- প্রচ্ছদ
- Topic
কর্মসংস্থান
যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ঐতিহাসিকভাবে তুলনামূলক কম থাকলেও দীর্ঘ সময় ধরে চাকরি না পাওয়া মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। দেশটির শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে প্রায় ১৮ লাখ মানুষ অন্তত ২৭ সপ্তাহ ধরে বেকার ছিলেন। মোট বেকার মানুষের প্রায় ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের মধ্যে ছিলেন। বিজনেস ইনসাইডারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের শুরুর দিক থেকে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে বেকার থাকা মানুষের অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে কারণ যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে কোনো অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে নেই। অতীতে এত বড়সংখ্যক মানুষ দীর্ঘ সময় বেকার থাকলে সাধারণত বেকারত্বের হারও বেশি থাকত এবং দেশ অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে থাকত বা সেখান থেকে বের হওয়ার পর্যায়ে থাকত। ম্যাসাচুসেটসের বাসিন্দা জেরেমি স্পিগেলের অভিজ্ঞতা এই দীর্ঘ চাকরিসন্ধানের একটি উদাহরণ। ২০২৪ সালে একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে পরিচালকের চাকরি হারানোর পর তিনি নতুন কাজের সন্ধান শুরু করেন। দুই দশকের বেশি কাজের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও প্রায় দুই বছর ধরে তিনি চাকরি খুঁজছেন। দীর্ঘ সময় ধরে কাজ না পাওয়ার কারণে এখন তিনি নিজেকেও প্রশ্ন করতে শুরু করেছেন। স্পিগেল জানিয়েছেন, চাকরির আবেদন করে বারবার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর তার মনে হয়েছে, হয়তো সমস্যাটি তার নিজের মধ্যেই রয়েছে। তার পরিবারের একজন সদস্য পর্যন্ত প্রশ্ন করেছিলেন, তিনি যে প্রতিষ্ঠানগুলোতে আবেদন করেছেন সেখানে কারও সঙ্গে তার কোনো সমস্যা হয়েছিল কি না। চাকরি খোঁজার বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে হতে পারে এমন আশঙ্কায় তিনি কখনো কখনো সামাজিক অনুষ্ঠানও এড়িয়ে চলেন। দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের কারণ নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে নানা ধরনের ধারণা তৈরি হয়েছে। কেউ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবকে দায়ী করছেন, কেউ বয়সভিত্তিক বৈষম্যের কথা বলছেন। আবার কেউ এমন চাকরির বিজ্ঞাপনের বিষয়টি সামনে আনছেন, যেগুলোতে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হলেও বাস্তবে নিয়োগের উদ্যোগ নেই। তবে এসব বিষয়কে দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের নিশ্চিত কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানী ওফার শ্যারোন দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব নিয়ে গবেষণা করেন। তার মতে, চাকরিপ্রার্থীরা যখন দীর্ঘদিন কাজ না পাওয়ার পেছনে কোনো স্পষ্ট বাহ্যিক কারণ খুঁজে পান না, তখন তারা নিজেদের মধ্যেই সমস্যার কারণ খুঁজতে শুরু করেন। এতে আত্মদোষারোপ বাড়তে পারে এবং দীর্ঘ সময় ধরে চাকরি খোঁজার প্রয়োজনীয় আত্মবিশ্বাসও কমে যেতে পারে। ভার্জিনিয়ার বাসিন্দা জন ম্যাককার্টিও দীর্ঘ চাকরিসন্ধানের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। ২০২২ সালে সফটওয়্যার প্রকৌশলীর চাকরি হারানোর পর তিনি ১৮ মাস ধরে নতুন কাজ খুঁজেছেন। পরে তিনি পেশা পরিবর্তন করে কারিগরি কাজ শুরু করেন এবং বর্তমানে একটি খুচরা প্রতিষ্ঠানে খণ্ডকালীন বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করছেন। ম্যাককার্টি জানান, কয়েকটি চাকরির ক্ষেত্রে তিনি প্রাথমিক ফোন ও কারিগরি সাক্ষাৎকার পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। কিন্তু ভিডিও সাক্ষাৎকারের পর তাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। একের পর এক প্রত্যাখ্যানের পর তার মনে হয়েছে, বয়স হয়তো চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে তার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তবে তিনি নিজেই নিশ্চিত নন, বয়সকে কারণ হিসেবে ভাবাটা বাস্তবতা নাকি দীর্ঘদিন চাকরি না পাওয়ার পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার একটি উপায়। ওফার শ্যারোন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চাকরি খোঁজা মানুষের জন্য আশা ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দীর্ঘমেয়াদি চাকরিসন্ধান একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। কিন্তু সমস্যার কারণ নিয়ে অনিশ্চয়তা বেশি থাকলে চাকরিপ্রার্থীদের পক্ষে সেই আশা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে দীর্ঘ সময় চাকরি খোঁজার পর কেউ কেউ শেষ পর্যন্ত কাজে ফিরতে পারছেন। কিন্তু নতুন চাকরি পেলেও অনেকের ক্ষেত্রে আগের কর্মজীবনে ফিরে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কেউ কেউ পেশা পরিবর্তন করছেন, আবার কেউ আগের তুলনায় কম বেতনের চাকরি গ্রহণ করছেন। অন্যদিকে কেউ কেউ কাজ খোঁজা পুরোপুরি ছেড়ে দিচ্ছেন। কিম্বারলি ম্যাকক্লেইন ২০২৪ সালে একটি ছোট অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে উপপরিচালকের চাকরি থেকে পদত্যাগ করার পর দ্রুত নতুন কাজ পাওয়ার আশা করেছিলেন। কিন্তু কয়েক মাস ধরে কোনো চাকরির প্রস্তাব না পাওয়ায় তিনিও নিজের বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করতে শুরু করেন। এমনকি কোনো প্রতিষ্ঠানের অনানুষ্ঠানিক নিয়োগ-নিষেধ তালিকায় তিনি আছেন কি না, সেটিও ভাবতে শুরু করেছিলেন। চাকরি খোঁজা শুরুর প্রায় দুই বছর পর সম্প্রতি একটি কল সেন্টারে পূর্ণকালীন গ্রাহকসেবা পেশায় চাকরি পেয়েছেন ম্যাকক্লেইন। তবে নতুন চাকরিতে তার আয় আগের চাকরির প্রায় অর্ধেক। তারপরও দীর্ঘ সময়ের প্রত্যাখ্যানের পর একটি চাকরির প্রস্তাব পাওয়াকে তিনি স্বস্তির বিষয় হিসেবে দেখছেন। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব এখন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, জুলাইয়ে ২৭ সপ্তাহ বা তার বেশি সময় বেকার থাকা মানুষের সংখ্যা আগের মাসের ১৯ লাখ থেকে কিছুটা কমে ১৮ লাখে দাঁড়ালেও দীর্ঘমেয়াদি বেকারদের সংখ্যা এখনও উল্লেখযোগ্য। আগামী দিনে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা কমলে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়োগে আরও আত্মবিশ্বাসী হলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। আবার অর্থনৈতিক মন্দা শুরু হলে বর্তমান চাকরির বাজার আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি খোঁজা অনেক মানুষকে পেশা পরিবর্তন, কম বেতনের কাজ গ্রহণ অথবা চাকরির সন্ধান পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার
নিউ ইয়র্কে এভিয়েশন খাতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের জন্য বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের সুযোগ দিচ্ছে এভিয়েশন প্রেপ অ্যাকাডেমি। প্রতিষ্ঠানটির চতুর্থ ব্যাচের ৫৫ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হবে ২৪ অক্টোবর ২০২৬। প্রশিক্ষণটি নিউ ইয়র্কের রকভিল সেন্টারে সরাসরি উপস্থিত হয়ে করতে হবে। এভিয়েশন প্রেপ অ্যাকাডেমির তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচিটি মূলত এভিয়েশন খাতের প্রাথমিক পর্যায়ের চাকরির জন্য অংশগ্রহণকারীদের প্রস্তুত করতে তৈরি করা হয়েছে। যেসব চাকরির জন্য চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি প্রয়োজন হয় না, সেসব পেশায় প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক জ্ঞান ও কর্মদক্ষতার ওপর প্রশিক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আবেদনকারীদের উচ্চবিদ্যালয়ের ডিপ্লোমা অথবা জিইডি থাকতে হবে। পাশাপাশি এভিয়েশন খাতে কাজ করার আগ্রহ থাকতে হবে। চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি না থাকলেও এ কর্মসূচির মাধ্যমে এভিয়েশন খাতে ক্যারিয়ারের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানা এবং চাকরির জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটির অর্থায়নে রয়েছে এমঅ্যান্ডটি ব্যাংক। রকভিল সেন্টারের হিস্পানিক ব্রাদারহুডের সহযোগিতায় এটি পরিচালিত হচ্ছে। অ্যাকাডেমির তথ্য অনুযায়ী, নতুন ব্যাচটি হবে কর্মসূচিটির চতুর্থ ব্যাচ। এভিয়েশন প্রেপ অ্যাকাডেমি জানিয়েছে, কর্মসূচিটি শুধু নতুন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য নয়। যারা পেশা পরিবর্তন করতে চান কিংবা ইতিমধ্যে এভিয়েশন খাতে কাজ করছেন এবং ক্যারিয়ারে আরও এগিয়ে যেতে চান, তারাও এই প্রশিক্ষণ থেকে উপকৃত হতে পারেন। অ্যাকাডেমির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এভিয়েশন খাতে এমন বেশ কিছু পেশা রয়েছে যেখানে চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি ছাড়াই ভালো বেতন ও বিভিন্ন সুবিধাসহ ক্যারিয়ার শুরু করার সুযোগ রয়েছে। সেই সম্ভাব্য কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে ধারণা দেওয়াও প্রশিক্ষণের অন্যতম উদ্দেশ্য। ২৪ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া নতুন ব্যাচে আসন সীমিত। তাই এভিয়েশন খাতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের আবেদন ও যোগ্যতার বিস্তারিত তথ্য জেনে দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বড় সতর্কবার্তা দিয়েছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। তাঁর আশঙ্কা, আগামী এক দশকে এআই দ্রুত বিভিন্ন পেশার কাজ দখল করে নেওয়ায় বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়তে পারেন। একই সঙ্গে এই প্রযুক্তি সাইবার হামলা, প্রতারণা, ভুয়া তথ্য ছড়ানো এবং এমনকি প্রাণঘাতী জীবাণু তৈরির সক্ষমতাও সহজ করে দিতে পারে। ২৬ আগস্ট নিজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রায় ৬ হাজার শব্দের এক দীর্ঘ প্রবন্ধে গেটস এআই যুগের সম্ভাব্য ঝুঁকি ও তা মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন। একই সময়ে ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও তিনি এআই নিয়ে তাঁর উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। গেটসের মতে, এআই আগের প্রযুক্তিগত বিপ্লবগুলোর মতো নয়। অতীতে প্রযুক্তি কিছু কাজের ধরন বদলে দিলেও মানুষের চিন্তাশক্তির প্রয়োজন হয় এমন নতুন কাজ তৈরি হয়েছে। কিন্তু এআই সরাসরি মানুষের চিন্তা, বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতার একটি বড় অংশকে প্রতিস্থাপন করতে পারে। ফলে চাকরি হারানো মানুষের জন্য নতুন কাজ তৈরির সুযোগ আগের তুলনায় অনেক কম হতে পারে। তিনি লিখেছেন, আইন, গ্রাহকসেবা, চিকিৎসা, সফটওয়্যার ও উৎপাদন খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআই দ্রুত কাজের অংশ হয়ে উঠবে। এই পরিবর্তন কয়েক প্রজন্ম ধরে নয়, মাত্র এক দশকের মধ্যেই বড় আকারে ঘটতে পারে। নতুন কিছু চাকরি তৈরি হলেও যথাযথ নীতি না থাকলে বর্তমানে যত চাকরি রয়েছে, তার তুলনায় নতুন চাকরির সংখ্যা অনেক কম হতে পারে। বিশেষ করে প্রবেশ পর্যায়ের ও মধ্যম পর্যায়ের চাকরি নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন গেটস। তাঁর মতে, তরুণরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকবেন, কারণ কর্মজীবন শুরু করার সময় তাদের জন্য আগের তুলনায় কম সুযোগ থাকতে পারে। সফটওয়্যার প্রকৌশল, বিক্রয় ও গ্রাহকসেবা, আইনি সহায়তা, ঋণের আবেদন যাচাই, তথ্য বিশ্লেষণ এবং রোগীদের প্রাথমিক পর্যায়ের মূল্যায়নের মতো কাজেও এআই ক্রমেই ভূমিকা নিতে পারে। শুধু দাপ্তরিক কাজ নয়, শারীরিক শ্রমের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করেন গেটস। তাঁর ধারণা, দশকের শেষ নাগাদ উন্নত রোবট নির্মাণ ও আতিথেয়তা খাতের কিছু কাজে মানুষের সঙ্গে প্রতিযোগিতা শুরু করতে পারে। একটি প্রতিষ্ঠান রোবট ও এআই ব্যবহার করে খরচ কমিয়ে পণ্যের দাম কমালে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে একই পথে যেতে বাধ্য হবে। এতে স্বয়ংক্রিয়করণের গতি আরও বাড়তে পারে। গেটসের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো, এআই যখন প্রায় ভুলহীনভাবে কাজ করতে পারবে এবং মানুষের তদারকির প্রয়োজনও কমে যাবে। তখন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে আরও বেশি কাজ যন্ত্রের হাতে তুলে দেওয়ার শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রণোদনা থাকবে। এর ফলে কর্মসংস্থান, আয় এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রচলিত ধারণাই বদলে যেতে পারে। তিনি ১৯৩০-এর দশকের মহামন্দার কথাও উল্লেখ করেছেন। ১৯৩৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্ব প্রায় ২৫ শতাংশে পৌঁছেছিল। তবে গেটস বলেন, এআইয়ের কারণে বেকারত্ব সেই পর্যায়ে পৌঁছাবে এমন পূর্বাভাস তিনি দিচ্ছেন না। তাঁর বক্তব্য হলো, এআইয়ের প্রভাব যদি ব্যাপক হয়, তা শুধু অর্থনৈতিক চক্রের পরিবর্তনের সঙ্গে শেষ হয়ে যাবে না। বরং অর্থনীতির কাঠামোর ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। এআইয়ের অপব্যবহার নিয়েও সতর্ক করেছেন গেটস। তাঁর মতে, অনলাইনে আগে থেকেই সাইবার হামলা, প্রতারণা, ক্ষতিকর সফটওয়্যার ও জৈব অস্ত্র সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। এআই এসব তথ্য ব্যবহার করা এবং বাস্তবে প্রয়োগ করার সক্ষমতা আরও সহজ করে দিতে পারে। দক্ষতা কম থাকা ব্যক্তিরাও বড় পরিসরে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সরকারি ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর ক্ষমতা পেতে পারেন। হাসপাতাল, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ অবকাঠামো এবং সরকারি সেবার ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা এআই-সহায়িত সাইবার হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন। জীবাণু অস্ত্রের সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়েও তাঁর উদ্বেগ রয়েছে। গেটসের মতে, এআই যেমন নতুন ওষুধ ও টিকা তৈরির কাজ দ্রুত করতে পারে, তেমনি ক্ষতিকর উদ্দেশ্যে নতুন প্রাণঘাতী রোগজীবাণু তৈরির কাজও সহজ করে দিতে পারে। এ কারণেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে এমন এআই ব্যবস্থার বাধ্যতামূলক পর্যালোচনার পক্ষে তিনি মত দিয়েছেন। তবে গেটস শুধু এআইয়ের বিপদ তুলে ধরেননি। তাঁর মতে, সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে এই প্রযুক্তি চিকিৎসা, শিক্ষা, কৃষি ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে নতুন ওষুধ ও টিকা আবিষ্কার, স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তা এবং সাধারণ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য পৌঁছে দিতে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এআইয়ের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে কয়েকটি পদক্ষেপের প্রস্তাবও দিয়েছেন গেটস। এর মধ্যে অন্যতম হলো কিছু নির্দিষ্ট কাজকে মানুষের জন্য সংরক্ষিত রাখা। তিনি এই ধারণার নাম দিয়েছেন ‘হিউম্যান রিজার্ভড’। বিশেষ করে এমন কাজ, যেখানে মানুষের সহানুভূতি, সম্পর্ক বোঝার ক্ষমতা ও মানবিক উপস্থিতি অপরিহার্য, সেসব ক্ষেত্রে মানুষকে সরিয়ে না দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। এ ছাড়া এআই ও রোবটের ওপর কর আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন গেটস। তাঁর যুক্তি, বর্তমানে একজন কর্মী নিয়োগ করলে প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন ধরনের শ্রম কর দিতে হয়, কিন্তু রোবট কেনার ক্ষেত্রে অনেক সময় কর সুবিধা পাওয়া যায়। ফলে করব্যবস্থা পরোক্ষভাবে মানুষকে বাদ দিয়ে যন্ত্র ব্যবহারে উৎসাহ দিতে পারে। রোবট ও এআই ব্যবহারের ওপর কর আরোপ করলে স্বয়ংক্রিয়করণের গতি কিছুটা কমানোর পাশাপাশি কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অর্থ জোগানো সম্ভব হতে পারে বলে তাঁর মত। গেটস আরও বলেছেন, এআইয়ের প্রভাব সামলাতে শুধু একটি দেশের নীতি যথেষ্ট নয়। জাতীয় পর্যায়ে নতুন প্রতিষ্ঠান ও নীতিকাঠামো তৈরির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সমন্বিত ব্যবস্থা প্রয়োজন। এআই যেহেতু কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা, নির্বাচন, অর্থনীতি ও অবকাঠামোসহ বহু ক্ষেত্রকে একসঙ্গে প্রভাবিত করতে পারে, তাই এসব বিষয়কে আলাদা আলাদাভাবে দেখলে ঝুঁকি মোকাবিলা কঠিন হবে। এআই উন্নয়নে নেতৃত্ব দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন তিনি। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কিছু মাত্রায় সমন্বয় দরকার বলে মনে করেন গেটস। তাঁর মতে, প্রযুক্তির প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার আগে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কিছু অভিন্ন নীতি ও নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির কাজ শুরু করা উচিত। এআই নিয়ে নিজের অবস্থানকে গেটস একেবারে নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন না। বরং তাঁর বক্তব্য, এখনই ব্যবস্থা নেওয়া গেলে এই প্রযুক্তি মানবজাতির জন্য বড় সুফল বয়ে আনতে পারে। কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হলে চাকরি হারানো, সামাজিক অস্থিরতা এবং জনআস্থার সংকট তৈরি হওয়ার পর পরিস্থিতি সামাল দেওয়া অনেক কঠিন হবে। তাঁর ভাষায়, এআইয়ের সুবিধা যেন শুধু ধনী ও প্রভাবশালী মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেটি নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে সরকার, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনসহ বিভিন্ন পক্ষকে এআই নিয়ে আলোচনায় যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গেটসের এই সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন এআই প্রযুক্তির সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে এবং কর্মক্ষেত্রে এর ব্যবহারও বিস্তৃত হচ্ছে। তাঁর মতে, এখনই নীতি নির্ধারণ ও প্রস্তুতি শুরু করা গেলে এআইয়ের সম্ভাব্য সুফল সবার মধ্যে ভাগ করে নেওয়া সম্ভব। আর তা না হলে প্রযুক্তির অগ্রগতি অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। সংবাদসূত্র: গেটস নোটস, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, নিউইয়র্ক পোস্ট।
চাকরি খোঁজা কিংবা ক্যারিয়ার এগিয়ে নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেরা শহর হিসেবে উঠে এসেছে ম্যাসাচুসেটসের বোস্টন। চাকরি খোঁজার ওয়েবসাইট ইনডিডের ২০২৬ সালের নতুন এক তালিকায় ২৩৩টি মার্কিন মহানগর এলাকা বিশ্লেষণ করে বোস্টনকে প্রথম স্থান দেওয়া হয়েছে। ইনডিডের এই প্রথমবারের মতো প্রকাশিত ‘বেস্ট সিটিজ ফর ওয়ার্ক ২০২৬’ তালিকায় শহরগুলোকে শুধু বেতন বা চাকরির সংখ্যা দিয়ে বিচার করা হয়নি। চাকরির সুযোগ, পারিশ্রমিক, চাকরির মান ও নিরাপত্তা, ক্যারিয়ারে অগ্রগতির সুযোগ, কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সুযোগ, এই ছয়টি দিক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। ইনডিড ২ লাখ বা তার বেশি জনসংখ্যার মহানগর এলাকাগুলোকে এই বিশ্লেষণের আওতায় নেয়। বিভিন্ন সরকারি ও নিজস্ব তথ্য মিলিয়ে ৪০টির বেশি সূচকের ভিত্তিতে প্রতিটি এলাকার কর্মসংস্থান পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়েছে। চাকরির সুযোগ ও পারিশ্রমিককে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, আর বাকি চারটি বিষয়ও সামগ্রিক ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বোস্টনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো কোনো একটি সূচকে শুধু এগিয়ে থাকা নয়, বরং সবগুলো ক্ষেত্রেই তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকা। ইনডিডের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শহরটি ক্যারিয়ারে অগ্রগতির সুযোগে বিশেষভাবে শক্তিশালী। বড় নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং চাকরি পরিবর্তনের সুযোগের ঘনত্ব কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে। বোস্টন মহানগর এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা, পেশাগত ও ব্যবসায়িক সেবা, শিক্ষা ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বড় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাভিত্তিক কাজের সুযোগও এখানে উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি দূরবর্তী ও আংশিক অফিসভিত্তিক কাজের সুযোগ থাকায় কর্মীদের জন্য নমনীয়তার ক্ষেত্রটিও তুলনামূলক ভালো। তবে বোস্টনের শীর্ষে থাকার অর্থ এই নয় যে শহরটি প্রতিটি ক্ষেত্রেই সবার জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক। জীবনযাত্রার ব্যয়, বিশেষ করে বাসস্থান ও শিশুসেবার খরচ, তুলনামূলক বেশি। ফলে বেশি বেতনের চাকরি থাকলেও বাসস্থান ও অন্যান্য ব্যয় হিসাব করে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। ইনডিডের বিশ্লেষণেও বোস্টনের সামগ্রিক শক্তির পাশাপাশি এসব ব্যয়ের বিষয়টি উঠে এসেছে। তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি। ক্যারিয়ারে অগ্রগতির সুযোগের দিক থেকে শহরটি প্রথম অবস্থানে রয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান, বড় নিয়োগদাতা, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন পেশাজীবী খাতের ঘনত্বের কারণে কর্মীদের জন্য চাকরি পরিবর্তন ও ক্যারিয়ার এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ এখানে বেশি। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যের বার্লিংটন। বড় শহরের মতো উচ্চ বেতন না থাকলেও চাকরির সুযোগের দিক থেকে শহরটি পুরো যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শীর্ষে। তুলনামূলক ছোট শ্রমবাজারে চাকরিপ্রার্থীর চাহিদা বেশি থাকায় কর্মীদের দর-কষাকষির ক্ষমতাও শক্তিশালী বলে ইনডিড জানিয়েছে। চতুর্থ স্থানে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসে। পারিশ্রমিকের দিক থেকে এটি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় মহানগর এলাকা। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক উচ্চ বেতনের চাকরির আধিক্য এর অন্যতম কারণ। পঞ্চম স্থানে রয়েছে সান ফ্রান্সিসকো, যেখানে দূরবর্তী ও আংশিক অফিসভিত্তিক কাজের সুযোগও উল্লেখযোগ্য। তালিকার পরের দিকে রয়েছে বেশ কয়েকটি মাঝারি আকারের শহর। ষষ্ঠ স্থানে উইসকনসিনের ম্যাডিসন এবং সপ্তম স্থানে মিনেসোটার রচেস্টার। রচেস্টার অর্থনৈতিক সুযোগের সূচকে পুরো যুক্তরাষ্ট্রের মহানগর এলাকাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ স্কোর করেছে। শহরটি মায়ো ক্লিনিকের জন্যও পরিচিত, যা স্থানীয় কর্মসংস্থানে বড় ভূমিকা রাখে। অষ্টম স্থানে রয়েছে ওয়াশিংটনের সিয়াটল, নবমে টেক্সাসের অস্টিন এবং দশমে ভার্জিনিয়ার শার্লটসভিল। শার্লটসভিল চাকরির মান ও নিরাপত্তার সূচকে দেশটির মধ্যে প্রথম হয়েছে। অস্টিন কর্মজীবী পরিবারগুলোর জন্য শিশু পরিচর্যার সুযোগ ও ক্যারিয়ার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ভালো অবস্থানে রয়েছে। ইনডিডের তালিকায় আরও দেখা যায়, কর্মসংস্থানের জন্য শুধু নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া বা ওয়াশিংটনের মতো বড় শহরই এগিয়ে নেই। নর্থ ডাকোটার ফার্গো, নেব্রাস্কার ওমাহা, আইওয়ার সিডার র্যাপিডস এবং সাউথ ডাকোটার সিওক্স ফলসের মতো তুলনামূলক ছোট মহানগর এলাকাও সেরা ২৫-এর মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, চাকরির বাজারে বড় শহরের পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি শহরগুলোর গুরুত্বও বাড়ছে। ছোট শহরগুলোর কিছু এলাকায় চাকরির সুযোগের সঙ্গে তুলনামূলক কম যাতায়াতের চাপ, কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য এবং স্থানীয়ভাবে স্থিতিশীল কর্মসংস্থানের সুবিধা রয়েছে। ইনডিডের অর্থনীতিবিদদের মতে, কোনো একটি শহর সবার জন্য সমানভাবে উপযোগী নয়। একজন তরুণ চাকরিপ্রার্থীর জন্য যেখানে দ্রুত ক্যারিয়ার পরিবর্তন ও বেতন বৃদ্ধির সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ, অন্য কারও কাছে কাজের সময়ের নমনীয়তা, যাতায়াত, জীবনযাত্রার ব্যয় বা দীর্ঘমেয়াদি চাকরির নিরাপত্তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাই তালিকাটি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সম্ভাব্য কর্মস্থল বাছাইয়ের একটি নির্দেশনা হিসেবে দেখা উচিত, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়। ইনডিডের ২০২৬ সালের সেরা ২৫ শহরের পূর্ণ তালিকায় রয়েছে: ১. বোস্টন, ম্যাসাচুসেটস ২. ওয়াশিংটন ডিসি ৩. বার্লিংটন, ভারমন্ট ৪. সান হোসে, ক্যালিফোর্নিয়া ৫. সান ফ্রান্সিসকো, ক্যালিফোর্নিয়া ৬. ম্যাডিসন, উইসকনসিন ৭. রচেস্টার, মিনেসোটা ৮. সিয়াটল, ওয়াশিংটন ৯. অস্টিন, টেক্সাস ১০. শার্লটসভিল, ভার্জিনিয়া ১১. ফার্গো, নর্থ ডাকোটা ১২. ওমাহা, নেব্রাস্কা ১৩. অ্যালবানি, নিউইয়র্ক ১৪. সিডার র্যাপিডস, আইওয়া ১৫. মিনিয়াপোলিস, মিনেসোটা ১৬. অ্যান আরবার, মিশিগান ১৭. ডেনভার, কলোরাডো ১৮. হনোলুলু, হাওয়াই ১৯. বোল্ডার, কলোরাডো ২০. সিরাকিউজ, নিউইয়র্ক ২১. বাল্টিমোর, মেরিল্যান্ড ২২. ডারহাম, নর্থ ক্যারোলাইনা ২৩. ম্যানচেস্টার, নিউ হ্যাম্পশায়ার ২৪. কলম্বাস, ওহাইও ২৫. সিওক্স ফলস, সাউথ ডাকোটা। তবে মূল তালিকায় ১৭ নম্বরে ডেনভার, কলোরাডো থাকার কথা। প্রকাশিত কপিতে এটিকে ভুল করে ‘ডেনভার, মিশিগান’ লেখা হয়েছিল। একইভাবে তালিকাটি মূলত শহরের চেয়ে মহানগর এলাকা বা মেট্রো এলাকা বিবেচনা করে তৈরি করা হয়েছে। সূত্র: ইনডিড, ট্রাভেল + লেজার ও ফোর্বস।
যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মানুষের কর্মঘণ্টা ও কর্মসংস্থানের বিভিন্ন সূচক বিশ্লেষণ করে সবচেয়ে কঠোর পরিশ্রমী অঙ্গরাজ্যের তালিকা প্রকাশ করেছে ওয়ালেটহাব। তালিকায় দক্ষিণ ডাকোটা শীর্ষে রয়েছে। এরপর রয়েছে উত্তর ডাকোটা, আলাস্কা, হাওয়াই ও ওয়াইওমিং। ওয়ালেটহাব ১০টি সূচকের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যগুলোকে তুলনা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে গড় সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা, কর্মসংস্থানের হার, একাধিক চাকরি করা মানুষের সংখ্যা, অব্যবহৃত ছুটির দিন এবং প্রতিদিনের অবসর সময়। সূচকগুলোকে মূলত ‘প্রত্যক্ষ কর্ম-সূচক’ ও ‘পরোক্ষ কর্ম-সূচক’—এই দুই ভাগে বিবেচনা করা হয়েছে। শীর্ষে দক্ষিণ ডাকোটা দক্ষিণ ডাকোটা সবচেয়ে কঠোর পরিশ্রমী অঙ্গরাজ্য হিসেবে প্রথম স্থান পেয়েছে। রাজ্যটির প্রায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ কর্মী একাধিক চাকরি করেন, যা সারা দেশের মধ্যে ১১তম সর্বোচ্চ হার। একাধিক চাকরি করার পেছনে আর্থিক প্রয়োজন যেমন থাকতে পারে, তেমনি অতিরিক্ত সময় কাজ করার আগ্রহও এর কারণ হতে পারে বলে জানিয়েছে ওয়ালেটহাব। দক্ষিণ ডাকোটা ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী এমন তরুণদের অনুপাতের দিক থেকেও শীর্ষস্থানীয়, যারা কাজ করেন না, পড়াশোনাও করেন না এবং উচ্চমাধ্যমিকের পর আর কোনো শিক্ষা নেননি। তবে রাজ্যটির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো কর্মসংস্থানের হার। দক্ষিণ ডাকোটায় কর্মসংস্থানের হার প্রায় ৯৮ শতাংশ, যা যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় উত্তর ডাকোটা, তৃতীয় আলাস্কা কঠোর পরিশ্রমী অঙ্গরাজ্যের তালিকায় উত্তর ডাকোটা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। ওয়ালেটহাবের হিসাবে, সেখানে কর্মসংস্থানের হার ৯৭ শতাংশের বেশি, যা দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ। ১৬ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কর্মীরা উত্তর ডাকোটায় গড়ে সপ্তাহে ৩৯ দশমিক ৪ ঘণ্টা কাজ করেন। এই হিসাবে অঙ্গরাজ্যটি সারা দেশে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে আলাস্কা সামগ্রিক তালিকায় তৃতীয় হলেও কর্মঘণ্টার দিক থেকে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। সেখানে ১৬ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কর্মীরা সপ্তাহে গড়ে ৪১ দশমিক ৪ ঘণ্টা কাজ করেন, যা দেশের সর্বোচ্চ। আলাস্কাই একমাত্র অঙ্গরাজ্য যেখানে গড় সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা ৪০ ঘণ্টার বেশি। তুলনায় ওয়াশিংটন ডিসিতে গড় কর্মঘণ্টা ৪০ ঘণ্টা। অর্থাৎ আলাস্কার কর্মীরা সপ্তাহে গড়ে আরও ১ দশমিক ৪ ঘণ্টা বেশি কাজ করেন। শীর্ষ পাঁচে হাওয়াই ও ওয়াইওমিং ওয়ালেটহাবের তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে হাওয়াই এবং পঞ্চম অবস্থানে ওয়াইওমিং। কর্মঘণ্টা, কর্মসংস্থানের হার, একাধিক চাকরি এবং অবসর সময়সহ বিভিন্ন সূচকে তাদের অবস্থান বিবেচনা করেই সামগ্রিক র্যাংকিং তৈরি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্কৃতি কতটা কঠোর? ওয়ালেটহাবের তথ্য অনুযায়ী, একজন মার্কিন কর্মী বছরে গড়ে প্রায় ১ হাজার ৮০০ ঘণ্টা কাজ করেন। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের তথ্য উদ্ধৃত করে ওয়ালেটহাব জানিয়েছে, এই সময় জার্মানির কর্মীদের তুলনায় বছরে প্রায় ৪৬৮ ঘণ্টা বেশি, তবে মেক্সিকোর কর্মীদের তুলনায় ৪০৫ ঘণ্টা কম। শুধু কর্মঘণ্টাই নয়, ছুটির ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্কৃতিতে দীর্ঘ সময় কাজ করার প্রবণতা দেখা যায়। ওয়ালেটহাবের হিসাবে, দেশটির প্রায় অর্ধেক কর্মীই তাদের জন্য বরাদ্দ সব ছুটির দিন ব্যবহার করতে পারবেন বলে মনে করেন না। ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপো বলেন, কঠোর পরিশ্রম করা প্রশংসনীয় হলেও সবচেয়ে বেশি কাজ করা অঙ্গরাজ্যগুলোর মানুষের মাঝে মাঝে বিরতি নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। তাঁর মতে, পর্যাপ্ত অবসর না থাকলে মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সবচেয়ে কঠোর পরিশ্রমী ৫ অঙ্গরাজ্য ১. দক্ষিণ ডাকোটা ২. উত্তর ডাকোটা ৩. আলাস্কা ৪. হাওয়াই ৫. ওয়াইওমিং অর্থাৎ, শুধু বেশি ঘণ্টা কাজ করাই নয়—উচ্চ কর্মসংস্থানের হার, একাধিক চাকরি করার প্রবণতা, কম অবসর সময়সহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। আর সেই সামগ্রিক বিচারে দক্ষিণ ডাকোটাই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে কঠোর পরিশ্রমী অঙ্গরাজ্য হিসেবে উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ম্যাককেসন। ১৩ আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৩৬৩টি পদে কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সময়ে বিশ্বব্যাপী ম্যাককেসনের মোট ৫৩৯টি পদে নিয়োগ কার্যক্রম চলছে। বর্তমান নিয়োগে ডিস্ট্রিবিউশন অপারেশন, তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যবসা ও কৌশল, গ্রাহকসেবা, ফার্মেসি, চিকিৎসা ও চিকিৎসা গবেষণা, অর্থ ও হিসাব এবং বিপণন ও বিক্রয়সহ বিভিন্ন বিভাগে কর্মী নেওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি নিয়োগ চলছে ডিস্ট্রিবিউশন অপারেশন বিভাগে। এই বিভাগে ১১৫টি পদে কর্মী নিচ্ছে ম্যাককেসন। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তিতে ৬৭টি, ব্যবসা ও কৌশলে ৩৯টি, গ্রাহকসেবা ও সম্পর্ক ব্যবস্থাপনায় ৩২টি, অর্থ ও হিসাব বিভাগে ৩১টি, বিপণন ও বিক্রয়ে ২২টি, ফার্মেসিতে ১৬টি এবং চিকিৎসা ও চিকিৎসা গবেষণায় ১৪টি পদে নিয়োগ চলছে। বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি আগ্রহের হতে পারে ওয়্যারহাউস ও ডিস্ট্রিবিউশন-সংক্রান্ত চাকরিগুলো। জর্জিয়ার এলাবেল ও বুফোর্ড, টেক্সাসের গ্রেপভাইন ও হিউস্টন, ক্যালিফোর্নিয়ার চিনো ও রোজভিল, ভার্জিনিয়ার ক্লিয়ার ব্রুক, নিউ জার্সির রবিনসভিল এবং মিসৌরির কানসাস সিটি ও ও’ফ্যালনসহ বিভিন্ন শহরে ওয়্যারহাউস কর্মী নিয়োগ করছে প্রতিষ্ঠানটি। ডেলিভারি পেশাতেও কর্মী নিচ্ছে ম্যাককেসন। অ্যারিজোনার টলেসনে ১২ আগস্ট নতুন করে ডেলিভারি প্রফেশনাল–পার্সেল ভ্যান পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। নিউ জার্সি ও ক্যালিফোর্নিয়াসহ আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যেও ডেলিভারি-সংক্রান্ত পদে নিয়োগ চলছে। এসব পদের ক্ষেত্রে সাধারণত বৈধ ড্রাইভার লাইসেন্স, গ্রহণযোগ্য ড্রাইভিং রেকর্ড এবং নির্দিষ্ট শারীরিক সক্ষমতার শর্ত থাকতে পারে। অফিসভিত্তিক কাজ বা গ্রাহকসেবায় আগ্রহীদের জন্যও রয়েছে একাধিক সুযোগ। কাস্টমার সার্ভিস রিপ্রেজেন্টেটিভ, কাস্টমার অনবোর্ডিং স্পেশালিস্ট, অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার এবং গ্রাহক সম্পর্ক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন পদে কর্মী নেওয়া হচ্ছে। টেক্সাসের আরভিংয়ে ১২ আগস্ট কাস্টমার অনবোর্ডিং স্পেশালিস্ট এবং ১০ আগস্ট অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার পদে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তিতে অভিজ্ঞ বাংলাদেশিদের জন্যও রয়েছে উল্লেখযোগ্য সুযোগ। সফটওয়্যার ডেভেলপার, ফুল-স্ট্যাক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, ডেটা ইঞ্জিনিয়ার, টেকনিক্যাল আর্কিটেক্ট এবং বিভিন্ন ডিজিটাল ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা পদে নিয়োগ দিচ্ছে ম্যাককেসন। টেক্সাসের আরভিং ও ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডে প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট একাধিক পদে কর্মী নেওয়া হচ্ছে। ফার্মেসি ও স্বাস্থ্যসেবা খাতেও নিয়োগ চলছে। নিউ জার্সির ডেলরান টাউনশিপে ফার্মাসিস্ট, নর্থ ক্যারোলিনায় রিইম্বার্সমেন্ট কেস ম্যানেজার এবং বিভিন্ন স্থানে রোগী সহায়তা ও ক্লিনিক্যাল-সংক্রান্ত পদে কর্মী নিয়োগ করা হচ্ছে। তবে এসব চাকরির অনেক ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের পেশাগত লাইসেন্স, যুক্তরাষ্ট্রে স্বীকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা কিংবা নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হতে পারে। বাংলাদেশি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্রে কাজের বৈধ অনুমতি। ম্যাককেসনের সব পদে বিদেশি কর্মীদের জন্য ভিসা স্পনসরশিপ দেওয়া হয় না। প্রতিষ্ঠানটির বেশ কিছু বর্তমান চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারীকে কোম্পানির ইমিগ্রেশন স্পনসরশিপ ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে পূর্ণকালীন কাজ করার বৈধ অনুমতি থাকার শর্ত দেওয়া হয়েছে। ফলে মার্কিন নাগরিক, গ্রিন কার্ডধারী, বৈধ ওয়ার্ক পারমিটধারী অথবা অন্য কোনো বৈধ ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজের অনুমতি থাকা বাংলাদেশিরা যোগ্যতা অনুযায়ী এসব চাকরিতে আবেদন করতে পারেন। বাংলাদেশ থেকে সরাসরি আবেদন করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট পদে ভিসা স্পনসরশিপের সুযোগ রয়েছে কি না, সেটি অবশ্যই আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে। ম্যাককেসনের কর্মসংস্থানের সুযোগ আগামী কয়েক বছরে আরও বাড়তে পারে। ওকলাহোমার মুর শহরে ৩ লাখ ৩০ হাজার বর্গফুটের নতুন একটি আঞ্চলিক বিতরণকেন্দ্র নির্মাণ করছে প্রতিষ্ঠানটি। গত ২৪ জুন প্রকল্পটির ঘোষণা দেয় ওকলাহোমা ডিপার্টমেন্ট অব কমার্স। নতুন কেন্দ্রটিতে প্রাথমিকভাবে ২০০-এর বেশি সরাসরি চাকরি তৈরি হবে। ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হলে সরাসরি ও পরোক্ষ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মিলিয়ে প্রায় ৬৩৩টি কর্মসংস্থানের প্রভাব তৈরি হতে পারে। তবে এই ৬৩৩টির সবই ম্যাককেসনের সরাসরি চাকরি নয়। চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগ প্রতারণা সম্পর্কেও সতর্ক করেছে ম্যাককেসন। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চাকরির আবেদন বা নিয়োগের নামে তাদের নিয়োগ কর্মকর্তারা কখনো অর্থ বা ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চান না। সাধারণ জিমেইল বা হটমেইল ঠিকানা কিংবা অনলাইন চ্যাটরুম ব্যবহার করেও আনুষ্ঠানিক নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় না। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজের অনুমতি থাকা বাংলাদেশিদের জন্য ম্যাককেসনের বর্তমান নিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। উচ্চ দক্ষতার প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবা পদের পাশাপাশি ওয়্যারহাউস, ডেলিভারি এবং গ্রাহকসেবার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রেও চাকরি রয়েছে। তবে চাকরির তালিকা নিয়মিত পরিবর্তিত হওয়ায় আবেদন করার আগে পদের অবস্থান, যোগ্যতা, বেতন, কাজের সময়, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স এবং ইমিগ্রেশন বা ভিসা স্পনসরশিপের শর্ত ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।
চাকরিপ্রার্থীদের সরাসরি নিয়োগদাতা ও কর্মসংস্থান সহায়তা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে কুইন্সে চাকরি নিয়োগ মেলা আয়োজন করতে যাচ্ছে নিউইয়র্ক সিটি। অনুষ্ঠানটি ২৫ আগস্ট ২০২৬, সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানের স্থান দ্য গ্রেটার অ্যালেন এএমই ক্যাথেড্রাল অব নিউইয়র্ক, ১১০-৩১ মেরিক বুলেভার্ড, কুইন্স। এখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ, নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, কর্মদক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং পেশাগত সহায়তা পাওয়া যাবে। চাকরিপ্রার্থীদের আগেভাগে নিবন্ধন করার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে পরিপাটি পেশাগত পোশাক, ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র এবং কয়েক কপি জীবনবৃত্তান্ত সঙ্গে নিয়ে যেতে বলা হয়েছে। কিছু নিয়োগদাতা ঘটনাস্থলেই সাক্ষাৎকার নিতে পারেন। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের চাকরির সুযোগের পাশাপাশি জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, চাকরির আবেদন এবং কর্মজীবন উন্নয়ন সম্পর্কিত সহায়তাও পাওয়া যাবে। নিউইয়র্ক সিটি বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের চাকরির মেলার মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ করে দিচ্ছে। বিশেষ করে নতুন চাকরি খুঁজছেন এমন ব্যক্তি ও কর্মজীবন পরিবর্তনে আগ্রহীদের জন্য এসব আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করছে।
ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনায় মানুষের স্থানান্তর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম আলোচিত অভ্যন্তরীণ অভিবাসন প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। উচ্চ আবাসন ব্যয়, তুলনামূলক বেশি রাজ্য আয়কর এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগের কারণে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক পরিবার ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে অ্যারিজোনায় বসতি গড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর জনসংখ্যা ও অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের তথ্যেও দুই রাজ্যের বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। একদিকে ক্যালিফোর্নিয়া জনসংখ্যা হারাচ্ছে, অন্যদিকে অ্যারিজোনা দ্রুত জনসংখ্যা বাড়ানো রাজ্যগুলোর একটি হয়ে উঠছে। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনায় যাওয়ার ক্ষেত্রে মূলত তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এগুলো হলো রাজ্য আয়কর, বাড়ির দাম এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ। প্রথম কারণ, আয়করের বড় পার্থক্য ক্যালিফোর্নিয়ায় ব্যক্তিগত আয়কর আয়ের স্তর অনুযায়ী ১ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত। এর পাশাপাশি ১০ লাখ ডলারের বেশি করযোগ্য আয়ের ওপর অতিরিক্ত ১ শতাংশ কর রয়েছে। ফলে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রাজ্য আয়করের হার দাঁড়ায় ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে, অ্যারিজোনায় ২০২৩ সাল থেকে ব্যক্তিগত আয়করের সমতল হার ২ দশমিক ৫ শতাংশ। ফলে উচ্চ আয়ের মানুষের জন্য দুই রাজ্যের আয়করের ব্যবধান বেশ বড়। তবে শুধু আয়কর দিয়েই একজন মানুষের মোট করের বোঝা নির্ধারিত হয় না। বাড়ির দাম, সম্পত্তি কর, বিক্রয় কর, বাড়ির বীমা, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জীবনযাত্রার ব্যয়ও হিসাব করতে হয়। তারপরও ক্যালিফোর্নিয়ার তুলনায় কম রাজ্য আয়কর অ্যারিজোনাকে অনেক পরিবারের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। দ্বিতীয় কারণ, তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনায় যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ আবাসন ব্যয়। বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেস, সান ডিয়েগো, অরেঞ্জ কাউন্টি ও সান ফ্রান্সিসকো বে এলাকার মতো ব্যয়বহুল অঞ্চলের তুলনায় অ্যারিজোনার অনেক এলাকায় একই বাজেটে বড় বাড়ি কেনা সম্ভব। রিয়েল এস্টেট কোম্পানি রেডফিনের তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ার বড় শহর ও মহানগর এলাকাগুলোতে বাড়ির দাম দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক বেশি। বিপরীতে ফিনিক্স ও টুসনের মতো অ্যারিজোনার বড় শহরগুলোতে তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ রয়েছে। তবে দুই রাজ্যের বাড়ির দাম সরাসরি তুলনা করার সময় শহর ও এলাকার পার্থক্য বিবেচনায় নিতে হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার সব এলাকার বাড়ির দাম যেমন সমান নয়, তেমনি অ্যারিজোনার সব এলাকাও সস্তা নয়। তারপরও ক্যালিফোর্নিয়ার উচ্চ আবাসন ব্যয় বহু পরিবারকে অন্য রাজ্যে যাওয়ার কথা ভাবতে বাধ্য করছে। অ্যারিজোনায় তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার পাশাপাশি অনেক পরিবার কম মাসিক ঋণের কিস্তির সুবিধাও পাচ্ছে। তৃতীয় কারণ, প্রযুক্তি ও শিল্প খাতে নতুন কর্মসংস্থান অ্যারিজোনার আকর্ষণ শুধু কম আবাসন ব্যয় বা কম করের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। রাজ্যটি দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও অর্ধপরিবাহী শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে। তাইওয়ানের অর্ধপরিবাহী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টিএসএমসি অ্যারিজোনার ফিনিক্স এলাকায় বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে। কোম্পানিটি সেখানে তিনটি কারখানা নির্মাণের জন্য ৬৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে প্রথম কারখানায় ৪ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে। পরবর্তী কারখানাগুলো চালু হলে অ্যারিজোনায় উন্নত প্রযুক্তির অর্ধপরিবাহী উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রযুক্তি জায়ান্ট ইন্টেলও অ্যারিজোনার চ্যান্ডলারে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে দুটি নতুন অর্ধপরিবাহী কারখানা নির্মাণের প্রকল্প নিয়েছে। এসব বিনিয়োগের ফলে শুধু কারখানায় সরাসরি চাকরি নয়, প্রকৌশল, নির্মাণ, সরবরাহ ব্যবস্থা, পরিবহন, প্রযুক্তি ও অন্যান্য সহযোগী খাতেও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ার প্রবণতা অবশ্য নতুন নয় ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অন্য রাজ্যে মানুষের চলে যাওয়ার প্রবণতা কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে। উচ্চ আবাসন ব্যয়, জীবনযাত্রার খরচ, কর এবং কিছু ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের অবস্থান পরিবর্তন এর পেছনে ভূমিকা রাখছে। অন্যদিকে অ্যারিজোনা, টেক্সাস, নেভাদা ও ফ্লোরিডার মতো রাজ্যগুলো তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের কারণে নতুন বাসিন্দাদের আকর্ষণ করছে। তবে অ্যারিজোনায় মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানেও আবাসনের চাহিদা ও দাম বাড়ছে। পানি, পরিবহন, বিদ্যালয়, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য অবকাঠামোর ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। ফলে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনায় যাওয়ার সিদ্ধান্তকে শুধু কম কর বা কম বাড়ির দামের হিসাব দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। পরিবারের আয়, চাকরির ধরন, দূর থেকে কাজের সুযোগ, সন্তানদের শিক্ষা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক পরিকল্পনাও এই সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তারপরও সাম্প্রতিক বছরগুলোর অভ্যন্তরীণ জনসংখ্যা স্থানান্তরের চিত্রে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনার দিকে মানুষের আগমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা হিসেবে উঠে এসেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার উচ্চ আবাসন ব্যয় ও করের চাপের বিপরীতে অ্যারিজোনার তুলনামূলক কম রাজ্য আয়কর, আবাসনের সুযোগ এবং প্রযুক্তি খাতে নতুন বিনিয়োগ অনেক পরিবারের কাছে নতুন করে বসতি গড়ার সম্ভাবনা তৈরি করছে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সৃষ্টি হওয়া নতুন চাকরির বড় অংশই নারীদের দখলে গেছে। নতুন এক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয়বার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ৪ লাখ ৬৮ হাজার নতুন নন-ফার্ম বেতনভুক্ত চাকরি সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৬ শতাংশ, অর্থাৎ ৪ লাখ ৩ হাজার চাকরি পেয়েছেন নারী কর্মীরা। পুরুষদের ভাগে এসেছে মাত্র ৬৫ হাজার চাকরি। অর্থনীতিবিদ জাস্টিন উলফার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের মূল কারণ কর্মসংস্থানের ধারা। সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি নতুন চাকরি তৈরি হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতে যেখানে ঐতিহাসিকভাবেই নারী কর্মীর সংখ্যা বেশি। ফলে নতুন কর্মসংস্থানের সুবিধাও তুলনামূলকভাবে নারীরাই বেশি পেয়েছেন। বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নন-ফার্ম খাতে কর্মরত নারীর সংখ্যা পুরুষদের চেয়ে সামান্য বেশি। দেশটির ইতিহাসে এটি মাত্র তৃতীয়বারের মতো ঘটল। ১৯৭০ সালে একই খাতে পুরুষ কর্মীর সংখ্যা নারীদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ছিল। তবে গত পাঁচ দশকে ধীরে ধীরে সেই ব্যবধান কমে এসে এখন উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। নন-ফার্ম কর্মসংস্থানের হিসাবের বাইরে কৃষি খাতের চাকরি রাখা হয়। উলফার্সের মতে, এটি নারীদের প্রতি নিয়োগদাতাদের বিশেষ পক্ষপাতের ফল নয়। বরং অর্থনীতির যে খাতগুলো দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে, সেগুলোতেই আগে থেকেই নারী কর্মীর আধিক্য ছিল। তার বিশ্লেষণে দেখা যায়, নারী-প্রধান শিল্পখাতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকে ৮ লাখ ২৮ হাজার নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়েছে। বিপরীতে পুরুষ-প্রধান খাতে ২ লাখ ১৮ হাজার এবং তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ খাতে ১ লাখ ৪২ হাজার চাকরি কমেছে। বিশেষ করে বেসরকারি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মসংস্থান দ্রুত বেড়েছে। ট্রাম্প দ্বিতীয়বার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এই খাতে কর্মরতদের ৭৫ শতাংশের বেশি ছিলেন নারী। ফলে নতুন নিয়োগের বড় অংশও স্বাভাবিকভাবেই নারীদের ঝুলিতে গেছে। অর্থনীতিবিদ উলফার্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এখন ক্রমেই সেবাভিত্তিক হয়ে উঠছে। স্বাস্থ্যসেবা, শিশু পরিচর্যা, শিক্ষা এবং বয়স্কদের সেবার মতো খাতে চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। একটি দেশ যখন আরও সমৃদ্ধ, উৎপাদনশীল এবং বয়স্ক জনগোষ্ঠীসমৃদ্ধ হয়, তখন অর্থনীতিতে এ ধরনের পরিবর্তন স্বাভাবিক। তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের বড় অংশের মানুষ কৃষি ও উৎপাদনশিল্পে কাজ করলেও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কারণে এখন অনেক কম শ্রমিক দিয়েই একই বা তার চেয়ে বেশি উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। ফলে শ্রমশক্তি ধীরে ধীরে সেবা খাতে স্থানান্তরিত হচ্ছে। আধুনিক কারখানা ও খামারে যন্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় কর্মসংস্থানের ধরণও বদলে যাচ্ছে। উলফার্সের ভাষায়, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে যে খাতগুলো সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে, সেগুলোকে অনেক সময় "পিঙ্ক-কলার অর্থনীতি" বলা হয়। এসব পেশায় ঐতিহাসিকভাবে নারীদের অংশগ্রহণ বেশি এবং এখনও পুরুষদের আগ্রহ তুলনামূলকভাবে কম। তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতে পুরুষদের কর্মসংস্থানও বাড়াতে হলে দ্রুত সম্প্রসারিত এসব খাতে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ম্যাকন-বিব কাউন্টিতে ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের নতুন উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণে বিনিয়োগ করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উৎপাদন প্রতিষ্ঠান ইউনিফাইড লিগ্যাসি । এই প্রকল্পের মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরে ৫০০ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। কোম্পানির নতুন কারখানাটি ম্যাকনের বার্নস ফেরি রোডে নির্মিত হবে। এখানে প্রতিরক্ষা, মহাকাশ, ডেটা সেন্টার এবং শিল্প খাতের জন্য উচ্চ-নির্ভুলতার ধাতব যন্ত্রাংশ, জেনারেটর এনক্লোজার, জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক, ওয়েল্ডেড অ্যাসেম্বলি এবং অন্যান্য বিশেষায়িত সরঞ্জাম উৎপাদন করা হবে। নির্মাণকাজ ২০২৬ সালেই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ইউনিফাইড লিগ্যাসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এরিক উইলিয়ামস বলেন, মধ্য জর্জিয়ার দক্ষ জনশক্তি এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের ওপর আস্থা রেখেই এই বিনিয়োগ করা হচ্ছে। নতুন কারখানার মাধ্যমে কোম্পানির উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে এবং আরও বড় ও জটিল প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। নতুন এই প্রকল্পে উৎপাদন, দক্ষ কারিগরি, প্রকৌশল, লজিস্টিকস, মান নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন পদে কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। জর্জিয়ার গভর্নর ব্রায়ান কেম্প বলেন, এই বিনিয়োগ প্রমাণ করে যে শক্তিশালী জনশক্তি, উন্নত অবকাঠামো এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের কারণে জর্জিয়া উৎপাদনশিল্পের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে। তার মতে, দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং সরবরাহ ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় এ ধরনের বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ইউনিফাইড লিগ্যাসির সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইউনিফাইড ডিফেন্স ২০২২ সাল থেকে জর্জিয়ার বাইরন শহরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নতুন এই বিনিয়োগের মাধ্যমে কোম্পানিটি মধ্য জর্জিয়ায় তাদের কার্যক্রম আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারণ করছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জর্জিয়া ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট, ম্যাকন-বিব কাউন্টি ইন্ডাস্ট্রিয়াল অথরিটি এবং জর্জিয়া পাওয়ার যৌথভাবে কাজ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকলেও বর্তমানে কেবল একটি চাকরির আয় দিয়ে স্বচ্ছন্দে জীবন যাপন করা অনেকের জন্যই কঠিন হয়ে পড়েছে। বাড়িভাড়া, খাবার, স্বাস্থ্যসেবা ও গাড়িসহ দৈনন্দিন অন্যান্য খরচের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি সামাল দিতে গিয়ে আমেরিকানরা এখন তাদের মূল পেশার পাশাপাশি দ্বিতীয় আয়ের পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। ফেডারেল রিজার্ভের সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক চিত্র। জরিপ অনুযায়ী, দেশটির ৫৮ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক মনে করেন যে, আগের বছরের তুলনায় ক্রমাগত বাড়তে থাকা পণ্যের দাম তাদের আর্থিক অবস্থাকে চরম নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছে। এমনকি ১৬ শতাংশ মানুষ আগের মাসের সব বিল পরিশোধ করতেও ব্যর্থ হয়েছেন। এই তীব্র আর্থিক চাপের কারণে অনেকেই এখন সন্ধ্যার পর বা সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে অতিরিক্ত কাজ করছেন। বাড়তি আয়ের আশায় কেউ রাইড শেয়ারিং বা খাবার ডেলিভারির কাজ করছেন, আবার কেউবা ফ্রিল্যান্সিং ও বিভিন্ন খণ্ডকালীন পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, নাগরিকদের জন্য এখন আর শুধু আয় বাড়ানোই মূল লক্ষ্য নয়, বরং প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকা জীবনযাত্রার খরচের সঙ্গে কোনোমতে তাল মিলিয়ে চলাই পরিবারগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভের তথ্যে আরও জানা যায়, গত এক বছরে ৫৯ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক অন্তত একটি বড় ধরনের অপ্রত্যাশিত খরচের মুখোমুখি হয়েছেন। অন্যদিকে, ৪০০ ডলারের মতো জরুরি খরচ সহজে সামলাতে পারবেন—এমন মানুষের সংখ্যা মাত্র ৬৩ শতাংশ। সার্বিক পরিস্থিতি থেকে এটি স্পষ্ট যে, যুক্তরাষ্ট্রে এখন দ্বিতীয় চাকরি আর কোনো বাড়তি আয়ের শখ বা সুবিধা নয়, বরং ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকার এক অনিবার্য উপায় হয়ে উঠেছে।
সুদীর্ঘ তিন দশকের পেশাগত সাফল্য, বিশাল অভিজ্ঞতা এবং একাধিক প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্বের দক্ষতা যে কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্যই যা হওয়ার কথা ছিল সবচেয়ে বড় সম্পদ। অথচ বর্তমান বিশ্বব্যাপী পরিবর্তিত শ্রমবাজারে সেই দীর্ঘ অভিজ্ঞতাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫ বছর বয়সী মার্কিন যোগাযোগের মাধ্যম ও বিষয়বস্তু (কন্টেন্ট) বিশেষজ্ঞ লেসলি সোনেনক্লারের জন্য। গত বছরের মার্চ মাসে চাকরি হারানোর পর টানা ১৪ মাসে তিনি ৩০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানে চাকরির আবেদন করেছেন, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাননি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিজনেস ইনসাইডারে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নিজের এই হতাশাজনক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন আমেরিকার এরিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্স শহরের বাসিন্দা লেসলি। পেশাগত জীবনে এত বড় ধাক্কা ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি তিনি এর আগে কখনো হননি। ১৯৯৪ সালে একজন বিপণন সমন্বয়ক (মার্কেটিং কোঅর্ডিনেটর) হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন লেসলি। পরবর্তীতে তিনি টানা ১১ বছর নিজস্ব ব্যবসা সফলভাবে পরিচালনা করেন এবং সম্প্রতি একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থায় বিষয়বস্তু ও যোগাযোগ বিভাগের প্রধান বা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু অর্থনৈতিক মন্দা ও প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের প্রবাহে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে তিনি চাকরিচ্যুত হন। চাকরি হারানোর পর থেকে নতুন কর্মসংস্থানের জন্য লাগাতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এই অভিজ্ঞ নারী। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সহায়তায় নিজের অভিজ্ঞতা পুনর্মূল্যায়ন করে প্রতিটি আবেদনের জন্য আলাদা ‘জীবনবৃত্তান্ত’ (রিজিউমি) তৈরি করেছেন। পেশাদার নেটওয়ার্ক লিংকডইন থেকে শুরু করে বিভিন্ন নিয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এমনকি ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের পদ মর্যাদার চাকরির জন্যও আবেদন করতে কুণ্ঠাবোধ করেননি। তবুও বারবার তিনি উপেক্ষিত হয়েছেন। নিজের এই অভিজ্ঞতা সম্পর্কে লেসলি বিজনেস ইনসাইডারকে বলেন, “চাকরির বিজ্ঞাপনে দেখা যায় শত শত মানুষ আবেদন করছেন। লিংকডইনে যখন দেখি এক একটি পদের জন্য শতাধিক আবেদন জমা পড়েছে, তখন ভাইভা বা সাক্ষাতকারের আগেই মনে হয় আমার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে। কোম্পানিগুলো অভিজ্ঞতা চায় ঠিকই, কিন্তু বাস্তবে তারা এমন এক অদ্ভুত যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মী খোঁজে যিনি একই সাথে কৌশল তৈরি করবেন, লেখালেখি করবেন, এসইও সামলাবেন, আবার ডিজাইনও করবেন। একজন জ্যেষ্ঠ পেশাজীবীর ক্ষেত্রে সব বিষয়ে একসাথে সর্বগুণসম্পন্ন হওয়া বাধ্যতামূলক হতে পারে না।” লেসলির ধারণা, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে তার বয়সই প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে। অনেক নিয়োগকারী সংস্থাই তাকে জীবনবৃত্তান্তে পুরো ৩২ বছরের অভিজ্ঞতার কথা না লিখে কেবল শেষ ১০ বছরের কাজের বিবরণ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলা ও বয়সভিত্তিক বৈষম্য (এজইজম) এখন স্পষ্ট। প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় বয়স কম এমন তরুণ কর্মীদের কম বেতনে নিয়োগ দিয়ে নিজের মতো গড়ে নিতে পছন্দ করে, যা জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের সুযোগ সংকুচিত করে দিচ্ছে। প্রথমে শুধুমাত্র ঘরে বসে বা দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে (রিমোট জব) কাজ করার ইচ্ছা থাকলেও, দীর্ঘ ৯ মাস পর বাধ্য হয়ে নিজের এলাকার স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে সরাসরি কাজের আবেদন শুরু করেন লেসলি। অনলাইনে সরাসরি আবেদনের চেয়ে পরিচিতদের মাধ্যমে বা রেফারেন্সে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘদিনের পরিচিত ও সহকর্মীদের অনেকেই এখন আর মেসেজের জবাব দেন না, যা তাকে মানসিকভাবে আরও ভেঙে ফেলছে। তবে দীর্ঘ সময় বেকার থাকলেও আগাম আর্থিক পরিকল্পনার কারণে লেসলির অবসরকালীন ফান্ড বা বর্তমান জীবনযাত্রায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়নি। তিনি আগে থেকেই সঞ্চয়মুখী হওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে টানা এক বছর ধরে অবসরকালীন তহবিলে জমা করতে না পারায় নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে খানিকটা চিন্তা থেকে যাচ্ছে। এত সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করছেন এই প্রবীণ পেশাজীবী। তার বিশ্বাস, এটি একটি সাময়িক বিপর্যয় মাত্র এবং দ্রুতই তিনি তার যোগ্যতার মর্যাদা পাবেন। এই ঘটনাটি শুধু লেসলির একার নয়, বরং বিশ্বজুড়ে অভিজ্ঞ ও বয়স্ক কর্মীদের কর্মক্ষেত্রে যে বৈষম্য ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, এটি তারই একটি স্পষ্ট প্রতিফলন।
নিউইয়র্কে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য আবারও সরাসরি নিয়োগের সুযোগ নিয়ে আসছে Jobs NYC। শহরের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন নিয়োগদাতার অংশগ্রহণে ম্যানহাটন ও ব্রঙ্কসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুটি বড় চাকরি মেলা, যেখানে আবেদনকারীরা নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার পাশাপাশি তাৎক্ষণিক সাক্ষাৎকার দেওয়ার সুযোগও পাবেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম PIX11 জানিয়েছে, Jobs NYC-এর উদ্যোগে আয়োজিত এসব চাকরি মেলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নিউইয়র্ক সিটির সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন। কিছু ক্ষেত্রে যোগ্য প্রার্থীদের ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক সাক্ষাৎকার নেওয়া হতে পারে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অংশগ্রহণকারীদের অবশ্যই একটি বৈধ ছবি সংবলিত পরিচয়পত্র এবং জীবনবৃত্তান্তের (রেজ্যুমে) একাধিক কপি সঙ্গে আনতে হবে। পাশাপাশি পেশাদার বা ব্যবসায়িক পোশাক পরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে নিয়োগদাতাদের সামনে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করা যায়। প্রথম চাকরি মেলাটি অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত আপার ম্যানহাটন Workforce1 Career Center, ২১৫ ওয়েস্ট ১২৫তম স্ট্রিটে। এই আয়োজনটি মূলত গ্রাহকসেবা-সংশ্লিষ্ট চাকরির ওপর গুরুত্ব দেবে। অনলাইনে অগ্রিম নিবন্ধনের সব টিকিট শেষ হয়ে গেলেও আয়োজকরা জানিয়েছেন, নিবন্ধন ছাড়াই সরাসরি উপস্থিত হয়ে অংশ নেওয়া যাবে। এই চাকরি মেলায় ক্যাশিয়ার, ফ্রন্ট ডেস্ক ক্লার্ক, ব্যাংক টেলার এবং ডিসপ্যাচারসহ বিভিন্ন পদের জন্য নিয়োগদাতারা প্রার্থী খুঁজবেন। দ্বিতীয় চাকরি মেলাটি অনুষ্ঠিত হবে ২৮ জুলাই সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ব্রঙ্কসের BronxWorks Classic Community Center, ২৮৬ ইস্ট ১৫৬তম স্ট্রিটে। তবে দুপুর ১টার পর প্রবেশের সুযোগ থাকবে না বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। এই আয়োজনে নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা সম্ভাব্য কর্মী নিয়োগের জন্য উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া কর্মসংস্থান উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ এবং পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিবন্ধনের সুযোগও থাকবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের চাকরি মেলা চাকরিপ্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে। কারণ এখানে নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা যায়, জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়া যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে একই দিনেই প্রাথমিক সাক্ষাৎকার সম্পন্ন হয়, যা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত এগিয়ে নিতে সহায়তা করে। যারা নিউইয়র্কে নতুন চাকরি খুঁজছেন বা পেশা পরিবর্তনের কথা ভাবছেন, তাদের জন্য এই দুটি চাকরি মেলা গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা কর্মসূচিতে জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে বড় পরিসরের অভিযান শুরু করেছে দেশটির শ্রম বিভাগ (Department of Labor)। একই সঙ্গে বিদেশি কর্মী নিয়োগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানব পাচার এবং শ্রমিক শোষণের অভিযোগও তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ এবং বিভাগের মহাপরিদর্শকের (Inspector General) কার্যালয় জানায়, তদন্তে এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির পাশাপাশি প্রোগ্রাম ইলেকট্রনিক রিভিউ ম্যানেজমেন্ট (PERM) ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের প্রাথমিক ধাপে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, তদন্তে এমন বহু অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে যেখানে কিছু নিয়োগকর্তা এবং শ্রমিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ভুয়া আবেদন জমা দিয়েছে, বিদেশি কর্মীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক বেতনের একটি অংশ ফেরত নিয়েছে এবং কম মজুরির বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন শ্রমবাজারে অন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করেছে। শ্রম বিভাগের মতে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমিক সংকট মোকাবিলার জন্য তৈরি সরকারি কর্মসূচির উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করছে এবং অসাধু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মার্কিন কর্মসংস্থানের ক্ষতি করছে। তদন্তের অংশ হিসেবে শ্রম বিভাগ যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যদি কেউ মনে করেন এইচ-১বি বা PERM কর্মসূচির জালিয়াতির কারণে তিনি চাকরি হারিয়েছেন বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাহলে যেন তা কর্তৃপক্ষকে জানান। একই সঙ্গে বিদেশি কর্মীদেরও জোরপূর্বক শ্রম, প্রতারণামূলক নিয়োগ বা অন্য কোনো ধরনের শোষণের শিকার হলে অভিযোগ দায়ের করার আহ্বান জানানো হয়েছে। শ্রম বিভাগের মহাপরিদর্শক অ্যান্থনি ডি'এসপোসিটো ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে কয়েক ডজন সমন জারি করা হয়েছে। তবে চলমান তদন্তের স্বার্থে তিনি বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি। ডি'এসপোসিটো বলেন, এই ধরনের জালিয়াতি শুধু অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের বিষয় নয়, অনেক ক্ষেত্রে তা সংঘবদ্ধ অপরাধ ও মানব পাচারের সঙ্গেও সম্পর্কিত। তার দাবি, কিছু ক্ষেত্রে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের আড়ালে আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রও সক্রিয় রয়েছে। তিনি আরও বলেন, তদন্ত কেবল কারখানা বা সাধারণ শ্রমিক নিয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। স্বাস্থ্যসেবা খাতসহ বিভিন্ন পেশায় কর্মরত ব্যক্তিদের নিয়োগ প্রক্রিয়াও খতিয়ে দেখা হবে। শ্রম বিভাগ জানিয়েছে, এই তদন্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ঘোষিত জালিয়াতি প্রতিরোধ টাস্কফোর্সের কার্যক্রমের অংশ। এইচ-১বি ভিসা হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি অ-অভিবাসী কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা, যার মাধ্যমে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীকে সাধারণত তিন বছরের জন্য নিয়োগ দিতে পারে। প্রয়োজন হলে এই মেয়াদ ছয় বছর পর্যন্ত বাড়ানো যায়। ১৯৯০ সালের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট-এর আওতায় চালু হওয়া এই কর্মসূচি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে। সমালোচকদের অভিযোগ, কিছু প্রতিষ্ঠান যোগ্য মার্কিন কর্মীদের পরিবর্তে কম খরচে বিদেশি কর্মী নিয়োগে এই কর্মসূচির অপব্যবহার করে। অন্যদিকে, PERM ব্যবস্থা কর্মসংস্থানভিত্তিক ইবি-২ এবং ইবি-৩ গ্রিন কার্ডের আবেদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এর মাধ্যমে শ্রম বিভাগ যাচাই করে সংশ্লিষ্ট পদে যোগ্য, আগ্রহী ও উপলভ্য মার্কিন কর্মী রয়েছে কি না। পিউ রিসার্চ সেন্টার-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এইচ-১বি ভিসাধারীদের মধ্যে প্রায় ৭৩ শতাংশই ভারতের নাগরিক। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ ভিসাধারীর জন্ম চীনে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ বলেছে, তদন্তে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে যেখানে চাকরির জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হবে না; বরং তরুণরাই নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতে বিরোধী দলের নেতার সঙ্গে একমত পোষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটকে সরকার অস্বীকার করছে না। তবে এই সংকটকে কোনো অজুহাত হিসেবে ব্যবহার না করে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর নীতির মাধ্যমে তা মোকাবিলা করা হবে। এ ক্ষেত্রে জনগণকেই সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকারের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট চাপ দেশের মানুষও উপলব্ধি করেছে। এমন ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মধ্যেই এবারের বাজেট প্রণয়ন করতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ সরকারকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা যথাযথভাবে পালনে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। সরকারের মূল দর্শন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই নীতিকে সামনে রেখেই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ শিরোনামে উপস্থাপিত প্রায় নয় লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেটকে প্রধানমন্ত্রী শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং অর্থনীতিকে নতুন ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর রূপরেখা হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, অর্থনীতিকে সীমিত গোষ্ঠীর হাত থেকে বের করে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এই বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য। বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়াতে উন্নয়ন ব্যয় পঞ্চাশ শতাংশের বেশি বাড়িয়ে তিন লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সরকারি প্রকল্পের ক্ষেত্রে ব্যয়ের পরিমাণের চেয়ে মানুষের জীবনে তার প্রভাব এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সক্ষমতাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। অর্থনৈতিক কৌশলের রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রথম ধাপে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার, ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন এবং রপ্তানি খাতের বহুমুখীকরণে গুরুত্ব দেওয়া হবে। আর শেষ ধাপে উদ্ভাবননির্ভর ও প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদনশীল অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী করা হবে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, কেবল মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি বাড়লেই প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত হয় না। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত হয় এবং তরুণরা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ পায়। তিনি জানান, ঋণনির্ভর অর্থনীতির পরিবর্তে উৎপাদন ও বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। দেশীয় শিল্পের বিকাশ, বন্ধ বা দুর্বল শিল্পকারখানার পুনরুজ্জীবন এবং নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। সব মিলিয়ে, তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি টেকসই, রপ্তানিমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ বলেছেন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের কারণে তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১০ হাজার কর্মী কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জানান, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার সঙ্গে তাল মেলাতে উৎপাদন খাতে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মানবশক্তির ওপর নির্ভরতা কমানো এখন সময়ের দাবি। রবিবার (৭ জুন) ইকবাল আহসানের সঞ্চালনায় ‘একাত্তর বিজনেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ কে আজাদ বলেন, বিশ্ব এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। বায়াররা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পণ্যের দাম বাড়ানো যাবে না। এ অবস্থায় দক্ষতা বাড়াতে এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণে এআই ব্যবহার ছাড়া বিকল্প নেই। তার মতে, এ কারণে মানবশক্তি কমাতে হবে এবং প্রতিষ্ঠানকে আরও কার্যকর কাঠামোয় নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, হা-মীম গ্রুপে বর্তমানে প্রায় ৭৫ হাজার কর্মী কাজ করছেন। সেখান থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ১০ হাজার কর্মী কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এসব দক্ষ কর্মী চাকরি হারালে তাদের ভবিষ্যৎ কোথায় যাবে, সে বিষয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন। এ কে আজাদ বলেন, অনেক কোম্পানি উৎপাদন ব্যয় সামাল দিতে না পেরে টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে। ব্যয় বৃদ্ধি, উচ্চ সুদের হার এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার কারণে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। রপ্তানিমুখী শিল্পের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করতে হলে বেসরকারি খাতকে সক্ষম করে তুলতে হবে। এ জন্য ব্যাংক সুদের হার কমানো জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ কে আজাদ আরও বলেন, বাংলাদেশ যদি বৈশ্বিক উৎপাদন প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে চায়, তাহলে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই।
বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি যেভাবে ডালপালা মেলছে তাতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আমাদের চেনা কর্মসংস্থানের চিত্রটি আমূল বদলে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তির এই অভাবনীয় উৎকর্ষের ফলে অনেক প্রথাগত পেশা যেমন হারিয়ে যাচ্ছে ঠিক তেমনি তৈরি হচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন ও সৃজনশীল কাজের এক বিশাল ক্ষেত্র যা আগে কল্পনা করাও কঠিন ছিল। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে যারা নিজেদের দক্ষতার উন্নয়ন ঘটাতে পারবেন না তারা কর্মক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়বেন এবং আধুনিক শ্রমবাজারে টিকে থাকা তাদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে কেবল গাণিতিক বা প্রযুক্তিগত কাজ নয় বরং এখন চিকিৎসা, আইন এবং সাংবাদিকতার মতো সৃজনশীল পেশাতেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দিন দিন অনিবার্য হয়ে পড়ছে। রোবটিক্স ও অটোমেশনের ফলে কলকারখানার কায়িক শ্রমের চাহিদা কমে গেলেও ডাটা সায়েন্স এবং অ্যালগরিদম বিশেষজ্ঞের মতো নতুন নতুন কারিগরি পদের চাহিদা এখন তুঙ্গে রয়েছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কখনোই মানুষের মেধা ও আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার পূর্ণ বিকল্প হতে পারবে না বরং এটি মানুষের কাজের গতি ও নির্ভুলতা বাড়াতে এক শক্তিশালী সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনে নতুন প্রজন্মকে কোডিং ও ডিজিটাল লিটারেসিতে দক্ষ করে তোলা না গেলে বিশাল এক বেকার জনগোষ্ঠী তৈরির আশঙ্কা করছেন জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদরা। বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন এমন কর্মীদের খুঁজছে যারা প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন সমস্যার সমাধান করতে পারে এবং যাদের চিন্তাভাবনা অনেক বেশি আধুনিক। ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকতে হলে কেবল পুথিগত বিদ্যা যথেষ্ট নয় বরং প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শেখার মানসিকতা ও খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা থাকা সবচাইতে বেশি জরুরি। পরিশেষে বলা যায় যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোনো ভয়ের কারণ নয় বরং এটি আমাদের জীবন ও জীবিকাকে আরও সহজ ও উন্নত করার এক সুবর্ণ সুযোগ যা সঠিকভাবে কাজে লাগানো প্রয়োজন। ডিজিটাল এই রূপান্তরের ঢেউ যখন প্রতিটি দরজায় কড়া নাড়ছে তখন আমাদের প্রস্তুতিই নির্ধারণ করবে আমরা এই পরিবর্তনের সুফল কতটুকু ভোগ করতে পারব এবং বিশ্বমঞ্চে কতটা এগিয়ে থাকব।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।