সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ডলার

আসওয়ার রহমান
১০ বিলিয়ন থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য, যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ নতুন উদ্যোগে আসওয়ার রহমান

বাংলাদেশের স্পিনিং মিলগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা উৎপাদনকারীদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করতে নতুন সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তুলছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান উদ্যোক্তা আসওয়ার রহমান। তাঁর নেতৃত্বাধীন নিউইয়র্কভিত্তিক আমেরিবাংলা করপোরেশন আগামী ১৮ নভেম্বর চট্টগ্রামের আনোয়ারায় দেশের প্রথম বেসরকারিভাবে পরিচালিত মার্কিন তুলার গুদাম চালুর পরিকল্পনা করেছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় মিলগুলোকে প্রতিবার আলাদাভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি করে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না। বাংলাদেশে মজুত থাকা তুলা প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সংগ্রহ করা যাবে।   ৩২ বছর বয়সী আসওয়ার রহমান আমেরিবাংলা করপোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া রহমান ছোটবেলায় পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। বর্তমানে তাঁর ব্যবসায়িক উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের তুলা উৎপাদকদের বাংলাদেশের স্পিনিং, টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পের সঙ্গে আরও সরাসরি যুক্ত করা।   চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সরকার নির্ধারিত মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের কাছাকাছি একটি লিজ নেওয়া স্থাপনায় গুদামটির কার্যক্রম শুরুর কথা রয়েছে। রহমান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানিয়েছেন, প্রায় ১০০ টন তুলা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তিনটি চালান দিয়ে কার্যক্রম শুরু করে চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। শুরুতে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ টন তুলা রাখা হবে এবং স্থানীয় একটি অংশীদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কার্যক্রম পরিচালিত হবে।   এই উদ্যোগের বড় সুবিধা হতে পারে আমদানির সময় কমে যাওয়া। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানিয়েছেন, সাধারণভাবে অর্ডার দেওয়ার পর আমদানি করা তুলা হাতে পেতে প্রায় ৯০ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। স্থানীয় গুদামে আগে থেকেই তুলা মজুত থাকলে এই অপেক্ষার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামার কারণে তৈরি হওয়া ঝুঁকিও কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতে পারে।   বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের তুলার বাজারও সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য উদ্ধৃত করে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৩৪৬ মিলিয়ন ডলারের মার্কিন তুলা আমদানি করেছে। আগের অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল ২৭৮ মিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা তুলা বর্তমানে বাংলাদেশের মোট তুলা আমদানির প্রায় ১০ শতাংশ। শিল্পসংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ মনে করছেন, অনুকূল বাণিজ্য সুবিধা ও প্রতিযোগিতামূলক দাম নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানির বাজার বছরে ২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।   দামের ক্ষেত্রেও সরাসরি সংগ্রহব্যবস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে চাইছে আমেরিবাংলা। প্রচলিত আমদানি ব্যবস্থায় চট্টগ্রাম পর্যন্ত পৌঁছাতে মার্কিন তুলার দাম বর্তমানে আনুমানিক ৮৫ সেন্ট প্রতি পাউন্ড বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রহমানের দাবি, কৃষক ও তুলা প্রক্রিয়াজাতকারীদের কাছ থেকে সরাসরি সংগ্রহ এবং স্থানীয় গুদাম ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রচলিত বাজারদরের তুলনায় প্রতি পাউন্ডে প্রায় ১০ সেন্ট কমে তুলা সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে। তবে প্রকৃত দাম বাজারদর, পরিবহন ব্যয় ও সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।   বাংলাদেশের এনভয় টেক্সটাইলস ইতোমধ্যে আমেরিবাংলার মাধ্যমে সরাসরি মার্কিন তুলা সংগ্রহের এই পদ্ধতি পরীক্ষা করেছে। ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি আগের বছর প্রায় ৬০ টন তুলা আমেরিবাংলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছিল। এনভয় টেক্সটাইলসের চেয়ারম্যান কুতুবউদ্দিন আহমেদ সরাসরি সংগ্রহব্যবস্থাকে উভয় পক্ষের জন্য উপকারী বলে উল্লেখ করেছেন। পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তাও জানান, পরীক্ষামূলক আমদানিতে তারা প্রতিযোগিতামূলক মূল্য পেয়েছেন।   গুদামের পাশাপাশি রহমানের পরিকল্পনার আরেকটি অংশ কটনপোর্ট। গত ২৭ আগস্ট ঢাকার ওয়েস্টিন হোটেলে চালু হওয়া এই ডিজিটাল তুলাবাজার বাংলাদেশের স্পিনিং মিলগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা উৎপাদকদের সরাসরি যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি হয়েছে। প্ল্যাটফর্মটি ৮২ টন ভার্জিনিয়ার তুলার প্রাথমিক প্রস্তাব নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে। আমেরিবাংলার হিসাবে, বর্তমানে তারা প্রতি মাসে ১৬ কনটেইনার মার্কিন তুলা বাংলাদেশে সরবরাহ করছে। রহমানের প্রত্যাশা, আগামী বছর এই পরিমাণ মাসে ২৮০ কনটেইনার পর্যন্ত যেতে পারে। কটনপোর্টের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ২০২৮ সালের মধ্যে আরও বড় পরিসরে কার্যক্রম বাড়ানোর লক্ষ্যও রয়েছে।   এই সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে তুলার উৎস শনাক্তকরণ ও সনদ দেওয়ার ব্যবস্থাও যুক্ত করতে চাইছে আমেরিবাংলা। প্রতিষ্ঠানটি ৮ অক্টোবর ম্যানহাটনে ‘অল আমেরিকান কটন’ নামে একটি সনদ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, শিল্পখাতের তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন, তৃতীয় পক্ষের নিরীক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ইউনিভার্সিটির আইসোটোপ পরীক্ষার মাধ্যমে তুলার উৎস যাচাই করার পরিকল্পনা রয়েছে।   সনদপ্রাপ্ত মার্কিন তুলা ব্যবহার করা পোশাক ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট মার্কিন বাণিজ্য সুবিধার আওতায় শুল্ক ছাড় বা কর সুবিধা পেতে পারে বলেও তিনি দাবি করেছেন। তবে এসব সুবিধার হার ও যোগ্যতা সংশ্লিষ্ট মার্কিন নীতি, আইন এবং বাস্তবায়ন নির্দেশনার ওপর নির্ভরশীল। ফলে সম্ভাব্য ১০ থেকে ১৯ শতাংশ শুল্ক হ্রাস কিংবা কাঁচামালের মূল্যের ১৮ শতাংশ হস্তান্তরযোগ্য করছাড়কে এখনই নিশ্চিত সুবিধা হিসেবে ধরা যাচ্ছে না।   নিউইয়র্ক সিটিতে ‘আমেরিবাংলা কটন ল্যাব’ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ১০ জন উদীয়মান ফ্যাশন ডিজাইনারকে নির্বাচন করে সনদপ্রাপ্ত মার্কিন তুলা, সুতা ও কাপড় ব্যবহার করে বাংলাদেশে তাদের পোশাকের নিজস্ব সংগ্রহ তৈরি করতে সহায়তা করা হবে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামাল এবং বাংলাদেশের তৈরি পোশাক উৎপাদন সক্ষমতাকে একই সরবরাহব্যবস্থার মধ্যে আনার চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি।   রহমানের আরও বড় লক্ষ্য বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে বর্তমান প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০৪৫ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগে ভূমিকা রাখা। কটনপোর্ট, তুলার গুদাম, সনদ ব্যবস্থা এবং নিউইয়র্কের ডিজাইন উদ্যোগকে সেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে আমেরিবাংলা।   স্থায়ী গুদাম তৈরির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ, পররাষ্ট্র দপ্তর এবং ইউএস এক্সিম ব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতা চাওয়ার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এ ধরনের সহযোগিতা এখনো পরিকল্পনা ও যোগাযোগের পর্যায়ে রয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য তুলা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল। সেই বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক থেকে বাংলাদেশের কারখানা পর্যন্ত সরাসরি বাণিজ্যিক পথ তৈরি করার চেষ্টা আসওয়ার রহমানের উদ্যোগকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। আগামী ১৮ নভেম্বর পরিকল্পনা অনুযায়ী আনোয়ারার গুদাম চালু হলে উদ্যোগটির বাস্তব কার্যকারিতা, তুলার দাম কতটা কমে এবং স্থানীয় মিলগুলো কত দ্রুত পণ্য হাতে পায়, সেদিকেই নজর থাকবে দেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পের।চাইলে এটিকে আরও বেশি নিউজরুমধর্মী, আরও সহজ বাংলা বা আরও প্রোফাইলধর্মী করে দিতে পারি।   সূত্র: আইবিএল ইন্টারন্যাশনাল

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৪:০
একই সংখ্যা বারবার থাকা ‘সলিড’ সিরিয়াল নম্বরের ডলার নোট সংগ্রাহকদের কাছে হাজার হাজার ডলারেও বিক্রি হতে পারে
পকেটের নোটেই লুকিয়ে থাকতে পারে হাজার ডলার, দেখে নিন সিরিয়াল নম্বর

পকেটে থাকা সাধারণ একটি মার্কিন ডলার নোটই হয়ে উঠতে পারে সংগ্রাহকদের কাছে বিশেষ মূল্যবান। এর কারণ হতে পারে নোটটির সিরিয়াল নম্বর। বিশেষ করে সিরিয়াল নম্বরে যদি একই সংখ্যা বারবার থাকে, তাহলে সেটিকে বলা হয় ‘সলিড’ সিরিয়াল নম্বর।   যেমন ১১১১১১১১ বা ৭৭৭৭৭৭৭৭—এ ধরনের সিরিয়াল নম্বরের নোট কাগজের টাকা সংগ্রাহকদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়। কলোরাডোর আমেরিকান নিউমিসম্যাটিক অ্যাসোসিয়েশনের এডওয়ার্ড সি. রশেট মানি মিউজিয়ামের কিউরেটর ও পরিচালক ডগ মাডের মতে, এ ধরনের নোট সহজেই চোখে পড়ে বলেই সংগ্রাহকদের মধ্যে এর জনপ্রিয়তা রয়েছে।   তবে গাণিতিক দিক থেকে ‘সলিড’ সিরিয়াল নম্বরের নোট অন্য যেকোনো নির্দিষ্ট সিরিয়াল নম্বরের নোটের তুলনায় বেশি বিরল নয়। অর্থাৎ প্রতিটি সিরিয়াল নম্বরের তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা মূলত একই। কিন্তু সংগ্রাহকদের আগ্রহের কারণে এসব নোট অনেক সময় অভিহিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হয়।   ‘রাডার’ সিরিয়াল নম্বরের নোটের মতোই ‘সলিড’ নম্বরও সংগ্রাহকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়। তবে সম্ভাব্য সংখ্যার পরিমাণ কম হওয়ায় সলিড সিরিয়াল নম্বরের নোট অনেক সময় অন্যান্য ‘ফ্যান্সি’ সিরিয়াল নম্বরের নোটের তুলনায় বেশি মূল্য পায়।   পুরোনো নিলামের তথ্যেও এর প্রমাণ পাওয়া যায়। হেরিটেজ অকশনস ও স্ট্যাকস বাওয়ার্সের নিলামে ভালো অবস্থায় থাকা সলিড সিরিয়াল নম্বরের নোট হাজার হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু সংখ্যা, যেমন ৭৭৭৭৭৭৭৭ বা ৮৮৮৮৮৮৮৮, কিছু সংস্কৃতিতে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় এগুলোর জন্য অতিরিক্ত দাম দিতেও দেখা গেছে।   ২০২৪ সালে ৮৮৮৮৮৮৮৮ সিরিয়াল নম্বরের একটি প্রায় নিখুঁত অবস্থার ১০০ ডলারের নোট ১৯ হাজার ডলারেরও বেশি দামে বিক্রি হয়।   নোটের অবস্থা একেবারে নিখুঁত না হলেও দাম অনেক বেশি হতে পারে। সাম্প্রতিক ইবে বিক্রির তথ্য অনুযায়ী, সলিড ৩ সিরিয়াল নম্বরের একটি সাধারণভাবে মূল্যায়ন না করা ১ ডলারের নোট ১ হাজার ৬০০ ডলারে বিক্রি হয়েছে। আবার সলিড ২ সিরিয়াল নম্বরের একটি ৫ ডলারের নোট বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৬৬০ ডলারে।   তবে প্রায় সলিড বা ‘নিয়ার সলিড’ সিরিয়াল নম্বরের নোট—যেমন ৪৪৪৪৪৪৪৭ বা ৯১৯৯৯৯৯৯—সাধারণত তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হয়।   ডগ মাডের মতে, এ ধরনের ফ্যান্সি সিরিয়াল নম্বরের নোট ইতিহাসের দিক থেকে বিশেষ কোনো বিরল ঘটনা না হলেও বিশেষায়িত সংগ্রাহকদের কাছে এগুলোর যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। তাই হাতে থাকা কোনো নোটের সিরিয়াল নম্বরে একই সংখ্যা বারবার আছে কি না, একবার দেখে নেওয়া যেতেই পারে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৪:০
সপ্তাহে ছয় দিন যেতেন ডেটে, দুই বছরে ১৫ হাজার ডলার সাশ্রয় করলেন নারী
সপ্তাহে ছয় দিন যেতেন ডেটে, দুই বছরে ১৫ হাজার ডলার সাশ্রয় করলেন নারী

নিউইয়র্কে থাকার সময় নিয়মিত ডেটে গিয়ে খাবারের খরচ কমে যাওয়ার অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছিলেন মার্কিন অর্থবিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা ভিভিয়ান টু। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে করা পোস্টে তিনি দুই বছরে প্রায় ১৫ হাজার ৬০০ ডলার সাশ্রয়ের একটি আনুমানিক হিসাব দেন। তবে পরে স্পষ্ট করেন, বিনা খরচে খাবার পাওয়ার জন্য তিনি ডেটিং শুরু করেননি। ঘটনাটি সাম্প্রতিক নয়; তাঁর বক্তব্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল ২০২৩ সালে।    ভিভিয়ান জানান, নিউইয়র্কে আসার পর মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জন্যই তিনি ডেটে যেতেন। অনেক সময় রেস্টুরেন্টের বিল তাঁর সঙ্গে থাকা পুরুষেরা দিতেন। পরে তিনি খেয়াল করেন, বাইরে খাওয়ার কারণে নিজের খাবার কেনার খরচ কমছে।   এক সাক্ষাৎকারে তিনি সপ্তাহে প্রায় ৫০ থেকে ১০০ ডলার খরচ কমার কথা বলেন। আর আগের পোস্টে সপ্তাহে প্রায় ১৫০ ডলার সাশ্রয়ের অনুমান করেছিলেন। দুই বছরের জন্য সপ্তাহে ১৫০ ডলার ধরলেই প্রায় ১৫ হাজার ৬০০ ডলার হয়। ফলে এই মোট অঙ্কটি তাঁর অনুমান, যাচাই করা খরচের হিসাব নয়।    সে সময় ম্যানহাটনে ইকুইটি ট্রেডার হিসেবে কাজ করতেন ভিভিয়ান। তাঁর বার্ষিক আয় ছিল প্রায় ৯৫ হাজার ডলার। তিনি জানান, নিউইয়র্কে জীবনযাত্রার ব্যয় বেশি হওয়ায় খাবারের পেছনে খরচ কমলে সেই অর্থ সঞ্চয় ও বিনিয়োগসহ অন্য কাজে ব্যবহার করতে পারতেন।    তবে ভিভিয়ানের মতে, শুধু বিনা খরচে খাবার পাওয়ার উদ্দেশ্যে ডেটে যাওয়া ভালো আর্থিক কৌশল নয়। খরচ সামলাতে বাজেট তৈরি করাকেই তিনি বেশি কার্যকর মনে করেন।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ইরাকে আবার নিয়মিত নগদ ডলার সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সমঝোতা
কয়েক মাসের টানাপোড়েন শেষে ইরাকে আবার নিয়মিত ডলার পাঠাতে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র

কয়েক মাসের অনিশ্চয়তার পর ইরাকে নগদ মার্কিন ডলারের নিয়মিত চালান অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে বাগদাদ। ইরাক সরকারের মুখপাত্র হায়দার আল-আবুদি জানিয়েছেন, নতুন একটি নগদ ডলারের চালান আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দেশে পৌঁছাবে। তবে চালানটির পরিমাণ এবং নির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ করা হয়নি।   ইরাকি সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী আলী ফালেহ আল-জাইদির যুক্তরাষ্ট্র সফরের ধারাবাহিক আলোচনার ফলেই এই সমঝোতা হয়েছে। গত জুলাইয়ে ওয়াশিংটন সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ট্রেজারি সেক্রেটারিসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন আল-জাইদি। অর্থনৈতিক ও আর্থিক সম্পর্ক জোরদার করা ছিল ওই সফরের অন্যতম প্রধান বিষয়।   নতুন সমঝোতার লক্ষ্য ইরাকের বৈধ বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা মেটানো এবং স্থানীয় বাজারে ডলারের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা। একই সঙ্গে ডলার কোথায় যাচ্ছে এবং কী কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে, তার ওপর নজরদারি আরও কঠোর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাগদাদ।   ইরাকি সরকারের মুখপাত্র জানিয়েছেন, বৈদেশিক মুদ্রার অপব্যবহার ঠেকানো, ডলার বিতরণে নজরদারি বাড়ানো এবং আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমাতে ইলেকট্রনিক পেমেন্ট ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করে ধীরে ধীরে ডিজিটাল অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে দেশটি।   কেন বন্ধ হয়েছিল ডলারের চালান   গত এপ্রিলে ইরাকে নগদ ডলার পাঠানোর নিয়মিত প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ি আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় প্রায় ৫০ কোটি ডলারের একটি নগদ চালানও আটকে দেওয়া হয়েছিল। ইরান-সমর্থিত স শ স্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব এবং অবৈধ আর্থিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ডলার ইরান ও আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর কাছে পৌঁছে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল ওয়াশিংটনের উদ্বেগের অন্যতম কারণ।   তবে জুলাইয়ের শুরুতেই পরিস্থিতি কিছুটা বদলায়। রয়টার্স নিউইয়র্ক টাইমসের বরাতে জানিয়েছিল, কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর যুক্তরাষ্ট্র সীমিত আকারে নগদ ডলারের বিমান চালান আবার শুরু করেছে। সে সময় হোয়াইট হাউস, পররাষ্ট্র দপ্তর ও ট্রেজারি প্রকাশ্যে বিষয়টি নিশ্চিত করেনি এবং রয়টার্সও স্বাধীনভাবে তথ্যটি যাচাই করতে পারেনি।   এ কারণে এখনকার ঘোষণাকে একেবারে প্রথমবার ‘ডলার পাঠানো আবার শুরু’ বলা পুরোপুরি সঠিক হবে না। বরং সর্বশেষ সমঝোতা ইরাকে নিয়মিত ও অব্যাহত নগদ ডলার সরবরাহ নিশ্চিত করার নতুন ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে।   ইরাকের জন্য মার্কিন ডলার এত গুরুত্বপূর্ণ কেন   ইরাক এখনো বড় পরিসরে নগদনির্ভর অর্থনীতি। দেশটির তেল রপ্তানি থেকে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসাবে রাখা হয়। সেখান থেকেই প্রয়োজন অনুযায়ী নগদ ডলার ইরাকে পাঠানো হয়।   ডলারের সরবরাহ কমে গেলে ইরাকের অনানুষ্ঠানিক বাজারে ডলারের বিপরীতে দিনারের ওপর চাপ বাড়তে পারে। আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে এর প্রভাব পণ্যের দামেও পড়তে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের প্রবাহ বাড়ার প্রত্যাশার মধ্যে ইরাকি দিনারের অবস্থান কিছুটা শক্তিশালী হওয়ার খবরও এসেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সমঝোতায় তাই একদিকে ইরাকের বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা মেটানোর চেষ্টা হচ্ছে, অন্যদিকে ডলার যেন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে না পৌঁছায়, সে জন্য আর্থিক নজরদারিও বাড়ানো হচ্ছে।   এখন নজর থাকবে আগামী কয়েক দিনের দিকে। ইরাকি সরকার বলছে, নতুন নগদ ডলারের চালান শিগগিরই পৌঁছাবে। তবে কত অর্থ আসছে এবং ভবিষ্যতে কী ব্যবধানে চালান পাঠানো হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
অ্যাপার্টমেন্ট ছাড়লেই বিপুল অর্থ! তবুও ছাড়তে চাচ্ছেন না সান ফ্রান্সিসকোর ভাড়াটিয়া
অ্যাপার্টমেন্ট ছাড়লেই বিপুল অর্থ! তবুও ছাড়তে চাচ্ছেন না সান ফ্রান্সিসকোর ভাড়াটিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে এক ভাড়াটিয়াকে বাসা ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৩৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে। কিন্তু শহরে নতুন বাসা ভাড়া নেওয়ার খরচের কথা ভেবে তিনি প্রস্তাবটি গ্রহণে দ্বিধায় আছেন বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক পোস্ট।   এ ধরনের প্রস্তাবকে ভাড়াটিয়ার ‘বাইআউট’ বলা হয়। এতে বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়া সমঝোতার ভিত্তিতে একটি অঙ্ক ঠিক করেন। সেই অর্থের বিনিময়ে ভাড়াটিয়া বাসা ছেড়ে দেন। তবে হাতে পাওয়া অর্থের পাশাপাশি নতুন বাসার রেন্ট ও স্থানান্তরের খরচও সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে।   সান ফ্রান্সিসকোতে এমন প্রস্তাব নতুন নয়। শহরের রেন্ট বোর্ডের তথ্য নিয়ে সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সম্পন্ন হওয়া বাইআউটগুলোর মধ্যম পরিমাণ ছিল প্রায় ৫০ হাজার ডলার। অর্থের অঙ্ক অবশ্য বাসা ও ভাড়াটিয়ার পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন হয়।    শহরের নিয়ম অনুযায়ী, ভাড়াটিয়ার বাইআউট প্রস্তাব গ্রহণ না করার অধিকার আছে। সব পক্ষ চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পরও ভাড়াটিয়া ৪৫ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে তা বাতিল করতে পারেন। ফলে ৩৫ হাজার ডলারের প্রস্তাব পেলেই ওই ভাড়াটিয়াকে বাসা ছাড়তে হবে, এমন নয়।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ম্যাসাচুসেটসে নবজাতকের পরিচর্যা পরীক্ষনে  মা-বাবার বাড়িতে নার্স পাঠাবে সরকার
ম্যাসাচুসেটসে নবজাতকের পরিচর্যা পরীক্ষনে মা-বাবার বাড়িতে নার্স পাঠাবে সরকার, তীব্র বিতর্ক

ম্যাসাচুসেটসে সন্তান জন্মের পর নতুন মা-বাবার বাড়িতে নার্স পাঠিয়ে স্বাস্থ্য ও মানসিক অবস্থার স্ক্রিনিং করার কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। গভর্নর মাউরা হিলি ১৫ সেপ্টেম্বর এ কর্মসূচি সম্প্রসারণে ২০ লাখ ডলার এবং প্রসব-পরবর্তী মানসিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে আরও ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে কর্মসূচিটি স্বেচ্ছামূলক হওয়া সত্ত্বেও সরকারি হস্তক্ষেপ, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও পরিবারের স্বাধীনতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।    রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের অধীনে থাকা ‘ওয়েলকাম ফ্যামিলি’ কর্মসূচির মাধ্যমে সন্তান জন্মের পর প্রশিক্ষিত মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য নার্স পরিবারের বাড়িতে গিয়ে মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সম্পর্কে খোঁজ নেন। নার্সরা নবজাতকের যত্ন, বুকের দুধ খাওয়ানো, মানসিক স্বাস্থ্য এবং পরিবারের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সহায়তা নিয়ে পরামর্শ দেন। প্রয়োজন হলে পরিবারকে চিকিৎসা ও সামাজিক সেবার সঙ্গে যুক্ত করার ব্যবস্থাও করা হয়।    গভর্নর হিলির প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো এই সেবা পুরো ম্যাসাচুসেটসে আরও সহজলভ্য করা। রাজ্য সরকারের হিসাবে, বর্তমানে ‘ওয়েলকাম ফ্যামিলি’ বছরে প্রায় ৩ হাজার পরিবারকে সেবা দেয়। অতিরিক্ত অর্থায়নের ফলে বছরে প্রায় ৬৮ হাজার সন্তান জন্ম দেওয়া পরিবারকে এই বাড়ি পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি বাধ্যতামূলক কর্মসূচি নয়। রাজ্য সরকারের ঘোষণায় এটিকে বিনামূল্যের স্বেচ্ছামূলক সেবা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।    বাড়িতে গিয়ে নার্সরা শুধু শিশুর স্বাস্থ্য নয়, মায়ের প্রসব-পরবর্তী মানসিক অবস্থাও মূল্যায়ন করতে পারেন। বিষণ্নতা, উদ্বেগ, মাদক ব্যবহারের মতো উদ্বেগের লক্ষণ শনাক্ত হলে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা বা অন্যান্য সহায়তার সঙ্গে পরিবারকে যুক্ত করা হয়। ২০২৫ সালে কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ৬২০টি প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতার স্ক্রিনিং করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২০৮ জনের স্ক্রিনিংয়ে উদ্বেগের লক্ষণ পাওয়া যায় এবং প্রত্যেককে প্রয়োজনীয় সেবার জন্য রেফার করা হয় বলে রাজ্য সরকার জানিয়েছে।    ম্যাসাচুসেটসে প্রসব-পরবর্তী মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে লিন্ডসে ক্ল্যান্সির মামলাকে ঘিরে। সাবেক এই নার্সের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে তাঁর তিন সন্তানকে হত্যার অভিযোগ ওঠে। মামলায় তাঁর আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছিলেন যে তিনি গুরুতর প্রসব-পরবর্তী মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। পরে জুরি ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারায় মামলাটিতে মিস্ট্রায়াল ঘোষণা করা হয়। হিলির নতুন উদ্যোগ ঘোষণার সময় এই মামলাটি আবারও আলোচনায় আসে।    তবে কর্মসূচিটি নিয়ে সমালোচনাও দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কয়েকজন ব্যবহারকারী বাড়িতে সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। কেউ এটিকে অপ্রয়োজনীয় সরকারি হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখেছেন, আবার কেউ অভিভাবকদের বাড়িতে এ ধরনের পরিদর্শন গ্রহণ না করার আহ্বান জানিয়েছেন। এসব প্রতিক্রিয়া মূলত পরিবারের ব্যক্তিগত পরিসর, সরকারি অর্থের ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যসেবায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগকে সামনে এনেছে।    অন্যদিকে ম্যাসাচুসেটস সরকার বলছে, কর্মসূচির উদ্দেশ্য পরিবারকে নজরদারি করা নয়, বরং সন্তান জন্মের পরের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও সহায়তার সঙ্গে দ্রুত যুক্ত করা। রাজ্যের আইনে ইতোমধ্যে প্রসব-পরবর্তী বাড়ি পরিদর্শন সেবা স্বেচ্ছামূলক ও প্রমাণভিত্তিক সেবা হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। আইনে অন্তত একটি পরিদর্শন সন্তান জন্মের পর আট সপ্তাহের মধ্যে বাড়িতে অথবা পরিবার ও সেবাদাতার সম্মত অন্য কোনো স্থানে করার কথা বলা হয়েছে।    ফলে নতুন উদ্যোগটি ম্যাসাচুসেটসে মাতৃস্বাস্থ্য ও প্রসব-পরবর্তী মানসিক সহায়তা আরও সহজে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি পরিবার কতটা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রাখবে এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কোথায় পর্যন্ত পৌঁছানো উচিত, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে। রাজ্য সরকার এখন অর্থায়ন ও কর্মসূচি সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই সেবা আরও বেশি পরিবারের কাছে পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৪:০
ভেনেজুয়েলার ৪০০ কোটি ডলারের স্বর্ণের মজুত যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে
ভেনেজুয়েলার ৪০০ কোটি ডলারের স্বর্ণের মজুত যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে, দীর্ঘ বিরোধের অবসান

ভেনেজুয়েলার প্রায় ৪০০ কোটি ডলার মূল্যের স্বর্ণের মজুত লন্ডন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে স্থানান্তরের বিষয়ে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্টে থাকা প্রায় ৩১ মেট্রিক টন স্বর্ণ ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে নেওয়া হতে পারে। তবে চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং বেশ কিছু আইনি ও কারিগরি বিষয় নিষ্পত্তি বাকি রয়েছে। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত চারজনের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। রয়টার্সও প্রতিবেদনটি উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, তারা স্বাধীনভাবে এর তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে পারেনি।    প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দেলসি রদ্রিগেজ স্বর্ণের ওপর আইনগত নিয়ন্ত্রণ পেতে পারেন। তবে তাঁর সরকার চাইলেই স্বর্ণ বিক্রি করতে পারবে না। বরং এই স্বর্ণকে জামানত হিসেবে ব্যবহার করে ঋণ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে জুনে হওয়া দুটি বড় ভূমিকম্পের পর পুনর্গঠনকাজে অর্থায়নের জন্য ওই অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।    এই স্বর্ণ নিয়ে বিরোধের ইতিহাস প্রায় সাত বছরের। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশ তৎকালীন বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদোকে ভেনেজুয়েলার বৈধ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। এরপর ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্টে রাখা স্বর্ণের ওপর নিয়ন্ত্রণ দাবি করে ভেনেজুয়েলার বিরোধী পক্ষ। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের আদালত পর্যন্ত গড়ায়।    ব্যাংক অব ইংল্যান্ড জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের আদালত নতুন কোনো আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা স্বর্ণের হিসাব নিয়ে কোনো নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে পারবে না। ব্যাংকটির বক্তব্য অনুযায়ী, স্বর্ণের ওপর আইনগত কর্তৃত্ব কার, তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে যুক্তরাজ্যের আদালতের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে হবে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরও জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার স্বর্ণের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান মামলায় যুক্তরাজ্য সরকার পক্ষ নয় এবং দেশটির আদালত ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের কাছ থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করে।    ভেনেজুয়েলা ও বিরোধী পক্ষ গত মাসে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্টে থাকা স্বর্ণ ব্যবহারের পথ খুলতে একসঙ্গে কাজ করার কথা জানিয়েছিল। দেশটির জাতীয় পরিষদের প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ তখন বিদেশে থাকা স্বর্ণের মজুত ব্যবহারের উদ্যোগের কথা জানান। প্রস্তাবিত চুক্তিতে স্বর্ণ সরাসরি বিক্রি না করে ঋণের জামানত হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি আলোচনায় থাকায় এর মাধ্যমে ভেনেজুয়েলা নতুন অর্থায়নের সুযোগ পেতে পারে।    এদিকে স্বর্ণ স্থানান্তরের আলোচনার পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও ভেনেজুয়েলার কূটনৈতিক সম্পর্কও জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্য কারাকাসে আবার রাষ্ট্রদূত নিয়োগের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। একই সময়ে ভেনেজুয়েলার সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ তৈরির বিষয়েও আলোচনা চলছে। ফলে স্বর্ণের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের সম্ভাব্য সমাধানটি দেশটির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার সঙ্গেও যুক্ত হয়ে পড়েছে।   তবে প্রস্তাবিত চুক্তি এখনো সম্পন্ন হয়নি। স্বর্ণ স্থানান্তরের আগে আইনি কর্তৃত্ব, তদারকি এবং অন্যান্য কারিগরি বিষয় চূড়ান্ত করতে হবে। ফলে ৪০০ কোটি ডলারের এই স্বর্ণ কবে এবং কীভাবে লন্ডন থেকে নিউইয়র্কে যাবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
আমেরিকায় স্বচ্ছন্দে থাকতে বছরে কত আয় দরকার, নতুন হিসাব
আমেরিকায় স্বচ্ছন্দে থাকতে বছরে কত আয় দরকার, নতুন হিসাব

যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় শুধু ৬ অঙ্কের বেতন পেলেই স্বচ্ছন্দে থাকা নিশ্চিত হচ্ছে না। ২০২৬ সালের এক নতুন বিশ্লেষণ বলছে, সন্তানহীন একক একজন প্রাপ্তবয়স্কের যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো অঙ্গরাজ্যে স্বচ্ছন্দে জীবনযাপন করতে বছরে অন্তত ৮০ হাজার ডলারের বেশি আয় প্রয়োজন। অঙ্গরাজ্যভেদে এই প্রয়োজন আরও অনেক বেশি। হাওয়াইয়ে একজনের জন্য প্রয়োজন প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ডলার, আর নিউইয়র্কে প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার ডলার।    স্মার্টঅ্যাসেটের ২০২৬ সালের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্বচ্ছন্দে জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় আয় নির্ধারণে আবাসন, খাবার, পরিবহন, হেলথ কেয়ারসহ মৌলিক খরচ বিবেচনা করা হয়েছে। এরপর ৫০/৩০/২০ বাজেট পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় বার্ষিক প্রি-ট্যাক্স আয় হিসাব করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে আয়ের ৫০ শতাংশ প্রয়োজনীয় খরচ, ৩০ শতাংশ ইচ্ছাধীন ব্যয় এবং ২০ শতাংশ সঞ্চয় ও ঋণ পরিশোধের জন্য ধরা হয়েছে।    অর্থাৎ সর্বনিম্ন হিসাব অনুযায়ী, একজন একক ব্যক্তির মাসিক প্রি-ট্যাক্স আয় প্রায় ৬ হাজার ৮০০ ডলার বা তার বেশি হলে স্বচ্ছন্দে জীবনযাপনের লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব। তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির হাতে থাকা মাসিক বেতন নয়। কর ও অন্যান্য কর্তনের পর হাতে পাওয়া অর্থ এর চেয়ে কম হবে।   অঙ্গরাজ্যভেদে ব্যবধানও বড়। সবচেয়ে কম খরচের অঙ্গরাজ্য হিসেবে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় একজন একক প্রাপ্তবয়স্কের জন্য বছরে প্রায় ৮১ হাজার ২৪৫ ডলার প্রয়োজন। বিপরীতে হাওয়াইয়ে প্রয়োজন ১ লাখ ২৯ হাজার ২ ডলার। নিউইয়র্কে প্রয়োজন ১ লাখ ২৪ হাজার ৩৪২ ডলার এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৯৭ ডলার।    বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যেও পার্থক্য রয়েছে। টেক্সাসে একজন একক প্রাপ্তবয়স্কের স্বচ্ছন্দে থাকার জন্য বছরে প্রায় ৯০ হাজার ৫৬৩ ডলার প্রয়োজন বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। পেনসিলভেনিয়ায় প্রয়োজন প্রায় ৯৭ হাজার ১১ ডলার। নিউ জার্সিতে এই অঙ্ক প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার ৭৭৬ ডলার।    পরিবার নিয়ে থাকলে প্রয়োজনীয় আয় আরও বেড়ে যায়। দুই কর্মজীবী প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই সন্তানের একটি পরিবারের স্বচ্ছন্দে জীবনযাপনের জন্য ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ৪০টিতেই বছরে অন্তত ২ লাখ ডলার প্রয়োজন বলে গবেষণায় বলা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ম্যাসাচুসেটসে, প্রায় ৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৫৫ ডলার। বিপরীতে মিসিসিপিতে চার সদস্যের পরিবারের জন্য প্রয়োজন প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫৩৩ ডলার।    জীবনযাত্রার ব্যয়ের বড় অংশই যায় বাসস্থানে। যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর তথ্যের ভিত্তিতে ইউএসএফ্যাক্টস জানিয়েছে, ২০২৪ সালে ভাড়াটিয়া পরিবারের গড় মাসিক ভাড়া, ইউটিলিটিসহ, ছিল প্রায় ১ হাজার ৪৮৭ ডলার। একই সময়ে ভাড়াটিয়া পরিবারের গড় মাসিক আয় ছিল প্রায় ৪ হাজার ৫৩৭ ডলার। অর্থাৎ গড়ে আয়ের ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ ভাড়ায় চলে গেছে।    তবে বাস্তবে কোনো পরিবার কত আয় করলে ভালোভাবে চলতে পারবে, তা শুধু অঙ্গরাজ্য দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। একই অঙ্গরাজ্যের মধ্যেও শহর ও এলাকার ভিত্তিতে রেন্ট, যাতায়াত, চাইল্ড কেয়ার, হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং অন্যান্য খরচে বড় পার্থক্য থাকতে পারে।   গবেষণাটির হিসাবও মূলত একটি আর্থিক মানদণ্ড, কোনো পরিবারের জন্য নির্দিষ্ট বেতনসীমা নয়। গবেষণায় ব্যবহৃত মৌলিক জীবনযাত্রার খরচের তথ্য নেওয়া হয়েছে এমআইটির লিভিং ওয়েজ ক্যালকুলেটর থেকে। এরপর ৫০/৩০/২০ বাজেট পদ্ধতির ভিত্তিতে স্বচ্ছন্দে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় আয় নির্ধারণ করা হয়েছে।    ফলে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বসবাস শুরু করা বা অন্য অঙ্গরাজ্যে যাওয়ার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশিদের জন্য শুধু বেতনের অঙ্ক নয়, বরং রেন্ট, কর, গাড়ি ও ইন্স্যুরেন্স, হেলথ কেয়ার, চাইল্ড কেয়ার এবং সঞ্চয়ের খরচ একসঙ্গে হিসাব করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোনের দাম ছাড়াতে পারে ২ হাজার ডলার!
অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোনের দাম ছাড়াতে পারে ২ হাজার ডলার!

অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন বাজারে আসার আগেই এর সম্ভাব্য দাম নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। সিটিগ্রুপের বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই ডিভাইসের দাম ২ হাজার ডলারের বেশি হতে পারে। বিভিন্ন শিল্প বিশ্লেষণেও ডিভাইসটির সম্ভাব্য দাম ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ ডলারের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।    অ্যাপল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ফোল্ডেবল আইফোনের নাম বা দাম ঘোষণা করেনি। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ডিভাইসটির সম্ভাব্য নাম ‘আইফোন আলট্রা’ বলা হচ্ছে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অ্যাপলের অনুষ্ঠানে ডিভাইসটি উন্মোচনের সম্ভাবনা রয়েছে।    গুজব ও বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বইয়ের মতো ভাঁজ করা এই আইফোনে প্রায় ৫ দশমিক ৫ ইঞ্চির বাইরের ডিসপ্লে এবং খুললে প্রায় ৭ দশমিক ৮ ইঞ্চির ভেতরের ওএলইডি ডিসপ্লে থাকতে পারে। ভাঁজ খোলা অবস্থায় এর পুরুত্ব প্রায় ৪ দশমিক ৫ মিলিমিটার হতে পারে, যা এটিকে অ্যাপলের সবচেয়ে পাতলা আইফোনে পরিণত করতে পারে।    ডিভাইসটিতে ফেস আইডির পরিবর্তে টাচ আইডি ব্যবহারের সম্ভাবনার কথাও বলা হচ্ছে। পাশাপাশি পেছনে দুটি ক্যামেরা থাকতে পারে এবং প্রো মডেলের মতো টেলিফটো ক্যামেরা নাও থাকতে পারে। বড় ডিসপ্লে কাজে লাগিয়ে আইপ্যাডের মতো একাধিক অ্যাপ পাশাপাশি ব্যবহারের সুবিধা দেওয়ারও গুঞ্জন রয়েছে।   দামের বিষয়ে বিভিন্ন বিশ্লেষণে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ট্রেন্ডফোর্সের সাম্প্রতিক অনুমান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ফোল্ডেবল আইফোনের শুরুর দাম ২ হাজার ৯৯ থেকে ২ হাজার ২৯৯ ডলারের মধ্যে হতে পারে। উচ্চ স্টোরেজের সংস্করণের দাম ৩ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।    অ্যাপলের এই ফোল্ডেবল আইফোন নিয়ে বাজারে প্রত্যাশা থাকলেও এটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হয়নি। ফলে নাম, দাম, ফিচার ও বাজারে আসার সময় সম্পর্কে চূড়ান্ত তথ্য অ্যাপলের ঘোষণার পরই নিশ্চিত হবে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে, প্রভাব পড়বে মর্টগেজে, আটো লোন, ইন্টারেস্ট রেটেও
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে, প্রভাব পড়বে মর্টগেজে, আটো লোন, ইন্টারেস্ট রেটেও

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ আগস্ট ঋণের পরিমাণ ৪০ দশমিক ০৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। এক দশকেরও কম সময়ে দেশটির মোট জাতীয় ঋণ দ্বিগুণের বেশি হওয়ায় সরকারের সুদ ব্যয় ও ভবিষ্যৎ ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।    জাতীয় ঋণ সরাসরি সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত ঋণ নয়। তবে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দ্রুত বাড়তে থাকলে এর প্রভাব অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে পড়তে পারে। বিশেষ করে সরকারি বন্ডের সুদের হার বাড়লে ব্যাংক ও অন্যান্য ঋণদাতাদের জন্য অর্থের খরচও বাড়ে। এর প্রভাব মর্টগেজ, গাড়ির ঋণ এবং অন্যান্য ভোক্তা ঋণের সুদের হারেও পড়তে পারে।    বর্তমান ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণের মধ্যে প্রায় ৩২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার সাধারণ বিনিয়োগকারী ও প্রতিষ্ঠানের কাছে থাকা ট্রেজারি ঋণ এবং প্রায় ৭ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যকার ঋণ। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার সময় জাতীয় ঋণ ছিল প্রায় ১৯ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন ডলার।    ঋণ বাড়ার অন্যতম কারণ হলো সরকারের ব্যয় রাজস্ব আয়ের চেয়ে বেশি থাকা। গত এক দশকে বিভিন্ন প্রশাসনের সময় বাজেট ঘাটতি, মহামারি মোকাবিলায় বড় অঙ্কের ব্যয়, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং ক্রমবর্ধমান সুদ পরিশোধের কারণে সরকারের ধার নেওয়ার প্রয়োজন বেড়েছে।    এরই মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। চলতি আগস্টে ৩০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের ফলন ৫ শতাংশের ওপরে রয়েছে, যা মর্টগেজ বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি মর্টগেজের সুদের হার সাধারণত ১০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের ফলনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে ওঠানামা করে।    ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, জাতীয় ঋণের চাপ দীর্ঘস্থায়ী হলে সরকারের সুদ পরিশোধের ব্যয় আরও বাড়তে পারে। এতে শিক্ষা, অবকাঠামো বা অন্যান্য সরকারি খাতে ব্যয়ের জন্য অর্থের পরিমাণ কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। একই সঙ্গে বেশি সরকারি ঋণ বেসরকারি খাতের জন্য ঋণের খরচ বাড়িয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও চাপ তৈরি করতে পারে।    তবে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের এই সংখ্যা দিয়ে একাই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবস্থার পুরো চিত্র বোঝা যায় না। অর্থনীতিবিদরা জাতীয় ঋণের পাশাপাশি অর্থনীতির আকারের তুলনায় ঋণের পরিমাণ, অর্থাৎ ঋণ ও মোট দেশজ উৎপাদনের অনুপাত এবং জনগণের হাতে থাকা সরকারি ঋণও বিবেচনা করেন।    জাতীয় ঋণ কমাতে হলে সরকারের সামনে মূলত ব্যয় কমানো, রাজস্ব বাড়ানো অথবা দুটির সমন্বয়ের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত রয়েছে। ট্রেজারি বিভাগ ইতোমধ্যে ঋণ ব্যবস্থাপনা ও বন্ড বাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদি বাজেট ঘাটতির মূল কারণ সমাধানের বিকল্প নয়।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:০
রাতে ঘুরে এসে ব্যাংক অ্যাপ খুলতেই হতবাক নারী
রাতে ঘুরে এসে ব্যাংক অ্যাপ খুলতেই হতবাক নারী, অ্যাকাউন্টে ৫ ঋণ ৫ হাজার কোটি ডলার!

বন্ধুদের সঙ্গে রাতে বারে সময় কাটিয়ে বাসায় ফিরে ব্যাংক অ্যাপ খুলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের তরুণী ম্যাডি ম্যাকগিভার্ন। ধারণা ছিল, রাতের খরচের পর অ্যাকাউন্টে কত টাকা আছে সেটিই দেখবেন। কিন্তু স্ক্রিনে যে অঙ্কটি ভেসে উঠল, তা দেখে রীতিমতো হতবাক হয়ে যান তিনি। তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ব্যালেন্স দেখাচ্ছিল মাইনাস ৪৯ হাজার ৯৯৯ কোটি ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৬৯৭ ডলার ৯৮ সেন্ট, অর্থাৎ প্রায় ৫ হাজার কোটি ডলারের ঋণ। পরে অবশ্য জানা যায়, পুরো ঘটনাই ছিল ব্যাংকের একটি টেকনিক্যাল গ্লিচ।    ঘটনাটি নতুন নয়। ২০২১ সালে ম্যাডির সঙ্গে এটি ঘটেছিল এবং তখনই তার বন্ধুর ধারণ করা ভিডিও টিকটকে ভাইরাল হয়। সম্প্রতি ভিডিওটি আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ১৬ আগস্ট ২০২৬ এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ল্যাডবাইবেল।    ঘটনার সময় ম্যাডির বয়স ছিল ২২ বছর। বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে থেকে ফিরে খাবার অর্ডার করার আগে তিনি চেজ ব্যাংকের অ্যাপ খুলেছিলেন। কিন্তু স্বাভাবিক ব্যালেন্সের বদলে সেখানে প্রায় মাইনাস ৫০ বিলিয়ন ডলার দেখে প্রথমে নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না।   বন্ধু গেব ফ্লোরেস সেই মুহূর্ত ভিডিও করেন। ভিডিওতে হতভম্ব ম্যাডিকে বন্ধুদের কাছে জানতে চাইতে দেখা যায়, এখন তিনি কী করবেন। পাশে থাকা বন্ধুরাও প্রথমে মনে করেছিলেন, হয়তো ম্যাডি বিষয়টি বাড়িয়ে বলছেন। কিন্তু ফোনের স্ক্রিন দেখার পর তারাও অবাক হয়ে যান। ভিডিওটি পরে টিকটকে ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক মিলিয়ন মানুষ সেটি দেখেন।    আরও মজার বিষয় ছিল, ম্যাডির অন্য একটি অ্যাকাউন্টে তখনও প্রায় ৭৬ ডলার ব্যবহারযোগ্য অর্থ দেখাচ্ছিল। অথচ একই সঙ্গে ব্যাংকিং অ্যাপে তার নামে এমন এক অঙ্কের ঋণ দেখানো হচ্ছিল, যা একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়।   বিষয়টি বুঝতে না পেরে দ্রুত ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ম্যাডি। তিনি ব্যাংক প্রতিনিধিকে জানান, অ্যাপে তাকে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার ঋণী দেখানো হচ্ছে। এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ব্যাংকের কর্মীও প্রথমে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।   অ্যাকাউন্টে আরও একটি অদ্ভুত তথ্য দেখা যাচ্ছিল। সেখানে এমন একটি এন্ট্রি ছিল, যাতে ২০৯৯ সালে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার কথা দেখানো হচ্ছিল। পুরো বিষয়টি আরও রহস্যময় হয়ে ওঠে।   পরে চেজ ব্যাংক বিষয়টির ব্যাখ্যা দেয়। ব্যাংকের একজন মুখপাত্র জানান, সপ্তাহান্তে তাদের সিস্টেমে একটি টেকনিক্যাল গ্লিচ হয়েছিল এবং সীমিতসংখ্যক অ্যাকাউন্ট এতে প্রভাবিত হয়। সমস্যাটি সমাধান করার পর সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলোতে আবার সঠিক ব্যালেন্স দেখানো শুরু হয়। ব্যাংক আরও জানায়, সমস্যার কারণে গ্রাহকেরা তাদের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার থেকে বঞ্চিত হননি এবং এ জন্য কোনো অতিরিক্ত ফিও দিতে হয়নি।    অর্থাৎ ম্যাডির নামে সত্যিই ৫ হাজার কোটি ডলারের কোনো ঋণ ছিল না। ব্যাংকের ডিজিটাল সিস্টেমে সাময়িক ত্রুটির কারণেই তার অ্যাপে সেই বিপুল অঙ্কটি দেখাচ্ছিল।   ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল। অনেকে মজা করে মন্তব্য করলেও অনেক ব্যবহারকারী বলেন, নিজের ব্যাংক অ্যাপে হঠাৎ এমন বিপুল ঋণ দেখলে আতঙ্কিত হওয়াটাই স্বাভাবিক।   শেষ পর্যন্ত ব্যাংক সমস্যাটি ঠিক করে ম্যাডির প্রকৃত ব্যালেন্স ফিরিয়ে দেয়। তবে একটি সাধারণ রাতের শেষে ব্যাংক অ্যাপ পরীক্ষা করতে গিয়ে কয়েক ঘণ্টার জন্য নিজেকে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের ঋণী হিসেবে দেখতে পাওয়া সেই অভিজ্ঞতা এখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০
আমেরিকায় নতুন এসেই বাংলাদেশিরা, এই ৫ ভুলে লস করছেন হাজার ডলার
আমেরিকায় নতুন এসেই বাংলাদেশিরা, এই ৫ ভুলে লস করছেন হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন শুরু করতে গিয়ে অনেক অভিবাসী প্রথম দিকে এমন কিছু আর্থিক সিদ্ধান্ত নেন, যার প্রভাব পরে ক্রেডিট, ট্যাক্স, হেলথ ইন্স্যুরেন্স কিংবা অবসরকালীন সঞ্চয়ে পড়ে। বাংলাদেশি নতুন অভিবাসীদের ক্ষেত্রেও বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রচলিত অনেক পরামর্শের সঙ্গে ভুল বা অতিরঞ্জিত তথ্যও ছড়িয়ে পড়ে। তাই শুরু থেকেই কয়েকটি বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকলে অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়িয়ে শক্ত আর্থিক ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব।   প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ক্রেডিট হিস্ট্রি। যুক্তরাষ্ট্রে বাসা ভাড়া, ক্রেডিট কার্ড, গাড়ি বা বাড়ির লোনসহ বিভিন্ন আর্থিক সিদ্ধান্তে ক্রেডিট রিপোর্ট ও ক্রেডিট স্কোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যাদের আগে কোনো মার্কিন ক্রেডিট হিস্ট্রি নেই, তাদের জন্য সিকিউরড ক্রেডিট কার্ড একটি সম্ভাব্য শুরুর পথ হতে পারে। কনজিউমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, নিয়মিত সময়মতো বিল পরিশোধ করা এবং ক্রেডিট লিমিটের খুব কাছাকাছি না যাওয়া ভালো ক্রেডিট হিস্ট্রি তৈরিতে সহায়ক। সংস্থাটি বলছে, কিছু বিশেষজ্ঞ মোট ক্রেডিট লিমিটের ৩০ শতাংশের নিচে এবং কেউ কেউ ১০ শতাংশের নিচে ব্যবহারের পরামর্শ দেন।    তবে ক্রেডিট কার্ডে ব্যালেন্স রেখে দিলেই ক্রেডিট স্কোর ভালো হয়, এমন ধারণা ঠিক নয়। প্রতি মাসে সময়মতো সম্পূর্ণ স্টেটমেন্ট ব্যালেন্স পরিশোধ করলে সুদের খরচ এড়ানো যায়। একই সঙ্গে অল্প সময়ের মধ্যে অনেকগুলো নতুন ক্রেডিট অ্যাকাউন্টের জন্য আবেদন করাও এড়িয়ে চলা ভালো।   দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ট্যাক্স। এ ক্ষেত্রে বহুল প্রচলিত একটি তথ্য সংশোধন করা জরুরি। বছরে ৬০০ ডলারের বেশি আয় করলেই প্রত্যেক ব্যক্তির ফেডারেল ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক, এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। কার ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করতে হবে, তা নির্ভর করে আয়ের ধরন, পরিমাণ, বয়স ও ফাইলিং স্ট্যাটাসসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর। তবে সেলফ এমপ্লয়মেন্ট থেকে বছরে অন্তত ৪০০ ডলার নেট আয় হলে সাধারণত ফেডারেল ট্যাক্স রিটার্ন এবং সেলফ এমপ্লয়মেন্ট ট্যাক্সের নিয়ম প্রযোজ্য হয়।   ক্যাশে আয় করলেও সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্যাক্সের বাইরে চলে যায় না। ট্যাক্সযোগ্য আয় সঠিকভাবে রিপোর্ট করা প্রয়োজন। ২০২৬ সালের ফাইলিং সিজনে ২০২৫ সালের অ্যাডজাস্টেড গ্রস ইনকাম ৮৯ হাজার ডলার বা তার কম হলে যোগ্য করদাতারা আইআরএস ফ্রি ফাইলের গাইডেড সফটওয়্যার ব্যবহার করে বিনা খরচে ফেডারেল ট্যাক্স রিটার্ন প্রস্তুত ও দাখিল করতে পারেন। এর বেশি আয়কারীদের জন্যও ফ্রি ফাইল ফিলেবল ফর্মস রয়েছে।    তৃতীয় বিষয় হেলথ ইন্স্যুরেন্স। যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা ব্যয় অত্যন্ত বেশি হতে পারে বলে শুধু সুস্থ থাকার কারণে ইন্স্যুরেন্সের প্রয়োজন নেই ধরে নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। তবে মার্কেটপ্লেস থেকে মাসে ৫০ থেকে ১৫০ ডলারে সবাই হেলথ ইন্স্যুরেন্স পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। প্রিমিয়াম নির্ভর করে আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, বসবাসের এলাকা, বয়স, নির্বাচিত প্ল্যান এবং আর্থিক সহায়তার যোগ্যতার ওপর। ২০২৫ সালের শেষে মহামারির সময় চালু হওয়া অতিরিক্ত প্রিমিয়াম সহায়তার মেয়াদ শেষ হয়েছে। ফলে ২০২৬ সালে অনেকের মার্কেটপ্লেস প্রিমিয়াম আগের তুলনায় বেশি হতে পারে।    চতুর্থ বিষয় ৪০১(কে) এবং আইআরএর মতো অবসরকালীন সঞ্চয়। চাকরিদাতা ৪০১(কে) সুবিধা দিলে তার নিয়ম ভালোভাবে বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। অনেক প্রতিষ্ঠানে কর্মীর জমা দেওয়া অর্থের একটি নির্দিষ্ট অংশের বিপরীতে এমপ্লয়ার ম্যাচ দেওয়া হয়। তবে সব কোম্পানি ৩ থেকে ৬ শতাংশ ম্যাচ দেয় কিংবা কর্মী ১০০ ডলার রাখলে কোম্পানিও অবশ্যই ১০০ ডলার দেবে, এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। ম্যাচের হার ও শর্ত সংশ্লিষ্ট কোম্পানির রিটায়ারমেন্ট প্ল্যানের ওপর নির্ভর করে।    এখানে ভেস্টিংয়ের নিয়মও জানা দরকার। কিছু ৪০১(কে) প্ল্যানে কোম্পানির দেওয়া অর্থের সম্পূর্ণ মালিকানা পেতে নির্দিষ্ট সময় চাকরিতে থাকতে হতে পারে। ফলে নতুন চাকরিতে যোগ দিয়েই এইচআর বিভাগ বা প্ল্যান ডকুমেন্ট থেকে এমপ্লয়ার ম্যাচ এবং ভেস্টিংয়ের নিয়ম জেনে নেওয়া ভালো।  পঞ্চম বিষয় হলো সব সঞ্চয় চেকিং অ্যাকাউন্টে ফেলে না রাখা। দৈনন্দিন বিল ও খরচের জন্য চেকিং অ্যাকাউন্ট প্রয়োজন হলেও দীর্ঘ সময়ের জরুরি সঞ্চয়ের জন্য সুদ দেওয়া সেভিংস অ্যাকাউন্ট বা হাই ইয়েল্ড সেভিংস অ্যাকাউন্ট বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ সুদ সব সময় বা সব ব্যাংকে পাওয়া যাবে, এমন নয়। সুদের হার পরিবর্তনশীল। তাই অ্যাকাউন্ট খোলার আগে বর্তমান এপিওয়াই, ফি, টাকা তোলার নিয়ম এবং প্রতিষ্ঠানটি এফডিআইসি বা এনসিইউএ সুরক্ষার আওতায় আছে কি না যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।   নতুন অভিবাসীদের জন্য আরেকটি কার্যকর সুবিধা হলো ইউএসপিএস ইনফর্মড ডেলিভারি। যোগ্য ঠিকানায় এই ফ্রি সার্ভিস চালু করলে বাসায় আসার আগে অনেক লেটার সাইজের মেইলের বাইরের অংশের ডিজিটাল ছবি দেখা যায় এবং নির্দিষ্ট প্যাকেজের ডেলিভারি স্ট্যাটাসও জানা যায়। তবে এটি সব চিঠি বা গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট হারানো ঠেকানোর নিশ্চয়তা দেয় না। ইউএসপিএস বলছে, স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রে প্রক্রিয়াকৃত লেটার সাইজের মেইলের ক্ষেত্রেই মূলত ছবির সুবিধা পাওয়া যায়।    আমেরিকায় নতুন আসার পর প্রথম কয়েক মাসে ক্রেডিট তৈরি, সঠিকভাবে ট্যাক্স রিপোর্ট করা, প্রয়োজন অনুযায়ী হেলথ ইন্স্যুরেন্স নেওয়া, চাকরির রিটায়ারমেন্ট সুবিধা বোঝা এবং সঞ্চয়ের জন্য উপযুক্ত অ্যাকাউন্ট বেছে নেওয়া দীর্ঘমেয়াদে বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে। তবে এসব পদক্ষেপ মেনে চললেই প্রত্যেক ব্যক্তি বছরে নির্দিষ্টভাবে ৫ হাজার ডলার সাশ্রয় করবেন, এমন হিসাবের নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই। ব্যক্তির আয়, পরিবার, স্টেট, চাকরি ও আর্থিক পরিস্থিতির ওপর প্রকৃত সাশ্রয়ের পরিমাণ নির্ভর করবে।   এই তথ্য সাধারণ সচেতনতার জন্য। ট্যাক্স, বিনিয়োগ, হেলথ ইন্স্যুরেন্স ও অন্যান্য আর্থিক সিদ্ধান্তের নিয়ম ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ম্যানহাটনে বাসা ভাড়ায় ৫ হাজার ডলারের রেকর্ড
ম্যানহাটনে বাসা ভাড়ায় ৫ হাজার ডলারের রেকর্ড! এক বছরে লিস্টিং কমেছে ৩৯ শতাংশ

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে বাসা খোঁজা আরও কঠিন হয়ে উঠছে। জুলাইয়ে মার্কেট রেট অ্যাপার্টমেন্টের মিডিয়ান রেন্ট মাসে রেকর্ড ৫ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে এক বছরের ব্যবধানে ভাড়ার জন্য বাজারে থাকা অ্যাপার্টমেন্টের লিস্টিং প্রায় ৩৯ শতাংশ কমেছে। ফলে সীমিত বাসার জন্য প্রতিযোগিতা বাড়ার পাশাপাশি ভাড়াটিয়াদের ওপর চাপও তীব্র হচ্ছে।   বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাইয়ে ম্যানহাটনের মার্কেট রেট অ্যাপার্টমেন্টের মিডিয়ান রেন্ট জুনের তুলনায় ৩ শতাংশ এবং গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় ৬ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে এক বছরে বাজার থেকে প্রায় ৪ হাজার অ্যাপার্টমেন্টের লিস্টিং কমে গেছে।   শুধু রেন্ট বাড়াই নয়, ভালো বাসা পাওয়ার জন্য ভাড়াটিয়াদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়ও কমে আসছে। গত বছরের গ্রীষ্মে একটি অ্যাপার্টমেন্ট গড়ে ৪৮ দিন বাজারে থাকলেও এবার তা নেমে এসেছে ৩৬ দিনে। অর্থাৎ পছন্দের বাসা পেলে দ্রুত লিজ না করলে সেটি অন্য ভাড়াটিয়ার কাছে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে।   ম্যানহাটনের সব এলাকাতেই লিস্টিং উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন এলাকায় গত বছরের তুলনায় ইনভেন্টরি প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। সবচেয়ে বেশি রেন্ট ডাউনটাউন ম্যানহাটনে। এরপর রয়েছে ওয়েস্ট সাইড, ইস্ট সাইড ও নর্দার্ন ম্যানহাটন।   বিশেষ করে দুই বা তার বেশি বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টে রেন্ট দ্রুত বাড়ছে। বাজারের সবচেয়ে দামি ১০ শতাংশ বা লাক্সারি অ্যাপার্টমেন্টের মিডিয়ান রেন্ট এক বছরের ব্যবধানে ৩১ শতাংশ বেড়ে মাসে ১৩ হাজার ৭৫০ ডলারে পৌঁছেছে।   অন্যদিকে নতুন লিজের সংখ্যাও ১৯ শতাংশ কমেছে। অর্থাৎ রেন্ট বাড়লেও নতুন চুক্তির সংখ্যা একই গতিতে বাড়ছে না। আবাসন বিশেষজ্ঞদের কাছে এটি নিউইয়র্কের হাউজিং মার্কেটে সরবরাহ সংকট ও ক্রয়ক্ষমতার চাপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।   নিউইয়র্কে আবাসন ব্যয় দীর্ঘদিন ধরেই বড় সমস্যা। শহরের বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা তাদের আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি শুধু রেন্টেই ব্যয় করেন। সাধারণভাবে আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি আবাসনে ব্যয় হলে সেটিকে হাউজিং কস্ট বার্ডেন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।   তবে ম্যানহাটনের এই ৫ হাজার ডলারের হিসাব সব ধরনের অ্যাপার্টমেন্টের নয়। প্রতিবেদনের তথ্য মূলত মার্কেট রেট ইউনিটের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ম্যানহাটনের প্রায় ৪৪ শতাংশ বাসা রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে, যেগুলো এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত নয়।   মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন আবাসন সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদে ২ লাখ অ্যাফোর্ডেবল হোম তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ‘ব্লক বাই ব্লক’ পরিকল্পনা নিয়েছে। পাশাপাশি অফিস ভবন, সিটির মালিকানাধীন সম্পত্তি এবং অন্যান্য অব্যবহৃত জায়গাকে আবাসনে রূপান্তরের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।   রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড অ্যাপার্টমেন্টে মামদানির প্রতিশ্রুত রেন্ট ফ্রিজও চলতি শরতে কার্যকর হওয়ার কথা। তবে এই নীতি মার্কেট রেট অ্যাপার্টমেন্টের রেন্টে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে রিয়েল এস্টেট খাতে বিতর্ক রয়েছে।   বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় সংকেতটি স্পষ্ট। ম্যানহাটনে শুধু বাসার রেন্টই বাড়ছে না, ভাড়ার জন্য পাওয়া যাচ্ছে আগের তুলনায় অনেক কম অ্যাপার্টমেন্ট। ফলে নতুন বাসা খুঁজছেন এমন নিউইয়র্কবাসীর জন্য উচ্চ রেন্টের পাশাপাশি সীমিত ইনভেন্টরিও এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
স্লট মেশিনে জিতলেন ৪ কোটি ২৯ লাখ ডলার
স্লট মেশিনে জিতলেন ৪ কোটি ২৯ লাখ ডলার, ক্যাসিনো দিল মাত্র ২.২৫ ডলার আর স্টেক ডিনার

নিউইয়র্কের একটি ক্যাসিনোর স্লট মেশিনের স্ক্রিনে ভেসে উঠেছিল ৪২ দশমিক ৯ মিলিয়ন বা প্রায় ৪ কোটি ২৯ লাখ ডলারের জ্যাকপট। মুহূর্তটি ধরে রাখতে মেশিনের পাশে দাঁড়িয়ে ছবিও তুলেছিলেন ক্যাটরিনা বুকম্যান। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বদলে যায় সবকিছু। ক্যাসিনো কর্তৃপক্ষ জানায়, বিপুল অঙ্কের ওই জ্যাকপট আসলে মেশিনের ত্রুটির ফল। তার প্রকৃত পাওনা মাত্র ২ ডলার ২৫ সেন্ট।   ঘটনাটি ২০১৬ সালের আগস্টের। নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সের রিসোর্টস ওয়ার্ল্ড ক্যাসিনোতে স্লট মেশিনে খেলছিলেন বুকম্যান। একপর্যায়ে মেশিনের স্ক্রিনে ৪২,৯৪৯,৬৭২ দশমিক ৭৬ ডলারের অঙ্ক দেখা যায়।   এত বড় অঙ্ক দেখে স্বাভাবিকভাবেই বুকম্যান ভেবেছিলেন, তার জীবন বদলে দেওয়ার মতো জ্যাকপট লেগেছে। মেশিনের স্ক্রিনে দেখানো অঙ্কের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন তিনি। ওই ছবি পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।   তবে ক্যাসিনো কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে তাকে প্রায় ৪৩ মিলিয়ন ডলার দেয়নি। বিষয়টি যাচাইয়ের পর তাকে আবার ক্যাসিনোতে ফিরতে বলা হয়। পরদিন ফিরে এসে বুকম্যান জানতে পারেন, তিনি যে অর্থ পাওয়ার আশা করেছিলেন সেটি তাকে দেওয়া হবে না।   রিসোর্টস ওয়ার্ল্ড কর্তৃপক্ষ জানায়, স্লট মেশিনটিতে ত্রুটি হয়েছিল। স্ক্রিনে যে ৪২ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার দেখানো হয়েছিল, সেটি বৈধ জ্যাকপট ছিল না।   নিউইয়র্ক স্টেট গেমিং কমিশনও পরে মেশিনটি পরীক্ষা করে ত্রুটির বিষয়টি নিশ্চিত করে। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, মেশিনটির রেকর্ডে ওই অঙ্কের কোনো জ্যাকপট জেতার তথ্য পাওয়া যায়নি। স্ক্রিনে বিশাল অঙ্কটি দেখানো হয়েছিল মেশিনের ডিসপ্লে ত্রুটির কারণে।   এ ক্ষেত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল স্লট মেশিনটির সর্বোচ্চ সম্ভাব্য জ্যাকপট। মেশিনটি থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৬ হাজার ৫০০ ডলার পাওয়ার সুযোগ ছিল। ফলে স্ক্রিনে দেখানো প্রায় ৪৩ মিলিয়ন ডলার ওই গেম থেকে বৈধভাবে জেতার সুযোগই ছিল না।   মেশিনটিতে একটি সতর্কবার্তাও ছিল, যেখানে যান্ত্রিক বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি হলে সংশ্লিষ্ট খেলা ও পেআউট বাতিল বলে গণ্য হওয়ার কথা উল্লেখ ছিল। নিউইয়র্কের গেমিং কর্তৃপক্ষ সেই নিয়মের ভিত্তিতেই প্রায় ৪৩ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের দাবি গ্রহণ করেনি।   সবচেয়ে বিস্ময়কর পরিস্থিতি তৈরি হয় বুকম্যানকে তার প্রকৃত পাওনার কথা জানানোর পর। ক্যাসিনোর হিসাবে তিনি জিতেছিলেন মাত্র ২ ডলার ২৫ সেন্ট। বিপুল অঙ্কের জ্যাকপট না পাওয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে রিসোর্টস ওয়ার্ল্ড তাকে বিনামূল্যে একটি স্টেক ডিনারের প্রস্তাবও দেয়।   তবে বুকম্যান সেই প্রস্তাব মেনে নেননি। পরের বছর তিনি রিসোর্টস ওয়ার্ল্ড ক্যাসিনো, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং স্লট মেশিন নির্মাতার বিরুদ্ধে মামলা করেন।   তার আইনজীবীর যুক্তি ছিল, মেশিনের ত্রুটির দায় একজন খেলোয়াড়ের ওপর চাপানো উচিত নয়। প্রায় ৪৩ মিলিয়ন ডলার দেওয়া না হলেও অন্তত মেশিনটির বৈধ সর্বোচ্চ জ্যাকপট ৬ হাজার ৫০০ ডলার দেওয়ার বিষয়টি তারা সামনে আনেন।   ঘটনাটি সেই সময় যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কারণ স্ক্রিনে দেখানো অঙ্কটি সত্যিকারের জ্যাকপট হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে স্লট মেশিন থেকে পাওয়া অন্যতম বৃহৎ পুরস্কারে পরিণত হতে পারত।   শেষ পর্যন্ত বুকম্যানের জীবনের সেই বহুল আলোচিত মুহূর্তটি কোটি ডলারের জ্যাকপটে পরিণত হয়নি। স্লট মেশিনের স্ক্রিনে ছিল ৪২,৯৪৯,৬৭২ দশমিক ৭৬ ডলার, আর ক্যাসিনোর হিসাবে তার প্রকৃত জেতা অর্থ ছিল মাত্র ২ ডলার ২৫ সেন্ট। সঙ্গে ছিল একটি বিনামূল্যের স্টেক ডিনারের প্রস্তাব।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৪:০
সান ফ্রান্সিসকোতে বাসা ভাড়ায় নতুন রেকর্ড
সান ফ্রান্সিসকোতে বাসা ভাড়ায় নতুন রেকর্ড! দুই বেডরুমের ভাড়া ছাড়াল ৬ হাজার ডলার

সান ফ্রান্সিসকোর রেন্টের বাজারে নতুন করে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। জুলাইয়ে শহরটির দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যম রেন্ট ৬ হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে বলে একটি ভাড়া তালিকাভুক্তি প্ল্যাটফর্মের তথ্যে উঠে এসেছে। তবে এই পরিসংখ্যান নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আবাসন বাজার বিশ্লেষকেরা, কারণ সব ধরনের অ্যাপার্টমেন্ট এই হিসাবের আওতায় নেই।    সাম্প্রতিক এই হিসাব অনুযায়ী, সান ফ্রান্সিসকোর বর্তমান রেন্টের বাজার যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আবাসন বাজারগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের রেন্ট দ্রুত বাড়ায় পরিবার ও একাধিক কক্ষের বাসা খোঁজা ভাড়াটিয়াদের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।   তবে ৬ হাজার ডলারের মধ্যম রেন্টের হিসাবটি মূলত বর্তমানে বাজারে থাকা তুলনামূলক দামি ও পেশাদারভাবে পরিচালিত অ্যাপার্টমেন্টের তালিকার ওপর নির্ভর করছে। পুরোনো ভবনের অনেক অ্যাপার্টমেন্ট এবং ছোট মালিকদের নিয়ন্ত্রণে থাকা তুলনামূলক কম রেন্টের ইউনিট এতে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয় না।    অন্যদিকে অ্যাপার্টমেন্ট লিস্টের মতো ভিন্ন পদ্ধতিতে বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাবে দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যম রেন্ট প্রায় ৪ হাজার ৪০০ ডলারের কাছাকাছি। অর্থাৎ কোন তথ্যসূত্র ও কোন ধরনের ইউনিট বিবেচনা করা হচ্ছে, তার ওপর রেন্টের হিসাব উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে যেতে পারে।    সান ফ্রান্সিসকোর স্থানীয় আবাসন পরিস্থিতিও দীর্ঘদিন ধরে ব্যয়বহুল। শহরের প্রায় ৬৫ শতাংশ বাসিন্দা ভাড়ায় থাকেন। ২০২৬ সালের স্থানীয় একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যম রেন্ট প্রায় ৩ হাজার ৫৬১ ডলার এবং দুই থেকে তিন বেডরুমের ইউনিটের রেন্ট অনেক ক্ষেত্রে ৪ হাজার ৫০০ ডলারের বেশি।    শহরের আবাসন সংকটের কারণে অনেক বাসিন্দাকে আয়ের বড় অংশ রেন্টের পেছনে ব্যয় করতে হচ্ছে। স্থানীয় সরকারি নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সান ফ্রান্সিসকোর প্রায় ৩৭ শতাংশ ভাড়াটিয়া পরিবার তাদের আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি রেন্ট ও ইউটিলিটিতে ব্যয় করছিল।    রেন্টের এই ঊর্ধ্বগতি শুধু সান ফ্রান্সিসকোর বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়াচ্ছে না, আশপাশের শহরগুলোর রেন্টের বাজারেও প্রভাব ফেলছে। সাম্প্রতিক সময়ে সান ফ্রান্সিসকোর বাইরে ওকল্যান্ডেও রেন্ট দ্রুত বাড়তে দেখা গেছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে কর্মসংস্থানের চাহিদা বাড়ায় বে এরিয়ার আবাসন বাজারে নতুন চাপ তৈরি হচ্ছে।   তবে সান ফ্রান্সিসকোতে তুলনামূলক কম রেন্টের কিছু ইউনিট এখনো রয়েছে। শহরের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের বাসিন্দাদের জন্য নির্দিষ্ট সরকারি ও সাশ্রয়ী আবাসন কর্মসূচিতেও বাজারদরের তুলনায় অনেক কম রেন্টের সুযোগ পাওয়া যায়।    আবাসন সংকটের কারণে শহরটিতে দীর্ঘদিন ধরে নতুন বাড়ি নির্মাণ বাড়ানোর দাবি রয়েছে। স্থানীয় সরকারি নথিতে বলা হয়েছে, সাশ্রয়ী আবাসনের চাহিদা পূরণে বছরে প্রায় ৫ হাজার নতুন ইউনিট নির্মাণ প্রয়োজন হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শহরটি গড়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০ ইউনিট নির্মাণ করেছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৮, ২০২৬ ১৪:০
কুড়িয়ে পাওয়া ২০ ডলারেই ভাগ্য খুলল রাজমিস্ত্রির
কুড়িয়ে পাওয়া ২০ ডলারেই ভাগ্য খুলল রাজমিস্ত্রির! জিতলেন ১০ লাখ ডলারের জ্যাকপট

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনায় গ্যাস স্টেশনের পার্কিং লটে কুড়িয়ে পাওয়া ২০ ডলারই বদলে দিল এক কাঠমিস্ত্রির জীবন। সেই টাকা দিয়ে কেনা একটি স্ক্র্যাচ-অফ লটারি টিকিটে ১০ লাখ ডলারের পুরস্কার জিতে নিয়েছেন তিনি। ৫৬ বছর ধরে কাঠমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করা জেরি হিকস জানিয়েছেন, এই অর্থের সুবাদে তিনি এবার স্থায়ীভাবে অবসরে যাচ্ছেন।    নর্থ ক্যারোলাইনা এডুকেশন লটারির তথ্য অনুযায়ী, অ্যাভেরি কাউন্টির ব্যানার এলকের বাসিন্দা জেরি হিকস একটি স্পিডওয়ে গ্যাস স্টেশনের বাইরে পার্কিং লটে ২০ ডলারের একটি নোট পান। পরে তিনি সেটি দিয়ে ‘এক্সট্রিম ক্যাশ’ স্ক্র্যাচ-অফ টিকিট কেনেন। মজার বিষয় হলো, তিনি প্রথমে অন্য একটি টিকিট কিনতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সেটি না থাকায় বিকল্প হিসেবে এই টিকিটটি নেন। আর সেটিই তাকে এনে দেয় ১০ লাখ ডলারের জ্যাকপট।   পুরস্কার গ্রহণের সময় হিকসের সামনে দুটি বিকল্প ছিল—২০ বছরে কিস্তিতে ১০ লাখ ডলার নেওয়া অথবা এককালীন ৬ লাখ ডলার গ্রহণ করা। তিনি এককালীন অর্থ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রাজ্য ও ফেডারেল কর কেটে যাওয়ার পর তার হাতে আসে ৪ লাখ ২৯ হাজার ৭ ডলার।    লটারি কর্তৃপক্ষকে হিকস জানান, ৫৬ বছর ধরে কাঠমিস্ত্রির কাজ করার পর তিনি এই অর্থ দিয়ে অবসরে যেতে চান। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের, বিশেষ করে সন্তানদেরও আর্থিকভাবে সহায়তা করবেন।    জয়ের পর প্রথম উদযাপন নিয়েও ছিল তার সহজ-সরল পরিকল্পনা। হিকস হাসতে হাসতে বলেন, তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে স্থানীয় ‘গোল্ডেন কোরাল’ রেস্তোরাঁয় গিয়ে পছন্দের খাবার খাবেন।    নর্থ ক্যারোলাইনা এডুকেশন লটারি জানিয়েছে, ‘এক্সট্রিম ক্যাশ’ স্ক্র্যাচ-অফ গেমের সর্বোচ্চ পুরস্কার ১০ লাখ ডলার। এই পুরস্কার জয়ের সম্ভাবনা ছিল প্রায় ২০ লাখ ১৭ হাজার ৬৫০টির মধ্যে মাত্র একটি।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ক্রিপ্টোর লোভে ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি I ছবি: সংগৃহীত
মাত্র ১,৪০০ ডলারের ক্রিপ্টোর লোভে ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি, ইসরায়েলে অভিযুক্ত মার্কিন তরুণ

মাত্র ১৪০০ ডলার সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সির বিনিময়ে ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইসরায়েলে এক মার্কিন নাগরিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার ইসরায়েলের স্টেট অ্যাটর্নি অফিস এই অভিযোগ গঠন করে। ইসরায়েলে সাম্প্রতিক গুপ্তচরবৃত্তির মামলাগুলোর মধ্যে এই প্রথম কোনো মার্কিন নাগরিককে এমন গুরুতর অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ২১ বছর বয়সী অভিযুক্ত এলি লাভন জেরুজালেমের একটি ইহুদি সেমিনারির শিক্ষার্থী ছিলেন।   প্রসিকিউটরদের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের কাছে ঘুরতে গিয়ে টেলিগ্রাম অ্যাপে একটি চাকরির বিজ্ঞাপনে সাড়া দেন লাভন। এর এক মাস পর তিনি যখন ইসরায়েলে ফিরে আসেন, তখন ইরানের গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করা এক বিদেশি এজেন্ট টেলিগ্রামে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরপর থেকে তাকে বিভিন্ন কাজ দেওয়া শুরু হয়।   লাভন জেরুজালেমের একটি ধর্মীয় এলাকার একটি পরিত্যক্ত ভবন এবং একটি মুদি দোকানের ভেতরের ভিডিও ধারণ করে পাঠান। এমনকি নির্দেশ মোতাবেক জেরুজালেমের হাদার মলের একটি বাথরুমের ডাস্টবিনে একটি সিগারেটের প্যাকেটে "কাজ শেষ" লেখা চিরকুটও লুকিয়ে রাখেন তিনি। এসব কাজের জন্য লাভনকে শত শত ডলার ক্রিপ্টোকারেন্সিতে পরিশোধ করা হয়। এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তিনি দুটি ভিন্ন টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট ও তিনটি ফোন ব্যবহার করতেন।   প্রথম এজেন্টকে ব্লক করে দিলেও পরবর্তীতে তিনি ইরানি গোয়েন্দাদের আরেক এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে লাভন ৫০ শেকেলের নোটে মোড়ানো একটি ইউএসবি ফ্ল্যাশ ড্রাইভ জেরুজালেমের একটি রেস্তোরাঁয় লুকিয়ে রাখেন এবং নিজের পাসপোর্টের ছবি তুলে পাঠান। দ্বিতীয় এজেন্টটি তার সহপাঠীদের নাম জানতে চাইলে তিনি বন্ধুদের জড়াতে অস্বীকৃতি জানান। এসব কাজের জন্য তিনি মোট ১,৩৭৯ ডলারের ক্রিপ্টো পান। গত ৯ জুন লাভনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বর্তমানে তার বিরুদ্ধে বিদেশি এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ ও শত্রুকে তথ্য সরবরাহের মোট ১৬টি অভিযোগ আনা হয়েছে।   জেরুজালেমের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিসের কর্মকর্তা রনিত শেন্টজার ইয়াকোবি জানান, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কীভাবে ডিজিটাল জগতকে কাজে লাগিয়ে ইসরায়েলের ভেতর থেকে মানুষ নিয়োগ করছে, এই মামলাই তার একটি বড় প্রমাণ। তবে লাভনের আইনজীবী রাজ বার জভি দাবি করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করলেই তাকে 'ভয়ংকর গুপ্তচর' বলা যায় না। তিনি মনে করেন, আইনি বাস্তবতাকে প্রযুক্তিগত বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া উচিত এবং এই অভিযোগগুলো পুরোপুরি বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৩, ২০২৬ ১৪:০
১২ বিলিয়ন ডলার ফেরত পাচ্ছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা সম্পন্ন
১২ বিলিয়ন ডলার ফেরত পাচ্ছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা সম্পন্ন

ইরানের জব্দ থাকা প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি বলেছেন, সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আলোচনার মাধ্যমে এই সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে এবং এটি দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক বৃহত্তর সমঝোতা স্মারকের তাৎক্ষণিক ফলাফল।   সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গালিবাফ বলেন, “জব্দ থাকা ১২ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি সুইজারল্যান্ডে চূড়ান্ত হয়েছে।”   তিনি জানান, এই ১২ বিলিয়ন ডলার মূলত ৬ বিলিয়ন ডলারের দুটি পৃথক অংশ নিয়ে গঠিত, যা দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে আটকে ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারকের আওতায় তেহরান যে বড় অর্জনগুলো নিশ্চিত করেছে, এই অর্থ ছাড় তার অন্যতম।   চুক্তির অংশ হিসেবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন গালিবাফ। তিনি বলেন, চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল রপ্তানি, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার থাকবে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং, বীমা এবং পরিবহন খাতেও এই শিথিলতার প্রভাব পড়বে।   গালিবাফের মতে, এই সমঝোতা শুধু অর্থনৈতিক দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে এটি সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন।   এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক উপসহকারী সচিব হেনরি এংশার এই পরিস্থিতিকে চুক্তির বাস্তবায়নের প্রাথমিক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “দুই পক্ষই এখন এমন একটি অবস্থান তুলে ধরতে চায়, যাতে বোঝায় তারা আলোচনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বা অন্তত ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।”   তার মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকারসহ বিভিন্ন জাহাজের চলাচল স্বাভাবিক হওয়া চুক্তি বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে। “অর্থপ্রবাহ শুরু হওয়া এবং তার বাস্তব প্রতিফলন দেখা—এটাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সূচক,” বলেন তিনি।   বিশ্লেষকদের ধারণা, ওয়াশিংটন ও তেহরান একদিকে দ্রুত কিছু বাস্তব সুবিধা নিশ্চিত করতে চাইছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানও শক্তিশালীভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে।   উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক সম্পদ বিভিন্ন দেশে আটকে রয়েছে। সাম্প্রতিক এই অগ্রগতি সেই জটিল অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত জুন ২২, ২০২৬ ১৪:০
ডলারের দরপতনে বিশ্ববাজারে বাড়ছে সোনার দাম
ডলারের দরপতনে বিশ্ববাজারে বাড়ছে সোনার দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে টানা তিন কার্যদিবস ধরে বাড়ছে সোনার দাম। বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতেই মূল্যবান এই ধাতুর দাম শূন্য দশমিক তিন শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত ডলারের বিনিময় মূল্য হ্রাস পাওয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির খবরে বিনিয়োগকারীরা সোনার দিকে ঝুঁকছেন। বর্তমানে প্রতি আউন্স স্পট গোল্ডের দাম দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭০১ ডলারে। এর আগে গত বুধবার একদিনেই সোনার দাম প্রায় তিন শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল যা গত এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। বাজার বিশ্লেষকদের মতে মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড কমে আসা এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনের আভাস পাওয়ায় বিশ্ববাজারে ডলার কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। ইরান জানিয়েছে তারা বর্তমানে ওয়াশিংটনের দেওয়া একটি শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে। সূত্রগুলো বলছে এই চুক্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের অবসান হতে পারে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো নিয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরার আশায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও চলতি সপ্তাহে প্রায় ছয় শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছেন। চুক্তিটি সফল হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরার পাশাপাশি বিনিয়োগের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

নীলুফা নিশাত মে ৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
হরমুজ প্রণালীতে ইরান-চীন জোট: মার্কিন ডলারের একাধিপত্যে বড় আঘাত

বিশ্ব বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের দীর্ঘদিনের একক আধিপত্য বা ‘হেজেমনি’ মোকাবিলায় নতুন রণকৌশল নিয়েছে ইরান ও চীন। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ ব্যবহার করে এবার ডলারের পরিবর্তে চীনা মুদ্রা ‘ইউয়ান’-এর প্রচলন শুরু করেছে দেশ দুটি। আল-জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের চলমান যুদ্ধাবস্থার মধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতি যখন টালমাটাল, ঠিক তখনই তেহরান ও বেইজিং এই সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর কাছ থেকে ট্রানজিট ফি হিসেবে ডলারের পরিবর্তে ইউয়ান গ্রহণ করছে ইরান। অন্তত দুটি বড় জাহাজ ইতোমধ্যে ইউয়ানে তাদের ফি পরিশোধ করেছে বলে লয়েড’স লিস্ট (Lloyd’s List) নিশ্চিত করেছে। কেন এই পদক্ষেপ? বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও চীন উভয়েই দীর্ঘকাল ধরে ওয়াশিংটনের ‘ডলার ডিপ্লোমেসি’ বা ডলারের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার রাজনীতির শিকার। বিশ্ব তেলের বাজারের প্রায় ৮০ শতাংশ লেনদেন ডলারে হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র খুব সহজেই যেকোনো দেশের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এই আধিপত্য খর্ব করতেই তেহরান ও বেইজিং এখন ‘পেট্রো-ইউয়ান’ (Petroyuan) ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ কেনেথ রোগফ আল-জাজিরাকে বলেন, "ইরান একদিকে যেমন যুক্তরাষ্ট্রের চোখে আঙুল দিয়ে নিজেদের শক্তি দেখাচ্ছে, তেমনি অন্যদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইউয়ানকে বেছে নিয়েছে। চীনও চাইছে তাদের মুদ্রাকে বৈশ্বিক রিজার্ভ কারেন্সিতে রূপান্তর করতে।" সুবিধা ভোগ করছে দুই পক্ষই চীনের জন্য এই পদক্ষেপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ দেশটি ইরানের তেলের ৮০ শতাংশেরই ক্রেতা। ইউয়ানে লেনদেন করলে উভয় দেশই মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থা এবং নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে সহজে ও কম খরচে বাণিজ্য করতে পারছে। ২০২১ সালে স্বাক্ষরিত ২৫ বছর মেয়াদী কৌশলগত অংশীদারিত্বের আওতায় এই সহযোগিতা আরও জোরালো হয়েছে। ডলারের ভবিষ্যৎ কী? যদিও ইউয়ান দ্রুত প্রভাব বিস্তার করছে, তবে মার্কিন ডলারের জায়গা দখল করা এখনো বেশ কঠিন। বর্তমানে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ৫৭ শতাংশই ডলারে রাখা হয়, যেখানে ইউয়ানের অবস্থান মাত্র ২ শতাংশের কাছাকাছি। এছাড়া চীনের কঠোর মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে ইউয়ান এখনো ডলারের মতো অবাধে বিনিময়যোগ্য নয়। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি একদিনে সম্ভব না হলেও ধীরে ধীরে ডলারের ভিত দুর্বল করে দিচ্ছে। কিলে ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক বুলেন্ট গোকায় বলেন, বেইজিং একটি 'মাল্টিপোলার' বা বহুমুখী আর্থিক বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে এগোচ্ছে, যেখানে একক কোনো মুদ্রার খবরদারি থাকবে না। ইরান বুধবার ঘোষণা করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় তারা হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ যাতায়াতের গ্যারান্টি দেবে। তবে এই সময়ের মধ্যেও ইউয়ানে লেনদেন অব্যাহত থাকলে তা দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন ডলারের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১৪:০
ফাইল ফটো।
বিশ্ববাজারে সোনার দামে নজিরবিহীন ধস

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি আর মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের মুখে বিশ্ববাজারে বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে সোনা। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ।  মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি আর তেলের বাজারের অস্থিরতায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। বিশ্ববাজারের এই বড় পতনের প্রভাব দেশের বাজারেও পড়ার সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার স্পট মার্কেটে সোনার দাম ২.৮ শতাংশের বেশি কমে প্রতি আউন্স দাঁড়িয়েছে ৪,৬২২.৫৯ ডলারে। দিনের শুরুতে এই পতন ৪ শতাংশও ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যা টানা চার দিনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে থামিয়ে দিয়েছে। একই সময়ে মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দাম ৩.৪ শতাংশ কমে ৪,৬৪৯ ডলারে নেমেছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ভাষণই এই অস্থিরতার মূল কারণ। ইরানের ওপর আরও আগ্রাসী হামলার হুঁশিয়ারি এবং জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার ইঙ্গিতের পর তেলের দাম এক লাফে ৬ শতাংশ বেড়ে গেছে।  ক্যাপিটাল ডট কমের সিনিয়র বিশ্লেষক কাইল রড্ডা জানান, ডলারের সূচক এবং মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড বেড়ে যাওয়ায় সোনার ওপর চাপ বেড়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন সোনার চেয়ে ডলার এবং তেলের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন। বিশ্ববাজারে দামের এই বড় পতনের ফলে দেশের বাজারেও সোনা সস্তা হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাজুস সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে যেকোনো সময় স্থানীয় বাজারে দাম কমানোর ঘোষণা আসতে পারে। উল্লেখ্য যে, গত ১ এপ্রিল দেশের বাজারে সোনার দাম ভরিতে ৩,২৬৬ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২,৪৭,৯৭৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট ২,৩৬,৭২১ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ২,০২,৮৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০