- প্রচ্ছদ
- Topic
আটলান্টা
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে দুই ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে একটি রোবট কুকুর। আটলান্টার কাছে ডিক্যালব কাউন্টিতে ১৩ বছরের এক কিশোর ও ৪৫ বছরের এক ব্যক্তিকে হত্যার তদন্তে রোবটটির ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও ব্যবহার করেছে পুলিশ। সেই ফুটেজের সহায়তায় একজন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করেন তদন্তকারীরা। পরে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ডিক্যালব কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, গত ২ জুলাই ভোরে আটলান্টার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গ্রেশাম পার্ক এলাকায় একটি বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। রকলিফ রোডের ২৪০০ ব্লকে অবস্থিত বাড়িটিতে একাধিক ব্যক্তি অবস্থান করছিলেন। স্থানীয় সময় ভোর ৩টা ৫৫ মিনিটের দিকে গুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ১৩ বছর বয়সী ডিমার্কাস শার্লি এবং ৪৫ বছর বয়সী চান্সি নিউম্যানকে পাওয়া যায়। দুজনই নিহত হন। গুলিতে একটি কুকুরও মারা যায়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় বাড়িটির ভেতরে আরও কয়েকজন ছিলেন। তবে তাঁরা শারীরিকভাবে আহত হননি। নিহত কিশোর ডিমার্কাস ওই বাড়ির স্থায়ী বাসিন্দা ছিল না। পরিবারের সদস্যদের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বন্ধুদের সঙ্গে রাত কাটানোর জন্য সে সেখানে গিয়েছিল। তার আত্মীয় গ্রেগরি কার্থন জানান, কিশোরটি বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর উদ্দেশ্যে বাড়িটিতে অবস্থান করছিল। হঠাৎ গুলিবর্ষণের ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশকে সহায়তা করে বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান আনডন্টেড রোবোটিক সিকিউরিটির একটি রোবট কুকুর। প্রতিষ্ঠানটি আটলান্টার বিভিন্ন আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় চার পায়ে চলাচলকারী রোবট দিয়ে নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের সেবা দিয়ে থাকে। রোবটগুলোতে ক্যামেরা ও যোগাযোগের ব্যবস্থা রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন সন্দেহভাজনের ভিডিও ধারণ করেছিল প্রতিষ্ঠানটির একটি রোবট। পরে সেই ফুটেজ তদন্তকারীদের কাছে সরবরাহ করা হয়। ডিক্যালব কাউন্টি পুলিশের মুখপাত্র সার্জেন্ট এলিস ওয়েলস নিউজউইককে জানিয়েছেন, আনডন্টেডের সরবরাহ করা ভিডিও তদন্তে সহায়ক হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একজন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে ওই ভিডিও ব্যবহার করা হয়। তবে শুধু রোবটের ফুটেজের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তদন্তকারীরা অন্যান্য প্রমাণের পাশাপাশি ভিডিওটি পর্যালোচনা করে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করেন। ফলে রোবট কুকুর নিজে অপরাধীদের ধরে ফেলেছে, এমন দাবি সঠিক নয়। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই সন্দেহভাজনের একজন ২১ বছর বয়সী কিশন ওয়েব। অন্যজন ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর। তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ বছর বয়সী কিশোরের বিরুদ্ধে দুটি হত্যাকাণ্ড, সাতটি গুরুতর হামলা এবং জর্জিয়ার স্ট্রিট গ্যাংসংক্রান্ত আইনের দুটি ধারায় অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে ওয়েবের বিরুদ্ধে দুটি হত্যাকাণ্ড, অস্ত্র ব্যবহার করে আটটি গুরুতর হামলা, প্রাণীর প্রতি গুরুতর নিষ্ঠুরতা এবং গ্যাংসংক্রান্ত আইনে অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে বিচারিক প্রক্রিয়ায় তাঁদের অপরাধ এখনো প্রমাণিত হয়নি। হত্যাকাণ্ডের তদন্তে রোবট কুকুরের ধারণ করা ভিডিও ব্যবহার করে সন্দেহভাজন গ্রেপ্তারের এটি প্রথম পরিচিত ঘটনাগুলোর একটি হতে পারে। তবে এমন প্রযুক্তি আগে কখনো অন্য কোনো হত্যার তদন্তে ব্যবহার করা হয়নি, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, তল্লাশি এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করতে চার পায়ে চলাচলকারী রোবট ব্যবহার করেছে। আটলান্টাভিত্তিক আনডন্টেড রোবোটিক সিকিউরিটি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা ইতিমধ্যে আটলান্টা মহানগর এলাকায় ১০০টির বেশি নিরাপত্তা রোবট মোতায়েন করেছে। এসব রোবটের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপি’। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের প্রায় ৭০ শতাংশ গ্রাহক আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের মালিক বা ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান। বাকি গ্রাহকদের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনা। রোবটগুলো দেখতে কুকুরের মতো হলেও এগুলো সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরাপত্তার সিদ্ধান্ত নেয় না। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, দূর থেকে মানুষের নিয়ন্ত্রণে এগুলো পরিচালিত হয়। রোবটের ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও পর্যবেক্ষণ করেন নিরাপত্তাকর্মীরা। প্রয়োজন হলে রোবটের স্পিকারের মাধ্যমে ঘটনাস্থলে থাকা মানুষের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। সন্দেহজনক পরিস্থিতি দেখা দিলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। রোবটগুলোতে কোনো আক্রমণাত্মক অস্ত্র নেই এবং এগুলো কাউকে শারীরিকভাবে আটক করতে পারে না। প্রতিষ্ঠানটির বেশির ভাগ রোবট পরিচালনাকারী কর্মী কাজ করেন ফিলিপাইন থেকে। সেখানে একটি মিশন কন্ট্রোল সেন্টারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনার ক্যামেরা ও রোবট পর্যবেক্ষণ করা হয়। আনডন্টেডের জ্যেষ্ঠ টিম লিড ডালিন পাওয়ান নিউজউইককে জানিয়েছেন, ফিলিপাইনের কেন্দ্রে প্রায় ৭৮ জন কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁরা রোবট পরিচালনা, ভিডিও পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জরুরি সেবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ফলে রোবটের মাধ্যমে কেউ কথা বললে সেটি সব সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি কণ্ঠ নয়, দূরে অবস্থান করা একজন মানুষের কণ্ঠও হতে পারে। আনডন্টেডের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ব্রায়ান ডিনারের দাবি, প্রচলিত নিরাপত্তাকর্মীর তুলনায় তাঁদের রোবটভিত্তিক সেবায় খরচ কম হয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রাথমিক প্যাকেজের বার্ষিক মূল্য প্রায় ৪০ হাজার ডলার, যেখানে প্রতিদিন আট ঘণ্টা নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের সুবিধা দেওয়া হয়। তাঁর মতে, ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে সরাসরি একজন নিরাপত্তাকর্মী পাঠানোর পরিবর্তে রোবট ব্যবহার করলে মানুষের জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা কমতে পারে। তবে প্রচলিত নিরাপত্তাব্যবস্থার তুলনায় রোবটের কার্যকারিতা সব পরিস্থিতিতে বেশি, এমন দাবি স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। প্রতিটি রোবট একবার চার্জে প্রায় দুই ঘণ্টা চলতে পারে। এরপর সেটি নিজস্ব চার্জিং স্টেশনে ফিরে যায় এবং পুনরায় চার্জ হতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি গ্রাহক স্থাপনায় অন্তত দুটি রোবট রাখা হয়। ফলে একটি রোবট চার্জে থাকলে অন্যটি নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে একটি রোবট ঘটনাস্থলের কাছাকাছি অবস্থান করতে পারে, অন্যটি পুলিশকে প্রবেশপথ থেকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে পারে। নিরাপত্তা রোবট ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আবাসিক এলাকায় ক্যামেরাসংবলিত রোবট নিয়মিত চলাচল করলে বাসিন্দাদের ভিডিও কীভাবে সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ডিক্যালব কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এসব রোবট পুলিশ বিভাগ সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করে না। ভিডিওতে পুলিশের প্রবেশাধিকার নির্দিষ্ট নীতি, নিরীক্ষা ও জবাবদিহির ব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হয়। এদিকে আনডন্টেড আটলান্টার বাইরে টেক্সাসের হিউস্টন এবং ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ এলাকায় কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, রোবট মোতায়েনের পর কয়েকটি এলাকায় অপরাধ কমেছে। তবে আটলান্টা পুলিশ জানিয়েছে, কোনো এলাকায় অপরাধ কমার কৃতিত্ব শুধু একটি প্রযুক্তি বা নিরাপত্তাব্যবস্থাকে দেওয়া যায় না। নিউজউইকও প্রতিষ্ঠানটির অপরাধ কমানোর দাবির পক্ষে অতিরিক্ত সরকারি তথ্য চেয়েছে। জর্জিয়ার এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে রোবট কুকুরের ভিডিও ব্যবহারের ঘটনা নিরাপত্তা প্রযুক্তির নতুন সম্ভাবনা তুলে ধরেছে। বিশেষ করে সন্দেহভাজন শনাক্ত, ঘটনার ভিডিও সংগ্রহ এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে দূর থেকে পর্যবেক্ষণের কাজে এমন প্রযুক্তি সহায়ক হতে পারে। তবে রোবট কুকুর মানুষের পরিবর্তে নিজে তদন্ত পরিচালনা বা গ্রেপ্তার করেনি। পুলিশের তদন্তে সংগৃহীত একাধিক প্রমাণের মধ্যে রোবটের ধারণ করা ভিডিও ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় গরিব ও নিম্ন-আয়ের মানুষদের জন্য বরাদ্দ করা ৪৬ লাখ ডলারের খাদ্য সহায়তা বা 'স্ন্যাপ' (SNAP) সুবিধা আত্মসাতের অভিযোগে সোশ্যাল মিডিয়া তারকা মার্সেডিজ রেশার্ড নিউকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অনলাইনে 'শটি ড্রেড' নামে পরিচিত ৩৯ বছর বয়সী এই র্যাপার ও ইনফ্লুয়েন্সার দীর্ঘদিন ধরে অন্যের পরিচয় চুরি করে এই বিশাল জালিয়াতি চক্র চালিয়ে আসছিলেন। গত ৭ অক্টোবর ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি তাকে অভিযুক্ত করার পর, ১৩ অক্টোবর লাস ভেগাস থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্যমতে, শটি ড্রেড ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত চুরি করা পরিচয়ের মাধ্যমে ৩৫০টির বেশি ভুয়া স্ন্যাপ অ্যাকাউন্ট খোলেন। এরপর নিজের কোম্পানি 'শটি ড্রেড এলএলসি'-কে একটি অনুমোদিত স্ন্যাপ রিটেইলার হিসেবে নিবন্ধন করে অন্তত ৪০ লাখ ডলার সরাসরি হাতিয়ে নেন। গরিবের মুখের খাবার চুরি করলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ, দামি গাড়ি ও বান্ডিল বান্ডিল নগদ অর্থ দেখিয়ে নিজের বিলাসবহুল জীবনের অহংকার করতেন তিনি। এমনকি দরিদ্রদের ব্যঙ্গ করে অনলাইনে অবমাননাকর মন্তব্যও করতেন। জালিয়াতির এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মেইল ফ্রড, পরিচয় চুরি ও অবৈধ লেনদেনসহ ৬৩টি ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরে ধারাবাহিক আ ক্র ম ণের পর যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা থেকে সৌদি আরবে সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা পিছিয়ে দিয়েছে ডেল্টা এয়ারলাইনস। চলতি বছরের ২৩ অক্টোবর থেকে ফ্লাইট চালুর কথা থাকলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই রুটে যাত্রী পরিবহন শুরু হবে ২০২৭ সালের মার্চে। তবে মার্চের ঠিক কোন তারিখে ফ্লাইট চালু হবে, তা এখনো জানায়নি এয়ারলাইনসটি। সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ডেল্টা। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি রাজধানীর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় স্বীকার করেছে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় অন্তত ১৩ জন নি হ ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েক শ মানুষ। পরিস্থিতির কারণে বিমান চলাচল ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ডেল্টা জানিয়েছে, অঞ্চলটির পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ফ্লাইট চালুর সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তা তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা সৌদিয়া, রিয়াদ এয়ার এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে তারা। আটলান্টা থেকে রিয়াদে সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনাটি ডেল্টার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালে সৌদি আরবের নতুন বিমান সংস্থা রিয়াদ এয়ারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ঘোষণা দিয়েছিল ডেল্টা। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এয়ারবাস এ৩৫০-৯০০ উড়োজাহাজ দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। রুটটি চালু হলে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো এয়ারলাইনসের মাধ্যমে সৌদি আরবে সরাসরি যাত্রী পরিবহনের নতুন সুযোগ তৈরি হতো। তবে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ এখন এই পরিকল্পনায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোমবার হুতি বিদ্রোহীরা কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথা জানায়। একই সঙ্গে মক্কা ও মদিনার বিমানবন্দর ছাড়া সৌদি আরবের অন্য বিমানবন্দরগুলোকে অনিরাপদ বলে সতর্ক করে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলোকে। এমন হুমকির পর বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ফ্লাইটের তারিখ পরিবর্তনের কারণে যেসব যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা প্রভাবিত হয়েছে, তাদের বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে ডেল্টা। যাত্রীরা এয়ারলাইনসটির ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট পরিবর্তনের সুযোগ দেখতে পারবেন। প্রযোজ্য শর্ত অনুযায়ী, টিকিট বাতিল করে অর্থ ফেরত নেওয়া অথবা ভবিষ্যৎ ভ্রমণের জন্য ক্রেডিট পাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। যাত্রার তারিখ ও টিকিটের শর্ত অনুযায়ী সুবিধা ভিন্ন হতে পারে। ডেল্টার প্রকাশিত ভ্রমণ-সংক্রান্ত নির্দেশনায় ২০২৬ সালের ২৩ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত রিয়াদগামী, রিয়াদ থেকে ছেড়ে যাওয়া কিংবা রিয়াদ হয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে পরিবর্তনের সুযোগের কথা বলা হয়েছে। নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী যাত্রীরা অতিরিক্ত ফি ছাড়াই ফ্লাইট পরিবর্তন করতে পারবেন। তবে যাত্রীরা টিকিট পরিবর্তন বা বাতিল করার আগে ডেল্টার সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো এয়ারলাইনস সৌদি আরবে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করে না। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা সৌদিয়া নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসির বাইরের ডালেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং লস এঞ্জেলেস থেকে সৌদি আরবে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করে। ফলে ডেল্টার পরিকল্পিত আটলান্টা-রিয়াদ রুটটি চালু হলে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগে নতুন একটি সংযোগ যুক্ত হতো। ফ্লাইট চালুর সময় পিছিয়ে গেলেও সৌদি আরবের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগের পরিকল্পনা থেকে সরে আসার ঘোষণা দেয়নি ডেল্টা। তবে বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি কীভাবে পরিবর্তিত হয়, তার ওপর নতুন রুট চালুর পরিকল্পনা নির্ভর করবে। আপাতত যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নির্ধারিত তারিখে ফ্লাইট চালু হচ্ছে না এবং নতুন সময়সূচি অনুযায়ী যাত্রার পরিকল্পনা করতে হবে।
জর্জিয়া ও পার্শ্ববর্তী অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য আবারও কনস্যুলার সেবা নিয়ে আসছে মায়ামিতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার উদ্যোগে আগামী ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর আটলান্টায় এই কনস্যুলার সেবা দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে সেবার তারিখ ও স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে বলে আমেরিকা বাংলাকে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার সভাপতি আরিফিন বাবুল। জর্জিয়া বা পার্শ্ববর্তী অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত যেসব বাংলাদেশি কনস্যুলার সেবা নিতে আগ্রহী, তাদের নির্ধারিত তারিখ দুটি ক্যালেন্ডারে রেখে আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আরিফিন বাবুল আমেরিকা বাংলাকে জানান, কনস্যুলার সেবা নিতে আগ্রহীদের নির্ধারিত দিনে যথাসময়ে সেবাকেন্দ্রে পৌঁছাতে হবে। সেবাপ্রত্যাশীদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে আসার পাশাপাশি আয়োজকদের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার পক্ষ থেকে সেবা নিতে আসা প্রবাসীদের সহযোগিতায় সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি। এবারের আয়োজনে শৃঙ্খলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আরিফিন বাবুল জানান, কনস্যুলার সেবা গ্রহণের সময় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। সবাইকে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে সেবা গ্রহণ করতে হবে এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে হবে। সেবাপ্রত্যাশীদেরও সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। কনস্যুলার সেবা অনুষ্ঠিত হবে 3150 Holcomb Bridge Road, 1st Floor, Norcross, GA 30071 ঠিকানায়। আগামী ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর দুই দিন সেখানে মায়ামি বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের পক্ষ থেকে সেবা দেওয়া হবে। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি-সংক্রান্ত সেবা এই আয়োজনে পাওয়া যাবে না। এনআইডি সেবার জন্য সংশ্লিষ্টদের মায়ামিতে অবস্থিত কনস্যুলেটে যেতে হবে। জর্জিয়ার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী আলাবামা, নর্থ ক্যারোলাইনা, সাউথ ক্যারোলাইনা ও ফ্লোরিডা থেকেও বাংলাদেশিরা এই কনস্যুলার সেবা নিতে পারবেন বলে জানান বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার সভাপতি আরিফিন বাবুল। তিনি বলেন, এসব অঙ্গরাজ্য থেকে যারা আটলান্টায় এসে কনস্যুলার সেবা নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তারা যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট সেবার জন্য মায়ামি বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের ওয়েবসাইটে দেওয়া নির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তথ্য ভালোভাবে দেখে প্রস্তুতি নিয়ে আসবেন। নির্ধারিত তারিখ ও সময় অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে সেবাকেন্দ্রে আসার জন্য তিনি সবাইকে অনুরোধ জানান। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কনস্যুলার সেবার বিস্তারিত প্রক্রিয়া ও অন্যান্য নির্দেশনা পরবর্তীতে জানানো হবে। তাই সেবা নিতে আগ্রহীদের এখন থেকেই ১২ ও ১৩ ডিসেম্বরের তারিখ নিজেদের ক্যালেন্ডারে রেখে প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়ে সুশৃঙ্খলভাবে সেবা গ্রহণ করলে পুরো কার্যক্রম আরও সহজ ও কার্যকর হবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা। কনস্যুলার সেবা আয়োজনসংক্রান্ত প্রয়োজনে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার সভাপতি আরিফিন বাবুলের সঙ্গে 404-552-3241 নম্বরে এবং সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আহসান শান্তর সঙ্গে 404-542-0717 নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জর্জিয়াসহ পার্শ্ববর্তী অঙ্গরাজ্যগুলোর বাংলাদেশিদের নির্ধারিত দুই দিন মনে রাখার এবং কনস্যুলার সেবা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শরতের মনোরম পরিবেশে আটলান্টা থেকে নিউইয়র্ক সিটি ঘুরে আসতে আগ্রহীদের জন্য আকর্ষণীয় একটি ভ্রমণ প্যাকেজ সামনে এসেছে। আমট্রাকের ক্রিসেন্ট ট্রেনে আটলান্টা থেকে নিউইয়র্ক সিটি যাতায়াত, হোটেলে থাকা এবং শহরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘোরার সুযোগ নিয়ে এই রাউন্ডট্রিপ প্যাকেজের মেয়াদ ছয় দিন। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্যাকেজটির মূল্য শুরু হচ্ছে ৭৪৯ ডলার থেকে। ৩ অক্টোবর প্রকাশিত সিক্রেট আটলান্টার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যাকেজটিতে মোট তিন রাত হোটেলে থাকার পাশাপাশি দুই রাত আমট্রাক ট্রেনে কাটানোর ব্যবস্থা রয়েছে। আটলান্টা থেকে নিউইয়র্ক সিটি পর্যন্ত যাতায়াত হবে আমট্রাকের ক্রিসেন্ট রুটে। ফলে গাড়ি চালানো বা দীর্ঘ সময়ের হাইওয়ে ট্রাফিকের ঝামেলা এড়িয়ে ট্রেনেই পূর্ব উপকূলের শরৎকালীন দৃশ্য উপভোগ করে নিউইয়র্কে পৌঁছানোর সুযোগ থাকছে। প্যাকেজের আরেকটি আকর্ষণ হলো নিউইয়র্ক সিটির বহুদিনের হপ-অন, হপ-অফ দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ। এর আওতায় ইউনিয়ন স্কয়ার, রকফেলার সেন্টার, লিটল ইতালি, চায়নাটাউন, সোহো, এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং, ৯/১১ মেমোরিয়াল অ্যান্ড মিউজিয়াম এবং স্ট্যাচু অব লিবার্টির মতো জনপ্রিয় স্থান দেখার সুযোগ রয়েছে। ফলে যারা প্রথমবার নিউইয়র্ক ভ্রমণে যাচ্ছেন, তাদের জন্য শহরের গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণগুলো একসঙ্গে দেখার সুবিধা তৈরি হচ্ছে। শরৎকালে এই ট্রেনযাত্রার বাড়তি আকর্ষণ হতে পারে আটলান্টা থেকে নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে পূর্ব উপকূলের বিভিন্ন এলাকার পরিবর্তনশীল প্রাকৃতিক দৃশ্য। শরতের পাতার রঙ বদলের সময় ট্রেনে ভ্রমণ করলে রাস্তার পরিবর্তে জানালার পাশ থেকে দীর্ঘ পথের দৃশ্য উপভোগ করা যায়। আমট্রাকের ক্রিসেন্ট রুট আটলান্টা ও নিউইয়র্কের মধ্যে নিয়মিত যাত্রীসেবা পরিচালনা করে এবং আমট্রাক ভ্যাকেশনস বিভিন্ন শহরকে কেন্দ্র করে ট্রেনভিত্তিক ভ্রমণ প্যাকেজও তৈরি করে। তবে ৭৪৯ ডলারের মূল্যটি সর্বনিম্ন বা শুরু মূল্য। নির্দিষ্ট ভ্রমণের তারিখ, আসন, হোটেলের প্রাপ্যতা এবং অন্যান্য বুকিং শর্ত অনুযায়ী চূড়ান্ত মূল্য পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ৭৪৯ ডলারের মূল্যকে সব তারিখের জন্য নির্ধারিত মূল্য হিসেবে না দেখে প্যাকেজটির প্রাথমিক মূল্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। আটলান্টা থেকে নিউইয়র্কে শরৎকালীন ভ্রমণের পরিকল্পনা করা পরিবার, দম্পতি কিংবা বন্ধুদের জন্য তাই এই প্যাকেজটি তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক একটি বিকল্প হতে পারে। ছয় দিনের রাউন্ডট্রিপে ট্রেনযাত্রা, হোটেলে থাকা এবং নিউইয়র্কের জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান ঘোরার সুযোগ থাকায় একই ভ্রমণে যাতায়াত ও থাকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা একসঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে।
১৯০৬ সালে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় শুরু হওয়া ভয়াবহ বর্ণবাদী হত্যাযজ্ঞ বা ‘আটলান্টা রেস ম্যাসাকার’-এর ১২০ বছর পূর্ণ হলো। এই মর্মান্তিক ইতিহাস স্মরণ করার পাশাপাশি এর সাথে বর্তমান সময়ের মিথ্যা তথ্যের ভয়াবহতার যোগসূত্র নিয়ে পর্যালোচনা করছেন মরিস ব্রাউন কলেজের একদল শিক্ষার্থী। ১৯০৬ সালের ২২ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা ওই তাণ্ডবে শ্বেতাঙ্গদের হামলায় বহু কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক নিহত ও নির্যাতিত হন এবং অনেকেই ব্যবসা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। সে সময় স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষদের বিরুদ্ধে বানোয়াট অভিযোগ ছাপানোর পর এই সহিংসতা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল। ব্রাউনসভিল, ফাইভ পয়েন্টস, সামারহিল ও অবার্ন অ্যাভিনিউয়ের মতো এলাকাগুলো এই হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা বলছেন, তখনকার পত্রিকা আর আজকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজবের মধ্যে এক অদ্ভুত মিল রয়েছে। মরিস ব্রাউন কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ডেনিম চেম্বারস জানান, তিনি আগে এই গণহত্যার কথা জানতেন না। তবে এখন তিনি বুঝতে পারছেন, সে যুগে যেভাবে ভুয়া খবরের জেরে সহিংসতা ছড়িয়েছিল, বর্তমান যুগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঠিক একইভাবে মিথ্যা তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। কোর্সটির অ্যাডজাংক্ট প্রফেসর সানি ব্রাউন জানান, অতীতের ইতিহাস শুধু পড়ার জন্য নয়, বরং বর্তমানের সঙ্গে এর যোগসূত্র খুঁজে বের করাই এই পাঠের মূল লক্ষ্য। শিক্ষার্থীরা যেন তথ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন এবং গুজবের বাস্তব পরিণতি সম্পর্কে সচেতন হন, সেটি নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিহাসবিদদের মতে, সেই হত্যাযজ্ঞে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছিলেন। তবে আটলান্টার অ্যাপেক্স মিউজিয়ামের ইতিহাসবিদ কাইলার উইনস্টন-ক্যান্ড্রিকস জানান, এই ঘটনাকে নিছক দাঙ্গা নয়, বরং গণহত্যা বলা উচিত। কারণ এতে ৪০ থেকে ১০০ জন পর্যন্ত মানুষ হতাহত হয়েছিলেন। রাস্তা, ট্রলি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে কৃষ্ণাঙ্গদের টেনেহিঁচড়ে বের করে হত্যা করা হয়েছিল। বিখ্যাত কৃষ্ণাঙ্গ বুদ্ধিজীবী ডব্লিউ.ই.বি. ডু বোইস সে সময় আটলান্টা ইউনিভার্সিটিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং মর্মান্তিক এই ঘটনা নিয়ে তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘এ লিটানি অব আটলান্টা’ রচনা করেন। অন্যদিকে, সাংবাদিক জে. ম্যাক্স বারবার প্রাণভয়ে শিকাগো পালিয়ে গিয়ে এই গণহত্যার প্রকৃত সত্য বিশ্বের সামনে তুলে ধরেন, যার ফলে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও ইতালির মতো দেশের গণমাধ্যমেও এই খবর গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ পেয়েছিল। ভয়াবহ সেই ঘটনার স্মৃতি ধরে রাখতে বর্তমানে অবার্ন অ্যাভিনিউ রিসার্চ লাইব্রেরি এবং অ্যাপেক্স মিউজিয়াম বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। সেখানে নিহতদের স্মৃতিচিহ্ন, পুরনো সংবাদপত্র, মাটির নমুনা এবং বেঁচে যাওয়া মানুষদের দুর্লভ অডিও রেকর্ডিং সংরক্ষিত রয়েছে। প্রদর্শনীতে এমন অডিও রেকর্ডিংও রয়েছে, যেখানে জানা যায় কীভাবে কৃষ্ণাঙ্গরা নিজেদের রক্ষার জন্য সে সময় শহরে অস্ত্র নিয়ে এসেছিলেন। অবার্ন অ্যাভিনিউ লাইব্রেরির গ্রন্থাগারিক জন অস্টিন জানান, মানুষ যত বেশি অতীত ইতিহাস ও এ ধরনের গণহত্যার পেছনের মনস্তত্ত্ব সম্পর্কে জানবে, ভবিষ্যতে এ ধরনের কলঙ্কজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ার আশঙ্কা ততটাই কমে আসবে।
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে ভুল করে ওভারটাইম বাবদ ৬ লাখ ২০ হাজার ডলার দেওয়ার পর অর্থ ফেরত পেতে মামলা করেছে গণপরিবহন সংস্থা মার্টা। সংস্থাটির দাবি, চলতি বছরের এপ্রিলে পেরোলের ভুলে ওই অর্থ দেওয়া হয়। ফেরত চেয়েও অর্থ উদ্ধার না হওয়ায় সাবেক কর্মীর বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করা হয়েছে। মেট্রোপলিটন আটলান্টা র্যাপিড ট্রানজিট অথরিটি বা মার্টার ওই কর্মী ট্রেন স্টেশন পরিষ্কারের কাজ করতেন। আটলান্টা নিউজ ফার্স্টকে সংস্থাটি জানিয়েছে, এপ্রিলের পেচেকে এমন ওভারটাইমের অর্থ দেওয়া হয়েছিল, যা তাঁর প্রাপ্য ছিল না। ভুলটি শনাক্ত হয় জুলাইয়ে। মার্টার মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, আদালতে না গিয়ে কর্মীর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে অর্থ ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করেছিল সংস্থাটি। কিন্তু সেপ্টেম্বরের শেষ দিক পর্যন্ত অর্থ ফেরত না আসায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মামলায় আদালতের কাছে ওই অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ চেয়েছে মার্টা। যিনি অতিরিক্ত অর্থ পেয়েছেন এবং পেরোলের ভুলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কর্মী, দুজনই এখন আর মার্টায় কাজ করেন না বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ডব্লিউএসবি টিভিকে কর্মসংস্থান আইনজীবী অ্যান্ড্রু কফম্যান বলেন, ভুল করে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া হলে তা ফেরত দিতে হয়। তবে তাঁর বক্তব্য আদালতের সিদ্ধান্ত নয়। অর্থ উদ্ধারে মার্টার দায়ের করা মামলাটি দেওয়ানি মামলা। এ ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কর্মীদের নতুন করে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং পেরোল প্রক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার কথা জানিয়েছে মার্টা।
জর্জিয়াসহ আশপাশের অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য সুখবর। আগামী ডিসেম্বরে আটলান্টায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনস্যুলার সেবা দেওয়া হবে। এতে শুধু জর্জিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিরাই নন, আশপাশের অঙ্গরাজ্য থেকে আটলান্টায় আসা প্রবাসীরাও সেবা নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার উদ্যোগে মিয়ামিতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের এই কনস্যুলার সেবা আয়োজন করা হচ্ছে। সংগঠনটির ২৬ সেপ্টেম্বরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর আটলান্টায় এই সেবা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি সেবা ছাড়া অন্যান্য কনস্যুলার সেবা আটলান্টায় পাওয়া যাবে। এনআইডি-সংক্রান্ত সেবার জন্য প্রবাসীদের মিয়ামি কনস্যুলেটে যেতে হবে। আশপাশের অঙ্গরাজ্যগুলোতে বসবাসরত অনেক বাংলাদেশির জন্য মিয়ামি পর্যন্ত গিয়ে কনস্যুলার সেবা নেওয়া সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল হতে পারে। সে কারণে আটলান্টায় কনস্যুলার সেবা আয়োজন হলে জর্জিয়ার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী অঙ্গরাজ্যের প্রবাসীরাও এর সুবিধা নিতে পারবেন। তবে কনস্যুলার সেবার স্থান এবং অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়া প্রেসিডেন্ট আরেফিন বাবুল জানিয়েছেন, স্থান ও বিস্তারিত তথ্য চূড়ান্ত হলে তা যথা সময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, আগামী ১৯শে ডিসেম্বর বিজয় দিবস উদযাপন করা হবে এবং অনুষ্ঠান উপলক্ষে স্থান, সময় ও অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে। জর্জিয়া ও আশপাশের অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের কনস্যুলার সেবা গ্রহণের সুবিধার্থে ১২ ও ১৩ ডিসেম্বরের তারিখটি মনে রাখার আহ্বান জানিয়েছে তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের কলেজ পার্কের একটি হোটেলে শি শু পা চা রের মামলায় ১৬৪ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ফেডারেল জুরির সদস্যরা। মামলায় হোটেলটির মালিক প্রতিষ্ঠান লিংকন ব্যানকর্প এলএলসিকে এই অর্থ পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ওই সময় মাত্র ১৫ বছর বয়সী ছিলেন। ২০২০ সালে তাকে পা চা রকারীরা কলেজ পার্কের ওল্ড ন্যাশনাল হাইওয়ের সুপার ৮ হোটেলে নিয়ে যায়। ২০২০ ও ২০২১ সালে তাকে একাধিকবার ওই হোটেলে রাখা হয়। মামলায় ভুক্তভোগীকে পরিচয় গোপন রাখতে জে.আর. নামে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি আদালতে জানান, এক পর্যায়ে পা চা রকারীদের কাছ থেকে পালানোর জন্য হোটেলের এক কর্মীর কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। তার অভিযোগ, ওই কর্মী তাকে সহায়তা করেননি এবং হোটেলের ফোন ব্যবহার করতেও দেননি। মামলার শুনানিতে সাবেক এক হাউসকিপারও সাক্ষ্য দেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, হোটেলে শি শু পা চা রের কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন লক্ষণ কর্মীদের নজরে আসত। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু কর্মী পা চা রকারীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে পুলিশের উপস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক করতেন। ফেডারেল জুরি লিংকন ব্যানকর্প এলএলসিকে মোট ১৬৪ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার জন্য দায়ী করেন। এর মধ্যে ৪৪ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ এবং ১২০ মিলিয়ন ডলার শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ। জুরিরা প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনা করে রায়ে পৌঁছান। মামলাটি ফেডারেল ট্রাফিকিং ভিকটিমস প্রোটেকশন রিঅথোরাইজেশন অ্যাক্টের আওতায় করা হয়েছিল। এই আইনে পা চা রের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানত বা জানা উচিত ছিল এবং সেখান থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে—এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মা ম লা করার সুযোগ রয়েছে। এই হোটেলকে ঘিরে আরও কয়েকটি একই ধরনের মা ম লা বিচারাধীন রয়েছে বলে ভুক্তভোগীর আইনজীবী জানিয়েছেন। এর আগে জর্জিয়ার ডিকাটারের একটি হোটেলে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে পা চা রের ঘটনায় ৪০ মিলিয়ন ডলারের আরেকটি জুরি রায় হয়েছিল। ওল্ড ন্যাশনাল হাইওয়ের ওই সুপার ৮ হোটেলটি বর্তমানে নতুন মালিকানায় রয়েছে। লিংকন ব্যানকর্পের পক্ষ থেকে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আটলান্টার হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঘিরে থাকা এলাকাতেও মানব পা চা র নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। এ কারণে হোটেল ও বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের পা চা রের সম্ভাব্য লক্ষণ শনাক্ত করার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
কিছু শহর তাদের সেরা গল্পগুলো লুকিয়ে রাখে সাধারণ বিপণিবিতানের আড়ালে। আমি হয়তো এটি পুরোপুরি এড়িয়েই যেতাম। গাড়িতে গ্যাস নেওয়ার জন্য থেমেছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টা সেখানেই কাটিয়ে দিলাম। জর্জিয়ার আর দশটা সাধারণ পার্কিং লটের মতোই দেখতে একটি জায়গা থেকে ভেসে আসছিল গ্রিল করা মাংসের সুবাস। সাইনবোর্ডগুলোতে ইংরেজি ও আরবি ভাষার মিশ্রণ চোখে পড়ার মতো। বেকারিগুলোতে ওভেন থেকে বের করা গরম রুটি বিক্রি হচ্ছিল। পাশের টেবিলে নানা ভাষায় চলছিল আড্ডা। দৃশ্যটি ছিল অত্যন্ত সাবলীল, যেন এটি অন্য যেকোনো সাধারণ দিনের মতোই। জর্জিয়ার একটি শান্ত রাস্তার পাশে এমন কিছু খুঁজে পাব, তা আমার প্রত্যাশার বাইরে ছিল। দুপুরের খাবার অর্ডার করে শেষ পর্যন্ত তিন ঘণ্টা পর এক ব্যাগ পেস্ট্রি এবং মনে একগাদা নতুন প্রশ্ন নিয়ে সেখান থেকে ফিরলাম। বাইরে থেকে জায়গাটি যেমনই লাগুক না কেন, এর ভেতরের ব্যাপ্তি ও খাবারের স্বাদ যে কাউকে মুগ্ধ করবে। এই শহরের পরিসংখ্যানগুলো বেশ চমকপ্রদ। এখানকার প্রায় ২ দশমিক ৩০ শতাংশ বাসিন্দা নিজেদের আরব হিসেবে পরিচয় দেন, যেখানে পুরো অঙ্গরাজ্যে এই হার মাত্র শূন্য দশমিক ৩৩ শতাংশ। এই পার্থক্য মোটেও ছোট নয়। এর অর্থ হলো, জর্জিয়ার গড়ের চেয়ে এখানে আরবদের ঘনত্ব প্রায় সাত গুণ বেশি। ৩০০০৯ জিপ কোডের দিকে তাকালে এই সংখ্যা আরও বাড়ে। সেখানকার প্রায় ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ মানুষ আরব ঐতিহ্যের অনুসারী বলে জানিয়েছেন, যা এই অঙ্গরাজ্যের অন্যতম সর্বোচ্চ হার। শুধু সংখ্যা দিয়ে কোনো জায়গার আসল অনুভূতি বোঝানো যায় না, তবে মুদির দোকানে কেন তিন ধরনের তাহিনি পাওয়া যায়, তা এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট হয়। সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, শহরটিতে প্রায় ৬৬ হাজার ৮৫৫ জন মানুষের বসবাস। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, এখানকার প্রায় ২৭ দশমিক ৭ শতাংশ বাসিন্দার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে। বৈচিত্র্যের দিক দিয়েও শহরটি পিছিয়ে নেই। এখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে ৫২ দশমিক ২ শতাংশ শ্বেতাঙ্গ, ২০ দশমিক ৪ শতাংশ এশিয়ান, ১১ দশমিক ২ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ এবং ৯ দশমিক ৪ শতাংশ হিস্পানিক। সব মিলিয়ে এই শহরতলি পুরোনো কোনো ধ্যানধারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি উত্তর ফুলটন কাউন্টিতে অবস্থিত, যা মেট্রো আটলান্টার অংশ এবং শহরটির নাম আলফারেটা। জর্জিয়ায় প্রায় ৮০ হাজার আরব আমেরিকানের বসবাস। পীচ ও চিনাবাদামের জন্য পরিচিত একটি অঙ্গরাজ্যের জন্য এটি বেশ বড় একটি সংখ্যা। এর মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার আরব আটলান্টা এবং এর আশপাশের শহরতলিতে বসবাস করেন। বিশেষ করে উত্তরের শহরতলিগুলোতে এদের বড় একটি অংশ থাকেন। মেট্রো এলাকার অংশ হওয়ার কারণে এটি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ আরব আমেরিকান জনসংখ্যার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রযুক্তি ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো এই অঞ্চলকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। কয়েক দশক ধরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের পেশাদাররা এখানে আসছেন। এর ফলে এখানে কেবল জনসংখ্যাই বাড়েনি, বরং বেকারির দোকান, বাজার, কমিউনিটি সেন্টার এবং সপ্তাহান্তের আড্ডার জায়গাও গড়ে উঠেছে। ঐতিহ্যের কথা উঠলে প্রথমেই আসে লেবানন ও মিসরের নাম। ঐতিহাসিকভাবে জর্জিয়ার আরব আমেরিকান কমিউনিটির বড় অংশই এসেছেন এই দুই দেশ থেকে। এখানকার স্থানীয় রেস্তোরাঁগুলোর মেনুতে লেবানিজ মেজে এবং মিসরীয় ঘরোয়া খাবারের প্রভাব স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। তবে জর্জিয়ার এই কমিউনিটিতে মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের মানুষেরাও রয়েছেন। প্রত্যেকেই তাদের নিজস্ব রান্নার ধরন এবং উৎসবগুলো এখানে নিয়ে এসেছেন। ভাষার ক্ষেত্রেও একই বৈচিত্র্য দেখা যায়। কায়রো, বৈরুত এবং রামাল্লার উপভাষাগুলো একই দোকানে শোনা যায়। নতুন প্রজন্ম এই সবগুলোকে একসঙ্গে মিলিয়ে ফেলছে। শিশুরা স্কুলে ইংরেজিতে এবং বাড়িতে আরবিতে কথা বলে। হামজাহ ইসলামিক সেন্টারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো নীরবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে যাচ্ছে। এটি কেবল একটি উপাসনালয় নয়, বরং প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করে। এখানে আরবি ভাষা শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়, যাতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাদের মাতৃভাষা ধরে রাখতে পারে। গ্রিন অ্যাপল একাডেমি এখানকার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, যা ইসলামিক সেন্টার অব নর্থ ফুলটনের সঙ্গে যুক্ত। একাডেমিটি ছোট শিক্ষার্থীদের জন্য শিশু যত্ন এবং শিক্ষামূলক পরিষেবা প্রদান করে। এর কার্যক্রমে সাধারণ এবং ধর্মীয় শিক্ষার একটি চমৎকার সমন্বয় রয়েছে। শিশুরা স্কুলের মৌলিক বিষয়ের পাশাপাশি ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক শিক্ষাও গ্রহণ করে। প্রার্থনার জায়গাগুলো কেবল উপাসনালয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। সাউথইস্ট ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টার পার্শ্ববর্তী মিল্টন এলাকায় অবস্থিত হলেও এটি বৃহত্তর অঞ্চলের মানুষের সেবা করে। দৈনন্দিন প্রার্থনার পাশাপাশি বিয়ে, ছুটির দিন এবং সামাজিক আহারের মতো বড় আয়োজনগুলোও এখানে হয়ে থাকে। বিশেষ করে রমজান মাসে এখানে মানুষের ভিড় অনেক বেড়ে যায়। নতুন বাসিন্দারা সাধারণত এখানেই তাদের প্রাথমিক সংযোগ গড়ে তোলেন। খাবারের কথায় এলে প্রথমেই আসে ডেলবার মিডল ইস্টার্নের নাম। ৪১২০ ওল্ড মিল্টন পার্কওয়েতে অবস্থিত এই রেস্তোরাঁটি ইরানি রান্নার স্বাদ দিয়ে থাকে। পারস্যের রান্না অত্যন্ত নিখুঁত হয়, যা অনেকেরই ধারণার বাইরে। বিশেষ করে তাদের ভাত রান্নার কৌশল একটি ভালো রান্নাঘরকে সাধারণের চেয়ে আলাদা করে। জেরুজালেম বেকারি অ্যান্ড গ্রিল নামের একটি প্রতিষ্ঠান ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছে। তাজা মধ্যপ্রাচ্যের রুটি এখানকার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। এছাড়া বাকলাভার মতো নানা ধরনের মিষ্টি খাবারও পাওয়া যায় এখানে। বিজোরিয়া হাউস অব হামাস নামের আরেকটি রেস্তোরাঁ আলফারেটার মধ্যপ্রাচ্যের খাবারের চাহিদা মেটায়। এটি সাধারণ দিনগুলোতে খাবার খাওয়ার জন্য বেশ জনপ্রিয়। হামাস, ফালাফেল এবং বিভিন্ন র্যাপ বা বাটি খাবার দুপুরের জন্য দারুণ মানানসই। দামও বেশ হাতের নাগালে থাকে। খাবার সবসময় সংস্কৃতির মধ্যে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে কাজ করে। একসঙ্গে খাবার ভাগ করে খাওয়া অনেক বড় ব্যাখ্যার চেয়েও বেশি কাজ করে। আলফারেটার এই আরব কমিউনিটি কেবল তাদের খাবারই নয়, তাদের সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার মাধ্যমে জর্জিয়ার বুকে এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি রানওয়ের পাশে প্রায় ৩৩ হাজার গ্যালন পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার রানওয়ের কাছে থাকা একটি পয়ঃনিষ্কাশন উত্তোলন কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রানওয়ে ১০-২৮-এর পশ্চিম প্রান্তের কাছে থাকা পয়ঃনিষ্কাশন উত্তোলন কেন্দ্র থেকে পয়ঃবর্জ্য বের হয়ে পাশের একটি বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। ওই এলাকা সুলিভান খালের পাশেই অবস্থিত। ঘটনার কারণ এখনো তদন্তাধীন রয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রায় ৯০ মিনিট পর সংশ্লিষ্ট উত্তোলন কেন্দ্রটি আবার স্বাভাবিকভাবে চালু করা হয়। ছড়িয়ে পড়া পয়ঃবর্জ্যের প্রভাব কমাতে ক্ষতিগ্রস্ত মাটিতে একটি নিরপেক্ষকরণ উপাদান প্রয়োগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিচের দিকে থাকা পানির মান পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা। জর্জিয়া পরিবেশ সুরক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী পানির মান পর্যবেক্ষণের এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় কোনো ফ্লাইট বা যাত্রীসেবা ব্যাহত হয়নি। বিমানবন্দরের কার্যক্রমও স্বাভাবিক রয়েছে। পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়ার পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি প্রকাশ্যে জানিয়েছে। কারণ, কোনো সরকারি মালিকানাধীন পয়ঃবর্জ্য পরিশোধন সংস্থার মাধ্যমে ১০ হাজার গ্যালনের বেশি পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়লে আইন অনুযায়ী গণমাধ্যমকে তা জানানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রভাব সীমিত রাখতে তারা স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করছে। ঘটনার কারণ ও এর প্রভাব নিয়ে তদন্ত এখনো চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা শহরে আর্থিক সংকটে থাকা ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ ঠেকাতে নতুন একটি সুদমুক্ত ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি চালু করেছে নগর কর্তৃপক্ষ। ‘নো-ফি মাইক্রোলোন অ্যান্টি-ডিসপ্লেসমেন্ট প্রোগ্রাম’ নামে এই উদ্যোগের মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলোকে সর্বোচ্চ ৫০০ ডলার পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হবে। ঋণ নিতে কোনো ফি, সুদ বা জামানত দিতে হবে না। আটলান্টার মেয়র আন্দ্রে ডিকেন্সের কার্যালয় জানিয়েছে, দুই বছরের পরীক্ষামূলক কর্মসূচিটির লক্ষ্য হলো সাময়িক আর্থিক সংকটে পড়া পরিবারগুলোকে বাসাভাড়া পরিশোধে সহায়তা করা। এতে ভাড়া দিতে না পারার কারণে কোনো পরিবার যেন হঠাৎ করে উচ্ছেদের মুখে না পড়ে, সেটিই মূল উদ্দেশ্য। এই কর্মসূচির সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো—ঋণ পেতে ক্রেডিট চেক, সুদ, ফি, ক্রেডিট রিপোর্টিং কিংবা কালেকশন প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হবে না। এমনকি ঋণের জন্য কোনো জামানতও দিতে হবে না। ফলে প্রচলিত ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যায় থাকা ভাড়াটিয়ারাও এই সহায়তার সুযোগ পেতে পারেন। তবে ৫০০ ডলারের ঋণটি পুরোপুরি ফেরত দিতে হবে। ঋণগ্রহীতাদের প্রতি সপ্তাহে ২০ ডলার করে মোট ২৫ সপ্তাহে অর্থটি পরিশোধ করতে হবে। কোনো সুদ বা অতিরিক্ত জরিমানাও দিতে হবে না। মেয়র আন্দ্রে ডিকেন্স বলেন, অনেক সময় সাময়িক সংকট ও স্থিতিশীলতার মধ্যে পার্থক্য হতে পারে মাত্র কয়েকশ ডলার। তার মতে, এই কর্মসূচি পরিবারগুলোকে নিজেদের ঘরে থাকতে সহায়তা করবে এবং সাময়িক আর্থিক সমস্যাকে উচ্ছেদের মতো বড় সংকটে পরিণত হওয়া ঠেকাতে সাহায্য করবে। এই উদ্যোগটি আটলান্টার সম্প্রতি অনুমোদিত ‘নেইবারহুড রিইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’-এর অংশ। প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের এই বৃহৎ প্রকল্পের লক্ষ্য শহরের আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয় আরও সহনীয় করা এবং বিভিন্ন এলাকায় বিনিয়োগ বাড়ানো। প্রাথমিকভাবে কর্মসূচির জন্য আটলান্টা শহর ৫০ হাজার ডলার দিচ্ছে। এয়ারবিএনবিও ঋণের খরচ বাবদ আরও ৫০ হাজার ডলার দিয়েছে। পাশাপাশি কমিউনিটি ফাউন্ডেশন অব গ্রেটার আটলান্টা এবং উইলিয়াম জোসেফ ফাউন্ডেশন—দুটি প্রতিষ্ঠান ঋণের মূলধন হিসেবে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার করে দিয়েছে। ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত অলাভজনক সংস্থা ফ্ল্যাগস্টোন ইনিশিয়েটিভ দুই বছরের পরীক্ষামূলক সময়ে আটলান্টা শহরের হয়ে কর্মসূচিটি পরিচালনা করবে। যোগ্য ভাড়াটিয়ারা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন অথবা আটলান্টার হাউজিং হেল্প সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।
জার্মানিতে সামরিক দায়িত্বে থাকাকালীন দুই শিশুর ওপর ভয়ংকর মাত্রায় শারীরিক ও যৌন নিপীড়নের দায়ে আটলান্টার এক সাবেক মার্কিন সেনাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের আদালত। ৩৭ বছর বয়সী অ্যাডাম শুয়েটার নামের ওই অপরাধী ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত জার্মানির গ্রাফেনওয়ের ঘাঁটিতে কর্মরত ছিলেন। বৃহস্পতিবার একজন ফেডারেল বিচারক তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আজীবন নজরদারিতে (সুপারভাইসড রিলিজ) রাখার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন। যুক্তরাষ্ট্রের নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের অ্যাটর্নি অফিস জানিয়েছে, ইউরোপে অবস্থানকালে শুয়েটার ১০ বছরের কম বয়সী দুই শিশুর ওপর দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতন চালান। বিচারের সময় এক ভুক্তভোগী সাক্ষ্য দিয়ে জানান, শুয়েটার তাকে দোতলার জানালা দিয়ে বাইরে ধাক্কা দিয়ে শূন্যে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। এই জঘন্য অপরাধের কথা কাউকে জানালে ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের হত্যার হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি। গত এপ্রিলে জুরি বোর্ড শুয়েটারকে ১২ বছরের কম বয়সী শিশুর ওপর চরম মাত্রার যৌন নিপীড়ন ও গুরুতর শারীরিক আঘাতের দুটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। মার্কিন বিচার বিভাগের ক্রিমিনাল ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল এ. টাইসেন ডুভা বলেন, শুয়েটার মার্কিন সেনাবাহিনীর পোশাকের সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছেন। সমাজের সবচেয়ে অসহায় শিশুদের চরম সহিংসতা ও যৌন শোষণের শিকার বানানোর মধ্যে কোনো সম্মান নেই। মার্কিন অ্যাটর্নি থিওডোর এস. হার্টজবার্গও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এই রায় প্রমাণ করে যে অপরাধ সংঘটনের বহু বছর পর এবং মহাসাগরের ওপারে হলেও ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে তারা সর্বদা প্রস্তুত।
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা থাকলেও নির্দিষ্ট কিছু পেশায় এখনো কর্মীর চাহিদা তুলনামূলক বেশি। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে দেশজুড়ে প্রায় ৭৩ লাখ চাকরির পদ খালি ছিল। একই সময়ে ন্যাশভিল, আটলান্টা, কলম্বাস ও র্যালেইয়ের মতো বড় শহরগুলোতে বেকারত্বের হারও তুলনামূলক কম ছিল। তবে শুধু একটি দক্ষতা থাকলেই ৩০ দিনের মধ্যে চাকরি নিশ্চিত হবে বা চাকরি নিজে থেকে খুঁজে আসবে, এমন কোনো তথ্য নেই। চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা নির্ভর করে অভিজ্ঞতা, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স, বৈধভাবে কাজের অনুমতি, ভাষাগত দক্ষতা, অবস্থান এবং নিয়োগকর্তার চাহিদার ওপর। চাহিদার দিক থেকে নার্সিং ও সেবাযত্নের কাজ এখনো গুরুত্বপূর্ণ পেশাগুলোর মধ্যে রয়েছে। ২০২৫ সালে নিবন্ধিত নার্সদের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ৯৭ হাজার ৫৫০ ডলার। আগামী ১০ বছর এ পেশায় কর্মসংস্থান আরও ৬ শতাংশ বাড়তে পারে। এ সময়ে বছরে গড়ে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ৮০০টি নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে। নার্সিং সহকারীদের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালে এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ৪২ হাজার ২৬০ ডলার। আগামী ১০ বছরে বছরে গড়ে প্রায় ২ লাখ ৩ হাজার ৩০০টি নার্সিং সহকারী ও রোগীসেবাকর্মীর পদে নিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে নার্সিং সহকারী হিসেবে কাজ করতে অনেক রাজ্যে নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রয়োজন। ট্রাক চালনাও যুক্তরাষ্ট্রে বড় কর্মসংস্থানের একটি ক্ষেত্র। ভারী ট্রাক ও ট্রেইলার চালকদের ২০২৫ সালের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ৫৮ হাজার ৬৪০ ডলার। আগামী ১০ বছরে এ পেশায় কর্মসংস্থান ৪ শতাংশ বাড়তে পারে এবং বছরে গড়ে প্রায় ২ লাখ ১৪ হাজার ৫০০টি চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ ধরনের কাজে প্রয়োজনীয় বাণিজ্যিক ড্রাইভার লাইসেন্স বা সিডিএল থাকতে হয়। কারিগরি পেশাগুলোর চাহিদাও কম নয়। ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের কারিগর এবং ওয়েল্ডারের মতো কাজে দক্ষ কর্মীদের বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজন রয়েছে। এসব পেশায় সবসময় চার বছরের কলেজ ডিগ্রি প্রয়োজন হয় না। তবে প্রশিক্ষণ, কাজের অভিজ্ঞতা এবং রাজ্যভেদে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স থাকা গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও দক্ষ কর্মীদের জন্য সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা, তথ্যনিরাপত্তা ও তথ্য বিশ্লেষণের মতো কাজে চাহিদা রয়েছে। ২০২৫ সালে কম্পিউটার সহায়তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ৬২ হাজার ৮৯০ ডলার। তথ্যনিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ১৮০ ডলার। আগামী ১০ বছরে তথ্যনিরাপত্তা বিশ্লেষকদের কর্মসংস্থান ২১ শতাংশ বাড়তে পারে। শহরভেদেও শ্রমবাজারের চিত্র আলাদা। ২০২৬ সালের জুলাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, বড় শহরগুলোর মধ্যে ন্যাশভিলে বেকারত্বের হার ছিল প্রায় ৩ শতাংশ। আটলান্টা, কলম্বাস ও র্যালেইয়ে তা ছিল ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং শার্লটে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। একই সময়ে র্যালেইয়ে এক বছরে বেসরকারি ও সরকারি মিলিয়ে মোট বেতনভুক্ত চাকরি ২ দশমিক ১ শতাংশ এবং শার্লটে ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি খোঁজার সময় শুধু কোন শহরে বেশি চাকরি রয়েছে, সেটি দেখলেই হবে না। নিজের দক্ষতার চাহিদা, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স, বৈধভাবে কাজের অনুমতি, ইংরেজি দক্ষতা, বেতন, বাসাভাড়া, কর এবং যাতায়াত খরচ একসঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো দক্ষতাই চাকরির নিশ্চয়তা দেয় না। তবে সঠিক প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স এবং বাস্তব কাজের দক্ষতা থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে নিজের চাকরির সুযোগ বাড়ানো সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মোসেস রাস নামের ২৪ বছর বয়সী এক পুলিশ রিক্রুট নিহত হয়েছেন। আটলান্টা পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এপিডি) জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল সোয়া সাতটার দিকে মোরল্যান্ড অ্যাভিনিউ ও ম্যাকডোনাহ বুলেভার্ডের সংযোগস্থলে একটি গাড়ি ও মোটরসাইকেলের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কর্মস্থলে যোগ দিতে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হলে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে গ্রেডি মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেওয়া হয়, তবে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আটলান্টা পুলিশ একাডেমির ৩০২তম ব্যাচের সদস্য হিসেবে মোসেস রাস তার ১৬তম সপ্তাহের প্রশিক্ষণে ছিলেন। এছাড়া সম্প্রতি ফিফা বিশ্বকাপ চলাকালীন আটলান্টার ডাউনটাউনে দায়িত্ব পালনেও তাকে নিয়োজিত করা হয়েছিল। এপিডিতে যোগদানের আগে তিনি দুই বছর আটলান্টা ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনসে কর্মরত ছিলেন এবং এর আগে মার্কিন কোস্ট গার্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আটলান্টার মেয়র আন্দ্রে ডিকেন্স এবং পুলিশ প্রধান ডারিন শিয়ারবাম গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, মোসেস ছিলেন জনসেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত থাকা একজন আদর্শ ব্যক্তি। সহকর্মীর এমন আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক মৃত্যুতে শোক পালনের সুযোগ দিতে অন্য পুলিশ রিক্রুটদের প্রশিক্ষণ সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে একাডেমি কর্তৃপক্ষ। পুলিশ প্রধান ডারিন শিয়ারবাম এই পরিস্থিতিকে সবার জন্য এক "কঠিন সময়" বলে উল্লেখ করেছেন। দুর্ঘটনায় জড়িত অপর গাড়ির চালক সামান্য আহত হলেও তার অবস্থা আশঙ্কাজনক নয় বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। মর্মান্তিক এই সড়ক দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ উদঘাটনে এখনো তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
লেবার ডে ছুটিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এবার প্রায় ২৩ লাখ যাত্রীর সমাগমের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই বিপুলসংখ্যক যাত্রী বিমানবন্দরটি ব্যবহার করতে পারেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার যাত্রীর সংখ্যা প্রায় ১ শতাংশ বাড়তে পারে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর হবে এবারের সবচেয়ে ব্যস্ত দিন। ওই দিন ৩ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি যাত্রী বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াত করতে পারেন। গত বছর সবচেয়ে ব্যস্ত দিনে প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার যাত্রীর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই হিসাবের তুলনায় সম্ভাব্য যাত্রীসংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি বেশি। ছুটির সময়ে বাড়তি যাত্রী চাপের কথা বিবেচনা করে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ভ্রমণকারীদের আগেভাগে পৌঁছানোর পরামর্শ দিয়েছে। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের যাত্রীদের নির্ধারিত উড্ডয়নের অন্তত দুই ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে বলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে অন্তত তিন ঘণ্টা আগে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের পার্কিং, বিমানবন্দরে নামা এবং যাত্রী নেওয়ার ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সময় হাতে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটে পার্কিংয়ের খালি জায়গা এবং নিরাপত্তা তল্লাশির অপেক্ষার সময়ের সর্বশেষ তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে যাত্রীদের নিজ নিজ বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের অবস্থান, গেট নির্ধারণ এবং লাগেজসংক্রান্ত নিয়ম জেনে নিতে বলা হয়েছে। ছুটির সময়ে যাত্রীর চাপ বাড়তে পারে বলে প্রয়োজনীয় তথ্য আগে থেকেই যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের লাগেজও বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে ভালোভাবে পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্র থাকলে তা খালি অবস্থায় যথাযথভাবে নিরাপদ করে শুধু চেক-ইন করা লাগেজে রাখতে হবে। কোন কোন জিনিস বিমানবন্দরে নেওয়া যাবে, সে বিষয়ে পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসনের তালিকা দেখে নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। গত বছরও লেবার ডে ছুটির সময়ে আটলান্টা বিমানবন্দর দিয়ে ২৩ লাখের বেশি যাত্রী যাতায়াতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালের ওই যাত্রাপর্ব ২৭ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছিল এবং সবচেয়ে ব্যস্ত দিনে প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার যাত্রী বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারেন বলে তখন পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। এবারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, লেবার ডে ছুটিতে আটলান্টা বিমানবন্দরে যাত্রীর চাপ গত বছরের তুলনায় কিছুটা বাড়তে পারে। বিশেষ করে ৪ সেপ্টেম্বর সবচেয়ে ব্যস্ত দিন হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় যাত্রীদের পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় ব্যক্তিগত পার্কিং লট পরিচালনাকারীদের আরও জবাবদিহির আওতায় আনতে এবং চালকদের পার্কিংয়ের আগে সুস্পষ্ট তথ্য প্রদানের লক্ষ্যে নতুন একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শহরের নেতারা প্রস্তাবিত এই নতুন আইনটির নাম দিয়েছেন ‘পার্কিং বিল অব রাইটস’। আটলান্টার চালকরা দীর্ঘদিন ধরেই কোথায় এবং কীভাবে পার্কিংয়ের বিল পরিশোধ করবেন তা নিয়ে বিভ্রান্তি ও ভোগান্তির অভিযোগ করে আসছিলেন। অনেকেই কিয়স্ক খুঁজে না পেয়ে বিরক্ত হয়ে জরিমানার ঝুঁকি নিতে বাধ্য হন। এই বিশৃঙ্খলা দূর করতেই কাউন্সিল মেম্বার জেসন ডজিয়ার আইনটি প্রস্তাব করেছেন, যা সোমবার পূর্ণাঙ্গ কাউন্সিলের অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হতে পারে। প্রস্তাবিত এই বিলটি অনুমোদিত হলে পার্কিং লটগুলোতে মূল্য তালিকা এবং মূল্য পরিশোধের মাধ্যমগুলো সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করে সাইনবোর্ড টানানো বাধ্যতামূলক হবে। শুধুমাত্র টেক্সট বা কিউআর কোডের মাধ্যমে পেমেন্ট নেওয়া হলে চালকদের তা আগেই জানাতে হবে অথবা বিকল্প ব্যবস্থা রাখতে হবে। এছাড়া কোনো চালক পার্কিং লটে প্রবেশের পর যদি সেখানে গাড়ি না রাখার সিদ্ধান্ত নেন, তবে তাকে বিনা খরচে লট ত্যাগের জন্য একটি নির্দিষ্ট ‘গ্রেস পিরিয়ড’ দিতে হবে। নতুন নিয়মে লটগুলোতে কাস্টমার সার্ভিসের ফোন নম্বর বা ওয়েবসাইট, কার্য পরিচালনার সময়, পরিচালনাকারীর নাম এবং ধারণক্ষমতার তথ্যও স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করতে হবে। পাশাপাশি পার্কিং লটটি ক্যাশলেস কি না, কর্মী আছে কি না বা গেট রয়েছে কি না, সে বিষয়গুলোও পরিষ্কারভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। জরিমানা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও নতুন নিয়মে যুগান্তকারী স্বচ্ছতা আনা হয়েছে। পরিচালনাকারীদের এখন থেকে চালকদের লিখিত নোটিশ প্রদান করতে হবে এবং কোনো ক্রেডিট বা কালেকশন এজেন্সির কাছে পাঠানোর আগে আপত্তির জন্য অন্তত ৩০ দিন সময় দিতে হবে। বিরোধ চলাকালীন কোনো জরিমানা কার্যকর করা যাবে না। অন্যদিকে, পার্কিং লটে ব্যবহৃত লাইসেন্স প্লেট রিডার ক্যামেরার ব্যবহার নিষিদ্ধ না হলেও এর ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। ক্যামেরা ব্যবহারের বিষয়টি সাইনবোর্ডে জানাতে হবে এবং সংগৃহীত ডেটা মার্কেটিং বা বিজ্ঞাপনের কাজে বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। আইনটি গত বুধবার আটলান্টার ট্রান্সপোর্টেশন কমিটিতে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে লট পরিচালনাকারীরা নিয়মগুলো বাস্তবায়নের জন্য ১৮০ দিন সময় পাবেন এবং এর ব্যত্যয় ঘটলে এক হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা থেকে ডালাসগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মাঝ আকাশে এক যাত্রীর ল্যাপটপে হঠাৎ আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার (২২ আগস্ট) ঘটা এ দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচজন যাত্রী আহত হয়েছেন। পাইলটের দেওয়া তথ্যমতে, বিমানটি আকাশে উড্ডয়নরত অবস্থায় হঠাৎ একটি ল্যাপটপ থেকে ধোঁয়া ও আগুন বের হতে শুরু করে। আতঙ্কিত যাত্রীদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়লেও বিমানের ক্রু ও ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্টদের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এরপর পাইলট অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বিমানটিকে নিরাপদে ডালাস বিমানবন্দরে অবতরণ করাতে সক্ষম হন। নিরাপদে অবতরণের পর আহত পাঁচ যাত্রীর মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বাকি চারজনের আঘাত তুলনামূলকভাবে গুরুতর না হওয়ায় তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, ফ্লাইটটিতে পাইলট, কো-পাইলট ও ক্রুসহ মোট ১৩৩ জন আরোহী ছিলেন। মাঝ আকাশে এমন ভীতিকর অগ্নিকাণ্ডের পরও যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ায় আমেরিকান এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ পাইলট, কো-পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্টদের সাহসিকতার প্রশংসা করে ধন্যবাদ জানিয়েছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) সতর্ক করে জানিয়েছে যে, ল্যাপটপে থাকা লিথিয়াম ব্যাটারি বিভিন্ন কারণে অতিরিক্ত গরম হয়ে এমন অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটাতে পারে। সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে এখন পর্যন্ত আকাশে উড্ডয়নরত অবস্থায় ল্যাপটপ বিস্ফোরণ বা আগুন লাগার অন্তত ৫৮টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যা আকাশপথে যাত্রী নিরাপত্তার জন্য একটি নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আটলান্টা থেকে ডালাসগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট অবতরণের সময় যাত্রীর ল্যাপটপে আগুন ধরে কেবিন ধোঁয়ায় ভরে যায়। শুক্রবারের এ ঘটনায় কয়েকজন যাত্রী পুড়ে যেতে পারেন বলে পাইলট কন্ট্রোল টাওয়ারকে জানান। পরে বিমানটি নিরাপদে ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে অবতরণ করে। ঘটনাটি ঘটে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ২৩৯৮-এ। বিমানটিতে ১৩৩ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। অবতরণের সময় পাইলট কন্ট্রোল টাওয়ারকে বিমানের পেছনের দিকে কেবিন ফায়ারের কথা জানান এবং যাত্রীদের মধ্যে চার থেকে পাঁচজন পুড়ে থাকতে পারেন বলে উল্লেখ করেন। ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং জ্বলন্ত ডিভাইসটি একটি থার্মাল কনটেইনমেন্ট ব্যাগে নিরাপদে রাখেন। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, আগুনটি ল্যাপটপের ব্যাটারির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল। ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবতরণের পর একজন যাত্রীকে ঘটনাস্থলেই চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আমেরিকান এয়ারলাইন্সও জানিয়েছে, ফ্লাইটটি নিরাপদে অবতরণ করে এবং জরুরি কর্মীরা বিমানটিকে গেটে পৌঁছানোর পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। বিমানটি শুক্রবার সন্ধ্যায় আটলান্টার হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে ডালাসের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। অবতরণের সময় কেবিনে ধোঁয়া দেখা দেওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা নেন ফ্লাইট ক্রুরা। লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন বা ধোঁয়া তৈরি করতে পারে। ব্যাটারি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, অতিরিক্ত গরম, পানির সংস্পর্শ, অতিরিক্ত চার্জ বা উৎপাদনগত ত্রুটির মতো বিভিন্ন কারণে এ ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে FAA সতর্ক করেছে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বিমানশিল্পে কর্মীর সংকট বাড়তে থাকায় মেট্রো আটলান্টার বিভিন্ন উচ্চবিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের পাইলট ও বিমানশিল্পের কর্মী হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। জাতীয় বিমান দিবস উপলক্ষে বিমানশিল্পে কর্মীর ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিষয়টি সামনে এসেছে। জর্জিয়ার গুইনেট কাউন্টির ম্যাক্সওয়েল উচ্চবিদ্যালয়ের বিমান পরিচালনা কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের বিমান চালনার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কর্মসূচিটির প্রশিক্ষক লিন্ডা মাইনর নিজেও ছোটবেলা থেকে পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তার বাবা ও ভাই বিমান চালাতেন এবং তার স্বামী ও ছেলেরাও বিমান চালনার সঙ্গে যুক্ত। ম্যাক্সওয়েল উচ্চবিদ্যালয়ের এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিমান চালনার প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আভা হিল জানান, কিশোর বয়সেই এমন প্রশিক্ষণের সুযোগ পাওয়া তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, এ ধরনের সুযোগ না থাকলে পাইলটের সনদ অর্জন ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ পেতে অনেক বেশি সময় লাগতে পারে। ফুলটন, ডিকালব ও ক্লেটন কাউন্টির স্কুল জেলাগুলোতেও বিমানচালনা বিষয়ক কর্মসূচি চালু রয়েছে। এসব কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন অনুমোদিত বিমানচালনা সিমুলেটর ব্যবহার করে প্রশিক্ষণ নেয়। সিমুলেটরে প্রশিক্ষণের কিছু সময় পাইলটের সনদ অর্জনের প্রয়োজনীয় সময়ের হিসাবেও যুক্ত হতে পারে। এসব কর্মসূচির সাবেক শিক্ষার্থীদের কেউ বাণিজ্যিক ও সামরিক পাইলট হয়েছেন। কেউ বোয়িং ও লকহিড মার্টিনে প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করছেন। আবার কেউ ডেল্টা এয়ার লাইন্সের কারিগরি পরিচালনা বিভাগে যুক্ত হয়েছেন। বিমানশিল্পে নতুন কর্মীর প্রয়োজনীয়তা দ্রুত বাড়ছে। বোয়িংয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৪৫ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে চাহিদা পূরণ করতে প্রায় ২৫ লাখ নতুন বিমানশিল্প পেশাজীবীর প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার পাইলটের প্রয়োজন হতে পারে। তবে বিমানশিল্পে শুধু পাইলটেরই চাহিদা নেই। প্রকৌশলী, কেবিন ক্রু এবং বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রকদেরও প্রয়োজন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন এপ্রিল মাসের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, পরবর্তী তিন বছরে প্রায় ৭ হাজার বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক নিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে। লিন্ডা মাইনরের মতে, বিমানশিল্পকে শুধু পাইলটের পেশা হিসেবে দেখলে এই খাতের বড় একটি অংশ বাদ পড়ে যায়। বিমান তৈরি, যন্ত্রাংশ উৎপাদন, বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। জর্জিয়াতেও বিমানশিল্প বড় কর্মসংস্থান ক্ষেত্রগুলোর একটি বলে জানান মাইনর। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজ্যটিতে বিমান তৈরি, যন্ত্রাংশ উৎপাদন, বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষণাবেক্ষণের মতো বিভিন্ন কাজের সুযোগ রয়েছে। গালফস্ট্রিম ও লকহিডের মতো প্রতিষ্ঠানও সেখানে বিমানশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। মাইনর মনে করেন, তার শিক্ষার্থীদের অর্জিত দক্ষতা ভবিষ্যতে বিমানশিল্পের ক্রমবর্ধমান কর্মী চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে। শিক্ষার্থীদের কেউ ইতোমধ্যে বিমানচালক হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন, আবার অনেকে বিমানশিল্পের অন্যান্য পেশার দিকেও এগিয়ে যেতে পারেন। জাতীয় বিমান দিবসের সময়ে আটলান্টার উচ্চবিদ্যালয়গুলোর এসব কর্মসূচি তাই ভবিষ্যৎ বিমানশিল্পের কর্মী তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে সামনে এসেছে। শিল্পে পাইলটের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়তে থাকায় শিক্ষার্থীদের স্কুল পর্যায় থেকেই প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের মেট্রো আটলান্টায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে কিশোর-কিশোরীদের একত্রিত হওয়ার ঘটনাগুলো থেকে প্রায়ই গ্রেপ্তার ও কারফিউ ভঙ্গের মতো অপরাধের সৃষ্টি হচ্ছে। তবে আটলান্টা পাবলিক স্কুলের দুই শিক্ষার্থীর মতে, এই সমস্যার মূল কারণ একেবারেই ভিন্ন। তারা মনে করেন, কিশোরদের নিরাপদে সময় কাটানোর বা আড্ডা দেওয়ার মতো উপযুক্ত জায়গার অভাবেই এমনটা ঘটছে। এই সমস্যার সমাধানে আটলান্টা শহরের পক্ষ থেকে পাওয়া ৫০ হাজার ডলার অনুদান কাজে লাগিয়ে নতুন একটি উদ্যোগ নিয়েছেন ড্যানিয়েল ম্যাকলাফলিন থেরেল হাই স্কুলের শেষ বর্ষের ছাত্র ডেভিন মিচেল এবং মেনার্ড হোলব্রুক জ্যাকসন হাই স্কুলের শিক্ষার্থী হেইলি আরভিং। মিচেল ও আরভিংয়ের এই ধারণার শুরুটা হয়েছিল মূলত বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর একটি সাধারণ চেষ্টা থেকে। মিচেল জানান, তারা একবার আটলান্টিক স্টেশনে ঘুরতে গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে যে বিকেল ৩টার পর কিশোরদের জন্য কারফিউ রয়েছে, তা তাদের জানা ছিল না। সেখান থেকে তাদের বের করে দেওয়ার পর তারা উপলব্ধি করেন যে, কিশোরদের জন্য সমাজ ও শহরের পরিসরগুলো কতটা সংকুচিত হয়ে এসেছে। আরভিং জানান, তার বড় ভাইবোনদের কোনো বাধা ছাড়াই শপিং মল বা সিনেমা হলে ঘুরতে দেখেছেন তিনি, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি এবং স্কুলের বাইরের এই ‘থার্ড স্পেস’ বা তৃতীয় পরিসরগুলো কিশোরদের জন্য ক্রমশ কমে আসছে। এই দুই শিক্ষার্থীর বিশ্বাস, কিশোর-কিশোরীদের যখন সময় কাটানোর মতো ভালো কোনো জায়গা থাকে না, তখন একঘেয়েমি থেকেই অনেক সময় তারা বিপথে পা বাড়ায়। তবে মিচেলের মতে, বিষয়টিকে কেবল বাহ্যিক দৃষ্টিতে দেখলে চলবে না, বরং কিশোরদের উদ্দেশ্য এবং চারপাশের পরিবেশও বিবেচনায় নিতে হবে। নিজেদের প্রাপ্ত অনুদান দিয়ে তারা ‘দ্য স্পট’ (The Spot) নামের এমন একটি ইনডোর বা অভ্যন্তরীণ কেন্দ্র গড়ে তুলতে চান, যেখানে কিশোররা নিরাপদে ও আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে সময় কাটাতে পারবে। এটি মূলত ওয়াইএমসিএ (YMCA) বা অন্যান্য সুপরিচিত আড্ডার জায়গাগুলোর একটি আধুনিক ও উদ্ভাবনী রূপ হতে যাচ্ছে। আটলান্টার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই জায়গায় কফি শপ, বাস্কেটবল কোর্ট, কাজের জায়গা এবং ব্যবসার জন্য ভাড়ায় চালিত কক্ষের সুবিধা থাকবে। কিশোরদের যাতে অন্যান্য জায়গার মতো এখানে কোনো বাধ্যবাধকতার মুখে পড়তে না হয়, সেদিকেও নজর রাখছেন তারা। আরভিং জানান, যেহেতু শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত কিশোররা বেশি বাইরে বের হয়, তাই সপ্তাহান্তে ‘দ্য স্পট’-এর কার্যক্রমের সময়সীমা বেশি থাকবে। মিচেল ও আরভিং বর্তমানে তাদের এই ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে বিনিয়োগকারীদের খুঁজছেন। আগামী শরতেই তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের একটি পরীক্ষামূলক মডেল (প্রুফ অব কনসেপ্ট) সবার সামনে উপস্থাপন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।