সরকারে দুর্নীতি ব্যাপক মনে করেন ৮৯% মার্কিন নাগরিক, গ্যালাপের জরিপ
যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি দুর্নীতি নিয়ে মানুষের উদ্বেগ দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গ্যালাপের নতুন জরিপে ৮৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বলেছেন, দেশটির সরকারে দুর্নীতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে আছে।
গত বছরের তুলনায় এ হার বেড়েছে ১০ শতাংশ পয়েন্ট। ২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত একই প্রশ্নে এই হার সাধারণত ৭২ থেকে ৭৯ শতাংশের মধ্যে ছিল।
দলীয় বিভাজনেও এবার বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সরকারি দুর্নীতিকে ব্যাপক মনে করার হার সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। ২০২৪ সালে জো বাইডেনের প্রেসিডেন্টের শেষ বছরে ৫৭ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এমনটা মনে করলেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৭৬ শতাংশ এবং চলতি বছরে ৯১ শতাংশে পৌঁছেছে।
স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে এই হার ৯০ শতাংশ। ২০২৪ সালের তুলনায় তাদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে ১২ শতাংশ পয়েন্ট। রিপাবলিকানদের মধ্যে ৮৩ শতাংশ সরকারি দুর্নীতিকে ব্যাপক বলে মনে করেন।
গ্যালাপের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ডেমোক্র্যাটদের দুর্নীতি নিয়ে ধারণা হোয়াইট হাউস কোন দলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তার সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত বলে মনে হচ্ছে। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের মতামত তুলনামূলকভাবে স্থির থাকায় তাদের উদ্বেগ ক্ষমতাসীন দলের ওপর কম নির্ভরশীল হতে পারে।
শুধু সরকার নয়, ব্যবসায়িক খাত নিয়েও দুর্নীতির উদ্বেগ বেড়েছে। ৭১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বলেছেন, ব্যবসায়িক খাতেও দুর্নীতি ব্যাপক। গত বছরের তুলনায় এই হার বেড়েছে ৮ শতাংশ পয়েন্ট। তবে সরকার ও ব্যবসার মধ্যে দুর্নীতির ধারণাগত ব্যবধান এখন ১৮ শতাংশ পয়েন্ট, যা যুক্তরাষ্ট্রের জরিপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
গ্যালাপের দীর্ঘমেয়াদি তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি দুর্নীতিকে ব্যাপক মনে করার হার ব্যবসায়িক দুর্নীতির তুলনায় গড়ে ১১ শতাংশ পয়েন্ট বেশি ছিল। চলতি বছরে এই ব্যবধান আরও বড় হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাজনৈতিক মতভেদ থাকা সত্ত্বেও সরকারি দুর্নীতি নিয়ে ডেমোক্র্যাট, রিপাবলিকান ও স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। ফলে সরকারে দুর্নীতি নিয়ে মানুষের অসন্তোষ এখন দলীয় সীমারেখাও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হাসপাতালগুলোর জন্য বিলিয়ন ডলারের মেডিকেইড তহবিল আটকে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর ফলে সোমবার থেকে হাসপাতালগুলো প্রতিদিন আনুমানিক ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার করে অর্থ হারাচ্ছে। তহবিল আটকে দেওয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে টেক্সাসের হাসপাতালগুলোর ওপর আরোপিত একটি করব্যবস্থা। এই করের মাধ্যমে রাজ্য ফেডারেল সরকারের কাছ থেকে মেডিকেইডের সমপরিমাণ অর্থ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নিজস্ব অংশ সংগ্রহ করে। তবে এই অর্থায়ন পদ্ধতি নিয়ে কেন্দ্র ও টেক্সাসের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে। টেক্সাসের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা কমিশনার বিষয়টি সমাধানে মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সার্ভিসেস কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছেন। এখনও এই অর্থ আটকে যাওয়ার কারণে মেডিকেইড রোগীদের চিকিৎসাসেবায় তাৎক্ষণিক কোনো বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি। তবে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে রোগী, হাসপাতালের কর্মী এবং চিকিৎসাসেবায় এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ হাসপাতাল কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিফেন লাভ বলেন, নিরাপত্তাবেষ্টিত হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের দপ্তর জানিয়েছে, রাজ্যের হাসপাতালগুলোর অর্থায়ন ব্যবস্থা ফেডারেল আইনের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাপ্য অর্থ পাওয়া উচিত। কতদিন এই তহবিল আটকে থাকবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
নিউইয়র্কের স্কুলে এক বছর এআই নিষিদ্ধের কঠোর নীতি, প্রভাবিত হবে ৬ লাখ শিক্ষার্থী
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার নির্বাহী আদেশ আটকে দিলেন মার্কিন বিচারক
সরকারে দুর্নীতি ব্যাপক মনে করেন ৮৯% মার্কিন নাগরিক, গ্যালাপের জরিপ
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রেজারি বন্ডের ইয়িল্ড দ্রুত বাড়ায় সাধারণ আমেরিকানদের ঋণের খরচ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়তে পারে বাড়ি ও গাড়ির ঋণে, এমনকি শেয়ারবাজারেও। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছরের ট্রেজারি ইয়িল্ড বেড়ে ৪ দশমিক ৭৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২৩ সালের নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ। এর এক দিন আগেই ১০ বছরের ইয়িল্ড ৪ দশমিক ৭৯৬ শতাংশে উঠেছিল। একই সময়ে ৩০ বছরের ট্রেজারি ইয়িল্ড ৫ দশমিক ২৮৬ শতাংশে পৌঁছে প্রায় দুই দশকের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি চলে যায়। বন্ড বাজারে এই বিক্রির পেছনে বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তেলের সরবরাহ ও দাম আরও বাড়তে পারে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ফেডারেল রিজার্ভকে সুদের হার বাড়ানোর কথা বিবেচনা করতে হতে পারে। ট্রেজারি বন্ডের দাম ও ইয়িল্ড পরস্পর বিপরীতমুখী। বিনিয়োগকারীরা বন্ড বিক্রি করলে এর দাম কমে এবং ইয়িল্ড বেড়ে যায়। এখন সেই ইয়িল্ডের দ্রুত উত্থান শুধু ওয়াল স্ট্রিটের বিষয় হয়ে থাকছে না, এর প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ মানুষের ঋণের খরচেও। বিশেষ করে মর্টগেজের সুদের হার ১০ বছরের ট্রেজারি ইয়িল্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। ফলে ট্রেজারি ইয়িল্ড আরও বাড়লে বাড়ি কেনার জন্য নতুন করে ঋণ নিতে যাওয়া মানুষের মাসিক কিস্তি ও মোট সুদের খরচ বাড়তে পারে। এমনিতেই যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে চাপ রয়েছে। অনেক এলাকায় বাড়ির সরবরাহ কম এবং দাম অনেক ক্রেতার নাগালের বাইরে। বিশেষ করে তরুণ ও প্রথমবার বাড়ি কিনতে যাওয়া ক্রেতারা উচ্চ ঋণখরচের কারণে বাজার থেকে পিছিয়ে পড়ছেন। গত কয়েক বছর ধরে তুলনামূলক বেশি সুদের হারও আবাসন বাজারকে অনেকটা স্থবির করে রেখেছে। কম সুদের সময়ে মর্টগেজ নেওয়া বাড়ির মালিকদের অনেকে বাড়ি বদলাতে চাইছেন না, কারণ নতুন বাড়ি কিনলে তাদের পুরোনো কম সুদের ঋণ ছেড়ে বেশি সুদের ঋণ নিতে হবে। প্রভাব পড়তে পারে অটো লোন ও ক্রেডিট কার্ডের ঋণেও। ট্রেজারি ইয়িল্ড বাড়ার সঙ্গে অর্থনীতিজুড়ে ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়লে গাড়ি কেনা বা ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া বহন করাও আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে উচ্চ ইয়িল্ড শেয়ারবাজারের জন্যও চাপ তৈরি করতে পারে। কারণ ১০ বছরের ট্রেজারি থেকে যখন বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৫ শতাংশের কাছাকাছি রিটার্ন পেতে পারেন, তখন ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারের তুলনায় নিরাপদ সরকারি বন্ড আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে বেশি মূল্যায়নে থাকা টেকনোলজি ও এআই কোম্পানির শেয়ারে এর প্রভাব পড়তে পারে। কারণ সুদের হার বাড়লে ভবিষ্যতে প্রত্যাশিত আয়কে বর্তমান মূল্যে হিসাব করার সময় সেই কোম্পানিগুলোর মূল্যায়নে চাপ পড়ে। বাজার বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইরান সংঘাতের কারণে তেলের দাম বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। অর্থাৎ তেলের দাম বাড়া থেকে মূল্যস্ফীতির চাপ, সেখান থেকে সুদের হার ও ট্রেজারি ইয়িল্ড বাড়া - শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ মানুষের ঋণ এবং বিনিয়োগে।
শিক্ষার্থীর ওপর আইসিইর অ্যাঙ্কল মনিটর, ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব পড়ায় লজ্জায় আত্যহত্যা
বিনা অপরাধে ৩৭ বছর কারাগারে, নির্দোষ প্রমাণের পর পেলেন ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার
নিউইয়র্কে যোগ্য শিশুদের জন্য ১২০ ডলারের খাদ্য সহায়তা, আবেদন শেষ ৮ সেপ্টেম্বর
মহাবিশ্বের নানা প্রান্তের ১৬টি গ্যালাক্সির চোখধাঁধানো ছবি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। বিভিন্ন শক্তিশালী দূরবীক্ষণযন্ত্রের তথ্য একত্র করে তৈরি করা এসব ছবিতে ধরা পড়েছে গ্যালাক্সিগুলোর বৈচিত্র্য, উত্তপ্ত গ্যাস, নক্ষত্রের জন্ম এবং মহাকর্ষীয় নানা ঘটনাপ্রবাহ। নাসার চন্দ্র এক্স-রে মানমন্দিরের নতুন গ্যালারি ‘গ্যালাকটিক জেমস’ বা ‘মহাজাগতিক রত্ন’ নামে প্রকাশ করা হয়েছে। ২৫ আগস্ট প্রকাশিত এই সংগ্রহে থাকা প্রতিটি ছবিতে চন্দ্রের কয়েক দশকের পর্যবেক্ষণ থেকে পাওয়া এক্স-রে তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। সেই তথ্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে জেমস ওয়েব ও হাবল মহাকাশ দূরবীক্ষণযন্ত্রসহ আরও বেশ কয়েকটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য। নাসার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, গ্যালাক্সিগুলোকে সাধারণত তিনটি বড় শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। সর্পিল গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে বাহুর মতো কাঠামো ছড়িয়ে থাকে, যেমন আমাদের মিল্কিওয়ে। উপবৃত্তাকার গ্যালাক্সিগুলো তুলনামূলকভাবে পুরোনো এবং অনেক ক্ষেত্রে গ্যালাক্সির সংঘর্ষ ও একীভবনের ফল হিসেবে গড়ে উঠেছে বলে ধারণা করা হয়। আর অনিয়মিত গ্যালাক্সির নির্দিষ্ট কোনো একক আকৃতি নেই এবং এতে নানা ধরনের মহাজাগতিক ঘটনা দেখা যেতে পারে। নতুন প্রকাশিত ১৬টি ছবির সংগ্রহে এই তিন ধরনের গ্যালাক্সিই রয়েছে। ছবিগুলো তৈরিতে শুধু দৃশ্যমান আলোর তথ্য ব্যবহার করা হয়নি। চন্দ্র এক্স-রে মানমন্দিরের তথ্যের সঙ্গে নাসার জেমস ওয়েব ও হাবল মহাকাশ দূরবীক্ষণযন্ত্র, আইএক্সপিই, নিল গেহরেলস সুইফট মানমন্দির এবং নিউস্টারের তথ্যও যুক্ত করা হয়েছে। পৃথিবীর মাটিতে থাকা পর্যবেক্ষণকেন্দ্রসহ মহাকাশে থাকা বিভিন্ন যন্ত্রের তথ্যও এই সমন্বিত ছবিতে ব্যবহার করা হয়েছে। এ ধরনের একাধিক তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তথ্য একসঙ্গে ব্যবহার করার ফলে গ্যালাক্সির এমন অনেক বৈশিষ্ট্য দেখা যায়, যা শুধু সাধারণ দৃশ্যমান আলোতে ধরা পড়ে না। বিশেষ করে এক্স-রে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে গ্যালাক্সির অত্যন্ত উত্তপ্ত ও শক্তিশালী অঞ্চল শনাক্ত করা সম্ভব হয়। চন্দ্রের পর্যবেক্ষণে কয়েক মিলিয়ন ডিগ্রি তাপমাত্রায় উত্তপ্ত গ্যাস, বিশাল নক্ষত্র থেকে বেরিয়ে আসা প্রবাহ, অতিভারী কৃষ্ণগহ্বর থেকে নির্গত পদার্থ এবং বিস্ফোরিত নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষের মতো ঘটনা দেখা যায়। এসব প্রক্রিয়া গ্যালাক্সির বিবর্তন বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নক্ষত্রের ভেতরে তৈরি হওয়া এবং মহাজাগতিক বিস্ফোরণের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন মৌল কীভাবে গ্যালাক্সিতে ছড়িয়ে পড়ে, তারও ধারণা পাওয়া যায়। চন্দ্র এক্স-রে মানমন্দিরের বিজ্ঞানবিষয়ক যোগাযোগ কর্মকর্তা মেগান ওয়াটজকে গ্যালাক্সিগুলোকে মহাজাগতিক রত্নের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর মতে, প্রতিটি গ্যালাক্সির আকার ও গঠনে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। পৃথিবীর বিভিন্ন রত্ন কীভাবে কোটি কোটি বছর ধরে গঠিত হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করে পৃথিবীর ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। একইভাবে দূরের গ্যালাক্সিগুলো পর্যবেক্ষণ করেও আমাদের নিজেদের গ্যালাক্সি মিল্কিওয়ের অতীত ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছে নাসা। নতুন গ্যালারির ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে এনজিসি ১৬৭২, আইআই জেডডব্লিউ ০৯৬, এম৩৩, এনজিসি ৪২৫৮, এনজিসি ১৫৬৯ এবং এনজিসি ৪৬৩১সহ বিভিন্ন গ্যালাক্সি। প্রতিটির বৈশিষ্ট্যও আলাদা। কোথাও দেখা যায় নক্ষত্র তৈরির সক্রিয় অঞ্চল, কোথাও আবার কেন্দ্রীয় অতিভারী কৃষ্ণগহ্বরের কার্যকলাপ বা উত্তপ্ত গ্যাসের বিস্তৃত অঞ্চল। উদাহরণ হিসেবে এনজিসি ৪৬৩১ গ্যালাক্সিটি পৃথিবী থেকে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ আলোকবর্ষ দূরে। এর পর্যবেক্ষণে এক্স-রে তথ্যের পাশাপাশি দৃশ্যমান আলোর তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। ছবিতে গ্যালাক্সিটির ডিস্কের ওপর ও নিচে ছড়িয়ে থাকা উত্তপ্ত গ্যাসের উপস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। নতুন গ্যালারিতে থাকা গ্যালাক্সিগুলোর দূরত্বও বিস্তৃত। নাসার চন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সংগ্রহের বিভিন্ন গ্যালাক্সি পৃথিবী থেকে প্রায় ৩০ লাখ থেকে ৪৯ কোটি আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। অর্থাৎ একই গ্যালারিতে এমন সব মহাজাগতিক বস্তু রয়েছে, যাদের আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে কয়েক লাখ থেকে কয়েক কোটি বছর পর্যন্ত সময় লেগেছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে এ ধরনের ছবি শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়। একটি গ্যালাক্সি কীভাবে জন্ম নেয়, কীভাবে নক্ষত্র তৈরি হয়, কৃষ্ণগহ্বর কীভাবে আশপাশের পরিবেশকে প্রভাবিত করে এবং সময়ের সঙ্গে গ্যালাক্সির কাঠামো কীভাবে বদলে যায়, এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেও এসব পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। নাসার মতে, এক্স-রে তথ্য অন্য ধরনের আলোর তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে গ্যালাক্সিগুলো কীভাবে গড়ে ওঠে, একে অপরের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে এবং সময়ের সঙ্গে বিবর্তিত হয়, সে সম্পর্কে আরও পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায়। দূরের গ্যালাক্সিগুলোকে এভাবে পর্যবেক্ষণ করার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা আমাদের নিজেদের মিল্কিওয়ের বর্তমান অবস্থা, অতীতের পরিবর্তন এবং সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও আরও ভালোভাবে জানতে পারেন। নাসার এই নতুন গ্যালারি তাই একই সঙ্গে মহাবিশ্বের বৈচিত্র্যকে চোখের সামনে তুলে ধরেছে এবং গ্যালাক্সি সম্পর্কে মানুষের বৈজ্ঞানিক বোঝাপড়া আরও গভীর করার সুযোগ তৈরি করেছে। সংবাদসূত্র: নাসা
মিশরে নির্মাণশ্রমিক বাবার ৩৫ বছরের ত্যাগ, আট মেয়েকেই বানালেন চিকিৎসক
নিউ ইয়র্কে এভিয়েশন ক্যারিয়ার গড়তে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ, নতুন ব্যাচ শুরু ২৪ অক্টোবর