- প্রচ্ছদ
- Topic
মার্কিন সেনা
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে নিহত এক মার্কিন সেনা কর্মকর্তার পরিবারকে যুদ্ধকালীন কিছু আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছিল। কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল, ইরানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়নি। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করে মার্কিন এয়ার ফোর্স। পরে জানানো হয়, ওই পরিবারের প্রাপ্য সুবিধাগুলো আসলে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি মার্কিন বিমানবাহিনীর মেজর অ্যালেক্স ক্লিনারের পরিবারকে ঘিরে। ৩৩ বছর বয়সী ক্লিনার মার্চে পশ্চিম ইরাকে একটি KC-135 জ্বালানি সরবরাহকারী সামরিক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ছয় সদস্যের একজন। বিমানটি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানে সহায়তা করছিল। ক্লিনারের স্ত্রী লিবি ক্লিনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেন, স্বামীর মৃত্যুর পর তাকে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা না হওয়ায় পরিবারটি কিছু যুদ্ধকালীন সুবিধার জন্য যোগ্য নয়। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ঘটনাটি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। এরপর এয়ার ফোর্স লিবি ক্লিনারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার স্বামীর বেতন ও অন্যান্য সুবিধা পর্যালোচনা করে। এয়ার ফোর্স জানায়, ক্লিনারের প্রাপ্য সব কমব্যাট থিয়েটার সুবিধা তার বকেয়া বেতনসহ আগেই অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর মধ্যে ছিল হ্যাজার্ড পে এবং কমব্যাট জোন ট্যাক্স সুবিধা। তবে এসব সুবিধা কীভাবে বেতন বিবরণীতে দেখানো হয়েছিল, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। মার্কিন সামরিক ব্যবস্থায় তথাকথিত কমব্যাট পে পেতে কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা সবসময় প্রয়োজন হয় না। নির্দিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব পালন এবং শত্রুতামূলক হামলার মতো পরিস্থিতির ওপর এসব সুবিধা নির্ভর করতে পারে। ইরান সংঘাতকে ‘যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করা নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স সম্প্রতি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি যুদ্ধ বলতে চান না। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সংঘাতটিকে ‘মিলিটারি কনফ্লিক্ট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে, ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং প্রায় ৭৯০ জন আহত হয়েছেন বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। লিবি ক্লিনারের জন্য তার স্বামীর মৃত্যুর পর একটি গোফান্ডমি তহবিলও খোলা হয়েছিল। সেখানে ১৫ লাখ ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। লিবি বলেন, শোকাহত সামরিক পরিবারগুলোকে যেন সরকারি সুবিধা পেতে জটিল সামরিক পরিভাষা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বুঝতে না হয়, সেটিই তার মূল উদ্দেশ্য। তিনি চান, তার অভিজ্ঞতার পর অন্য পরিবারগুলো যেন শুরু থেকেই নিজেদের প্রাপ্য সুবিধা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পায়।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সহায়তাকারী মিশনে থাকা অবস্থায় নিহত এক মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্যের স্ত্রী দাবি করেছেন, স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি কিছু অতিরিক্ত সামরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ইরানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা না করায় ওই সুবিধাগুলো পাওয়ার ক্ষেত্রে তাকে অযোগ্য বলে জানানো হয়েছিল। আলাবামার বাসিন্দা লিবি ক্লিনার হলেন মার্কিন বিমানবাহিনীর মেজর জন ‘অ্যালেক্স’ ক্লিনারের স্ত্রী। গত ১২ মার্চ ইরাকে একটি জ্বালানি সরবরাহ মিশনের সময় বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ছয় মার্কিন সেনাসদস্যের একজন ছিলেন অ্যালেক্স ক্লিনার। তার পরিবারের সুবিধা নিয়ে ওঠা অভিযোগের পর বিষয়টি পর্যালোচনা করছে মার্কিন বিমানবাহিনী। সামরিক কর্মকর্তারা লিবি ক্লিনারের সঙ্গে যোগাযোগও করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম NOTUS-এর প্রতিবেদনের বরাতে ডেমোক্রেসি নাউ জানিয়েছে, লিবি ক্লিনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন যে তার স্বামীর মৃত্যুর পর কিছু সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক অভিযান চালালেও কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা না করায় কিছু সুবিধার জন্য তার পরিবারকে যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। জন ক্লিনার ছিলেন বিমানবাহিনীর একজন মেজর। তিনি একটি কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার বিমানে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহের ওই মিশনের সময় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এতে ক্লিনারসহ ছয়জন বিমানসেনা নিহত হন। তারা ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সহায়ক কার্যক্রমে নিয়োজিত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্বামীর মৃত্যুর পর লিবি ক্লিনার জানতে পারেন, কিছু সামরিক সুবিধা নিয়ে তার পরিবারের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার পর তা দ্রুত আলোচনায় আসে। তার বক্তব্যের মূল প্রশ্ন ছিল, সামরিক সদস্যরা যখন ইরানসংক্রান্ত অভিযানে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন, তখন কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করেনি বলে তাদের পরিবারের প্রাপ্য সুবিধা কেন ভিন্ন হবে। ঘটনাটি সামনে আসার পর মার্কিন বিমানবাহিনী বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা শুরু করে। সামরিক কর্মকর্তারা সোমবার লিবি ক্লিনারের সঙ্গে কথা বলেন বলে NOTUS-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারটি তাদের প্রাপ্য সব সুবিধা পাচ্ছে কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে। লিবি ক্লিনারের বিষয়টি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রকৃতি এবং সেটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘যুদ্ধ’ হিসেবে গণ্য করা হবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেন। এরপর কয়েক মাস ধরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এদিকে এই বিতর্কের মধ্যেই মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের একটি বক্তব্য নতুন করে সমালোচনার জন্ম দেয়। ২ সেপ্টেম্বর সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলে কোনো মার্কিন নাগরিক নিহত হয়নি এবং মূলত অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। কিন্তু মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ইরান সংঘাতে ইতোমধ্যে ১৮ মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত এবং ৭৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ফলে লুটনিকের বক্তব্য দ্রুত প্রশ্নের মুখে পড়ে। পরদিন ৩ সেপ্টেম্বর লুটনিক নিজের বক্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চান। তিনি জানান, তিনি ভুল বলেছিলেন এবং আসলে ভেনেজুয়েলা নিয়ে সামরিক অভিযানের কথা মাথায় রেখেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধে ১৮ জন মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের ক্ষতির জন্য তিনি দুঃখিত। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও লুটনিকের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, বাণিজ্যমন্ত্রীর মাথায় ভেনেজুয়েলার সামরিক অভিযান ছিল। ট্রাম্প একই সঙ্গে স্বীকার করেন যে ইরান সংঘাতে ১৮ জন নিহত হয়েছেন। লিবি ক্লিনারের অভিযোগ এবং লুটনিকের ভুল বক্তব্য একই সময়ে সামনে আসায় ইরান অভিযানে নিহত মার্কিন সেনাদের পরিবারগুলোর প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে সামরিক অভিযানে নিহত সদস্যদের পরিবার কী ধরনের সুবিধা পাওয়ার অধিকারী এবং সেই সুবিধা নির্ধারণে কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে লিবি ক্লিনারের পরিবার শেষ পর্যন্ত কোন কোন সুবিধা পাবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। বিমানবাহিনীর পর্যালোচনা শেষ হওয়ার পর বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। মার্কিন সামরিক সদস্যদের মৃত্যুর পর তাদের পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হয়। তবে সুবিধার ধরন ও যোগ্যতা নির্ধারণে সামরিক সদস্যের দায়িত্বের প্রকৃতি, মৃত্যুর পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে ইরান অভিযানের মতো একটি চলমান সামরিক সংঘাতকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ হিসেবে কীভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হচ্ছে, তা পরিবারগুলোর জন্য বাস্তব আর্থিক প্রভাব ফেলতে পারে। জন ক্লিনারের মৃত্যুর ঘটনাটি তাই শুধু একটি সামরিক দুর্ঘটনার বিষয় নয়। তার পরিবারের সুবিধা নিয়ে তৈরি হওয়া প্রশ্নটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের ইরান অভিযান, সামরিক সদস্যদের স্বীকৃতি এবং তাদের পরিবারের অধিকার নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কের অংশ হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত ছয় মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো কংগ্রেসের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণার অনুমোদন চায়নি ট্রাম্প প্রশাসন। আর সরকারের এই সিদ্ধান্তের খেসারত দিতে হচ্ছে যুদ্ধে প্রাণ হারানো মার্কিন সেনাদের পরিবারকে। আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা না থাকায় এক নিহত মার্কিন বিমান বাহিনীর মেজরের পরিবারকে ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহত ওই সামরিক কর্মকর্তার নাম মেজর জন অ্যালেক্স ক্লিনার। ৩৩ বছর বয়সী এই মেজর অপারেশন এপিক ফিউরি এর অংশ হিসেবে ইরাকে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সম্প্রতি ইরাকে একটি কেসি ১৩৫ রিফুয়েলিং বা মাঝ আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হলে ছয়জন ক্রু প্রাণ হারান, মেজর ক্লিনার ছিলেন তাদেরই একজন। অবার্ন ইউনিভার্সিটির স্নাতক ও ট্রাসভিলের বাসিন্দা ক্লিনারের মৃত্যুতে তার স্ত্রী লিবি এবং তিন সন্তান এখন অথৈ সাগরে পড়েছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে লিবি জানান, মার্কিন বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয়েছে যে তার পরিবার কিছু নির্দিষ্ট সামরিক সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নয়। লিবি তার পোস্টে লেখেন, বিমান বাহিনী সম্প্রতি আমাকে জানিয়েছে যে, যেহেতু আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করিনি, তাই আমি ও আমার সন্তানরা কিছু নির্দিষ্ট সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নই। যে যুদ্ধে আমার স্বামী কখনোই অংশ নিতে চায়নি, সেখানে তাকে প্রাণ দিতে হলো। আর এখন আমরা যে সামান্য সুবিধাটুকু পেতাম, সেটিও আটকে আছে কেবল শব্দের মারপ্যাঁচ আর লোক দেখানো নীতির কারণে। এটি এমন এক যুদ্ধ যা ছয় মাস ধরে চললেও আমরা এটিকে যুদ্ধ বলতে পারছি না। স্বামীর মৃত্যুর পর অনেকেই লিবির পোস্টে সমবেদনা জানিয়েছেন। তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে লিবি সেসব সমালোচকদেরও কড়া জবাব দিয়েছেন, যারা প্রশ্ন তুলেছিলেন যে যুদ্ধে যাওয়ার ইচ্ছা না থাকলে ক্লিনার কেন সামরিক বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। সমালোচকদের উদ্দেশে লিবি বলেন, কেউ যুদ্ধে যাওয়ার জন্য সামরিক বাহিনীতে যোগ দেয় না। সামরিক বাহিনীর সদস্যরা কখনোই পরিবার ছেড়ে দূরে মোতায়েন থাকতে পছন্দ করেন না। তারা তাদের দেশকে রক্ষা করার শপথ নেন, এটা জেনেই যে তাদের হয়তো কখনো যুদ্ধে পাঠানো হতে পারে। তবে তারা সবসময় আশা করেন যেন এমন পরিস্থিতি না আসে। তারা এই ধারণা নিয়েই বাহিনীতে যোগ দেন যে যুদ্ধ হবে একদম শেষ বিকল্প, কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে মোটেও তা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে ঠিক কী ধরনের সুবিধা থেকে এই পরিবারটিকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানিয়েছেন লিবি। সামরিক বাহিনীর ক্যাজুয়ালটি অ্যাসিস্ট্যান্স অফিসার বা হতাহতদের সহায়তা প্রদানকারী কর্মকর্তার বরাত দিয়ে লিবি জানান, আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা না থাকার কারণেই মূলত অতিরিক্ত সুবিধাগুলো দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বাদ পড়া সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে কমব্যাট পে বা যুদ্ধকালীন ভাতা, যেমন চরম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব পালনের ভাতা এবং যুদ্ধক্ষেত্রের করছাড় সুবিধা। নিজের এই দাবিকে যারা মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন, তাদেরও একহাত নিয়েছেন লিবি। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, যারা মন্তব্য করছেন যে আমি কেবল মনোযোগ আকর্ষণের জন্য এসব পোস্ট করছি, তাদের উদ্দেশে বলছি, নিজের জীবনসঙ্গীকে কবর দেওয়ার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি না হওয়া পর্যন্ত অন্তত কাউকে বিচার করা থেকে বিরত থাকুন। উল্লেখ্য, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অপারেশন এপিক ফিউরি চলমান থাকলেও মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন না থাকায় আইনি জটিলতায় পড়েছেন যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী হাজারো সেনা ও তাদের পরিবার।
বিদেশে মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন নিপীড়নের অভিযোগের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি ঘটেছে পোল্যান্ডে। মার্কিন কংগ্রেসের চাহিদার প্রেক্ষিতে তৈরি সামরিক বাহিনীর বার্ষিক যৌন নিপীড়ন বিষয়ক নতুন এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে ন্যাটো জোটের পূর্বাঞ্চলীয় নিরাপত্তা জোরদার করতে গত বছর পোল্যান্ডে অতিরিক্ত ১০ হাজার সেনা মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ঘাঁটিতে পরিণত হওয়া দেশটিতে গত বছর মার্কিন সেনাদের দ্বারা ৭৩টি যৌন নিপীড়নের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। যদিও প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের যৌন নিপীড়নের ঘটনা সামগ্রিকভাবে প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে এমন অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় পোল্যান্ডে যৌন নিপীড়নের হার দ্বিগুণেরও বেশি এবং টানা তৃতীয় বছরের মতো দেশটি এই তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছে। অথচ জার্মানিতে পোল্যান্ডের তুলনায় তিনগুণ বেশি (প্রায় ৩৫ হাজার) মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকলেও সেখানে এমন ঘটনার হার তুলনামূলক কম। মার্কিন কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পোল্যান্ডে এই সমস্যার এতটা প্রকট হওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ব্যাখ্যা করতে পারেননি। তবে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ তার প্রমাণ দেয়। উদাহরণস্বরূপ, গত জুনে সেনাবাহিনীর পেট্রোলিয়াম সরবরাহ বিশেষজ্ঞ সার্জেন্ট উলরিখ কামেনি দুজন নারীকে নিপীড়ন ও অপর একজনের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের কথা স্বীকার করেন। ক্যাম্প কোসিয়ুসকোতে সামরিক আদালতের বিচারে তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। প্রসিকিউটরদের তথ্যমতে, ২০২৩ সালে প্রণয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় নিজ তত্ত্বাবধানে থাকা এক নারী সেনাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছিলেন কামেনি। এরপর ২০২৪ সালে পোল্যান্ডের জিলোনা গোরার একটি বারে মদ্যপ অবস্থায় এক পোলিশ নারীর ঘাড় চেপে ধরে তাকে আহত করেন তিনি। প্রতিরক্ষা বিভাগের সার্বিক তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে বিশ্বজুড়ে মার্কিন সেনাদের জড়িত থাকার ৮ হাজার ১৯৬টি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ কমে এ বছর তা ৭ হাজার ৯৯৮টিতে দাঁড়িয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ১ হাজার ৩২১ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। তবে জরিপের তথ্য বলছে, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে, কারণ ভুক্তভোগীদের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেন। বিদেশে মোতায়েন সেনাদের মোট ২৪৬টি যৌন নিপীড়নের ঘটনার মধ্যে পোল্যান্ডের পরই রয়েছে কুয়েত (৩০), কাতার (২৪), ইরাক (২৩) ও রোমানিয়া (২০)। দীর্ঘ বছর ধরে এই সমস্যা সমাধানে সোচ্চার ডেমোক্র্যাট সিনেটর কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ড সার্বিক হার ২ শতাংশ কমে আসাকে একটি 'ইতিবাচক অগ্রগতি' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। মার্কিন সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর ট্রাভিস শ পোল্যান্ড নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য না করলেও জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী তাদের পদমর্যাদার মধ্যে যেকোনো ধরনের যৌন হয়রানি নির্মূল করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে কাজ করে যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের সামরিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ইরান। এতদিন দেশটির সামরিক কৌশল মূলত ‘প্রতিরক্ষামূলক’ থাকলেও, এখন তা বদলে পুরোপুরি ‘আক্রমণাত্মক’ অবস্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরানি সেনাবাহিনী। শনিবার (২২ আগস্ট) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া জানিয়েছেন, ১২ দিন ও ৪০ দিনের সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতার আলোকে তাদের এই কৌশলগত পরিবর্তন এসেছে। নতুন এই নীতির মূল লক্ষ্য হলো, যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও ব্যাপক পরিসরে পাল্টা জবাব দেওয়া এবং প্রয়োজনে আগাম প্রতিরোধমূলক অভিযান পরিচালনা করা। সম্ভাব্য মার্কিন স্থল হামলার বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জেনারেল আকরামিনিয়া জানিয়েছেন, মার্কিন সেনাদের হত্যা বা বন্দি করার জন্য বিশেষ পুরস্কারের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে তেহরান। এই পরিকল্পনার আওতায় সশস্ত্র বাহিনীর যেকোনো সদস্য বা বৈধ অস্ত্রধারী সাধারণ নাগরিক মার্কিন সেনা হত্যা বা বন্দি করতে পারলে তাকে ৫ বিলিয়ন তোমান (প্রায় ২৬ হাজার ডলার) পুরস্কার দেওয়া হবে। তবে উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হলো, কোনো নারী যদি এই কাজ সম্পন্ন করতে পারেন, তবে তার জন্য পুরস্কারের অঙ্ক দ্বিগুণ—অর্থাৎ ১০ বিলিয়ন তোমান (প্রায় ৫৩ হাজার ডলার) নির্ধারণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি মূল দামের দ্বিগুণ মূল্যে কিনে নিয়ে মালিকের নামে সেটি সামরিক জাদুঘরে সংরক্ষণ করার পাশাপাশি তাকে নতুন একটি বিকল্প অস্ত্রও দেওয়া হবে। বিশ্বমঞ্চে এবং বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব এখন নাটকীয়ভাবে কমেছে বলে দাবি করেছেন এই ইরানি সামরিক কর্মকর্তা। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনকে পাশ কাটিয়ে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান মিলে সম্পূর্ণ নতুন একটি স্বতন্ত্র প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। মার্কিন অংশগ্রহণ ছাড়াই ওই অঞ্চলে এমন একটি সামরিক জোট গঠনের উদ্যোগ এটাই প্রথম, যা মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার রাজনৈতিক ও কৌশলগত পতনের একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ বলে মনে করছে ইরান।
এক মাসের বেশি সময় আইসিই হেফাজতে থাকার পর ব্রাজিলে ডিপোর্টেশনের জন্য বিমানে তোলা হয়েছিল মার্কিন সেনার স্ত্রী মাইসা লোপেস এলিয়াসারকে। কিন্তু মাঝআকাশে একটি রহস্যময় ফোনকলের পর বদলে যায় পরিস্থিতি। আইসিই কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি ব্রাজিলে যেতে চান নাকি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসতে চান। মাইসা যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। পরে তাকে লুইজিয়ানায় ফিরিয়ে এনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন হেফাজত থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩২ বছর বয়সী মাইসা ব্রাজিলের নাগরিক। তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর স্টাফ সার্জেন্ট অ্যালেক্সিস জারামিলোর স্ত্রী। ২০১৯ সালে ট্যুরিস্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন মাইসা এবং পরে নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ এপ্রিল একজন ইমিগ্রেশন বিচারক তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ডিপোর্টেশন আদেশ দেন। এরপর ৮ জুলাই একটি ইমিগ্রেশন অ্যাপয়েন্টমেন্টে গেলে তাকে আটক করা হয়। এক মাসের বেশি সময় তিনি ফেডারেল ইমিগ্রেশন হেফাজতে ছিলেন। গত বুধবার তাকে অন্য আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে একটি ডিপোর্টেশন ফ্লাইটে ব্রাজিলের উদ্দেশে পাঠানো হয়। কিন্তু বিমান চলার সময়ই আইসিই কর্মকর্তাদের কাছে তাকে নিয়ে একটি ফোন আসে। মাইসার ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর একজন আইসিই কর্মকর্তা তার কাছে এসে জানতে চান, তিনি ব্রাজিলের উদ্দেশে যাত্রা চালিয়ে যেতে চান নাকি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসতে চান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। বিমানটি ব্রাজিলে পৌঁছানোর পর অন্য আটক ব্যক্তিদের নামিয়ে দেওয়া হলেও মাইসাকে বিমানে রাখা হয়। পরে একই বিমানে তাকে আবার লুইজিয়ানায় ফিরিয়ে আনা হয়। কে সেই ফোন করেছিলেন কিংবা কেন শেষ মুহূর্তে তার ডিপোর্টেশন থামানো হলো, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তার স্বামী অ্যালেক্সিস জারামিলো বলেন, কে ফোন করেছিলেন তারা জানেন না। তবে কেউ একজন ফোন করার পরই তার স্ত্রীকে ফেরত আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মাইসা জানিয়েছেন, বিমানে থাকা আইসিই কর্মকর্তারা তাকে বলেছিলেন, তিনি এখন ‘বিখ্যাত’, কারণ তার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। অ্যালেক্সিস জারামিলো একজন মার্কিন নাগরিক এবং এক দশকের বেশি সময় ধরে মার্কিন সেনাবাহিনীতে কর্মরত। তিনি বর্তমানে লুইজিয়ানার ফোর্ট পোলকে সেনাদের প্রশিক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন। স্ত্রী আটক হওয়ার পর মাইসার পাঁচ বছর বয়সী ছেলের দেখাশোনা করতে তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে ছুটি নিতে হয়েছিল। মাইসার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের অভিবাসী স্ত্রী, স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের আটক এবং ডিপোর্টেশন নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এর আগে জানিয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক পরিবারের জন্য আগের কিছু সুরক্ষা প্রত্যাহার করার পর মার্কিন সেনাদের কয়েক ডজন স্বামী, স্ত্রী কিংবা বাবা-মা আইসিই হেফাজতের মুখোমুখি হয়েছেন। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর কংগ্রেসের একদল ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা সামরিক সদস্য ও তাদের পরিবারের ডিপোর্টেশন নিয়ে তদন্ত শুরু করেন। অ্যারিজোনার ডেমোক্র্যাট সিনেটর এবং সাবেক নৌবাহিনী কর্মকর্তা মার্ক কেলিও মাইসার ঘটনায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন। তার মুখপাত্র জানিয়েছেন, কেলি মাইসাকে আটক রাখা আইসিই ফিল্ড অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। কেলি সামরিক পরিবারের সদস্যদের আটক করার নীতির সমালোচনা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার বাস্তব সমাধান প্রয়োজন এবং সেনা পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করা সেই সমস্যার সমাধান নয়। মাইসার পরিবারকে সহায়তা করেছে ‘রিপ্যাট্রিয়েট আওয়ার প্যাট্রিয়টস’ নামে একটি অলাভজনক সংগঠন। সংগঠনটির প্রধান ডানিটজা জেমস বলেছেন, রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে গিয়ে সামরিক পরিবারকে সহায়তা করলে কী সম্ভব, এই পরিবারের পুনর্মিলন তারই উদাহরণ। মাইসা ও অ্যালেক্সিস ২০২৪ সালে বিয়ে করেন। এখন মাইসা তার ইমিগ্রেশন মামলা পুনরায় খোলার চেষ্টা করছেন এবং গ্রিন কার্ডের আবেদন এগিয়ে নিতে চান। তার আরেকটি ইমিগ্রেশন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ১৭ আগস্ট নির্ধারিত রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের জানানো হয়েছে মামলাটি নিয়ে আর সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তারপরও আবার আটক হওয়ার আশঙ্কায় তারা উদ্বিগ্ন। এক মাসের বেশি সময় আটক থাকার অভিজ্ঞতা নিয়েও কথা বলেছেন মাইসা। তিনি জানিয়েছেন, এখনো ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না এবং আবার ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হতে পারে, এমন ভয় কাজ করছে তার মধ্যে। মাইসার ডিপোর্টেশন শেষ মুহূর্তে থামানোর সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। ফলে ব্রাজিলগামী বিমানের মাঝআকাশে আসা সেই ফোনকলটি কে করেছিলেন এবং কী কারণে সিদ্ধান্ত বদলে গেল, সেটিই এখন ঘটনাটির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে রয়েছে।
২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আগ্রাসনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া দীর্ঘ সামরিক অধ্যায়ের অবসান ঘটাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাকে থাকা অবশিষ্ট মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহার সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে আইএসবিরোধী মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক মিশনও শেষ হবে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল জাইদি বুধবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে বৈঠকের পর ৩০ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক মিশন শেষ এবং বাহিনী প্রত্যাহারের ‘স্থির ও চূড়ান্ত’ তারিখ হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেনা প্রত্যাহার শেষ হবে বলে আশা করছে। তবে বর্তমানে ইরাকে ঠিক কতজন মার্কিন সেনা রয়েছেন এবং প্রত্যাহারের পর তাদের কোথায় মোতায়েন করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি। ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া অবশ্য ইতোমধ্যে অনেক দূর এগিয়েছে। দেশটির অধিকাংশ এলাকা থেকে গত বছরই মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে আধা স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে সীমিত সংখ্যক সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম রয়ে গেছে। ইরাকি কুর্দি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এপি জানিয়েছে, এরবিল থেকে মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরানোর নতুন ধাপ প্রায় তিন সপ্তাহ আগে শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরও জুলাইয়ে জানিয়েছিল, ২০২৪ সালে ওয়াশিংটন ও বাগদাদের মধ্যে হওয়া সমঝোতা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাকে আইএসবিরোধী ‘অপারেশন ইনহেরেন্ট রিজলভ’ মিশন শেষ করার কথা রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্য, আইএসকে ভূখণ্ডগতভাবে পরাজিত করতে যুক্তরাষ্ট্র, ইরাক এবং আন্তর্জাতিক জোট উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বিদেশি বাহিনী চলে যাওয়ার পর আইএস ও অন্যান্য সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবিলার প্রধান দায়িত্ব থাকবে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে। এর মধ্যে কুর্দিস্তান অঞ্চলের পেশমার্গা বাহিনীও রয়েছে। ইরাকের জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর শুধু বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা নয়। দেশটির সরকার একই দিনের মধ্যে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বাইরে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী আল জাইদির বক্তব্য, বিদেশি বাহিনী চলে যাওয়ার পর আলাদা সশস্ত্র গোষ্ঠীর অস্ত্র ধরে রাখার প্রয়োজন থাকবে না এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরাকি বাহিনী সক্ষম। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে না। ইরাকে ইরানঘনিষ্ঠ কয়েকটি শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে এবং তাদের কয়েকটি ইতোমধ্যে অস্ত্র সমর্পণে অনীহা জানিয়েছে। ফলে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি সব অস্ত্র রাষ্ট্রের একক নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ বাগদাদ সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সামরিক উপস্থিতির ইতিহাস দুই পর্বে বিভক্ত। ২০০৩ সালের মার্চে সাদ্দাম হোসেন সরকারের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র থাকার দাবিকে অন্যতম কারণ দেখিয়ে ইরাকে আগ্রাসন চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। পরে সেই ধরনের অস্ত্র পাওয়া যায়নি। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সাদ্দাম সরকারের পতন ঘটে, কিন্তু এরপর দেশটি দীর্ঘ যুদ্ধ, বিদ্রোহ ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মধ্যে পড়ে। ২০০৭ সালে ইরাকে মার্কিন সেনার সংখ্যা সর্বোচ্চ এক লাখ ৭০ হাজারের বেশি হয়েছিল। পরে ধাপে ধাপে সেনা কমানো শুরু হয় এবং ২০১১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের শেষ যুদ্ধরত সেনারা ইরাক ছাড়ে। তবে সেই প্রত্যাহার স্থায়ী হয়নি। ২০১৪ সালে আইএস ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নিলে ইরাকি সরকারের আমন্ত্রণে মার্কিন ও আন্তর্জাতিক জোটের সেনারা আবার দেশটিতে ফিরে আসে। তাদের মূল দায়িত্ব ছিল ইরাকি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও আইএসবিরোধী অভিযানে সহায়তা করা। আইএসের নিয়ন্ত্রণে থাকা ভূখণ্ড পুনর্দখলের পর ২০২১ সালে জোটের সরাসরি যুদ্ধ মিশন শেষ হয়। এরপরও প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সেনা ইরাকে থেকে প্রশিক্ষণ, পরামর্শ এবং যৌথ আইএসবিরোধী কার্যক্রমে সহায়তা করে আসছিলেন। ২০২৪ সালের সমঝোতার পর থেকে সেই উপস্থিতিও ধাপে ধাপে কমানো হচ্ছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রত্যাহার পরিকল্পনা অনুযায়ী শেষ হলে ২০০৩ সালের আগ্রাসনের ২৩ বছর পর ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটবে। তবে ওয়াশিংটন ও বাগদাদের সম্পর্ক শেষ হচ্ছে না। দুই দেশ ইতোমধ্যে সামরিক মিশননির্ভর সম্পর্ক থেকে প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি, জ্বালানি ও বাণিজ্যকেন্দ্রিক দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্বের দিকে এগোনোর কথা জানিয়েছে।
আফগানিস্তানে নিখোঁজ এক মার্কিন সেনাকে খুঁজতে গিয়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন জর্জিয়া আর্মি ন্যাশনাল গার্ডের মাস্টার সার্জেন্ট মার্ক অ্যালেন। সেই গুলিতে মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাতের পর হাঁটা ও কথা বলার ক্ষমতা হারান তিনি। প্রায় এক দশক সেই আঘাতের জটিলতা নিয়ে বেঁচে থাকার পর ২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর ৪৬ বছর বয়সে মারা যান অ্যালেন। ঘটনাটি ২০০৯ সালের। আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালনকালে মার্কিন সেনা বো বার্গডাল তার পোস্ট ছেড়ে চলে যাওয়ার পর নিখোঁজ হন। তাকে উদ্ধারে বড় ধরনের অনুসন্ধান অভিযান শুরু করে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সামরিক আদালতের নথি অনুযায়ী, সেই অনুসন্ধান অভিযানের অংশ হিসেবেই অ্যালেন ও তার দলকে আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশের এমন কিছু এলাকায় পাঠানো হয়েছিল, যেখানে দীর্ঘ সময় মার্কিন সেনারা টহল দেয়নি। ২০০৯ সালের ৮ জুলাই বার্গডালকে খোঁজার অভিযানে থাকা অবস্থায় অ্যালেনের দল শত্রুপক্ষের হামলার মুখে পড়ে। গোলাগুলির একপর্যায়ে অ্যালেনের মাথায় গুলি লাগে। সামরিক আদালতে পরে দেওয়া সাক্ষ্যে ওই অভিযানে থাকা মার্কিন বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা জন মার্ক্স জানান, হামলার সময় তিনি অ্যালেনের পাশেই ছিলেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর অ্যালেনকে মেডিক্যাল ইভাকুয়েশনের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয়। মাথায় গুলির আঘাতে অ্যালেন গুরুতর ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরিতে আক্রান্ত হন। তার একাধিক অস্ত্রোপচার করতে হয় এবং দীর্ঘ সময় চিকিৎসা ও রিহ্যাবিলিটেশনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কিন্তু আঘাতের প্রভাব ছিল স্থায়ী। তিনি আর স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে বা কথা বলতে পারেননি এবং দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি কাজেই অন্যের সহায়তার প্রয়োজন হতো। এই দীর্ঘ লড়াইয়ে অ্যালেনের পাশে ছিলেন তার স্ত্রী শ্যানন অ্যালেন ও পরিবারের সদস্যরা। ২০১৭ সালে বার্গডালের সামরিক বিচার প্রক্রিয়ায় শ্যানন তার স্বামীর দৈনন্দিন জীবনের কঠিন বাস্তবতার কথা তুলে ধরেছিলেন। অ্যালেনকে বিছানা থেকে ওঠানো, গোসল করানো ও পোশাক পরানোর মতো সাধারণ কাজেও দীর্ঘ সময় এবং বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োজন হতো। মার্ক অ্যালেন ১৯৯১ সালে মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। পরে ফ্লোরিডা আর্মি ন্যাশনাল গার্ড এবং এরপর জর্জিয়া আর্মি ন্যাশনাল গার্ডে দায়িত্ব পালন করেন। আফগানিস্তানের পাশাপাশি তিনি ইরাক এবং সিনাই উপদ্বীপেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সরকারি সামরিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২২ বছরের সামরিক ক্যারিয়ার শেষে আফগানিস্তানে পাওয়া আঘাতের কারণে ২০১৩ সালের মে মাসে তিনি অবসর নেন। যুদ্ধক্ষেত্রে আহত হওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পার্পল হার্ট পান। অ্যালেনকে যে অভিযানে পাঠানো হয়েছিল, সেই বো বার্গডাল পরে প্রায় পাঁচ বছর তালেবানের হাতে বন্দি ছিলেন। ২০১৪ সালে গুয়ানতানামো বে-তে আটক পাঁচ তালেবান সদস্যের বিনিময়ে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। পরে সামরিক আদালতে বার্গডাল নিজের পোস্ট ত্যাগ এবং সহযোদ্ধাদের বিপদের মুখে ফেলার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়নি, তবে পদাবনতি, বেতন কর্তন এবং ডিজঅনারেবল ডিসচার্জের সাজা দেওয়া হয়েছিল। অ্যালেনের আহত হওয়ার সঙ্গে বার্গডালকে খোঁজার অভিযানের সরাসরি সম্পর্কও সামরিক আদালতের নথিতে উঠে আসে। আদালতে উপস্থাপিত সরকারি নথিতে বলা হয়, ২০০৯ সালের ৮ জুলাই অ্যালেন যে মিশনে অংশ নিয়েছিলেন, সেটির উদ্দেশ্যই ছিল বার্গডালকে খুঁজে বের করা। সেই অভিযানেই হামলার মুখে পড়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। আঘাত পাওয়ার এক দশকেরও বেশি সময় পর ২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর মারা যান মার্ক অ্যালেন। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সরকারি নথিতেও উল্লেখ করা হয়েছে, আফগানিস্তানে পাওয়া গুরুতর যুদ্ধকালীন আঘাতের সঙ্গে দীর্ঘ ১০ বছর লড়াইয়ের পর তার মৃত্যু হয়। অ্যালেনের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী জানিয়েছিলেন, শেষ সময়ে পরিবারের সদস্যরা তার পাশেই ছিলেন। যুদ্ধক্ষেত্রে একটি মুহূর্তের আঘাত কীভাবে একজন সেনা এবং তার পরিবারের পরবর্তী পুরো জীবন বদলে দিতে পারে, মার্ক অ্যালেনের গল্প তারই এক দীর্ঘস্থায়ী উদাহরণ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, চলতি বছরের ৭ জুলাইয়ের পর থেকে বিদেশে পরিচালিত সামরিক অভিযানে অন্তত ২৩৮ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে পেন্টাগনের ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেম। নতুন তথ্য অনুযায়ী, ২৬ জুলাই থেকে পেন্টাগন তাদের হতাহত সংক্রান্ত তালিকায় *"ওভারসিজ অপারেশনস"* নামে নতুন একটি বিভাগ যুক্ত করেছে। এই বিভাগে ৭ জুলাইয়ের পর বিদেশে সংঘটিত সামরিক অভিযানে নিহত ও আহত সেনাসদস্যদের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। অন্যদিকে "অপারেশন এপিক ফিউরি" এর হতাহতের হিসাব রাখা হচ্ছে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মে পর্যন্ত সময়ের জন্য। পেন্টাগনের তথ্যে আরও বলা হয়েছে, জুলাই মাসে চারজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে তিনজন জর্ডানে একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহত হন এবং আরেকজন ইরাকে একটি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করার সময় প্রাণ হারান। এদিকে আহত সেনাসদস্যদের চিকিৎসা ও হতাহতের তথ্য প্রকাশে বিলম্ব নিয়ে ওয়াশিংটনে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের একাংশ অভিযোগ করেছেন, আহত সেনাদের চিকিৎসা এবং হতাহতের তথ্য প্রকাশে স্বচ্ছতার ঘাটতি ছিল। তারা এ বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। তবে পেন্টাগন বলছে, নতুন বিভাগ যুক্ত করার উদ্দেশ্য হলো বিদেশে পরিচালিত চলমান সামরিক অভিযানের হতাহতের তথ্য আলাদাভাবে সংরক্ষণ ও উপস্থাপন করা।
মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের মোবাইল ফোন ব্যবহার আরও সীমিত করার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। কারণ, সেনাদের মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ইরানকে মার্কিন ঘাঁটির অবস্থান, হামলার ফলাফল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে সহায়তা করছে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। রয়টার্সের হাতে আসা একটি অভ্যন্তরীণ চিঠিতে এ তথ্য উঠে এসেছে। চিঠিতে অ্যাডমিরাল কুপার বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাদের মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ব্যবহার করে ইরান প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করতে পারছে। এতে পরবর্তী হামলা আরও নিখুঁতভাবে চালানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে এবং মার্কিন সেনা ও মিত্র দেশগুলোর বেসামরিক মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে। রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জর্ডানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কিছু ঘাঁটিতে মোতায়েন সেনাদের কাছ থেকে শিগগিরই মোবাইল ফোন জমা নেওয়া হতে পারে। যদিও সেন্টকম এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি করেনি। তাদের ভাষ্য, এটি মূলত সেনাদের অপারেশনাল নিরাপত্তা (অপসেক) আরও জোরদার করার একটি সতর্কবার্তা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মাসে জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সময় এক মার্কিন সেনা মেটা স্মার্ট গ্লাস ব্যবহার করে ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। চিঠিতে কুপার উল্লেখ করেন, এ ধরনের ভিডিও থেকে হামলার লক্ষ্যবস্তু, সেনাদের আশ্রয়স্থল এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিষয়ে মূল্যবান তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব। মার্কিন সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিন ধরেই যুদ্ধক্ষেত্রে মোবাইল ফোন, জিপিএস তথ্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করে আসছে। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে সেই উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সেনা সদস্যদের অনলাইন কার্যক্রম প্রতিপক্ষের জন্য গোয়েন্দা তথ্যের উৎস হয়ে উঠতে পারে বলে সামরিক কর্মকর্তারা মনে করছেন।
ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতে মার্কিন সেনাদের হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কের মুখে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)। সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে আরও ১৪০ জনের বেশি আহত সেনার তথ্য যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে গত সপ্তাহের হামলায় নিহত চার মার্কিন সেনার তথ্যও আবার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পেন্টাগনের ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেম (ডিসিএএস)-এ প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, 'অপারেশন এপিক ফিউরি'-এর আওতায় ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরুর পর এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৬২৪ জন আহত হয়েছেন। এর আগে গত সপ্তাহে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন ডিসিএএসের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানায়, ওয়েবসাইটে আহত সেনার সংখ্যা ৪৮২ দেখানো হচ্ছিল। নতুন হালনাগাদে সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পেন্টাগন ৭ জুলাই থেকে ডিসিএএসে "ওভারসিজ অপারেশনস" নামে একটি নতুন বিভাগও যুক্ত করেছে। তবে এই নতুন বিভাগের আওতায় ৭ জুলাইয়ের আগে ও পরে সংঘটিত কোন কোন সামরিক ঘটনার তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। প্রকাশিত তালিকায় জর্ডানে ইরানের হামলায় নিহত তিন মার্কিন সেনা এবং উত্তর ইরাকে ইরানি ড্রোন হামলার সময় নিহত আরও এক সেনার নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। হতাহতের তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে পেন্টাগনের স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যমের পাশাপাশি কংগ্রেসের আইনপ্রণেতারাও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মার্কিন সিনেটের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির ১২ জন ডেমোক্র্যাট সদস্য গত বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে হতাহতের হিসাবের অসামঞ্জস্যের ব্যাখ্যা চান। পরে পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত প্রেস সচিব জোয়েল ভালদেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেন, ডিসিএএস ওয়েবসাইটে "সাময়িক তথ্যসংক্রান্ত ত্রুটি" দেখা দেওয়ায় এ অসঙ্গতি তৈরি হয়েছিল। তবে কী ধরনের প্রযুক্তিগত সমস্যা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এদিকে সিএনএন জানিয়েছে, তারা বিষয়টি নিয়ে পেন্টাগনের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাইলেও রোববার পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব পায়নি। এই বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট নিয়েও নতুন আলোচনা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসে পাঠানো এক নোটিশে দাবি করেছেন, ৭ জুলাই থেকে ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে। প্রশাসনের মতে, এর আগে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির কারণে ৬০ দিনের আইনি সময়সীমার হিসাব নতুনভাবে শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রেসিডেন্ট ৬০ দিনের বেশি সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে পারেন না। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই ব্যাখ্যার বিরোধিতা করেছেন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের একাধিক আইনপ্রণেতা। রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মুরকস্কি সম্প্রতি এক শুনানিতে বলেন, যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সময়সীমা পুনর্গণনার এই ব্যাখ্যা প্রশাসনকে কংগ্রেসের সাংবিধানিক নজরদারি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে। অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মে মাসে হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্টকে "সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক" বলে মন্তব্য করেন। হতাহতের হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশের পরও তথ্য ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা এবং যুদ্ধসংক্রান্ত সাংবিধানিক ক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১৫ দিনের সংঘাতে তাদের পাল্টা হামলায় ২০০ জনের বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত এই দাবি স্বীকার করেনি এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও ইরানের উপস্থাপিত হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি বলেন, ‘অপারেশন ভিক্টরি–২’-এর সময় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ওয়াশিংটনের প্রকাশিত সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি। তার দাবি, নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে এবং আহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি। মোহেবি অভিযোগ করেন, পেন্টাগন প্রকৃত হতাহতের তথ্য গোপন করছে। তিনি বলেন, যেসব মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরান হামলা চালিয়েছে, সেখানে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলে প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে। আইআরজিসির দাবি, ‘অপারেশন ভিক্টরি–২’-এর আওতায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আটটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় একটি ঘাঁটির ২০টি স্থাপনা ও বিমান হ্যাঙ্গারে আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্র। পাশাপাশি ১১টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার, ১৭টি গোয়েন্দা ও অপারেশনাল ড্রোন, একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, একটি পি-৮ সামুদ্রিক টহল বিমান, একটি সি-১৭ পরিবহন বিমান এবং আটটি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেছে আইআরজিসি। তবে এসব দাবির স্বাধীন কোনো যাচাই পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি হতাহতের সংখ্যা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পেন্টাগনের অনলাইন তথ্যভান্ডারে এক পর্যায়ে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা ১৮ দেখানো হলেও পরে সেটি ১৪-এ নেমে আসে। এ পরিবর্তন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সমালোচনা শুরু হয়। পেন্টাগনের পক্ষ থেকে পরে বলা হয়, এটি তথ্য হালনাগাদের সাময়িক ত্রুটির কারণে ঘটেছে। এদিকে রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে শত শত সেনা আহত হওয়ার কথাও জানিয়েছে। তবে আইআরজিসির দাবি করা ২০০ জনের বেশি নিহত কিংবা ব্যাপক সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংসের তথ্যের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর আইআরজিসির সর্বশেষ দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ফলে সংঘাতে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে বড় ধরনের পার্থক্য থেকেই গেছে।
ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতে গত দুই সপ্তাহে প্রায় ১০০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)। সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল জানান, ৭ জুলাই থেকে বিভিন্ন হামলায় আহত এসব সেনার মধ্যে প্রায় ৯৬ শতাংশ ইতোমধ্যেই চিকিৎসা শেষে আবার দায়িত্বে ফিরেছেন। শন পার্নেল বলেন, আহত সেনাদের অধিকাংশেরই হালকা ধরনের ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরি (টিবিআই) বা বিস্ফোরণের অভিঘাতে মস্তিষ্কে আঘাত লেগেছে। তিনি জানান, সেনারা দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও দায়িত্ব পালনে ফিরে আসছেন এবং আহতদের তথ্য ধাপে ধাপে পেন্টাগনের সরকারি তথ্যভান্ডারে হালনাগাদ করা হবে। এই তথ্য প্রকাশের আগে ট্রাম্প প্রশাসন কয়েক দিন ধরে সাম্প্রতিক হামলায় আহত মার্কিন সেনাদের সংখ্যা প্রকাশে অনাগ্রহ দেখিয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যম ও কংগ্রেসের সদস্যদের প্রশ্নের মুখে পড়ে পেন্টাগন। পরে ইরানের হামলায় নিহত দুই মার্কিন সেনার পরিচয় নিশ্চিত করার পর আহত সেনাদের সংখ্যাও প্রকাশ করা হয়। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে মার্কিন বাহিনীর হতাহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এক পর্যায়ে প্রতিরক্ষা দপ্তরের অনলাইন ডেটাবেসে নিহত সেনার সংখ্যা ১৮ এবং আহতের সংখ্যা ৪৪৭ দেখানো হলেও পরে সেটি কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই আগের তথ্য অনুযায়ী সংশোধন করা হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থাপনায় একাধিক হামলা চালিয়েছে ইরান। এছাড়া শনিবার ইরাকে আরও এক মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনার ফলে অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা সোমবার কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি, ক্যাম্প আরিফজান এবং বাহরাইনের সালমান বন্দর ও সাখির বিমানঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু ছিল। তবে এসব হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। এদিকে বাহরাইনের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার একাধিক দফায় চালানো আকাশপথের হামলা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। তবে হামলার প্রকৃতি বা সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ততই মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথেও এর প্রভাব পড়ছে। সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট, সিবিএস নিউজ, পেন্টাগন।
উত্তর ইরাকে ভূপাতিত একটি ইরানি ড্রোনের অবিস্ফোরিত অংশ নিয়ন্ত্রিতভাবে নিষ্ক্রিয় করার সময় এক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন সেনা সামান্য আহত হয়েছেন। রোববার (স্থানীয় সময়) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ জুলাই উত্তর ইরাকে এই ঘটনা ঘটে। ভূপাতিত ইরানি একমুখী হামলাকারী ড্রোনের (ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন) অবিস্ফোরিত অংশ নিরাপদে ধ্বংস করার জন্য নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ পরিচালনার সময় ওই সেনা নিহত হন। একই ঘটনায় আরেক মার্কিন সেনা সামান্য আহত হন এবং তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন। নিহত সেনার পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না হওয়া পর্যন্ত তার পরিচয় প্রকাশ করা হবে না বলে জানিয়েছে সেন্টকম। এর আগে গত শুক্রবার জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হন এবং একজন নিখোঁজ হন। পরে ঘটনাস্থল থেকে কিছু অজ্ঞাত দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম। উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষ নিখোঁজ সেনার কি না, তা নিশ্চিত করতে পরীক্ষার কাজ চলছে। সব মিলিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৭ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। মার্কিন বাহিনী টানা নবম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব হামলায় ইরানের সামরিক অবকাঠামো, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে এমন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে কুয়েত, জর্ডান ও বাহরাইনসহ কয়েকটি দেশ তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এক মাস আগে হওয়া অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে যাওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত আরও তীব্র আকার নিয়েছে। টানা সপ্তম রাতের মতো উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা লক্ষ্য করে নতুন দফায় বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে তারা ড্রোন হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, যুদ্ধবিমান, ড্রোন, যুদ্ধজাহাজ ও অন্যান্য সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করে ইরানের নজরদারি কেন্দ্র, সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রাগার এবং সামুদ্রিক সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের নির্দেশে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়। মার্কিন সামরিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ৫০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। চলমান সংঘাতের কারণে তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। এদিকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের হরমোজগান প্রদেশে নতুন হামলার আশঙ্কায় স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় চলাচল এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির তাসনিম সংবাদ সংস্থার বরাতে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর অবস্থা মূল্যায়নের কাজ চলছে এবং বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, সর্বশেষ হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। উপসাগরীয় দেশ বাহরাইনেও নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হলে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সময়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, কুয়েতের ক্যাম্প উদাইরি ও আলী আল সালেম ঘাঁটির বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা এবং জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি (আল আজরাক) বিমানঘাঁটির জ্বালানি সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এসব দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চলমান সংঘাতের মধ্যে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড আরও জানায়, জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন। এই ঘটনার পর অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সাময়িকভাবে সংঘাত থেকে সরে এসে আলোচনার পথে ফিরলেও সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রভাব এখনো স্পষ্ট। বিশেষ করে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে ইরানের ধারাবাহিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বাহরাইনের ‘নেভাল সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটি’ নামে পরিচিত এই ঘাঁটিটি মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর হিসেবে কাজ করে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌ-অভিযানের প্রধান নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র হওয়ায় এটি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের বাইরে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারির শেষভাগ থেকে জুন পর্যন্ত এই ঘাঁটিতে একাধিক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও সব হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি। কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যূহ ভেদ করে ঘাঁটির ভেতরে আঘাত হানে। এই হামলায় ঘাঁটির মূল কমান্ড হেডকোয়ার্টারসহ এক ডজনের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত দুটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থাও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এখনো ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করেনি। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলা তীব্র হওয়ার আগেই অধিকাংশ সেনা ও কর্মকর্তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ফলে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, স্থাপনা নয়, মানুষের জীবন রক্ষা করাই ছিল তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই কৌশল কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। ইরান সংঘাতের সময় ৮ হাজারের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করলেও পুরো সময়জুড়ে মাত্র দুটি হামলায় মার্কিন সেনাদের প্রাণহানি ঘটেছে। তবে এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনাকারীদের জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা হিসেবে এসেছে। কারণ এতে স্পষ্ট হয়েছে, অত্যন্ত সুরক্ষিত বলে বিবেচিত ঘাঁটিও পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। বিশেষ করে তুলনামূলক কম খরচে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে ইরান যে ধরনের ক্ষতি করতে পেরেছে, তা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বড় ও স্থায়ী সামরিক ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করছেন, একটি স্থানে বিপুল সেনা ও সরঞ্জাম কেন্দ্রীভূত করে রাখার কৌশল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এর পরিবর্তে বাহিনীকে বিভিন্ন ঘাঁটিতে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় নতুন প্রযুক্তি ও কৌশল উন্নয়নের দিকেও জোর দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির ধরনেই বড় ধরনের রূপান্তর আনতে পারে।
ইরানে সীমিত স্থল অভিযান পরিচালনার পেন্টাগনের পরিকল্পনা প্রকাশ হতেই মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে হাজারো মার্কিন সেনা মোতায়েনের মধ্যে এই পরিকল্পনার তথ্য প্রকাশ্যে আসায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, সম্ভাব্য অভিযান পূর্ণমাত্রার হবে না। এতে বিশেষ বাহিনী ও পদাতিক সৈন্যদের সমন্বয় থাকবে, তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কখন অনুমোদন দেবেন তা এখনও নিশ্চিত নয়। রিপাবলিকান সিনেটর জেমস ল্যাঙ্কফোর্ড বলেছেন, “সেনাদের উদ্দেশ্য এবং কার্যক্রম আমাদের স্পষ্টভাবে জানা প্রয়োজন। যদি এটি শুধু সীমিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য হয়, তা দীর্ঘস্থায়ী দখলের চেয়ে ভিন্ন।” তিনি আরও যোগ করেছেন, অসমাপ্ত যুদ্ধের ঝুঁকি সবচেয়ে বড় সমস্যা। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, পেন্টাগনের কাজ হলো সর্বোচ্চ বিকল্পের জন্য প্রস্তুত থাকা। এর মানে এই নয় যে প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যেই কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রোববার মধ্যপ্রাচ্যে ৩ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা পৌঁছেছে, যার মধ্যে মেরিন বাহিনীও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রণতরী ইউএসএস ত্রিপোলি নেতৃত্বে এই ইউনিটের সাথে আক্রমণ ও পরিবহন সরঞ্জামও মোতায়েন করা হয়েছে। সেনা সমাবেশের কারণে হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষার পাশাপাশি ইরানের তেল ও ইউরেনিয়াম স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের নেতা স্টিভ স্ক্যালিস বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ড বিশ্বজুড়ে বিপদ তৈরি করছে। এই পরিস্থিতির মোকাবিলা শুধু ইসরায়েল নয়, প্রতিবেশী আরব দেশগুলোকেও একত্রিত করেছে। ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এই পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক। নিউ জার্সির সিনেটর কোরি বুকার বলেছেন, কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া প্রেসিডেন্ট এমন সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন, যেখানে বের হওয়ার দৃশ্যমান পথ নেই। এটি আফগানিস্তানের পর সবচেয়ে বড় সামরিক সম্পৃক্ততা। মেরিল্যান্ডের সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন আশা প্রকাশ করেছেন, পেন্টাগনের অতিরিক্ত বরাদ্দ কংগ্রেসে অনুমোদিত হবে না। তিনি বলেন, এ যুদ্ধ মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা নয়, বরং বিপদ বাড়াচ্ছে। প্রতিদিন কোটি কোটি ডলার ব্যয় হচ্ছে এবং জ্বালানি খরচও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘ই-৩ সেন্ট্রি’ (E-3 Sentry) উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১২ মার্কিন সেনা, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। আল–জাজিরা জানিয়েছে, আহত সেনার সংখ্যা ১৫ পর্যন্ত হতে পারে। ‘ই-৩ সেন্ট্রি’ মূলত আওয়াকস (Airborne Warning and Control System) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই উড়োজাহাজ দূরপাল্লার রাডার ও সেন্সর ব্যবহার করে শত শত মাইল দূরে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমান শনাক্ত করতে সক্ষম। এছাড়া এটি যুদ্ধক্ষেত্রে বিমান ও সমুদ্রবাহিনী নিয়ন্ত্রণ, কমান্ড ও কন্ট্রোল এবং মিত্রবাহিনীকে নির্দেশনা প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হামলায় আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুটি ‘KC-135’ রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ। এরা মাঝ আকাশে যুদ্ধবিমান, বোমারু বিমান ও নজরদারি উড়োজাহাজে জ্বালানি সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত হয়। এর আগের হামলায়ও একই ঘাঁটিতে পাঁচটি রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যদিও তা পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে, আহত উড়োজাহাজগুলি শত্রুপক্ষ বা মিত্রপক্ষের সরাসরি আঘাতের কারণে বিধ্বস্ত হয়নি। তবে ইরাকের ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স’ নামের একটি গোষ্ঠী দাবি করেছে, তারা একটি উড়োজাহাজ ভূপাতিত করেছে। ন্যাটোও ‘ই-৩এ’ আওয়াকস উড়োজাহাজ ব্যবহার করে। এই বিমানগুলো আকাশপথে নজরদারি, যুদ্ধক্ষেত্র ব্যবস্থাপনা, কমান্ড ও কন্ট্রোল এবং মিত্রবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রক্ষায় ব্যবহৃত হয়। বোয়িং–৭০৭-এর এই সংস্করণে গম্বুজাকৃতির রাডার ডোম বসানো থাকে, যা উড়োজাহাজকে দূরপাল্লায় লক্ষ্য শনাক্তে সক্ষম করে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।