হত্যা

নাহিদা বৃষ্টি
নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
জামিল লিমন
পহেলা বৈশাখে মায়ের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল জামিলের

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নৃশংসভাবে নিহত বাংলাদেশি মেধাবী শিক্ষার্থী জামিল লিমনের মৃত্যুতে পরিবারজুড়ে চলছে শোকের মাতম। সাউথ ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটির (ইউএসএফ) এই ডক্টরাল শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর থেকে তার বাবা-মা শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছেন। নিহত জামিলের মা লুৎফন হক কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্মৃতিচারণ করে জানান, গত পহেলা বৈশাখে শেষবারের মতো কথা হয়েছিল ছেলের সঙ্গে। প্রবাসে পড়াশোনার প্রচণ্ড চাপের মধ্যেও দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি জামিলের টান ছিল অটুট। সেদিন ফোন করে মায়ের কাছে তিনি জানতে চেয়েছিলেন, "মা, তুমি কি পান্তা-ইলিশ খেয়েছ?" সেই পান্তা-ইলিশের স্মৃতিই এখন মায়ের কাছে বড় যন্ত্রণার হয়ে দাঁড়িয়েছে। জামিলের পৈতৃক নিবাস জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার মহিষবাতান এলাকায়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে তার পরিবার ঢাকার মাওয়ায় বসবাস করছে। তার বাল্যবন্ধু জসিম উদ্দিন জানান, জামিল ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের ছিলেন। এমন একজন মানুষের এমন করুণ পরিণতি কেউ মেনে নিতে পারছেন না। উল্লেখ্য, শুক্রবার ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু থেকে জামিল লিমনের দেহাংশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে জামিলের সাবেক রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়েহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে জামিলের মা-বাবা শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে নিভৃতে অবস্থান করছেন।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
জামিল হত্যা: ঘাতক হিশামের অপরাধজগত নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তারকৃত হিশাম সালেহ আবু গারবিয়ার অন্ধকার অতীত বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। আদালতের নথি ও পুলিশি তদন্তে দেখা গেছে, ২৬ বছর বয়সী এই যুবক দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন। আদালতের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০২৩ সালে হিশামের বিরুদ্ধে মারধর, খালি বাড়িতে চুরি এবং ঘরোয়া সহিংসতার একাধিক অভিযোগ ছিল। এমনকি তার নিজের পরিবারের সদস্যও তার বিরুদ্ধে দুবার ঘরোয়া সহিংসতার মামলা করেছিলেন। এসব অপরাধের জন্য তার বিরুদ্ধে আদালতের নিষেধাজ্ঞা পর্যন্ত জারি করা হয়েছিল। তবে প্রথমবার অপরাধ করা ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত একটি বিশেষ সংশোধনমূলক কর্মসূচি (Diversion Program) সম্পন্ন করায় ২০২৪ সালে তার আগের সব অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, জামিল লিমন হত্যাকাণ্ডের পর হিশামের বিরুদ্ধে এখন ঘরোয়া সহিংসতা, মারধর, অবৈধভাবে আটকে রাখা, তথ্য-প্রমাণ নষ্ট করা, মৃত্যু সংবাদ গোপন করা এবং মরদেহ সরানোর মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ১৬ এপ্রিল সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি নিখোঁজ হন। শুক্রবার সকালে টাম্পা বে’র একটি ব্রিজ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে লিমনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও হবু স্ত্রী নাহিদা বৃষ্টি এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তদন্তকারীরা জানান, জামিল ও নাহিদাকে শেষবার হিশামের সঙ্গেই দেখা গিয়েছিল। গ্রেপ্তারের আগে হিশাম তার পরিবারের বাসায় নিজেকে আটকে রেখেছিলেন। পরে সোয়াট (SWAT) টিমের অভিযানে তিনি আত্মসমর্পণ করেন। বর্তমানে হিশাম পুলিশি হেফাজতে থাকলেও নিখোঁজ নাহিদা বৃষ্টির সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রেখেছে হিলসবোরো কাউন্টি পুলিশ। নিহত লিমনের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ আরও স্পষ্ট হবে বলে জানানো হয়েছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ফেসবুক থেকে প্রাপ্ত এই তারিখবিহীন ছবিটিতে ভার্জিনিয়ার সাবেক লেফট্যানেন্ট গভর্নর জাস্টিন ফেয়ারফ্যাক্স এবং তার স্ত্রী সেরিনা ফেয়ারফ্যাক্সকে দেখা যাচ্ছে।
স্ত্রীকে হত্যার পর সাবেক মার্কিন লেফটেন্যান্ট গভর্নরের রহস্যজনক আত্মহত্যা

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের সাবেক লেফটেন্যান্ট গভর্নর জাস্টিন ফেয়ারফ্যাক্স এবং তার স্ত্রী সেরিনা ফেয়ারফ্যাক্সের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ভার্জিনিয়ার অ্যানানডেল এলাকায় নিজ বাসভবন থেকে তাদের নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে একে ‘মার্ডার-সুইসাইড’ বা স্ত্রীকে হত্যার পর নিজের আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে ধারণা করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের কিছু সময় পর এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তখন সেখানে জাস্টিন এবং সেরিনা উভয়কেই গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মৃত দেখতে পায়। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, ঘটনার সময় তাদের দুই কিশোর সন্তানও ঘরের ভেতর উপস্থিত ছিল। তবে তারা শারীরিক কোনো আঘাত পায়নি। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, সম্প্রতি সেরিনা ফেয়ারফ্যাক্স বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করেছিলেন, যা নিয়ে দম্পতির মধ্যে কলহ চলছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা না হলেও, একে একটি অভ্যন্তরীণ পারিবারিক সহিংসতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। জাস্টিন ফেয়ারফ্যাক্স ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ভার্জিনিয়ার ৪১তম লেফটেন্যান্ট গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন এই অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে দ্বিতীয় আফ্রিকান-আমেরিকান নির্বাচিত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তার এই আকস্মিক ও সহিংস মৃত্যুতে গোটা ভার্জিনিয়ার রাজনৈতিক মহলে শোক ও বিস্ময়ের ছায়া নেমে এসেছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
ব্রুকলিনে ৭ মাসের শিশুকে গুলি করে হত্যা নিউ ইয়র্কে অপরাধীর বদলে বন্দুককে দায়ী করায় সমালোচনার মুখে মামদানি
ব্রুকলিনে ৭ মাসের শিশুকে গুলি করে হত্যা নিউ ইয়র্কে অপরাধীর বদলে বন্দুককে দায়ী করায় সমালোচনার মুখে মামদানি

ইমা এলিস/বাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্ক: নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে ৭ মাস বয়সী শিশু কাওরি প্যাটারসন-মুর-এর মৃত্যুর পর সিটি মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, এটি আমাদের শহরের প্রথম পরিবার নয় যারা এই যন্ত্রণা ভোগ করছে। বুধবার একটি সন্দেহভাজন গ্যাং-সংক্রান্ত ঘটনায় মোপেডে থাকা বন্দুকধারীর ছোড়া গুলিতে স্ট্রোলারে থাকা অবস্থায় ওই শিশুটি নিহত হয়। মামদানি আরও বলেন, অনেক শিশু বড় হয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই হারিয়ে যাচ্ছে। যেসব বাবা-মা তাদের সবচেয়ে প্রিয়জনকে হারিয়েছেন আমরা এটিকে আমাদের শহরে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নিতে পারি না। এই যন্ত্রণার প্রতি আমরা অসাড় হয়ে যেতে পারি না। আজকের এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শহরে বন্দুক সহিংসতা মোকাবেলায় এখনও অনেক কাজ বাকি। তবে তার এই বক্তব্যের সমালোচনা করেন কুইন্সের সিটি কাউন্সিলর ভিকি পালাদিনো। তিনি অভিযোগ করেন, অপরাধীদের দোষারোপ না করে বন্দুককে দায়ী করা মামদানির রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, অপরাধীদের দোষ না দিয়ে সবকিছুই বলা হচ্ছে যাদের আমাদের সিস্টেম বারবার ছেড়ে দেয়, কোনো পরিণতি ছাড়াই। এটি সম্পূর্ণ লজ্জাজনক। ডানপন্থী ভাষ্যকার ব্রিটানি হিউজ-ও সমালোচনা করে বলেন, গত মাসে নিউ ইয়র্ক সিটিতে এক ৮৩ বছর বয়সী ভিয়েতনাম যুদ্ধের প্রবীণ রিচার্ড উইলিয়ামস-কে সাবওয়ে ট্র্যাকে ধাক্কা দিয়ে হত্যা করা হলেও, সে বিষয়ে মামদানি কোনো মন্তব্য করেননি। ম্যানহাটন ইনস্টিটিউটের ফেলো রাফায়েল এ. মাঙ্গুয়াল বলেন, এই ঘটনাকে বন্দুক সমস্যা হিসেবে তুলে ধরা থেকে বোঝা যায়, মেয়র প্রকৃত অপরাধীদের ভূমিকা স্বীকার করতে অস্বস্তি বোধ করছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ২১ বছর বয়সী আমুরি গ্রিন-কে শিশুটির হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরেক সন্দেহভাজন ম্যাথিউ রড্রিগেজ (১৮) শুক্রবার পেনসিলভানিয়ায় গ্রেপ্তার হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রদ্রিগেজ একটি মোপেড চালাচ্ছিলেন, যার পেছনে থাকা বন্দুকধারী ব্রুকলিনের বুশউইক এলাকায় হামবোল্ট ও মুর স্ট্রিটের কোণে গুলি চালায়। 

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
বড় ভাইয়ের মারধরে ছোট ভাই নিহত
বাবার ভাত খাওয়া নিয়ে বিরোধ, বড় ভাইয়ের মারধরে ছোট ভাই নিহত

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে বড় ভাইয়ের মারধরে ছোট ভাই শাহীন হোসেন (৩০) নিহত হয়েছেন। বুধবার রাতে আহত অবস্থায় মারা যান তিনি। নিহত শাহীন হোসেন উপজেলার ধুলাউড়ি ইউনিয়নের রাউতি গ্রামের রওশন আলীর ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঁথিয়া থানা এর পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল লতিফ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রওশন আলীর দুই ছেলে বাবুল ও শাহীন আলাদা সংসারে বসবাস করতেন। বড় ছেলে বাবুল বাবার ভরণপোষণ করতেন। গত ২৮ মার্চ দুপুরে বাবার ভাত খাওয়া নিয়ে বাবুলের সঙ্গে তার বাবার তর্ক হয়। এ সময় ছোট ভাই শাহীন বিষয়টি নিয়ে বড় ভাইয়ের সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন।   একপর্যায়ে বড় ভাই বাবুল ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠি দিয়ে শাহীনকে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।   বুধবার রাতে ঢাকায় নেওয়ার পথে পরিবারের সদস্যরা তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন প্রয়োজনীয় টাকা সংগ্রহের জন্য। এ সময় তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে এবং বাড়িতেই তিনি মারা যান।   পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং অভিযুক্তকে আটকের চেষ্টা চলছে।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ফাইল ফটো।
যুবদল নেতা কিবরিয়া হত্যা রহস্যের জট খুলল: দুই দুর্ধর্ষ শ্যুটার গ্রেপ্তার

রাজধানীর পল্লবীতে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক রহস্য উন্মোচন করেছে র‍্যাব। গত বছরের ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় প্রকাশ্যে দোকানে ঢুকে মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের চালানো সেই কিলিং মিশনের সরাসরি দুই শ্যুটারকে বিদেশি অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো মো. রাশেদ ওরফে লোপন এবং মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে কাল্লু। র‍্যাব জানায়, কিলিং মিশনে সরাসরি অংশ নিয়েছিল তিন শ্যুটার। এর আগে জনি নামে একজনকে জনতা হাতেনাতে ধরলেও লোপন ও কাল্লু আত্মগোপনে ছিল। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে রূপনগর ও দিয়াবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তল্লাশিতে লোপনের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সেই বিদেশি রিভলবার ও তিন রাউন্ড তাজা গুলি। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছে, কিবরিয়াকে লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছিল এবং পালানোর সময় আতঙ্ক ছড়াতে আরও এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করা হয়। তারা অবৈধ পথে পার্শ্ববর্তী দেশে পালানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে সম্প্রতি বৈধভাবে বিদেশে পাড়ি জমানোর জন্য পাসপোর্ট ও ভিসা তৈরির চেষ্টা করছিল। র‍্যাবের তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পল্লবী থানা যুবদলের জনপ্রিয় নেতা কিবরিয়ার রাজনৈতিক উত্থান এবং ঝুট ব্যবসা, হাউজিং ও ফুটপাতের চাঁদাবাজিতে বাধা হয়ে দাঁড়ানোই ছিল তার মৃত্যুর কারণ। মিরপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী মশিউর রহমান মশির প্রত্যক্ষ মদদে এবং পরিকল্পনায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।  ‘ভাগিনা মাসুম’ ও ‘পাতা সোহেল’ অস্ত্র সরবরাহ ও পালানোর পথ সুগম করার দায়িত্বে ছিল। রাজনৈতিক আধিপত্য ও ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেই সম্ভাবনাময় এই নেতাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা।

ইসমাইল হোসাইন মার্চ ২৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
বাগেরহাটে পুলিশ পরিচয়ে বাড়িতে ঢুকে কলেজছাত্রকে গুলি করে হত্যা

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় বাড়িতে ঢুকে পুলিশ পরিচয়ে এক কলেজছাত্রকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে উপজেলার শিবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আমির হামজা (২৩) শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা রুহুল আমিন মুন্সির ছেলে। তিনি খুলনা সরকারি সুন্দরবন কলেজের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি খুলনার একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও কর্মরত ছিলেন।   নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেল চারটার দিকে বাড়ির উঠানে বাবা ও চাচার সঙ্গে কথা বলছিলেন হামজা। এ সময় তিনটি মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন যুবক সেখানে এসে পৌঁছায়। তাদের সবার মাথায় হেলমেট ছিল। তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে হামজাকে ধাওয়া দেয়।   পরিস্থিতি বুঝতে পেরে হামজা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে পাশের একটি খালের পাড়ে পৌঁছালে হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। পরে হামলাকারীরা দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠায়।   বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শামীম হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ করছে জেলা পুলিশ, সিআইডি, পিবিআই এবং গোয়েন্দা পুলিশ। হত্যার কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।   এর আগে চলতি মাসেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় গুলিতে হত্যার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। ১৪ মার্চ মোল্লাহাট উপজেলা সদরে বাড়ি ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন এক ব্যবসায়ী। তারও আগে একই এলাকায় আরেক ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
কূটনীতির আড়ালে সামরিক তৎপরতা, যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিমুখী নীতির তীব্র সমালোচনা ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং তাদের দেওয়া ১৫ দফার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে টানাপোড়েন এখন তুঙ্গে। ইরান মনে করছে, একদিকে কূটনীতির কথা বলা আর অন্যদিকে রণসজ্জা বাড়ানো—যুক্তরাষ্ট্রের এই পরস্পরবিরোধী অবস্থান আসলে একটি "চরমপন্থী ও অযৌক্তিক" কৌশল। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক উচ্চপদস্থ কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাবগুলো ইরানের কাছে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। তেহরানের সেন্টার ফর মিডল ইস্ট স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো আব্বাস আসলানি এই পরিস্থিতির গভীর বিশ্লেষণ দিয়েছেন। আসলানির মতে, ওয়াশিংটন মুখে কূটনীতি এবং উত্তেজনা প্রশমনের কথা বললেও তাদের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম সম্পূর্ণ ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন এবং সামরিক সরঞ্জাম বৃদ্ধি প্রমাণ করে যে, তারা আসলে আন্তরিকভাবে কোনো যুদ্ধবিরতি বা দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে ইচ্ছুক নয়। ইরানি নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র "দ্বিমুখী নীতি" অনুসরণ করছে—কাগজে-কলমে আলোচনার টেবিল সাজানো হলেও বাস্তবে সামরিক শক্তি দিয়ে চাপ প্রয়োগ করাই তাদের মূল লক্ষ্য। ওয়াশিংটনের এই অতি-চরমপন্থী অবস্থানকে ইরান কূটনৈতিক সদিচ্ছার অভাব হিসেবেই দেখছে।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ঝিনাইদহে ফেসবুক পোস্টের জেরে কৃষক দল নেতাকে পিটিয়ে হত্যা

ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলায় আবুল কাশেম নামের এক কৃষক দল নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার কুল্লাগাছা-ভাতুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।   নিহত আবুল কাশেম কাপাশহাটিয়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি ওই গ্রামের মৃত আবদুল লতিফের ছেলে।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বুধবার সকালে এক ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে সন্ধ্যায় একটি চায়ের দোকানে সেই বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।   একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের হামলায় আবুল কাশেম গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাহ হোসেন জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এলাকায় নতুন করে সহিংসতা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
হাদি হত্যা মামলা: ভারতীয় আদালতে বিস্ফোরক মন্তব্য প্রধান আসামি ফয়সালের

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ভারতের আদালতে দাঁড়িয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।  দীর্ঘ ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ড শেষে রোববার (২২ মার্চ) উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বিধাননগর মহকুমার বিশেষ আদালতে তোলা হলে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, "আমি এই কাজ করিনি, আমি এ ধরনের কোনো কাজে ছিলাম না।" এদিন ফয়সাল করিম মাসুদ ও অপর আসামি আলমগীর হোসেনকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। এর আগে বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে তাদের শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়। হাসপাতাল চত্বরে সংবাদকর্মীরা হাদি হত্যা বিষয়ে প্রশ্ন করলে তারা কোনো মন্তব্য না করলেও আদালত চত্বরে মুখ খোলেন ফয়সাল। গত ৭ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বনগাঁ এলাকা থেকে এই দুজনকে গ্রেপ্তার করে। তারা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। গত ১৩ মার্চ তাদের অনুপ্রবেশে সহায়তাকারী ফিলিপ সাংমাকেও গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

ইসমাইল হোসাইন মার্চ ২১, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

গ্রিন কার্ড পাওয়া আরো কঠিন হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিজ দেশে গিয়ে আবেদন করতে হবে অভিবাসীদের

ইসতিয়াক আহমেদ মে ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0