- প্রচ্ছদ
- Topic
রিপাবলিকান
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে সিনেট নির্বাচনের নতুন এক জরিপে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে ৪ শতাংশ পয়েন্টে পেছনে ফেলেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকো। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এএআরপি’র জরিপটি পরিচালনা করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ নির্বাচনী জরিপকারী হিসেবে পরিচিত টনি ফ্যাব্রিজিওর প্রতিষ্ঠান ফ্যাব্রিজিও ওয়ার্ড। জরিপে টালারিকোর পক্ষে ৪৮ শতাংশ এবং প্যাক্সটনের পক্ষে ৪৪ শতাংশ ভোটারের সমর্থন পাওয়া গেছে। জরিপটি ফ্যাব্রিজিও ওয়ার্ড ও ডেমোক্র্যাটিক জরিপকারী প্রতিষ্ঠান ইমপ্যাক্ট রিসার্চ যৌথভাবে পরিচালনা করে। ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণাগুলোতেও ফ্যাব্রিজিও জরিপকারী হিসেবে কাজ করেছেন। এদিকে, টেক্সাসের ডালাসে এ সপ্তাহে রিপাবলিকান পার্টির নজিরবিহীন মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দলীয় সমর্থকদের সক্রিয় করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী আসনে সম্ভাব্য ক্ষতি ঠেকাতেই এই সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি, অর্থনীতি ও ইরানের যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষের কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি অনেক মার্কিন নাগরিকের সমর্থন কমেছে- এমন পরিস্থিতির মধ্যেই জরিপটি প্রকাশ হলো। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্যাক্সটনের প্রশংসা করেন ট্রাম্প। তিনি প্যাক্সটনের পোশাক ও কথাবার্তা নিয়ে সমালোচনা করলেও তাঁকে ‘দেশের সেরা অ্যাটর্নি জেনারেল’ বলে উল্লেখ করেন। জরিপে টালারিকোর এগিয়ে থাকার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন স্বতন্ত্র ভোটাররা। তাঁদের মধ্যে ৫৫ শতাংশ টালারিকোকে এবং ৩৩ শতাংশ প্যাক্সটনকে সমর্থন করেছেন। অর্থাৎ এ শ্রেণির ভোটারদের মধ্যে টালারিকো ২২ পয়েন্টে এগিয়ে। তবে নিজ দলের ভোটারদের মধ্যে প্যাক্সটন এখনো টালারিকোর তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে। রিপাবলিকান ভোটারদের ৮৩ শতাংশ প্যাক্সটনকে সমর্থন করেছেন, যেখানে ডেমোক্র্যাট ভোটারদের ৯৪ শতাংশ টালারিকোর পক্ষে রয়েছেন। এছাড়া ৯ শতাংশ রিপাবলিকান টালারিকোকে সমর্থন করেছেন। বিপরীতে প্যাক্সটনের পক্ষে ডেমোক্র্যাট সমর্থন মাত্র ২ শতাংশ। টালারিকোর ইতিবাচক গ্রহণযোগ্যতার হার ৭ পয়েন্ট। ৪২ শতাংশ ভোটার তাঁকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন, বিপরীতে ৩৫ শতাংশ নেতিবাচকভাবে দেখেছেন। প্যাক্সটনের ক্ষেত্রে নেট গ্রহণযোগ্যতা ঋণাত্মক ১১ পয়েন্ট ৪৬ শতাংশ তাঁকে নেতিবাচক এবং ৩৫ শতাংশ ইতিবাচকভাবে দেখেছেন। আগস্ট ৩০ থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮৯৫ জন সম্ভাব্য ভোটারের ওপর জরিপটি পরিচালিত হয়। এতে ভুলের সম্ভাব্য সীমা ধরা হয়েছে প্লাস বা মাইনাস ৩ দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, নভেম্বরের মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানরা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ও সিনেট উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে দেশটির প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে ‘ডিভিডেন্ড’ দেওয়া হবে। ৯ সেপ্টেম্বর ডালাসে রিপাবলিকানদের মিডটার্ম কনভেনশনে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। ট্রাম্প এই অর্থকে ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক শক্তি ও সাফল্যের কারণে এই অর্থ দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের জন্য অর্থের উৎস, অর্থ বিতরণের পদ্ধতি কিংবা কবে নাগাদ এই অর্থ দেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। ট্রাম্পের ঘোষণায় বলা হয়েছে, যোগ্যতা হবে প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক হওয়া এবং রিপাবলিকানদের উভয় কক্ষে জয় পাওয়া। তিনি আরও বলেছেন, এই ডিভিডেন্ডের অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই খরচ করতে হবে। তবে প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক যোগ্যতার তালিকা বা আয়ের কোনো সীমা ঘোষণা করা হয়নি। এই ঘোষণার সঙ্গে ট্রাম্পের আগের ২ হাজার ডলারের ‘ট্যারিফ ডিভিডেন্ড’ প্রস্তাবের পার্থক্যও রয়েছে। আগের প্রস্তাবে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মার্কিনদের ট্যারিফ থেকে পাওয়া রাজস্বের একটি অংশ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। ২০২৬ সালে সেই প্রস্তাব বাস্তবায়নের কোনো আইন এখনো হয়নি। নতুন ৫ হাজার ডলারের প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে এর সম্ভাব্য ব্যয়ও হবে বিশাল। এপি জানিয়েছে, প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকদের এই অর্থ দিতে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি প্রয়োজন হতে পারে। ফলে অর্থের উৎস ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে। এদিকে, ট্রাম্পের ঘোষণা এখনো কোনো অনুমোদিত সরকারি পেমেন্ট প্রোগ্রাম নয়। কংগ্রেসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইন ও অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি কীভাবে হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বর্তমানে ৫ হাজার ডলারের এই অর্থ পাওয়ার জন্য কোনো অ্যাপ্লিকেশন, রেজিস্ট্রেশন বা নির্দিষ্ট পেমেন্ট তারিখও নেই। নভেম্বরের মিডটার্ম নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্পের এই ঘোষণা রিপাবলিকান প্রচারণায় সরাসরি আর্থিক প্রণোদনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে নির্বাচনে রিপাবলিকানরা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলেও প্রস্তাবটি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি তহবিল ২০৩২ সালের মধ্যে শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার মধ্যে কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ট্যাক্স বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলছেন। দীর্ঘদিন ধরে ট্যাক্স বাড়ানোর বিরোধিতা করে আসা রিপাবলিকানদের মধ্যে এই অবস্থান পরিবর্তন এসেছে এমন এক সময়ে, যখন সোশ্যাল সিকিউরিটির ঘাটতি এত বড় ও জরুরি হয়ে উঠেছে যে শুধু ভবিষ্যৎ সুবিধা কমিয়ে সংকট মোকাবিলা করা কঠিন বলে মনে করছেন কয়েকজন আইনপ্রণেতা। কংগ্রেস ব্যবস্থা না নিলে ছয় বছরের মধ্যে লাখো সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগীর অর্থপ্রদান ২২ শতাংশ কমে যেতে পারে। ওহাইওর রিপাবলিকান সিনেটর বার্নি মোরেনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনের সঙ্গে যৌথভাবে বেতনভিত্তিক ট্যাক্সের সর্বোচ্চ সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। এর ফলে উচ্চ আয়ের মানুষদের কর্মসূচিতে আরও বেশি অর্থ দিতে হবে। একই সময়ে প্রতিনিধি পরিষদের অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটির চেয়ারম্যান টম কোলও ট্যাক্সের হার এবং ট্যাক্সের আওতায় থাকা আয়ের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। কোল বলেছেন, সোশ্যাল সিকিউরিটির সংকট সমাধানে বর্তমান আয়ের সীমা বা ট্যাক্সের হারের মধ্যেই আটকে থাকার প্রয়োজন নেই। তিনি ট্যাক্সের হার পরিবর্তন এবং ট্যাক্সের আওতায় থাকা আয়ের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনার পক্ষে। তার মতে, সোশ্যাল সিকিউরিটির সুবিধা কমানোর রাজনৈতিক ক্ষতি ট্যাক্স বাড়ানোর তুলনায় আরও বড় হতে পারে। তহবিল ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে মানুষ নিজেদের প্রতারিত মনে করতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। সোশ্যাল সিকিউরিটি যুক্তরাষ্ট্রের ৭ কোটির বেশি মানুষকে মাসিক নগদ সুবিধা দেয়। এটি দেশটির ৭ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের ফেডারেল বাজেটের সবচেয়ে বড় কর্মসূচি। চলতি বছর এই কর্মসূচিতে ১ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হওয়ার কথা। কর্মীরা ৬২ বছর বয়স থেকে সুবিধা নেওয়া শুরু করতে পারেন, আর পূর্ণ অবসর গ্রহণের বয়স ৬৭ বছর। কর্মসূচিটি বেতনভিত্তিক ট্যাক্সের মাধ্যমে অর্থায়ন করা হয়। কর্মী ও নিয়োগকর্তা উভয়েই ৬ দশমিক ২ শতাংশ করে ট্যাক্স দেন। বছরের পর বছর বার্ষিক ট্যাক্স সংগ্রহ সুবিধা প্রদানের ব্যয়ের চেয়ে বেশি থাকায় সোশ্যাল সিকিউরিটি তহবিলে উদ্বৃত্ত জমেছিল। কিন্তু বেবি বুম প্রজন্ম অবসরে যাওয়ার পর হিসাব বদলে গেছে। এখন সোশ্যাল সিকিউরিটি যে পরিমাণ ট্যাক্স সংগ্রহ করছে, তার চেয়ে বেশি অর্থ সুবিধা হিসেবে দিচ্ছে। ফলে ঘাটতি পূরণে তহবিলের সঞ্চিত অর্থ ব্যবহার করতে হচ্ছে। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, সোশ্যাল সিকিউরিটি তহবিল ২০৩২ সালে শেষ হয়ে যেতে পারে। এরপর কর্মসূচিটিকে শুধু তখনকার সময়ে সংগৃহীত ট্যাক্সের ওপর নির্ভর করতে হবে। কংগ্রেস কোনো ব্যবস্থা না নিলে গড়ে মাসিক সুবিধা প্রায় ৪৪০ ডলার কমে যেতে পারে বলে বাইপার্টিজান পলিসি সেন্টারের হিসাব। সংস্থাটির হিসাবে, ২০৩৩ সালেই ঘাটতি পূরণ করতে ৪৫৯ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ ব্যয় কমানো অথবা নতুন রাজস্বের প্রয়োজন হবে। পরবর্তী বছরগুলোতে এই প্রয়োজন আরও বাড়বে। মোরেনো ও ওয়ারেনের প্রস্তাবে উচ্চ আয়ের কর্মীদের পুরো আয়ের ওপর বেতনভিত্তিক সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্স আরোপের কথা বলা হয়েছে। তাদের যুক্তি, মধ্যবিত্ত একজন নার্সের তুলনায় একজন ধনী করপোরেট আইনজীবী কেন নিজের আয়ের ছোট অংশে ট্যাক্স দেবেন, সেই প্রশ্নের সমাধান প্রয়োজন। তাদের উদ্ধৃত একটি সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৬২ শতাংশ রিপাবলিকান বেতনভিত্তিক ট্যাক্সের সর্বোচ্চ সীমা তুলে দেওয়ার পক্ষে। দায়িত্বশীল ফেডারেল বাজেট কমিটির হিসাবে, উচ্চ আয়ের মানুষের জন্য ট্যাক্সের সীমা তুলে দিয়ে তাদের সুবিধা না বাড়ালে সোশ্যাল সিকিউরিটির ঘাটতির অর্ধেকেরও বেশি পূরণ করা সম্ভব হতে পারে। তবে জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ের মারকাটাস সেন্টারের গবেষক চার্লস ব্লাহাসসহ কয়েকজন এই পদ্ধতির বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাদের মতে, এতে কর্মীদের দেওয়া ট্যাক্স এবং ভবিষ্যতে পাওয়া সুবিধার মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্ক দুর্বল হয়ে যেতে পারে। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে কেউ কেউ আরও বেশি ট্যাক্স আরোপের পক্ষে। রোড আইল্যান্ডের ডেমোক্র্যাট সিনেটর শেলডন হোয়াইটহাউস বেতনভিত্তিক ট্যাক্সের সীমা তুলে দেওয়ার পাশাপাশি ধনী পরিবারের বিনিয়োগ আয়ের ওপর ট্যাক্স আরোপ এবং ব্যবসার মালিকদের ব্যক্তিগত ট্যাক্স কমানোর সুযোগ থাকা একটি ফাঁক বন্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। ২০২৩ সালের এক হিসাব অনুযায়ী, তার প্রস্তাব অন্তত ৭৫ বছর সোশ্যাল সিকিউরিটির পুরো অর্থায়ন নিশ্চিত করার মতো রাজস্ব আনতে পারে। পেনসিলভানিয়ার রিপাবলিকান প্রতিনিধি লয়েড কে. স্মাকারও সোশ্যাল সিকিউরিটির সমাধানে অতিরিক্ত ট্যাক্স রাজস্বের প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন। তিনি বেতনভিত্তিক ট্যাক্সের মাধ্যমে কর্মসূচিতে আসা অর্থের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার পাশাপাশি ধনীদের জন্য সুবিধা কমিয়ে এবং নিম্ন আয়ের অবসরপ্রাপ্তদের সুরক্ষিত রাখার জন্য আয়ভিত্তিক সুবিধা নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনার কথা বলেছেন। তবে রিপাবলিকানদের মধ্যে ট্যাক্স বাড়ানোর বিরোধিতা এখনো রয়েছে। আমেরিকানস ফর ট্যাক্স রিফর্মের প্রতিষ্ঠাতা গ্রোভার নরকুইস্ট মনে করেন, রিপাবলিকানদের ব্যয় কমানোর দাবিতেই থাকা উচিত। তার মতে, ট্যাক্স বাড়ানোর পক্ষে গেলে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ক্ষুব্ধ ভোটারদের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে পারেন রিপাবলিকানরা। সোশ্যাল সিকিউরিটি সংকট মোকাবিলায় ট্যাক্স বাড়ানোর ধারণা নতুন নয়। ১৯৮৩ সালে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান এবং ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার টিপ ও'নিল কর্মসূচিটিকে তৎকালীন দেউলিয়াত্বের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে বেতনভিত্তিক ট্যাক্স বাড়ানো এবং ধীরে ধীরে অবসর গ্রহণের বয়স বাড়ানোর মতো পদক্ষেপে একমত হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়েও ট্যাক্সের সীমা বাড়ানো ও সুবিধা কমানোর বিভিন্ন প্রস্তাব সামনে এসেছে। সোশ্যাল সিকিউরিটি সংস্কারের আলোচনায় হোয়াইট হাউসের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। কোল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কর্মসূচিটির দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ট্রাম্প কীভাবে প্রয়োজনীয় বিপুল অর্থ সংগ্রহ করা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা জানাননি। তিনি বলেছেন, তার নেতৃত্বে সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থপ্রদানে কোনো কমতি হবে না। সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে সাধারণত ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা গেলেও, শিশুদের ভবিষ্যতের প্রশ্নে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট গভর্নর গ্যাভিন নিউসম। সম্প্রতি অঙ্গরাজ্যটির শিশুদের শিক্ষা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য তিনি 'ক্যালিফোর্নিয়া গোল্ডেন স্টার্ট চ্যালেঞ্জ' নামের একটি উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো 'ক্যালকিডস' (CalKIDS) প্রোগ্রামের প্রচার ও প্রসারে কাজ করা, যার মাধ্যমে যোগ্য শিশুরা তাদের উচ্চশিক্ষা বা ক্যারিয়ার গড়ার জন্য সর্বোচ্চ দেড় হাজার ডলার পর্যন্ত সরকারি আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকে। ২০২২ সালে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের নিজস্ব অর্থায়নে এই যুগান্তকারী কর্মসূচিটি চালু করা হয়েছিল। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, ক্যালিফোর্নিয়ার এই কর্মসূচির পাশাপাশি রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চালু করা ফেডারেল 'ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট' ব্যবহারেরও জোরালো প্রচার চালাচ্ছেন নিউসম। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে ট্রাম্পের এই উদ্যোগের প্রশংসাও করেন তিনি। নিউসম স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই বিষয়গুলো কোনো দলীয় রাজনীতির অংশ নয়। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে তিনি বলেন, ট্রাম্প অ্যাকাউন্টের অর্থ ট্রাম্পের ব্যক্তিগত কোনো অর্থ নয়, বরং এটি নাগরিকদের সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা। বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়া সরকার ৬০ লাখেরও বেশি ক্যালকিডস অ্যাকাউন্টের জন্য ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থায়ন করেছে, তবে এখন পর্যন্ত মাত্র ১০ লাখ পরিবার এই তহবিলের সুবিধা গ্রহণ করেছে। গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের এই উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসিত হলেও কিছু সমালোচনাও রয়েছে। প্যাসিফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ল্যান্স ইজুমির মতো বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন যে, কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি (K-12) পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা সঞ্চয় অ্যাকাউন্টের (ESA) ক্ষেত্রে নিউসম কেন বরাবরই বিরোধিতা করেন। ক্যালিফোর্নিয়ার অনেক পাবলিক স্কুল শিশুদের মৌলিক শিক্ষা প্রদানে পিছিয়ে পড়ায় কম বয়সেই এই ধরনের সঞ্চয় অ্যাকাউন্টের সুবিধা দেওয়া উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তবে সব বিতর্ক ছাপিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসন এখন সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের নেতাদেরও ক্যালকিডস এবং ফেডারেল অ্যাকাউন্টগুলোতে অনুদান প্রদানের আহ্বান জানাচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য বহুল প্রচলিত এইচ-ওয়ানবি (H-1B) ভিসা প্রোগ্রাম পুরোপুরি বাতিল করার দাবি ফের জোরদার হয়েছে। ফক্স নিউজের উপস্থাপিকা লরা ইনগ্রাহাম এবং ফ্লোরিডার রিপাবলিকান প্রতিনিধি গ্রেগ স্টিউবি সম্প্রতি এই ভিসা বাতিলের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, এই ভিসা ব্যবস্থার কারণে আমেরিকান কর্মীরা চাকরি হারাচ্ছেন এবং দেশীয় শ্রমিকদের স্বার্থ চরমভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এরই মাঝে মার্কিন প্রশাসন এইচ-ওয়ানবি ভিসাকে আরও ব্যয়বহুল করতে নতুন এক বিশাল ফি আরোপের পথে হাঁটছে। ফক্স নিউজের ‘দ্য ইনগ্রাহাম অ্যাঙ্গেল’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে গ্রেগ স্টিউবি জানান, তার প্রস্তাবিত বিলটি পাস হলে এইচ-ওয়ানবি প্রোগ্রামটি একেবারে বাতিল হয়ে যাবে। প্রমাণ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রযুক্তি ও বিনোদন প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়টি তুলে ধরেন। স্টিউবি উল্লেখ করেন, মাইক্রোসফট ১৬ হাজার আমেরিকান কর্মীকে ছাঁটাই করার পর এইচ-ওয়ানবি ভিসায় ৯ হাজার নতুন কর্মী নিয়োগ দিয়েছে। একইভাবে, ডিজনি ২৫০ জন আমেরিকানকে চাকরিচ্যুত করে উল্টো তাদের দিয়েই এইচ-ওয়ানবি ভিসায় আসা নতুন বিদেশি কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে বাধ্য করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। দেশীয় শ্রমিকদের এই শোষণের অবসান ঘটাতে স্টিউবি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ‘এক্সাইল অ্যাক্ট’ (EXILE Act) নামের একটি বিল উত্থাপন করেছেন। এদিকে লরা ইনগ্রাহাম স্মরণ করিয়ে দেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ২০১৬ সালে দায়িত্ব গ্রহণের আগে এই ভিসা বাতিল করার পক্ষে জোরালো বক্তব্য রেখেছিলেন। আইনপ্রণেতাদের এই ভিসা বাতিলের দাবির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) এইচ-ওয়ানবি ভিসার জন্য নতুন একটি বিশাল ফি আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ক্যাপ-সাবজেক্ট অর্থাৎ নির্দিষ্ট কোটার আওতাভুক্ত প্রতিটি এইচ-ওয়ানবি পিটিশনের জন্য আবেদনকারীকে ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ মার্কিন ডলার ফি প্রদান করতে হবে। এই ফি বিদ্যমান অন্যান্য স্বাভাবিক চার্জের অতিরিক্ত হিসেবে ধার্য করা হবে। ডিএইচএস-এর অনুমান, বার্ষিক ৮৫ হাজার ক্যাপ-সাবজেক্ট পিটিশনের ওপর ভিত্তি করে এই নতুন ফি থেকে সরকারের প্রতি বছর প্রায় ৮.৮ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয় হবে। এই প্রস্তাবের বিষয়ে আগামী ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জনসাধারণের মতামত দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এই প্রস্তাবনা এইচ-ওয়ানবি ভিসা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। ভিসা ব্যবস্থার সমর্থকরা মনে করেন, এই প্রোগ্রামটি মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিশেষায়িত দক্ষ কর্মী নিয়োগে সাহায্য করে। অন্যদিকে, সমালোচকদের দাবি, কোম্পানিগুলো সস্তায় কর্মী নিয়োগের জন্য এই ভিসার অপব্যবহার করছে এবং দেশীয় শ্রমিকদের প্রতিস্থাপন করছে। প্রশাসনের এই বিপুল ফি আরোপের প্রস্তাব এবং কংগ্রেসের ভিসা বাতিলের প্রচেষ্টা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর দুটি ভিন্ন রূপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, রিপাবলিকানদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠছে বলে স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে দলের প্রতি ভোটারদের ক্ষোভ থাকলেও সেই ক্ষোভ তার বিরুদ্ধে নয় বলে দাবি করেছেন তিনি। মিডটার্ম নির্বাচনের আর প্রায় তিন মাস বাকি। কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে ট্রাম্প ও তার মিত্ররা দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। একই সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের নীতির সমালোচনাও করছেন। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার চিত্র উঠে এসেছে। রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে তার অনুমোদন ৩৫ শতাংশ, এপি/নরকের জুলাইয়ের জরিপে ৩৩ শতাংশ এবং কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপে ৩২ শতাংশে নেমে এসেছে। এরপরও Punchbowl News-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “ভোটাররা রিপাবলিকানদের ওপর খুবই ক্ষুব্ধ। কিন্তু তারা আমার ওপর ক্ষুব্ধ নয়।” ট্রাম্পের দাবি, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে ভোটারদের অসন্তোষ থাকলেও তিনি নিজে সেই ক্ষোভের বাইরে রয়েছেন। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতা বলছে, ক্ষমতাসীন দলের জন্য মিডটার্ম নির্বাচন ঐতিহাসিকভাবেই কঠিন। গত ৮০ বছরে মাত্র দুইবার প্রেসিডেন্টের দল মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে আসন বাড়াতে পেরেছে। ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতও রিপাবলিকানদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে বলে সমালোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান নিয়েও দলের ভেতরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে মাঠে নেমেছেন ট্রাম্প। তার লক্ষ্য, কংগ্রেসে দলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা। কঠিন পরিস্থিতি স্বীকার করলেও নির্বাচনের ফল নিয়ে আশাবাদী ট্রাম্প। তার ভাষায়, “আমি মনে করি, আমরা জিতব।”
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ম্যাকিনিতে একটি নতুন মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার নির্মাণের প্রস্তাবে তীব্র আপত্তি জানিয়েছিলেন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা বা কংগ্রেসম্যান কিথ সেলফ। তিনি ম্যাকিনি সিটি কাউন্সিলের কাছে ৫ দশমিক ৫ একর জায়গার ওপর ‘ইসলামিক অ্যাসোসিয়েশন অব ম্যাকিনি’-এর এই জোনিং আবেদনটি বাতিল করার জোর দাবি জানান। তবে তার এই কড়া বিরোধিতা এবং বিভিন্ন উসকানিমূলক অভিযোগ সত্ত্বেও সিটি কাউন্সিল সর্বসম্মতভাবে মসজিদ নির্মাণের পক্ষেই রায় দিয়েছে। কাউন্সিল সদস্যদের মতে, মসজিদ নির্মাণের প্রস্তাবটি শহরের সব নিয়মকানুনের সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ। সিটি কাউন্সিলের শুনানিতে কিথ সেলফ তথাকথিত ‘পলিটিক্যাল ইসলাম’ বা রাজনৈতিক ইসলাম এবং শরিয়া আইনকে স্থানীয়দের জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেন। কাউন্সিল সদস্যদের সতর্ক করে তিনি দাবি করেন যে, বাল্যবিবাহ বা অনার কিলিংয়ের মতো ঘটনা এখানে ঘটবে না—এমনটি ভাবার কোনো সুযোগ নেই। তার ভাষায়, এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় কোনো বাহিনী স্থানীয়দের বাঁচাতে আসবে না। এ ছাড়া তিনি যুক্তরাজ্যে ‘গ্রুমিং গ্যাং’-এর মাধ্যমে নির্যাতনের কিছু অভিযোগও তুলে ধরেন, যেখানে তিনি প্রায় আড়াই লাখ ভুক্তভোগীর কথা উল্লেখ করেন। তবে সরকারি বা নির্ভরযোগ্য কোনো নথিতে তার এই পরিসংখ্যানের সত্যতা যাচাই করা যায়নি। ভার্জিনিয়া পার্কওয়ে এবং ক্রুচার ক্রসিংয়ের কাছাকাছি প্রস্তাবিত এই মসজিদটি নিয়ে ২০২৪ সাল থেকেই বিতর্ক চলে আসছিল। শুরুতে যানজট এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে কিছু উদ্বেগ থাকলেও পরবর্তীতে অ্যাসোসিয়েশন তাদের নকশা পরিবর্তন করে এবং যানজট ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নিজস্ব সমীক্ষা চালায়। মূলত উত্তর টেক্সাসে মুসলিম সম্প্রদায়ের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নিয়ে রাজনৈতিক মহলের নজরদারি এবং রিপাবলিকান নেতাদের একাংশের কট্টর অবস্থানের কারণেই এই বিতর্ক বড় আকার ধারণ করে। এমনকি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মসজিদটির নির্ধারিত স্থানে লাগানো একটি সাইনবোর্ডে বড় আকারের ক্রস চিহ্ন এঁকে এবং যিশু খ্রিস্টের নাম লিখে তা ভাঙচুর করার ঘটনাও ঘটেছিল। শুনানিতে দেড় শতাধিক মানুষের দীর্ঘ মন্তব্য ও কিথ সেলফের মতো প্রভাবশালী রাজনীতিকের সরাসরি হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও ম্যাকিনি সিটি কাউন্সিল এই প্রকল্পটির জোনিং আবেদনটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করে। সিটি কাউন্সিলের সদস্য জাস্টিন বেলার এই প্রকল্প ঘিরে রাজনৈতিক বাগাড়ম্বরের তীব্র সমালোচনা করেন। বিষয়টিকে ‘নির্বাচনি বছরে ভীতি ছড়ানোর অপকৌশল’ হিসেবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, মানুষকে আলাদা করে বা বিভাজন তৈরি করে ক্ষমতা লাভের চেষ্টা অত্যন্ত সস্তা একটি উপায়। জোনিং আবেদনটি পাস হলেও প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ভবিষ্যতে প্রতিটি ধাপে আলাদাভাবে ভবন নির্মাণের চূড়ান্ত অনুমতি নিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো অর্থনীতি পরিচালনায় রিপাবলিকান পার্টির চেয়ে ডেমোক্র্যাটদের ওপর বেশি আস্থা প্রকাশ করেছেন ভোটাররা। রয়টার্স ও ইপসোসের সর্বশেষ জাতীয় জরিপে দেখা গেছে, অর্থনীতি সামলানোর ক্ষেত্রে ৩৭ শতাংশ ভোটার ডেমোক্র্যাটদের ওপর আস্থা রাখছেন, যেখানে রিপাবলিকানদের প্রতি আস্থা ৩৬ শতাংশের। আরও ২৭ শতাংশ কোনো পক্ষকে বেছে নেননি বা অন্য মত দিয়েছেন। জরিপে আরও দেখা গেছে, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে ডেমোক্র্যাটরা জাতীয় পর্যায়ে রিপাবলিকানদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ৪২ শতাংশ, আর রিপাবলিকানদের ৩৭ শতাংশ। স্বতন্ত্র (ইন্ডিপেনডেন্ট) ভোটারদের মধ্যেও ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে রয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামগ্রিক অনুমোদন (অ্যাপ্রুভাল) রেটিং কমে ৩৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা তার দ্বিতীয় মেয়াদের অন্যতম সর্বনিম্ন। মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক চাপ নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। এটি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দীর্ঘদিন ধরেই অর্থনীতি ইস্যুতে রিপাবলিকানরা জনমত জরিপে এগিয়ে থাকত। রয়টার্স/ইপসোসের এই ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে, সেই প্রবণতায় পরিবর্তন আসছে এবং অর্থনীতি নিয়ে ভোটারদের মনোভাব নতুন দিকে মোড় নিচ্ছে। জরিপটি ৩০ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত ৪ হাজার ৫০৫ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে পরিচালিত হয়। এর সম্ভাব্য ত্রুটির সীমা ±২ শতাংশ।
৭১ বছর বয়সী রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের সাম্প্রতিক মৃত্যু এবং ৮৪ বছর বয়সী সিনেটর মিচ ম্যাককনেলের অসুস্থতার পর মার্কিন রাজনীতিতে প্রবীণ নেতাদের বয়স নিয়ে চলমান বিতর্ক আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত জুনে পড়ে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং পরবর্তীতে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে ম্যাককনেল ভোটদান থেকে বিরত রয়েছেন। বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেস দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বয়স্ক কংগ্রেসে পরিণত হয়েছে। সিএনএনের এক নতুন জরিপে দেখা গেছে, কংগ্রেসের এমন প্রবীণ জনসংখ্যাকে দেশের বেশিরভাগ মানুষ একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন এবং তারা নির্বাচিত কর্মকর্তাদের শারীরিক সুস্থতার বিষয়ে আরও বেশি স্বচ্ছতা দাবি করছেন। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচন মার্কিন ভোটারদের জন্য কংগ্রেসের এই বয়স কাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলার একটি বড় সুযোগ হতে পারে। সিএনএনের জরিপ অনুযায়ী, ৫৮ শতাংশ মার্কিনি মনে করেন কংগ্রেসের বয়স্ক আইনপ্রণেতাদের এই আধিক্য একটি বড় সমস্যার কারণ। ৩৫ বছরের কম বয়সী নাগরিকদের মধ্যে এই হার আরও বেশি, প্রায় ৬৮ শতাংশ। এছাড়া প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নাগরিক মনে করেন, নির্বাচিত কর্মকর্তাদের এমন সব মেডিকেল তথ্য প্রকাশ করা উচিত যা তাদের দায়িত্ব পালনে প্রভাব ফেলতে পারে। যেখানে ২০০৪ সালে ৬১ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করত যে প্রেসিডেন্টদের মেডিকেল রেকর্ড গোপন রাখার অধিকার রয়েছে, সেখানে বর্তমানে মাত্র ৩৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন যে রাজনৈতিক নেতাদের তাদের চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখার অধিকার রয়েছে। রাজনীতিতে প্রবীণদের আধিপত্য নিয়ে অসন্তোষ এখন দলীয় সীমানা ছাড়িয়ে গেছে। জরিপে দেখা গেছে, উভয় প্রধান দলের ৭০ শতাংশ সমর্থকই ৭০ বছরের বেশি বয়সী কাউকে দলের প্রার্থী হিসেবে দেখলে অস্বস্তি বা হতাশা প্রকাশ করবেন। গত জুলাইয়ে ফক্স নিউজের এক জরিপে দেখা যায়, ৮৫ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার আইনপ্রণেতাদের জন্য একটি বাধ্যতামূলক অবসরের বয়স নির্ধারণের পক্ষে মত দিয়েছেন এবং তাদের অর্ধেকই চান এই বয়সসীমা ৭০ বছরের নিচে হোক। বর্তমানে কংগ্রেসের এক-তৃতীয়াংশের বেশি সিনেটরের বয়স ৭০-এর ঊর্ধ্বে। আসন্ন নভেম্বরের নির্বাচনে ২০ জন বর্তমান সিনেটর পুনরায় লড়ছেন, যাদের বয়স ৩৯ থেকে ৮৩ বছরের মধ্যে। যদি তারা সবাই জয়ী হন, তবে ২০৩৩ সালে তাদের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় অর্ধেকের বেশি সিনেটরের বয়স ৭০ ছাড়িয়ে যাবে। তবে আশার বিষয় হলো মিচ ম্যাককনেল, ডিক ডারবিন (৮১) এবং জিন শাহিন (৭৯)-এর মতো কয়েকজন প্রবীণ সিনেটর এ বছরই অবসর নিচ্ছেন। সাধারণ মার্কিন জনসংখ্যার সঙ্গে কংগ্রেসের বয়সের এই ব্যবধান বেশ স্পষ্ট। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী হাউসের সদস্যদের বয়স অন্তত ২৫ এবং সিনেটরদের বয়স অন্তত ৩০ হতে হয়, যার ফলে কংগ্রেসের গড় বয়স স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা বেশি থাকে। তবে ২০২৫ সালের আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, যেখানে মাত্র ১৯ শতাংশ সাধারণ আমেরিকানের বয়স ৬৫ বছরের বেশি, সেখানে বর্তমান মার্কিন সিনেটরদের গড় (মিডিয়ান) বয়স ৬৬ বছর। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক সিনেটরই ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে অবস্থান করছেন। বর্তমানে ৯২ বছর বয়সী আইওয়ার রিপাবলিকান সিনেটর চাক গ্রাসলি হলেন সিনেটের সবচেয়ে বয়স্ক সদস্য। প্রেসিডেন্ট প্রো টেম্পোর হিসেবে তিনি প্রেসিডেন্টের উত্তরাধিকারের সারিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন, যা গত মে মাসে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারে নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনার সময় তার অনুপস্থিতির কারণে নতুন করে আলোচনায় আসে।
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) নির্বাচনকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ চারটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী লড়াইয়ে রিপাবলিকানদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। নতুন জরিপের গড় ফলাফলে দেখা গেছে, এপ্রিল মাসে যেখানে রিপাবলিকানরা এগিয়ে ছিল, জুলাইয়ে সেখানে ভোটের সমীকরণ বদলে গেছে। ভোটহাব (VoteHub)-এর ২১ জুলাই প্রকাশিত সর্বশেষ জরিপ বিশ্লেষণে দেখা যায়, আইওয়া, মিশিগান ও ওহাইওর সিনেট নির্বাচনের পাশাপাশি ওহাইওর গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এখন গড় হিসেবে এগিয়ে রয়েছেন। আইওয়ায় রিপাবলিকান অ্যাশলি হিনসনের বিপরীতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জশ টুরেক এখন সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। এপ্রিলে রিপাবলিকানদের গড়ে ০.৭ শতাংশের লিড থাকলেও জুলাইয়ে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ০.৫ শতাংশের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। মিশিগানে অবসর নেওয়া ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের আসন ঘিরেও পাল্টেছে পরিস্থিতি। এপ্রিলে রিপাবলিকানদের গড়ে ১.৯ শতাংশ এগিয়ে থাকার চিত্র থাকলেও জুলাইয়ে ডেমোক্র্যাটদের গড় লিড দাঁড়িয়েছে ১.৮ শতাংশ। ওহাইওর সিনেট নির্বাচনেও রিপাবলিকানদের প্রাথমিক সুবিধা হারিয়ে গেছে। এপ্রিলের গড়ে রিপাবলিকানরা ০.৩ শতাংশ এগিয়ে থাকলেও সর্বশেষ জরিপে ডেমোক্র্যাটরা ০.৯ শতাংশ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। একইভাবে ওহাইওর গভর্নর নির্বাচনে এপ্রিলের সামান্য রিপাবলিকান লিড জুলাইয়ে ডেমোক্র্যাটদের ০.৯ শতাংশের গড় ব্যবধানে রূপ নিয়েছে। তবে জরিপে এগিয়ে থাকলেও বাজিভিত্তিক নির্বাচনী পূর্বাভাস প্লাটফর্মগুলোর মূল্যায়ন ভিন্ন চিত্র দেখাচ্ছে। কালশি ও পলিমার্কেট -এর মতো পূর্বাভাস বাজার এখনো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে রিপাবলিকানদের জয়ের সম্ভাবনা বেশি দেখাচ্ছে, বিশেষ করে আইওয়া ও ওহাইওর কিছু প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে। অন্যদিকে মিশিগান সিনেট আসনে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাবনাই বেশি বলে মূল্যায়ন করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় পর্যায়ের ভোটের চিত্র খুব বেশি পরিবর্তিত না হলেও অঙ্গরাজ্যভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে ভোটারদের মনোভাব বদলাতে শুরু করেছে। ফলে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত মিলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্ষীয়ান রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ৭১ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। গত ১১ জুলাই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা এই বিশিষ্ট রাজনীতিবিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও সামগ্রিকভাবে দেশের জন্য লিন্ডসে গ্রাহামের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, "আমার প্রিয় বন্ধু এবং সত্যিকারের একজন মহান মানুষ সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের অসামান্য জীবন ও অর্জনকে সম্মান জানাতে আমি আগামী শনিবার সন্ধ্যা ৬টা (গ্রিনিচ মান সময় রাত ১০টা) পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সমস্ত আমেরিকান পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিচ্ছি। তিনি আমাদের দেশ এবং তার প্রিয় অঙ্গরাজ্য সাউথ ক্যারোলিনার জন্য অনেক কিছু অর্জন করেছেন।" আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কট্টর রুশ-বিরোধী অবস্থানের জন্য লিন্ডসে গ্রাহাম ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিলেন। এমনকি রাশিয়ায় তাকে 'সন্ত্রাসী ও চরমপন্থী' হিসেবেও তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। রুশ-বিরোধী নানা তৎপরতার পাশাপাশি এই রিপাবলিকান সিনেটর ইসরায়েলের একজন সক্রিয় সমর্থক ছিলেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের পক্ষেও সবসময় জোরালো অবস্থান নিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রাণঘাতী সহিংসতা ও ‘ট্র্যান্স জিহাদ’-এর ডাক দিয়ে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন এক ট্র্যান্সজেন্ডার অধিকারকর্মী। একটি নির্বাচনী প্রচারণার সাবেক ওই স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ভিডিও বার্তায় রিপাবলিকান এবং ট্রাম্পের ‘মাগা’ (MAGA) আন্দোলনের সমর্থকদের ‘পশু’ আখ্যা দিয়ে তাদের লক্ষ্য করে এই উগ্র ও হুমকিমূলক বক্তব্য দেন। অভিযুক্ত ওই কর্মীর নাম তেহা দেলারুয়েল, যিনি উইসকনসিনের ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস প্রার্থী ক্যাটরিনা ডিভিলের নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দেলারুয়েল একটি হোয়াইট বোর্ডের সামনে বসে আছেন, যেখানে কালো মার্কার দিয়ে স্পষ্ট ভাষায় লেখা রয়েছে—"তোমার স্থানীয় রিপাবলিকানকে হত্যা করো।" ভিডিওতে এই লেখার দিকে ইঙ্গিত করে তাকে বলতে শোনা যায়, তারা উইসকনসিন রাজ্যে এটিকে একটি সাধারণ বা মধ্যপন্থী অবস্থান হিসেবে তৈরি করতে চান। আগামী ১১ আগস্টের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি নির্বাচনকে সামনে রেখে এই উগ্র এজেন্ডা বাস্তবায়নে তিনি অনুসারীদের সাহায্যও প্রার্থনা করেন। আরেকটি বিতর্কিত ভিডিওতে রাইফেলের ছবি সংবলিত ট্র্যান্সজেন্ডার পতাকার পটভূমিতে তিনি ঘোষণা করেন, এবার রিপাবলিকান ও মাগা সমর্থকদের রাস্তায় ভয় আর উদ্বেগ নিয়ে চলতে হবে এবং এটিই হবে তাদের নতুন স্থায়ী বাস্তবতা। চরম উস্কানিমূলক এই ভিডিও এবং ব্লগ পোস্টগুলো প্রকাশ্যে আসার পরপরই মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের ঝড় ওঠে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ক্যাটরিনা ডিভিল তাৎক্ষণিকভাবে ওই কর্মীকে তার প্রচারণা দল থেকে বহিষ্কার করেন এবং তার সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেন। ডিভিল এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানান, দেলারুয়েল খুব অল্প সময়ের জন্য স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেছিলেন। কিন্তু তার মানসিক বিকৃতি ও বিপজ্জনক আচরণ প্রকাশ পাওয়ার পরপরই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা বিদ্বেষমূলক বার্তার বিরুদ্ধে নিজের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ডিভিল বলেন, এই ধরনের হুমকি তার নিজের জীবন ও প্রচারণাকেও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে এবং তিনি কোনোভাবেই এই সহিংসতাকে সমর্থন করেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিন্সে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেল মুরিলের বিরুদ্ধে ১৬টি ফেলোনি (গুরুতর অপরাধ) অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। দ্য টাইমস-পিকায়ুন পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউ অরলিন্সের ফৌজদারি আদালতের একটি গ্র্যান্ড জুরি দীর্ঘ পর্যালোচনার পর এই অভিযোগগুলো গঠন করে। এর মধ্যে ৮টি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বাকি ৮টি ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ। মার্কিন রাজনীতিতে স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেলদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ঘটনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। মূলত নিউ অরলিন্সের ফৌজদারি এবং জেলা আদালতের ক্লার্ক পদ একত্রীকরণের একটি আইনের প্রকাশ্য সমালোচনা করেছিলেন নিউ অরলিন্সের মেয়র হেলেনা মোরেনো এবং ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জেসন উইলিয়ামস। অভিযোগ উঠেছে, এই সমালোচনার প্রতিশোধ নিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মুরিল ওই সরকারি কর্মকর্তাদের ক্যারিয়ার ধ্বংসের হুমকি দিয়েছিলেন। এই মামলার দেখভালের জন্য বিশেষ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক বিচারক লরি হোয়াইট। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি প্রতিনিয়ত ভয়ভীতি ও হুমকির মধ্যে থাকেন, তবে কেউ আর জনসেবায় বা নির্বাচনে অংশ নিতে চাইবেন না। অন্যদিকে, অ্যাটর্নি জেনারেল মুরিল তাঁর বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। তাঁর আইনজীবীর দাবি, বিশেষ প্রসিকিউটর হোয়াইট এবং মুরিলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা বিচারক লিওন রোচের মধ্যে ব্যক্তিগত স্বার্থের সংঘাত রয়েছে, যা এই অভিযোগ গঠনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এছাড়া গ্র্যান্ড জুরির সদস্যরা সংবাদমাধ্যমে তথ্য ফাঁস করে গোপনীয়তা লঙ্ঘন করেছেন বলেও অভিযোগ তোলে বিবাদীপক্ষ। এদিকে, আদালতে অভিযোগ গঠনের দিন চরম বিশৃঙ্খল এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাঁদের গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি শেরিফ ডেপুটিরা এক সাংবাদিককে হাতকড়াও পরান বলে দ্য টাইমস-পিকায়ুনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন রাজনীতিতে এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়; এর আগে টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অভিশংসনের মুখোমুখি হয়েছিলেন, যদিও পরে তিনি খালাস পান।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিতে গিয়ে চরম অপমান ও বৈরিতার মুখে পড়েছেন এক মুসলিম প্রতিনিধি। দলটির মধ্যে নিজের অবস্থান ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করতে সম্মেলনে অংশ নেওয়া মোহাম্মদ হুসেইন শেষ পর্যন্ত কান্নায় ভেঙে পড়েন, যখন এক প্রভাবশালী খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতা তাকে সরাসরি বলেন, হয় খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করতে হবে, নয়তো দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে। ঘটনাটি ঘটেছে গত সপ্তাহে হিউস্টনে অনুষ্ঠিত টেক্সাস রিপাবলিকান পার্টির সম্মেলনে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। সমালোচকদের মতে, দলীয় ঐক্যের কথা বলা হলেও সম্মেলনের বিভিন্ন আলোচনা ও বক্তব্যে মুসলিমবিরোধী মনোভাব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। মোহাম্মদ হুসেইন মিসরীয় বংশোদ্ভূত একজন মার্কিন নাগরিক। ১৯৯২ সালে তার পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে আসে। তিনি নিজেকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে রক্ষণশীল চিন্তার মানুষ হিসেবে পরিচয় দেন। ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়ার কারণেই তিনি দীর্ঘদিন রিপাবলিকান রাজনীতির প্রতি আগ্রহী ছিলেন। তবে সম্মেলনে গিয়ে তিনি ভিন্ন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। সম্মেলনের অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল টেক্সাসকে ‘শরিয়ামুক্ত’ রাখার দাবি। বিভিন্ন বক্তা শরিয়া আইনকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরেন। অনেক বক্তার বক্তব্যে ইসলাম ও মুসলমানদের সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্যও উঠে আসে। একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন সাবেক ব্যাপটিস্ট ধর্মযাজক এবং ‘রিকভার আমেরিকা’ সংগঠনের সভাপতি ড. রিক স্কারবরো। সেখানে তিনি দাবি করেন, মুসলমানরা রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জনের জন্য মিথ্যা বলে এবং সুযোগ পেলে খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে সহিংস হয়ে উঠবে। এ ধরনের বক্তব্য শুনে আপত্তি জানান মোহাম্মদ হুসেইন। তিনি বলেন, শরিয়া আইন নিয়ে সম্মেলনে যেসব কথা বলা হচ্ছে, তার অনেকটাই ভুল ও বিভ্রান্তিকর। হুসেইন উপস্থিতদের উদ্দেশে বলেন, “যখন বলা হয় মুসলমানরা বাধ্য হয়ে মিথ্যা বলে, তখন আমাদের এমন অবস্থায় ফেলা হয় যেখানে আমরা যা-ই বলি না কেন, আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ থেকে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করা সম্ভব হয় না। এটি ন্যায়সঙ্গত নয়, এটি আমেরিকান মূল্যবোধও নয়।” আলোচনা শেষে হুসেইনের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে আসেন স্কারবরো। একপর্যায়ে হুসেইন তাকে প্রশ্ন করেন, তিনি কি চান যে তিনি চলে যান? জবাবে স্কারবরো বলেন, “হ্যাঁ।” পরে টেক্সাস ট্রিবিউনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্কারবরো স্পষ্ট করেন যে তিনি শুধু সম্মেলন নয়, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার কথাই বলেছেন। তার ভাষায়, “আপনি যদি সেই মূল্যবোধ ও শিক্ষাকে সমর্থন করেন, যার পক্ষে কথা বলছেন, তাহলে আমেরিকায় আপনার জায়গা নেই।” এই মন্তব্যে ভেঙে পড়েন হুসেইন। তিনি কান্নায় ভেঙে পড়ে এক পাশে বসে পড়েন। পরে স্কারবরো তার কাছে গিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং স্বীকার করেন যে তিনি হয়তো অতিরিক্ত কঠোর আচরণ করেছেন। সম্মেলনে মুসলিম অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে বিরূপ আচরণের অভিযোগ শুধু হুসেইনের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সামার হালাবি নামে একজন মুসলিম নারী প্রতিনিধি, যিনি হিজাব পরে সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন, তাকেও একাধিকবার কটূক্তির মুখে পড়তে হয়। এক পর্যায়ে এক অংশগ্রহণকারী তাকে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন। ঘটনাটি তাকে আবেগাপ্লুত করে তোলে। হালাবি ও তার স্বামী আমজাদ মুহতাসেব দুজনই নিবন্ধিত প্রতিনিধি হিসেবে সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। তারা বলেন, মুসলমানদের অনেক মূল্যবোধই রিপাবলিকানদের রক্ষণশীল অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। পরিবারব্যবস্থা, ধর্মীয় অনুশাসন, মদ্যপান ও জুয়াবিরোধী অবস্থানের মতো বিষয়ে তাদের মধ্যে মিল রয়েছে। তবুও সম্মেলনের ভেতরে তাদের উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি ওঠে। মূল বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) নামের মুসলিম নাগরিক অধিকার সংগঠনের সঙ্গে কিছু প্রতিনিধির সম্পর্ক। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট গত বছর সংগঠনটিকে নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেন। তবে সিএআইআর সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ বা বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সম্মেলনে কয়েকজন প্রতিনিধি সিএআইআরের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা ব্যক্তিদের বহিষ্কারের চেষ্টা করেন। যদিও শেষ পর্যন্ত দলীয় নিয়ম অনুযায়ী তা সম্ভব হয়নি। তবে ভবিষ্যতে এমন প্রতিনিধিদের বাদ দেওয়ার সুযোগ রেখে নতুন নিয়ম গ্রহণ করা হয়েছে। এদিকে রিপাবলিকান দলের ভেতর থেকেই এ ধরনের আচরণের সমালোচনা করা হয়েছে। টেক্সাসের আইনপ্রণেতা মানো ডি-আয়ালা বলেন, দলকে শক্তিশালী করতে হলে আরও বেশি মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। অখ্রিস্টান বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে দূরে ঠেলে দিলে দল দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অন্যদিকে সান আন্তোনিওর প্রতিনিধি কেভিন জেনিংসও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, রিপাবলিকানদের মূল রাজনৈতিক লক্ষ্য থেকে সরে গিয়ে শরিয়া ইস্যুতে অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। সম্মেলনের অভিজ্ঞতা নিয়ে মোহাম্মদ হুসেইন বলেন, তিনি এখন নতুন করে ভাবছেন ভবিষ্যতে কাকে ভোট দেবেন। তার প্রশ্ন, “যে দল আমাকে বলে ধর্ম বদলাও অথবা দেশ ছাড়ো, সেই দলের পক্ষে আমি কীভাবে দাঁড়াব?” তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে তিনি সেই প্রার্থীকে সমর্থন করবেন, যিনি ধর্মীয় স্বাধীনতা, সাংবিধানিক অধিকার এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পক্ষে অবস্থান নেবেন। টেক্সাসের এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি এবং মুসলিমদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে আদর্শিক বিভাজন ও সংখ্যালঘু ভোটারদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির প্রশ্ন আরও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আসতে পারে।
মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। দলের ভেতরে রক্ষণশীল এবং মধ্যপন্থী সদস্যদের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বের জেরে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে কংগ্রেসের স্বাভাবিক কার্যক্রম। শুক্রবার পলিটিকো’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অচলাবস্থা কাটানোর কোনো লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না, যা মার্কিন আইনসভার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, বাজেট বরাদ্দ, বৈদেশিক সহায়তা এবং অভিবাসন নীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে রিপাবলিকানরা নিজেদের মধ্যে একমত হতে পারছে না। বিশেষ করে কট্টর ডানপন্থী অংশটি স্পিকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ায় হাউজ ফ্লোরে কোনো বিল পাস করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক আইনপ্রণেতা একে ‘ফ্রিজিং পয়েন্ট’ বা হিমাঙ্ক অবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে কোনো আইনই সামনে এগোচ্ছে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, রিপাবলিকান পার্টির একটি অংশ বর্তমান নেতৃত্বের ওপর থেকে আস্থা হারিয়েছে। তারা মনে করছেন, ডেমোক্র্যাটদের সাথে সমঝোতা করে দলের মূল আদর্শের বিচ্যুতি ঘটানো হচ্ছে। অন্যদিকে, মধ্যপন্থীরা বলছেন, কট্টরপন্থীদের জেদ আর একগুঁয়েমির কারণে সাধারণ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা ও উন্নয়নমূলক কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কংগ্রেসের এই স্থবিরতার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে। সরকারি তহবিল পাসের প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হওয়ায় আবারও ‘শাটডাউন’-এর আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এছাড়া ইউক্রেন বা ইসরায়েলের মতো মিত্র দেশগুলোকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও ঝুলে আছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। স্পিকারের জন্য এই পরিস্থিতি সামলানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজ দলের বিদ্রোহ দমনে ব্যর্থ হলে তার পদটিও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক রুদ্ধদ্বার বৈঠক হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান আসেনি। কংগ্রেসের এই অস্থিরতা কবে নাগাদ কাটবে তা নিয়ে খোদ রিপাবলিকান নেতারাই সন্দিহান। সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা এই রাজনৈতিক অচলাবস্থার দ্রুত অবসান চান, যাতে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সিদ্ধান্ত নিতে আর কোনো দেরি না হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।