সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

হত্যা

নিহত তরুণীর  সোফিয়া ফারুক ছবি: সংগৃহীত
তরুণীর ভাইরাল ভিডিও ঘিরে বাবা-ভাইয়ের ক্ষোভ, হত্যা করে দুর্ঘটনার নাটক ব্যর্থ

গুজরাটের আহমেদাবাদে ২২ বছর বয়সী এক তরুণীকে হত্যার অভিযোগে তার বাবা ও ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, এক তরুণের সঙ্গে ওই তরুণীর একটি ভিডিও কয়েক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবারের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। এরপর পারিবারিক সম্মান রক্ষার নামে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।   নিহত তরুণীর নাম সোফিয়া ফারুক। তিনি আহমেদাবাদের সারখেজ এলাকার বাসিন্দা এবং জুহাপুরার একটি হাসপাতালে রিসেপশনিস্ট হিসেবে কাজ করতেন। পুলিশ তার বাবা ৫৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ ফারুক নওয়াবখান এবং ভাই ৩৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ হাবিল ফারুককে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করেছে।   ঘটনাটি প্রথমে সড়ক দুর্ঘটনা বা হিট-অ্যান্ড-রান হিসেবে সামনে আসে। গত ১২ আগস্ট রাতে সোফিয়া তার ভাইয়ের সঙ্গে মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন এবং পেছন থেকে একটি অজ্ঞাত যান তাদের ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায় - এমন অভিযোগ করা হয়েছিল। গুরুতর মাথায় আঘাত নিয়ে তাকে জিএমইআরএস সোলা সিভিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।    তবে তদন্তে পুলিশের সন্দেহ হয়, কথিত দুর্ঘটনার ঘটনাটি সাজানো। যে স্থানে দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছিল, সেখানে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে পুলিশ কোনো দুর্ঘটনার অস্তিত্ব পায়নি। ময়নাতদন্তেও মাথায় আঘাতের কারণে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কথা উঠে আসে। এরপর তদন্তের গতিপথ বদলে যায়।   পুলিশের দাবি, সোফিয়াকে একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে তার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে তার মৃত্যুকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কথিত দুর্ঘটনার গল্প তৈরি করে তদন্তকে অন্যদিকে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।   পুলিশ আরও বলছে, সোফিয়ার এক তরুণ বন্ধুর সঙ্গে কথোপকথনের একটি ভিডিও প্রায় তিন মাস আগে ভাইরাল হওয়ার পর তার বাবা ও ভাই বিষয়টি নিয়ে তাকে ভর্ৎসনা করেছিলেন। এরপর তার অন্য তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়েও আপত্তি জানানো হয়। তদন্তকারীদের মতে, পারিবারিক সম্মান রক্ষার ধারণা থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়ে থাকতে পারে।   এ ঘটনায় প্রথমে ট্রাফিক পুলিশ তদন্ত করলেও পরে হত্যার সন্দেহ জোরালো হলে মামলা সারখেজ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং হত্যায় ব্যবহৃত বলে সন্দেহ করা হাতুড়িটি উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৪:০
স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় সৌদিতে বাংলাদেশিকে গুলি
স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় সৌদিতে বাংলাদেশিকে গুলি

সৌদি আরবের তায়েফ শহরে স্ত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার সময় মো. কামরুল হোসেন নামে ৩৭ বছর বয়সী এক প্রবাসী বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। পরে হামলাকারী এক সৌদি তরুণও নিজের মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন। রোববার (৩০ আগস্ট) স্থানীয় সময় ভোরে তায়েফের হাওয়াইয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।    কামরুল হোসেন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দুই সন্তানের বাবা ছিলেন। স্বজন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।    স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, জীবিকার সন্ধানে ঋণ করে প্রায় আড়াই থেকে তিন বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান কামরুল। ঘটনার দিন সুপার মার্কেটের ডিউটি শেষ করার পর কর্মস্থলের পাশে দাঁড়িয়ে স্ত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলছিলেন তিনি।   এ সময় হঠাৎ এক সৌদি তরুণ অস্ত্র নিয়ে কামরুলকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। প্রাণ বাঁচাতে কামরুল দৌড়ে সুপার মার্কেটের ভেতরে ঢুকে পড়েন। আতঙ্কে সেখানকার অন্য কর্মীরাও পালিয়ে যান।   পরে হামলাকারী মার্কেটের ভেতরে ঢুকে কামরুলকে লক্ষ্য করে পরপর তিন রাউন্ড গুলি করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এরপর ওই তরুণ নিজের মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।    তবে কী কারণে ওই সৌদি তরুণ কামরুলকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে সৌদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত চলছে।    কামরুলের আকস্মিক মৃত্যুতে তার স্ত্রী হালিমা বেগম, দুই ছেলে এবং বাবা-মা গভীর শোকে পড়েছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী ও দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বিগ্ন স্বজনরা।   পরিবারের সদস্যরা কামরুলের মরদেহ দ্রুত দেশে এনে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন। বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনও মরদেহ দেশে ফেরাতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার কথা জানিয়েছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৪:০
আমার ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছে ইরান
আমার ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছে ইরান: নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরান তাঁর দুই ছেলের একজনকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। তবে কথিত ওই হামলার সময়, স্থান, পদ্ধতি কিংবা কোন ছেলেকে লক্ষ্য করা হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি। খবরটি প্রকাশ্যে আসে সোমবার, ২৪ আগস্ট, ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক ফোন সাক্ষাৎকারে।    নেতানিয়াহু বলেন, ইরান তাঁর এক ছেলেকে লক্ষ্য করেছিল এবং তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি এ ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ কারণেই তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনো বিলাসিতা নয়।   নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য আসে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে। দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী গাদি আইজেনকটকে নিরাপত্তা দিতে সংস্থাটি অস্বীকৃতি জানিয়েছে বলে এর আগে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। নেতানিয়াহু বলেন, প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত।   তবে ইরানের পক্ষ থেকে নেতানিয়াহুর এই অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। রয়টার্স জানিয়েছে, জাতিসংঘে ইরানের মিশনও এ অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।    নেতানিয়াহুর দুই ছেলে ইয়াইর ও আভনার। তাঁর বক্তব্যে কার বিরুদ্ধে কথিত হত্যাচেষ্টা চালানো হয়েছিল, তা স্পষ্ট হয়নি। ইয়াইর দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে অবস্থান করছেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কথিত এই হামলার তথ্য দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার কাছে কয়েক মাস ধরে ছিল এবং সামরিক সেন্সরের কারণে তা প্রকাশ করা হয়নি। তবে কোন ছেলেকে লক্ষ্য করা হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।    জুলাইয়ে নেতানিয়াহুর স্ত্রী সারা এবং দুই ছেলের জন্য বর্ধিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনুমোদন করে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে দেশটিতে সরকারি অর্থে নেতানিয়াহু পরিবারের নিরাপত্তা ব্যয়ের বিষয়েও বিতর্ক রয়েছে।    ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই নেতানিয়াহুর এই অভিযোগ সামনে এলো। একই সময়ে ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনাও বাড়ছে। নেতানিয়াহুর জোট জনমত জরিপে পিছিয়ে রয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৪:০
সাবেক প্রেমিকাকে সপরিবারে মারতে ইতালি যান শাহাদাত
সাবেক প্রেমিকাকে সপরিবারে মারতে ইতালি যান শাহাদাত

ইতালির রাজধানী রোমে বাংলাদেশি এক পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার ঘটনায় নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের শাহাদাত হোসেনকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইতালির পুলিশ। গত ২৬ জুন রাতে কাসালোত্তি এলাকার একটি বাসায় ছুরিকাঘাতে নিহত হন কামাল উদ্দিন বাবুল, তাঁর স্ত্রী আরজু আক্তার এবং তাঁদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আরিশা। দম্পতির ২০ বছর বয়সী ছেলে আয়ান গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান।    ইতালীয় সংবাদমাধ্যম ও তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, শাহাদাতের সঙ্গে নিহত আরজুর পূর্বপরিচয় ছিল। তবে হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত করেনি তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে ব্যক্তিগত বিরোধসহ একাধিক সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৪৩ বছর বয়সী শাহাদাত বাংলাদেশি নাগরিক। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তিনি পলাতক। তাঁর ছবি প্রকাশ করে ইতালির পুলিশ সাধারণ মানুষের কাছে অবস্থান সম্পর্কে তথ্য চেয়েছে। দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রোমসহ বিভিন্ন এলাকায় তাঁর সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছে।    ঘটনার রাতে কীভাবে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে, তা নিয়ে তদন্তকারীরা নিহত পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য আয়ানের বক্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। আয়ান পুলিশকে জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের পরও শাহাদাত কিছু সময় বাসার ভেতরে ছিলেন। পরে আয়ান হামলার শিকার হলে গুরুতর আহত অবস্থায় সেখান থেকে বেরিয়ে সাহায্যের জন্য চিৎকার করেন। এরপর শাহাদাত পালিয়ে যান।    হত্যাকাণ্ডের আগে শাহাদাতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। ইতালীয় সংবাদমাধ্যম লা রিপুবলিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার কিছু আগে তিনি এমন একটি বার্তা প্রকাশ করেছিলেন, যেখানে প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়ে মৃত্যুর কথা উল্লেখ ছিল। পোস্টটির সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।    এদিকে শাহাদাতের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। ইতালীয় ও বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ব্যক্তিগত বিরোধ, অর্থনৈতিক বিষয় এবং সম্পর্কের টানাপোড়েনসহ একাধিক সম্ভাব্য কারণের কথা বলা হয়েছে। তবে এসবের কোনটি হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, তা এখনো নিশ্চিত নয়।    নিহত কামাল উদ্দিন বাবুলের বাড়ি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। শাহাদাতেরও একই উপজেলার সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর নোয়াখালীর স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।    ইতালির পুলিশ এখন শাহাদাতকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে। তদন্ত এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: নিউজ ২৪

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৪:০
শিশু ও  মা ফাতেমা বেগম।
কান্নায় ঘুমের ব্যাঘাত, ১৪ দিনের নবজাতককে পানির ড্রামে ফেলে হত্যা করল মা

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে অতিরিক্ত কান্নাকাটি ও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানোর কারণে ১৪ দিন বয়সী নিজের নবজাতক ছেলেকে বৃষ্টির পানি রাখার প্লাস্টিকের ড্রামে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ১৯ বছর বয়সী এক মায়ের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট শিশুটির বাবা সৌরভ হোসেন বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে শিশুটির মা ফাতেমা বেগমকে।   ঘটনাটি ঘটে সোমবার ১৭ আগস্ট সন্ধ্যার পর উপজেলার মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মজুমদারহাট সংলগ্ন বাজার বাড়িতে। রাত প্রায় ১০টার দিকে পরিবারের সদস্যরা বসতঘরের ভেতরে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের একটি প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেন।    পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার পর শিশুটিকে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা ফাতেমার কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে দাবি করেন, পেছন থেকে কেউ তাকে মাথায় আঘাত করে শিশুটিকে নিয়ে গেছে। পরে আবার বলেন, শিশুটিকে ‘জিন’ নিয়ে গেছে। তার কথাবার্তায় অসঙ্গতি দেখে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয় এবং তারা ঘরে ও আশপাশে খোঁজ শুরু করেন।    একপর্যায়ে ঘরের ভেতরে রাখা বৃষ্টির পানির ড্রামে শিশুটির মরদেহ পাওয়া যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফাতেমাকে হেফাজতে নেয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি সন্তানকে ড্রামের পানিতে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।    বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামসুজ্জামান জানিয়েছেন, ফাতেমা পুলিশকে বলেছেন শিশুটি অতিরিক্ত কান্নাকাটি করত, ঘুমাত না এবং তাকে ঘুমাতে দিত না। এ কারণেই ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি শিশুটিকে পানির ড্রামে ফেলেছেন বলে পুলিশের দাবি।    পুলিশ আরও জানিয়েছে, শিশুটিকে ড্রামে ফেলার পর সেটির মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরে শিশুটির বাবা থানায় হত্যা মামলা করলে ফাতেমাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।   নিহত নবজাতক সৌরভ হোসেন ও ফাতেমা বেগম দম্পতির ছেলে। প্রথম আলোর তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির জন্ম হয়েছিল ৪ আগস্ট।    স্থানীয় সূত্রের বরাতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেমের সম্পর্কের পর ২০২৫ সালের নভেম্বরে সৌরভ ও ফাতেমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে এই পারিবারিক বিরোধের সঙ্গে শিশুটির মৃত্যুর কোনো সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না, তা এখনো তদন্তাধীন।    নবজাতকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছে পুলিশ।    বেগমগঞ্জ থানার পুলিশ জানিয়েছে, হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ফাতেমাকে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হবে। একই সঙ্গে ঘটনার পুরো পরিস্থিতি, শিশুটির মৃত্যুর সময় এবং ঘটনার আগে-পরে কী ঘটেছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৪:০
স্ত্রীকে গুলি করে হত্যার পর মরদেহ পাশে বসিয়ে ৫ ঘণ্টা গাড়ি চালালেন স্বামী
স্ত্রীকে গুলি করে হত্যার পর মরদেহ পাশে বসিয়ে ৫ ঘণ্টা গাড়ি চালালেন স্বামী

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানায় স্ত্রীকে গুলি করে হত্যার পর তার মরদেহ গাড়ির যাত্রীর আসনে বসিয়ে একাধিক অঙ্গরাজ্য পেরিয়ে পাঁচ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালানোর অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শেষ পর্যন্ত টেনেসির মেমফিসে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের কারণে পুলিশ তাকে থামালে গাড়ির ভেতর থেকে তার স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অভিযুক্ত ৫০ বছর বয়সী টাইরন ব্রাজিল বর্তমানে হেফাজতে রয়েছেন।   নিহত নারীর নাম লানেসা ব্র্যাডফোর্ড। তার বয়সও ৫০ বছর। পুলিশ বলছে, লুইজিয়ানার ব্যাটন রুজের ইন্ডিপেনডেন্স কমিউনিটি পার্কে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার একপর্যায়ে ব্রাজিল তাকে গুলি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর মরদেহ গাড়িতে রেখেই তিনি এলাকা ছেড়ে চলে যান।    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ব্রাজিল লুইজিয়ানা থেকে গাড়ি চালিয়ে মিসিসিপি হয়ে টেনেসির দিকে যান। প্রায় ৪০০ মাইল পথ পাড়ি দেওয়ার পর মেমফিসের ডাউনটাউনে তাকে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের অভিযোগে থামায় পুলিশ। গাড়ি পরীক্ষা করতে গিয়ে যাত্রীর আসনে ব্র্যাডফোর্ডকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার শরীরে গুলির আঘাত ছিল।    এরপর ব্রাজিলকে ফিউজিটিভ হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়। লুইজিয়ানায় তার বিরুদ্ধে সেকেন্ড ডিগ্রি মার্ডারের অভিযোগ আনার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাকে টেনেসি থেকে লুইজিয়ানায় ফেরত নেওয়ার জন্য এক্সট্রাডিশন প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।    ঘটনার আগে দম্পতির সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না বলে জানিয়েছেন ব্র্যাডফোর্ডের দীর্ঘদিনের বন্ধু শেলিকা ডেকার। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ব্র্যাডফোর্ড স্বামীকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং এজন্য আলাদা করে অর্থও জমিয়েছিলেন। পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নতুন করে জীবন শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি।  বন্ধুর দাবি, ব্র্যাডফোর্ড পরিকল্পনা করেছিলেন নিজের গাড়ি ও অন্য কিছু জিনিসপত্র ফেলে চুপচাপ এলাকা ছেড়ে চলে যাবেন, যাতে স্বামী সহজে তার অবস্থান জানতে না পারেন। তবে তার সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে অভিযোগ তদন্তকারীদের।    ব্র্যাডফোর্ড ব্যাটন রুজের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। কয়েকদিন কাজে না যাওয়ায় তার সহকর্মীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পুলিশকে ওয়েলফেয়ার চেক করতে বলেন। এর মধ্যেই টেনেসিতে তার মরদেহ উদ্ধার হওয়ার খবর আসে।    পরিবারের পরিচিতজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্রাজিল ও ব্র্যাডফোর্ড বহু বছর ধরে বিবাহিত ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং ব্র্যাডফোর্ড আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে ঘটনার পেছনের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ঠিক কী পরিস্থিতিতে গুলি চালানো হয়েছিল, তা এখনো তদন্তাধীন।   ব্রাজিলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচনা করা হবে। মামলার পরবর্তী ধাপে তাকে লুইজিয়ানায় ফিরিয়ে নিয়ে হত্যার অভিযোগে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৪:০
প্রেমের বিচ্ছেদ মেনে নিতে না পেরে প্রেমিকাসহ ৪ জনকে হত্যা
প্রেমের বিচ্ছেদ মেনে নিতে না পেরে প্রেমিকাসহ ৪ জনকে হত্যা, বাড়িতে আগুন ২১ বছরের যুবকের

২০২৪ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ল্যাঙ্কাস্টারে একটি বাড়িতে চারজনকে হত্যার পর আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ২১ বছর বয়সী মিগুয়েল দিয়েগো স্যান্ডোভাল চারটি প্রথম-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন।   লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি প্রেমের সম্পর্কের বিচ্ছেদকে কেন্দ্র করে প্রতিশোধ নিতে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন ২১ বছর বয়সী জানভি মাকুইনদাং, ২৫ বছর বয়সী ক্রিস্টিন আকা-আক, ২৪ বছর বয়সী এডউইন গার্সিয়া এবং ২১ বছর বয়সী ম্যাথিউ মন্টেবেলো।   ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, স্যান্ডোভাল নর্থ ট্যাবলার অ্যাভিনিউয়ের ওই বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। ভেতরের বাসিন্দারা ঘুমিয়ে পড়ার পর তিনি বাড়িতে প্রবেশ করেন এবং চারজনকে গুলি করে হত্যা করেন।   এরপর বাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেন স্যান্ডোভাল। আগুনে পরিবারের তিনটি কুকুরও মারা যায়। একই সময়ে বাড়ির ভেতরে থাকা দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক আটকা পড়ে। তাদের একজন ১৬ বছর বয়সী কিশোর তালাবদ্ধ একটি কক্ষ থেকে জরুরি নম্বরে ফোন করলে পরে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির শেরিফের ডেপুটিরা তাকে উদ্ধার করেন।   চারটি হত্যার পাশাপাশি স্যান্ডোভাল একটি হত্যাচেষ্টা, বসতবাড়িতে প্রথম-ডিগ্রির চুরি, বসবাসরত স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ, প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার তিনটি অভিযোগ এবং শিশু নির্যাতনের দুটি অভিযোগেও দোষ স্বীকার করেছেন।   হত্যার অভিযোগগুলোর সঙ্গে একাধিক ব্যক্তিকে হত্যার বিশেষ পরিস্থিতি এবং ওত পেতে থেকে হত্যার অভিযোগও যুক্ত রয়েছে। এসব অভিযোগের কারণে মামলাটি আরও গুরুতর মাত্রা পেয়েছে।   লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি নাথান জে. হকম্যান বলেন, সম্পর্কের বিচ্ছেদের পর প্রতিশোধ নিতে স্যান্ডোভাল এই ‘পরিকল্পিত সহিংসতা’ চালিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, এই হত্যাকাণ্ড নিহতদের পরিবারগুলোর জন্য এমন এক শূন্যতা তৈরি করেছে, যা কখনো পূরণ হওয়ার নয়।   দোষ স্বীকারের ফলে স্যান্ডোভালের দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড নিশ্চিত হওয়ার পথে রয়েছে। আদালতের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৭ নভেম্বর তাঁর আনুষ্ঠানিক সাজা ঘোষণা হওয়ার কথা।   মামলার নথি ও তদন্তসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগে স্যান্ডোভালের গতিবিধি এবং তদন্তকারীরা কীভাবে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেছিলেন, তার সব বিস্তারিত এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।   ২০২৪ সালের ওই হত্যাকাণ্ডের পর তদন্তে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি শেরিফের হোমিসাইড ব্যুরো, জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করে। দোষ স্বীকারের মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া এখন সাজা ঘোষণার পর্যায়ে পৌঁছেছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৪:০
নিউ জার্সির সমারভিলে বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া নারীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউ জার্সিতে বাসা থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের সমারভিল শহরে নিজ বাসা থেকে ৪৬ বছর বয়সী এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যাওয়ার পর ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় নিহত নারীর স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   সোমারসেট কাউন্টি প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, নিহত নারীর নাম অ্যালিন এসপিনাল (৪৬)। তিনি সমারভিলের ব্রুকসাইড অ্যাভিনিউয়ের একটি বাসায় বসবাস করতেন।   তদন্ত কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার কিছু আগে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ একটি ফোন আসে। ফোনে ওই বাসায় বসবাসকারী এক নারীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসার ভেতরে অ্যালিন এসপিনালকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পায়।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার বুক, গলা ও উরুসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ঘটনার তদন্তের একপর্যায়ে নিহতের স্বামী ইগনাসিও এসপিনালকে (৫৫) সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরে মঙ্গলবার নিউ জার্সির ওয়েস্ট নিউ ইয়র্ক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।   তার বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রির হত্যা, বেআইনি উদ্দেশ্যে অস্ত্র রাখার অভিযোগ এবং তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।   সোমারসেট কাউন্টি প্রসিকিউটরের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তদন্তকারীরা সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন, বিভিন্ন আলামত ও ইলেকট্রনিক তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করছেন এবং ফরেনসিক পরীক্ষা চালিয়ে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করছেন।   কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, তদন্ত চলমান থাকায় এ মুহূর্তে ঘটনার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য বা কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না।   নিউ জার্সির স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সোমারসেট কাউন্টি প্রসিকিউটরের কার্যালয় যৌথভাবে ঘটনাটির তদন্ত করছে। সূত্র: ফক্স নিউজ

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:০
নিজেকে জিহাদি দাবি করল ব্রিটিশ নারী হত্যাকারী
‘খ্রিস্টান হওয়ায় হত্যা করেছি’, নিজেকে জিহাদি দাবি করল ব্রিটিশ নারী হত্যাকারী

গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে একটি পরিত্যক্ত ভবনে স্যুটকেসের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া ৩৮ বছর বয়সী ব্রিটিশ সমাজকর্মী এলিজাবেথ জেন রস হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের তথ্য এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।    এলিজাবেথ জেন রস স্কটল্যান্ডের বাসিন্দা ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে গ্রিসে শরণার্থী ও অসহায় মানুষের সহায়তায় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করতেন। তিনি জুলাই মাসে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে এথেন্সে যান। ১৫ জুলাই নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর ১৮ জুলাই শহরের কিপসেলি এলাকার একটি পরিত্যক্ত নির্মাণাধীন ভবনে সবুজ রঙের একটি স্যুটকেসের ভেতর তার মরদেহ পাওয়া যায়।    তদন্তে গ্রিক পুলিশ জানায়, ২৬ বছর বয়সী এক আফগান বংশোদ্ভূত পেশাদার বক্সারকে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রিসের গোপনীয়তা আইনের কারণে কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম প্রকাশ করেনি। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।   প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রথমে দাবি করেন তিনি রসকে মৃত অবস্থায় পেয়েছিলেন এবং ভয় পেয়ে মরদেহ স্যুটকেসে ভরে ফেলে দেন। তবে তদন্তকারীরা বলছেন, সিসিটিভি ফুটেজে তাকে স্যুটকেস টেনে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। এছাড়া রসের মোবাইল ফোন ও ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করার অভিযোগও রয়েছে। পুলিশ তার বাসা থেকে একটি ছুরি ও একটি নকল পিস্তল উদ্ধার করেছে।    ময়নাতদন্তে মরদেহে পচন ধরায় মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে শ্বাসরোধে মৃত্যুর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।    আদালত অভিযুক্তকে আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রস্তুতির জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছে। এরপর তাকে পুনরায় আদালতে হাজির করা হবে। তদন্তে গ্রিক পুলিশ ছাড়াও যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি, পুলিশ স্কটল্যান্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও সহায়তা করছেন।    তবে মামলাটি এখনো বিচারাধীন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে আইনগতভাবে দোষী বলা যাবে না।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
তিন বছর বয়সী জোসেফিনা কানিংহ্যাম, রবার্ট ফিশারের
গার্লফ্রেন্ডের ৩ বছরের কন্যাশিশুকে নির্যাতন হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন, সাজা শুরুর এক মাসেই কারাগারে মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের রেনসেলারে তিন বছর বয়সী জোসেফিনা কানিংহ্যামকে হত্যার ঘটনায় দোষ স্বীকার করে ২০ বছর থেকে আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়া রবার্ট ফিশারের কারাগারে মৃত্যু হয়েছে। সাজা কার্যকর হওয়ার প্রায় এক মাস পর, ২০২৪ সালের অক্টোবরে তিনি হেফাজতে মারা যান। তবে তার মৃত্যুর কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে জোসেফিনা কানিংহ্যামের মৃত্যুর ঘটনায় রবার্ট ফিশারের বিরুদ্ধে গুরুতর হামলা ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়। পরে তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করলে আদালত তাকে ২০ বছর থেকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন।   শিশুটির মৃত্যুর ঘটনাটি সে সময় নিউইয়র্কের রেনসেলার এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত সম্পন্ন হয় এবং আদালতের রায়ে ফিশারের দোষ প্রমাণিত হয়। তবে কারাদণ্ড কার্যকরের মাত্র এক মাসের মধ্যেই কারাগারে তার মৃত্যু নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে এসব প্রতিক্রিয়ার সত্যতা বা দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব নয়।   এই ঘটনায় সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার জোসেফিনা কানিংহ্যামের পরিবার। মাত্র তিন বছর বয়সেই তার জীবন থেমে যায়। আদালত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দিলেও, দণ্ডিতের কারাগারে মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মামলার পরবর্তী অধ্যায় অপ্রত্যাশিতভাবে শেষ হয়ে যায়। শিশু নির্যাতন ও হত্যার মতো অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্ত, বিচার এবং ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার গুরুত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। জোসেফিনা কানিংহ্যামের ঘটনাও সেই আলোচনাকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।

Unknown জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হয়েছিল। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন পর্যটক হত্যার দায়ে হাঙ্গেরিতে আইরিশ নাগরিকের ১৪ বছরের কারাদণ্ড

হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে ছুটি কাটাতে গিয়ে নিহত হওয়া মার্কিন নাগরিক ম্যাকেঞ্জি মিচালস্কিকে হত্যার দায়ে এক আইরিশ নাগরিককে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। একই সঙ্গে সাজা শেষ হলে তাকে হাঙ্গেরি থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এবং ডব্লিউকেবিডব্লিউ ৭ নিউজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার বুদাপেস্ট মেট্রোপলিটন কোর্ট এই রায় দেন। নিহত ম্যাকেঞ্জি মিচালস্কি (৩১) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ফ্রেডোনিয়ার বাসিন্দা ছিলেন। পরে তিনি ওরেগনের পোর্টল্যান্ডে বসবাস শুরু করেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে তিনি হাঙ্গেরিতে বেড়াতে গিয়েছিলেন।   গত বছরের ৫ নভেম্বর বুদাপেস্টের একটি নাইটক্লাব থেকে বের হওয়ার পর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে তার পরিবার নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের সময় আশপাশের নাইটক্লাবগুলোর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ দেখতে পায়, নিখোঁজ হওয়ার রাতে ম্যাকেঞ্জি এক ব্যক্তির সঙ্গে বিভিন্ন ক্লাবে ছিলেন। পরে সেই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে ৭ নভেম্বর আটক করা হয়।   আদালতের নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি, যাকে আদালতের নথিতে এল.টি.এম. নামে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তদন্তে জানা যায়, নাইটক্লাবে পরিচয়ের পর দুজন অভিযুক্তের ভাড়া করা অ্যাপার্টমেন্টে যান। সেখানে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সময় একপর্যায়ে অভিযুক্ত ম্যাকেঞ্জিকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।   ঘটনার পর তিনি এটিকে দুর্ঘটনা বলে দাবি করলেও তদন্তকারীরা জানান, হত্যার পর তিনি ঘটনাটি গোপন করার চেষ্টা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি প্রথমে অ্যাপার্টমেন্ট পরিষ্কার করেন, পরে মরদেহ একটি আলমারিতে লুকিয়ে রাখেন। এরপর একটি বড় স্যুটকেস কিনে মরদেহ সেটির মধ্যে রাখেন। এরপর একটি গাড়ি ভাড়া নিয়ে বুদাপেস্ট থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে বালাটন হ্রদের কাছে সিজলিগেট এলাকার একটি বনাঞ্চলে মরদেহ ফেলে দেন।   তদন্তকারীরা আরও জানান, গ্রেপ্তারের আগে অভিযুক্ত ইন্টারনেটে কীভাবে মরদেহ গোপন করা যায়, নিখোঁজ ব্যক্তির মামলায় পুলিশের তদন্ত পদ্ধতি কী, মৃতদেহ প্রাণী খেয়ে ফেলে কি না এবং বালাটন হ্রদ এলাকায় বুনো শূকর রয়েছে কি না, এমন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অনুসন্ধান করেছিলেন। পুলিশ প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পরে অভিযুক্ত নিজেই তদন্তকারীদের মরদেহ ফেলে দেওয়া স্থানে নিয়ে যান।   বিচার শেষে আদালত তাকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেন। রায় অনুযায়ী, ইতোমধ্যে আটক অবস্থায় কাটানো প্রায় দেড় বছর এই সাজা থেকে সমন্বয় করা হবে। এছাড়া তাকে আদালতের ব্যয় বাবদ ২৫ লাখ হাঙ্গেরিয়ান ফরিন্ট (প্রায় ৮ হাজার মার্কিন ডলার) পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযুক্তের আইনজীবী এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।   ম্যাকেঞ্জি মিচালস্কির মৃত্যুর পর যুক্তরাষ্ট্রের ফ্রেডোনিয়া এবং হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে তার স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। ঘটনাটি সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ও হাঙ্গেরি উভয় দেশেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৯, ২০২৬ ১৪:০
মায়ের হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া আয়ুষী শর্মা। ছবি: সংগৃহীত
ভারতে সরকারি চাকরি ও সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে জন্মদাত্রী মাকে নির্মমভাবে খুন করল মেয়ে

ভারতের রাজস্থানের জয়পুরে এক নারী সরকারি কর্মচারীর মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। প্রথমে সড়ক দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও তদন্তে পুলিশ দাবি করেছে, এটি ছিল পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি চাকরি ও পারিবারিক সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে ২৩ বছর বয়সী মেয়ে আয়ুষী শর্মা আত্মীয়দের সহযোগিতায় মাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।   পুলিশ জানিয়েছে, নিহত নীরজ শর্মা (৪৫) জয়পুরের একটি আদালতে নিম্ন বিভাগীয় কেরানি (এলডিসি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ৩ জুলাই বিকেলে তিনি ছেলেকে কোচিং সেন্টারে নামিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় দ্রুতগতির একটি স্করপিও গাড়ি তাকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি সড়ক দুর্ঘটনা মনে হলেও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা সন্দেহ করেন, এটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা। পরে তদন্তে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ সামনে আসে।   জয়পুর পুলিশের পূর্ব বিভাগের উপকমিশনার রঞ্জিতা শর্মা জানান, নীরজ শর্মার স্বামী প্রায় এক বছর আগে মারা যান। তার মৃত্যুর পর অনুকম্পাভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে নীরজ শর্মা সরকারি চাকরি পান। তদন্তে পুলিশ দাবি করেছে, মেয়ে আয়ুষী সেই চাকরি নিজের নামে পেতে চেয়েছিলেন। পাশাপাশি গত দুই থেকে তিন বছর ধরে মা ও মেয়ের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছিল। পুলিশের অভিযোগ, আয়ুষী তার কাকা মোহন স্বরূপ এবং চাচাতো ভাই বলরাম ওরফে রবির সঙ্গে মিলে হত্যার পরিকল্পনা করেন। তদন্তে দাবি করা হয়েছে, ভরতপুরের বাসিন্দা হেমন্ত শর্মাকে ৭ লাখ রুপির বিনিময়ে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়।   তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা প্রথমে একটি থার গাড়ি ভাড়া করে নীরজ শর্মার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করলেও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। পরে প্রায় এক মাস নজরদারি চালিয়ে ৩ জুলাই স্করপিও গাড়ি ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়। ঘটনার দিন কয়েকজন অভিযুক্ত নীরজ শর্মার অবস্থান পর্যবেক্ষণ করে একে অপরকে তথ্য দিচ্ছিলেন বলেও অভিযোগ পুলিশের। ঘটনার পর নিহতের ভাই রাকেশ কুমার শর্মা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি পুলিশকে জানান, নীরজ শর্মা জীবিত থাকতেই সম্পত্তি নিয়ে মেয়ে ও শ্বশুরবাড়ির কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে বিরোধের কথা বলেছিলেন। তিনি একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকিও পেয়েছিলেন বলে পরিবারের দাবি।   পুলিশ এ ঘটনায় আয়ুষী শর্মাসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে বলরাম ওরফে রবি নামে একজন অভিযুক্ত এখনো পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।   পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে আয়ুষী স্বীকার করেছেন যে তিনি বাবার মৃত্যুর পর সরকারি চাকরিটি নিজের নামে পেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার মা সেই চাকরিতে যোগ দেওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হন। এরপর সম্পত্তি ও চাকরি পাওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তদন্তকারীরা অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের বিচার এখনো শেষ হয়নি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়া বাকি রয়েছে।   ঘটনাটি ভারতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পারিবারিক সম্পত্তি ও অনুকম্পাভিত্তিক সরকারি চাকরিকে কেন্দ্র করে এমন হত্যার অভিযোগে অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে পুলিশ তদন্ত শেষ করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: আইডাহোর বাসিন্দা আন্দ্রেয়া শ (সংগ্রহীত)
টিকার জন্য সন্তানদের মৃত্যুর দাবি করেছিলেন মা, এক বছর পর সেই মায়ের বিরুদ্ধেই দুই যমজ শিশুকে হত্যার অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো অঙ্গরাজ্যে ১৮ মাস বয়সী যমজ সন্তানের মৃত্যুর জন্য টিকাকে দায়ী করে আলোচনায় আসা এক মায়ের বিরুদ্ধে এবার প্রথম-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রায় এক বছরব্যাপী তদন্ত শেষে পুলিশ ২৩ বছর বয়সী আন্দ্রেয়া শ–কে গ্রেপ্তার করেছে। মামলাটি এখন আদালতে বিচারাধীন।   পায়েট পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ মে আইডাহোর পায়েট শহরের একটি বাড়িতে একই বিছানায় ১৮ মাস বয়সী যমজ শিশু ডালাস ও টাইসন শ–এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৬ সালের ২৯ জুন গ্র্যান্ড জুরি আন্দ্রেয়া শ–এর বিরুদ্ধে দুটি প্রথম-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগে অভিযোগপত্র (ইনডাইটমেন্ট) দাখিল করে। পরে তাকে বোইসি শহরে গ্রেপ্তার করা হয়।   শিশুদের মৃত্যুর কয়েক দিনের মধ্যেই আন্দ্রেয়া শ ও তার স্বামী একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে দাবি করেছিলেন, নিয়মিত টিকা নেওয়ার পর তাদের সন্তানরা অসুস্থ হয়ে মারা যায়। পডকাস্টটি প্রকাশ করেছিল অ্যান্টি-ভ্যাকসিন সংগঠন ‘চিলড্রেনস হেলথ ডিফেন্স’, যার নেতৃত্বে একসময় বর্তমান মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা সচিব রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র ছিলেন।   পডকাস্টে আন্দ্রেয়া শ দাবি করেন, ১৮ মাস বয়সীদের জন্য নির্ধারিত হেপাটাইটিস-এ, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও ডিটিএপি টিকা নেওয়ার পরপরই তার যমজ সন্তান অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে অ্যান্টি-ভ্যাকসিন কর্মীরাও শিশুদের মৃত্যুকে টিকার সঙ্গে যুক্ত করে বিভিন্ন প্রচারণা চালান।   তবে প্রায় এক বছর তদন্তের পর পুলিশ আন্দ্রেয়া শ–এর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করে। আদালতের অভিযোগপত্রে শিশুদের শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে বলে একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে এখনো মৃত্যুর কারণের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। ফলে আদালতেই প্রসিকিউশনকে তাদের অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে।   অন্যদিকে আন্দ্রেয়া শ–এর আইনজীবী জো ফিলিচেত্তি এখনও দাবি করে আসছেন, শিশুদের মৃত্যুর জন্য টিকাই দায়ী। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো বৈজ্ঞানিক বা চিকিৎসাগত প্রমাণ প্রকাশ করতে পারেননি বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেটিভিবি জানিয়েছে।   এদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অনুমোদিত শিশুদের নিয়মিত টিকা নিরাপদ ও কার্যকর। টিকা শিশু মৃত্যুর কারণ—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এ ঘটনায়ও এখন পর্যন্ত তদন্তকারী সংস্থাগুলো টিকার সঙ্গে শিশুদের মৃত্যুর কোনো সম্পর্কের কথা জানায়নি।   মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। তাই আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দ্রেয়া শ আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৫, ২০২৬ ১৪:০
মেকানিকভিলের নিজ বাড়িতে মেয়ে ও চার নাতি-নাতনিকে বিষপ্রয়োগে হত্যার পর আত্মহত্যাকারী দাদি অ্যামি জে. স্টেডম্যান | ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে মেয়ে ও চার নাতি-নাতনিকে বিষপ্রয়োগে হত্যার অভিযোগ, দাদিকে পরিবারের দুই লাইনের শোকবার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে নিজের মেয়ে ও চার নাতি-নাতনিকে বিষপ্রয়োগে হত্যার পর আত্মহত্যার সন্দেহভাজন এক দাদিকে তার পরিবার মাত্র দুই লাইনের একটি শোকবার্তায় স্মরণ করেছে। বহুল আলোচিত এই ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।   স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ৬৪ বছর বয়সী অ্যামি জে. স্টেডম্যান, তার ৪৪ বছর বয়সী মেয়ে সারা মায়ার্স এবং চার নাতি-নাতনি, ১৩ বছর বয়সী হারপার হারমন, ১১ বছর বয়সী হাডসন হারমন এবং ১০ বছর বয়সী যমজ গ্যাভিন ও গ্রেসলিন হারমনকে নিউইয়র্কের মেকানিকভিলে স্টেডম্যানের বাড়ি থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যদের খোঁজ নিতে গিয়ে পুলিশ মরদেহগুলো উদ্ধার করে।   আলবেনিভিত্তিক একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত স্টেডম্যানের শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “অ্যামি জে. স্টেডম্যান, ৬৪, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬ তারিখে মারা গেছেন। পরিবারের অনুরোধে ব্যক্তিগতভাবে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।” সেখানে তার কোনো ছবিও প্রকাশ করা হয়নি।   মেকানিকভিল পুলিশ প্রধান বিল র‍্যাবিট জানান, স্টেডম্যানের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া একটি হাতে লেখা চিঠিতে জোরালোভাবে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, তিনি মেয়ে ও চার নাতি-নাতনিকে বিষপ্রয়োগে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করেছেন।   পুলিশের ভাষ্য, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রেসক্রিপশন ও ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, এসব ওষুধ ইচ্ছাকৃত বিষপ্রয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে টক্সিকোলজি পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা হচ্ছে না।   তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নিহত শিশুদের একজনের শরীরে ছুরিকাঘাতের চিহ্নও পাওয়া গেছে।   প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুদের বাবার সাম্প্রতিক হেফাজতের অধিকার পাওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।   নিহত শিশুদের বাবা ব্র্যাডি হারমন জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সন্তানদের হেফাজত নিয়ে আইনি লড়াই করছিলেন এবং গ্রীষ্মের ছুটিতে তাদের উটাহে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে জুন মাসে শেষবার কথা বলার সময় সাবেক স্ত্রী সারা মায়ার্স তাকে জানিয়েছিলেন, শিশুরা অসুস্থ। হারমন বলেন, “ব্যবস্থাটি ভেঙে পড়েছে। সন্তানদের কাছে পৌঁছাতে আমাকে সাড়ে ছয় বছর লড়াই করতে হয়েছে।”   তিনি আরও বলেন, “এখন আমার একমাত্র চাওয়া, আমার সন্তানদের বাড়িতে ফিরিয়ে আনা এবং যারা তাদের সঙ্গে এমন নৃশংসতা করেছে, তাদের থেকে দূরে রাখা।”   পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। টক্সিকোলজি পরীক্ষার ফল হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হবে।

তাবাস্সুম জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:০
ফোন ছিনতাইয়ের জেরে পেন স্টেট শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত
মোবাইল ছিনতাইয়ের পর পেন স্টেট শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যা, এক মাস পর কলোরাডোতে ধরা পড়ল কিশোর

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বিলি শ্মিটকে মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের পর গুলি করে হত্যার ঘটনায় প্রায় এক মাস পলাতক থাকার পর ১৬ বছর বয়সী এক সন্দেহভাজনকে কলোরাডো অঙ্গরাজ্য থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, পালিয়ে যেতে তাকে সহায়তা করার অভিযোগে তার সৎবাবাকেও আটক করা হয়েছে।   মার্কিন মার্শাল সার্ভিসের ফিলাডেলফিয়া শাখা জানিয়েছে, বুধবার কলোরাডো স্প্রিংসে এক দূরসম্পর্কের আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপনে থাকা আজ্জুবাইর আউটেন-ফ্লেমিংকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় তিনি নিজের পরিচয় গোপনের চেষ্টা করেছিলেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তদন্তকারীদের মতে, গত ৬ জুন ভোররাত দেড়টার দিকে দক্ষিণ ফিলাডেলফিয়ায় বিলি শ্মিটের ওপর হামলার ঘটনায় আউটেন-ফ্লেমিং এবং আরেক ১৬ বছর বয়সী কিশোর কাসিম স্মিথ জড়িত ছিলেন।   প্রসিকিউটর ল্যারি ক্রাসনারের ভাষ্য অনুযায়ী, এনবিএ ফাইনালের খেলা দেখে একটি স্থানীয় বার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন বিলি শ্মিট। পথে দুই কিশোর তার পথরোধ করে। অভিযোগ রয়েছে, আউটেন-ফ্লেমিং প্রথমে তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন, পরে তাকে ঘুষি মেরে পকেট তল্লাশি করেন। ঘটনাস্থলের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, মুখোশ পরা দুই সন্দেহভাজন শ্মিটকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে দেয়। পরে তারা সেখান থেকে হেঁটে চলে যেতে শুরু করলে শ্মিট নিজের ফোন ফেরত চেয়ে তাদের পিছু নেন।   তদন্তে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে আউটেন-ফ্লেমিং ফোনটি রাস্তার দিকে ছুড়ে ফেলেন। এরপর দুই কিশোর আলাদা হয়ে যায়। শ্মিট কাসিম স্মিথের পিছু নিলে স্মিথ পেছনের পকেট থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে গুলি চালান বলে অভিযোগ। গুলিটি শ্মিটের বুকে লাগে। হামলার পর দুই সন্দেহভাজন ঘটনাস্থল থেকে হেঁটে একটি এসইউভি গাড়িতে উঠে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় শ্মিটকে পেন-প্রেসবাইটেরিয়ান মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   তদন্তে আরও জানা গেছে, ৩৫ বছর বয়সী ডন্টে আবদুলমালিকের বিরুদ্ধে তার সৎছেলে আউটেন-ফ্লেমিংকে ফিলাডেলফিয়া থেকে কলোরাডোতে পালিয়ে যেতে সহায়তা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। বুধবার তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার এড়াতে সহায়তা, বিচার কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি এবং প্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে।   অন্যদিকে আউটেন-ফ্লেমিংয়ের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, হত্যা ষড়যন্ত্রসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে বর্তমানে কলোরাডোর জেবুলন পাইক ইয়ুথ সেন্টারে রাখা হয়েছে। ফিলাডেলফিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।   এদিকে একই মামলার আরেক সন্দেহভাজন কাসিম স্মিথ এখনো পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারে তথ্য দিলে ৫ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। ফিলাডেলফিয়া ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, দুই কিশোরের বিরুদ্ধেই হত্যা, ডাকাতি এবং হত্যা ষড়যন্ত্রসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।   ঘটনার পর নিহত শিক্ষার্থীর বাবা বিল শ্মিট ছেলের হত্যাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, "আমি ওই দুই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে চাই এবং তাদের যেন আইনের আওতায় এনে জবাবদিহির মুখোমুখি করা হয়।"   পরিবারের সদস্যরা জানান, বিলি শ্মিট পেন স্টেট ওয়ার্ল্ড ক্যাম্পাসে ডিজিটাল সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম বিষয়ে পড়াশোনা করতেন। তিনি সদ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষ শেষ করেছিলেন। পরিবারের ভাষ্য, তিনি ছিলেন অত্যন্ত সহানুভূতিশীল ও শান্ত স্বভাবের একজন মানুষ, যিনি কখনো কারও ক্ষতি করেননি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হত্যা, এক কিশোর গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথা জানিয়েছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত দুই কিশোরের একজনকে কলোরাডো অঙ্গরাজ্য থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর সন্দেহভাজনকে ধরতে ফেডারেল ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।   ফিলাডেলফিয়া পুলিশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মার্শাল সার্ভিস জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া কিশোরের বয়স ১৬ বছর। তাকে কলোরাডো স্প্রিংস এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাকে পেনসিলভানিয়ায় ফিরিয়ে এনে হত্যাসহ একাধিক অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।   নিহত শিক্ষার্থীর নাম বিলি (উইলিয়াম) শ্মিট। তার বয়স ছিল ২২ বছর। তিনি পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। গত ৬ জুন রাতে দক্ষিণ ফিলাডেলফিয়ায় নিজ বাসার কাছাকাছি হাঁটার সময় দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি একটি ছিনতাইয়ের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা জানান, হামলার সময় বিলি শ্মিট নিজের মোবাইল ফোন ফেরত চাইছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা ক্যামেরার ভিডিও সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুই ১৬ বছর বয়সী কিশোরকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর একজন পালিয়ে কলোরাডোতে চলে যায় বলে তদন্তে জানা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের মার্শাল সার্ভিস জানায়, দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর অভিযুক্ত কিশোরকে কলোরাডো স্প্রিংসে তার স্বজনদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় কোনো ধরনের গোলাগুলি বা সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। তবে মামলার আরেক অভিযুক্ত এখনও পলাতক। তাকে ধরিয়ে দিতে তথ্য দিলে পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মার্শাল সার্ভিস। পুলিশ সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে এবং সন্দেহভাজনের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য থাকলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে।   ফিলাডেলফিয়া পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, কিংবা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনায় আরও কেউ অংশ নিয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহত বিলি শ্মিটের মৃত্যুতে পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় গভীর শোক প্রকাশ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে তার পরিবার, বন্ধু ও সহপাঠীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেছে, এই মর্মান্তিক ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায় শোকাহত। শিক্ষার্থীর পরিবারও হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেছে। পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, বিলি ছিলেন শান্ত স্বভাবের, পরিশ্রমী এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখা একজন তরুণ।   তার মৃত্যু তাদের পরিবারকে গভীর শোকের মধ্যে ফেলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া কিশোরকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পেনসিলভানিয়ায় স্থানান্তর করা হবে। এরপর আদালতে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হবে। একই সঙ্গে পলাতক দ্বিতীয় সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে কিশোর অপরাধ, সশস্ত্র ছিনতাই এবং জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ মামলার বিষয়ে অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করছে না।

Unknown জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে পাঁচ সন্তানের এক মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই বোনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত ক্যারোলিন "ক্যারো" পেনা (৩২) হত্যাকাণ্ডের মাত্র কয়েক মিনিট আগে তার দীর্ঘদিনের এক বান্ধবীকে ফোন করেছিলেন বলে জানা গেছে।   পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুর প্রায় ১টা ৩৫ মিনিটে ক্যারোলিন পেনা তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ক্রিস্টিনা সালিনাসকে ফোন করেন। তবে ফোনটি রিসিভ করা হয়নি। এর কয়েক মিনিট পরই ডেল রিও এলাকায় তার ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়।   এ ঘটনায় কিটি মিয়া ডিয়াজ (২১), আমায়া "কুকি" ডিয়াজ (১৯) এবং কিয়ান্দ্রা রেনে ফাজ (২১) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।   আরও পড়ুন...নিউইয়র্কের কারাগারের অন্ধকার জগৎ: নির্যাতন, চিকিৎসা অবহেলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহ চিত্র   স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্রিস্টিনা সালিনাস বলেন, তিনি যদি ফোনটি ধরতে পারতেন, তাহলে হয়তো ঘটনাটি এভাবে ঘটত না। তিনি বলেন, "আমার মনে হয় আমি যদি ফোনটি ধরতাম, তাহলে আমি তার সঙ্গে থাকতাম। হয়তো এমন কিছু ঘটত না।"   সালিনাস জানান, হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় ক্যারোলিন পেনাকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে বিমানযোগে সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলেও সেখানে তার মৃত্যু হয়।   তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি রক্তাক্ত ছবি দেখে চুল বাঁধার ধরন ও পোশাক দেখে তিনি বুঝতে পারেন সেটি তারই বন্ধু। বন্ধুকে স্মরণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তায় সালিনাস লেখেন, "তুমি একা চলে যেতে, আমি কখনও তা হতে দিতাম না। তুমি নেই, কিন্তু কখনও ভুলে যাওয়ার নও।"   তিনি তাদের একসঙ্গে তোলা সর্বশেষ একটি ছবিও প্রকাশ করেন। পাশাপাশি নিজের বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধারণ করা একটি ভিডিও শেয়ার করে লেখেন, "তোমার আমার বাড়িতে আসা, একসঙ্গে খাওয়া, গল্প করা আর হাসির মুহূর্তগুলোই সবচেয়ে বেশি মনে পড়বে।"   এদিকে গ্রেপ্তারের সময় ধারণ করা একটি ভিডিওতে অভিযুক্ত কিটি ডিয়াজকে হাসিমুখে পুলিশি গাড়ির দিকে যেতে দেখা যায়। অন্যদিকে তার বোন আমায়া ডিয়াজকে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে "রেকর্ড করা বন্ধ করো" বলতে শোনা যায়।   আরও পড়ুন... ‘সাইকেলে ধাওয়া করে অপহৃত ৫ বছরের শিশুকে উদ্ধার করেছিল ১৫ বছরের কিশোর   স্বাধীন সাংবাদিক মাইকেল এলিজোন্ডোর দাবি, গ্রেপ্তারের পর আমায়া ডিয়াজকে বেশ হাসিখুশি দেখা গেছে। পুলিশের গাড়ির জানালা দিয়ে মুখ বের করে জিভ দেখানোসহ বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গিও করেন তিনি।   তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
নাহিদা বৃষ্টি
নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২৪, ২০২৬ ১৪:০
জামিল লিমন
পহেলা বৈশাখে মায়ের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল জামিলের

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নৃশংসভাবে নিহত বাংলাদেশি মেধাবী শিক্ষার্থী জামিল লিমনের মৃত্যুতে পরিবারজুড়ে চলছে শোকের মাতম। সাউথ ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটির (ইউএসএফ) এই ডক্টরাল শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর থেকে তার বাবা-মা শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছেন। নিহত জামিলের মা লুৎফন হক কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্মৃতিচারণ করে জানান, গত পহেলা বৈশাখে শেষবারের মতো কথা হয়েছিল ছেলের সঙ্গে। প্রবাসে পড়াশোনার প্রচণ্ড চাপের মধ্যেও দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি জামিলের টান ছিল অটুট। সেদিন ফোন করে মায়ের কাছে তিনি জানতে চেয়েছিলেন, "মা, তুমি কি পান্তা-ইলিশ খেয়েছ?" সেই পান্তা-ইলিশের স্মৃতিই এখন মায়ের কাছে বড় যন্ত্রণার হয়ে দাঁড়িয়েছে। জামিলের পৈতৃক নিবাস জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার মহিষবাতান এলাকায়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে তার পরিবার ঢাকার মাওয়ায় বসবাস করছে। তার বাল্যবন্ধু জসিম উদ্দিন জানান, জামিল ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের ছিলেন। এমন একজন মানুষের এমন করুণ পরিণতি কেউ মেনে নিতে পারছেন না। উল্লেখ্য, শুক্রবার ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু থেকে জামিল লিমনের দেহাংশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে জামিলের সাবেক রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়েহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে জামিলের মা-বাবা শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে নিভৃতে অবস্থান করছেন।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
জামিল হত্যা: ঘাতক হিশামের অপরাধজগত নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তারকৃত হিশাম সালেহ আবু গারবিয়ার অন্ধকার অতীত বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। আদালতের নথি ও পুলিশি তদন্তে দেখা গেছে, ২৬ বছর বয়সী এই যুবক দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন। আদালতের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০২৩ সালে হিশামের বিরুদ্ধে মারধর, খালি বাড়িতে চুরি এবং ঘরোয়া সহিংসতার একাধিক অভিযোগ ছিল। এমনকি তার নিজের পরিবারের সদস্যও তার বিরুদ্ধে দুবার ঘরোয়া সহিংসতার মামলা করেছিলেন। এসব অপরাধের জন্য তার বিরুদ্ধে আদালতের নিষেধাজ্ঞা পর্যন্ত জারি করা হয়েছিল। তবে প্রথমবার অপরাধ করা ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত একটি বিশেষ সংশোধনমূলক কর্মসূচি (Diversion Program) সম্পন্ন করায় ২০২৪ সালে তার আগের সব অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, জামিল লিমন হত্যাকাণ্ডের পর হিশামের বিরুদ্ধে এখন ঘরোয়া সহিংসতা, মারধর, অবৈধভাবে আটকে রাখা, তথ্য-প্রমাণ নষ্ট করা, মৃত্যু সংবাদ গোপন করা এবং মরদেহ সরানোর মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ১৬ এপ্রিল সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি নিখোঁজ হন। শুক্রবার সকালে টাম্পা বে’র একটি ব্রিজ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে লিমনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও হবু স্ত্রী নাহিদা বৃষ্টি এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তদন্তকারীরা জানান, জামিল ও নাহিদাকে শেষবার হিশামের সঙ্গেই দেখা গিয়েছিল। গ্রেপ্তারের আগে হিশাম তার পরিবারের বাসায় নিজেকে আটকে রেখেছিলেন। পরে সোয়াট (SWAT) টিমের অভিযানে তিনি আত্মসমর্পণ করেন। বর্তমানে হিশাম পুলিশি হেফাজতে থাকলেও নিখোঁজ নাহিদা বৃষ্টির সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রেখেছে হিলসবোরো কাউন্টি পুলিশ। নিহত লিমনের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ আরও স্পষ্ট হবে বলে জানানো হয়েছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ফেসবুক থেকে প্রাপ্ত এই তারিখবিহীন ছবিটিতে ভার্জিনিয়ার সাবেক লেফট্যানেন্ট গভর্নর জাস্টিন ফেয়ারফ্যাক্স এবং তার স্ত্রী সেরিনা ফেয়ারফ্যাক্সকে দেখা যাচ্ছে।
স্ত্রীকে হত্যার পর সাবেক মার্কিন লেফটেন্যান্ট গভর্নরের রহস্যজনক আত্মহত্যা

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের সাবেক লেফটেন্যান্ট গভর্নর জাস্টিন ফেয়ারফ্যাক্স এবং তার স্ত্রী সেরিনা ফেয়ারফ্যাক্সের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ভার্জিনিয়ার অ্যানানডেল এলাকায় নিজ বাসভবন থেকে তাদের নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে একে ‘মার্ডার-সুইসাইড’ বা স্ত্রীকে হত্যার পর নিজের আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে ধারণা করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের কিছু সময় পর এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তখন সেখানে জাস্টিন এবং সেরিনা উভয়কেই গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মৃত দেখতে পায়। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, ঘটনার সময় তাদের দুই কিশোর সন্তানও ঘরের ভেতর উপস্থিত ছিল। তবে তারা শারীরিক কোনো আঘাত পায়নি। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, সম্প্রতি সেরিনা ফেয়ারফ্যাক্স বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করেছিলেন, যা নিয়ে দম্পতির মধ্যে কলহ চলছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা না হলেও, একে একটি অভ্যন্তরীণ পারিবারিক সহিংসতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। জাস্টিন ফেয়ারফ্যাক্স ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ভার্জিনিয়ার ৪১তম লেফটেন্যান্ট গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন এই অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে দ্বিতীয় আফ্রিকান-আমেরিকান নির্বাচিত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তার এই আকস্মিক ও সহিংস মৃত্যুতে গোটা ভার্জিনিয়ার রাজনৈতিক মহলে শোক ও বিস্ময়ের ছায়া নেমে এসেছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে মন্দার প্রভাবে আগস্টে বড় ৫০টি মহানগরের ৩৬টিতেই বাড়ির দাম কমেছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ১০ শহরে সবচেয়ে দ্রুত কমছে বাড়ির দাম, ক্রেতাদের জন্য স্বস্তি

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০