- প্রচ্ছদ
- Topic
আটলান্টা
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা থাকলেও নির্দিষ্ট কিছু পেশায় এখনো কর্মীর চাহিদা তুলনামূলক বেশি। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে দেশজুড়ে প্রায় ৭৩ লাখ চাকরির পদ খালি ছিল। একই সময়ে ন্যাশভিল, আটলান্টা, কলম্বাস ও র্যালেইয়ের মতো বড় শহরগুলোতে বেকারত্বের হারও তুলনামূলক কম ছিল। তবে শুধু একটি দক্ষতা থাকলেই ৩০ দিনের মধ্যে চাকরি নিশ্চিত হবে বা চাকরি নিজে থেকে খুঁজে আসবে, এমন কোনো তথ্য নেই। চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা নির্ভর করে অভিজ্ঞতা, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স, বৈধভাবে কাজের অনুমতি, ভাষাগত দক্ষতা, অবস্থান এবং নিয়োগকর্তার চাহিদার ওপর। চাহিদার দিক থেকে নার্সিং ও সেবাযত্নের কাজ এখনো গুরুত্বপূর্ণ পেশাগুলোর মধ্যে রয়েছে। ২০২৫ সালে নিবন্ধিত নার্সদের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ৯৭ হাজার ৫৫০ ডলার। আগামী ১০ বছর এ পেশায় কর্মসংস্থান আরও ৬ শতাংশ বাড়তে পারে। এ সময়ে বছরে গড়ে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ৮০০টি নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে। নার্সিং সহকারীদের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালে এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ৪২ হাজার ২৬০ ডলার। আগামী ১০ বছরে বছরে গড়ে প্রায় ২ লাখ ৩ হাজার ৩০০টি নার্সিং সহকারী ও রোগীসেবাকর্মীর পদে নিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে নার্সিং সহকারী হিসেবে কাজ করতে অনেক রাজ্যে নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রয়োজন। ট্রাক চালনাও যুক্তরাষ্ট্রে বড় কর্মসংস্থানের একটি ক্ষেত্র। ভারী ট্রাক ও ট্রেইলার চালকদের ২০২৫ সালের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ৫৮ হাজার ৬৪০ ডলার। আগামী ১০ বছরে এ পেশায় কর্মসংস্থান ৪ শতাংশ বাড়তে পারে এবং বছরে গড়ে প্রায় ২ লাখ ১৪ হাজার ৫০০টি চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ ধরনের কাজে প্রয়োজনীয় বাণিজ্যিক ড্রাইভার লাইসেন্স বা সিডিএল থাকতে হয়। কারিগরি পেশাগুলোর চাহিদাও কম নয়। ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের কারিগর এবং ওয়েল্ডারের মতো কাজে দক্ষ কর্মীদের বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজন রয়েছে। এসব পেশায় সবসময় চার বছরের কলেজ ডিগ্রি প্রয়োজন হয় না। তবে প্রশিক্ষণ, কাজের অভিজ্ঞতা এবং রাজ্যভেদে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স থাকা গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও দক্ষ কর্মীদের জন্য সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা, তথ্যনিরাপত্তা ও তথ্য বিশ্লেষণের মতো কাজে চাহিদা রয়েছে। ২০২৫ সালে কম্পিউটার সহায়তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ৬২ হাজার ৮৯০ ডলার। তথ্যনিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ১৮০ ডলার। আগামী ১০ বছরে তথ্যনিরাপত্তা বিশ্লেষকদের কর্মসংস্থান ২১ শতাংশ বাড়তে পারে। শহরভেদেও শ্রমবাজারের চিত্র আলাদা। ২০২৬ সালের জুলাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, বড় শহরগুলোর মধ্যে ন্যাশভিলে বেকারত্বের হার ছিল প্রায় ৩ শতাংশ। আটলান্টা, কলম্বাস ও র্যালেইয়ে তা ছিল ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং শার্লটে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। একই সময়ে র্যালেইয়ে এক বছরে বেসরকারি ও সরকারি মিলিয়ে মোট বেতনভুক্ত চাকরি ২ দশমিক ১ শতাংশ এবং শার্লটে ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি খোঁজার সময় শুধু কোন শহরে বেশি চাকরি রয়েছে, সেটি দেখলেই হবে না। নিজের দক্ষতার চাহিদা, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স, বৈধভাবে কাজের অনুমতি, ইংরেজি দক্ষতা, বেতন, বাসাভাড়া, কর এবং যাতায়াত খরচ একসঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো দক্ষতাই চাকরির নিশ্চয়তা দেয় না। তবে সঠিক প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স এবং বাস্তব কাজের দক্ষতা থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে নিজের চাকরির সুযোগ বাড়ানো সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মোসেস রাস নামের ২৪ বছর বয়সী এক পুলিশ রিক্রুট নিহত হয়েছেন। আটলান্টা পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এপিডি) জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল সোয়া সাতটার দিকে মোরল্যান্ড অ্যাভিনিউ ও ম্যাকডোনাহ বুলেভার্ডের সংযোগস্থলে একটি গাড়ি ও মোটরসাইকেলের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কর্মস্থলে যোগ দিতে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হলে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে গ্রেডি মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেওয়া হয়, তবে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আটলান্টা পুলিশ একাডেমির ৩০২তম ব্যাচের সদস্য হিসেবে মোসেস রাস তার ১৬তম সপ্তাহের প্রশিক্ষণে ছিলেন। এছাড়া সম্প্রতি ফিফা বিশ্বকাপ চলাকালীন আটলান্টার ডাউনটাউনে দায়িত্ব পালনেও তাকে নিয়োজিত করা হয়েছিল। এপিডিতে যোগদানের আগে তিনি দুই বছর আটলান্টা ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনসে কর্মরত ছিলেন এবং এর আগে মার্কিন কোস্ট গার্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আটলান্টার মেয়র আন্দ্রে ডিকেন্স এবং পুলিশ প্রধান ডারিন শিয়ারবাম গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, মোসেস ছিলেন জনসেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত থাকা একজন আদর্শ ব্যক্তি। সহকর্মীর এমন আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক মৃত্যুতে শোক পালনের সুযোগ দিতে অন্য পুলিশ রিক্রুটদের প্রশিক্ষণ সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে একাডেমি কর্তৃপক্ষ। পুলিশ প্রধান ডারিন শিয়ারবাম এই পরিস্থিতিকে সবার জন্য এক "কঠিন সময়" বলে উল্লেখ করেছেন। দুর্ঘটনায় জড়িত অপর গাড়ির চালক সামান্য আহত হলেও তার অবস্থা আশঙ্কাজনক নয় বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। মর্মান্তিক এই সড়ক দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ উদঘাটনে এখনো তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
লেবার ডে ছুটিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এবার প্রায় ২৩ লাখ যাত্রীর সমাগমের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই বিপুলসংখ্যক যাত্রী বিমানবন্দরটি ব্যবহার করতে পারেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার যাত্রীর সংখ্যা প্রায় ১ শতাংশ বাড়তে পারে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর হবে এবারের সবচেয়ে ব্যস্ত দিন। ওই দিন ৩ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি যাত্রী বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াত করতে পারেন। গত বছর সবচেয়ে ব্যস্ত দিনে প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার যাত্রীর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই হিসাবের তুলনায় সম্ভাব্য যাত্রীসংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি বেশি। ছুটির সময়ে বাড়তি যাত্রী চাপের কথা বিবেচনা করে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ভ্রমণকারীদের আগেভাগে পৌঁছানোর পরামর্শ দিয়েছে। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের যাত্রীদের নির্ধারিত উড্ডয়নের অন্তত দুই ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে বলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে অন্তত তিন ঘণ্টা আগে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের পার্কিং, বিমানবন্দরে নামা এবং যাত্রী নেওয়ার ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সময় হাতে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটে পার্কিংয়ের খালি জায়গা এবং নিরাপত্তা তল্লাশির অপেক্ষার সময়ের সর্বশেষ তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে যাত্রীদের নিজ নিজ বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের অবস্থান, গেট নির্ধারণ এবং লাগেজসংক্রান্ত নিয়ম জেনে নিতে বলা হয়েছে। ছুটির সময়ে যাত্রীর চাপ বাড়তে পারে বলে প্রয়োজনীয় তথ্য আগে থেকেই যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের লাগেজও বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে ভালোভাবে পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্র থাকলে তা খালি অবস্থায় যথাযথভাবে নিরাপদ করে শুধু চেক-ইন করা লাগেজে রাখতে হবে। কোন কোন জিনিস বিমানবন্দরে নেওয়া যাবে, সে বিষয়ে পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসনের তালিকা দেখে নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। গত বছরও লেবার ডে ছুটির সময়ে আটলান্টা বিমানবন্দর দিয়ে ২৩ লাখের বেশি যাত্রী যাতায়াতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালের ওই যাত্রাপর্ব ২৭ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছিল এবং সবচেয়ে ব্যস্ত দিনে প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার যাত্রী বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারেন বলে তখন পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। এবারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, লেবার ডে ছুটিতে আটলান্টা বিমানবন্দরে যাত্রীর চাপ গত বছরের তুলনায় কিছুটা বাড়তে পারে। বিশেষ করে ৪ সেপ্টেম্বর সবচেয়ে ব্যস্ত দিন হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় যাত্রীদের পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় ব্যক্তিগত পার্কিং লট পরিচালনাকারীদের আরও জবাবদিহির আওতায় আনতে এবং চালকদের পার্কিংয়ের আগে সুস্পষ্ট তথ্য প্রদানের লক্ষ্যে নতুন একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শহরের নেতারা প্রস্তাবিত এই নতুন আইনটির নাম দিয়েছেন ‘পার্কিং বিল অব রাইটস’। আটলান্টার চালকরা দীর্ঘদিন ধরেই কোথায় এবং কীভাবে পার্কিংয়ের বিল পরিশোধ করবেন তা নিয়ে বিভ্রান্তি ও ভোগান্তির অভিযোগ করে আসছিলেন। অনেকেই কিয়স্ক খুঁজে না পেয়ে বিরক্ত হয়ে জরিমানার ঝুঁকি নিতে বাধ্য হন। এই বিশৃঙ্খলা দূর করতেই কাউন্সিল মেম্বার জেসন ডজিয়ার আইনটি প্রস্তাব করেছেন, যা সোমবার পূর্ণাঙ্গ কাউন্সিলের অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হতে পারে। প্রস্তাবিত এই বিলটি অনুমোদিত হলে পার্কিং লটগুলোতে মূল্য তালিকা এবং মূল্য পরিশোধের মাধ্যমগুলো সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করে সাইনবোর্ড টানানো বাধ্যতামূলক হবে। শুধুমাত্র টেক্সট বা কিউআর কোডের মাধ্যমে পেমেন্ট নেওয়া হলে চালকদের তা আগেই জানাতে হবে অথবা বিকল্প ব্যবস্থা রাখতে হবে। এছাড়া কোনো চালক পার্কিং লটে প্রবেশের পর যদি সেখানে গাড়ি না রাখার সিদ্ধান্ত নেন, তবে তাকে বিনা খরচে লট ত্যাগের জন্য একটি নির্দিষ্ট ‘গ্রেস পিরিয়ড’ দিতে হবে। নতুন নিয়মে লটগুলোতে কাস্টমার সার্ভিসের ফোন নম্বর বা ওয়েবসাইট, কার্য পরিচালনার সময়, পরিচালনাকারীর নাম এবং ধারণক্ষমতার তথ্যও স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করতে হবে। পাশাপাশি পার্কিং লটটি ক্যাশলেস কি না, কর্মী আছে কি না বা গেট রয়েছে কি না, সে বিষয়গুলোও পরিষ্কারভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। জরিমানা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও নতুন নিয়মে যুগান্তকারী স্বচ্ছতা আনা হয়েছে। পরিচালনাকারীদের এখন থেকে চালকদের লিখিত নোটিশ প্রদান করতে হবে এবং কোনো ক্রেডিট বা কালেকশন এজেন্সির কাছে পাঠানোর আগে আপত্তির জন্য অন্তত ৩০ দিন সময় দিতে হবে। বিরোধ চলাকালীন কোনো জরিমানা কার্যকর করা যাবে না। অন্যদিকে, পার্কিং লটে ব্যবহৃত লাইসেন্স প্লেট রিডার ক্যামেরার ব্যবহার নিষিদ্ধ না হলেও এর ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। ক্যামেরা ব্যবহারের বিষয়টি সাইনবোর্ডে জানাতে হবে এবং সংগৃহীত ডেটা মার্কেটিং বা বিজ্ঞাপনের কাজে বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। আইনটি গত বুধবার আটলান্টার ট্রান্সপোর্টেশন কমিটিতে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে লট পরিচালনাকারীরা নিয়মগুলো বাস্তবায়নের জন্য ১৮০ দিন সময় পাবেন এবং এর ব্যত্যয় ঘটলে এক হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা থেকে ডালাসগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মাঝ আকাশে এক যাত্রীর ল্যাপটপে হঠাৎ আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার (২২ আগস্ট) ঘটা এ দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচজন যাত্রী আহত হয়েছেন। পাইলটের দেওয়া তথ্যমতে, বিমানটি আকাশে উড্ডয়নরত অবস্থায় হঠাৎ একটি ল্যাপটপ থেকে ধোঁয়া ও আগুন বের হতে শুরু করে। আতঙ্কিত যাত্রীদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়লেও বিমানের ক্রু ও ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্টদের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এরপর পাইলট অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বিমানটিকে নিরাপদে ডালাস বিমানবন্দরে অবতরণ করাতে সক্ষম হন। নিরাপদে অবতরণের পর আহত পাঁচ যাত্রীর মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বাকি চারজনের আঘাত তুলনামূলকভাবে গুরুতর না হওয়ায় তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, ফ্লাইটটিতে পাইলট, কো-পাইলট ও ক্রুসহ মোট ১৩৩ জন আরোহী ছিলেন। মাঝ আকাশে এমন ভীতিকর অগ্নিকাণ্ডের পরও যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ায় আমেরিকান এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ পাইলট, কো-পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্টদের সাহসিকতার প্রশংসা করে ধন্যবাদ জানিয়েছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) সতর্ক করে জানিয়েছে যে, ল্যাপটপে থাকা লিথিয়াম ব্যাটারি বিভিন্ন কারণে অতিরিক্ত গরম হয়ে এমন অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটাতে পারে। সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে এখন পর্যন্ত আকাশে উড্ডয়নরত অবস্থায় ল্যাপটপ বিস্ফোরণ বা আগুন লাগার অন্তত ৫৮টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যা আকাশপথে যাত্রী নিরাপত্তার জন্য একটি নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আটলান্টা থেকে ডালাসগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট অবতরণের সময় যাত্রীর ল্যাপটপে আগুন ধরে কেবিন ধোঁয়ায় ভরে যায়। শুক্রবারের এ ঘটনায় কয়েকজন যাত্রী পুড়ে যেতে পারেন বলে পাইলট কন্ট্রোল টাওয়ারকে জানান। পরে বিমানটি নিরাপদে ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে অবতরণ করে। ঘটনাটি ঘটে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ২৩৯৮-এ। বিমানটিতে ১৩৩ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। অবতরণের সময় পাইলট কন্ট্রোল টাওয়ারকে বিমানের পেছনের দিকে কেবিন ফায়ারের কথা জানান এবং যাত্রীদের মধ্যে চার থেকে পাঁচজন পুড়ে থাকতে পারেন বলে উল্লেখ করেন। ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং জ্বলন্ত ডিভাইসটি একটি থার্মাল কনটেইনমেন্ট ব্যাগে নিরাপদে রাখেন। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, আগুনটি ল্যাপটপের ব্যাটারির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল। ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবতরণের পর একজন যাত্রীকে ঘটনাস্থলেই চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আমেরিকান এয়ারলাইন্সও জানিয়েছে, ফ্লাইটটি নিরাপদে অবতরণ করে এবং জরুরি কর্মীরা বিমানটিকে গেটে পৌঁছানোর পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। বিমানটি শুক্রবার সন্ধ্যায় আটলান্টার হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে ডালাসের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। অবতরণের সময় কেবিনে ধোঁয়া দেখা দেওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা নেন ফ্লাইট ক্রুরা। লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন বা ধোঁয়া তৈরি করতে পারে। ব্যাটারি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, অতিরিক্ত গরম, পানির সংস্পর্শ, অতিরিক্ত চার্জ বা উৎপাদনগত ত্রুটির মতো বিভিন্ন কারণে এ ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে FAA সতর্ক করেছে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বিমানশিল্পে কর্মীর সংকট বাড়তে থাকায় মেট্রো আটলান্টার বিভিন্ন উচ্চবিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের পাইলট ও বিমানশিল্পের কর্মী হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। জাতীয় বিমান দিবস উপলক্ষে বিমানশিল্পে কর্মীর ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিষয়টি সামনে এসেছে। জর্জিয়ার গুইনেট কাউন্টির ম্যাক্সওয়েল উচ্চবিদ্যালয়ের বিমান পরিচালনা কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের বিমান চালনার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কর্মসূচিটির প্রশিক্ষক লিন্ডা মাইনর নিজেও ছোটবেলা থেকে পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তার বাবা ও ভাই বিমান চালাতেন এবং তার স্বামী ও ছেলেরাও বিমান চালনার সঙ্গে যুক্ত। ম্যাক্সওয়েল উচ্চবিদ্যালয়ের এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিমান চালনার প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আভা হিল জানান, কিশোর বয়সেই এমন প্রশিক্ষণের সুযোগ পাওয়া তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, এ ধরনের সুযোগ না থাকলে পাইলটের সনদ অর্জন ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ পেতে অনেক বেশি সময় লাগতে পারে। ফুলটন, ডিকালব ও ক্লেটন কাউন্টির স্কুল জেলাগুলোতেও বিমানচালনা বিষয়ক কর্মসূচি চালু রয়েছে। এসব কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন অনুমোদিত বিমানচালনা সিমুলেটর ব্যবহার করে প্রশিক্ষণ নেয়। সিমুলেটরে প্রশিক্ষণের কিছু সময় পাইলটের সনদ অর্জনের প্রয়োজনীয় সময়ের হিসাবেও যুক্ত হতে পারে। এসব কর্মসূচির সাবেক শিক্ষার্থীদের কেউ বাণিজ্যিক ও সামরিক পাইলট হয়েছেন। কেউ বোয়িং ও লকহিড মার্টিনে প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করছেন। আবার কেউ ডেল্টা এয়ার লাইন্সের কারিগরি পরিচালনা বিভাগে যুক্ত হয়েছেন। বিমানশিল্পে নতুন কর্মীর প্রয়োজনীয়তা দ্রুত বাড়ছে। বোয়িংয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৪৫ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে চাহিদা পূরণ করতে প্রায় ২৫ লাখ নতুন বিমানশিল্প পেশাজীবীর প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার পাইলটের প্রয়োজন হতে পারে। তবে বিমানশিল্পে শুধু পাইলটেরই চাহিদা নেই। প্রকৌশলী, কেবিন ক্রু এবং বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রকদেরও প্রয়োজন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন এপ্রিল মাসের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, পরবর্তী তিন বছরে প্রায় ৭ হাজার বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক নিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে। লিন্ডা মাইনরের মতে, বিমানশিল্পকে শুধু পাইলটের পেশা হিসেবে দেখলে এই খাতের বড় একটি অংশ বাদ পড়ে যায়। বিমান তৈরি, যন্ত্রাংশ উৎপাদন, বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। জর্জিয়াতেও বিমানশিল্প বড় কর্মসংস্থান ক্ষেত্রগুলোর একটি বলে জানান মাইনর। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজ্যটিতে বিমান তৈরি, যন্ত্রাংশ উৎপাদন, বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষণাবেক্ষণের মতো বিভিন্ন কাজের সুযোগ রয়েছে। গালফস্ট্রিম ও লকহিডের মতো প্রতিষ্ঠানও সেখানে বিমানশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। মাইনর মনে করেন, তার শিক্ষার্থীদের অর্জিত দক্ষতা ভবিষ্যতে বিমানশিল্পের ক্রমবর্ধমান কর্মী চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে। শিক্ষার্থীদের কেউ ইতোমধ্যে বিমানচালক হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন, আবার অনেকে বিমানশিল্পের অন্যান্য পেশার দিকেও এগিয়ে যেতে পারেন। জাতীয় বিমান দিবসের সময়ে আটলান্টার উচ্চবিদ্যালয়গুলোর এসব কর্মসূচি তাই ভবিষ্যৎ বিমানশিল্পের কর্মী তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে সামনে এসেছে। শিল্পে পাইলটের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়তে থাকায় শিক্ষার্থীদের স্কুল পর্যায় থেকেই প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের মেট্রো আটলান্টায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে কিশোর-কিশোরীদের একত্রিত হওয়ার ঘটনাগুলো থেকে প্রায়ই গ্রেপ্তার ও কারফিউ ভঙ্গের মতো অপরাধের সৃষ্টি হচ্ছে। তবে আটলান্টা পাবলিক স্কুলের দুই শিক্ষার্থীর মতে, এই সমস্যার মূল কারণ একেবারেই ভিন্ন। তারা মনে করেন, কিশোরদের নিরাপদে সময় কাটানোর বা আড্ডা দেওয়ার মতো উপযুক্ত জায়গার অভাবেই এমনটা ঘটছে। এই সমস্যার সমাধানে আটলান্টা শহরের পক্ষ থেকে পাওয়া ৫০ হাজার ডলার অনুদান কাজে লাগিয়ে নতুন একটি উদ্যোগ নিয়েছেন ড্যানিয়েল ম্যাকলাফলিন থেরেল হাই স্কুলের শেষ বর্ষের ছাত্র ডেভিন মিচেল এবং মেনার্ড হোলব্রুক জ্যাকসন হাই স্কুলের শিক্ষার্থী হেইলি আরভিং। মিচেল ও আরভিংয়ের এই ধারণার শুরুটা হয়েছিল মূলত বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর একটি সাধারণ চেষ্টা থেকে। মিচেল জানান, তারা একবার আটলান্টিক স্টেশনে ঘুরতে গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে যে বিকেল ৩টার পর কিশোরদের জন্য কারফিউ রয়েছে, তা তাদের জানা ছিল না। সেখান থেকে তাদের বের করে দেওয়ার পর তারা উপলব্ধি করেন যে, কিশোরদের জন্য সমাজ ও শহরের পরিসরগুলো কতটা সংকুচিত হয়ে এসেছে। আরভিং জানান, তার বড় ভাইবোনদের কোনো বাধা ছাড়াই শপিং মল বা সিনেমা হলে ঘুরতে দেখেছেন তিনি, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি এবং স্কুলের বাইরের এই ‘থার্ড স্পেস’ বা তৃতীয় পরিসরগুলো কিশোরদের জন্য ক্রমশ কমে আসছে। এই দুই শিক্ষার্থীর বিশ্বাস, কিশোর-কিশোরীদের যখন সময় কাটানোর মতো ভালো কোনো জায়গা থাকে না, তখন একঘেয়েমি থেকেই অনেক সময় তারা বিপথে পা বাড়ায়। তবে মিচেলের মতে, বিষয়টিকে কেবল বাহ্যিক দৃষ্টিতে দেখলে চলবে না, বরং কিশোরদের উদ্দেশ্য এবং চারপাশের পরিবেশও বিবেচনায় নিতে হবে। নিজেদের প্রাপ্ত অনুদান দিয়ে তারা ‘দ্য স্পট’ (The Spot) নামের এমন একটি ইনডোর বা অভ্যন্তরীণ কেন্দ্র গড়ে তুলতে চান, যেখানে কিশোররা নিরাপদে ও আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে সময় কাটাতে পারবে। এটি মূলত ওয়াইএমসিএ (YMCA) বা অন্যান্য সুপরিচিত আড্ডার জায়গাগুলোর একটি আধুনিক ও উদ্ভাবনী রূপ হতে যাচ্ছে। আটলান্টার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই জায়গায় কফি শপ, বাস্কেটবল কোর্ট, কাজের জায়গা এবং ব্যবসার জন্য ভাড়ায় চালিত কক্ষের সুবিধা থাকবে। কিশোরদের যাতে অন্যান্য জায়গার মতো এখানে কোনো বাধ্যবাধকতার মুখে পড়তে না হয়, সেদিকেও নজর রাখছেন তারা। আরভিং জানান, যেহেতু শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত কিশোররা বেশি বাইরে বের হয়, তাই সপ্তাহান্তে ‘দ্য স্পট’-এর কার্যক্রমের সময়সীমা বেশি থাকবে। মিচেল ও আরভিং বর্তমানে তাদের এই ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে বিনিয়োগকারীদের খুঁজছেন। আগামী শরতেই তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের একটি পরীক্ষামূলক মডেল (প্রুফ অব কনসেপ্ট) সবার সামনে উপস্থাপন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত বর্ধনশীল মেট্রো এলাকাগুলোর অন্যতম আটলান্টায় জনসংখ্যা এখনও বাড়ছে, তবে সেই বৃদ্ধির গতি কমে এসেছে। আটলান্টা রিজিওনাল কমিশনের সর্বশেষ হিসাবে, গত এক বছরে ১১ কাউন্টির মেট্রো আটলান্টায় প্রায় ৫৩ হাজার ৭০০ নতুন বাসিন্দা যোগ হলেও বাড়ির সীমিত সরবরাহ, চড়া দাম এবং নতুন বাড়ি নির্মাণের ধীরগতি মানুষের স্থানান্তরে বাধা তৈরি করছে। আটলান্টা রিজিওনাল কমিশনের ২০২৬ সালের পপুলেশন এস্টিমেট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ১১ কাউন্টির আটলান্টা অঞ্চলে ৫৩ হাজার ৬৯০ জন নতুন বাসিন্দা যোগ হয়েছেন। এতে অঞ্চলটির মোট জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৩ লাখ ৩৯ হাজার। এক বছরে জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১ শতাংশ। আগের বছর এই বৃদ্ধির হার ছিল ১ দশমিক ২ শতাংশ এবং তখন নতুন বাসিন্দা যোগ হয়েছিল ৬৪ হাজার ৪০০ জন। অর্থাৎ আটলান্টায় মানুষ আসা বন্ধ হয়নি, কিন্তু আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১০ হাজার ৭০০ কম মানুষ যুক্ত হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি হিসাবেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ২০২০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মেট্রো আটলান্টার গড় বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশ। ২০১০-এর দশকে এই হার ছিল ১ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০০০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে ২ শতাংশ এবং ১৯৯০-এর দশকে ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। আটলান্টা রিজিওনাল কমিশন জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি কমে যাওয়ার পেছনে আবাসন সংকটকে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অঞ্চলে বাড়ির চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম উঁচু রয়েছে। এর সঙ্গে নতুন বাড়ি নির্মাণের পারমিট কমে যাওয়া এবং চাকরি বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমে আসাও প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য এলাকা থেকে আটলান্টায় স্থানান্তর হতে আগ্রহীদের ওপর বাড়ির চড়া দাম প্রভাব ফেলছে। একসময় তুলনামূলক কম খরচে বাড়ি কেনা এবং জীবনযাপনের সুযোগ আটলান্টার অন্যতম আকর্ষণ ছিল। কিন্তু জনসংখ্যা ও আবাসনের চাহিদা বাড়তে থাকায় সেই সুবিধা আগের মতো নেই। নতুন বাড়ি নির্মাণের তথ্যেও সংকটের চিত্র স্পষ্ট। ২০২৫ সালে ১১ কাউন্টির আটলান্টা অঞ্চলে মোট ২৪ হাজার ১৫টি রেসিডেন্সিয়াল বিল্ডিং পারমিট ইস্যু করা হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এটি ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ কম। বর্তমান নির্মাণের হার দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায়ও অনেক নিচে। ১৯৮০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চলে বছরে গড়ে প্রায় ৩৩ হাজার ১৫০টি রেসিডেন্সিয়াল বিল্ডিং পারমিট ইস্যু হয়েছে। অর্থাৎ বর্তমান আবাসন নির্মাণ সেই ঐতিহাসিক গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে রয়েছে। তবে পুরো মেট্রো এলাকার বৃদ্ধির গতি কমলেও সব জায়গায় পরিস্থিতি একই নয়। গত এক বছরে ১১টি কাউন্টির প্রতিটিতেই জনসংখ্যা বেড়েছে। ফুলটন কাউন্টিতে বৃদ্ধির হার ছিল সবচেয়ে বেশি, প্রায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ। এরপর ফরসাইথ কাউন্টিতে ১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং হেনরি কাউন্টিতে ১ দশমিক ৩ শতাংশ জনসংখ্যা বেড়েছে। আটলান্টা শহরেও নতুন বাসিন্দা যোগ হওয়া অব্যাহত রয়েছে। গত এক বছরে শহরটিতে প্রায় ৬ হাজার ৯০০ নতুন বাসিন্দা যোগ হয়ে মোট জনসংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ৪৯ হাজার ৬০০ জনে পৌঁছেছে। আটলান্টা রিজিওনাল কমিশনের মতে, মিডটাউন এবং আটলান্টা বেল্টলাইনের আশপাশে মাল্টিফ্যামিলি হাউজিং ডেভেলপমেন্ট শহরের সাম্প্রতিক জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শহরের কেন্দ্র ও আশপাশে অ্যাপার্টমেন্ট এবং অন্যান্য মাল্টিফ্যামিলি হাউজিং নির্মাণের কারণে আটলান্টা শহরের বৃদ্ধির হার আগের কয়েক দশকের তুলনায় বেশি রয়েছে। ২০২৫ সালে আটলান্টা শহরেই ৫ হাজার ৬২২টি রেসিডেন্সিয়াল বিল্ডিং পারমিট ইস্যু হয়েছে, যা অঞ্চলটির মধ্যে সর্বোচ্চ। আটলান্টা শহরের বাইরের ফুলটন কাউন্টি এলাকায় ইস্যু হয়েছে আরও ৪ হাজার ৩৮টি পারমিট। ফুলটন কাউন্টিতে মাল্টিফ্যামিলি হাউজিং নির্মাণের তৎপরতাও বেড়েছে। ২০২৫ সালে কাউন্টিটিতে এ ধরনের আবাসনের জন্য ২ হাজার ২৫৫টি পারমিট ইস্যু হয়। ২০২৪ সালে সংখ্যাটি ছিল ১ হাজার ৩২২। স্যান্ডি স্প্রিংস, জনস ক্রিক, ইউনিয়ন সিটি ও কলেজ পার্কে এর বড় অংশের নির্মাণ কার্যক্রম হয়েছে। আটলান্টা রিজিওনাল কমিশন বলছে, অঞ্চলটির অর্থনীতি এখনও শক্তিশালী এবং নতুন বাসিন্দা আসছেন। তবে ভবিষ্যতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পর্যাপ্ত ও সাশ্রয়ী বাড়ি তৈরি করতে না পারলে হাউজিং খরচ আরও বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আটলান্টা রিজিওনাল কমিশন ইতিমধ্যে অঞ্চলব্যাপী একটি হাউজিং স্ট্র্যাটেজি তৈরির কাজ শুরু করেছে। পরিকল্পনাটির লক্ষ্য বিভিন্ন আয়ের মানুষের নাগালের মধ্যে আরও বাড়ি তৈরি, বিদ্যমান অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং সংরক্ষণ এবং বাসিন্দাদের চাকরি ও প্রয়োজনীয় সেবার কাছাকাছি থাকার সুযোগ বাড়ানো। সর্বশেষ জনসংখ্যার হিসাব তাই আটলান্টার জন্য দুই ধরনের বাস্তবতা সামনে আনছে। অঞ্চলটিতে মানুষ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, কিন্তু পর্যাপ্ত বাড়ি তৈরি না হওয়া এবং হাউজিং খরচ বেড়ে যাওয়ায় একসময়কার দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি ধীরে ধীরে কমে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টা এলাকায় পরিচালিত একটি বড় অভিবাসন অভিযানে ১ হাজার ২০০-এর বেশি অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৭২০ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের অভিযোগ রয়েছে অথবা তারা আগে দণ্ডিত হয়েছেন। ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, "অপারেশন সেফ কমিউনিটি, আটলান্টা" নামে পরিচালিত এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও আটক করা। আইসিইর এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশন্স বিভাগের নির্বাহী সহযোগী পরিচালক মার্কোস চার্লস ফক্স নিউজের "ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস" অনুষ্ঠানে বলেন, অভিযানে আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে যৌন অপরাধ, হামলা, পারিবারিক সহিংসতা, মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোসহ বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত বা দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি রয়েছেন। তার ভাষায়, "আমরা জর্জিয়ার আটলান্টা এলাকায় ১ হাজার ২০০-এর বেশি অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছি। তাদের অর্ধেকেরও বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে।" চার্লস আরও বলেন, "এদের মধ্যে যৌন অপরাধ, হামলা, পারিবারিক সহিংসতা এবং মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোর মতো অপরাধ রয়েছে। তারা শুধু অপরাধের সঙ্গেই জড়িত নন, একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন।" ডিএইচএস আরও জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন মেক্সিকান নাগরিক রয়েছেন, যিনি অন্তত ৫০০ গ্রাম মেথামফেটামিন বিতরণের ষড়যন্ত্রে দণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন। এছাড়া মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগও ছিল তার বিরুদ্ধে। আরেকজন এল সালভাদরের নাগরিকের বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ, বিশৃঙ্খল আচরণ এবং মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে একাধিকবার গ্রেপ্তার হওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। মার্কোস চার্লস বলেন, আইসিই কর্মকর্তারা প্রতিদিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় কংগ্রেস প্রণীত অভিবাসন আইন কার্যকর করতে কাজ করছেন এবং ভবিষ্যতেও দেশজুড়ে একই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তার দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে বিক্ষোভ এবং অভিযানে বাধা দেওয়ার নানা প্রচেষ্টার কারণে আইসিই তাদের অভিযান পরিচালনার কৌশল পরিবর্তন করেছে। অতিরিক্ত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি অভিযুক্তদের শনাক্ত ও আটক করার পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এদিকে আইসিইর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই মাসে সংস্থাটি প্রায় ৫১ হাজার অভিবাসীকে আটক করেছে, যা তাদের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ। এর আগের মাস জুনে আটক হয়েছিল প্রায় ৪৩ হাজার মানুষ। এর আগে ডিএইচএস জানিয়েছিল, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আইসিই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রগতিশীল আইনপ্রণেতা সংস্থাটির কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আইসিই বিলুপ্তির দাবিও তুলেছেন। ফলে অভিবাসন আইন প্রয়োগ এবং মানবাধিকার ইস্যু নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, আইসিই ও ডিএইচএসের দেওয়া এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট আদালতে নিষ্পত্তি হবে।
জুলাই হলো 'পোস্টপার্টাম চেঞ্জেস অ্যাওয়ারনেস মান্থ' বা প্রসূতিকালীন পরিবর্তনের সচেতনতা মাস। সন্তান জন্মদানের পর অনেক নারী যে শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যান, সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরির সময় এটি। এমোরি ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের মতে, সন্তান জন্মদানের পর প্রতি সাতজন নারীর মধ্যে প্রায় একজন প্রসূতিকালীন বিষণ্নতায় ভোগেন। নতুন মাতৃত্বের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে গিয়ে অনেক মা-ই নানা ধরনের আবেগীয় ও শারীরিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর জন্য সহায়তা ও চিকিৎসা সহজলভ্য। তিন সন্তানের জননী মেলিসা ফার্নান্দেজ এই চ্যালেঞ্জগুলোর অভিজ্ঞতা সরাসরি অর্জন করেছেন। তিনি জানান, মা হওয়ার পর তিনি প্রসূতিকালীন মানসিক দুশ্চিন্তার সম্মুখীন হয়েছিলেন। ফার্নান্দেজ বলেন, "আমার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল নিজের পরিচয়ের পরিবর্তন। গর্ভবতী হওয়ার আগে আমি সিরক দু সোলেই-এর একজন উচ্চমানের অ্যাক্রোব্যাট ছিলাম। গর্ভধারণ, সন্তান প্রসব, স্তন্যপানের সমস্যা, ঘুম না হওয়া, চাকরি হারানো, নিজের পরিচয় হারানো এবং নিজের সমাজ বা বন্ধুসঙ্গ হারানোর মধ্য দিয়ে আমাকে যেতে হয়েছে।" এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে 'আটলান্টা পোস্টপার্টাম ডুলা' নামের একটি সংস্থা শুরু করতে অনুপ্রাণিত করে, যা নারীদের মাতৃত্বের এই পরিবর্তন সহজে অতিক্রম করতে সাহায্য করে। ফার্নান্দেজ বলেন, "আমরা প্রায়ই দেখি যে সন্তান আসার পর বন্ধু ও স্বজনরা যখন বেড়াতে আসেন, তারা শিশুটিকে দেখতেই আসেন। কিন্তু মায়ের যত্ন কে নিচ্ছেন?" এই সংস্থার সবচেয়ে চাহিদাপূর্ণ সেবা হলো দিন ও রাতের বেলার প্রসূতিকালীন সহায়তাকারীর সেবা। যেখানে প্রশিক্ষিত সহায়তাকারীরা ঘরে এসে মায়ের পাশাপাশি নবজাতকের যত্ন নিতে সাহায্য করেন। এছাড়া নতুন মায়েদের প্রাথমিক চাপ কমাতে এই সংস্থাটি খাবার পৌঁছে দেওয়ার সেবাও দিয়ে থাকে। পরিবারগুলোর জন্য আরেকটি মাধ্যম হলো 'পিস ফর মমস', যা এমোরি ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনভিত্তিক একটি প্রোগ্রাম। এই উদ্যোগটি জর্জিয়ার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের প্রসূতি মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সাথে যুক্ত করে, যা মায়েদের সময়মতো মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পাওয়া নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।
আটলান্টা শহরের একটি পাম্প স্টেশনে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পর সাউথ ফুলটন এবং ফেয়ারবার্ন শহরের দশ হাজারেরও বেশি গ্রাহকের জন্য পানি ফোটানোর জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে সিটি অব আটলান্টা। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অ্যাডামসভিল পাম্প স্টেশনে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ডিপার্টমেন্ট অব ওয়াটারশেড ম্যানেজমেন্ট এই নির্দেশনা জারি করেছে। পাম্প স্টেশনে বিদ্যুৎ সরবরাহ ইতিমধ্যে পুনর্বহাল করা হয়েছে। তবে কর্মকর্তারা অপারেশন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি পরীক্ষার জন্য পানির নমুনা পরীক্ষা করবেন। কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, এই জরুরি নির্দেশনার কারণে প্রায় ৪৭ হাজার ৮০০ গ্রাহক প্রভাবিত হচ্ছেন। সিটি অব আটলান্টা ডিপার্টমেন্ট অব ওয়াটারশেড ম্যানেজমেন্ট এই এলাকার একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দা এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ নিয়ম মেনে চলা উচিত। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পানি পান করা, রান্না করা, শিশুদের খাবার তৈরি এবং দাঁত মাজার কাজে ব্যবহারের আগে পানিকে এক মিনিট ধরে ভালোভাবে ফুটিয়ে নিতে হবে। লাইনের পানির বিকল্প হিসেবে বাসিন্দাদের বোতলজাত পানি ব্যবহারের জন্যও নির্দেশনায় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওয়াটারশেড ম্যানেজমেন্ট বিভাগ জানিয়েছে, এই নির্দেশনা পরবর্তী নোটিশের মাধ্যমে প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত ওই অঞ্চলের কোনো পাবলিক ওয়াটার ফাউন্টেন বা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত পানির কল থেকে কোনোভাবেই পানি পান করা যাবে না। পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সূত্র: সিবিএস আটলান্টা
চলতি গ্রীষ্মে কেবল ফুটবল তারকারাই মাঠ মাতাচ্ছেন না, ডেটিং অ্যাপ এবং ম্যাচমেকিং সার্ভিসের মুখপাত্রদের মতে, অবিবাহিত বা সিঙ্গেল ব্যক্তিরাও ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে তাদের নিজ শহরে আসা নতুন মানুষদের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ নিচ্ছেন। ডেটিং ওয়েবসাইট ‘ডেটিংঅ্যাডভাইস ডটকম’-এর তথ্য অনুযায়ী, ফিফা বিশ্বকাপের রোমান্সের শহরের তালিকায় আটলান্টা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তাদের জরিপ করা সিঙ্গেলদের মধ্যে ৪৬ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা টুর্নামেন্ট দেখতে আসা কোনো দর্শকের সাথে ডেটে গেছেন অথবা রোমান্টিক সম্পর্কে জড়িয়েছেন। টিন্ডারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা সোয়াইপ করার হার বৃদ্ধি পেতে দেখেছেন। ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজক শহরগুলোতে আন্তর্জাতিক ব্যবহারকারীদের মাধ্যমে ক্রিয়াকলাপ ৪৭ শতাংশ এবং দেশীয় ব্যবহারকারীদের মাধ্যমে ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাম্বল গ্রুপ ইভেন্টগুলোর প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে এবং সিঙ্গেলদের জন্য আয়োজিত ওয়াচ পার্টিগুলোতে তারা বড় ধরনের উপস্থিতি লক্ষ্য করছে। ‘ইন দ্য ওয়াইল্ড ডেটিং’-এর প্রতিষ্ঠাতা লেক্সি ইয়াং বলেন, তার অনুসারীরা সরাসরি বা সশরীরে দেখা করার সুযোগ খুঁজছিলেন এবং বিশ্বকাপ ওয়াচ পার্টি ও দর্শনার্থীদের আগমনের মাধ্যমে ঠিক সেই সুযোগটিই তৈরি করে দিয়েছে। তিনি বলেন, "আমার মনে হয় এটি সত্যিই দেখায় যে মানুষ সরাসরি যোগাযোগ চায় এবং খেলাধুলা হলো যুক্ত হওয়ার একটি দারুণ মাধ্যম। ক্রীড়া ইভেন্টের মাধ্যমে মানুষের মাঝে একটি যৌথ আগ্রহ তৈরি হয়। এটি স্পষ্টতই তাদের আরও গভীর স্তরে যুক্ত হতে সাহায্য করে। আমি সত্যিই অনেক মানুষকে তাদের খোলস থেকে বেরিয়ে আসতে এবং বিভিন্ন সংস্কৃতির প্রতি নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করতে দেখছি, যা ডেটিংয়ের ক্ষেত্রটিকে সাহায্য করেছে।" আটলান্টার একজন অবিবাহিত বাসিন্দা, যিনি একাধিক বিশ্বকাপ আয়োজক শহরে গিয়েছেন, তার মতে প্রেম সত্যিই বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। কেটি ফ্রিডম্যান নামে ওই বাসিন্দা বলেন, "আমি আমার গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে আছি, তাই এ পর্যন্ত চারটিতে গিয়েছি। আটলান্টা, সিয়াটল, বোস্টন এবং নিউইয়র্ক। এটি দারুণ ছিল। প্রথমবারের মতো মানুষের আমেরিকা সফরের অভিজ্ঞতা শোনার বিষয়টি আমার কাছে সত্যিই মজার মনে হয়েছে। তারা কী দেখল, কী পছন্দ করল—এগুলো কথা শুরু করার দারুণ উপায়।" আটলান্টার আরেক বাসিন্দা রাশাদ বলেন, "আমি মনে করি আরও মানুষের এখানে আসা উচিত। এটি একটি চমৎকার পরিবেশ। এখানে পানীয়, খাবার এবং গান রয়েছে, কোনো কিছুর জন্য আপনাকে অর্থ দিতে হবে না, এটি একটি দারুণ বিষয়।"
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথম শ্রেণীর যাত্রীদের জন্য একটি বিলাসবহুল 'ডেল্টা ওয়ান লাউঞ্জ' তৈরি হতে যাচ্ছে। আটলান্টা সিটি কাউন্সিল এই প্রকল্পের জন্য ডেল্টা এয়ারলাইন্সের সাথে ৬ কোটি ২৯ লাখ ডলারের একটি বিশাল চুক্তি অনুমোদন করেছে। গত সোমবার সিটি কাউন্সিলের সভায় এই প্রস্তাবটি ১৩-১ ভোটে পাস হয়। এই চুক্তির আওতায় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ডেল্টা এয়ারলাইন্সকে লাউঞ্জ তৈরির প্রাথমিক অবকাঠামোগত কাজের জন্য ৬ কোটি ২৯ লাখ ডলার পর্যন্ত খরচ ফেরত বা পরিশোধ করবে। তবে লাউঞ্জের ভেতরের সাজসজ্জা, আসবাবপত্র এবং অন্যান্য অভ্যন্তরীণ নকশার সমস্ত খরচ ডেল্টা এয়ারলাইন্স সম্পূর্ণ নিজস্ব তহবিল থেকে বহন করবে। নতুন এই লাউঞ্জটি বিমানবন্দরের কনকোর্স ই-তে প্রায় ৩৯ হাজার ২১০ বর্গফুট এলাকা জুড়ে তৈরি করা হবে। ডেল্টা এয়ারলাইন্স বর্তমানে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি, লস অ্যাঞ্জেলেস, বোস্টন এবং সিয়াটেল বিমানবন্দরে এই ধরণের বিশেষ লাউঞ্জ পরিচালনা করছে। আটলান্টা ডেল্টার প্রধান কেন্দ্র এবং সদর দফতর হওয়ায় এখানে একটি বড় লাউঞ্জ করা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। এই প্রিমিয়াম লাউঞ্জে যাত্রীদের জন্য থাকবে উচ্চমানের ডাইনিং বা রেস্তোরাঁ ব্যবস্থা, স্পা সুবিধা এবং ব্যক্তিগতভাবে কাজ করার জন্য নিরিবিলি জোন। তবে সরকারি নথিতে লাউঞ্জটি ঠিক কবে নাগাদ সাধারণ যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ উল্লেখ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের কলেজ পার্কের একটি পাঁচ একরের খামার বাজারের বাড়তি খরচের চাপ সামলাতে সাধারণ মানুষকে নিজেদের খাবার নিজে উৎপাদন করার প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। 'মেট্রো আটলান্টা আরবান ফার্ম' নামের এই অলাভজনক প্রতিষ্ঠানটি গত ১৯ বছর ধরে কৃষিকাজকে হাতিয়ার করে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও যুদ্ধাহত সামরিক প্রবীণদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। খামারের প্রতিষ্ঠাতা ববি উইলসন জানান, তাদের মূল উদ্দেশ্য কেবল বীজ রোপণ করা নয়, বরং কৃষির মাধ্যমে সমাজে একটি সুস্থ পরিবেশ ও শক্তিশালী সামাজিক বন্ধন তৈরি করা। কলেজ পার্কের মেইন স্ট্রিটে অবস্থিত এই খামারটিতে কোনো ধরনের রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে এবং ঐতিহ্যবাহী পুরোনো বীজ ব্যবহার করে ফসল ফলানোর কৌশল শেখানো হয়। খামারের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ফলে স্থানীয় পরিবারগুলো একদিকে যেমন স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে, অন্যদিকে সহজেই বিষমুক্ত তাজা ও পুষ্টিকর খাবার সংগ্রহ করতে পারছে। সমাজের পিছিয়ে পড়া এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতেই মূলত এই বিশেষ কৃষি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি এই খামারটি যুদ্ধাহত মার্কিন সেনাদের সহায়তায় নিয়োজিত 'উইন্ডেড ওয়ারিয়র প্রজেক্ট'-এর সাথে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। এর আওতায় প্রতি দুই সপ্তাহ পর পর বিভিন্ন সামরিক বাহিনীর প্রবীণ সদস্যরা খামারে এসে ফসল রোপণ, ফসল সংগ্রহ এবং বাড়িতে বাগান করার বিভিন্ন বাস্তবমুখী কৌশল শিখছেন। অংশ নেওয়া সাবেক এক সেনাসদস্য জানান, বর্তমান বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের আকাশছোঁয়া দামের কারণে এই শিক্ষা তাদের দারুণভাবে সাহায্য করছে এবং মানসিক চাপ কমিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার সুযোগ করে দিচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি করতে খামারটি তরুণদের ইন্টার্নশিপ বা হাতেকলমে শিক্ষার সুযোগ দিচ্ছে। মিসিসিপির অ্যালকর্ন স্টেট ইউনিভার্সিটির কৃষি ব্যবসা বিভাগের এক শিক্ষার্থী এই খামারে এসে ট্র্যাক্টর চালানো, বীজতলা তৈরি এবং মাটির সঠিক ব্যবহার শিখছেন। এছাড়া খামারটি বিভিন্ন স্কুল, চার্চ, কোকা-কোলা কোম্পানি এবং টাস্কিজি ইউনিভার্সিটির মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত হয়ে বছরজুড়ে কৃষি শিক্ষা প্রদান করছে।
আমেরিকার আটলান্টা শহরে আট বছর আগের এক নৃশংস ঘটনার চূড়ান্ত রায় দিয়েছে আদালত। রাস্তায় সাহায্য চেয়ে হাত পাতা এক নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গ ও গৃহহীন মানুষকে ইলেকট্রিক শক দিয়ে আজীবনের জন্য পঙ্গু করে দেওয়ার অপরাধে অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারকে এখন ২ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার জরিমানা গুনতে হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আটলান্টা পুলিশের অফিসার জন গ্রাবসকে এখন থেকে প্রতি মাসে তার বেতন থেকে ৭০০ ডলার করে ভুক্তভোগী জেরি ব্লেসিংগেমের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে হবে। যদি প্রতি মাসে ৭০০ ডলার করে কাটা হয়, তবে এই বিপুল পরিমাণ জরিমানা শোধ করতে ওই পুলিশ অফিসারের প্রায় আড়াই হাজার বছর সময় লাগবে! ২০১৮ সালের জুলাই মাসে এই ঘটনার সময় জেরির বয়স ছিল ৬৫ বছর। রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে সাহায্য চাওয়ার অপরাধে পুলিশ তাকে ধাওয়া করে। কোনো রকম সতর্কবার্তা না দিয়েই জেরি পালানোর সময় পেছন থেকে তার পিঠে ইলেকট্রিক শক দেন অফিসার গ্রাবস। তীব্র শকের আঘাতে জেরি একটি উঁচু ঢাল থেকে ছিটকে নিচে কংক্রিটের ওপর পড়েন। এতে তার মাথার খুলি ও মেরুদণ্ড ভেঙে যায় এবং গলা থেকে নিচের পুরো অংশ আজীবনের জন্য অবশ হয়ে যায়। এই পঙ্গুত্ব নিয়ে পাঁচ বছর বেঁচে থাকার পর ২০২৩ সালে জেরি মারা যান। এই ঘটনার পর জেরি যখন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিলেন, তখন এই পুলিশ অফিসার তার কেবিনে গিয়ে উল্টো তার নামেই মামলা ঠুকে দিয়েছিলেন। এছাড়া ঘটনার সময় নিজের বডি ক্যামেরা বন্ধ রাখার অপরাধে পুলিশের অভ্যন্তরীণ বিভাগ থেকে তাকে অভিযুক্ত করা হলেও তিনি এখনো বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন। ২০২৪ সালে তার বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ৯২ হাজার ডলার। এখন কর বাদ দিয়ে তার মাসের বেতনের প্রায় ১৩ শতাংশ এই ক্ষতিপূরণের পেছনে চলে যাবে। যদি তিনি চাকরিও হারান, তবুও তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করে এই টাকা আদায় করা হবে। আইনি লড়াইয়ে ওই পুলিশ অফিসার সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য থাকা বিশেষ সুরক্ষাকবচ বা 'কোয়ালিফাইড ইমিউনিটি'র দোহাই দিয়ে পার পাওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, একজন নিরস্ত্র ও নিরীহ মানুষকে এভাবে পেছন থেকে ইলেকট্রিক শক দেওয়া সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক এবং চরম অপরাধ।
ক্লাস শুরুর আগে মাত্র একটি সাধারণ প্রশ্নই যে কত বড় পরিবর্তন আনতে পারে, তার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার একটি স্কুল। দীর্ঘদিনের চেনা নিয়মের বাইরে গিয়ে পড়াশোনা শুরুর আগে শিক্ষার্থীদের সাথে সুসম্পর্ক তৈরির এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে 'মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র মিডল স্কুল'। আর এর সুবাদেই গত দুই বছরে স্কুলটিতে শিক্ষার্থীদের অপরাধ ও শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা নাটকীয়ভাবে প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে। আটলান্টা পাবলিক স্কুলসের এই ক্যাম্পাসটি তাদের চমৎকার পরিবেশ ও ইতিবাচক সংস্কৃতির জন্য 'টিচ কাইন্ডনেস' নামক সংস্থা থেকে দেশব্যাপী মাত্র ৩২টি স্কুলের মধ্যে অন্যতম হিসেবে 'ন্যাশনাল কাইন্ডনেস ডেজিগনেশন' বা জাতীয় সদয় সম্মাননা লাভ করেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের কৌশলটি খুবই সহজ—পাঠ্যবই খোলার আগেই শিক্ষার্থীদের সাথে একাত্ম হওয়া। স্কুলের প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থী প্রতিদিন প্রতিটি ক্লাস শুরুর আগে শিক্ষক এবং সহপাঠীদের সাথে একটি সংক্ষিপ্ত কথোপকথনের মাধ্যমে দিন শুরু করে। স্কুলের প্রিন্সিপাল কিম্বার্লি সেওয়েল সিবিএস নিউজ আটলান্টাকে বলেন, "আমরা আমাদের পুরো শিক্ষণ পদ্ধতিই বদলে ফেলেছি। এখন প্রতিটি ক্লাসে শিক্ষকেরা পড়াশোনার আগে শিক্ষার্থীদের সাথে সংযোগ তৈরি করেন। মাত্র ৩০ সেকেন্ডের জন্য আমরা শিক্ষার্থীদের খুব সাধারণ কিছু জিজ্ঞাসা করি, যেমন—তাদের পছন্দের পিৎজা টপিং কী কিংবা কীসে তারা আনন্দ পায়।" ক্লাসরুমের বাইরেও স্কুলের সব স্টাফদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন যেকোনো ভুল সংশোধনের আগে তারা শিক্ষার্থীদের সাথে হাসিমুখে ইতিবাচক যোগাযোগ তৈরি করেন। দুই বছর আগে এই পদ্ধতি চালুর পর থেকে স্কুলটিতে মারামারি বা বিশৃঙ্খলা অনেক কমে গেছে, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে এবং শিক্ষার্থীরা এখন যেকোনো বিরোধ মারামারি না করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে শিখছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মেট্রো আটলান্টা এলাকায় অনলাইনে ভাড়ার জন্য ভুয়া বাসার বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে হাজার হাজার ডলার হাতিয়ে নিচ্ছে একদল সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। সম্প্রতি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির অপব্যবহার করে এই প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করা হচ্ছে। অলাভজনক সংস্থা 'বেটার বিজনেস ব্যুরো' (BBB) সতর্ক করে জানিয়েছে, গত এক বছরে শুধু এই এলাকাতেই আবাসন সংক্রান্ত প্রতারণার শিকার হয়ে গ্রাহকরা ৩০ লাখ ডলারেরও বেশি খুইয়েছেন। প্রতারণার শিকার হওয়া জেরেলিন চার্লসটন নামের এক নারী জানান, কলেজ পার্ক এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নেওয়ার জন্য তিনি অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেখেন। প্রতারকরা তাকে একটি ডিজিটাল সিকিউরিটি কোড দেয়, যা দিয়ে তিনি নিজেই লক খুলে পুরো বাসাটি ঘুরে দেখেন। সবকিছু আসল মনে হওয়ায় তিনি চালানের মাধ্যমে ৩,২০০ ডলার পরিশোধ করেন। কিন্তু মালামাল নিয়ে ওঠার দিন যখন তিনি সেই এজেন্টের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, তখন দেখেন তার নম্বরটি ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। টাকা ও বাসা দুটোই হারিয়ে বর্তমানে তিনি গৃহহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। বেটার বিজনেস ব্যুরোর কর্মকর্তা জশুয়া হেয়ারস জানান, স্ক্যামাররা মূলত আসল আবাসন ব্যবসার ওয়েবসাইট থেকে ছবি এবং তথ্য চুরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া বিজ্ঞাপন পোস্ট করে। তারা বাসা বিক্রির জন্য রিয়েল এস্টেট কোম্পানির দেওয়া ডিজিটাল এক্সেস কোডগুলো কৌশলে হাতিয়ে নেয়। এরপর সেই কোড সাধারণ ভাড়াটিয়াদের দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করে এবং অগ্রিম ডিপোজিট নিয়ে উধাও হয়ে যায়। তিনি আরও জানান, প্রতারকরা এখন ফোন কলে কাস্টমারদের সাথে কথা বলার জন্য এবং দ্রুত বিশ্বাসযোগ্য জাল ডকুমেন্ট তৈরি করতে 'এআই এজেন্ট' বা রোবটিক কণ্ঠস্বর ব্যবহার করছে। বিশেষ করে কম আয়ের মানুষ, যারা সস্তায় বাসা খুঁজছেন, তারাই এই চক্রের প্রধান টার্গেট হচ্ছেন। এই ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচতে যেকোনো লেনদেনের আগে সরকারি ট্যাক্স রেকর্ডের মাধ্যমে বাসার আসল মালিকানা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা শহরের মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তাপ এখন মাঠ ছাড়িয়ে বাইরের সাধারণ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। টুর্নামেন্ট দেখতে আসা হাজার হাজার আন্তর্জাতিক ফুটবল ভক্ত ও পর্যটকদের আগমনে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে এক বিশাল জোয়ার এসেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন যে দূর-দূরান্ত থেকে আসা এই বিপুল সংখ্যক বিদেশি দর্শনার্থী এবং সেই সাথে প্রশাসনের জোরদার পুলিশি নিরাপত্তার চমৎকার সমন্বয়ে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই জমজমাট পরিবেশের কারণে তাদের বেচাবিক্রি আগের তুলনায় অনেক গুণ বেড়ে গেছে। বিশ্বকাপের এই বিশাল আসরকে কেন্দ্র করে শহরের মারিয়েটা স্ট্রিটের জনপ্রিয় রেস্তোরাঁগুলোর মালিকেরা অত্যন্ত আনন্দের সাথে তাদের ব্যবসায়িক সাফল্যের কথা প্রকাশ করছেন। স্থানীয় রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী মো জানান যে বিশ্বকাপের কারণে তাদের দৈনিক বিক্রি সাধারণ সময়ের তুলনায় প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু তাই নয়, টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগে তারা ব্যবসার আর্থিক লাভের যে প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা বা প্রক্ষেপণ নির্ধারণ করেছিলেন, বর্তমান আয় তার চেয়েও প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার ডলার বেশি হয়েছে, যা তাদের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। আমেরিকায় এই ধরনের বড় কোনো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে সাধারণত তীব্র যানজট, নিরাপত্তা এবং পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। তবে সেন্টেনিয়াল অলিম্পিক পার্কের আশেপাশের দোকানিরা জানিয়েছেন যে আটলান্টা শহর কর্তৃপক্ষ এবার আগে থেকেই অত্যন্ত চমৎকার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। টেড টার্নার ড্রাইভ এলাকার বার্গার ও চিজস্টেক ফুড জয়েন্টের মালিক কার্লটন নেলসন বলেন যে শহরজুড়ে পুলিশের ব্যাপক ও দৃশ্যমান উপস্থিতির কারণে সব ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি পুরোপুরি কমে গেছে, যা ব্যবসা সচল রাখতে বড় ভূমিকা রাখছে। ব্যবসায়ীরা মূলত মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামের চারপাশের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আটলান্টা পুলিশ বিভাগের বা এপিডির সক্রিয় ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, খেলা দেখতে আসা হাজার হাজার মানুষের ভিড় ও ট্রাফিকের কারণে অনেক সময় শহরের কেন্দ্রস্থলে কিছুটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে এবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক সতর্ক নজরদারির কারণে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর ফলে দূরদেশ থেকে আসা ফুটবলপ্রেমীরা কোনো ধরনের ভয় বা দ্বিধা ছাড়াই পুরো শহর ঘুরে বেড়াতে পারছেন। খেলার নির্দিষ্ট সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পরও এই আন্তর্জাতিক দর্শকদের ইতিবাচক প্রভাব স্থানীয় অর্থনীতিতে দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকছে। আটলান্টার ব্যবসায়ীরা গর্বের সাথে জানান যে মরক্কো ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ফুটবল ভক্তরা প্রথমবারের মতো আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চলীয় আতিথেয়তার চমৎকার অভিজ্ঞতা লাভ করছেন। অনেক বিদেশি পর্যটক তো একই দোকানে বারবার খেতে আসছেন এবং ভালো সেবার কারণে স্থানীয় খাবারের প্রশংসাও করছেন। ব্যস্ততার মাঝেও ব্যবসায়ীরা এই বৈশ্বিক অতিথিদের বাড়তি যত্ন ও উন্নত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্বকাপের এই ফুটবল উন্মাদনার কারণে আটলান্টার গণপরিবহন ব্যবস্থা বা মার্টার রেল ট্রিপের চাহিদাও সাধারণ দিনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী বুধবার সন্ধ্যায় এই মাঠেই মরক্কো এবং হাইতির মধ্যকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অন্যদিকে সেন্টেনিয়াল অলিম্পিক পার্কে ফুটবল ভক্তদের জন্য চলমান ফিফা ফ্যান ফেস্টের সময়সীমা আরও বাড়িয়ে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত করা হয়েছে। ওই দিন ফুটবলপ্রেমীরা সেখানে সমবেত হয়ে তুরস্কের বিরুদ্ধে মাঠে নামা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুরুষ জাতীয় ফুটবল দলের খেলাটি উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা শহরে চলমান ফিফা পুরুষ ফুটবল বিশ্বকাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ আফ্রিকা ও চেক প্রজাতন্ত্রের প্রবাসী কমিউনিটির মধ্যে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘এ’-এর এই ভাগ্যনির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দেশ। দুই দলের জন্যই টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াই হিসেবে দেখা দেওয়া এই ম্যাচটি নিয়ে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১০ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলে আটলান্টায় বসবাসরত দক্ষিণ আফ্রিকান প্রবাসীদের মধ্যে এই ম্যাচটি নিয়ে ব্যাপক উন্মাদনা দেখা দিয়েছে। ‘ইউএসএ-তে সাউথ আফ্রিকান চেম্বার অব কমার্স’-এর সভাপতি ও সদস্যরা দলবেঁধে মাঠে গিয়ে খেলা দেখার প্রস্তুতি নিয়েছেন। স্যান্ডি স্প্রিংসের বাসিন্দা সাউথ আফ্রিকান প্রবাসী ভান্দা সাইতোভিটস বলেন, "আসুন জয়ের জন্য খেলি, আমাদের জাতীয় সঙ্গীত গাই। প্রবাসী হিসেবে এই মঞ্চে আমরা অত্যন্ত গর্বিত।" আটলান্টার আরেক সাউথ আফ্রিকান প্রবাসী নীল ডায়মন্ড বলেন, "এই ম্যাচটি আমাদের নিজ দেশের সাথে নতুন করে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এটি আমাদের মধ্যে এক অদ্ভুত জাতীয় ঐক্য ও গর্বের অনুভূতি এনে দিয়েছে, যেন মনে হচ্ছে আমাদের নিজের বাড়িটাই আটলান্টার দোরগোড়ায় চলে এসেছে।" নীল ডায়মন্ড খেলা দেখার জন্য তার ঐতিহ্যবাহী রঙিন ‘মোকোরোতলো’ হ্যাট এবং স্টেডিয়াম কাঁপানোর ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ‘ভুবুজেলা’ নিয়ে মাঠে যাওয়ার প্রস্তুতি দেখান, যা দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়া সংস্কৃতির অন্যতম বড় প্রতীক। অন্যদিকে, চেক প্রজাতন্ত্রের সমর্থকরাও তাদের জাতীয় দলকে সমর্থন দিতে সমভাবে প্রস্তুত। ম্যাচটিকে সামনে রেখে হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক টার্মিনালে চেক প্রজাতন্ত্রের অনারারি কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে আগত আন্তর্জাতিক দর্শকদের জন্য একটি বিশেষ অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং সঙ্গীতের মাধ্যমে সেখানে চেক সমর্থকদের স্বাগত জানানো হয়। আটলান্টায় বসবাসরত চেক প্রবাসী মিলাদা বোহাকোভা আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, "আমরাই জিতব, এটা নিশ্চিত। ঠিক ৩০ বছর আগে এখানে (আটলান্টায়) অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং সেবার আমরা অনেক পদক জিতে সফল হয়েছিলাম। আমি আশা করি এবার আমরা বিশ্বকাপেও জয়ী হব।" উল্লেখ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং চেক প্রজাতন্ত্র দুই দলই তাদের প্রথম ম্যাচে হেরে (০-১ ব্যবধানে) কিছুটা ব্যাকফুটে রয়েছে। ফলে টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম জয়ের খোঁজে থাকা দুই দলের জন্যই এই ম্যাচটি অত্যন্ত বাঁচা-মরার লড়াই।
আটলান্টা: ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের উচ্ছ্বাস বাড়ছে। আয়োজক ১৬টি শহরের অন্যতম আটলান্টায় চলছে জোর প্রস্তুতি। তবে এই উন্মাদনাকে পুঁজি করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অনলাইন প্রতারক চক্র। তাই বিশ্বকাপের টিকিট কেনা বা বিভিন্ন অফারের প্রলোভনে সাড়া দেওয়ার আগে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে গ্রেটার আটলান্টার বেটার বিজনেস ব্যুরো (বিবিবি)। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আটলান্টা নিউজ ফার্স্ট-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সংস্থাটির নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট জশ হেয়ার্স বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘ফ্রি বিশ্বকাপ টিকিট’, ‘বিশেষ উপহার’ কিংবা ‘সীমিত সময়ের অফার’ ধরনের পোস্টগুলোর ব্যাপারে মানুষের সচেতন থাকা জরুরি। তাঁর মতে, বড় কোনো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ ও আবেগকে কাজে লাগিয়ে প্রতারকরা নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করে থাকে। জশ হেয়ার্স বলেন, প্রতারণার সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণগুলোর একটি হলো তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিতে চাপ সৃষ্টি করা। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের বলা হয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অফার গ্রহণ না করলে সুযোগ হাতছাড়া হবে। এ ধরনের চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষকে তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ না দিয়েই প্রতারণার ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করা হয়। বিশ্বকাপের টিকিট বা পুরস্কারের নামে পরিচালিত অনেক প্রতারণায় সরাসরি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহও একটি বড় লক্ষ্য। প্রতারকরা কখনও দাবি করে, পুরস্কার পেতে হলে কর, প্রসেসিং ফি বা ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে। আবার কখনও ব্যাংকিং তথ্য, ক্রেডিট কার্ড নম্বর কিংবা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া হয়। এসব তথ্য ব্যবহার করে পরবর্তীতে আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে কিউআর কোডভিত্তিক প্রতারণার ঘটনাও বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে বিবিবি। বিশ্বকাপের টিকিট ডাউনলোড, বিশেষ অফার গ্রহণ বা নিবন্ধনের কথা বলে অনেককে কিউআর কোড স্ক্যান করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের প্রতারণাকে “কুইশিং” নামে চিহ্নিত করেন। কিউআর কোড স্ক্যান করার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা অজান্তেই এমন একটি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারেন, যেখানে তাদের লগইন তথ্য, পাসওয়ার্ড বা আর্থিক তথ্য চুরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। জশ হেয়ার্স আরও জানান, অনেক সময় প্রতারকরা পরিচিত ব্যক্তি বা বন্ধুর পরিচয় ব্যবহার করেও প্রতারণার চেষ্টা করে। ই-মেইল, টেক্সট মেসেজ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা পাঠিয়ে বলা হয় যে কোনো কারণে তারা বিশ্বকাপের টিকিট ব্যবহার করতে পারছেন না এবং কম দামে বিক্রি করতে চান। এ ধরনের প্রস্তাব পাওয়ার পর সরাসরি ফোন বা অন্য নির্ভরযোগ্য মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভেরিফায়েড বা নীল চিহ্নযুক্ত অ্যাকাউন্ট নিয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। জশ হেয়ার্স বলেন, শুধুমাত্র নীল চিহ্ন দেখেই কোনো অ্যাকাউন্টকে শতভাগ নির্ভরযোগ্য মনে করা উচিত নয়। প্রতারকরা অনেক সময় অফিসিয়াল প্রতিষ্ঠানের মতো দেখতে ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। তাই কোনো প্রতিষ্ঠানের অফার বা বিজ্ঞাপন যাচাই করতে হলে প্রথমে তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে তথ্য নিশ্চিত করা উচিত। টিকিট কেনার ক্ষেত্রে নিরাপদ অর্থ লেনদেনের বিষয়েও পরামর্শ দিয়েছে বিবিবি। সংস্থাটির মতে, ক্রেডিট কার্ড বা ক্রেতা সুরক্ষা সুবিধা রয়েছে এমন পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করা তুলনামূলক নিরাপদ। অন্যদিকে ওয়্যার ট্রান্সফার, সরাসরি নগদ অর্থ পাঠানো বা সীমিত সুরক্ষাযুক্ত অর্থ স্থানান্তর সেবার মাধ্যমে লেনদেন করলে প্রতারণার শিকার হলে অর্থ ফেরত পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বিবিবি আরও জানিয়েছে, তাদের ‘স্ক্যাম ট্র্যাকার’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভোক্তারা বিভিন্ন প্রতারণার তথ্য অনুসন্ধান করতে এবং সন্দেহজনক ঘটনার অভিযোগ জানাতে পারেন। সংস্থাটির মতে, অনেক প্রতারণার ঘটনা আনুষ্ঠানিকভাবে রিপোর্ট না হওয়ায় অন্যদের সতর্ক করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই প্রতারণার শিকার হলে বা সন্দেহজনক কার্যক্রমের মুখোমুখি হলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আয়োজনকে ঘিরে লাখো দর্শনার্থীর আগমন ঘটবে আটলান্টায়। সেই বাস্তবতায় স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের ধীরস্থির থাকার, তথ্য যাচাই করার এবং অপরিচিত লিংক, কিউআর কোড কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া বার্তার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে বেটার বিজনেস ব্যুরো। তাদের মতে, সামান্য সচেতনতাই বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি বা পরিচয় চুরির ঝুঁকি থেকে মানুষকে রক্ষা করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।