সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

সুপ্রিম কোর্ট

মেইল ভোটে বিধিনিষেধ কার্যকরে সুপ্রিম কোর্টে  ট্রাম্প প্রশাসন
মেইল ভোটে বিধিনিষেধ কার্যকরে সুপ্রিম কোর্টে আবার ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মেইল ভোটে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। নিম্ন আদালতের নিষেধাজ্ঞার পর রোববার আবারও জরুরি আবেদন করেছে প্রশাসন।   প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার্চে জারি করা নির্বাহী আদেশের ভিত্তিতে তৈরি নতুন নিয়মে মেইল ব্যালট পাঠানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শর্ত আরোপের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রাজ্যগুলোকে মেইল ব্যালট পাওয়ার যোগ্য ভোটারদের তালিকা ইউএস পোস্টাল সার্ভিসকে দেওয়ার পাশাপাশি ব্যালটের খামে ইউনিক বারকোড ব্যবহারের নিয়ম রয়েছে। নিয়ম না মানা হলে কিছু ব্যালট সরবরাহ না করার সুযোগও থাকবে পোস্টাল সার্ভিসের।   তবে ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল বিচারক ইন্দিরা তালওয়ানি নতুন নিয়ম কার্যকরের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়ে দেওয়ার পর বিষয়টি আবার সুপ্রিম কোর্টে নিয়ে গেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রশাসনের সলিসিটর জেনারেল জন সাওয়ার যুক্তি দিয়েছেন, রাজ্যগুলোতে ইতোমধ্যে মেইল ব্যালট পাঠানো শুরু হওয়ায় নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে ভোটার ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।   প্রশাসনের দাবি, নিয়ম কার্যকর না হলে প্রতিটি দিন নির্বাচনী প্রস্তুতিতে অনিশ্চয়তা বাড়াবে। বিশেষ করে নর্থ ক্যারোলাইনায় ইতোমধ্যে ব্যালট পাঠানো শুরু হয়েছে। আলাবামা ৯ সেপ্টেম্বর থেকে এবং আরও কয়েকটি রাজ্য সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে মেইল ব্যালট পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।   অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত রাজ্য ও ভোটাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, নির্বাচনের এত কাছাকাছি সময়ে নিয়ম পরিবর্তন করলে বৈধ ভোটারদের ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে। নির্বাচন কর্মকর্তারাও বলছেন, অল্প সময়ের মধ্যে পুরো ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনা কঠিন।   মেইল ভোট নিয়ে এই আইনি লড়াই নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোটার কোনো না কোনোভাবে মেইল ব্যালট ব্যবহার করেন।   এর আগে আগস্টে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আদেশ বাস্তবায়নের সম্ভাব্য পথ খুলে দিলেও আদেশটি আইনসঙ্গত কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। ফলে নতুন করে আদালতে লড়াই শুরু হয়েছে। এবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি কেটানজি ব্রাউন জ্যাকসন বুধবারের মধ্যে জবাব দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:০
দুই মন্ত্রীর বিদেশি নাগরিকত্ব যাচাই চেয়ে আইনি নোটিশ
দুই মন্ত্রীর বিদেশি নাগরিকত্ব যাচাই চেয়ে আইনি নোটিশ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের বিদেশি নাগরিকত্ব, বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য এবং সাংবিধানিকভাবে শপথ গ্রহণের বৈধতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আসলাম মিয়া।   মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে এ নোটিশ পাঠানো হয়।   আইনজীবী আসলাম মিয়া জানান, নোটিশের বিষয়ে সাত দিনের মধ্যে জবাব না পেলে তিনি হাইকোর্টে রিটসহ আইনগত প্রতিকার চাইবেন।   নোটিশে সংবিধানের ৫৬, ৬৬ ও ১৪৮ অনুচ্ছেদ এবং তৃতীয় তফসিলের আলোকে দুই মন্ত্রীর নিয়োগ, যোগ্যতা, নাগরিকত্ব, বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ও শপথের বৈধতা যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।   এতে বিশেষভাবে দুই মন্ত্রীর নাগরিকত্ব, পাসপোর্ট, অভিবাসন এবং নাগরিকত্ব গ্রহণ বা ত্যাগের রেকর্ডসহ সংশ্লিষ্ট নথি সংগ্রহ ও পরীক্ষা করার কথা বলা হয়েছে।   নোটিশে সংবিধানের ৬৬(২)(গ) অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করলে বা বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করলে সংসদ সদস্য হিসেবে তার যোগ্যতার বিষয়ে সাংবিধানিক প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ৬৬(২এ)-এর বিধানও বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।   ড. খলিলুর রহমানের ক্ষেত্রে তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের নাগরিক কি না, কখনো বিদেশি নাগরিকত্ব বা পাসপোর্ট নিয়েছেন কি না এবং কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের শপথ বা ঘোষণা দিয়েছেন কি না—এসব বিষয় যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে। একইভাবে হুমায়ুন কবিরের নাগরিকত্ব ও বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের বিষয়টিও যাচাই করতে বলা হয়েছে।   তবে আইনি নোটিশটি কোনো চূড়ান্ত অভিযোগ বা আদালতের সিদ্ধান্ত নয়। নোটিশদাতার পক্ষ থেকে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর সরকারি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই চাওয়া হয়েছে।   নোটিশে আরও বলা হয়েছে, কোনো সাংবিধানিক অযোগ্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আর কোনো অযোগ্যতা না থাকলে দুই মন্ত্রীর নিয়োগ ও দায়িত্বে বহাল থাকার সাংবিধানিক ও আইনগত ভিত্তি স্পষ্ট করতে হবে।   সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের মধ্যে জবাব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে বিষয়টির নিষ্পত্তি না হলে হাইকোর্টসহ উপযুক্ত বিচারিক ফোরামে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন আইনজীবী আসলাম মিয়া।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০
আইএসে যোগ দিতে সিরিয়ায় যাওয়া শামীমা কি ফিরে পাবেন  নাগরিকত্ব!
আইএসে যোগ দিতে সিরিয়ায় যাওয়া শামীমা কি ফিরে পাবেন নাগরিকত্ব!

ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়ার জন্য যুক্তরাজ্যের আদালতে শামীমা বেগমের আইনি লড়াইয়ের পথ শেষ হয়েছে। যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট তার আপিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করায় দেশটির আদালতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত আর চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ নেই। তবে শামীমার মামলা এখন ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে রয়েছে, যেখানে তিনি দাবি করেছেন, শিশু পাচারের সম্ভাব্য শিকার হিসেবে তার পরিস্থিতি যথাযথভাবে বিবেচনা না করেই ব্রিটিশ নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।   লন্ডনে জন্ম নেওয়া শামীমা ২০১৫ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে দুই স্কুলবন্ধুর সঙ্গে যুক্তরাজ্য ছেড়ে সিরিয়ায় যান। সেখানে তিনি ইসলামিক স্টেট বা আইএস নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রবেশ করেন এবং পরে একজন আইএস সদস্যকে বিয়ে করেন। ২০১৯ সালে সিরিয়ার একটি শিবিরে তার সন্ধান পাওয়ার পর তৎকালীন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করেন।   এরপর নাগরিকত্ব ফিরে পেতে দীর্ঘ আইনি লড়াই শুরু করেন শামীমা। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্পেশাল ইমিগ্রেশন আপিলস কমিশন তার আবেদন খারিজ করে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের কোর্ট অব আপিলও তার পক্ষে রায় দেয়নি।   সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট কোর্ট অব আপিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমতি চেয়ে করা শামীমার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। সুপ্রিম কোর্ট জানায়, তার আবেদনে এমন কোনো গ্রহণযোগ্য আইনি প্রশ্ন নেই, যার ভিত্তিতে আরও আপিলের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। এর ফলে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ আদালতে নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ কার্যত শেষ হয়ে যায়।   তবে মামলার এখানেই সমাপ্তি হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর শামীমা ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে আবেদন করেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে স্ট্রাসবুর্গভিত্তিক আদালত মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্য সরকারকে জানায় এবং সরকারের কাছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জবাব চায়।   মামলাটির অন্যতম কেন্দ্রীয় বিষয় হচ্ছে, ১৫ বছর বয়সে শামীমার সিরিয়ায় যাওয়ার পেছনে মানবপাচার বা শিশু পাচারের উপাদান ছিল কি না এবং ব্রিটিশ সরকার নাগরিকত্ব বাতিলের আগে সেই সম্ভাবনা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেছিল কি না।   শামীমার আইনজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় তাকে আইএসের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং তাকে সম্ভাব্য মানবপাচারের শিকার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত ছিল। তাদের যুক্তি, নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় রাষ্ট্রের তার প্রতি থাকা সুরক্ষামূলক দায়িত্বের বিষয়টিও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন ছিল।   ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত বিশেষভাবে ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদের ৪ নম্বর অনুচ্ছেদের আলোকে বিষয়টি পরীক্ষা করছে। এই অনুচ্ছেদ দাসত্ব ও জোরপূর্বক শ্রম নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি মানবপাচার থেকে সুরক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ আইনি ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।   অন্যদিকে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থান হচ্ছে, শামীমার নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে নেওয়া হয়েছিল। যুক্তরাজ্যের আদালতগুলোও এর আগে সরকারের সিদ্ধান্তকে বেআইনি ঘোষণা করেনি।   শামীমার নাগরিকত্ব নিয়ে বাংলাদেশ প্রসঙ্গও দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের সময় আইনি যুক্তি ছিল, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বাবা মায়ের সন্তান হিসেবে তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য ছিলেন এবং সে কারণে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব হারিয়ে রাষ্ট্রহীন হবেন না। তবে বাংলাদেশ সরকার প্রকাশ্যে জানিয়েছে, শামীমা বাংলাদেশের নাগরিক নন এবং তাকে বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।   ফলে বাস্তবে শামীমার অবস্থান অত্যন্ত জটিল। ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নেই, বাংলাদেশ তাকে নাগরিক হিসেবে স্বীকার করছে না এবং অন্য কোনো দেশে তার পুনর্বাসনের নিশ্চিত ব্যবস্থাও নেই।   বর্তমানে তিনি উত্তর পূর্ব সিরিয়ার আল রোজ শিবিরে অবস্থান করছেন। ২০১৯ সালে আইএসের ভূখণ্ডগত পতনের পর থেকে সেখানে আইএসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন নারী ও শিশুদের একটি বড় অংশকে রাখা হয়েছে।   শামীমার তিন সন্তানই অল্প বয়সে মারা গেছে। ২০১৯ সালে শিবিরে অবস্থানকালে তার নবজাতক ছেলের মৃত্যুর খবর আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচিত হয়েছিল।   ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে চলমান মামলাটি এখন তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবশিষ্ট আইনি পথ। তবে আদালত শেষ পর্যন্ত তার পক্ষে রায় দিলেও সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেবে বা তাকে যুক্তরাজ্যে ফেরার অনুমতি দেবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আদালতের সিদ্ধান্তের ধরন এবং যুক্তরাজ্য সরকার সেটি কীভাবে বাস্তবায়ন করে, তার ওপর পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে।   ফলে এক দশকেরও বেশি সময় আগে ১৫ বছর বয়সে লন্ডন ছেড়ে সিরিয়ায় যাওয়া শামীমা বেগমের ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই স্ট্রাসবুর্গের ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের মামলার ওপর নির্ভর করছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:০
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ইস্যুতে নতুন আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব মামলায় আবারও সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (Birthright Citizenship) সীমিত করার নির্বাহী আদেশ বাতিল করে দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আবারও আইনি লড়াইয়ে নামছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে রায় পুনর্বিবেচনার (Rehearing) আবেদন করবেন।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (৮ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত ইতোমধ্যে যেসব মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানি শেষে রায় দিয়েছে, সেগুলো পুনর্বিবেচনার আবেদন গ্রহণের নজির অত্যন্ত বিরল। কয়েক দশক ধরে এমন কোনো আবেদন গ্রহণ করেনি সুপ্রিম কোর্ট।   গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের সেই নির্বাহী আদেশ বাতিল করে দেয়, যার মাধ্যমে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। আদালত রায়ে উল্লেখ করে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী এবং দেশটির আইনগত এখতিয়ারের আওতাভুক্ত ব্যক্তিরা জন্মসূত্রেই মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারী। আদালতের মতে, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ ওই সাংবিধানিক বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।   ট্রাম্প এই রায়কে ‘ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা’ (Miscarriage of Justice) বলে আখ্যা দিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি John Roberts রচিত এই রায়ের কঠোর সমালোচনা করে তিনি ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, “আমেরিকার নাগরিকত্ব বিক্রির জন্য নয়। নাগরিকত্ব নিয়ে যে অপব্যবহার হচ্ছে, তা অপরাধ। তাই সুপ্রিম কোর্টের এই রায় ভুল। আমি অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে পুনর্বিবেচনার আবেদন করব।”   দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই ট্রাম্প অবৈধ ও বৈধ উভয় ধরনের অভিবাসন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে একাধিক নির্বাহী আদেশে সই করেছিলেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্যোগ। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, বর্তমান আইনের সুযোগ নিয়ে কিছু বিদেশি পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জনের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে নাগরিক অধিকার সংগঠন ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা শুরু থেকেই এই পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক বলে সমালোচনা করে আসছিলেন।   আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম কোর্টে পুনর্বিবেচনার আবেদন করার সুযোগ থাকলেও তা গ্রহণ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ আদালত সাধারণত কেবল অত্যন্ত ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে এমন আবেদন বিবেচনা করে থাকে। ফলে ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগ রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে এটি সফল হওয়ার সম্ভাবনা সীমিত বলেই মনে করা হচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্বের সুযোগ ঠেকাতে কড়াকড়ি বাড়াচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন I ছবি: সংগৃহীত
সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্বের সুযোগ ঠেকাতে কড়াকড়ি বাড়াচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার বহাল রাখার একদিন পরই তথাকথিত 'বার্থ ট্যুরিজম' ঠেকাতে কঠোর হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ জানিয়েছেন, পর্যটক, দর্শনার্থী বা অবৈধ অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে এসে সন্তান জন্ম দেওয়ার এই প্রবণতা রোধে এখন থেকে কেন্দ্রীয় কৌঁসুলি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জোরালোভাবে কাজ করবে।   হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং এফবিআইকে ভিসা প্রক্রিয়ার অপব্যবহারকারীদের শনাক্ত করতে আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। টড ব্লাঞ্চ জোর দিয়ে বলেন, যারা ভ্রমণের কথা বলে এসে শুধু মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে সন্তান জন্ম দেয়, তাদের সেই সুযোগ সীমিত করতে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা জরুরি।   বিচার বিভাগের জালিয়াতি দমন শাখার সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কলিন ম্যাকডোনাল্ডও এক দাপ্তরিক নির্দেশনায় বার্থ ট্যুরিজম সংক্রান্ত জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থার প্রতারণামূলক অপব্যবহারকারীদের আইনের আওতায় এনে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের পবিত্রতা রক্ষা করবে বিচার বিভাগ।   তবে অবাক করা বিষয় হলো, গত এপ্রিলে ‘ট্রাম্প বনাম বারবারা’ মামলার শুনানিতে খোদ সরকারি আইনজীবীই স্বীকার করেছিলেন যে, এই বার্থ ট্যুরিজম সমস্যাটি আসলে কতটা ব্যাপক, তা নিশ্চিতভাবে কারও জানা নেই। অ্যান্টি-ইমিগ্রেশন থিংকট্যাংক ‘সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজ’-এর দেওয়া তথ্যমতে, ট্যুরিস্ট ভিসায় আসা নারীদের মাধ্যমে বছরে ২০ থেকে ২৬ হাজার শিশুর জন্ম হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর জন্মগ্রহণকারী মোট শিশুর ১ শতাংশেরও কম।   পরিসংখ্যানগত দিক থেকে হার এত কম হওয়া সত্ত্বেও জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের যুক্তিতে বার্থ ট্যুরিজমকেই প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন হাউস স্পিকার মাইক জনসনও দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সুযোগের চরম অপব্যবহার করা হচ্ছে এবং অনেকেই শুধু সন্তান জন্ম দিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রের কল্যাণমূলক সুবিধাগুলো ভোগ করতে চাইছেন।   মূলত মার্কিন সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর নতুন ব্যাখ্যা দিয়ে ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, অবৈধ অভিবাসী বা ট্যুরিস্ট ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের মতো অস্থায়ী ভিসায় থাকা নাগরিকদের সন্তানরা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণাঙ্গ বিচারিক আওতাধীন নয়, তাই তারা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য হতে পারে না। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের ৬-৩ সংখ্যাগরিষ্ঠের রায়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস এই যুক্তি পুরোপুরি খারিজ করে দেন।   সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াইয়ে ধাক্কা খাওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন স্থায়ী আইনি মর্যাদাহীন বাবা-মায়ের সন্তানদের নাগরিকত্ব না দেওয়ার বিষয়ে নতুন আইন পাসের জন্য আইনপ্রণেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। তবে কংগ্রেসের বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত বিতর্কিত এই বিলটি পাস করাতে হলে তাকে ৬০ ভোটের ‘ফিলিবাস্টার’ বাধা অতিক্রম করতে হবে, যা ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে কার্যত প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের এবং বিশেষ করে রক্ষণশীল বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেটের অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। রায়ের ব্যাপারে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করে ভ্যান্স বলেন, একজন অবৈধ অভিবাসী বা ছুটিতে এসে সন্তান জন্ম দেওয়া কোনো পর্যটকের পুরো পরিবার এভাবে রাতারাতি মার্কিন নাগরিকত্বের সুবিধা পেয়ে যাবে, তা কখনোই সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর প্রণেতাদের উদ্দেশ্য ছিল না।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: কোলাজ । আমেরিকা বাংলা
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল : সুপ্রিম কোর্টের রায়কে স্বাগত জানালেন নিউইয়র্কের মেয়র মামদানি

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রেখে বৈধ কাগজপত্রবিহীন বা অস্থায়ী ভিসাধারী অভিবাসী বাবা-মায়ের যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করার ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাহী আদেশ বাতিল করার পর এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান কওয়ামে মামদানি।   ৩০ জুন দেওয়া এক বিবৃতিতে মেয়র মামদানি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে দেড় শতাব্দীরও বেশি আগে অন্তর্ভুক্ত একটি মৌলিক প্রতিশ্রুতিকে পুনর্ব্যক্ত করেছে। তিনি বলেন, আমেরিকার মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রত্যেকেই মার্কিন নাগরিক। একজন মানুষের ত্বকের রঙ, বাবা-মায়ের জন্মস্থান, ধর্মীয় পরিচয় বা বাড়িতে কোন ভাষায় কথা বলা হয়, নাগরিকত্ব নির্ধারণে এসব বিষয়ের কোনো প্রভাব নেই।   মেয়র বলেন, এই বিষয়টি কখনোই বিতর্কের হওয়ার কথা ছিল না। তার ভাষায়, ফেডারেল প্রশাসন সংবিধানের অন্যতম স্পষ্ট নিশ্চয়তাকে পরিবর্তনের চেষ্টা করেছিল, যাতে তারা নির্ধারণ করতে পারে কে এই দেশের অন্তর্ভুক্ত এবং কে নয়। আদালত সেই প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে।   তিনি আরও বলেন, নিউইয়র্ক সিটি জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের শক্তির একটি জীবন্ত উদাহরণ। অভিবাসী পরিবারের সন্তানরাই আজ শহরের শিক্ষক, নার্স, নির্মাণ শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শিল্পী, সরকারি কর্মচারী এবং সাধারণ প্রতিবেশী হিসেবে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।   নিউইয়র্কে বসবাসরত অভিবাসী পরিবারগুলোর উদ্দেশে মেয়র বলেন, পাঁচটি বরোজুড়ে বসবাসকারী প্রতিটি অভিবাসী পরিবারকে তিনি স্পষ্টভাবে জানাতে চান, তারা এই শহরেরই অংশ এবং তাদের সন্তানরাও এখানকারই অংশ।   তিনি বলেন, কোনো আদালত তাদের মানবিক মর্যাদা কেড়ে নিতে পারে না। কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডাও এই সত্য পরিবর্তন করতে পারবে না যে, যুক্তরাষ্ট্রের বৈচিত্র্যই দেশটির সবচেয়ে বড় শক্তি।   বিবৃতির শেষাংশে মেয়র মামদানি অঙ্গীকার করেন, যতদিন তিনি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, ততদিন শহর অভিবাসীদের অধিকার রক্ষা করবে, তাদের মর্যাদা সমুন্নত রাখবে এবং আরও উন্নত আমেরিকা গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় তাদের পাশে থাকবে।

Unknown জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ইস্যুতে কংগ্রেসকে আইন প্রণয়নের আহ্বান ট্রাম্পের I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ইস্যুতে কংগ্রেসকে আইন প্রণয়নের আহ্বান ট্রাম্পের

মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (বার্থরাইট সিটিজেনশিপ) নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের বিপক্ষে রায় দেওয়ার পর এবার বিষয়টি কংগ্রেসের মাধ্যমে আইনে পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, সুপ্রিম কোর্ট জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রাখলেও কংগ্রেস চাইলে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এই নীতিতে পরিবর্তন আনতে পারে। তিনি কংগ্রেসকে অবিলম্বে এ বিষয়ে কাজ শুরু করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এমন উদ্যোগে তিনি “পূর্ণ ও সর্বাত্মক সমর্থন” দেবেন।   বিবৃতিতে ট্রাম্প দাবি করেন, বর্তমান জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য “ব্যয়বহুল ও অন্যায্য”। তাঁর মতে, এ নীতিতে পরিবর্তন আনতে দীর্ঘ সাংবিধানিক সংশোধনের প্রয়োজন নেই; কংগ্রেস আইন পাস করলেই তা সম্ভব।   এর আগে মঙ্গলবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার নির্বাহী আদেশ কার্যকর করার পথ বন্ধ করে দেয়। আদালত নিম্ন আদালতের সেই স্থগিতাদেশ বহাল রাখে, যার ফলে নির্বাহী আদেশটি আপাতত কার্যকর করা যাচ্ছে না।   ট্রাম্প প্রশাসনের ওই নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছিল, কোনো শিশুর বাবা-মায়ের কেউই যদি মার্কিন নাগরিক বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিনকার্ডধারী) না হন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সেই শিশুকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না।   এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একাধিক অঙ্গরাজ্য, নাগরিক অধিকার সংগঠন ও অভিবাসী অধিকারকর্মীরা আদালতের শরণাপন্ন হন। মামলাকারীদের দাবি ছিল, ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী (১৪তম সংশোধনী)-এর পরিপন্থী।   মার্কিন গৃহযুদ্ধের পর প্রণীত এই সংশোধনীতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া এবং দেশটির আইনগত এখতিয়ারের আওতাভুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তি জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারী।   রায়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস ১৮৯৮ সালের ঐতিহাসিক United States v. Wong Kim Ark মামলার নজির উল্লেখ করেন। ওই রায়ে আদালত বলেছিল, বিদেশি নাগরিকের সন্তান হলেও যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলে তিনি জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্বের অধিকারী। প্রধান বিচারপতি তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই সাংবিধানিক ব্যাখ্যাই অনুসরণ করা হচ্ছে এবং জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার মতো কোনো সুস্পষ্ট সাংবিধানিক ভিত্তি আদালত খুঁজে পায়নি।   তবে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরও ট্রাম্প বিষয়টি থেকে সরে আসছেন না। বরং তিনি এখন কংগ্রেসের মাধ্যমে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আইনসভা চাইলে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বর্তমান ব্যবস্থা পরিবর্তন করা সম্ভব।   বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাহী উদ্যোগ আপাতত স্থগিত থাকলেও জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক এখনো শেষ হয়নি। বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেসে নতুন করে আলোচনা শুরু হলে তা আগামী দিনের অভিবাসন নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
যৌন নির্যাতন মামলা: সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের ধাক্কা, আবেদন খারিজ

মার্কিন লেখক ও কলামিস্ট ই. জিন ক্যারল দায়ের করা যৌন নির্যাতন মামলায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর আপিল খারিজ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে নিম্ন আদালতের দেওয়া ক্ষতিপূরণের রায় বহাল থাকল।   আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের আইনজীবীরা মামলাটি বাতিলের জন্য সর্বোচ্চ আদালতে আবেদন করেছিলেন। তবে গতকাল সেই আবেদন নাকচ করে দেন বিচারপতিরা। কেন এই আবেদন খারিজ করা হলো, সে বিষয়ে আদালত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি—যা যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক নয়।   মামলার সূত্রপাত ২০১৯ সালে, যখন ই. জিন ক্যারল অভিযোগ করেন যে, ১৯৯৬ সালে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে অবস্থিত বার্গডর্ফ গুডম্যান ডিপার্টমেন্ট স্টোরের একটি ড্রেসিং রুমে ট্রাম্প তাকে যৌন নির্যাতন করেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন এবং ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।   দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৩ সালের মে মাসে নিম্ন আদালত ক্যারলের পক্ষে রায় দেন। আদালত ট্রাম্পকে দায়ী সাব্যস্ত করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ফেডারেল আপিল আদালতে আবেদন করা হলে সেখানেও নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়।   পরবর্তীতে ২০২৫ সালে বিষয়টি নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন ট্রাম্পের আইনজীবীরা। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট আপিল গ্রহণ না করায় কার্যত ফেডারেল ও নিম্ন আদালতের রায়ই চূড়ান্ত রূপ পেল।   এই মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সময়ের বহুল আলোচিত আইনি লড়াইগুলোর একটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাবেক একজন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এবং আদালতের ধারাবাহিক রায় দেশটির বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা ও প্রক্রিয়াগত ধারাবাহিকতার গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
একদিনে ট্রাম্পের দুই আইনি জয়, অভিবাসন নীতিতে সুপ্রিম কোর্টের যুগান্তকারী রায়

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট একই দিনে অভিবাসন-সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে সিদ্ধান্ত দিয়েছে। আদালতের এক রায়ে হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকদের জন্য দেওয়া টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) বাতিলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অন্য রায়ে সীমান্তে আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) আবেদনকারীদের সংখ্যা সীমিত করার 'মিটারিং' নীতি পুনরায় চালুর আইনি পথ উন্মুক্ত হয়েছে। এদিকে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগ নিয়ে বহুল আলোচিত মামলার রায় এখনও অপেক্ষমাণ রয়েছে।   ৬-৩ ভোটের রায়ে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনকে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার হাইতিয়ান এবং প্রায় ৬ হাজার সিরীয় নাগরিকের টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) বাতিলের অনুমতি দিয়েছে। টিপিএস এমন একটি কর্মসূচি, যার আওতায় যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য সংকটপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে নিজ দেশে ফিরতে না পারা বিদেশি নাগরিকরা সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ পান।   হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেল জ্যাকসন এই রায়কে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য "বিশাল জয়" বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করেছে যে টিপিএস কখনোই স্থায়ী বসবাসের পথ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কথা নয়।   অন্যদিকে, টিপিএস সুবিধাভোগীদের পক্ষে থাকা আইনজীবীরা রায়টিকে "দুঃখজনক দিন" হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, এতে হাজারো পরিবার অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। একই দিনে মুলানি বনাম ওট্রো ল্যাবো মামলায় সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতের একটি আদেশ বাতিল করেছে, যা সীমান্তে দৈনিক অ্যাসাইলাম আবেদনকারীর সংখ্যা সীমিত করার 'মিটারিং' নীতি স্থগিত রেখেছিল।   বিচারপতি কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন ভিন্নমত দিয়ে বলেন, এই মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে গ্রহণ করার প্রয়োজন ছিল না। কারণ সংশ্লিষ্ট নীতিটি ২০২১ সালেই প্রত্যাহার করা হয়েছিল। যদিও বর্তমানে নীতিটি কার্যকর নেই, আদালতের এ সিদ্ধান্তের ফলে প্রশাসন চাইলে ভবিষ্যতে এটি পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে আইনি বাধার মুখে পড়বে না।   এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির সবচেয়ে আলোচিত মামলা ট্রাম্প বনাম বারবারা এখনও সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। মামলাটিতে প্রশ্ন উঠেছে, অবৈধভাবে অথবা সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অভিবাসীদের সন্তানদের জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়া হবে কি না।   এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত শুনানিতে কয়েকজন বিচারপতি ট্রাম্প প্রশাসনের উপস্থাপিত আইনি যুক্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস প্রশাসনের সলিসিটর জেনারেলকে বলেন, "এটা একই সংবিধান।"   এই মামলার রায় আগামী জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে প্রকাশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে গত ৫ জুন রোড আইল্যান্ডের একটি ফেডারেল আদালত ইউএসসিআইএসের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ স্থগিতাদেশ এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকটি নীতি অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করে। এতে হাজারো আবেদনকারী সাময়িক স্বস্তি পান।   বর্তমানে ইউএসসিআইএস ২০২২ সালের তুলনামূলক শিথিল 'পাবলিক চার্জ' নীতি অনুসরণ করছে। এই নীতিতে কেবল নগদ সরকারি সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সেবাকে বিবেচনায় নেওয়া হয়।   তবে বিদেশে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটগুলোতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর নতুন নির্দেশনায় আবেদনকারীদের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা ব্যয় বহনের সক্ষমতাও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা ইস্যু স্থগিতের সিদ্ধান্তও এখনও কার্যকর রয়েছে। এ ছাড়া ২০২২ সালের পাবলিক চার্জ নীতি বাতিল করে আরও কঠোর নীতি কার্যকরের একটি প্রস্তাব বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। সেটি ২০২৬ সালের মধ্যেই চূড়ান্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   অভিবাসন আইনজীবীরা জানিয়েছেন, অনেক পরিবার এখনও ভুল ধারণার কারণে এসএনএপি বা ডব্লিউআইসির মতো বৈধ সরকারি সুবিধা গ্রহণ থেকে বিরত থাকছেন। অথচ বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী এসব সুবিধা 'পাবলিক চার্জ' নির্ধারণে গণনা করা হয় না।   অভিবাসী অধিকারকর্মীদের মতে, একের পর এক আদালতের রায় এবং পরিবর্তিত নীতিমালার কারণে লাখো অভিবাসী পরিবার দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে বসবাস করছে।   এসিএলইউর আইনজীবী সেসিলিয়া ওয়াং বলেন, "আমরা যারা এই দেশে জন্মেছি, সবাই আমেরিকান। কোনো রাজনীতিবিদ ঠিক করতে পারেন না কে এই দেশে জন্ম নেওয়ার যোগ্য।" অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থকদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে। আদালতের সামনে থাকা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব মামলার রায়ের দিকেও এখন নজর রয়েছে।

Unknown জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ট্রাম্পের দুই বিতর্কিত নীতির ভাগ্য নির্ধারণ করবে সুপ্রিম কোর্ট

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুটি অন্যতম দুঃসাহসিক ও বিতর্কিত পদক্ষেপের ভাগ্য এখন সুপ্রিম কোর্টের হাতে। ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) একজন গভর্নরকে পদচ্যুত করা এবং জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার আইন বাতিলের মতো বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালত কী রায় দেয়, তা জানার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। চলতি সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্ট তাদের মেয়াদের সর্বশেষ সাতটি রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছে, যার মধ্যে ট্রাম্পের এই দুটি বহুল আলোচিত বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই দুই ক্ষেত্রেই ট্রাম্প মূলত দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত জাতীয় নীতি ভেঙে নতুন নজির স্থাপন করতে চাইছেন। এর একটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলেই মার্কিন নাগরিক হওয়ার অধিকার এবং অন্যটি ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীন সত্তা।   ওয়াশিংটন সময় সোমবার সকাল ১০টা থেকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা রায় ঘোষণার জন্য এজলাসে বসবেন। সাধারণত আদালতের মেয়াদের একেবারে শেষ দিকে সবচেয়ে বড় এবং বিতর্কিত মামলাগুলোর রায় দেওয়া হয়, এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো বন্ধক জালিয়াতির অভিযোগে ফেড গভর্নর লিসা কুককে বরখাস্ত করা, যদিও লিসা এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছেন।   সুপ্রিম কোর্ট আপাতত শুধু এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে যে, লিসা কুক তার চাকরি ফিরে পাওয়ার আইনি লড়াই চালানোর সময় ট্রাম্প তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করতে পারবেন কি না। তবে এই মামলার রায় সুদের হার নির্ধারণে ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতার ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   যদি সুপ্রিম কোর্টের রায় ট্রাম্পের পক্ষে যায়, তবে তা তার জন্য সুদের হার কমানোর নির্দেশ অমান্যকারী অন্যান্য ফেড গভর্নরদের বরখাস্ত করার পথও প্রশস্ত করতে পারে। এমনকি এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের পদচ্যুত করে নতুন নিয়োগের মাধ্যমে পুরো ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর সুযোগ পেতে পারেন। ট্রাম্প ইতিমধ্যে জেরোম পাওয়েলকে বরখাস্ত করার বিষয়েও প্রকাশ্যে নিজের ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন, যিনি চেয়ারম্যান হিসেবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ফেডের বোর্ড অব গভর্নরসে দায়িত্ব পালন করছেন।   তবে গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত শুনানিতে বিচারপতিদের বক্তব্যে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে লিসা কুককে বরখাস্ত করার ট্রাম্পের এই উদ্যোগে তারা খুব একটা সম্মত নন। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক উইলিয়াম বাউড এ মাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক আলাপে জানিয়েছেন, আদালত সম্ভবত প্রশাসনের বিপক্ষেই রায় দিতে যাচ্ছে। তবে মূল আইনি বিষয়গুলো নিয়ে আদালত ঠিক কতটা বিশদভাবে জানাবে, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। উল্লেখ্য, গত ২০ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্পের ব্যাপকভিত্তিক বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের নীতি বাতিল করে দেওয়ার মাধ্যমে চলতি মেয়াদে তাকে ইতিমধ্যে একটি বড় ধাক্কা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: কোলাজ । আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে লাখো অভিবাসীর অনিশ্চয়তা, ট্রাম্পকে টিপিএস বাতিলের ক্ষমতা দিল সুপ্রিম কোর্ট

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ের ফলে দেশটিতে বসবাসরত কয়েক লাখ অভিবাসীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আদালত সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকদের জন্য দেওয়া টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) বাতিলের ক্ষমতা বহাল রাখার সুযোগ দিয়েছে।   এই রায়ের ফলে প্রায়৩ লাখ ৫০ হাজার হাইতিয়ান এবং ৬ হাজার সিরীয় অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করার অধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। টিপিএস বাতিল হলে তাদের অনেককেই সহিংসতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা মানবিক সংকটে থাকা নিজ নিজ দেশে ফিরে যেতে হতে পারে।   আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা রায়ে বলেন, টিপিএস প্রদান বা বাতিলের সিদ্ধান্ত মূলত নির্বাহী বিভাগের এখতিয়ার। সাংবিধানিক প্রশ্ন ছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্তের বিচারিক পর্যালোচনার সুযোগ সীমিত। ফলে ভবিষ্যতেও প্রশাসন টিপিএস সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে তুলনামূলক বেশি স্বাধীনতা পাবে।   তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিবাসন অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী হাজারো পরিবার এই কর্মসূচির ওপর নির্ভর করে জীবন গড়ে তুলেছে। হঠাৎ করে তাদের আইনি সুরক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ হারানো শুধু মানবিক সংকটই সৃষ্টি করবে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।   টিপিএস মূলত যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা চরম অস্থিতিশীলতায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের নাগরিকদের অস্থায়ী নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য চালু করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে এই কর্মসূচির আওতায় থাকা অনেক মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী জীবন গড়ে তুলেছেন। ফলে তাদের সুরক্ষা এক ঝটকায় প্রত্যাহার করা বড় ধরনের সামাজিক ও মানবিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।   অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান হলো, টিপিএস একটি অস্থায়ী কর্মসূচি এবং এর মেয়াদ অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে পারে না। প্রশাসনের দাবি, সংশ্লিষ্ট দেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই মর্যাদা বাতিল করার ক্ষমতা সরকারের রয়েছে।   রায়ের পর এখন বিষয়টি আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্ব পেয়েছে। অভিবাসন অধিকার সংগঠনগুলো কংগ্রেসকে দ্রুত আইন প্রণয়নের মাধ্যমে টিপিএসধারীদের জন্য স্থায়ী আইনি সুরক্ষা বা নাগরিকত্বের পথ তৈরি করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে জাতীয় বিতর্কও উসকে দিয়েছে।

Unknown জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ গেটি ইমেজ
৩ লাখ ৫৬ হাজার সিরীয় ও হাইতিয়ান অভিবাসীর আইনি সুরক্ষা বাতিলের অনুমতি পেল ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক যুগান্তকারী রায়ে সিরীয় ও হাইতিয়ান অভিবাসীদের অস্থায়ী আইনি সুরক্ষা (টিপিএস) বাতিলের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনকে সবুজ সংকেত দিয়েছে। বৃহস্পতিবার দেওয়া ৬-৩ ব্যবধানের এই বিভক্ত রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ পাওয়া প্রায় ৩ লাখ ৫৬ হাজার সিরীয় এবং হাইতিয়ান নাগরিক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়লেন। এর আগে নিম্ন আদালত সরকারের এই সুরক্ষা কর্মসূচি বাতিলের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। তবে সুপ্রিম কোর্ট সেই রায় বাতিল করে জানিয়েছে, অস্থায়ী নির্বাসন সুরক্ষা বাতিলের এই সিদ্ধান্ত আদালতের মাধ্যমে স্থগিত করার কোনো অধিকার সিরিয়া ও হাইতির অভিবাসীদের নেই।   সংখ্যাগরিষ্ঠের পক্ষে রায় লিখতে গিয়ে বিচারপতি স্যামুয়েল আলিটো জানান, টিপিএস আইনের আওতায় অসাংবিধানিক দাবির বিচারিক পর্যালোচনার কোনো সুযোগ নেই। এই রায়ের ফলে অভিবাসী ও মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর পক্ষে সরকারের টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা করা এবং ফেডারেল আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণ করা আরও কঠিন হয়ে পড়ল। তাছাড়া, হাইতির নাগরিকদের ক্ষেত্রে বর্ণবাদের অভিযোগ এনে সমান সুরক্ষার যে দাবি করা হয়েছিল, সুপ্রিম কোর্টের রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ বেঞ্চ সেটিও নাকচ করে দিয়েছে। বিচারপতি আলিটো উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রশাসন মূলত টিপিএস কর্মসূচির পূর্ববর্তী বাস্তবায়নের বিরোধী, যা সম্পূর্ণ বর্ণ-নিরপেক্ষ একটি যৌক্তিক আইনি অবস্থান।   সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্যান্য অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কারণে টিপিএস সুবিধা পাওয়া ১৭টি দেশের ১০ লক্ষাধিক অভিবাসীর ওপর। ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে ১৩টি দেশের অভিবাসীদের আইনি সুরক্ষা বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে, যার ফলে তাদের কাজের বৈধতা হারানোসহ গ্রেফতার ও বিতাড়নের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, বিচারপতি সোনিয়া সোটোমায়র এবং কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসনের সমর্থন নিয়ে ভিন্নমত পোষণকারী বিচারপতি এলেনা কাগান তার পর্যবেক্ষণে বলেন, বাদীরা আজকের এই রায়ের চেয়ে আরও ন্যায্য বিচার প্রাপ্য ছিলেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, নিম্ন আদালতে আইনি লড়াই চলাকালীন এই সিদ্ধান্তের কারণে লাখো মানুষের জীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।   হোয়াইট হাউস সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, অস্থায়ী সুরক্ষিত মর্যাদা যে কেবলই অস্থায়ী, এটি তারই প্রমাণ। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন জানান, এটি কখনোই স্থায়ী নাগরিকত্ব বা বৈধ বসবাসের পথ হিসেবে তৈরি করা হয়নি এবং এটি সম্পূর্ণভাবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারির এখতিয়ারভুক্ত। অন্যদিকে সিরীয় অভিবাসীদের পক্ষে আইনি লড়াই করা ইউসিএলএ-এর আইনের অধ্যাপক আহিলান অরুলানান্থাম এই রায়ের কড়া সমালোচনা করে মার্কিন কংগ্রেসকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, টিপিএস বাতিল হলে আমাদের সমাজের লাখো মানুষ চরম সংকটে থাকা নিজ দেশগুলোতে ফেরত পাঠানোর মতো অমানবিক পরিস্থিতির শিকার হবেন।   ২০১২ সালে বাশার আল-আসাদের দমনপীড়নের পর সিরিয়া এবং ২০১০ সালে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর হাইতি প্রথম টিপিএস সুবিধা পেয়েছিল। তবে ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম জানান, এই দেশ দুটি আর টিপিএস-এর মানদণ্ড পূরণ করে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণায় হাইতিয়ান অভিবাসীদের নিয়ে নানা ভিত্তিহীন ও বিতর্কিত মন্তব্য করলেও, প্রশাসন বর্ণবাদের কোনো উদ্দেশ্য থাকার কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। ২০২৫ সালে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে ট্রাম্প অভিবাসন ব্যবস্থা কঠোর করতে ব্যাপক পদক্ষেপ নিচ্ছেন, যার মধ্যে ভেনিজুয়েলার নাগরিকদের বিতাড়ন এবং জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের মতো বিতর্কিত নির্বাহী আদেশও রয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: রবার্ট গোথিয়ার/লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে হাজারো অভিবাসীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পথ আরও কঠিন

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক যুগান্তকারী রায়ে মার্কিন-মেক্সিকো সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের আটকে দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে সবুজ সংকেত দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান আশ্রয়প্রার্থী নীতিমালায় একটি মৌলিক পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। ৬-৩ ভোটের এই রায়ের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের বহুল আলোচিত 'টার্ন-ব্যাক' বা 'মিটারিং' নীতি পুনরায় চালুর পথ সুগম হলো। এর ফলে মার্কিন কেন্দ্রীয় এজেন্টরা অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পা রাখার আগেই সীমান্ত থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার আইনি বৈধতা পেলেন। ফেডারেল আইন অনুযায়ী মার্কিন ভূখণ্ডে পা রাখলে নিপীড়নের হাত থেকে বাঁচতে আশ্রয়ের আবেদন করার আইনি অধিকার পেতেন এই অভিবাসীরা।   রক্ষণশীল ও উদারপন্থি বিচারপতিদের মধ্যে বিভক্ত এই রায়ে বিচারপতি স্যামুয়েল অ্যালিটোর লেখা সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে বলা হয়, সাধারণ অর্থে কোনো স্থানে প্রবেশ না করা পর্যন্ত সেখানে 'উপস্থিত হওয়া' বা 'অ্যারাইভ ইন' বলা যায় না। অন্যদিকে, এই রায়ের তীব্র বিরোধিতা করে ৩৫ পৃষ্ঠার ভিন্নমত প্রকাশ করেন বিচারপতি সোনিয়া সোতোমায়র, যা সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের প্রায় দ্বিগুণ দীর্ঘ। তিনি যুক্তি দেন, আদালত কেবল 'ইন' বা 'ভিতরে' শব্দটিকে আঁকড়ে ধরে একটি অযৌক্তিক ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছে, যা আইনের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটকে এড়িয়ে যায়। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সিদ্ধান্তের ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে; এমনকি কোনো আশ্রয়প্রার্থীর প্রাণনাশের সুনির্দিষ্ট ঝুঁকি থাকলেও প্রবেশদ্বারের দ্বারপ্রান্ত থেকে তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা পাবে সরকার।   মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, আদালতের এই রায় যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক আশ্রয় আইনকে কার্যত অকার্যকর করে দেবে, যেখানে বলা আছে সরকারি কর্মকর্তারা বন্দরে পৌঁছানো মানুষদের যাচাই করবেন এবং বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে তাদের ফেরত পাঠাবেন না। তিন প্রেসিডেন্টের মেয়াদকাল জুড়ে চলা দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত পরিণতি হলো সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত। ২০১৭ সালে প্রথম ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে ক্যালিফোর্নিয়া ও মেক্সিকো ভিত্তিক আইনি ও মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা 'আল ওট্রো লাডো' এবং কয়েকজন আশ্রয়প্রার্থী এই নীতির বিরুদ্ধে প্রথম মামলা করেছিলেন। সেসময় এই নীতির কারণে হাজার হাজার অভিবাসীকে মেক্সিকোর বিপজ্জনক অস্থায়ী ক্যাম্পে বা অস্থায়ী বাসস্থানে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছিল। অনেকেই তখন নিরুপায় হয়ে রিও গ্র্যান্ডে বা সোনোরা মরুভূমির মতো বিপজ্জনক পথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।   ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই নীতি বাতিল করলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার পর তার প্রশাসন নিম্ন আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে। আল ওট্রো লাডোর নির্বাহী পরিচালক এরিকা পিনহেইরো বৃহস্পতিবারের এই রায়ের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান সংঘাত ও জলবায়ু বিপর্যয়ের এই সময়ে সীমান্ত কঠোর করার এমন নীতি আরও অসংখ্য মানুষের প্রাণহানির কারণ হবে। বর্তমানে সীমান্তে এই 'মিটারিং' নীতি কার্যকর না থাকলেও, এটি পুনরায় চালু হলে নতুন করে এক বিশাল মানবিক সংকটের আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: আমেরিকা বাংলা
গতকালের রায়ে গ্রিন কার্ডধারীদের বহিষ্কারে ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষমতা বাড়াল সুপ্রিম কোর্ট

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে গ্রিন কার্ডধারীদের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ফেডারেল সরকারের ক্ষমতা আরও বিস্তৃত হয়েছে। ৬-৩ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে আদালত সিদ্ধান্ত দিয়েছে, বিদেশ সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় কোনো স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারীর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধরনের অপরাধে জড়িত থাকার “যৌক্তিক বিশ্বাস” থাকলেই সীমান্ত কর্মকর্তারা তার প্রবেশাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারবেন এবং প্রয়োজনে বহিষ্কার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন।   মঙ্গলবার ঘোষিত এই রায়কে অভিবাসন নীতির ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় আইনি সাফল্য হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। আদালতের সিদ্ধান্তের ফলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় কিছু গ্রিন কার্ডধারীকে আগের তুলনায় আরও কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মুখোমুখি হতে হতে পারে।   মামলাটি ছিল একজন বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাকে ঘিরে, যার বিরুদ্ধে বিদেশ ভ্রমণের পর যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি আদালতে গড়ালে মূল প্রশ্ন ছিল—এ ধরনের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে কতটুকু প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা মত দেন যে সীমান্ত কর্মকর্তাদের জন্য আগের তুলনায় উচ্চমানের প্রমাণ দেখানোর বাধ্যবাধকতা নেই; বরং কোনো ব্যক্তি নির্দিষ্ট অপরাধে জড়িত ছিলেন বলে বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ থাকলেই অভিবাসন আইনের অধীনে পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।   আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বিশেষ করে বিদেশ ভ্রমণকারী গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ভ্রমণ শেষে দেশে ফেরার সময় যদি কারও বিরুদ্ধে অতীতের কোনো ফৌজদারি অভিযোগ, দণ্ড বা নির্দিষ্ট ধরনের অপরাধের রেকর্ড থাকে, তাহলে তিনি অতিরিক্ত জিজ্ঞাসাবাদ কিংবা অভিবাসন সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে পারেন।   তবে আদালতের রায়ের অর্থ এই নয় যে সরকার ইচ্ছামতো যেকোনো গ্রিন কার্ডধারীকে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কার করতে পারবে। অভিবাসন আদালতের শুনানি, আইনি প্রতিকার এবং অন্যান্য সাংবিধানিক সুরক্ষা এখনও বহাল রয়েছে। তবুও সমালোচকদের আশঙ্কা, এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের হাতে এমন একটি আইনি সুযোগ তৈরি হয়েছে যা ভবিষ্যতে আরও কঠোর অভিবাসন প্রয়োগের পথ প্রশস্ত করতে পারে।   রায়ের বিরোধিতাকারী বিচারপতিরা সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। তাদের মতে, গ্রিন কার্ডধারীরা এতদিন যে আইনি সুরক্ষা ভোগ করতেন, এই রায় সেই সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশকে দুর্বল করেছে।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে লাখ লাখ গ্রিন কার্ডধারী বসবাস করছেন, যাদের মধ্যে দক্ষিণ এশীয়, বাংলাদেশি ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত অভিবাসীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, যাদের বিরুদ্ধে অতীতে কোনো অপরাধমূলক মামলা, দণ্ড বা আইনি জটিলতার ইতিহাস রয়েছে, তাদের বিদেশ ভ্রমণের আগে অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।   সুপ্রিম কোর্টের এই রায় এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। সর্বশেষ এই রায় সেই অবস্থানকে আইনি ভিত্তি আরও শক্তিশালী করল বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ | ছবি: সংগৃহীত
জ্যাকলিনের মামলার শুনানি থেকে নিজেকে সরালেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি

২০০ কোটি রুপির একটি বিশাল অর্থ পাচার (মানি লন্ডারিং) মামলায় বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্দেজের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের নিম্ন আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে করা আবেদনের শুনানি থেকে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র। এদিন বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি অতুল এস চন্দুরকরের সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের একটি আংশিক কার্যদিবসের বেঞ্চে এই গুরুত্বপূর্ণ মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত ছিল। তবে শুনানির একদম শুরুতেই বেঞ্চের পক্ষ থেকে বলিউড অভিনেত্রীর আইনজীবী এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে (ইডি) সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় যে, বিষয়টি শুনানির জন্য অন্য একটি বেঞ্চে পাঠানো হবে।   শুনানি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এ প্রসঙ্গে বলেন, এখানে কিছুটা আইনি সমস্যা রয়েছে। এই মামলার সঙ্গে যুক্ত অন্য একটি বিষয়ে আমার ছেলে সরকারের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে আদালতে উপস্থিত হয়েছিল। তাই আইনি নৈতিকতার খাতিরে আগামী ২৫ জুন এমন একটি নতুন বেঞ্চের সামনে এই মামলাটি তালিকাভুক্ত করা হোক, যেখানে আমরা দুজনের (বিচারপতি মিশ্র ও বিচারপতি চন্দুরকর) কেউ সদস্য হিসেবে থাকব না। এর আগে গত ৩০ মে দিল্লির একটি বিশেষ ট্রায়াল কোর্ট ২০০ কোটির এই বহুল আলোচিত অর্থ পাচার মামলায় জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ, মূল অভিযুক্ত সুকেশ চন্দ্রশেখর এবং আরও ১৫ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল।   দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের দায়ের করা অন্য একটি মামলায় সুকেশ চন্দ্রশেখর এবং আরও ২০ জনের বিরুদ্ধে কঠোর মকোকা আইনসহ বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেয় ট্রায়াল কোর্ট। নিম্ন আদালতের এই কঠোর নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। এর আগে জ্যাকলিনকে একাধিকবার তলব করার পর, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি তাদের দ্বিতীয় অতিরিক্ত চার্জশিটে প্রথমবারের মতো এই অভিনেত্রীকে অর্থ পাচার মামলার অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে নামভুক্ত করে। ইডির দাবি, জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ প্রতিনিয়ত সুকেশ চন্দ্রশেখরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং সুকেশের সহযোগী পিংকি ইরানির মাধ্যমে জ্যাকলিন তার কাছ থেকে বহু মূল্যবান উপহার গ্রহণ করেছেন।   প্রসিকিউশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সুকেশ চন্দ্রশেখর জেলখানার ভেতর থেকেই একটি সুসংগঠিত অপরাধ চক্র পরিচালনা করছিল। সে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং আইন ও বিচার মন্ত্রকের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিত। ভুয়া ফোন কল, এনক্রিপ্টেড অ্যাপ্লিকেশন এবং জাল পরিচয়ের মাধ্যমে মূল অভিযোগকারী অদিতি সিং ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভ্রান্ত করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাবাস্সুম জুন ১০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিল হলে যুক্তরাষ্ট্রে চরম বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক দশক ধরে চলে আসা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার বিধান বাতিলের লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র আইনি লড়াই। বিষয়টি বর্তমানে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিবেচনাধীন রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যদি এই আদেশ কার্যকর হয়, তবে নবজাতকদের নাগরিকত্ব প্রমাণ এবং নথিপত্র ব্যবস্থাপনায় দেশজুড়ে চরম বিশৃঙ্খলা বা ‘চাওস’ সৃষ্টি হতে পারে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই স্বাক্ষরিত এই বিতর্কিত আদেশে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সকল শিশু স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাবে না—বিশেষ করে যাদের বাবা-মায়ের বৈধ অভিবাসন মর্যাদা নেই। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ১৮৯৮ সালের ‘ইউনাইটেড স্টেটস বনাম ওং কিম আরক’ মামলার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত বর্তমান আইনি ব্যাখ্যাটি ভুল এবং এটি অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করছে। গত বছরের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ব্রেট কাভানা এই আদেশের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, যদি জন্ম সনদ (Birth Certificate) নাগরিকত্বের অকাট্য প্রমাণ হিসেবে আর কাজ না করে, তবে হাসপাতালগুলো নবজাতকদের কীভাবে নথিভুক্ত করবে? ফেডারেল কর্মকর্তারা কীভাবে নিশ্চিত করবেন কে নাগরিক আর কে নয়? বর্তমানে এই আইনি লড়াই ‘বারবারা বনাম ট্রাম্প’ (Barbara v. Trump) মামলার মাধ্যমে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগামী ১ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার মৌখিক যুক্তি উপস্থাপন (Oral Argument) শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এবং ডেমোক্র্যাট শাসিত অঙ্গরাজ্যগুলো এই আদেশের তীব্র বিরোধিতা করছে। তাদের মতে, এটি মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর সরাসরি লঙ্ঘন। নাগরিক অধিকার রক্ষা সংগঠনগুলোর দাবি, এই নিয়ম কার্যকর হলে কয়েক হাজার শিশু আইনি জটিলতায় পড়বে, যা তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক নিরাপত্তার অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করবে। ‘পাবলিক রাইটস প্রজেক্ট’-এর প্রধান জিল হ্যাবিগ বলেন, “এটি মার্কিন নাগরিকত্বের মৌলিক ধারণাকেই বদলে দেবে এবং একটি বিশাল আইনি বিভ্রান্তি তৈরি করবে।” উল্লেখ্য যে, এর আগে বিভিন্ন নিম্ন আদালত ট্রাম্পের এই আদেশকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট এখন এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে, যা ২০২৬ সালের জুন বা জুলাই মাসের মধ্যে আসতে পারে। আদালতের এই রায়ের ওপরই নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং শত বছরের পুরনো নাগরিকত্ব আইনের ভাগ্য।

ইসমাইল হোসাইন মার্চ ২৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে মন্দার প্রভাবে আগস্টে বড় ৫০টি মহানগরের ৩৬টিতেই বাড়ির দাম কমেছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ১০ শহরে সবচেয়ে দ্রুত কমছে বাড়ির দাম, ক্রেতাদের জন্য স্বস্তি

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০