সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বাংলাদেশ

মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ যোগ দেবে কি না, সিদ্ধান্ত একান্তই বাংলাদেশের: ডা. শফিকুর রহমান

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৭, ২০২৬ ৯:৩
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।ছবি: সংগৃহীত
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘিরে বাংলাদেশকে সম্ভাব্য অংশীদার করার আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ জোটে বাংলাদেশের যোগ দেওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে এরই মধ্যে পক্ষে ও বিপক্ষে নানা মত সামনে এসেছে।

 

এর মধ্যে মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ যোগ দেবে কি না, সেটি বাংলাদেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

 

বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, মক্কা প্যাক্টে যোগদান বাংলাদেশের একান্ত নিজস্ব বিষয়। দেশের ও জাতির প্রয়োজন এবং স্বার্থে বাংলাদেশ কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তাতে অন্য কারও শ্বাসকষ্টে ভোগার প্রয়োজন নেই।

 

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান নিজেদের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নেয়। চুক্তির মূল নীতির মধ্যে রয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা।

 

চলতি বছরের ১৯ মার্চ রিয়াদে ইসলামি সম্মেলনের সময় তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করেন। সেখানে তিন দেশের মধ্যে সম্ভাব্য যৌথ নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ৭ আগস্ট মক্কায় তিন দেশ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।

 

চুক্তিটি স্বাক্ষরের পর বাংলাদেশকে এই নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা আসেনি।

 

এ অবস্থায় বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। কেউ এটিকে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করছেন, আবার কেউ মনে করছেন, এ ধরনের সামরিক জোটে যুক্ত হওয়ার আগে বাংলাদেশের নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বাংলাদেশ

View more
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির | ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগের পর কীভাবে নিশ্চিত হয় নাগরিকত্ব আর নেই

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়টি নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের মধ্যে সামনে এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কেউ ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন বলে দাবি করলেই কি তা নিশ্চিত হওয়া যায়, নাকি এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো সরকারি নথি রয়েছে? যুক্তরাজ্যের সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন, তা নিবন্ধনের প্রক্রিয়া এবং নাগরিকত্ব কার্যকরভাবে শেষ হওয়ার সময়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।   হুমায়ুন কবির ২১ আগস্ট পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ২৪ আগস্ট সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তিনি সরাসরি নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। তিনি নিজেকে বাংলাদেশি হিসেবে উল্লেখ করে দেশের জন্য কাজ করতে এসেছেন বলে জানান।    এর পরদিন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, হুমায়ুন কবির ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন এবং তার শপথ গ্রহণে কোনো আইন লঙ্ঘন হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে এটিই এখন পর্যন্ত নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়ে সবচেয়ে স্পষ্ট বক্তব্য।    কিন্তু ব্রিটিশ আইনে নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়টি কীভাবে নিশ্চিত হয়? যুক্তরাজ্য সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে হলে নির্ধারিত ‘নাগরিকত্ব ত্যাগের ঘোষণাপত্র’ দাখিল করতে হয়। এর জন্য নির্দিষ্ট আবেদনপত্র ব্যবহার করতে হয়। তবে শুধু আবেদন জমা দেওয়া, ব্রিটিশ পাসপোর্ট ব্যবহার বন্ধ করা কিংবা পাসপোর্ট জমা দেওয়ার মাধ্যমে নাগরিকত্ব শেষ হয়ে যায় না।    ব্রিটিশ সরকারের জাতীয়তা-সংক্রান্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আবেদন গ্রহণের পর স্বরাষ্ট্র দপ্তর নাগরিকত্ব ত্যাগের ঘোষণাপত্র নিবন্ধন করে। এই নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পরই নাগরিকত্ব ত্যাগ কার্যকর হয়। অর্থাৎ, কেউ যেদিন আবেদন করেছেন, সেটি নাগরিকত্ব শেষ হওয়ার তারিখ নাও হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ তারিখ হলো ঘোষণাপত্রটি যেদিন আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়েছে।    ব্রিটিশ সরকারের আবেদন নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, আবেদন গ্রহণ করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে একটি ‘নাগরিকত্ব ত্যাগের ঘোষণাপত্র’ দেওয়া হয়, যা তিনি ব্রিটিশ নাগরিক নন, সেটি প্রমাণ করতে ব্যবহার করতে পারেন। সরকারি আবেদনপত্রের নির্দেশনায় নিবন্ধিত ঘোষণাপত্রের আবেদনকারীর কপিকে আনুষ্ঠানিক প্রমাণ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।    ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ও অভিবাসন বিষয়ে কাজ করা আইনজীবী ড্যানিয়েল কোহেনও তার আইন প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত ব্যাখ্যায় একই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নাগরিকত্ব ত্যাগের ঘোষণাপত্র স্বরাষ্ট্র দপ্তর কর্তৃক নিবন্ধিত হওয়ার পরই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আর ব্রিটিশ নাগরিক থাকেন না। নিবন্ধিত ঘোষণাপত্রে নাগরিকত্ব ত্যাগ কার্যকর হওয়ার তারিখও উল্লেখ থাকে।    এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। যুক্তরাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী, নাগরিকত্ব ত্যাগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অন্য একটি দেশের নাগরিকত্ব থাকা অথবা অন্য নাগরিকত্ব পাওয়ার ব্যবস্থা থাকা সাধারণত প্রয়োজন। এর উদ্দেশ্য হলো নাগরিকত্ব ত্যাগের ফলে একজন ব্যক্তি যাতে রাষ্ট্রহীন হয়ে না পড়েন, তা নিশ্চিত করা।    এখন প্রশ্ন হলো, একজন সাংবাদিক বা সাধারণ মানুষ কি যুক্তরাজ্য সরকারের কোনো উন্মুক্ত অনলাইন তথ্যভান্ডারে গিয়ে নাম লিখে দেখে নিতে পারেন যে কোনো ব্যক্তি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না?   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এমন কোনো উন্মুক্ত নামভিত্তিক সরকারি তথ্যভান্ডারের ব্যবস্থা নেই। ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগের নিবন্ধিত তথ্য সংশ্লিষ্ট সরকারি ব্যবস্থায় সংরক্ষিত থাকে। ফলে বাইরে থেকে যে কেউ শুধু নাম দিয়ে কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্বের বর্তমান অবস্থা যাচাই করতে পারেন না। এ কারণেই কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়টি প্রকাশ্যে নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তার নিবন্ধিত নাগরিকত্ব ত্যাগের ঘোষণাপত্র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি হয়ে ওঠে।   অর্থাৎ, হুমায়ুন কবির যদি শপথ নেওয়ার আগে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করে থাকেন, তাহলে তার নাগরিকত্ব ত্যাগের কার্যকর তারিখ নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হবে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তরে নিবন্ধিত সেই ঘোষণাপত্র। সেখানে উল্লেখ থাকা নিবন্ধনের তারিখই দেখাবে তিনি ঠিক কবে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব হারিয়েছেন।   আইনমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, হুমায়ুন কবির নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন এবং তার নিয়োগে কোনো আইনগত সমস্যা নেই। তবে তার নাগরিকত্ব ত্যাগের নিবন্ধিত ঘোষণাপত্র বা কার্যকর হওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ্যে এসেছে কি না, সেটিই এখন বিতর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যাচাইযোগ্য বিষয়।   ফলে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত শুধু তিনি ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন কি না, কিংবা তিনি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে কি না, তা নয়। বরং তিনি যদি নাগরিকত্ব ত্যাগ করে থাকেন, তাহলে সেটি কখন আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়েছে এবং সেই নিবন্ধনের প্রমাণ কী, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৭, ২০২৬ ৯:২৭
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।ছবি: সংগৃহীত

মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ যোগ দেবে কি না, সিদ্ধান্ত একান্তই বাংলাদেশের: ডা. শফিকুর রহমান

২ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকায় ভিসা আবেদন কেন্দ্র চালু করতে যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া. ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

২ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকায় ভিসা আবেদন কেন্দ্র চালু করতে যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া

দুর্নীতির ১৫ মামলায় খালাস পেলেন মির্জা আব্বাস

দুর্নীতির ১৫ মামলায় খালাস পেলেন মির্জা আব্বাস

শেখ হাসিনার কবরও বাংলাদেশের মাটিতে হবে না: সারজিস
শেখ হাসিনার কবরও বাংলাদেশের মাটিতে হবে না: সারজিস

পার্বত্য চট্টগ্রামে নির্বাচিত সংসদ সদস্যের চেয়েও অনির্বাচিত পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ক্ষমতা বেশি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। একই সঙ্গে তিনি পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোতে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।   বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাঙামাটি শহরের একটি রেস্তোরাঁয় এনসিপি ও দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভায় এসব কথা বলেন সারজিস আলম।   পার্বত্য জেলা পরিষদ নিয়ে সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বিএনপির দলীয় জেলা পরিষদ গঠন করা হয়েছে। তার দাবি, এসব পরিষদে এমনভাবে লুটপাটের সুযোগ তৈরি হয়েছে যে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার চেয়ে অনেকে জেলা পরিষদের সদস্য হতে আগ্রহী। তিনি অভিযোগ করেন, পাঁচ কোটি টাকা দিয়ে সদস্য হলে ২০ কোটি টাকা লুটপাটের সুযোগ থাকে।   জেলা পরিষদ গঠন প্রক্রিয়ায় দলীয় প্রভাবেরও অভিযোগ করেন এনসিপির এই নেতা। তার ভাষ্য, বিএনপির অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী থাকলেও কোরামবাজি ও দলীয় প্রভাবের কারণে তাদের অনেকে জেলা পরিষদে স্থান পাননি।   পার্বত্য চট্টগ্রামে জেলা পরিষদগুলোর জন্য প্রতি বছর বড় অঙ্কের সরকারি বরাদ্দ আসে উল্লেখ করে সারজিস আলম প্রশ্ন তোলেন, এত বরাদ্দের পরও কেন সেখানে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। তিনি দ্রুত জেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজন করে সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানান।   বিএনপির বিরুদ্ধে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে সারজিস আলম বলেন, বিভিন্ন সেক্টরে দলীয় লোক নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কুক্ষিগত করে রাখা হয়েছে। পার্বত্য এলাকায় এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও মামলা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।   সারজিস আলম বলেন, বিএনপি একসময় আওয়ামী লীগের কাছে যে পদ্ধতিতে নিপীড়ন ও জুলুমের শিকার হয়েছিল, এখন তারাই একই ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছিল, বিএনপির সরকারের ক্ষেত্রে তা ছয় মাসের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক সংগঠনকে নিজ নিজ রাজনীতি করার সুযোগ দিতে হবে। জনগণই শেষ পর্যন্ত ঠিক করবে তারা কোন দলকে সমর্থন করবে।   সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট নিয়েও কথা বলেন সারজিস আলম। তিনি বলেন, এই জোট ভেঙে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তার অভিযোগ, একটি ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী জামায়াত-এনসিপি জোট নিয়ে প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে।   এ সময় আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফিরে আসার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সারজিস আলম বলেন, ‘ডিসেম্বরে আসা তো দূরের কথা, শেখ হাসিনার কবরও বাংলাদেশের মাটিতে হবে না।’

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ২৭, ২০২৬ ০:৩০
চেয়ারে বসা নিয়ে রাবির দুই বিভাগের দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ৪

চেয়ারে বসা নিয়ে রাবির দুই বিভাগের দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ৪

পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম। ছবি: সংগৃহীত

‘আমার আর বোধ হয় চাকরি করা হলো না’ ফেসবুকে এসপির আবেগঘন পোস্ট

বাংলাদেশের বেসরকারি ব্যাংক খাতে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের পারিশ্রমিকের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন মাসরুর আরেফিন। ছবি: সংগৃহীত

সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিনের বছরে পারিশ্রমিক ৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা

নেত্রকোনার মদনে যৌন নিপীড়নের শিকার মাদ্রাসাছাত্রীর গর্ভধারণের ঘটনাটি প্রথম শনাক্ত করেন ডা. সায়মা আক্তার। ছবি: সংগৃহীত
১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও অন্তসত্ত্বার অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক, হুমকির মুখেও তদন্তে চিকিৎসক

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় যৌন নিপীড়নের শিকার ১১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীর গর্ভধারণের ঘটনা প্রথম শনাক্ত করেছিলেন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সামিয়া আক্তার। বিষয়টি নিয়ে মে মাসের শুরুতে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে কথা বলার পর অনলাইনে তাকে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। নিরাপত্তার জন্য ৭ মে মদন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি। এরপরও তদন্তে সহযোগিতা করে যান এই চিকিৎসক। সম্প্রতি ডিএনএ পরীক্ষার ফলেও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জৈবিক সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।   ঘটনার শুরুতে শিশুটির চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় গর্ভধারণের বিষয়টি শনাক্ত করেন ডা. সামিয়া। চিকিৎসকের কাছে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ঘটনাটি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ হিসেবে সামনে আসে এবং তদন্ত শুরু হয়।   এরপর মে মাসের শুরুতে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে ঘটনাটি নিয়ে কথা বলেন ডা. সামিয়া। তার বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে লক্ষ্য করে একাধিক হুমকি দেওয়া হয়। এসব হুমকির মধ্যে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকিও ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।   নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় ৭ মে মদন থানায় জিডি করেন এই চিকিৎসক। তবে হুমকির পরও তিনি তদন্ত থেকে সরে দাঁড়াননি এবং শিশুটির ঘটনায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখেন।   তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এসেছে ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলে। পরীক্ষায় শিশুটির গর্ভধারণের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে জৈবিক সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। ফলে অভিযোগের তদন্তে ডিএনএ প্রতিবেদনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   একজন চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হুমকির মুখে পড়ার ঘটনাটিও বিষয়টিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। একই সঙ্গে ডিএনএ পরীক্ষার ফল যৌন নিপীড়নের অভিযোগের তদন্তকে আরও নির্দিষ্ট প্রমাণের দিকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১২:২৪
জানুয়ারি থেকে ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট!

জানুয়ারি থেকে ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট!

রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয়চন্দ্র দাস। ছবি: সংগৃহীত

৪ হত্যাকাণ্ডে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি, দোষী হলে ছেলের শাস্তিও চান সিদ্ধার্থের বাবা

নব্বইয়ের দশকে বিটিভির মঞ্চ কাঁপানো সেই কিশোরী বিতার্কিক রেবেকা শাফি আজ সফল এক বিজ্ঞানী। ছবি: সংগৃহীত

বিটিভির বিতর্কের মঞ্চ থেকে হার্ভার্ড হয়ে মস্তিষ্ক গবেষণায় রেবেকা

0 Comments