সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

থাইল্যান্ড

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বন্যার পানিতে ডুবে থাকা রাস্তায় জেট স্কি চালানোর ঘটনায় এক ব্যক্তিকে জরিমানা ও স্থগিত কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ছবি: সংগৃহীত
বন্যায় প্লাবিত রাস্তায় নিজের বিনোদনের জন্য জেট স্কি চালিয়ে গ্রেফতার ব্যক্তি, বাহন বাজেয়াপ্ত

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বন্যার পানিতে ডুবে থাকা রাস্তায় জেট স্কি চালানোর ঘটনায় এক ব্যক্তিকে জরিমানা ও স্থগিত কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁকে আটক করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অভিযোগ এনেছিল পুলিশ। পরে আদালত জেট স্কিটিও বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেন।   আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংককের প্লাবিত একটি রাস্তায় ওই ব্যক্তিকে জেট স্কি চালাতে দেখা যায়। পুলিশ তখন জানিয়েছিল, যানটি বাজেয়াপ্ত করার জন্য আদালতে আবেদন করবে।   পরবর্তী আদালতের কার্যক্রম নিয়ে থাই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তিকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার বাথ জরিমানা করা হয়েছে। কারাদণ্ড কার্যকর না করে স্থগিত রাখা হয়েছে। আদালত জেট স্কি বাজেয়াপ্তেরও আদেশ দিয়েছেন।   কয়েক দিনের প্রবল বৃষ্টিতে ব্যাংককের বহু রাস্তা প্লাবিত হয়েছে। বন্যার কারণে মানুষের চলাচল ব্যাহত হওয়ার মধ্যেই জেট স্কি চালানোর ঘটনাটি ঘটে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
টানা ভারী বৃষ্টিতে পানির নিচে ব্যাংককের সড়ক, ডুবে গেছে যানবাহনও
৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিতে ডুবল ব্যাংকক, দুর্যোগকবলিত ৫০ জেলা

টানা ভারী বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে। নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও আবাসিক এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে, কোথাও কোথাও যানবাহন আংশিক ডুবে গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাংককের সব ৫০টি জেলাকে দুর্যোগকবলিত এলাকা ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে জরুরি সহায়তা ও উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুত পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।   গত ৪৮ ঘণ্টায় ব্যাংককের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে নগরীর খালগুলো পানিতে পূর্ণ হয়ে যায় এবং অনেক এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা চাপ সামলাতে পারেনি। বিশেষ করে রাজধানীর মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে বন্যার পানি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।   বন্যার পানিতে ব্যাংককের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে গাড়ি ও মোটরসাইকেলের কিছু অংশ পানিতে ডুবে থাকতে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও স্থানীয় বাসিন্দাদের হাঁটু থেকে কোমরসমান পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয়েছে।   পরিস্থিতির সবচেয়ে বেশি অবনতি হয়েছে খাল ও জলপথের আশপাশের এলাকায়। এসব এলাকার বাসিন্দাদের নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র উঁচু জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষকে বাইরে বের না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ব্যাংককের সব ৫০টি জেলাকে দুর্যোগকবলিত ঘোষণা করার মূল উদ্দেশ্য হলো উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম দ্রুত সমন্বয় করা। কর্তৃপক্ষ পানি নিষ্কাশনের জন্য পাম্প চালু করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে দ্রুত পানি সরানোর চেষ্টা করছে। ব্যাংককের মেয়র চ্যাডচার্ট সিট্টিপুন্ট জানিয়েছেন, বৃষ্টি কমে গেলে পরিস্থিতিরও উন্নতি হওয়ার কথা।   বন্যায় ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হয়েছে অনেক মানুষকে। শহরজুড়ে ২০০টির বেশি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে এবং প্রায় ৪ হাজার ২০০ মানুষ সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। কিছু স্কুলকেও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।   দুর্যোগ মোকাবিলায় থাই সামরিক বাহিনীও মাঠে নেমেছে। তারা আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করার পাশাপাশি ফিল্ড কিচেন বা অস্থায়ী রান্নাঘর স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের খাবার সরবরাহ করা যায়। দুর্গম ও পানিবন্দি এলাকায় সহায়তা পৌঁছাতেও বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।   বন্যার মধ্যে ব্যাংককের সুvar্নভূমি বিমানবন্দর স্বাভাবিকভাবে চালু ছিল। তবে সড়কে জলাবদ্ধতা ও যানজটের কারণে বিমানযাত্রীদের স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দুই থেকে তিন ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় হাতে নিয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   এদিকে থাইল্যান্ডের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, রোববার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি ও বজ্রঝড় অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে ব্যাংককের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য এলাকাতেও বন্যার পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   শুধু ব্যাংকক নয়, থাইল্যান্ডের আরও অনেক এলাকাও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত দেশের ২১টি প্রদেশে ৮৪ হাজারের বেশি মানুষ বন্যার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এসব এলাকার মধ্যে মধ্যাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর একটি।   তবে ব্যাংককের গভর্নর জানিয়েছেন, বৃষ্টিপাত কমে গেলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নগর কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় পানি পাম্প করে সরানোর কাজ জোরদার করেছে। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
পাঁচ দিনের বন্দর সফর শেষে থাইল্যান্ড ছেড়েছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি আব্রাহাম লিংকন। ছবি: সংগৃহীত
৫ দিন পর থাইল্যান্ড ছেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ‘আব্রাহাম লিংকন’

পাঁচ দিনের বন্দর সফর শেষে থাইল্যান্ড ছেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ‘আব্রাহাম লিংকন’। দীর্ঘ সময়ের সামরিক মোতায়েন ও মধ্যপ্রাচ্যে অভিযান শেষে কিছুটা বিরতির পর আবারও সমুদ্রযাত্রা শুরু করেছে মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম শক্তিশালী এই যুদ্ধজাহাজ।   মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, রবিবার থাইল্যান্ডের বন্দর ত্যাগ করে রণতরিটি। এর আগে বুধবার ভোরে ‘আব্রাহাম লিংকন’সহ কয়েকটি মার্কিন নৌযান থাইল্যান্ডে পৌঁছায়। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, এই সফর পাঁচ দিন স্থায়ী হবে।   থাইল্যান্ড ছাড়ার আগে এক বিবৃতিতে ‘আব্রাহাম লিংকন’-এর কমান্ডিং অফিসার ক্যাপ্টেন ড্যান কিলার বলেন, থাইল্যান্ডের জনগণের অসাধারণ আতিথেয়তার জন্য তারা কৃতজ্ঞ।   সাধারণত মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজগুলোকে ছয় থেকে নয় মাসের জন্য বিদেশে মোতায়েন রাখা হয়। তবে যুদ্ধ বা সংঘাতের পরিস্থিতিতে এই সময়সীমা আরও দীর্ঘ হতে পারে। ‘আব্রাহাম লিংকন’ও সাম্প্রতিক সময়ে দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান করেছে।   প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন সদস্য নিয়ে চলা এই পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরি ইরানের সঙ্গে সংঘাতের সময় মার্কিন নৌ-অবরোধ ও সামরিক অভিযানে অংশ নিয়েছিল। ডেমোক্র্যাটিক দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতার দাবি, টানা দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থানের ক্ষেত্রে রণতরিটি আধুনিক সময়ে একটি রেকর্ড গড়েছে।   থাইল্যান্ডে অবস্থানকালে রণতরিটির নাবিক ও মেরিন সদস্যদের কিছুটা অবসর কাটানোর সুযোগ দেওয়া হয়। জাহাজগুলো বন্দরে ভেড়ার পরপরই বাসভর্তি মার্কিন নাবিক ও মেরিন সদস্যদের বেসামরিক পোশাকে থাইল্যান্ডের পর্যটন শহর পাতায়ার একটি হোটেলের দিকে যেতে দেখা যায়। তাদের অনেককেই হাসিমুখে স্থানীয়দের দিকে হাত নাড়তে দেখা গেছে।   ব্যাংকক থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত পাতায়া থাইল্যান্ডের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন শহর। সেখানে অবস্থানকালে মার্কিন সেনাসদস্যরা অবসর ও বিনোদনের সময় কাটান।   দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মূল ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র চুক্তিভিত্তিক মিত্র থাইল্যান্ড। দুই দেশের দীর্ঘদিনের সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্কের অংশ হিসেবেই মার্কিন নৌযানগুলোর থাইল্যান্ড সফর হয়ে থাকে।   পাঁচ দিনের বিরতির পর আবার সমুদ্রে যাত্রা শুরু করায় এখন রণতরিটির পরবর্তী গন্তব্য ও সামরিক কার্যক্রমের দিকে নজর রয়েছে। দীর্ঘ সময়ের মোতায়েন শেষে ‘আব্রাহাম লিংকন’-এর এই নতুন যাত্রা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতার ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:০
থাইল্যান্ডে কসমেটিক চিকিৎসার পর ব্রিটিশ-নাইজেরীয় ইনফ্লুয়েন্সার ইঘো ‘টাইনি’ উবিরিবো মারা গেছেন। ছবি: সংগৃহীত
গোপন অঙ্গ বড় করার ইনজেকশনে মৃত্যু, বিলাসী ইনফ্লুয়েন্সারের করুণ পরিণতি

বিলাসবহুল জীবনযাপনের ছবি ও ভিডিওর জন্য পরিচিত ব্রিটিশ-নাইজেরীয় ব্যবসায়ী ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ইঘো ‘টাইনি’ উবিরিবো থাইল্যান্ডে কসমেটিক চিকিৎসার পর মারা গেছেন। ৪৩ বছর বয়সী এই ইনফ্লুয়েন্সার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডেনিসি’ বা ‘ইগো’ নামেও পরিচিত ছিলেন। তাঁর ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা ছিল প্রায় দেড় লাখ।   ২০২৬ সালের মার্চে স্ত্রী ড্যানিয়েল সিম্বা অ্যালেনকে নিয়ে ব্যাংককে ছুটি কাটাচ্ছিলেন উবিরিবো। তারা একটি ম্যারিয়ট হোটেলে অবস্থান করছিলেন। ছুটির সময় তিনি স্থানীয় একটি ক্লিনিকে গোপন অঙ্গ বড় করার কসমেটিক চিকিৎসা নেন। এ সময় তাঁর শরীরে ৪০ মিলিলিটার হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ফিলার ও লিডোকেন প্রয়োগ করা হয়।   চিকিৎসা শেষে হোটেলে ফিরে স্ত্রীকে নিয়ে ম্যাসাজ নিচ্ছিলেন তিনি। হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করেন এবং দুবার অচেতন হয়ে পড়েন। দ্রুত তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সুখুমভিত হাসপাতালে নেওয়া হয়। শুরুতে তিনি সচেতন থাকলেও সিটি স্ক্যান করার আগেই আবার অচেতন হয়ে পড়েন।   পরে চিকিৎসকেরা তাঁর পালমোনারি এম্বোলিজম শনাক্ত করেন। অর্থাৎ ফুসফুসে রক্তপ্রবাহে প্রাণঘাতী বাধা তৈরি হয়েছিল। তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়ার পর ১০০ মিনিটেরও বেশি সময় সিপিআর চালানো হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ৬ মার্চ ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।   পরে যুক্তরাজ্যে করা ময়নাতদন্তে তাঁর ফুসফুসে এমন উপাদান পাওয়া যায়, যা ব্যবহৃত ফিলারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। করোনার জিন হারকিনের রায়ে বলা হয়, কসমেটিক চিকিৎসার ফলেই সৃষ্ট পালমোনারি এম্বোলিজম তাঁর মৃত্যুর কারণ।   বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এ ধরনের ফিলার চিকিৎসায় রক্তনালিতে বাধা, সংক্রমণ ও অন্যান্য গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি রয়েছে। অথচ এর প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে মাত্র ছয় থেকে নয় মাস স্থায়ী হয়।   মে মাসে লন্ডনে তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। সোনালি রঙের বিলাসবহুল কফিনে তাঁকে সমাহিত করা হয়। শেষকৃত্যে তাঁর শৈশবের বন্ধু ও নাইজেরীয় সংগীতশিল্পী ডেভিডোও উপস্থিত ছিলেন। বিলাসী জীবনের জন্য পরিচিত এই ইনফ্লুয়েন্সারের এমন করুণ মৃত্যু নতুন করে কসমেটিক চিকিৎসার ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:০
থাইল্যান্ডে মারামারিতে জড়ানো দুই মার্কিন সেনাসদস্যকে রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
থাইল্যান্ডে মদ্যপ অবস্থায় মারামারি, মার্কিন রণতরিতে ফেরত পাঠানো হলো দুই সেনাকে

থাইল্যান্ড সফরের সময় মদ্যপ অবস্থায় মারামারিতে জড়িয়ে পড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই সেনাসদস্যকে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে রণতরীটি থাইল্যান্ডের একটি বন্দরে অবস্থান করছে। প্রায় ২৮৬ দিন সমুদ্রে থাকার পর অবকাশ কাটাতে থাইল্যান্ডে আসা সেনাসদস্যদের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে।   ওই দুই সেনাসদস্যের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তাদের থাইল্যান্ডের পাতায়ায় রণতরীটির পাঁচ দিনের অবস্থানের বাকি সময় জাহাজেই থাকতে হবে। পাতায়া থাইল্যান্ডের সমুদ্রতীরবর্তী একটি জনপ্রিয় পর্যটননগরী এবং রাতের বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।   বৃহস্পতিবার ভোরে স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১টার দিকে একজন থাই নাগরিক জরুরি নম্বরে ফোন করে জানান, শহরের একটি বারের কাছে দুই মার্কিন সেনাসদস্যের মধ্যে হাতাহাতি চলছে। স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।   পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর দুই সেনাসদস্যকে পাতায়ার হার্ড রক ক্যাফেতে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও থাইল্যান্ডের যৌথ পরিচালনা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাদের রণতরীতে ফেরত পাঠানো হয়। থাই পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি, কারণ তারা থাইল্যান্ডের কোনো আইন ভঙ্গ করেননি।   এক থাই কর্মকর্তা ঘটনাটিকে ছোটখাটো ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুই সেনাসদস্যই মদ্যপ ছিলেন এবং তারা মারামারির পাশাপাশি উচ্চস্বরে কথা বলছিলেন। জরুরি নম্বরে ফোন করা ব্যক্তি আশঙ্কা করেছিলেন, হাতাহাতির ঘটনা আরও বড় আকার নিতে পারে। সে কারণেই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।   ঘটনার পর দুই সেনাসদস্যকে রণতরীতে ফেরত পাঠানো হলেও থাই পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি। রণতরীতে ফেরার পর তাদের পাতায়ায় অবস্থানের বাকি সময় জাহাজের মধ্যেই থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ২ সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলীয় লায়েম চাবাং বন্দরে পৌঁছায়। রণতরীটির প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন সদস্যের জন্য এটি ছিল দীর্ঘ সময় পর তীরে নামার সুযোগ। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর থেকে রণতরীটি মোট ২৮৬ দিন সমুদ্রে ছিল এবং এর আগে টানা ২৬৪ দিন সমুদ্রে অবস্থান করেছিল।   রণতরীটির থাইল্যান্ড সফরটি দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার পর নাবিক ও মেরিন সদস্যদের বিশ্রামের সুযোগ হিসেবে এসেছে। তারা পাতায়াসহ আশপাশের এলাকায় অবকাশ কাটানোর সুযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যেই দুই সেনাসদস্যের মদ্যপ অবস্থায় হাতাহাতির ঘটনা ঘটে এবং তাদের আবার রণতরীতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।   থাই পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে গুরুতর হিসেবে দেখা হয়নি। তবে স্থানীয় একজন বাসিন্দার জরুরি ফোনের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও বড় আকার নেওয়ার আগেই তা থামানো সম্ভব হয়। পরে দুই সেনাসদস্যকে রণতরীতে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৪:০
২০০ দিন সমুদ্রে কাটিয়ে পাতায়ায় নোঙর করছে মার্কিন রণতরী, শুরু হয়েছে বিশেষ অভিযান
২০০ দিন সমুদ্রে কাটিয়ে পাতায়ায় নোঙর করছে মার্কিন রণতরী, শুরু হয়েছে বিশেষ অভিযান

টানা ২০০ দিনের বেশি সময় সমুদ্রে কাটানোর পর থাইল্যান্ডের বিখ্যাত পর্যটন নগরী পাতায়ায় পৌঁছাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগোভিত্তিক বিমানবাহী রণতরী 'ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন'। রণতরীতে থাকা প্রায় ৫ হাজার নৌসেনা ও মেরিনের আগমনের আগেই স্থানীয় বিনোদন ও সমুদ্রসৈকত এলাকাগুলোতে জোরদার দেহব্যবসা বিরোধী সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে থাই পুলিশ। চলতি সপ্তাহে শহরটির কাছাকাছি লাম চাবাং বন্দরে দুটি সহযোগী নৌযানসহ রণতরীটির নোঙর করার কথা রয়েছে।   সৈকত ও নাইটলাইফ এলাকাগুলোতে পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে এবং সম্প্রতি চালানো বিভিন্ন অভিযানে দেহব্যবসায় জড়িত থাকার সন্দেহে অন্তত ৪০ থেকে ৫০ জনকে আটক করা হয়েছে। পাতায়া পুলিশ প্রধান অনেক স্রাথংইয়ু স্বীকার করেছেন যে, পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও প্রকাশ্যে দেহব্যবসা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ।   যদিও থাইল্যান্ডে দেহব্যবসা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ, তবুও পাতায়া ও ব্যাংককের মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে এটি দীর্ঘদিন ধরেই দৃশ্যমান। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় থেকেই মার্কিন সেনাদের অবকাশযাপনের কেন্দ্র হিসেবে পাতায়া বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায়।   গত নভেম্বরে সান ডিয়েগো বন্দর ত্যাগ করার পর মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের সামরিক কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছিল। টানা দীর্ঘ মোতায়েনের কারণে রণতরীর কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোবলে চরম অবনতি দেখা দিয়েছে বলে বিভিন্ন সামরিক প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে।   এই দীর্ঘ মিশনের পর তীরে নেমে বিশ্রামের সুযোগ পাবেন সেনারা। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিনোদন খাতের সঙ্গে জড়িতরা এই সফরকে অর্থনৈতিকভাবে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। পাতায়ার মেয়র পোরামাস এনগামপিচেস ধারণা করছেন, প্রতিটি নৌসেনা দৈনিক গড়ে প্রায় ৩০ থেকে ৯১ মার্কিন ডলার ব্যয় করতে পারেন, যা শহরের ব্যবসায়িক মন্দা কাটাতে সাহায্য করবে।   তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের আগমন যৌনবাহিত রোগের ঝুঁকি ও যৌন শোষণের আশঙ্কাও বাড়িয়ে দিতে পারে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৪:০
ব্যাংককে বারের বিল পরিশোধ না করায় এক তরুণীর মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত
প্রায় ১ হাজার ৮০০ ডলারের বারের বিল ফাঁকি! তরুণীকে ধরে চুল কেটে দিল বারকর্মী

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে প্রায় ১ হাজার ৮০০ ডলারের বারের বিল পরিশোধ না করে পালানোর চেষ্টার অভিযোগে এক তরুণীর মাথার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।   ভাইরাল প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংককের পিঙ্কলাও এলাকার বিভিন্ন ক্লাব ও রেস্তোরাঁয় বিল পরিশোধ না করে চলে যাওয়ার অভিযোগে ওই তরুণী আগে থেকেই পরিচিত ছিলেন। গত ২৫ আগস্ট তিনি ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে একটি জনপ্রিয় বারে প্রবেশ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বারে তরুণীর বিল দাঁড়ায় প্রায় ৬০ হাজার থাই বাত, যা প্রায় ১ হাজার ৮১২ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ। পরে বিল পরিশোধ না করেই তিনি বার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপরই তার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একজন বারকর্মী বৈদ্যুতিক রেজার দিয়ে ওই তরুণীর কাঁধ পর্যন্ত লম্বা চুল কেটে দিচ্ছেন। জানা গেছে, কেটে নেওয়া চুল দান করার কথা বলা হয়েছিল। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।   ঘটনাটি নিয়ে থাইল্যান্ডে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা বি ওয়ান ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চালিদা ‘টন অর’ ফালামাত মনে করেন, বার কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় সীমা অতিক্রম করেছে।   চালিদা জানান, বার কর্তৃপক্ষ পরে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্ষমা চেয়েছে। কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে যে, ব্যবস্থাপক রাগ ও আবেগের বশে এমন আচরণ করেছিলেন। একই সঙ্গে তরুণীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্ষতিপূরণ নিয়ে আলোচনা করার কথাও জানিয়েছে বার কর্তৃপক্ষ।   চালিদার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি বোঝা গেলেও কাউকে জোর করে চুল কাটানো আইনসঙ্গত নয়। চাপ প্রয়োগ করে করা কোনো চুক্তি বৈধ নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, কারও ইচ্ছার বিরুদ্ধে মাথার চুল কেটে দেওয়া হামলা, জবরদস্তি ও বেআইনি আটকের মতো অভিযোগের আওতায় পড়তে পারে।   তরুণীর বিরুদ্ধে বারের বিল পরিশোধ না করে চলে যাওয়ার চেষ্টা এবং ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহারের অভিযোগ থাকলেও, এসব অভিযোগের জবাবে তার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে মূলত এই আচরণের বৈধতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।   ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়া এবং তরুণীর পরিবারের সঙ্গে ক্ষতিপূরণ নিয়ে আলোচনার কথা জানানো হলেও, পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   সূত্র: ভাইরাল প্রেস

তাবাস্সুম আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০
বকেয়া বিল না দেওয়ায় তরুণীর মাথা ন্যাড়া
বকেয়া বিল না দেওয়ায় তরুণীর মাথা ন্যাড়া, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ল সামাজিক মাধ্যমে

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে প্রায় ৬০ হাজার বাতের বারের বিল পরিশোধ করতে না পারায় ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীর মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ২৫ আগস্ট পিংকলাও এলাকার একটি হোস্ট বারে ঘটনাটি ঘটে। পরে মাথা ন্যাড়া করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় এবং ঘটনার তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তরুণীটি বারে গিয়ে ২০০টির বেশি পানীয়ের অর্ডার করেছিলেন। এতে তার বিল দাঁড়ায় প্রায় ৬০ হাজার থাই বাত, যা প্রায় ১ হাজার ৮০০ মার্কিন ডলারের সমান। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বারে প্রবেশ করেছিলেন এবং বিল পরিশোধ না করেই বের হওয়ার চেষ্টা করেন।   বার কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই তরুণীর কাছে বিল পরিশোধের মতো টাকা ছিল না। পুলিশের কাছে বিষয়টি না দিয়ে তার চুল বিক্রির মাধ্যমে বিলের একটি অংশ সমন্বয়ের জন্য একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করানো হয়। এরপর বারটির এক কর্মী ইলেকট্রিক ট্রিমার দিয়ে তার মাথার চুল পুরোপুরি কেটে দেন। চুলের মূল্য হিসেবে প্রায় ৩ হাজার বাত ধরা হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তরুণীকে একটি চুক্তিতে সম্মতি দিতে দেখা যায় এবং পরে তার মাথার চুল কেটে ফেলা হয়। বার কর্তৃপক্ষের দাবি, কাটা চুল দান করার কথা ছিল।   তবে তরুণীর বক্তব্য ভিন্ন। ২৮ আগস্ট তিনি তার মায়ের সঙ্গে থানায় গিয়ে বার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তার দাবি, ওই সময় তিনি মানসিক চাপে ছিলেন এবং প্রথমে ভেবেছিলেন শুধু কিছু চুল কাটা হবে। পুরো মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হবে, তা তিনি জানতেন না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় তাকে ধরে ধাক্কা দেওয়া হয়েছিল। বার কর্তৃপক্ষ অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।   তরুণীর মা জানান, প্রথমে বারের বকেয়া বিল কিস্তিতে পরিশোধের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। পরে চুল বিক্রি করে বিলের টাকা সমন্বয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়। তিনি ভেবেছিলেন মেয়ের চুল শুধু ছোট করে কাটা হবে। কিন্তু মেয়েকে পুরো মাথা ন্যাড়া অবস্থায় দেখে তিনি হতবাক হন।   ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থাইল্যান্ডের সামাজিক উন্নয়ন ও মানব নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের কাছে তদন্তের অনুরোধ জানানো হয়েছে। সামাজিক সংগঠন Be One Foundation-এর প্রতিষ্ঠাতা চালিদা ফালামাতও ঘটনাটির সমালোচনা করেছেন। তার বক্তব্য, বকেয়া বিল বা প্রতারণার অভিযোগ থাকলে সেটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে সমাধান করা উচিত, কাউকে এভাবে শাস্তি দেওয়া উচিত নয়।   পরে বার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে এবং তরুণীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহায়তার বিষয়ে আলোচনা করার কথা জানানো হয়েছে।   তরুণী ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করেছিলেন কি না, বকেয়া বিলের প্রকৃত পরিমাণ কত ছিল এবং মাথা ন্যাড়া করার সময় তিনি স্বেচ্ছায় সম্মতি দিয়েছিলেন কি না, এসব বিষয় এখন তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায়।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০
থাইল্যান্ডের পাতায়ায় আসছে ৫ হাজার মার্কিন নৌসেনা-মেরিন, যৌনকর্মীদের কড়া সতর্কবার্তা
থাইল্যান্ডের পাতায়ায় আসছে ৫ হাজার মার্কিন নৌসেনা-মেরিন, যৌনকর্মীদের কড়া সতর্কবার্তা

দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার পর বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের জন্য থাইল্যান্ডের পর্যটন শহর পাতায়ায় আসছে মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। প্রায় ৫ হাজার নৌসেনা ও মেরিনকে নিয়ে জাহাজটি দুটি সহযোগী নৌযানসহ ২ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর লায়েম চাবাং বন্দরে অবস্থান করবে।   মার্কিন বাহিনীর সদস্যরা ২০০ দিনেরও বেশি সময় সমুদ্রে থাকার পর বিশ্রাম নিতে তীরে নামার সুযোগ পাবেন। থাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সফরটির উদ্দেশ্য বিশ্রাম, পুনরুদ্ধার ও প্রয়োজনীয় সরবরাহ নেওয়া; এটি থাইল্যান্ডের সঙ্গে কোনো যৌথ সামরিক মহড়া নয়।   মার্কিন সেনা সদস্যদের আগমনকে ঘিরে পাতায়ার ব্যবসায়ীদের মধ্যেও আশাবাদ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় মেয়রের হিসাবে, প্রত্যেক সদস্য দিনে প্রায় ৩০ থেকে ৯১ ডলার পর্যন্ত খরচ করতে পারেন। ফলে হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও বিনোদন ব্যবসায় সাময়িকভাবে বাড়তি আয় হতে পারে।   তবে একই সঙ্গে যৌন পর্যটন ও জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর আগমন সামনে রেখে পাতায়ার পুলিশ সৈকত ও নাইটলাইফ এলাকায় অতিরিক্ত টহলের প্রস্তুতি নিয়েছে। গত সপ্তাহের অভিযানে যৌন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ৪০ থেকে ৫০ জনকে আটক করা হয়েছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   থাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পতিতাবৃত্তি দেশটিতে আইনত নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে শিশু সুরক্ষা, জনশৃঙ্খলা ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ২৯ আগস্টের একটি অভিযানে পুলিশ ও সামাজিক উন্নয়ন কর্মকর্তারা পাতায়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৫ জনকে আটক করেন।   দীর্ঘ সামুদ্রিক মোতায়েনের কারণে মার্কিন নৌসেনাদের মানসিক চাপ ও জীবনযাত্রার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের এই সফর তাই একদিকে স্থানীয় অর্থনীতির জন্য সম্ভাব্য স্বস্তি, অন্যদিকে পাতায়ার আইনশৃঙ্খলা ও যৌন পর্যটন নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০
বৃষ্টিতে পর জেগে ওঠে ‘নাগার চোখ’, থাইল্যান্ডের নাকা গুহায় প্রকৃতির বিস্ময়
বৃষ্টিতে পর জেগে ওঠে ‘নাগার চোখ’, থাইল্যান্ডের নাকা গুহায় প্রকৃতির বিস্ময়

থাইল্যান্ডের বুয়েং কান প্রদেশের ফু লাংকা ন্যাশনাল পার্কের নাকা গুহায় বর্ষাকালে দেখা মিলছে এক বিস্ময়কর প্রাকৃতিক দৃশ্যের। বৃষ্টির পানি গুহার পাথরের প্রাকৃতিক গর্তে জমে সূর্যের আলো প্রতিফলিত করলে পাথরের ওপর তৈরি হয় বিশাল এক চোখের মতো অবয়ব, যা স্থানীয়ভাবে ‘নাগার চোখ’ নামে পরিচিত। সম্প্রতি থাইল্যান্ডের ন্যাশনাল পার্ক কর্তৃপক্ষও এই প্রাকৃতিক দৃশ্যকে বর্ষাকালের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে তুলে ধরেছে।    নাকা গুহা ফু লাংকা ন্যাশনাল পার্কের পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত। পুরো এলাকাজুড়ে থাকা বেলেপাথরের স্তরে দীর্ঘ সময়ের ক্ষয় ও প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ফলে তৈরি হয়েছে সাপের শরীরের আঁশের মতো নানা নকশা। পাথরের বিভিন্ন অংশের আকৃতি দেখে অনেক দর্শনার্থীর কাছে পুরো পাহাড়টিই বিশাল এক কুণ্ডলী পাকানো সাপের মতো মনে হয়।   তবে বর্ষাকালেই এই দৃশ্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। পাথরের একটি প্রাকৃতিক গর্তে প্রায় ১ দশমিক ৫ থেকে ২ মিটার গভীর পর্যন্ত পানি জমতে পারে। বৃষ্টির মৌসুমে পানি তুলনামূলকভাবে বেশি থাকায় সূর্যের আলো সেই পানিতে প্রতিফলিত হয়ে পাথরের ওপর চোখের মতো উজ্জ্বল অবয়ব তৈরি করে। থাইল্যান্ডের ন্যাশনাল পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়টিই এই দৃশ্য দেখার জন্য সবচেয়ে উপযোগী।    এই ‘চোখ’ কোনো জীবন্ত প্রাণীর চোখ নয়, বরং পাথরের গর্ত, জমে থাকা পানি এবং সূর্যের আলোর সমন্বয়ে তৈরি একটি প্রাকৃতিক আলোক-ভ্রম। বৃষ্টির পর ভেজা পাথরের গাঢ় অংশ এবং পানির প্রতিফলনের কারণে দূর থেকে এটি অনেকটা বিশাল সাপের চোখের মতো দেখায়।   নাকা গুহাকে ঘিরে থাইল্যান্ডের নাগা সংস্কৃতি ও লোকবিশ্বাসেরও গভীর প্রভাব রয়েছে। দেশটির লোককথায় নাগাকে পৌরাণিক সর্প হিসেবে দেখা হয়, যার সঙ্গে মেকং নদী ও বিভিন্ন পবিত্র স্থানের সম্পর্ক রয়েছে। ফলে নাকা গুহা শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্থান নয়, অনেক দর্শনার্থীর কাছে এটি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিশ্বাসের সঙ্গেও যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।   প্রকৃতির এই অনন্য দৃশ্য দেখতে দর্শনার্থীদের পাহাড়ি পথ ধরে হাঁটতে হয়। ন্যাশনাল পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর্যটকদের পাথরের ওপর হাত না দেওয়া, কোনো ধরনের দাগ বা লেখা না করা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতি না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।    বর্ষার পানিতে পাথরের গায়ে তৈরি হওয়া এই ক্ষণস্থায়ী দৃশ্য এখন নাকা গুহার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। প্রকৃতির ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তন, আলো ও পানির প্রতিফলন কীভাবে মানুষের চোখে একটি জীবন্ত প্রাণীর অবয়ম তৈরি করতে পারে, ‘নাগার চোখ’ তারই এক চমকপ্রদ উদাহরণ।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ভারতের ১৩৭ যাত্রীবাহী বিমানে মাঝ আকাশে ভয়াবহ ঝাঁকুনি, পরে জানা যায় পাইলট গাঁজা সেবন করেছিলেন
ভারতের ১৩৭ যাত্রীবাহী বিমানে মাঝ আকাশে ভয়াবহ ঝাঁকুনি, পরে জানা যায় পাইলট গাঁজা সেবন করেছিলেন

থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে ভারতের দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে মাঝ আকাশে ভয়াবহ ঝাঁকুনি ও আকস্মিক নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ফ্লাইটটির পাইলটের শরীরে দুই দফা ডোপ টেস্টের পর মাদকজাতীয় সাইকোঅ্যাকটিভ পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, দ্বিতীয় দফার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ওই পাইলটের গাঁজা বা 'উইড' সেবনের বিষয়টি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।   গত ৪ আগস্ট এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-২৩৭৯ ফ্লাইটটি ১৩৭ জন যাত্রী ও আটজন ক্রু সদস্য নিয়ে ফুকেট থেকে দিল্লির উদ্দেশে উড্ডয়ন করেছিল। মাঝ আকাশে বিমানটি আচমকা প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে গেলে অন্তত ২০ জন যাত্রী এবং চারজন ক্রু সদস্য আহত হন। ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী রাম মোহন নাইডু জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে দুই ক্রু সদস্যের ঘাড় ও মেরুদণ্ডের নিচের অংশে মারাত্মক আঘাত লেগেছে। মূলত বিমানের পেছনের অংশে যেসব যাত্রী সিটবেল্ট বাঁধেননি, তারাই এই আকস্মিক পতনে বেশি আহত হয়েছেন।   সূত্রগুলো জানিয়েছে, ঘটনার সময় অভিযুক্ত পাইলট নিজের আসনে ছিলেন না। সে সময় এয়ারবাস এ৩২০নিও উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণে ছিলেন সহকারী পাইলট। বিমানটি হঠাৎ নিচের দিকে নেমে গেলে ককপিটের ভেতর ‘নেগেটিভ-জি’ পরিস্থিতি তৈরি হয়, যার ফলে ককপিটের বিভিন্ন জিনিসপত্রসহ পাইলট নিজেও কিছুটা শূন্যে ভেসে ওঠেন। পরবর্তীতে দিল্লিতে অবতরণের পর নিয়মিত পোস্ট-ফ্লাইট স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার মাদক গ্রহণের বিষয়টি ধরা পড়ে।   ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি) নিবিড় তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইটটির দুই পাইলটকেই দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীরা ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারিগরি, পরিচালনাগত, চিকিৎসা ও মানবিক বিষয়গুলোর তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপ্রত্যাশিত ও বিপজ্জনক ঘটনা এড়াতে ফ্লাইট রেকর্ড, চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্টদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৪:০
থাইল্যান্ডে দাদা-দাদিকে হত্যার পর স্কুলে কিশোর বন্দুকধারীর তাণ্ডব, শিক্ষক-ছাত্রসহ প্রাণ গেল ৭ জনের
থাইল্যান্ডে দাদা-দাদিকে হত্যার পর স্কুলে কিশোর বন্দুকধারীর তাণ্ডব, শিক্ষক-ছাত্রসহ প্রাণ গেল ৭ জনের

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে একটি হাইস্কুলে ১৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই মর্মান্তিক ঘটনায় আরও এক ডজনেরও বেশি মানুষ মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন শিক্ষার্থী ও তিনজন শিক্ষক ছাড়াও রয়েছেন অভিযুক্ত বন্দুকধারীর দাদা-দাদি। হামলা চালিয়ে তাণ্ডব চালানোর পর ঘাতক কিশোর নিজেও আত্মহত্যা করেছে।   পুলিশ জানায়, হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে ননথাবুরি প্রদেশের ব্যাং ক্রুয়াই জেলার ‘দেবসিরিন স্কুল’-এ (The Debsirin School)। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর এই হামলাকে সম্পূর্ণ 'পূর্বপরিকল্পিত' বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, অভিযুক্ত কিশোর মানসিকভাবে অত্যন্ত চাপ ও উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। স্কুলে এসে হামলা চালানোর আগেই সে বাড়িতে থাকা তার দাদা-দাদিকে গুলি করে হত্যা করে, যাদের সঙ্গে সে বসবাস করত।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘাতক কিশোরটি তার দাদার নামে নিবন্ধিত একটি আইনি অস্ত্র ব্যবহার করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। এর আগে একটি উৎসব শেষে সে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ওই বন্দুকটির একটি ছবিও পোস্ট করেছিল। থাই প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত হওয়ার সময়ও কিশোরটির কাছে ৩০ রাউন্ডের বেশি তাজা গুলি অবশিষ্ট ছিল। সে যদি নিজে আত্মহত্যা না করত, তবে আরও বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারত। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর পুলিশ বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৪:০
ব্যাংককের উপকণ্ঠে স্কুলে ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর গুলিবর্ষণের ঘটনায় আতঙ্কিত ও শোকস্তব্ধ সহপাঠী ও অভিভাবকেরা। ছবি: সংগৃহীত
থাইল্যান্ডের স্কুলে ১৪ বছরের শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলা, শিক্ষকসহ নিহত অন্তত ৬

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে একটি স্কুলে ১৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর গুলিবর্ষণে অন্তত আটজন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে হামলাকারীর দাদা-দাদিও রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, স্কুলে হামলার আগে ওই কিশোর নিজ বাড়িতে দাদা-দাদিকে হত্যা করে একই অস্ত্র নিয়ে স্কুলে প্রবেশ করে নির্বিচারে গুলি চালায়। পরে সে নিজেকেও গুলি করে; হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।    শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে ননথাবুরি প্রদেশের ব্যাং ক্রুয়াই জেলার ডেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে অনেকে গুলির শব্দকে আতশবাজির আওয়াজ মনে করেছিলেন। পরে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা প্রাণ বাঁচাতে শ্রেণিকক্ষে আশ্রয় নেন এবং কেউ কেউ জানালা দিয়ে বেরিয়ে আসেন।    থাই পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারী তার দাদার নামে নিবন্ধিত একটি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে অন্তত ২৬ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত গুলিও উদ্ধার করা হয়েছে। হামলার উদ্দেশ্য এখনও নিশ্চিত নয় এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।   প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ই রয়েছেন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে নিহত ও আহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সরকারি সূত্রে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হলে চূড়ান্ত হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করা হবে।    ঘটনার পর থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং আহতদের দ্রুত চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে স্কুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।    এটি ২০২৬ সালে থাইল্যান্ডে দ্বিতীয় স্কুলে গুলির ঘটনা। ২০২২ সালের ভয়াবহ ডে-কেয়ার সেন্টার হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী কয়েকটি হামলার পর দেশটিতে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোর করা হলেও, বেসামরিক মানুষের হাতে বিপুল সংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্র থাকায় এ ধরনের ঘটনা পুরোপুরি ঠেকানো যায়নি।

তাবাস্সুম আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৪:০
বিমানে ঘুমন্ত থাই নারীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ, অভিযুক্ত পাকিস্তানি যাত্রী
বিমানে ঘুমন্ত থাই নারীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ, অভিযুক্ত পাকিস্তানি যাত্রী

দুবাই থেকে ব্যাংককগামী ফ্লাইটে চার বছর বয়সী কন্যা সন্তানকে নিয়ে ভ্রমণকালে এক থাই নারী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিউট পিম্পাপর্ন (৩৩) নামের ওই নারী ইতালির মিলান থেকে দুবাই হয়ে থাইল্যান্ডে ফিরছিলেন। মাঝ আকাশে মা ও মেয়ে যখন ঘুমিয়ে ছিলেন, ঠিক তখনই ফ্লাইদুবাই (flydubai) এয়ারলাইন্সের ওই ফ্লাইটে এক পাকিস্তানি সহযাত্রী তাঁকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করে।   ভুক্তভোগী নারী জানান, অভিযুক্ত পাকিস্তানি ব্যক্তি তাঁকে শ্লীলতাহানির পর দ্রুত হাত সরিয়ে নিয়ে জ্যাকেট দিয়ে ঢেকে ফেলে। এরপর সামনের এন্টারটেইনমেন্ট স্ক্রিন ঠিক করার ভান করতে থাকে এবং বারবার তাঁর দিকে তাকাচ্ছিল। ফ্লাইটের ভেতর আতঙ্ক বা বিশৃঙ্খলা না ছড়ানোর উদ্দেশ্যে পিম্পাপর্ন বিমানটি ব্যাংককে অবতরণ করা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। ফ্লাইটটি অবতরণের পরপরই তিনি কেবিন ক্রুদের বিষয়টি জানান এবং পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।   পিম্পাপর্ন জানান, বিমানবালা যখন আরবি ভাষায় ওই ব্যক্তির কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চান, তখন প্রথমে সে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে। কিন্তু একপর্যায়ে জেরার মুখে সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নেয়। অপরাধ স্বীকার করার পর ওই ব্যক্তি ভুক্তভোগীর কাছে এসে হাঁটু গেড়ে বসে কান্নাকাটি করতে থাকে এবং বারবার ক্ষমা চায়। তবে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট তার এই আচরণ গ্রহণ করেননি এবং ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর আখ্যা দিয়ে পুলিশ ডাকতে বাধ্য হন।   জানা গেছে, অভিযুক্ত পাকিস্তানি ব্যক্তি কোনো পরিবারের সাথে নয়, বরং একটি ট্যুর গ্রুপের সাথে ভ্রমণ করছিল। ওই দলের চার-পাঁচজন সদস্য এসে ভুক্তভোগীর কাছে তাকে ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ করে। তবে বিমানবালা ঘটনার সাথে জড়িত নয় এমন সবাইকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্যাপ্টেনের সহায়তায় পিম্পাপর্নের শিশুটিকে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়, যাতে সে এই অপ্রীতিকর দৃশ্য না দেখে। পরবর্তীতে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা অভিযুক্ত যাত্রীকে বিমান থেকে নামিয়ে থানায় নিয়ে যায়।   ডন মুয়াং থানার পুলিশ লেফটেন্যান্ট কর্নেল চামনানিউত কনকং জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে থাইল্যান্ডে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পুলিশ আপাতত দুপক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা বৈঠকের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছে, যা তাদের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মামলা দায়ের হয়নি।   এদিকে, একা ভ্রমণকারী নারীদের ঝুঁকির বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতেই পিম্পাপর্ন এই ঘটনা জনসমক্ষে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, "দীর্ঘ ফ্লাইটে যাত্রীরা প্রায়ই ঘুমিয়ে থাকেন এবং একা ভ্রমণকারী নারীরা এমন পরিস্থিতিতে অরক্ষিত হয়ে পড়েন।   নারীদের লজ্জিত না হয়ে এমন পরিস্থিতিতে অবিলম্বে প্রতিবাদ করা উচিত এবং সাহায্য চাওয়া উচিত।" অন্যদিকে, ফ্লাইদুবাইয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, যাত্রীদের নিরাপত্তাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। তবে চলমান তদন্তের স্বার্থে তারা যাত্রীদের ব্যক্তিগত তথ্য বা ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৪:০
ফ্লাইটে চার বছরের মেয়ের চোখের সামনেই মায়ের ওপর যৌন নির্যাতন
ফ্লাইটে চার বছরের মেয়ের চোখের সামনেই মায়ের ওপর যৌন নির্যাতন, ঘুম ভাঙার পর আতঙ্কে কেঁপে ওঠেন নারী

থাইল্যান্ডের নাগরিক বিউট পিম্পাপর্ন (৩৩) ইতালির মিলান থেকে ব্যাংককে ফিরছিলেন । ডাবাইয়ে সংযোগকারী ফ্লাইটে ওঠার পর সেখান থেকে ব্যাংককের উদ্দেশে ছয় ঘণ্টার যাত্রা শুরু হয়। মা ও তার মেয়ে ফ্লাইটে ঘুমিয়ে পড়েন।   ঘুম থেকে জেগে তিনি দেখেন পাশের আসনে বসা পুরুষ যাত্রী তার নিতম্ব চেপে ধরেছেন এবং অশ্লীল কাজ করছেন। অভিযুক্ত যাত্রী পরে বিনোদনের স্ক্রিন সামঞ্জস্য করার ভান করতে থাকেন এবং বারবার তার দিকে তাকাতে থাকেন ।   মা বিউট পিম্পাপর্ন ফ্লাইটে হৈ চৈ সৃষ্টি না করে ব্যাংকের ডন মুয়াং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর কেবিন ক্রুদের বিষয়টি জানান । ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। প্রথমে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন ।   অভিযুক্ত যাত্রী এবং তার সঙ্গে থাকা পাকিস্তানি ট্যুর গ্রুপের সদস্যরা ক্ষমা চান। অভিযুক্ত যাত্রী কেঁদে তার কাছে ক্ষমা চান এবং তার পায়ে হাত দিয়ে অনুরোধ করেন । কিন্তু কেবিন ক্রুরা বিষয়টি গুরুতর বলে পুলিশকে জানান এবং বিমান থেকে মেয়েটিকে সরিয়ে নেন যেন তিনি ঘটনা দেখতে না পান ।   বিমান নামার পর ট্যুরিস্ট পুলিশ ও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা অভিযুক্ত রজা আলীকে বিমান থেকে নামিয়ে পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যান । ডন মুয়াং জেলা পুলিশ স্টেশনের পুলিশ লেফটেন্যান্ট কর্নেল চামন্যান্ট কঙ্কং জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে থাইল্যান্ডে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে । পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে এখনও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি এবং প্রাথমিকভাবে উভয় পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করা হবে ।   ভুক্তভোগী মা তার পরনের কাপড় জমা দিয়েছেন এবং ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে । তিনি জানিয়েছেন, তিনি মামলা করতে চান এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করবেন । তিনি তার পরিচয় প্রকাশ করে অন্যান্য নারীদের সতর্ক করেছেন যে একা ভ্রমণের সময় সাবধান থাকতে হবে এবং কোনও অস্বস্তি বোধ করলে সাহসের সাথে প্রতিবাদ করতে হবে ।   ফ্লাইটটি পরিচালনাকারী সংস্থা ফ্লাইদুবাইয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং চলমান তদন্তের বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করছেন না ।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
অগ্নিকাণ্ডের পর ক্ষতিগ্রস্ত বারের ভেতরের দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত
ব্যাংককের বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, টয়লেট থেকে উদ্ধার বেশিরভাগ মরদেহ, নিহত বেড়ে ২৭

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি জনপ্রিয় বার ও বিনোদনকেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৬৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আগুনের কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। তবে প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক সার্কিট বোর্ডের কাছে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তদন্তকারীরা।   সোমবার (১৩ জুলাই) মধ্যরাতের কিছু আগে ব্যাংককের চাতুচাক জেলার জনপ্রিয় রং বিয়ার না লাত ফ্রাও (Rong Beer Na Lat Phrao) বারে আগুন লাগে। খবর পেয়ে দমকলকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে প্রাণহানির পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যায়।   প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে থাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন লাগার আগে মঞ্চের পাশে একটি বৈদ্যুতিক সার্কিট ব্রেকারের দিক থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। এরপর হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায় এবং বিস্ফোরণের মতো শব্দ শোনা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই ঘন ধোঁয়া ও আগুন পুরো বারে ছড়িয়ে পড়ে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বারটির সামনের দরজা দিয়ে দাউদাউ করে আগুন বের হচ্ছে। আতঙ্কিত মানুষ প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে বের হওয়ার চেষ্টা করছেন। অনেকেই ধোঁয়ার কারণে ভেতরেই আটকা পড়েন।   থাই প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চানভিরাকুল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, নিহতদের বেশিরভাগের মরদেহ বারের পেছনের টয়লেটের কাছে পাওয়া গেছে। তার ভাষ্য, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অনেকে পেছনের দিকে ছুটে যান এবং সেখানে ধোঁয়ায় আটকা পড়েন।   ব্যাংককের গভর্নর চাচার্ত সিত্তিপুন্ট জানান, বারের ভেতরে ব্যবহৃত দাহ্য সাজসজ্জার উপকরণের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া প্রাথমিক তদন্তে জরুরি নির্গমনপথের সামনে কিছু টেবিল ও অন্যান্য সামগ্রী থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে ফরেনসিক তদন্ত চলছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৯ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারী রয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং কয়েকজনের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া কয়েকজন নিখোঁজ থাকার খবরও পাওয়া গেছে।   একজন চালক, যিনি আগুন প্রথম দেখতে পান, জানান যে তিনি নিজের গাড়ি থামিয়ে জানালার কাচ ভেঙে অন্তত দুজনকে বের হতে সহায়তা করেন। এরপর দমকল বিভাগকে খবর দেওয়া হয়।   ঘটনার পর পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা আগুনের উৎস, ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জরুরি নির্গমনপথের অবস্থা খতিয়ে দেখছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা হবে না।   থাইল্যান্ডে এর আগেও নাইটক্লাব ও বিনোদনকেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ২০২২ সালে একটি মিউজিক পাবে আগুনে ১৪ জন নিহত হন। এরও আগে ২০০৯ সালে ব্যাংককের সান্টিকা নাইটক্লাবে নববর্ষ উদযাপনের সময় অগ্নিকাণ্ডে ৬৬ জনের প্রাণহানি ঘটে। সর্বশেষ এই ঘটনা দেশটির জনসমাগমস্থলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলেছে।   সূত্র: এপি, রয়টার্স, বিবিসি

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
১৭ বছরের কিশোরীকে শ্বাসরোধে হত্যা, স্যুটকেসে মরদেহ রেখে পালানোর চেষ্টা

থাইল্যান্ডের পাতায়ায় এক অস্ট্রেলীয় নাগরিকের হাতে ১৭ বছর বয়সী এক থাই কিশোরীর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তুনচানোক দনহোমলা নামের ওই কিশোরীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর তার মৃতদেহ একটি স্যুটকেসে ভরে রেললাইনের পাশে ফেলে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ৪৫ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় নাগরিক সাইমন পিটার কারমানকে ব্যাংককের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   পাওনা টাকা নিয়ে বিবাদের জেরে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।   সম্প্রতি নিহত ওই কিশোরীর একটি হৃদয়বিদারক ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে, যা কাঁদিয়েছে অনেককেই। ভিডিওটিতে দেখা যায়, উত্তর-পূর্ব থাইল্যান্ডের কালাসিনে নিজেদের বাড়িতে বাবা থংচাইয়ের জন্মদিনে কেক হাতে হাসিমুখে উদযাপনে মেতেছেন দনহোমলা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার বাবা জানান, মেয়ের কাছে তেমন টাকা না থাকলেও সে বাবার জন্য কেক কিনে এনেছিল।   সেটিই ছিল তার সাথে কাটানো শেষ জন্মদিন। কয়েক মাস আগে ব্যাংককে পাড়ি জমানো এই কিশোরী জীবনে প্রথমবারের মতো সমুদ্র দেখার স্বপ্ন নিয়ে পাতায়ায় ঘুরতে গিয়েছিল, আর সেখানেই তাকে এমন মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হতে হলো।   পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, দনহোমলাকে হত্যার পর তার লাশ কয়েক ঘণ্টা ঘরে ফেলে রেখেই অভিযুক্ত কারমান কেনাকাটা, খাওয়া-দাওয়া এবং কাপড় ধোয়ার মতো স্বাভাবিক কাজগুলো সেরেছিলেন। এরপর সিসিটিভি ফুটেজে তাকে ওই স্যুটকেসটি টেনে নিয়ে অ্যাপার্টমেন্টের পেছনের গেট দিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। অস্ট্রেলিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে বিমানবন্দরে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন কারমান।   এ সময় তার শরীরে ধস্তাধস্তির আঁচড়ের দাগ দেখতে পায় পুলিশ এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর পর তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন বলে দাবি করেছে তদন্তকারী কর্মকর্তারা।   গত মঙ্গলবার বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী নিজ শহরে দনহোমলার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। শোকাভিভূত বাবা থংচাই তার মেয়ের হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন। তিনি বলেন, তার নির্দোষ মেয়েটি কেবল দুনিয়ার ভালো দিকগুলোই দেখত। শেষ যাত্রায় মেয়ের মৃতদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় থংচাইয়ের মনে হচ্ছিল, মেয়েটি যেন গাড়িতে তার পাশেই বসে আছে। থাই পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করে তিনি এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানো সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:০
সুবর্ণভূমি বিমানবন্দর থেকে এক অস্ট্রেলীয় (মাঝে) গ্রেপ্তার | ছবি: এবিসি নিউজ
সুটকেসে ১৭ বছরের কিশোরীর নগ্ন লাশ, থাইল্যান্ডে পালাবার সময় অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক গ্রেপ্তার!

থাইল্যান্ডের পর্যটন নগরী পাতায়ায় একটি সুটকেস থেকে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর নগ্ন মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এক অস্ট্রেলিয়ান নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে থাই পুলিশ। গত শুক্রবার রাতে ব্যাংককের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দর থেকে ৪৬ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। সে সময় তিনি জেটস্টার এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে চড়ে অস্ট্রেলিয়ার পার্থে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার ভোরে পাতায়ার একটি বহুতল ভবনের ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি) ফুটেজে ওই কিশোরীকে এক শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তির হাত ধরে লিফটের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। এর কয়েক ঘণ্টা পর, ওই ব্যক্তিটিকে একা একটি বড় কালো সুটকেস নিয়ে ভবন থেকে বের হতে এবং সেটি মোটরসাইকেলের পেছনে করে নিয়ে যেতে দেখা যায়। পরবর্তীকালে গত শুক্রবার পাতায়ার একটি ভাসমান বাজারের পেছনের রেললাইনের পাশ থেকে পুলিশ সেই সুটকেসটি উদ্ধার করে এবং ভেতরে সহিংস নির্যাতনের চিহ্নসহ ওই কিশোরীর নগ্ন মরদেহ পায়।   কিশোরীর লাশ উদ্ধারের পর পাতায়া পুলিশ অবিলম্বে দেশের সব বিমানবন্দরে সতর্কতা জারি করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকক বিমানবন্দর দিয়ে দেশ ছাড়ার সময় অভিবাসন কর্মকর্তারা ওই অস্ট্রেলীয় নাগরিককে হেফাজতে নেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করলেও, সুটকেসটি কোথায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল সে বিষয়ে তথ্য দেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই পুলিশ রেললাইনের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।   পাতায়া শহরের একজন পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নাবালিকা অপহরণ, খুন, লাশ গুম এবং যৌন উদ্দেশ্যে শিশু অপহরণের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হতে পারে।   এদিকে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে, থাইল্যান্ডে আটক হওয়া তাদের নাগরিককে কনস্যুলার সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তবে গোপনীয়তার স্বার্থে তারা এই বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ড ও নির্মমতার ঘটনায় থাইল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া জুড়ে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

তাবাস্সুম জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
থাইল্যান্ডে ভিসামুক্ত অবস্থানের মেয়াদ কমছে ৯০ দেশের জন্য

থাইল্যান্ড সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ ৯০টির বেশি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল অবস্থানের সময়সীমা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ৩০ দিনের বেশি দেশটিতে থাকতে হলে পর্যটকদের ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।   সরকারি সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, আগে কোভিড পরবর্তী অর্থনীতি চাঙা করতে ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ৯৩টি দেশের পর্যটকদের ৬০ দিন পর্যন্ত ভিসা ছাড়াই থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে সম্প্রতি মন্ত্রিসভা সেই সুবিধা বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।   নতুন নীতিমালায় বিদেশি পর্যটকদের অবস্থানের সময়সীমা দেশভিত্তিকভাবে নির্ধারণ করা হবে, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর নির্ভর করবে। নিরাপত্তা জোরদার এবং ভিসা ব্যবস্থায় জটিলতা কমানোর লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে মাদক ও মানবপাচারের মতো অপরাধে বিদেশি নাগরিকদের জড়িত থাকার অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল বলেন, অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার ভারসাম্য রক্ষার জন্য বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই নীতিতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন হয়েছে।   ৬০ দিনের ভিসামুক্ত সুবিধাপ্রাপ্ত দেশগুলোর তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, ইতালি ও স্পেন ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব দেশের নাগরিকদেরও ৩০ দিনের বেশি অবস্থানের জন্য ভিসা নিতে হবে, যদিও কিছু ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে সময়সীমা ভিন্ন হতে পারে।   সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একই দেশের নাগরিকদের জন্য একাধিক ভিসা সুবিধা থাকায় অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি হতো। নতুন নীতির মাধ্যমে সেই জটিলতা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।   পর্যটননির্ভর অর্থনীতির জন্য পরিচিত থাইল্যান্ডে ২০১৯ সালে প্রায় ৪ কোটি পর্যটক ভ্রমণ করেছিলেন। মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে পর্যটন খাত পুনরুদ্ধারের পথে থাকলেও সাম্প্রতিক নিরাপত্তা উদ্বেগ নীতিগত এই পরিবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

Unknown মে ১৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ংকর র‍্যাগিং, নোংরা বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার ৩০ অর্ধনগ্ন তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ংকর র‍্যাগিং, নোংরা বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার ৩০ অর্ধনগ্ন তরুণ

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০