যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) নির্বাচনকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ চারটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী লড়াইয়ে রিপাবলিকানদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। নতুন জরিপের গড় ফলাফলে দেখা গেছে, এপ্রিল মাসে যেখানে রিপাবলিকানরা এগিয়ে ছিল, জুলাইয়ে সেখানে ভোটের সমীকরণ বদলে গেছে। ভোটহাব (VoteHub)-এর ২১ জুলাই প্রকাশিত সর্বশেষ জরিপ বিশ্লেষণে দেখা যায়, আইওয়া, মিশিগান ও ওহাইওর সিনেট নির্বাচনের পাশাপাশি ওহাইওর গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এখন গড় হিসেবে এগিয়ে রয়েছেন। আইওয়ায় রিপাবলিকান অ্যাশলি হিনসনের বিপরীতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জশ টুরেক এখন সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। এপ্রিলে রিপাবলিকানদের গড়ে ০.৭ শতাংশের লিড থাকলেও জুলাইয়ে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ০.৫ শতাংশের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। মিশিগানে অবসর নেওয়া ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের আসন ঘিরেও পাল্টেছে পরিস্থিতি। এপ্রিলে রিপাবলিকানদের গড়ে ১.৯ শতাংশ এগিয়ে থাকার চিত্র থাকলেও জুলাইয়ে ডেমোক্র্যাটদের গড় লিড দাঁড়িয়েছে ১.৮ শতাংশ। ওহাইওর সিনেট নির্বাচনেও রিপাবলিকানদের প্রাথমিক সুবিধা হারিয়ে গেছে। এপ্রিলের গড়ে রিপাবলিকানরা ০.৩ শতাংশ এগিয়ে থাকলেও সর্বশেষ জরিপে ডেমোক্র্যাটরা ০.৯ শতাংশ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। একইভাবে ওহাইওর গভর্নর নির্বাচনে এপ্রিলের সামান্য রিপাবলিকান লিড জুলাইয়ে ডেমোক্র্যাটদের ০.৯ শতাংশের গড় ব্যবধানে রূপ নিয়েছে। তবে জরিপে এগিয়ে থাকলেও বাজিভিত্তিক নির্বাচনী পূর্বাভাস প্লাটফর্মগুলোর মূল্যায়ন ভিন্ন চিত্র দেখাচ্ছে। কালশি ও পলিমার্কেট -এর মতো পূর্বাভাস বাজার এখনো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে রিপাবলিকানদের জয়ের সম্ভাবনা বেশি দেখাচ্ছে, বিশেষ করে আইওয়া ও ওহাইওর কিছু প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে। অন্যদিকে মিশিগান সিনেট আসনে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাবনাই বেশি বলে মূল্যায়ন করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় পর্যায়ের ভোটের চিত্র খুব বেশি পরিবর্তিত না হলেও অঙ্গরাজ্যভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে ভোটারদের মনোভাব বদলাতে শুরু করেছে। ফলে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত মিলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্ষীয়ান রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ৭১ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। গত ১১ জুলাই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা এই বিশিষ্ট রাজনীতিবিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও সামগ্রিকভাবে দেশের জন্য লিন্ডসে গ্রাহামের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, "আমার প্রিয় বন্ধু এবং সত্যিকারের একজন মহান মানুষ সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের অসামান্য জীবন ও অর্জনকে সম্মান জানাতে আমি আগামী শনিবার সন্ধ্যা ৬টা (গ্রিনিচ মান সময় রাত ১০টা) পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সমস্ত আমেরিকান পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিচ্ছি। তিনি আমাদের দেশ এবং তার প্রিয় অঙ্গরাজ্য সাউথ ক্যারোলিনার জন্য অনেক কিছু অর্জন করেছেন।" আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কট্টর রুশ-বিরোধী অবস্থানের জন্য লিন্ডসে গ্রাহাম ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিলেন। এমনকি রাশিয়ায় তাকে 'সন্ত্রাসী ও চরমপন্থী' হিসেবেও তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। রুশ-বিরোধী নানা তৎপরতার পাশাপাশি এই রিপাবলিকান সিনেটর ইসরায়েলের একজন সক্রিয় সমর্থক ছিলেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের পক্ষেও সবসময় জোরালো অবস্থান নিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রাণঘাতী সহিংসতা ও ‘ট্র্যান্স জিহাদ’-এর ডাক দিয়ে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন এক ট্র্যান্সজেন্ডার অধিকারকর্মী। একটি নির্বাচনী প্রচারণার সাবেক ওই স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ভিডিও বার্তায় রিপাবলিকান এবং ট্রাম্পের ‘মাগা’ (MAGA) আন্দোলনের সমর্থকদের ‘পশু’ আখ্যা দিয়ে তাদের লক্ষ্য করে এই উগ্র ও হুমকিমূলক বক্তব্য দেন। অভিযুক্ত ওই কর্মীর নাম তেহা দেলারুয়েল, যিনি উইসকনসিনের ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস প্রার্থী ক্যাটরিনা ডিভিলের নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দেলারুয়েল একটি হোয়াইট বোর্ডের সামনে বসে আছেন, যেখানে কালো মার্কার দিয়ে স্পষ্ট ভাষায় লেখা রয়েছে—"তোমার স্থানীয় রিপাবলিকানকে হত্যা করো।" ভিডিওতে এই লেখার দিকে ইঙ্গিত করে তাকে বলতে শোনা যায়, তারা উইসকনসিন রাজ্যে এটিকে একটি সাধারণ বা মধ্যপন্থী অবস্থান হিসেবে তৈরি করতে চান। আগামী ১১ আগস্টের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি নির্বাচনকে সামনে রেখে এই উগ্র এজেন্ডা বাস্তবায়নে তিনি অনুসারীদের সাহায্যও প্রার্থনা করেন। আরেকটি বিতর্কিত ভিডিওতে রাইফেলের ছবি সংবলিত ট্র্যান্সজেন্ডার পতাকার পটভূমিতে তিনি ঘোষণা করেন, এবার রিপাবলিকান ও মাগা সমর্থকদের রাস্তায় ভয় আর উদ্বেগ নিয়ে চলতে হবে এবং এটিই হবে তাদের নতুন স্থায়ী বাস্তবতা। চরম উস্কানিমূলক এই ভিডিও এবং ব্লগ পোস্টগুলো প্রকাশ্যে আসার পরপরই মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের ঝড় ওঠে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ক্যাটরিনা ডিভিল তাৎক্ষণিকভাবে ওই কর্মীকে তার প্রচারণা দল থেকে বহিষ্কার করেন এবং তার সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেন। ডিভিল এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানান, দেলারুয়েল খুব অল্প সময়ের জন্য স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেছিলেন। কিন্তু তার মানসিক বিকৃতি ও বিপজ্জনক আচরণ প্রকাশ পাওয়ার পরপরই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা বিদ্বেষমূলক বার্তার বিরুদ্ধে নিজের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ডিভিল বলেন, এই ধরনের হুমকি তার নিজের জীবন ও প্রচারণাকেও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে এবং তিনি কোনোভাবেই এই সহিংসতাকে সমর্থন করেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিন্সে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেল মুরিলের বিরুদ্ধে ১৬টি ফেলোনি (গুরুতর অপরাধ) অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। দ্য টাইমস-পিকায়ুন পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউ অরলিন্সের ফৌজদারি আদালতের একটি গ্র্যান্ড জুরি দীর্ঘ পর্যালোচনার পর এই অভিযোগগুলো গঠন করে। এর মধ্যে ৮টি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বাকি ৮টি ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ। মার্কিন রাজনীতিতে স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেলদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ঘটনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। মূলত নিউ অরলিন্সের ফৌজদারি এবং জেলা আদালতের ক্লার্ক পদ একত্রীকরণের একটি আইনের প্রকাশ্য সমালোচনা করেছিলেন নিউ অরলিন্সের মেয়র হেলেনা মোরেনো এবং ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জেসন উইলিয়ামস। অভিযোগ উঠেছে, এই সমালোচনার প্রতিশোধ নিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মুরিল ওই সরকারি কর্মকর্তাদের ক্যারিয়ার ধ্বংসের হুমকি দিয়েছিলেন। এই মামলার দেখভালের জন্য বিশেষ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক বিচারক লরি হোয়াইট। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি প্রতিনিয়ত ভয়ভীতি ও হুমকির মধ্যে থাকেন, তবে কেউ আর জনসেবায় বা নির্বাচনে অংশ নিতে চাইবেন না। অন্যদিকে, অ্যাটর্নি জেনারেল মুরিল তাঁর বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। তাঁর আইনজীবীর দাবি, বিশেষ প্রসিকিউটর হোয়াইট এবং মুরিলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা বিচারক লিওন রোচের মধ্যে ব্যক্তিগত স্বার্থের সংঘাত রয়েছে, যা এই অভিযোগ গঠনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এছাড়া গ্র্যান্ড জুরির সদস্যরা সংবাদমাধ্যমে তথ্য ফাঁস করে গোপনীয়তা লঙ্ঘন করেছেন বলেও অভিযোগ তোলে বিবাদীপক্ষ। এদিকে, আদালতে অভিযোগ গঠনের দিন চরম বিশৃঙ্খল এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাঁদের গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি শেরিফ ডেপুটিরা এক সাংবাদিককে হাতকড়াও পরান বলে দ্য টাইমস-পিকায়ুনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন রাজনীতিতে এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়; এর আগে টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অভিশংসনের মুখোমুখি হয়েছিলেন, যদিও পরে তিনি খালাস পান।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিতে গিয়ে চরম অপমান ও বৈরিতার মুখে পড়েছেন এক মুসলিম প্রতিনিধি। দলটির মধ্যে নিজের অবস্থান ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করতে সম্মেলনে অংশ নেওয়া মোহাম্মদ হুসেইন শেষ পর্যন্ত কান্নায় ভেঙে পড়েন, যখন এক প্রভাবশালী খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতা তাকে সরাসরি বলেন, হয় খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করতে হবে, নয়তো দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে। ঘটনাটি ঘটেছে গত সপ্তাহে হিউস্টনে অনুষ্ঠিত টেক্সাস রিপাবলিকান পার্টির সম্মেলনে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। সমালোচকদের মতে, দলীয় ঐক্যের কথা বলা হলেও সম্মেলনের বিভিন্ন আলোচনা ও বক্তব্যে মুসলিমবিরোধী মনোভাব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। মোহাম্মদ হুসেইন মিসরীয় বংশোদ্ভূত একজন মার্কিন নাগরিক। ১৯৯২ সালে তার পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে আসে। তিনি নিজেকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে রক্ষণশীল চিন্তার মানুষ হিসেবে পরিচয় দেন। ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়ার কারণেই তিনি দীর্ঘদিন রিপাবলিকান রাজনীতির প্রতি আগ্রহী ছিলেন। তবে সম্মেলনে গিয়ে তিনি ভিন্ন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। সম্মেলনের অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল টেক্সাসকে ‘শরিয়ামুক্ত’ রাখার দাবি। বিভিন্ন বক্তা শরিয়া আইনকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরেন। অনেক বক্তার বক্তব্যে ইসলাম ও মুসলমানদের সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্যও উঠে আসে। একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন সাবেক ব্যাপটিস্ট ধর্মযাজক এবং ‘রিকভার আমেরিকা’ সংগঠনের সভাপতি ড. রিক স্কারবরো। সেখানে তিনি দাবি করেন, মুসলমানরা রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জনের জন্য মিথ্যা বলে এবং সুযোগ পেলে খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে সহিংস হয়ে উঠবে। এ ধরনের বক্তব্য শুনে আপত্তি জানান মোহাম্মদ হুসেইন। তিনি বলেন, শরিয়া আইন নিয়ে সম্মেলনে যেসব কথা বলা হচ্ছে, তার অনেকটাই ভুল ও বিভ্রান্তিকর। হুসেইন উপস্থিতদের উদ্দেশে বলেন, “যখন বলা হয় মুসলমানরা বাধ্য হয়ে মিথ্যা বলে, তখন আমাদের এমন অবস্থায় ফেলা হয় যেখানে আমরা যা-ই বলি না কেন, আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ থেকে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করা সম্ভব হয় না। এটি ন্যায়সঙ্গত নয়, এটি আমেরিকান মূল্যবোধও নয়।” আলোচনা শেষে হুসেইনের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে আসেন স্কারবরো। একপর্যায়ে হুসেইন তাকে প্রশ্ন করেন, তিনি কি চান যে তিনি চলে যান? জবাবে স্কারবরো বলেন, “হ্যাঁ।” পরে টেক্সাস ট্রিবিউনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্কারবরো স্পষ্ট করেন যে তিনি শুধু সম্মেলন নয়, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার কথাই বলেছেন। তার ভাষায়, “আপনি যদি সেই মূল্যবোধ ও শিক্ষাকে সমর্থন করেন, যার পক্ষে কথা বলছেন, তাহলে আমেরিকায় আপনার জায়গা নেই।” এই মন্তব্যে ভেঙে পড়েন হুসেইন। তিনি কান্নায় ভেঙে পড়ে এক পাশে বসে পড়েন। পরে স্কারবরো তার কাছে গিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং স্বীকার করেন যে তিনি হয়তো অতিরিক্ত কঠোর আচরণ করেছেন। সম্মেলনে মুসলিম অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে বিরূপ আচরণের অভিযোগ শুধু হুসেইনের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সামার হালাবি নামে একজন মুসলিম নারী প্রতিনিধি, যিনি হিজাব পরে সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন, তাকেও একাধিকবার কটূক্তির মুখে পড়তে হয়। এক পর্যায়ে এক অংশগ্রহণকারী তাকে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন। ঘটনাটি তাকে আবেগাপ্লুত করে তোলে। হালাবি ও তার স্বামী আমজাদ মুহতাসেব দুজনই নিবন্ধিত প্রতিনিধি হিসেবে সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। তারা বলেন, মুসলমানদের অনেক মূল্যবোধই রিপাবলিকানদের রক্ষণশীল অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। পরিবারব্যবস্থা, ধর্মীয় অনুশাসন, মদ্যপান ও জুয়াবিরোধী অবস্থানের মতো বিষয়ে তাদের মধ্যে মিল রয়েছে। তবুও সম্মেলনের ভেতরে তাদের উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি ওঠে। মূল বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) নামের মুসলিম নাগরিক অধিকার সংগঠনের সঙ্গে কিছু প্রতিনিধির সম্পর্ক। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট গত বছর সংগঠনটিকে নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেন। তবে সিএআইআর সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ বা বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সম্মেলনে কয়েকজন প্রতিনিধি সিএআইআরের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা ব্যক্তিদের বহিষ্কারের চেষ্টা করেন। যদিও শেষ পর্যন্ত দলীয় নিয়ম অনুযায়ী তা সম্ভব হয়নি। তবে ভবিষ্যতে এমন প্রতিনিধিদের বাদ দেওয়ার সুযোগ রেখে নতুন নিয়ম গ্রহণ করা হয়েছে। এদিকে রিপাবলিকান দলের ভেতর থেকেই এ ধরনের আচরণের সমালোচনা করা হয়েছে। টেক্সাসের আইনপ্রণেতা মানো ডি-আয়ালা বলেন, দলকে শক্তিশালী করতে হলে আরও বেশি মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। অখ্রিস্টান বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে দূরে ঠেলে দিলে দল দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অন্যদিকে সান আন্তোনিওর প্রতিনিধি কেভিন জেনিংসও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, রিপাবলিকানদের মূল রাজনৈতিক লক্ষ্য থেকে সরে গিয়ে শরিয়া ইস্যুতে অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। সম্মেলনের অভিজ্ঞতা নিয়ে মোহাম্মদ হুসেইন বলেন, তিনি এখন নতুন করে ভাবছেন ভবিষ্যতে কাকে ভোট দেবেন। তার প্রশ্ন, “যে দল আমাকে বলে ধর্ম বদলাও অথবা দেশ ছাড়ো, সেই দলের পক্ষে আমি কীভাবে দাঁড়াব?” তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে তিনি সেই প্রার্থীকে সমর্থন করবেন, যিনি ধর্মীয় স্বাধীনতা, সাংবিধানিক অধিকার এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পক্ষে অবস্থান নেবেন। টেক্সাসের এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি এবং মুসলিমদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে আদর্শিক বিভাজন ও সংখ্যালঘু ভোটারদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির প্রশ্ন আরও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আসতে পারে।
মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। দলের ভেতরে রক্ষণশীল এবং মধ্যপন্থী সদস্যদের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বের জেরে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে কংগ্রেসের স্বাভাবিক কার্যক্রম। শুক্রবার পলিটিকো’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অচলাবস্থা কাটানোর কোনো লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না, যা মার্কিন আইনসভার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, বাজেট বরাদ্দ, বৈদেশিক সহায়তা এবং অভিবাসন নীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে রিপাবলিকানরা নিজেদের মধ্যে একমত হতে পারছে না। বিশেষ করে কট্টর ডানপন্থী অংশটি স্পিকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ায় হাউজ ফ্লোরে কোনো বিল পাস করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক আইনপ্রণেতা একে ‘ফ্রিজিং পয়েন্ট’ বা হিমাঙ্ক অবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে কোনো আইনই সামনে এগোচ্ছে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, রিপাবলিকান পার্টির একটি অংশ বর্তমান নেতৃত্বের ওপর থেকে আস্থা হারিয়েছে। তারা মনে করছেন, ডেমোক্র্যাটদের সাথে সমঝোতা করে দলের মূল আদর্শের বিচ্যুতি ঘটানো হচ্ছে। অন্যদিকে, মধ্যপন্থীরা বলছেন, কট্টরপন্থীদের জেদ আর একগুঁয়েমির কারণে সাধারণ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা ও উন্নয়নমূলক কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কংগ্রেসের এই স্থবিরতার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে। সরকারি তহবিল পাসের প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হওয়ায় আবারও ‘শাটডাউন’-এর আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এছাড়া ইউক্রেন বা ইসরায়েলের মতো মিত্র দেশগুলোকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও ঝুলে আছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। স্পিকারের জন্য এই পরিস্থিতি সামলানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজ দলের বিদ্রোহ দমনে ব্যর্থ হলে তার পদটিও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক রুদ্ধদ্বার বৈঠক হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান আসেনি। কংগ্রেসের এই অস্থিরতা কবে নাগাদ কাটবে তা নিয়ে খোদ রিপাবলিকান নেতারাই সন্দিহান। সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা এই রাজনৈতিক অচলাবস্থার দ্রুত অবসান চান, যাতে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সিদ্ধান্ত নিতে আর কোনো দেরি না হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।