- প্রচ্ছদ
- Topic
টিকিট
অস্ট্রেলিয়ার স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা জেটস্টার আগামী বছর থেকে কেবিনের ওভারহেড বিনে হাতব্যাগ বা ক্যারি অন ব্যাগ রাখার জন্য যাত্রীদের কাছ থেকে আলাদা ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নীতির আওতায় টিকিটের মূল ভাড়ায় শুধু সিটের নিচে রাখা যায় এমন একটি ছোট ব্যক্তিগত ব্যাগ বহনের সুযোগ থাকবে। বড় ব্যাগ ওভারহেড বিনে রাখতে চাইলে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হবে। এয়ারলাইনটির ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন নিয়ম কার্যকর হবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে। রুটভেদে ওভারহেড বিন ব্যবহারের ফি ২৫ থেকে ৫২ অস্ট্রেলিয়ান ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এই ফি পরিশোধ করলে যাত্রীরা “প্রায়োরিটি ক্যারি অন” সুবিধাও পাবেন, যার মাধ্যমে আগে বিমানে ওঠার সুযোগ মিলবে। তবে যাত্রীরা বিনা খরচে একটি ছোট ব্যাকপ্যাক, হ্যান্ডব্যাগ বা ল্যাপটপ ব্যাগ সঙ্গে নিতে পারবেন, যদি সেটি সামনের সিটের নিচে রাখা যায়। একই সঙ্গে কেবিন ব্যাগের আগের ৭ কেজি ওজনসীমাও তুলে দেওয়া হচ্ছে, ফলে নতুন নিয়মে ওভারহেড বিনে রাখা ব্যাগের সর্বোচ্চ ওজন হবে ১০ কেজি। জেটস্টারের প্রধান নির্বাহী স্টেফানি টালি বলেছেন, ওভারহেড বিন নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের চাপ ও বিশৃঙ্খলা কমানো এবং দ্রুত বোর্ডিং নিশ্চিত করতেই এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তার ভাষ্য, যাত্রীরা যাতে কেবল প্রয়োজনীয় সেবার জন্যই অর্থ পরিশোধ করেন, সেই লক্ষ্যেই নতুন মূল্যনীতি চালু করা হচ্ছে। তবে ঘোষণার পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, মূল টিকিটের দাম কমানো ছাড়াই আগে যে সুবিধা ছিল, সেটির জন্য এখন অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে। তারা এটিকে যাত্রীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ হিসেবে দেখছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের অনেক স্বল্পমূল্যের এয়ারলাইন বহু বছর ধরেই ক্যারি অন ব্যাগের জন্য অতিরিক্ত ফি নিয়ে আসছে। জেটস্টারের এই সিদ্ধান্ত সেই একই ব্যবসায়িক মডেলের অনুসরণ হলেও অস্ট্রেলিয়ায় এটি প্রথম বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের এক মা ছেলের জন্য ফিফা বিশ্বকাপের টিকিট কিনতে গিয়ে ভুলবশত প্রায় ৮ হাজার ১০০ ডলারের একটি পার্কিং পাস কিনে ফেলেছেন। ভুক্তভোগী এলিজাবেথ সাইটা মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউইয়র্ককে জানান, তিনি অনলাইনে টিকিট বিক্রির প্ল্যাটফর্ম স্টাবহাবের মাধ্যমে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ব্রাজিল বনাম মরক্কো ম্যাচের টিকিট কেনেন। দুইটি আসনের জন্য তিনি ৭৭২ ডলার এবং অতিরিক্ত বিমা খরচ পরিশোধ করেন। কিন্তু কেনাকাটা শেষ করার পরই তিনি দেখতে পান, তার অ্যাকাউন্ট থেকে আলাদা করে ৮ হাজার ১০০ ডলার কেটে নেওয়া হয়েছে। পরে জানা যায়, তিনি ভুল করে একটি পার্কিং পাস কিনে ফেলেছিলেন, যার দাম ছিল কয়েক হাজার ডলার। তিনি জানান, ভুল বুঝতে পারার “কয়েক সেকেন্ড বা সর্বোচ্চ এক মিনিটের মধ্যে” তিনি স্টাবহাবের সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থ ফেরতের আবেদন করেন। শুরুতে কোম্পানিটি তার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করলেও পরে গণমাধ্যমের হস্তক্ষেপের পর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে পুরো টাকা ফেরত দেয়। স্টাবহাবের এক মুখপাত্র জানিয়েছে, নির্দিষ্ট গ্রাহকের বিষয়ে তারা মন্তব্য করতে না পারলেও তারা প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহে সহায়তা করেছে এবং শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে। চলতি বছর ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ শুরু হয়েছে মেক্সিকো সিটিতে। যুক্তরাষ্ট্রে আগামী মাসগুলোতে ১১টি অঙ্গরাজ্যের ৭০টিরও বেশি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে ফাইনাল হবে ১৯ জুলাই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। তবে টিকিটের উচ্চমূল্য ও অতিরিক্ত খরচ নিয়ে ভক্তদের মধ্যে অসন্তোষও রয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বড় একটি অংশ এখনো বিশ্বকাপ নিয়ে খুব বেশি আগ্রহী নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি সম্প্রতি ফিফার সাথে একটি চুক্তি করেছেন, যার মাধ্যমে শহরটির বাসিন্দারা মাত্র ৫০ ডলারে এক হাজারটি বিশ্বকাপের টিকিট কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। এই খবর প্রকাশের পর আটলান্টার ফুটবল ভক্তরা মেয়র আন্দ্রে ডিকেন্সের কাছেও নিম্ন আয়ের বাসিন্দাদের জন্য ছাড়যুক্ত টিকিটের ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানিয়েছেন। 'প্লে ফেয়ার এটিএল' নামের একটি স্থানীয় গোষ্ঠীর নেতৃত্বে এই দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। তাদের দাবি, টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম সত্ত্বেও আটলান্টার সাধারণ বাসিন্দাদের নিজ শহরে আয়োজিত বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখার সুযোগ থাকা উচিত। সমর্থকদের মতে, যুব লিগ থেকে শুরু করে 'আটলান্টা ইউনাইটেড'-এর মতো স্থানীয় দলগুলোর কারণে শহরের বৈচিত্র্যময় 'মেল্টিং পট' বা মিশ্র সংস্কৃতি গভীরভাবে ফুটবলের সাথে যুক্ত। তাদের আশঙ্কা, টিকিটের এই অত্যধিক দাম সেইসব স্থানীয় ভক্তদের খেলা দেখা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করবে, যারা মূলত এই খেলাকে স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় করে তুলেছেন। বেশ কয়েকজন বাসিন্দা এবং সিজন টিকিট হোল্ডার অভিযোগ করে বলেন, বিশ্বকাপের বৈশ্বিক ঐক্যের বার্তার সাথে বর্তমানের এই অত্যধিক ব্যয়বহুল বা অর্থনির্ভর ব্যবস্থা পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। এর পাশাপাশি, তারা যাতায়াত খরচের সুবিধাটিও তুলে ধরেন। নিউইয়র্ক সিটির কাছে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে যাওয়ার জন্য যেখানে দর্শকদের অনেক বেশি ট্রানজিট ভাড়া গুনতে হয়, সেখানে আটলান্টায় 'মার্টা' (MARTA) ট্রানজিট ভাড়া প্রতি যাত্রায় মাত্র আড়াই ডলার। তাই যাতায়াত সহজ হলেও টিকিটের দামই এখানে প্রধান অন্তরায়। ভক্তদের মতে, বর্তমানে গ্যালারির ওপরের দিকের সাধারণ আসনের জন্যও গড়ে ৪০০ ডলারের বেশি দাম হাঁকানো হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের নাগালের একেবারেই বাইরে। এ কারণেই শহর কর্তৃপক্ষের কাছে ছাড়যুক্ত টিকিটের জন্য ফিফার সাথে আলোচনার আহ্বান জানানো হচ্ছে। 'প্লে ফেয়ার এটিএল'-এর পরিচালক মাইকেল কলিন্স বলেন, নিউইয়র্ক যদি সস্তায় টিকিটের ব্যবস্থা করতে পারে, তবে আটলান্টারও তা পারা উচিত; বিশেষ করে যখন এই শহরেই ইউএস সকারের জাতীয় সদর দপ্তর অবস্থিত এবং এটি বিশ্বকাপের অন্যতম প্রধান একটি ভেন্যু হতে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়াম—যা ফিফার নিয়ম অনুযায়ী বর্তমানে 'আটলান্টা স্টেডিয়াম' নামে পরিচিত—একটি সেমিফাইনালসহ বিশ্বকাপের মোট আটটি রোমাঞ্চকর ম্যাচ আয়োজন করতে যাচ্ছে।
২০২৬ সালের ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা এখনই চরমে। তবে ফুটবল প্রেমীদের জন্য এবার এক চমকে দেওয়ার মতো খবর সামনে এসেছে। বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের একটি টিকিটের দাম হাঁকানো হচ্ছে অবিশ্বাস্য ২০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৩ কোটি টাকারও বেশি! সম্প্রতি টিকিট পুনঃবিক্রয়কারী একটি প্ল্যাটফর্মে এই চড়া দাম লক্ষ্য করা গেছে। সাধারণত ফিফা কর্তৃক নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দামে টিকিট রিসেল বা পুনঃবিক্রয় করার ঘটনা নতুন নয়, তবে ২০ লাখ ডলারের এই অঙ্ক সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। যদিও ফিফা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সাধারণ জনগণের জন্য টিকিটের মূল্য তালিকা প্রকাশ করেনি, তবে রিসেলারদের এমন কর্মকাণ্ডে ফুটবল ভক্তদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় টিকিটের সংখ্যা কম হওয়ায় কালোবাজারি এবং বিভিন্ন থার্ড পার্টি ওয়েবসাইটগুলো এই সুযোগ নিচ্ছে। ফিফা বরাবরই দর্শকদের সতর্ক করে আসছে যেন তারা কেবল অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম থেকেই টিকিট সংগ্রহ করেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে ৪৮টি দল অংশ নেবে, ফলে ম্যাচ এবং টিকিটের সংখ্যা বাড়লেও ফাইনালের মতো হাই-ভোল্টেজ ম্যাচের টিকিটের জন্য দর্শকদের বড় অঙ্কের অর্থই গুণতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল শুরুর প্রহর যত ঘনিয়ে আসছে, দর্শকদের মাঝে টিকিটের চাহিদাও আকাশচুম্বী হচ্ছে। এই উন্মাদনার মাঝেই ফুটবল ভক্তদের জন্য নতুন খবর জানাল বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিফা বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচের জন্য নতুন করে আরও কিছু টিকিট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে এবার টিকিটের তালিকায় যুক্ত হয়েছে নতুন এবং আগের চেয়ে বেশ ব্যয়বহুল কিছু ক্যাটাগরি। নতুন ‘ফ্রন্ট ক্যাটাগরি’ এবং দামের ঊর্ধ্বগতি ফিফা জানিয়েছে, বুধবার থেকে তাদের অফিশিয়াল পোর্টালে ১, ২ এবং ৩ নম্বর ক্যাটাগরির পাশাপাশি নতুন একটি ‘ফ্রন্ট ক্যাটাগরি’র টিকিট পাওয়া যাবে। মূলত স্টেডিয়ামের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থানগুলো থেকে খেলা দেখার সুযোগ দিতেই এই প্রিমিয়াম স্তরটি চালু করা হয়েছে। তবে এই নতুন স্তরের টিকিটের দাম সাধারণ ফুটবল প্রেমীদের পকেটে বেশ চাপ ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। টিকিটের এই নতুন মূল্যতালিকা এবং বণ্টন প্রক্রিয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিমধ্যেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেক ভক্ত অভিযোগ করেছেন, তারা আগে যখন টিকিট কিনেছিলেন, তখন সেরা সিটগুলো হয়তো সাধারণ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়নি। এখন সেই ভালো সিটগুলোকেই ‘ফ্রন্ট ক্যাটাগরি’ বা দামি ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করে বেশি মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, গত ডিসেম্বরে যখন প্রথম দফায় টিকিট বিক্রি শুরু হয়, তখন সর্বনিম্ন ক্যাটাগরি-৩ এর টিকিটের দাম ছিল ১৪০ ডলার। আর ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের সর্বোচ্চ দাম ধরা হয়েছিল ৮,৬৮০ ডলার। তবে এপ্রিলের শুরুতে টিকিট পোর্টাল পুনরায় চালু হলে দেখা যায় কিছু ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দাম ১০,৯৯০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো—এই তিন দেশে যৌথভাবে আয়োজিত হতে যাওয়া ইতিহাসে সর্ববৃহৎ (৪৮ দলের) এই বিশ্বকাপকে ঘিরে টিকিটের চাহিদা যেমন তুঙ্গে, তেমনি যাতায়াত এবং সিটের উচ্চমূল্য সাধারণ সমর্থকদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফুটবল ভক্তদের উন্মাদনায় পানি ঢেলে দিল ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। বিশেষ করে ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দাম ১১ হাজার ডলার স্পর্শ করায় বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। সাধারণ দর্শকদের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাওয়া এই মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে ফিফার ওপর ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন ফুটবলপ্রেমীরা। টিকিট বিক্রির চূড়ান্ত পর্বে দেখা গেছে, ফাইনালের সর্বোচ্চ ক্যাটাগরির টিকিটের দাম বর্তমানে ১০,৯৯০ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত সেপ্টেম্বরের তুলনায় প্রায় ৩৮ শতাংশ বেশি। কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের সর্বোচ্চ মূল্যের টিকিটের (১,৬০৪ ডলার) তুলনায় এবারের দাম প্রায় সাত গুণ বেশি। কেবল এক নম্বর ক্যাটাগরিই নয়, ক্যাটাগরি-২ এবং ক্যাটাগরি-৩ টিকিটের দামও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ৩০ থেকে ৩২ শতাংশ পর্যন্ত। টিকিট বিক্রির এই 'লাস্ট-মিনিট সেল' প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিগত বিভ্রাট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অনেক দর্শক টিকিট কাটার সময় গোলযোগের মুখে পড়েছেন, যা তাদের অসন্তোষকে আরও উসকে দিয়েছে। তবে এই সমালোচনাকে খুব একটা পাত্তা দিচ্ছেন না ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তার মতে, টিকিটের এই আকাশছোঁয়া দাম মূলত 'বিপুল চাহিদার' প্রতিফলন। উল্লেখ্য, আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে ২০২৬ বিশ্বকাপেই প্রথমবারের মতো ৪৮টি দেশ অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে। ১২ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই ফুটবল মহাযজ্ঞের প্রায় ৭০ লক্ষ টিকিটের মধ্যে ইতিমধ্যে ৩০ লক্ষেরও বেশি বিক্রি হয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।