- প্রচ্ছদ
- Topic
সন্তান
যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যের চার সন্তানের মা কাইলি গ্রাইমস এক রাতে ৯১১-এ ফোন করেছিলেন সন্তানদের কোনো জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতির জন্য নয়, নিজের ভেঙে পড়ার মুহূর্তে সাহায্য চেয়ে। দীর্ঘদিনের ঘুমের ঘাটতি, একসঙ্গে দুই সন্তানের টাইপ ১ ডায়াবেটিসের যত্ন এবং চার সন্তান সামলানোর চাপের মধ্যে তিনি বুঝতে পারেন, আর একা সামলানো সম্ভব হচ্ছে না। ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই রাতে। সেদিন স্বামী কাইল কাজে থাকায় সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে একাই ছিলেন কাইলি। এর আগের কয়েক মাসে পরিবারের ওপর একের পর এক চাপ তৈরি হয়। তাদের ছোট ছেলে নোবেলের বয়স যখন মাত্র সাত মাস, তখন তার টাইপ ১ ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। এর ৬৩ দিন পর একই রোগে আক্রান্ত হয় তাদের ছয় বছর বয়সী মেয়ে গোল্ডিও। পরিবারের আগে এমন রোগের ইতিহাস ছিল না। দুই সন্তানের ডায়াবেটিসের যত্ন নিতে গিয়ে কাইলির ঘুম ও বিশ্রাম প্রায় হারিয়ে যায়। ছোট সন্তানের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, ওষুধ ও খাবারের হিসাবসহ প্রতিদিনের নানা দায়িত্ব তার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছিল। ৩১ জুলাই রাতেও পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। সন্তানরা রাতের খাবারের জন্য অপেক্ষা করছিল। এর মধ্যেই ছোট নোবেল একটি ঘরের গাছের টবের মাটি মুখে নিয়ে ফেললে কাইলি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পরও তিনি বুঝতে পারেন, মানসিকভাবে তিনি আর স্বাভাবিক অবস্থায় নেই। কাইলি প্রথমে স্বামীকে ফোন করে সাহায্য চান। কিন্তু তিনি তখনও প্রায় ৩০ মিনিট দূরে ছিলেন। একপর্যায়ে কাইলি ৯১১-এ ফোন করেন। ডিসপ্যাচার জানতে চান, জরুরি পরিস্থিতি কী। কাইলি বলেন, তিনি আর পরিস্থিতি সামলাতে পারছেন না, তিনি ভীষণ চাপে আছেন এবং সাহায্য প্রয়োজন। এরপর যখন আবার জানতে চাওয়া হয়, আসল জরুরি বিষয়টি কী, তখন তার উত্তর ছিল, “আমাকে ইমারজেন্সি বাঁচান'।” কাইলি স্পষ্ট করে জানান, তিনি নিজেকে বা সন্তানদের ক্ষতি করতে যাচ্ছেন না। তিনি শুধু বুঝতে পেরেছিলেন যে তার জরুরি সহায়তা প্রয়োজন এবং সন্তানদের নিরাপদ রাখার জন্যও তাকে কিছুটা সহায়তা নিতে হবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই একজন পুলিশ অফিসার বাড়িতে পৌঁছান। পরে অন্য ফার্স্ট রেসপন্ডাররাও আসেন এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তাকে একজন সোশ্যাল ওয়ার্কারের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। এই ঘটনার পর কাইলি পরিবার ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে আরও সহায়তা নিতে শুরু করেন। পরে নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে তুলে ধরে তিনি জানান, সন্তানের যত্ন নিতে গিয়ে কোনো মা বা কেয়ারগিভার মানসিকভাবে ভেঙে পড়লে সেটিকে লুকিয়ে রাখার বিষয় হিসেবে দেখা উচিত নয়। কাইলির অভিজ্ঞতা বিশেষ করে তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যারা দীর্ঘ সময় ধরে সন্তান বা পরিবারের সদস্যের অতিরিক্ত যত্নের দায়িত্ব পালন করছেন। তার বক্তব্যের মূল বার্তা হলো, সাহায্যের প্রয়োজন হওয়া ব্যর্থতার লক্ষণ নয়। বরং নিজের সীমা বুঝে সময়মতো সহায়তা চাওয়াও দায়িত্বশীলতার অংশ। কাইলি পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মাতৃত্ব, টাইপ ১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত সন্তানদের যত্ন এবং কেয়ারগিভার হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন। তার এই খোলামেলা অবস্থান অনেক অভিভাবকের মধ্যে সন্তান লালনপালনের চাপ, মানসিক ক্লান্তি এবং প্রয়োজনের সময় সহায়তা চাওয়ার বিষয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
কিশোর-কিশোরীরা একা উবারে যাতায়াতের সময় তাদের নিরাপত্তা নিয়ে বাবা-মায়ের উদ্বেগ কমাতে নতুন সুবিধা চালু করেছে রাইডশেয়ারিং কোম্পানি উবার। এখন নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় উবারের টিন অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারী সন্তানের রাইড চলাকালীন গাড়ির ভেতরের দৃশ্য লাইভ ভিডিওতে দেখতে পারবেন অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত বাবা-মা বা অভিভাবক। উবারের নতুন এই লাইভ ভিডিও সুবিধা ২৫ আগস্ট থেকে চালু হয়েছে। উবারের টিন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীরা বাবা-মা বা লিগ্যাল গার্ডিয়ানের অনুমতি নিয়ে নিজেরাই রাইড নিতে পারে। নতুন ফিচারের লক্ষ্য হলো সন্তান একা স্কুল, খেলাধুলা বা অন্য কোনো কাজে যাতায়াত করার সময় বাবা-মাকে রাইডের পরিস্থিতি আরও সরাসরি দেখার সুযোগ দেওয়া। রাইড শুরু হওয়ার পর লাইভ ভিডিও সুবিধা পাওয়া গেলে অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত বাবা-মা বা অভিভাবকের ফোনে একটি নোটিফিকেশন যাবে। এরপর উবার অ্যাপ থেকে এক ট্যাপেই রাইডের লাইভ ভিডিও দেখা যাবে। ভিডিওটি ধারণ করা হবে উবার ড্রাইভারের ফোনের সামনের ক্যামেরা দিয়ে, যাতে মূলত গাড়ির পেছনের সিটের দৃশ্য দেখা যায়। তবে প্রতিটি রাইডে লাইভ ভিডিও সুবিধা নিশ্চিত নয়। ড্রাইভার চাইলে এই সুবিধা চালু বা বন্ধ রাখতে পারবেন। ফলে কোনো রাইড শুরু হওয়ার আগে বাবা-মা জানতে পারবেন না যে ওই রাইডে লাইভ ভিডিও দেখা যাবে কি না। লাইভ ভিডিও চালু থাকলে বাবা-মা রাইডের যেকোনো সময় সেটি দেখতে পারবেন। বাবা-মা ভিডিও দেখা শুরু করলে কিশোর যাত্রী এবং ড্রাইভার দুজনকেই বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হবে। রাইড শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লাইভ ভিডিওও বন্ধ হয়ে যাবে। উবার জানিয়েছে, ভিডিওটি এনক্রিপ্টেড থাকবে এবং রাইড চলাকালীন এটি কেবল সংশ্লিষ্ট কিশোরের সঙ্গে যুক্ত বাবা-মা বা অভিভাবকই লাইভ দেখতে পারবেন। উবার নিজেও রাইড চলাকালীন ওই ভিডিও দেখতে পারবে না। তবে নিরাপত্তাজনিত কোনো ঘটনার তদন্তের প্রয়োজন হলে এনক্রিপ্টেড ভিডিও ফাইলের ডিক্রিপশন কী ব্যবহারের সুযোগ কোম্পানির থাকতে পারে। উবারের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ ক্ষেত্রে রাইডের ভিডিও রেকর্ডিং ১৪ দিন পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে ফেলা হবে। তবে কোনো ভিডিও নিরাপত্তাসংক্রান্ত রিপোর্টের অংশ হলে কোম্পানির ডেটা সংরক্ষণ নীতিমালা অনুযায়ী সেটি আরও বেশি সময় রাখা হতে পারে। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নয়টি মার্কেটে নতুন লাইভ ভিডিও সুবিধা চালু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আটলান্টা, ফিনিক্স, অরল্যান্ডো, র্যালি-ডারহাম, পোর্টল্যান্ড, সান অ্যান্টোনিও, ক্লিভল্যান্ড, রোড আইল্যান্ড এবং এল পাসো। ক্যালিফোর্নিয়ায় এখনো এই সুবিধা চালু হয়নি। উবার জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশজুড়ে ফিচারটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন লাইভ ভিডিও সুবিধার পাশাপাশি টিন অ্যাকাউন্টে আগে থেকেই রয়েছে রাইডের লাইভ ট্র্যাকিং, পিন ভেরিফিকেশন এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সুবিধা। রাইডের সময় বাবা-মা সন্তানের অবস্থান ও যাত্রার অগ্রগতি অ্যাপের মাধ্যমে দেখতে পারেন। উবার ২০২৩ সালে টিন অ্যাকাউন্ট চালু করে। বর্তমানে ৫০টিরও বেশি দেশে এই সেবা রয়েছে এবং কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, চালুর পর থেকে টিন অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারীরা বিশ্বজুড়ে বছরে কোটি কোটি রাইড সম্পন্ন করছেন। নতুন লাইভ ভিডিও সুবিধার মাধ্যমে সন্তানকে স্বাধীনভাবে যাতায়াতের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি বাবা-মায়ের জন্য রাইডের সময় আরও সরাসরি নজর রাখার সুযোগ তৈরি হলো।
সন্তানের জন্য বছরের পর বছর চেষ্টা, একের পর এক ব্যর্থ গর্ভধারণ এবং আইভিএফের পর মৃত যমজ সন্তান প্রসবের বেদনা। সবকিছুর পর যখন সারা কনেল ও তার স্বামী বিল কনেলের বাবা-মা হওয়ার স্বপ্ন প্রায় নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছিল, তখন এগিয়ে আসেন সারার মা ক্রিস্টিন কেসি। ৬১ বছর বয়সে নিজের মেয়ের সন্তানের সারোগেট হয়ে গর্ভে ধারণ করেন নাতিকে। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোয় জন্ম দেন সুস্থ শিশু ফিনিয়ান লি কনেলকে। ঘটনাটি সে সময় যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। এবিসি নিউজসহ একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্রিস্টিন তখন তিন প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের মা এবং প্রায় ১০ বছর আগেই তার মেনোপজ হয়ে গিয়েছিল। বয়স ও শারীরিক বাস্তবতার কারণে স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের প্রশ্ন ছিল না। কিন্তু আধুনিক প্রজনন চিকিৎসার সহায়তায় শেষ পর্যন্ত মেয়ের সন্তানকে পৃথিবীতে আনার সুযোগ পান তিনি। সারা ও বিল দীর্ঘদিন ধরে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ফার্টিলিটি চিকিৎসা ও একাধিক গর্ভধারণের পরও তাদের সন্তান বেঁচে থাকেনি। একপর্যায়ে আইভিএফের মাধ্যমে যমজ সন্তান গর্ভে এলেও তারা মৃত অবস্থায় জন্ম নেয়। ধারাবাহিক এই অভিজ্ঞতার পর দম্পতির বাবা-মা হওয়ার আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছিল। এই অবস্থায় মেয়ের জন্য সারোগেট হওয়ার প্রস্তাব দেন ক্রিস্টিন। তবে শুধু ইচ্ছা থাকলেই এত বেশি বয়সে গর্ভধারণ সম্ভব ছিল না। চিকিৎসকেরা প্রথমে তার স্বাস্থ্যের বিস্তারিত পরীক্ষা করেন। বয়সের কারণে সম্ভাব্য ঝুঁকিও বিবেচনায় নেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় মেডিকেল মূল্যায়নের পর তাকে গর্ভধারণের উপযোগী করতে হরমোন চিকিৎসা দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ায় ক্রিস্টিন শিশুটির জৈবিক মা ছিলেন না। সারা কনেলের ডিম্বাণু এবং তার স্বামী বিল কনেলের শুক্রাণু ব্যবহার করে আইভিএফের মাধ্যমে ভ্রূণ তৈরি করা হয়। সেই ভ্রূণ ক্রিস্টিনের জরায়ুতে স্থাপন করা হয়। দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় সফলভাবে গর্ভধারণ করেন তিনি। প্রায় ৩৯ সপ্তাহ নাতিকে গর্ভে বহন করেন ক্রিস্টিন। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে শিকাগোর নর্থওয়েস্টার্ন মেমোরিয়াল হাসপাতালের প্রেন্টিস উইমেন্স হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম নেয় ফিনিয়ান লি কনেল। জন্মের সময় শিশুটির ওজন ছিল প্রায় সাত পাউন্ড। চিকিৎসকেরা সে সময় জানিয়েছিলেন, অস্ত্রোপচারটি জটিলতা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছিল। তবে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর ক্রিস্টিনের কিডনি-সংক্রান্ত সাময়িক একটি জটিলতা দেখা দেয়, যা দ্রুত চিকিৎসায় নিয়ন্ত্রণে আসে। ক্রিস্টিনের জন্য এটি ছিল প্রায় তিন দশক পর আবার সন্তান প্রসবের অভিজ্ঞতা। তবে এবার যে শিশুটিকে তিনি গর্ভে বহন করেছিলেন, সেই শিশুই ছিল তার নিজের প্রথম নাতি। ঘটনার পর ক্রিস্টিন জানিয়েছিলেন, নিজের তিন মেয়েকে জন্ম দেওয়ার দিনগুলো তার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্তগুলোর মধ্যে ছিল। সেই মাতৃত্বের আনন্দ মেয়েকেও পাওয়ার সুযোগ করে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে সারা কনেল তাদের এই দীর্ঘ ও ব্যতিক্রমী যাত্রার অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বইও লেখেন। সেখানে সন্তান হারানোর কষ্ট থেকে শুরু করে নিজের মায়ের সারোগেট হওয়ার সিদ্ধান্ত এবং শেষ পর্যন্ত ফিনিয়ানের জন্ম পর্যন্ত পুরো অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। ফিনিয়ানের জন্মের গল্পের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিকটি ছিল পারিবারিক সম্পর্কের এই সমীকরণ। জৈবিকভাবে সারা ও বিল তার বাবা-মা। কিন্তু যে নারী তাকে নয় মাস গর্ভে ধারণ করে পৃথিবীতে এনেছিলেন, তিনি একই সঙ্গে তার নানি ক্রিস্টিন কেসি। ৬১ বছর বয়সে নেওয়া ক্রিস্টিনের সেই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত এমন একটি পরিবারের বহু বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছিল, যেখানে একজন মা নিজের মেয়েকে মাতৃত্বের সুযোগ করে দিতে নিজেই হয়ে উঠেছিলেন তার সন্তানের সারোগেট।
ম্যাসাচুসেটসের মার্থা’স ভিনইয়ার্ডে পরিবারের সঙ্গে সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে গিয়ে দুই সন্তানকে বাঁচাতে পানিতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন ৫৫ বছর বয়সী কেভিন ফস্টার। প্রবল স্রোতে তাঁর দুই কিশোর ছেলে কেনেথ ও কেডেনসহ পাঁচজন পানিতে বিপদে পড়েছিলেন। ৩১ জুলাই বিকেল ৩টা ৪৭ মিনিটের দিকে লং পয়েন্ট এলাকায় তাঁদের উদ্ধারে জরুরি সহায়তা চাওয়া হয়। তীব্র স্রোতের মধ্যে উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয় কয়েকজন সাহস করে পানিতে নামেন। শেষ পর্যন্ত ফস্টারের দুই ছেলেসহ চারজন নিরাপদে তীরে ফিরতে সক্ষম হন। কিন্তু ফস্টারকে অচেতন অবস্থায় তীরে আনা হলে তাঁকে বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্যদের বিপদে দেখে সাহায্যের জন্য এগিয়ে যাওয়াটা ছিল ফস্টারের স্বভাবেরই অংশ। তাঁর স্ত্রী নাদিয়া ও দুই সন্তান এখন তাঁকে হারানোর গভীর শোকে দিন কাটাচ্ছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেভিন ছিলেন ভালোবাসা, উদারতা ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য পরিচিত একজন মানুষ। ফস্টারের মৃত্যুতে স্থানীয় সম্প্রদায়েও শোক নেমে এসেছে। তাঁর স্মরণে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে তহবিল সংগ্রহ শুরু হয়। ১৩ আগস্ট পর্যন্ত তাঁর দুই ছেলের শিক্ষার জন্য গঠিত তহবিলে ২ লাখ ৯০ হাজার ডলারের বেশি জমা পড়েছিল। ১১ আগস্ট ফস্টারের দাফন সম্পন্ন হয়। স্ত্রী ও স্বজনদের কাছে তাঁর শেষ মুহূর্তটি এখন শুধু এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার স্মৃতি নয়—সন্তানদের বাঁচাতে নিজের জীবন উৎসর্গ করা এক বাবার ভালোবাসার প্রতীক।
মাত্র ৫০০ টাকা ঘরভাড়া দিতে না পেরে নিজের মাথার চুল বিক্রি করতে হয়েছে রেহানা খাতুনকে। এখন দুই সন্তানকে নিয়ে তার আশ্রয় খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশের খোলা জায়গায়। বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের এই ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে গভীর মর্মবেদনার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় দুই সন্তানকে নিয়ে ভাড়া করা একটি ঝুপড়ি ঘরে থাকতেন রেহানা। দীর্ঘদিন ভাড়া দিতে না পারায় একপর্যায়ে সেই আশ্রয়ও হারান তিনি। এরপর সন্তানদের নিয়ে রেললাইনের পাশের সরকারি জমিতে আশ্রয় নেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় রেলব্রিজের পাশে বাঁশের খুঁটি দিয়ে একটি ঘরের কাঠামো তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অর্থের অভাবে কয়েক মাস ধরে সেটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। টিন ও বেড়ার ব্যবস্থা না হওয়ায় ঘরটি এখনো বসবাসের উপযোগী হয়নি। ফলে খোলা জায়গাতেই প্রখর রোদ ও বৃষ্টির মধ্যে দুই সন্তানকে নিয়ে দিন কাটছে রেহানার। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, মাথা গোঁজার জায়গা না থাকায় রেহানা একসময় পাশের একটি বাড়িতে অস্থায়ীভাবে থাকতেন। একদিন তিনি লক্ষ্য করেন, রেহানার মাথায় চুল নেই। কারণ জানতে চাইলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে রেহানা জানান, ঘরের ৫০০ টাকা ভাড়া পরিশোধ করতে নিজের চুল বিক্রি করেছেন তিনি। আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, রেহানার অবস্থা অত্যন্ত করুণ। দুই সন্তানকে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। তার জন্য দ্রুত একটি নিরাপদ ঘরের ব্যবস্থা করতে সরকারের কাছে আবেদন জানাবেন তারা। সন্তোষপুর গ্রামের প্রবেশমুখে রেললাইনের পাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে বাঁশের সেই কাঠামো। সেটিকেই একটি পূর্ণাঙ্গ ঘরে পরিণত করে দুই সন্তানকে নিয়ে নিরাপদে থাকার স্বপ্ন দেখছেন রেহানা। কিন্তু টিন, বেড়া ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার সামর্থ্য না থাকায় সেই স্বপ্ন এখনো পূরণ হয়নি। রেহানা খাতুন বলেন, “দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সব কষ্ট সহ্য করি। ঘর নেই, খাওয়ারও কষ্ট আছে। নিরুপায় হয়ে চুল বিক্রি করেছি। আমি সরকারের কাছে সাহায্য চাই। সন্তানদের নিয়ে একটু নিরাপদে থাকতে চাই।” এলাকাবাসীর দাবি, রেহানার মতো অসহায় পরিবারের জন্য সরকারি আবাসন সহায়তার আওতায় দ্রুত একটি ঘরের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সমাজের সামর্থ্যবান ও মানবিক মানুষদেরও তার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা। দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে প্রতিদিন নতুন করে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন রেহানা। তার চাওয়া খুব বেশি নয়। মাথার ওপর একটি টিনের ছাউনি, যেখানে বৃষ্টির দিনে সন্তানদের ভিজতে হবে না এবং রাতে অন্তত নিরাপদে ঘুমাতে পারবেন তারা।
যুক্তরাষ্ট্রে একটি শিশুকে জন্ম থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত লালন-পালন করতে এখন গড়ে ৩ লাখ ৩ হাজার ডলারেরও বেশি খরচ হচ্ছে। নতুন এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আবাসন, খাদ্য, স্বাস্থ্যবিমা, পোশাক, পরিবহন ও শিশু পরিচর্যার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে সন্তান প্রতিপালনের খরচ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৩ লাখ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। লেন্ডিংট্রির গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, একটি শিশুর পেছনে বছরে গড় ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৮৫৭ ডলার। তবে শিশুর জীবনের প্রথম পাঁচ বছরে খরচ আরও বেশি, কারণ এ সময় ডে কেয়ার ও পরিচর্যা ব্যয়ই সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্তান লালন-পালনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ব্যয়বহুল রাজ্য হাওয়াই। সেখানে ১৮ বছরে একটি শিশুর পেছনে আনুমানিক ৪ লাখ ১২ হাজার ৬৬১ ডলার খরচ হয়। এর পরেই রয়েছে আলাস্কা ও মেরিল্যান্ড। অন্যদিকে সবচেয়ে কম খরচের রাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে মিসিসিপি, আলাবামা ও সাউথ ডাকোটা। ওয়াশিংটন ডিসি, মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়া অঞ্চলেও শিশু লালন-পালনের ব্যয় দেশের অনেক অংশের তুলনায় বেশি। বিশেষ করে আবাসন ও শিশু পরিচর্যার খরচ এই অঞ্চলের পরিবারগুলোর ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করছে। গবেষকরা হিসাব করতে গিয়ে বাড়িভাড়া, খাবার, শিশুর পোশাক, পরিবহন, স্বাস্থ্যবিমা, ডে কেয়ার এবং প্রযোজ্য কর-সুবিধা বিবেচনায় নিয়েছেন। তাদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও সন্তান লালন-পালনের মোট ব্যয় এখনও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। শিশু পরিচর্যার ব্যয় নিয়ে আলাদা এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে একটি নবজাতক ও চার বছর বয়সী একটি শিশুর বার্ষিক পরিচর্যা ব্যয় গড়ে ২৮ হাজার ডলারের বেশি। এই ব্যয়কে আয়ের ৭ শতাংশের মধ্যে রাখতে হলে একটি পরিবারের বছরে প্রায় ৪ লাখ ৩ হাজার ডলার আয় প্রয়োজন, যা অধিকাংশ পরিবারের আয়ের তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয়, ডে কেয়ারের মূল্য এবং আবাসন সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান লালন-পালন অনেক পরিবারের জন্য আগের চেয়ে বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।