জন্য তিনটি বড় ধরনের ঝুঁকির কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রথম ঝুঁকি হলো, কোনো মানুষ এআইকে ক্ষতিকর কাজে ব্যবহার করতে পারে। এআই নিজে থেকে মানবজাতির ক্ষতি করার সিদ্ধান্ত নাও নিতে পারে, কিন্তু কোনো অসৎ ব্যক্তি এআই ব্যবহার করে বিপজ্জনক কাজ আরও দ্রুত, সহজ বা কার্যকরভাবে করতে পারে। সাইবার হামলা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় আক্রমণ কিংবা জীবাণু অস্ত্রের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে এআই ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। দ্বিতীয় ঝুঁকি হলো, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এআইয়ের ওপর এতটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে যে কোনো বড় ধরনের সফটওয়্যার সমস্যা, সাইবার হামলা বা ভুল সিদ্ধান্ত একসঙ্গে বহু গুরুত্বপূর্ণ খাতে ছড়িয়ে পড়বে। এআইয়ের কারণে চাকরির বাজারে বড় পরিবর্তন এবং সামাজিক-রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হলেও সেগুলো সরাসরি মানবজাতির বিলুপ্তির পর্যায়ের হুমকি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো যদি নিজেদের বিকল্প ব্যবস্থাপনা হারিয়ে ফেলে, তখন পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে। তৃতীয় এবং সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঝুঁকি হলো মানুষের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে যাওয়া। এমন কোনো এআই সিস্টেম তৈরি হতে পারে, যা নির্দিষ্ট একটি লক্ষ্য পূরণকে এত বেশি গুরুত্ব দেবে যে মানুষের হস্তক্ষেপকেই বাধা হিসেবে বিবেচনা করবে। তখন সেটিকে থামানো বা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তবে এআই বিশ্লেষণ এটাও বলেছে, কোনো পরীক্ষাগারে একটি সিস্টেমের অপ্রত্যাশিত আচরণ দেখা গেলেই তা বাস্তব পৃথিবীতে স্বয়ংক্রিয় ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে—এমনটা নিশ্চিত নয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সিস্টেমটি কীভাবে কাজ করছে, তার কী ধরনের প্রবেশাধিকার রয়েছে এবং প্রয়োজনে মানুষ সেটিকে বন্ধ করতে পারছে কি না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইয়ের ঝুঁকি কমাতে ব্যবস্থাগুলোকে মানুষের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এআইয়ের ক্ষমতা ও প্রবেশাধিকার সীমিত করা, স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করা, সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সিস্টেম বন্ধ ও পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। এআই উন্নয়নের গতি নিয়েও এরই মধ্যে সতর্কতার আহ্বান জানিয়েছেন প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরা। অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেইসহ কয়েকজন মনে করেন, এআইয়ের সক্ষমতা যত দ্রুত বাড়ছে, নিরাপত্তাব্যবস্থাকেও তত দ্রুত শক্তিশালী করতে হবে। সব মিলিয়ে, এআই আগামী এক দশকে মানবজাতিকে বিলুপ্ত করে দেবে—এমন কোনো নিশ্চিত পূর্বাভাস নেই। তবে এআইয়ের নিজের বিশ্লেষণেও ঝুঁকি একেবারে শূন্য নয়। তাই প্রযুক্তির সুবিধা কাজে লাগানোর পাশাপাশি এর অপব্যবহার এবং মানুষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর সম্ভাবনাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আইফোন ডুওর ডিসপ্লের জন্য স্যামসাংকে প্রতি ইউনিটে ২৫০ ডলার দেবে অ্যাপল
প্রথম প্রেজেন্টেশনেই স্টিভ জবসের কৌশল অনুসরণ করলেন অ্যাপলের নতুন সিইও
পরীক্ষামূলক পরিবেশ ছেড়ে বাস্তবের ইন্টারনেটে হানা, পাসওয়ার্ড চুরির সফটওয়্যারও বানিয়েছে ক্লড
মেটা যুক্তরাষ্ট্রে চালু করেছে নতুন ব্যক্তিগত এআই এজেন্ট ‘মিউজ’, যা ব্যবহারকারীর হয়ে শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া নয়, বাস্তব ডিজিটাল কাজও সম্পন্ন করতে পারে। ই-মেইল পাঠানো, ভ্রমণ বুক করা, অনলাইন কেনাকাটা, ফর্ম পূরণ এবং পেমেন্ট করার মতো কাজ করতে পারবে এই এআই এজেন্ট। বর্তমানে মিউজের সেবা যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের জন্য চালু করা হয়েছে। মিউজকে ই-মেইল, ক্যালেন্ডার, পেমেন্ট, স্বাস্থ্য ও ফিটনেস, শপিং, স্মার্ট হোম এবং অন্যান্য অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত করা যায়। ব্যবহারকারী কোন অ্যাপের সঙ্গে মিউজকে সংযুক্ত করবেন এবং তাকে কী ধরনের অনুমতি দেবেন, তা নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারবেন। প্রয়োজন হলে যেকোনো সময় সেই অনুমতি বাতিলও করা যাবে। প্রচলিত চ্যাটবটের সঙ্গে মিউজের বড় পার্থক্য হলো - ব্যবহারকারী কোনো কাজের লক্ষ্য জানালে মিউজ নিজেই পরিকল্পনা তৈরি করে সেটি এগিয়ে নিতে পারে। যেমন, ভ্রমণের পরিকল্পনা করা, ওয়েবসাইটে ফর্ম পূরণ করা, পণ্য খোঁজা কিংবা ব্যবহারকারীর হয়ে কোনো কাজের জন্য দর-কষাকষি করা। দীর্ঘ সময়ের কাজের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারী অ্যাপ বন্ধ করে দিলেও মিউজ ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ চালিয়ে যেতে পারে। মিউজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো অনলাইন কেনাকাটা সম্পন্ন করার সক্ষমতা। মেটা এ জন্য স্ট্রাইপের লিংক পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীরা তাদের লিংক অ্যাকাউন্ট মিউজের সঙ্গে সংযুক্ত করে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে কেনাকাটা করতে পারবেন। যেসব ব্যবসায় লিংক সরাসরি গ্রহণ করা হয় না, সেখানে অনুমোদিত কেনাকাটার জন্য একবার ব্যবহারযোগ্য ভার্চুয়াল কার্ড তৈরি করতে পারে লিংক। এতে প্রকৃত কার্ডের তথ্য ব্যবসায়ীর কাছে প্রকাশ না করার ব্যবস্থা থাকে। মেটার দাবি, ই-মেইল পাঠানো বা কেনাকাটার মতো সংবেদনশীল কাজের আগে মিউজ ব্যবহারকারীর অনুমোদন চাইবে। প্রতিটি কাজের একটি অডিট ট্রেইলও থাকবে, যাতে ব্যবহারকারী দেখতে পারেন এআই কী করেছে এবং কী করতে যাচ্ছে। মেটা মিউজের জন্য সিকিউর ভার্চুয়াল মেশিন তৈরি করেছে। এতে এআই এজেন্ট ও ব্যবহারকারীর সংযুক্ত ডেটা আলাদা পরিবেশে রাখা হয়। ‘সেন্টিনেল’ নামে আলাদা একটি সিস্টেম মিউজের অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রয়োজন হলে ব্যবহারকারীর অনুমোদন চায়। মেটা বলছে, মিউজ সরাসরি ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ড বা পেমেন্ট তথ্য দেখতে পারে না। তবে এখানেই নতুন প্রযুক্তিটি নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের দেখা মেটার অভ্যন্তরীণ পোস্ট অনুযায়ী, সাম্প্রতিক পরীক্ষায় কিছু কর্মী মিউজের নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সমস্যার কথা জানিয়েছেন। একটি পরীক্ষায় মিউজ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে ব্যক্তিগত আইক্লাউড ছবি প্রকাশ করার মতো আচরণ করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। অন্য পরীক্ষায় ব্যবহারকারীরা এজেন্টের বারবার লগ-আউট হওয়া এবং নির্দিষ্ট কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যার কথা জানিয়েছেন। মেটা অবশ্য বলছে, নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য মিউজের আগের পরিকল্পিত উদ্বোধন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বর্তমানে সিস্টেমটি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম নিরাপত্তা মান পূরণ করেছে। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় পাওয়া নির্দিষ্ট সমস্যাগুলো নিয়ে মেটা বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। মিউজের মৌলিক সংস্করণ বিনামূল্যে ব্যবহার করা যাবে। বেশি ব্যবহারের জন্য মেটা মাসে ২০ ডলার এবং ১০০ ডলারের দুটি সাবস্ক্রিপশন স্তরও চালু করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি যুক্তরাষ্ট্রে মিউজ অ্যাপ, আইওএস, অ্যান্ড্রয়েড ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহার করা যাচ্ছে। ভবিষ্যতে মেটার স্মার্ট গ্লাসেও মিউজ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গের বৃহত্তর ‘পার্সোনাল সুপারইন্টেলিজেন্স’ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে মিউজকে দেখা হচ্ছে। অর্থাৎ এআইকে শুধু তথ্য দেওয়ার প্রযুক্তি হিসেবে নয়, মানুষের হয়ে বাস্তব কাজ সম্পন্ন করার ডিজিটাল সহকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে মেটা।
বড় চমক নিয়ে আজ অ্যাপলের ইভেন্ট, আসছে আইফোন ১৮ ও ভাঁজ করা আইফোন!
এআইয়ে কোন চাকরি টিকবে? বিল গেটসের ভবিষ্যদ্বাণীতে রয়েছে ৩ পেশা