থাইল্যান্ডের পাতায়ায় আসছে ৫ হাজার মার্কিন নৌসেনা-মেরিন, যৌনকর্মীদের কড়া সতর্কবার্তা
দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার পর বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের জন্য থাইল্যান্ডের পর্যটন শহর পাতায়ায় আসছে মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। প্রায় ৫ হাজার নৌসেনা ও মেরিনকে নিয়ে জাহাজটি দুটি সহযোগী নৌযানসহ ২ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর লায়েম চাবাং বন্দরে অবস্থান করবে।
মার্কিন বাহিনীর সদস্যরা ২০০ দিনেরও বেশি সময় সমুদ্রে থাকার পর বিশ্রাম নিতে তীরে নামার সুযোগ পাবেন। থাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সফরটির উদ্দেশ্য বিশ্রাম, পুনরুদ্ধার ও প্রয়োজনীয় সরবরাহ নেওয়া; এটি থাইল্যান্ডের সঙ্গে কোনো যৌথ সামরিক মহড়া নয়।
মার্কিন সেনা সদস্যদের আগমনকে ঘিরে পাতায়ার ব্যবসায়ীদের মধ্যেও আশাবাদ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় মেয়রের হিসাবে, প্রত্যেক সদস্য দিনে প্রায় ৩০ থেকে ৯১ ডলার পর্যন্ত খরচ করতে পারেন। ফলে হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও বিনোদন ব্যবসায় সাময়িকভাবে বাড়তি আয় হতে পারে।
তবে একই সঙ্গে যৌন পর্যটন ও জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর আগমন সামনে রেখে পাতায়ার পুলিশ সৈকত ও নাইটলাইফ এলাকায় অতিরিক্ত টহলের প্রস্তুতি নিয়েছে। গত সপ্তাহের অভিযানে যৌন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ৪০ থেকে ৫০ জনকে আটক করা হয়েছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
থাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পতিতাবৃত্তি দেশটিতে আইনত নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে শিশু সুরক্ষা, জনশৃঙ্খলা ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ২৯ আগস্টের একটি অভিযানে পুলিশ ও সামাজিক উন্নয়ন কর্মকর্তারা পাতায়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৫ জনকে আটক করেন।
দীর্ঘ সামুদ্রিক মোতায়েনের কারণে মার্কিন নৌসেনাদের মানসিক চাপ ও জীবনযাত্রার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের এই সফর তাই একদিকে স্থানীয় অর্থনীতির জন্য সম্ভাব্য স্বস্তি, অন্যদিকে পাতায়ার আইনশৃঙ্খলা ও যৌন পর্যটন নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreইসরায়েলের তেল আবিবে অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের একটি স্কুলে ভর্তি করানো নিয়ে স্থানীয় অভিভাবকদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের বিরোধ তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ তেল আবিবের রোনিত এলকাবেতজ স্কুলের অভিভাবক কমিটি জানিয়েছে, ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের অভিযোগের সমাধান না হলে তারা ক্লাস বর্জন করবেন। আগামী মঙ্গলবার থেকে এই কর্মসূচি শুরু করার কথা রয়েছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুলটি মূলত আশপাশের এলাকার শিশুদের জন্য নির্ধারিত হলেও বাইরে থেকে আসা অভিবাসী পরিবারের কিছু সন্তানকে সেখানে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের দাবি, স্থানীয় শিশুদের ক্ষেত্রে যে ভর্তি নীতি ও শর্ত প্রযোজ্য হয়েছে, অভিবাসী পরিবারের শিশুদের ক্ষেত্রে তা একইভাবে প্রয়োগ করা হয়নি। এ নিয়ে স্কুলের ভর্তি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। তবে তেল আবিব সিটি কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের অভিযোগের সঙ্গে একমত নয়। শহর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, স্কুলটিতে ভর্তি হওয়া অভিবাসী পরিবারের শিশুর সংখ্যা মোট শিক্ষার্থীর ১০ শতাংশেরও কম। তাদের দাবি, এসব শিক্ষার্থী বিশেষায়িত আর্টস প্রোগ্রামে ভর্তি হয়নি এবং ভর্তি পরীক্ষার নিয়ম পাশ কাটিয়ে তাদের জায়গা দেওয়া হয়েছে, এমন অভিযোগও সঠিক নয়। বিতর্কের পেছনে রয়েছে দক্ষিণ তেল আবিবের স্কুলগুলোতে বিদেশি নাগরিক ও অভিবাসী পরিবারের শিশুদের শিক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন। চলতি আগস্টে ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট দক্ষিণ তেল আবিবের দুটি স্কুলে বিদেশি শিশুদের অতিরিক্ত ঘনত্বকে জাতিগত বিচ্ছিন্নতার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে রায় দেয়। আদালত শিশুদের বিভিন্ন স্কুলে আরও সমন্বিতভাবে শিক্ষার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশও দেয়। এর আগে দক্ষিণ তেল আবিবের কয়েকটি স্কুলে আশ্রয়প্রার্থী ও অন্যান্য বিদেশি পরিবারের শিশুদের আলাদা হয়ে পড়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সম্প্রতি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কিছু অভিবাসী শিশুকে ইসরায়েলি শিক্ষার্থীদের থেকে আলাদা স্কুলে পাঠানোর অভিযোগও সামনে এসেছে। এসব ঘটনা নিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় সমতা ও বৈষম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তেল আবিবের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় স্কুলে শিক্ষার্থী বণ্টনের ক্ষেত্রে বসবাসের এলাকার দূরত্বসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়। শহর কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত আবেদন হলে জায়গার প্রাপ্যতা, ভৌগোলিক দূরত্ব ও অন্যান্য শিক্ষা-সংক্রান্ত বিষয় বিবেচনা করে শিক্ষার্থী বণ্টন করা হয়। রোনিত এলকাবেতজ স্কুলকে ঘিরে বর্তমান বিরোধ তাই শুধু কয়েকজন শিক্ষার্থীর ভর্তি নিয়ে নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে স্থানীয় শিশুদের জন্য স্কুলে জায়গা, অভিবাসী পরিবারের শিশুদের শিক্ষার অধিকার, ভর্তি নীতির স্বচ্ছতা এবং ইসরায়েলি শিক্ষা ব্যবস্থায় অভিবাসী শিশুদের একীভূত করার বৃহত্তর প্রশ্ন। অভিভাবকদের ক্লাস বর্জনের ঘোষণার পর এখন স্কুল কর্তৃপক্ষ ও সিটি প্রশাসন কীভাবে পরিস্থিতির সমাধান করে, সেদিকেই নজর রয়েছে।
থাইল্যান্ডের পাতায়ায় আসছে ৫ হাজার মার্কিন নৌসেনা-মেরিন, যৌনকর্মীদের কড়া সতর্কবার্তা
একটি সিদ্ধান্ত, ৯০০ জীবন: নেপালে অধ্যক্ষের উপস্থিত বুদ্ধিতে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচল শত শত শিশু
জ্যোতিষীর আয় বছরে ৩ কোটি ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, বছরে দেখেন শুধু ১ হাজার ক্লায়েন্ট!
মরক্কোর জাহরা আবুতালিবের ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে লিথোপেডিয়নের অন্যতম আলোচিত উদাহরণ। ১৯৫৫ সালে গর্ভাবস্থার শেষ দিকে প্রসববেদনা শুরু হওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হলেও অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনের কথা শুনে এবং সেখানে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনা দেখে তিনি হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান। পরবর্তী সময়ে প্রসববেদনা থেমে যায়, কিন্তু গর্ভের ভ্রূণ আর জন্ম নেয়নি। প্রায় ৪৬ বছর পর, ২০০১ সালে বৃদ্ধ বয়সে জাহরার তীব্র পেটব্যথা শুরু হলে চিকিৎসকের কাছে যান তিনি। পরীক্ষায় প্রথমে পেটের ভেতরের শক্ত অংশটিকে টিউমার বলে ধারণা করা হলেও স্ক্যানের পর চিকিৎসকেরা বুঝতে পারেন, সেখানে কয়েক দশক ধরে একটি মৃত ও ক্যালসিয়াম জমে শক্ত হয়ে যাওয়া ভ্রূণ রয়েছে। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেটি অপসারণ করা হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই বিরল অবস্থাকে বলা হয় ‘লিথোপেডিয়ন’। শব্দটির অর্থ ‘পাথরের শিশু’। সাধারণত এটি পেটের ভেতরে হওয়া এক ধরনের একটোপিক বা জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণের ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে। ভ্রূণটি মারা যাওয়ার পর শরীর সেটিকে শোষণ করতে না পারলে সময়ের সঙ্গে তার চারপাশে ক্যালসিয়াম জমে শক্ত আবরণ তৈরি হতে পারে। লিথোপেডিয়ন অত্যন্ত বিরল একটি চিকিৎসাবস্থা। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন ঘটনা সাধারণত আল্ট্রাসাউন্ড, এক্স-রে বা অন্যান্য ইমেজিং পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে এটি বহু বছর পর্যন্ত শরীরে অবস্থান করলেও উপসর্গ স্পষ্ট না হওয়ায় পরে অন্য কোনো কারণে পরীক্ষা করতে গিয়ে ধরা পড়ে। জাহরার ঘটনাটি পরে চিকিৎসাবিষয়ক বিভিন্ন লেখায় আলোচিত হয় এবং লিথোপেডিয়নের সবচেয়ে পরিচিত নথিবদ্ধ ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ ধরনের ঘটনাকে স্বাভাবিক গর্ভধারণের দীর্ঘস্থায়ী রূপ হিসেবে দেখা ঠিক নয়; এটি মূলত বিরল ও জটিল একটোপিক গর্ভধারণের পরিণতি।
কলকাতার মুসলিম কলোনিতে মাসজুড়ে পানি বন্ধ, পাশের হিন্দু এলাকায় স্বাভাবিক
১৩ বছর বয়সেই এআই দিয়ে অ্যাপ বানিয়ে তিন দিনে আয় সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা
বিয়ের দাওয়াত ভেবে গেলেন পার্টি সেন্টারে, গিয়ে দেখলেন নিজেরই বিয়ে!
সৌদি আরবের তায়েফ শহরে স্ত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার সময় মো. কামরুল হোসেন নামে ৩৭ বছর বয়সী এক প্রবাসী বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। পরে হামলাকারী এক সৌদি তরুণও নিজের মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন। রোববার (৩০ আগস্ট) স্থানীয় সময় ভোরে তায়েফের হাওয়াইয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। কামরুল হোসেন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দুই সন্তানের বাবা ছিলেন। স্বজন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, জীবিকার সন্ধানে ঋণ করে প্রায় আড়াই থেকে তিন বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান কামরুল। ঘটনার দিন সুপার মার্কেটের ডিউটি শেষ করার পর কর্মস্থলের পাশে দাঁড়িয়ে স্ত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলছিলেন তিনি। এ সময় হঠাৎ এক সৌদি তরুণ অস্ত্র নিয়ে কামরুলকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। প্রাণ বাঁচাতে কামরুল দৌড়ে সুপার মার্কেটের ভেতরে ঢুকে পড়েন। আতঙ্কে সেখানকার অন্য কর্মীরাও পালিয়ে যান। পরে হামলাকারী মার্কেটের ভেতরে ঢুকে কামরুলকে লক্ষ্য করে পরপর তিন রাউন্ড গুলি করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এরপর ওই তরুণ নিজের মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে কী কারণে ওই সৌদি তরুণ কামরুলকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে সৌদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত চলছে। কামরুলের আকস্মিক মৃত্যুতে তার স্ত্রী হালিমা বেগম, দুই ছেলে এবং বাবা-মা গভীর শোকে পড়েছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী ও দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বিগ্ন স্বজনরা। পরিবারের সদস্যরা কামরুলের মরদেহ দ্রুত দেশে এনে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন। বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনও মরদেহ দেশে ফেরাতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার কথা জানিয়েছে।
বিয়ের দুই দিন পরই ইসরায়েলি হামলায় নিহত নববধূ
বিমানবন্দরে নবজাতককে নিয়ে আটকে বাবা, অপরিচিত বৃদ্ধার ঘরে মিলল আশ্রয়