যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্ক গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা, মানতে হবে নতুন নিয়ম
যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্ক বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের সবসময় বৈধ গ্রিন কার্ড সঙ্গে রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। মার্কিন সরকারের প্রকাশিত নির্দেশনায় স্থায়ী বাসিন্দাদের এই আইনি দায়িত্ব আবারও স্পষ্ট করা হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গ্রিন কার্ড বা পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট কার্ড যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদার প্রমাণ। তাই গ্রিন কার্ড শুধু বাড়িতে রেখে দিলেই হবে না, প্রয়োজনের সময় প্রদর্শনের জন্য তা নিজের সঙ্গে রাখতে হবে।
এ ক্ষেত্রে কার্ডটির মেয়াদ ও বৈধতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি, সবসময় সঙ্গে রাখার নিয়মও মেনে চলতে হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ কার্ড সঙ্গে থাকলে তা বৈধ গ্রিন কার্ড বহনের শর্ত পূরণ নাও করতে পারে।
এই বিধান যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক গ্রিন কার্ডধারীর জন্য প্রযোজ্য। পাশাপাশি অন্যান্য যোগ্য অ-নাগরিকদের ক্ষেত্রেও নিবন্ধনের প্রমাণ সঙ্গে রাখার নিয়ম রয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী এর মধ্যে বৈধ অভিবাসন নথি বা কর্মসংস্থান অনুমতিপত্রের মতো নথি থাকতে পারে।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধনের আওতায় থাকা কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র সঙ্গে না রাখলে আইনি পরিণতির মুখে পড়তে পারেন। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার জরিমানা অথবা ৩০ দিন পর্যন্ত কারাদণ্ড, কিংবা দুটিই হতে পারে।
তবে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তারা সাধারণত আগেই নিবন্ধিত হিসেবে বিবেচিত হন। তাই শুধু এই নিয়মের কারণে গ্রিন কার্ডধারীদের আবার নতুন করে নিবন্ধন করতে হবে—এমন নয়।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা যেসব অ-নাগরিক আগে নিবন্ধিত হননি এবং যাদের ৩০ দিন বা তার বেশি সময় থাকার কথা, তাদের ক্ষেত্রে আলাদা নিবন্ধন ও আঙুলের ছাপ দেওয়ার নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য মূল বিষয় হলো—গ্রিন কার্ডের মেয়াদ ও বৈধতা নিশ্চিত করা এবং কার্ডটি সবসময় নিজের সঙ্গে রাখা।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে কিছু বিদেশি নাগরিককে দেওয়া দুই বছরের কনডিশনাল গ্রিন কার্ড নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম আবারও সামনে এসেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় আবেদন না করলে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। কনডিশনাল গ্রিন কার্ড সাধারণত এমন ব্যক্তিদের দেওয়া হয়, যাদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি কিছু শর্তের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে বিয়ের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়া কিছু ব্যক্তি এই দুই বছরের শর্তযুক্ত স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পেতে পারেন। এই গ্রিন কার্ডের মেয়াদ সাধারণত দুই বছর। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে গ্রিন কার্ডের ওপর থাকা শর্ত তুলে নেওয়ার জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে হয়। বিয়ের ভিত্তিতে পাওয়া কনডিশনাল গ্রিন কার্ডের ক্ষেত্রে সাধারণ নিয়ম হলো, কার্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে শর্ত তুলে নেওয়ার আবেদন করতে হয়। স্বামী-স্ত্রীকে যৌথভাবে আবেদন করার নিয়ম থাকলেও কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে এককভাবে আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে। যেমন—দাম্পত্য সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া, বিবাহবিচ্ছেদ, নির্যাতনের শিকার হওয়া কিংবা অন্য কোনো বিশেষ পরিস্থিতি থাকলে আবেদনকারীর ক্ষেত্রে ভিন্ন নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দুই বছরের গ্রিন কার্ড থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থায়ী গ্রিন কার্ড পাওয়া যায় না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় আবেদন এবং প্রমাণ জমা দিতে হয়। কর্তৃপক্ষ আবেদন যাচাই করে শর্ত তুলে নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। তাই কনডিশনাল গ্রিন কার্ডধারীদের নিজেদের কার্ডের মেয়াদ, আবেদন করার সময়সীমা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগেভাগেই যাচাই করে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। সময়সীমা পার হয়ে গেলে অভিবাসন স্ট্যাটাস নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি। অর্থাৎ, দুই বছরের কনডিশনাল গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য মূল বিষয় হলো—কার্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে শর্ত তুলে নেওয়ার প্রয়োজনীয় আবেদন সম্পন্ন করা।
হার্ভার্ডে বিদেশি শিক্ষার্থীদের নতুন ভিসা নির্দেশনা, ১৫ সেপ্টেম্বরের আগেই যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে হবে
মাত্র ২৪ বছর বয়সেই ৩০টি বাড়ির মালিক, কলেজে পড়ার সময়ই শুরু রিয়েল এস্টেট ব্যবসা
যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্ক গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা, মানতে হবে নতুন নিয়ম
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ৭.২৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২৫ ডলারে নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে কংগ্রেসে উত্থাপিত নতুন ‘লিভিং ওয়েজ ফর অল অ্যাক্ট’-এ। ২০০৯ সাল থেকে ফেডারেল ন্যূনতম মজুরিতে কোনো পরিবর্তন না আসার পর এই বিলকে বড় ধরনের মজুরি সংস্কারের উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিলটি প্রথমে ২৮ এপ্রিল প্রতিনিধি পরিষদে এবং পরে ২৫ জুন সিনেটে উত্থাপন করা হয়। সিনেটে বিলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি। প্রতিনিধি পরিষদে এর প্রধান উদ্যোক্তা কংগ্রেসওম্যান ডেলিয়া রামিরেজ। বর্তমানে উভয় কক্ষেই বিলটি সংশ্লিষ্ট কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ধাপে ধাপে ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ২৫ ডলারে নেওয়া হবে। প্রতিনিধি পরিষদের সংস্করণে বড় ও বেশি লাভজনক কোম্পানিগুলোকে ২০৩১ সালের মধ্যে এই মজুরি কাঠামোয় যেতে বলা হয়েছে। ছোট ব্যবসাগুলোকে কর্মীদের মজুরি সমন্বয়ের জন্য আরও সময় দিয়ে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত সুযোগ রাখার প্রস্তাব রয়েছে। সিনেটের সংস্করণে বড় কোম্পানির জন্য সময়সীমা ২০৩২ এবং অন্যান্য ব্যবসার জন্য ২০৩৯ সাল পর্যন্ত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, বিলের দুই কক্ষের সংস্করণে সময়সীমায় কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ৭.২৫ ডলার। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে তা এক ধাপে নয়, কয়েক বছরের মধ্যে বাড়িয়ে ২৫ ডলারে নেওয়া হবে। বিলটিতে ভবিষ্যতে জাতীয় মধ্যম ঘণ্টাপ্রতি মজুরির দুই-তৃতীয়াংশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যূনতম মজুরি নিয়মিত সমন্বয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এ ছাড়া টিপসনির্ভর কর্মী, তরুণ কর্মী ও প্রতিবন্ধী কর্মীদের জন্য বিদ্যমান কিছু সাবমিনিমাম ওয়েজ বা কম মজুরির ব্যবস্থা ধীরে ধীরে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। তবে বিলটির পথ সহজ নয়। বর্তমানে কংগ্রেসে এটি কমিটির পর্যায়ে রয়েছে এবং এর বাস্তবায়নের জন্য প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে অনুমোদনের পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর প্রয়োজন। ফলে প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত আইনে পরিণত হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। বিলের সমর্থকদের দাবি, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মীদের মজুরি বাড়ানো প্রয়োজন। অন্যদিকে ব্যবসায়িক মহলে ফেডারেল পর্যায়ে এত বড় মজুরি বৃদ্ধির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ন্যূনতম মজুরি কত হওয়া উচিত, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চাঁদপুরের জুম্মান তপদার যোগ দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে
নিউইয়র্কের ভাড়ার বাজারে নতুন রেকর্ড, দুই বেডরুমের ভাড়া ছাড়াল মাসে ৮ হাজার ডলার
টেনেসিতে বন্দুকধারীর গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত, সন্দেহভাজন আটক
যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড পর্যায়ে থাকা গরুর মাংসের দাম কমাতে আগামী ৯০ দিনের জন্য বিদেশ থেকে অতিরিক্ত মাংস আমদানির পরিকল্পনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তাঁর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানানোর বদলে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন দেশটির গরু খামারি ও পশুপালকেরা। এমনকি ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাও পরিকল্পনাটির বিরোধিতা করেছেন। ট্রাম্প শুক্রবার জানান, আগামী ৯০ দিনে সর্বোচ্চ ৩ লাখ মেট্রিক টন গরুর মাংস যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা যাবে। এই পরিমাণ মাংস নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রমের পর যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়, তা ছাড়াই আমদানির সুযোগ পাবে। ট্রাম্পের দাবি, আমদানি করা এই মাংস বর্তমান বাজারদরের চেয়ে ২৫ শতাংশ কম দামে মার্কিন ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করা হবে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিদেশি মাংস রপ্তানিকারকদের সঙ্গে এ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে এবং তাঁরা ২৫ শতাংশ কম দামে মাংস সরবরাহে সম্মত হয়েছেন। তবে কোন কোন দেশ এই মাংস সরবরাহ করবে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। প্রশাসন আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করার পরিকল্পনা করছে। ট্রাম্পের এই উদ্যোগের পেছনে মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। দেশটির গরুর পাল ৭৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। দীর্ঘদিনের খরা, খাদ্য ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং মেক্সিকো থেকে গবাদিপশু আমদানিতে বিধিনিষেধসহ বিভিন্ন কারণে সরবরাহ কমেছে। একই সময়ে ভোক্তাদের মধ্যে গরুর মাংসের চাহিদা শক্তিশালী থাকায় দাম আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে গরু ও বাছুরের মাংসের দাম এক বছর আগের তুলনায় ৯ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। মাটির গরুর মাংসের গড় দামও প্রতি পাউন্ডে প্রায় ৬ দশমিক ৮৯ ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ মার্কিন পরিবারের নিত্যদিনের খাবারের তালিকায় থাকা এই পণ্যটি এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল। তবে ট্রাম্পের পরিকল্পনা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যেও সংশয় রয়েছে। কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক গ্লিন টনসর বলেছেন, ৩ লাখ মেট্রিক টন আমদানি যুক্তরাষ্ট্রে বছরে খাওয়া গরুর মাংসের মাত্র প্রায় ৩ শতাংশের সমান। ফলে এই পরিমাণ আমদানি বাজারদরে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতির অধ্যাপক ডেভিড অ্যান্ডারসনও প্রশ্ন তুলেছেন, এত অল্প সময়ে বিদেশি দেশগুলো আদৌ এত বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত মাংস যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে পারবে কি না। অন্যদিকে, দেশটির গরু খামারিরা আশঙ্কা করছেন, সস্তা বিদেশি মাংস বাজারে ঢুকলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত গরুর দাম কমে যাবে। এতে বর্তমানে লাভজনক অবস্থায় থাকা খামারিরা নতুন করে গরুর পাল বাড়ানোর উৎসাহ হারাতে পারেন। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধান হিসেবে গরুর সংখ্যা বাড়ানোই বেশি প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাটলম্যানস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট জাস্টিন টাপার বলেন, আমেরিকান খামারিদের পেছনে রেখে দেশের স্বার্থ রক্ষা করা যায় না। তাঁর অভিযোগ, এই উদ্যোগ স্থানীয় বাজারকে দুর্বল করতে পারে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। ন্যাশনাল ক্যাটলম্যানস বিফ অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান কলিন উডালও পরিকল্পনাটির সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি সমাধানের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রিপাবলিকান নেতাদের মধ্যেও আপত্তি দেখা গেছে। নেব্রাস্কার সিনেটর ডেব ফিশার বলেছেন, সবাই বাজারে কম দাম চান, কিন্তু তার জন্য মার্কিন পশুপালকদের ক্ষতির মুখে ফেলা উচিত নয়। তাঁর মতে, বিদেশি গরুর মাংস দিয়ে বাজার ভরিয়ে দিলে স্থানীয় পশুপালন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং গরুর পাল পুনর্গঠনের দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টাও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। মন্টানার রিপাবলিকান সিনেটর টিম শিহিও ট্রাম্পের পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের উদ্দেশ্য সঠিক হলেও বিদেশি মাংস আমদানির এই উদ্যোগ মার্কিন খামারিদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং গরুর পাল পুনর্গঠনের প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। নেব্রাস্কার আরেক রিপাবলিকান সিনেটর পিট রিকেটসও সতর্ক করে বলেছেন, বিদেশি মাংস দিয়ে বাজার ভরিয়ে দিলে স্থানীয় কৃষক ও পশুপালকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। বিশেষ করে কম মানের মাংস বাজারে ঢোকার আশঙ্কা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি খামারিদের ভালোবাসেন এবং তাঁদের কাজের প্রশংসা করেন। তবে তাঁর মতে, গরুর মাংসের দাম কমাতে সাময়িকভাবে কিছু সহায়তা প্রয়োজন। প্রশাসন একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব গরুর পাল বাড়ানোর কাজ চালিয়ে যাবে বলেও জানিয়েছে। হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, আমদানি বাড়ানোকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর সময় পর্যন্ত বাজারে সরবরাহের ঘাটতি পূরণ করতে এটি একটি স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ। আমদানি করা মাংস মূলত গরুর মাংসের কিমা তৈরিতে ব্যবহৃত চর্বিহীন মাংসের অংশ হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও ট্রাম্প প্রশাসন কিমা তৈরিতে ব্যবহৃত চর্বিহীন গরুর মাংস আমদানির জন্য শুল্কমুক্ত সীমা সাময়িকভাবে বাড়িয়েছিল। এবার ৯০ দিনের জন্য আরও বড় পরিসরে আমদানির সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং নিত্যপণ্যের দাম রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ কমানোর চাপও প্রশাসনের ওপর রয়েছে। তবে গরুর মাংসের দাম কমানোর স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগটি শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের কতটা স্বস্তি দেবে এবং স্থানীয় খামারিদের ওপর কতটা চাপ তৈরি করবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। সংবাদসূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স, ফক্স বিজনেস ও এবিসি নিউজ
সন্তানদের সামনে বাবাকে গুলি করে হত্যা, ১০০ বছরের কারাদণ্ড পেলেন মা
ক্যালিফোর্নিয়ার ট্রিনিটি নদীতে নিখোঁজের পর দুই ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার