যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের দমনে ১৬.৭ মিলিয়ন ডলারের ‘ইলেকট্রিক শক গ্লাভস’ কিনছে আইসিই
মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) আটককৃত অভিবাসী এবং বিক্ষোভকারীদের দমনের জন্য ১৬.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি চরম বিতর্কিত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আওতায় সংস্থাটি ৬ হাজার জোড়া ‘ইলেকট্রিক শক গ্লাভস’ বা বৈদ্যুতিক শক দিতে সক্ষম বিশেষ ধরনের হাতমোজা কিনতে যাচ্ছে।
মানবাধিকার কর্মী এবং ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের ব্যাপক বিরোধিতা ও উদ্বেগ সত্ত্বেও এই বিপুল পরিমাণ গ্লাভস কেনার চুক্তি চূড়ান্ত করেছে আইসিই। সংস্থাটির দাবি, যেসব বন্দি বা বিক্ষোভকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাধা সৃষ্টি করবে, তাদের দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতেই কর্মকর্তারা এই বিশেষ গ্লাভস ব্যবহার করবেন।
বৃহস্পতিবার ফেডারেল ডেটাবেসে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কেন্টাকি-ভিত্তিক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিস এলএলসি’-এর সাথে কোনো ধরনের পূর্ব দরপত্র ছাড়াই এই চুক্তি করেছে আইসিই।
চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ছয় মাসের মধ্যে ৬ হাজার জোড়া গ্লাভস এবং এর আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম সরবরাহ করবে প্রতিষ্ঠানটি। সাধারণ টহল গ্লাভসের মতোই দেখতে এই ডিভাইসের নির্দিষ্ট বোতাম চাপলে তা মুহূর্তেই বৈদ্যুতিক মোডে চলে যায়।
এরপর সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে এলে এটি এমনভাবে শক তৈরি করে, যা তীব্র ব্যথার সৃষ্টি করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু স্থানীয় কারাগার ও পুলিশ বিভাগ এই বিশেষ গ্লাভস ব্যবহার করলেও, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির অধীনে আইসিই কর্মকর্তাদের হাতে এর ব্যবহার চরম মাত্রায় ক্ষমতার অপব্যবহার ডেকে আনতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা।
এই গ্লাভস কেনার পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসার পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট সিনেটররা। নেভাডার ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্যাথরিন কর্টেজ মাস্তোর নেতৃত্বে ১৬ জন আইনপ্রণেতা আইসিই-র ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের কাছে চিঠি দিয়ে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিলের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
চিঠিতে তারা লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো এবং মিনিয়াপোলিসসহ বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অমানবিক আচরণের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, সুস্পষ্ট নীতিমালা ও যথাযথ নজরদারি ছাড়া এই গ্লাভসের ব্যবহার সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
তবে সমালোচকদের কড়া জবাব দিয়ে আইসিই-র মূল সংস্থা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট (ডিএইচএস) পাল্টা বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারে বাধা দেওয়া মূলত দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের জীবন বিপন্ন করার একটি হীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চেষ্টা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডে ঘুমের মধ্যে অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন চিকিৎসক ক্রিস্টা এডেলম্যান। স্বপ্নে ছোট একটি ইঁদুর মুখের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছে মনে হলেও ঘুম ভাঙার পর তিনি বুঝতে পারেন, বিষয়টি কোনো স্বপ্ন নয়। সত্যিই একটি বাদুড় তার ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে মুখের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছিল। ঘটনাটি ঘটে রিচমন্ডে এডেলম্যানের প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো বাড়িতে। তিনি একজন পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞ। সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে অভিজ্ঞতাটি তুলে ধরে মানুষকে বাদুড়ের সংস্পর্শে এলে কী ধরনের সতর্কতা নিতে হবে, সে বিষয়ে সচেতন করেছেন তিনি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউটিভিআরও ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এডেলম্যান জানান, প্রথমে তিনি স্বপ্ন দেখছিলেন একটি ছোট মাঠের ইঁদুর তার মুখের কাছে এসে মুখের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছে। ঘুম ভাঙার সময় তিনি মুখের কাছে হাত নিয়ে কিছু একটা স্পর্শ করেন। সেটি ছিল পিচ্ছিল, লোমশ এবং ঠান্ডা। কিছুক্ষণ পরই তিনি বুঝতে পারেন, সেটি ইঁদুর নয়, একটি বাদুড়। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি বাদুড়টিকে ধরে ঘরের অন্যদিকে ছুড়ে দেন এবং চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকারে স্বামীও জেগে ওঠেন। প্রথমে বাদুড়টিকে মেরে ফেলার কথা মনে হলেও চিকিৎসক হিসেবে এডেলম্যান জানতেন, সেটি করা ঠিক হবে না। বাদুড়টিকে ধরে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন, বিশেষ করে জলাতঙ্কের ভাইরাস রয়েছে কি না তা জানার জন্য। পরে দ্রুত কী করা উচিত তা জানতে তিনি ফোনে খোঁজ করেন এবং একজন সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ বন্ধুর সঙ্গে কথা বলেন। বন্ধুও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর এডেলম্যান তার কর্মস্থল সেন্ট মেরিস হাসপাতালে জরুরি বিভাগে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে জলাতঙ্কের সম্ভাব্য সংস্পর্শ হিসেবে বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন। এডেলম্যানের স্বামী শেষ পর্যন্ত বাদুড়টিকে একটি পাত্রে আটকে ফেলতে সক্ষম হন। এরপর প্রাণীটিকে জলাতঙ্ক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষায় বাদুড়টির শরীরে জলাতঙ্কের ভাইরাস পাওয়া যায়নি। তবে সরাসরি সংস্পর্শের কারণে এবং আগে জলাতঙ্কের টিকা না নেওয়ায় এডেলম্যান সতর্কতামূলকভাবে জলাতঙ্কের টিকা ও ইমিউনোগ্লোবিউলিন গ্রহণ করেন। ঘটনার পর এডেলম্যানের মূল বার্তা ছিল, বাড়িতে বাদুড় পাওয়া গেলে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে ঘুমন্ত অবস্থায় কেউ বাদুড়ের সংস্পর্শে এলে তিনি আদৌ কামড় বা আঁচড়ের শিকার হয়েছেন কি না, তা সবসময় বোঝা সম্ভব নাও হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র, সিডিসি বলছে, বাদুড়ের কামড়ের দাগ খুব ছোট হতে পারে এবং অনেক সময় তা চোখে পড়েও না। কোনো ব্যক্তি ঘুম থেকে উঠে ঘরে বাদুড় দেখতে পেলে এবং সরাসরি সংস্পর্শ হয়েছিল কি না নিশ্চিত না হলে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে চিকিৎসা পরামর্শ নেওয়া উচিত। বাদুড়ের ক্ষেত্রে জলাতঙ্কের ঝুঁকি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে জলাতঙ্কে মানুষের মৃত্যুর ক্ষেত্রে বাদুড়ের সংস্পর্শ একটি প্রধান কারণ। দেশটিতে জলাতঙ্কে মারা যাওয়া অন্তত ১০ জনের মধ্যে সাতজনের সংক্রমণের সঙ্গে বাদুড়ের সম্পর্ক রয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সব বাদুড় জলাতঙ্কে আক্রান্ত। বরং যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ বাদুড় সুস্থ এবং পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জলাতঙ্কের চিকিৎসা সময়মতো শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভাইরাসটির লক্ষণ প্রকাশের আগে সংস্পর্শের পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিলে রোগ প্রতিরোধ করা যায়। কিন্তু লক্ষণ প্রকাশের পর রোগটি প্রায় সবসময় প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়িতে বাদুড় ঢুকে পড়লে খালি হাতে সেটিকে ধরা উচিত নয়। নিরাপদে সম্ভব হলে উপযুক্ত সুরক্ষা নিয়ে পাত্রের মধ্যে আটকে রেখে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ বা প্রাণী নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। তারা বাদুড়টি পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে পারে এবং মানুষের চিকিৎসা প্রয়োজন কি না, সে বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারে। বাদুড় সাধারণত মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলে। তবে বাড়ির ছাদ, চিমনি, চিলেকোঠা কিংবা দেয়ালের ছোট ফাঁক দিয়ে তারা ঘরে ঢুকতে পারে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, বাদুড় প্রায় এক-চতুর্থাংশ ইঞ্চি বা ৬ মিলিমিটারের মতো ছোট ফাঁক দিয়েও ঢুকতে পারে। তাই পুরোনো বাড়ির ছাদ, দরজা, জানালা, চিমনি ও অন্যান্য সম্ভাব্য প্রবেশপথ নিয়মিত পরীক্ষা করে বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। নিজের অস্বাভাবিক অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের উদ্দেশ্যও এডেলম্যান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, চিকিৎসক হয়েও এমন পরিস্থিতিতে ঠিক কী করা উচিত, তা নিয়ে মুহূর্তের মধ্যে তাকে তথ্য খুঁজতে হয়েছিল। তাই অন্য কেউ যেন একই পরিস্থিতিতে পড়ে বিভ্রান্ত না হন, সে কারণেই তিনি ঘটনাটি প্রকাশ্যে এনেছেন। তার অভিজ্ঞতা এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। সূত্র: ডব্লিউটিভিআর
একাকিত্ব কাটাতে ২৯ বছর বয়সে কিশোরী সেজে হাইস্কুলে ভর্তি, চার দিন ক্লাসের পর ধরা পড়লেন নারী
দাম বাড়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার সুযোগ, রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের নজরে ৯ শহর
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের দমনে ১৬.৭ মিলিয়ন ডলারের ‘ইলেকট্রিক শক গ্লাভস’ কিনছে আইসিই
নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে আঘাত হানা প্রলয়ংকরী বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় নিখোঁজ হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির এক দম্পতি। স্থানীয় কর্মকর্তা ও পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্লুমফিল্ডের বাসিন্দা বিমলভাই প্যাটেল এবং তাঁর স্ত্রী জৈমিনাবেন প্যাটেল একটি ধর্মীয় সফরে গিয়ে এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়েন। হঠাৎ ধেয়ে আসা বন্যা ও কাদার স্রোতে ওই এলাকার বহু ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে এবং এখনও অসংখ্য মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এই আকস্মিক নিখোঁজের খবরে ব্লুমফিল্ডে বসবাসরত প্যাটেল দম্পতির প্রতিবেশীরা চরম হতবাক হয়ে পড়েছেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভাগ্যক্রমে ওই দম্পতির ৯ বছর বয়সী ছেলে বর্তমানে ভারতে তার আত্মীয়দের কাছে সম্পূর্ণ নিরাপদে রয়েছে। নিখোঁজ দম্পতির সন্ধান চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে এক আবেগঘন বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "নেপাল সীমান্তের বন্যাদুর্গত এলাকায় আমার বোন ও ভগ্নিপতি নিখোঁজ রয়েছেন। আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি ভিত্তিতে তাদের খুঁজে বের করে দ্রুত উদ্ধারের বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।" এদিকে, ব্লুমফিল্ডের মেয়র জেনি মান্ডেল এই সংকটময় মুহূর্তে প্যাটেল পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকারী দলগুলোর জোর তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও নিখোঁজ মানুষের তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। প্যাটেল দম্পতির পাশাপাশি এই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন নিউইয়র্কের আরেক দম্পতি রমেশ শর্মা ও নীলম শর্মা। তীর্থযাত্রায় গিয়ে তিব্বত সীমান্তের কাছাকাছি থাকা অবস্থায় গত বুধবার সকাল থেকে পরিবারের সঙ্গে তাঁদের সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪ মাসের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, হ ত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার ২২ বছরের তরুণ
কসকোর মেম্বারশিপ নিয়ে পরে আফসোস করতে না চাইলে জেনে নিন ৫টি অসুবিধা
যুক্তরাষ্ট্রের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল পুয়ের্তো রিকোতে কোস্ট গার্ডের অভিযান, জব্দ ৫ কোটি ৪৫ লাখ ডলারের কোকেন
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি স্থানীয় মসজিদে শিক্ষাসফরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক ইসলামিক পোশাক পরানো এবং ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার অভিযোগে পালো আল্টো ইউনিফাইড স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও স্কুলটির প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ৭ আগস্ট ইহুদি, হিন্দু এবং জোরোয়াস্ট্রিয়ান ধর্মাবলম্বী অভিভাবকদের একটি দল যৌথভাবে এই আইনি পদক্ষেপ নেয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, পালো আল্টো হাইস্কুলের 'সোশ্যাল জাস্টিস পাথওয়ে' কারিকুলামের অংশ হিসেবে গত বছর মুসলিম কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে একটি মসজিদে এই সফরের ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছাত্রীদের হিজাব পরতে উৎসাহিত করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের বাড়িতে নেওয়ার জন্য পবিত্র কুরআন উপহার দেওয়া হয়। এছাড়া, সেখানে জোহরের নামাজ পর্যবেক্ষণ এবং ইসলাম ধর্ম কীভাবে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রচার করে, সে বিষয়েও শিক্ষা দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিভাবকদের দাবি, অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া ধর্মনিরপেক্ষ পাবলিক স্কুলে এভাবে নির্দিষ্ট একটি ধর্মকে প্রচার করা মার্কিন সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। মামলার আইনজীবী ডেভিড রোজেনবার্গ-ওহল জানান, স্কুল কর্তৃপক্ষ পরোক্ষভাবে শিক্ষার্থীদের বোঝাচ্ছে যে প্রগতিশীলতা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য ইসলামই উপযুক্ত ধর্ম, যা কোনোভাবেই একটি পাবলিক স্কুলের কাজ হতে পারে না। অন্যদিকে, মুসলিম কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশন এই মামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, সাধারণ ধর্মীয় অনুশীলনের সঙ্গে পরিচিত হওয়াকে জবরদস্তি বা হুমকিস্বরূপ হিসেবে দেখলে তা মূলত সমাজে ইসলামোফোবিয়া বা ইসলামভীতিকেই আরও উসকে দেবে। স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট জেসন গ্লাস জানিয়েছেন, তারা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখছেন, তবে চলমান আইনি বিষয় নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে অনেক শিক্ষার্থীই স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। স্কুল পত্রিকার সম্পাদক জুনি থার্স্টন জোরপূর্বক হিজাব পরানো এবং ইসলামিক আদর্শে দীক্ষিত করার অভিযোগটিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে একে অতিরঞ্জিত বলে আখ্যা দিয়েছেন। যদিও ওই সফরে আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস কাউন্সিলের বিতর্কিত নেত্রী জাহরা বিল্লুর উপস্থিতি নিয়ে তিনিও আপত্তি জানিয়েছেন। এদিকে, ফাউন্ডেশন ফর ইন্ডিভিজুয়াল রাইটস অ্যান্ড এক্সপ্রেশন (ফায়ার) জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের যদি কোনো ধর্মীয় পোশাক পরতে বাধ্য করা হয়ে থাকে, তবে তা সরাসরি মার্কিন সংবিধানের ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট বা প্রথম সংশোধনীর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার খরচ আরও বাড়ল, মর্টগেজ রেট বেড়ে ৬.৬৬ শতাংশে
৭ মাস আইসিই হেফাজতে বন্দি থাকার পর মিলল গ্রিন কার্ড, তবু আনন্দ নেই মার্কোসের