ওয়াশিংটন ডিসি

যুক্তরাষ্ট্রের ছাড়া হচ্ছে ৬ লাখ মশা
যুক্তরাষ্ট্রের ছাড়া হচ্ছে ৬ লাখ মশা, নতুন অভিনব উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি এলাকায় ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, জিকা ও ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস ছড়ানো মশার সংখ্যা কমাতে চলতি গ্রীষ্মে প্রায় ৬ লাখ বিশেষভাবে প্রস্তুত করা পুরুষ মশা অবমুক্ত করা হচ্ছে। মেরিল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বি সেফ মস্কিটো কন্ট্রোল প্রথমবারের মতো এই জৈবিক পদ্ধতি ব্যবহার করছে, যার লক্ষ্য রাসায়নিক কীটনাশক ছাড়াই রোগবাহী মশার বংশবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা।   প্রতিষ্ঠানটির ছাড়া পুরুষ মশাগুলো ওলবাকিয়া নামের একটি প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া বহন করে। এসব পুরুষ মশা মানুষের রক্ত খায় না এবং কামড়ায়ও না। তবে তারা যখন বন্য স্ত্রী মশার সঙ্গে প্রজনন করে, তখন স্ত্রী মশার পাড়া ডিম আর ফুটে না। ফলে ধীরে ধীরে রোগবাহী মশার সংখ্যা কমে আসে।    বি সেফ মস্কিটো কন্ট্রোলের মালিক টড মন্টগোমারি বলেন, একবার প্রজননের পর আক্রান্ত স্ত্রী মশাটি কার্যত সারা জীবনের জন্য বন্ধ্যা হয়ে যায়। সে পরে যত ডিমই দিক, সেগুলো থেকে আর নতুন মশা জন্মায় না। এই কারণে পদ্ধতিটি দীর্ঘমেয়াদে মশার সংখ্যা কমাতে কার্যকর বলে আশা করা হচ্ছে।    এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য এশিয়ান টাইগার মশা, যা যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত বিস্তার লাভ করা একটি আক্রমণাত্মক প্রজাতি এবং ডেঙ্গু, জিকা ও চিকুনগুনিয়াসহ বিভিন্ন ভাইরাস ছড়াতে সক্ষম। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রজাতির সংখ্যা কমাতে পারলে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে।    এ ধরনের প্রযুক্তি নতুন নয়। ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে *ওলবাকিয়া*ভিত্তিক মশা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি ইতোমধ্যে সফল হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও এই পদ্ধতির ব্যবহার ধীরে ধীরে বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভবিষ্যতে এটি প্রচলিত কীটনাশকের বিকল্প হিসেবে আরও বড় পরিসরে ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
নর্থইস্ট ডিসিতে কিশোরকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় অচেতন উদ্ধার; সাইকেলে পালিয়ে যাওয়া সন্দেহভাজনকে খুঁজছে এমপিডি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে গুলিতে নিহত ১৩ বছরের কিশোর, সন্দেহভাজন কিশোরের খোঁজে পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে (নর্থইস্ট ডিসি) শনিবার রাতে গুলিতে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর নিহত হয়েছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সাইকেলে পালিয়ে যাওয়া এক কিশোরকে খুঁজছে পুলিশ।   মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এমপিডি) জানায়, শনিবার রাত প্রায় ৮টা ২৪ মিনিটে নর্থইস্ট ডিসির রোজডেল স্ট্রিটের ১৬০০ ব্লকে একজন আহত ব্যক্তির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় অচেতন ও শ্বাস-প্রশ্বাসহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।   ঘটনার তদন্ত করছে এমপিডির হোমিসাইড ইউনিট। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন একজন কিশোরকে সর্বশেষ রোজডেল স্ট্রিট ও ১৬তম স্ট্রিট নর্থইস্ট এলাকার কাছে একটি কালো রঙের সাইকেলে দেখা গেছে। তার পরনে ছিল কালো রঙের শার্ট ও কালো প্যান্ট।   পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে এবং তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে। নিহত কিশোরের পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।   ঘটনা সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে এমপিডির হোমিসাইড ইউনিটের হটলাইন ২০২-৭২৭-৯০৯৯ নম্বরে অথবা ৫০৪১১ নম্বরে টেক্সট বার্তা পাঠিয়ে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বড় শহরের মতো ওয়াশিংটন ডিসিতেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিশোরদের জড়িত সহিংস অপরাধ ও বন্দুক হামলার ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করলেও শিশু ও কিশোরদের লক্ষ্য করে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

তাবাস্সুম জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
ওয়াশিংটনের মেট্রো ট্রেনে রসওয়েল এনসিনাকে ঘিরে প্যাট্রিয়ট ফ্রন্টের সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত
মেট্রো ট্রেনে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী গোষ্ঠীর মুখোমুখি এশীয় বংশোদ্ভূত যাত্রী, ‘ভয় আর অনিশ্চয়তায় জমে গিয়েছিলাম’

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে স্বাধীনতা দিবসের (৪ জুলাই) শোভাযাত্রার সময় শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী হিসেবে পরিচিত প্যাট্রিয়ট ফ্রন্ট নামের একটি সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে একই মেট্রো ট্রেনে যাত্রা করতে গিয়ে আতঙ্কের মুহূর্ত পার করেছেন এশীয় বংশোদ্ভূত এক মার্কিন নাগরিক। ঘটনাটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ওই ব্যক্তির নাম রসওয়েল এনসিনা। স্বাধীনতা দিবসে তিনি মেরিল্যান্ডে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। ঠিক তখনই মুখোশ পরা প্যাট্রিয়ট ফ্রন্টের সদস্যরা তার মেট্রো ট্রেনে ওঠেন। পরে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা গেটি ইমেজেস-এর তোলা কয়েকটি ছবিতে দেখা যায়, একা বসে থাকা এনসিনাকে ঘিরে রয়েছেন মুখোশধারী কয়েকজন সদস্য।   এনবিসি ওয়াশিংটনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এনসিনা বলেন, “এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য কেউ প্রস্তুত থাকে না। এমন মুহূর্তে শরীর শক্ত হয়ে আসে, আর মনে প্রশ্ন জাগে, আসলে কী ঘটছে।” তিনি জানান, পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে কারও সঙ্গে চোখাচোখি করেননি। নিজেকে নিরাপদ রাখাই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য।   তবে এই অভিজ্ঞতার মধ্যেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের ইতিহাস থেকে সাহস নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এনসিনা বলেন, “আমি প্রথম ব্যক্তি নই, যিনি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। রুবি ব্রিজেসসহ পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে অসংখ্য আফ্রিকান-আমেরিকান শিশু, কিশোর ও শিক্ষার্থী আরও কঠিন সময় পার করেছেন। তখন বুঝতে পারি, তাদের মতো সাহসই আমাকে ধরে রাখতে হবে।”   এটি এনসিনার জীবনের প্রথম বৈষম্যমূলক অভিজ্ঞতাও নয়। তিনি জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে একই মেট্রোতে যাত্রার সময় একদল কিশোর তার এবং আরেক এশীয় বংশোদ্ভূত যাত্রীর ওপর কফি ছুড়ে মারে। কিন্তু একই ট্রেনের অন্য অ-এশীয় যাত্রীদের তারা কিছুই করেনি। সে সময়ও তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছিলেন। এনসিনার ভাষায়, “পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও মনে হচ্ছে যেন একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, এই দেশে এখনো বিভাজন রয়ে গেছে।”   এদিকে জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রাম অন এক্সট্রিমিজম-এর গবেষক লুক বাউমগার্টনার এনবিসি ওয়াশিংটনকে বলেন, প্যাট্রিয়ট ফ্রন্টের মতো সংগঠনগুলো মূলত জনসম্মুখে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে চায়। তার ভাষায়, “তাদের মূল বার্তা হলো, আমেরিকা শুধু শ্বেতাঙ্গদের জন্য। প্রচার পাওয়াই তাদের প্রধান লক্ষ্য এবং অধিকাংশ উগ্রপন্থী সংগঠন এ ধরনের কৌশলই অনুসরণ করে।”   উল্লেখ্য, অ্যান্টি-ডিফেমেশন লীগ (ADL) প্যাট্রিয়ট ফ্রন্টকে একটি শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সংগঠনটি বিভিন্ন সময় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে মিছিল ও জনসমাবেশের মাধ্যমে নিজেদের মতাদর্শ প্রচারের চেষ্টা করে।   সবকিছুর পরও মানবতার প্রতি নিজের বিশ্বাস হারাতে চান না এনসিনা। তিনি বলেন, “আমাদের আশা ধরে রাখতে হবে। এমন সময়গুলোতে আশাই সবচেয়ে বড় ভরসা। আমি এখনো বিশ্বাস করি, অধিকাংশ মানুষ মূলত ভালো।”

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
আতশবাজির পর ওয়াশিংটনে বায়ুদূষণের মাত্রা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। ছবি: সংগৃহীত
৮ লাখ ৫০ হাজার আতশবাজির পর বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বড় শহর ওয়াশিংটন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ছিল অস্বাস্থ্যকর বাতাস

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত বিশাল আতশবাজির প্রদর্শনীর পর কয়েক ঘণ্টার জন্য বিশ্বের বড় শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরে পরিণত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি। বিশ্লেষকদের মতে, মাত্র ৪০ মিনিটের আতশবাজির প্রদর্শনী শহরজুড়ে বায়ুদূষণের মাত্রা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে কর্তৃপক্ষ জনস্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করতে বাধ্য হয়।   বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ক্ল্যারিটি মুভমেন্ট মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে জানিয়েছে, স্বাধীনতা দিবসের আতশবাজি প্রদর্শনীর পর বাতাসে ক্ষুদ্র কণার (পার্টিকুলেট ম্যাটার বা পিএম) ঘনত্ব স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৬ দশমিক ৭ গুণ বেড়ে যায়। প্রতিষ্ঠানটি ওয়াশিংটনজুড়ে স্থাপিত ২৬টি বায়ুমান পর্যবেক্ষণ যন্ত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ফলাফল প্রকাশ করেছে। এসব যন্ত্র স্থানীয় জ্বালানি ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগিতায় পরিচালিত হয়।   গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, শহরের প্রতিটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে বায়ুর মান এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল, যাকে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (ইপিএ) 'সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর' হিসেবে বিবেচনা করে। কয়েকটি এলাকায় দূষণের মাত্রা এর চেয়েও বেশি ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আতশবাজি প্রদর্শনী শেষ হওয়ার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর, রোববার ভোর ৪টার দিকে দূষণের মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এরপর আরও প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বায়ুদূষণ উচ্চমাত্রায় স্থায়ী ছিল। পরিস্থিতির কারণে ওয়াশিংটন ডিসি কর্তৃপক্ষ 'কোড রেড' সতর্কতা জারি করে।   সতর্কবার্তায় বলা হয়, প্রবীণ, শিশু এবং শ্বাসকষ্ট বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য বাইরের বাতাস স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ। এমনকি সাধারণ মানুষও স্বাস্থ্যগত সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।   গবেষণায় দেখা গেছে, শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি ছিল। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ওয়েস্ট পোটোম্যাক পার্কে আতশবাজি নিক্ষেপের একটি প্রধান স্থান থাকার পাশাপাশি রাতের আবহাওয়ার কারণে ধোঁয়া ওই এলাকায় আটকে থাকায় দূষণ বেশি হয়েছে। ক্ল্যারিটি মুভমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড লু বলেন, দূষিত বাতাস সম্ভবত প্রতিবেশী ভার্জিনিয়ার আর্লিংটন এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে সেখানে পর্যাপ্ত পর্যবেক্ষণ যন্ত্র না থাকায় বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তার ভাষায়, এই ঘটনাই দেখিয়ে দেয় কেন তাৎক্ষণিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত করা জরুরি। পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকলে বড় ধরনের দূষণের ঘটনা অনেক সময় অজানাই থেকে যায়। বিশ্লেষকরা আরও বলেছেন, রোববার সন্ধ্যায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাত না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে বাতাসের দূষণ কিছুটা কমে আসে এবং সম্ভাব্য আরও বড় সংকট এড়ানো সম্ভব হয়।   এবারের স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ আতশবাজি প্রদর্শনীর আয়োজন করে ট্রাম্প-সমর্থিত অলাভজনক সংস্থা ফ্রিডম ২৫০। আয়োজকদের দাবি, শনিবার রাত ১১টায় শুরু হওয়া প্রদর্শনীতে রাজধানীর ১০টি স্থান থেকে ৮ লাখ ৫০ হাজারের বেশি আতশবাজি ফোটানো হয়। তুলনামূলকভাবে ওয়াশিংটনে সাধারণ স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রায় ১৭ হাজার আতশবাজি ব্যবহার করা হয়।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই প্রদর্শনীকে 'তার দেখা সবচেয়ে দর্শনীয় আতশবাজির অনুষ্ঠান' বলে মন্তব্য করেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার এয়ারনাউ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার তথ্য অনুযায়ী, আতশবাজি প্রদর্শনীর পর কিছু সময়ের জন্য বিশ্বের বড় শহরগুলোর মধ্যে ওয়াশিংটনের বায়ুমান ছিল সবচেয়ে খারাপ।   এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেইলর রজার্স বলেন, এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের সবচেয়ে বড় আতশবাজির প্রদর্শনী। তিনি আরও বলেন, প্রতি বছরই স্বাধীনতা দিবসের আতশবাজির পর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে স্বল্প সময়ের জন্য বায়ুদূষণ বেড়ে যায়। এবারের ঘটনাও তার ব্যতিক্রম নয়।   অন্যদিকে আমেরিকান লাং অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর প্রায় ৩০ কোটি পাউন্ড আতশবাজি ব্যবহার করা হয়। এসব আতশবাজি থেকে সালফার ডাই-অক্সাইড, কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইডসহ ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর বিভিন্ন গ্যাস ও সূক্ষ্ম কণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।   পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় আকারের আতশবাজির প্রদর্শনী স্বল্প সময়ের জন্য হলেও বায়ুমানের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ, গর্ভবতী নারী এবং শ্বাসতন্ত্রের রোগীদের জন্য এ ধরনের দূষণ তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
ওয়াশিংটনের লিংকন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুলে ৪ জুলাইয়ের স্বাধীনতা দিবসের নিরাপত্তা বেষ্টনী | ছবি: এপি ফটো/নাথান হাওয়ার্ড
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভাঙচুরের অভিযোগে সাবেক অলিম্পিয়ানের বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির বিখ্যাত ‘লিঙ্কন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুল’-এ ভাঙচুর ও রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি নষ্ট করার অভিযোগে ডেভিড হার্ন নামের এক সাবেক অলিম্পিয়ান ক্যানো রেসারের (নৌকা বাইচ) বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার আদালতের গ্র্যান্ড জুরি তাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ গঠন করেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেগা সংস্কার প্রকল্পের আওতাধীন এই পুলে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার জেরে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলো।   ওয়াশিংটন ডিসির ইউএস অ্যাটর্নি জেনিন পিরো জানান, ৬৭ বছর বয়সী ডেভিড হার্ন পুলের নিচে নতুন লাগানো সিল্যান্ট (প্রতিরক্ষামূলক আবরণ) দুই হাত দিয়ে টেনে ছিঁড়ে ফেলেছেন, যা সম্পূর্ণ একটি ‘ইচ্ছাকৃত অপরাধ’। এর ফলে পুলে ১ হাজার ডলারের বেশি ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া সেখানে কর্তব্যরত এক কর্মচারী তাঁকে বাধা দিতে গেলে তিনি চরম উগ্র আচরণ করেন বলেও অভিযোগ আনা হয়েছে। অ্যাটর্নি পিরো জানান, এই ঘটনার পক্ষে তাদের কাছে জোরালো প্রমাণ রয়েছে।   তবে ডেভিড হার্নের আইনজীবী এবং মানবাধিকার সংস্থা ‘ডেমোক্রেসি ডিফেন্ডারস ফান্ড’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা নর্ম আইসেন এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন এবং অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, একজন সাধারণ নাগরিকের বিরুদ্ধে কাল্পনিক গল্প তৈরি করে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে ডেভিড হার্ন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে এর আগে জানান, গত ১৯ জুন সাইকেল চালানোর সময় তিনি কেবল কৌতূহলবশত পুলে হাত দিয়ে নতুন আবরণটি কেমন তা স্পর্শ করেছিলেন এবং পার্কের কর্মচারী বারণ করার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি সরে আসেন। এই ঘটনার পর ন্যাশনাল গার্ড ও পার্ক পুলিশ তাঁকে প্রায় ৫ ঘণ্টা আটকে রেখেছিল।   আমেরিকার ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী সামনে রেখে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উদ্যোগে এই রিফ্লেক্টিং পুলে ১৬ মিলিয়ন (১ কোটি ৬০ লাখ) ডলারের একটি বিশাল সংস্কার কাজ শুরু হয়, যা শুরু থেকেই নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত। পুলে শেওলা জমে পানি নষ্ট হওয়া এবং নতুন কোটিং নষ্ট হওয়ার পেছনে ট্রাম্প প্রশাসন ‘নাশকতার’ অভিযোগ তুলেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি, কিছু দুষ্কৃতকারী পুলে বক্স কাটার দিয়ে কোটিং কেটেছে এবং সার ঢেলে পানি নষ্ট করেছে। এই ঘটনার পর থেকেই লিঙ্কন মেমোরিয়ালের চারপাশজুড়ে ন্যাশনাল গার্ড ও পার্ক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং ডেভিড হার্ন ছাড়াও আরও প্রায় ৬ জনকে এই সংক্রান্ত অন্যান্য অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ২, ২০২৬ ১৪:০
ন্যাশনাল গার্ডের টহল দল I ছবি: সংগৃহীত
গান বাজানোর ‘অপরাধে’ আটক, শেষমেশ ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ পেলেন মার্কিন যুবক

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ওহাইও ন্যাশনাল গার্ডের টহল দলের পেছনে হেঁটে হেঁটে নিজের মুঠোফোনে 'স্টার ওয়ার্স' সিনেমার বিখ্যাত ডার্থ ভেডার থিম সং বাজানোর দায়ে আটক হয়েছিলেন স্যাম ও'হারা নামের এক যুবক। তবে বিনা অপরাধে তাকে আটকে রাখার সেই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শেষপর্যন্ত বড় জয় পেয়েছেন তিনি। বেআইনিভাবে আটকের অভিযোগ তুলে পুলিশ ও ন্যাশনাল গার্ডের বিরুদ্ধে করা ওই মামলায় আপস-মীমাংসার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ হিসেবে তিনি ৫০ হাজার ডলার পেয়েছেন।   বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) হাতে আসা একটি আইনি নথিতে দেখা গেছে, স্যাম ও'হারাকে ক্ষতিপূরণের এই অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া (ওয়াশিংটন ডিসি)। এই আইনি লড়াইয়ে স্যামের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেছে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন অব দ্য ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া।   মূলত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে দেশটির রাজধানীতে ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত উপস্থিতির প্রতিবাদ হিসেবেই তিনি এই অভিনব পন্থা বেছে নিয়েছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। এই ঘটনায় ওয়াশিংটন ডিসি প্রশাসন, মেট্রোপলিটন পুলিশের চারজন কর্মকর্তা এবং ওহাইও ন্যাশনাল গার্ডের এক সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন তিনি।   মামলার প্রেক্ষাপট থেকে জানা যায়, গত ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন ডিসির একটি রাস্তায় ন্যাশনাল গার্ডের কয়েকজন সদস্য টহল দিচ্ছিলেন। সে সময় তাদের পেছনে হেঁটে হেঁটে নিজের মুঠোফোনে স্টার ওয়ার্স-এর ‘দ্য ইম্পেরিয়াল মার্চ’ থিমটি বাজাচ্ছিলেন ও'হারা। মামলার এজাহার অনুযায়ী, সে সময় ন্যাশনাল গার্ডের এক সদস্য পুলিশকে খবর দেন।   পুলিশ এসে ও'হারাকে আটকে রেখে ১৫ থেকে ২০ মিনিট হাতকড়া পরিয়ে রাখে এবং পরে কোনো অভিযোগ গঠন ছাড়াই তাকে ছেড়ে দেয়। ওই ঘটনার জেরে একই বছরের অক্টোবরে দায়ের করা মামলায় ও'হারা অভিযোগ করেন যে, পুলিশ কর্মকর্তারা তার মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ‘প্রথম সংশোধনী’ এবং অবৈধ তল্লাশি ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে থাকা ‘চতুর্থ সংশোধনী’ অধিকার চরমভাবে লঙ্ঘন করেছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২, ২০২৬ ১৪:০
লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিতব্য ৪০তম ফোবানা কনভেনশন l কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
লস অ্যাঞ্জেলেসে ৪০তম ফোবানা কনভেনশন সফল করতে ওয়াশিংটনে প্রস্তুতি সভা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিতব্য ৪০তম ফোবানা কনভেনশনকে সফল ও সার্থক করার লক্ষ্যে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আসন্ন এই বৃহৎ আয়োজনকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ততা বাড়াতেই মূলত এই প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয়।   উক্ত আলোচনা সভায় ওয়াশিংটন ডিসি, মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়া (ডিএমভি) অঞ্চলের বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং ফোবানাপ্রেমীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় ৪০তম ফোবানা কনভেনশনের সার্বিক প্রস্তুতি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা এবং প্রবাসীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।   উপস্থিত বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, ফোবানা কেবল একটি বার্ষিক সম্মেলন নয়; এটি উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের ঐক্য, সংস্কৃতি ও আবহমান ঐতিহ্যের অন্যতম বৃহৎ মিলনমেলা। তাই এবারের এই ঐতিহাসিক আয়োজনকে স্মরণীয় করে তুলতে সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   সভায় উপস্থিত সকলেই লস অ্যাঞ্জেলেসের এই আয়োজনকে সর্বাত্মকভাবে সফল করার লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে প্রবাসীদের ব্যাপক উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। পরিশেষে, আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারী সকল অতিথি, কমিউনিটি নেতা ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়।   সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ৪০তম ফোবানা কনভেনশন প্রবাসী বাংলাদেশিদের ইতিহাসে একটি অনন্য ও সফল আয়োজনে পরিণত হবে বলে দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
লিংকন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুলে ভাঙচুরের অভিযোগ, ট্রাম্পের দাবি ঘিরে বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল মলের লিংকন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুলে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনার কারণে পুলের পানি নিষ্কাশন করে পুনরায় মেরামত করা প্রয়োজন হবে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।   ট্রাম্প জানান, ভাঙচুরের ঘটনায় “অনেককে গ্রেপ্তার” করা হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে থাকা এক ব্যক্তি সিএনএনকে জানান, তিনি কেবল সংস্কারের সময় আলগা হয়ে থাকা নীল উপাদান স্পর্শ করেছিলেন এবং সেখানে কোনো ধরনের ক্ষতি হয়নি বলে দাবি করেন।   সম্প্রতি ১৪ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে পুল সংস্কার প্রকল্পটি ট্রাম্পের ওয়াশিংটন সৌন্দর্যবর্ধন উদ্যোগের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়। এর আগে তিনি হোয়াইট হাউসে বলরুম নির্মাণ ও ফোয়ারা সংস্কারের মতো প্রকল্পও গ্রহণ করেছিলেন।   সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শতাব্দীপ্রাচীন এই রিফ্লেক্টিং পুলটি সম্প্রতি সংস্কারের পর থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। পানিতে শৈবাল বৃদ্ধি এবং নীল রঙের আবরণ খসে পড়ার ঘটনা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শৈবাল বৃদ্ধি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ।   ঘটনার বিষয়ে তিনবারের অলিম্পিয়ান ডেভিড হার্ন দাবি করেন, তিনি পুলের ভেতরে থাকা আলগা অংশ পরীক্ষা করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কেবল কৌতূহলবশত বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছিলেন এবং কোনো ক্ষতি করেননি।   অন্যদিকে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, ন্যাশনাল মলের অন্যান্য ভাঙচুরের ঘটনাও তদন্তাধীন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, শৈবাল প্রায় ৭৫ শতাংশ পরিষ্কার করা হয়েছে এবং দ্রুত মেরামত কাজ সম্পন্ন করা হবে।   তবে স্থানীয় দর্শনার্থী ও পর্যটকদের মধ্যে এ নিয়ে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ সংস্কার উদ্যোগকে সমর্থন করলেও অনেকে পুলের বর্তমান অবস্থাকে “খুবই নোংরা” বলে মন্তব্য করেছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টেরিয়র ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, শৈবাল বৃদ্ধিকে একটি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং তা নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। রিফ্লেক্টিং পুলের সংস্কার ও বর্তমান পরিস্থিতি এখন রাজনৈতিক বিতর্ক ও জনআলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

Unknown জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

যুক্তরাষ্ট্রের কোন স্টেট এ বাংলাদেশিদের জীবন সবচেয়ে স্বস্তির? ২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০