ডলার

কুড়িয়ে পাওয়া ২০ ডলারেই ভাগ্য খুলল রাজমিস্ত্রির
কুড়িয়ে পাওয়া ২০ ডলারেই ভাগ্য খুলল রাজমিস্ত্রির! জিতলেন ১০ লাখ ডলারের জ্যাকপট

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনায় গ্যাস স্টেশনের পার্কিং লটে কুড়িয়ে পাওয়া ২০ ডলারই বদলে দিল এক কাঠমিস্ত্রির জীবন। সেই টাকা দিয়ে কেনা একটি স্ক্র্যাচ-অফ লটারি টিকিটে ১০ লাখ ডলারের পুরস্কার জিতে নিয়েছেন তিনি। ৫৬ বছর ধরে কাঠমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করা জেরি হিকস জানিয়েছেন, এই অর্থের সুবাদে তিনি এবার স্থায়ীভাবে অবসরে যাচ্ছেন।    নর্থ ক্যারোলাইনা এডুকেশন লটারির তথ্য অনুযায়ী, অ্যাভেরি কাউন্টির ব্যানার এলকের বাসিন্দা জেরি হিকস একটি স্পিডওয়ে গ্যাস স্টেশনের বাইরে পার্কিং লটে ২০ ডলারের একটি নোট পান। পরে তিনি সেটি দিয়ে ‘এক্সট্রিম ক্যাশ’ স্ক্র্যাচ-অফ টিকিট কেনেন। মজার বিষয় হলো, তিনি প্রথমে অন্য একটি টিকিট কিনতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সেটি না থাকায় বিকল্প হিসেবে এই টিকিটটি নেন। আর সেটিই তাকে এনে দেয় ১০ লাখ ডলারের জ্যাকপট।   পুরস্কার গ্রহণের সময় হিকসের সামনে দুটি বিকল্প ছিল—২০ বছরে কিস্তিতে ১০ লাখ ডলার নেওয়া অথবা এককালীন ৬ লাখ ডলার গ্রহণ করা। তিনি এককালীন অর্থ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রাজ্য ও ফেডারেল কর কেটে যাওয়ার পর তার হাতে আসে ৪ লাখ ২৯ হাজার ৭ ডলার।    লটারি কর্তৃপক্ষকে হিকস জানান, ৫৬ বছর ধরে কাঠমিস্ত্রির কাজ করার পর তিনি এই অর্থ দিয়ে অবসরে যেতে চান। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের, বিশেষ করে সন্তানদেরও আর্থিকভাবে সহায়তা করবেন।    জয়ের পর প্রথম উদযাপন নিয়েও ছিল তার সহজ-সরল পরিকল্পনা। হিকস হাসতে হাসতে বলেন, তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে স্থানীয় ‘গোল্ডেন কোরাল’ রেস্তোরাঁয় গিয়ে পছন্দের খাবার খাবেন।    নর্থ ক্যারোলাইনা এডুকেশন লটারি জানিয়েছে, ‘এক্সট্রিম ক্যাশ’ স্ক্র্যাচ-অফ গেমের সর্বোচ্চ পুরস্কার ১০ লাখ ডলার। এই পুরস্কার জয়ের সম্ভাবনা ছিল প্রায় ২০ লাখ ১৭ হাজার ৬৫০টির মধ্যে মাত্র একটি।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ক্রিপ্টোর লোভে ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি I ছবি: সংগৃহীত
মাত্র ১,৪০০ ডলারের ক্রিপ্টোর লোভে ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি, ইসরায়েলে অভিযুক্ত মার্কিন তরুণ

মাত্র ১৪০০ ডলার সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সির বিনিময়ে ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইসরায়েলে এক মার্কিন নাগরিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার ইসরায়েলের স্টেট অ্যাটর্নি অফিস এই অভিযোগ গঠন করে। ইসরায়েলে সাম্প্রতিক গুপ্তচরবৃত্তির মামলাগুলোর মধ্যে এই প্রথম কোনো মার্কিন নাগরিককে এমন গুরুতর অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ২১ বছর বয়সী অভিযুক্ত এলি লাভন জেরুজালেমের একটি ইহুদি সেমিনারির শিক্ষার্থী ছিলেন।   প্রসিকিউটরদের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের কাছে ঘুরতে গিয়ে টেলিগ্রাম অ্যাপে একটি চাকরির বিজ্ঞাপনে সাড়া দেন লাভন। এর এক মাস পর তিনি যখন ইসরায়েলে ফিরে আসেন, তখন ইরানের গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করা এক বিদেশি এজেন্ট টেলিগ্রামে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরপর থেকে তাকে বিভিন্ন কাজ দেওয়া শুরু হয়।   লাভন জেরুজালেমের একটি ধর্মীয় এলাকার একটি পরিত্যক্ত ভবন এবং একটি মুদি দোকানের ভেতরের ভিডিও ধারণ করে পাঠান। এমনকি নির্দেশ মোতাবেক জেরুজালেমের হাদার মলের একটি বাথরুমের ডাস্টবিনে একটি সিগারেটের প্যাকেটে "কাজ শেষ" লেখা চিরকুটও লুকিয়ে রাখেন তিনি। এসব কাজের জন্য লাভনকে শত শত ডলার ক্রিপ্টোকারেন্সিতে পরিশোধ করা হয়। এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তিনি দুটি ভিন্ন টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট ও তিনটি ফোন ব্যবহার করতেন।   প্রথম এজেন্টকে ব্লক করে দিলেও পরবর্তীতে তিনি ইরানি গোয়েন্দাদের আরেক এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে লাভন ৫০ শেকেলের নোটে মোড়ানো একটি ইউএসবি ফ্ল্যাশ ড্রাইভ জেরুজালেমের একটি রেস্তোরাঁয় লুকিয়ে রাখেন এবং নিজের পাসপোর্টের ছবি তুলে পাঠান। দ্বিতীয় এজেন্টটি তার সহপাঠীদের নাম জানতে চাইলে তিনি বন্ধুদের জড়াতে অস্বীকৃতি জানান। এসব কাজের জন্য তিনি মোট ১,৩৭৯ ডলারের ক্রিপ্টো পান। গত ৯ জুন লাভনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বর্তমানে তার বিরুদ্ধে বিদেশি এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ ও শত্রুকে তথ্য সরবরাহের মোট ১৬টি অভিযোগ আনা হয়েছে।   জেরুজালেমের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিসের কর্মকর্তা রনিত শেন্টজার ইয়াকোবি জানান, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কীভাবে ডিজিটাল জগতকে কাজে লাগিয়ে ইসরায়েলের ভেতর থেকে মানুষ নিয়োগ করছে, এই মামলাই তার একটি বড় প্রমাণ। তবে লাভনের আইনজীবী রাজ বার জভি দাবি করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করলেই তাকে 'ভয়ংকর গুপ্তচর' বলা যায় না। তিনি মনে করেন, আইনি বাস্তবতাকে প্রযুক্তিগত বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া উচিত এবং এই অভিযোগগুলো পুরোপুরি বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৩, ২০২৬ ১৪:০
১২ বিলিয়ন ডলার ফেরত পাচ্ছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা সম্পন্ন
১২ বিলিয়ন ডলার ফেরত পাচ্ছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা সম্পন্ন

ইরানের জব্দ থাকা প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি বলেছেন, সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আলোচনার মাধ্যমে এই সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে এবং এটি দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক বৃহত্তর সমঝোতা স্মারকের তাৎক্ষণিক ফলাফল।   সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গালিবাফ বলেন, “জব্দ থাকা ১২ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি সুইজারল্যান্ডে চূড়ান্ত হয়েছে।”   তিনি জানান, এই ১২ বিলিয়ন ডলার মূলত ৬ বিলিয়ন ডলারের দুটি পৃথক অংশ নিয়ে গঠিত, যা দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে আটকে ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারকের আওতায় তেহরান যে বড় অর্জনগুলো নিশ্চিত করেছে, এই অর্থ ছাড় তার অন্যতম।   চুক্তির অংশ হিসেবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন গালিবাফ। তিনি বলেন, চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল রপ্তানি, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার থাকবে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং, বীমা এবং পরিবহন খাতেও এই শিথিলতার প্রভাব পড়বে।   গালিবাফের মতে, এই সমঝোতা শুধু অর্থনৈতিক দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে এটি সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন।   এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক উপসহকারী সচিব হেনরি এংশার এই পরিস্থিতিকে চুক্তির বাস্তবায়নের প্রাথমিক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “দুই পক্ষই এখন এমন একটি অবস্থান তুলে ধরতে চায়, যাতে বোঝায় তারা আলোচনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বা অন্তত ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।”   তার মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকারসহ বিভিন্ন জাহাজের চলাচল স্বাভাবিক হওয়া চুক্তি বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে। “অর্থপ্রবাহ শুরু হওয়া এবং তার বাস্তব প্রতিফলন দেখা—এটাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সূচক,” বলেন তিনি।   বিশ্লেষকদের ধারণা, ওয়াশিংটন ও তেহরান একদিকে দ্রুত কিছু বাস্তব সুবিধা নিশ্চিত করতে চাইছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানও শক্তিশালীভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে।   উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক সম্পদ বিভিন্ন দেশে আটকে রয়েছে। সাম্প্রতিক এই অগ্রগতি সেই জটিল অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত জুন ২২, ২০২৬ ১৪:০
ডলারের দরপতনে বিশ্ববাজারে বাড়ছে সোনার দাম
ডলারের দরপতনে বিশ্ববাজারে বাড়ছে সোনার দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে টানা তিন কার্যদিবস ধরে বাড়ছে সোনার দাম। বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতেই মূল্যবান এই ধাতুর দাম শূন্য দশমিক তিন শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত ডলারের বিনিময় মূল্য হ্রাস পাওয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির খবরে বিনিয়োগকারীরা সোনার দিকে ঝুঁকছেন। বর্তমানে প্রতি আউন্স স্পট গোল্ডের দাম দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭০১ ডলারে। এর আগে গত বুধবার একদিনেই সোনার দাম প্রায় তিন শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল যা গত এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। বাজার বিশ্লেষকদের মতে মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড কমে আসা এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনের আভাস পাওয়ায় বিশ্ববাজারে ডলার কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। ইরান জানিয়েছে তারা বর্তমানে ওয়াশিংটনের দেওয়া একটি শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে। সূত্রগুলো বলছে এই চুক্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের অবসান হতে পারে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো নিয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরার আশায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও চলতি সপ্তাহে প্রায় ছয় শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছেন। চুক্তিটি সফল হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরার পাশাপাশি বিনিয়োগের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

নীলুফা নিশাত মে ৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
হরমুজ প্রণালীতে ইরান-চীন জোট: মার্কিন ডলারের একাধিপত্যে বড় আঘাত

বিশ্ব বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের দীর্ঘদিনের একক আধিপত্য বা ‘হেজেমনি’ মোকাবিলায় নতুন রণকৌশল নিয়েছে ইরান ও চীন। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ ব্যবহার করে এবার ডলারের পরিবর্তে চীনা মুদ্রা ‘ইউয়ান’-এর প্রচলন শুরু করেছে দেশ দুটি। আল-জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের চলমান যুদ্ধাবস্থার মধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতি যখন টালমাটাল, ঠিক তখনই তেহরান ও বেইজিং এই সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর কাছ থেকে ট্রানজিট ফি হিসেবে ডলারের পরিবর্তে ইউয়ান গ্রহণ করছে ইরান। অন্তত দুটি বড় জাহাজ ইতোমধ্যে ইউয়ানে তাদের ফি পরিশোধ করেছে বলে লয়েড’স লিস্ট (Lloyd’s List) নিশ্চিত করেছে। কেন এই পদক্ষেপ? বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও চীন উভয়েই দীর্ঘকাল ধরে ওয়াশিংটনের ‘ডলার ডিপ্লোমেসি’ বা ডলারের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার রাজনীতির শিকার। বিশ্ব তেলের বাজারের প্রায় ৮০ শতাংশ লেনদেন ডলারে হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র খুব সহজেই যেকোনো দেশের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এই আধিপত্য খর্ব করতেই তেহরান ও বেইজিং এখন ‘পেট্রো-ইউয়ান’ (Petroyuan) ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ কেনেথ রোগফ আল-জাজিরাকে বলেন, "ইরান একদিকে যেমন যুক্তরাষ্ট্রের চোখে আঙুল দিয়ে নিজেদের শক্তি দেখাচ্ছে, তেমনি অন্যদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইউয়ানকে বেছে নিয়েছে। চীনও চাইছে তাদের মুদ্রাকে বৈশ্বিক রিজার্ভ কারেন্সিতে রূপান্তর করতে।" সুবিধা ভোগ করছে দুই পক্ষই চীনের জন্য এই পদক্ষেপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ দেশটি ইরানের তেলের ৮০ শতাংশেরই ক্রেতা। ইউয়ানে লেনদেন করলে উভয় দেশই মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থা এবং নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে সহজে ও কম খরচে বাণিজ্য করতে পারছে। ২০২১ সালে স্বাক্ষরিত ২৫ বছর মেয়াদী কৌশলগত অংশীদারিত্বের আওতায় এই সহযোগিতা আরও জোরালো হয়েছে। ডলারের ভবিষ্যৎ কী? যদিও ইউয়ান দ্রুত প্রভাব বিস্তার করছে, তবে মার্কিন ডলারের জায়গা দখল করা এখনো বেশ কঠিন। বর্তমানে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ৫৭ শতাংশই ডলারে রাখা হয়, যেখানে ইউয়ানের অবস্থান মাত্র ২ শতাংশের কাছাকাছি। এছাড়া চীনের কঠোর মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে ইউয়ান এখনো ডলারের মতো অবাধে বিনিময়যোগ্য নয়। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি একদিনে সম্ভব না হলেও ধীরে ধীরে ডলারের ভিত দুর্বল করে দিচ্ছে। কিলে ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক বুলেন্ট গোকায় বলেন, বেইজিং একটি 'মাল্টিপোলার' বা বহুমুখী আর্থিক বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে এগোচ্ছে, যেখানে একক কোনো মুদ্রার খবরদারি থাকবে না। ইরান বুধবার ঘোষণা করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় তারা হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ যাতায়াতের গ্যারান্টি দেবে। তবে এই সময়ের মধ্যেও ইউয়ানে লেনদেন অব্যাহত থাকলে তা দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন ডলারের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১৪:০
ফাইল ফটো।
বিশ্ববাজারে সোনার দামে নজিরবিহীন ধস

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি আর মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের মুখে বিশ্ববাজারে বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে সোনা। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ।  মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি আর তেলের বাজারের অস্থিরতায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। বিশ্ববাজারের এই বড় পতনের প্রভাব দেশের বাজারেও পড়ার সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার স্পট মার্কেটে সোনার দাম ২.৮ শতাংশের বেশি কমে প্রতি আউন্স দাঁড়িয়েছে ৪,৬২২.৫৯ ডলারে। দিনের শুরুতে এই পতন ৪ শতাংশও ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যা টানা চার দিনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে থামিয়ে দিয়েছে। একই সময়ে মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দাম ৩.৪ শতাংশ কমে ৪,৬৪৯ ডলারে নেমেছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ভাষণই এই অস্থিরতার মূল কারণ। ইরানের ওপর আরও আগ্রাসী হামলার হুঁশিয়ারি এবং জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার ইঙ্গিতের পর তেলের দাম এক লাফে ৬ শতাংশ বেড়ে গেছে।  ক্যাপিটাল ডট কমের সিনিয়র বিশ্লেষক কাইল রড্ডা জানান, ডলারের সূচক এবং মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড বেড়ে যাওয়ায় সোনার ওপর চাপ বেড়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন সোনার চেয়ে ডলার এবং তেলের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন। বিশ্ববাজারে দামের এই বড় পতনের ফলে দেশের বাজারেও সোনা সস্তা হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাজুস সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে যেকোনো সময় স্থানীয় বাজারে দাম কমানোর ঘোষণা আসতে পারে। উল্লেখ্য যে, গত ১ এপ্রিল দেশের বাজারে সোনার দাম ভরিতে ৩,২৬৬ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২,৪৭,৯৭৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট ২,৩৬,৭২১ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ২,০২,৮৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০