চুক্তি

ছবি: সংগৃহীত
চুক্তির জন্য মরিয়া ছিলেন ট্রাম্প, সদিচ্ছা থেকে এগিয়েছে ইরান: মোজতবা খামেনি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরকে ঘিরে নতুন মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ মোজতবা খামেনি। তিনি দাবি করেছেন, এই সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরানের কর্মকর্তারা আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার পরিচয় দিয়েছেন। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগের কৌশল গ্রহণ করেছিলেন।   বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) প্রকাশিত এক বার্তায় খামেনি বলেন, ইরানি কর্মকর্তারা জাতীয় স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। তবে তার ভাষ্য অনুযায়ী, সমঝোতায় পৌঁছাতে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকেই সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ও চাপ প্রয়োগ দেখা গেছে।   খামেনি বলেন, “উদ্যমী ও অনুগত ইরানি জাতি জেনেছে যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই পর্যায়ে পৌঁছাতে আমাদের কর্মকর্তারা সহমর্মিতা ও সদিচ্ছা নিয়ে অনেক চেষ্টা করেছেন। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টই এই লক্ষ্য অর্জনে মরিয়া হয়ে বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছেন।”   ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভির তথ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন।   সমঝোতার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বন্ধের উদ্যোগ, ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক চলাচল স্বাভাবিক করা, ইরানের পুনর্গঠনের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়।   খামেনি জানান, শুরুতে এই সমঝোতা নিয়ে তার কিছু সংরক্ষণ ছিল। তবে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের দেওয়া আশ্বাস এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের অবস্থানের পর তিনি চুক্তির অনুমোদন দেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে ইরানের জাতীয় স্বার্থ, জনগণের অধিকার এবং তথাকথিত প্রতিরোধ ফ্রন্টের অবস্থান রক্ষায় কোনো ধরনের আপস করা হবে না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত বা অযৌক্তিক কোনো দাবিও গ্রহণ করা হবে না।   ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন, “আমরা এখন ঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন দেখতে চাই। ভবিষ্যতে সরাসরি আলোচনা হতে পারে, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে আমরা প্রতিপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি মেনে নিচ্ছি।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইরান ভবিষ্যতে আরও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জন করবে।   সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, উভয় দেশ এখন ৬০ দিনের একটি আলোচনাকালে প্রবেশ করেছে। এই সময়ের মধ্যে একটি চূড়ান্ত ও বিস্তৃত চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে। প্রয়োজন হলে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে এই সময়সীমা বাড়ানোও যেতে পারে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এতে পাকিস্তান ও কাতার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবে।   বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে চুক্তির প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে উভয় পক্ষ ঘোষিত শর্তগুলো কতটা বাস্তবায়ন করতে পারে তার ওপর।   এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত খামেনির মন্তব্যের সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা আগেই বলেছিলেন, চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নের ওপরই ভবিষ্যৎ সম্পর্কের অগ্রগতি নির্ভর করবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন-ইরান সমঝোতা মানছে না ইসরায়েল, লেবাননে অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা
মার্কিন-ইরান সমঝোতা মানছে না ইসরায়েল, লেবাননে অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা চুক্তিকে নিজেদের জন্য বাধ্যতামূলক নয় বলে স্পষ্ট জানিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী গিলা গামলিয়েল বলেছেন, এই চুক্তির বাইরে থেকেই ইসরায়েল তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে।   মঙ্গলবার (১৬ জুন) ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক ক্যাবিনেটের প্রভাবশালী এই সদস্যের সাক্ষাৎকারের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম চ্যানেল সেভেন এ তথ্য জানিয়েছে।   টেলিভিশনে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে গামলিয়েল বলেন, “আমরা এই চুক্তির কোনো পক্ষ নই। আমাদের দৃষ্টিতে হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত অভিযান চলবে।” তার এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ চললেও তেল আবিব তার সামরিক অবস্থান থেকে সরে আসছে না।   তিনি আরও জানান, দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী তাদের উপস্থিতি ধরে রাখার পরিকল্পনা করছে। পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা বাস্তবে লেবাননের ভেতরে বেশ গভীরভাবে অবস্থান নিয়েছি। লিতানি নদী থেকে শুরু করে বোফোর্ট দুর্গ পর্যন্ত যেসব এলাকা আমাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে, সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো ইচ্ছা নেই।”   এছাড়া গামলিয়েল ইঙ্গিত দেন, ওইসব এলাকা থেকে হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি সরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দাদেরও ফিরে যেতে দেওয়া হবে না। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে একটি দীর্ঘমেয়াদি ‘বাফার জোন’ তৈরির কৌশলের অংশ হতে পারে।   মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরানোর একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে ইসরায়েলের এমন কঠোর অবস্থান সেই প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করছেন পর্যবেক্ষকরা।   উল্লেখ্য, ইসরায়েল ও লেবাননের সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে হিজবুল্লাহকে কেন্দ্র করে সংঘাত বারবার বড় ধরনের সামরিক মুখোমুখি অবস্থার সৃষ্টি করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হলেও মাঠের বাস্তবতায় সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ এখনো স্পষ্ট নয়।   সূত্র: মিডল ইস্ট আই

নীলুফা নিশাত জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে ‘নতুন যুগের’ সূচনা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিকে স্বাগত তুরস্কের ইরানি দূতাবাস

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার একটি সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে পাকিস্তান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক অভাবনীয় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।   এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের প্রাথমিক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া হিসেবে তুরস্কে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস এই সম্ভাব্য সমঝোতাকে প্রবল উচ্ছ্বাসের সাথে স্বাগত জানিয়েছে। দীর্ঘদিনের সংঘাত ও উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে একটি নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিয়ে দূতাবাসের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, "নতুন যুগের মধ্যপ্রাচ্যে আপনাদের স্বাগতম।"   এই বিবৃতিটি প্রমাণ করে যে, তেহরান এই যুদ্ধবিরতি ও সম্ভাব্য চুক্তিটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছে এবং তারা একটি যুগান্তকারী আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার আশা দেখছে।   কূটনৈতিক এই বার্তার পাশাপাশি একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ প্রতীকে দেখা গেছে, কৌশলগতভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির বিপরীতে সগর্বে উড়ছে ইরানের জাতীয় পতাকা।   এই দৃশ্যটি কেবল ওই অঞ্চলে তেহরানের শক্তিশালী কৌশলগত অবস্থানকেই সুদৃঢ় করে না, বরং এই চুক্তির ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের প্রভাব ও নিরাপত্তার নতুন সমীকরণকেও বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরে।   আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের চরম বৈরিতা ও অবরোধের পর এই সমঝোতা শেষ পর্যন্ত সফল হলে, তা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক দৃশ্যপটকে সম্পূর্ণ নতুন রূপ দেবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
সব ফ্রন্টে যুদ্ধ শেষের ঘোষণা ইরানের, আজ রাতেই উঠছে অবরোধ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এবার একটি যুগান্তকারী শান্তির সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।   দেশটির সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আজ রাত থেকেই এই যুদ্ধবিরতি এবং সামরিক অভিযান বন্ধের সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। দীর্ঘ কয়েক মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও চরম উত্তেজনার পর এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক স্বস্তি নিয়ে এসেছে।   ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তাদের চূড়ান্ত দাবিগুলো চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরই কেবল তেহরান এই সমঝোতা স্মারকে সম্মতি প্রদান করেছে। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, তাদের দৃঢ় সামরিক অবস্থান ও অনড় প্রতিরোধই এই চুক্তির চূড়ান্ত ইতিবাচক ফলাফল নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে।   তবে, এই সমঝোতার সুযোগ নিয়ে কোনো পক্ষ যদি চুক্তির কোনো শর্ত লঙ্ঘন বা নতুন করে আগ্রাসনের চেষ্টা করে, তবে তেহরান তার তাৎক্ষণিক ও কঠোর জবাব দেবে বলে কড়া হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করেছে।   এই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। ইরানি কর্মকর্তাদের বরাতে তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, আজ রাত থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ-অবরোধ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা হবে।   এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এবং বিশ্ব অর্থনীতি, বিশেষ করে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের হুমকি: ইরানের সর্বোচ্চ সেতু ধ্বংস, ‘বেশি দেরি হওয়ার আগে’ চুক্তিতে রাজি হওয়ার আর্জি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে ইরানের সবচেয়ে বড় সেতুটি হামলায় ধ্বংস হওয়ার দাবি করেছেন। তিনি লিখেছেন, ইরানের উচিত ‘বেশি দেরি হওয়ার আগে’ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে সম্মত হওয়া।   ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, রাজধানী তেহরান থেকে কারাজ শহরের পথে অবস্থিত, ‘মধ্যপ্রাচ্যের সর্বোচ্চ সেতু’ হিসেবে পরিচিত ওই সেতুতে হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় দুইজন নিহত এবং অনেকে আহত হয়েছেন।   ট্রাম্প আগেও ইরানকে চুক্তিতে রাজি করতে বারবার হুমকি দিয়েছিলেন। বুধবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যদি চুক্তি না করা হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আক্রমণ চালিয়ে দেশটিকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে নিয়ে যাবে।   বুধবারের ভাষণের পর বৃহস্পতিবার তিনি সেই হামলার ভিডিও প্রকাশ করে চুক্তির জন্য চাপ প্রয়োগ করেছেন। উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে আরও বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা পরিস্থিতি নিকট থেকে নজরদারি করছেন।

Unknown এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
উপসাগরীয় দেশগুলোর ইউক্রেনের ১০ বছরের মেগা প্রতিরক্ষা চুক্তি

প্রতিরক্ষা খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে এক ঐতিহাসিক সফরে তিনি আগামী এক দশকের জন্য দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা সহযোগিতার চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন।  এই চুক্তির আওতায় সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে যৌথভাবে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন করবে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, "আমরা ১০ বছরের এক সুদূরপ্রসারী সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করছি। ইতিমধ্যে সৌদি আরবের সাথে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং কাতারের সাথেও সমজাতীয় একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। খুব শীঘ্রই সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথেও একই ধরনের চুক্তি হতে যাচ্ছে।" এই চুক্তির বিশেষত্ব হলো কেবল অস্ত্র ক্রয়-বিক্রয় নয়, বরং দুই অঞ্চলেই যৌথভাবে অত্যাধুনিক অস্ত্রের কারখানা ও প্রোডাকশন লাইন স্থাপন করা। এর ফলে ইউক্রেনের মাটিতে যেমন নতুন কারখানা তৈরি হবে, তেমনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও ইউক্রেনীয় প্রযুক্তিতে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদিত হবে।  বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা শিল্পকে দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব দেবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে কৌশলগত সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে।

ইসমাইল হোসাইন মার্চ ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ।
ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে সই করল অস্ট্রেলিয়া ও ইইউ

আট বছরের দীর্ঘ আলোচনা আর নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখল অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি।  সোমবার অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরাতে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন ইইউ প্রধান উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আমেরিকা ও চীনের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠায়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের বাণিজ্যের পরিধি প্রসারে নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। অস্ট্রেলিয়ার সাথে এই চুক্তি সেই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনারই একটি বড় অংশ। সংবাদ সম্মেলনে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান কেবল বাণিজ্যের কথা বলেননি, বরং একটি শক্তিশালী সামরিক ও নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের ঘোষণাও দিয়েছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন বলেন, "ভৌগোলিক দূরত্ব থাকলেও আমাদের বিশ্বদর্শন অভিন্ন। এই বাণিজ্য ও সামরিক চুক্তির মাধ্যমে আমরা একে অপরের আরও কাছে আসব।" রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির ফলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্য এবং নিরাপত্তার এক নতুন সমীকরণ তৈরি হবে।

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০