- প্রচ্ছদ
- Topic
তারেকরহমান
বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞা এবং নির্বাচনে দলটির অংশগ্রহণ বন্ধ রাখার বিষয়ে জাতিসংঘের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর পক্ষে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক তিনজন বিশেষজ্ঞের কাছে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। এতে অভিযোগ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাখার মাধ্যমে দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মৌলিক রাজনৈতিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটিকে অংশ নিতে না দেওয়ার কারণে নির্বাচনের অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র ও বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যভিত্তিক আইনজীবী প্রতিষ্ঠান ম্যাট্রিক্স চেম্বার্স তাদের ওয়েবসাইটে যোগাযোগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ম্যাট্রিক্স চেম্বার্স জানিয়েছে, শেখ হাসিনার পক্ষে ব্রিটিশ আইনজীবী স্টিভেন পাওলস কেসি জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের কাছে আবেদনটি জমা দিয়েছেন। তবে জাতিসংঘ এই আবেদনের ভিত্তিতে কোনো নির্দেশনা দিয়েছে কিংবা আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। যোগাযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। পরে নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করে। এর ফলে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারেনি। ওই নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করে এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন তারেক রহমান। শেখ হাসিনার পক্ষের অভিযোগ, নতুন সরকারও আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ বহাল রেখেছে। আবেদনে দাবি করা হয়েছে, দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনের বাইরে রাখায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোটার নিজেদের পছন্দের দলের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। শেখ হাসিনার আইনজীবীদের যুক্তি, কোনো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলকে আইনগতভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে না দিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করার চেষ্টা মৌলিক রাজনৈতিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাঁরা ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক ছিল না বলে দাবি করেছেন। তবে এটি আবেদনকারীর পক্ষের আইনি ও রাজনৈতিক অবস্থান, জাতিসংঘ বা কোনো আন্তর্জাতিক আদালতের সিদ্ধান্ত নয়। ম্যাট্রিক্স চেম্বার্সের প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, যোগাযোগপত্রে আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক চুক্তির চারটি অনুচ্ছেদ উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার, ২২ নম্বর অনুচ্ছেদে সংগঠন করার স্বাধীনতা এবং ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদে রাজনৈতিক কার্যক্রম ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার সুরক্ষার কথা রয়েছে। শেখ হাসিনার আইনজীবীদের দাবি, আওয়ামী লীগের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞা এসব অধিকারের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ। যোগাযোগপত্রে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে হামলা এবং দলীয় কার্যক্রমের ওপর বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশে আদালতের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা চ্যালেঞ্জ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আইনজীবী নিয়োগ, সাংগঠনিক যোগাযোগ এবং আইনি প্রতিকার চাওয়ার ক্ষেত্রেও প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আবেদনে উত্থাপিত প্রতিটি হামলা বা প্রতিবন্ধকতার অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং পৃথক তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ। আবেদনের মাধ্যমে জাতিসংঘের তিনটি মানবাধিকার ম্যান্ডেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় মানবাধিকার সুরক্ষাবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সংগঠনের স্বাধীনতাবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক এবং গণতান্ত্রিক ও ন্যায়সংগত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাবিষয়ক স্বাধীন বিশেষজ্ঞ। তাঁদের কাছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের আহ্বান জানিয়ে প্রকাশ্য বিবৃতি দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। তবে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদকদের কাছে যোগাযোগপত্র জমা দেওয়া এবং জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ গ্রহণ বা তার সত্যতা নিশ্চিত করা এক বিষয় নয়। বিশেষ প্রতিবেদক ও স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা জাতিসংঘের মানবাধিকার ব্যবস্থার আওতায় স্বাধীনভাবে কাজ করেন। তাঁরা অভিযোগ পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চাইতে পারেন, উদ্বেগ জানাতে পারেন কিংবা প্রকাশ্য বিবৃতি দিতে পারেন। তবে তাঁদের কাছে আবেদন করলেই কোনো দেশের আইন বা সরকারি সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় না। এদিকে আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞার পেছনে রয়েছে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে সংঘটিত আন্দোলন ও সহিংসতার ঘটনা। ওই সময় আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়ন এবং ব্যাপক প্রাণহানির পর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক তদন্তে তৎকালীন সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী ও আওয়ামী লীগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য উঠে আসে। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। ফলে দলটির ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি অতীতের সহিংসতার বিচার ও জবাবদিহির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্য সরকারের ২২ অক্টোবর প্রকাশিত বাংলাদেশবিষয়ক একটি হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন সাধারণভাবে গণতান্ত্রিক, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের পর্যবেক্ষণেও নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে একই প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ থাকার কথাও স্বীকার করা হয়েছে। ফলে নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন এবং আওয়ামী লীগকে বাদ দেওয়ার বৈধতা নিয়ে শেখ হাসিনার অভিযোগ আলাদা বিষয়। এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টেও শেখ হাসিনার পক্ষে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের কাছে আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার আবেদন জানানো হয়েছিল। সর্বশেষ যোগাযোগপত্রটি এসেছে ফেব্রুয়ারির নির্বাচন এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর। এতে আগের দাবির পাশাপাশি নির্বাচনের ফলাফলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন এবং চলমান নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে নতুন সরকারের দায়িত্বের প্রসঙ্গও যুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আবেদনটির গুরুত্ব রয়েছে। একদিকে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ রাখার সিদ্ধান্তের পেছনে অতীতের সহিংসতা ও জবাবদিহির প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক সংগঠন করার অধিকার, নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ এবং ব্যক্তিগত অপরাধের দায় নির্ধারণের বিষয়গুলোও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোনো রাজনৈতিক দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আইনসম্মত ও প্রয়োজনীয় কি না, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট আইন, নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য এবং ব্যবস্থাটির আনুপাতিকতা বিবেচনা করা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছেন শেখ হাসিনা। তাঁর আইনজীবীরা জাতিসংঘের তিনজন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন এবং ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দলটির অংশগ্রহণ না থাকার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তবে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই আবেদনের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা কী পদক্ষেপ নেন এবং বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে কী প্রতিক্রিয়া জানায়, তার ওপর পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে। সূত্র: ম্যাট্রিক্স চেম্বার্স, ২৭ অক্টোবর ২০২৬; ইন্ডিয়া টুডে, ২৮ অক্টোবর ২০২৬; যুক্তরাজ্য সরকারের বাংলাদেশবিষয়ক কান্ট্রি পলিসি অ্যান্ড ইনফরমেশন নোট, ২২ অক্টোবর ২০২৬।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে হাত মেলানোর সময় রাষ্ট্রাচার ভঙ্গের আলোচনা চলার মধ্যে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) ইউসুফ আলীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে অবমুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতেই তিনি রাজশাহী ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। বর্তমানে রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. রেজাউল আলম সরকারকে ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে ইউসুফ আলীকে প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কারণ সরকারি কোনো বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বুধবার বলেন, তাঁকে প্রশাসনিক কারণে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়মিতই নেওয়া হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। মঙ্গলবার রাজশাহী সফরে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিকেলে তাঁকে বহনকারী ফ্লাইটটি রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে অবতরণ করে। জনসভায় অংশ নেওয়ার পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি রাজশাহী ত্যাগ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে ঘিরে বিভাগীয় কমিশনারের আচরণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানানোর সময় ইউসুফ আলী তাঁর সঙ্গে হাত মেলাতে সামনে ঝুঁকে কিছুটা এগিয়ে যান। এ দৃশ্য দেখে কারও কারও মনে হয়েছে, তিনি রাষ্ট্রাচার মেনে নির্ধারিত সারি থেকে সরে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ ঘটনাকে রাষ্ট্রাচার ভঙ্গ হিসেবে দেখেও আলোচনা চলছে। তবে ভিডিওতে দেখা আচরণ এবং বিভাগীয় কমিশনারকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি। রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বুধবার সকালে ইউসুফ আলীকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনার পর তিনি মঙ্গলবার রাতেই দায়িত্ব ছেড়ে রাজশাহী ত্যাগ করেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাঁর গাড়ি শহরের তালাইমারী এলাকা অতিক্রম করে। পরে তিনি ঢাকায় পৌঁছান। ইউসুফ আলীকে প্রত্যাহারের ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর করমর্দনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রত্যাহারের কারণ প্রশাসনিক। এর বাইরে সিদ্ধান্তটির সঙ্গে ভিডিওতে দেখা ঘটনার সম্পর্ক রয়েছে—এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর না করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনে যোগ না দেওয়াকে ‘অপরিণত’ সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, এতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারেক রহমানের বাবা, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভারত সফরের প্রসঙ্গ টেনে হাসিনা প্রশ্ন তুলেছেন, তিনি দিল্লিতে অবস্থান করছেন বলেই কেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে বাধা তৈরি হবে। বুধবার, ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া কিংবা স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক হিসাবের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত নয়। বরং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন। হাসিনার বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। গত ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেননি তারেক রহমান। এরপর ১৩ অক্টোবর ভারতের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত বিমসটেকের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকেও অংশ নেননি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে তাঁর পরিবর্তে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেয়। দুই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বাবার ভারত সফরের উদাহরণ টানলেন হাসিনা সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা ১৯৭৯ সালের একটি ঘটনার কথা তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বছর জিয়াউর রহমান ভারত সফর করেছিলেন, তখন হাসিনা নিজেও দিল্লিতে অবস্থান করছিলেন। ১৯৭৫ সালের আগস্টে শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য হ ত্যা কাণ্ডের পর তিনি ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। হাসিনা বলেন, ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমান যখন লন্ডন সফর করেন, তখনও তিনি সেই শহরে ছিলেন। কিন্তু তাঁর উপস্থিতি জিয়াউর রহমানের সফরে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। এ প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন করেন, তাহলে আজ তাঁর দিল্লিতে অবস্থান তারেক রহমানের ভারত সফরে বাধা হবে কেন? হাসিনার বক্তব্য, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার কারণে দুই দেশের সম্পর্ক নির্ধারণ করা ঠিক নয়। তাঁর মতে, বাংলাদেশ ব্রিকস সম্মেলনে অংশ না নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারিয়েছে। উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর এই জোটের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, কূটনৈতিক যোগাযোগকে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বার্তা দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া দরকার দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ রক্ষা করা। কেন ব্রিকস সম্মেলনে যাননি তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয় সম্মেলনের আগেই। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে তারেক রহমানকে সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। বিমসটেক হলো বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক সাত দেশের একটি আঞ্চলিক জোট, যার সদস্য বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড। তবে ঢাকার পক্ষ থেকে আমন্ত্রণের ব্যাখ্যা নিয়ে আপত্তি তোলা হয়। বাংলাদেশের বক্তব্য ছিল, তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ১০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি আমন্ত্রণ জানানো হয়নি; আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বিমসটেকের সভাপতিকে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর হলে সেটি দ্বিপক্ষীয় সফর হওয়া উচিত এবং সফরের সময়ও অনুকূল পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। অন্যদিকে ভারতের বক্তব্য ছিল, তারেক রহমানকে ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি আলাদা দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণও জানানো হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্রিকস সম্মেলনে কোনো সরকারি প্রতিনিধিদল পাঠায়নি। এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে হাসিনা বলেন, সম্মেলনে অংশ না নেওয়ায় বাংলাদেশ সম্ভাব্য সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির একটি সুযোগ হারিয়েছে। বিমসটেক বৈঠকেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতি ব্রিকস সম্মেলনের প্রায় এক মাস পর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয় বিমসটেকের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক। ১৩ অক্টোবরের ওই বৈঠকে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ যোগ দেননি। তাঁর পরিবর্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, আন্তসীমান্ত অপরাধ, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, মানবপাচার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিমসটেকের সদস্য দেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের এটাই ছিল প্রথম পর্যায়ের বৈঠক। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতির পেছনে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে চলমান টানাপোড়েনের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল পাঠানোয় দেশটির অংশগ্রহণ পুরোপুরি বন্ধ ছিল না। হাসিনার অবস্থান নিয়ে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে টানাপোড়েন ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর তিনি ভারতে চলে যান। এরপর থেকে তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি জানিয়ে আসছে ঢাকা। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার তাঁর প্রত্যর্পণ চেয়েছে। অন্যদিকে হাসিনা তাঁর বিরুদ্ধে চলমান বিচারিক কার্যক্রমকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অনুপস্থিতিতে হাসিনাকে মৃ ত্যুদণ্ড দেন। এ রায় এবং তাঁর ভারতে অবস্থান দুই দেশের সম্পর্কের জটিলতার অন্যতম বিষয় হয়ে রয়েছে। গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লি থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে দেওয়া হাসিনার বক্তব্যের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ওই ঘটনার কারণে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের অনুকূল পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভারত অবশ্য জানিয়েছে, ওই বক্তব্যের আয়োজন বা হাসিনার মন্তব্যের প্রতি সমর্থনের সঙ্গে দেশটির সরকার যুক্ত ছিল না। এদিকে হাসিনা তাঁর সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে যুক্তি দিয়েছেন, তাঁর নির্বাসনকে ঘিরে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আটকে রাখা উচিত নয়। তাঁর মতে, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বিরোধের চেয়ে জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। ব্রিকস সম্মেলন ও বিমসটেক বৈঠকে বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি এবং হাসিনার নতুন সমালোচনা—দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনকে আবারও সামনে এনেছে। তবে ভারত সফর নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এবং হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নে দুই দেশের মধ্যে কীভাবে সমাধানের পথ তৈরি হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পূর্ণিমার জোয়ারের সঙ্গে শক্তিশালী নর’ইস্টারের প্রভাব মিলিয়ে নিউইয়র্কের উপকূলীয় এলাকায় বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। সপ্তাহান্তে পূর্ব উপকূলে ভারী বৃষ্টি ও ঘণ্টায় ৫০ মাইলের বেশি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তবে ঝড়ের সবচেয়ে বড় প্রভাব নিউইয়র্ক সিটির পূর্বদিকে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় নগরীতে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা তুলনামূলক কম বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। আবহাওয়াবিদদের মতে, জার্সি শোর, লং আইল্যান্ডের পূর্বাঞ্চল এবং নিউ ইংল্যান্ড উপকূলে ঝড়ের প্রভাব বেশি হতে পারে। নিউইয়র্ক সিটির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ উপকূলীয় বন্যা। বিশেষ করে স্ট্যাটেন আইল্যান্ড ও লং আইল্যান্ডের নিচু ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জোয়ারের সময় পানি ঢুকে সাময়িক বন্যা দেখা দিতে পারে। শনিবার পূর্ণিমার কারণে স্বাভাবিকের তুলনায় জোয়ারের উচ্চতা বাড়বে। এর সঙ্গে উপকূলের দিকে প্রবাহিত শক্তিশালী বাতাস যুক্ত হওয়ায় স্ট্যাটেন আইল্যান্ড ও লং আইল্যান্ডে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১ থেকে ২ ফুট বেশি উঠতে পারে। সমুদ্রসৈকতগুলোতেও শক্তিশালী রিপ কারেন্টের আশঙ্কা রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটিতে বড় ধরনের নগর বন্যার আশঙ্কা না থাকলেও উপকূলীয় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জোয়ারের সময় ছোট থেকে মাঝারি মাত্রার বন্যা হতে পারে। শুক্রবার থেকে শনিবারের মধ্যে ঝড়ের মূল অংশ মেট্রোপলিটন এলাকার কাছাকাছি থাকবে। তবে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া নিউইয়র্কের পাঁচ বরোর পূর্বদিকে, বিশেষ করে সাফোক কাউন্টির দিকে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়াবিদরা ঝড়ের আগে বাসাবাড়ির বাইরে থাকা হালকা আসবাব, ময়লার পাত্র ও অন্যান্য ঢিলা জিনিস নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি জোয়ারের সময় স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূল এবং লং আইল্যান্ডের উত্তর উপকূলের মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার নিউইয়র্কে বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো আবহাওয়া থাকতে পারে। রোববারও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, তবে এরপর ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। সোমবার নাগাদ আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে উষ্ণ গালফ স্ট্রিমের ওপর দিয়ে কয়েক দিন ধরে ঝড়টি চলাচল করায় এর মধ্যে ক্রান্তীয় ঝড়ের কিছু বৈশিষ্ট্য তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। এমন পরিস্থিতিতে ঝড়টি সাবট্রপিক্যাল ঝড়ের মতো আচরণ করতে পারে। তবে এর গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তন নিয়ে পূর্বাভাস আগামী দিনে আরও স্পষ্ট হবে। দেশের চার কোটি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও এই কার্ড পাবেন। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসনে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মীর শাহে আলম। সেখানে তিনি সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের চার কোটি পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কার্ড পেতে কাউকে ঘুষ দিতে হবে না বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, প্রথমে হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। এরপর নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারগুলোকে এর আওতায় আনা হবে। মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। এটি বিএনপি সরকারের সিদ্ধান্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি জানান, মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যরাও কর্মসূচির আওতায় আসবেন, তবে তা সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে হবে। অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসসহ বিভিন্ন খাতে পরিবর্তন আনতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের মেয়াদ শেষে জনগণের কাছে কর্মকাণ্ডের হিসাব দেওয়ার কথাও জানান তিনি। সাম্প্রতিক বন্যায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী, চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার মানুষের ক্ষয়ক্ষতির কথা তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, আকস্মিক ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় এসব এলাকার মানুষ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকারি সহায়তায় কোনো ঘাটতি হয়ে থাকলে তিনি জনগণের কাছে ক্ষমা চান। বন্যার সময় ত্রাণের সংকট দেখা দিলে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশেই তিনি বাঁশখালীতে এসেছেন এবং বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ পেয়েছেন। বাঁশখালীর যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের প্রসঙ্গে তিনি জানান, আনোয়ারা-বাঁশখালী-চকরিয়া সড়কটি ৩৪ ফুট প্রশস্ত করার জন্য ইতোমধ্যে টেন্ডার হয়েছে। কয়েকশ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির কাজ আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া বাঁশখালীর অন্য সড়কগুলো সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণের প্রয়োজন হলে সেগুলোর তালিকা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে দলের নেতাকর্মীদেরও ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পর বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে এবং দলের দুঃসময়ে যারা কাজ করেছেন, পর্যায়ক্রমে তাদের মূল্যায়ন করা হবে। আইন ও বিধি মেনে চাকরি, বৈধ ডিলারশিপসহ বিভিন্ন সুযোগ দেওয়ার কথাও জানান তিনি। সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়া জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হবেন। তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালে এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালে প্রথমবার এই মঞ্চে ভাষণ দেন। জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন জিয়াউর রহমান। তাঁর বক্তব্যে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে বৈষম্য, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। এর ১৩ বছর পর, ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে প্রথমবার বক্তব্য দেন বেগম খালেদা জিয়া। পরে ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্মারক সভা, ২০০২ সালের শিশুবিষয়ক বিশেষ অধিবেশন এবং ২০০৫ সালের ৬০তম অধিবেশনের দুটি পৃথক সভাসহ আরও কয়েকটি জাতিসংঘের কার্যক্রমে তিনি বক্তব্য দেন। এবার তাদের ছেলে তারেক রহমান একই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন। তাঁর এই ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সঙ্গে জিয়া পরিবারের চার দশকের বেশি সময়ের সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারেক রহমানের এবারের ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে। যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসার কথা রয়েছে। জিয়া পরিবারের তিন সদস্যের জাতিসংঘে অংশগ্রহণের ইতিহাসের শুরু ১৯৮০ সালে। জিয়াউর রহমানের পর খালেদা জিয়ার একাধিকবার অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় এবার প্রথমবারের মতো সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। এবার বাংলাদেশের জন্য জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন আরও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ২০২৬ সালের ২ জুন এ পদে নির্বাচিত হন এবং ৮ সেপ্টেম্বর থেকে দায়িত্ব শুরু করেন। জাতিসংঘের সূচি অনুযায়ী, ৮১তম সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক ২২ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে এবং ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে; এরপর ২৮ সেপ্টেম্বরও সাধারণ বিতর্কের কার্যক্রম রয়েছে। তারেক রহমানের ২৪ সেপ্টেম্বরের ভাষণ তাই শুধু তাঁর প্রথম জাতিসংঘ ভাষণই নয়, একই পরিবারের তিন সদস্যের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার ধারাবাহিকতারও একটি নতুন পর্ব হিসেবে সামনে আসছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। আগামী নভেম্বরে তাঁকে নয়াদিল্লিতে নেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে বাংলাদেশ ও ভারতের কর্মকর্তারা আবারও আলোচনা শুরু করেছেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু-এর কূটনৈতিক সূত্রনির্ভর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত দুই দেশের সরকার সফরের নির্দিষ্ট তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি। তাই সফরটি নিশ্চিত না বলে সম্ভাব্য নভেম্বর সফর হিসেবে উল্লেখ করাই যথাযথ। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে বাংলাদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যম ১৮ সেপ্টেম্বর জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কে টানাপোড়েনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের পরিকল্পনা নিয়ে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা আবার শুরু হয়েছে। দুই দেশের কর্মকর্তারা নভেম্বরে সফরের জন্য সুবিধাজনক একটি সময় খুঁজছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাওয়ার কথা রয়েছে। এরপর অক্টোবর ও নভেম্বরেও তাঁর একাধিক কূটনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে। এসব কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে নভেম্বরে নয়াদিল্লি সফরের জন্য সুবিধাজনক সময় নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। ঢাকা ও নয়াদিল্লির কর্মকর্তারা নিয়মিত যোগাযোগ ও বৈঠকের মাধ্যমে সম্ভাব্য সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সফরের সম্ভাব্য আলোচ্যসূচি নিয়েও কাজ চলছে। এর মধ্যে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক, গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন এবং অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে। সম্ভাব্য সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কেও পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সফর অনুষ্ঠিত হলে বাণিজ্য স্বাভাবিক করা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে ১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন। চুক্তিটির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। ফলে এর নবায়ন নিয়ে দুই দেশের আলোচনাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে সম্ভাব্য সফরের আলোচ্যসূচির মধ্যে গঙ্গার পানি চুক্তির বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের একাধিক মন্ত্রী ও উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে এসব বৈঠককে দুই দেশের চলমান কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। এর আগে ভারত সরকার তাঁকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। ১৪ আগস্ট ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ দেওয়া হয়েছে। তবে তখনও সফরের কোনো তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। এরপর ১৫ সেপ্টেম্বর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তারেক রহমানের প্রস্তাবিত দ্বিপক্ষীয় ভারত সফর নিয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে তখনও কোনো তথ্য পায়নি দিল্লি। রণধীর জয়সওয়াল বলেন, এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, তারেক রহমান দুটি পৃথক আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন—একটি দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য এবং অন্যটি ব্রিকস সম্মেলনের জন্য। ব্রিকস সম্মেলনের আমন্ত্রণটি নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের বক্তব্যে পার্থক্যও দেখা যায়। বাংলাদেশ জানিয়েছিল, আমন্ত্রণটি প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি নয়, বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, ব্রিকস আউটরিচ অধিবেশনের জন্যও তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেননি। এর মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে আলাদা দ্বিপক্ষীয় সফরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলতে থাকে। ১৮ সেপ্টেম্বরের দ্য হিন্দু-ভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন নভেম্বরের একটি সুবিধাজনক সময়ে সফর আয়োজনের জন্য সরকারি পর্যায়ে আলোচনা আবার শুরু হয়েছে। এদিকে ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানান। এর জবাবে মোদিও তাঁকে ধন্যবাদ জানান। এই সৌজন্য বিনিময়ের সময়েই ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফর নিয়ে আলোচনা চলছিল। তবে এই যোগাযোগকে সফর চূড়ান্ত হওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না। সব মিলিয়ে, ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নভেম্বরে ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির কর্মকর্তারা আলোচনা করছেন। বাণিজ্য, গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় সম্ভাব্য সফরের আলোচ্য হতে পারে। তবে সফরের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়নি।
ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তকে দেশের মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, তারেক রহমান সম্মেলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পরপরই আদানি পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন রিজভী। তাঁর ভাষ্য, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যথাযথ মর্যাদা না থাকায় তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, ওই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী দেশের সম্মান ও আত্মমর্যাদা রক্ষা করেছেন। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমান অংশ নেবেন না—এ কথা জানানোর পরদিনই কারিগরি ত্রুটির কথা বলে আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হয়। তাঁর দাবি, ঘটনাটি নিছক কারিগরি ত্রুটি নয়, এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। রিজভীর এই দাবির স্বাধীন কোনো প্রমাণের কথা প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ নেই। ভারতে অবস্থানরত আসামিদের ফেরত আনার প্রসঙ্গেও কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, আদালতের পরোয়ানা অনুযায়ী বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতে অবস্থান নেওয়া আসামিদের বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে না। বিষয়টিকে তিনি গভীর কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ বলে উল্লেখ করেন এবং বাংলাদেশে যাদের বিচার চলছে, তাদের কেন ফেরত দেওয়া হচ্ছে না—সে প্রশ্ন তোলেন। দেশের অর্থনীতি নিয়েও বক্তব্য দেন রিজভী। তাঁর দাবি, বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও অর্থনৈতিক সুশাসনের কারণে দেশে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বেড়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। বর্তমান সরকারের আমলে বাকস্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত হয়েছে বলেও দাবি করেন রিজভী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিরোধী দল সরকারকে প্রকাশ্যে সমালোচনা করতে পারছে এবং দেশে গুম বা জুলুমের মতো ঘটনা ঘটছে না। এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের ঐতিহ্য নষ্ট করার যেকোনো উদ্যোগের বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন রিজভী। তিনি বলেন, একাত্তরের শহীদ মধুর স্মৃতির সঙ্গে জড়িত এই স্থানের প্রতি অসম্মানজনক কোনো কর্মকাণ্ড ছাত্র-জনতা মেনে নেবে না। অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা দল ও প্রজন্ম দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর সফর উপলক্ষে ২৫ সেপ্টেম্বর নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো। নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারের ম্যারিয়ট মারকুইজ হোটেলে এ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ২৪ সেপ্টেম্বর ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর এই ভাষণকে বাংলাদেশের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ ও মর্যাদার বলে মনে করা হচ্ছে। এর একটি বিশেষ কারণও রয়েছে—তারেক রহমানের ভাষণ দেওয়ার সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন তাঁরই মন্ত্রিসভার সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। দীর্ঘ ৪০ বছর পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সভাপতিত্ব করছে বাংলাদেশ। নিউইয়র্কে অবস্থানকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠকের কর্মসূচি চূড়ান্ত হয়নি। জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের এক কূটনীতিক আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সম্মানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাদের দুজনের সাক্ষাৎ হতে পারে। এদিকে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রধানমন্ত্রীর কয়েকটি কর্মসূচি নিয়ে কাজ করছে। তবে সেসব কর্মসূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন নিয়ে বিএনপির সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের (জেবিবিএ) সভাপতি গিয়াস আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরকে ঘিরে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তাঁর সফরকে স্মরণীয় করে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে। এদিকে নিউইয়র্কের ম্যারিয়ট মারকুইজ হোটেলে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু। ২৫ সেপ্টেম্বরের এই আয়োজনকে ঘিরে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বগুড়া সফরকে কেন্দ্র করে তড়িঘড়ি করে একটি কাঁচা সড়কে ইট-বালু ফেলে অস্থায়ীভাবে সংস্কার করেছিল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষ হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই ওই সড়ক থেকে বিছানো ইট তুলে নেওয়া হয়। সরকারি অর্থে এমন অস্থায়ী কাজের পর ইট তুলে নেওয়ার এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর পৈতৃক ভিটায় যাতায়াতের সুবিধার্থে গাবতলী উপজেলার নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চৌকির খাল হয়ে পৈতৃক বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার কাঁচা রাস্তায় রাতারাতি এই ইট বিছানোর তোড়জোড় চলে। স্থানীয় সূত্রে ও এলজিইডির তথ্যানুযায়ী, বাগবাড়ি-সোনাহাটা সড়ক থেকে জিয়াবাড়ি পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি স্থায়ীভাবে পাকাকরণের জন্য গত অর্থবছরেই ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। গত বছরের আগস্ট মাসে 'মেসার্স হক ট্রেডার্স' নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পেলেও তারা নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করেনি। এর মধ্যেই গত ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া সফরে আসেন। তার এই সফরে বাগবাড়ী শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, চৌকিরদহ খাল খননকাজের উদ্বোধন এবং পৈতৃক ভিটা জিয়াবাড়ি পরিদর্শনের কর্মসূচি ছিল। প্রধানমন্ত্রীর এই উপস্থিতিকে ঘিরেই এলজিইডি জরুরি ভিত্তিতে শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুর রহমানকে দায়িত্ব দিয়ে তড়িঘড়ি করে অস্থায়ীভাবে ওই সড়কে ইট বিছানোর ব্যবস্থা করে। এই অস্থায়ী কাজের জন্য আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১০ লাখ টাকা। সড়কটিতে অস্থায়ীভাবে ইট-বালু ফেলার পর তা তুলে নেওয়ার বিষয়ে এলজিইডি বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুজ্জামান জানান, নিয়মনীতি মেনেই অস্থায়ীভাবে ওই সড়কে ইট বিছানো হয়েছিল। ইটগুলো মূলত ভাড়া করে আনা হয়েছিল, কারণ কিনে এই কাজ করতে গেলে ব্যয় অনেক বেড়ে যেত। যেহেতু সড়কটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে পাকাকরণের কাজ আগেই বরাদ্দ হয়েছে, তাই ঠিকাদারকে অস্থায়ীভাবে বিছানো ভাড়ার ইটগুলো তুলে নিতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, গাবতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাজেদুর রহমান জানান, সীমানা জটিলতার কারণে ঠিকাদারকে সাইট বুঝিয়ে দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে আগামী অক্টোবরের মধ্যে মূল কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, অস্থায়ী এই সংস্কার ও আনুষঙ্গিক কাজের ১০ লাখ টাকার মধ্যে গাবতলী উপজেলা পরিষদ থেকে ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং বাকি টাকা এখনো ঠিকাদারকে পরিশোধ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।