সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

মার্কিন নাগরিক

“লিবিয়া ভ্রমণ মানেই নিশ্চিত বিপদ”- যাওয়ার আগেই উইল ও ডিএনএ নমুনা রাখতে বলল যুক্তরাষ্ট্র
“লিবিয়া ভ্রমণ মানেই নিশ্চিত বিপদ”- যাওয়ার আগেই উইল ও ডিএনএ নমুনা রাখতে বলল যুক্তরাষ্ট্র

উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ায় ভ্রমণের পরিকল্পনা করা মার্কিন নাগরিকদের নতুন করে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। দেশটির জন্য সর্বোচ্চ লেভেল-৪ ‘ডু নট ট্রাভেল’ সতর্কতা বহাল রেখে সম্ভাব্য ভ্রমণকারীদের উইল ও মৃত্যুর পরের নির্দেশনা প্রস্তুত করা, বীমার সুবিধাভোগী নির্ধারণ এবং প্রয়োজনে ডিএনএ নমুনা রেখে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   পররাষ্ট্র দপ্তরের সতর্কতায় বলা হয়েছে, লিবিয়ায় সন্ত্রাসবাদ, অপহরণ, অপরাধ, স্বাস্থ্যঝুঁকি, সশস্ত্র সংঘাত এবং স্থলমাইনের মতো গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। সশস্ত্র গোষ্ঠী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ যেকোনো সময় শুরু হতে পারে এবং দেশটিতে অস্ত্রের ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে।   সতর্কতায় মার্কিন নাগরিকদের লিবিয়ায় কোনো কারণেই ভ্রমণ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে অপহরণের ঝুঁকিকে গুরুতর হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এর আগে মার্কিন নাগরিকরাও অপহরণের শিকার হয়েছেন।   লিবিয়ায় বর্তমানে কোনো মার্কিন দূতাবাস নেই। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে মার্কিন সরকারের পক্ষে দেশটিতে থাকা নাগরিকদের সরাসরি সহায়তা করা সম্ভব নাও হতে পারে। তাই কেউ সতর্কতা উপেক্ষা করে সেখানে গেলে মার্কিন সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর না করে জরুরি অবস্থায় দেশ ছাড়ার নিজস্ব পরিকল্পনা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   অপহরণের আশঙ্কা বিবেচনায় ভ্রমণকারীদের পরিবারের সঙ্গে একটি ‘প্রুফ অব লাইফ’ প্রোটোকল ঠিক করে রাখতেও বলা হয়েছে। কেউ জিম্মি হলে পরিবারের সদস্যরা তার পরিচয় ও জীবিত থাকার বিষয়টি যাচাই করতে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রশ্ন ও উত্তর ব্যবহার করতে পারবেন।   সবচেয়ে অস্বাভাবিক পরামর্শগুলোর একটি হলো - ভ্রমণের আগে নিজের চিকিৎসকের কাছে ডিএনএ নমুনা রেখে যাওয়া। পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, কোনো দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির ঘটনায় পরিচয় শনাক্ত করার প্রয়োজন হলে পরিবারের জন্য এই নমুনা কাজে লাগতে পারে। পরিবারের কাছে ডেন্টাল রেকর্ড রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ নথি ও প্রয়োজনীয় লগইন তথ্য বিশ্বস্ত স্বজনের সঙ্গে শেয়ার করা, যোগাযোগের পরিকল্পনা তৈরি করা এবং প্রয়োজন হলে পেশাদার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর।   সরকারের ভ্রমণ সতর্কতার তালিকায় লিবিয়া বর্তমানে লেভেল-৪: ডু নট ট্রাভেল পর্যায়ে রয়েছে। একই স্তরের সতর্কতায় থাকা দেশ বা অঞ্চলের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত ভ্রমণকারীদের সম্ভাব্য ঝুঁকি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে বলে।   সোর্স: U.S. State Department Travel Advisories⁠

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৪:০
সরকারে দুর্নীতি ব্যাপক মনে করেন ৮৯% মার্কিন নাগরিক
সরকারে দুর্নীতি ব্যাপক মনে করেন ৮৯% মার্কিন নাগরিক, গ্যালাপের জরিপ

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি দুর্নীতি নিয়ে মানুষের উদ্বেগ দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গ্যালাপের নতুন জরিপে ৮৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বলেছেন, দেশটির সরকারে দুর্নীতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে আছে।   গত বছরের তুলনায় এ হার বেড়েছে ১০ শতাংশ পয়েন্ট। ২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত একই প্রশ্নে এই হার সাধারণত ৭২ থেকে ৭৯ শতাংশের মধ্যে ছিল।   দলীয় বিভাজনেও এবার বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সরকারি দুর্নীতিকে ব্যাপক মনে করার হার সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। ২০২৪ সালে জো বাইডেনের প্রেসিডেন্টের শেষ বছরে ৫৭ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এমনটা মনে করলেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৭৬ শতাংশ এবং চলতি বছরে ৯১ শতাংশে পৌঁছেছে।   স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে এই হার ৯০ শতাংশ। ২০২৪ সালের তুলনায় তাদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে ১২ শতাংশ পয়েন্ট। রিপাবলিকানদের মধ্যে ৮৩ শতাংশ সরকারি দুর্নীতিকে ব্যাপক বলে মনে করেন।   গ্যালাপের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ডেমোক্র্যাটদের দুর্নীতি নিয়ে ধারণা হোয়াইট হাউস কোন দলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তার সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত বলে মনে হচ্ছে। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের মতামত তুলনামূলকভাবে স্থির থাকায় তাদের উদ্বেগ ক্ষমতাসীন দলের ওপর কম নির্ভরশীল হতে পারে।   শুধু সরকার নয়, ব্যবসায়িক খাত নিয়েও দুর্নীতির উদ্বেগ বেড়েছে। ৭১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বলেছেন, ব্যবসায়িক খাতেও দুর্নীতি ব্যাপক। গত বছরের তুলনায় এই হার বেড়েছে ৮ শতাংশ পয়েন্ট। তবে সরকার ও ব্যবসার মধ্যে দুর্নীতির ধারণাগত ব্যবধান এখন ১৮ শতাংশ পয়েন্ট, যা যুক্তরাষ্ট্রের জরিপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ।   গ্যালাপের দীর্ঘমেয়াদি তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি দুর্নীতিকে ব্যাপক মনে করার হার ব্যবসায়িক দুর্নীতির তুলনায় গড়ে ১১ শতাংশ পয়েন্ট বেশি ছিল। চলতি বছরে এই ব্যবধান আরও বড় হয়েছে।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাজনৈতিক মতভেদ থাকা সত্ত্বেও সরকারি দুর্নীতি নিয়ে ডেমোক্র্যাট, রিপাবলিকান ও স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। ফলে সরকারে দুর্নীতি নিয়ে মানুষের অসন্তোষ এখন দলীয় সীমারেখাও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
নেপালে ভয়াবহ ভূমিধসে ৬৫ মার্কিন নাগরিকসহ নিখোঁজ ১ হাজার ৪০০, নি হত ৩৬০
নেপালে ভয়াবহ ভূমিধসে ৬৫ মার্কিন নাগরিকসহ নিখোঁজ ১ হাজার ৪০০, নি হত ৩৬০

নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট আকস্মিক প্রলয়ংকরী বন্যা ও কাদার স্রোতে নিহতের সংখ্যা ৩৬০ ছাড়িয়েছে। এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৪০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে ৬৫ জন মার্কিন নাগরিক রয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছে নেপালের পর্যটন বোর্ড।   গত বুধবার নেপালের নুয়াকোট এবং রাসুওয়া জেলাসহ তিব্বতের বিস্তীর্ণ এলাকায় এই বিপর্যয় আঘাত হানে, যা চোখের পলকে ভাসিয়ে নিয়ে যায় বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, সেতু ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।   নেপাল পুলিশের তথ্যমতে, নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন ১১৩ জন নেপালি পর্যটক, ৮৫ জন সেনা ও পুলিশ সদস্য এবং ১৬১ জন স্থানীয় বাসিন্দা। অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতের জিরং পোর্টের কাছে আরও ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৬০ জনই বিদেশি নাগরিক।   এই পরিস্থিতিতে নেপাল ও চীনের সীমান্তজুড়ে উদ্ধারকর্মীরা জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন। এরই মধ্যে নেপালের সেনাবাহিনী হেলিকপ্টারের মাধ্যমে বন্যাদুর্গত এলাকা থেকে শতাধিক মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে। এছাড়া আটজন বিদেশি নাগরিককে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানী কাঠমান্ডুতে পাঠানো হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, অন্তত ৯০ জন মার্কিন নাগরিক এই দুর্যোগের কবলে পড়ে থাকতে পারেন বলে তারা আশঙ্কা করছে। তবে এখন পর্যন্ত তিনজন মার্কিন নাগরিককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং কোনো মার্কিনি নিহত হওয়ার খবর এখনও পাওয়া যায়নি।   দীপক দান্ডু নামের এক মার্কিন নাগরিক সংবাদমাধ্যমকে জানান, কৈলাস পর্বতে তীর্থযাত্রা শেষে ফেরার পথে তার স্ত্রী শ্রীদেবী ভেজেল্লা এই বন্যার কবলে পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নেপালের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে এই সংকটময় মুহূর্তে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।   পাশাপাশি ক্যাথলিক রিলিফ সার্ভিসেসকে ৫ লাখ ডলারের অনুদান দেওয়ার কথা জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।এদিকে, তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামাও এই প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।   প্রাথমিকভাবে ৪.৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্পকে এই বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে সন্দেহ করা হলেও, মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন যে, এটি কোনো ভূমিকম্প ছিল না। মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ৫.২ মাত্রার তীব্রতা সম্পন্ন একটি বিশাল হিমবাহ ধসে পড়ার কারণেই এই আকস্মিক ও প্রলয়ংকরী বন্যার সৃষ্টি হয়।   এর আগে গত বছরও একই নদী ব্যবস্থায় হিমবাহের হ্রদ উপচে পড়ে ভয়াবহ বন্যার ঘটনা ঘটেছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমালয়ের হিমবাহগুলো আগের চেয়ে দ্বিগুণ দ্রুতগতিতে গলছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার এই ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলের লাখো মানুষের জীবন ও ভবিষ্যতের জন্য এক মারাত্মক অশনিসংকেত।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১৪:০
পর্যটকবাহী সাফারি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত
পর্যটকবাহী সাফারি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে পাঁচ মার্কিন নাগরিকসহ নি হত ৭

কেনিয়ায় সাফারি ভ্রমণের সময় পর্যটকবাহী একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে পাঁচ মার্কিন নাগরিকসহ আরোহী সাতজনের সবাই নিহত হয়েছেন। বুধবার উত্তর কেনিয়ার প্রত্যন্ত সামবুরু কাউন্টির মাউন্ট ওলোলোকওয়ের পাদদেশে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। কেনিয়া সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১৩ মিনিটে লইসাবা কনজারভেন্সি থেকে ইওয়াসো নায়িরো এলাকায় যাওয়ার পথে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়।   উড়োজাহাজটিতে ছয়জন যাত্রী ও একজন পাইলট ছিলেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নিহতদের মধ্যে পাঁচজন আমেরিকান নাগরিক থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে।   নিহতদের মধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব রয়েছেন। মার্কিন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এনবিসিইউনিভার্সাল জানিয়েছে, তাদের প্রতিষ্ঠান টেলেমুন্ডো ৩১, টেলেমুন্ডো ৪৯ এবং টেলেমুন্ডো ফোর্ট মায়ার্স-নেপলসের প্রেসিডেন্ট ও জেনারেল ম্যানেজার হোসে আলবার্তো সুয়ারেজ এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।   প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তাঁকে একজন শ্রদ্ধেয় নেতা ও অভিভাবক হিসেবে স্মরণ করে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইকুয়েডরের পরিবহনমন্ত্রী রবার্তো লুকে নিশ্চিত করেছেন যে, দুর্ঘটনায় তাদের দেশের জাতীয় গোয়েন্দাপ্রধান মিশেল সেন্সি-কন্তুগি এবং তাঁর স্ত্রী স্তেফানিও নিহত হয়েছেন।   স্থানীয় ট্রাভেল কোম্পানি '&বিয়ন্ড'-এর অতিথিদের নিয়ে লেডি লরি হেলিকপ্টারস কোম্পানির ইউরোকপ্টার ইসি১৩০ বি৪ মডেলের চার্টার্ড বিমানটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিল। কেনিয়া রেড ক্রস জানিয়েছে, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল এবং দুর্ঘটনাস্থলে আগুন জ্বলে ওঠার কারণে উদ্ধার তৎপরতা বেশ ব্যাহত হয়। স্থানীয় সাফারি অপারেটর ট্রপিক এয়ারের দুটি হেলিকপ্টার অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে সহায়তা প্রদান করে।   বিমান দুর্ঘটনাটির কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে কেনিয়া সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে পর্যটক পরিবহনে অভ্যন্তরীণ বিমান ও হেলিকপ্টার ব্যবহারের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এমন দুর্ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৪:০
বাবা-মাকে ডিপোর্ট করল আইস, ১৩ বছরের বোনের দায়িত্ব এখন ১৯ বছরের মার্কিন তরুণীর
বাবা-মাকে ডিপোর্ট করল আইস, ১৩ বছরের বোনের দায়িত্ব এখন ১৯ বছরের মার্কিন তরুণীর

যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া দুই বোনই মার্কিন নাগরিক। কিন্তু তাদের বাবা-মাকে আইস আটক করে হন্ডুরাসে ডিপোর্ট করার পর মুহূর্তেই বদলে গেছে তাদের জীবন। মাত্র ১৯ বছর বয়সী বড় বোনকে এখন নিজের জীবন সামলানোর পাশাপাশি ১৩ বছরের ছোট বোনের অভিভাবকের দায়িত্বও নিতে হচ্ছে। প্রায় এক বছর ধরে বাবা-মাকে ছাড়াই টেক্সাসে বসবাস করছে দুই বোন। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে পরিবারটির এই কঠিন বাস্তবতা।   বাবা-মায়ের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের কারণে দুই বোনের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। কারণ তারা জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক। কিন্তু বাবা-মা ডিপোর্ট হয়ে যাওয়ার পর বড় বোনের ওপর এসে পড়েছে ছোট বোনের দৈনন্দিন দেখাশোনা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব। নিজের পড়াশোনা, কাজ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার বয়সেই তাকে কার্যত একজন অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে হচ্ছে।   এই ঘটনা এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে জোরদার হওয়া অভিবাসন অভিযানের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের ওপর কতটা পড়ছে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। বাবা-মা অনথিভুক্ত অভিবাসী হলেও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তান সাধারণত জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক। ফলে অভিভাবক ডিপোর্ট হলে অনেক পরিবারকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে - সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে থাকবে, নাকি বাবা-মায়ের সঙ্গে অন্য দেশে চলে যাবে।   এই সংকটের ব্যাপ্তি বোঝাতে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সাম্প্রতিক গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ একটি চিত্র সামনে এনেছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তর থেকে প্রায় ৪ লাখ অভিবাসীকে গ্রেপ্তারের পর ইমিগ্রেশন হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। গবেষকদের মডেলভিত্তিক অনুমান অনুযায়ী, এসব আটকের কারণে প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার শিশু তাদের অন্তত একজন অভিভাবকের আইস হেফাজতে যাওয়ার পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে।   গবেষণাটির হিসাবে, এই শিশুদের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজারই মার্কিন নাগরিক। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, ২২ হাজারের বেশি মার্কিন নাগরিক শিশুর একই বাড়িতে বসবাসকারী সব অভিভাবকই আটক হয়েছেন বলে গবেষকেরা অনুমান করেছেন। এসব শিশুর একটি উল্লেখযোগ্য অংশের বয়স খুবই কম। ফলে অভিভাবকের আকস্মিক আটক শুধু একটি ইমিগ্রেশন মামলাই নয়, পুরো পরিবারের দৈনন্দিন জীবন ও শিশুদের ভবিষ্যৎকেও বদলে দিচ্ছে।   তবে ১ লাখ ৪৫ হাজারের সংখ্যাটি সরাসরি আইস বা অন্য কোনো সরকারি সংস্থার গণনা নয়। ব্রুকিংস ইমিগ্রেশন হেফাজতের তথ্যের সঙ্গে আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভের জনমিতিক তথ্য মিলিয়ে এই অনুমান তৈরি করেছে। গবেষকদের বক্তব্য, সরকারি তথ্যে আটক ব্যক্তিদের সন্তান সম্পর্কিত তথ্য সব ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গভাবে নথিভুক্ত না হওয়ায় প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝার জন্য মডেলভিত্তিক হিসাব ব্যবহার করতে হয়েছে।   আইসের নিজস্ব নীতিতেও আটক ব্যক্তির পিতামাতা বা আইনি অভিভাবক হওয়ার বিষয়টি শনাক্ত করার নির্দেশনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আটক ব্যক্তির সন্তান আছে কি না এবং তাদের দেখাশোনার ব্যবস্থা কী হবে, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের কথা। তবে গবেষণায় বলা হয়েছে, বাস্তবে সব ক্ষেত্রে এই তথ্য পূর্ণাঙ্গভাবে সংগ্রহ হয় না। আবার সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে কিছু অভিবাসীও বিস্তারিত তথ্য দিতে দ্বিধা করেন।   আইনগতভাবে এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। কোনো ব্যক্তির সন্তান মার্কিন নাগরিক হলেই সেই সন্তানের অনথিভুক্ত বাবা-মা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিপোর্টেশন থেকে সুরক্ষা পান না। একইভাবে বাবা-মায়ের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বা তাদের ডিপোর্টেশনের কারণে মার্কিন নাগরিক সন্তানের নাগরিকত্বও বাতিল হয় না। ফলে একই পরিবারের বাবা-মা ও সন্তানদের আইনি অবস্থান সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে।   এই আইনি বাস্তবতাই অনেক পরিবারকে সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তের সামনে দাঁড় করাচ্ছে। বাবা-মা আটক বা ডিপোর্ট হলে সন্তানদের দেখাশোনার জন্য দ্রুত আত্মীয়, প্রাপ্তবয়স্ক ভাই-বোন অথবা বিশ্বস্ত কোনো ব্যক্তিকে দায়িত্ব নিতে হতে পারে। এমন ব্যবস্থা সম্ভব না হলে কোনো কোনো পরিস্থিতিতে শিশু সুরক্ষা সংস্থার সম্পৃক্ততার প্রয়োজন হতে পারে। অতীতেও অভিভাবকের আটক বা ডিপোর্টেশনের পর শিশুদের ফস্টার কেয়ারে যাওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।   টেক্সাসের দুই বোনের ঘটনাটি তাই শুধু একটি পরিবারের বিচ্ছেদের গল্প নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অভিবাসন অভিযানের এমন একটি দিক এটি, যেখানে আইসের অভিযানের সরাসরি লক্ষ্য না হয়েও মার্কিন নাগরিক শিশুরা তার বড় প্রভাব বহন করছে। একজন অভিভাবককে আটক বা ডিপোর্ট করার পর সেই পরিবারের বাসস্থান, আয়, স্কুল, মানসিক স্থিতি এবং শিশুদের দেখাশোনার পুরো ব্যবস্থাই মুহূর্তে বদলে যেতে পারে।   মাত্র ১৯ বছর বয়সে যে তরুণীর নিজের পড়াশোনা, চাকরি ও ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার কথা, তাকেই এখন ১৩ বছরের ছোট বোনের দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। অন্যদিকে তাদের বাবা-মা রয়েছেন হন্ডুরাসে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়ায় দুই বোন নিজেদের দেশে থাকার অধিকার ধরে রেখেছে, কিন্তু সেই অধিকারের সঙ্গে তাদের সামনে এসেছে বাবা-মাকে ছাড়া জীবন চালিয়ে যাওয়ার কঠিন বাস্তবতা।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন নাগরিক ডেনা কারারি , ছবি: সংগৃহীত
৫৬৬ দিন ইরানের কারাগারে, অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরলেন মার্কিন নাগরিক ডেনা কারারি

ইরানে ৫৬৬ দিন আটক থাকার পর অবশেষে নিজ দেশে ফিরেছেন মার্কিন নাগরিক ডেনা কারারি। গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তাকে আটক করা হলেও যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই দাবি করে আসছিল, তিনি ভুলভাবে আটক ছিলেন।   যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে আবেগঘন পুনর্মিলন ঘটে কারারির। দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর দেশে ফিরতে পেরে তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন।   মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, কারারিকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে মুক্ত করা হয়েছে। তবে মুক্তির বিনিময়ে কোনো সমঝোতা বা বন্দি বিনিময় হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।   অন্যদিকে, ইরান অতীতে দাবি করে এসেছে যে, ডেনা কারারির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তাকে নির্দোষ বলে দাবি করেছে।   ডেনা কারারির মুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে মার্কিন প্রশাসন বলেছে, বিদেশে আটক থাকা মার্কিন নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার হিড়িক, ইউরোপমুখী হাজারো মার্কিনি

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের নীতি, রাজনৈতিক মেরুকরণ, অভিবাসন অভিযান এবং নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে উদ্বেগের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ইউরোপে পাড়ি দিচ্ছেন রেকর্ডসংখ্যক মার্কিন নাগরিক। সাম্প্রতিক একাধিক তথ্য ও স্বাধীন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশত্যাগের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইউরোপে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা করছেন এমন মানুষের সংখ্যা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকেই পর্তুগাল, স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি ও আয়ারল্যান্ডকে নতুন ঠিকানা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। প্রতিবেদনে নিউইয়র্কের ৭৮ বছর বয়সী টি জে মালোনের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। তিনি চলতি বছরের শেষ দিকে পর্তুগালের আলগারভ অঞ্চলে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ, বন্দুক সহিংসতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তাকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।  দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় এক লাখ ৫০ হাজার মানুষের নিট জনসংখ্যা হ্রাস ঘটেছে। ১৯৩০-এর দশকের মহামন্দার পর এটিই প্রথমবারের মতো দেশটি নিট অভিবাসন হ্রাসের মুখে পড়েছে।  প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অনেক মার্কিন নাগরিকের কাছে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, তুলনামূলক নিরাপদ জীবন, কম রাজনৈতিক বিভাজন, উন্নত কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য এবং শান্ত পরিবেশ ইউরোপে যাওয়ার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ইউরোপের কয়েকটি দেশে দীর্ঘমেয়াদি ভিসা, অবসরজীবন ও দূর থেকে কাজের সুযোগও এই প্রবণতাকে উৎসাহিত করছে।    সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মার্কিন নাগরিকদের আবাসন, নাগরিকত্ব ও দীর্ঘমেয়াদি বসবাসসংক্রান্ত আবেদনও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে পর্তুগাল ও দক্ষিণ ইউরোপের কয়েকটি দেশ মার্কিন নাগরিকদের কাছে জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।    দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবার খরচ এবং সামাজিক পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। এসব কারণ একত্রে অনেক মার্কিন নাগরিককে নতুন জীবন শুরু করার জন্য ইউরোপের দিকে ঝুঁকতে উৎসাহিত করছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনতে লাগবে না ডাউন পেমেন্ট I ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনতে লাগবে না ডাউন পেমেন্ট, বিশেষ ঋণ সুবিধা দিচ্ছে সরকার

যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে বাড়ি কেনা অনেকের জন্যই একটি দুঃসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আরবান ইন্সটিটিউটের তথ্যমতে, প্রায় অর্ধেক মার্কিন নাগরিকের জন্য দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশটিতে একটি বাড়ির গড় দাম বর্তমানে ৫ লাখ ১৪ হাজার ৬০০ ডলারের রেকর্ড ছুঁয়েছে, যা ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো বা ফ্লোরিডার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে আরও অনেক বেশি। প্রচলিত মর্টগেজ নিয়মে ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট বা প্রায় ১ লাখ ডলার নগদ জমা করা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এক প্রকার অসম্ভব কাজ।   আর এর চেয়ে কম ডাউন পেমেন্ট দিলে ক্রেতাদের ঘাড়ে চাপে অতিরিক্ত 'প্রাইভেট মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্স' বা পিএমআই-এর বোঝা। তবে এই কঠিন পরিস্থিতিতেও যোগ্য ক্রেতাদের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ ভেটেরান অ্যাফেয়ার্স (ভিএ) এবং ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচারের (ইউএসডিএ) শূন্য ডাউন পেমেন্ট মর্টগেজ সুবিধা।   সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং ভেটেরানদের আবাসন ব্যয় কমাতে ১৯৪৪ সালে জিআই বিলের অধীনে ভিএ জিরো-ডাউন পেমেন্ট ঋণ কর্মসূচি চালু করে মার্কিন সরকার। এই সুবিধার আওতায় যোগ্য প্রার্থীরা কোনো ডাউন পেমেন্ট ছাড়াই ঋণ গ্রহণ করতে পারেন। এতে পিএমআই ফি মওকুফ থাকায় প্রতি মাসে ক্রেতাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হয়। ভেটেরানস ইউনাইটেড হোম লোনস-এর মর্টগেজ ইনসাইট বিভাগের ভিপি ক্রিস বার্কের মতে, নমনীয় ক্রেডিট আন্ডাররাইটিং এবং ধারাবাহিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক সুদের হারের কারণে এটি আবাসন বাজারের অন্যতম শক্তিশালী একটি অর্থায়ন বিকল্প।   এই সুবিধা পেতে প্রার্থীদের ন্যূনতম ক্রেডিট স্কোর সাধারণত ৬২০ হতে হয়, তবে অনেক ক্ষেত্রে তা ৫৫০ পর্যন্তও শিথিলযোগ্য। এছাড়া আবেদনকারীর একটি 'সার্টিফিকেট অফ এলিজিবিলিটি' বা সিওই থাকা বাধ্যতামূলক। যোগ্য ভেটেরানদের পাশাপাশি শর্তসাপেক্ষে তাদের অবিবাহিত বিধবা স্ত্রীরাও এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন এবং এমনকি 'জাম্বো লোন'-এর ক্ষেত্রেও কোনো ডাউন পেমেন্ট ছাড়াই তারা আবেদন করার সুযোগ পান।   অন্যদিকে, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতাদের জন্য গ্রামীণ বা শহরতলী এলাকায় সাশ্রয়ী মূল্যে বাড়ি কেনার সুযোগ করে দেয় ইউএসডিএ ঋণ। নেইবারস ব্যাংকের হোমবায়ার এডুকেশন ডিরেক্টর অ্যাশলে হ্যারিসের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ৯৭ শতাংশ ভূখণ্ডই এই সুবিধার আওতাভুক্ত, যার ফলে অনেক সাধারণ মানুষ সহজেই এর সুবিধা নিতে পারেন।   এই ঋণেও কোনো ডাউন পেমেন্ট লাগে না এবং ব্যয়বহুল পিএমআইয়ের ঝামেলা নেই, তবে সামান্য একটি অগ্রিম ফি যুক্ত থাকে। ইউএসডিএ ঋণ পাওয়ার জন্য আবেদনকারীর মোট পারিবারিক আয় স্থানীয় গড় আয়ের ১১৫ শতাংশের নিচে হতে হয় এবং স্বয়ংক্রিয় অনুমোদনের জন্য ক্রেডিট স্কোর অন্তত ৬৪০ প্রয়োজন হয়। এছাড়াও শর্ত থাকে যে, কেনা বাড়িটিকে অবশ্যই আবেদনকারীর প্রাথমিক বাসস্থান বা 'প্রাইমারি রেসিডেন্স' হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।   তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, 'শূন্য ডাউন পেমেন্ট' মানেই যে পকেট থেকে কোনো অর্থ খরচ হবে না, বিষয়টি এমন নয়। ভিএ লোনের ক্ষেত্রে ১.২৫ থেকে ৩.৩ শতাংশ পর্যন্ত ফান্ডিং ফি দিতে হতে পারে, যা সাধারণত মূল ঋণের সাথে যুক্ত করা যায়। পাশাপাশি ক্লোজিং কস্ট, হোম ইন্সপেকশন বা প্রপার্টি অ্যাপ্রাইজালের মতো খরচগুলো ক্রেতাকেই বহন করতে হয়, তবে এক্ষেত্রে বিক্রেতার সাথে আলোচনার মাধ্যমে খরচ কিছুটা সমন্বয় করার সুযোগ থাকে। এছাড়া শূন্য ডাউন পেমেন্টে বাড়ি কিনলে শুরুতে কোনো ইকুইটি থাকে না।   ফলে হঠাৎ বাড়ির দাম কমে গেলে বা দ্রুত বিক্রি করতে বাধ্য হলে ঋণের পরিমাণ বাড়ির বর্তমান মূল্যের চেয়ে বেশি হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, যাকে 'নেগেটিভ ইকুইটি' বলা হয়। তা সত্ত্বেও, দেশের প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত কর্মীদের এবং সাধারণ মানুষের মাথার ওপর ছাদ নিশ্চিত করতে এই মর্টগেজ সুবিধাগুলো নিঃসন্দেহে এক অনন্য সুযোগ হিসেবে কাজ করছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৪:০
গ্রিন কার্ডের আবেদন করার ঠিক এক দিন পরই টেক্সাসে ২০ বছর বয়সী মেক্সিকান সংগীতশিল্পী হার্বার্ট ইবারাকে আটক করেছে আইসিই। ছবি: এপি
গ্রিন কার্ডের আবেদন করার পরদিনই মার্কিন নাগরিকের স্বামীকে আটক করল আইসিই

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) টেক্সাসে মারিয়াচি ব্যান্ডের এক ২০ বছর বয়সী মেক্সিকান সংগীতশিল্পীকে আটক করেছে। হার্বার্ট ক্যালেথ ইবারা কাস্ত্রো নামের ওই তরুণ একজন মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করেছেন। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, বৈধভাবে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য বা গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদনপত্র জমা দেওয়ার ঠিক এক দিন পরই তাকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আটক করে। গত জুনের শেষ সপ্তাহে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি এখন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   আইসিই-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে আটক হওয়া ওই তরুণ মেক্সিকো থেকে আসা একজন অবৈধ অভিবাসী। বর্তমানে তাকে বহিষ্কার বা ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে টেক্সাসের পিয়ারসলের একটি ডিটেনশন সেন্টারে হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে এই আটকের ঘটনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ডেমোক্রেটিক রিপ্রেজেন্টেটিভ জোয়াকিন কাস্ত্রো। তিনি জানান, মেক্সিকোর সহিংসতা থেকে বাঁচতে ইবারার পরিবার যখন তাকে ৪ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসে। কাস্ত্রো আরও অভিযোগ করেন যে ডিটেনশন সেন্টারের এক কর্মী ইবারাকে উদ্দেশ্য করে ঠাট্টা করে বলেছেন, “আমাকে একটি গান গেয়ে শোনালে তোমাকে ছেড়ে দেব।”   গত ২৫ জুন একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠানে মারিয়াচি ব্যান্ডের হয়ে পারফর্ম করে বাড়ি ফেরার পথে ইবারাকে আটক করা হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে দেশজুড়ে অবৈধ অভিবাসী বিতাড়ন এবং কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বাড়ানোর যে নীতি নেওয়া হয়েছে, এটি তারই অংশ। আইনজীবীরা এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে গ্রিন কার্ডের আবেদনকারী বা মার্কিন নাগরিকদের স্বামী-স্ত্রীদেরও এভাবে আটক করার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এক তথ্যে জানা গেছে, জুনের শেষে মাত্র পাঁচ দিনে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে গ্রেফতার করেছে আইসিই।   ইবারার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আটক হওয়ার ঠিক আগের দিনই তিনি গ্রিন কার্ড বা স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য নিয়মমাফিক আবেদন করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে মার্কিন নাগরিকদের বিয়ে করা গ্রিন কার্ড পাওয়ার অন্যতম প্রধান ও সাধারণ একটি মাধ্যম হওয়া সত্ত্বেও তার ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। তবে ডিটেনশন সেন্টারে থাকা অবস্থাতেও গত ৪ঠা জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ইবারা বন্দিশালায় মার্কিন জাতীয় সঙ্গীত “দ্য স্টার-স্প্যাংগেল্ড ব্যানার” গেয়ে শুনিয়েছেন বলে তার আইনজীবী নিশ্চিত করেছেন।   অবশেষে গত বুধবার ইবারার দুটি আদালতের শুনানির পর তার আইনজীবী দল নিশ্চিত করেছে যে ইমিগ্রেশন বিচারক তার জামিনের অনুরোধ মঞ্জুর করেছেন। জামিনের অর্থ পরিশোধ করার পর আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি মুক্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন টেক্সাসের হিউস্টনে আইসিই এজেন্টের গুলিতে একজন মেক্সিকান নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে পুরো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।   হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) অবশ্য তাদের কড়া অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছে যে যারা অবৈধভাবে আছেন, তাদের সরকারের পক্ষ থেকে ২৬০০ ডলার এবং বিনামূল্যে বিমানের টিকিট দিয়ে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। এই সুযোগ না নিলে তাদেরকে গ্রেফতার ও স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে।

তাবাস্সুম জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
বিমানবন্দরে আবেগঘন বিদায়—মার্কিন নাগরিক সন্তানকে জড়িয়ে ধরেছেন অভিবাসী মা I ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন নাগরিক চার সন্তানকে রেখে ৩০ বছর পর চোখের জলে বিদায় নিলেন অভিবাসী মা

প্রায় তিন দশক যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পর শেষ পর্যন্ত দেশ ছাড়তে হলো গুয়াতেমালার নাগরিক ওলগা পেরেজকে। সোমবার ফ্লোরিডা থেকে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানাতে আসা পরিবারের সদস্যদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। বিশেষ করে তার চার মার্কিন নাগরিক সন্তানের অশ্রুসিক্ত বিদায়ের দৃশ্য যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসন নীতির মানবিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওলগা পেরেজ প্রায় ৩০ বছর ধরে দক্ষিণ ফ্লোরিডায় বসবাস করছিলেন। এই সময়ে তিনি চার সন্তানের জননী হন। তার সন্তানরা সবাই যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়ায় মার্কিন নাগরিক। দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্থানীয় আদিবাসী গুয়াতেমালান সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং ‘মাম’ ভাষার দোভাষী হিসেবে আদালত, হাসপাতাল ও বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে সহায়তা দিয়েছেন।   গত বছরের শেষ দিকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে অ্যারিজোনার একটি ডিটেনশন সেন্টারে পাঠায়। কয়েক মাস ধরে আইনি লড়াই চললেও শেষ পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বৈধ সুযোগ পাননি। পরবর্তীতে জোরপূর্বক বহিষ্কারের পরিবর্তে স্বেচ্ছায় গুয়াতেমালায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।   বিদায়ের আগে বিমানবন্দরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আবেগঘন মুহূর্ত কাটান ওলগা পেরেজ। সন্তানদের জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। উপস্থিত স্বজন ও সহকর্মীরাও তাকে বিদায় জানাতে এসে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুয়াতেমালায় পৌঁছে প্রথমে একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় অবস্থান করবেন ওলগা পেরেজ। পরে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করবেন। তার সন্তানরা সুযোগ হলে মায়ের সঙ্গে দেখা করতে গুয়াতেমালায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।   এর আগে চলতি বছর তার স্বামীও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত হন। ফলে পরিবারের দুই অভিভাবকই এখন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে, আর চার সন্তানকে দেশেই থেকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে।   অভিবাসন অধিকারকর্মীদের মতে, ওলগা পেরেজের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের হাজারো ‘মিশ্র-অভিবাসন’ পরিবারের বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। এসব পরিবারের সন্তানরা মার্কিন নাগরিক হলেও বাবা বা মায়ের অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি জটিলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম পাম বিচ পোস্টের প্রতিবেদনে প্রকাশিত বিদায়ের ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই ঘটনাটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির মানবিক দিক নিয়ে নতুন করে ভাবার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভিবাসন নীতিতে প্রভাব পড়ছে মার্কিন নাগরিকের বিদেশি জীবনসঙ্গীদের ওপর। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলেই আর মিলছে না আগের সুবিধা, বদলে যাচ্ছে অভিবাসন নীতি

মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে বৈধভাবে বিবাহিত বিদেশি নাগরিকরা দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে বিশেষ অগ্রাধিকার পেয়ে আসছিলেন। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে নেওয়া একাধিক কঠোর অভিবাসন নীতির ফলে সেই সুবিধা এখন অনেকটাই সীমিত হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন অভিবাসন আইনজীবী, অধিকারকর্মী এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। তাদের দাবি, নতুন নীতির কারণে অনেক পরিবার বিচ্ছিন্ন হচ্ছে, আবেদন প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠছে এবং বৈধ অভিবাসনের পথেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমন তথ্য উঠে এসেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনপিআরের এক প্রতিবেদনে।   ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই বৈধ ও অবৈধ উভয় ধরনের অভিবাসন কমানোর লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন নীতিগত পরিবর্তন আনে। এর মধ্যে রয়েছে ৭৫টিরও বেশি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা স্থগিত রাখা, গ্রিন কার্ড সাক্ষাৎকারে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই, আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের আরও বিস্তৃত তদন্ত এবং যাদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, তাদের পরিধি বাড়ানো।   অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, আগে মার্কিন নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রীকে সাধারণ অভিবাসীদের তুলনায় আইনি দৃষ্টিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতো। তারা অভিবাসী কোটার আওতায় পড়তেন না এবং অনেক ক্ষেত্রেই অভিবাসন প্রক্রিয়ায় কিছু আইনি সুবিধা পেতেন। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন এই শ্রেণিকেও অন্যান্য অভিবাসীদের মতো একইভাবে বিবেচনা করছে।   আমেরিকান ফ্যামিলিজ ইউনাইটেড-এর নির্বাহী পরিচালক অ্যাশলি ডি'আজেভেদো বলেন, "যেসব মার্কিন নাগরিক বিদেশে জন্ম নেওয়া কাউকে বিয়ে করেছেন, তাদের জীবন এখন অনেক বেশি কঠিন হয়ে গেছে।" তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে সংগঠনটির সদস্যসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৪ লাখ এবং দেশের বাইরে আরও প্রায় ৩ লাখ মানুষ তাদের সহায়তা চাইছেন।   তিনি জানান, অনির্দিষ্ট সময় আটক থাকার আশঙ্কায় অনেক পরিবার স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে চলে গেছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি জীবনসঙ্গীকে আটকও করা হয়েছে, যা অতীতে খুব কমই দেখা যেত।   অন্যদিকে আমেরিকান ইমিগ্রেশন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শারভারি দালাল-ধেইনি বলেন, মার্কিন সরকার সব সময়ই বিয়ের মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের আবেদন যাচাই করত। তবে আগে এই আবেদনকারীরা সাধারণ অভিবাসন অভিযানের লক্ষ্যবস্তু হতেন না। কারণ আইনে তাদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা ছিল।   তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ভিন্ন। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা (ইউএসসিআইএস)-এর মুখপাত্র জ্যাক কাহলার এনপিআরকে বলেন, গ্রিন কার্ড বা নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের পরিচয়, অতীত এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য কঠোরভাবে যাচাই করা আইনগত বাধ্যবাধকতা। তিনি বলেন, কেবল মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলেই কেউ বহিষ্কার থেকে সুরক্ষা পান না।   তার ভাষায়, আই-১৩০ পারিবারিক আবেদন অনুমোদিত হলেও সেটি নিজে থেকে কোনো অভিবাসন মর্যাদা দেয় না। যারা বৈধ অনুমতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন বা অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, ওই বছর প্রায় ৩ লাখ ৪৩ হাজার মানুষ জীবনসঙ্গীর মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পেয়েছেন। এটি মোট গ্রিন কার্ড অনুমোদনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। সন্তান ও বাবা-মায়ের মতো নিকট আত্মীয়দের যুক্ত করলে এই সংখ্যা আরও অনেক বেড়ে যায়। অর্থাৎ পারিবারিক অভিবাসন এখনো যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ অভিবাসনের অন্যতম প্রধান পথ।   তথ্য অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন আবেদনের গড় নিষ্পত্তি সময় ছিল প্রায় ১৩ মাস এবং বাগদত্তা বা বাগদত্তার ভিসার ক্ষেত্রে প্রায় ৭ মাস। তবে আইনজীবীরা বলছেন, সাম্প্রতিক নীতিগত পরিবর্তনের পর অনেক আবেদনেই অতিরিক্ত বিলম্ব হচ্ছে।   নতুন নীতির প্রভাব পড়েছে সামরিক পরিবারের ওপরও। এনপিআরের প্রতিবেদনে এমন এক নারীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি একজন মার্কিন সেনাসদস্যের স্ত্রী এবং নিজেও দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস করছেন। তিনি এমন একটি দেশের নাগরিক, যা ট্রাম্প প্রশাসনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। ফলে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করলেও তার আবেদন দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে।   ওই নারীর স্বামীকে জার্মানিতে দায়িত্ব পালনের জন্য পাঠানো হবে। কিন্তু তার নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়ায় পুরো পরিবার অনিশ্চয়তায় পড়েছে। বাড়ির কী হবে, তারা একসঙ্গে ভ্রমণ করতে পারবেন কি না এবং দুই মার্কিন নাগরিক সন্তানের ভবিষ্যৎ কী হবে, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মিলছে না।   অভিবাসন আইনজীবী এরিক ওয়েলশ বলেন, বর্তমানে আবেদনকারীদের শুধু বৈবাহিক সম্পর্কের সত্যতাই নয়, ব্যক্তিগত চরিত্র, অতীত জীবন এবং বিভিন্ন অতিরিক্ত তথ্যও জমা দিতে হচ্ছে। আগে যেসব তথ্য সাধারণত বাধ্যতামূলক ছিল না, এখন সেগুলোও চাওয়া হচ্ছে।   তিনি বলেন, অনেক মার্কিন নাগরিক মনে করেন, বিদেশি কাউকে বিয়ে করলেই স্থায়ী বসবাস বা নাগরিকত্ব নিশ্চিত হয়ে যায়। বাস্তবে বিষয়টি কখনোই এমন ছিল না। তবে বর্তমান নীতির কারণে আবেদনকারীরা আগের তুলনায় অনেক বেশি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।   অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, নতুন নীতির ফলে অনেক পরিবার এখন অভিবাসন প্রক্রিয়ায় এগোতেই ভয় পাচ্ছে। কারণ আবেদন করলেই অতিরিক্ত তদন্ত, দীর্ঘসূত্রতা কিংবা আটক হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। ফলে বৈধ উপায়ে অভিবাসনের সুযোগ থাকলেও অনেকেই সেই পথ অনুসরণ করতে দ্বিধায় পড়ছেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
মেক্সিকোতে মার্কিন নাগরিক জাফর মাওয়ানি ও গিয়েরমো ওরতিজ মৃত উদ্ধার | ছবি: ইনস্টাগ্রাম
মেক্সিকোতে নিখোঁজ হওয়া দুই আমেরিকান নাগরিকের লাশ উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো থেকে মেক্সিকো সিটিতে আসা এক নিখোঁজ সমকামী যুগল বা দুই সঙ্গীর মরদেহ মেক্সিকোর রাজধানী সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গত মে মাসে মেক্সিকো সিটির দক্ষিণাঞ্চল থেকে এই দুই ব্যক্তি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গত সপ্তাহে তাদের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি বুধবার নিশ্চিত করেছে তাদের পরিবার। এই ঘটনাটি মেক্সিকোতে চলমান অপরাধমূলক সহিংসতার এক নির্মম চিত্র আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।   নিখোঁজ হওয়া এই দুই ব্যক্তি হলেন ৫৬ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক জাফর পাদামিস মাওয়ানি এবং তার সমবয়সী সঙ্গী গুইলারমো জাফেট হিদালগো ওরতিজ। তারা দুজনেই শিকাগো এবং মেক্সিকো সিটিতে বসবাস করতেন। মেক্সিকান পুলিশ এই অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করার পর এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। পরবর্তীতে আটককৃত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পাহাড়ি অঞ্চলে মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা চারটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করে দেশটির সরকারি আইনজীবীরা।   পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জাফর মাওয়ানির অসুস্থ মায়ের দেখাশোনা করার জন্যই এই দুই সঙ্গী মেক্সিকোতে সাময়িকভাবে অবস্থান করছিলেন। মে মাসে তারা নিখোঁজ হওয়ার পরপরই তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অস্বাভাবিকভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে নেওয়ার প্রমাণ পেয়েছিল শিকাগোর স্থানীয় তদন্তকারী সংস্থা। এই সূত্র ধরেই মেক্সিকান এবং মার্কিন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে তাদের উদ্ধারে তদন্ত শুরু করে। অবশেষে বুধবার মেক্সিকোর জাতীয় প্রশাসন ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে।   জাফরের পরিবারের মুখপাত্র কেট টেইলর এক বিবৃতিতে উদ্ধারকাজে সহায়তাকারী উভয় দেশের গোয়েন্দা সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন এবং বন্ধুদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। মেক্সিকোর সরকারি নিখোঁজ বুলেটিন অনুযায়ী, এই দুই ব্যক্তি যেখানে নিখোঁজ হয়েছিলেন সেই স্থানটি লা মার্কেসা জাতীয় উদ্যানের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। তবে তাদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও কারা এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িত তা এখনও প্রকাশ করেনি স্থানীয় প্রশাসন।   সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মেক্সিকোতে অপরাধমূলক সহিংসতার কারণে বর্তমানে ১ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউম দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশটিতে হত্যাকাণ্ডের হার কিছুটা কমলেও নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। শুধুমাত্র গত মে মাসেই দেশটিতে নতুন করে ৯৭৭ জন মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন বলে সরকারি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   বর্তমানে মেক্সিকোতে বিশ্বব্যাপী ফুটবল বিশ্বকাপ চলার কারণে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। তারা নিখোঁজদের সন্ধানে সরকারের কাছ থেকে আরও বেশি বরাদ্দ এবং কার্যকরী পদক্ষেপ দাবি করছেন। আন্দোলনকারীদের একটি বড় অভিযোগ হলো, নিখোঁজ ব্যক্তিরা বিদেশি নাগরিক হলে প্রশাসন যেভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়, দেশের সাধারণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে সেই তৎপরতা দেখা যায় না।

তাবাস্সুম জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ভাড়া বাড়ির গভীর রাতের পার্টিতে অতিষ্ঠ প্রতিবেশীরা, ক্ষুব্ধ মার্কিন বাসিন্দারা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ফোর্ট লডারডেলের বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা ক্রমেই বাড়ছে। তাদের অভিযোগ—এলাকার স্বল্পমেয়াদি ভাড়া দেওয়া বাড়িগুলো (শর্ট-টার্ম রেন্টাল) প্রতিনিয়ত গভীর রাতে আশেপাশের পাড়া-মহল্লায় বিশৃঙ্খলা এবং অশান্তি ডেকে আনছে।   গত সপ্তাহান্তে এজউড এলাকায় এমনই এক ভাড়া বাড়িতে কয়েক ডজন কিশোর-কিশোরী জড়ো হয়ে এক বিশাল পার্টির আয়োজন করে। গভীর রাত পর্যন্ত চলা এই হট্টগোলের পর পুলিশ গিয়ে পার্টিটি ভেঙে দেয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি এবং পুলিশ জানিয়েছে, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই তারা চলে গেছে।   আরও পড়ুন... টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   তবুও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি—এই ধরনের ঝামেলা এখন নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওই বাড়ির ঠিক পাশেই থাকা ট্যামি ওয়াশবার্ন বলেন, "আমি তাদের সরাসরি বলেছি যে অনেক হয়েছে, এবার এই বাচ্চাদের এখান থেকে বিদায় করো। কারণ তখন রাত প্রায় একটা বাজতে চলেছিল।" তিনি জানান, শনিবার রাতে প্রায় ৫০ জনের মতো কিশোর-কিশোরী তার পুরো রাস্তা জুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। তারা প্রতিবেশীদের লনে মলমূত্র ত্যাগ করে এবং ময়লা-আবর্জনা ফেলে চারপাশ নোংরা করে দেয়।   রিভার ওকস সিভিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি টেড ইনসেরা বলেন, "ভাড়াটিয়াদের এমন আচরণ পুরো এলাকার মানুষের প্রতি চরম অশ্রদ্ধা। অনিয়ন্ত্রিত ভাড়াটেদের বিরুদ্ধে বাসিন্দাদের অভিযোগ দিন দিন বাড়ছে।" সিভিক অ্যাসোসিয়েশনের এক বৈঠকে কোড এনফোর্সমেন্ট অফিসাররা জানান, ফোর্ট লডারডেলে এমন একটি অভিযোগ ব্যবস্থা রয়েছে যার মাধ্যমে তিনটি নিয়ম লঙ্ঘনের পর ওই শর্ট-টার্ম রেন্টাল বাড়ির লাইসেন্স বা কার্যক্রম স্থগিত করা যেতে পারে।   নিউইয়র্কের নতুন কর প্রস্তাবে কো-অপ মালিকদের বড় সংকট | New York | Property Tax | America Bangla   তবে বাসিন্দাদের অনেকেই মনে করছেন, শুধু সরকারি নিয়মই যথেষ্ট নয়, বাড়ির মালিকদেরও দায়িত্ব নেওয়া উচিত। টেড ইনসেরা আরও যোগ করেন, "মালিকদের পক্ষ থেকে কোনো তদারকি নেই। মনে হচ্ছে, টাকা পেলেই তারা যে কাউকে ঘরে ঢুকতে দিচ্ছে।"   এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে সিবিএস নিউজ মিয়ামির পক্ষ থেকে বাড়ির মালিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন কেটে দেন। তবে ফোর্ট লডারডেল পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, স্বয়ং বাড়ির মালিকই পার্টি ভাঙার জন্য শেষ পর্যন্ত পুলিশের সাহায্য চেয়েছিলেন। প্রতিবেশীরা জানান, এটি একটি জন্মদিনের পার্টি ছিল। তবে অতিষ্ঠ প্রতিবেশী ট্যামি ওয়াশবার্নের সাফ কথা, "তার জন্মদিনের পার্টি নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই। আমি শুধু একটু শান্তি আর নীরবতা চেয়েছিলাম।"

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি - সংগৃহিত
মিশর থেকে ৬০ হাজার মার্কিন নাগরিককে সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ যুদ্ধের সংকেত

  মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় মিশর থেকে প্রায় ৬০ হাজার মার্কিন নাগরিককে জরুরিভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।   ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনথ মঙ্গলবার এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মিশরে অবস্থানরত সকল মার্কিন নাগরিককে অবিলম্বে দেশটি ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন প্রশাসন।   বর্তমানে মিশরে অবস্থানরত প্রায় ৬০ হাজার মার্কিন নাগরিককে সরিয়ে নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ চার্টার ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছে। দ্রুততম সময়ে নাগরিকদের দেশটি থেকে উদ্ধার করা হবে।   মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি মিশরসহ ১৩টি আরব দেশকে তাদের নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই তালিকায় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানও রয়েছে।   এর আগে গত কয়েক মাসে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন নাগরিককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইরানের সাথে চলমান সংঘাতের রেশ এখন পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।   দূতাবাসের পক্ষ থেকে পাঠানো বিশেষ বার্তায় মার্কিনিদের বলা হয়েছে, তারা যেন সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত চার্টার ফ্লাইটের সুযোগ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই এলাকা ত্যাগ করেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বিশাল সংখ্যক মানুষের গণ-স্থানান্তর প্রক্রিয়া সাধারণত বড় কোনো ভয়াবহ সামরিক অভিযানের পূর্বলক্ষণ হিসেবে কাজ করে। ফলে পুরো অঞ্চলে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।   ইরাক ও জর্ডানের আকাশসীমায় বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এই বিশেষ বিমানগুলো অত্যন্ত গোপনীয়তা ও ভিন্ন রুট ব্যবহার করে নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।   মিশরের মতো স্থিতিশীল ও পর্যটন নির্ভর দেশে এমন জরুরি প্রস্থান স্থানীয় অর্থনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।   হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্কিন নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। ইরান ও তার মিত্রদের সম্ভাব্য হামলা রুখতেই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ।   মিশরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে এখন মার্কিন নাগরিকদের দীর্ঘ লাইন এবং ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ বিমানগুলো দিনরাত এক করে নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে।   অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থাও এখন মিশরে অবস্থানরত তাদের বিদেশি কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার কথা গুরুত্বের সাথে ভাবছে। পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অঘোষিত যুদ্ধের আতঙ্কে থমথমে হয়ে আছে।   বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তাই মার্কিন প্রশাসন তাদের নাগরিকদের কোনো ধরনের জীবনের ঝুঁকির মুখে রাখতে চাচ্ছে না।   দিনশেষে এই বিশাল প্রস্থান প্রক্রিয়া প্রমাণ করে যে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সমাধানে কূটনীতি এখন কার্যকর হচ্ছে না। অস্ত্রের ঝনঝনানি ও যুদ্ধের দামামা এখন সবচাইতে বড় বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এই নির্দেশ পাওয়ার পর থেকে মিশরে অবস্থানরত অনেক পরিবার তাদের ব্যবসা ও বসতবাড়ি ছেড়ে দ্রুততম সময়ে বিমানে ওঠার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।  

Unknown মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে মন্দার প্রভাবে আগস্টে বড় ৫০টি মহানগরের ৩৬টিতেই বাড়ির দাম কমেছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ১০ শহরে সবচেয়ে দ্রুত কমছে বাড়ির দাম, ক্রেতাদের জন্য স্বস্তি

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০