প্রতিরক্ষা খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে এক ঐতিহাসিক সফরে তিনি আগামী এক দশকের জন্য দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা সহযোগিতার চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। এই চুক্তির আওতায় সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে যৌথভাবে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন করবে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, "আমরা ১০ বছরের এক সুদূরপ্রসারী সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করছি। ইতিমধ্যে সৌদি আরবের সাথে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং কাতারের সাথেও সমজাতীয় একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। খুব শীঘ্রই সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথেও একই ধরনের চুক্তি হতে যাচ্ছে।" এই চুক্তির বিশেষত্ব হলো কেবল অস্ত্র ক্রয়-বিক্রয় নয়, বরং দুই অঞ্চলেই যৌথভাবে অত্যাধুনিক অস্ত্রের কারখানা ও প্রোডাকশন লাইন স্থাপন করা। এর ফলে ইউক্রেনের মাটিতে যেমন নতুন কারখানা তৈরি হবে, তেমনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও ইউক্রেনীয় প্রযুক্তিতে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদিত হবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা শিল্পকে দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব দেবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে কৌশলগত সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে।
আট বছরের দীর্ঘ আলোচনা আর নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখল অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। সোমবার অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরাতে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন ইইউ প্রধান উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আমেরিকা ও চীনের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠায়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের বাণিজ্যের পরিধি প্রসারে নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। অস্ট্রেলিয়ার সাথে এই চুক্তি সেই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনারই একটি বড় অংশ। সংবাদ সম্মেলনে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান কেবল বাণিজ্যের কথা বলেননি, বরং একটি শক্তিশালী সামরিক ও নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের ঘোষণাও দিয়েছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন বলেন, "ভৌগোলিক দূরত্ব থাকলেও আমাদের বিশ্বদর্শন অভিন্ন। এই বাণিজ্য ও সামরিক চুক্তির মাধ্যমে আমরা একে অপরের আরও কাছে আসব।" রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির ফলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্য এবং নিরাপত্তার এক নতুন সমীকরণ তৈরি হবে।
বিশ্বজুড়ে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধ ও শুল্ক বাধার অস্থিরতার মাঝে ভারতের সামনে এক বিশাল কৌশলগত দ্বার উন্মোচন করছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইন—এই ছয়টি দেশের জোট ‘গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল’ বা জিসিসি এখন ভারতের প্রধান বাণিজ্যিক শক্তি। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত ও জিসিসি দেশগুলোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭৯ বিলিয়ন ডলারে। এর ফলে এই জোটটি বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো একক বাজারগুলোকেও ছাড়িয়ে গেছে। মূলত রত্ন পাথর, ইলেকট্রনিক্স এবং রাসায়নিক পণ্যের রপ্তানিই এই বাণিজ্যের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। এই ঐতিহাসিক সম্পর্ককে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে ভারত এখন জিসিসির সাথে একটি পূর্ণাঙ্গ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে। গত বৃহস্পতিবার ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জিসিসি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার রূপরেখা বা ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির ফলে পণ্য ও পরিষেবার অবাধ আদান-প্রদান নিশ্চিত হবে, যা ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত সহায়ক হবে। উল্লেখ্য, বর্তমানে প্রায় এক কোটি ভারতীয় এই অঞ্চলে কর্মরত রয়েছেন, যা এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং মানবিক ও কৌশলগতভাবেও শক্তিশালী করেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, পশ্চিমা বাজারের ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে দক্ষিণ ও পশ্চিম এশিয়ার এই উদীয়মান বাজারে মনোযোগ দেওয়া ভারতের জন্য একটি যুগান্তকারী মাইলফলক। চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে ভারতের পেট্রোকেমিক্যাল এবং আইসিটি (ICT) খাতের জন্য এক বিশাল বাজার উন্মুক্ত হবে। সূত্র: এনডিটিভি।
বিশ্বশান্তি নাকি নতুন স্নায়ুযুদ্ধ? রাশিয়ার সাথে দীর্ঘদিনের পুরনো পারমাণবিক অস্ত্র চুক্তি নিয়ে এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মূল ঘটনা: রাশিয়া ও আমেরিকার মধ্যে থাকা প্রায় দুই দশক পুরনো 'নিউ স্টার্ট' (New START) চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে সম্প্রতি। ভ্লাদিমির পুতিন এই চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেও তাতে সায় দেননি ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক বার্তায় তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই পুরনো চুক্তিটি ছিল অত্যন্ত দুর্বল এবং এর শর্তাবলি বারবার লঙ্ঘিত হয়েছে। ট্রাম্পের অবস্থান: ট্রাম্পের মতে, আমেরিকার এখন এমন একটি আধুনিক ও দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি প্রয়োজন যা বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, "আমাদের পারমাণবিক বিশেষজ্ঞদের দিয়ে নতুন করে এই চুক্তি সাজাতে হবে।" কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ? দুই পরাশক্তির মধ্যে এই পারমাণবিক চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে আগামী দিনের বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থান কি নতুন কোনো কূটনৈতিক সংকটের আভাস, নাকি আরও শক্তিশালী কোনো চুক্তির সূচনা?
বিশ্বজুড়ে অশান্তির দাবানল! গাজা থেকে ইউক্রেন—প্রতিটি সংঘাতই যেন ত্বরান্বিত করছে পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই আরও বড় দুঃসংবাদ। শেষ হয়ে গেল আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যকার সর্বশেষ পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি 'নিউ স্টার্ট'। বিগত অর্ধশতাব্দীতে এই প্রথমবার বিশ্বের দুই প্রধান শক্তির পারমাণবিক অস্ত্রাগারের ওপর কোনো বিধিনিষেধ রইল না। ২০১০ সালে বারাক ওবামা এবং দিমিত্রি মেদভেদেভ স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমারু বিমানের সংখ্যা সীমাবদ্ধ রাখতে সম্মত হয়েছিল। ২০২১ সালে এর মেয়াদ ৫ বছর বাড়ানো হলেও এবার আর রক্ষা হলো না। হোয়াইট হাউস চায়ছিল চীনকেও এই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করতে, কিন্তু বেইজিং তাতে সাড়া দেয়নি। ফলশ্রুতিতে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এখন বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিজস্ব পদ্ধতিতে ভারসাম্য রক্ষা করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউ স্টার্ট চুক্তির এই অবসান বিশ্বকে এক অনিয়ন্ত্রিত এবং ভয়াবহ পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। পৃথিবী কি তবে তার সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে?
যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত পাল্টা শুল্ক মোকাবিলা এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি সই করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি খাতের জন্য এই চুক্তি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাণিজ্যিক সম্পর্ক সুসংহত করার লক্ষ্যে সোমবার ওয়াশিংটনে এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। যদিও এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে এক দিন আগে অর্থাৎ ৮ ফেব্রুয়ারি। জাপানে পূর্বনির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির কারণে এই অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারছেন না বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। তবে বাণিজ্য উপদেষ্টা ইতোমধ্যেই ঢাকায় চুক্তিতে স্বাক্ষর সম্পন্ন করেছেন এবং সেই কপিটিই প্রতিনিধি দল নিয়ে যাচ্ছেন ওয়াশিংটনে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল শুক্রবার ঢাকা ত্যাগ করবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে এই চুক্তিতে সই করবেন দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিয়েসন গ্রিয়ার। একই সময়ে জাপানের টোকিওতে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি সইয়ের কর্মসূচিতে অংশ নিতে আজ দুপুরে ঢাকা ত্যাগ করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা ও সচিব।
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর বিষয়ে একটি যুগান্তকারী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে দেশের প্রতিরক্ষা খাতে আধুনিকায়নের এক নতুন অধ্যায় শুরু হলো। প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন: এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে উন্নত জাপানি প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম যুক্ত হবে। কূটনৈতিক সাফল্য: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দূরদর্শী কূটনীতির ফসল হিসেবে এই চুক্তিকে দেখা হচ্ছে, যা দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন। যৌথ গবেষণা ও উন্নয়ন: কেবল সরঞ্জাম ক্রয় নয়, বরং যৌথ গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি হবে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা: দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ও জাপানের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে এটি আরও গভীর করবে এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তায় অবদান রাখবে। জাতিসংঘের নীতিমালা অনুসরণ: সম্পূর্ণ চুক্তিটি জাতিসংঘ সনদের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আন্তর্জাতিক শান্তি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার লক্ষ্যেই সম্পাদিত হয়েছে। আজ ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান এবং জাপানের পক্ষে রাষ্ট্রদূত সাইডা শিনিচি এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ২০২৩ সাল থেকে চলা নিরবচ্ছিন্ন আলোচনার সফল সমাপ্তি ঘটল এই চুক্তির মাধ্যমে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।