জুলাই হলো 'পোস্টপার্টাম চেঞ্জেস অ্যাওয়ারনেস মান্থ' বা প্রসূতিকালীন পরিবর্তনের সচেতনতা মাস। সন্তান জন্মদানের পর অনেক নারী যে শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যান, সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরির সময় এটি। এমোরি ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের মতে, সন্তান জন্মদানের পর প্রতি সাতজন নারীর মধ্যে প্রায় একজন প্রসূতিকালীন বিষণ্নতায় ভোগেন। নতুন মাতৃত্বের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে গিয়ে অনেক মা-ই নানা ধরনের আবেগীয় ও শারীরিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর জন্য সহায়তা ও চিকিৎসা সহজলভ্য। তিন সন্তানের জননী মেলিসা ফার্নান্দেজ এই চ্যালেঞ্জগুলোর অভিজ্ঞতা সরাসরি অর্জন করেছেন। তিনি জানান, মা হওয়ার পর তিনি প্রসূতিকালীন মানসিক দুশ্চিন্তার সম্মুখীন হয়েছিলেন। ফার্নান্দেজ বলেন, "আমার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল নিজের পরিচয়ের পরিবর্তন। গর্ভবতী হওয়ার আগে আমি সিরক দু সোলেই-এর একজন উচ্চমানের অ্যাক্রোব্যাট ছিলাম। গর্ভধারণ, সন্তান প্রসব, স্তন্যপানের সমস্যা, ঘুম না হওয়া, চাকরি হারানো, নিজের পরিচয় হারানো এবং নিজের সমাজ বা বন্ধুসঙ্গ হারানোর মধ্য দিয়ে আমাকে যেতে হয়েছে।" এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে 'আটলান্টা পোস্টপার্টাম ডুলা' নামের একটি সংস্থা শুরু করতে অনুপ্রাণিত করে, যা নারীদের মাতৃত্বের এই পরিবর্তন সহজে অতিক্রম করতে সাহায্য করে। ফার্নান্দেজ বলেন, "আমরা প্রায়ই দেখি যে সন্তান আসার পর বন্ধু ও স্বজনরা যখন বেড়াতে আসেন, তারা শিশুটিকে দেখতেই আসেন। কিন্তু মায়ের যত্ন কে নিচ্ছেন?" এই সংস্থার সবচেয়ে চাহিদাপূর্ণ সেবা হলো দিন ও রাতের বেলার প্রসূতিকালীন সহায়তাকারীর সেবা। যেখানে প্রশিক্ষিত সহায়তাকারীরা ঘরে এসে মায়ের পাশাপাশি নবজাতকের যত্ন নিতে সাহায্য করেন। এছাড়া নতুন মায়েদের প্রাথমিক চাপ কমাতে এই সংস্থাটি খাবার পৌঁছে দেওয়ার সেবাও দিয়ে থাকে। পরিবারগুলোর জন্য আরেকটি মাধ্যম হলো 'পিস ফর মমস', যা এমোরি ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনভিত্তিক একটি প্রোগ্রাম। এই উদ্যোগটি জর্জিয়ার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের প্রসূতি মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সাথে যুক্ত করে, যা মায়েদের সময়মতো মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পাওয়া নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।
আটলান্টা শহরের একটি পাম্প স্টেশনে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পর সাউথ ফুলটন এবং ফেয়ারবার্ন শহরের দশ হাজারেরও বেশি গ্রাহকের জন্য পানি ফোটানোর জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে সিটি অব আটলান্টা। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অ্যাডামসভিল পাম্প স্টেশনে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ডিপার্টমেন্ট অব ওয়াটারশেড ম্যানেজমেন্ট এই নির্দেশনা জারি করেছে। পাম্প স্টেশনে বিদ্যুৎ সরবরাহ ইতিমধ্যে পুনর্বহাল করা হয়েছে। তবে কর্মকর্তারা অপারেশন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি পরীক্ষার জন্য পানির নমুনা পরীক্ষা করবেন। কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, এই জরুরি নির্দেশনার কারণে প্রায় ৪৭ হাজার ৮০০ গ্রাহক প্রভাবিত হচ্ছেন। সিটি অব আটলান্টা ডিপার্টমেন্ট অব ওয়াটারশেড ম্যানেজমেন্ট এই এলাকার একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দা এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ নিয়ম মেনে চলা উচিত। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পানি পান করা, রান্না করা, শিশুদের খাবার তৈরি এবং দাঁত মাজার কাজে ব্যবহারের আগে পানিকে এক মিনিট ধরে ভালোভাবে ফুটিয়ে নিতে হবে। লাইনের পানির বিকল্প হিসেবে বাসিন্দাদের বোতলজাত পানি ব্যবহারের জন্যও নির্দেশনায় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওয়াটারশেড ম্যানেজমেন্ট বিভাগ জানিয়েছে, এই নির্দেশনা পরবর্তী নোটিশের মাধ্যমে প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত ওই অঞ্চলের কোনো পাবলিক ওয়াটার ফাউন্টেন বা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত পানির কল থেকে কোনোভাবেই পানি পান করা যাবে না। পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সূত্র: সিবিএস আটলান্টা
চলতি গ্রীষ্মে কেবল ফুটবল তারকারাই মাঠ মাতাচ্ছেন না, ডেটিং অ্যাপ এবং ম্যাচমেকিং সার্ভিসের মুখপাত্রদের মতে, অবিবাহিত বা সিঙ্গেল ব্যক্তিরাও ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে তাদের নিজ শহরে আসা নতুন মানুষদের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ নিচ্ছেন। ডেটিং ওয়েবসাইট ‘ডেটিংঅ্যাডভাইস ডটকম’-এর তথ্য অনুযায়ী, ফিফা বিশ্বকাপের রোমান্সের শহরের তালিকায় আটলান্টা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তাদের জরিপ করা সিঙ্গেলদের মধ্যে ৪৬ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা টুর্নামেন্ট দেখতে আসা কোনো দর্শকের সাথে ডেটে গেছেন অথবা রোমান্টিক সম্পর্কে জড়িয়েছেন। টিন্ডারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা সোয়াইপ করার হার বৃদ্ধি পেতে দেখেছেন। ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজক শহরগুলোতে আন্তর্জাতিক ব্যবহারকারীদের মাধ্যমে ক্রিয়াকলাপ ৪৭ শতাংশ এবং দেশীয় ব্যবহারকারীদের মাধ্যমে ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাম্বল গ্রুপ ইভেন্টগুলোর প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে এবং সিঙ্গেলদের জন্য আয়োজিত ওয়াচ পার্টিগুলোতে তারা বড় ধরনের উপস্থিতি লক্ষ্য করছে। ‘ইন দ্য ওয়াইল্ড ডেটিং’-এর প্রতিষ্ঠাতা লেক্সি ইয়াং বলেন, তার অনুসারীরা সরাসরি বা সশরীরে দেখা করার সুযোগ খুঁজছিলেন এবং বিশ্বকাপ ওয়াচ পার্টি ও দর্শনার্থীদের আগমনের মাধ্যমে ঠিক সেই সুযোগটিই তৈরি করে দিয়েছে। তিনি বলেন, "আমার মনে হয় এটি সত্যিই দেখায় যে মানুষ সরাসরি যোগাযোগ চায় এবং খেলাধুলা হলো যুক্ত হওয়ার একটি দারুণ মাধ্যম। ক্রীড়া ইভেন্টের মাধ্যমে মানুষের মাঝে একটি যৌথ আগ্রহ তৈরি হয়। এটি স্পষ্টতই তাদের আরও গভীর স্তরে যুক্ত হতে সাহায্য করে। আমি সত্যিই অনেক মানুষকে তাদের খোলস থেকে বেরিয়ে আসতে এবং বিভিন্ন সংস্কৃতির প্রতি নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করতে দেখছি, যা ডেটিংয়ের ক্ষেত্রটিকে সাহায্য করেছে।" আটলান্টার একজন অবিবাহিত বাসিন্দা, যিনি একাধিক বিশ্বকাপ আয়োজক শহরে গিয়েছেন, তার মতে প্রেম সত্যিই বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। কেটি ফ্রিডম্যান নামে ওই বাসিন্দা বলেন, "আমি আমার গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে আছি, তাই এ পর্যন্ত চারটিতে গিয়েছি। আটলান্টা, সিয়াটল, বোস্টন এবং নিউইয়র্ক। এটি দারুণ ছিল। প্রথমবারের মতো মানুষের আমেরিকা সফরের অভিজ্ঞতা শোনার বিষয়টি আমার কাছে সত্যিই মজার মনে হয়েছে। তারা কী দেখল, কী পছন্দ করল—এগুলো কথা শুরু করার দারুণ উপায়।" আটলান্টার আরেক বাসিন্দা রাশাদ বলেন, "আমি মনে করি আরও মানুষের এখানে আসা উচিত। এটি একটি চমৎকার পরিবেশ। এখানে পানীয়, খাবার এবং গান রয়েছে, কোনো কিছুর জন্য আপনাকে অর্থ দিতে হবে না, এটি একটি দারুণ বিষয়।"
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথম শ্রেণীর যাত্রীদের জন্য একটি বিলাসবহুল 'ডেল্টা ওয়ান লাউঞ্জ' তৈরি হতে যাচ্ছে। আটলান্টা সিটি কাউন্সিল এই প্রকল্পের জন্য ডেল্টা এয়ারলাইন্সের সাথে ৬ কোটি ২৯ লাখ ডলারের একটি বিশাল চুক্তি অনুমোদন করেছে। গত সোমবার সিটি কাউন্সিলের সভায় এই প্রস্তাবটি ১৩-১ ভোটে পাস হয়। এই চুক্তির আওতায় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ডেল্টা এয়ারলাইন্সকে লাউঞ্জ তৈরির প্রাথমিক অবকাঠামোগত কাজের জন্য ৬ কোটি ২৯ লাখ ডলার পর্যন্ত খরচ ফেরত বা পরিশোধ করবে। তবে লাউঞ্জের ভেতরের সাজসজ্জা, আসবাবপত্র এবং অন্যান্য অভ্যন্তরীণ নকশার সমস্ত খরচ ডেল্টা এয়ারলাইন্স সম্পূর্ণ নিজস্ব তহবিল থেকে বহন করবে। নতুন এই লাউঞ্জটি বিমানবন্দরের কনকোর্স ই-তে প্রায় ৩৯ হাজার ২১০ বর্গফুট এলাকা জুড়ে তৈরি করা হবে। ডেল্টা এয়ারলাইন্স বর্তমানে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি, লস অ্যাঞ্জেলেস, বোস্টন এবং সিয়াটেল বিমানবন্দরে এই ধরণের বিশেষ লাউঞ্জ পরিচালনা করছে। আটলান্টা ডেল্টার প্রধান কেন্দ্র এবং সদর দফতর হওয়ায় এখানে একটি বড় লাউঞ্জ করা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। এই প্রিমিয়াম লাউঞ্জে যাত্রীদের জন্য থাকবে উচ্চমানের ডাইনিং বা রেস্তোরাঁ ব্যবস্থা, স্পা সুবিধা এবং ব্যক্তিগতভাবে কাজ করার জন্য নিরিবিলি জোন। তবে সরকারি নথিতে লাউঞ্জটি ঠিক কবে নাগাদ সাধারণ যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ উল্লেখ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের কলেজ পার্কের একটি পাঁচ একরের খামার বাজারের বাড়তি খরচের চাপ সামলাতে সাধারণ মানুষকে নিজেদের খাবার নিজে উৎপাদন করার প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। 'মেট্রো আটলান্টা আরবান ফার্ম' নামের এই অলাভজনক প্রতিষ্ঠানটি গত ১৯ বছর ধরে কৃষিকাজকে হাতিয়ার করে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও যুদ্ধাহত সামরিক প্রবীণদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। খামারের প্রতিষ্ঠাতা ববি উইলসন জানান, তাদের মূল উদ্দেশ্য কেবল বীজ রোপণ করা নয়, বরং কৃষির মাধ্যমে সমাজে একটি সুস্থ পরিবেশ ও শক্তিশালী সামাজিক বন্ধন তৈরি করা। কলেজ পার্কের মেইন স্ট্রিটে অবস্থিত এই খামারটিতে কোনো ধরনের রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে এবং ঐতিহ্যবাহী পুরোনো বীজ ব্যবহার করে ফসল ফলানোর কৌশল শেখানো হয়। খামারের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ফলে স্থানীয় পরিবারগুলো একদিকে যেমন স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে, অন্যদিকে সহজেই বিষমুক্ত তাজা ও পুষ্টিকর খাবার সংগ্রহ করতে পারছে। সমাজের পিছিয়ে পড়া এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতেই মূলত এই বিশেষ কৃষি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি এই খামারটি যুদ্ধাহত মার্কিন সেনাদের সহায়তায় নিয়োজিত 'উইন্ডেড ওয়ারিয়র প্রজেক্ট'-এর সাথে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। এর আওতায় প্রতি দুই সপ্তাহ পর পর বিভিন্ন সামরিক বাহিনীর প্রবীণ সদস্যরা খামারে এসে ফসল রোপণ, ফসল সংগ্রহ এবং বাড়িতে বাগান করার বিভিন্ন বাস্তবমুখী কৌশল শিখছেন। অংশ নেওয়া সাবেক এক সেনাসদস্য জানান, বর্তমান বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের আকাশছোঁয়া দামের কারণে এই শিক্ষা তাদের দারুণভাবে সাহায্য করছে এবং মানসিক চাপ কমিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার সুযোগ করে দিচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি করতে খামারটি তরুণদের ইন্টার্নশিপ বা হাতেকলমে শিক্ষার সুযোগ দিচ্ছে। মিসিসিপির অ্যালকর্ন স্টেট ইউনিভার্সিটির কৃষি ব্যবসা বিভাগের এক শিক্ষার্থী এই খামারে এসে ট্র্যাক্টর চালানো, বীজতলা তৈরি এবং মাটির সঠিক ব্যবহার শিখছেন। এছাড়া খামারটি বিভিন্ন স্কুল, চার্চ, কোকা-কোলা কোম্পানি এবং টাস্কিজি ইউনিভার্সিটির মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত হয়ে বছরজুড়ে কৃষি শিক্ষা প্রদান করছে।
আমেরিকার আটলান্টা শহরে আট বছর আগের এক নৃশংস ঘটনার চূড়ান্ত রায় দিয়েছে আদালত। রাস্তায় সাহায্য চেয়ে হাত পাতা এক নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গ ও গৃহহীন মানুষকে ইলেকট্রিক শক দিয়ে আজীবনের জন্য পঙ্গু করে দেওয়ার অপরাধে অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারকে এখন ২ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার জরিমানা গুনতে হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আটলান্টা পুলিশের অফিসার জন গ্রাবসকে এখন থেকে প্রতি মাসে তার বেতন থেকে ৭০০ ডলার করে ভুক্তভোগী জেরি ব্লেসিংগেমের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে হবে। যদি প্রতি মাসে ৭০০ ডলার করে কাটা হয়, তবে এই বিপুল পরিমাণ জরিমানা শোধ করতে ওই পুলিশ অফিসারের প্রায় আড়াই হাজার বছর সময় লাগবে! ২০১৮ সালের জুলাই মাসে এই ঘটনার সময় জেরির বয়স ছিল ৬৫ বছর। রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে সাহায্য চাওয়ার অপরাধে পুলিশ তাকে ধাওয়া করে। কোনো রকম সতর্কবার্তা না দিয়েই জেরি পালানোর সময় পেছন থেকে তার পিঠে ইলেকট্রিক শক দেন অফিসার গ্রাবস। তীব্র শকের আঘাতে জেরি একটি উঁচু ঢাল থেকে ছিটকে নিচে কংক্রিটের ওপর পড়েন। এতে তার মাথার খুলি ও মেরুদণ্ড ভেঙে যায় এবং গলা থেকে নিচের পুরো অংশ আজীবনের জন্য অবশ হয়ে যায়। এই পঙ্গুত্ব নিয়ে পাঁচ বছর বেঁচে থাকার পর ২০২৩ সালে জেরি মারা যান। এই ঘটনার পর জেরি যখন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিলেন, তখন এই পুলিশ অফিসার তার কেবিনে গিয়ে উল্টো তার নামেই মামলা ঠুকে দিয়েছিলেন। এছাড়া ঘটনার সময় নিজের বডি ক্যামেরা বন্ধ রাখার অপরাধে পুলিশের অভ্যন্তরীণ বিভাগ থেকে তাকে অভিযুক্ত করা হলেও তিনি এখনো বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন। ২০২৪ সালে তার বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ৯২ হাজার ডলার। এখন কর বাদ দিয়ে তার মাসের বেতনের প্রায় ১৩ শতাংশ এই ক্ষতিপূরণের পেছনে চলে যাবে। যদি তিনি চাকরিও হারান, তবুও তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করে এই টাকা আদায় করা হবে। আইনি লড়াইয়ে ওই পুলিশ অফিসার সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য থাকা বিশেষ সুরক্ষাকবচ বা 'কোয়ালিফাইড ইমিউনিটি'র দোহাই দিয়ে পার পাওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, একজন নিরস্ত্র ও নিরীহ মানুষকে এভাবে পেছন থেকে ইলেকট্রিক শক দেওয়া সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক এবং চরম অপরাধ।
ক্লাস শুরুর আগে মাত্র একটি সাধারণ প্রশ্নই যে কত বড় পরিবর্তন আনতে পারে, তার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার একটি স্কুল। দীর্ঘদিনের চেনা নিয়মের বাইরে গিয়ে পড়াশোনা শুরুর আগে শিক্ষার্থীদের সাথে সুসম্পর্ক তৈরির এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে 'মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র মিডল স্কুল'। আর এর সুবাদেই গত দুই বছরে স্কুলটিতে শিক্ষার্থীদের অপরাধ ও শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা নাটকীয়ভাবে প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে। আটলান্টা পাবলিক স্কুলসের এই ক্যাম্পাসটি তাদের চমৎকার পরিবেশ ও ইতিবাচক সংস্কৃতির জন্য 'টিচ কাইন্ডনেস' নামক সংস্থা থেকে দেশব্যাপী মাত্র ৩২টি স্কুলের মধ্যে অন্যতম হিসেবে 'ন্যাশনাল কাইন্ডনেস ডেজিগনেশন' বা জাতীয় সদয় সম্মাননা লাভ করেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের কৌশলটি খুবই সহজ—পাঠ্যবই খোলার আগেই শিক্ষার্থীদের সাথে একাত্ম হওয়া। স্কুলের প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থী প্রতিদিন প্রতিটি ক্লাস শুরুর আগে শিক্ষক এবং সহপাঠীদের সাথে একটি সংক্ষিপ্ত কথোপকথনের মাধ্যমে দিন শুরু করে। স্কুলের প্রিন্সিপাল কিম্বার্লি সেওয়েল সিবিএস নিউজ আটলান্টাকে বলেন, "আমরা আমাদের পুরো শিক্ষণ পদ্ধতিই বদলে ফেলেছি। এখন প্রতিটি ক্লাসে শিক্ষকেরা পড়াশোনার আগে শিক্ষার্থীদের সাথে সংযোগ তৈরি করেন। মাত্র ৩০ সেকেন্ডের জন্য আমরা শিক্ষার্থীদের খুব সাধারণ কিছু জিজ্ঞাসা করি, যেমন—তাদের পছন্দের পিৎজা টপিং কী কিংবা কীসে তারা আনন্দ পায়।" ক্লাসরুমের বাইরেও স্কুলের সব স্টাফদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন যেকোনো ভুল সংশোধনের আগে তারা শিক্ষার্থীদের সাথে হাসিমুখে ইতিবাচক যোগাযোগ তৈরি করেন। দুই বছর আগে এই পদ্ধতি চালুর পর থেকে স্কুলটিতে মারামারি বা বিশৃঙ্খলা অনেক কমে গেছে, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে এবং শিক্ষার্থীরা এখন যেকোনো বিরোধ মারামারি না করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে শিখছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মেট্রো আটলান্টা এলাকায় অনলাইনে ভাড়ার জন্য ভুয়া বাসার বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে হাজার হাজার ডলার হাতিয়ে নিচ্ছে একদল সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। সম্প্রতি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির অপব্যবহার করে এই প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করা হচ্ছে। অলাভজনক সংস্থা 'বেটার বিজনেস ব্যুরো' (BBB) সতর্ক করে জানিয়েছে, গত এক বছরে শুধু এই এলাকাতেই আবাসন সংক্রান্ত প্রতারণার শিকার হয়ে গ্রাহকরা ৩০ লাখ ডলারেরও বেশি খুইয়েছেন। প্রতারণার শিকার হওয়া জেরেলিন চার্লসটন নামের এক নারী জানান, কলেজ পার্ক এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নেওয়ার জন্য তিনি অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেখেন। প্রতারকরা তাকে একটি ডিজিটাল সিকিউরিটি কোড দেয়, যা দিয়ে তিনি নিজেই লক খুলে পুরো বাসাটি ঘুরে দেখেন। সবকিছু আসল মনে হওয়ায় তিনি চালানের মাধ্যমে ৩,২০০ ডলার পরিশোধ করেন। কিন্তু মালামাল নিয়ে ওঠার দিন যখন তিনি সেই এজেন্টের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, তখন দেখেন তার নম্বরটি ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। টাকা ও বাসা দুটোই হারিয়ে বর্তমানে তিনি গৃহহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। বেটার বিজনেস ব্যুরোর কর্মকর্তা জশুয়া হেয়ারস জানান, স্ক্যামাররা মূলত আসল আবাসন ব্যবসার ওয়েবসাইট থেকে ছবি এবং তথ্য চুরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া বিজ্ঞাপন পোস্ট করে। তারা বাসা বিক্রির জন্য রিয়েল এস্টেট কোম্পানির দেওয়া ডিজিটাল এক্সেস কোডগুলো কৌশলে হাতিয়ে নেয়। এরপর সেই কোড সাধারণ ভাড়াটিয়াদের দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করে এবং অগ্রিম ডিপোজিট নিয়ে উধাও হয়ে যায়। তিনি আরও জানান, প্রতারকরা এখন ফোন কলে কাস্টমারদের সাথে কথা বলার জন্য এবং দ্রুত বিশ্বাসযোগ্য জাল ডকুমেন্ট তৈরি করতে 'এআই এজেন্ট' বা রোবটিক কণ্ঠস্বর ব্যবহার করছে। বিশেষ করে কম আয়ের মানুষ, যারা সস্তায় বাসা খুঁজছেন, তারাই এই চক্রের প্রধান টার্গেট হচ্ছেন। এই ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচতে যেকোনো লেনদেনের আগে সরকারি ট্যাক্স রেকর্ডের মাধ্যমে বাসার আসল মালিকানা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা শহরের মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তাপ এখন মাঠ ছাড়িয়ে বাইরের সাধারণ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। টুর্নামেন্ট দেখতে আসা হাজার হাজার আন্তর্জাতিক ফুটবল ভক্ত ও পর্যটকদের আগমনে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে এক বিশাল জোয়ার এসেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন যে দূর-দূরান্ত থেকে আসা এই বিপুল সংখ্যক বিদেশি দর্শনার্থী এবং সেই সাথে প্রশাসনের জোরদার পুলিশি নিরাপত্তার চমৎকার সমন্বয়ে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই জমজমাট পরিবেশের কারণে তাদের বেচাবিক্রি আগের তুলনায় অনেক গুণ বেড়ে গেছে। বিশ্বকাপের এই বিশাল আসরকে কেন্দ্র করে শহরের মারিয়েটা স্ট্রিটের জনপ্রিয় রেস্তোরাঁগুলোর মালিকেরা অত্যন্ত আনন্দের সাথে তাদের ব্যবসায়িক সাফল্যের কথা প্রকাশ করছেন। স্থানীয় রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী মো জানান যে বিশ্বকাপের কারণে তাদের দৈনিক বিক্রি সাধারণ সময়ের তুলনায় প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু তাই নয়, টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগে তারা ব্যবসার আর্থিক লাভের যে প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা বা প্রক্ষেপণ নির্ধারণ করেছিলেন, বর্তমান আয় তার চেয়েও প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার ডলার বেশি হয়েছে, যা তাদের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। আমেরিকায় এই ধরনের বড় কোনো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে সাধারণত তীব্র যানজট, নিরাপত্তা এবং পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। তবে সেন্টেনিয়াল অলিম্পিক পার্কের আশেপাশের দোকানিরা জানিয়েছেন যে আটলান্টা শহর কর্তৃপক্ষ এবার আগে থেকেই অত্যন্ত চমৎকার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। টেড টার্নার ড্রাইভ এলাকার বার্গার ও চিজস্টেক ফুড জয়েন্টের মালিক কার্লটন নেলসন বলেন যে শহরজুড়ে পুলিশের ব্যাপক ও দৃশ্যমান উপস্থিতির কারণে সব ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি পুরোপুরি কমে গেছে, যা ব্যবসা সচল রাখতে বড় ভূমিকা রাখছে। ব্যবসায়ীরা মূলত মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামের চারপাশের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আটলান্টা পুলিশ বিভাগের বা এপিডির সক্রিয় ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, খেলা দেখতে আসা হাজার হাজার মানুষের ভিড় ও ট্রাফিকের কারণে অনেক সময় শহরের কেন্দ্রস্থলে কিছুটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে এবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক সতর্ক নজরদারির কারণে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর ফলে দূরদেশ থেকে আসা ফুটবলপ্রেমীরা কোনো ধরনের ভয় বা দ্বিধা ছাড়াই পুরো শহর ঘুরে বেড়াতে পারছেন। খেলার নির্দিষ্ট সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পরও এই আন্তর্জাতিক দর্শকদের ইতিবাচক প্রভাব স্থানীয় অর্থনীতিতে দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকছে। আটলান্টার ব্যবসায়ীরা গর্বের সাথে জানান যে মরক্কো ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ফুটবল ভক্তরা প্রথমবারের মতো আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চলীয় আতিথেয়তার চমৎকার অভিজ্ঞতা লাভ করছেন। অনেক বিদেশি পর্যটক তো একই দোকানে বারবার খেতে আসছেন এবং ভালো সেবার কারণে স্থানীয় খাবারের প্রশংসাও করছেন। ব্যস্ততার মাঝেও ব্যবসায়ীরা এই বৈশ্বিক অতিথিদের বাড়তি যত্ন ও উন্নত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্বকাপের এই ফুটবল উন্মাদনার কারণে আটলান্টার গণপরিবহন ব্যবস্থা বা মার্টার রেল ট্রিপের চাহিদাও সাধারণ দিনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী বুধবার সন্ধ্যায় এই মাঠেই মরক্কো এবং হাইতির মধ্যকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অন্যদিকে সেন্টেনিয়াল অলিম্পিক পার্কে ফুটবল ভক্তদের জন্য চলমান ফিফা ফ্যান ফেস্টের সময়সীমা আরও বাড়িয়ে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত করা হয়েছে। ওই দিন ফুটবলপ্রেমীরা সেখানে সমবেত হয়ে তুরস্কের বিরুদ্ধে মাঠে নামা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুরুষ জাতীয় ফুটবল দলের খেলাটি উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা শহরে চলমান ফিফা পুরুষ ফুটবল বিশ্বকাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ আফ্রিকা ও চেক প্রজাতন্ত্রের প্রবাসী কমিউনিটির মধ্যে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘এ’-এর এই ভাগ্যনির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দেশ। দুই দলের জন্যই টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াই হিসেবে দেখা দেওয়া এই ম্যাচটি নিয়ে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১০ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলে আটলান্টায় বসবাসরত দক্ষিণ আফ্রিকান প্রবাসীদের মধ্যে এই ম্যাচটি নিয়ে ব্যাপক উন্মাদনা দেখা দিয়েছে। ‘ইউএসএ-তে সাউথ আফ্রিকান চেম্বার অব কমার্স’-এর সভাপতি ও সদস্যরা দলবেঁধে মাঠে গিয়ে খেলা দেখার প্রস্তুতি নিয়েছেন। স্যান্ডি স্প্রিংসের বাসিন্দা সাউথ আফ্রিকান প্রবাসী ভান্দা সাইতোভিটস বলেন, "আসুন জয়ের জন্য খেলি, আমাদের জাতীয় সঙ্গীত গাই। প্রবাসী হিসেবে এই মঞ্চে আমরা অত্যন্ত গর্বিত।" আটলান্টার আরেক সাউথ আফ্রিকান প্রবাসী নীল ডায়মন্ড বলেন, "এই ম্যাচটি আমাদের নিজ দেশের সাথে নতুন করে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এটি আমাদের মধ্যে এক অদ্ভুত জাতীয় ঐক্য ও গর্বের অনুভূতি এনে দিয়েছে, যেন মনে হচ্ছে আমাদের নিজের বাড়িটাই আটলান্টার দোরগোড়ায় চলে এসেছে।" নীল ডায়মন্ড খেলা দেখার জন্য তার ঐতিহ্যবাহী রঙিন ‘মোকোরোতলো’ হ্যাট এবং স্টেডিয়াম কাঁপানোর ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ‘ভুবুজেলা’ নিয়ে মাঠে যাওয়ার প্রস্তুতি দেখান, যা দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়া সংস্কৃতির অন্যতম বড় প্রতীক। অন্যদিকে, চেক প্রজাতন্ত্রের সমর্থকরাও তাদের জাতীয় দলকে সমর্থন দিতে সমভাবে প্রস্তুত। ম্যাচটিকে সামনে রেখে হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক টার্মিনালে চেক প্রজাতন্ত্রের অনারারি কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে আগত আন্তর্জাতিক দর্শকদের জন্য একটি বিশেষ অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং সঙ্গীতের মাধ্যমে সেখানে চেক সমর্থকদের স্বাগত জানানো হয়। আটলান্টায় বসবাসরত চেক প্রবাসী মিলাদা বোহাকোভা আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, "আমরাই জিতব, এটা নিশ্চিত। ঠিক ৩০ বছর আগে এখানে (আটলান্টায়) অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং সেবার আমরা অনেক পদক জিতে সফল হয়েছিলাম। আমি আশা করি এবার আমরা বিশ্বকাপেও জয়ী হব।" উল্লেখ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং চেক প্রজাতন্ত্র দুই দলই তাদের প্রথম ম্যাচে হেরে (০-১ ব্যবধানে) কিছুটা ব্যাকফুটে রয়েছে। ফলে টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম জয়ের খোঁজে থাকা দুই দলের জন্যই এই ম্যাচটি অত্যন্ত বাঁচা-মরার লড়াই।
আটলান্টা: ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের উচ্ছ্বাস বাড়ছে। আয়োজক ১৬টি শহরের অন্যতম আটলান্টায় চলছে জোর প্রস্তুতি। তবে এই উন্মাদনাকে পুঁজি করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অনলাইন প্রতারক চক্র। তাই বিশ্বকাপের টিকিট কেনা বা বিভিন্ন অফারের প্রলোভনে সাড়া দেওয়ার আগে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে গ্রেটার আটলান্টার বেটার বিজনেস ব্যুরো (বিবিবি)। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আটলান্টা নিউজ ফার্স্ট-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সংস্থাটির নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট জশ হেয়ার্স বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘ফ্রি বিশ্বকাপ টিকিট’, ‘বিশেষ উপহার’ কিংবা ‘সীমিত সময়ের অফার’ ধরনের পোস্টগুলোর ব্যাপারে মানুষের সচেতন থাকা জরুরি। তাঁর মতে, বড় কোনো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ ও আবেগকে কাজে লাগিয়ে প্রতারকরা নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করে থাকে। জশ হেয়ার্স বলেন, প্রতারণার সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণগুলোর একটি হলো তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিতে চাপ সৃষ্টি করা। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের বলা হয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অফার গ্রহণ না করলে সুযোগ হাতছাড়া হবে। এ ধরনের চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষকে তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ না দিয়েই প্রতারণার ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করা হয়। বিশ্বকাপের টিকিট বা পুরস্কারের নামে পরিচালিত অনেক প্রতারণায় সরাসরি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহও একটি বড় লক্ষ্য। প্রতারকরা কখনও দাবি করে, পুরস্কার পেতে হলে কর, প্রসেসিং ফি বা ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে। আবার কখনও ব্যাংকিং তথ্য, ক্রেডিট কার্ড নম্বর কিংবা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া হয়। এসব তথ্য ব্যবহার করে পরবর্তীতে আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে কিউআর কোডভিত্তিক প্রতারণার ঘটনাও বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে বিবিবি। বিশ্বকাপের টিকিট ডাউনলোড, বিশেষ অফার গ্রহণ বা নিবন্ধনের কথা বলে অনেককে কিউআর কোড স্ক্যান করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের প্রতারণাকে “কুইশিং” নামে চিহ্নিত করেন। কিউআর কোড স্ক্যান করার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা অজান্তেই এমন একটি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারেন, যেখানে তাদের লগইন তথ্য, পাসওয়ার্ড বা আর্থিক তথ্য চুরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। জশ হেয়ার্স আরও জানান, অনেক সময় প্রতারকরা পরিচিত ব্যক্তি বা বন্ধুর পরিচয় ব্যবহার করেও প্রতারণার চেষ্টা করে। ই-মেইল, টেক্সট মেসেজ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা পাঠিয়ে বলা হয় যে কোনো কারণে তারা বিশ্বকাপের টিকিট ব্যবহার করতে পারছেন না এবং কম দামে বিক্রি করতে চান। এ ধরনের প্রস্তাব পাওয়ার পর সরাসরি ফোন বা অন্য নির্ভরযোগ্য মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভেরিফায়েড বা নীল চিহ্নযুক্ত অ্যাকাউন্ট নিয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। জশ হেয়ার্স বলেন, শুধুমাত্র নীল চিহ্ন দেখেই কোনো অ্যাকাউন্টকে শতভাগ নির্ভরযোগ্য মনে করা উচিত নয়। প্রতারকরা অনেক সময় অফিসিয়াল প্রতিষ্ঠানের মতো দেখতে ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। তাই কোনো প্রতিষ্ঠানের অফার বা বিজ্ঞাপন যাচাই করতে হলে প্রথমে তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে তথ্য নিশ্চিত করা উচিত। টিকিট কেনার ক্ষেত্রে নিরাপদ অর্থ লেনদেনের বিষয়েও পরামর্শ দিয়েছে বিবিবি। সংস্থাটির মতে, ক্রেডিট কার্ড বা ক্রেতা সুরক্ষা সুবিধা রয়েছে এমন পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করা তুলনামূলক নিরাপদ। অন্যদিকে ওয়্যার ট্রান্সফার, সরাসরি নগদ অর্থ পাঠানো বা সীমিত সুরক্ষাযুক্ত অর্থ স্থানান্তর সেবার মাধ্যমে লেনদেন করলে প্রতারণার শিকার হলে অর্থ ফেরত পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বিবিবি আরও জানিয়েছে, তাদের ‘স্ক্যাম ট্র্যাকার’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভোক্তারা বিভিন্ন প্রতারণার তথ্য অনুসন্ধান করতে এবং সন্দেহজনক ঘটনার অভিযোগ জানাতে পারেন। সংস্থাটির মতে, অনেক প্রতারণার ঘটনা আনুষ্ঠানিকভাবে রিপোর্ট না হওয়ায় অন্যদের সতর্ক করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই প্রতারণার শিকার হলে বা সন্দেহজনক কার্যক্রমের মুখোমুখি হলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আয়োজনকে ঘিরে লাখো দর্শনার্থীর আগমন ঘটবে আটলান্টায়। সেই বাস্তবতায় স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের ধীরস্থির থাকার, তথ্য যাচাই করার এবং অপরিচিত লিংক, কিউআর কোড কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া বার্তার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে বেটার বিজনেস ব্যুরো। তাদের মতে, সামান্য সচেতনতাই বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি বা পরিচয় চুরির ঝুঁকি থেকে মানুষকে রক্ষা করতে পারে।
আটলান্টা: যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাবিলাহ পার্কস। জর্জিয়ার প্রথম মুসলিম নারী স্টেট সিনেটর হিসেবে ইতিহাস গড়ার পর এবার তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হয়ে লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে লড়ছেন। আগামী ১৬ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ডেমোক্র্যাটিক রানঅফ নির্বাচনকে ঘিরে তাঁর প্রচারণা ইতোমধ্যেই অঙ্গরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নাবিলাহ পার্কস ২০২২ সালে জর্জিয়া স্টেট সিনেটে নির্বাচিত হয়ে অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে এই আইনসভায় প্রবেশ করেন। একই সঙ্গে তিনি দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত নারীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্থাপন করেন। বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক উত্থান যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও গর্বের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জর্জিয়ার সপ্তম সিনেট জেলার প্রতিনিধিত্বকারী নাবিলাহ পার্কস চলতি বছর তাঁর সিনেট আসন থেকে পদত্যাগ করে লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেন। প্রাইমারি নির্বাচনে তিনি চার লাখেরও বেশি ভোট পেয়ে রানঅফে জায়গা করে নেন। আগামী ১৬ জুনের রানঅফে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির আরেক প্রার্থী ও স্টেট সিনেটর জশ ম্যাকলরিন। নির্বাচনী প্রচারণায় নাবিলাহ পার্কস জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, মেডিকেইড কর্মসূচির বিস্তার, ভোটাধিকার সুরক্ষা এবং নারীদের প্রজনন অধিকার রক্ষার মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর বক্তব্য, জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের হাতে থাকা বিপুল বাজেট উদ্বৃত্ত সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ব্যয় করা উচিত। বিশেষ করে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, শিশুযত্নের ব্যয় বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থবির মজুরি কর্মজীবী পরিবারগুলোর ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে বলে তিনি মনে করেন। প্রচারণার অংশ হিসেবে নাবিলাহ নিজেকে একজন দৃঢ় ও আপসহীন প্রগতিশীল নেতা হিসেবে তুলে ধরছেন। তিনি দাবি করছেন, সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনে রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে তিনি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীর কিছু আইন প্রণয়নসংক্রান্ত অবস্থানের সমালোচনাও করেছেন। যদিও এসব সমালোচনার বিষয়ে জশ ম্যাকলরিনের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। নাবিলাহর প্রচারণা ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট নেতার সমর্থন পেয়েছে। তাঁর সমর্থকদের মধ্যে রয়েছেন কংগ্রেসম্যান হ্যাঙ্ক জনসন, আটলান্টার সাবেক মেয়র শার্লি ফ্র্যাঙ্কলিন, ফুলটন কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি ফানি উইলিস এবং ডিকাল্ব কাউন্টির কমিশনার টেড টেরি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জর্জিয়ার লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদটি অঙ্গরাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদ। এই পদে নির্বাচিত ব্যক্তি স্টেট সিনেটের কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব রাখেন। ফলে আসন্ন রানঅফ নির্বাচন শুধু একটি দলীয় মনোনয়ন নির্ধারণের লড়াই নয়, বরং জর্জিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই পদে ডেমোক্র্যাটরা আবারও জয় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। এমন বাস্তবতায় নাবিলাহ পার্কসের প্রার্থিতা শুধু একটি রাজনৈতিক প্রচারণা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে অভিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণেরও প্রতীক হয়ে উঠেছে। আগামী ১৬ জুনের রানঅফ নির্বাচনে বিজয়ী হলে নাবিলাহ পার্কস নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আর সেখানে জয় পেলে তিনি জর্জিয়ার ইতিহাসে প্রথম মুসলিম লেফটেন্যান্ট গভর্নর হিসেবে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করতে পারেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন নারীর এমন সম্ভাব্য অর্জন ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহের সৃষ্টি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় গ্রীষ্মকালীন যুব কর্মসংস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে হাজারো কিশোর-কিশোরী প্রথমবারের মতো চাকরির সুযোগ পাচ্ছেন। কর্মসূচিটি তরুণদের আয়ের সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জনের পথও খুলে দিচ্ছে। দেশজুড়ে কিশোরদের জন্য গ্রীষ্মকালীন চাকরির সুযোগ কমে আসার আশঙ্কার মধ্যেই এই উদ্যোগ গুরুত্ব পাচ্ছে। এই সপ্তাহে কর্মসূচিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা প্রশিক্ষণ ও ওরিয়েন্টেশন কার্যক্রম শুরু করেছে। এরপর তারা শহরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করবে। অংশগ্রহণকারীদের একজন ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী কেডেন ম্যালোন, যিনি জীবনের প্রথম চাকরিতে যোগ দিতে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, পরিবারের আর্থিক চাপ কমাতে এবং মায়ের পাশে দাঁড়াতেই তিনি কাজ করতে চান। কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে আটলান্টার সল্টবক্সে অবস্থিত স্লাশি বক্স এটিএল। প্রতিষ্ঠানটির মালিক স্যান্ডি মুর জানান, তরুণদের বাস্তব কর্মপরিবেশে কাজ শেখার সুযোগ করে দিতেই তিনি এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন। এখানে শিক্ষার্থীরা গ্রাহকসেবা, দলগত কাজ, যোগাযোগ দক্ষতা এবং বিক্রয় ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা অর্জন করছে। আটলান্টা সিটির ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ৬ হাজার তরুণ চাকরির সুযোগ পেয়েছিল। নিবন্ধন ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও ১ হাজার ৬০০-এর বেশি যোগ্য আবেদনকারীর জন্য চাকরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। স্লাশি বক্স এটিএলে কর্মরত শিক্ষার্থীরা চার সপ্তাহের কর্মসূচিতে সপ্তাহে প্রায় ২০ ঘণ্টা কাজ করে ঘণ্টাপ্রতি ১৫ ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারবে। স্যান্ডি মুর জানান, কর্মদক্ষতা ভালো হলে ভবিষ্যতে তাদের স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। কেডেন ম্যালোনের মতো অনেক তরুণের কাছে এই কর্মসূচি শুধু আয়ের সুযোগ নয়, বরং কর্মজীবনে প্রথম পদক্ষেপ নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তাদের আশা, এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের কর্মজীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে খারাপ যানজটপূর্ণ শহরগুলোর তালিকায় আবারও উঠে এসেছে জর্জিয়ার মেট্রো আটলান্টার নাম। ভোক্তা বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমার অ্যাফেয়ার্সের নতুন এক সমীক্ষায় দেশটির সবচেয়ে খারাপ ট্রাফিক পরিস্থিতির মহানগর এলাকার মধ্যে আটলান্টার অবস্থান হয়েছে অষ্টম। তবে শহরটির বাসিন্দাদের জন্য সামান্য স্বস্তির খবরও রয়েছে। ২০২৫ সালের তালিকায় যেখানে আটলান্টার অবস্থান ছিল পঞ্চম, এবার তা কিছুটা উন্নতি করে অষ্টম স্থানে নেমে এসেছে। যদিও যানজটের ভোগান্তি এখনো শহরটির অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবেই রয়ে গেছে। কনজ্যুমার অ্যাফেয়ার্স তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকলে গাড়ির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, ফলে দ্রুত যন্ত্রাংশ ক্ষয় হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত যানজট সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে গবেষণায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কর্মঘণ্টায় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, অপর্যাপ্ত গণপরিবহন ব্যবস্থা এবং দীর্ঘ যাতায়াতের সংস্কৃতি—এসব কারণে আটলান্টাসহ বেশ কয়েকটি বড় শহরে ট্রাফিক পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। তালিকায় সবচেয়ে খারাপ ট্রাফিকের শহর হিসেবে শীর্ষে রয়েছে লস এঞ্জেলস। এরপর রয়েছে ওয়াশিংটন, নিউ ইয়র্ক সিটি, সান ফ্রান্সিসকো, হিউস্টন, সিয়াটল এবং মিয়ামি। আটলান্টার পর তালিকায় রয়েছে সান জোসে ও রিভারসাইড। অন্যদিকে সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক ট্রাফিক পরিস্থিতির শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে রচেস্টের, নিউইয়র্ক। এছাড়া সেন্ট লুইস, ওকলাহোমা সিটি, গ্র্যান্ড রেপিডস ও সল্ট লেক সিটির মতো শহরগুলো তুলনামূলকভাবে কম যানজটপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় শহরগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কার্যকর গণপরিবহন ব্যবস্থা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে যানজট সমস্যা কমানো কঠিন হয়ে পড়বে। আটলান্টার ক্ষেত্রেও একই চ্যালেঞ্জ সামনে রয়েছে বলে মনে করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।
জর্জিয়ার আটলান্টায় পৃথক সহিংস হামলার ঘটনায় ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS)-এর এক কর্মীসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কর্তৃপক্ষ জানায়, নিহতদের একজন লোরেন বুলিস , যিনি ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি -এর অফিস অফ ইন্সপেক্টর জেনারেল -এ কর্মরত ছিলেন। তিনি সকালে কুকুর নিয়ে হাঁটতে বের হলে হামলার শিকার হন। আরেক নারী পৃথক স্থানে নিহত হন। পুলিশ জানিয়েছে, আহত এক পুরুষকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজনের নাম ওলাওলুকিতান এডন আবেল। তদন্তকারীরা জানান, হামলাগুলো এলোমেলোভাবে সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে, তবে ঘটনার পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পর ফেডারেল ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং আশপাশের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে হামলার কারণ ও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বাংলাদেশ সরকারের নতুন কনস্যুলেট অফিস স্থাপনকে কেন্দ্র করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশেষ করে জর্জিয়ার আটলান্টায় বসবাসরত প্রবাসীরা প্রশ্ন তুলেছেন—যেখানে প্রায় ৪০ হাজার বাংলাদেশির বসবাস, সেই শহরকে বাদ দিয়ে কেন ফ্লোরিডার মায়ামীতে কনস্যুলেট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। কমিউনিটির বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠকদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জনসংখ্যার দিক থেকে আটলান্টা দক্ষিণ-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর একটি। এখান থেকে ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, টেনেসি, আলাবামা, নর্থ ক্যারোলাইনা ও সাউথ ক্যারোলাইনা—এই ছয়টি অঙ্গরাজ্যের প্রবাসী বাংলাদেশিরা সহজেই যাতায়াত করতে পারেন। ফলে কনস্যুলেট অফিস আটলান্টায় হলে বৃহত্তর সংখ্যক মানুষ সরাসরি সেবা নিতে পারতেন বলে মনে করছেন প্রবাসীরা। অন্যদিকে মায়ামী যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত হওয়ায় পাশের অঙ্গরাজ্যগুলোর প্রবাসীদের জন্য সেখানে গিয়ে কনস্যুলার সেবা নেওয়া সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, একটি কনস্যুলেট যদি একটি শহরেই স্থাপন করতে হয়, তাহলে অধিক সংখ্যক প্রবাসীর সুবিধা বিবেচনা করে আটলান্টাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত ছিল। প্রবাসী নেতারা আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে সোনালী ব্যাংকের অর্থ প্রেরণ সেবা “সোনালী একচেঞ্জ” আটলান্টা থেকে পরিচালিত হয়ে আসছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য শাখার তুলনায় এখান থেকে বেশি রেমিট্যান্স আসে। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার সেবা কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও আটলান্টায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেশি ছিল বলে দাবি করা হয়। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বাড়ছে এবং বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের পক্ষ থেকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, যদি ভবিষ্যতে একাধিক কনস্যুলেট স্থাপনের পরিকল্পনা থাকে, তাহলে ফ্লোরিডার পাশাপাশি জর্জিয়ার আটলান্টাতেও কনস্যুলেট স্থাপন করা উচিত। প্রবাসীদের আশা, অধিক সংখ্যক বাংলাদেশির সুবিধা বিবেচনা করে সরকার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে কনস্যুলেট স্থাপনের বিষয়ে আবারও পর্যালোচনা করবে এবং বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।